খেলাধুলা

  • কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্ব। থেমে নেই বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে মেতে উঠেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। প্রিয় দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

    ফুটবল নিয়ে সেই চিরচেনা ভালোবাসার কথা এবার অকপটে স্বীকার করলেন জেন-জির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ছোটবেলা থেকেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের ফুটবল প্রেমের কথা শোনালেন এ সংগীতশিল্পী।

    আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠ এবং মাঠের বাইরের এই চিরচেনা ফুটবল বৈরিতা বা দ্বৈরথ বেশ আনন্দ দেয় বলে জানান এ সংগীতশিল্পী। পারশার মাহজাবীন পূণি বলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কথার লড়াই, আবার কখনো তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোলাগা প্রসঙ্গে পারশা মাহজাবীন পূর্ণি বলেন, আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি ছোটবেলা থেকে। আমার বড় ভাই দেখতাম যে পতাকা নিয়ে আসত অনেক বড় বড়। তো বাসায় যে রকম পতাকা লাগাত, ওই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা।

  • বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা কে? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই তো ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। বড় তারকা, বড় ফুটবলার, আবার খেলেন আক্রমণভাগে—এমন ফুটবলাদের ১০ নম্বর জার্সিই পরতে দেখা যায় সাধারণত।

    তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে উঠছে না ইয়ামালের। বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও, জাতীয় দলে তাঁর এই বিখ্যাত নম্বরটি না পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে আছে স্পেন ফুটবলের বহু বছরের এক ঐতিহ্য।

    দলটির নিয়ম অনুযায়ী, যে খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা যত বেশি, জার্সি নম্বর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই মূলত এই নিয়ম মেনে চলা।

    আর সে কারাণেই এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ১০ নম্বর জার্সিটি থাকছে দানি ওলমোর কাছে। স্পেনের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা ওলমো ইয়ামালের অভিষেকের আগে থেকেই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া ইয়ামালের ঝুলিতে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
    ওলমো অবশ্য বার্সেলোনাতে ইয়ামালের সতীর্থ, সেখানে ইয়ামালাই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর জার্সিটি প্রথমে আনসু ফাতিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজুরি আর প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে তিনি বার্সাতে থিতু হতে পারেননি।

    পরে ১০ নম্বর জার্সিটি ইয়ামালকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফর্মও করছেন। ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন এবার। তবে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না ইয়ামাল।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের ভেতরে জার্সি নম্বর নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তরুণ ইয়ামাল দলের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবেই বোঝেন, বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থ ওলমোর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।

    এই ছবিটি পোস্ট করেন ইয়ামালইনস্টাগ্রাম

    দলের সবচেয়ে বড় তারকার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দলের অভিজ্ঞদের সম্মান জানানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন জার্সি নম্বর হিসেবে ইয়মাল বেছে নিয়েছেন ১৯। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল তাঁর বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করে সবাইকে চমকে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল একটি কোলাজ ছবি শেয়ার করেন, যেটিতে আছে মেসির জার্সিও।

    ছবিটির এক পাশে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক জার্সির ছবি, অন্য পাশে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের জার্সির ছবি। যেহেতু ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না, ইয়ামাল তাই খেলবেন তাঁর ছোটবেলার নায়কের অভিষেক বিশ্বকাপের জার্সি নম্বর পরে।

  • ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ২০০৭ সালের ৫ জুন বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে তখন আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    সেই ম্যাচে মাঠে ছিলেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এক তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জাদুকরী ড্রিবলিং ও প্রতিভা দিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসছিলেন। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এবং হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেন এবং নিজের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন।

    ঐ ম্যাচটি ছিল গোলসমৃদ্ধ ও নাটকীয় এক লড়াই। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে এবং মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে আলজেরিয়া দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে এবং ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়ার গোলে সমতা আনে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে আলজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এই সময়ে লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় দলটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়।

    প্রথমে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান, এরপর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো দ্রুত আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে নেন। পরে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন মেসি। শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়া একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    প্রায় ১৯ বছর পর আবারও আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া বড় মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার আর কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামছে তারা।

    এই নতুন প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। দলটি এখনো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে শক্তিশালী একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া, যাদের ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ নামে ডাকা হয়, তারা তাদের দ্রুতগতির ফুটবল, শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে দুই দলের মধ্যে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    তাঁর কথা শুনলেই পরিসংখ্যানের আগে চোখে ভেসে ওঠে আনন্দ। গোল, শিরোপা কিংবা রেকর্ড নয়, তাঁদের স্মরণ করা হয় খেলার সৌন্দর্যের জন্য। ব্রাজিলের সাবেক খেলোয়াড় রোনালদিনহো সেই তালিকার অন্যতম।

    মাঠে বল পায়ে তাঁর হাসি, প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো ড্রিবল, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা পাস কিংবা দর্শকদের জন্য ফুটবলকে বিনোদনের শিল্পে পরিণত করার ক্ষমতা তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে—রোনালদিনহো আসলে কে?

    সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নতুন তথ্যচিত্র ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে গত এপ্রিলে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্রটি। তিন পর্বের এই তথ্যচিত্র শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়; এটি এক দরিদ্র ব্রাজিলিয়ান ছেলের বিশ্বজয়ের কাহিনি, যার মুখে সব সময় হাসি ছিল, কিন্তু জীবনে ছিল সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, বিতর্ক এবং অবিশ্বাস্য সাফল্য।

    পোর্তো অ্যালেগ্রের ছোট্ট ছেলেটি
    রোনালদিনহোর জন্ম ১৯৮০ সালে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর পোর্তো অ্যালেগ্রেতে। তাঁর পুরো নাম রোনালদো দে আসিস মোরেইরা। ফুটবল তাঁর পরিবারের রক্তেই ছিল। বাবা জোয়াও ছিলেন অপেশাদার ফুটবলার এবং জাহাজ নির্মাণ কারখানার কর্মী। বড় ভাই রবার্তো পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

    কিন্তু রোনালদিনহোর শৈশব সুখের ছিল না। মাত্র আট বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের ওপর নেমে আসে আর্থিক সংকট। তথ্যচিত্রে পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ফুটবলই ছিল ছোট্ট রোনালদিনহোর একমাত্র আশ্রয়।

    রাস্তার ফুটবল থেকে বিশ্বমঞ্চ
    ব্রাজিলের অলিগলি, সৈকত আর ছোট ছোট মাঠে ফুটবল খেলেই বড় হয়েছেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কীভাবে অল্প বয়সেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা সবার নজর কাড়ে। ১৩ বছর বয়সে এক ম্যাচে ২৩ গোল করার ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। খুব দ্রুতই তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর নজরে আসেন। সেখান থেকেই শুরু পেশাদার ফুটবলের যাত্রা।

    তথ্যচিত্রে পুরোনো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিশোর রোনালদিনহোর খেলার ধরন তখনই অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। তিনি শুধু গোল করতে চাইতেন না; দর্শকদের আনন্দ দিতে চাইতেন।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    ইউরোপ জয়
    ফ্রান্সের পিএসজি ক্লাবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে প্রবেশ করেন রোনালদিনহো। কিন্তু তাঁর প্রকৃত উত্থান ঘটে স্পেনের বার্সেলোনায়।
    তথ্যচিত্রের সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি হলো বার্সেলোনা অধ্যায়। ক্লাবটি তখন সংকটের মধ্যে। সমর্থকেরা হতাশ। সেই সময় রোনালদিনহো এসে শুধু দলটিকেই বদলে দেননি, বদলে দিয়েছিলেন পুরো ক্লাবের মানসিকতা।

    ২০০৫ সালে তিনি জেতেন ব্যালন ডিঅর। একই সময়ে বার্সেলোনাকে আবার ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর একটিতে পরিণত করেন। তথ্যচিত্রে সাবেক সতীর্থদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, রোনালদিনহোর উপস্থিতি ছিল সংক্রামক। তিনি মাঠে যেমন হাসতেন, অনুশীলনেও তেমনি আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন।

    মেসির জীবনে রোনালদিনহো
    তথ্যচিত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো লিওনেল মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক। আজকের মেসিকে সবাই চেনে। কিন্তু ২০০৪ সালে তিনি ছিলেন লাজুক এক কিশোর। রোনালদিনহোই প্রথম তাঁকে ড্রেসিংরুমে আপন করে নিয়েছিলেন। বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেকের সময় রোনালদিনহো ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা। মেসির প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও করেছিলেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, কীভাবে তিনি তরুণ মেসিকে আগলে রেখেছিলেন এবং ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বার্সেলোনার ইতিহাসে মেসির উত্থানের পেছনে রোনালদিনহোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রে মেসিও সেই সময়ের স্মৃতি ভাগাভাগি করেছেন।

    রোনালদোর গল্পেও তাঁর ছায়া
    আরেকটি মজার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রোনালদিনহোকে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনা বেছে নেন। ফলে ইউনাইটেডে একটি উইঙ্গারের জায়গা খালি থেকে যায়। সেই সুযোগেই ক্লাবে আসেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক
    ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ও তথ্যচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০০২ সালে রিভালদো, রোনালদো ও রোনালদিনহোকে নিয়ে গঠিত আক্রমণভাগ ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ত্রয়ী। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। সেটি কি শট ছিল, নাকি ক্রস? প্রশ্নটির উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। কিন্তু গোলটি ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যায়। পরে দলটি বিশ্বকাপও জিতে নেয়।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র পোস্টার। নেটফ্লিক্স

    শুধু সাফল্য নয়, বিতর্কও
    তথ্যচিত্রটি রোনালদিনহোর জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোও এড়িয়ে যায়নি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে ফিটনেস সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মাঠের বাইরের নানা সমালোচনার বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে প্যারাগুয়েতে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি তথ্যচিত্রে আলোচিত হয়েছে।
    নির্মাতারা দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা কখনো কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে কতটা জটিল করে তুলতে পারে।

    কেন তিনি এত প্রিয়?
    রোনালদিনহোর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। কিন্তু তথ্যচিত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে—মানুষ তাঁকে শুধু শিরোপার জন্য মনে রাখে না। কারণ, তিনি ফুটবল খেলতেন আনন্দ নিয়ে। যে যুগে ফুটবল ক্রমেই কৌশল, অর্থনীতি এবং ব্যবসার মধ্যে বন্দী হয়ে পড়ছিল, সেই সময় রোনালদিনহো দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে ফুটবল মূলত আনন্দের খেলা। তথ্যচিত্রটি দেখায়, কীভাবে তিনি শুধু ম্যাচ জিতেননি, ফুটবল খেলার ধরনও বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর ‘নো-লুক পাস’, ‘এলাস্টিকো’ ড্রিবল, অসম্ভব ফ্রি-কিক কিংবা প্রতিপক্ষকে অপদস্থ করে দেওয়া স্কিল আজও ইউটিউব যুগের আগের ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

    এই তথ্যচিত্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি রোনালদিনহোকে দেবতা বানানোর চেষ্টা করেনি। বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে দেখিয়েছে। এখানে যেমন আছে কিংবদন্তির উত্থান, তেমনি আছে ভুল সিদ্ধান্ত। যেমন আছে সাফল্যের ঝলক, তেমনি আছে ব্যর্থতার অন্ধকার। ফলে দর্শক শুধু একজন ফুটবল তারকাকে দেখেন না; একজন মানুষকেও চিনতে পারেন।

  • বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারির জন্য বিশ্বকাপে অভিষেকটা এর চেয়ে ভালো আর হতে পারত না। সুইডেনের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি জোড়া গোল করে দলকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। তবে প্রথম গোলের পর তার উদযাপনই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

    মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার জালে। গোল করার পর সাধারণ কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে দুই হাত তুলে সম্মান জানান এবং এরপর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

    এর পেছনে রয়েছে তার রক্তের গভীরে থাকা তিউনিসিয়ার সম্পর্ক। আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান বংশোদ্ভূত। যদিও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে।

    ১৮ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মায়ের দেশের পরিবর্তে নিজের জন্মভূমি সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন ছিল তার বাবারও।

    আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সে সুইডেনের হয়ে খেলুক। যে দেশ তাকে বড় করেছে এবং যত্ন নিয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই উচিত।’

    তিনি জানান, তিউনিসিয়ার পক্ষ থেকেও ইয়াসিনকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবা ও ছেলে কেউই সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

    শৈশবে নিজ শহরের একটি ক্লাবে ফুটবল শুরু করেন আয়ারি। পরে দেশের অন্যতম বড় ক্লাবে যোগ দিয়ে দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর ইংল্যান্ডের একটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে পাড়ি জমান এবং ২০২৩ সালে সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার।

    সুইডেনের জার্সি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়ারি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সুইডেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন। তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাটাই তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর যখন জানা যায় সুইডেন ও তিউনিসিয়া একই গ্রুপে পড়েছে, তখন বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছিল। আয়ারি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমরা একই গ্রুপে পড়েছি।’

    ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের বড় জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এই তরুণ মাঝমাঠের খেলোয়াড়। প্রথম গোলের পাশাপাশি যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি অসাধারণ গোল করেন তিনি।

    প্রতিপক্ষের গোলমুখের সামনে বল পেয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর এবার অবশ্য উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি। গ্যালারিতে থাকা আনন্দে মাতোয়ারা সুইডিশ সমর্থকদের অভিনন্দন সানন্দে গ্রহণ করেন তিনি।

    বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করেও সম্মান দেখানো এবং নিজের দেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—দুইয়ের সমন্বয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক অভিষেক উপহার দিলেন ইয়াসিন আয়ারি।

  • স্পেন এবার কতটা ভালো

    স্পেন এবার কতটা ভালো

    সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?

    আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?

    প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।

    সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?

    স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল

    যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!

    বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।

    চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।

    কেপ ভার্দে এবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে

    অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।

    এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।

    পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

  • আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখেনি ২৪ বছর হলো দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দেখতে চান দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার।

    ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের জন্য আনচেলত্তিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও ফুটবল সংস্কৃতি সবসময়ই দলটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে রাখে বলে মনে করেন তিনি।

    কাকা বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হয়তো ব্রাজিল শীর্ষ তিন ফেভারিটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এটি এখনও একটি শক্তিশালী দল। আর কার্লো তো কার্লোই।’

    কাকার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের নেতৃত্বে সেলেসাওরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই সাবেক তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আবেগ, চাপ এবং প্রত্যাশা আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তাই ব্রাজিল যদি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে, সেটি পুরো দেশের জন্যই হবে বিশেষ আনন্দের বিষয়।’

    ২০০২ সালের পর আর শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়ের গ্লানি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচের হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফিরবে বলে আশা সমর্থকদের।

    তবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং সামনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবু দলের ওপর আশা হারাচ্ছেন না কাকা। তার মতে, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস ব্রাজিলকে নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনায় সেলেসাওরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  • আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে দলের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

    কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে কানসাসের কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে সোমবার অনুশীলন করে আর্জেন্টিনা। সেখানে পারেদেস নিজের ফিটনেস যাচাই করতে একটি অনুশীলন ম্যাচেও অংশ নেন, যা তার সম্পূর্ণ ফেরা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

    গত মাসে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন এবং তখন থেকেই পুনর্বাসনে ছিলেন।

    অন্যদিকে নিকোলাস তালিয়াফিকো হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তিনি এখন জিম ও ফিজিও সেশনের মাধ্যমে উন্নতি করছেন এবং তার অগ্রগতি সন্তোষজনক।

    তবে তালিয়াফিকোর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষার পর। এরপরই কোচ স্কালোনি তাকে দলে রাখবেন কি না তা নির্ধারণ করবেন।

    এদিকে ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ইনজুরি আপডেটও আজ প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যেই গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরেছেন।

    বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চোট পাওয়া খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

  • আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সে ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কানসাস সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আলজেরিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক—যাদের উপস্থিতিতে নীল-সাদা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের রেস্তোরাঁপল্লীতে একটি জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমর্থক সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরাও এতে অংশ নেন। শুধু আর্জেন্টিনার ভক্তরাই নন, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা থেকে অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও যোগ দেন এই উৎসবে।

    সমাবেশস্থলের কাছাকাছি থাকা সল মন্টেসরি স্কুলের বেড়া সাজানো হয় আকাশি-সাদা পতাকা, তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতীক, বিভিন্ন স্লোগান, আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর চিহ্ন, দেশের বিভিন্ন শহরের নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি দিয়ে। এতে পুরো এলাকাজুড়েই তৈরি হয় এক উৎসবমুখর আবহ।

    বিশেষ আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি সমর্থক তুলার বিখ্যাত ঢোল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাঁর পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ঢোলটি কানসাসে নিয়ে আসেন গিয়ের্মো। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের পর থেকে এই ঢোল প্রতিটি বিশ্বকাপে গেছে। আমরা এটি বাজাচ্ছি। সব সমর্থককে একত্র করছি।’

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উপস্থিতি। ম্যাচের আগে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই জানিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে প্রত্যাশা ও আবেগের কমতি কতখানি।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।

  • ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ফুটবলে যা কিছু জেতার আছে তার প্রায় সবই জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু এক বিশ্বকাপই জেতা হয়নি। পর্তুগালের অধিনায়ক এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখছেন।

    তবে এর আগে প্রশ্ন উঠছে তার ফিটনেস নিয়ে। সবশেষ ২ ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সেই সংশয়কে পাত্তাই দেননি। চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কথা বলে নিজেই জবাব দিয়েছেন। রোনালদো বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি। আপনি কি ম্যাচগুলো দেখেননি?’

    ৪০ পেরিয়েও রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি। ২০২৫-২৬ সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ১৬১টি শট নিয়ে ২৮ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

    এই সাফল্য ও গতিকে সঙ্গে নিয়ে এখন বিশ্বকাপে পর্তুগালকে এগিয়ে নিতে চান রোনালদো। দলের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন।

    রোনালদো বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকরও ছিল। কারণ আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আসল বিষয় হলো ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে যখন বল মাঠে গড়াতে শুরু করবে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নরা বেরিয়ে আসবে।’

  • এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

    নাঈম হাসানের বাসা চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের ফরিদারপাড়া এলাকায়। তাকে মারধরের ঘটনার বিষয়ে জানতে ও দুঃখ প্রকাশ করতে সেখানে যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    হাসান মো. শওকত আলী বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না। যার দায় তাকেই নিতে হবে। জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

    ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সিএনজিতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সিএনজি থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয় পুলিশ। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

    এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী।

    এর আগে গতকাল রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হলো বিতর্ক। আর এ বিতর্কের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।

    ৪৪ বছর বয়সী উইল্টন সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন। আর ২০১৩ সালে পান ফিফা ব্যাজ।

    এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পরিচালনার জন্য সাম্পাইয়োকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফিফা। গত দুটি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া কোপা আমেরিকাসহ বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালও পরিচালনা করেছেন তিনি। সেই ম্যাচে তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে। বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তার।

    গত রাতের ম্যাচে সাম্পাইয়ো প্রথম লাল কার্ড দেখান ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে যদিও প্রশ্ন ওঠেনি। মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। পরে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

    এরপর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বু জোয়ানে মেক্সিকোর আরভারাল্দোকে ধাক্কা মারেন। রেফারি প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভিএআর-এর ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। থেম্বু জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দলের সদস্য আরও একজন কমে নয়জনে দাঁড়ায়।

    ম্যাচের শেষ লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউকে ফেলে দেন।

    ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এতজন লাল কার্ড দেখলেন।

    লাল কার্ড দেখানো ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে সাম্পাইয়োর কড়া চাহনি এবং কঠিন অভিব্যক্তি। ম্যাচ কিছুটা গড়াতেই তার কিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে নিয়ে অনেকেই মিম বানিয়েছেন, করছেন ট্রোল।

  • ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো। ইনজুরির কারণে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দলে দুটি পরিবর্তন করেছে মরক্কো। উইঙ্গার আবদে এজালজুলি ও ডিফেন্ডার নায়েফ অগার্ড বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই দল থেকে ছিটকে গেছেন।

    রিয়াল বেটিসের ফরোয়ার্ড এজালজুলি গত সপ্তাহে নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন। ফিফার আপডেট তালিকা অনুযায়ী তার পরিবর্তে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের আমিনে সাবাই।

    অন্যদিকে মার্সেইর সেন্টার-ব্যাক অগার্ড ঊরুর অস্ত্রোপচারের কারণে মার্চের পর থেকে আর মাঠে নামতে পারেননি। তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কো। যে কারণে টুর্নামেন্টের আগেই অগার্ডের পরিবর্তে মারওয়ানে সাদানেকে দলে ডাকা হয়েছে।

    যদিও এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। পিএসজি তারকা হাকিমি লিখেছেন, ‘ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তুমি দলকে যা দিয়েছো তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করবো। আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

    শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে গ্রুপ-সি’র প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

    বি. এ

  • বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপজয়ী নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আবারও আলোচনায়। এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং আগেভাগেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার করা এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চ। অ্যাস্টন ভিলার এই ৩৩ বছর বয়সি গোলরক্ষকের দাবি, এই বিশ্বকাপেও শিরোপা যাবে আর্জেন্টিনার ঘরেই, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে।

    সম্প্রতি ক্লাবের এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে মার্টিনেজ পুরো টুর্নামেন্টের একটি সম্ভাব্য নকআউট চিত্রও দাঁড় করান। তার অনুমান অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আলাদা থাকলেও ধাপে ধাপে এগিয়ে দুই লাতিন জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা পৌঁছে যাবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে। সেই ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, যা শেষ পর্যন্ত গড়াবে টাইব্রেকারে—আর সেখানেই নাকি জয় ছিনিয়ে নেবে লিওনেল মেসির দল।

    কাতার বিশ্বকাপের আগেও এমনই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্টিনেজ, যা পরে বাস্তব রূপ নেয়। আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবার তার নতুন পূর্বাভাসও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ৪৮ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে এখনো খুব অল্প কিছু ম্যাচই শেষ হয়েছে। তবে মার্টিনেজ আগেভাগেই নিজের ‘কাল্পনিক কোয়ার্টার ফাইনাল’ লাইনআপ সাজিয়ে ফেলেছেন। তার তালিকায় শেষ আটে জায়গা পেয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো।

