খেলাধুলা

  • ক্রোয়েশিয়া-পানামার টিকে থাকার লড়াই

    ক্রোয়েশিয়া-পানামার টিকে থাকার লড়াই

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছে দুদলের। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়া আর ঘানার কাছে ১-০ গোলে হারে পানামা। তাই ‘এল’ গ্রুপের দুদল এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা ক্রোয়েশিয়া ও পানামা দুদলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার বিএমও ফিল্ডে দুদলের ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে।
    পানামার জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২৩ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে ভালো পরীক্ষাই দিতে হবে পানামাকে। তবে গত ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হারলেও যে লড়াই করেছে তারা, সেটিই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। তবে ঘানার বিপক্ষেই ম্যাচে স্বরূপে ফিরতে চায় ক্রোয়েশিয়া। গত ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একের পর এক গোল হজম করে যে সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পানামা ম্যাচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ৪৫ মিনিটে যেভাবে খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া, সেটিকেই দারুণ ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন ক্রোয়েশিয়া কোচ জাৎকো দালিচ। দল অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। পরবর্তী রাউন্ডে উঠতে আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়া। এজন্য পানামার বিপক্ষে জয় চায় তারা। এর আগে পানামার বিপক্ষে খেলেনি ক্রোয়েটরা। অচেনা দল হলেও মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করে জয়ে ফিরতে চাইবেন লুকা মদরিচরা।

  • আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

    এখন প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসিদের সামনে কে আসছে? স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে নাকি সৌদি আরব?

    ‘এইচ’ গ্রুপে এখনও প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। শেষ রাউন্ডে স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, আর কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট দেশটি যদি সৌদি আরবকে হারাতে পারে এবং স্পেন নিজেদের ম্যাচে উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে স্পেন গ্রুপসেরা হবে আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে।

    অন্যদিকে, স্পেন যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়, তখন সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রানার্সআপ হতে পারে স্পেনও। তখন নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    সৌদি আরবের সামনেও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি কেপ ভার্দেকে হারায় এবং একই সঙ্গে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে সৌদিরা রানার্সআপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরবের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসিদের।

    তবে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ উরুগুয়েকে ঘিরে। যদি উরুগুয়ে স্পেনকে হারায় এবং একই সময়ে কেপ ভার্দেও সৌদির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান সমান। গোল ব্যবধানও সমান থাকলে দেখা হবে কারা বেশি গোল করেছে। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ফলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় এখনও চারটি দলেরই নাম রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী কেপ ভার্দেই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ। যদিও শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

    গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলো তাই শুধু ওই চার দলের জন্য নয়, আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্যও সমান গুরুত্ব বহন করছে।

  • হালান্ডের জোড়া গোলে নকআউটে নরওয়ে

    হালান্ডের জোড়া গোলে নকআউটে নরওয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। তার জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’ থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

    নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বদলি খেলোয়াড় পেডারসেন গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন।

    বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৪৮ মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে হালান্ড গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। তবে পাঁচ মিনিট পরই সাদিও মানের দুর্দান্ত পাস থেকে ইসমাইলা সার গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল।

    কিন্তু ৫৮ মিনিটে আবারও গোল করেন হালান্ড। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ফরোয়ার্ড।

    যোগ করা সময়ে ইসমাইলা সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

    এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সেনেগালের সামনে এখন বিদায়ের শঙ্কা। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে আফ্রিকান দলটিকে। এদিকে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ৪-এ নিয়ে গেছেন হালান্ড। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি এখন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান গোল করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। শীর্ষে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

  • জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

    জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

    কীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৩ জুন) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। উল্টো ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির অ্যাসিস্ট থেকে নিযার আল-রাশদান গোল করে জর্ডানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

    বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়া কোচ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৮ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে সমতা ফেরান।

    গোল শোধ করার পর আরও আক্রমণ বাড়ায় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আমিন গুইরি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।

    শেষ মুহূর্তে জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে আটকে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ মাহরেজদের দল।

    এই জয়ে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে নকআউট স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে গেল জর্ডানের।

  • মেসির বিশ্বরের্কড, আর্জেন্টিনা এবারও অপ্রতিরোধ্য!

    মেসির বিশ্বরের্কড, আর্জেন্টিনা এবারও অপ্রতিরোধ্য!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ডালাসের মাঠে বিকালের রোদ যখন একটু হেলে পড়েছিল, তখনই ঘটে গেল সে মুহূর্তটা—যার জন্য ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছিল। লিওনেল মেসি ছুটলেন, বক্সের ভেতর একটু বাঁয়ে ঘুরে নিলেন নিজেকে, আর বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে বলটা জড়িয়ে গেল জালে। মাঠে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাসের শব্দ বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই বোর্ডে ভেসে উঠল রেকর্ডটা—বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি। জার্মানির কিংবদন্তি মিরোশ্লাভ ক্লোসাকে টপকে তিনি পৌঁছে গেলেন ১৭ গোলে। এটা ম্যাচের ৩৮ মিনিটের ঘটনা। গল্পটা আরো রঙিন করলেন মেসি ম্যাচের শেষ সময়ে, ইনজুরি টাইমে। এবার পুরোপুরি একক কৃতিত্বে আক্রমণ তৈরি করলেন। গোলকিপার সামনে বেড়ে রক্ষার তুমুল চেষ্টা করলেন। পোস্টে দাঁড়িয়ে গেলেন দুজন ডিফেন্ডার, কিন্তু মেসি প্রায় মাটিতে শুয়ে স্লাইড করে শট নিলেন গো..ও..ল! আর্জেন্টিনা ২, অস্ট্রিয়া ০। খেলার শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষবারের আরেকটি শট নিলেন মেসি। সামান্য দূরত্ব রেখে পোস্টের বাইরে রইল সেটা। নইলে টানা হ্যাটট্রিক হয়েই গিয়েছিল! এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দুটি ম্যাচ জিতেছে। দুই ম্যাচেই ম্যাচসেরা মেসি। দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা সবসুদ্ধ গোল করেছে পাঁচটি। সবকটি গোলই মেসির।

    এ খেলোয়াড়কে আপনার কি মনে হবে?

    ম্যাজিশিয়ান ছাড়া আর কি!

    মেসিময় এ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নশিপ অক্ষুণ্ণ রাখার পথে এগিয়ে গেল আরেক ধাপ।

    তবে গল্পটা এত সহজ ছিল না। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। স্পট কিকে দাঁড়ালেন মেসিই। অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার কিন্তু নড়লেন না ভেতর থেকে, মেসির দিকে তাকিয়ে রইলেন শান্ত চোখে, যেন মাথার ভেতর আগে থেকেই জানেন কোথায় যাবে শট। মেসির কিক ঠেকিয়ে দিলেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে পেনাল্টি মিস—যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এটা মাথায় চাপের পাথর, কিন্তু মেসি তো মেসি। হতাশার সে ছায়া মুখে বেশিক্ষণ রাখলেন না। ৩৮তম মিনিটে নিজেই আবার মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়লেন। বল বাড়ালেন পাশে থাকা আলমাদার দিকে। আলমাদা বল নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন। আক্রমণে বামপ্রান্তে থাকা মেদিনার কাছে বল ঠেললেন। মেদিনা আড়াআড়ি ক্রসে সে বল ফের আলমাদার কাছে পাঠালেন। কিন্তু আলমাদা জানতেন তার পাশেই আছেন মেসি। শট নেওয়ার ডামি করে বল ছেড়ে দিলেন ফাঁকায় থাকা মেসির জন্য। মেসি বল নিয়ে বাঁ পায়ে যেন জাদু দেখালেন। গোলকিপার ভেবেছিলেন বল আসছে দূরের পোস্টে, তাই তিনি ডানদিকে হেলে গেলেন। কিন্তু মেসি বল রাখলেন কাছের পোস্টে। গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার বাঁ দিকে ঘুরলেন। কিন্তু ততক্ষণে যে কিছুটা দেরি হয়ে গেছে। সে ছোট্ট দেরির সুযোগে মেসির শট অস্ট্রিয়ার জালে। আনন্দে মাতলেন ম্যাজিকম্যান মেসি। বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড তখন তার পায়ে গড়াচ্ছে। মিরোশ্লাভ ক্লোসা চার বিশ্বকাপে ১৬ গোল করেছিলেন, একটা রেকর্ড যেটাকে ছোঁয়া প্রায় অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু মেসি সে ‘প্রায় অসম্ভবকে’ সম্ভব করে দিলেন ডালাসে। বিশ্বকাপে তার ১৭তম গোল শুধু একটা সংখ্যা নয়, এটা ২০ বছরের ধারাবাহিক উৎকর্ষের প্রমাণ। মাঠে তিনি যেভাবে খেলেন, সেটা দেখার মতো। বল পায়ে নেই যখন, তিনি হাঁটেন শান্তভাবে, শক্তি সঞ্চয় করেন। কিন্তু যে মুহূর্তে আর্জেন্টিনা বলের দখল পায়, প্রতিটি সতীর্থের চোখ সেঁটে যায় তার দিকে—সে ছোট্ট মানুষটার দিকে, যিনি গ্যাপ তৈরি করেন এমন জায়গায়, যেখানে আর কেউ গ্যাপ তৈরির চিন্তাও করতে পারে না। মেসি এজন্য অনন্য এবং একজনই!

    ম্যাচে হারলেও মাঝে অস্ট্রিয়া লড়েছে সমানতালে। পল ওয়ানার সামান্য ঝলক দেখিয়েছেন, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অস্ট্রিয়ার আক্রমণে গভীরতার অভাব ছিল স্পষ্ট। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ মাঝে খানিকটা খেই হারালেও দ্রুতগতিতে সে ঝড় সামলে নিয়েছে। তবে এ ম্যাচের শুরুর একটাই শঙ্কা—জুলিয়ান আলভারেস ছাড়া পেছনের স্পেসে দৌড়ানোর মতো কেউ নেই দলে। লাউতারো মার্তিনেজ বা মেসি কেউই আর পেছন থেকে ছুটে যান না সেভাবে। তবে যতদিন মেসি আছেন এ মাঠে, ততদিন উত্তর খুঁজতে হয় না বেশি।

    এ মুহূর্তে পুরো বিশ্বকাপ যেন মেসিকেন্দ্রিক। তাকে দেখা সত্যিই সৌভাগ্যের—ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠকে আরেকটা রেকর্ড ভাঙতে দেখা, আরেকটা গল্প লিখতে দেখা। ডালাসে যারা মাঠে ছিলেন, তারা আজীবন মনে রাখবেন এ সন্ধ্যার কথা।

  • অবসরের ঘোষণা থেকে বিশ্বকাপের শিখরে

    অবসরের ঘোষণা থেকে বিশ্বকাপের শিখরে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এক দশক আগে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর হতাশায় আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেরার পরই শুরু হয় তার এবং আর্জেন্টিনার সোনালি অধ্যায়।

    সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, যার গোলসংখ্যা ১৬। ১৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্তা।

    ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য হতাশার ছিল। অষ্টম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। তবে ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি গোল করে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে যান।

    বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার ১৮ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে তার পা থেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসি আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০)।

    বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ওয়েলস অধিনায়ক অ্যাশলি উইলিয়ামস প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে দেখছি?” আর সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফির মতে, “মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তা অন্য এক পর্যায়ে। তিনি সম্ভবত আমার দেখা সেরা ফুটবলার।”

    মজার বিষয় হলো, রেকর্ড গড়ার রাতেও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া (৭) এবং সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা (৩) খেলোয়াড়ও এখন তিনি।

    তবে শেষ পর্যন্ত রাতটি ছিল শুধুই মেসির। একসময় জাতীয় দলকে বিদায় জানানো ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। আর সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে টানা আরেকটি নকআউট পর্বের টিকিটও এনে দিয়েছেন তিনি।

  • পেনাল্টি মিস না হলে হয়তো জোড়া গোলও হতো না: মেসি

    পেনাল্টি মিস না হলে হয়তো জোড়া গোলও হতো না: মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার রাতেও শুরুটা সুখকর ছিল না লিওনেল মেসির জন্য। ম্যাচের প্রথম দিকেই পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সেই হতাশাকেই শক্তিতে পরিণত করে পরে জোড়া গোল করেন তিনি, আর তার হাত ধরেই অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।ম্যাচের নবম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের ভেতরে ফেলে দিলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন তিনি। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ সামনে থাকলেও স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি মেসি।তবে পেনাল্টি মিসের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে নিজেই আক্রমণের সূচনা করে দুর্দান্ত এক ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান।এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আবারও আঘাত হানেন মেসি। ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয় এবং মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে।

    ম্যাচ শেষে জয়ের গুরুত্ব নিয়েই বেশি কথা বলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তিনি বলেন, “আমি এই জয়ের জন্য সত্যিই খুব খুশি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় ছিল। আমরা কঠিন লড়াই করে এবং যোগ্য দল হিসেবেই এই জয় পেয়েছি। সামনের ম্যাচগুলোর আগে এটি আমাদের অনেক স্বস্তি দিচ্ছে।”নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পর দলের ওপর থেকে চাপও কমেছে বলে মনে করেন মেসি। তার ভাষায়, “এটাই বিশ্বকাপ। এখানে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমরা ছয় পয়েন্ট পেয়েছি এবং নকআউট নিশ্চিত করেছি। এখন অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সামনে তাকাতে পারব।”

    তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে আলোচিত ছিল তার পেনাল্টি মিস নিয়ে মন্তব্য। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার রাতে মেসি মজার ছলেই বলেন, “পুরো ব্যাপারটা যেভাবে ঘটেছে, সেটা সত্যিইসুন্দর। আজ আমি পেনাল্টি পেয়েছিলাম, যেটা থেকে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতাম। কিন্তু আমি যদি সেই পেনাল্টিতে গোল করতাম, তাহলে হয়তো পরে বাকি দুটি গোল পেতাম না। আপনি কখনোই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। তবে ফলাফল, পারফরম্যান্স এবং দলের কাজ নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট।”

  • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    অ্যাশেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ শেষবার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছিল। তাই প্রায় ১৭ বছর পর আবার ইংলিশ কন্ডিশনে সাদা পোশাকে মাঠে নামবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।

    ম্যাচের ভেন্যু এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কোথায় হবে তার ওপর। যদি ফাইনাল লর্ডসে না হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টটি লর্ডসে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি লর্ডসেই ফাইনাল হয়, তাহলে ম্যাচটি ওভালে আয়োজন করা হতে পারে।

    সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট খুব কম ওভারে শেষ হয়েছিল এবং বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক কন্ডিশন ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরিয়ে ওভালে নেওয়ার কথাও ভাবছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

    ২০২৭ সালের সূচিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হবে।

  • এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানো যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচরাও ফরাসি এই তারকাকে আটকানোর নানা কৌশল খুঁজে থাকেন। কিন্তু তাকে রুখতে ব্যতিক্রমী এক ‘সমাধান’ দিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড— একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে!

