আর্ন্তজাতিক

  • পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি জেনারেল ইৎজাক ব্রিক সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলি সমাজ বর্তমানে এমন এক গভীর সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, যেখান থেকে পতন ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

    তার দাবি, দেশটির সমাজ বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের কারণে মানুষ একে অপরের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

    ইরানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিক বলেন, ইসরাইল এখন এমন এক সংঘাতপূর্ণ সমাজে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডও নিজেদের পক্ষের স্বার্থের নামে বৈধতা পাচ্ছে।

    ব্রিকের ভাষ্য, কেউ এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সেনাপ্রধানদের সমালোচনা করে তাদের নেতৃত্বের কারণে সেনাবাহিনী ‘খাদের দিকে’ এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করায় বামপন্থীদের একটি অংশ তাকে নেতানিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ রাজনৈতিক নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে সমালোচনা করায় ডানপন্থীদের কাছ থেকে তাকে বামপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আবার হেরেদি সম্প্রদায়ের সমালোচনা করলে ওই গোষ্ঠীর কাছ থেকে তাকে ‘অইহুদি’ বলেও অপমান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সাবেক এই জেনারেলের মতে, ইসরাইলে এখন গোষ্ঠীগত স্বার্থ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিভাজন এতটাই তীব্র হয়েছে যে মানুষ পরস্পরের গুরুতর ক্ষতি করতেও পিছপা হচ্ছে না।

    ব্রিকের আশঙ্কা, এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও পারস্পরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইসরাইলি সমাজের স্থিতিশীলতা আরো দুর্বল হবে এবং দেশটির পতনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়বে।

  • গাজায় আর লাশ দাফনের  জায়গা নেই

    গাজায় আর লাশ দাফনের জায়গা নেই

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে কাগজে-কলমে ‘যুদ্ধবিরতি’ চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে দেড় লক্ষাধিক। সেই সঙ্গে ঘর ছাড়া হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এখন এমন সংকট দেখা দিয়েছে যে লাশ দাফন করার জায়গা পেতেও হিমশিম খাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তেমনি গাজার ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। তার সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা- বাবা মোহাম্মদকে কোথায় দাফন করবেন?

    ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকানে চা-কফি বিক্রি করছিলেন। গত ১০ জুন ইসরাইলের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে তার ঘাড়ে একটি গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।
    বাবার মরদেহ দাফনের জন্য ওমর জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে কবরের জায়গা প্রায় ফুরিয়ে গেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির কারণে কবরস্থানগুলোতে ঠাসাঠাসি করে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে।
    অনেক কবরেই স্থায়ী কোনো সমাধিচিহ্ন নেই। শুধু একটি পাথর এবং তার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জায়গার সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসংখ্য কবর দেখেছি। চারদিকে বালুর পাহাড়, আর সেই বালুর নিচে মানুষকে দাফন করা হয়েছে।
    তিনি বলেন, কোথাও শুধু একটি পাথরের সঙ্গে শহীদের নাম লেখা কাগজ লাগানো হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেভাবে কবর তৈরি ও প্রস্তুত করা হতো, এখন আর সেভাবে করার সুযোগ নেই।
    বর্তমানে গাজায় একটি কবর তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ শেকেল বা ১৬৭ ডলার। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তার ওপর নতুন কবর খোঁজার মতো জায়গাও ছিল না।
    নতুন কবরের জন্য কোনো জায়গা ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের দাদার কবরে বাবাকে দাফন করতে হয়েছে, বলেন ওমর।

    গাজায় যুদ্ধের কারণে সেবা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি হামলার ঝুঁকির কারণে মৃতদের শনাক্ত করা ও যথাযথভাবে দাফন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যুদ্ধের সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
    অনেককে বাড়ির আঙিনায়, তাবুর পাশে, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরের ভেতরে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। এরপর পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা অস্থায়ী কবরস্থানে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন হয়েছে নতুন দাফনস্থল। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণে থাকা সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
    আল জাজিরা বলছে, গাজায় কবরের সংকট শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধে নিহত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির কারণে নয়। ইসরাইলি হামলায় বহু কবরস্থানও ধ্বংস হয়েছে।
    গাজার ধর্মীয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে।

    এ ছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলোর জন্য দাফনের জায়গা আরও কমে গেছে।

    গাজার ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
    ৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব গত ১৯ বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করছেন। তার মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
    তিনি যে খান ইউনিস কবরস্থানে কাজ করেন, যুদ্ধ শুরুর সময় সেখানে ছিল প্রায় ৬০টি কবর। এখন সেই কবরস্থানে প্রায় ৬,০০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
    যুদ্ধের একপর্যায়ে তাফেশকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

  • ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে দুই বছর আগে এ সংখ্যা আরো বেশি ছিল । শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিপীড়নের এ চিত্র দেখা দেখা গেছে। ২০২৫ অর্থবছরের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদনটি নিয়মিত প্রকাশ করতে হয়।

    প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই জরিপে সামরিক বাহিনীতে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে, যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়নি—এমন ঘটনাগুলোরও একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

    সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারীদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন হয়রানির আনুমানিক হার ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

    তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের মধ্যে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে এ হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে।

