আর্ন্তজাতিক

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে তাদের ‘মাইনাস’ বা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইপিইউ প্রতিনিধি দল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এ তথ্য সামনে আসে।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটি আইপিইউ’কে নির্বাচন থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সার্বিক চিত্র আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আইপিইউয়ের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

    সফরকালে আইপিইউ প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বৈঠকে আইপিইউ প্রতিনিধিরা এর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের নানা সমস্যার সুরাহা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, দেশের চলমান সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের নতুন প্রস্তাবনাসমূহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করে বলছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছে।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংসদীয় কূটনীতির কৌশলগত দিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

  • ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    লেস্টার সিটি ছেড়ে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে লেস্টারের সঙ্গে তার ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটল।

    ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আবার ফিরছেন ব্রামল লেনে। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছিলেন তিনি। সেই সময় ব্লেডসদের হয়ে ১৬টি ম্যাচ খেলেন হামজা।

    লেস্টার সিটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘লেস্টার সিটিতে ২১ বছর কাটানোর পর হামজা চৌধুরী স্থায়ী চুক্তিতে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে চৌধুরী ব্লেডসদের হয়ে ধারে খেলেছিলেন, যেখানে তিনি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৬টি ম্যাচ খেলেন। আমরা তোমার জন্য শুভকামনা জানাই, হামজা।’

    ছোটবেলায় লেস্টারের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন হামজা। এরপর ক্লাবটির হয়ে ১৬৫টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০২১ সালে জেতেন এফএ কাপ, আর ২০২৪ সালে জেতেন চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা।

    তার এই স্থায়ী দলবদল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় বয়ে আনল। কারণ তার ক্যারিয়ার এখন বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ইংল্যান্ডের লাফবরায় জন্ম নেওয়া হামজার মা বাংলাদেশি। এর আগে তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছিলেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে বেছে নেন।

    ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশের হয়ে ১০টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন চারটি।

  • ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    ছোটবেলায় অভিনয় শুরু, তিন দশক পর কারিশমার উপলব্ধি

    বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর। কিশোরী বয়সে অভিনয় শুরু করা এই তারকা মনে করেন, একজন শিল্পীর শেখার প্রক্রিয়া কখনোই শেষ হয় না। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়াই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় গুণ।

    সম্প্রতি বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, ‘অভিনয় মানেই প্রতিদিন নিজেকে বদলে নেওয়া। শুধু প্রতিটি সিনেমা নয়, প্রতিটি দিনই আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। বিভিন্ন মানুষ ও শুটিং সেট থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই ধারাবাহিক শেখার মধ্য দিয়েই একজন শিল্পীর বিকাশ ঘটে।’

    মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেন কারিশমা। তাঁর প্রথম ছবি প্রেম কায়েদি মুক্তি পায় ১৭তম জন্মদিনের মাত্র চার দিন আগে। তাই চলচ্চিত্র অঙ্গনেই তাঁর বেড়ে ওঠা বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    কারিশমার ভাষায়, ‘আমি খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছি। তাই ইন্ডাস্ট্রিতেই আমার বড় হওয়া। জীবনের উত্থান-পতন ও অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছি। ধাপে ধাপে এগিয়েছি। যখন পেছনে তাকিয়ে মনে হয় কিছু বিষয় ভিন্নভাবে করা যেত, তখন বুঝি একজন অভিনেতা হিসেবে আমি আরও পরিণত হয়েছি।’

    সম্প্রতি মেন্টালহুড ও ব্রাউন-এর মতো ওটিটি কনটেন্টে কাজ করেছেন কারিশমা। তার মতে, সিনেমা, টেলিভিশন ও ওটিটির কাজের ধরন একেবারেই আলাদা।

    তিনি বলেন, ‘ওটিটি চলচ্চিত্রের চেয়ে অনেক ভিন্ন। আমার কাছে এটি বেশ কঠিন মনে হয়েছে। কারণ, একটি সিরিজে একদিনে হয়তো প্রথম পর্বের দৃশ্যের পাশাপাশি সপ্তম পর্বের দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তাই কাজের গতি ও পদ্ধতি আলাদা। সিনেমার অভিনেতাদের জন্য ওটিটি নতুনভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়।’