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত তিনটায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের ছলে আর্নল্ড বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা কি একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি? কিন্তু তারা সেটি অনুমোদন করেনি।

    ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

    ইরাকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জালাল হাসান সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছিলেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কে গোলপোস্ট সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্নল্ড।

    ইরাকি কোচ বলেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুক।

    অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।

    এই অর্জন নিয়ে এমবাপে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু নেই। ফ্রান্সের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

  • তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে লা আলবিসেলেস্তেদের। তার আগে আলোচনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য একাদশ।

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি পরিবর্তন আসবে। চোটের কারণে রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েলকে বিশ্রাম দেবেন লিওনেল স্কালোনি। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় তাঁকে বেঞ্চে রাখা হচ্ছে। মন্তিয়েলের অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে রাখা হবে নাউয়েল মলিনাকে। এই পজিশনে স্কালোনির প্রথম পছন্দ তিনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু রাইব্যাকই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আরও দুটি পরিবর্তন আসতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলজেরিয়া ম্যাচের মতো অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও লাউতারো মার্তিনেস শুরুর একাদশে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    আক্রমণভাগে আরও একটি পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদা একাদশে থাকবেন নাকি তাঁর জায়গায় সুযোগ পাবেন নিকোলাস গনসালেস—এখনো সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু করা আলমাদার ওপরই আবারও আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি—এমনটাই দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    লেফটব্যাক পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাকেই ধরে রাখছেন স্কালোনি। কাফের চোট কাটিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে ফিরলেও তাঁকে শুরু থেকেই খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না কোচিং স্টাফ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যেতে পারে এই ডিফেন্ডারকে। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও কিছুটা সময় খেলাতে পারেন স্কালোনি, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনসালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।

  • নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার পুরো নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। একইভাবে ‘এইচ’ গ্রুপের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে এই গ্রুপের যেকোনো এক দলের বিপক্ষেই সেরা ৩২-এ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

    ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। গতকাল রাতে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সমান দুই পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

    ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠলে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারায় এবং কেপ ভার্দে জয় না পায়, তাহলে স্পেন রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে পাবে। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দল জিতলে গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে ফেয়ার প্লে সূচক দিয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের অবস্থান।

    অন্যদিকে কেপ ভার্দে জয় পেলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আফ্রিকার দলটিই রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে। সৌদি আরবও এখনো পুরোপুরি সমীকরণের বাইরে নয়। উরুগুয়ে জয় না পেলে এবং সৌদি আরব নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে তারাও রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, সামগ্রিক গোল ব্যবধান, মোট গোল, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাংকিং।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • পেলের ৬৮ বছর আগের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইয়ামাল

    পেলের ৬৮ বছর আগের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইয়ামাল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করলেন স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই মাত্র ১০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ইয়ামাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন। ম্যাচের ১০ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই তরুণ তারকা।

    এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও এই ম্যাচেই প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পান এবং সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেন।

    এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য এক অর্জন নিজের নামে যুক্ত করলেন ইয়ামাল। ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে ম্যাচের প্রথম গোল করার রেকর্ড এতদিন ছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে।

    ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড গড়েছিলেন পেলে। প্রায় ৬৮ বছর পর সেই রেকর্ডে এবার ভাগ বসালেন ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল।

    শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন ইয়ামাল। এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

  • বেলজিয়ামের বিপক্ষে মানবপ্রাচীর আলিরেজা

    বেলজিয়ামের বিপক্ষে মানবপ্রাচীর আলিরেজা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি থামিয়ে দেন বেলজিয়ামের তারকা আক্রমণভাগ যেখানে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ।

    ২৩টি শটের মধ্যে ৭টি অন টার্গেট সবকটিই রুখে দেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বলে ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ম্যাচ শেষে তিনি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

    ইরানের জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ট্র্যাক্টর দলে। এর আগে তিনি পার্সেপোলিস, বোয়াভিস্তা এবং রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের মতো ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

    বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক আলিরেজা বেইরানভান্দের জীবনের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য-

    ১. যাযাবর কুর্দি পরিবার থেকে উঠে আসা ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদে জন্ম বেইরানভান্দের। কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ছোটবেলায় পাহাড়ি এলাকায় পশুপালনের কাজও করেছেন। রাখাল জীবন থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার গল্প তাকে অনন্য করে তুলেছে।

    ২. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

    দূরপাল্লার থ্রোয়ের জন্য বিখ্যাত বেইরানভান্দ। ফুটবলে সবচেয়ে দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড (২০০.১৪ ফুট) এবং দীর্ঘতম ড্রপ-কিক (২৫৫.৯৫ ফুট) দুটি রেকর্ডই তার দখলে, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

    ৩. বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ পরিসংখ্যান

    এই ম্যাচে তিনি ৭টি সেভ করেন। পাশাপাশি ৩৪টি পাসের মধ্যে ২০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২৪টি লং বলের মধ্যে ১১টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন যা তার গোলরক্ষার পাশাপাশি বিল্ড-আপ দক্ষতাও তুলে ধরে।

    ৪. ইরানি ফুটবলের শীর্ষ তারকা

    গত এক দশকে ইরানি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন বেইরানভান্দ। তিনি টানা চার মৌসুম লিগের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।

    ৫. রোনালদোর পেনাল্টি সেভে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

    ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর তার সেই সেভ আজও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। ইরানের এই গোলরক্ষক তাই শুধু একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে পাহাড়ি যাযাবর জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হওয়ার কাহিনি লেখা হয়েছে নতুন করে।

  • যেভাবে দেখবেন আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ

    যেভাবে দেখবেন আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়া ম্যাচের দোরগোড়ায়। আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

    লিওনেল মেসির এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

    এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

    নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

  • নরওয়ে -সেনেগালের অগ্নি পরীক্ষা

    নরওয়ে -সেনেগালের অগ্নি পরীক্ষা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে নরওয়ে। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল।

    এ ম্যাচ জিততে পারলে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করবে তারা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ম্যাচ সেনেগালের সামনে। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তারা। তাই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার আশা ‍জিইয়ে রাখতে হলে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই তাদের। ভিন্ন দুই সমীকরণ নিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুদল।


    আগের ম্যাচে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হ্যালান্ড জোড়া গোল উপহার দিয়েছেন। সেনেগালের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার। আর তাকে ঘিরেই ম্যাচের মূল পরিকল্পনা করছেন নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেন। সেনেগালের বিপক্ষেও হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলার কৌশল নিতে পারেন এই কোচ। সেক্ষেত্রে ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পারে নরওয়ে।

    যেখানে আক্রমণভাগের প্রাণশক্তি থাকবেন হ্যালান্ড। অন্যদিকে প্রতিআক্রমণে নরওয়েকে বিপদে ফেলতে পারে সেনেগাল। সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি ও এডোয়ার্ড মেন্ডিÑএই ত্রয়ী মিলে নরওয়ের রক্ষণভাগের ভালো পরীক্ষা নেবে। ২০২৪ সাল থেকে সেনেগাল দলের দায়িত্ব পালন করছেন কোচ পেপ থিয়াও। তার অধীনে নেশনস কাপের ফাইনাল খেলে সেনেগালও। যদিও বিতর্কিত ফাইনালে হেরেছে তারা। সেই পারফরম্যান্সের আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে সেনেগাল। যদিও প্রথম ম্যাচটি ভালো যায়নি তাদের। ওই ম্যাচ ভুলে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ে ফিরতেই মাঠে নামবে সেনেগাল। এর আগে একবারই প্রীতি ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ে। এ ম্যাচে সেনেগাল ২-১ গোলে হারায় নরওয়েকে।

    এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে কারা শেষ হাসি হাসবেÑসেটি মাঠের লড়াইয়ে দেখার অপেক্ষা।

  • রোনালদো-মেসির বুটে কেন সোনালি আভা?

    রোনালদো-মেসির বুটে কেন সোনালি আভা?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জমজমাট লড়াই চলছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে। হচ্ছে গোল উৎসবও। তবে মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার দর্শকদের নজর কেড়েছে এক অদ্ভুত ও চোখ ধাঁধানো দৃশ্য—মাঠজুড়ে ফুটবলারদের পায়ে গোলাপি রঙের বুটের আধিপত্য। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালেন্স কিংবা স্কেচার্স—ব্র্যান্ড যা-ই হোক না কেন, উত্তর আমেরিকার সবুজ মাঠগুলো যেন এখন এক গোলাপি সমুদ্র! ফুটবলারদের জুতোয় এমন অভূতপূর্ব রঙের অভিন্নতা এর আগে কোনো বিশ্বকাপে দেখা যায়নি।
    ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এটি মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা। নাইকির বৈশ্বিক ফুটবল ফুটওয়্যার দলের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ওডিঙ্গা নিমাকো জানিয়েছেন, খেলোয়াড় ও ভোক্তাদের মনস্তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বড় মঞ্চে মাঠে নামার আগে উজ্জ্বল রঙ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ, এত উজ্জ্বল রঙের বুট পরে মাঠে নামার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যা ফুটবলারদের অবচেতনে এক ধরনের ইতিবাচক জেদ তৈরি করে।
    এছাড়া বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবুজ ঘাসের মাঠে গোলাপি রঙ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমানতা তৈরি করে। গ্যালারিতে থাকা দর্শক কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় হাই-ডেফিনিশন সম্প্রচারে এই বুটগুলো সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ট্রেন্ড বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালেই বৈশ্বিক ফ্যাশন পূর্বাভাসে ‘ইলেকট্রিক ফুসিয়া’ বা উজ্জ্বল গোলাপি রঙকে ২০২৬-এর গ্রীষ্মের প্রধান রঙ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ব্র্যান্ডগুলোকে এই থিম বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
    তবে এই গোলাপি বুটের একটি নেতিবাচক দিকও দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। অতীতে বুটের রঙ দেখে দূর থেকে প্রিয় খেলোয়াড়কে চেনা যেত; কিন্তু এখন প্রায় সবার পায়ে একই রঙের বুট থাকায় দর্শকদের কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
    অবশ্য এই গোলাপি জোয়ারের মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। ফিফার কঠোর নির্দেশনার কারণে রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা ঐতিহ্যবাহী কালো রঙের অ্যাডিডাস বুট পরেই ম্যাচ পরিচালনা করছেন। অপরদিকে বিশ্বের শীর্ষ কয়েকজন মহাতারকার জন্য স্পন্সররা তৈরি করেছে বিশেষায়িত বুট। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি মাঠে নামছেন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকার আদলে তৈরি অ্যাডিডাসের ‘এল আলতিমো ট্যাঙ্গো’ বুট পরে, যাতে রয়েছে সোনালি আভা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক পরছেন নীল তারকায় খচিত পুমার সাদা বুট। অন্যদিকে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য নাইকি তৈরি করেছে সম্পূর্ণ সোনালি রঙের একটি বিশেষ বুট।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোলাপি উন্মাদনা কেবল বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এবং এটি সাময়িক। আগামী জুলাইয়ের শেষে যখন নতুন ঘরোয়া মৌসুম শুরু হবে, তখন চুক্তি অনুযায়ী ব্র্যান্ডগুলো খেলোয়াড়দের পায়ে নতুন রঙের বুট তুলে দেবে। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপটি যে ফুটবলের ইতিহাসে ‘গোলাপি বিশ্বকাপ’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • ইরাকের সামনে ফরাসি পরীক্ষা

    ইরাকের সামনে ফরাসি পরীক্ষা

    > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ আই’-এর একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ফ্রান্স এবং এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ইরাক। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে। প্রথম ম্যাচের ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার পর এ ম্যাচটি দুদলের জন্যই অত্যন্ত সমীকরণ নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে কিছুটা ধুঁকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। ৩-১ গোলের দারুণ জয় নিয়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দলটি বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। এ ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্স ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫৮টি আন্তর্জাতিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন এই তারকা ফরোয়ার্ড। নকআউট পর্বের টিকিট দ্রুত নিশ্চিত করতে এ ম্যাচেও ৪-৩-৩ ফরমেশনে অলিস ও বারকোলার সঙ্গে এমবাপ্পের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারেন ফরাসিরা।
    অন্যদিকে ‘মেসোপটেমিয়ার সিংহ’খ্যাত ইরাকের জন্য এটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বেশ চাপে রয়েছে তারা। তবে সেই বড় হারের মাঝেও র‌্যাংকিংয়ের ৬০তম দল ইরাকের একমাত্র স্বস্তি ছিল তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেনের সান্ত্বনাসূচক গোলটি। ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখতে হলে ইরাকের রক্ষণভাগকে এ ম্যাচে অনেক বেশি সুসংগঠিত হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কোচ রক্ষণাত্মক ৪-৫-১ ছকে দল সাজিয়ে মূলত প্রতিআক্রমণ থেকে গোল আদায়ের চেষ্টা করবেন।
    বিশ্বকাপ মঞ্চে এর আগে কখনো ফ্রান্স ও ইরাক একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার আত্মবিশ্বাস রয়েছে ইরাকের ঝুলিতে। কাগজে-কলমে ও সাম্প্রতিক ফর্মে ফ্রান্স স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইরাক ফিলাডেলফিয়ায় ফরাসিদের কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত।

  • ‘কোনো খেলাই সহজ নয়, আর্জেন্টিনা সহজ বানিয়ে ছেড়েছে’

    ‘কোনো খেলাই সহজ নয়, আর্জেন্টিনা সহজ বানিয়ে ছেড়েছে’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাতার বিশ্বকাপের ওই স্মৃতিটা মনে থাকার কথা অনেকেরই। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনার ম্যাচটা রীতিমতো ‘বক্স অফিস’ই হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের আগে ও পরে কথার লড়াই তো ছিলই, মাঠেও তর্কে জড়ান দুই দলের ফুটবলাররা।

    বাইরের এই উত্তেজনা ছিল মাঠের লড়াইয়েও। ম্যাচে ২–২ গোলে সমতা থাকার পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ওই শুটআউটের প্রথম শটটাই মিস করেন ভার্জিল ফন ডাইক। পরে তো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষ হয়েছিল কাতারে। এবারও তারা শুরুটা করেছে দুর্দান্ত। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩–০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

    তাদের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধতার কথা জানালেন ফন ডাইকও, ‘আমি সব ম্যাচ দেখছি। আর্জেন্টিনা যেভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছে, তাতেই বোঝা যায় তারা সত্যি সত্যিই তাদের শিরোপা ধরে রাখতে চায়। কোনো খেলাই সহজ নয়, কিন্তু আর্জেন্টিনা এটাকে একদম সহজ বানিয়ে ছেড়েছে।’

    আর্জেন্টিনার মতো নেদারল্যান্ডসও বিশ্বকাপের শুরুটা খুব ভালো করেছে। প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল সুইডেনকে ৫–১ গোলে হারিয়েছে তারা। ২৬ জুন শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া।

    আরেক দিকে দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল রাত ১১টায় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে তারা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ফেবারিট হওয়ার বার্তা এবারও দিয়ে রেখেছে তারা, পাচ্ছে প্রতিপক্ষের প্রশংসাও। তারা কত দূর যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি চার বছর পর পর, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই খেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    কিন্তু ২০২৬ সালে, এই প্রতিযোগিতা শুধু গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি নিয়েই নয়। আজকের সেরা ফুটবলাররা হলেন বিশ্বব্যাপী তারকা, যাদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, গেমের সেরা মুহূর্ত ও প্রশিক্ষণ সেশনের ক্লিপ থেকে শুরু করে পারিবারিক পোস্ট এবং নেপথ্যের ছোট ছোট দৃশ্য পর্যন্ত। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান।