    তবে তার পূর্বাভাসে সবচেয়ে চমক জাগানো দিক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেকের মতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও মার্টিনেজ মনে করেন, স্পেন শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে।

    তার করা ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্রান্স জয় পাবে নরওয়ের বিপক্ষে, জার্মানি হারাবে তুরস্ককে, নেদারল্যান্ডস জিতবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ব্রাজিল এগিয়ে যাবে জাপানকে হারিয়ে এবং মেক্সিকো পরাজিত করবে দক্ষিণ কোরিয়াকে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে। এরপর আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, জার্মানি জিতবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ব্রাজিল বিদায় করবে মেক্সিকোকে।

    সেমিফাইনালে গিয়ে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছেন মার্টিনেজ। তার ধারণা, ১৯৮৬ সালের স্মৃতির মতো এবারও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারাবে, তবে ম্যাচটি নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। অন্য সেমিফাইনালে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা—যেমনটা হয়েছিল কোপা আমেরিকার সেই স্মরণীয় ফাইনালে।

  • বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। আধুনিক সময়ে সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, জ্যোতিষী এবং সাধারণ ভক্ত—সবাই নিজেদের মতো করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম অনুমান করেন।

    এরই মধ্যে জার্মান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ইয়োআখিম ক্লেমেন্ট গত তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। কোনো ম্যাচে ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত বা বলের সামান্য ব্যবধানও ফল বদলে দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যেও সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই, কারণ এখানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার ভূমিকা অনেক বড়।

    সীমিত চ্যাম্পিয়ন ক্লাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৮৪টি দেশ, কিন্তু ট্রফি জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি দেশ— আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং উরুগুয়ে।

    ফাইনালে উঠেছে মোট ১৩টি দেশ। সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে জার্মানি (৮ বার), এরপর ব্রাজিল (৭ বার) এবং আর্জেন্টিনা ও ইতালি (৬ বার করে)।

    ২০১০ সালে স্পেন সর্বশেষ নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপ জেতে, যা দেখায় শিরোপা জেতা ক্লাব কতটা সীমিত ও কঠিন।

    নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা ও নতুন সম্ভাবনা

    তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস। তবে ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হতে পারে।

    অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে—২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০২২ সালে মরক্কো।

    ভৌগোলিক সুবিধার প্রভাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ মহাদেশের বাইরে গিয়ে শিরোপা জেতা খুবই কঠিন। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে—ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৯৪, ২০০২), স্পেন (২০১০), জার্মানি (২০১৪) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভ্রমণ ক্লান্তি এবং দর্শক সমর্থন—সব মিলিয়ে আয়োজক মহাদেশের দলগুলো বাড়তি সুবিধা পায়।

    বিশ্বকাপ র‍্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’

    ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দল এখনো ট্রফি জিততে পারেনি।এটি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, কারণ তারা বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে।

    ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া কত কঠিন

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দুইবার কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে—ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২)।

    ২০০২ সালের পর দেখা গেছে, আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে বেশিরভাগই পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

    বিদেশি কোচদের ব্যর্থতা

    বিশ্বকাপে বিদেশি কোচ নিয়োগ এখন সাধারণ বিষয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোচের অধীনে কোনো দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

    ২০২৬ আসরে ৪৮ দলের মধ্যে ২৭টির কোচই বিদেশি হতে পারেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্বে কার্লো আনচেলত্তি এবং ইংল্যান্ডের দায়িত্বে টমাস টুখেল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ক্লাব সংযোগের অদ্ভুত পরিসংখ্যান

    আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো—গত বহু বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে প্রায় সবসময়ই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ অথবা ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের কোনো না কোনো খেলোয়াড় ছিলেন।

    ১৯৮২ সালের পর খুব কমবারই এমন হয়েছে যেখানে এই দুই ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—মিলিয়ে আয়োজন করবে আসরটি। দল সংখ্যা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৪৮টি।

    নতুন দল হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তান।

    সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে—অতীতের অনেক ধারা ভাঙার সম্ভাবনা থাকলেও, বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা এখনো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

    বি. এ

  • বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের পর্দা ইতোমধ্যেই উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ফুটবলের পরাশক্তিরা। তবে উপমহাদেশের কোটি সমর্থকের চোখ সবচেয়ে বেশি থাকবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে। বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে আগ্রহও তুঙ্গে।

    বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল আগে। মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ভোর ৪টায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে ১৭ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে। দুই দলই টুর্নামেন্টে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। ফলে যত দিন তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে, ততই বাড়বে সম্ভাব্য এক মহারণের অপেক্ষা।

    প্রশ্ন হলো, এই বিশ্বকাপে কি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি দেখা হতে পারে?

    টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা রয়েছে জে গ্রুপে এবং ব্রাজিল সি গ্রুপে। দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বের সব বাধা পেরোয়, তাহলে সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে তাদের। একইভাবে দুই দল যদি গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেও পরের ধাপে যায় এবং সফলভাবে এগিয়ে আসে, তাহলেও শেষ চারে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।অন্যদিকে একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যটি রানার্সআপ হয়, তাহলে তাদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ হতে পারে ফাইনালে। তবে দুই দলই যদি সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল হিসেবে নকআউটে ওঠে, সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য লড়াইয়ের পর্যায় নির্ভর করবে নকআউট ড্রয়ের ওপর।

    গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ব্রাজিলকে খেলতে হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে। বিশেষ করে মরক্কো, যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল, তাদের বিপক্ষে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ পাস থেকে ক্লাউদিও কানিজিয়ার করা গোলে ব্রাজিলকে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় করেছিল আর্জেন্টিনা।

    দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ১৯৭৪ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। এরপর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়।

    বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল। চার ম্যাচে তাদের জয় দুটি, আর্জেন্টিনার একটি। বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারও ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায়, বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ দেখার।

  • বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের বোনাস ও পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়ে ফ্রান্স এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

    উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু থেকেই পারফরম্যান্স বোনাস এবং খেলোয়াড়প্রতি টিকিট বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ায় এমবাপ্পে ও আরও তিনজন খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্বে ফ্রান্স দলের পক্ষ থেকে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালোর কাছে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    ফরাসি দৈনিক লে’কিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের বোনাস সংক্রান্ত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন দিয়ালো। যদিও বোনাসের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তা গত বিশ্বকাপের তুলনায় কম হবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ায় ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড় ৫ লাখ ইউরো করে বোনাস পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ লাখ ইউরো করে পুরস্কার দেয় এফএফএফ।

    লে’কিপ আরও জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের দলে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনেকেই তাঁদের প্রাপ্ত বোনাসের পুরোটা বা একটি অংশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে দান করে থাকেন।

    টিকিট বরাদ্দের বিষয়েও সমাধান এসেছে। শুরুতে ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছিল, প্রতিটি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে পরিবারের সদস্যদের জন্য দুটি করে বিনামূল্যের টিকিট পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে আরও ছয়টি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে। গ্রুপ পর্বে এসব টিকিটের মূল্য ৫০০ ইউরো থেকে শুরু হয়ে ফাইনালের ক্ষেত্রে ৭ হাজার ইউরোরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনের এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন খেলোয়াড়রা। পরে আলোচনার পর সভাপতি দিয়ালো প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য চারটি করে বিনামূল্যের টিকিট বরাদ্দে সম্মত হন। অতিরিক্ত টিকিট কেনার সুযোগও বহাল থাকছে। তবে এই সুবিধা ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় কিছুটা কম। আগামী ১৭ জুন নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক।

  • মরক্কো ম্যাচে থাকছেনা নেইমার!

    মরক্কো ম্যাচে থাকছেনা নেইমার!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী রোববার ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

    তবে মাঠের লড়াই গড়ানোর আগে সেলেসাও শিবিরে নেমে এসেছে চরম দুঃসংবাদ। প্রথম ম্যাচ তো বটেই, বিশ্বকাপের শুরুর দিকে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।


    ফরাসি জনপ্রিয় ফুটবল সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতো এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরো বেশি জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড এখনো দলের সঙ্গে স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।

    গত ১৭ মে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় এই চোট পান নেইমার। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের মেডিকেল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছিল, তার সেরে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।বর্তমানে বিশ্বকাপের দলটি নিউ জার্সিতে নিবিড় অনুশীলন করলেও নেইমার এখনো মূল দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। তাকে একা একা জিম এবং সাইক্লিং করে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই করতে হচ্ছে। ফুটমেরকাতোর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা এখন শূন্যের কোঠায়।


    দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অনেক আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার নেইমারকে বিশ্বকাপের দলে ডেকেছিলেন। নেইমার নিজেও তার এই চতুর্থ বিশ্বকাপকে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বেশ আবেগী বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তার এই ইনজুরি কোচের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।


    প্রথম ম্যাচে নেইমারকে না পাওয়া গেলেও ব্রাজিল ভক্তদের জন্য কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে দলের মেডিকেল টিম। একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ম্যাচ মিস করলেও গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোয় তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


    হেক্সা জয়ের মিশন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দলের সেরা তারকার এই অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, নেইমারকে ছাড়া কোচ কার্লো আনচেলত্তি মরক্কোর বিপক্ষে কেমন রণকৌশল সাজান।

    বি. এ

  • দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    পর্দা উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে মুখোমুখি হয় সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৯ জনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে মেক্সিকো।

    মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞ।

    ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান শিল্পী শাকিরা ও বার্না বয়। এছাড়া জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলাও অংশ নেন।

    এদিন টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি আসে মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেসের পা থেকে। এই ফরোয়ার্ড ৯ মিনিটে গোলটি করেছেন। এই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

    বিরতির পর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে আটকাতে গিয়ে ফাউল করার শাস্তি পেলেন সিথোলে।

    খেলার ৬৬ মিনিটে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। পরের মিনিটেই মেক্সিকোকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন রাউল হিমিনেজ।

    ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আরেকটি লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।

    ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পর মেক্সিকোর সেসার মন্তেস লাল কার্ড দেখেন। তবে জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের।

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ফেরার দুর্দান্ত গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে এশিয়ার দলটি।

    ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দর্শকদের সামনে রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয় দুই দল।

    ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। লম্বা থ্রো থেকে আসা বলকে দারুণ এক হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন লাডিস্লাভ ক্রেইচি। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।

    তবে বেশিক্ষণ সেই আনন্দ ধরে রাখতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। মাত্র আট মিনিট পর সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। অসাধারণ স্থিরতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে বল জালে পাঠান কোরিয়ার মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বিওম। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তার নেওয়া শট গোললাইন অতিক্রম করলে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া।

    ৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সউচেক বল জালে জড়ান এবং সতীর্থরা উদযাপনও শুরু করেন। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনঃপ্রদর্শনীতে দেখা যায় সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

    এই স্বস্তির সুযোগ কাজে লাগায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত আক্রমণ গড়ে তোলেন হোয়াং। তার নিখুঁত ক্রস থেকে হিউন-গিউ ওহ কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান। গোলরক্ষকের হাতে লেগেও বল দূরের কোণে ঢুকে পড়ে এবং ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।

    শেষ মুহূর্তে ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও সমতাসূচক গোল আদায় করতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।

    এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মেক্সিকোর সঙ্গে সমানতালে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দক্ষিণ কোরিয়া।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারের বিশ্বকাপ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পল দ্য অক্টোপাস।বিশ্বজুড়ে তখন তিনি ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।

    এরপর জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে শতভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের বিজয়ী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

    এই মডেল অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপে ট্রফি জিততে পারলে নেদারল্যান্ডস হবে ক্লেমেন্টের পরিসংখ্যানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর চতুর্থ সাফল্য।

    শুধু বিজয়ী দল নয়, ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের গতিপথও তার মডেল বর্ণনা করছে।

    এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের একটি চমকপ্রদ জয় এবং একই পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাবে এবং ২০০৬ সালের দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে।

    ক্লেমেন্ট, যিনি নিজেকে একজন নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার কাজের উদ্দেশ্য কখনোই হতাশা এড়ানো বা জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা ছিল না।

    বরং, তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে, ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করাটা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে।

    তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর, যখন তার নিজ দেশ জার্মানি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল, ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে হিসাবটি পুনরাবৃত্তি করলে প্রমাণিত হবে যে পুরোটাই ছিল নিছক কাকতালীয়।

    কিন্তু ২০১৮ সালে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তিনি আবারও সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন।

  • গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারে বিজয়ী নেদারল্যান্ডস!