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রামকারিশমা জানান, তিনি কখনোই খুব পরিকল্পনা করে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেননি। বরং নিজের ইচ্ছা ও অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    ‘আমি সব সময় এমন মানুষ ছিলাম যে, কোনো কাজ করতে চাইলে করেছি, না চাইলে করিনি। ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করিনি। তবে সৌভাগ্যক্রমে অনেক স্মরণীয় সিনেমা ও অসাধারণ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি,’ বলেন রাজা হিন্দুস্তানি তারকা।

    বর্তমানে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইন্ডিয়াজ বেস্ট ড্যান্সার-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন কারিশমা। তবে পেশাগত জীবনের অনেক আগেই নাচ তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

    কারিশমা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

    শৈশবের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ছোট বোন কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে সিনেমার গান শুনে বাড়িতে নাচতেন তারা। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলেন কারিশমা। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলাম। কারিনা আর আমি বাবা-মায়ের সামনে “তাথাইয়া তাথাইয়া, নয়নো মে সপ্না” গানে নাচতাম। নাচ সবসময়ই আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

    অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের পরিবারে নাচের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শাম্মি কপূর, ঋষি কপূর ও শশী কপূর—প্রত্যেকেরই নিজস্ব নাচের ধরন ছিল। তাই নাচ সবসময়ই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে ১০৩ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। পর পর দুই টেস্টে লজ্জার হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) টার্গেটে আছেন টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবার ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার পর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, ৫০ বছরে জঘন্যতম পাকিস্তান দল। শুধু দল নয়, এর দায় ক্রিকেট বোর্ডেরও নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

    জিও নিউজকে লতিফ বলেছেন, ‘সকলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা বলছে। ৫০ বছরে এটা জঘন্যতম ক্রিকেট দল। একদম ঠিক কথা। কিন্তু কেউ তো এখনকার ক্রিকেট বোর্ডের কথা বলছে না। ৭০ বছরে জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড।’

    পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘কেউ তো বলছে না, এই বোর্ডেরই নির্বাচক কমিটি ও কোচেরাই এই জঘন্য দল বেছে নিয়েছে। তাহলে আসল দায় কাদের। সকলেই জানে, কে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। এই দলের জেতার ক্ষমতাই নেই। একের পর এক টেস্ট হারবে।’

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।

    আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

    ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল?

    ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

    তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।

    এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

    গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’

    তিনি বলেন, ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

    ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছু পর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

    ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’

    হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’

    ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’

    হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-“চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।’ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’

    তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’

    ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

    সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল।

    ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’

    উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

    তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’

    এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

    ওইদিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

  • বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

    বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

    বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানান। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।

  • মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে- আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।

    সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কিনা, সেটি মূল বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    তিন বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক ক্রিকেটারের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    সম্প্রতি ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে যৌথ চিঠি পাঠান ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। গত ২৪ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।

    এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলুক, তিনি (ইমরান খান) কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবেন? আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।’

    ইমরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনও নাকচ করে দেন ৬৯ বছর বয়সি এই সাবেক ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো শত্রুতা বা ঝগড়া ছিল না।’

    ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার স্মৃতি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলাম। পরে পাকিস্তান দলে আমি তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের দারুণ একটি সময় কাটিয়েছি।’

    সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তিনি কারও না কারও সন্তান। প্রায়ই ভাবি, কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতাম। পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

    যদিও অবসরের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ, তবু তিনি মনে করেন, দেশের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

    মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা অবশ্যই ভুল। কিন্তু তিনি একজন জাতীয় বীর। আমি চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছেও আমার আবেদন রয়েছে। হয়তো আমি সবকিছু বলার অবস্থানে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি—তিনি আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ।’

    সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হোক। এর বেশি আর কী বলব? আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয়ের গভীরতা থেকেই এসব কথা বলছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি এবং দেশের পতাকা বহন করেছি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সেগুলোর অবসান হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের প্রশ্নে ইমরান কারও চেয়ে কম নন। আমরা মাঠে লড়েছি পাকিস্তানের জন্যই। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায়ের ইতি টানার।’