খেলাধুলা

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ফ্র্যান্স। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন।

    বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডে গড়েন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

    সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপ্পে।

    শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সবখানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। চলে প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে তুমুল তর্ক-বির্তক, পতাকা টানানো। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপ পরিণত ভিন্ন এক উৎসবে। সেই চেনা বাস্তবতাকেই পর্দায় তুলে আনছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’। খেলা হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাঠে, কিন্তু সমর্থকদের উন্মাদনায় যেন আরেকটি বিশ্বকাপ বসে বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লায়। সেই গল্পই হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরা হবে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’-এ।

    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন তারিক মুহাম্মাদ হাসান। এতে অভিনয় করেছেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, তাসনুভা তিশা, লামিমা লাম, শরাফ আহমেদ জীবন, সহীদ উন নবী ও ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল।

    নির্মাতা তারিক মুহাম্মাদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের মহল্লাগুলোতে বিশ্বকাপ এলেই যে মজার মজার ঘটনা ঘটে, সেগুলোই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে।’

    ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’র মাধ্যমে প্রথমবার অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। অভিনয়ের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, এর আগে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও নাটক বা সিরিজে অভিনয় এবারই প্রথম।

    জামাল বলেন, ‘এর আগে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নাটকে বা সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।’

    অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে ‘ম্যাজিক্যাল’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বেশ ম্যাজিক্যাল লাগছে। ক্যামেরার সামনের অভিনয়ের ব্যাপারটা সহজ নয়।’

    নিজের অভিনয় নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও বেশ খোলামেলা জামাল। তিনি বলেন, ‘আমার অভিনয় দেখে দর্শকরা মজা করুক, মিমস বানাক, ট্রল করুক- তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

    জানা গেছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে আগামী ৭ জুলাই থেকে সিরিজটি স্ট্রিমিং শুরু হবে। আট পর্বের এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ মিনিট।

  • মেসির জন্মদিনে চিঠি লিখে স্বপ্ন পূরণ ৮ বছরের খুদে মানুর

    মেসির জন্মদিনে চিঠি লিখে স্বপ্ন পূরণ ৮ বছরের খুদে মানুর

    লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিনে ৮ বছর বয়সি খুদে ভক্ত মানু লিটভির লেখা একটি চিঠি আবেগাপ্লুত করেছিল পুরো আর্জেন্টিনাকে। আবেগঘন এক চিঠির সুবাদে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মাঠে বসে দেখার আমন্ত্রণ পেয়েছেন ৮ বছর বয়সী মানু লিতভি।

    বিখ্যাত স্ট্রিমিং অনুষ্ঠান ‘সেরিয়া ইনক্রিবল’-এ পড়ে শোনানো সেই চিঠিটি মেসির প্রতি মানুর নিখাদ ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কারণে রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় তারকা জুটি পাউলা চাভেস এবং পেদ্রো আলফনসো খুদে মানুকে এমন এক সারপ্রাইজ উপহার দিলেন যা সে কখনো কল্পনাও করেনি। মানু এবং তার পুরো পরিবার আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্যালারিতে বসে সরাসরি আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন জোগানোর টিকিট ও আমন্ত্রণ পেয়েছে!

    স্ট্রিমিং স্টুডিওতে এই অবিশ্বাস্য খবরটি পাওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি খুদে মানু। চোখের পানি মুছতে মুছতে সে জড়িয়ে ধরে তার বাবা-মাকে, আর পুরো স্টুডিও তখন ফেটে পড়ে করতালিতে।

    মানু তার চিঠিতে লিখেছিল, ‘তোমার খেলার শৈলী তো বটেই, তবে একজন মানুষ হিসেবে তুমি যেমন—সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।’

    চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়কে ঘিরে। মানু লিখেছিল, ‘তুমি যখন বিশ্বকাপ জিতলে, তখন আমাদের মতোই কেঁদেছিলে। তোমার সেই কান্না আমাকে শিখিয়েছে যে বড় বড় মানুষেরাও আবেগী হন এবং কঠোর পরিশ্রম করলে তার ফল একদিন পাওয়াই যায়।’

  • স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ যখন চেনা ছন্দে ডানা মেলে, তখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে স্বস্তি থাকার কথা নয়। লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু আর রদ্রি-পেদ্রিদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে থাকা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে যেকোনো দলেরই একটু কেঁপে ওঠার কথা। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে যেভাবে ‘লা রোহা’রা শাসন করেছে, তাতে আজ রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে অনেকেই হয়তো অস্ট্রিয়ার কোনো সুযোগই দেখছেন না।

    খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দলগুলোই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাগজে-কলমে হয়তো স্পেনই যোজন যোজন এগিয়ে, কিন্তু নকআউটের এই মঞ্চে ফেবারিটের তকমা যে কত দ্রুত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে, তা দেখা গেছে অনেকবার। স্পেন সেটা ভালোভাবেই বোঝে।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্প্যানিশরা অবশ্য চেনা রূপে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি। ইয়ামালের জাদুকরি পায়ের ছোঁয়ায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরই মূলত তাদের আক্রমণভাগ আসল ধার ফিরে পায়। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি তাদের এনে দেয় গ্রুপ ‘এইচের’ শীর্ষ স্থান।

    মাঠের সেই তুমুল লড়াই প্রসঙ্গে পাউ কুবারসি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একটি যুদ্ধ ছিল, তবে এটি আমাদের এই আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে যে আমরা লড়াই করতে জানি। আমাদের ভেতরে সেই লড়াকু মানসিকতা আছে, আর আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

    অস্ট্রিয়ার এই পর্যন্ত আসার গল্পটা যেন কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা। জর্ডানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলের হারে এক ধাক্কায় মাটিতে আছড়ে পড়েছিল তারা। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাশা কালাইদজিচের সেই সমতাসূচক গোল অস্ট্রিয়াকে এনে দিয়েছে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।

    তবে নকআউটের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি খুব একটা ভাবছেন না অস্ট্রিয়ান অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের ম্যাচের জন্যই তো স্বপ্ন বুনেছেন তিনি। নিজের রোমাঞ্চ লুকিয়ে না রেখে আলাবা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট তো আর আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আপনি আসেনই এই ধরনের ম্যাচ খেলার জন্য। এই প্রতিযোগিতায় আপনাকে কেবল সেরা দলগুলোরই মুখোমুখি হতে হবে এবং আপনি যত সামনে এগোবেন, প্রতিপক্ষ তত কঠিন হবে। আমরা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি; আমরা শতভাগ অনুপ্রাণিত এবং জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নামব। আমরা জানি আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠিন লড়াই, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

    দুই দলের দ্বৈরথে স্পেনের আধিপত্যই চোখে পড়বে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের মুখোমুখি দেখায় স্প্যানিশরা জিতেছে ৯ ম্যাচে। বিপরীতে অস্ট্রিয়ার জয় চারটিতে, আর বাকি ৩ ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় অস্ট্রিয়া ২-১ ব্যবধানে জিতে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্পেনকে।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ম্যাচ তাই স্পেনের জন্য যেমন পুরোনো হিসাব চুকানোর মঞ্চ, অস্ট্রিয়ার জন্য তেমনি চার দশক আগের সেই গৌরবের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর হাতছানি।

  • সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সবকিছু ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচেই তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।

    আগামী ৪ জুলাই ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তার আগে দলীয় অনুশীলনে অংশ নেন রোমেরো। সব ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। তবে এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে শেষ অনুশীলনের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি লিওনেল স্কালোনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিকোলাস ওতামেন্দির পরিবর্তে রোমেরোকে শুরুর একাদশে ফেরাতে চান স্কালোনি।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ডান হাঁটুতে চোট পান রোমেরো। সতর্কতার অংশ হিসেবে জর্ডানের বিপক্ষে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলার সময় একই হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্টে মচকানোর চোটেও ভুগেছিলেন তিনি।

