আর্ন্তজাতিক

  • চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকার করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেশটির দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুয়ালালামপুর কি ধীরে ধীরে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে—এমন আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আনোয়ারের মন্তব্যকে মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার বলেন, তিনি তাইওয়ানকে ‘চীনের অংশ’ হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, বিষয়টি ‘সর্বত্র স্বীকৃত’।

    তবে এর পরই বিতর্ক তৈরি হয় তার আরেক মন্তব্য নিয়ে। শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলন’ সম্ভব না হলে বেইজিং শক্তি প্রয়োগ করলে তিনি তার নিন্দা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার মালয়েশিয়ার উদাহরণ টানেন।

    তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কোনো অঙ্গরাজ্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা করলে দেশের ‘অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষায়’ তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন। আনোয়ারের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান ‘চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ’। চীনকে পুনরায় একীভূত করতেই হবে এবং করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অন্যদিকে তাইওয়ান সরকার আনোয়ারের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, চীনের প্রতি আনোয়ারের ‘একপেশে সমর্থন’ মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাইওয়ানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাইওয়ান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ উৎপাদক। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোর মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার তার বক্তব্যের কিছুটা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া চীনের অবস্থানকে সম্মান করে। তবে তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় কুয়ালালামপুর।

    সাবাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্যের কয়েক দিন পরই আনোয়ার আবার আলোচনায় আসেন বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশিয়ান অঙ্গরাজ্য সাবাহর প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে।

    প্রতিবেশী ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন।

    ফিলিপাইন বর্তমানে বালাবাক দ্বীপে সামরিক স্থাপনা আধুনিকায়ন করছে। দ্বীপটি মালয়েশিয়ার ব্যাংগি ও বালামবানগান দ্বীপ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে।

    সম্প্রতি বালাবাককে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের ‘এনহ্যান্সড ডিফেন্স কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ইডিসিএর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সেখানে থাকা নির্দিষ্ট স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার রয়েছে।

    আনোয়ারের এই মন্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মধ্যে পুরোনো একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মালয়েশিয়া পশ্চিমের কাছ থেকে দূরে সরে চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক

    মালয়েশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে চীন দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

    চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পেরও অন্যতম বড় সুবিধাভোগী মালয়েশিয়া। ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তার একটি উদাহরণ। ইসরাইলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া। আনোয়ারের নেতৃত্বে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতায় দেশটির অবস্থান আরো জোরালো হয়েছে।

    তবে এসব বিষয়কে মালয়েশিয়ার চীনের দিকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। নটিংহাম মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক চি মেং তান বলেন, তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বীকৃতি নতুন কিছু নয়। ১৯৭৪ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তুন আবদুল রাজাকের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতেই এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

    তার মতে, নতুন বিষয় হলো আনোয়ারের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য। কারণ, ‘এক চীন’ নীতির মধ্যে এ ধরনের অবস্থান সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। তান আরো বলেন, সেপ্টেম্বরে আনোয়ারের সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। বেইজিংকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেও তিনি এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন।

    সাবাহ নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে পুরোনো বিরোধ

    বালাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আনোয়ারের উদ্বেগের সঙ্গে ফিলিপাইনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সাবাহ বিরোধেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    ১৯৬৩ সালে সাবাহ মালয়েশিয়ার অংশ হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটির ওপর দাবি করে আসছে ফিলিপাইন। মালয়েশিয়া বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ম্যানিলা সাবাহর ওপর তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। ফিলিপাইনের দাবি, দেশটির ২০২৪ সালের মেরিটাইম জোনস অ্যাক্টে সাবাহর একটি অংশের ওপর তাদের ‘বিদ্যমান ও বৈধ দাবি’ বহাল রয়েছে।

    জুলাইয়ে এ বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় মালয়েশিয়া। ফিলিপাইনের বর্ধিত মহীসোপানের দাবি সাবাহর জলসীমার ওপর হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করে কুয়ালালামপুর।

    অধ্যাপক তানের মতে, বালাবাকে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আনোয়ারের মন্তব্যকে চীনপন্থী অবস্থান না ধরে ‘নিজের সীমান্ত রক্ষার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

    পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও অটুট

    বোর্নিওতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের আরেকটি কারণ দক্ষিণ চীন সাগর। বিতর্কিত এই সাগরে মালয়েশিয়াও দাবিদার দেশ। চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও এ বিষয়ে ফিলিপাইনের তুলনায় মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে কম সরব।

    তবে চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও জোরালো রেখেছে কুয়ালালামপুর।

    এর অন্যতম উদাহরণ ‘ফাইভ পাওয়ার্স ডিফেন্স অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা এফপিডিএ। এতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

    এটি বাধ্যতামূলক কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। তবে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সদস্যদেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করার অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় প্রতিবছর ‘বেরসামা শিল্ড’ ও ‘বেরসামা লিমা’ নামে দুটি বড় সামরিক মহড়াও হয়।

    মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের বাটারওয়ার্থে দেশটির বিমানঘাঁটিতে এফপিডিএ-এর বিমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের সদর দপ্তর রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    অস্ট্রেলিয়া বাটারওয়ার্থে একটি রাইফেল কোম্পানিও মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় সামুদ্রিক টহল বিমান মোতায়েনের মাধ্যমে নিয়মিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এফপিডিএ-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়া এ অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কুয়ালালামপুরের জন্য একধরনের নীরব প্রতিরোধও তৈরি করছে।

