জাতীয়

  • গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া সফরে এসে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

    শিল্প খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হচ্ছে গার্মেন্টস। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমলে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাবে।

    আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের ক্রাইসিস ৬ মাস পার হলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যা আমরা বিনামূল্যে সরকারকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁতারা করছে।

    সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কাজ না হওয়ায় আমরা গণতন্ত্রের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম ধাপের সফলতা শেষে আমরা এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করছি।

    বিগত সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে থেকে দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু নেতৃত্ব হারিয়েছি, গুম হওয়া মানুষের পরিবারের কান্না আজও থামেনি। চব্বিশের বিপ্লব সফল হওয়ার পর শাসনতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ওয়াদা বরখেলাপ করা হয়েছে, যা সত্তরের আমলের মতো জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল।

    উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় প্রধান জানান, বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি এবং সাতটি সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় এটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন হাব থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪-৫৫ বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিন দফায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ বগুড়াকে অবহেলিত রেখেছে, এমনকি সাধারণ সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রেও চরম বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অংশ থেকে আমি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলব।

    কর্মসূচির শুরুতেই জামায়াতের আমির সকাল ৬টায় ধুনট উপজেলায় ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি দুপুর ১২টায় টিএমএসএস মমইন কনভেনশন সেন্টার ও স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগির স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।’

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ‘একর পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না—সেটিও ভাবতে হবে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও কেন একের পর এক সমস্যা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

  • তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা পরিবর্তন এনেছিল। তেমনি এবার পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

    শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ না পারলেও ৮০ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার।

    তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। দেশটা সবাই মিলে গড়তে হবে। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

  • আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

    এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

  • মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

    শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা।

    পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২টি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি, খাবার খরচ ও লোকবহরের ব্যবহারেও ব্যয় কমাচ্ছেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা, উনার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ১৫০ টাকা বিল। যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’

    তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, এক্সচেকারের (রাজকোষ) টাকা, আপনাদের টাকা সে (শেখ হাসিনা) নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে। যে কারণে সরকার বলেছে, এমপি-মন্ত্রী যদি কোনো জায়গায় বাইরে যান এবং এসে বলেন যে আমার এত টাকা বিল হয়েছে, তা হবে না। কাগজ দিতে হবে, যাতে এক টাকাও নষ্ট না হয়। এটি হলেন তারেক রহমান।’

    নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন—রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোনো অবস্থাতেই একটি টাকাও অপচয় করা যাবে না। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

    তিনি বলেন, ‘সরকারের এক্সচেকার থেকে ১০ টাকা—তারেক রহমান সাহেব মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটা টাকা নষ্ট হতে পারবে না। তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘তার জন্য এয়ারপোর্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য নিজের গাড়ি-লোকবহর নেই। তার জন্য উনি উনার অফিসে খান।’

    আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খাবারের ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। উনার ১৫০ টাকা বিল, একজনের। উনার অফিসে ১৫০ টাকা দিয়ে আমি টাকা খেতে পারি না—সত্যি কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবার বিলের বিষয়টি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী নেতা বলেছেন, যেটা সম্ভব। কিন্তু তারপর খাইতে পারি না।’ ‘এই কাজটা ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে,’ যোগ করেন তিনি।

  • আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    সারা দেশের প্রায় ৫ লাখ ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। ‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হয়েছে আড়াই লাখের বেশি আধাপাকা ঘর। দুই শতক জমিসহ সেসব ঘর পেয়েছিল সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। বিভিন্ন এলাকায় রঙিন টিনের সারি সারি ঘরগুলো দেখলেই মনে হতো একেকটি নতুন জনপদ। কিন্তু পাঁচ বছর না যেতেই বহু প্রকল্প এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরাদ্দ পাওয়ার পরও এসব ঘরে থাকছেন না অনেকে। কোথাও ঘরে তালা। কোথাও আবার খসে পড়েছে দেয়ালের পলেস্তারা, ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা। কোথাও আবার আগাছা আগ্রাসনে ঘরগুলো কার্যত পরিত্যক্ত। বড় আশার প্রকল্পটি যেন এক আক্ষেপের নাম।১১১৪২ কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প কার্যত এখন বিগ জিরো।

    মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি দেশের বড় গৃহায়ন কর্মসূচি। কিন্তু চার ধাপের প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে নির্মাণ মান, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ব্যয় নিয়ে। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে ঘর হস্তান্তরের পর কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ঘর ভেঙে পড়া এবং ফাটল দেখা দেওয়ার চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসে। সে সময় সরকারি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রতিটি ঘর নির্মাণে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় ধাপে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ এবং চতুর্থ ধাপে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি চতুর্থবার সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ে ৬ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত কিন্তু ওই সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্পটিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। পরে প্রকল্পটি বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    জনশূন্যআশ্রয়ণ: আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায় পরিবারগুলোকে একটি স্থায়ী জীবনের ঠিকানা দেওয়া। উদ্বোধনের সময় অনেক পরিবারই আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে নতুন ঘরে উঠেছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেই আনন্দ ম্লান হয়েছে। গত ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮ জেলার ৪০ উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছে আগামীর সময়। এসব এলাকার ১ হাজার ৪১৪টি ঘরের সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে ৭৭৫টি ঘর ফাঁকা, তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নমুনাভিত্তিক এ হিসাবে ঘর ফাঁকা থাকার হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    সরেজমিনে সবচেয়ে শূন্য পাওয়া গেছে শেরপুরের ভোগাইপাড়ায়। এখানকার ৩০টি ঘরের প্রতিটিতেই তালা দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বললেন, কাজের সন্ধানে বাসিন্দারা ঘর তালাবদ্ধ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন।

    পটুয়াখালীর বাউফলের ছত্রকান্দার ২২টি ঘরের মধ্যে ২১টি পরিত্যক্ত। স্থানীয়রা এসব ঘর গোয়ালঘর ও খড় রাখার কাজে ব্যবহার করছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়ার পদ্মার চরের চরআত্রা খাসবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০০টি ঘরের ৯০টিই শূন্য। মৌলিক সুবিধা ও চরম যোগাযোগ সংকটের কারণে মাত্র তিনটি পরিবার এখানে বাস করছে। চরআত্রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামছুদ্দিন ব্যাপারী আগামীর সময়কে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকায় প্রকল্প জুড়ে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। চুরি হয়ে গেছে অধিকাংশ ঘরের চালের টিন, দরজা, জানালা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো কেউ নেই।

    অবশ্য এসব নৈরাজ্যের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম রাঙামাটির কাপ্তাই। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের সবকটিতেই বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবারগুলো বসবাস করছে। তবে তারা ভুগছেন নিরাপদ পানি, রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যায়।

    ত্রুটিপূর্ণনির্মাণ: সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়ণের ঘরগুলো হস্তান্তরের কিছুদিনের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানকড়া ইউনিয়নে নির্মিত ঘরগুলোতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, যার কারণে বেঁকে গিয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের জোটাল মাঠাই গ্রামের দিলীপ চন্দ্রের ঘরটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশে। ২০২৫ সালে বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি পুরোপুরি তছনছ হয়ে যায়। দিলীপ চন্দ্র পরিবার নিয়ে পাশে টিনের ছাপরায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে শুধু আশ্বাস দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ খন্দকার বললেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অফিস পুড়ে যাওয়ায় সব নথিপত্র নষ্ট হয়েছে। সে কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঠিক পরিসংখ্যান জানা নেই। এটি ছিল বিগত সরকারের আমলের প্রকল্প। বর্তমানে এখানে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই।’

    অনিয়মওসচ্ছলদেরগ্রাস: আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করার প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, তখনকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাবে সচ্ছল ও পাকা বাড়ির মালিকদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের নিয়ে গড়া সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম বললেন, ‘পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও লুৎফর মিয়া নামে এক ব্যক্তি ঘর পেয়েছেন।’

    খুলনার পাইকগাছায় পুটিমারী প্রকল্পের ৯০টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৩০টি ঘর ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বললেন, ‘সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    অপরাধেরঅভয়ারণ্য: জনশূন্য বা অধিকাংশ ফাঁকা পড়ে থাকা এসব আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও বখাটেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর গোপালনগর ও ভাটপাড়া এলাকায় জনবসতিহীন স্থানে নির্মিত ঘরগুলো এখন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের আড্ডাস্থল। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বললেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খালি ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুর এলাকার তিনটি আশ্রয়ণে ১৫৬টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়। কিন্তু মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রব বাড়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। অবশ্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই এলাকায় কী কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানালেন ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন।

    আবশ্যিকসুবিধারঅভাব: খুলনার কয়রা উপজেলার লালুয়া বাগালি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নদীর চরে নির্মিত। এই প্রকল্পে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত চারটি নলকূপের সবকটিই অকেজো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নির্মাণের আগে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সম্ভাব্যতা যাচাই বা সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। অনেক প্রকল্প এলাকা মূল ভূখণ্ড বা বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরে বা নিচু এলাকায় করা হয়েছে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও ও নোয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নিচু এবং প্লাবনপ্রবণ জায়গায় করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকছে। বগুড়ার শাজাহানপুরের চাঁদবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামে ১৫টি ঘরের মধ্যে ১১টি পরিবার বসবাস করলেও পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তিনটি টিউবওয়েলের একটি নষ্ট এবং একটিতে আয়রন বেশি ওঠায় ১১টি পরিবারের সম্বল মাত্র একটি নলকূপ।

