জাতীয়

  • অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

    জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

    তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

    তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।

    বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।

    ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

  • ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    ‘পুলিশের আইজিপি মনের কথাটা বলে ফেলেছেন, মনের মধ্যে খুনী হাসিনা বসবাস করে’

    পুলিশের আইজিপি অবশেষে মুখ দিয়ে মনের কথাটা বলে ফেলেছেন। সরকার যদি অনুমতি দেয় তাহলে উনার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ক্রসফায়ার করতে পুরোপুরি রেডি আছে। আসলে উনি বলতে চাইছেন, অনেকদিন ধরে ক্রসফায়ার করতে উনাদের হাত নিশপিশ করতেছে। যদি সরকার বাহাদুর একটু অনুমতি দেয়!

    সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব এসব কথা লিখেছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

    স্ট্যাটাসে তিনি আরো লেখেন, ‘হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু উনাদের মনের মধ্যে একটা করে খুনী হাসিনা বসবাস করে। শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষায় গুপ্ত হয়ে আছে, এই যা।

    যে কোন সভ্য দেশে আইজিপির মত পজিশান থেকে কেউ যদি এই রকম কথা বলত, তার আর চাকরি করতে পারার কথা না। জুলাইয়ের পরের বাংলাদেশেও করতে পারার কথা না।

    সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সংবিধানের অধীনে দেশকে, জনগণকে সার্ভিস দেয়া। সরকারের জন্য ভাড়াটে খুনীর কাজ করা না।’

  • বিদেশি ভাষা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

    বিদেশি ভাষা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

    উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বিদেশি ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। বিশ্বায়নের প্রভাবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি যেমন পরস্পরের কাছাকাছি আসছে, তেমনি বাড়ছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে কোন কোন বিদেশি ভাষা শেখা প্রয়োজন, তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

    মান্দারিন : গত দুই দশকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে মান্দারিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় পরিণত হয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগের উদ্ভব হওয়ায় মান্দারিনে দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য অভাবনীয় শিল্পের মধ্যে আছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিন্যান্স ও লজিস্টিকস। মান্দারিন চায়নিজ চীন ও তাইওয়ানের ৮১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা। এছাড়া ভাষাটি ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। সেই সূত্রে সিভিতে মান্দারিন ভাষার সংযোজন যেকোনো প্রার্থীর মান উন্নত করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে মান্দারিন চায়নিজ ভাষা শেখানো হয়। এছাড়া বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখায়।

    আরবি : তেলশিল্প, জ্বালানি খাত বা হাই-এন্ড কনস্ট্রাকশনের কর্মীদের জন্য আরবি ভাষার দক্ষতা আবশ্যক। বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন আরবি ভাষাভাষী লোক আছে। এই একটি ভাষা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ক্যারিয়ার তৈরির সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই ইংরেজির পাশাপাশি আরবি ভাষা শিক্ষা হতে পারে উন্নত ক্যারিয়ারের সেরা মাধ্যম। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশে মসজিদ-মাদরাসার আধিক্য থাকায় প্রচুর সুযোগ আছে আরবি শেখার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ভালো মানের দুটি আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র।

    জাপানিজ : ১২০ মিলিয়নেরও বেশি জাপানিজ ভাষাভাষী মানুষের দেশ জাপান। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল শিল্পের অত্যন্ত উন্নত স্তরের। সুতরাং গ্যাজেট-সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসার জন্য জাপানিজ ভাষা শেখা অবধারিত। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লজিস্টিকসে চাকরির সুযোগের জন্য প্রাসঙ্গিক শিল্পমান দক্ষতার সঙ্গে জাপানিজ ভাষার দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট জাপানিজ ভাষা শেখার জন্য সেরা জায়গা।

    জার্মান : ইউরোপকেন্দ্রিক ক্যারিয়ারে সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে জার্মান ভাষা শেখা। জার্মান ১০০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের ভাষা। এছাড়া অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে জার্মান বলা হয়। ইউরোপের অর্থনীতিতে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। এখানে ফিন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচার, ডিজাইন বা ফার্মাসিউটিক্যালস ক্ষেত্রগুলোয় পেশাদারের চাহিদা প্রচুর। বাংলাদেশে এরই মধ্যে জার্মান শেখার বিস্তর সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশের জার্মান দূতাবাস-স্বীকৃত গোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ।