    গত তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক চ্যাম্পিয়ন ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় আসা এক জার্মান অর্থনীতিবিদ এবারও তার নতুন পূর্বাভাস জানিয়েছেন। তার দাবি, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডস।

    তিন বিশ্বকাপে টানা সঠিক পূর্বাভাস

    প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট ২০১৪ সালে একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল তৈরি করেন, মূলত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী করার প্রবণতা নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    কিন্তু সেই মডেলই পরে বিস্ময়করভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়—

    ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুরুটা ছিল মজা করে, কিন্তু টানা তিনবার সঠিক হওয়া সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

    কীভাবে কাজ করে তার মডেল

    তার বিশ্লেষণ মডেলে কয়েকটি মূল ফ্যাক্টর ধরা হয়—

    জনসংখ্যা ও খেলোয়াড় তৈরির সম্ভাবনা

    ফুটবলের জনপ্রিয়তা

    গড় আবহাওয়া (প্রায় ১৪° সেলসিয়াস আদর্শ)

    মাথাপিছু জিডিপি

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম

    তার মতে, এগুলোই দলগুলোর পারফরম্যান্সকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে।

    কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস

    তার বিশ্লেষণে নেদারল্যান্ডস বেশ কয়েকটি কারণে এগিয়ে আছে—

    জনসংখ্যা: প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ

    ফুটবল: অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা

    গড় তাপমাত্রা: ১০.৫° সেলসিয়াস

    মাথাপিছু জিডিপি: প্রায় ৭৭ হাজার ডলার

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৭

    সাম্প্রতিক ফর্ম: ২০২৫ সালের মার্চ থেকে অপরাজিত

    এই ভিত্তিতেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হতে পারে পর্তুগাল।

    ভাগ্যই নির্ধারক

    ক্লেমেন্টের মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভাগ্যের ভূমিকা অনেক বড়। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।

    তিনি বলেন, শক্তির পার্থক্য খুব কম হলে সামান্য ভাগ্যই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

    বাজির বাজারে ভিন্ন চিত্র

    যদিও তার মডেলে নেদারল্যান্ডস শীর্ষে, বাজিকরদের তালিকায় তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। সম্ভাব্য ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রয়েছে—

    স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল।

    পলিমার্কেটের পূর্বাভাসেও নেদারল্যান্ডসের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশের মতো।

    নেদারল্যান্ডসের গ্রুপ সূচি

    গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস খেলবে জাপান, সুইডেন ও তিউনিশিয়ার বিপক্ষে।

    ম্যাচ সূচি—

    ১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান

    ২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন

    ২৫ জুন: তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ম্যাচের প্রথমার্ধে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শক্ত অবস্থায় থেকে শেষ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে লিড নেয় চেক। কিন্তু পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ায় এশিয়ার দেশটি। দুই গোল দিয়ে চেকিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল করে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে কোরিয়া।

    বি. এ

  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    রাইলি মেরেডিথের শর্ট বল পুল করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল যখন আকাশে, তখনই মিরপুর শেরেবাংলার ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে শামীম আশরাফ চৌধুরীর কণ্ঠে বোঝা গেছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বলটা পৌঁছাল সীমানার ওপারে। মিরাজের এই ছক্কায় লেখা হয়ে গেল ইতিহাস। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

    ছয়বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর আইসিসি ইভেন্টে নেই সফলতা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়া খেলছে ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডদের মতো তারকাদের ছাড়াই। আজ মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এখন শুধু বাংলাওয়াশ করার অপেক্ষা। ১৪ জুন শেরেবাংলায় তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাকি রইল ইংল্যান্ড। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—টেস্ট খেলুড়ে এই ১০ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

    বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। একাদশে এক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। সাইফ হাসানের পরিবর্তে ওপেনিং করেছেন সৌম্য সরকার। তবে তাঁর সঙ্গী তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তানজিদ তামিমকে কট এন্ড বোল্ড করেন জ্যাভিয়ের বার্টলেট।

    ০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য-শান্ত সাবলীলভাবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মোকাবেলা করেন। ভালো বলকে সমীহ করেছেন। বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন তাঁরা (সৌম্য-শান্ত)। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-শান্ত।

    সৌম্যকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ম্যাট রেনশ। তাতে সৌম্যর দায়ই বেশি। ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে রেনশকে রিভার্স সুইপ করতে যান সৌম্য। এজ হওয়া বল স্লিপে ক্যাচ ধরেন বার্টলেট। কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন শান্তও। এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন মেরেডিথ। সৌম্য, শান্ত দুজনেই করেন ৪৩ রান।

    দুই বাঁহাতি ব্যাটার সৌম্য, শান্তর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১৮.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান। এরপর মিডল অর্ডারে লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২১ রান করা লিটনকে ফিরিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। আর সৈকতের উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার করেন ১৫ রান।

    লিটন, সৈকতের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান। বাকি পথটুকু নিরাপদে পাড়ি দিয়েছেন মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন তাঁরা (মিরাজ-হৃদয়)। তুলির শেষ আঁচড় মিরাজ দিয়েছেন ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে।

    দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস। ২ ওভারে ৩ উইকেটে ০ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশ—এই তিন ব্যাটার মেরেছেন ডাক। ওপেনার শর্টকে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদের শুরু। কনোলি, রেনশকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস।

    ১০০ থেকে ১৫০-এর ভেতরে অস্ট্রেলিয়ার গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে আটকে যায় অজিরা। বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে বৃষ্টি নামার পর আড়াই ঘণ্টা খেলা হয়নি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মারনাস লাবুশেন। ৮৫ বলে ৩ চারে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অজি এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ, তাসকিন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। ৭ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোস্তাফিজ। দুই ওভার মেডেনও দিয়েছেন তিনি। তানভীর ইসলাম পেয়েছেন ২ উইকেট।

  • বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৭ পুনঃনির্ধারণ হওয়ায় অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ নারী দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করতে হয়েছে। ওই সময়সীমায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে নিউজিল্যান্ড, এরপর মার্চে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে আরও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলতে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে তারা।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যা শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, জুন–জুলাই থেকে সরিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত হবে। এই পরিবর্তনের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের নারী দলের ঘরোয়া সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে।

    বাংলাদেশ নারী দল আগে অক্টোবরের ৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ব্রিসবেন ও সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে একদিনের ম্যাচগুলো বহাল থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটি বাতিল করা হয়েছে।

    অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগে ফেব্রুয়ারি–মার্চে সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তারা অক্টোবরের ১৮, ২০ ও ২২ তারিখে সিডনিতে তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলবে—যে তারিখগুলো আগে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল। এরপর তারা মার্চের ৬, ৮ ও ১০ তারিখে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে।

    মার্চের ৮ তারিখের ম্যাচটি হবে জাংশন ওভালে আলোতে খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী ম্যাচ, যেখানে সম্প্রতি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনটি মেলবোর্নে সরকারি ছুটির দিন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবেও পালিত হবে। এই দুই ম্যাচ ১১ থেকে ১৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    একদিনের ম্যাচগুলোর আগের সূচি (১, ৫ ও ৭ মার্চ) পরিবর্তন করে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর দলগুলো পর্যাপ্ত সময় পায়। আগের পরিকল্পনায় ম্যাচগুলো অ্যাডিলেড ও মেলবোর্নে হওয়ার কথা ছিল।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগের প্রধান পিটার রোচ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সূচি পরিবর্তনের পর তারা নতুন পরিকল্পনা করেছে, যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম হবে। তিনি আরও জানান, নারীদের ক্রিকেট দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাংশন ওভালে আলোতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

    তিনি বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে নিউজিল্যান্ডকে দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফরে সম্মতি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    নারী বিগ ব্যাশ লিগ অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলার কারণে এবং ভারতীয় নারী প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি দখল করে রাখায় অস্ট্রেলিয়ার নারী দল এখন ঘরের মাঠে মূলত গ্রীষ্মের শুরু ও শেষ অংশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।

  • বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    ইরানের জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মেক্সিকো পৌঁছেছে। বর্তমানে ইরানি দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলনরত। ইরানের তিনটি ম্যাচের সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। বরং, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন ইরানি দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহর উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং একই দিনে আবার দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এতে দলটির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত পরিকল্পনা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

    তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র সেই দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরানকে ম্যাচের দিনই এসে আবার একই দিনে চলে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘এই বক্তব্যগুলো সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উদারতার কারণে ইরানের দল তাদের ম্যাচের আগের দিনই পৌঁছাতে পারবে।’

    অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ গত সোমবার তিজুয়ানায় রয়টার্সকে দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কিছু স্টাফের ভিসা দেওয়া হয়নি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো রাতভর অবস্থানে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, ‘তাদের ভিসায় নির্দিষ্ট করে কোনো সময় উল্লেখ নেই যে তাদের কখন বেরিয়ে যেতে হবে।’

    দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের সব খেলোয়াড়কে ভিসা প্রদান করে। প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিসা পাননি। এর মধ্যে আছেন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যরা।’ ইরানের মেক্সিকো দূতাবাস জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি।

    ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন আবার লস অ্যাঞ্জেলেসেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন সিয়াটলে, যেখানে প্রতিপক্ষ মিসর।

    প্রাথমিকভাবে ইরান দলের অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানাই। তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান তাদের ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।’

  • বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিটা দারুণ হলো আর্জেন্টিনা। হন্ডুরাসের পর এবার আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। প্রস্তুতি ম্যাচে শতভাগ জয় তুলে নেওয়ার পর বিশ্বকাপের মূল পর্বেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান লিওনেল মেসি। এ জন্য সতীর্থদের দল হিসেবে খেলার আহ্বান জানালেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। চোটজনিত ঝুঁকি এড়াতে সে ম্যাচে মাঠে নামেননি মেসি। তবে আজ ভোরে আইসল্যান্ড ম্যাচে ৬৯ তম মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই গোলের দেখা পান তিনি। আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতে নেয় ৩-০ গোলে। দলের জয়ে অবদান রাখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব দেখা গেল মেসিকে।

    ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৭ জুন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়টা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামার আগে দলের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন মেসি।

    ম্যাচ শেষে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে খেলার বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। সেই পোস্টের শেষেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রতি ঐক্যের বার্তা দেন তিনি। মেসি লিখেছেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’

    আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ১১৭ তম। একই সঙ্গে তিনি গড়েছেন নতুন এক রেকর্ডও। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা ফুটবলার হয়ে গেছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আঙ্গেল লাবরুনার দখলে। ‘এল ফেও’ নামে পরিচিত কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড ১৯৫৭ সালে রোকা কাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি।

  • গুছিয়ে উঠতে আরও দু-এক দিন সময় লাগবে আর্জেন্টিনার

    গুছিয়ে উঠতে আরও দু-এক দিন সময় লাগবে আর্জেন্টিনার

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে চলল বলে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে প্রস্তুতিও সেরেছে দারুণভাবে। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশার চাপ যে কেমন হয়, সেটা তো তারা বুঝতেই পারছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে যে ঝামেলায় তারা পড়েছে, তা ঠিক করতে এখনো দু-এক দিন সময় লাগবে।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনা দল ছোটখাটো এক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে আছেন গনসালো মন্তিয়েল, নাউয়েল মলিনা ও লেয়ান্দ্রো পারেদেস। যাঁদের মধ্যে মন্তিয়েল ও মলিনা দুজনই ভুগছেন পেশির সমস্যায়। আর লিওনার্দো বালের্দি বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। তাঁর বিকল্প এখনো ঠিক করা হয়নি।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন তাঁর কাছে বালের্দির বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমি কি বলেছিলাম আগামীকাল? আরও এক দিন সময় লাগতে পারে। যেমনটা গতকাল বলেছিলাম, আমাদের একটা ধারণা আছে। কিন্তু আলোচনা করেছি। তাতে হয়তো আরও এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে।’

    আগামীকাল মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বালের্দির বিকল্প কে হতে পারেন, তা নিয়ে আরও কয়েক দিন আলাপ-আলোচনা চলবে। বিস্তারিত কিছু না বলে স্কালোনি শুধুই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বালের্দির বিকল্প হিসেবে তাঁর (স্কালোনি) কাছে দুই ফুটবলার রয়েছেন। টিওয়াইসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিকল্পদের মধ্যে গুইদো রদ্রিগেস এগিয়ে আছেন।

    আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার গোল পেয়েছেন। ৮, ৭১ ও ৮৬ মিনিটে গোল করেছেন ভ্যালেন্তিন বারকো, লিওনেল মেসি ও থিয়াগো আলমাদা। যার মধ্যে মেসি ৭০ মিনিটে মাঠে নামার ২ মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। তবে নিকো পাজের খেলা স্কালোনির নজর কেড়েছে। শুরুর একাদশে থাকা পাজ খেলেছেন ৫৭ মিনিট। ৩-০ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘নিকোকে বেশ স্বচ্ছন্দে দেখেছি। আগেই দেখেছিলাম যে সে দলে ফিরে আসতে উদ্‌গ্রীব ছিল। আজ স্পষ্ট হয়েছে যে, সে খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং কোমোর হয়ে যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে খেলে, ঠিক সেভাবেই খেলেছে। আমরা খুব খুশি। কারণ, সে দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে। আজকের পরীক্ষাটা আমাকে সন্তুষ্ট করেছে এবং দলটির কী অভাব থাকতে পারে, সে সম্পর্কে সন্দেহ দূর হয়েছে।’

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। ২২ ও ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আকাশী-নীলরা।

  • বিশ্বকাপের কারণে স্কুল বন্ধ

    বিশ্বকাপের কারণে স্কুল বন্ধ

    সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল উত্তর আমেরিকার তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। দীর্ঘদিন পর আবার ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক মেক্সিকো।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি রাখতে চায় না মেক্সিকো। প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শিনবাউম নির্দেশ দিয়েছেন, সকল সরকারি কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্কুলে অনলাইন ক্লাস চালু হবে কি না তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।

    রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচল যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং নিরাপত্তা সুষ্ঠ থাকে তার জন্যই এই ব্যবস্থা। বিশ্বকাপের খেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের প্রচুর সমর্থক মেক্সিকোয় আসবেন। তাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটিতে থাকা প্রাদেশিক সংস্থাগুলির কর্মীদের আপাতত বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

    তবে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোর মতো আপৎকালীন বিভাগকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাবলিক এবং প্রাইভেট, প্রাক প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও সরকার অনুরোধ করেছে, যাতে কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করেন।

    বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশের ১২৪৮ ফুটবলার অংশ নেবেন। এবার বৃহত্তম বিশ্বকাপ হচ্ছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে মেক্সিকোয়।

  • গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বজ্রপাতে আলী হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছেন।

    নিহত আলী হোসেন পুরাতন মচমুড়া গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি ইউনুস আলীর ছেলে। সে বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় পুরাতন মটমুড়া গ্রামে একটি মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে গুরুতর আহত হয় আলী হোসেন। তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।

    এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    গত বছরের অক্টোবরে কানাডার টরন্টোতে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রিমিয়ার হয় ‘শেকড়’ সিনেমার। সে সময় নির্মাতা প্রসূন রহমান জানিয়েছিলেন, কোনো এক ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এই কোরবানির ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন প্রচার। দুটি গান ও ট্রেলার প্রকাশ করেও সরে আসেন প্রসূন রহমান।

    শিগগির শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে এ উন্মাদনা। এ সময়টিকেও সিনেমা মুক্তির জন্য ভালো সময় মনে করছেন না প্রসূন। তাই এই নির্মাতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেবেন তিনি। প্রসূন রহমান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল, এই ঈদে শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু একসঙ্গে অনেক সিনেমার সমারোহ দেখে নিজেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। সুস্থ প্রতিযোগিতায় আমার অস্বস্তি নেই, কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ে আমার অস্বস্তি হয়। পাশাপাশি মনে হয়েছে, শেকড়ের মতো পারিবারিক আবেগনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য একটু নিরিবিলি সময়ই বেশি উপযুক্ত। আমরা চাই, দর্শক তাড়াহুড়া বা কোলাহলের মধ্যে নয়, একটু স্থির হয়ে সিনেমাটি দেখবেন।’

    নির্মাতা প্রসূন আরও বলেন, ‘ঈদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর আবেদন শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে।‌ ঈদের আমেজ এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের এই দারুণ মৌসুমটি শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আমরা শেকড় নিয়ে আসব।’

    শেকড় সিনেমায় উঠে এসেছে মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও আবার সেই শেকড়ের সন্ধান, পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টার গল্প থাকছে এই সিনেমায়।

    শেকড় সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম ও আইশা খান। আরও আছেন দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা, শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়াসহ অনেকে।

  • পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্য দলটি মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। যাত্রা শুরুর আগে দলটি তাদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কোরআন শরীফে চুমু খেয়ে, তার নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে যাত্রা শুরু করে।

    মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কোরআনে চুম্বন দিচ্ছেন এবং কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ইরানি সংস্কৃতিতে এই রীতি দীর্ঘদিনের। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কোরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

    যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যার মূল কারণ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সমস্যার কারণে ইরানকে তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করতে হয়, যা ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এর আগে দলটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং সেখান থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে সরাসরি মেক্সিকোতে এসে পৌঁছায়।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিলেন। খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘উপযুক্ত’ বলে তিনি মনে করেন না।

    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরদিনই ইরানের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ইরানকে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাদ দেওয়ার বা ‘বর্জন করার ক্ষমতা কারো নেই’। সব বাধা পেরিয়ে ইরানি দল এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

  • বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ভক্তদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্পেন যদি বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে তিন সপ্তাহ দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না। পাশাপাশি উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে ১০০টি বিটস হেডফোন উপহার দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

    নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। বার্সেলোনার এই উইঙ্গারের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ।

    বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ২০২৪ ইউরো জয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন। ইয়ামালের মতে, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে চাপ ও স্নায়ুচাপ অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে তিনি শিখেছেন, শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয় এবং নিজের খেলায় মনোযোগ রাখতে হয়, কারণ একটি বড় আসর দীর্ঘ সময়ের লড়াই।

    ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। তিনি স্বীকার করেন, একসময় মনে হয়েছিল পুরস্কারটি তার হাতেও উঠতে পারে। কিন্তু পরে উপলব্ধি করেন, তখনো তিনি যথেষ্ট পরিণত ছিলেন না এবং পুরস্কারটির গুরুত্ব পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারতেন না। তাই উসমান দেম্বেলের জয়কে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন।

    দেম্বেলের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইয়ামাল বলেন, ফরাসি এই তারকা তাকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন এবং কঠিন সময়গুলোতে মানসিক সমর্থন জুগিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত ও পেশাদার উন্নতিতে দেম্বেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

    বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সোমবার পেরুর মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের। এরপর মূল আসরে গ্রুপ এইচে উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে দলটি।

  • এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে জিতে সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল।

    আজ রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হন তামিম। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

    সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা।

    বিসিবি পরিচালক হলেন যারা

    ক্যাটাগরি-১

    ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ

    চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরী

    খুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম

    রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন

    সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান

    ক্যাটাগরি – ২

    তামিম ইকবাল, মাসদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ

    ক্যাটাগরি – ৩

    সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এ আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফলে কোনো ধরনের কেব্‌ল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। বিটিভির কাছে তা বিক্রি করেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি।

  • সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

    সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

    চলমান যুদ্ধ ও চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলার মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

    হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ জানিয়েছিলেন, স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা তখনও মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতেই এই ভিসা মঞ্জুর করা হয়।

    তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই খবর নিশ্চিত করে আঙ্কারার মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

    তবে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হলেও দলটির কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মীদের কিছু সদস্যের ভিসা এখনও মার্কিন প্রশাসন ইস্যু করেনি। এই বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এইবারের ফুটবল বিশ্বকাপকে একটি ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত করেছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যথাসম্ভব সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে তেহরান শেষ মুহূর্তে তাদের ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তরিত করেছে।

    রোববার (৭ জুন) ভোরে দলটির টিজুয়ানাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু করবে। একই গ্রুপে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং মিশর।

    মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ জানান, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা ইরানি দলকে তাদের মাটিতে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেবে না ওয়াশিংটন। এই কড়াকড়ির কারণে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাননি।

    যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে শান্তির বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ মন্তব্য করেছেন, শত্রুর মাটিতে গিয়েও বিশ্বকাপে ইরানের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা শান্তি চায়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে

    বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে

    সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ জুন তথা বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফার এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দল।

    বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে অসলোর সমুদ্রসৈকতে অফিসিয়াল ফটোশুটে অংশ নিয়ে বিপাকে নরওয়ে ফুটবল টিম।

    নরওয়ে টিম আসলে পশুর চামড়া দিয়ে তৈরিয়ে ‘ভাইকিং’ পোশাকে ফটোশুটে অংশ নেয়। যে কারণে দেশবাসীর রোষানলে পড়ে। সেই পোশাক যে নরওয়ের মানুষকেই দুইভাগে বিভক্ত করে দেবে, কে জানত!

