আর্ন্তজাতিক

  • সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে রোনান সুলিভানকে।

    যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোনান সুলিভান এবার সরাসরি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, রোনান তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশা আল্লাহ আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময়। আমরা তাকেই স্কোয়াডে রাখব।’

    গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যে অবদান ছিল রোনানেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রি-কিক ও হেডে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

    দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ। রোনানের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পর এবার সিনিয়র পর্যায়েও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর।

    নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

  • মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মাঠে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল এদিন। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তখন মেসির কথা শুনছিলেন হাজারো দর্শক। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়কের পাশে। মেসি কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজো।

    কান্নার সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজোকে সেই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

    মেসির প্রতি এনজোর ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসিকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তখন মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনজো হিসাব কষতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও ভাবতেন।

    শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তার সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো।মেসিকে নিয়ে লেখা চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, ‘আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।’

    মেসির সঙ্গে খেলতে এসে এনজোর অভিজ্ঞতা আরও বড় হয়েছে। সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসিকে। ভাগ করে নিয়েছেন অনুশীলন, ড্রেসিংরুম, কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত দুজন হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    এনজো লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।’

    মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও পরামর্শও ভোলেননি এনজো। তার ভাষায়, ‘তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই- কখনো ভুলব না।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। এত বছর ১০ নম্বর জার্সিতে সামনে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত তিনি। চিঠির শেষ দিকে এনজো লিখেছেন, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত- সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।’

    এরপর মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথা, ‘আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

  • অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    প্রেমের সম্পর্কে যতটা ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হয়, গায়ত্রী সুরেশের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সম্পর্ক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেমিকের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন শুনেছিলেন, যা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও স্বস্তি পাননি তিনি।

    ‘বিগ বস মালয়ালম ৮’-এর এই প্রতিযোগী সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    প্রতিযোগিতা থেকে গায়ত্রীর আকস্মিক বিদায়ে দর্শকেরা অবাক হয়েছেন। তবে শো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠানের একটি টাস্কে নিজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়টি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি।

    সেই টাস্কে বিগ বস প্রশ্ন করেন, ‘জীবনে যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি কী বলবেন?’ উত্তরে ২০২১ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন গায়ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক মানুষ আছেন, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। কিন্তু যে ঘটনাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত ও মনকে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি সিচুয়েশনশিপে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় সেটা আসলে শুধুই একটি সিচুয়েশনশিপ ছিল।’

    গায়ত্রী জানান, সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর আচরণে সতর্ক হওয়ার মতো কিছু বিষয় তার চোখে পড়েছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মনে হয়েছিল। তবে কাছের একজন মানুষকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত—এমনটা ভেবেই সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    এরপর নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে গায়ত্রী বলেন, ‘সম্পর্ক শুরুর প্রথম সপ্তাহে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার এইডস নেই তো? সেই মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এই কথার মধ্যে এত নেতিবাচকতা খুঁজে ভুল করছি। তাই সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।’

    তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার জন্য সুখকর হয়নি। গায়ত্রীর ভাষ্য, ‘বিশেষ লাভ হয়নি। আমার সঙ্গে থেকেও অন্য নারীর প্রতি সে আসক্ত ছিল।’

    নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে এখন টক্সিক সিচুয়েশনশিপ হিসেবে দেখছেন গায়ত্রী। তার এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    চার দশকের দাম্পত্য, শৈশবের প্রেম, সংসারের নানা টানাপোড়েন—সবকিছু পেরিয়ে এখন নিজের পরিচয়েই বাঁচতে চান সুনীতা আহুজা। গোবিন্দর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ভেঙে পড়তে চান না তিনি। বরং ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতার স্ত্রী।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন, সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সুনীতা।

