জাতীয়

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এই নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে; যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা হজরত আবু বকর (রা), হজরত উমর (রা), হজরত উসমান (রা) এবং হজরত আলী (রা)-এর নামে।

    এই ব্যাটালিয়নে আরো দুটি কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে; যেগুলো হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। আর সেগুলোর নাম করা হবে— হজরত মুহাম্মদ (স)-এর কন্যা হজরত ফাতিমা (রা) এবং স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা)-এর নামে। তবে এ প্রস্তাব এখনো অনুমোদিত হয়নি। এদিকে বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের কারনে গা জ্বলা শুরু হয়েছে ভারতের।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল’ এবং ‘নেতিবাচক’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা এই পরিবর্তনকে কেবল সাধারণ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বরং একটি বড় ধরনের আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে তুলনা: ভারতীয় মিডিয়া এই বিষয়টিকে এভাবে দেখছে যে, যেখানে আগে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোর নাম ছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠদের’ (যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন) নামে, সেখানে এখন ইসলামের ‘চার খলিফার’ নামে নামকরণ করা হচ্ছে। তাদের আলোচনায় এটি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ হয়তো তার মূল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসছে।

    নবভারত টাইমস নামে একটি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army: Is General Zaman forming an Islamic army for Bangladesh? A company named after the Prophet’s first four caliphs.’

    অন্যদিকে নর্থইস্ট নিউজ নামে একটি ওয়েবসাইটে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army’s new battalion has Umar, Abu Bakr, Ali and Usman companies.’। প্রতিবেদনের ভেতরে মন্তব্য হিসেবে আরও লেখা হয়েছে, “Naming the four companies after close companions and fathers- and sons-in-law is a sign of growing Islamisation within the rank and file of the Bangladesh Army.”

    এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কয়েকটি কোর, বিগ্রেড, ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যেগুলোর নাম সরাসরি হিন্দু দেবতার সঙ্গে যুক্ত প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে।

    একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ নামে। ভৈরব হচ্ছে হিন্দু দেবতা শীবের অগ্নিমূর্তি। এছাড়া কয়েকটি ইউনিটের নাম রয়েছে যেগুলো হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন প্রতীকের নামে।

    যেমন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ কোরকে বলা হয় ব্রহ্মাস্ত্র কোর, ২১ কোরকে বলা হয় সুদর্শন চক্র কোর, ৩৩ কোরকে বলা হয় ত্রিশক্তি কোর, ১১ কোরকে বলা হয় বজ্র কোর, ১০ কোরকে বলা হয় চেতক কোর।

    ব্রহ্মাস্ত্র হিন্দু পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র। মহাভারত ও রামায়নে বহুবার এর উল্লেখ রয়েছে। নামটির সঙ্গে সরাসরি ব্রহ্মা-প্রদত্ত অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    সুদর্শন চক্র হলো বিষ্ণু এবং তার অবতার কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্র। হিন্দুধর্মে এটি ধর্মরক্ষা, ন্যায় ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। বজ্র মূলত বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের অস্ত্র। ঋগ্বেদে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বধ করেন।

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ যুবক আনোয়ার হোসনকে (৩২) চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দ্রুত বিচার আইনে তার মামলাটি বিচারের দাবি করছি। আনোয়ার সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে। আনোয়ারকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ প্রায়। কথা বলতে পারছেন না তার মা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    নির্যাতনের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। এটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে। পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

  • গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সারা দেশে একযোগে ভার্চুয়ালি (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল এবং এনসিপি নেতা সবুজ রানা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও বাঙালি জাতিকে সাম্য, ন্যায়, মানবতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।

    বক্তারা শিশু-কিশোরদের নজরুলের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত নজরুল সাহিত্য পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত চর্চার মাধ্যমে তাঁর চেতনাকে লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর রহমান ও ওহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় তাদের বসতঘরসহ শ্রেষ্ঠা-শাকিরা বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে। টিনের চালা, বেড়া ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে লোহাগড়া মৌজার ৩৫৪ দাগের প্রায় ৯ শতক জমি দখলচেষ্টা করা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখনো আইনানুযায়ী বণ্টননামা বা বাটোয়ারা করা হয়নি। কিন্তু অভিযুক্ত মাহমুদ আলম, লিয়াকত হোসেন লিকু ও তাহানূর সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বায়নাপত্রের অজুহাতে তাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করেন। বেআইনি ভাবে, বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর ও ওহিদুর রহমান।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তপক্ষের লিয়াকত হোসেন লিকু দাবি করে বলেন, এই জমির মালিক জাহিদুর ও ওহিদুর নয়। জমির মালিক ওনাদের বোন। সেই বোনের কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। অথচ, তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, কোনো পক্ষকে তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।