    এমন পোশাকে ফটোশুট করায় দেশটির এক সংবাদপত্রে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘ভাইকিং’ পোশাক পরে ফোটোশুট করা উগ্র দেশাত্মবোধের পরিচয়। নরওয়ে টিমের এমন আচরণকে ‘নিও নার্থস’ গোত্রীয় বলেও অভিহিত করা হয়েছে।

    শুধু নরওয়ের সংবাদপত্রই নয়। জেন হং স্কোলদিনামক সে দেশের এক রিসার্চার হালান্ডদের কৃতকর্মকে ‘উগ্র পুরুষত্ব প্রদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলে দিয়েছেন, “এটা আসলে ডানপন্থী মানসিকতার উদাহরণ।”

    ফোটোশুটকে ঘিরে উত্তেজনা এতই বেড়েছে যে, নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেনকে পর্যন্ত সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তিনি বলেন, “ফোটোশুট নিয়ে কথা বলে আমি আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।”

    ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে নরওয়েকে। মাঝের ছয় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলেও এবার সেই খরা কাটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের মহারণে নামছে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের দল।

  • পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে হোসে মরিনিওকে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেইন স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন পেরেজ।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিওর বহুল আলোচিত প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত হলো। বেনফিকায় দায়িত্ব পালনের পর এবার রিয়াল মাদ্রিদে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

    ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ‘আরও ইতিহাস তৈরির পথে’ স্লোগানসংবলিত ভিডিওতে রিয়ালের জার্সি পরিহিত মরিনিওকে দেখা যায়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘হ্যাঁ’।

    রিয়াল মাদ্রিদে মরিনিওর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সেই সময়ে তার অধীনে দলটি একটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতে। এছাড়া তার নেতৃত্বেই রিয়াল মাদ্রিদ লিগে ঐতিহাসিক ১০০ পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়ে।

    তবে প্রথম মেয়াদে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি মরিনিও। ফলে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিলে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ট্রফিটি জয় করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    এদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়ে মরিনিওকে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেটি হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দুই মৌসুমের শিরোপা খরা দূর করে দলকে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা।

  • বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বিটিভি সরাসরি খেলা সম্প্রচার করবে। ফলে বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটেছে।

    আজ বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

    জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাবলিক মানি (জনগণের টাকা) খরচ না করে পাবলিককে খেলা দেখানোর জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।’

    ১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বাংলাদেশে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করার কথা ছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ বিটিভির কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছিল। করসহ তা দাঁড়াত ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছিতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি হয়নি।

    এদিকে বিক্রি করতে না পারায় স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান।

    এরপর বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিনা মূল্যে সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিটিভির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, আশা করা যায়, দর্শকেরা খেলা দেখতে পারবেন। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিটিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব নেবে। বেসরকারি পর্যায়ে যারা খেলা দেখাবে, তারা বিটিভি থেকে স্বত্ব নেবে। দুই–এক দিনের মধ্যে হয়তো আলোচনা চূড়ান্ত হবে।

    এদিকে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফিও। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম আলোকে জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংক ও টফি। বাংলালিংকসহ সব ফুটবলপ্রেমীরা টফিতে খেলা দেখতে পারবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতার কারণে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি নিশ্চিত করেছে।

    আর ভারতের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা।

    বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’–এর (যারা সম্প্রচারস্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি।

    তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তারা।

  • আইপিএলের এক মৌসুমেই যত রেকর্ড ভাঙ্গলেন সূর্যবংশী

    আইপিএলের এক মৌসুমেই যত রেকর্ড ভাঙ্গলেন সূর্যবংশী

    বৈভব সূর্যবংশী ২০২৬ সালের সদ্য শেষ হওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মৌসুমে এমন এক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, যা ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মৌসুম খেলেই তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে নজর কেড়েছেন।

    রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান সংগ্রহ করে তিনি জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৮.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭.৩১। পুরো আসরে তিনি ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন।

    অরেঞ্জ ক্যাপের পাশাপাশি তিনি এমভিপি, সুপার স্ট্রাইকার, ইমার্জিং প্লেয়ার এবং সর্বোচ্চ ছক্কার পুরস্কারও নিজের করে নেন। ২০২৫ সালে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির পর ২০২৬ মৌসুম শেষে তার আইপিএল ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ২৩ ম্যাচে ১,০২৮ রান। সেখানে তার গড় ৪৪.৬৯ এবং স্ট্রাইক রেট ২২৮.৯৫। এছাড়া রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি অর্ধশতক।

    এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই আইপিএলের কিংবদন্তি ব্যাটারদের সঙ্গে তার তুলনা শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যানের বিচারে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি এগিয়ে আছেন। ক্রিস গেইল প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল পর্যায়ে ২৮ ম্যাচে ১,০৭১ রান করেছিলেন। যদিও মোট রানে গেইল সামান্য এগিয়ে, বৈভব পাঁচ ম্যাচ কম খেলে প্রায় সমান রান করেছেন এবং তার স্ট্রাইক রেট গেইলের তুলনায় অনেক বেশি।

    অন্যদিকে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নার, সুরেশ রায়না, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার প্রথম দিকের আইপিএল পরিসংখ্যানও বৈভবের বর্তমান অর্জনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এমনকি বিরাট কোহলির শুরুর পরিসংখ্যানও ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক সাধারণ।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৈভবের সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু রান সংগ্রহ নয়; তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন। পাওয়ারপ্লে থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি বারবার দলকে শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছেন।

    তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাকে এখনই আইপিএলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় রাখা ঠিক হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করা এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো সামনে রয়েছে।

    তারপরও একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মৌসুমের বিচারে বৈভব সূর্যবংশীর মতো এত দ্রুত, ধারাবাহিক এবং বিস্ফোরক সূচনা আইপিএলের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি।

  • বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে পরাজিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। দলের হয়ে ছয়টি গোলই করেছেন ছয় ভিন্ন খেলোয়াড়- ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো।

    ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়ুসের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে ১৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সমতায় ফেরে পানামা।

    প্রথমার্ধে চার রক্ষণভাগ, দুই মধ্যমাঠ ও চার আক্রমণভাগের বিন্যাসে দলকে খেলান আনচেলত্তি। তবে এ সময়ে মধ্যমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারাইসকে বেশ চাপে পড়তে হয়। আক্রমণে প্রত্যাশিত ধারও দেখা যায়নি।

    দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় নতুন গতি দেখা যায়। এ সময় রায়ান, পাকেতা, থিয়াগো ও দানিলো গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। পানামার হয়ে কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধান কমাতেই সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    তবে বড় জয়ের পরও দলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তার মনে কিছু ইতিবাচক সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে তার মতে, দলের ভেতরে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লড়াই থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোন কৌশল বা বিন্যাসে খেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি হাস্যরসের সুরে বলেন, তিনি বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছু রহস্য বজায় রাখতে চান। এতে সমর্থক ও গণমাধ্যমের আগ্রহও বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে উপস্থিত ছিলেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়। শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় তিনি প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অংশ নিচ্ছেন না।

    ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের স্বল্প সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে পুরো দল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন সাম্প্রতিক মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নেওয়া মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

    বিশ্বকাপের আগে এই বড় জয় ব্রাজিল শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও দলকে আরও পরিপূর্ণ করতে কিছু জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন কোচ আনচেলত্তি।

  • বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে গোল পেল না কেউই

    বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে গোল পেল না কেউই

    প্রথম মিনিটেই গল্পটা লিখে ফেলা যেত, কিংবা শেষ বাঁশির আগে গ্যালারিতে ছড়াতে পারত বিষাদ। মালদ্বীপে চার জাতির ডায়মন্ড জুবিলি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের ম্যাচটি ইতি টেনেছে নির্বিষভাবে। ফরোয়ার্ডদের সুযোগ নষ্টের মহড়া আর গোলপোস্টের নিচে মেহেদী হাসান শ্রাবণের বীরত্বের দিনে শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে দুই দল।

    মালে স্টেডিয়ামে ম্যাচের বয়স যখন মাত্র এক মিনিট, তখনই গোল উৎসবে মাততে পারত বাংলাদেশ। নাজমুল ফয়সালের বাড়ানো ক্রসে ছোট বক্সের ভেতর সৌরভ দেওয়ানের আলতো টোকা পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। শুরুর ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা বারবার হতাশ করেছে। ২৮ মিনিটে ম্যাচের সহজতম সুযোগটি হাতছাড়া করেন মুরশেদ আলী। রাহুলের পাসের পর সামনে কেবল প্রতিপক্ষ কিপার থাকলেও মুরশেদ শট নেন সরাসরি তাঁর শরীর বরাবর। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে রাব্বিকে ফাউল করা হলেও রেফারির সাড়া না মেলায় পেনাল্টি-বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

    ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকটি মঞ্চস্থ হয় ৬১ মিনিটে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমানকে পুশ করায় পাকিস্তানি ডিফেন্ডার সৈয়দ আব্দুল্লাহ শাহকে রেফারি প্রথমে লাল কার্ড দেখালেও পরে সিদ্ধান্ত বদলে হলুদ কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত না হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তিতে এরপর একের পর এক আক্রমণ শোনায় পাকিস্তান। ৬৬ মিনিটে আলী হায়দার শাহের দুর্দান্ত সাইড ভলি বাজপাখির মতো লাফিয়ে উঠে কর্নারের বিনিময়ে ফিস্ট করেন শ্রাবণ। শেষ মিনিটেও ফাহিম হামিদের গতিময় বুলেট শট আটকে বাংলাদেশের জাল অক্ষত রাখেন তিনি। আক্রমণভাগের ব্যর্থতার দিনে শ্রাবণের দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত একটি পয়েন্ট এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

  • আয়োজক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    আয়োজক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে মেক্সিকো। স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক হলেন গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার কীর্তি গড়েদুই মহাতারকা মেসি-রোনাল্ডোর পাশে নিজের নাম লিখালেন। মেসি ও রোনালদো এবারের আসর নিয়ে ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়বেন।

    গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পান ওচোয়া। এরপর বিশ্বকাপ মঞ্চে তার একাধিক স্মরণীয় পারফরম্যান্স মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে নিয়মিত না খেললেও অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের কারণেই আগিররের পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছেন তিনি।

    বিশ্বকাপে মেক্সিকোর নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক এডসন আলভারেজ। গেল মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ধারে ফেনারবাহচেতে খেলেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। , কোচ জাভিয়ের আগুইরে ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ।

    দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন তরুণকেও। দলে সুযোগ পেয়েছে ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। এতে তিনি হতে চলেছেন দেশটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। অন্যদিকে দলে জায়গা করে নিয়েছে আরেক উদীয়মান প্রতিভা ২৩ বছর বয়সী আরমান্দো গঞ্জালেজ।

    মেক্সিকোর হয়ে ষষ্ঠবারের মতেো বিশ্বকাপের আসরে খেলবেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া