    সোশ্যাল মিডিয়া মূলত খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যকার সম্পর্ক বদলে দিয়েছে। একটিমাত্র পোস্ট অনেক টেলিভিশন সম্প্রচার বা সংবাদ মাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের অনুরাগ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোকে পৃষ্ঠপোষক এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। আসলে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনুসারী রয়েছে যা পুরো দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন এখানে এমন ১০ জন খেলোয়াড়কে তুলে ধরা হলো, যারা মাঠের প্রতিপক্ষের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করেন।

    ১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    হ্যারি কেইন এখন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছু তরুণ তারকার তুলনায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা কম, ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে কাজ করার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পায়। ইংল্যান্ড অধিনায়কের স্কেচার্স এবং ক্যাডবেরির মতো কোম্পানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

    ৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৫০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৩৫ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি

    লামিন ইয়ামালের উত্থান এক কথায় অবিশ্বাস্য। কিশোর বয়সেই তার বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ভক্তরা তার যাত্রাপথ অনুসরণ করতে আগ্রহী, এবং যদি সে তার খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখে, তবে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী বিশ্বকাপের মধ্যে সে এই খেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক নাম হয়ে উঠতে পারে।

    ৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৭০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৪০ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, তার মজাদার ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যও পরিচিত।

    তার জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বিটস বাই ড্রে-এর মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি যেমন রেকর্ড ভাঙছেন এবং ট্রফি জয় করছেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।

    ৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৬০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $১০ মিলিয়ন – $১৫ মিলিয়নেরও বেশি

    ইংল্যান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স তাকে ভক্তদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তিনি অ্যাডিডাসের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেছেন, যারা তাদের ফুটবল প্রচারাভিযানে তাকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করে।

    মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে। সবাই তার বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করে, যা তাকে বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভক্তকুল তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    ৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্য তাকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এনে দিয়েছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ বড় স্পনসরদের আকৃষ্ট করেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তার ভক্তকুলও ক্রমাগত বাড়ছে।

    ৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ২০০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ১২৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ মিলিয়ন – ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    কিলিয়ান এমবাপে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশাল ভক্তকুল তৈরি করেছেন।

    নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে অংশীদারত্ব করেছে এবং তিনি খেলাধুলার জগতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রীড়াবিদ। তার সেরা সময়গুলো এখনও সামনে, এমবাপে যেমন উন্নতি করছেন, তেমনি তার ভক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

    ৩. নেইমার (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৪৫০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ২৩০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    খুব কম ফুটবলারই নেইমারের তারকাখ্যাতির সমকক্ষ হতে পারেন। মাঝেমধ্যে চোট তার গতি কমিয়ে দিলেও, তা তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনলাইনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন এবং পুমা ও রেড বুলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন।

    ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ কোটির বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫০.৫ কোটি – ৫১.০ কোটি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি

    লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরে তার আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। যেহেতু অনেকেই আশা করছেন ২০২৬ সালই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ১.১ বিলিয়ন+

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৬৬৫+ মিলিয়ন

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $৬০ মিলিয়ন+

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদই এর চেয়ে বড় অনলাইন ফলোয়ার তৈরি করতে পারেননি।

    ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাই অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে তিনি ক্রমাগত বিপুল আয় করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার ক্যারিয়ারে, এবার তিনি বিশ্বকাপে কোনো ঝলক দেখাতে পারবেন কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবু জনপ্রিয়তায় তিনিই সবার ওপরে রয়েছেন, কে অস্বীকার করবে?

  • একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

    আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি।

    সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

  • বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

    মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা। একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

  • ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেল নেদারল্যান্ডস

    ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেল নেদারল্যান্ডস

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে সুইডেনকে ৫–১ গোলে বিধ্বস্ত করে নতুন ইতিহাস গড়েছে নেদারল্যান্ডস। এই জয়ে বিশ্বকাপে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়ে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে ডাচরা।

    একই সঙ্গে ‘এফ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল রোনাল্ড কোমানের দল।

    বিশ্বকাপে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত ছিল পেলের ব্রাজিল। নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে সর্বশেষ হেরেছে ২০১০ আসরের ফাইনালে। এরপর ২০১৪ ও ২০২২ আসরে অংশ নিয়ে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ‘এফ’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ডাচরা। সুইডেনের বিপক্ষে জয়ে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছে কোমানের দল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সুইডেন। তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ১ ম্যাচে ১ পয়েন্ট। অন্যদিকে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারা তিউনিসিয়া কোনো পয়েন্ট না পেয়ে রয়েছে তলানিতে।

    হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টায় শুরু হয় নেদারল্যান্ডস–সুইডেন ম্যাচ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা নেদারল্যান্ডসের হয়ে মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করেন ব্রায়ান ব্রবি।

    ম্যাচের ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। কোডি গাকপোর দারুণ এক পাসে পা ছুঁইয়ে গোল করেন ব্রবি।

    ১৭ মিনিটে আবারও গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। ডান দিক থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো বল জালে পাঠিয়ে ডাচ জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের তৃতীয় গোলের দেখা পান এই সান্ডারল্যান্ড ফরোয়ার্ড।

    বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডস। ৪৭ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিসের সহায়তায় চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোল করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। এরপর ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি।

    ৫৯ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে সুইডেনের হয়ে ব্যবধান কমান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। তবে ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি গোল যোগ করে জয়কে আরও বড় করে নেদারল্যান্ডস। ৮৭ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে ডাচদের পঞ্চম গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল।

    ৫–১ গোলের এই বড় জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক অধ্যায় লিখল নেদারল্যান্ডস। ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন এককভাবে ডাচদের দখলে।

  • রোমের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং

    রোমের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত তখনো দগদগে। ফুটবলের মহাবিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে সামনে লাতিন পরাশক্তি ইকুয়েডর। এমন কঠিন সমীকরণের রাতে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে যেন এক রূপকথার জন্ম দিল পুঁচকে কুরাসাও। আর এই রূপকথার একক নায়ক দলটির গোলরক্ষক এলয় রোম। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণের সুনামি বুক চিতিয়ে একাই রুখে দিলেন তিনি। পুরো ম্যাচে অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভ করে ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য করেছেন এই ‘মানবদেয়াল’। আর তাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ও ঐতিহাসিক পয়েন্টের দেখা পেল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি।

    রোববারের সকালের ম্যাচটি মূলত রূপ নিয়েছিল ‘ইকুয়েডর বনাম এলয় রোম’ লড়াইয়ে। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে আসর শুরু করায় ম্যাচটিতে ছিল ছিটকে যাওয়ার চাপ। শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে আক্রমণের পসরা সাজায় ইকুয়েডর। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে অতিমানবীয় রূপে হাজির হন রোম। তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, পজিশনিং ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডরা।

    পুরো ম্যাচে রোম একাই ঠেকিয়েছেন ইকুয়েডরের ১৫টি শট। যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানোর রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন।

    ঐতিহাসিক এই ড্রয়ের পর ‘ই’ গ্রুপে ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইকুয়েডর টেবিলের তিনে এবং কুরাসাও চারে অবস্থান করছে। তবে এই ১ পয়েন্ট দুই দলকেই নকআউটের রেসে টিকিয়ে রাখল। আগামী ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে শক্তিশালী জার্মানির। আর একই দিনে আইভরিকোস্টের চ্যালেঞ্জ নেবে ইতিহাস গড়া কুরাসাও।

  • মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই শুধু প্রাইমারি স্কুল না এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আমরা সেকেন্ডারি স্কুলে শুরু করবো। কাজেই তোমাদের ওয়েল প্রিপেয়ার্ড হতে হবে।

    শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেলাধুলা নয় এর পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারবো।

    তিনি বলেন, আজকে ফুটবল ওর্য়াল্ডকাপ হচ্ছে। এখানে মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পে খেলছে, তোমাদের মধ্য থেকে এমন খেলোয়াড় তৈরি হতে হবে। আমরা এইম করছি, অলিম্পিকে আমাদের রেজাল্ট যেনো ভালো হয়।

    খেলা ছাড়লে হবে না। যে যে খেলা পছন্দ করবে সে সেই খেলা করতে হবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশকে একটা স্ট্রং বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ফেমাস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের বলছি, তোমাদের শুধু খেললে চলবে না, তোমাদের মধ্যে অনেকেই আছো অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যত

    আগামীর বাংলাদেশ তোমাদেরকেই চালাতে হবে। আমরা তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চেয়ে ভালোভাবে তোমাদের বাংলাদেশ চালাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজকদের আমি বলবো আপনার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এই খেলাকে যেনো তারা গিনেসবুকে দিতে পারেন।

    তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বে আমাদের ক্রিকেট টিমকে চেনে। তেমনি ফুটবল দিয়েও সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের চিনবে। অন্যান্য খেলা দিয়েও চিনবে ইনশআল্লাহ। সারা বিশ্বের অ্যাম্বাসেডর হবে তোমরা। সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে। আমরা যারা বড় আছি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি আমাদের থেকে ডাবল, ত্রিপল এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে দেশকে। আমরা যখন ছোট ছিলাম এতো সুন্দর খেলতে পারতাম না। এখন কাজ হলো লেখাপড়া করতে হবে। শুধু লেখাপড়া করলেও হবে না। শুধু খেললেও হবে না একই সঙ্গে কালচারাল অ্যাক্টিভিসসহ সব চর্চা করতে হবে।

    আজকে এখানে যারা জিতেছে, রানার্সআপ হয়েছে তাদের আমাকে কনগ্রাচুলেট জানাতে হবে। আমি কনগ্রাচেলেট করতে চাই পুরো ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে। একই সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবকে কনগ্রাচেলেশন জানাই।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

    দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল জার্মানি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে এক গোল হজম করে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি ফরোয়ার্ড ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে টানা দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে নিজেদের গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই করলেও প্রথম ধাক্কা খায় জার্মানি। ৩০তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ডি-বক্সে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জার্মানদের জাল কাঁপান অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।

    তবে এর আগেই দুবার বল জালে পাঠিয়েছিল জার্মানি। ২১ মিনিটে আলেকজান্ডার পাভলোভিচের গোল ভিএআরের মাধ্যমে ফাউলের কারণে বাতিল হয়। এরপর বিরতির ঠিক আগে কাই হাভার্টজের গোলটিও অফসাইডের কারণে গণ্য হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আইভরি কোস্ট।

    বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। ৬১তম মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে নতুন গতি যোগ করেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    ৬৮তম মিনিটে নাদিয়েম আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে অসাধারণ ভলিতে সমতা ফেরান বদলি নামা ডেনিজ উন্দাভ। গোল হজমের পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও আঘাত হানেন উন্দাভ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করে জার্মানিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন তিনি।

    দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে জার্মানি। গ্রুপের শীর্ষে থাকা ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট।

  • তুরস্কের করুণ বিদায়

    তুরস্কের করুণ বিদায়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল তুরস্ককে। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। এরপর মাঝে বিশ্বকাপের ৫টি আসর গেলেও খেলার সুযোগ হয়নি দলটির। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়াটা তাই বেশ হতাশারই। এর আরেকটা কারণ, তারকাবহুল দল। এই দলে কে ছিলেন না? আর্দা গুলের, কেনান ইয়িলদিজ, হাকান চালহানওগলুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাত্র দুই ম্যাচেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। কেন এই বিদায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

    লক্ষ্যহীন আক্রমণ

    একটি দলের মূল শক্তি হলো আক্রমণের নিশানা ঠিক থাকা। একের পর এক আক্রমণ করেও যদি জাল খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সব মূল্যহীন। তুরস্কের বেলায় মূল কারণ হিসেবে এটাই ধরা যায়, লক্ষ্যহীন আক্রমণ। যার ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, চালহানওগলুরা। পরিসংখ্যানের হিসাবটা বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। তুরস্কে দুই ম্যাচে মোট শট নিয়েছে ৬২টি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর মধ্যে একটি শটও তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে পারেনি। এর ফলে বিব্রতকর এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই ম্যাচে এতগুলো প্রচেষ্টা নিয়েও গোলশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে তারা।

    ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা

    তুরস্কের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ভয়াবহ ফিনিশিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অথচ ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—ম্যাচে আধিপত্য, বল দখল কিংবা আক্রমণের হিসেবে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়েই বারবার খেই হারিয়েছেন তুর্কিরা। ফলে যথাযথ ফিনিশিংয়ের অভাবে দুই ম্যাচে একটি গোলও দিতে পারেনি তারা।

    নম্বর নাইনের অভাব

    তুরস্কের ম্যাচগুলোয় মাঝমাঠে বেশ ভালো পজিশনে ছিলেন মিডফিল্ডাররা। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। আর্দা গুলের কিংবা কেনান ইয়িলদিজ সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো নির্ভরযোগ্য ‘নাম্বার নাইন’ ছিল না দলে। ফলে আক্রমণভাগে প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে দুই ম্যাচে। গোলের সামনে গিয়েও বারবার ভেঙে পড়তে হয়েছে তুর্কিদের। তুর্কি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দলের স্কোয়াড গঠনের এই দুর্বলতা পুরো টুর্নামেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্যর্থতা আরো বেশি হতাশাজনক। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ ১০ জন নিয়ে খেলেছে। সংখ্যাগত সুবিধা, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল এবং একের পর এক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল তুরস্কের পক্ষে। কিন্তু দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা কিংবা কার্যকর আক্রমণ কোনোটিই দেখা যায়নি। বরং অসংখ্য ক্রস ও দূরপাল্লার শট নষ্ট হয়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।

    কোচের বেখাপ্পা কৌশল

    কৌশলগত দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলাকে নিয়ে। তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা মাঝে মধ্যে রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে একপ্রকার ফাঁকা পোস্টের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ। অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণ থেকে যে দুটি গোল করেছে, সেগুলো কোচের বেখাপ্পা কৌশলের ফল। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোল হজম করে নিজের পরিকল্পনা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন মনতেলা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে চাপ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।

    অতিরিক্ত নির্ভরতায় ভরাডুবি

    তুরস্কের ভরাডুবির আরেকটি বড় কারণ তারকা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দলটি কয়েকজন তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর্দা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজকে ঘিরেই বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে উঠছিল। এ বিষয়টি প্রতিপক্ষও আঁচ করতে পেরে তাদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে দিয়েছে। তখন বিকল্প কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি তুরস্কের খেলায়। ফলে আক্রমণ হয়ে পড়েছিল একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য। এই সুযোগটাই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ।

    বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফিরে এসে তুরস্কের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকা সত্ত্বেও গোল করার অক্ষমতা, কৌশলগত দুর্বলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তারা পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটিতে। দুই ম্যাচে ৬২ শট, শূন্য গোল এবং শূন্য পয়েন্ট—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রা।

  • লড়াই করেও হেরে গেল বাংলাদেশ

    লড়াই করেও হেরে গেল বাংলাদেশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দারুণ লড়াই করলো বটে, তবে সিরিজ বাঁচাতে পারলো না টাইগাররা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। টানা দুই টি-টোয়েন্টি জিতে আশাহত করলো স্বাগতিকদের।

