জাতীয়

  • সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
    রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়, সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, না কোনো জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল? এটাও আমাদের আজকে খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার (সাইফুর রহমান) মতো একটা মানুষ, যিনি এরকম একটি ছোট দারিদ্র পীড়িত দেশকে অর্থনীতির ভিত্তির উপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন। এটি অনেক দেশ পছন্দ করেনি।

    তিনি বলেন, অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির উপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে। এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দুর্ঘটনা নিয়ে? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে, সাইফুর রহমান সাহেবের এই দুর্ঘটনা- এটা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে টানা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী সাইফুর রহমানের কর্মজীবন তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মরহুম সাইফুর রহমান এই জাতির সম্পদ, বিএনপির গৌরব। তার নানা অবদানের কারণে তিনি জাতির সম্পদ। এত বিস্তৃত তার অর্জন, এই অর্জন আজকে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। উনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করতেন এই কারণে আমরা গর্ববোধ করি।
    তিনি আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠান পরিচালক একটি গল্পের কথা বলেছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার স্বামীকে সাইফুর রহমান সাহেবকে দেখিয়ে বলেছেন যে, একজন সাকসেসফুল অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন তা নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, তিনি নিজেও অর্থনীতিবিদ। তিনি সাইফুর রহমানের পলিসি, সাইফুর রহমানের প্রণীত নীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদারীকরণ, যে লিবারলাইজেশন- সেটিকে তিনি অনুসরণ করেছেন এবং ভারতে চালু করেছেন। আমরা সেই সাইফুর রহমানকে অনেক সময় ভুলে যাই। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না, আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে।
    রিজভী বলেন, এম সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন, ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে সিন্ডিকেশন, যে লুটপাট তন্ত্র বিগত ১৭ বছরে দেখেছিলাম৷ সাইফুর রহমান যখন এদেশের অর্থমন্ত্রী, উনি যখন এই জাতির অর্থনীতির ব্যবস্থাপক তখন এই লুটপাটের কথা শুনেনি, টাকা পাচারের কথা শুনেনি, ব্যাংক লোপাট হয়ে যাওয়ার কথা শুনেনি এবং ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকার তার যে ঘাটতি বাজেট, সেটা পূরণ করার কথা শুনেনি।
    এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কারণ বাজেট তার নিজস্ব অর্থনীতিতেই, তার নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মধ্যে দিয়েই সেই বাজেট রচিত করতেন। ব্যাংকের টাকা ব্যাংক থাকতো। ব্যাংক ছিল তার সময় ভায়াবল। গত ১৭ বছর ছিলো তো লুটপাটের অর্থনীতি, ফোকলা করে দেয়ার অর্থনীতি। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিলো।
    এম সাইফুর রহমানের জাতীয় অর্থনীতি ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাও তুলে ধরেন রিজভী।
    সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তির তৈরির কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে কিভাবে দেশকে সামনের দিকে, অগ্রসর পথে নিয়ে যাওয়া যায় তার মহাকর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি অর্থনীতি খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সফলভাবে। সাইফুর রহমান স্যারের সেই অর্থনীতির গতিপথে আজকে বাংলাদেশ এই জায়গা এসেছে।
    এম সাইফুর রহমানের ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খানসহ সিলেট ও মৌলীভীবাজারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করেন। তবে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    মন্ত্রী বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনারও বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, সুন্দরবন দুই দেশের একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

    বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।

  • যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে।’

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভারত সরকারের সবসময়ের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি জানেন। দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার কাজ থেমে থাকার কোনো কারণ নেই। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আজ না হলেও কাল বা পরশু হতে পারে। তবে দুই দেশের উদ্দেশ্য ও কাজের জায়গা একই থাকায় শুধু বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি।’

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমান্ত নেই। এসব সীমান্তহীন সংকট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু ও নীল আকাশের মতো সুবিধা নিশ্চিত করার পথ এক দিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন।’

    এর আগে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ, জলবায়ু, প্রাণীসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের হাইকমিশনার।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত নির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো পক্ষ থেকেই সহযোগিতার পথ থেমে থাকবে না। কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

  • এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরও তিন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বেলা ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    এর আগে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাকে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

  • ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    গত ৩৫ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জনের প্রাণ গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮০৭ জন। একই সময়ে নৌযানের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

    মন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলার মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৫২ হাজার নৌযান

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ভিত্তিতে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

    জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠন

    ধর্মীয় বিভ্রান্তি নিরসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধে বিভিন্ন মত ও পথের আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

    ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ধর্মের অপব্যবহার রোধে সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শান্তি, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

    ৭ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সংগৃহীত যাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে।

  • সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

    পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

    বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

    আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

    পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

    বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

    শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

    কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

    মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

    ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

    একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ৩ আইন কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    পদত্যাগ করা ওই ৩ আইন কর্মকর্তা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    এর আগে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    তারও আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই সময় পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন।

  • হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হানাহানি ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে দ্রুত পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার কথা বলে শরিয়াহ ফরজ বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই বলে, উল্লেখ করেন তিনি। মামুনুল হক, আইনটির ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম-উলামা, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনটি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে পাস হয়েছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধানটি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

    মামুনুল হক বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সেই নিরাপত্তার নামে এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষায়, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী উত্তরাধিকার—দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। নতুন আইন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ইসলামে হেবা কেবল কাগজে-কলমে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বিষয় নয়; এর একটি নির্দিষ্ট শরয়ী কাঠামো রয়েছে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ইজাব, কবুল ও কবয হেবার মৌলিক বিষয়। বিশেষ করে গ্রহীতার বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি দাতার জীবদ্দশা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার তাঁর কাছেই রাখার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত হস্তান্তর ও কবয কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    মামুনুল হক হেবা বণ্টনে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচারের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত নু‘মান ইবনে বশীর (রা.)-এর হাদিসের উল্লেখ করে বলেন, তার পিতা তাকে বিশেষ একটি দান করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, অন্য সন্তানদেরও অনুরূপ দেওয়া হয়েছে কি না। নেতিবাচক উত্তর পেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। পরে তার পিতা ওই দান ফিরিয়ে নেন।

    এ ছাড়া হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর তা ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর সতর্কতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির আরেকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার হেবা ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যে নিজের বমি পুনরায় খায়।’

    তিনি বলেন, হেবা ইসলামী শরিয়াহর একটি স্বতন্ত্র বিধান। এর মালিকানা, কবয, দখল ও প্রত্যাহার সম্পর্কে শরিয়াহতে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন আইনটিতে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের বিধানের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

    আইনটির পক্ষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, এতে ইসলামী বিধান সম্পর্কে তার অজ্ঞতা কিংবা অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মৌলিক পার্থক্য যথাযথভাবে অনুধাবন না করে মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিধান সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাস্তবে এই আইন হেবার শরয়ী কাঠামো পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে তা হস্তান্তর করলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা ও হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে শরয়ী প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    মামুনুল হক আরো বলেন, হেবার মাধ্যমে যেন আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে পাশ কাটিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ারিশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পথ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি এমনভাবে নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে, যাতে তাঁর মৃত্যুর পর অন্য ওয়ারিশরা কার্যত বঞ্চিত হন, তাহলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সংসদে বিলটি পাসের আগে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি ওঠার পরও এটি দ্রুত পাস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

    বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, দলটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    মামুনুল হক ‘সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এর নামে হেবার শরয়ী বিধান ও আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে দুর্বল করা যাবে না।

    মানুষের তৈরি কোনো আইনকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।