খেলা

  • সাফে খেলবে তো ভারত?

    সাফে খেলবে তো ভারত?

    টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত। ছয় দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তবুও আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত কেমন দল নিয়ে খেলবে, তা এখনো অজানা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

    সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) অবশ্য জানিয়েছে, ভারত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা দেয়নি। তবে মাঠের প্রস্তুতি ও দল গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

    ভারতের সামনে বড় বাধা আন্তর্জাতিক সূচির সংঘাত। ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে দেশটির জাতীয় দল। সেখানে ১২ ও ১৫ নভেম্বর স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা তাদের।

    অথচ ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলবে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর। ৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা ভারতের। তাদের প্রথম ম্যাচটি ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই। এই সময়ে ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়। চলমান ঘরোয়া মৌসুমের ব্যস্ততার মধ্যে ভারতীয় সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাবগুলোও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়তে অনাগ্রহী। ফলে সিনিয়র দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নিয়ে সাফে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে ভারতের জন্য।

    এই পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর বিকল্পও ভেবেছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবগুলো। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ইউনিটি কাপের ক্যাম্প থেকে মোহনবাগান নিজেদের খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে নেওয়ার পর দুর্বল দল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়েছিল ভারত। তবে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে সাফে ভালো করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েই শিরোপা জিতেছিল দলটি।

    ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দলটির নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর। সাফ এক বিবৃতিতে সেই খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআইএফএফের কাছ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা আসেনি। ঘোষিত ছয় দলকে নিয়েই নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে সাফের বক্তব্যে ভারতের দল নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

    টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, অথচ এখনো দল ঘোষণা করেনি এআইএফএফ। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য সিনিয়র দলকে প্রস্তুত করা এবং ঘরোয়া ক্লাবগুলোর অনীহার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় ভারত নিজেদের সেরা দল, নাকি অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি?

    ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি?

    আগামীকাল রোববার ভুটানের থিম্পু সফরে যাওয়ার কথা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর।

    সরাসরি থিম্পুর ফ্লাইট না থাকায় বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করতে পারেন ফিফা সভাপতি। থিম্পু যাওয়ার পথে ঢাকায় ট্রানজিট নেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    দুই সপ্তাহ আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের। তখনই এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যাত্রাপথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোনো বিমানবন্দরে ট্রানজিট নিতে পারেন ফিফা সভাপতি। তবে ইনফান্তিনো বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি বাফুফে। তারপরও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

    এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান বাফুফের সাধারণ সম্পাদক। ফিফা সভাপতি ঢাকায় ট্রানজিট নিলে এবং তিনি চাইলে, যাতে দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়েই প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
    ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরের ভিআইপি জোনে অবস্থান করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহসভাপতিরা। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে ফিফা সভাপতির যাত্রাপথ ও ট্রানজিট নেওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।

  • সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে রোনান সুলিভানকে।

    যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোনান সুলিভান এবার সরাসরি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, রোনান তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশা আল্লাহ আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময়। আমরা তাকেই স্কোয়াডে রাখব।’

    গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যে অবদান ছিল রোনানেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রি-কিক ও হেডে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

    দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ। রোনানের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পর এবার সিনিয়র পর্যায়েও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর।

    নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

  • মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মাঠে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল এদিন। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তখন মেসির কথা শুনছিলেন হাজারো দর্শক। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়কের পাশে। মেসি কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজো।

    কান্নার সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজোকে সেই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

    মেসির প্রতি এনজোর ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসিকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তখন মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনজো হিসাব কষতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও ভাবতেন।

    শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তার সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো।মেসিকে নিয়ে লেখা চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, ‘আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।’

    মেসির সঙ্গে খেলতে এসে এনজোর অভিজ্ঞতা আরও বড় হয়েছে। সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসিকে। ভাগ করে নিয়েছেন অনুশীলন, ড্রেসিংরুম, কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত দুজন হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    এনজো লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।’

    মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও পরামর্শও ভোলেননি এনজো। তার ভাষায়, ‘তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই- কখনো ভুলব না।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। এত বছর ১০ নম্বর জার্সিতে সামনে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত তিনি। চিঠির শেষ দিকে এনজো লিখেছেন, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত- সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।’