    রোমেরোর ফেরা নিশ্চিত হলেও আক্রমণভাগ নিয়ে এখনো ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে কে খেলবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর্জেন্টিনার কোচের জন্য। লাউতারো মার্তিনেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও হুলিয়ান আলভারেসও সমানভাবে কোচের বিবেচনায় আছেন। কোচিং স্টাফ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    বাম প্রান্তের রক্ষণেও থাকতে পারে চমক। নিকোলাস তালিয়াফিকো কাফের চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে খেলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন ফাকুন্দো মেদিনা, দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    অন্যদিকে মাঝমাঠ নিয়ে স্কালোনির ভাবনা অনেকটাই পরিষ্কার। রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস ও থিয়াগো আলমাদাকে নিয়েই মাঝমাঠ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই কোচের।

  • বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে একটি খেলাকে ঘিরে এতো আলোচনা আর কখনও হয়েছে—এমনটা জানা নেই। এটা এমনই এক লড়াই যা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ বা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। একদিকে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদিত পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। যারা এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি হলো অভিজ্ঞতা আর এক নতুন স্বপ্নের রোমাঞ্চকর লড়াই। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এটি আকাশ-পাতাল তফাৎ। দুই দলের অভিজ্ঞতা যোগ করলে মনে হবে—একপাশে রয়েছে হিমালয় পর্বত, আর অন্যপাশে ছোট মাটির ঢিবি। আর্জেন্টিনার এটা ১৮তম বিশ্বকাপ। মোট তিনবার তারা বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একশটিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। অনেকেই কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বলে বর্ণনা করছেন। তারাই এখন বলছেন, এই লড়াই হতে যাচ্ছে মহাশক্তি বনাম এক রূপকথার। মায়ামি স্টেডিয়ামে কী হবে তা নিয়েই যত হিসেব-নিকেশ। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা কয়েকবার চমক দেখিয়েছে বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের একেবারেই নেই। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান আর্জেন্টিনাকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মানসিক দিক থেকে তারা বেশ চাঙ্গা। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক ও ফুটবলীয় ইতিহাস।

    আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ধর্ম মনে করে। ম্যারাডোনা ও মেসির মতো কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের ফুটবল মূলত পর্তুগালের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। একসময় কেপ ভার্দের সেরা ফুটবলাররা পর্তুগালের হয়ে খেলতেন। পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানির (Nani) জন্ম এই কেপ ভার্দেতেই। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একজন সেরা ফরওয়ার্ড ছিলেন। গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলকে নতুন করে সাজিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। প্রবাসে থাকা প্রতিভাদের একত্র করেছে। কেটেছে বিশ্বকাপের টিকিট। আর্জেন্টিনার আভিজাত্যের বিপরীতে কেপ ভার্দের এই উঠে আসার গল্প ফুটবল ভক্তদের চোখে পানি এনে দেয়। কেপ ভার্দে- আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো হিসেবেই মিল নেই। আর্জেন্টাইন শিবিরের মোট বাজার মূল্য বিলিয়ন ডলারের ওপরে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের পুরো দলের মূল্য যে কোনো একজন বেঞ্চের খেলোয়াড়ের মূল্যের চেয়েও কম। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। যারা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। সেখানে কেপ ভার্দের ভরসা তাদের অধিনায়ক রেকর্ড গোলদাতা রায়ান মেন্দেসের মতো সৈনিক। এছাড়া ইউরোপের মাঝারি সারির ক্লাবে খেলা কিছু লড়াকু ফুটবলার।

    গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বাড়তি শক্তি কেপ ভার্দের। ভোজিনিয়াকে চীনের গ্রেটওয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়। চল্লিশ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক মেসিদের গোলার মতো শটগুলো কীভাবে রুখে দেন, তাই দেখার বিষয়। তাদের অবশ্য হারাবার কিছু নেই। জয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। রয়েছে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। আমরা সবাই জানি, ফুটবলের নিষ্ঠুর সত্য হচ্ছে—আবেগ দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। আর্জেন্টিনার মতো দলের রক্ষণভাগ তছনছ করা প্রায় অসম্ভব। আর সেখানে যদি মেসির পায়ে বল থাকে—তাহলে তো কথাই নেই। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে পরিষ্কার হট ফেভারিট। কেপ ভার্দেকে নিয়ে আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঙ্গলবার ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভিয়েতনামী সাংবাদিক ত্রুং-এর সঙ্গে কথা হয়। যিনি ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। তার মতে, কেপ ভার্দে যদি প্রথম ২০ মিনিট গোল না খেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাতেই একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব ফুটবল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    সহজ ছিল না পথটা, তবে বেশ লড়াই করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের এনআরজি স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা।

    দলের জয়ে গোল করে ত্রাণকর্তা হন ক্যাসেমিরো ও মার্তিনেল্লি। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ের।অন্যদিকে, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

    বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা। দলের জয়ে জোড়া গোল করে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

    এই জয়ের মাধ্যমে শুধু পরের রাউন্ডেই পা রাখেনি ইংল্যান্ড, বরং ঘুচেছে দীর্ঘদিনের এক অস্বস্তিকর রেকর্ডও। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। ১৯৯০ সালের সেই আসরে ক্যামেরুনকে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে হারিয়েছিল তারা।

    আর মঙ্গলবার (৩০ জুন) মেক্সিকো ২-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে বিদায় করে নিজেদের রাউন্ড অব ১৬ নিশ্চিত করেছে।

    আগামী রোববার (৫ জুলাই) রাউন্ড অব ১৬-র খেলায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে নরওয়েকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচের জয়ী দলের।

  • রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি  কার

    রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি কার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ব্লকবাস্টার ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বমঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের জন্য শেষ ম্যাচ এটি। শুধু দুই কিংবদন্তির একজনের ‘শেষ নৃত্য’ বলে নয়, পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকারও মহারণ। সব দিক বিবেচনায় নকআউট পর্বের এ ম্যাচটি উত্তাপ-উত্তেজনায় বারুদ ছড়াবে বলেই আশা। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া দুদলের জন্যই ম্যাচটি হবে বাড়তি স্নায়ুচাপের, আর প্রত্যাশা থাকবে আকাশচুম্বী। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। শেষ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবে দুদল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল, নাকি মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া জয়ের হাসি হাসবেÑসেটি দেখার অপেক্ষা।
    শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বেশি প্রত্যাশার চাপ থাকবে পর্তুগালের। বিশ্বকাপে শিরোপা লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। যদিও গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল পর্তুগালের মতো খেলেনি। কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু তাদের। অবশ্য পরের ম্যাচে নবীন দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অনুজ্জ্বল ছিল পর্তুগাল। দলের মতোই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ‘সুপার ফ্লপ’। বলা হচ্ছে, গত দুই দশকের মধ্যে সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে আক্রমণভাগ এবং মিডফিল্ডই তাদের শক্তির জায়গা। কিন্তু পর্তুগালের সেরা পারফরম্যান্সটা এখনো দেখা যায়নি। ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল না পাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে ম্যাচে। অধারাবাহিক আর ছন্দহীন দলটিকে ক্রোয়েশিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতে পারে। তবে মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে পর্তুগাল, তাহলে ক্রোয়েশিয়ার জন্য তাদের আটকানো সহজ হবে না। বিশেষ করে রোনালদো সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। স্বরূপে ফিরলে মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন রোনালদো। তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে পর্তুগাল।অপরদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে আগের সোনালি প্রজন্মের দল নেই তাদের। ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয় ক্রোয়েশিয়ার। তবে পানামা ও ঘানার বিপক্ষে দুটি জয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। পর্তুগালের বিপক্ষে এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে দলটি। টুর্নামেন্টে থাকার জন্য সর্বশক্তি দিয়েই লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠার পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ বলেছেন, ‘কৌশলগত দিক দিয়ে ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত খেলেছে এবং মাঠে নিজেদের সংগঠিত রাখতে পেরেছে। আমার মনে হয়, আমরা ঠিক আট বছর আগের সেই জায়গায় ফিরে এসেছি। তবে এটা কেবল প্রথম লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি পদক্ষেপ, আর তা হলো নকআউট পর্বে ওঠা।’ দালিচের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে কতটা আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়া। এবার পর্তুগালের বিপক্ষে নকআউটেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর প্রত্যাশায় তারা। এ পর্যন্ত পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া পরস্পরের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সাতটি জিতেছে পর্তুগাল। আর একটিতে জয় ক্রোয়েশিয়ার; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

  • আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দের ম্যাচ পরিচালনা করবেন কানাডার রেফারি ড্রু ফিশার। ফিফা এই খবর নিশ্চিত করেছে। আগামী শুক্রবার রাত ৭টায় মায়ামিতে এই ম্যাচ হবে।

    ৪৫ বছর বয়সী এই রেফারি এর আগেও আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তবে ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে মেক্সিকোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একটি কনকাকাফ নেশনস লিগ ম্যাচে।

    ক্যালগেরিতে জন্ম নেওয়া ফিশারের উত্তর আমেরিকার ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। তিনি নিয়মিত এমএলএসের ম্যাচ পরিচালনা করেন। যে লিগে প্রতি সপ্তাহান্তে খেলেন লিওনেল মেসি, সেই লিগে তিনি ইতিমধ্যে ২২৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

    ২০১৫ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও তিনি রেফারি ছিলেন। এই জয়ে মেসির দল তাদের প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল।

    তবে ২০২৩ সালের একটি ঘটনা তার ক্যারিয়ারে দাগ ফেলেছে। মেক্সিকো আর হন্ডুরাসের মধ্যে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ভিএআর বুথে ছিলেন ফিশার। তিনি এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনকে জানিয়েছিলেন, ইনজুরি টাইমে এগারো মিনিট যোগ করতে হবে।

    ম্যাচ শেষে বার্টন বলেছিলেন, ‘ভিএআর বুথের কানাডিয়ান রেফারি আমাকে ডেকে বলেছিলেন, তোমাকে ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড যোগ করতে হবে। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম নয় মিনিট যোগ করব। নয় মিনিট শেষ হওয়ার পর ভিএআর আমাকে আবার ডেকে বলেছিল, বার্টন, তোমাকে আরও দুই মিনিট যোগ করতে হবে।’

    কী হয়েছিল তখন? ইনজুরি টাইমের দশম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরায় মেক্সিকো। এরপর টাইব্রেকারে জিতে যায় দলটি।

    কয়েকদিন পরই এই বিতর্ক অনেকটা চাপা পড়ে যায়। কারণ মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনাল ম্যাচেও রেফারি ছিলেন ফিশার। সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে জিতেছিল।

    আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ম্যাচ ফিশার পরিচালনা করেছেন মাত্র একবার। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি রেফারি ছিলেন। সেই ম্যাচে আনহেল দি মারিয়ার গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পরে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ফিশার। ফ্রান্স ৩-০ গোলে ইরাককে হারানো ম্যাচ আর ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে ঘানাকে হারানো ম্যাচ। এই জয়ে ক্রোয়েশিয়া শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়।

  • ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের সোফি স্টেডিয়ামটি জমজমাট রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের ভেতরে ও বাইরে ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, বর্ণিল আয়োজনে পুরো পরিবেশকে একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো করে তুলেছে। আর হলিউডের শহর খ্যাত লস অ্যাঞ্জেলেসের এই স্টেডিয়ামের কাছের একটি ভবনে স্পেনের তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে চিত্রিত করে প্রদর্শিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তাঁর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা এবং দর্শনীয় গোল করার ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘সিবিএস’ প্রচার করেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ডের মতো তারকা দ্যুতি ছড়ালেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অন্যতম বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা বার্সেলোনার এ সুপারস্টার এখন পর্যন্ত তাঁর সেরাটা দেখাতে পারেননি। গ্রুপ পর্বে স্পেন যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে, তার কোনোটিতেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন না ফুটবলের এ জাদুকর। তাই তো শেষ বত্রিশে আজ

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ইয়ামাল-শোর অপেক্ষায় পুরো ফুটবল দুনিয়া।

    ইতিহাস আর ঐতিহ্যে এই স্পেন দুর্দান্ত। অস্ট্রিয়ার মতো দল বড় বাধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের একটি পরিসংখ্যান যে ইয়ামালদের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ীদের (ইতালি, স্পেন ও জার্মানি) কেউই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফুটবলের মহাযজ্ঞের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি স্পেনের সোনালি প্রজন্ম পরপর তিনটি বড় টুর্নামেন্ট (ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০, ইউরো ২০১২) জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আর গত দুটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। লা ফুরিয়া রোজারা অবশ্যই এই ধারা ভাঙতে মরিয়া হয়ে থাকবে। প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর স্পেনও যে আতঙ্কে আছে, তা ফুটে উঠেছে দলটির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজের কণ্ঠে, ‘আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে বর্তমানে যে কোনো দলই যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। আমি মনে করি, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছি।’স্পেন বর্তমানে ইউরো চ্যাম্পিয়ন। দলটির লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ১৬ বছরের জয়ের খরা কাটানো। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের শুরুটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউটে পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটি। বিপরীতে এই পর্যায়ে আসার পথটি অস্ট্রিয়ার জন্যও ছিল নাটকীয়। গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ দিনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি নিষ্প্রাণ এক লড়াই হবে বলেই সবাই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি মোটেও তেমন ছিল না; বরং ৩-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ড্র দিয়ে এটি শেষ হয়। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে সাশা কালাইজিচ যদি হেড থেকে সমতাসূচক গোলটি না করতেন, তবে অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিয়ে নিত। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় এবং আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ ব্যবধানের পরাজয় স্পষ্ট করে দেয় যে তাদের এই যাত্রা কতটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।স্পেনের এই দলটিতে বার্সেলোনার প্রভাবই বেশি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একতাবদ্ধতা এবং ইয়ামালের ওপর ভরসা করছে লা ফুরিয়া রোজারা। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই ইয়ামালকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন স্পেন কোচ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১৯ মিনিট, সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলে একটি গোলও করেছিলেন ইয়ামাল। উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৬ মিনিট। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস উরুগুয়ে ম্যাচে চোটে পড়ায় তাঁকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেবেন না লুইস দে লে ফুয়েন্তে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের শুরু থেকেই ইয়ামালকে দেখা যেতে পারে। তাই ইয়ামালের জন্য মঞ্চটা এবার নিজেকে মেলে ধরার।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই।

    বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরে ‘মার্সি’ বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

    তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।

  • বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখল যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগানের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড, নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা।

    সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী সোমবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।

    ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া পুরো ম্যাচেই ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা।

    গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়ার গোলকিক মাঝমাঠে পাস দেন অধিনায়ক টিম রিম। সেখান থেকে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পৌঁছে যায় ফোলারিন বালোগানের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    এর আগে অবশ্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, আর পেনাল্টির দাবিও নাকচ করে দেন রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বসনিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও ৬৪তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর স্টাড লাগানোর ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগানকে। ফলে শেষ প্রায় আধা ঘণ্টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

    একজন কম নিয়ে খেললেও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা। বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন মালিক টিলম্যান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি।শেষ দিকে বসনিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। যোগ করা সময়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনোটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