    পেন্টাগনের ভাষ্য, ভুক্তভোগী সদস্যদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে এবং অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ঘটনাগুলো জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

    যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে দুর্বল করে, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।

    তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সামরিক সদস্যদের সুরক্ষা, উচ্চমানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে দপ্তরের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০ হাজার ৪৯২ জন ভুক্তভোগীর সংখ্যা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার সঙ্গে এক নয়। জরিপভিত্তিক এ হিসাবের উদ্দেশ্য হলো সামরিক সদস্যদের এমন অভিজ্ঞতাও শনাক্ত করা, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    শুক্রবারের ঘোষণায় পেন্টাগন সামরিক বাহিনীর শাখাভিত্তিক হিসাব, ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত জনমিতিক তথ্য কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বিভিন্ন পরিসংখ্যান, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের বিশ্লেষণ এবং যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নেওয়া কর্মসূচি ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগের হালনাগাদ তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে যৌন নিপীড়নসহ গুরুতর কিছু অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে মার্কিন কংগ্রেস। এর ফলে এসব মামলার বিচার সামরিক বাহিনীর প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর পরিবর্তে স্বাধীন সামরিক প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালে যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা কমে আসাকে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও, ২০ হাজারের বেশি সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার হিসাব থেকে স্পষ্ট যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন এখনো একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

  • জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে এ সফরে যাবেন তিনি।’

    আজ শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। তবে ভারতসহ কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।’

    ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীকালও যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে আগামী সপ্তাহে সফর হতে পারে। আবার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

  • দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক, দুই সন্তান ও লিভ-ইন জীবনের পর অবশেষে বিয়ে করলেন বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল ও মডেল-ডিজাইনার গ্যাব্রিয়েলা ডেমেট্রিয়াডেস। শুক্রবার (২১ আগস্ট) গোয়ায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই তারকা জুটি।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়াই অত্যন্ত সাদামাটাভাবেই রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা। গোয়ার ইউনিফর্ম সিভিল কোডের অধীনে তাদের এই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

    জানা যায়, সাবেক স্ত্রী মেহের জেসিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সাল থেকে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন অর্জুন। ২০১৯ সালে তাদের প্রথম সন্তান অ্যারিকের জন্ম হয়। এর চার বছর পর ২০২৩ সালে আসে দ্বিতীয় সন্তান আরিভ।

    দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাড়াহুড়া ছিল না এই জুটির। এক পডকাস্টে অর্জুন বলেছিলেন, বিয়ে তার কাছে মূলত একটি কাগজের বিষয়; তারা মানসিকভাবে নিজেদের বিবাহিত মনে করেন। তার ভাষায়, ভালোবাসাকে কোনো কাগজ দিয়ে মাপা যায় না।

    ২০২৫ সালে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে বাগদানের ঘোষণা দেন অর্জুন। অবশেষে তার এক বছর পর সেই সম্পর্ক পেল আইনি স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সম্পর্ককে এবার কাগজে-কলমেও স্থায়ী রূপ দেওয়ায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা।

    সূত্র: পিটিআই

  • ৬২ দিন পর বৃষ্টি যুক্তরাজ্যের শুকনো গ্রাম

    ৬২ দিন পর বৃষ্টি যুক্তরাজ্যের শুকনো গ্রাম

    দীর্ঘ দুই মাস ধোঁয়াশা আর রুক্ষতার মাঝে বন্দী থাকার পর অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নামল যুক্তরাজ্যের সারে কাউন্টির উইসলি গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, টানা ৬২ দিন এক ফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা মেলেনি উইসলিতে। গ্রামের ঘাসগুলো সবুজ রং হারিয়ে তামাটে হয়ে যায়, আর রোদে পোড়া ধুলোবালি উড়ছিল বাতাসে। অবশেষে বৃষ্টি যেন গ্রামবাসীদের কাছে এক অলৌকিক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি যখন উইসলি গ্রামে মাটির শুষ্কতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তখন অনেককেই দেখা গেছে ঘরের জানালা খুলে, আবার অনেকে ছাতা ছাড়াই উঠানে নেমে এসে বৃষ্টির জল গায়ে মেখে নিচ্ছেন।

    চলতি গ্রীষ্মে তীব্র তাপদাহ ও খরায় পুড়ছে গোটা ইউরোপ। আবহাওয়ার চরম এই শুষ্কতা পুরো যুক্তরাজ্যকে ভোগালেও উইসলি গ্রামটি যেন সবচেয়ে বেশি পুড়েছে।

    জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে ০.২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। ফলে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের তালিকায় এটি স্থান করে নেয় বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ শুষ্ক অঞ্চলের একটি হিসেবে। টানা খরায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দেওয়া কিংবা গাড়ি ধোয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল। শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া মাটি, শুকিয়ে যাওয়া জলাশয় এবং আশপাশে দাবানলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামের অলিতে-গলিতে।

    অবশেষে আবহাওয়ার সেই বৈরিতা কাটিয়ে বাধভাঙা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামজুড়ে প্রাণ ফিরে এল। স্থানীয়রা বলছেন, পানির অভাব তাদের জীবনকে যেভাবে থমকে দিয়েছিল, তাতে এই বৃষ্টি শুধুই আবহাওয়া পরিবর্তন নয়, বরং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার এক মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে।

    তবে আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন—দীর্ঘদিনের শুষ্ক পোড়ামাটি জল শোষণ করতে কিছুটা সময় নেবে, তাই এই স্বস্তির সঙ্গে সাময়িক সময়ের জন্য পানি জমে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও দুই মাসের দীর্ঘ তৃষ্ণা মেটার এই আনন্দ যেন উইসলির প্রতিটি ঘরেই এখন হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।

  • যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    গত জুনে ব্রিটিশ কমান্ডোদের হাতে গ্রেপ্তার হন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের একটি তেলবাহী জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পান্থ। ৩৮ বছর বয়সী অজয় পান্থ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। মামলাটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, অজয় পান্থকে এ ঘটনায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী ঋতু পান্থ বলেন, ‘আমার স্বামীকে শুধু বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন।’

    গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার স্মিরতোসে একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে এটিকে আটক করেন ব্রিটিশ কমান্ডোরা। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয় পান্থ।

    অভিযোগ রয়েছে, স্মিরতোস রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ অংশ। অস্পষ্ট মালিকানা ও বীমাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত জাহাজের এই নেটওয়ার্ক ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরোপ করা তেল নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে মস্কো ব্যবহার করে।

    মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, স্মিরতোস গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বাল্টিক সাগর পেরিয়ে জাহাজটির গন্তব্য হিসেবে মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় জাহাজটির ওপর অভিযান চালান ব্রিটিশ কমান্ডোরা।

    যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ অভিযানকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    পান্থের স্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামী এ ঘটনার শিকার। জামিন না পাওয়ায় হেফাজতে থেকে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রথম ফোনালাপের কথা স্মরণ করে চোখের পানি সামলানোর চেষ্টা করতে করতে ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং শুধু কাঁদছিলেন।’

    তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তিনি তা বুঝতে পারেননি…তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি কারাগারে আছি, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বের করে নাও।”’

    এদিকে প্রসিকিউশন দাবি করছে, অজয় পান্থ ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার’ বা ক্যাপ্টেন এবং প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের চালান সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। তবে আদালতের এক শুনানিতে পান্থের আইনজীবী বলেন, জাহাজের কর্মী হিসেবে তিনি ‘শুধু নির্দেশ পালন করছিলেন’।

    তাঁর স্ত্রীও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। ঋতু পান্থ বলেন, ‘যেকোনো জাহাজে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব হলো পণ্য নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।’

    ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর আনোয়ার সাদাত বলেন, এ মামলায় ‘জটিল’ আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

    আগামী ১৫ ডিসেম্বর পান্থের বিচার শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো যখন পদক্ষেপ জোরদার করছে, তখন মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

    ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের কোনো দেশ প্রথমবারের মতো জাহাজ বা এর মালিকদের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাট সি ইন্টারন্যাশনালের ডেভিড হ্যামন্ড লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের জন্য লেখা এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব একটি জাহাজ, এর পণ্য বা এর ক্যাপ্টেনের ভাগ্যের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।’

    তিনি বলেন, ‘শ্যাডো ফ্লিটের পরিচালকদের পাশাপাশি এসব জাহাজে কর্মরত নাবিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পশ্চিমা সরকারগুলো কতটা এগোতে প্রস্তুত, এ মামলা তার প্রাথমিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।’

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা পান্থের ‘খোঁজখবর নিতে’ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

    পান্থ ছিলেন জাহাজে থাকা একমাত্র নাবিক, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহাজটির বাকি ২৪ ক্রু সদস্যের বেশির ভাগকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি এখনো ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করা রয়েছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনে ‘মাঝখানে আটকে পড়ার’ আশঙ্কায় নাবিকেরা ভীত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নাবিকবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ক স্টিভ ইয়ান্ডেল। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নাবিকেরা জানতেই পারেন না, তাঁদের জাহাজে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল বহন করা হচ্ছে কি না। আর এর ফলে তাঁরা সম্ভাব্যভাবে ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

    ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি নাবিক নিয়ে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন খাতের কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ।

    ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ভারতীয় ট্যাংকার ক্যাপ্টেন সংকেত জোশি বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো ইস্যুর পরিবর্তে ‘বাণিজ্যিক দিক’ বিবেচনায় কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

    গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে পান্থ তাঁর স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির আশপাশে সমুদ্রে কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার আরেকটি সংঘাতের প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

    ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, এখন সমুদ্র খুব কঠিন জায়গা হয়ে উঠছে। আমি শুধু প্রার্থনা করছিলাম এবং তাঁকে বলছিলাম, “শান্ত থেকো, সতর্ক থেকো এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখো।”’

    পান্থের মা দীপা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুই হাত জোড় করে সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই, আমার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিন।’

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ওই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    রায়ে বিচারক লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশের আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলে, এসব দেশের আবেদনকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভর করার উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। বিচারকের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং নির্ধারিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেন।

    ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাদের ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে তার কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে তুলে ধরেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বা ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?