    এরপর মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথা, ‘আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ৬ ম্যাচ, ৭ শট, ৭ গোল: বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়ে এ কী রূপ নিলেন তোরেস

    ছয়টা ম্যাচ, সাতটা শট, সাতটা গোল!
    একজন নাম্বার নাইনের কাছে দল আর কী চাইতে পারে। তার ওপর সেই নাম্বার নাইন যদি দলের মূল স্ট্রাইকার না হন, যদি তিনি খেলেন স্রেফ বদলি নেমে, তাহলে এই পরিসংখ্যানটা কীভাবে দেখবেন? দুর্দান্ত নয় কি? পিএসজির সেই নাম্বার নাইনের নাম ফেরান তোরেস।

    বিশ্ব ফুটবলে ঠিক ওই অর্থে তিনি বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া গোলটা তাঁর। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের একমাত্র গোল তাঁকে এনে দিয়েছিল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। কী কাকতাল, ওই ম্যাচেও তিনি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। বদলি নেমেছিলেন ৬২ মিনিটে।

    প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ইনস্টাগ্রাম

    বিশ্বকাপে ওই রকম একটা কীর্তির পরও কিন্তু স্পেন দলে রদ্রি বা ইয়ামালদের যে তারকাখ্যাতি, ফেরান তোরেস তার ধারেকাছে যেতে পারেননি। কিছুটা অলক্ষ্যেই তাই নতুন মৌসুমে দলবদল করে বার্সেলোনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্যারিসে। পিএসজিও তাঁকে নিয়ে কোনো ঢাকঢোল পেটায়নি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। আসলে লুইস এনরিকে তাঁকে নিজের দলে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নেননি, নিয়েছিলেন বিকল্প হিসেবে। কিন্তু তোরেস শুধু বিকল্প হয়ে থাকতে চাননি যে!

    প্যারিসে পা রাখার পর তাই তিনি খুব বেশি সময় নিলেন না। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি নেমে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, কী অবিশ্বাস্য শুরু! বার্সেলোনায় তিনি যে তোরেস ছিলেন, প্যারিসে গিয়ে যেন হয়ে উঠেছেন সেটারই এক আপগ্রেড ভার্সন। আরও ধারালো, আরও নির্দয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুইস এনরিকের দলে তাই তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তোরেস।ইনস্টাগ্রাম

    গত রাতে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ক্লাসিকো ম্যাচটাই দেখুন না। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। কোচ এনরিকের তখন এমন কাউকে দরকার, যে গোল করতে পারবে, ম্যাচ বদলে দিতে পারবে। ৫৯ মিনিটে বদলি নামানো হলো তোরেসকে। ৬৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দিলেন পিএসজিকে। ছয় মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে মার্শেই, গোল করেন অ্যাঞ্জেল গোমেস। কিন্তু সেই সমতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওস গোল করে আবার এগিয়ে দেন পিএসজিকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয়।

    জয়টা শুধু পিএসজিকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, দিয়েছে মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা কাটিয়ে জেগে ওঠার আত্মবিশ্বাসও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন জয় বলছে, পিএসজি আবার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে তোরেস।

    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ছয়টা ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তিনটায় শুরুর একাদশে, কোনোটিতেই পুরো সময় খেলেননি। বাকি তিনটায় বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, গোলমুখে সাতটা শট নিয়েছেন, সাতটাই গোল! প্রতি ৪৭ মিনিটে একটা করে গোল তোরেসের। ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’ জানাচ্ছে, পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ছিল আটটি। তোরেস কি আরও একজন ইব্রা হতে যাচ্ছেন?

    পিএসজিতে দুর্দান্ত শুরুর বিচারে তোরেসের চেয়ে একমাত্র এগিয়ে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ইনস্টাগ্রাম

    তুলনাটা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, সংখ্যাই বলছে। তবে তোরেস নিজে সংখ্যার মোহে ভাসতে চান না। তাঁর সহজ-সরল কথা, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান শুধু ভাগ্যের ছোঁয়া পাওয়ার গল্প নয়। বক্সে অবস্থান নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট পড়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া আর শেষ ছোঁয়ার যথার্থতা—সব মিলিয়ে নিখুঁত এক স্ট্রাইকার, যেমনটা একজন কোচ চান।