    আশ্বাসেইশেষনাকিসমাধান: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাওয়ার যোগ্য। বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘর বা জমি বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। এমন প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিলের বিধান রয়েছে। চাঁদপুর, গাজীপুর, জামালপুর, মেহেরপুর, পাবনা ও নীলফামারীর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ফাঁকা ও বেহাত ঘরের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নীতিমালা ভঙ্গ করে ঘর বিক্রি বা দখলে রাখার প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা আগামীর সময়কে বললেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যর্থতার প্রধান কারণ সুবিধাভোগী ও এলাকা নির্বাচনে ভুল। তিনি বললেন, ‘এটি শুরু থেকেই অনেকটা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছিল। কর্মকর্তারা কাজের মানের চেয়ে ঘরের সুন্দর করে ছবি তুলে দেখানোতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। নির্মাণের আগে কোথায় মানুষের জীবিকা আছে, যোগাযোগ কেমন, পানি ও বিদ্যুতের সুযোগ আছে কি না—এসব বিবেচনা জরুরি ছিল। কিন্তু নেওয়া হয়নি। যেখানে জীবিকার সুযোগ নেই, শুধু খাস বা পরিত্যক্ত জমি পেয়ে সেখানে ঘর করলে মানুষ থাকবে না।’

    গওহার নঈম ওয়ারার মতে, ভাঙা ঘর পুনর্নির্মাণ, মেরামতযোগ্য ঘর সংস্কার, ফাঁকা ঘর পুনর্বণ্টন এবং সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই করতে হবে নতুন করে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ, যোগাযোগ এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত ও তদারকিতে যুক্ত করতে হবে।

  • ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মসজিদ, মাদ্রাসার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরেও এ অনুদান দেওয়া হয়।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় ঢাকা-১৭ আসন এলাকার ২৮টি মসজিদে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০টি মন্দিরকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

  • জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকট-চারিত্রিক মূলধনের সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই, তা হচ্ছে-নবী করিমের (সা.) নকশা কদম অনুসরণ করা। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই প্রিয় নবীকে বিশ্ব মানবতার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত রহমত এবং অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর, যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রাসূল (সা.)। এই সব বয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ামত ভরা আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছিলেন।

    তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্ব আল্লাহ ও তার রাসূলের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে। এই সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে মনে করি। তারা মানবজাতির জন্য রাসুল (সা.) কত বড় নেয়ামত-তা জানার সুযোগ পেয়েছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ট্যালেন্ট আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ‘ইভিল ট্যালেন্টস’। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে এই স্বার্থপর-সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ-অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়। এতে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষকে ঠকায়। পরিণতিতে তাদের অবস্থান ভালো জায়গায় হয় না, খাল-বিল নদীতে হয়। আর আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে তার পাওনা বুঝে নেবে। সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। কিছু মানুষ সম্মানিত হয়ে হাজির হবে, আর কিছু মানুষকে অপদস্ত হয়ে হাটুগাড়া করে বেধে আল্লাহর সামনে ফেলে দেয়া হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) ওপর যখন ওহি নাজিল হলো-তখন যারা তার আশ্চর্যজনক বৈশিষ্টের কারণে তাকে আল-আমিন, আস- সাদিক উপাধি দিয়েছিলেন, এসব জানের বন্ধুরাই তখন প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। শুধু সত্যবাহক হিসেবে তার বিরোধিতায় অন্ধভাবে নেমে পড়ে। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইনসানিয়াতে কামেলাহ দান করেছিলেন। এজন্য দুনিয়ায় একজন মানুষেরই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিখূতভাবে-বিশুদ্ধভাবে লেখা আছে, এতে দ্বিতীয় কোনো মানুষের সন্তান দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই মানুষ হচ্ছেন-মুহাম্মদ রাসুল্লাহ (সা.)। এমনকি তার জীবনের গোপনীয় বিষয়গুলোও ইন্তেকালের আগে স্ত্রীদেরকে অসিয়ত করে গেছেন যে, এগুলো জনগণকে জানিয়ে দিবে।

    কারণ নবীদের প্রকাশ্য ও গোপন সব আমলের উত্তরাধিকারী আমরা উম্মতরা। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম চরিত্রে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটা বিশ্ব মানবতার জন্য নেয়ামত। পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরেছে, তারা নিজেরা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে, নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তারা ভোগ করেছে। আর যখন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নত থেকে মানুষ সরে গেছে, তখনই তারা বিপথগামী, পরাজিত, লাঞ্ছিত এবং নিজ ভূমিতে এসে পরবাসী হয়েছে।

    শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।