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় রানের সংগ্রহ পায় অজিরা। চট্টগ্রামে শুক্রবার আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তারা। রান তাড়ায় খুব কাছে গিয়েও ৭ রানে হেরে যায় টাইগাররা।

    জিততে হলে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়তে হতো। এতো রান তাড়া করে ঘরের মাঠে আগে কখনো জেতেনি টাইগাররা। পারেনি আজও, তবে চেষ্টার কমতি ছিল না। ছিল ভালো সম্ভাবনা।

    ১২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ ৮ ওভারে ৭৫ রান প্রয়োজন তখন টাইগারদের। মাঠে ছিলেন থিতু হয়ে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান।

    তবে ৪ বলের মাঝে এই দু’জনকে তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে অজিরা। ১২.৪ ওভারে অ্যারন হার্ডি ফেরান ২২ বলে ৩৬ রান করা ইমনকে। পরের ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রান নিয়ে আউট হন সাইফ।

    এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করেন সমীকরণ মেলানোর। তবে সঙ্গ পাননি। শামিম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ করে ফিরলে আব্দুল গাফফার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১১ বলে মাত্র ১৩ রান করেন।

    শেষ ওভারে ২৩ রান প্রয়োজন ছিল জয়ের জন্য। তবে ১৫ রান তুলতে পারেন হৃদয়। শেষ বলে এসে তিনি আউট হয়ে যান ২২ বলে ৩৫ করে। ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

    এর আগে জয়ের জন্য ভালো ভিত গড়ে দেন তানজিদ তামিম। ৩.৪ ওভারে ফেরার আগে ৪ চার ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ করে আউট হন তিনি। তবে তিনে নেমে সৌম্য সরকার ৯ বলে ১৫ রানে আউট হন।

    এরপর ইমনকে নিয়ে ইনিংস টানেন সাইফ হাসান। তবে তারা ফিরলে পথ হারায় বাংলাদেশ।

    অজিরা এতো বড় সংগ্রহ পাবার পেছনে বড় অবদান ম্যাট রেনশর। টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ৮৯ রান করে। এছাড়া ২৬ বলে ৪৫ রান করেন টিম ডেভিড।

    অবশ্য বড় অবদান আছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও। নাহির রানার বলে দুবার জীবন পান রেনশ। একবার নিজের বলে ক‍্যাচ নিতে পারেননি, আরেকবার ক্যাচ মিস করেন নাসুম।

    অবশ্য বল হাতে নাসুম আহমেদ ছাড়া সবাই ছিলেন কমবেশি খরুচে, নাসুম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আব্দুল গাফফার ৫৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, রিশাদ হোসেন দেন ৪৬ রান।

    দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ফেরেন জশ ইংলিস। ৬ বলে ১১ রান করে আউট হন তিনি। এরপর নাহিদ ফেরান কোপার কনোলিকে।

    তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ৪৭ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১ রানে নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন কনোলি। ৩৪ রানে ২ উইকেট হারায় অজিরা।

    পরের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১৯ বলে ২০ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শকে ফেরান তিনি। পাওয়ার প্লেতে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় অজিরা। এরপরই রেনশ ও টিম ডেভিড হাল ধরেন।

    দু’জনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ডেভিডকে ফিরিয়ে সাকলায়েন জুটি ভাঙলেও অপরাজিত থাকেন রেনশ। শেষ দিকে ১৩ রান করেন জুয়েল ডেভিস।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

    দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে মেক্সিকো। শুক্রবার গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল মেক্সিকো। দুই ম্যাচে দলটির মোট পয়েন্ট ৬। দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট ৩। গ্রুপের অন্য দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের পয়েন্ট ১ করে হওয়ায় মেক্সিকোর শীর্ষ দুইয়ে থাকা এখনই নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    এক ম্যাচ হাতে রেখে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিতের পথে মেক্সিকোর জয়সূচক গোলটি করেছেন লুইস রোমো।

    এই ম্যাচে দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায়নি কোনো দল।

    ৫০ মিনিটের মাথায় দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং–গিউয়ের ভুলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। একটি ক্রস ধরতে বেরিয়ে এসে তিনি নিজের এক সতীর্থের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং বল হাত থেকে ফেলে দেন। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে একটুও দেরি করেননি লুইস রোমো। বক্সের ভেতর দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলটি ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতার ফল, আর রোমো সেই ভুলের সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান।

  • অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    ইঙ্গিত স্কালোনির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লিওনেল স্কালোনির দল। তবে সেই ম্যাচে শুরুর একাদশে অন্তত দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

    আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, প্রথম ম্যাচের একাদশে থাকা কয়েকটি জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন কোচ স্কালোনি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে পরিবর্তনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে লাউতারো মার্তিনেজ শুরু থেকে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দারুণ প্রভাব ফেলেন হুলিয়ান আলভারেজ। বাঁ গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড এবার শুরুর একাদশে ফেরার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে তাকে বেঞ্চে রাখার কারণ ছিল শারীরিক অবস্থা, পারফরম্যান্স নয়।

    মিডফিল্ডেও রয়েছে বড় প্রশ্ন। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন থিয়াগো আলমাদা। তবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে দেখা যেতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গনসালেস আর্জেন্টিনার আক্রমণে বাড়তি গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেছিলেন।

    অন্যদিকে লেফট-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফাকুন্দো মেদিনা প্রথম ম্যাচে দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করায় পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

    সব মিলিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্কালোনির দলকে কিছুটা ভিন্ন রূপে দেখা যেতে পারে। আক্রমণে নতুন গতি আর মিডফিল্ডে ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনাই করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গনসালেস; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের সমর্থকরা এখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ! কীভাবে—একটু খোলাসা করে বলি, ব্রাজিল ফুটবলের ঘোর সমর্থক দেশের নাম হাইতি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন খেলতে নামে ব্রাজিলিয়ানরা, তখন আবেগ-উচ্ছ্বাসে একাকার হয় হাইতির মানুষ। এই দৃশ্যই ছিল চিরন্তন। এত দিন ধরে ব্রাজিলেই ফুটবলানন্দ খুঁজত হাইতি। কেননা তখন বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রিয় দল ব্রাজিলই আজ তাদের প্রতিপক্ষ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে হাইতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই দলটির মাঠে নামার ব্যাপারটি অনেকটাই ‘বন্ধু যখন শত্রু’ মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
    ফিফা র‌্যাংকিংয়ে হাইতির অবস্থান ৮২তম। যেখানে ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। র‌্যাংকিংয়ে দুদলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তবে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাবে না। কেননা বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াইয়ে ছোট-বড় দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। বড় দলের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়াই করে ছোট দলগুলো। এতে নতুন ইতিহাস আর রূপকথার জন্ম হয়। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবলের চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে সেলেসাওরা। এবারের বিশ্বকাপেও ফেভারিট দল তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া মানেই হাইতির জন্য কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করবে লড়াকু এই দলটি। দুদলের ম্যাচটি আগামীকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো অঘটনের জন্ম দেয় হাইতি—সেটিই দেখার বিষয়।
    বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচে চেনা ব্রাজিলকে দেখা যায়নি। মরক্কোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে তাদের পাসিং ফুটবল ছিল ম্রিয়মাণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোল আর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের নৈপুণ্যে মরক্কোর বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। তবে মরক্কো ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে স্বরূপেই ফিরতে মরিয়া তার দল। এ ম্যাচেও নেইমারের খেলা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও দলের সঙ্গে অনুশীলনে করছেন এই সুপারস্টার। তাই আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াসকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তার সঙ্গে থাকছেন দারুণ ফর্মে থাকা রাফিনহা। তবে ব্রাজিলের শক্তির জায়গা মাঝমাঠ গত ম্যাচে অতটা সৃজনশীল দেখা যায়নি। দুই উইংও শক্ত ছিল না। রক্ষণভাগ আগলে রাখার ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে নড়েবড়ে দেখায়। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে হাইতির বিপক্ষে দুরন্ত ব্রাজিলকেই দেখা যাবে। কৌশলগত দিক বিবেচনা করলে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হতে পারে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোল আদায় করে নেওয়া এবং পরে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে রাখাই হবে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। কেননা পরের রাউন্ডে খেলার সমীকরণ মেলানোর জন্য হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।
    অন্যদিকে, শারীরিক সক্ষমতা, গতি আর হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতাই হাইতি দলের মূল শক্তি। দলটি ভালো করেই জানে, ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে বল দখল রাখাটা অসম্ভব কাজ। তাই তাদের মূল কৌশল হবে রক্ষণভাগে ‘বাস পার্ক’ করা বা দলগতভাবে ডিফেন্ড করা এবং পাল্টা আক্রমণে ওপরে ওঠা। হাইতির আক্রমণভাগ ব্রাজিলের হাই-লাইন ডিফেন্সের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেট পিস কিংবা কর্নার—উভয় দিক থেকেই গোল করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী হাইতি। তাদের একটাই ঘাটতি, বিশ্বমঞ্চে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। তাই পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের ঠেকিয়ে রাখাটা তাদের জন্য কঠিন হবে। তবে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু হওয়া দলটিও জয়ের খোঁজে থাকবে।
    অতীত রেকর্ডের দিকে তাকালে ব্রাজিলের পাল্লা শুধু ভারীই নয়, বরং একচেটিয়া। বড় টুর্নামেন্টে এই দুই দলের দেখা হওয়ার নজির কম। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার মঞ্চে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ওই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ৭-১ গোলে হারায় হাইতিকে। এর আগে ২০০৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তাদের। এর আগে ১৯৭৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের। বিশ্বকাপেও এই সাফল্যের ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে ব্রাজিল।

  • আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ওপর গুলি, নিহত ১

    আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ওপর গুলি, নিহত ১

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ধারাবাহিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের বহনকারী এক উবার চালকও রয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ২২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরের প্রায় ৫ মাইল এলাকায় মোট পাঁচটি গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিনটি গুলিবর্ষণ হয় ইন্টারস্টেট-৭০ ও ইন্টারস্টেট-৬৭০ মহাসড়কে। ঘটনাস্থলগুলো আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়া অ্যারোহেড স্টেডিয়াম থেকে অন্তত ৪ মাইল দূরে ছিল।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনকে দুই আর্জেন্টিনা সমর্থক জানান, তারা উবারে করে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাদের পাশে এসে দুটি গুলি ছোড়ে। এতে উবার চালকের পায়ে গুলি লাগে। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন গাড়ির টায়ার ফেটে গেছে, পরে চালককে আহত অবস্থায় দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন।

    ঘটনার পর তাদের পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা টহল গাড়িতে করে তাদের স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, উবার চালকের আঘাত গুরুতর ছিল না এবং তার জীবন ঝুঁকির বাইরে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে সংঘটিত তিনটি গুলিবর্ষণের সময় গাড়িগুলো পূর্বদিকে যাচ্ছিল। বাকি ঘটনাগুলো শহরের প্রধান সড়ক ট্রুম্যান রোডে ঘটে।

    এ ঘটনায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক কিশোর আহত হন। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্কের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ট্রুম্যান রোডে একটি গাড়ি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চালককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার শরীরে গুলির আঘাত শনাক্ত করেন। পরে তিনি মারা যান।

    পুলিশ কর্মকর্তা জ্যাকব বেকিনা জানান, সব ভুক্তভোগীই বলেছেন যে তারা সড়ক বা মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় তাদের গাড়ির দিকে গুলি ছোড়া হয়েছিল।

    তদন্তকারীদের ধারণা, প্রাণহানিহীন গুলিবর্ষণের ঘটনাগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে এবং একই সন্দেহভাজনের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে।

    পরে পুলিশ সন্দেহভাজনকে শহরতলি ইনডিপেনডেন্সের একটি বাড়িতে শনাক্ত করে এবং সেখানে অভিযান চালায়। তবে বুধবার সকাল ৮টার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, কানসাস সিটি, কানসাস পুলিশও ১১ জুনের একটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় ওই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

  • কানাডার জয়ের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমাইল কোনের

    কানাডার জয়ের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমাইল কোনের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ গোলের বড় জয়ের ম্যাচটি ম্লান হয়ে গেছে এক ভয়াবহ ঘটনায়। ম্যাচ চলাকালে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে মারাত্মক ট্যাকলের ফাঁদে পড়েন। পরে জানা যায়, ট্যাকলে পা ভেঙে গেছে কানাডিয়ান তারকার। এতে কার্যত বিশ্বকাপ স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে তার।

    ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো বল দখলের লড়াইয়ে কোনের বাম পায়ের পেছনে ট্যাকল করেন। সংঘর্ষের পরপরই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলো ট্যাকলের ক্লোজ রিপ্লে দেখায়নি। তবে মাঠের পাশে থাকা মাইক্রোফোনে একজন খেলোয়াড়কে বলতে শোনা যায়, “তার পা ঝুলে গেছে।”

    চোট পাওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়রাই কোনেকে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন, যাতে দৃশ্যটি দর্শকদের সামনে না আসে। দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন চিকিৎসাকর্মীরা। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের উদ্দেশে হাতও নাড়েন কানাডার এই মিডফিল্ডার।

    ঘটনার পর কাতারের আসিম মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখায় কাতার তখন ৯ জনের দলে পরিণত হয়।ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, ঘটনাটি তাদের বেঞ্চের সামনেই ঘটেছিল। তিনি বলেন, “ঘটনাটা ঠিক আমাদের সামনেই হয়েছে। আমরা সবাই শব্দটা শুনতে পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গেই বুঝেছিলাম ব্যাপারটা গুরুতর। সবাই হাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পেয়েছিল।”

    মার্শ আরও বলেন, “ইসমাইল আমাদের দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের চোটে তাকে হারানো আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। গত দুই ম্যাচে সে অসাধারণ খেলেছে।”

    হ্যাটট্রিক করা কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিডও মাদিবোর ট্যাকলের সমালোচনা করেন। ডেভিড বলেন, “যে বল দখলের কোনো সুযোগই নেই, সেখানে এমন ট্যাকলের কোনো প্রয়োজন নেই। এতে শুধু প্রতিপক্ষকে আঘাত করাই উদ্দেশ্য মনে হয়।”ঘটনার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা কানাডার মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও বলেন, “আমি তার পায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝেছিলাম কিছু একটা ভয়াবহ হয়েছে। তখন শুধু চাইছিলাম চিকিৎসাকর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব মাঠে আসুক।”

    তিনি আরও বলেন, “কাতারের খেলোয়াড়রা তাদের সতীর্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, আমরা করেছি আমাদের খেলোয়াড়কে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যে সরাসরি লাল কার্ড, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে না। সে কার্যত কোনের পা ভেঙে দিয়েছে। হলুদ কার্ডের দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

    কানাডার জন্য বড় জয় এলেও ইসমাইল কোনের গুরুতর চোট এখন দলটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • মেসির বাবার মৃত্যু গুজবে সাংবাদিক বরখাস্ত

    মেসির বাবার মৃত্যু গুজবে সাংবাদিক বরখাস্ত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    একটা ব্রেকিং নিউজ যেমন একজন সাংবাদিককে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে, তেমনি খ্যাতি তো দূরের কথা, চাকরিও নিয়ে নিতে পারে। আর্জেন্টিনার বিখ্যাত টিভি উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়ার সঙ্গে তাই হলো। লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই তিনি তার চাকরি হারিয়েছেন।

