খেলাধুলা

  • ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তাঁর কথাতেই ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্য করেন।

    নিজের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দেখুন আজকে আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটা নিয়ে বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলামের সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে, আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে, আমি তাঁকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা এটা নিয়ে নানান কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে…পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজ তো আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী নির্বাচিত তাঁর সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে আনছে।’

    এর আগে গত ২০ জুন বগুড়ার দুটি নবগঠিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১১ জুন জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ রাখা হয়।

    পরে অভিযোগ ওঠে, মীরবাড়ী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম এবং সীমান্ত ও দিগন্ত তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

    সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে একটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় অন্যটির নাম ‘দিগন্ত’ রাখা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকাকে তিনি ‘কাকতালীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টেও জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।

  • কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জিতলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে ঘিরে অস্বস্তি ভর করেছিল আর্জেন্টিনা দলে। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে সেই অস্বস্তি দূর হতেও বেশি সময় লাগল না। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩ গোল করে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৩ গোলের প্রথমটা করেন রোমেরো। চরম বিপদে থাকা দলকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের কাফে অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো।

    প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যায়, এটা কোনো চোট নয়; কেবল পেশিতে টান লাগায় অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো। আর্জেন্টিনা দলের একটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াসি স্পোর্টস। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলীয় অনুশীলনে দেখে গেছে রক্ষণভাগের এই ফুটবলারকে। এমনকি অনুশীলনে কোনো ধরনের অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায়নি তাঁকে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া সে ম্যাচে শুরুর একাদশেই রোমেরোর মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি মিসর ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

    গতকালের অনুশীলনে রিকভারি করতেই লম্বা সময় পার করেছে ফুটবলাররা। যেসব ফুটবলার মিসরের বিপক্ষে বেশি সময় মাঠে ছিলেন, তাঁরা জিমে ব্যায়ামসহ অন্যান্য রিকভারি সেশনে অংশ নেন। অন্যদিকে যাঁরা শুরুর একাদশে ছিলেন না বা অল্প সময় খেলেছেন, তাঁরা মাঠে স্বাভাবিক অনুশীলন করেন। অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। টিওয়াসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামীকালের অনুশীলনের পর শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করবে কোচিং স্টাফ। শেষ অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন স্কালোনি।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে মিশর। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এবারের আসরে একাধিক কীর্তি গড়েছে ‘ফারাও’রা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় তারা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে মিশর।

    গোল করার দিক থেকেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে মোট আটবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা মিশর শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে।

    ফিফার পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য মিশর পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ফেডারেশনের তহবিলে এসেছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি, যা ভবিষ্যতে মিশরের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে বড় এক ধাক্কা খেল ফ্রান্স। রাউন্ড অব সিক্সটিনে পাওয়া মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

    প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গ্যালারজার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ঘটনাটির রিপ্লেতে দেখা যায়, ওলিস মূলত গ্যালারজার জার্সি টেনে ধরলেও তিনি মুখে আঘাত পাওয়ার ভঙ্গিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ঘটনার জেরেই উজবেকিস্তানের রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ ওলিসকে সতর্ক করেন।

    ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-এর তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি ফিফা।
    ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আজ (বুধবার) সকালে আমরা ফিফার সিদ্ধান্ত পেয়েছি। ওলিসের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।”

    ফিফার এই সিদ্ধান্তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ওলিসকে। কারণ, কোয়ার্টার-ফাইনালে তিনি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সেক্ষেত্রে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠতে পারলেও সম্ভাব্য স্পেন বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।

    এ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে শুধু জয় নয়, ওলিসকে অপ্রয়োজনীয় কার্ড থেকে দূরে রাখাও এখন ফ্রান্সের কোচিং স্টাফের অন্যতম বড় ভাবনার বিষয়।

  • ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ এলেই নতুন কোনো রূপকথা হাজির হয়। অপরিচিত কোনো দেশ হঠাৎ উদয় হয় হ্যালির ধূমকেতুর মতো, কেউ আবার আলোর রেখা ধরে এগিয়ে আসে আরো উজ্জ্বল হয়ে, আর আমরা বলি—‘সিন্ডারেলার গল্প’। মরক্কোর নামও সেই তালিকায় জুড়ে দিতে চান অনেকে। কিন্তু সত্যি বলতে, মরক্কোর এই যাত্রা রূপকথা নয়। আটলাস পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট লড়াই এখন ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’-এ বিস্ময়কর বাস্তব। বহু বছর ধরে মাটির নিচে শিকড় ছড়িয়ে বেড়ে ওঠা এক বটগাছের গল্প।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টি দেখলে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। মনে হতে পারে, সহজ এক বিকেলের গল্প। অথচ ম্যাচের প্রথম পনেরো মিনিটে বল যেন শুধু কানাডারই ছিল। মরক্কোর রক্ষণ বারবার পরীক্ষায় পড়েছে, ইয়াসিন বোনুকে দু-দুবার জীবন বাঁচানো সেভ করতে হয়েছে। তবে এটা খুব স্বাভাবিক, অন্তত মরক্কোর কাছে। বড় দলের পরিচয়, তারা ঝড়ের দিকে তাকিয়ে ভয় পায় না, ঝড় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করতে জানে। এই মরক্কো সুন্দর ফুটবলের পূজারি নয়। তারা জানে, বিশ্বকাপে সৌন্দর্যের জন্য ট্রফি দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় জয়ীদের। তাই কখনো শিল্পী, কখনো সৈনিক—দুই চরিত্রেই সমান স্বাচ্ছন্দ্য আটলাসের সিংহরা।

    কানাডাকে হারিয়ে মরক্কো টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রইল। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ধারাবাহিকতার আরেক নাম। ২০২৫ সালের আগস্টে কেনিয়ার কাছে হারের পর থেকে আর কোনো দল তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে পারেনি। বিশ্বকাপ, আফ্রিকান বাছাই, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ; সব জায়গাতেই তারা এক অদ্ভুত স্থিরতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    একসময় আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বকাপে ‘অতিথি’ ছিল। তারা আসত, কিছু স্মৃতি রেখে চলে যেত। মরক্কো সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে তারা ইতিহাস লিখেছিল। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবার কোয়ার্টার ফাইনালে। এখন আর তাদের সাফল্যকে বিস্ময় বলা যায় না; বরং ব্যর্থ হলে সেটাই হবে বিস্ময়।

    মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিচয় বদলাইনি। কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমরা কার জন্য খেলছি।’ কথাটি শুধু একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নয়, পুরো মরক্কোর ফুটবল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই দল শুধু এগারো জন ফুটবলারের সমষ্টি নয়। তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

    এই আত্মবিশ্বাস কিন্তু রাতারাতি জন্ম নেয়নি। ২০০৯ সালে যে ফুটবল একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, ২০১৯ সালে যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছিল, আজকের এই মরক্কো তারই ফল। কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা—সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নতুন শক্তি। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের অনেকে স্পেনে জন্মেছেন, ইউরোপীয় ফুটবলে বড় হয়েছেন। কিন্তু হৃদয়ের টান শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে এনেছে লাল-সবুজ জার্সিতে। তারা শুধু প্রতিভা নয়, দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধও।

    কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে হাকিমি ছিলেন অধিনায়কের মতোই নেতৃত্বের প্রতীক। ব্রাহিম দিয়াজ করলেন দুই অ্যাসিস্ট। আর আজেদিন উনায়ি দেখালেন, বড় ম্যাচে একজন মিডফিল্ডার কীভাবে পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। সুফিয়ান রাহিমি আবার বদলি নেমে গোল করলেন, যেন বেঞ্চও এই দলের আরেকটি অস্ত্র। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নন। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা জানে কখন আক্রমণ করতে হয়, কখন অপেক্ষা করতে হয় আর কখন প্রতিপক্ষের ধৈর্য ভেঙে দিতে হয়।

    সামনে ফ্রান্স। আরো কঠিন পরীক্ষা। আরো বড় মঞ্চ। কানাডার বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলাটা খেললে ফ্রান্স ছেড়ে কথা বলবে না। কথাটা সত্যি। কিন্তু এটাও সত্যি, এই মরক্কো প্রতিটি ম্যাচে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চার বছর আগে কাতারে তাদের সাফল্যের দিকে পৃথিবী বিস্ময়ের চোখে তাকিয়েছিল। এবার আর বিস্ময় নেই। আছে প্রত্যাশা। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

    মরক্কো আর কোনো রূপকথার চরিত্র নয়। তারা এখন এমন এক দল, যাদের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও হিসাব কষে। আফ্রিকার ফুটবল বহুদিন ধরে সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় ছিল। সেই সূর্য হয়তো এখনো পুরোপুরি আকাশে ওঠেনি। কিন্তু দিগন্ত লাল হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর সেই লাল আভাটির নাম মরক্কো, ‘দ্য আটলাস লায়ন্স’।

  • আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্বাধীন এবং কোনোভাবেই বাইরের প্রভাবের শিকার নয়। তার ভাষায়, “ফাউল মানেই ফাউল”; ঘটনাটি গোলের যত আগেই ঘটুক না কেন, ভিএআর সেটি শনাক্ত করলে রেফারিকে জানাবেই।

    ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা। তারা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, “বিশ্বকাপের আর মাত্র আটটি ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা রেফারিংয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এত অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো নাও হতে পারে। তবে সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েই ম্যাচ কর্মকর্তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।”

    রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

    কোলিনা আরও স্পষ্ট করে জানান, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। তার ভাষায়, “রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা পরিচালিত হয় এমন দাবি ঠিক নয়। এমনকি ফিফা সভাপতির পক্ষ থেকেও নয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।”

    মিসরের বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (Attacking Possession Phase) ভিএআর পরীক্ষা করে। যদি গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়।

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি ফাউল। রেফারি মাঠে না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে মিশরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি বলেন, “যদি কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ওই ঘটনাতেও রেফারি ও ভিএআর দুজনই সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।”

    তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকেই। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট বলেও জানান বিশ্বখ্যাত এই সাবেক ইতালিয়ান রেফারি।

  • ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল দলটি। এবার সেই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

    মিশরের আপত্তির মূল কেন্দ্র দুটি ঘটনা। প্রথমটি ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল। ভিএআর পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগ তুলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

