জাতীয়

  • জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকট-চারিত্রিক মূলধনের সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই, তা হচ্ছে-নবী করিমের (সা.) নকশা কদম অনুসরণ করা। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই প্রিয় নবীকে বিশ্ব মানবতার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত রহমত এবং অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর, যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রাসূল (সা.)। এই সব বয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ামত ভরা আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছিলেন।

    তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্ব আল্লাহ ও তার রাসূলের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে। এই সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে মনে করি। তারা মানবজাতির জন্য রাসুল (সা.) কত বড় নেয়ামত-তা জানার সুযোগ পেয়েছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ট্যালেন্ট আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ‘ইভিল ট্যালেন্টস’। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে এই স্বার্থপর-সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ-অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়। এতে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষকে ঠকায়। পরিণতিতে তাদের অবস্থান ভালো জায়গায় হয় না, খাল-বিল নদীতে হয়। আর আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে তার পাওনা বুঝে নেবে। সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। কিছু মানুষ সম্মানিত হয়ে হাজির হবে, আর কিছু মানুষকে অপদস্ত হয়ে হাটুগাড়া করে বেধে আল্লাহর সামনে ফেলে দেয়া হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) ওপর যখন ওহি নাজিল হলো-তখন যারা তার আশ্চর্যজনক বৈশিষ্টের কারণে তাকে আল-আমিন, আস- সাদিক উপাধি দিয়েছিলেন, এসব জানের বন্ধুরাই তখন প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। শুধু সত্যবাহক হিসেবে তার বিরোধিতায় অন্ধভাবে নেমে পড়ে। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইনসানিয়াতে কামেলাহ দান করেছিলেন। এজন্য দুনিয়ায় একজন মানুষেরই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিখূতভাবে-বিশুদ্ধভাবে লেখা আছে, এতে দ্বিতীয় কোনো মানুষের সন্তান দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই মানুষ হচ্ছেন-মুহাম্মদ রাসুল্লাহ (সা.)। এমনকি তার জীবনের গোপনীয় বিষয়গুলোও ইন্তেকালের আগে স্ত্রীদেরকে অসিয়ত করে গেছেন যে, এগুলো জনগণকে জানিয়ে দিবে।

    কারণ নবীদের প্রকাশ্য ও গোপন সব আমলের উত্তরাধিকারী আমরা উম্মতরা। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম চরিত্রে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটা বিশ্ব মানবতার জন্য নেয়ামত। পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরেছে, তারা নিজেরা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে, নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তারা ভোগ করেছে। আর যখন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নত থেকে মানুষ সরে গেছে, তখনই তারা বিপথগামী, পরাজিত, লাঞ্ছিত এবং নিজ ভূমিতে এসে পরবাসী হয়েছে।

    শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

  • গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল বের করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
    গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান- ১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের করার চেষ্টা হয়। তখন পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুড়তেও দেখা গেছে।
    ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাশ হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

    চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাশ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন। এ কারণে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আগের সরকারের সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব বিষয়ে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    কৃষি ও সার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

    দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, এখন আমাদের কাছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত আছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সরকার কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিদেশি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে।

    চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বিরোধী দলের সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই সীমিত। তবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।

    সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চ করত।

    চিফ হুইপ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুল হলে সেটিও লিখতে হবে এবং সরকার সঠিক কাজ করলে সেটিও তুলে ধরতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে সাংবাদিকরা তা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায় উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি বলেন, আমরা সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করবো।

  • ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    নজরুল ইসলাম মজুমদার। নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘসময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিতি পান তিনি। বছরের পর বছর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যানের পদও ধরে রাখেন। হাসিনাসহ তার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের বিষয়টি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ব্যাংক খাতের অঘোষিত মাফিয়া হয়ে উঠেন নজরুল। ঋণের নামে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে লুটে নেন প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশ দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। লুটের সেই বিদেশে সাম্রাজ্য গড়েছেন তিনি।

    ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের শীর্ষ পদে বসে ব্যাংক খাতে যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন, সেটিই হয়ে ওঠে তার অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাংক মালিকদের ওপর প্রভাব, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের অভিযোগ বারবার এসেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতের বড় অংশে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ব্যাংক খাতের অনেকে এ বিষয়ে বলেন, বাস্তবে বলতে গেলে তিনি ছিলেন ওই সময় ব্যাংক সেক্টরের মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রকাশ্যে না বললেও বেশির ভাগ ব্যাংকের মালিক আড়ালে তাকে ‘ব্যাংক চাঁদাবাজ’ হিসাবে সম্বোধন করতেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- যুক্তরাজ্য, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ আইল অব ম্যান, জার্সি দ্বীপ ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে গেছে সেই অর্থের একটি বড় অংশ। এছাড়া বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি, কেনা হয়েছে বিপুল সম্পদ এবং খোলা হয়েছে ব্যাংক হিসাবও। এবার এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের অনেকাংশ জানতে পেরেছে দুদক। জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রীর প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে থাকা ৫৩ লাখ পাউন্ড জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

    আবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার করা অর্থের গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে উল্লেখ দেশ ও বিশেষ স্থানের নাম।

    দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে বিদেশে নেওয়ার জন্য একাধিক কৌশল ব্যবহার করেছেন। ব্যাংকঋণ, বাণিজ্যিক লেনদেন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেয়েছে দুদক। পরে এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে থাকা কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবে গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়-টাকা সরানো ও পাচারের এই জটিল কৌশলে নজরুল যেন ‘ম্যাজিক মাস্টার’।

    জার্সিতে ৫৩ লাখ পাউন্ড : দুদকের অনুসন্ধানে নজরুলের বিদেশি সম্পদের যে হিসাব সামনে এসেছে, তার অন্যতম হলো ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আইল অব ম্যানের ঠিকানায় নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই বছরের ২ অক্টোবর জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির নামে হিসাব খোলা হয়। গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ওই হিসাবে জমা ছিল ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড। দুদকের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকানা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম।

    কিন্তু এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা এবং সম্পদ হস্তান্তর ঠেকাতে আদালতে এসব অর্থ ও সম্পদ জব্দের আবেদন করে দুদক। আদালত জার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ঋণের জাল ২৬ ব্যাংকে : নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের তথ্য উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। একাধিক ব্যাংকে একই কায়দায় ঋণ নেওয়া হয়েছে। কোথাও গ্রুপের এক প্রতিষ্ঠানের নামে, কোথাও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে। আবার কোথাও বিশেষ সুবিধায় ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে এক ব্যাংকের টাকা দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থাও চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুসন্ধানে উঠে আসে। একটি ব্যাংক থেকে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়। যে তথ্য এর আগে যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকা বিশেষ বিবেচনায় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব ঋণ নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নাসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সুতা ব্যবসার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ঋণের বড় অংশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংকই রয়েছে। দুদকের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এই ঋণের হিসাব গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

    ব্যাংকের টাকা লুটে বিদেশে সম্পদ : অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো-ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাকে ব্যবহার করে অর্থ সরানোর অভিযোগও এসেছে। পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো, রপ্তানি পণ্যের মূল্য দেশে না এনে বিদেশে রেখে দেওয়া এবং কম মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ অন্য পথে সরিয়ে নেওয়ার মতো কৌশলের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

    অর্থ পাচারের আরেকটি পথ হিসাবে উঠে এসেছে বিদেশি কোম্পানি। যুক্তরাজ্য, হংকং, আইল অব ম্যান ও জার্সিতে নজরুলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক কোম্পানির তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। বিদেশে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সম্পদ কেনার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানজনক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়। সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরকে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে আর ‘মহামান্য’ কিংবা ‘মাননীয়’ লেখা যাবে না।

    বুধবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাঁধনের ওপর আ.লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

    বাঁধনের ওপর আ.লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করে তারা কাপুরুষ। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা একটি ঘৃণ্য অপরাধ।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হয়েছেন।

    সেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিবাদ করেছে।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যে সব নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন, তাদেরও নিপীড়ন করা হয়েছে।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকট আন্তর্জাতিক বিষয়, এককভাবে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে তা সমাধান করা সম্ভব নয়। গ্যাসের সংকট ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে।

    বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে যুগান্তরকারী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার

    উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার

    সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান- বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকারের নির্দেশনা আছে কি না এবং থাকলে সেগুলো বাস্তবায়নে মনিটরিংয়ের কী পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। “

    তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব।

    সমস্যা নিরসনে সরকারের ১৩ দফা পদক্ষেপ:
    প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    সেগুলো হলো, ১. নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রণয়ন নিশ্চিত করা। ২. প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা।৩. প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪. চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন। ৫. নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি করা। ৬. ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। ৭. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে, বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ। ৮. যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ। ৯. বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা। ১০. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের সম্প্রসারণ। ১১. প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ১২. সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান। ১৩. সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতামূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে, সুতরাং এই চ্যাপ্টার ক্লোজ। তাই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো তুলনা করা যাবে না।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কঠোর আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। তারা চাঁদাবাজি বা জমি দখল করলে আমরা সেটাও বলব, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করব না।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা মোটেও সন্তুষ্ট না। আমরা মনে করি তারা আস্তে আস্তে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, আমরা দেখতেছি প্রত্যেকটা জায়গায় তারা দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি করছে, চাকরিতে কেউ রিটেনের টিকলে তাদের কোঠায় চাকরি দেয়া শুরু করেছে। আমরা মনে করি এটা হচ্ছে তাদের পুরনো কায়দা, এখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা এটা যৌক্তিক সমালোচনা করবো যদি তারা এই জায়গা থেকে বের হয়ে না আসে তাহলে আমরা রাজপথে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি পালন করবো। পাশাপাশি তারা গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে পাঁচ বছর তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

    এর আগে তিনি, সমন্বয় সভায় তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি করার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সালমান, কেন্দ্রীয় সদস্য রায়হানুল ইসলাম ও ভোলা জেলা সভাপতি মাকসুদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।