  • গ্রেটেস্ট ‘গোলকিপার শো’ অন দ্য আর্থ

    গ্রেটেস্ট ‘গোলকিপার শো’ অন দ্য আর্থ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের ষষ্ঠ শট। স্টেডিয়ামের হাজারো কণ্ঠ যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ। বলের পেছনে হোসে কানাল, দুই হাত মেলে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার। শট এবং নয়্যার বিভ্রান্ত! আর তাতেই জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। তবে আসল কাজটা করে দিয়েছেন ওরলান্ডো গিল। প্যারাগুয়ের তরুণ গোলকিপার জার্মানির দুটি শট আটকে দিয়ে সতীর্থদের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। এর আগে পুরো ম্যাচে জার্মান মেশিনের সামনে দেখিয়েছেন বীরত্ব। তাতে প্যারাগুয়ে লিখল ইতিহাস, যার প্রথম লাইনটি লিখে দিয়েছেন একজন গোলকিপার।
    এই বিশ্বকাপে গোলের উৎসব যেমন হয়েছে, তেমনি সমান তালে চলছে গোলকিপারদের রাজত্ব। আক্রমণভাগের নায়কদের আলো বারবার কেড়ে নিচ্ছেন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নিঃশব্দ যোদ্ধারা। কেউ ক্লিনশিটে, কেউ অসম্ভব সেভে, কেউ আবার টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে হয়ে উঠছেন একটি জাতির ত্রাতা।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই শুরু হয়েছিল সেই গল্প। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম ছিল কেপ ভার্দের ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ গোলকিপার একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হতাশ করেছেন। স্পেনের মতো আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য সব সেভ করে ক্লিনশিট রেখে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক উপহার দেন তিনি। সেই ম্যাচে ৭টি সেভ করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন ভোজিনহা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্বের সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতিও অভিজ্ঞ এই প্রহরী।

    ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ আবার প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ‘দ্য ওয়াল’ বলা হয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হন তিনি। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের বারবার হতাশ করে ইরানকে এনে দেন মূল্যবান এক পয়েন্ট। মিসরের বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে দলকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইরান বিদায় নিলেও বেইরানভান্দের লড়াকু মানসিকতা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

    আর কুরাসাওয়ের এলয় রুম? ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপটির প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের পেছনে সবচেয়ে বড় নাম তিনিই। ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক ম্যাচেই করেন ১৫টি সেভ, ৯০ মিনিটের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড স্পর্শ করে। প্রতিটি সেভ ছিল একটি করে গোলের সমান মূল্যবান। বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের সামনে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ যত তীব্র হয়েছে, রুম ততটাই দৃঢ় হয়েছেন।

    নকআউট পর্বে এসে যেন গোলকিপারদের নাটকীয়তা আরো বেড়ে গেছে। জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের অরলান্ডো গিল শুধু টাইব্রেকারেই নায়ক হননি। পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন অদম্য। অতিরিক্ত সময়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ, তারপর টাইব্রেকারে দুই শট ঠেকিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্যারাগুয়ের জয়ে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন একজন মানুষ—ওরলান্ডো গিল।
    মরক্কোর ইয়াসিন বোনোও যেন বড় ম্যাচের জন্যই জন্মেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ক্রেসেন্সিও সামারভিলের শট বাঁ হাত বাড়িয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। সেই সেভের পর ইসমাইল সাইবারির সফল শটে মরক্কো পৌঁছে যায় শেষ ষোলোয়। ২০২২ বিশ্বকাপের নায়ক বোনো ২০২৬ সালেও আবার মনে করিয়ে দিলেন, টাইব্রেকারের মঞ্চে তিনি প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। চাপের মুহূর্তে তার স্নায়ু ইস্পাতের মতো দৃঢ়।

    শুধু যারা জিতেছেন তারাই নন, হেরে গিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন কয়েকজন গোলকিপার। নেদারল্যান্ডসের বার্ট ভেরব্রুগেন মরক্কোর বিপক্ষে অন্তত পাঁচটি অসাধারণ সেভ করেন, যার দুটি ছিল প্রায় অলৌকিক। টাইব্রেকারেও দুটি শট রুখেছিলেন তিনি। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার সেই বীরত্ব হারিয়ে যায় পরাজয়ের আড়ালে।
    একইভাবে জাপানের জিওন সুজুকিও ছিলেন নিজের দলের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন সেভ করে সেলেসাওদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছিলেন। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো কিংবা মার্টিনেল্লিদের আক্রমণের ঢেউ বারবার ফিরে গেছে তার গ্লাভসে। শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় ঠেকাতে না পারলেও ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি পর্যন্ত সুজুকির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে ভোলেননি।একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল স্ট্রাইকারদের মঞ্চ। পেলে, রোনালদো, ক্লোসা, মেসিদের গোলগাথাই ছিল আলোচনার কেন্দ্র। কিন্তু এবার দৃশ্যপট বদলেছে। ফরোয়ার্ডদের প্রতিটি হাসির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন একজন করে গোলকিপার, যিনি নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে রুখে দিচ্ছেন স্বপ্নভঙ্গের আঘাত। এই বিশ্বকাপে তাই গোলকিপাররা আর শুধু শেষ প্রহরী নন। তারা ম্যাচের চিত্রনাট্যকার, নাটকের নায়ক, কখনো আবার জাতির রক্ষাকর্তা। তাদের গ্লাভসে জমা হচ্ছে লক্ষ মানুষের আশা, তাদের ডাইভে বদলে যাচ্ছে একটি দেশের ভাগ্য। তারা কখনো মানবপ্রাচীর, কখনো শেষ আশ্রয়, কখনো আবার পুরো জাতির নায়ক।

    গোলের উল্লাসে যেমন স্টেডিয়াম কাঁপে, তেমনি আজকাল সমান গর্জন ওঠে একটি সেভেও। ২০২৬ বিশ্বকাপ নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—ফুটবল শুধু গোলদাতাদের খেলা নয়, অনেক সময় ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি দাঁড়িয়ে থাকে গোলবারের ঠিক নিচেই।

  • পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারে উঠে গেলেন তিনি।

    ম্যাচের আগে কেইনের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১১। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথমে ৭৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে তিনি পেলের ১২ গোল স্পর্শ করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জয়সূচক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১৩-তে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেন পেলে (১২) এবং স্পর্শ করেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফঁতেনের ১৩ গোলের কীর্তি।বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন কেইনের অবস্থান আরও উঁচুতে। শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি (১৯), এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৮), মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫), গার্ড মুলার (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে এখন জাস্ট ফঁতেনের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

    ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই জোড়া গোল শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই এনে দেয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা থ্রি লায়ন্স দ্বিতীয়ার্ধে কেইনের নেতৃত্বে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।চলতি বিশ্বকাপেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন। ইংল্যান্ডের যাত্রা যত দীর্ঘ হবে, বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সুযোগও তত বাড়বে কেইনের সামনে।

  • বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে  মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। বিজয় উদ্‌যাপনের সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে দম বন্ধ হয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে হাজারো সমর্থক রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন হামবুর্গো ও ল্যাঙ্কাস্টার স্ট্রিটে জড়ো হন। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

    মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে বাঁচাতে পারেননি। তাদের মৃত্যু দম বন্ধ হয়ে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

    তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির দাবি, ওই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির পাবলিক হেলথ সেক্রেটারিয়েটের বরাতে তারা জানিয়েছে, কোলোনিয়া জুয়ারেজ এলাকায় তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ১৯ ও ৪৮ বছর বয়সী দুই নারী।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে ফুটতে থাকা আতশবাজির বিকট শব্দে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদে সরে যেতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে সরু রাস্তায় প্রচণ্ড হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকে পদদলিত ও শ্বাসরোধের শিকার হন।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেক্সিকো সিটি সরকারের প্রধান ক্লারা ব্রুগাদা মোলিনা। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে প্রশাসন।

  • দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড পেলেন ইকুয়েডরের হিনকেপি

    দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড পেলেন ইকুয়েডরের হিনকেপি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম রাউন্ডে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তর্কের সময় মুখ ঢাকার কারণে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোনও লাল কার্ড দেখেছিলেন।

    প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ করে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে নতুন এক আইন চালু করেছে। এটি ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ বলে পরিচিত। সেই আইনের আওতায় দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গতকাল লাল কার্ড দেখেছেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকেপি।

    মঙ্গলবার আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ৪৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। কারণ, স্ট্রাইকার সান্তি হিমেনেজের সঙ্গে তর্কের সময় তিনি কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন।

    আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে জয় পেয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে। সেখানে তারা ইংল্যান্ড ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। অতিরিক্ত সময়ের ৪৭তম মিনিটে হিনকাপিয়ে ও হিমেনেজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ইকুয়েডরের এই ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে ফেলেন।

    মেক্সিকোর খেলোয়াড়টি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ভিএআর স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে বলে। ভিডিও দেখে তিনি হিনকাপিয়েকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বহিষ্কার।

    এর আগে প্রথম রাউন্ডে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তর্কের সময় মুখ ঢাকার কারণে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোনও লাল কার্ড দেখেছিলেন।প্রসঙ্গত, সম্ভাব্য আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য মুখ ঢেকে বলার প্রবণতা রোধে ফিফা এ নতুন নিয়ম চালু করেছে। এ নিয়মের অনুপ্রেরণা আসে এমন এক ঘটনার পর, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন যে বেনফিকার খেলোয়াড় পেরেস্তিয়ানি তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। সেই ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেরেস্তিয়ানি নিজের মুখ ঢেকে কথা বলেছিলেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে পরে উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিয়মটি অনুমোদনের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে এমন কিছু বলে যার বর্ণবাদী প্রভাব রয়েছে, তাহলে তাকে অবশ্যই মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই। আমাদের ধরে নিতে হবে যে সে এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না। নইলে তার মুখ ঢাকার প্রয়োজন হতো না।’

  • এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আরও একটি একতরফা ম্যাচ উপহার দিলো ফ্রান্স। নকআউটের খেলায় যেমন লড়াই করার কথা ছিল না, পারলো না সুইডেন। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ভর করে সুইডিশদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।

    এতে চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় হয়ে গেছে সুইডেনের। ফ্রান্স নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলো।

  • ব্রাজিল কখনোই নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

    ব্রাজিল কখনোই নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কাগজে-কলমে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা-নরওয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।

    দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল ১৯৯৮ আসরের গ্রুপ পর্বে। সে ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে দুই গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট।

    বিশ্বকাপের বাইরে দুই দলের সামগ্রিক রেকর্ডও ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের জয় শূন্য।

    প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালে অসলোতে প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে একই ভেন্যুতে আবারও প্রীতি ম্যাচে রোনালদো, রোমারিও, দুঙ্গা, কাফু ও রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারায় নরওয়ে। ২০০৬ সালে সর্বশেষ দেখায়ও দুই দল ১-১ গোলে সমতায় মাঠ ছাড়ে।তবে বর্তমান নরওয়ে আরও শক্তিশালী। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইউরোপের দলটি। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। নুসার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও ৮৬ মিনিটে হালান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।

    অন্যদিকে ব্রাজিলও সহজে শেষ ষোলোয় ওঠেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
    তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের রক্ষণ, বিল্ডআপ এবং মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লুকাস পাকেতার চোটও দলটির জন্য বড় ধাক্কা। নরওয়ের মতো দ্রুতগতির ও শারীরিক ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে এসব দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হালান্ড হলেও ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা, নুসার গতি এবং অস্কার বব ও স্যান্ডার বার্গের ট্রানজিশনও ব্রাজিলের জন্য হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিলের আশা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারদের ওপর।

    পরিসংখ্যান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না, তবে মানসিক চাপ তৈরি করে। নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ব্রাজিল। আর নরওয়ে চাইবে, ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ব্যতিক্রমী আধিপত্য আরও একবার ধরে রাখতে।

  • মরক্কোর কাছে হারের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ডাচ কোচের পদত্যাগ

    মরক্কোর কাছে হারের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ডাচ কোচের পদত্যাগ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে থেকে বিদায়ের পর নেদারল্যান্ডসে প্রধান কোচ রোনাল্ড কোম্যান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে নাটকীয় টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে পদত্যাগের খবর জানান কোম্যান। পরে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিশ্চিত করে।

    বিবৃতিতে কোম্যান লিখেন, ‘গত রাতেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমি আর থাকছি না। আমরা সবাই মিলে এই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু আমরা পারিনি। এই স্বপ্নভঙ্গে আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। কোচ হিসেবে দিনশেষে এই ব্যর্থতার দায়ভার আমার।’

    এমনকি অসুস্থ স্ত্রীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী কোম্যান। সাবেক এই ডাচ ডিফেন্ডার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি, জীবনে ফুটবলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু আছে। ফুটবলই আমার জীবন। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্য অমূল্য। যখন আপনার কোনো প্রিয়জন কঠিন কোনো লড়াই লড়ছে, তখন জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাবে। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও আমার স্ত্রী আমাকে প্রতিনিয়ত আমাকে সমর্থন দিয়েছে, যেন কোচ হিসেবে আমি আমার কাজ শেষ করতে পারি। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

    কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নেদারল্যান্ডসের বিদায় নেয়ার পর লুইস ফন হালের স্থলাভিষিক্ত হন কোম্যান। এর আগেও ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই বছর নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে ছিলেন তিনি। কোম্যানের অধীনে গত ইউরোর সেমিফাইনাল খেললেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ২৫ এর ভেতরে থাকা কোনো দলকে হারাতে পারেনি ডাচরা।

    বিদায়বার্তায় তিনি ফেডারেশন, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নিতে পারলে সেটিই হতো সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। তবে দীর্ঘ কোচিং ও ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে বড় সমস্যায় কেপ ভার্দে। দলটির অধিনায়কের বিরুদ্ধেই উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তি হতে পারে।

    ব্রাজিলের সংবামাধ্যম ‘গ্লোবো’ এই খবর জানিয়েছে। চলতি বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে ফিফা সিরিজ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের সঙ্গে যুক্ত এক তরুণী রায়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। তিনি কেপ ভার্দে দলে দোভাষীর কাজ করছিলেন।

    ওই তরুণীর অভিযোগ- হোটেলে তার ঘরে জোর করে ঢুকে তাকে ধর্ষণ ও মারধর করেছেন রায়ান। এই ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে দলের তিন কর্তাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ, গলা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে রায়ানের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় অভিযোগ হয়েছে তা জানা যায়নি।

    ‘ইউএসএ টুডে’ জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিউজিল্যান্ডের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ফিফা। তবে এর বাইরে এখনই কিছু বলতে চায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণক সংস্থা।

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছে তারা। তিনটি ম্যাচ ড্র করে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। নকআউটে কেপ ভার্দের সামনে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কঠিন লড়াইয়ের আগে বিপাকে কেপ ভার্দে।

  • পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, কাঙ্ক্ষিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে টেনেটুনে ড্র দিয়ে শুরু, এরপর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার পর শেষ ম্যাচে ফের কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র।