    মেক্সিকোর কোচ হিসেবে আগুইরের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ হবে। এর আগে তিনি ২০০২ এবং ২০১০ সালের আসরেও দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ঘরের মাঠে মেক্সিকো সর্বশেষ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ১৯৮৬ সালে, যেখানে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এবারও সেই সাফল্য ছুঁয়ে দেখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দলটি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মেক্সিকো। এরপর ১১ জুন ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা-তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা।

    মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড

    গোলরক্ষক : রাউল রাঙ্গেল (গুয়াদালাহারা), গিয়েরমো ওচোয়া (এএল লিমাসোল), কার্লোস অ্যাসেভেডো (সান্তোস লাগুনা)।

    ডিফেন্ডার : হোর্হে সানচেজ (পিএওকে), ইজরায়েল রেয়েস (ক্লাব আমেরিকা), সিজার মন্টেস (লোকোমোটিভ মস্কো), জোহান ভাসকেজ (জেনোয়া), জেসুস গ্যালার্দো (টোলুকা), মাতেও শ্যাভেজ (এজেড)।

    মিডফিল্ডার : এরিক লিরা (ক্রুজ আজুল), অরবেলিন পিনেদা (এইকে অ্যাথেন্স), আলভারো ফিডালগো (রিয়াল বেটিস), রবার্তো আলভারাদো, ব্রায়ান গুতেরেস, লুইস রোমো (গুয়াদালাজারা), এডসন আলভারেজ (ওয়েস্ট হ্যাম), ওবেদ ভার্গাস (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), গিলবার্তো মোরানা (তিউনি) লুইজোয়ানা (তবে)।

    ফরোয়ার্ড : সেজার হুয়ের্তা (আন্ডারলেখ্ট), অ্যালেক্সিস ভেগা (টোলুকা), জুলিয়ান কুইনোনেস (আল-কাদসিয়া), গুইলারমো মার্টিনেজ (ইউএনএএম), আরমান্দো গঞ্জালেজ (গুয়াদালাজারা), সান্তিয়াগো গিমেনেজ (এসি মিলান), রাউল জিমেনেজ (ফুলহাম)।

  • ব্যক্তিগত বিমানে করে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

    ব্যক্তিগত বিমানে করে আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

    আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি নতুন স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেদের চতুর্থ ট্রফি জয়ের মিশন শুরু করে দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মায়ামি থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে সতীর্থ রদ্রিগো দি পলকে সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে যোগ দেন তিনি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ রাঙাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

    মেসি ও দি পল শেষ দিকে যোগ দিলেও আর্জেন্টিনা দলের মূল বহরটি বুয়েনস আইরেস থেকে রওনা হয়ে রোববার দুপুরেই কানসাসে এসে পৌঁছায়। যে চার্টার্ড ফ্লাইটে চড়ে হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেস, নিকোলাস ওতামেন্দিরা এসেছেন, সেটির নম্বর ছিল ‘এআর১৯৭৮’। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেওয়া এই নম্বরটি যেন দলের লক্ষ্যকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। স্কোয়াডের ১৮ জন ফুটবলারের পাশাপাশি অনুশীলনে সহায়তার জন্য বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কেও সঙ্গে থে এনেছেন কোচ লিওনেল স্কালনি।

    এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে খেলা লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে এমিলিয়ানোর মার্তিনেসের হাতে সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ থাকা সত্ত্বেও তাঁর খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানা গেছে। দলের সঙ্গে এখনো যোগ দিতে পারেননি এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল দেখতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে থাকায় পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।

    কানসাস সিটির নবনির্মিত ‘অরিজিন হোটেল’-এ অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা দল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটিই হবে তাদের ঘাঁটি। হোটেল থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ‘স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার’-এ সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে কড়া অনুশীলন। তবে বছরের এই সময়ে কানসাসের আবহাওয়া বেশ পরিবর্তনশীল। তীব্র গরম, আর্দ্রতা আর ঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা।

    মেসি সম্প্রতি ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে কিছুটা চোট পেয়েছিলেন। তবে ক্রীড়া দৈনিক ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠবেন এই জাদুকর। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল। ৭ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে এবং ১০ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।

    ১১ জুন পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। আর ১৭ জুনকানসাস সিটিতেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

  • আবারও ব্যালন ডি’অর জিতছেন লিও মেসি!

    আবারও ব্যালন ডি’অর জিতছেন লিও মেসি!

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যুগ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর দৌড় অনেকটাই খোলামেলা। অনেক খেলোয়াড়ই মনে করছেন সোনার বলটা তাদের হাতে আসতে পারে। তবে গোল ডট কমের ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং বলছে ভিন্ন কথা। জানাচ্ছে, নবম ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা একেবারেও শেষ হয়ে যায়নি মেসির!

    যদিও এই মুহূর্তে সবার উপরে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। এই মৌসুমে তিনি ৬৫ গোল করেছেন। জিতেছেন বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল ও ডিএফএল সুপার কাপ। ট্রফি না জেতার যে পুরোনো অপবাদ তাকে দেওয়া হতো, সেটা এখন অতীত। কেইন এখন পুরোপুরি প্রমাণ করতে চাইছেন যে তিনি ব্যক্তিগত পুরস্কারেরও যোগ্য।

    দ্বিতীয় স্থানে আছেন পিএসজির ওসমান দেম্বেলে। গত বছর ব্যালন ডি’অর জেতার পর এই মৌসুমে চোটের কারণে শুরুটা ভালো হয়নি তার। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর থেকেই দারুণ ফর্মে ফিরেছেন। লিভারপুল ও বায়ার্নের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়েছেন, ফাইনালেও গোল করেছেন। পিএসজি টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবেন তিনি।

    তৃতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। এই মৌসুমে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্লেষকদের চোখে মৌসুমের শুরুতে তিনিই ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন। তবে চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। নকআউট পর্বে ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে, আর সেখানে ভালো খেললে পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন।

    চতুর্থ স্থানে পিএসজির ভিতিনিয়া। ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর পোডিয়ামে জায়গা পেয়েছিলেন, এবার আরও উপরে উঠতে পারেন।

    পঞ্চম স্থানে বায়ার্নের মাইকেল ওলিসে। ২৩ গোল ও ৩৩ অ্যাসিস্ট করে রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    আর্সেনালের ডেক্লান রাইসের অবস্থান এখন নবম। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বুদাপেস্টে পিএসজির কাছে সেই ফাইনালে হারের পর তার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

    কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন ষষ্ঠ স্থানে। ৪৮ গোল করেও ট্রফি পাননি। তবে বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার রেকর্ড আছে তার, তাই শেষ পর্যন্ত রেসে থাকবেন।

    এই তালিকায় চমক হিসেবে আছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। ৩৬ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করে এমএলএস কাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাথে যদি ভালো করেন, তাহলে আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ফিরে আসাটাও অসম্ভব নয়।

    এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসও ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

  • কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১০টায় আলবিসেলেস্তেদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি কানসাস সিটিতে অবতরণ করে। দলের অধিকাংশ ফুটবলারই এই বহরে উপস্থিত রয়েছেন।

    বিশ্বকাপের আগে কানসাস সিটিকে নিজেদের প্রধান ‘বেস ক্যাম্প’ হিসেবে বেছে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এখানেই আগামী ১৭ জুন সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন স্কালোনির শিষ্যরা। বিশ্বজয়ী এই তারকারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা।

    কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান আর্জেন্টিনার নিকো পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে ল্যাগেজ হাতে হেঁটে যাচ্ছেন জিওভানি লো সেলসো। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে অবতরণ করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বহনকারী বিশেষ বিমান। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে নিকোলাস পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    সতীর্থদের সঙ্গে কানসাস সিটি বিমানবন্দরে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ছবি- এএফপি

    লিওনার্দো বালের্দি ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি- এএফপি

    ছবি- এএফপি

    থিয়াগো আলমাদা ও এজেকুয়েল প্যালাসিওস। ছবি- এএফপি

  • আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আলোকস্বল্পতা থাকলে দিনের আলোতেও এখন টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য দুই দলেরই সম্মতি থাকতে হবে। প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশে আজ ভারতের আহমেদাবাদে হওয়া বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

    টেস্ট ক্রিকেটে যেন আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট না হয়, এ জন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জাপ্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব একসঙ্গে অর্থায়ন করবে।

    আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রধান কোচ পানি পানের বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দুই ইনিংসের বিরতি ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ—এসব কার্যকর করা হবে।

    নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দল ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল ও স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেললে র‌্যাঙ্কংয়ে পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

    বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে ও জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।

    তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।

    আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্ব কীভাবে হবে, সেটিও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে কীভাবে আরও সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের বোর্ড সভায়।

  • জাপানে জয় পেল নারী হকি দল

    জাপানে জয় পেল নারী হকি দল

    অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ নারী দল।

    আজ সোমবার জাপানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চায়নিজ তাইপেকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে ১২ গোলে হারে লাল সবুজের দল।

    আজ ম্যাচের ২৯তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে কনা আক্তার বাংলাদেশকে লিড এনে দেন। কনার গোলে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ বিরতিতে ড্রেসিংরুমে ফেরে। চাইনিজ তাইপে গোল পরিশোধের একের পর এক চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

    শেষ কোয়ার্টারের দশ মিনিটে বাংলাদেশ আরও এক গোল করে। বাংলাদেশের আক্রমণ থেকে রিয়ার গোলে জয় সুনিশ্চিত হয়। ম্যাচসেরা হয়েছেন তন্নী।

    আগামীকাল চীনের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    গতকাল ছেলেরা চীনের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হেরে যায়। তবে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে পরাজিত করে বালকরা।

  • মার্তিনেজের হাতে ব্যান্ডেজ, আর্জেন্টিনা দলে নতুন শঙ্কা

    মার্তিনেজের হাতে ব্যান্ডেজ, আর্জেন্টিনা দলে নতুন শঙ্কা

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়ে সমর্থকদের মনে একটু উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কানসাসে যাওয়ার পথে বিমানে তোলা একটি ছবি সেই উদ্বেগ নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    ছবিটি শেয়ার করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্তিনেজ এক হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসিমুখে বসে আছেন। আঙুলে ফ্র্যাকচার হওয়ার ১১ দিন পর এই ছবি তোলা হয়।

    এর আগে ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে বাঁ হাতের একটি আঙুল ভেঙেছিল মার্তিনেজর। তারপরও সেই ফাইনাল খেলেন এবং অ্যাস্টন ভিলার হয়ে শিরোপা জেতেন। চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ক্লাব ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মিলে একটি পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনায় আছে হাত স্থির রাখা, বিশেষ ব্যায়াম এবং বিশ্বকাপের আগে বাড়তি ঝুঁকি না নেওয়া।

    বেশিরভাগ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। মার্তিনেজ ও লিসান্দ্রো পরে রওনা দেন এবং কানসাসে দলের সাথে যোগ দেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্তিনেজ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটো খেলবেন না। এটা তার সুস্থতার সময়সূচির অংশ। লক্ষ্য একটাই, ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে নামা। কোচ লিওনেল স্কালোনির স্টাফরা তার সুস্থতার প্রতিটি ধাপ নজরে রাখছেন।