    চীনের ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু জোট নয়

    যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিমা বিনিয়োগ থেকেও লাভবান হচ্ছে মালয়েশিয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল লোয়েবেল বলেন, মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণে কোনো বড় শক্তির সঙ্গেই দেশটি গভীরভাবে জোটবদ্ধ হয়ে পড়েনি।

    তার মতে, অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মালয়েশিয়া চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন না।

    লোয়েবেল আরো বলেন, তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলো মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। আনোয়ার বিষয়টি জানেন এবং এটিকে স্বাগতও জানান।

    সব মিলিয়ে তাইওয়ান নিয়ে আনোয়ারের সাম্প্রতিক মন্তব্য চীনের প্রতি মালয়েশিয়ার ঝুঁকে পড়ার আলোচনা জোরালো করলেও, দেশটির সামগ্রিক পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিতে এখনো ভারসাম্যের ছাপ স্পষ্ট। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখাই আপাতত কুয়ালালামপুরের কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

  • নিউইয়র্কে আরএসএসের অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি :হিন্দুস’র

    নিউইয়র্কে আরএসএসের অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি :হিন্দুস’র

    ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সংক্ষেপে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের উপস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা।

    এই বিতর্কিত আয়োজন বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রভাবের বিস্তার নিয়ে মেয়রকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    মিডলইস্ট আই মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির অনুঘটক হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী সংগঠন আরএসএসের শীর্ষ নেতার এই সফরের প্রতিবাদে স্থানীয় সিটি হলের সামনে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক শ্রাব্যা তাদেপল্লি এক বিবৃতিতে বলেন, মোহন ভগবত সাধারণ হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন, যা ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর হামলা, বৈষম্য ও ভীতি সৃষ্টিতে ইন্ধন যুগিয়েছে। নিউইয়র্কের মতো বহুত্ববাদী শহরে এ ধরনের উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে একতার মোড়কে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাড ল্যান্ডার ও শাহানা হানিফের মতো প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ ডজনখানেক মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন ইতোমধ্যেই মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই আয়োজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইতিহাসবিদ ও গবেষক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারসনের মতে, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে আরএসএস। নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে সংগঠনটির দৃশ্যমান প্রভাব জাহির করা এবং সেই চিত্র ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করার মতলব রয়েছে।

    ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘু মুসলমান ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি অতীতে ভারতে ক্রমবর্ধমান এই উগ্র হিন্দুত্ববাদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি মেয়র হওয়ার আগে আয়োধ্যা ইস্যুতে বিতর্কিত একটি প্রদর্শনী ভারতীয় শোভাযাত্রা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর পদক্ষেপগুলো বাস্তবমুখী নাকি কেবলই রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষার চেষ্টা—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

    ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই এমওইউ কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে বলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক এজেন্সিকে তারা নিজেরাও চেনেন না।তার অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এতে বড় ধরনের দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিন্ডিকেট বা এ ধরনের তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

    এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটিকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর চাহিদার জন্য অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

    কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগকর্তাকে লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

    এরপর অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহের পর কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

    নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

  • বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় তিনি সহযোগিতার কথা জানান।

    বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’

    তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন-পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’

    আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’

    মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

    প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

    বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

    সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দাপট অব্যাহত বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি)। ডারউইনে গতকাল তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেল এইচপি। পয়েন্ট টেবিলেও তারা আছে শীর্ষে। শুরুতে ব্যাট করে ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে এইচপি লক্ষ্যে পৌঁছে ১৬ বল হাতে রেখে।

    ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল এইচপি। সেখান থেকেই হালটা ধরেন শামীম হোসেন ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩২ বলে ৪৩ করে ইরফান ফিরলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। ৩৩ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম ওভারে ফিরেছিলেন ০ রানে। জিশান আলম ১১ ও আরিফুল ইসলাম করেন ১৫।

    এর আগে মোহাম্মদ রুবেল ১৫ রানে ৪টি আর রাকিবুল হাসান ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ১৩১ রানে। সর্বোচ্চ ৪৯ করেছিলেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার।

    বাংলাদশ প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনস একাডেমিকে হারায় ৩ উইকেটে। সেই ম্যাচে ৪৫ বলে ৫৯ রান করেছিলেন হারিয়ে যেতে বসা সাব্বির রহমান। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য করতে পারেননি তেমন কিছু। আউট হয়ে যান ১৪ বলে ৫ রানে।

  • এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানটায় দুর্দান্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এলচের মাঠে গোলের উৎসব করেছে হানসি ফ্লিকের দল। স্বাগতিকদের ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    বার্সেলোনার বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেস। অভিষেকেই গোলের দেখা পেয়েছেন নতুন সাইনিং করিম আদেইয়েমি। আর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই গোলে সহায়তা করে নজর কেড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই এলচের ওপর চাপ তৈরি করে বার্সেলোনা। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেইয়েমি। রাফিনিয়ার পাস কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের অভিষেকটা গোল দিয়ে রাঙান তিনি।

    বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে নামা গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর গর্ডনের আরেকটি অ্যাসিস্ট কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ফেরমিন। চার গোলে এগিয়েও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্লিকের দল। ম্যাচের শেষ দিকে জাভি এস্পার্তের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফেরমিন। তাতে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের।

    নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ গোলের জয় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বার্তা দিয়ে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল বার্সেলোনা। এর আগের দিন জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদও। এস্পানিওলের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় হোসে মরিনহোর দল।

  • কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।

    দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’

    অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।