    তোরেসের এমন পারফরম্যান্স তাই দোটানায় ফেলে দিয়েছে এনরিকেকেও। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, খিচা কাভারাস্কেইয়া, দেজিরে দুয়ের মতো তারকার ছড়াছড়ি পিএসজিতে। সেখানে বেঞ্চের বিকল্প হিসেবে প্যারিসে পা রাখা তোরেস এখন শুরুর একাদশের জন্য তীব্র দর-কষাকষি শুরু করেছেন। ৪ গোল নিয়ে এখন তিনি লিগ আঁ-তে দলটির শীর্ষ গোলদাতাও। তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।

    ৪ গোল নিয়ে এখন তোরেস লিগ আঁ-তে পিএসজির শীর্ষ গোলদাতা। ইনস্টাগ্রাম

    লুইস এনরিকেও তা বুঝছেন। নতুন এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সন্তুষ্টির কথা লুকাননি তিনি। বলেছেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’

    আর তোরেস? শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে কথা বলতে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। বলার দরকারও নেই অবশ্য। সংখ্যাই তো তাঁর হয়ে কথা বলছে, এনরিকেকে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপ খুব বেশি দিন উপেক্ষা করা মনে হয় সম্ভব হবে না পিএসজি কোচের জন্য।

  • মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মরিনহোকে সতর্ক করলেন সিমিওনে

    মাদ্রিদ ডার্বির উত্তাপ ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও কমেনি। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের হারের পর রেফারিং নিয়ে হোসে মরিনহোর সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দিয়েগো সিমিওনে।

    ম্যাচে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মরিনহো। প্রথমার্ধে আতলেতিকোর কয়েকজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন রিয়াল কোচ। পরে রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন লাল কার্ড দেখলে রিয়ালের ডাগআউটে হতাশা আরও বাড়ে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু ছবি নিয়েও হাজির হন মরিনহো। সেসব ছবি দেখিয়ে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে ম্যাচ শেষে কোচদের রেফারি ও একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিমিওনে। এরপর শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করা কোচদের নিজেদের বক্তব্যের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকার কথাও বলেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমরা সবাই এমন একটি জায়গায় আছি যেখানে আমাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তাই আমরা কী বলছি সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদের, রেফারিদের এবং আমাদের সহকর্মীদের সম্মান করতে হবে।’

    ডার্বিতে আতলেতিকো কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে বলেও স্বীকার করেন সিমিওনে। তবে তার মতে এতে রেফারিদের প্রতি সম্মান কমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই, ‘আমাদের অবস্থান থেকে আমি যেটা বুঝি তা হলো—আজ আমরা কিছু সিদ্ধান্তের সুবিধা পেলেও রেফারিদের প্রতি সম্মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।’

    এরপর মরিনহোকে উদ্দেশ করে আরও কড়া মন্তব্য করেন সিমিওনে, ‘সবকিছু বলা যায় না, আপনার নাম মরিনহো হলেও নয়।’

    ম্যাচের রেফারিং নিয়েই বেশি আলোচনা করেন মরিনহো। বিশেষ করে আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুড বেলিংহামের সংঘর্ষের ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরে হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাটিরও সমালোচনা করেন রিয়াল কোচ।

    শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো। আর মাঠের উত্তাপের সঙ্গে মরিনহো-সিমিওনের কথার লড়াই মাদ্রিদ ডার্বির উত্তেজনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

  • মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন অনেক শিরোপা। মাঠে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা যেন ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে কি তিনি না এসে পারেন? দি মারিয়া জানিয়েছেন, মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তিনিও।

    রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে নিজের এই পরিকল্পনার কথা জানান দি মারিয়া।

    ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে রেসিং ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আর বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়ছেন না দি মারিয়া। পরদিন সরাসরি চলে যাবেন মনুমেন্টালে।

    দি মারিয়া বলছেন, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমাকে যেতে হবে, মেসির শেষ ম্যাচটা দেখতে হবে। আমরা ৫ তারিখে বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলবো। মনুমেন্টাল আমার পথেই পড়বে, আমি সেখানে থাকবো।’

    মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দি মারিয়া, ‘ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে। এত বছর পর লিওকে ছাড়া একটি দল, কল্পনাই করা যায় না। আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টাইনদের এবং পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’