    বিশ্বকাপের শুরুতে তার খেলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানা গেছে। আর বিমানে মার্তিনেজর সেই হাসিমুখের ছবিটাই যেন বলছে, সামনে যা আসবে, তার জন্য তিনি প্রস্তুত।

  • ফ্রান্স কিংবদন্তি জিদানের ছেলে বিশ্বকাপে খেলবেন আলজেরিয়া দলের হয়ে

    ফ্রান্স কিংবদন্তি জিদানের ছেলে বিশ্বকাপে খেলবেন আলজেরিয়া দলের হয়ে

    ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান এবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আলজেরিয়া তাকে তাদের বিশ্বকাপ দলে ডেকেছে।

    ২৮ বছর বয়সী লুকা আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসে আলজেরিয়ার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু এপ্রিলে স্পেনের ক্লাব গ্রানাদার হয়ে খেলার সময় চোয়াল ও থুতনি ভেঙে যায় তার। সেই চোট সারিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন।

    লুকা ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যন্ত খেলেছেন। পরে আলজেরিয়াকে বেছে নেন, কারণ তার দাদা-দাদি সেখানকার মানুষ।

    তার বাবা জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতান। ২০০৬ সালের ফাইনালেও গোল করেন, তবে সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন।

    আলজেরিয়ার এই দলে আরও ফিরেছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ও লেস্টার ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ। ৩৫ বছর বয়সী মাহরেজ এখন সৌদি আরবের আল-আহলিতে খেলছেন।

    সাবেক টটেনহাম মিডফিল্ডার নাবিল বেনতালেব সাত মাস পর দলে ফিরেছেন। হুসেম আউয়ার ও আমিন গুইরিও ফিরেছেন। দুজনই চোটের কারণে এই বছরের শুরুতে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস খেলতে পারেননি।

    ৩১ বছর বয়সী বেনতালেব গত তিন মৌসুম ধরে ফ্রান্সের লিলে খেলছেন। তিনি ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আলজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, যেটাই আলজেরিয়ার সর্বশেষ বিশ্বকাপ ছিল।

    আলজেরিয়া গ্রুপ জে-তে খেলবে। তাদের সামনে থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

    আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
    গোলরক্ষক: উসামা বেনবোট, মেলভিন মাসতিল, লুকা জিদান।
    ডিফেন্ডার: আশরাফ আবাদা, রায়ান আইত-নুরি, জিনেদিন বেলাইদ, রাফিক বেলঘালি, রামি বেনসেবাইনি, সামির শেরগুই, জাউয়েন হাজাম, আইসা মান্দি, মোহাম্মদ আমিন তুগাই।
    মিডফিল্ডার: হুসেম আউয়ার, নাবিল বেনতালেব, হিশাম বুদাউই, ফারেস চাইবি, ইব্রাহিম মাজা, ইয়াসিন তিত্রাউই, রামিজ জেরৌকি।
    ফরোয়ার্ড: মোহাম্মদ আমিন আমুরা, নাদির বেনবুয়ালি, আদিল বুলবিনা, ফারেস ঘেজেমিস, আমিন গুইরি, রিয়াদ মাহরেজ, আনিস হাজ মুসা।

  • বিশ্বকাপের আগে চোটাক্রান্ত আর্জেন্টিনার তারকা

    বিশ্বকাপের আগে চোটাক্রান্ত আর্জেন্টিনার তারকা

    বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির সময় চোট পেয়েছেন আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

    যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে পারেদেসের চোটের খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই দুই ম্যাচে পারেদেসের খেলার সম্ভাবনা নেই।

    ম্যাচ শেষে বোকা জুনিয়র্স অধিনায়ক বলেন, ‘পুরো সপ্তাহজুড়েই আমি হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই এই ম্যাচটি মিস করতে চাইনি। মাঠ ছেড়ে আসার প্রশ্নই ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কোচ আমাকে সত্যিটা বলতে বলেছিলেন এবং নিজের যত্ন নিতে বলেছেন। কারণ সামনে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ রয়েছে। তারপরও এই ম্যাচে না খেলে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।’

    বিশ্বকাপের আগে পারেদেসের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি কবে মাঠে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি আর্জেন্টিনা দল বা বোকা জুনিয়র্স।

  • টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

    টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

    পিএসজি ১–১ আর্সেনাল (টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে জয়ী পিএসজি)

    চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও যে ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে হতে পারে, সেটি এত দিনে হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন অনেকে। সেই ২০১৬ সালে মিলানে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদের ফাইনাল অতিরিক্ত আধা ঘণ্টা পেরিয়ে টাইব্রেকারে গিয়ে শেষ হয়েছিল।

    এক দশক পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আজ আবারও দেখল ৯০ মিনিট পার হতে, দেখল টাইব্রেকারও। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।

    টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।

    শিরোপা ধরে রাখতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে পিএসজিকে। ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।

    কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল

    পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।

    প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আর্সেনালের লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।

    পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে

    এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।

    আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।

  • হাজারতম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

    হাজারতম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ মাইলফলকের। এক হাজারতম ওয়ানডে বলে কথা! এই মাইলফলকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।

    ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২০১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাবর আজম ও গাজি ঘুরির ফিফটিতে ৪২.৩ ওভারে এই রান তাড়া করেছে পাকিস্তান।

    যদিও এ দুজন নয়, হাজারতম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মূল নায়ক অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস। রাওয়ালপিন্ডিতে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে যা প্রথম। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে তিনি আউট করেছেন জশ ইংলিশ, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসকে।

    ৫ উইকেট নিয়েছেন মিনহাস

    রান তাড়ায় ৪৯ রানে ২ উইকেট হারালেও বাবর ও ঘুরি তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৭ রান তুললে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। বাবর আউট হয়েছেন ৬৯ রানে, ঘুরি ৬৫ রানে। দুজনকেই আউট করেছেন এলিস। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২ জুন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.১ ওভারে ২০০ (রেনশ ৬১, শর্ট ৫৫; মিনহাস ৫/৩২)। পাকিস্তান: ৪২.৩ ওভারে ২০২/৫ (বাবর ৬৯, ঘুরি; এলিস ২/৪৫)। ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আরাফাত মিনহাস

  • ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর আয়োজন

    ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর আয়োজন

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এবার গড়তে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস। দীর্ঘদিনের প্যারিসের ঐতিহ্য ভেঙে প্রথমবারের মতো এই জমকালো আয়োজন বসবে লন্ডনে।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের হাত ধরে যাত্রা শুরু হওয়া এই পুরস্কারের প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউজ।

    উয়েফা জানিয়েছে, প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজের প্রতি সম্মান জানাতেই এবারের বিশেষ আয়োজনের জন্য লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানটি লন্ডনের ঠিক কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    ফুটবল বিশ্বে ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত ব্যালন ডি’অর গত দেড় দশক ধরে ছিল দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন, আর রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর।

    সবশেষ আসরে পুরুষদের বিভাগে বিজয়ী হন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে এবং নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা নির্বাচিত হন স্পেনের আইতানা বনমাতি।

    দীর্ঘদিনের প্যারিস অধ্যায়ের বাইরে গিয়ে লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের এবারের আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মিশেলে ৭০তম আসরকে ঘিরে এখন থেকেই বাড়ছে বিশ্বজুড়ে আলোচনা।

  • বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ফুটবলার মুসলিম ইয়ামাল?

    বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ফুটবলার মুসলিম ইয়ামাল?

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ দিন পর মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। আসন্ন এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে দামি ফুটবলার কে, তার পারিশ্রমিক কত?

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে—বিশ্ব ফুটবলের নতুন তারকারা বয়সে যত তরুণ হচ্ছেন, দামের দিক দিয়ে ততটাই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে।

    এর সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ উদাহরণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ২০ বছর না পেরোতেই এই বার্সেলোনা উইঙ্গারের বাজারমূল্য এখন ৪০১ মিলিয়ন (৪০ কোটি ১০ লাখ) ডলারেরও বেশি! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি এখন সবার ওপরে। সমবয়সী অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে তার দাম প্রায় তিন গুণ।

    ইয়ামালের ঠিক পরেই আছেন নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’ আরলিং হালান্ড। তবে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স ২৭ পেরিয়ে গেলেও এই তালিকার শীর্ষ তিনে ঠিকই নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

    আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া শীর্ষ ১০ দামি ফুটবলারের তালিকাটি দেখলে ইউরোপের বড় পরাশক্তিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যই চোখে পড়বে। এই তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের তিনজন, বার্সেলোনার দুজন এবং ফরাসি ক্লাব পিএসজির দুজনের জায়গা হয়েছে।

    তবে তালিকায় ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের নাম নেই! অথচ পিএসজির হয়ে সম্প্রতি সব শিরোপাই জিতেছেন তিনি, এমনকি ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরও উঠেছে তার হাতে।

    ব্যক্তিগত এত বড় অর্জনের পরও দেম্বেলের না থাকার কারণটা বেশ পরিষ্কার। বর্তমান ফুটবল বাজার খেলোয়াড়দের অতীত বা বর্তমানের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে তাদের বয়স, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে। আর সে কারণেই সেরাদের এই তালিকায় রাজত্ব করছেন তরুণেরাই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ১০ ফুটবলার

    ১. লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা) – ৪০১.৩১ মিলিয়ন ডলার

    ২. আরলিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি) – ২৯৮.৩৭ মিলিয়ন ডলার

    ৩. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ) – ২৩৫.২৩ মিলিয়ন ডলার

    ৪. জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ) – ১৭৯.০৮ মিলিয়ন ডলার

    ৫. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ) – ১৬০.১০ মিলিয়ন ডলার

    ৬. ফ্লোরিয়ান ভাইর্টস (লিভারপুল) – ১৫৮.৭৬ মিলিয়ন ডলার

    ৭. দেজিরে দুয়ে (পিএসজি) – ১৫৭.৩৪ মিলিয়ন ডলার

    ৮. জোয়াও নেভেস (পিএসজি) – ১৫২.৭৮ মিলিয়ন ডলার

    ৯. আরদা গুলের (রিয়াল মাদ্রিদ) – ১৫২.৪৩ মিলিয়ন ডলার

    ১০. পেদ্রি (বার্সেলোনা) – ১৫২.০৫ মিলিয়ন ডলার।

  • মেসিদের প্রথম ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে

    মেসিদের প্রথম ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে

    ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে উন্মাদনা, আর আর্জেন্টিনা ভক্তদের চোখ এখন লিওনেল মেসিদের প্রথম ম্যাচের দিকে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাঠে নামতে অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্ট শুরুর আরও কয়েকদিন পর পর্যন্ত।

    আগামী ১১ জুন পর্দা উঠবে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ধাপে ধাপে শুরু হবে গ্রুপপর্বের বাকি লড়াই।

    জে গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনা নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া খেলাটি বাংলাদেশ সময় দেখা যাবে সকাল ৭টায়।

    গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনার বাকি দুটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ২২ জুন অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে তারা, আর ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে শেষ গ্রুপ ম্যাচ। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে পারলে ১ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে রাউন্ড অব ৩২-এ নামবে মেসির দল।

    বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৬ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

    এদিকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য অতিরিক্ত সাতজন খেলোয়াড়কেও রাখা হয়েছে স্কোয়াডে।