    কলম্বিয়া ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। এমনকি দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে রোনালদোকে। তারা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে প্রধান তারকাকে ১০ এর মধ্যে ৪ রেটিং দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর শটগুলো তেমন বিপজ্জনক ছিল না এবং কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের মুখোমুখি হয়ে পাওয়া বড় সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি। যদিও পরে সেই আক্রমণ অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। ম্যাচটিতে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। টুর্নামেন্টে যা ছিল দ্বিতীয়বার রোনালদোর কাছে পাওয়া প্রত্যাশার চেয়ে কম পারফরম্যান্স।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও ম্লান ছিলেন সিআরসেভেন। তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, যেখানে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। রোনালদোর সমালোচনা করার পাশাপাশি কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের সেরা খেলোয়াড় হিসবে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার কথা উল্লেখ করেছে ‘আ বোলা’। তাদের মতে, কস্তা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় এবং ৮ রেটিং পেয়েছেন।

    কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে ক্লিনশিট ধরে রেখেছেন দিয়োগো কস্তা। তিনি ‘সবকিছুই আটকে দিয়েছেন’ এবং ‘দুর্দান্ত পারফরম্যান্স’ করার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমটি। কস্তার সেরা সেভের একটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধের ৪৩ মিনিটে। হুয়ান কুইন্তেরোর ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তিনি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন।

    এ নিয়ে গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের ফল তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও পুরো লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া এবং বেশি সুযোগও তারাই তৈরি করে। অতিরিক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ গোল করলেও মিলিমিটার অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ ৩২–এ রোনালদোর পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে লড়বে।

  • বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড গড়ার মিশন নিয়েই খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরে গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট তো আগেই উঠেছে তার মাথায়, এবার তিনি গড়েছেন আরও একটি অবিশ্বাস্য কীর্তি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬। অথচ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩০টি দলই তার সমান গোলও করতে পারেনি। অর্থাৎ, একা মেসির গোলসংখ্যা সেই ৩০ দেশের পুরো দলের চেয়ে বেশি কিংবা সমান।

    এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে আরেকটি গোল করেন। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে তার গোল এখন ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড নিজের একার করে নেন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আট গোলের মধ্যে ছয়টিই এসেছে মেসির পা থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে দলের পাঁচ গোলের সবকটিই করেছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রাম দিলেও ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান।

    পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনাকে বাদ দিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭টি দল মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, আলজেরিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা করেছে পাঁচটি করে গোল, যা মেসির চেয়েও কম। এছাড়া চারটি দল করেছে চার গোল, চারটি দল তিন গোল, ১২টি দল করেছে দুটি করে গোল এবং চারটি দল মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। একমাত্র পানামা এখনো গোলের দেখা পায়নি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। কানাডার গোল ৯টি। আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও সেনেগাল করেছে আটটি করে গোল। সাতটি করে গোল রয়েছে ব্রাজিল, জাপান, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের। আর ছয়টি করে গোল করেছে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মরক্কো, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়াম।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসির সামনে এখন নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

  • তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফলে নকআউট পর্বও সম্প্রসারিত হয়েছে ৩২ দলে। নতুন ফরম্যাটের কারণে বদলে গেছে নকআউট পর্বে ওঠার হিসাব-নিকাশও। এবার শুধু প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নয়; তৃতীয় অবস্থানে থেকেও ১২টি গ্রুপ থেকে ৮টি দল শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে।

    গ্রুপপর্ব শেষে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে নকআউটের টিকিট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, সেনেগাল, আলজেরিয়া এবং ডিআর কঙ্গো।

    এর মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, আলজেরিয়া ও ডিআর কঙ্গো ৪ পয়েন্ট নিয়ে এবং সেনেগাল ৩ পয়েন্ট নিয়েও সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের ভিত্তিতে ৮টি দলকে নির্ধাবিচত করা হয়েছে। সমান পয়েন্ট হলে টাইব্রেকার হিসেবে গোল ব্যবধান বিবেচনা করা হয়েছে।

    এ কারণে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও ভাগ্য সহায় হয়নি ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটল্যান্ড ও উরুগুয়ের। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার কারণে ৪টি দলকে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

    তৃতীয় অবস্থানে থেকে নকআউট নিশ্চিত হলেও সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সব পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ জার্মানি, সুইডেন লড়াই করবে ফ্রান্সের বিপক্ষে, ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর, ঘানার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, সেনেগাল খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আলজেরিয়ার সামনে সুইজারল্যান্ড আর ডিআর কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

    আজ রাতেই স্বাগতিক কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সিঙ্গেল-এলিমিনেশন ভিত্তিক নকআউট পর্বের খেলা। এই পর্বের ১৬ ম্যাচের বিজয়ীরাই রাউন্ড সিক্সটিনে জায়গা করে নেবে। আর হেরে যাওয়া দলগুলোর ধরতে হবে দেশে ফেরার ফ্লাইট।

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    বয়স যতই বাড়ুক, গোল করার ক্ষুধায় যে এতটুকুও ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সোমবার জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ৬।

    এই গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, এরলিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো সময়ের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ডদের পেছনে ফেলে মাত্র তিন ম্যাচে ছয় গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসিই। গ্রুপ পর্বে তার এই দুর্দান্ত গোল-পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচেও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে ৬০তম মিনিটে তিনি মাঠে নামেন, যখন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছিল। মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি এনে শেষ পর্যন্ত ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাত গোল করে সিলভার বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ছয় গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ারে আরও একটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে তার।

    আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বেও যদি মেসি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    ‘যদি কোনো কিছুকে তুমি পুরোটা হৃদয় দিয়ে চাইতে পারো, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব তোমাকে সেটা পাইয়ে দিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়’ — পাউলো কোয়েলহোর আলকেমিস্টের এই উক্তি জগদ্বিখ্যাত বললেও কম হয়।

    তবে ব্রাজিলিয়ান এই কথাসাহিত্যিকের এই উক্তিটাকে আজ চাইলে ইরান প্রশ্নবিদ্ধ করলেও পারে। তারাও তো চেয়েছিল নকআউটের চৌকাঠ ছুঁতে, মনপ্রাণ দিয়েই চেয়েছিল; তাহলে কেন তাদের ক্ষেত্রে হলো তার ঠিক ১৮০ ডিগ্রি উল্টো বিষয়টা! গোটা মহাবিশ্ব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো বটে, কিন্তু এই ষড়যন্ত্র গেল তাদের বিপক্ষে।

    ইরান চাইলে প্রশ্ন করতেই পারে, ‘এভাবেও স্বপ্ন ভেঙে যায়?’ একবার হলে হতো, দুবারও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু তাই বলে তিন বার? ইরানের সামনে হিসেবটা ছিল পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলেই শেষ ৩২-এ পৌঁছে যেত পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। গড়া হয়ে যেত ইতিহাসও, কখনোই যে নকআউটে খেলা হয়নি তাদের!