    ৫১ বছর বয়সী পেনিয়া আর্জেন্টিনার লুজু টিভির ‘এল শো দেল ভেরানো’ অনুষ্ঠানে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন ফ্লোরেন্সিয়া। এরপর মেসির পরিবার যখন বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেয়, তখন তোপের মুখে পড়েন এই সাংবাদিক।

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পায়। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। একটি গোলের পর তাকে কাঁদতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখেই পেনিয়া ভুল তথ্য প্রচার করেন।

    সরাসরি সম্প্রচারে পেনিয়া বলেন, ‘আমি খারাপ খবর দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা মাত্র মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝখানেই তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।’

    পরে মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, পেনিয়ার দাবি সঠিক নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মেসি পরিবার জানাচ্ছে যে হোর্হে একটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

    পরিবার আরও বলে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় ছড়িয়ে পড়া খবর ও গুজবের কারণে পরিবার গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছে। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক, কিন্তু কিছু মানুষ এর প্রতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও সম্মান দেখাননি।’

    এরপর পেনিয়া নিজে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চান। পেনিয়া বলেন, ‘মেসি পরিবার যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। এই কষ্টের কারণ হতে পেরে আমি গভীরভাবে লজ্জিত। সরাসরি সম্প্রচারের সময় অনুষ্ঠানের প্রোডাকশন টিম এই ভুল তথ্য আমাকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে দিয়েছিল, আর আমি তা বিশ্বাস করেছিলাম।’

    পেনিয়া শেষে বলেন, ‘তবু আমি এই ভুলের দায় নিচ্ছি। তাই আমি লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং আমার অংশগ্রহণ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আবারও হৃদয় থেকে ক্ষমা চাইছি, আমি ভুল করেছিলাম।’

    লুজু টিভিও এক বিবৃতি দেয়। তারা বলে, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। যথাযথ যাচাই ছাড়া স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার করা আমাদের চ্যানেলের জন্য মেনে নেওয়া যায় না।’

    লুজু টিভি আরও জানায়, ‘তাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়াও নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    চ্যানেল শেষে বলে, ‘আমরা দায়িত্বশীল, শ্রদ্ধাশীল এবং সঠিক সাংবাদিকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আবারও জানাচ্ছি।’

  • ক্রোয়েশিয়া জালে ইংল্যান্ডের চার গোল!

    ক্রোয়েশিয়া জালে ইংল্যান্ডের চার গোল!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে এটাই কি এখন পর্যন্ত সেরা ম্যাচ? ডালাসে ছয় গোলের রোমাঞ্চের পর প্রশ্নটি উঠতে পারে। হলিউডের অনেক ‘থ্রিলার’ সিনেমারই শুটিং স্পট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের এ শহর। সেখানে ডালাস স্টেডিয়ামে রীতিমতো থ্রিলারই উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ। আর সেই থ্রিলারের ‘নায়ক’ জোড়া গোল করা হ্যারি কেইন।

    প্রথমার্ধে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়াও দুবারই গোল শোধ করে টেনে ধরেছে ইংল্যান্ডকে। বিরতির পর আর পারেনি। এই অর্ধে আরও দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানের দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেলের শিষ্যরা যেভাবে খেলেছেন, তাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষেই ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা গান ধরতে পারেন, ‘ইটস কামিং হোম!’

    আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেনি ক্রোয়াটরা। গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলা তৈরিতে দারুণ ফুটবল খেলেছেন জুড বেলিংহাম-ননি মাদুয়েকেরা। ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে যতটুকু কেইনদের চোখে চোখ রেখে জবাব দিতে পেরেছে, বিরতির পর ধীরে ধীরে ধার কমেছে তাদের আক্রমণের। এই অর্ধে দুই দলই বক্সে জটলার ভেতর থেকে কয়েকটি গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। হয় গোলকিপারের অবিশ্বাস্য দক্ষতা কিংবা সামনে ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে পড়ায় আরও বেশি গোল হয়নি।

    কয়েকটি ছোট্ট পরিসংখ্যানেই দুই দলের খেলার ধাঁচটা বোঝা যায়। ২২টি শট নিয়েছে ইংল্যান্ড, পোস্টে রাখতে পেরেছে ১১টি শট। তাদের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড তিনটি দারুণ সেভ করেন। এর মধ্যে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে খুব কাছ থেকে একটি নিশ্চিত গোলের শট ঠেকান। মাঠের অন্য প্রান্তে পিকফোর্ডের চেয়ে বেশি ব্যস্ততায় সময় কাটে ক্রোয়াট গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের। ৭টি সেভ করেন!কিন্তু কেইনের ‘বৈধ’ পেনাল্টিটি লিভাকোভিচ ঠেকাতে পারেননি। ছয় গোলের দরজাটা খুলে যায় ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কেইনের ওই প্রথম গোলের পরই। তবে পেনাল্টির এই প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে ৪০ বছর বয়সী চিরসবুজ মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের ব্যর্থতা। ক্রোয়াটদের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের ৫ম বিশ্বকাপে খেলতে নামা মদরিচ বক্সের ভেতর বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে ফরোয়ার্ড মাদুয়েকের ঊরুতে লাথি মেরে বসেন। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।কিন্তু পেনাল্টি শটে কেইনকে রুখে দেন লিভাকোভিচ। ভিএআরের হস্তক্ষেপে দেখা যায়, কেইন শটটি নেওয়ার আগেই গোললাইন থেকে সরে গিয়েছিলেন লিভাকোভিচ। অতএব আবারও পেনাল্টি শট নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি এবং এ যাত্রায় কেইন লক্ষ্য ভেদ করতে আর ভুল করেননি।

  • শেষ মুহূর্তের গোলে ঘানার উল্লাস

    শেষ মুহূর্তের গোলে ঘানার উল্লাস

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল পানামা। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানাকে রুখে দিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর বাস্তবতা তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দিল যোগ করা সময়ের শেষ আক্রমণে।

    টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ৯৫তম মিনিটে কালেব ইয়েরেঙ্কির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ঘানা। আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আফ্রিকান দলটি এভাবেই নাটকীয় এক জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল।

    ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই নিয়ন্ত্রণ ছিল পানামার হাতে। ৬২ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখার পাশাপাশি তারা নেয় ১১টি শট। বিপরীতে ঘানা শট নেয় মাত্র আটটি। তবে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি মধ্য আমেরিকার দেশটি।

    পানামার হতাশার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ান ঘানার বদলি গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। বিরতির পর মাঠে নেমে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। বিশেষ করে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া দুটি শট ফিরিয়ে দিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধে কয়েকটি সংঘর্ষে চোট পাওয়ার পর মূল গোলরক্ষক আতি জিগি মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় নামেন আসারে।

    ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগও তৈরি করেছিল পানামা। দ্বিতীয় মিনিটে আমির মুরিলোর নিচু ক্রস থেকে সিসিলিও ওয়াটারম্যানের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন জিগি।

    যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে এসে গোলমুখে বল বাড়ান। সেখানে সুযোগসন্ধানী কালেব ইয়েরেঙ্কি কাছ থেকে জালে বল জড়িয়ে ঘানাকে এনে দেন মূল্যবান তিন পয়েন্ট।

    উল্লেখ্য, এই ম্যাচে মিডফিল্ডার থমাস পার্টিকে ছাড়াই মাঠে নামে ঘানা। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ফুটবলার কানাডার ভিসা না পাওয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।

    শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েও শূন্য হাতে মাঠ ছাড়তে হয় পানামাকে, আর শেষ মুহূর্তের গোলের সুবাদে উল্লাসে ভাসে ঘানা।

  • রঙহীন রোনালদো; কঙ্গোর ইতিহাস

    রঙহীন রোনালদো; কঙ্গোর ইতিহাস

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ‘গোল করে পর্তুগাল ঘুমিয়ে পড়েছিল।’ কথাটা ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুর। হিউস্টনে প্রথমার্ধ শেষে বলেন বিবিসি ওয়ানকে। পর্তুগালের সেই ‘ঘুম’ বিরতির পর ভেঙেছে বটে, কিন্তু জয়টা আর পাওয়া হয়নি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই সমতাসূচক গোল পেয়ে যায় ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো—যখন পর্তুগালের আক্রমণভাগ প্রায় ‘ঘুমিয়ে’ ছিল আর বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল মাঝমাঠ।

    আফ্রিকার দলটি সেই সুযোগেই করেছে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল। সেই গোলেই পর্তুগালকে গতকাল ১-১ গোলে আটকে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর পক্ষ থেকে আরেকটি চমক উপহার দিল ডিআর কঙ্গো। শুধু তা–ই নয়, স্মরণীয় এ ড্রয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টও পেল তারা।

    অথচ এই ম্যাচ হতে পারত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কানসাসে লিওনেল মেসি ৬ নম্বর বিশ্বকাপে খেলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হিউস্টন স্টেডিয়ামে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান রোনালদো। মাঠে অবশ্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও ছিলেন না; বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে দলীয় একাদশে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়া রোনালদো অনেক সময়ই ছিলেন ‘দর্শক’ হয়ে।প্রথমার্ধে মাত্র ১৬ টাচ। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের বক্সে একবার—অন্য ভাষায় রোনালদো যেন বোতলবন্দী দর্শক! বিরতির পরও নিজের ছায়া থেকে বেরোতে পারেননি তিনি।

    কিন্তু ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা ইউরোপিয়ান পরাশক্তির বিপক্ষে ‘মিনোজ’ ডিআর কঙ্গো ঠিকই পেরেছে। ছোট দলের ছায়া থেকে বেরিয়ে পর্তুগালের চোখে চোখ রেখে পয়েন্ট কেড়ে রীতিমতো ‘শক’ উপহার দিয়েছে বিশ্বকাপকে!

    অথচ শুরুতে ম্যাচের হাল ছিল পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণে। ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস হেডে গোল করে এগিয়ে দেন সাবেক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের। বাঁ প্রান্ত থেকে ফরোয়ার্ড পেদ্রো নেতোর ক্রসে নেভেস গোলটি করার পর অনেকে ভেবেছিলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৩তম কঙ্গোকে হয়তো গোলের বোঝা নিয়ে ফিরতে হবে। ভুল।তেমন কিছু দূরের ব্যাপার, নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড ইওয়ান উইসা, ওয়েস্ট হাম ডিফেন্ডার অ্যারন ওয়ান-বিসাকাদের নিয়ে ডিআর কঙ্গো উল্টো চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে। যোগ করা সময়ে ৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে উইসার সমতাসূচক গোলটি তারই ফল। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে তখন আবেগ, ‘উই হ্যাভ হিস্টরি ইন হিউস্টন!’ ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে ১৪ গোল খাওয়া ডিআর কঙ্গোর যে বিশ্বকাপে এটা প্রথম গোল! সেটাও পর্তুগালকে মাটিতে নামিয়ে এনে!

  • মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’‘মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’

    প্রশ্নটা করা হয়েছিল আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে। এই প্রশ্ন শুনে মাজা স্বভাবসুলভ হাসিটাই দিলেন। সাধারণ কীভাবে অসাধারণ হয়ে ওঠে সেটাকে না হয় ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু অসাধারণকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে সে? মেসির পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। সেই প্রশ্নের উত্তর মাজাও দিলেন একইভাবে, “মেসি-জাদু। এর ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। ম্যাচটা দেখলেই বুঝবেন ‘মেসি-জাদু’ বলতে কী বোঝায়। আজ যেমন দেখলেন, সে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।”

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে কয়েকটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। যার মধ্যে একটি হলো- বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসানো। মেসির গোল ১৫টি, আর একটি হলেই এককভাবে বসবেন সিংহাসনে। তবে মেসির এসব নিয়ে আগ্রহ নেই। সেটা জানিয়ে গেলেন ম্যাচ শেষে হাতে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি নিয়ে, ‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবছি না। ক্লোসের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সম্মানের। ব্রাজিলের রোনালদোও আছেন সেখানে। এমবাপ্পেও আছে, সে আজ দুটি গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

    এ কথা যেন মুহূর্তেই বিস্ময় জাগিয়ে দিল ভরা মজলিসে! বিস্ময়ের সমুদ্রে ডুবে থাকা সাংবাদিকের প্রশ্ন তাই ছুটে গেল মেসির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের দিকে, ‘মেসি কি আসলেই এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না?’ ডি পল জবাব দিলেন হাস্যরসে, ‘সে এসব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এসব মনে করিয়ে দিলেও সে এসব নিয়ে ভাবে না। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি জানি না।’

    মেসি বলেই তো সম্ভব। রেকর্ড তো মেসির পায়ে লুটিয়ে পড়েছে যুগ-যুগান্তর। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে খুদে জাদুকরের কীর্তিগাথা জেনেছে, তিনি কেন এসব নিয়ে ভাববেন? তিনি তো শুধু উপভোগ করতে চান ফুটবলটাই আর বিস্মিত করতে চান সতীর্থ-প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বকে। যে কারণে ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে উল্লাসধ্বনি তোলেন কিংবদন্তির নামে। ভালোবাসায় আপ্লুত মেসির দুই হাতও জবাবী হয়ে ওঠে অভিবাদনে!