    দ্বিতীয় অভিযোগটি আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলকে ঘিরে। মিশরের দাবি, গোল হওয়ার আগে হামদি ফাথিকে ফাউল করা হলেও সেটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তাদের মতে, ওই সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের ফল যেন আগেই নির্ধারিত ছিল এবং রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    মিশরের অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    কিছু দল আছে, যারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে নয়, বরং সুযোগের অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে আঘাত হানার। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনও এমনই ছিল। ১৬ বছর পর সেই পুরোনো চেহারার আরেকটি ঝলক দেখা গেল ডালাসে। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসে ভর করে শেষ হাসিটা হাসল স্পেন। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়ল নতুন রেকর্ড।

    ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল। ঠিক তখনই নিজের বেঞ্চের শক্তির পরিচয় দিল স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস যোগ করা সময়ে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন আরেক বদলি মিকেল মেরিনো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার পর বিশ্বকাপেও স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে মেরিনোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘মিকেল মেরিনো কখনোই আমাদের হতাশ করে না। সে নিশ্চিত ভরসা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সে হাজির থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা অন্য যেকোনো জাতীয় দলে শুরুর একাদশে খেলত।’

    কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন মেরিনো। তাই জয়সূচক গোলের পর তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর, ‘কয়েক মাস আগেও এখানে থাকা কল্পনাতীত ছিল। আর এখন আমি বিশ্বের শীর্ষে আছি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি উপভোগ করছি। প্রতিটি পরিশ্রম আর প্রতিটি সন্দেহের মুহূর্ত আজ সার্থক।’

    ডালাসের রাতটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, রেকর্ডের রাতও। পর্তুগালকে গোল করতে না দিয়ে স্পেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে। এর আগে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ড (২০০৬-১০) টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এখন স্পেনের একার।

    এই কীর্তির কেন্দ্রে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমোনও। পর্তুগালের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই অর্জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয় বলেই মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই রেকর্ড শুধু উনাইয়ের নয়, তার সতীর্থদেরও। তাদের সংহতি, উদারতা, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের ফল এটি। সবাই একে অপরের জন্য দৌড়ায়।’

    এটি ছিল রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। পরাজয়ের হতাশা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি, যাদের আমি মনে করি ফাইনালে উঠবে, কিংবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে। আমি খুবই দুঃখ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি, দুই দলই জিততে পারত। ফুটবল এমনই। এভাবে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক, কিন্তু আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

    রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির রাতে স্পেন পেল নতুন এক নায়ক। আর টানা ছয় ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দে লা ফুয়েন্তের দল জানিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে তাদের নামটি এখন আর শুধু সম্ভাবনার নয়, প্রধান দাবিদারেরও। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সায়েম বিন সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আইন বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহম্মেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ ছাড়া নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী।

  • রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এতেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচ শেষে অস্রুসিক্ত চোখে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন মিশরের ফুটবলার মোস্তফা জিকো।

    আর্জেন্টিনা ও মিশরের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় জিকো বলেন, “রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না।”

    তিনি আরও বলেন, “তিনি (রেফারি) একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন। তিনি একটি দেশের পুরো পরিশ্রমকে এক নিমিষে নষ্ট করে দিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।”

    ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর। বিরতির পর আবারও গোলের দেখা পায় মোহাম্মদ সালহর দল। তবে ফাউলের কারণে ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

  • অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

    আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’

    তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’ ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’

    মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

    এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।

    তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

    মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’ এই

    নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

    বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

  • ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের গুন্ডামি পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিচ্ছবি।

    বুধবার (০৮ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এক প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা তৈরি এবং প্রতারণাও করছে দেশটি। মূলত এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সব জায়গায় এমন আচরণই করে থাকে।

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের তথাকথিত মেগা প্লেবুক-এরই প্রতিফলন। তবে ইরান এই ধরনের খেলা প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং তেলের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ল্যাতেজিয়ার ছিলেন দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট। এটা স্বীকার করতেই হবে- আর্জেন্টিনা ঝড়ের কবলে পড়েছিল। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল প্রায় সবকিছু। মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন। এই আসরেই অষ্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেন। খেলায় গোল হয়েছে পাঁচটি। প্রথম গোল করেন মিশরের ইয়াসের ইব্রাহিম। দ্বিতীয় গোলটি করেন মোস্তফা জিকো। এর আগে নাটকীয় ঘটনাও ঘটে বেশ কিছু। মিশরের একটি গোল বাতিল হয়। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ফুটবলভক্তরা তাজ্জব হয়েছেন। মাঠের মধ্যে উসকানি দেখে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে শুধু হাসলেন। সংবাদমাধ্যম এই খবরটাই দিয়েছে। কিন্তু কেন? বোধ করি আপনারাও বুঝতে পেরেছেন। কারণ গোল হওয়ার ২০ সেকেন্ডে একটা ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল হয়। যা ছিল হাস্যকর, কলঙ্কিত। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাইরের দুনিয়াও একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলেছেন, এটা আর্জেন্টিনা নয় ভার্জেন্টিনা। যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা দুটো গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেসি সরাসরি গোল করেন। আর তার বলে অন্যটি করেন রোমেরো। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইনজুরি টাইমে। এই গোলটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ মিশরের তারকা সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও তা রেফারি এড়িয়ে যান। এমনকি রিভিউতেও পাঠাননি। যেটা অবিশ্বাস্য। অভিযোগ, মিশর হেরে গেল রেফারির ছল-চাতুরিতে। নাহলে হয়তো খেলাটি ঘিরে তেমন একটা বিতর্ক হতো না। মোস্তফা জিকোর গোলটা বাতিলের পর বোঝা গিয়েছিল অন্য কিছু হতে পারে। এর আগের ইতিহাস- রোনালদো নেই, ব্রাজিল নেই বিশ্বকাপে তাহলে থাকলো কী। এবার যদি আর্জেন্টিনাও চলে যায় তাহলে তো বিশ্বকাপের উন্মাদনাই থাকবে না। মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর আসলেই এক পিরামিড হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই পিরামিড ভাঙলো অদৃশ্য শক্তির খেলায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও লিপিবদ্ধ হলো। বিশ্বকাপে শুধু খেলা নয়, ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। এবার ফিফা কি সেই ঝুঁকি নেবে। মিশর এর আগে চারবার বিশ্বকাপে এসেছিল। আর এবারই প্রথম নকআউটে আসে। অঙ্কের হিসেবে মিশর হারলেও বিবেকের বিচারে আসল জয়ী তারাই। খেলা শেষে মেসি আবারও আলোচনায়। বলা চলে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফুটবলকে শাসন করছেন। তিনি এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। গত সপ্তাহে দুটি জয়ের মাঝখানে তিনি তার ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। তার অগণিত ভক্তরা কীভাবে তাদের প্রিয় তারকার শেষ বিশ্বকাপকে উপভোগ করছেন- এই প্রশ্নের মধ্যেই মিশরের উত্থান দেখে মেসি নিজেই চিন্তায় পড়ে যান। মিশরের প্রথম গোলের পর তিনি উপুড় হয়ে ঘাস দেখছিলেন। এই ঘাস, এই মাঠ ও এই গ্যালারি তার শক্তি, সাহস। বিতর্ক হচ্ছে- এই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হবেন কে। লামিন ইয়ামাল- এক স্প্যনিশ কিশোর? কিলিয়ান এমবাপ্পে- ফুটবলের অতি গতিসম্পন্ন বোগাত্তি গাড়ি! নাকি আর্লিং হালান্দ- নরওয়ের সেই গোলদানব! বৃটেনের হ্যারি কেইন? ১৯শে জুলাই এর উত্তর মিলবে। খেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কুৎসিত কিছু ঘটনাও ঘটে। রেফারি আবোল-তাবোল অনেক সিদ্ধান্ত দেন। লাল কার্ড, হলুদ কার্ড মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও দেখান। যা খেলার সৌন্দর্যে দাগ লাগিয়ে দেয়। জমজমাট প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

  • অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শেষ বাঁশি বাজালো রেফারি! বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক অঘটন ঘটিয়েই ফেলেছিল মিশর। কিন্তু তার বদলে ফুটবল বিশ্ব দেখলো আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক এক প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতলো আলবিসেলেস্তেরাম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। তবে এ কান্না বিষাদের নয়, আনন্দের। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে যে চাপ তিনি তৈরি করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে এক অ্যাসিস্ট আর এক গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে নিজেই তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন। আর্জেন্টিনা শিবির এখন স্বস্তি আর উল্লাসে ভাসছে। টানা দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে রইল তাদের।অন্যদিকে রেফারির শেষ বাঁশির পর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার দল। পুরো ম্যাচে বীরের মতো লড়াই করেও এমন হার মেনে নেয়া কঠিন। তবে মিশর আজ ম্যাচ হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে, কারণ তারা কোনো ভুল করেনি। তারা স্রেফ হেরে গেছে এক অতিমানবীয় ফুটবল জাদুকরের পায়ের কাছে।এর আগে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় মেজাজ হারায় মিশরীয় শিবির। আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হওয়ার ঠিক আগে নিজেদের বক্সে ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের ফাতিকে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করে তারা। এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করায় গোলকিপার শোবের হলুদ কার্ড দেখেন এবং মিশরের একজন স্টাফ মাঠের ভেতর ঢুকে লাল কার্ড পান। পরে প্রতিবাদ করায় ফাতি এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউল করায় আতিয়াও হলুদ কার্ড দেখেন। ক্ষোভে ফেটে পড়া মিশরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিকে কিছু বলায় হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখান। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে ওতামেন্দি ও মেদিনা মাঠে নামেন এবং লাউতারো মার্টিনেজ কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতে গিয়ে আতিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।গোল! অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায় লিড নিলো আর্জেন্টিনা! ডান প্রান্ত থেকে আরও একটি চমৎকার ক্রস ভেসে আসে মিশরের বক্সে। সেখানে লাফিয়ে উঠে এনজো ফার্নান্দেজ নিখুঁত এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণায়। গোলকিপার শোবেরের সাধ্য ছিল না এটি আটকানোর। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এই গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করল আলবিসেলেস্তেরা।