    তুর্কি : বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা তুর্কি, যা একে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সর্বাধিক কথ্য মাতৃভাষার অন্তর্ভুক্ত করেছে। তুরস্ক ছাড়াও তুর্কিভাষী আছে বলকান, ককেশাস ও পশ্চিম ইউরোপে। তুর্কি অভিবাসীদের বৃহত্তম অংশটি বাস করেন জার্মানিতে, যেখানে জার্মানির পর তুর্কি দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা। এখানে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, এনার্জি, ট্যুরিজম, ফিন্যান্স, আইন ও ব্যবসার মতো বৈচিত্র্যময় খাতে অসংখ্য ক্যারিয়ারের সুযোগ বিদ্যমান। পাবলিক খাতে কর্মজীবনে আগ্রহীদের জন্য কূটনীতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রগুলোয় সক্রিয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং ফেলোশিপেরও ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে তুর্কি শেখার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট।

    স্প্যানিশ : বিশ্বব্যাপী ৪৮০ মিলিয়নেরও বেশি স্থানীয় ভাষাভাষীদের মধ্যে স্প্যানিশ ২১টি দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রমবর্ধমান বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগের গেটওয়ে। এখানে মানবসম্পদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মিডিয়া ও ব্যাংকিংয়ে। পাশাপাশি চিকিৎসা, সমাজসেবা, শিক্ষা ও বিপণনেও বেশ ভালো সুযোগ আছে । আমেরিকার শতকরা ৮৫ ভাগ নিয়োগকর্তা স্প্যানিশকে সবচেয়ে বেশি চাহিদাপূর্ণ বিদেশি ভাষা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। অনেকটা ইংরেজির মতো হওয়ায় সহজে যে কেউ স্প্যানিশ রপ্ত করতে পারেন। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন ও দীর্ঘ মেয়াদে স্প্যানিশ ভাষা শেখা যায়।

    রাশিয়ান : বিশ্বব্যাপী ২৫০ মিলিয়ন রাশিয়ান ভাষা ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই বাস করে রাশিয়ায়। অন্যরা সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র, যেমন ইউক্রেন, লাটভিয়া ও কাজাখস্তানের বাসিন্দা। রাশিয়ার ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির নেপথ্যে রয়েছে এর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ, খনি এবং তৈল ও জ্বালানি খাত। জার্মানির মতো রাশিয়াও বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পেশাগুলোয় জনপ্রিয়, তাই যেকোনো উদীয়মান বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদের জন্য রাশিয়া স্বর্গ হতে পারে। রাশিয়ান ভাষার জন্য উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র।

  • অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    অক্সফোর্ডের বৃত্তি পেলেন নাজিফা

    প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই পান সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ। ১৪১টি দেশের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর মাত্র একজনকে নির্বাচিত করা হয়—এমন একটি বৃত্তি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন। বর্তমানে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে উন্নয়ন অধ্যয়নে এমফিল করছেন। তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওডিআইডি ডিএসি স্কলারশিপ।

    আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে আগ্রহ নাজিফার শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভালো একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন খাতে কাজ এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য আবেদনপত্রে তুলে ধরার সক্ষমতা তাকে এই প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি অর্জনে সহায়তা করেছে।

    বিজ্ঞান থেকে উন্নয়ন অধ্যয়নে

    বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠলেও পরিবার থেকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাজিফা। ছোটবেলা থেকেই সমাজ, বৈষম্য, ক্ষমতার কাঠামো ও মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। শিক্ষাজীবনের শুরুতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতি, বিশ্বব্যবস্থা ও মানবসমাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সেই আগ্রহ থেকে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ত্রেন্তোতে এক সেমিস্টার অধ্যয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইরাসমাস প্লাস আইসিএম বৃত্তিও পান। ইতালিতে অবস্থানকালে সীমিত বাজেটে ইউরোপের ২১টি দেশ ভ্রমণ করেন নাজিফা। ভিন্ন সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরো প্রসারিত হয়।

    স্নাতক শেষে তিনি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ করেন। পরে মাই সোলি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার একাডেমিক আগ্রহকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    ভালো ফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা

    এইউডব্লিউ থেকে ৩ দশমিক ৯-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে সুমা কাম লডে সম্মান অর্জন করেন নাজিফা। তবে তার শিক্ষাজীবনে সব সেমিস্টারের ফল সমান ছিল না। কয়েকটি কোর্সে প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় সুযোগ নিয়ে সেগুলো আবার সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ফলের উন্নতি ঘটান। অক্সফোর্ডে আবেদনের সময় উন্নয়ন অধ্যয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত স্নাতক পর্যায়ের কোর্সগুলোও জীবনবৃত্তান্তে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রথম বর্ষেই একটি একাডেমিক দলের দায়িত্ব পালন করেন। সহপাঠীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পিয়ার টিউটর হিসেবেও কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তবে আবেদনপত্রে শুধু পদবি বা দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কী কাজ করেছেন এবং কী প্রভাব তৈরি করেছেন, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

    উদ্দেশ্যপত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য

    অক্সফোর্ডে আবেদনের সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা উদ্দেশ্যপত্র লেখা। নিজের জীবনের সব ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে কেন উন্নয়ন অধ্যয়ন করতে চান, কোন গবেষণার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন এবং অক্সফোর্ডের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন নাজিফা। নিজের গবেষণার মূল প্রশ্নকে চারটি উপপ্রশ্নে ভাগ করে সেগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোর্সের সম্পর্ক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সহপাঠী এবং একাডেমিক পরিবেশে কী অবদান রাখতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেন।

    নাজিফার মতে, আবেদনপত্রে চমকপ্রদ শোনানোর চেয়ে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করলেও যদি উদ্দেশ্যপত্রটি একইভাবে প্রাসঙ্গিক থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে যথেষ্ট নির্দিষ্ট না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

    সুপারিশপত্রের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ

    আবেদনের প্রায় চার মাস আগে সম্ভাব্য সুপারিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজিফা। নিজের জীবনবৃত্তান্ত, উল্লেখযোগ্য কাজ ও অর্জনের তালিকা এবং কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, তা তাদের জানান। স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করায় এ প্রস্তুতি সহজ হয়।

    তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অক্সফোর্ডে ভর্তির পর যোগ্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বৃত্তিভেদে আবেদনপ্রক্রিয়া ও শর্ত আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাজিফার পরামর্শ, আবেদন করার আগেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে দুর্বলতা না ভেবে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি একটি বৃত্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। নাজিফার অক্সফোর্ডযাত্রা দেখায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে ভালো ফলের পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং নিজের সক্ষমতা যথাযথভাবে তুলে ধরার দক্ষতা।

  • ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি  বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়েছে: সাদিক কায়েম

    ঢাকাজুড়ে ছিনতাই, ডাকাতি, অরাজকতা অনেক বেশি বেড়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেন, ঢাকাবাসী এখন রাতের বেলা বের হতে ভয় পায়। এই অরাজকতা কাদের প্রশ্রয়ে হচ্ছে সেটা এই ঘটনা থেকে খুবই স্পষ্ট।

    ‘অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের’ শীর্ষক সংবাদের ছবি শেয়ার করে সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীর সরকারি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে এত অস্ত্রের মজুত কেন? এসব অস্ত্র কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? এই অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই কি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়?’

  • ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত

    ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অন্যায়ের পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’

    তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষ কখনোই পছন্দ করে না। যারা এমন অপকর্ম করে, তারা সমাজে চূড়ান্তভাবে নিন্দিত হবে এবং তাদের এই অপকর্মের জন্য কোনো সমর্থন মিলবে না।’

  • ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ‘লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ’

    ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে লাশের ওপর নৃত্য করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা সভ্য দুনিয়ায় চরম অসভ্যতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার না হলে এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হলে দেশ, জাতি কিংবা গণতন্ত্র—কোনোটাই রক্ষা পাবে না।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রক্তেভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে ২০০৬ সালের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত কালো দিন। সেদিন রাজপথে যে পাশবিকতা ও পৈশাচিকতার নগ্ন উল্লাস হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা দেখেছি, একটি লাশের ওপর কীভাবে নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।’

    সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলাম। ওই হামলায় আমিও গুরুতর আহত হই। আমাদের চোখের সামনে রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জসিম উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলামদের। শহীদ শিপনের অপরাধ ছিল সে সহপাঠীদের নামাজ পড়তে ও কোরআন শিখতে উৎসাহিত করত। অথচ তাকে শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, নির্মমভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার প্রতিটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছিল।’

    ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতেই সুপরিকল্পিতভাবে সেদিন লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, শীর্ষ জাতীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার মতো দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে ফ্যাসিবাদী শক্তি।

    বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের খুনিদের সাথে কোনো ধরনের আঁতাত করবেন না, তাদের সাথে একাকার হবেন না। অতীতে এই খুনিরাই গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সরকার যদি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তবে আপনারাও রক্ষা পাবেন না, জাতিও রক্ষা পাবে না।’

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা ২৮ অক্টোবরের হত্যা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে জুলাই গণবিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের  কর্মসূচির ঘোষণা

    পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূচির ঘোষণা

    নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ, বদলির ফল ঘোষণা এবং শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে এবার কঠোর আন্দোলনে নামছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হবে।

    সোমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির জন্য আবেদন গ্রহণের দেড় মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত শিক্ষকেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষকদের এই অহেতুক ভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে বদলির ফল প্রকাশ করতে হবে।

    পে স্কেলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকে নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে স্কেলের সুফল পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। এই ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে তাঁদের জন্য অবিলম্বে পে স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি নির্দেশনা জারি করতে হবে।

    এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামমাত্র উৎসব ভাতা প্রদানকে চরম বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য অবিলম্বে দূর করে আসন্ন ঈদে সরকারি শিক্ষকদের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে।

    এই তিন দফা যৌক্তিক দাবি আদায়ে আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

  • ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    ক্রসফায়ার ফেরত চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

    সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।



    বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাষ্ট্রে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলতে পারেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, আদালতের বাইরে কাউকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া নয়। সরকারের অনুমতি থাকলেই কোনো নাগরিককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বৈধতা তৈরি হয় না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্যই সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

    তাঁরা বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশকে দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, শ্রমজীবী মানুষসহ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়িত করে। সেই অভিজ্ঞতার পরও পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বার্তা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

    এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের প্রতি আনুগত্যই হওয়া উচিত পুলিশের মূল অঙ্গীকার। আইজিপির বক্তব্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে কি না।

    বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ এবং স্বাধীন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হত্যার ক্ষমতা দেওয়ার মানসিকতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

    নেতারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর প্রধান ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বললে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আবার সামনে নিয়ে আসবে।

    বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না—এমন অঙ্গীকার চান।

    জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার কোনো স্থান থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

  • প্লাস্টিক কারখানায় আগুন; কেরানীগঞ্জে একজনের মৃত্যু, আহত ২

    প্লাস্টিক কারখানায় আগুন; কেরানীগঞ্জে একজনের মৃত্যু, আহত ২

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর এলাকায় প্লাস্টিকের কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সাকিব হাসান (১৮)।

    এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের নাম মানিক আহমেদ (৪০) ও রাকিব হোসেন (১৮)। তাদের ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ( মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে মানিক আহমেদকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

    সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নারিকেল বাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জামান।

    ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বীন জসিম জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

    তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নেভাতে সেখানে পৌঁছেন।
    প্রথমে ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৩টি এতে ইউনিট যোগ দেয়।

    আতাশুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, দুপুর ১২টায় কালিন্দী ইউনিয়নের আমান প্লাস্টিকের কারখানা আগুন লাগে। এ সময় কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য চেষ্টা করেন। পরে রাজধানী ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও টিম ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে সাকিব হাসানের মৃত্যু হয়।

    কাজী নজমুজ্জামান জানান, ৮ তলা ভবনের মালিক সাজাহান মজুমদার। ভবনটিতে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি হয়। খেলনা কেমিক্যাল তৈরির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

    তিনি জানান, আগুন লাগার পর শ্রমিকরা ছুটোছুটি করে নেমে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৮টি ইউনিট কাজ করে। ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, ভবনটিতে কেমিক্যাল মিশিয়ে খেলনা তৈরি হয়। কেমিক্যালের কারণেই আগুন লাগে।