খেলা

  • ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকের প্রস্তুতি মানেই প্রতিপক্ষের শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি হওয়া। দূরত্ব যতই হোক না কেন, ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরি গোল উপহার দেওয়া যেন তার বাঁ পায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সান ডিয়েগোর বিপক্ষে রবিবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    এমএলএসের রোমাঞ্চকর সেই ২-২ ড্রয়ের ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইন্টার মায়ামি পিছিয়ে ছিল। সেই মুহূর্তে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের এক চোখ ধাঁধানো শট নেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বলটি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এই গোলের সুবাদেই তিনি ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলটি পূর্ণ করেন। এর মধ্যে শুধু ফ্রি-কিক থেকেই এসেছে তার ৭৫টি গোল।

    এই গোলের মাধ্যমে ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ব্রাজিলিয়ান তারকা জাইর রোসা পিন্টোকে টপকে এককভাবে সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন মেসি। সর্বকালের সেরা ফ্রি-কিক গোলের মালিক হতে তার সামনে এখন কেবল আরেক ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড মার্সেলিনিয়ো কারিওকা, যিনি ৭৮টি ফ্রি-কিক গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ রেকর্ডটি নিজের করে নিতে মার্সেলিনিয়ো থেকে মাত্র চার গোল দূরে রয়েছেন তিনি।

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল:

    ক্রমিকখেলোয়াড়ের নামগোলসংখ্যাদেশ
    ১মার্সেলিনিয়ো কারিওকা৭৮ব্রাজিল
    ২লিওনেল মেসি৭৫আর্জেন্টিনা
    ৩জাইর রোসা পিন্টো৭৪ব্রাজিল
    ৪রবার্তো দিনামিতে৭৩ব্রাজিল
    ৫জুনিনহো পের্নাম্বুকানো৭২ব্রাজিল
    ৬মার্কোস আসুন্সাও৬৮ব্রাজিল
    ৭সিনিসা মিহাইলোভিচ৬৭সার্বিয়া
    ৮হোর্হে আরাভেনা৬৫চিলি
    ৯ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো৬৪পর্তুগাল
    ১০জিকো৬২ব্রাজিল
    ১১দিয়েগো মারাদোনা৬১আর্জেন্টিনা
  • লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    একটা সময় লা লিগায় নিয়মিতই দেখা যেত অবিশ্বাস্য সব গোল আর রেকর্ডের পর রেকর্ড। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এক মৌসুমে ৪৮ বা ৫০ গোল করা ছিল যেন জলভাত। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ওই রূপকথার দিনগুলোর বুঝি চিরতরে অবসান ঘটেছে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে সেই অসম্ভব রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়ছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

    চলতি লা লিগা মৌসুমে নিজের প্রথম ৭ ম্যাচেই অভাবনীয় ১২টি গোল করে ফেলেছেন এই সেলেসাও তারকা। এই পরিসংখ্যান তাকে সরাসরি বসিয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মেসি-রোনালদোর স্বর্ণালী শুরুর দিনগুলোকে। কিন্তু রাফিনিয়ার পায়ে চলতি মৌসুমের এই অবিশ্বাস্য গোল উৎসবের পেছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।

    এবারের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে কোনো কথার লড়াইয়ে না জড়িয়ে তিনি মাঠেই এর সবচেয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছেন গোলের পর গোল করে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে নতুন ট্যাকটিক্যাল পজিশনে খেলে রাফিনিয়া এখন লা লিগায় যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সাত ম্যাচের গোলের হিসেবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন রাফিনিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রথম ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি করেছিলেন প্রথম ৭ ম্যাচে ১১ গোল। আর চলতি মৌসুমে ১২ গোল করে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।

    এছাড়া লা লিগার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ৫০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের স্থানটিই রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনি ৪৮ গোল করেন। দুই মহাতারকা লা লিগা ছাড়ার পর থেকে ৪০ বা ৫০ গোলের ঘটনা হারিয়ে গিয়েছিল। লুইস সুয়ারেস (৪০ গোল) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে বা রবার্ট লেভানদোভস্কিরা চেষ্টা করলেও সেই যুগের পাগলাটে পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেননি।

    কিন্তু রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে ১.৭১ গড়ে গোল করে চলা এই ব্রাজিলিয়ান যদি এই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে গাণিতিক হিসাবে মৌসুম শেষে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ৬৫টিতে! যদিও পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবুও তার বর্তমান ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা।

    -গোল ডটকম অবলম্বনে

  • মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করলেও সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জয় দেখা পায়নি দলটি। রোববার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

    এই নিয়ে এমএলএসে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল মায়ামি। ক্লাবটির নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি ছিল লিগে প্রথম ম্যাচ। শেষদিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের পাস থেকে গোল করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন আন্দের্স ড্রায়ার। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ারকে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।

    ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর কাউকে স্পর্শ না করে সরাসরি দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এটি চলতি মৌসুমে এমএলএসে মেসির ২০তম গোল।

    চার দিন আগেই মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোল করেছিলেন মেসি। এমএলএসে ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে এটি তার অষ্টম গোল যা কি না এই সময়ে লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

    দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি আক্রমণে গতি বাড়ায়। ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মায়ামির।

    তবে আট মিনিট পরই আবার সমতায় ফেরে সান দিয়েগো। হেরন্সদের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আসা বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ড্রায়ার।

    ম্যাচ শেষে গঞ্জালেস মায়ামির রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের রক্ষণে আরও শক্ত হতে হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। মাত্র চার দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ায় দলকে ঠিকমতো অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।

    এই ড্রয়ে ১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্রয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

    আগামী রোববার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর মাঠে খেলবে মায়ামি। আর শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে সান দিয়েগো।

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম

  • যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়

    ব্যালন ডি’অরের লড়াই যতই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন—বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনে আসলে কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই কি শেষ কথা, নাকি দলের হয়ে জেতা ট্রফিরও বড় ভূমিকা রয়েছে?

    বাস্তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো একটি পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত নির্ধারক নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্য, সেই সাফল্যে খেলোয়াড়ের অবদান, মাঠের আচরণ ও ফেয়ার প্লের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর সামনে রেখে তাই লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি ও রদ্রির মতো তারকাদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কারটি জিতবেন, তা নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    যেভাবে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী

    ব্যালন ডি’অরের আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল। ২০২৪ সাল থেকে উয়েফাও এই আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্রথমে ৩০ জন ফুটবলারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে বিশেষায়িত সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

    প্রতিটি ভোটার ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। এরপর অবস্থান অনুযায়ী এই ক্রমানুসারে দেওয়া হয় পয়েন্ট-

    • প্রথম পছন্দ: ১৫ পয়েন্ট
    • দ্বিতীয়: ১২ পয়েন্ট
    • তৃতীয়: ১০ পয়েন্ট
    • চতুর্থ: ৮ পয়েন্ট
    • পঞ্চম: ৭ পয়েন্ট
    • ষষ্ঠ: ৫ পয়েন্ট
    • সপ্তম: ৪ পয়েন্ট
    • অষ্টম: ৩ পয়েন্ট
    • নবম: ২ পয়েন্ট
    • দশম: ১ পয়েন্ট

    সব ভোটারের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করার পর যার স্কোর সবচেয়ে বেশি হয়, তিনিই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।

    দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয়, কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রথম পছন্দের ভোট রয়েছে। সেখানেও সমতা থাকলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট, এরপর তৃতীয় পছন্দসহ ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

    কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

    ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়নে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:
    মাঠে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব কতটা ছিল, তার পারফরম্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী—এটি মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। গোল, অ্যাসিস্টসহ সামগ্রিক নৈপুণ্য এখানে বিবেচনায় আসে।

    দলীয় সাফল্য:
    ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ের অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ট্রফি জেতাই যথেষ্ট নয়; সেই সাফল্যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদান কতটা ছিল, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

    আভিজাত্য ও ফেয়ার প্লে:
    মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা এবং ফেয়ার প্লে-ও মূল্যায়নের অংশ। অর্থাৎ একজন ফুটবলারের সামগ্রিক আচরণও ব্যালন ডি’অরের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ট্রফির হিসাব দিয়ে সবকিছু নির্ধারণ হয় না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠের আচরণ—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভোটাররা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে বেছে নেন।

  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

    আফগানিস্তান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয় বলে এই ম্যাচও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও মূল দল নিয়েই আফগানদের বিরুদ্ধে লড়বে টাইগাররা।

    আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট, যা আফগানদের হোম টেস্ট।

    নাহিদ রানা এই ম্যাচে খেলবেন না, তিনি মাঠে ফিরবেন ১০ অক্টোবর। সে হিসেবে এই টেস্ট খেলা হচ্ছে না। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে তাকে ফিট পেতেই কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার কথা রয়েছে নাহিদের।

    বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকেও। অমিত হাসান এই সিরিজের দলে নেই। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জাকের আলী অনিককে।

    এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন টেস্ট দলে। সে কথা ভেবে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে আরব আমিরাতে টেস্ট দলের সাথে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

    একনজরে বাংলাদেশের স্কোয়াড

    নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

  • আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।

    অবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।


    তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।

    ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও।ভেগার ইনস্টাগ্রাম

    ভেগার খেলার ধরন কেমন

    তাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।

    উঠে আসার পথটা যেমন ছিল

    ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।


    বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।


    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।

    মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।


    ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

    ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও। ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।