    সোজা খালিলজাদেহর পায়ে ভর করে সে স্বপ্ন দেখতে শুরুও করেছিল তারা। যোগ করা সময়ে মিশরের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বাঁধ সাধল ভিএআর, আর এমন এক নিয়ম, যার দেখা মেলে কালেভদ্রে। সাধারণত মনে করা হয় পাস রিসিভ করার সময় একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিতে পারলেই বুঝি অফসাইডকে ফাঁকি দেওয়া যায়। সে ধারণা যে ভুল, আসল নিয়মে যে অন্য কিছু বলা আছে, সেটা জানানোর জন্যই যেন এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

    খালিলজাদেহ যখন বলটা পায়ে পেলেন, তখন তার সামনে গোলমুখে দাঁড়িয়ে মিশরের এক ডিফেন্ডার, তার অনেক পেছনে মিশরের গোলরক্ষক, আর ভগ্নাংশের ব্যবধানে পেছনে ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। সামনে এক ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে, তাহলে তো অফসাইডের কোনো ঝামেলা নেই, তাহলে আর কী, তার শট যখন আছড়ে পড়ল জালে, তখন উদযাপন শুরু হয়ে গেছে সিয়াটল থেকে তেহরান পর্যন্ত। হবেই তো, প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত বলে কথা।

    ঠিক তখন বাঁধ সাধল ভিএআর। অফসাইড! কারণ? অফসাইডের নিয়ম হচ্ছে, সামনে দুইজন ডিফেন্ডার থাকতে হয়, গোলকিপার সবসময় সামনে থাকেন বলেই সে সংখ্যাটা প্রায় সময় নেমে আসে ১-এ। ভুলটা সেখানেই হয়। ইরানও কি সে ফাঁদেই পা দিয়েছিল? সে যাই হোক, ভুলটা হয়েছে জায়গামতোই। যার ফল, ভাগ্যটা গেল ঝুলে। অনেকগুলো সুযোগ ছিল তাদের সামনে, তার কোনো একটার ফল পক্ষে এলেই কেল্লাফতে!

    তাই তাদের অপেক্ষা ছিল আজ সকালের। ক্রোয়েশিয়াকে হারতে হতো, ক্রোয়েশিয়া জিতল; জেতারই কথা ছিল অবশ্য। এরপর উজবেকিস্তান যখন ডিআর কঙ্গোকে চমকে দিয়ে প্রথম গোলটা করে বসল, তখন আশায় বুক বেধে বসেছিল ইরান। এরপর তিনটি গোল করে কঙ্গো চলে গেল শেষ ৩২-এ, ইরানের অপেক্ষাটা গিয়ে ঠেকল অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে, এই ম্যাচে কোনো এক দল হেরে গেলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম দল হিসেবে নকআউটে চলে যেত ইরান।

    তাদেরকে প্রথমে আশা দিলেন অস্ট্রিয়ার মার্কো আর্নাতোভিচ, তার গোলে অস্ট্রিয়ানরা এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরালেন রাফিক বেলঘালি। ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিতজার গোল করলেন, ইরান একটু আশা দেখল, সেটাও উবে গেল ৫ মিনিট পর রিয়াদ মাহরেজ গোল করলে।

    ডেডলকটা গিয়ে ভাঙল যোগ করা সময়েরও চতুর্থ মিনিটে। রিয়াদ মাহরেজ আবারও গোল করে এগিয়ে দিলেন আলজেরিয়াকে। যেখানে চতুর্থ অফিসিয়াল অতিরিক্ত সময় দিয়েছেনই মোটে ৫ মিনিট, সেখানে ৯৪ মিনিটের গোলের জবাব আসে কী করে! ইরান শিবির থেকে শুরু করে তেহরানে বোধ হয় উৎসবটা শুরু হয়েই গিয়েছিল চূড়ান্তভাবে।

    সেটাতেও বাধ সাধল ভাগ্য। ৯৬ মিনিটে সাশা কালাইজিচের গোলে সমতা ফেরাল অস্ট্রিয়া। আলজেরিয়ারও ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি, দুই দলই চলে গেছে শেষ ৩২-এ। মাঝে কপাল পুড়ল ইরানের, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ধরা দিতে দিতেও শেষমেশ গিয়ে ধরা দিল না।

    তবে ইরান চাইলে চোয়াল শক্ত করে নিজেদের অর্জনের দিকে তাকাতেই পারে। তিন ম্যাচ খেলেছে দলটি; নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, আর মিশরের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ হারেনি একটিও। এই ড্রকে আপনি জয়ের সমান করেই দেখবেন, যখন আপনার মনে পড়বে প্রেক্ষাপটটা।

    যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের যুদ্ধের জেরে ইরান ফুটবল দলও বেশ ঝক্কিতে পড়েছে। একগাদা অফিসিয়ালকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মিললেও থাকার অনুমতি পায়নি পুরো দল। তিনটি ম্যাচেই ইরান খেলেছে ভিন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে। ম্যাচের আগের দিন প্রত্যেক দলের জন্য স্টেডিয়ামে যাওয়ার অনুমতি থাকে। ইরান সেটাও পায়নি, পাবে কী করে, ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ারই তো অনুমতি পায়নি তারা! দিনে দিনে গিয়ে খেলে দিনে দিনে ফিরতে হয়েছে মেক্সিকোতে। ম্যাচ শেষে রিকভারি খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ইরানকে সারতে হয়েছে আরও এক বিমানযাত্রার ধকল সামলে এর পর!

    একে তো ‘শত্রু’র দেশে খেলার মানসিক চাপ, তার ওপর এমন বিমানযাত্রার শারীরিক চাপ… সব মিলিয়ে এতো প্রতিকূলতা ছিল সামনে। তা সামলে ইরান পারফর্ম করেছে। চলে গিয়েছিল নকআউটের হাতছোঁয়া দূরত্বেও। একে কি আপনি অর্জন বলবেন না?

    ইরানের এই যাত্রা তাই ব্যর্থ নয় কোনোভাবেই। কারণ তারা যে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে অপরাজিত থেকে, সবচেয়ে বড় কথা, মাথা উঁচু করে!

  • ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ  ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি তার দেশের বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় ড্রয়ের পরও ইরানকে এখন শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে তারেমি বিশ্বকাপের ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে একটি বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন। শুক্রবারের ম্যাচ শেষে তারেমি ও তার সতীর্থদের যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে উড়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। প্রথমে টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটির বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাঅঙ্গরাজ্যের টুকসনে হওয়ার কথা থাকলেও, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে তারা বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য আটলান্টিক।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ইরান দল এবং তাদের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বারবার জটিলতার মুখে পড়েছেন। তারেমির অভিযোগ, পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

    তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ; পুরোপুরি একটি বিপর্যয়। ফিফার এখানে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা শুরু থেকেই কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর মি. ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু…’।

    তারেমি আরও বলেন, আমাদের লজিস্টিক কর্মীরা এখানে নেই। তারা ভিসা পাননি। এটা কীভাবে সম্ভব যে আমাদের প্রতিবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। আমরা মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে, একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এভাবে খেলাটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের মতে, এটা মোটেও ন্যায়সংগত নয়। ফিফার কাছে যদি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের কাছে নয়। আসলে আমাদেরকে কে সাহায্য করতে চায়? যদি তারা চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিই, তাহলে ঠিক আছে, আমরা বিদায় নেব। কিন্তু এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের পুনর্বাসন (রিকভারি) বিশেষজ্ঞ নেই, লজিস্টিক কর্মীও নেই, যারা আমাদের সাহায্য করবে। আমরা সব সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ করি, কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করে না, কেউই না।

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো সিটিতে দেয়া বক্তব্যে গিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে নিজেই বাস চালিয়ে দলটিকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতেন। মিশরের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করা তারেমিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কি মনে হয় ইরানকে এই টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হয়নি? জবাবে তিনি বলেন, এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ আসলে কী চায়, আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, তারা সম্ভবত এটাই চায়। ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে, এটা কীভাবে সম্ভব?