    মেসি, যার কীর্তিগাথায় ডুবে থাকেন সাইডলাইনে দাঁড়ানো স্কালোনি। আবেগে ভেসে যায় দুকূল! অবলীলায় স্বীকার করে নেন সাধারণ অথচ অসাধারণত্বের চিরন্তন বাণী, ‘এ নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি যা-ই বলি, তা কম হয়ে যাবে। সে ২০ বছর ধরে এমনই করে আসছে। ফুটবলপ্রেমীরা ঠিক এটাই দেখতে চায়।’আর কতদিন এ জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারবেন মেসি? প্রশ্নের উত্তর তোলা থাক জাদুকরের মহাকাব্যের শেষ উপাখ্যানের জন্যেই।

  • মেসিই সর্বকালের সেরা- রোনালদো

    মেসিই সর্বকালের সেরা- রোনালদো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসির প্রশংসায় এবার মুখ খুললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার (গোট) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন বিশ্বের উচিত এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সে করা এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। একই সঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

    মেসির এই কীর্তির পর রোনালদো নাজারিও বলেন, ‘মেসি প্রতিবার যখন মাঠে নামে তখন সবকিছু যেন নান্দনিক ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে রূপ নেয়। পুরো বিশ্বের সামনে সময় এসেছে, লুকোচুরি না করে আমাদের সবাইকে মেনে নেওয়া উচিত মেসিই সর্বকালের সেরা। সে প্রতি মৌসুমেই পারফর্ম করে যাচ্ছে এবং বিশ্বকাপেও। এটা অভুলনীয় এবং ঐতিহাসিক একটি দিন।’

    দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা, আটটি ব্যালন ডি’অর, কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত সূচনা করে আবারও প্রমাণ করছেন, বয়স তার জন্য কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৬। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। ফলে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নজর থাকবে এই রেকর্ড ভাঙার দিকেও।

  • এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। দুই দশক পর সেই একই দিনে, কানসাস সিটিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য লিখলেন ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানই দুর্দান্তভাবে শুরু করেননি, একই সাথে ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই এক ম্যাচেই লিওনেল মেসি যেসব বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়োবৃদ্ধ হ্যাটট্রিকম্যান: আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি যখন তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো।

    ২. আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠ ও বয়োবৃদ্ধ গোলদাতা: এই হ্যাটট্রিকের পর মেসি এখন একই সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা! ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি, আর আজ ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে করলেন হ্যাটট্রিক।

    ৩. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লোসাকে ছোঁয়া): আলজেরিয়ার জালে ৩ বার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর ১টি গোল করলেই তিনি এককভাবে চূড়ায় উঠবেন।

    ৪. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন।

    ৫. ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের আসরে গোল করার নজির গড়লেন তিনি।

    ৬. আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তার সামনে আছেন কেবল কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ)।

  • এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    মঙ্গলবার রাতটা (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের অন্য রাতের মতো ছিল না। এ রাতে পৃথক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ড। নিউইয়র্ক, বোস্টন থেকে তারা যখন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রান্তে কানসাস সিটিতে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুনদের উদ্দেশে মেসি যেন সেই চিরাচরিত বার্তাটিই দিলেন- ‘সেরা হতে চাইলে আগে সেরাকে হারাতে হবে।’

    কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এম্বাপে। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন হলান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার আসনটি দখল করতে নতুন প্রজন্মের এই দুই নক্ষত্র প্রায় প্রস্তুত।

    গোলের পর এম্বাপের উদযাপন। ছবি: এএফপি

    কয়েকদিনের মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি কিংবা ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেকেই অতীতের অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। এমন সময়ে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন নিজের দাপটের কথা আরেকবার জানান দিলেন।

    প্রথমে তিনি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তালিকায় এম্বাপেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে। আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। তিনিই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

    ম্যাচে লিওনেলের প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেই গোলটি ছিল অসাধারণ এক শট, যা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো একটি থ্রু বল পেয়ে মেসি বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ঘিরে ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচজন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক তখনই তিনি বাম দিকে এক পা সরিয়ে জোরালো শট নেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক লুকা জিদানের আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

    গোলটির পর অনেক দর্শকের মনেই দোলা দেয়- ‘এটাই যেন সেই চিরচেনা মেসি। সেই জাদুকর মেসি’।

    দ্বিতীয় গোলের শট নিচ্ছেন মেসি। ছবি: এএফপি

    মেসি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১৫ মিনিট পর। তখন তাঁকে দেখা যায় বার্সেলোনার সেই ‘সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার’ রূপে। বক্সের প্রায় ৩০ গজ বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জোরালো শট নেন। বলটি সোজা আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের দিকে গেলেও শটের গতি সামলাতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে আসতেই তা লুফে নেন মেসি। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে অনসাইডে থাকা মেসি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এমন এক কিংবদন্তির গোল, যিনি এখনো পায়ের মতোই মস্তিষ্ক দিয়ে খেলেন।

    তৃতীয় গোলটি যেন প্রথম দুই গোলেরই আরেক রূপ। ততক্ষণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চাপে বিধ্বস্ত। ফলে ওই সময় বক্সের কিনারায় কেউই আর মেসিকে মার্ক করতে যাননি। উইং থেকে নিকো গনজালেসের বাড়ানো পাসটি মেসির পেছনের দিকে ছিল। কিন্তু ক্লান্ত আলজেরিয়ান ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করার কোনো তাড়াহুড়োই দেখাননি। সে সুযোগে মেসি পা বাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, অর্ধেক ঘুরে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। সেখানেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

    আগের ম্যাচগুলোতে কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মহাতারকা লিওনেল মেসির কাছে থেকেও একই মানের কিছু দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। ফ্রান্সের হয়ে এম্বাপের জোড়া গোল সামর্থ্যের পুরো ঝলক দেখিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিতে ফুটে ওঠে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

    প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ছবি: এএফপি

    অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন হলান্ড। প্রথমে নিখুঁত এক ক্রসে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়ের হয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর ইরাকের এক ডিফেন্ডারের ঢিলেঢালা ব্যাকপাসে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের আগে বল দখলে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে।

    বিশ্বকাপের এমন এক রাতে যখন একের পর এক তারকা আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন অনেকেরই মনে হচ্ছিল বিশ্ব ফুটবলে নেতৃত্ব বদলের সময় বোধহয় এসে গেছে। মেসি ও রোনালদো এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছেন যে, নিজেরাই তাদের উত্তরসূরির উত্থান-পতন দেখেছেন। এবার তারা দুজনই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন।

    তবে এম্বাপেকে অনেকেই মেসি-রোনালদোর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন। অপরদিকে হলান্ড নিজেকে বিশ্বের সেরা ও নিখুঁত স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    কিন্তু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে যখন মেসি মাঠ ছাড়েন এবং দর্শকদের বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে বিদায় নেন, তখন তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন- এম্বাপে, হলান্ড কিংবা অন্যরা হয়তো তারকা, কিন্তু ফুটবল নামের এই মহাবিশ্ব এখনো সেই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যে সূর্যের নাম লিওনেল মেসি।

  • জার্মান শিবিরে সাপ আতঙ্ক !

    জার্মান শিবিরে সাপ আতঙ্ক !

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে উড়তে থাকা জার্মানির সামনে নতুন আতঙ্ক ভর করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে নিজেদের বেস ক্যাম্পে বিষধর সাপের দেখা পাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে জার্মানদের। এ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ।

    এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান অধিনায়ক বলেন, ‘গতকালই আমরা আমাদের ক্যাম্পের ভেতর একটি সাপ দেখতে পাই। পরে আমাদের জানানো হয় যে সেটি বেশ বিষাক্ত ছিল। এর কামড় খেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটতে হবে। এরপর থেকেই সবার মাঝে ভয় কাজ করছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জার্মানরা তাদের অনুশীলন ক্যাম্পে যে সাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি ছিল মূলত ‌‘কপারহেড’। নর্থ ক্যারোলিনায় এই প্রজাতির বিষাক্ত সাপ প্রায়ই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যটি মূলত বিভিন্ন প্রজাতির সাপের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রায় ৩৭ প্রজাতির সাপের বসবাস রয়েছে বলে জানা যায়।

    কিমিখ বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে কামড় দিলে মানুষ মারা যাবে। তবে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত।’

    সাপের উপদ্রব নিয়ে ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণত নিজেদের কৌশল, ইনজুরি আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়েই খেলোয়াড়দের ভাবনা থাকে। কিন্তু এখানে এসে মাঠের ঘাসে কী লুকিয়ে আছে, তা নিয়েও বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সাপটি যে বিষাক্ত ছিল তা জানার পর থেকেই পুরো দলের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফুটবলাররা মাঠে প্রতিটি কদম ফেলার আগে মাটির দিকে তাকিয়ে দেখছে সেখানে সাপ আছে কি না। ঘাসের ওপর অসাবধানতাবশত পা পড়ে গেলেই যে বিপদ হতে পারে, তা সবাই বুঝতে পারছে।’

    বিশ্বকাপে জার্মানির পরের ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। আগামী ২১ জুন আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পের বিষাক্ত সাপের উপদ্রব কীভাবে সামলানো যায়, সেটিই এখন জার্মানদের সামনে বড় পরীক্ষা।

  • মেসি ‘পারফেক্ট ১০’, বাকিরা কেমন খেললেন

    মেসি ‘পারফেক্ট ১০’, বাকিরা কেমন খেললেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজকীয় সূচনা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। স্বভাবতই ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’এর ম্যাচ রেটিংয়ে দশে ১০ পেয়েছেন এই জাদুকর।

    চ্যাম্পিয়নদের এমন দাপুটে শুরুর পর সমর্থকদের মনে কৌতুহল, মেসির জাদুকরী রাতে আলবিসেলেস্তেদের বাকি ফুটবলাররা কে কেমন খেললেন? গোল ডটকমের রেটিং অনুযায়ী স্কালোনির শিষ্যদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ নিচে তুলে ধরা হলো:

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (৭/১০): পুরো ম্যাচে আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে না পারায় খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি ‘দিবু’কে। তবে পাসিং ও ব্যাক-পাস থেকে বল বণ্টনে ছিলেন দারুণ কার্যকর। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র একবার বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে তাকে।

    লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (৮/১০): রক্ষণে আজ তিনি ছিলেন অনবদ্য ও চীনের প্রাচীর। আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ডদের কোনো সুযোগই দেননি। দুর্দান্ত লড়াই করে চারবার বল ক্লিয়ার করার পাশাপাশি দুটি নিখুঁত ট্যাকল ও একটি ইন্টারসেপশন দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রথমাংশেই ভেঙে দেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৭/১০): ম্যাচে আলজেরিয়া অন-টার্গেটে শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি। এতেই প্রমাণ হয় রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি কতটা জমাট ছিল। রক্ষণ সামলে প্রতিপক্ষের চারটি বিপজ্জনক আক্রমণ নস্যাৎ করেছেন তিনি। ৭৯ মিনিটে তাকে তুলে ওটামেন্ডিকে নামানো হয়।

    ফাকুন্দো মেদিনা (৭/১০): নিকোলাস টাগলিয়াফিকোর অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে প্রতিপক্ষ উইঙ্গারদের বোতলবন্দী করে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পুরো ম্যাচে দুটি সফল ট্যাকল, একটি ব্লক এবং একবার বল ক্লিয়ার করেছেন এই ডিফেন্ডার।

    গঞ্জালো মন্তিয়েল (৭/১০): প্রথমার্ধে নিজের পজিশন ধরে রেখে রক্ষণে দারুণ অবদান রেখেছেন। তবে আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোচের রণপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দ্বিতীয়োর্ধের শুরুতে তাকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে মাঠে নামানো হয়।

    রদ্রিগো ডি পল (৮/১০): মাঝমাঠে বরাবরের মতোই কড়া প্রহরী ও ইঞ্জিন ছিলেন ডি পল। ৯০ মিনিটে ৬৮ বার বল টাচ করে ৯২ শতাংশ সফল পাস দিয়েছেন। এ ছাড়া লিওনেল মেসির সেই চোখধাঁধানো প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও আসে তার পাস থেকেই।

    আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৭/১০): আক্রমণ ও রক্ষণ, উভয় ক্ষেত্রেই বল পায়ে এবং বল ছাড়া দারুণ খেলেছেন। ৯৪ শতাংশ সফল পাসের পাশাপাশি একটি সফল ট্যাকল, ছয়টি রিকভারি ও দুটি বল ক্লিয়ার করেছেন। তার নেওয়া নিচু শট থেকেই মূলত মেসির দ্বিতীয় গোলটি আসে।

    এনজো ফার্নান্দেজ (৭/১০): পাসিংয়ে বরাবরের মতোই নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার ফুটবল খেলেছেন। মাঝমাঠের বল দখলে রাখতে এবং আক্রমণ সচল রাখতে পুরো ম্যাচেই কার্যকর ভূমিকা ছিল তার।

    থিয়াগো আলমাদা (৬/১০): বাম উইং ধরে গতি দিয়ে আলজেরিয়ার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। তবে শুরুর দিকে কিছু আক্রমণ শাণানো ছাড়া মাঠের বাকি সময়টায় তেমন বিশেষ কোনো অবদান রাখতে পারেননি এই উইঙ্গার।

    লিওনেল মেসি (১০/১০): পুরো ম্যাচেই ছিল কেবল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৫৭ বার বল টাচ করে ৩০টি সফল পাস ও ২টি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছেন। পেনাল্টি বক্সে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নিয়েছেন ৬টি শট, যার ৪টিই ছিল অন-টার্গেট এবং ৩টিই গোল! এমন পারফরম্যান্সের পর দশে ১০ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না খোদ সমালোচকদেরও।

    লাউতারো মার্টিনেজ (৫/১০): দলের বড় জয়ের রাতে একমাত্র হতাশার নাম লাউতারো। মাঠে কাটানো ৫৫ মিনিটে একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড। শট ও পাসের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছেন বারবার। আক্রমণে দলের জন্য কোনো গোলস্কোরিং সুযোগ বা ফাঁকা জায়গাও তৈরি করতে পারেননি।

  • ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ!

    ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ খেলতে নয়, যেন অস্ট্রেলিয়াকে ক্যাচ প্র্যাক্টিস করাতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। চট্টগ্রামের মাঠে ১০ উইকেটের মধ্যে ৮ উইকেটই বাংলাদেশ হারিয়েছে ক্যাচ তুলে দিয়ে, যে নজির এত বছরের ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

    ব্যাটিং বিপর্যয়ের এই ম্যাচে ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতেই দলীয় ১৩১ রানে সবকটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

    বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল বেশ ছন্দেই আছেন ব্যাটাররা। দুই টাইগার ওপেনার হাত খুলে খেলছিলেন। তবে তৃতীয় ওভারে ক্যাচ তুলে দিলেন তানজিদ তামিম।

    এরপরই যেন ক্যাচ তুলে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। একের পর এক ক্যাচ উঠে থাকে অজি ফিল্ডারদের হাতে।

    অবশেষে এক ওভার বাকি থাকতেই সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ, স্কোরবোর্ডে রান তখন ১৩১। অজিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে এই রান একদমই যথেষ্ট নয়। জয়ের জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়েই এখন বাংলাদেশকে বোলিং আর ফিল্ডিং করতে হবে।

  • আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা দারুণভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক, গড়ে ফেলেছেন অজস্র রেকর্ড। সেই জয়ের পর এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে গ্রুপ পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে, আগামী ২২ জুন। গ্রুপ ‘জে’-র এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের দুই জয়ী দল। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেমন আলজেরিয়াকে হারিয়েছে, তেমনি অস্ট্রিয়াও জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল জর্ডানের বিপক্ষে। এরপর সমতা ফেরায় এশিয়ার দলটি। তবে শেষমেশ আর তাদের বাধা দিতে পারেনি একটি আত্মঘাতী গোল ও মার্কো আর্নাতোভিচের লক্ষ্যভেদে তারা সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এই দলটির বিপক্ষেই নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে আকাশী সাদারা।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৭ জুন, প্রতিপক্ষ জর্ডান। তবে তার আগে সব নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে।

  • চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামলেন নেইমার। গত ১৬ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। এটি তার সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মে মাসের শেষ দিকে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেননি তিনি।

    মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারেননি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ সব গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

    ব্রাজিলের পরের ম্যাচ শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়, হাইতির বিরুদ্ধে। এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। নেইমার এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন গল্প লিখলেন ইরাকের ৩০ বছর বয়সি স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন। বুধবার ভোর ৪টায় বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে হারলেও দলের একমাত্র গোলটি তারই পায়ে। দল হেরে গেলেও ফুটবলের বড় মঞ্চে রেখে গেছেন কৃতিত্বের ছাপ। ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে বক্সের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুব খুশি ও গর্বিত।’

    হুসেইন এমন এক ইরাকে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে অস্থির সংকটময় পরিস্থিতিতে ফুটবল হয়ে উঠত ঐক্যের সোপান। ইরাকি খেলোয়াড়রা ছিলেন আধা-পেশাদার— দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের কারণে তাদের জর্ডানে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে হতো। ওই সংকটে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জয় উদযাপন করতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গিয়েছিল।

    ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শিয়া-সুন্নি সংঘাতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এই কঠিন সময়েই তরুণ হুসেইন ব্যক্তিজীবনে দুঃখজনক ঘটনার শিকার হন। ২০০৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বাবা— ইরাকি সেনাসদস্য— বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম কিনতে বের হলে আল-কায়েদার গুলিতে নিহত হন। এর কয়েক বছর পর হুসেইনের বড় ভাইকে অপহরণ করা হয়— যাঁর খোঁজ আজও পাননি তারা।

    এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বলেন, ‘আমি পরিবারের দেখাশোনা করতে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মা রাজি হননি।’ মায়ের উৎসাহেই শেষ পর্যন্ত ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ইরাককে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়েছেন গোলমেশিন হুসেইন। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই স্ট্রাইকার এ পর্যন্ত দেশের হয়ে ৩৪টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন।

    তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও নির্বিঘ্নে কাটেনি। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হন তিনি। সেই হেনস্তার জবাব যেন দিলেন মাঠেই— নরওয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত হেডে গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করে।

    শূন্যে থাকা বলকে গোলে পরিণত করার নিখুঁত কারিগর এই হুসেইন। ইরাকের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ছিলেন দলের সেরা পারফর্মার। আন্তঃ-কনফেডারেশন প্লে-অফের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর পথে তিনি ১২টি গোল করেন— যা তার যেকোনো সতীর্থের করা গোলের দ্বিগুণেরও বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে উঠেছিলেন হুসেইন— মার্চ মাসে গুয়াদালুপে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ২-১-এর জয়সূচক গোলটি তারই, যা ইরাকের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করে।

    এই গোলমেশিন যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে গ্রুপ-আই থেকে পরের পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো এখনো বাঁচিয়ে রাখতে পারবে ইরাক— যদিও এই গ্রুপে ফ্রান্স এবং সেনেগালও রয়েছে।

  • বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    সবার আগে একটা পরিসংখ্যান।
    পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বলের দখল। ৭৬৪টি সফল পাস। প্রতিপক্ষের গোলমুখে আটটি শট। এই পরিসংখ্যান দেখে মনে হবে, ম্যাচটি সহজেই জেতার কথা ছিল স্পেনের।
    কিন্তু কী আফসোস! খেলার ফল কেপ ভার্দে ০, স্পেন ০। এই স্কোরশিটে কেপ ভার্দের নাম আগে থাকছে কারণ স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে গোটা ম্যাচে তারা আটকে রাখতে পেরেছে, এটাই বড় কৃতিত্ব। তাই এই সম্মান তাদের প্রাপ্য।
    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে স্পেন আরেকবার জানাল সেই চরম সত্যটা, ফুটবল শুধু বল দখলের খেলা নয়, জায়গা দখলেরও খেলা। আর ঠিক ওইখানেই হেরে গেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
    স্পেনের পয়েন্ট হারানোর কারণ একটাই—অতিরিক্ত বল দখল, কিন্তু রক্ষণ ভাঙার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। টিকি-টাকা ছিল, যাকে বলে চোর-পুলিশ খেলা। কিন্তু ছিল না ভার্টিকাল আক্রমণ, গতির পরিবর্তন কিংবা ডিফেন্স চিরে ফেলার মতো পাস। ফলে পুরো ম্যাচে বল ঘুরেছে স্পেনের পায়ে, কিন্তু গোলের হুমকি তৈরি হয়নি।
    সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যানটি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবালকে ঘিরে। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে তিনি একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং স্পেনের পুরো আক্রমণভাগের ব্যর্থতার প্রতীক।

    ট্যাকটিক্যাল ভুল কোথায়?
    সমস্যার শুরু স্পেনের আক্রমণ তৈরির পরিকল্পনায়। জানাই ছিল স্পেনের শক্তির কথা মাথায় রেখে কেপ ভার্দে শুরু থেকেই লো ব্লকে ডিফেন্স সাজাবে। দুই ডিফেন্স লাইনের মাঝখানে প্রায় কোনো ফাঁকা জায়গাই ছিল না। কিন্তু সেই ব্লক ভাঙার জন্য যে ধরনের দ্রুত ও ডিরেক্ট আক্রমণের ফুটবল দরকার, স্পেন তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। বরং তারা একের পর এক পাসের পর পাস খেলেছে। বল শুধু নিজেদের কাছেই রেখেছে। দৃশ্যটা এমন, সেন্টার-ব্যাক থেকে মিডফিল্ড, মিডফিল্ড থেকে ফুল-ব্যাক, আবার মাঝমাঠে—বল শুধু একবার উপরে যাচ্ছে আবার নিচে নামছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা তেমন চোখে পড়ল কই।

    প্রমাণ চান?
    জলজ্যান্ত প্রমাণ তো স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল বলে স্পর্শ না করার রেকর্ডেই লেখা! যেন তিনি চলে গিয়েছিলেন বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে! মাঠে ছিলেন, কিন্তু ম্যাচে ছিলেন না!
    স্পেনের কৌশলগত বিন্যাসই স্ট্রাইকারকে খেলার বাইরে ঠেলে দিয়েছে। এত বলের দখল থাকার পরও তাকে কার্যকরভাবে বল সরবরাহ করতে পারেনি গোটা দল। হয়তো পরের ম্যাচে স্ট্রাইকার পজিশনে না খেলে নিজেকে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর দাবি করতে পারেন!

    টিকি-টাকার পুরোনো রোগ
    এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও চিলির বিপক্ষে বলের দখলে এগিয়ে থেকেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় এক হাজারের বেশি পাস খেলেও টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ৭৭ শতাংশ বল দখলে রেখেও একটিও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফল, আবারও টাইব্রেকারে বিদায়।
    এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও সেই একই চিত্র। বল আছে, পাস আছে, নিয়ন্ত্রণ আছে—কিন্তু নেই গোল। একসময় যে টিকি-টাকা স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল, এখন সেটিই যেন তাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। বৃহত্তর অর্থে সমস্যা!
    – কী বুঝলেন?
    টিকি-টাকা শুধু বিশ্বকাপ জেতায় না, প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ও করে দেয়!
    বল নয়, দরকার ভাঙন
    আধুনিক ফুটবলে শুধু বলের দখলই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। প্রয়োজন গতি, দিক পরিবর্তন, শেষ ডিফেন্স লাইন ভাঙা পাস, থার্ড ম্যান রান এবং ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ। এই মৌলিক বিষয়গুলোই অনুপস্থিত ছিল স্পেনের খেলায়। স্পেনের ৭৬৪টি পাসের বড় অংশই পরিণত হয়েছে অর্থহীন পরিসংখ্যানে।
    কেপ ভার্দে ভালোই জানত, স্পেন বল রাখার কৌশলই নেবে। তাই তারা ধৈর্য ধরে নিজেদের পোস্টে লো ব্লক কষে অপেক্ষা করেছে। স্পেনকে পাশের পাস খেলতে দিয়েছে, কিন্তু বক্সের সামনে এক ইঞ্চি জায়গাও দেয়নি। স্পেন শট নিয়েছে কিন্তু সেগুলো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়ালে লেগে ফেরত এসেছে। আর যে কয়েকটি পোস্টে যায় সেখানে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে সেগুলো ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনয়া। গোলশূন্য ড্র ম্যাচের নায়ক যে তিনিই।
    ‘ছোট দল’ বলে কিছু নেই
    ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে-‘আমাদের এই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সতেজতা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। পরের ম্যাচের আগে আরো উন্নতি করতে হবে’।
    কেপ ভার্দের প্রশংসাও করেন স্প্যানিশ কোচ। বললেন, ‘ওরা খুব লো ব্লকে খেলেছে। শারীরিকভাবেও ভীষণ শক্তিশালী ছিল তারা। ফুটবলে এখন আর কোনো ছোট দল বলে কিছু নেই।’

    স্পেনের জন্য সতর্কবার্তা
    গ্রুপ পর্বে স্পেনের সামনে এখন সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। নকআউটে যেতে হলে শুধু বলের দখল নয়, গোল করার পথও খুঁজে বের করতে হবে। নইলে টিকি-টাকার পুরোনো অভিশাপ আবারও স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে। এই বিশ্বকাপে টপ ফেভারিটের মর্যাদা নিয়েই এসেছে স্পেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি এখন তারা।
    বিশ্বফুটবল অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক ফুটবলে আনুভূমিক পাসের চেয়ে ভার্টিকাল পাসের গুরুত্বই বেশি। বল ধরে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা। স্পেন যদি পরের ম্যাচে সেই বাস্তবতার পথে না হাঁটে তাহলে…‘অদিওস কোপা দেল মুন্ডো’।
    ওটা স্প্যানিশ শব্দ। বাংলায় বিদায় বিশ্বকাপ!

  • হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত শুরু করল নরওয়ে। বস্টনে মঙ্গলবার ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল, আর প্রথম ম্যাচেই দুটি গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন অভিষেক।

    ম্যাচের ২৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসার চমৎকার পাস থেকে ডেভিড মোলার উলফের বাড়ানো বলে কাছ থেকে জালে বল জড়িয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে ইরাক। আইমেন হুসেইনের হেডে ম্যাচে ফিরে আসে এশিয়ার দলটি।

    প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইরাক গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুলে গোলটি হলো। ধীরগতিতে তার দিকে আসা ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে দেরি করেন তিনি। তার ক্লিয়ারেন্স হালান্ডের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। সহজ সেই উপহার লুফে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা ৫৭-তে নিয়ে যান হালান্ড, মাত্র ৫১ ম্যাচেই।

    দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চালিয়ে যায় ইরাক। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক হয়। আলি আল-হামাদি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। আকাম হাশিমের দুর্দান্ত ভলিও বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    এরপর ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে নরওয়ের তৃতীয় গোল করেন বদলি ডিফেন্ডার লিও ওস্টিগার্ড। তাতেই জয়ের পথ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় স্কান্ডেনেভিয়ান দেশটির।

    হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। কিন্তু এবার জালাল হাসান দারুণ সেভ করে তাকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন।

    অবশ্য ম্যাচের শেষ গোলেও অবদান রাখেন নরওয়েজিয়ান তারকা। তার হেড আইমেন হুসেইনের গায়ে লেগে জালে ঢুকে। রেফারি জানান এটি আত্মঘাতী গোল। এই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।
    এই জয়ে গোল ব্যবধানে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স।
    ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে।

  • এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    ক্রীড়া ডেস্ক

    প্রথমার্ধে ছিল হতাশা, দ্বিতীয়ার্ধে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ জবাব। বিরতির পর দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে এই তারকার গোলসংখ্যা এখন ৫৮।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম ৪৫ মিনিটে ছন্দহীন ছিল দিদিয়ের দেশমের দল। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও দেজিরে দুয়ে—চার তারকাই বারবার নিচে নেমে বল নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। আক্রমণে ধার ছিল না। পুরো প্রথমার্ধে ফ্রান্সের কাটল যেন গুটিয়ে যাওয়া ফুটবল খেলে।

    অন্যদিকে সেনেগালই ছিল বেশি বিপজ্জনক। নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লাগে, ইসমাইলা সারও বিরতির আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মাশুলই দিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।

    দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলান দেশম। অলিসেকে মাঝমাঠে এনে দেম্বেলেকে উইংয়ে পাঠাতেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অলিসের নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে এমবাপ্পে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন।

    এরপর বেঞ্চ থেকে নেমে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বারকোলা। অতিরিক্ত সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ কথা বলেন এমবাপ্পেই। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।
    এই জোড়া গোলে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।
    প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ, দ্বিতীয়ার্ধে অপ্রতিরোধ্য—ফ্রান্স যেন এক ম্যাচেই দেখাল তাদের দুই রূপ। তবে শেষ ৪৫ মিনিটের ফুটবলই জানিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার কেন তারা।

  • মেসির হ্যাটট্রিকে  আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত শুভসুচনা

    মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত শুভসুচনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ভর করে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ জে-তে শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথম দিকেই মেসি গোলের দেখা পান, তবে সহকারী রেফারির পতাকায় সেই উদযাপন থেমে যায় অফসাইডের কারণে। একই সময়ে আলজেরিয়াও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও তাদের গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকে।

    এরপর ১৭তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের নিখুঁত ও বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন। লুকা জিদান সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সেই শট আটকাতে পারেননি। এই গোলেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয়।

    প্রথমার্ধে আলজেরিয়া কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার চাপ অব্যাহত থাকে। মাঝমাঠে বল দখল ও দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে তারা একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। তবে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অন্যদিকে আলজেরিয়া রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৬০তম মিনিটে আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় গোল পায়। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের লং বল থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেই শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠিকভাবে সামলাতে ব্যর্থ হন। ঠিক সেই মুহূর্তে বক্সেই দাঁড়িয়ে থাকা মেসি আলতো টোকায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

    এরপর ৭৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নিকোলাস গঞ্জালেসের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ে আবারও বল পান মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

    এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্য বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি ছিল তার আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১৬ গোল নিয়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে বসেন।

    এছাড়াও মেসি এই ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হয়েছেন, বিশ্বকাপে ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোল অবদান ২৪-এ পৌঁছে পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। টানা পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার ধারাও তিনি বজায় রেখেছেন।

    সবমিলিয়ে, আর্জেন্টিনার এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এটি ছিল মেসির হাত ধরে নতুন এক ইতিহাস লেখা রাত। বয়স ৩৮ হলেও তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনো অপ্রতিরোধ্য।

  • সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ

    সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    সেনেগালের বিরুদ্ধে আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১ টায় মাঠে নামছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল ফ্রান্স। শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকলেও আজ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

    চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কেমন হতে পারে এই দুই দলের একাদশ—

    ফ্রান্সের সম্ভাব্য একাদশ
    মাইক মেনিয়ান, উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো, জুলস কুন্দে, থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, আদ্রিয়েন রাবিও, ওসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে।

    সেনেগালের সম্ভাব্য একাদশ
    এদুয়ার্ড মেন্ডি, কালিদু কুলিবালি, মুসা নিয়াখাতে, ক্রেপিন দিয়াত্তা, এল হাজি মালিক দিউফ, হাবিব দিয়ারা, লামিনে কামারা, পাপে গুইয়ে, ইসমাইলা সার, সাদিও মানে ও নিকোলাস জ্যাকসন।

  • টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেনি-ভোজিনিয়া

    টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেনি-ভোজিনিয়া

    স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। ‘বুড়ো’ বয়সেও আবেগে ভাসলেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। এরপর শুরু হলো ফুঁপিয়ে কান্না।

    সেই কান্না আড়াল করতে কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। সবার চোখই তখন ভেজা।

    ভেজিনিয়ার সেই কান্নায় লুকায়িত ছিল অসাধ্য সাধনের তৃপ্তি। কেপ ভার্দের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উৎসবের এই মুহূর্ত তো নেমেছে তার হাতে ভর করেই। দারুণ সাতটি সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

    ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নেমে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

    এদিকে ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়া জানিয়েছেন তার কান্নায় তৃপ্তির পাশাপাশি মিশে ছিল আক্ষেপও। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে না পারেননি তিনি।

    বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারাই ছিলেন আমার সবকিছু।’

    ‘কিন্তু আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি।ভিসার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে টাকা দিতে হয়, সেটা আমরা সময়মতো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।’

    ভোজিনিয়ার এই সাফল্যে পৌঁছানোর পথটাও ছিল ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র পৌন ছয় লাখ মানুষের বাস কেপ ভার্দে থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা তো সহজ কিছু নয়!