    ৮৩ মিনিট: আর্জেন্টিনা ২-২ মিশর

    গোল! সমতায় ফিরলো আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি ম্যাজিক! ডান প্রান্ত থেকে মেসির বাড়ানো ক্রসটি মিশরের রক্ষণভাগ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে বলটি আবার বক্সের ভেতর ফেরত পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। হুলিয়ান আলভারেজ বুক দিয়ে আলতো ছোঁয়ায় বলের গতি কমিয়ে মেসির সামনে বাড়িয়ে দেন। ড্রপ খাওয়া বলটিতে কোনো সময় নষ্ট না করে নিখুঁত এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মেসি। মিশরীয় গোলকিপারের এবার আর কিছুই করার ছিল না। ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে এলো আলবিসেলেস্তেরা।

    ৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ১-২ মিশর

    গোল! রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমালো আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রসে বল বক্সে বাড়ান লিওনেল মেসি। সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে চমৎকার হেডে বল জালের ডান দিকে পাঠান। মিশরীয় গোলকিপার শোবের ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ৬৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-২ মিশর

    গোল! এবার আর কোনো ভুল নেই। জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো মিশর! আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে বল পেয়েই কাউন্টার অ্যাটাকে গতি বাড়ান মোহাম্মদ সালাহ। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে তিনি ডান প্রান্তে থাকা হাসানকে পাস দেন। হাসান গতিতে নাহুয়েল মলিনাকে পরাস্ত করে একদম বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে চমৎকার কাট-ব্যাক করেন। সেখানে ওত পেতে থাকা জিকো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। বিশ্বমঞ্চে এবার সত্যিই বড় এক অঘটনের সুবাস দিচ্ছে মিশর।

    ৫৮ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল বাতিল! ভিএআরের হস্তক্ষেপে বেঁচে গেল আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণ থেকে অসাধারণ এক গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিশর। তবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে, মিশরের নিজেদের অর্ধে আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর দেখে রেফারি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও মিশরের জন্য এটি ছিল চরম এক হৃদয়ভঙ্গ।

    হাফটাইম: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আটলান্টা স্টেডিয়ামে বড়সড় এক অঘটনের আভাস দিয়ে বিরতিতে গেল দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচ না জেতা মিশরের জন্য এটি স্বপ্নের এক প্রথমার্ধ। অন্যদিকে, তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এক গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লো। আলবিসেলেস্তেরা এখনো প্যানিক না করলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিজেদের বক্সের সামনে মিশরীয় ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা কেবল অফসাইডই হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে মাথায় হাত পড়ে লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের। গ্যালারিতে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনেও আলভারেজের শটটি নিশ্চিত গোল ভেবে বসেছিলেন। কিন্তু শোবেরের বিশ্বমানের সেভ সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও নিজেদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখে মিশর।

    ৪০ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    বাঁ প্রান্ত দিয়ে তাগলিয়াফিকোকে লক্ষ্য করে একটি লম্বা পাস বাড়ানো হয়। তিনি কোনোমতে পা বাড়িয়ে বলটি বক্সের মাঝখানে দেন হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশ্যে। আলভারেজ শরীরটা ঘুরিয়ে ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে জোরালো সাইডফুট শট নেন। একদম ছবির মতো সুন্দর এক গোল হতে পারত এটি। কিন্তু পুরো শরীর বাতাসে ভাসিয়ে এক হাতের দারুণ ছোঁয়ায় বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন মিশরীয় গোলকিপার শোবের। আরও একবার অসাধারণ এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন তিনি।

    ২৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি বাড়ল। ডান প্রান্ত থেকে রদ্রিগো ডি পল চমৎকার একটি ক্রস বাড়ান বক্সে। গোলপোস্টের মাত্র ছয় গজ দূর থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড করলেও তা মিশরীয় ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে এনজো ফার্নান্দেজ ফিরতি বলে জোরালো শট নিলেও সেটিও ব্লক করে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।

    ২১ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    মেসির পেনাল্টি মিস! পেনাল্টি নেয়ার চিরচেনা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেসি শট নিলেও, তা আটকে দেন মিশরের গোলকিপার শোবের। মেসি পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে মারলেও শটটিতে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। গোলকিপারদের জন্য একদম সুবিধাজনক উচ্চতায় থাকা বলটির দিক আগেই অনুমান করে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন শোবের। ফলে পেনাল্টি থেকেও সমতায় ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার।

    ১৫ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল! ইব্রাহিমের চোখধাঁধানো হেডে এগিয়ে গেল মিশর। ডান প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে চাপে ফেলে ম্যাচের প্রথম কর্নার আদায় করে নেন হ্যানি। কর্নার থেকে বল ফেরত পেয়ে উইং দিয়ে ভেতরে ক্রস বাড়ান আতিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা নিঃশব্দে বক্সে ঢুকে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ানোর সময় গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের স্রেফ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

    ৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-০ মিশর

    ডান প্রান্তে দারুণ খেলে একটি ফ্রি-কিক আদায় করে নিলেন মিশরের হাসান। আতিয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল বাড়ালেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের সামনে দিয়ে তা পার হয়ে যায়। সেখানে কোনো মিশরীয় ফুটবলার না থাকায় বেঁচে গেল আলবিসেলেস্তেরা।

    কিক অফ

    শুরু মাঠের লড়াই

    ৩ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। একদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া রূপকথার মিশর, অন্যদিকে শিরোপাপ্রত্যাশী আলবিসেলেস্তেরা। দুই ভিন্ন মেজাজের দলের এই দ্বৈরথকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে

    মিশরের রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন। পেশির টানের কারণে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে ধার বাড়াতে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফলে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কিছুটা ওপরে উঠে খেলার স্বাধীনতা পাবেন। আক্রমণভাগেও এসেছে বড় বদল। অফফর্মে থাকা লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফিরেই মূল একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ হুলিয়ান আলভারেজ।

    লিভারপুলের কিংবদন্তি মোহামেদ সালাহ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো সাফল্য পাচ্ছিলেন না। তবে এবার সালাহর জাদুকরী নেতৃত্বেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ফারাও’রা। বিশ্বকাপে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচ না জেতা মিসর এবার শেষ ১৬তে জায়গা করে নিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হলেও, জিতলে সালাহর দল পৌঁছে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়।আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

    মিশর একাদশ: মোস্তফা শোবেইব, মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসির ইব্রাহিম, করিম হাফেজ, ইমাম আশুর, মারোয়ান আতিয়া, মোহামেদ লাশিন, হাসান, মোহামেদ সালাহ, জিকো।

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    লিওনেল স্কালোনি আজ কী করবেন? মিসরের বিপক্ষে কারা থাকবেন শুরুর একাদশে? এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিশ্চিত। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একাদশে ফেরার কথাও জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বাকি দুজন কারা?

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল গ্রাফিকো জানিয়েছে, চোট কাটিয়ে বাঁ দিকের রক্ষণভাগে ফিরছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। গত ম্যাচে ক্র্যাম্প হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। আজকের ম্যাচে মেদিনার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন তাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডে জায়গা হারাচ্ছেন থিয়াগো আলমাদা। পারেদেসকে একাদশে জায়গা করে দিতে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে তাঁকে।

    সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগেও পরিবর্তন আসবে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে শুরুর একাদশে খেলবেন হুলিয়ান আলভারেজ। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে ছিলেন মার্তিনেজ।

    আজ আক্রমণভাগে শুরু থেকে খেলবেন আলভারেজ রয়টার্স

    এ ছাড়া অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়েও পরখ করে দেখেছেন কোচ স্কালোনি। তবে ম্যাচের শুরু থেকে এই পরিবর্তন দেখার সম্ভাবনা কম। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার আরেকটি সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে আজ দেখা যাবে আলভারেজ, তাগলিয়াফিকো ও পারদেস।

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

  • ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেই ব্রাজিল।

    ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশটির তারকা ফুটবলার নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস।

    স্কাই জার্মানিতে প্রকাশিত নিজের কলামে ম্যাথাউস লিখেছেন, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি খুশি। তার ভাষায়, ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, এতে আমি আনন্দিত। তাদের এই অবিরাম অভিযোগ আর অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।

    নেইমারের আচরণকে লক্ষ্য করে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস বলেন, শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টির সময় ব্রাজিল তারকার আচরণ দলের বড় একটি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

    ম্যাথাউস লিখেছেন, পেনাল্টিটি দ্রুত নেওয়ার পরিবর্তে নেইমার শট নেওয়ার আগে ও পরে গোলরক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। এই আচরণ থেকেই বোঝা যায়, সে দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকারকেই বড় মনে করে।

    ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করছেন নেইমার। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেও ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং মিশর জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ।

    ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। এর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি-র সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে প্রাণবন্তভাবেই অংশ নিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

    স্কালোনি বলেন, টানা ম্যাচ, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, গরম আবহাওয়া এবং একেক ভেন্যুর ভিন্ন পরিবেশ এবারের বিশ্বকাপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, এ টুর্নামেন্টে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যাচ্ছে না এবং সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানান তিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চান এবং সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই শেষ কথা নয়। একটি মুহূর্ত বা একজন খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নামছে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

  • বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থেকে শেষ মুহূর্তে রেহাই পেলেও আর্থিক শাস্তি এড়াতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনায় তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড) জরিমানা করেছে ফিফা। সেই জরিমানার অর্ধেক বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামেন। তবে আর্থিক শাস্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

    ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডিসিপ্লিনারি কোডের দুটি পৃথক ধারা ভঙ্গের দায়ে মোট ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর অর্ধেকের দায় বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন।

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।এই বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছেন ইনফান্তিনোও। তিনি দাবি করেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তে সভাপতির কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলাম, যেমন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে ফোন পাই। আমি শুধু জানিয়েছি যে বিষয়টি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কখনো আমি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে একমত হই, কখনো হই না। কিন্তু সবসময় তাদের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। ব্যক্তিগত মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’বালোগুনের শাস্তি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে আলোচনা এখনো থামেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা এড়ালেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে বিতর্কিত এই অধ্যায়ের মূল্য চুকাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডকে।

  • বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ম্যাচের পর মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য এবং তার জবাবে এমবাপ্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া।

    স্পেনের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর দেশটির সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপ্পেকে নিয়ে একাধিক বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

    তিনি এমবাপ্পেকে ‘ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত, নিজেকে মরিয়া হয়ে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দিতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ বলেও কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা।

    এমন মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ভাষায় সিনেটরের সমালোচনা করেন।

    তিনি লেখেন, ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে যে দেশ আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আপনি সেই দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেছেন।

    এমবাপ্পে আরও বলেন, আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রকাশ্য বর্ণবাদ পুরো বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দিয়েছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক অর্জন থেকে। পরিবর্তে এখন আলোচনায় একজন অযোগ্য রাজনীতিক, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্রটি তুলে ধরেছেন।

    সবশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আপনার মতো মানুষদের ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা আমি কখনোই মেনে নেব না।

    এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এক বিবৃতিতে এফএফএফ জানায়, এ ধরনের মন্তব্য জঘন্য, অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত দণ্ডনীয়। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য আসলে পুরো ফ্রান্সকেই অপমান করার শামিল। তাই বিষয়টি আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।

  • অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে সুইজারল্যান্ড। একই পথে আছে লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়াও। দুদল এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর ম্যাচে। নকআউটের এই ম্যাচে হারলেই বিদায়। দুদলই দারুণ ছন্দে থাকায় জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

    বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব সুখকর ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যায় তাদের চেহারা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সুইসরা।

    সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কারণ বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা। জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্রিল এমবোলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সুইজারল্যান্ড।

    অন্যদিকে কলম্বিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।

    রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে লস ক্যাফেতেরোসরা। যদিও ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তবে তার বদলি হিসেবে নেমে লুইস সুয়ারেজ ম্যাচের একমাত্র গোলের অ্যাসিস্ট করে কোচের আস্থা অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একাদশে তাকেই দেখা যেতে পারে।

    কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছাড়া টানা তিন ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে তারা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগও ধারালো। ফলে ম্যাচটি হতে পারে শক্তিশালী রক্ষণ বনাম গতিময় আক্রমণের লড়াই।

    তবে সুইজারল্যান্ডের জন্য কিছু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। পেশির চোটের কারণে মিডফিল্ডার মিশেল এবিশার ও ডিফেন্ডার লুকা জাকেজের খেলা অনিশ্চিত। তারা না খেলতে পারলে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লার মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলাবেন, আর রক্ষণে থাকবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি।

    দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো পক্ষই পরিষ্কার ফেভারিট নয়। সুইজারল্যান্ড টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর কলম্বিয়া ভরসা করবে নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারাবাহিক ফর্মের ওপর। ফলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে ভ্যাংকুভারে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথ।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এই ম্যাচে আলোচনার নাম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল খেয়ে এই ম্যাচে তার খেলার কথা না থাকলেও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মাঠে নামেন বালোগান। তবে এই ফরোয়ার্ডের ফেরাও মাঠে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবলের সামনে উড়ে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চার্লস ডি কেটেলাইরের জোড়া গোলে সহ-স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।

    বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন চার্লস ডি কেটেইলার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুু। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক তিলমান।কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। যারা রাতের অন্য ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ১১ জুলাই রাত ১টায় সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলাইরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস।তবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি মার্কিনরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক তিলমান। গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা।

    কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলাইরে। তাতেই আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে খেলে যায় বেলজিয়াম। ফল আসে ৫৭তম মিনিটে। আগের দুই গোলের কারিগর কেটেলাইর এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। তার পাস থেকে ৫৭তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন হ্যান্স ভানাকেন।

    এরপর দুদল একের পর এক আক্রমণ করে যায়। বেলজিয়াম রক্ষণ শক্ত করায় জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র খেলোয়াড় বদলি করেও স্কোরলাইন পাল্টাতে পারেনি। রক্ষণ জমাট করার ফাঁকেই শেষদিকে আরেকবার ভেলকি দেখায় বেলজিয়াম।যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন তৃতীয় গোলদাতা ভানাকেন। তিনি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান রোমেলু লুকাকুর দিকে। তারকা খেলোয়াড় কোনো ভুল করেননি। শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন স্বাগতিকদের কফিনে। ফলে দুর্দান্ত জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

  • রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    গ্যালারিতে একটা পোস্টার হাতে একজনকে দেখা গেল। রঙিন সেই পোস্টারে এক পাশে রোনালদোর ছবি, আর অন্য পাশে লামিন ইয়ামালের। রোনালদোর ছবির পাশে লেখা ‘দ্য লিজেন্ড’। ইয়ামালের পাশে লেখা লাল হরফে ‘দ্য ফিউচার’।

    ম্যাচের ফলাফল তাই জানাল, ভবিষ্যৎ থাকল আর লিজেন্ড বিদায় নিল। বিশ্বকাপের মাঠ আগের দিন দেখেছিল নেইমারের কান্না। এদিন সাক্ষী হলো রোনালদোর চোখের জলের। আর চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাসতে হাসতে ইয়ামালের স্পেন নাম লেখাল বিশ্বকাপের শেষ আটে। রোনালদোর পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন রাউন্ড অব সিক্সটিনেই সমাপ্ত।

    ডালাসে ম্যাচের ৯১ মিনিটে গোল করে মিকেল মেরিনো স্পেনকে জয় এনে দিলেন। ফ্রি কিক থেকে ফার্নান্দো তোরেসের পাসে পাওয়া বলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খালি জায়গা করে নিয়ে গোল করেন মেরিনো।

    ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি কেবল ৬ মিনিট। শেষের এই সময়ে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। গোল প্রায় পেয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেজের হেড স্পেনের গোলপোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। আর তাতেই ভেসে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

    আবেগ চেপে রেখে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিন্তু চোখের জল লুকাতে পারেননি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেন। যার প্রত্যেকটিতেই আছে তার গোল। কিন্তু স্বর্ণালী ট্রফির বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে উল্লাস করার স্বপ্নটা তার অপূর্ণই রয়ে গেল।

    বাড়ি ফেরার প্লেন ধরছে পর্তুগাল। আর স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে মোকাবিলা করবে বেলজিয়ামকে।

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। আজ আপনার দল হেরেছে, আগামীকাল তারাই আবার জিততে পারে। একটি ম্যাচের ফলাফল যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব না ফেলে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বকাপে প্রিয় দলের হার মানতেই অনেক সমর্থকের মন ভেঙে যায়। কেউ হতাশ হয়ে পড়েন, কেউ আবার সারাদিন ম্যাচ নিয়েই ভাবতে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হতাশা থেকে সহজেই বেরিয়ে আসা সম্ভব।চলুন জেনে নেওয়া যাক মন ভালো করার সাতটি কার্যকর উপায়।

    . নিজেকে কিছুটা সময় দিন। দল হারার পর মন খারাপ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তাই নিজের অনুভূতিকে চাপা না দিয়ে কিছুটা সময় দিন। কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের মন খারাপ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    .সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকুন। দল হারার পর ট্রল, মিম ও খোঁচামূলক পোস্ট হতাশা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কিছু সময় সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে পরিবার, বই কিংবা গানের সঙ্গে সময় কাটান।.বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। একই দলের সমর্থক হলে একসঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থক বন্ধুদের মজাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে খেলাধুলার অংশ হিসেবেই দেখার চেষ্টা করুন।

    .ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো মনে করুন। শুধু হার নয়, দলের ভালো মুহূর্তগুলোও স্মরণ করুন। ভালো আক্রমণ, দুর্দান্ত সেভ কিংবা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা—এসবও ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য কোনো প্রিয় কাজে মন দিন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, রান্না করা কিংবা হাঁটতে বের হওয়ার মতো কাজ আপনাকে দ্রুত হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

    .সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন স্বপ্নের অপেক্ষা করুন। একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন ম্যাচ আর নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে।মনে রাখবেন, ফুটবলের আসল আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়; বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, উল্লাস করা এবং কঠিন সময়েও নিজের দলের পাশে থাকাতেই একজন প্রকৃত সমর্থকের পরিচয়। তাই প্রিয় দল হেরে গেলেও আশা হারাবেন না। কারণ ফুটবল শেখায়—হারের পরও আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্বপ্ন ছিল ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর শুধু টুর্নামেন্টকেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায় জানানোর ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিউ জার্সির মাঠে ভেঙে পড়েন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করেননি। সতীর্থরা ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে কমেনি বিদায়ের বেদনা। কারণ, এটি ছিল শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের জার্সিতে তার দীর্ঘ এক অধ্যায়ও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। কিন্তু সেই গোলও পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী জিই টিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।”।এরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে তার পথচলার সমাপ্তি ঘটেছে।

    বিদায়ের মুহূর্তে স্মৃতির পাতাও উল্টে দেখেন নেইমার। ২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলা।

    এটি ছিল নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি আসর খেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হলো না তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কনফেডারেশনস কাপ ও অলিম্পিকে সোনা জিতলেও অধরাই রয়ে গেল ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে পারে তার শেষ আসর। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল। তাই নরওয়ের বিপক্ষে শেষ বাঁশির পর নেইমারের কান্না ছিল শুধু একটি ম্যাচ হারের হতাশা নয়; ছিল অপূর্ণ স্বপ্নের, হারিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর বেদনা।

    ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, এক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের নায়ক নেইমার জুনিয়র। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেলেসাওদের ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।

  • ব্রাজিলের বিদায়!

    ব্রাজিলের বিদায়!

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    শেষ বাঁশি বাজতেই মনে হলো, যেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রাসাদের শেষ ইটটাও খসে পড়েছে। নিউ জার্সির গ্যালারিতে হাজারো হলুদ জার্সি তখন আর ফুটবল দেখছিল না, তারা দেখছিল এক স্বপ্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কেউ দুই হাতে মুখ ঢেকেছেন, কেউ চোখের জল লুকাতে ব্যর্থ। শূন্য দৃষ্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। কষ্টের কান্নায় শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ মিশন। মাঠের মাঝখানে ব্রাজিলের ফুটবলাররা স্থির দাঁড়িয়ে, আর দূরে লাল জার্সিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের আগে যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই নরওয়েই বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সার স্বপ্ন—সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে রইল আর্লিং হালান্ডের মাথা আর বাঁ পায়ের নিচে।

    ২-১ গোলের এই হারেই শেষ হলো ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর বাঁ পায়ের দুর্বার এক ভলিতে দ্বিতীয়বার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেছে। টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে যে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল, এবারও সেই গল্পই পুনরাবৃত্তি হলো।

    ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কথা ছিল, এবার লেখা হবে নতুন গল্প। যে গল্পে থাকবে নরওয়েকে প্রথমবার হারানোর গৌরব। কারণ, এর আগে দুই দলের দেখায় ব্রাজিল কখনোই জিততে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করার বদলে পুরোনো অভিশাপকেই আরও গাঢ় করল সেলেসাওরা। নরওয়ে আবারও ব্রাজিলের কাছে অজেয় রইল, আর বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    ব্রাজিলের পতনের বীজ অবশ্য বোনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত। ১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ওরিয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় নরওয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেলি—একজনের পর একজন সুযোগ নষ্ট করেছেন। বিরতির আগেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোলশূন্য থেকে যায় ব্রাজিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভুলগুলোর মাশুল আরও স্পষ্টভাবে দিতে হয় সেলেসাওদের। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ দুটি পাস থেকে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও এনদ্রিক গোল করতে পারেননি। প্রথমবার দুর্বল শটে, দ্বিতীয়বার ভারী টাচে নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। বড় ম্যাচে এমন ভুলের মূল্য যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটাই পরে বুঝেছে ব্রাজিল।

    কেবল ফিনিশিং নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ডুবিয়েছে সেলেসাওদের। বল দখলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা। ভুল পাস, ধীর বিল্ড-আপ আর রক্ষণে ট্রানজিশনের সময় বারবার ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে নরওয়ে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের পেছনে তৈরি হওয়া সেই শূন্যস্থানেই বারবার ছুটে এসেছেন হালান্ড, নুসা ও সোরলোথ। নরওয়ের পরিকল্পনা ছিল সহজ—বল জিতো, দ্রুত সামনে যাও, আর গতির লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে দাও। সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

    যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা হালান্ড ধৈর্য হারাননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে হারিয়ে হেডে প্রথম গোল করেন। ঠিক ১১ মিনিট পর সেই শেলদেরুপের আরেকটি নিখুঁত পাসে বাঁ পায়ের ভলিতে দ্বিতীয় গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। সেই এক ভলিতেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন।

    এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন সমানতালে আছেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তিনজনের ঝুলিতেই এখন সাতটি করে গোল। তবে এই রাত শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ড। নরওয়ের নাম সেখানে খুব কমই উচ্চারিত হয়েছে। অথচ মাঠের ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, নাম নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই ইতিহাস লেখে। শৃঙ্খলা, গতি আর বিশ্বাস—এই তিন অস্ত্র নিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    ব্রাজিলের জন্য এই বিদায় শুধু আরেকটি পরাজয় নয়। এটি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে জমে থাকা অপূর্ণতার আরেকটি দীর্ঘশ্বাস। প্রতিভা ছিল, সুযোগ ছিল, তারকার অভাব ছিল না—অভাব ছিল চাপের মুহূর্তে নির্মম হয়ে ওঠার। ফুটবল বারবার একই শিক্ষা দেয়—ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামা যায়, কিন্তু নতুন ইতিহাস লিখতে হলে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতেই হয়। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ হলো।

    আর ভাইকিং রোরের বুক কাঁপানো স্লোগান দিতে দিতে নরওয়ে লিখে ফেলল এমন এক গল্প, যা বিশ্ব ফুটবল বহুদিন মনে রাখবে।

  • রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষটা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এলো। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েই ফেলেছি।’

    রোনালদোর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে ছড়িয়ে থাকা এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

    আবেগঘন ঘোষণার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতাও তুলে ধরেন রোনালদো। একটি বিমানের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটে আমি বুঝতে পারলাম একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আর্জেন্টিনার। ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম- দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার।’

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তাঁর দখলেই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না রোনালদোকে—এমন ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি বড় অধ্যায়।

  • গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় বর্তমানে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তিনজনেরই গোলসংখ্যা ৭।

    মেসি এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি, জর্ডানের বিপক্ষে একটি এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেন।

    অন্যদিকে এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেন। এছাড়া ইরাক, নরওয়ে ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি করে এবং সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনিও সাত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

    নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড ইরাকের বিপক্ষে দুটি, সেনেগাল, ফ্রান্স ও জাপানের বিপক্ষে একটি করে এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান।

    গোলসংখ্যা সমান হলেও ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম অনুযায়ী আপাতত এগিয়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কারণ গোল সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের ঝুলিতে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট, যেখানে মেসি ও হালান্ড এখনো কোনো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান হলে কম সময় মাঠে থেকে বেশি গোল করা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে।

    এদিকে গোল্ডেন বুটের দৌড় থেকে এখনো ছিটকে যাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। তার গোলসংখ্যা ৬। কোয়ার্টার ফাইনালসহ সামনে আরও ম্যাচ থাকায় একটি গোল করলেই তিনি আবারও শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারবেন।

    বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে গোল্ডেন বুটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামা মেসির সম্ভাব্য রূপকথা, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্যে এমবাপ্পে এবং প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে হালান্ড। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা নির্ধারণ হবে নকআউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে।

  • ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাস্তবতা মেনে নিয়েই আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে। দলটির প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেন স্বীকার করেছেন, কাগজে-কলমে ফেবারিট ব্রাজিলই। তবে ফুটবল যে সব সময় হিসাব মেনে চলে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউজার্সিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সোলবাকেন বলেন, ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব নয়, তবে তার জন্য নিজেদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে।

    ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। হয়তো আগের মতো এত বড় ফেবারিট নয়। আমরা জানি, ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের আছে। কিন্তু সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’—বলেছেন নরওয়ের কোচ।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের সামনে এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ব্রাজিল। আর সেই পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্রাজিলের বহুমাত্রিক আক্রমণভাগকেই দেখছেন সোলবাকেন।

    তার ভাষায়, ‘ওদের আক্রমণভাগে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন সমন্বয় তৈরি করতে পারে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে করেছিল। আমরা সেই চাপ কতটা সামলাতে পারি, সেটাই বড় বিষয়।’

    বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পেলে সেটি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হবে বলেও মনে করেন সোলবাকেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটা বড় একটি চমক হবে।’

    ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে আর্লিং হলান্ড ও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথ। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ে কোচ।

    ‘ব্রাজিলের রক্ষণজুটি গাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওস বিশ্বমানের। কিন্তু এটি কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথের ম্যাচ নয়। শেষ পর্যন্ত এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’—যোগ করেন তিনি।

  • হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

    হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি দল তাদের রক্ষণভাগ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪টি ম্যাচ খেললেও তাদের জালে কেউ বল জড়াতে পারেনি। শেষ ষোলোর মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘এল ট্রি’দের এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আর মেক্সিকোর এই অপরাজেয় ডিফেন্সের একদম কেন্দ্রে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই সেন্ট্রাল ব্যাক সেসার মন্তেস ও জোহান ভাসকেজ। মাঠে তাদের অসাধারণ বোঝাপড়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের গল্প।

    মন্তেস ও ভাসকেজের পথচলা যেন একই সুতোয় গাঁথা। শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ একসাথেই এসেছেন তারা। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে ভাসকেজ বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বা ১১ বছর, তখন প্রথম ওকে দেখি। মেক্সিকোর ক্লাব ‘পাচুকা’র হয়ে খেলার সময় আমাদের পরিচয়। সেখানেই আমরা জানতে পারি যে আমরা একই রাজ্যের, একই অঞ্চলের ছেলে। কঠিন সময়ে নিজের এলাকার কাউকে পাশে পাওয়াটা অন্যরকম এক মানসিক শক্তি দেয়।’

    পাচুকার পর সি মারোনেস দে সোনোরা, মন্টেরেই ক্লাব হয়ে আজ মেক্সিকো জাতীয় দল প্রতিটি ধাপেই এই দুই বন্ধু একসাথে বড় হয়েছেন। ভাসকেজ বলেন, ‘একই এলাকার হওয়ায় আমরা সব সময় একে অপরের খেয়াল রাখতাম। আমি যখন নতুন কোনো ক্লাবে যেতাম, কাউকে চিনতাম না, তখন মন্তেসই আমাকে স্বাগত জানাত, নানা বিষয়ে সাহায্য করত। আমরা বহু বছর ধরে একে অপরকে খুব ভালো করে চিনি।’

    এই দুই বন্ধুর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য ছিল টোকিও অলিম্পিকে মেক্সিকোর হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়। সেই দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন। ভাসকেজের বিশ্বাস, দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান মেক্সিকো দলকে একটি পরিবারের মতো করে তুলেছে।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড নিয়ে ভাসকেজ অবশ্য কৃতিত্ব দিতে চান পুরো দলকে, ‘দলকে গোল হজম না করার নিরাপত্তা দিতে পারাটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতির। তবে গোল খাইনি বলেই যে রক্ষণভাগ নিখুঁত, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় গোলরক্ষক বা অন্য সতীর্থরা আমাদের নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, অথচ সব কৃতিত্ব দেওয়া হয় ডিফেন্সকে। আসলে এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’

    ঠে মন্তেস ও ভাসকেজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, দুজনের বোঝাপড়াটা কতটা সহজাত। একজন এগিয়ে গেলে অন্যজন জায়গা সামলে নেন, একজনের ভুল অন্যজন ঢেকে দেন। একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় তারা মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুর্গে পরিণত করেছেন।

    আগামীকাল আজতেকা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইনদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিতে মেক্সিকোর মূল ভরসা তাই এই দুই বাল্যবন্ধুর ‘ডিফেন্সিভ পার্টনারশিপ’।

  • ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

    ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দল ব্রাজিল। আর এ নিয়ে চারবার বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে। অথচ বিশ্বকাপে নরওয়েকে কোনো দিন হারাতে পারেনি।

    এই দুই দলের চারবারের দেখায়, দুবার জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। মানে আজ ইতিহাস বদলানোর মিশনেই নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

    ১৯৮৮ সালে ওসলোতে দুই দলের প্রীতি ম্যাচ। কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে ব্রাজিল তখন নতুন করে দল গোছাচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে ছিল গড়পড়তা এক দল। প্রথম গোলটা দেয় ব্রাজিলই, গোল করেন রোমারিও। কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয়।

    প্রায় এক দশক পর, ১৯৯৭ সাল। জাগালোর অধীনে রোনালদো-রোমারিওদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত ব্রাজিল আবার ওসলো সফরে যায়। সবাই ব্রাজিলের একচেটিয়া জয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাড গোল–উৎসব করেন। ডেনিলসন ও রোমারিও গোল করলেও নড়বড়ে রক্ষণ সেদিন ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেনি।

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই মহানাটক

    ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন। এই দ্বৈরথের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এদিনই লেখা হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ভেন্যু ছিল মার্সেইর স্টেড ভেলোড্রম। ব্রাজিল ততক্ষণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে।

    তবু কোচ জাগালো মাঠে নামিয়েছিলেন পূর্ণ শক্তির দল। দলে ছিলেন রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতো। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে নরওয়ের দরকার ছিল জয়। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত কোনো গোল হয়নি। এরপর ডেনিলসনের চমৎকার এক ক্রস আসে। দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বেবেতো। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। টোরে আন্দ্রে ফ্লো সমতা ফেরান।

    ম্যাচের আসল নাটক তখনো বাকি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর জুনিয়র বাইয়ানো ফ্লোর জার্সি টেনে ধরেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে কেতিল রেকডাল গোল করেন। নরওয়ে পেয়ে যায় ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয়। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন।

    সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দুঙ্গার অধীনে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে আবার ওসলো সফরে গিয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি।

    ড্যানিয়েল কারভালহো ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন। কিন্তু মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।এরপর দীর্ঘ ২০ বছর এই দুই দল আর কখনো মুখোমুখি হয়নি। আজ রাতের শেষ ১৬-এর লড়াই কি পারবে ব্রাজিলের এই দুই দশকের ক্ষতে প্রলেপ দিতে? নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের এই ‘অজেয়’ রূপকথা?

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে খেলবে মিসরের বিপক্ষে। পরশু আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর; যা ডালাস থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশ ডেপুটি চিফের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে ডালাস পুলিশ সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। ডালাস পুলিশ বিভাগ নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল রাতে ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডালাস পুলিশ বিভাগ আমাদের কমিউনিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কথোপকথনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আজ (গতকাল) মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপহার বিনিময় করেন।’

    ডালাস পুলিশ বিভাগের ডেপুটি চিফ ইসমাইলের সঙ্গে মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, কোচ হোসাম হাসানসহ অনেকে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হিউস্টনে মিসরের কনসাল জেনারেল শেরিফ মোখতার , মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এবং মিসর ফুটবল দলের পরিচালক ইবরাহিম হাসান। যাঁদের মধ্যে হানি আবু রিদা ফিফা কাউন্সিলের একজন বিশিষ্ট সদস্য।

    পরশু রাতে ডালাসে টাইব্রেকারে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করে ডালাস পুলিশ। মিসরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ডালাস পুলিশ লিখেছে, ‘গতকাল (গত পরশু) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মিসর দলকে অভিনন্দন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর পরেও তাদের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসর দলের সঙ্গে ঘটেছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হোটেলে নিরাপত্তাকর্মী ও দলটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মিসর দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতিতে পৌঁছেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসর দলের সঙ্গে তো সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করল ডালাস পুলিশ।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    ধ্বংসস্তূপে হাজারো মরদেহ, তাঁবুতে তাঁবুতে আতঙ্ক

    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি বালুময় পথে নীল, হলুদ ও সাদা রঙের একটি ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়াচ্ছিল ১৪ বছর বয়সী কিশোর কারাম। যুদ্ধ শুরুর আগে তার স্বপ্ন ছিল, একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। তবে তার এই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
    বর্তমানে বাস্তুচ্যুত এই কিশোর সিএনএনকে বলেছে, আমার স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় খেলতাম। যুদ্ধের আগে জীবনটা খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু এখন আর জীবন বলে কিছু নেই।
    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে একসময় ভূমধ্যসাগরের নীল দিগন্ত দেখা যেত, সেখানে এখন শুধু পোড়া কৃষিজমি, ধ্বংসপ্রাপ্ত ফলের বাগান এবং অসংখ্য ধ্বংসস্তূপ।
    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে, তখন গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তারা এমন একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে বসবাস করছেন যার বাস্তব প্রভাব তারা অনুভব করছেন না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তব পরিবর্তন নেই
    দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধ ও অবরোধের পর গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস দুই ধাপের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের কথা ছিল।
    কিন্তু আট মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এসব পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ মে মাসেই সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা একটি “বিপজ্জনক স্থবির অবস্থার” মধ্যে রয়েছে।
    চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস সম্প্রতি সাইপ্রাসে বৈঠক করলেও ভবিষ্যৎ পথ এখনও স্পষ্ট নয়। হামাসের কাছ থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার জন্য যে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের কথা ছিল, তার কোনো সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীও এখনও মোতায়েন হয়নি।
    অন্যদিকে ইসরাইল গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
    গত মাসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও এলাকা দখলের ইঙ্গিত দেন।
    অপরদিকে হামাসও পুনর্গঠিত হয়েছে, অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই
    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন।
    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, অক্টোবরের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন অন্তত একজন শিশু নিহত হয়েছে।
    জুন মাসে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন অভিযোগ করে, গাজায় শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরাইল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে “জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক রক্ত অপবাদ” বলে অভিহিত করেছে।

    ‘এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই’
    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে বাস্তুচ্যুত ত্রাণকর্মী স্যালি সালেহ বলেন, আপনি যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় বোমা হামলার শিকার হতে পারেন। এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।
    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের অনেকেই একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
    অস্বাস্থ্যকর অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসের কারণে চর্মরোগ ও পরজীবী সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাসের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় এসব রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
    স্যালি সালেহ জানান, ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেজি রাতে তাঁবুতে ঢুকে শিশু ও নবজাতকদের কামড়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি মানুষের ওপর আক্রমণও করছে।
    আমরা এমন অনেক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সন্তানদের ইঁদুর কামড়েছে। তারা আতঙ্কে আছেন, আবারও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, বলেন তিনি।

    আবর্জনা, নোংরা পানি ও মানবিক সংকট
    গাজা সিটির পানি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হুসনি নাদিম মোহান্না জানান, শৌচাগারের সংকটের কারণে মানুষ মাটিতে গর্ত করে অস্থায়ী পায়খানা তৈরি করছে। এতে মাটি ও পানিদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
    ইঁদুর ত্রাণের চাল ও আটা নষ্ট করে ফেলছে। অনেক পরিবার খাবারের পাত্র তাঁবুর ছাদে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
    ইসরাইলি সংস্থা সিওজিএটি দাবি করেছে, গত অক্টোবর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম সংখ্যা। তাদের ভাষ্য, গাজার মানবিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
    তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে ইসরাইলি বিধিনিষেধ এবং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার কারণে মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মরদেহ
    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭৮৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির জেরুজালেমভিত্তিক মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকলে মরদেহ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় উচ্চতা, আঙুলের ছাপ, দাঁতের গঠন, পুরোনো আঘাত বা জন্মদাগের মতো তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    শিশুদের খেলায়ও যুদ্ধের ছাপ
    স্যালি সালেহ জানান, গাজার শিশুরা খেলতে গিয়েও জানাজা ও দাফনের দৃশ্য অভিনয় করছে, যা তাদের মানসিক ট্রমার গভীরতা প্রকাশ করে।
    গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত ২৪ বছর বয়সী লেখক ইয়াহইয়া আলহামারনা বলেন, যুদ্ধ শুধু ভবিষ্যৎ নয়, মানুষের পরিচয়ও কেড়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গাজায় বেকারত্বের হার বেড়ে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পূর্বে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
    আলহামারনা বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রায়ই শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, মানুষ হিসেবে নয়। এটি অমানবিক।
    তিনি বলেন, ধ্বংসের মধ্যেও মানুষ লিখছে, কথা বলছে এবং আশা ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিহত ফিলিস্তিনি লেখক ও অধ্যাপক রিফাত আল-আরিরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি চিন্তা, সংস্কৃতি ও শব্দের শক্তির প্রতীক ছিলেন। মানুষ এখনও লিখছে, কথা বলছে এবং আশা করছে। আর এটিই এক ধরনের প্রতিরোধ।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশ পর্ব শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শেষ ষোলোর লাইনআপ। কলম্বিয়ার জয়, আর্জেন্টিনা ও মিসরের নাটকীয় অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে নকআউটের পরবর্তী ধাপের সূচি। এবার শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকা ১৬টি দল মুখোমুখি হবে আরও কঠিন পরীক্ষায়।

    প্রথম ম্যাচেই কানাডার সামনে থাকবে মরক্কোর চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল লড়বে নরওয়ের বিপক্ষে, আর যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

    বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন মুখোমুখি হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে আফ্রিকার প্রতিনিধি মিসরের বিপক্ষে, আর শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া।শেষ ষোলোর সূচি (বাংলাদেশ সময়)

    কানাডা বনাম মরক্কো
    হিউস্টন স্টেডিয়াম
    ৪ জুলাই, রাত ১১:০০

    প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স
    ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
    ৫ জুলাই, রাত ৩:০০

    ব্রাজিল বনাম নরওয়ে
    নিউইয়র্ক
    ৬ জুলাই, রাত ২:০০

    মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড
    মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
    ৬ জুলাই, সকাল ৬:০০
    পর্তুগাল বনাম স্পেন
    ডালাস স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১:০০

    যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম
    সিয়াটল স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, সকাল ৬:০০

    আর্জেন্টিনা বনাম মিসর
    আটলান্টা স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১০:০০
    ইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া
    বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার
    ৮ জুলাই, রাত ২:০০

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। একবার হারলেই বিদায়, আর জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে টানা কয়েকটি হাইভোল্টেজ লড়াই।

  • দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও নিখুঁত দলের নাম ফ্রান্স। শুধু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শো করছে না দলটি, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে শাসন করছেন ফরাসিরা। যে ধারার ফুটবল খেলছে তারা, এই দুর্বার গতির ফ্রান্সকে আটকানোর সাধ্য আছে কার? গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য আর নকআউটে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়ে দেওয়ার পর ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়েছে। এবার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে তাদের সামনে প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ‘বুলেট’ গতির ফ্রান্সকে কী থামাতে পারবে প্যারাগুইয়ানরা? সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
    এবার আরো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। গতিময় গোছানো ফুটবল আর বিধ্বংসী আক্রমণ ভাগই অন্য দলের চেয়ে নিজেদের আলাদা করে রাখছে দলটি। তাদের দলে চোখে পড়ার মতো অনেক কিছুই আছে। ঐক্যতা, শৃঙ্খলা, বোঝাপড়া, স্পিরিট—সব মিলে দলটি অনন্য। গত আসরের চেয়েও উচ্চগতির ফুটবল খেলছে ফ্রান্স। দলটির প্রাণ এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বড় মঞ্চের তারকা বনেছেন ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়। এবার আরো পরিপক্ব হয়ে এসেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক ম্যাচে গোল উপহার দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল তারও। এতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ জোড়ালোভাবেই আছেন এই ফরাসি তারকা। তার সামনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল পেলেই চলমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাবেন এমবাপ্পে। আর দুটি গোল পেলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে নাম লেখাবেন তিনি। এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, বার্কেলোরাও মাঠে যে নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাদের আটকানো অনেক কঠিন কাজ হবে। ফ্রান্স ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা মুখোমুখি হতে হবে প্যারাগুয়েকে। বিশেষ করে তাদের জন্য ফরাসি আক্রমণভাগকে সামলানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের হবে। অবশ্য সাবেক চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে শেষ বত্রিশের ম্যাচে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় এসেছে প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগের সক্ষমতা দেখা গেছে। বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশলই অবলম্বন করবে প্যারাগুয়ে।
    নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করছেন না ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। প্যারাগুয়ের ম্যাচটি খুবই মনোযোগ দিয়েছে দেখেছেন এই কোচ। প্যারাগুয়ে যোগ্যতা প্রদর্শন করেই জিতেছে। ফলে তাদের বিপক্ষে ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। দেশমের মতে, প্যারাগুয়ে সাউথ আমেরিকান টিম। খুবই শক্তিশালী তারা। তাদের দলে বেশকিছু উচ্চমানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। শক্তি দেখিয়েই শেষ ষোলোয় ম্যাচ খেলছে প্যারাগুয়ে। তাই এই দলটির বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ সহজ হবে না। অন্যদিকে, অতীতের হিসাব-নিকাশও চুকিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে এই ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল তারা। সেবার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২৮ বছর পর আবার একই মঞ্চে মুখোমুখি দুদল। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে কোচ গুস্তাভো আলফারোর দল। আর সেটি তারা পারবে কি না—সময়ই বলে দেবে। এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফরাসিদের বিপক্ষে জেতার কোনো রেকর্ড না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি না প্যারাগুয়ে, সেটিই দেখা যাবে মাঠের লড়াইয়ে।

  • ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা

    ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এক আত্মঘাতী গোলে মেসির ভাগ্য বদলে গেল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে ক’টি খেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে কেপ ভার্দে-আর্জেন্টিনা ম্যাচ তার একটি। অনেকেই ভেবেছিলেন, পুঁচকে কেপ ভার্দে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই আসতে পারবে না।

    মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবলে যে এতোটা এগিয়েছে—তা কল্পনাতীত। আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশনসে অনেকবারই এই ব্লু শার্করা ঝড় তুলেছে। আজকের খেলায় দু’বার পেছন থেকে তারা আর্জেন্টিনার সঙ্গে যেভাবে লড়াই করেছে—তা ছিল রোমাঞ্চকর, অবিশ্বাস্য। বিবিসির স্প্যানিশ ফুটবল রাইটার এলিজাবেথ কন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, কেপ ভার্দের লড়াই দেখে তিনি তাদের ফ্যান হয়ে গেছেন। ভাবা যায় এই নীল হাঙর ২৮ মিনিট পর্যন্ত মেসিদের গতিরোধ করেছিল! তবে ২৯ মিনিটের মাথায় মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।খেলার ভাগ্যটা তখন অনেকেই মনে করেছিলেন এখানেই বুঝি শেষ। কিন্তু কেপ ভার্দে গোল পরিশোধ করে সব হিসাব পাল্টে দেয়। আর্জেন্টিনা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিশেষ করে মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আসলেই এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল রচনা করেন। খেলা চলতে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা আর্জেন্টিনার কাছে। এর মধ্যেই আবার ৯৩ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এক জটলা থেকে গোল করে বসেন। গোলটি ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন কেপ ভার্দে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সে কি আর হয়! ঠিক কয়েক মিনিট বাদেই সিডনি লোপেস কাবরালের গোলে কেপ ভার্দে খেলায় ফিরে আসে। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় । কাবরালের গোলটি ছিল অপূর্ব। যেভাবে তিনি গোলটি করলেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। এ যেন মেসিদের কাছে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার মতো। কী যে গোল! চলুন আরেকবার দেখে আসি।

    এই গোলের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কপালে ভাজ। কোচ স্কালোনির মুখের দিকে তো তাকানোই যাচ্ছিল না। তখন মাঠের অবস্থা যা ছিল তাতে মনে হচ্ছিল— এটা শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি শুটআউটে যাবে। তখনই রোমেরোর হেড থেকে বল কেপ ভার্দের বোর্জেসের হাতে লেগে চলে যায় জালে । অসহায় ভোজিনিয়া শুধু তাকাচ্ছিলেন। আসলে এই লড়াইয়ের সমাপ্তি এভাবে হবে ভাবেননি কেউ। কিন্তু আর্জেন্টিনা সারাক্ষণই বুঝেছে— কত ধানে কত চাল। আজকের লড়াইয়ে ফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে বটে। কিন্তু আসল জয়ী কেপ ভার্দে। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ফুটবল যেহেতু গোলের খেলা। গোল নেই, ইতিহাসে আপনার নামও নেই। তবে এই খেলাটিকে ঘিরে শুধু মায়ামি স্টেডিয়ামে নয়, ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দে লড়াই করেছে। এই লড়াইয়ের কথা অনেকদিন মনে থাকবে। এরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা সমসাময়িককালে হয়েছে—রেকর্ড এমনটা বলে না। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে আসলেই এক রূপকথা। ৭ই জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর।

  • আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে যত রেকর্ড

    আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে যত রেকর্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    নকআউট পর্বে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখলো বিশ্ব। কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দেকে বিদায় করার রাতে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ফুটবল জাদুকর। হয়েছে আরও অনেক রেকর্ড।২০: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন তিনি।১২: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন মেসির মোট গোল অবদান ১২টি (৬ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট)। পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়লেন তিনি।

    ৮: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৮টি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি।

    ৭+: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ৭ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি (২০২২ এবং ২০২৬)। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৬।৭: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গুইলারমো স্ট্যাবিলির এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (১৯৩০ সালে ৮ গোল) ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ১ গোল। আর দক্ষিণ আমেরিকান পুরুষ হিসেবে আদেমিরের রেকর্ড (১৯৫০ সালে ৯ গোল) ভাঙতে লাগবে ২ গোল।৫: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার মাইলফলক ছুঁলেন মেসি। হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি (১৯৩৪-৩৮) এবং ব্রাজিলের ভাভার (১৯৫৮-৬২) পর পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই নজির গড়লেন তিনি।

    ১০: নিজের শেষ ৬টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে সরাসরি ১০টি গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)।

    ১৪: বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর বিশ্বকাপে ১৪টি গোল করলেন মেসি। এই তালিকায় ৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। বাকি সব ৩৫+ বছর বয়সী ফুটবলাররা মিলে বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৫ গোল।

    ১৪: বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ২২টি দলের মধ্যে ১৪টি দলের বিপক্ষেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

    ৩: ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হলেন মেসি। তার আগে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর ১৪৭ দিন) এবং পেপে (৩৯ বছর ২৮৩ দিন)।

    ১: মেসির প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসিস্টের খাতা খুললেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ১০ম আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে মেসিকে অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। ৪২.৫ মিটার দূর থেকে দেয়া এই পাসটি গত ৬০ বছরে কোনো আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের দীর্ঘতম অ্যাসিস্ট।

    ১: ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট- উভয় কীর্তি গড়লেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।

    ৩০ ও ১৩: বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ালেন মেসি। পুরুষ ফুটবলে প্রথম হিসেবে ৩০টি ম্যাচ খেললেন তিনি। পাশাপাশি নকআউটে এটি তার ১৩তম ম্যাচ।

    ১: নিজের ২৭তম জন্মদিনের আগের দিন কেপ ভার্দের হয়ে প্রথম নকআউট গোল করলেন ডেরয় দুয়ার্তে। প্রথম আফ্রিকান হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করলেন তিনি।

    ১০০: আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচ পূর্ণ করলেন লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে দলের রেকর্ড ৭৩ জয়, ১৮ ড্র ও ৯ হার, জিতেছেন ৪টি বড় ট্রফি।৫: ৪০ বছর ৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে ভোজিনহা চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে খেলা পঞ্চম ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় হলেন। ২০২৬ সালের আগে ইতিহাসে মাত্র দুজন এমন বয়সে নকআউট খেলেছিলেন।

    ১৮: ম্যাচে ৮টি সেভ করে মোট ১৮টি সেভ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে গোলকিপারদের তালিকায় তিনে আছেন ভোজিনহা।

    ৮: ২০১৪ সালে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর ভোজিনহার ৮টি সেভ কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের সর্বোচ্চ সেভ (এর মধ্যে ৫টি সেভ ছিল মেসির শট থেকে)।

    ৩: ম্যাচের ১১১ মিনিটে ডিনে বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার ৩য় লেটেস্ট (সবচেয়ে দেরিতে) গোল। ২০১৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ডি মারিয়ার (১১৮ মিনিট) গোলের পর এটিই তাদের সবচেয়ে দেরিতে পাওয়া গোল।

    ৫৩: ২০২৬ বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩টি গোল হয়েছে, যা ১৯৬৬ সালের পর একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

    ১২: বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে এ নিয়ে ১২টি ম্যাচ জিতলো আর্জেন্টিনা। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে এটিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত সময় জয়ের রেকর্ড।

  • কেপ ভার্দে চ্যালেঞ্জ উতরিয়ে শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনা

    কেপ ভার্দে চ্যালেঞ্জ উতরিয়ে শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কি অবিশ্বাস্য, অসাধারণ ম‍্যাচই না দেখলো গোটা বিশ্ব । রাউন্ড অফ ৩২ এই ম্যাচে কখনো গোল করে এগিয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা । পরক্ষণেই সেই গোল শোধ দিয়ে দিচ্ছিলো কেপ ভার্দে । মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বার বার মেসির সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করছিলেন এই নীল হাঙর। দুটি ফ্রি-কিকও আটকে দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা দলটির। শেষ পর্যন্ত দম বন্ধ করা এই ম‍্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপে পথচলা থামে নবাগত কেপ ভার্দের। ম‍্যাচ হারলেও শেষ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে অসাধারণ এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে আফ্রিকান দেশটি। বিশ্ব মঞ্চে অভিষেকটা স্মরণীয় করে বিদায় নিচ্ছে ভোজিনিয়া বাহিনী। এই ম্যাচেও গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ঘাবড়েও যায়নি। বারবার তারা আর্জেন্টিনার লিড কেড়ে নিয়ে ম্যাচটাকে নিয়ে আসে অতিরিক্ত সময়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটতে দেয়নি লিওনেল স্কালোনির শীষ্যরা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যায় শেষ ষোলতে। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মিশর। এদিন ম্যাচের ২৮তম মিনিটে আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দেন মেসি। তার উদ্দেশে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।

    ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।এরপর আবারও লিডে ফিরতে মরিয়া ছিলেন মেসি-আলভারেজরা। কিন্তু বারবার তাদের হতাশ করেছেন ভোজিনিয়া এবং কেপ ভার্দে ডিফেন্ডাররা। ৬৩ মিনিটে গোলরক্ষক একাই ছিলেন, তবে মেসিকে ঠেকাতে এগিয়ে এসে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভোজিনিয়া শরীর এলিয়ে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। এরপর একরাশ হতাশা উপহার দেন মিনিট দশেকের মাথায়।আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক। ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন।অবশ্য এর আগপর্যন্ত হালে পানি ছিল না আর্জেন্টিনার। তাদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে কেপ ভার্দের রক্ষণে। মেসির দুটি ফ্রি-কিক এবং একটি ওয়ান-অন-ওয়ান আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। তার বীরত্বেই ম্যাচ ৯০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিটে গিয়ে গড়ায়। সেখানে ৩-২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে উঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

  • ‘তোমাকে নিয়ে সবার গর্বিত হওয়া উচিত’, ভোজিনহাকে বলেছেন মেসি

    ‘তোমাকে নিয়ে সবার গর্বিত হওয়া উচিত’, ভোজিনহাকে বলেছেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন ভোজিনহা। লিওনেল মেসির ৫টি শটসহ পুরো ম্যাচে মোট ৮টি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। ৩-২ গোলে জয়ের পর মাঠ ছাড়ার আগে এক আবেগঘন মুহূর্তে ভোজিনহাকে বুকে জড়িয়ে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।মেসির সেই প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়ে ভোজিনহা বলেন, “ম্যাচ শেষে আমি নিজেই মেসির দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। ও আমাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলো এবং বললো- ‘তুমি দুর্দান্ত খেলেছ। তোমাদের মানুষদের আজ তোমাকে নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত।’ লিও মেসির মতো একজন কিংবদন্তির মুখ থেকে এমন কথা শোনা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও আবেগপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”মেসির প্রশংসার জবাবে তিনি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ধন্যবাদ লিও, তুমিই সর্বকালের সেরা।’ এরপর কেপ ভার্দের এই গোলকিপার মেসির জার্সিটি বদল করার অনুরোধ জানালে মেসি সানন্দে রাজি হন। জানান, ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকার শেষ করে টানেলের ভেতরেই তিনি নিজের জার্সিটি ভোজিনহাকে দিয়ে দেবেন।বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে আমরা আজ সমানে সমানে লড়েছি, এমনকি ম্যাচটা জেতার সুযোগও ছিল আমাদের। আমরা আজ গর্বিত। এই স্মৃতি আজীবন আমার হৃদয়ে খোদাই করা থাকবে। আশা করি, আমাদের এই লড়াই দেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম আগামীতে বিশ্বের সেরা সেরা লীগে খেলার অনুপ্রেরণা পাবে।’

  • ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া, প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড

    ২০১৪ সালের সেই স্মৃতি কি মনে আছে? সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কলম্বিয়া। মাঝে কিছুটা ছন্দপতন আর কাতার বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার হতাশা ভুলে আবারও সেই চেনা রূপেই ফিরছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। শেষ ৩২ পর্বের ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়ানরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শুরু থেকেই ঘানার ওপর চড়াও হয়ে খেলে কলম্বিয়া। ম্যাচের শুরুতেই, ঠিক ১৪ মিনিটের মাথায় জন আরিয়াসের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় দলটি। শেষ পর্যন্ত এই একটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    পুরো ম্যাচেই ছিল কলম্বিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য। প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘানার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়া গোল অভিমুখে শট নেয় ৮টি। তবে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো যদি স্ট্রাইকাররা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারতেন। বিশেষ করে পুয়ের্তা ও দিয়াজ ম্যাচের অন্তত চারটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দিয়াজ আরও একবার বল ঘানার জালে জড়ালেও সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে ভিএআর প্রযুক্তিতে সেই গোলটি বাতিল হয়। এর বাইরে মোজিকার একটি নিশ্চিত গোল চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়াকে।

    অন্যদিকে, পুরো ৯০ মিনিটে কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভেদ করে একটি শটও নিতে পারেনি ঘানা। মাঠের পারফরম্যান্সে একেবারেই নিষ্প্রভ থাকা ঘানা এই হারের মাধ্যমে আরও একবার দক্ষিণ আমেরিকান কোনো দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।

    ২০১৮ সালে সর্বশেষ শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া কলম্বিয়া এবার আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের।

  • হেরেও জয়ী কেপ ভার্দে

    হেরেও জয়ী কেপ ভার্দে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই নীল জার্সির ফুটবলাররা কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, কেউ মুখ ঢাকলেন দুই হাতে। চোখের জল থামানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। তবে সব চোখের জল শুধু কান্না নয়, অদম্য সাহস এবং গর্বের গল্প গাথাও আছে এই জলে!
    বিশ্বকাপের এই ম্যাচের ফলাফল জানাচ্ছে, কেপ ভার্দে হেরেছে। কিন্তু ফুটবল কি শুধু স্কোর লাইনের গল্প?
    এই ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি সত্য জন্ম নিল- সব পরাজয় পরাজয় নয়।
    কেপ ভার্দে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে মনে হলো বিশ্বকাপ যেন তাদের বিদায় জানাতে রাজি নয়। ছোট্ট দ্বীপদেশটি প্রমাণ করে গেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে সত্যিই কিছু নেই!
    মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের একটি দেশ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৬৭। ইতিহাস, অর্থ, তারকা কিংবা পরিকাঠামো, পেছনের পরিসংখ্যান-কোনো দিক থেকেই আর্জেন্টিনার ধারেকাছেও নয়। কিন্তু ১২০ মিনিট শেষে এই দলটিই মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছে, তারা দেখিয়ে গেছে সাহসের নিজস্ব একটা ভাষা আছে।
    ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতে তাদের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছিল। নিজেদের অর্ধে ঘন রক্ষণ, হাইলাইন ডিফেন্স করে মাঝমাঠে দূরত্ব কমিয়ে রাখা, মেসির জন্য আলাদা নজরদারি, আর সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। আর্জেন্টিনার প্রতিটি আক্রমণের সামনে যেন নীল দেয়াল উঠে দাঁড়াচ্ছিল কেপ ভার্দের ওটা একাদশ। একবার একজন, পরক্ষণেই আরেকজন। একজনের ভুল আরেকজন ঢেকে দিচ্ছিল। যেন এগারোজন নয়, পুরো একটি জাতি রক্ষণে নেমেছে।
    আর সেই দেয়ালের শেষ প্রহরী ছিলেন গোলকিপার ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক আবারও মনে করিয়ে দিলেন, অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। একের পর এক সেভে তিনি আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেছেন। স্পেনের বিপক্ষে যেমন করেছিলেন, তেমনি এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বারবার থামিয়ে দিয়েছেন। তার গ্লাভস যেন বারবার বলছিল—”এত সহজে নয়, এই চত্বর টপকানো।”
    তবু বিপক্ষে যখন লিওনেল মেসি, তখন কখনও কখনও পরিকল্পনারও সীমা থাকে। অসাধারণ এক ফিনিশে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। ম্যাচের বয়স তখন ২৯ মিনিট। এমন মুহূর্তে অন্য কোন নবীন দল হয়তো তখন ভেঙে পড়ত। কেপ ভার্দে পড়েনি।
    তারা ফিরে এসেছে একবার নয়, দুবার। তাও দারুণ দাপুটে ভঙ্গিতে।
    মেসির গোলের পর সমতা ফিরিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে আবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি। কাবরালের দুর্দান্ত গোল আবারও তাদের ফিরিয়ে এনেছে ম্যাচে। কোন প্রশ্ন ছাড়া যে কেউ বলবে কাবরালের এই গোলটা চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোল। যে দুরূহ অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করলেন, এমন কায়দায় গোল করাটা কেবল স্বপ্নেই চিন্তা করা যায়!
    ম্যাচের প্রতিটি সমতাসূচক গোলের সঙ্গে যেন পুরো ফুটবল বিশ্ব উঠে দাঁড়িয়েছে এই ক্ষুদ্র দেশের পাশে।
    শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের সঙ্গ দেয়নি। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিনেই বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার সমাপ্তি লিখে দেয়।
    কিন্তু সত্যিই কি সমাপ্তি?
    বিশ্বকাপে স্পেনকে গোলশূন্য আটকে রাখা, আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট খেলতে বাধ্য করা, দুবার পিছিয়ে থেকেও ফিরে আসা, আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাঁপিয়ে দেওয়া-এসব কোনো ছোট দেশের গল্প নয়। এগুলো বড় সাহসের গল্প।
    স্কটল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন ঠিকই বলেছেন, “কেপ ভার্দে হেরেছে, কিন্তু জিতেছে। তারা সাহস, ঐক্য আর নিজেদের ওপর অবিচল বিশ্বাসের এক অসাধারণ উদাহরণ রেখে গেছে। এই বিশ্বকাপের গল্প যদি একটি দলকে নিয়ে লেখা হয়, তবে সেটি কেপ ভার্দে।”
    ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিলের চোখেও এটি ছিল ” কোন আন্ডারডগের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি।”
    হয়তো কয়েক দিন পর মানুষ মনে রাখবে, আর্জেন্টিনা রাউন্ড অব সিক্সটিনে উঠেছিল।
    কিন্তু বহু বছর পরও মানুষ আরও একটি গল্প বলবে-একটি ছোট্ট দ্বীপদেশের কথা, যারা বিশ্বের সেরা দলের সামনে মাথা নত করেনি।
    তারা আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি। ট্রফি জেতেনি, কিন্তু মানুষের হৃদয় জিতেছে।
    যারা বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের জন্য স্থায়ী একটি ঠিকানা বানিয়ে গেছে।
    ধন্যবাদ, কেপ ভার্দে।
    তোমরা বিদায় নিয়েছ, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় থেকে কখনও বিদায় নেবে না।
    সুপার্ব শো!