    অভিনয়ে আসার সুযোগ থাকলেও সংসারের জন্য সেই পথ বেছে নেননি সুনীতা। তিনি জানান, গোবিন্দর সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার বয়স কম। ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দর সঙ্গে আংটি বদল হয়েছিল। দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়। মায়ের পরামর্শে সংসারে মন দিয়েছিলেন তিনি।

    নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, জীবনে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভালোবাসুন আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরুষের ওপর একেবারে পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না। আমি কাঁদিও ভগবানের কাছে, একা। আমি এত বছর পর গোবিন্দর স্ত্রী থেকে সুনীতা হয়েছি।’

    নিজের ভালো থাকার মন্ত্রও জানিয়েছেন তিনি। সুনীতার ভাষায়, ‘আমার কাছে ভালো থাকার মন্ত্র হল নিজেকে ভালোবাসা। নিজের জন্য ভাবো, নিজের জন্য বাঁচো আর আনন্দ করো, ভালোবেসে থাকো। আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকে আমাকে ট্রোল করেন। যারা ট্রোল করেন তারা অবশ্য মিথ্যা কথা বলেন। আমার বয়স এখন ৫৬। আমার মতো বয়সের মানুষ অনেকে ভাবেন, কাজ করে আর কী হবে। কিন্তু আমি কাজ করতে চাই।’

    গোবিন্দ ও তার বান্ধবী কোমল রানিকে ঘিরে নানা আলোচনা প্রসঙ্গে অবশ্য স্বামীর জীবন নিয়ে কথা বলতে চাননি সুনীতা। তিনি বলেন, ‘গোবিন্দর জীবন নিয়ে কিছু বলার নেই আমার। শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলব। তবে হ্যাঁ, আমিও মানুষ, আমার খারাপ লাগলে ভগবানের কাছে গিয়ে বসি। আর আমি কর্মে বিশ্বাসী। ভালো মানুষকে যে দুঃখ দিচ্ছেন, যিনি আমাকে কাদাচ্ছেন, যিনি আমার সংসার ভাঙছেন, ভগবান তাকে দেখে নেবেন। তার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি।’

    গোবিন্দর সঙ্গে তার সম্পর্কের দীর্ঘ পথচলার কথাও স্মরণ করেন সুনীতা। ১৫ বছর বয়সে আংটি বদল, ১৮ বছরে বিয়ে এবং ১৯ বছর বয়সে মা হওয়া—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তারা একসঙ্গেই পার করেছেন।

    তার কথায়, ‘জীবনের সব লড়াই আমরা একসঙ্গে লড়েছি। এটা গোবিন্দরও ভাবা উচিত। সব কিছু নারীই কেন ভাববে? তাঁরাই কেন মন খারাপ করে থাকবে সবসময়?’

    এরপর সুনীতা বলেন, “এক হাতে তো তালি বাজে না, এটা তার সমস্যা। যেখানে তার খুশি তিনি থাকুন। আমি চাই তিনি ভালো থাকুন। নিশ্চয় চল্লিশ বছরে আমার কাছে তিনি কিছু পাননি, যা এখন তিনি পাচ্ছেন। ভগবান ওদের আশীর্বাদ দিক। গোবিন্দ আমার তো ছোটবেলার প্রেম, আমি তো তাও শক্ত হয়ে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। যার সেখানে সুখ, খুশি সেখানে থাকুন, সকলের মুখের হাসি অটুট থাক।”

    গোবিন্দ ও সুনীতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সিনেমায় কাজ করেছেন সুনীতা। ছেলের প্রসঙ্গ উঠতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “আমি বাচ্চাদের কখনও বলি না, বাবাকে ছেড়ে দাও। এটা বলার কোনো মানে হয় না। ওদের বাবা গোবিন্দ। আমি শুধু বলি, আমার মতো শক্ত হও। আমার ছেলে সিনেমায় আসছে, ও খুব পরিশ্রম করেছে। আমি চাই ওর ছবি সুপারহিট হয়ে যাক। আমি চাই ওর উন্নতি হোক।’