    উল্লেখ্য, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরোর চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় নবাগত কেপ ভার্দে। যেখানে ভোজিনিয়ার নৈপুণ্যে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

  • ৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে বিরল ঘটনা!

    ৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে বিরল ঘটনা!

    কীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রতিটি দিনই নতুন গল্পের জন্ম হয়। কোথাও গোলের বন্যা, কোথাও অঘটন, আবার কোথাও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। তবে এবারের আসরের পঞ্চম দিনটা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে ভিন্ন এক কারণে।

    সূচি অনুযায়ী এক দিনে অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচেই জেতেনি কেই, আবার হারেওনি। চারটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ড্রয়ে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটল মাত্র দ্বিতীয়বার।

    সোমবার দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্পেন ও কেপ ভার্দে। শক্তিমত্তা-অভিজ্ঞতায় ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও দু’দল গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে। এরপর বেলজিয়াম ও মিসর ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে।

    ভোরের ম্যাচে একই স্কোরলাইনে ড্র করে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। দিনের শেষ ম্যাচে ইরান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচটাও শেষ হয় রোমাঞ্চকর ড্রয়ে, ২-২ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।

    এক দিনে চারটি ম্যাচ, আর চারটিই ড্র- এমন বিরল দৃশ্য শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে। সেবার একই দিনে সুইডেন-ওয়েলস গোলশূন্য ড্র করেছিল। যুগোস্লাভিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচে হয়েছিল ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চকর সমতা, আর ইংল্যান্ড-অস্ট্রিয়া ২-২ ও নর্দান আয়ারল্যান্ড-জার্মানি ম্যাচও শেষ হয়েছিল ২-২ স্কোরলাইনে।

    অর্থাৎ ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর প্রায় সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যায়নি এমন ঘটনা। অবশেষে ৬৮ বছর পর আবারো এক দিনে চারটি ড্রয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

    মজার বিষয় হলো, চারটি ম্যাচেই ছিল ভিন্ন ভিন্ন গল্প। কোথাও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, কোথাও শেষ মুহূর্তের লড়াই, আবার কোথাও দু’দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। কিন্তু দিনের শেষে ফলাফল একটাই- সমতা।

    বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য অনেক। তাই এই চার ড্র শুধু পরিসংখ্যানের নতুন অধ্যায়ই নয়, গ্রুপ পর্বের সমীকরণও আরো জটিল করে তুলেছে। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়া এই দিনটি তাই দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

  • নিউজিল্যান্ডকে রুখে দিল ইরান

    নিউজিল্যান্ডকে রুখে দিল ইরান

    কীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে এখন মুখোমুখি ইরান–নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচটি ইরান ফুটবল দলের জন্য সাধারণ একটি ম্যাচের চেয়ে বেশি। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতায় ফেরে দলটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা, বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ইরানের ফুটবল দল এবারের বিশ্বকাপের আলোচিত দলগুলোর একটি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে এক দিন আগে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পা রেখেছিল তারা। ইরান যখন এই ম্যাচ খেলার জন্য মাঠে নেমেছে, তখনো মাঠের বাইরে চলছে নানা ধারনের রাজনৈতিক স্লোগান।

    বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত দল ইরানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের ৭ মিনিটে দলীয় সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ থেকে দুর্দান্ত এক গোলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এলিজা জাস্ট।পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের ২৪ মিনিটেই গোল পেতে পারত ইরান। ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর ৮ মিনিট পরই কাঙ্খিত গোলটি পেয়ে যায় ইরান। নিউজিল্যান্ডের বক্সে জটলার ভেতর থেকে নেওয়া শটে গোল করেন ইরানের ডিফেন্ডার রামিন রেজাইয়ান।

    পরে ইরানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে আবার লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। এই গোলটিও করেছেন এলিজা জাস্ট।

    ম্যাচের ৬৩ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে রামিন রেজাইয়ানের বাড়ানো বলে মোহাম্মদ মোহেবি জোরালো হেডে বলটি জালে জড়ান। এই গোলে সহায়তা করা রামিনই করেছিলেন ইরানের প্রথম গোল। এর মধ্য দেয়ে সমতায় ফেরে ইরান। এভাবে ড্র করে ম্যাচের সমাপ্তি হয়।

  • আত্মঘাতী গোলে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের

    আত্মঘাতী গোলে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া হলো না মিশরের। পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেও এক আত্মঘাতী গোলের কারণে জয় হাতছাড়া করতে হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ সালাহদের।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে মিশর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। অন্যদিকে তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে শুরুর একাদশে না রেখেই ম্যাচ শুরু করে বেলজিয়াম।প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়াম তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল মিশর। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে সেই আধিপত্যেরই পুরস্কার পায় আফ্রিকার দলটি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত লিড।গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা। বেলজিয়াম বারবার আক্রমণে উঠলেও মিশরীয় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার কীর্তিও গড়ে তারা।বিরতির পর প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বেলজিয়াম। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইউরোপের দলটি। ৫৩তম মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার দারুণ শট পোস্টে আঘাত হানলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিশর।তবে বেলজিয়ামের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৬তম মিনিটে আসে সমতার গোল, যদিও সেটি আসে মিশরের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক উপায়ে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। আর এই একটি ভুলেই জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও দুই মূল্যবান পয়েন্ট হারায় মিশর। অন্যদিকে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করা বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বস্তি পায়।

    শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উভয় দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও আত্মঘাতী গোলের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে, আর বেলজিয়ামকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভাগাভাগি করা এক পয়েন্টে।

  • আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া

    আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামীকাল বুধবার থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। কেননা, এদিন মাঠে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের বড় অংশই হলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক। এরই মধ্যে ব্রাজিল এক ম্যাচ খেলেছে। এবার আর্জেন্টিনার অপেক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসান সিটিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচ দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে লিওনেল মেসিং অ্যান্ড কোং।

    ইতিহাসে ব্রাজিল ও ইতালির টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে। আর্জেন্টিনার সামনে তৃতীয় দল হিসেবে টানা বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। রেকর্ড গড়ার পথে আছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর। আর বিশ্বকাপে ২৭তম ম্যাচ। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলবেন মেসি। মেসির পায়ের জাদু দেখার শেষ সুযোগ এ বিশ্বকাপেই।বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই আর্জেন্টিনার সামনে লড়াকু দল আলজেরিয়া। এ পর্যন্ত মাত্র একবারই প্রীতি ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আলবিলেসেস্তেরা। ২০০৭ সালের ওই ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোলের খাতা খুলেছিলেন লিওনেল মেসি। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার সামনে আফ্রিকান দলটি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে আলজেরিয়া। এ দলটি ঘিরে বেশি সতর্ক থাকছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেননা, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে চমক দিয়েছিল দলটি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ওই সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দেয় আলজেরিয়া।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ছন্দ ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনির অধীনে দলটি এখন আরো বেশি পরিপক্ব, সুশৃঙ্খল ও গোছানো। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম দলটি। কোচের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি। মাঝ মাঠ আর আক্রমণভাগের দারুণ রসায়নই আর্জেন্টিনা দলের মূল চালিকাশক্তি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ এখন শুধু মেসি-নির্ভর নয়। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে এক বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ।

    মাঠে গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসের পসরা সাজায় আর্জেন্টাইনরা। বল পজিশন ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে দেওয়া এবং কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডের অনেক সুনাম। সব মিলে দলটির মধ্যে জয়ের মানসিকতা প্রবল। আর তাতেই বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকেই খেলার টিকিট নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ যাত্রায় সফল নায়ক মেসি।

    এছাড়া ঘরের মাঠ বুয়েন্স এইরেসে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-১ গোলের স্মরণীয় জয় আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে প্রীতি ম্যাচের জয়ও তাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের খেলা নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে। গত ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে যাওয়া মার্টিনেজ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পেশি সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন লিওনার্দো পেরেদেস ও নিকো গঞ্জালেসও। তবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে খেলতে পারছেন না।

    এদিকে প্রথম ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হলেও আত্মবিশ্বাসী আলজেরিয়া। দলটিকে বলা হয় ‘লে ফেনেক্স’ বা ‘মরুর শিয়াল’। নামের সঙ্গে তাদের কাজেরও দারুণ মিল রয়েছে। মাঠে চতুরতা, গতি ও অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তিই দলটির প্রধান অস্ত্র। রক্ষণ জমাট রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যাওয়াই আলজেরিয়ার খেলার ধরন। প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত একই গতিতে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে পারে তারা। আর্জেন্টিনার টেকনিক্যাল ও পাসিং ফুটবলকে রুখে দিতেই মাঠে নামবে আফ্রিকানরা। মাঝমাঠ থেকে তাদের কড়া ট্যাকল ও প্রেসিং ফুটবল মেসিদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দারুণ আলজেরিয়ার। টানা চার ম্যাচে অপরাজিত দলটি। এর মধ্যে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আফ্রিকার দলটি। আর্জেন্টিনাকেও হারানোর আত্মবিশ্বাস আলজেরিয়া শিবিরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তাদের তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজা। সব মিলে শেষে এটাই বলা যায়- আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল বনাম আফ্রিকার পাওয়ার ফুটবলের এক ক্লাসিক দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে।

  • উরুগুয়েকে আটকে দিল সৌদি আরব

    উরুগুয়েকে আটকে দিল সৌদি আরব

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় দলগুলোর জন্য সৌদি আরব যে এখনও ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ, তার আরেকটি প্রমাণ মিলল মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায়। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। একসময় জয়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল সৌদি আরব, যদিও শেষ পর্যন্ত মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে সমতায় ফেরে উরুগুয়ে।
    ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে স্পষ্ট ফেভারিট ছিল উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের নিয়ে গড়া দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে অনেকেই সহজ জয় পেতে দেখছিলেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকেই সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় সৌদি আরবপ্রথমার্ধে উরুগুয়ের আক্রমণ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণেও বেশ কয়েকবার হুমকি তৈরি করে সৌদি। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে ছন্দ খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয় উরুগুয়েকে।

    অবশেষে ৪১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সৌদি আরব। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে শক্তিশালী হেড করেন হাসান আল তামবাকতি। বলটি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে বেরিয়ে আসা বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কাছ থেকে জালে পাঠান আবদুলেলাহ আল-আমরি। সেই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সৌদি আরব।

    গোল হজম করার পরও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি উরুগুয়ে। ফলে লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সৌদি, আর গ্যালারিতে তখন ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্মৃতি যেন আবারও ফিরে আসে।দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র পাল্টানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণে সৌদি রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও আরাউহো। তবে গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এগিয়ে থাকে সৌদি আরব।

    সময় যত গড়াতে থাকে, উরুগুয়ের উদ্বেগও তত বাড়তে থাকে। ৭০ মিনিট পার হওয়ার পরও ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরেকটি বড় অঘটনের জন্ম দিতে চলেছে সৌদি আরতবে শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ভাঙতে হয় এশিয়ার প্রতিনিধিদের। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে অবশেষে সমতার গোল আদায় করে উরুগুয়ে। ধারাবাহিক আক্রমণের ফল হিসেবে পাওয়া সুযোগ থেকে জালে বল পাঠান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। তার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে ম্যাচে নতুন প্রাণ পায় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    সমতা ফেরানোর পর জয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে উভয় দল। সৌদি আরবও আর শুধু রক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেনি, পাল্টা আক্রমণে উরুগুয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছে। অন্যদিকে উরুগুয়ে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়।তবে নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

    ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সৌদি আরব। আর জয় প্রত্যাশী উরুগুয়েকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভাগাভাগি করা এক পয়েন্ট নিয়েই। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ কাঁপানো সৌদি আরব এবার উরুগুয়েকেও আটকে দিয়ে আবারও জানিয়ে দিল, বড় দলগুলোর জন্য তারা এখনও বড় এক পরীক্ষার নাম।

  • জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    মোহাম্মদ সালাহ আজ জন্মদিনটা কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন?

    ৩৩ বছর কেটে গেল, কেউ কি কথা রাখল?

    নিজের কাছে দেওয়া একটা কথা হয়তো সালাহ নিজেই রাখতে পারেননি। ক্লাব ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই; কিন্তু আজ যখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবেন, একটা বড় অতৃপ্তি ঘোচাতে চাইবেন। বিশ্বকাপে তিনবার খেলেও এখন পর্যন্ত জয় পায়নি মিসর। সালাহর জন্য আজকের ম্যাচটা তাই বড় একটা চ্যালেঞ্জও।

    সালাহর জন্য হয়তো বিশ্বকাপে এটাই বড় কিছু করার শেষ সুযোগ। চার বছর পর বয়স হবে ৩৭। এমনিতেই ক্লাব ক্যারিয়ারে একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। লিভারপুলের হয়ে সবকিছু জেতার পর এই মৌসুমেই বিদায় বলেছেন অ্যানফিল্ডকে। এক অর্থে বেলজিয়ামের ম্যাচটা সালাহর জন্য নতুন একটা শুরুও।

    পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আজ মিসরের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের সোনালি প্রজন্ম অনেক আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি কিছু। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকলেও সেবার বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব পেরোতেই পারেনি।

    মিশরের জার্সিতে সালাহ

    ডি ব্রুইন সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন আগেই, চোটের সংগ্রাম করতে থাকা লুকাকু এই মৌসুমে মাঠেই নেমেছেন মাত্র সাত ম্যাচে। থিবো কোর্তোয়া ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে এখনো দাপটে খেলছেন, তবে এই আসরের পর বেলজিয়ামের হয়ে বড় কিছুর সুযোগ পাবেন কি না আর বলা কঠিন। তাঁদের জন্যও এই বিশ্বকাপটা কিছু করার শেষ একটা সুযোগ।

    এক অর্থে বেলজিয়ামের ওপর কোনো চাপও নেই এবার। ফেবারিটদের তালিকায় কেউ তাদের ধরছে না, এই বিশ্বকাপে এক অর্থে নতুন একটা শুরু হচ্ছে তাদের।

    সালাহর ওপর খানিকটা চাপ তো আছেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে পেলেন চোট। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারলেন না, চোট কাটিয়ে ফিরলেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে হেরে তো প্লে–অফ থেকেই বাদ পড়ল মিসর। এবারের বাছাইপর্বে অবশ্য মিসর সহজেই উতরে এসেছে।

    সালাহর জন্য একটু আশা হতে পারে দলের বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি। ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এর মধ্যেই নিজেকে চিনিয়েছেন। আছেন ডেনমার্কের দল নরশেলানে খেলা ইব্রাহিম আদেল; আর তাঁদের কোচ হোসেম হাসান, মিসরের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড যাঁর। সালাহর গোল এখন ৬৭, হোসেমের চেয়ে দুই গোল কম। এই বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতায় এখানেও কিছু যোগ করার আছে সালাহর। যে শুরুটা করতে চাইবেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে।