আর্ন্তজাতিক

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’

  • ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

    আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    তিনি জানান, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।’

    অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।

    নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম

  • আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী ৩৫

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এবারের সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। এছাড়া চারজন মন্ত্রী ও দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দায়িত্বের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরও রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে, যাতে সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, কার্যকর সফরের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী ততটুকুই অবস্থান করবেন সেখানে। সফরের সময়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে সময়ের যথাযথ ব্যবহারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এছাড়া সফরে থাকছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

  • নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    নিরাপত্তা পরীক্ষায় সৌদি?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এক মাসের মধ্যেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কি সৌদিকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে, নাকি ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে?

    ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য শুরু থেকেই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো।

    এর মধ্যেই ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলে অগ্রসর হয়ে গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছে এবং মোকা এলাকার দিকে এগিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইয়েমেনে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

    সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ৯ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

    তবে বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, মক্কা চুক্তি তখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে যায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসলামাবাদ একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে জটিল। সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও তাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলেও ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি হামলা—এই দুই ধরনের পদক্ষেপকে আলাদা করে দেখছে ইসলামাবাদ। সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইয়েমেনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্ত নয়।

    পাকিস্তানের জন্য ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে পাকিস্তান সরাসরি অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ—দুটিকে পৃথক রাখার চেষ্টা করছে।

    এরই মধ্যে সৌদি আরবের দিকে হুথি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই এখন এর সামরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ। সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দেবে—সেটি কি শুধু প্রতিরক্ষা, নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরে হুথি অবস্থানে হামলাও এর অংশ হবে—চুক্তির প্রকাশ্য তথ্য থেকে এখনো তার পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

    তবে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এখন পর্যন্ত স্পষ্ট: মক্কা চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অঙ্গীকার রয়েছে, কিন্তু ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে চুক্তিটির প্রথম পরীক্ষা শুধু সামরিক নয়; সৌদি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পাকিস্তান কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।

    অবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।


    তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।

    ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও।ভেগার ইনস্টাগ্রাম

    ভেগার খেলার ধরন কেমন

    তাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।

    উঠে আসার পথটা যেমন ছিল

    ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।


    বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।


    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।

    মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।


    ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

    ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও। ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।