    সম্প্রতি সুনীতাকে আদালতের বাইরে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি গোবিন্দকে বিচ্ছেদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোর্টে যাওয়া মানে বিচ্ছেদ চাইতে যাওয়া নয়। সম্পত্তি বাচ্চাদের নামে করার জন্যও যেতে পারি।’

    এত আলোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বিষয়ে সুনীতার বক্তব্য, ‘কত সুন্দর অভিনয় করছি দেখুন। জীবনে এত চিন্তা, আমি এত হাসছি। একটা তো জীবন দিয়েছেন ভগবান, সকলকে বলি খুব আনন্দ করুন। নিজের কথা ভাবুন। ভালোবাসা, সম্পর্ক সব মিথ্যা হতে পারে। আর জীবনে টাকা সবচেয়ে বড়, আর নিজের নাম। এখন শুধু সুনীতা সুনীতা।’

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী

    শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী

    ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

    তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।’

    এ সময় শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’- অনুষ্ঠানের একটি সেশনে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এরই মধ্যে বারবার এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তারা বলেছেন- এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াটি আইনগত ও সুসংগঠিত। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

    শেখ হাসিনা যেভাবে ভারতে গেলেন, সে প্রসঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সে সময় বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়- এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘সেই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারতও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। ভারত যদি বলত যে তাকে গ্রহণ করবে না, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এটাই ছিল সেই সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে যে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি তার নিজস্ব গতিতে চলছে। বাংলাদেশ যেমন একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে, ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তার আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।

    সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বুঝেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার কারণ নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও বুঝবেন যে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি কখনোই সামনে আসবে না।

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে এই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যে সম্পর্কই বজায় রাখুক না কেন, নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধু লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে না দেখার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। এর সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।

  • জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগ পাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দেশে ছড়ানো নানা রকম গুজবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের এই দায়িত্বশীল পদের জন্য সব প্রফেশনাল শর্ত পূরণ করে নিজ যোগ্যতায় জাইমা রহমান সেখানে নিয়োগ পেয়েছেন। বরং এ কারণে তাঁকে সাধুবাদ জানানো উচিত।

    আজ বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

    মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জাতিসংঘের রুলস, রেগুলেশন এবং প্রসিডিউরস, জাতিসংঘের যে এক্সিকিউটিভ অফিস রয়েছে তার আন্ডারে যে রিক্রুটমেন্ট প্রসিডিউরস, সেখানে ডিটেইলস ইনফরমেশন রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, উনি (জাইমা রহমান) নিজ মেধা যোগ্যতায় যে পজিশনে অ্যাপ্লাই করেছেন সেটি হলো ‘পি-3’ পজিশন। যেটির জন্য ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। পি ১ বা প্রফেশনাল-১ মিনিমাম এক্সপেরিয়েন্স, পি-২ বা প্রফেশনাল-২ তে অন্তত ২ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে। আর পি-৩ বা প্রফেশনাল ৩ এর জন্য ৫ বছরের প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এভাবে পি-৪, পি-৫ আরও লেভেল রয়েছে।’

    মাহদী আমিন বলেন, বরং পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘে পারিবারিক প্রভাব খাটানোর যে চর্চা ছিল, সে ধরনের কোনো কিছুই তিনি করছেন না।

  • চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বুধবার বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের উদ্যোগ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে।

    রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তিনি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

    তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

    বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীনে সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

    এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে − জনগণের জন্য উন্মুক্ত − জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা আশ্বাস দেন।

    রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এ সময়ে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

    আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রমে অংশ নেন, ছয়টি বক্তব্য দেন ও একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ ও সাধারণ পরিষদে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলেও জানান মাহদী আমিন।

    জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘হাই লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ ও ‘হাই লেভেল মিটিং অন সি লেভেল রাইজ’—এই দুই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ও এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন জানান, এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। একদিকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী, তরুণ, যুবক, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’-রিকভার, রিস্টোর ও রিকনস্ট্রাক্ট নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।