    মিশরের বিপক্ষে শুক্রবারের ড্রয়ের ফলে ইরান গ্রুপ জি’তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য শনিবারের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফল তাদের অনুকূলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। যদি গ্রুপ জে’তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ড্র করে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। ক্রোয়েশিয়া হারিয়েছে ঘানা’কে। ফলে ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

  • কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা। মেসি না রোনালদো? বিশ্বব্যাপী ফুটবল দুনিয়ায় এ নিয়ে অনন্ত বিতর্ক। মাঠের রাজা হচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর বলা হয়ে থাকে, নাটকের সম্রাট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আসলে দু’জনের মধ্যে মহাকাব্যিক যুদ্ধ। ফুটবল দুনিয়ায় এটাই হচ্ছে এক চিরন্তন লড়াই। এই লড়াই মাঠের সবুজ ঘাসেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মধ্যেও। চলতি বিশ্বকাপে এই দুই মহাতারকা আলোচনার কেন্দ্রে। একে অপরকে তারা যেভাবে টেক্কা দিচ্ছেন তা যে কোনো হলিউড থ্রিলারকেও হার মানায়। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন পর্যন্ত তিনি এককভাবে সিংহাসনে। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটো গোল করে এক অবিশ্বাস্য নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে টানা ছটি বিশ্বকাপে গোলের সুবাদে। মেসির জন্ম ১৯৮৭ সনে। বাবা হোর্হে হোরাসিও ছিলেন তার প্রথম কোচ। ফুটবলের প্রতি মেসির ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। তার দাদি সেলিয়া ছাড়া আর কেউ তাকে সমর্থন করতো না। খেলায়ও নিতে চায়তো না অনেকেই। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতেন দাদি।

    দুর্ভাগ্য হচ্ছে- মেসির কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সেলিয়া দেখে যেতে পারেননি। তিনি মারা যান ১৯৯৮ সনে ৬৭ বছর বয়সে। পাঁচ বছর পর অনেকটা নাটকীয়ভাবে বার্সেলোনায় সুযোগ পান মেসি। ২০০৫ সনে আন্ডার টুয়েন্টিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় , বার্সেলোনার সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছিল একটি ন্যাপকিনে। এ কারণেই সম্ভবত বলা হয়ে থাকে—একটি ন্যাপকিন মেসির জীবনকে বদলে দেয়। অন্যদিকে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর জন্ম ১৯৮৫ সনে। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রোনালদো শেষ, তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন। এমনটাই ফুটবল দুনিয়ায় চাউর ছিল। কিন্তু এবার ফুটবল দুনিয়া আবিস্কার করলো পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী অন্য এক রোনালদোকে। ক্যামেরুনের রোজার মিলাও বিশ্বকাপে গোল করে রেকর্ড করেছিলেন। যাইহোক, মেসি এবং রোনালদোর মাঠের বাইরের জীবনযাপনে বিস্ময়কর তফাৎ রয়েছে। রোনালদোর জীবন যেন এক গ্ল্যামারাস সিনেমার মতো। তিনি বরাবরই বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। কোটি টাকার সুপার কার কালেকশন তার যেন এক নেশা। নিজস্ব ব্র্যান্ড রয়েছে সিআর-৭ এর। এরসবই মিডিয়ায় তার জীবন নিয়ে একটা হটকেক আলোচনা। ৪১ বছর বয়সেও তার শরীরে মেদ নেই। যেমনটা থাকে একজন তরুণ অ্যাথলেটের মধ্যে। মেসি কিন্তু এসবের ঊর্ধ্বে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এক চেনা মুখ। শৈশবের প্রেমিকা আন্তোনেলাকে বিয়ে করে তিন সন্তান নিয়ে ভালোই আছেন। মেসিকে দেখা যায় পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে। বাচ্চাদের নিয়ে মাঝেমধ্যে ফুটবলও খেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজত্ব আসলে কার হাতে। এর উত্তর খুঁজতে গেলে রোনালদোকে এগিয়ে রাখতে হবে। সবক’টা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে তিনি এখন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যার রয়েছে এক বিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার। তিনি অহংকারী, সোজাসাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করেন। মেসি এদিক থেকে অনেকটাই সংযত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরাবরই মৃদুভাষী। বিতর্ক তাকে স্পর্শ করে না।

    ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নে দু’জনকে আলাদা করা খুব কঠিন। মেসির মধ্যে রয়েছে পেশাদারিত্ব। এ কারণেই হয়তো তাকে গোট(GOAT) বলে আখ্যায়িত করেন অনেকেই। মেসির ঝুলিতে রেকর্ডসংখ্যক ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর রয়েছে। সমীকরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে, চলতি বিশ্বকাপে আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে একটি সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালের মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন এই দুই মহাতারকা। এটা অবশ্য নির্ভর করে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজ নিজ নকআউট ম্যাচগুলো জিততে পারলে। তাহলেই কেবল বিশ্বমঞ্চে এই দুই তারকার শেষ যুদ্ধ দেখার সুযোগ হতে পারে ফুটবল বিশ্বের। মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি সত্যিই একজন জাদুকর। আর জীবনের ড্রামায় রোনালদোই সত্যিকার বিনোদন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন গ্ল্যামারে ভরা। রোনালদো এর মধ্যেই বলেছেন, আমি ফিরে এসেছি। ইঙ্গিতটা কিন্তু মেসির দিকেই। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটা গোল করে মেসি ফুটবল ইতিহাস বদলে দেন। এরমধ্যে তো একটা হ্যাটট্রিক আছেই।

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তখন পেছনের সারিতে। অবশ্য বেশি সময় নেননি। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই গোল করে বিশ্বকে বললেন, আমি আবার ফিরে এসেছি। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডও তিনি লিখলেন অন্যভাবে। মেসি কখনো রোনালদোকে নিয়ে বাজে কোনো মন্তব্য করেননি। অনেকক্ষেত্রে প্রশংসাও করেন। কিন্তু রোনালদো তার বিপরীত।

  • ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে। হিউস্টনে সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ ড্র করে গ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে তারা। এই অর্জনে তারা হয়েছে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ এবং ২০১০ সালের পর প্রথমবার অভিষেকেই নকআউটে যাওয়া দল।

    স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও তিনটি ড্র করে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছে কেপ ভার্দে।

    সংবাদ সম্মেলনে দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে কথা বললেন কোচ বুবিস্তা। রেকর্ডের কথা জানার পর তিনি বললেন, ‘আমরা? আমি জানতামই না। তাহলে আমরা একটা উদাহরণ হয়ে গেলাম যে যদি মনোযোগ, দৃঢ়তা এবং সংগঠিত থাকে তাহলে ছোট দেশগুলোও বড় লক্ষ্য রাখতে পারে। আমরা দেখিয়েছি কিছুই অসম্ভব নয়। আমরা শুধু আমাদের দেশকে নয়, আফ্রিকাকে এবং সারা বিশ্বের ছোট দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, দেরিতে হলেও কেপ ভার্দে একদিন এই মঞ্চে আসবে। কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা একের পর এক ধাপ পেরিয়েছি। বিশ্বকে দেখিয়েছি, কঠিনকে ভয় পেতে নেই। এখন আমরা নকআউটে, এটা আমাদের মানুষের জন্য, আমাদের দলের সঙ্গে পরিচয় রাখা সবার জন্য এবং বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য অসাধারণ একটা মুহূর্ত।’

    এরপর শুক্রবার মিয়ামিতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। মেসির দল নিয়ে বুবিস্তা বললেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পেরে আমরা গর্বিত। এই দেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সম্পর্ক আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিপক্ষ যেই হোক আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয়েই খেলব। আমরা জানি আর্জেন্টিনায় বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড় আছেন, আর আছেন মেসি, যাকে অনেকে সর্বকালের সেরা মনে করেন।’

    ম্যাচের সময় ড্রেসিং রুম থেকে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উৎসব করার শব্দ ভেসে আসছিল। সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে চলছিল সেই আনন্দ।

  • শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শনিবার গ্রুপ জে-র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। দুই দলই তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। ড্র করলেও দুটি দলেরই নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবু দুই কোচই বলছেন, জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তারা।

    ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দল জেনে যাবে নকআউটের বাকি ব্র্যাকেট কেমন। গ্রুপ জে-তে দ্বিতীয় হলে মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ এইচ-এর শীর্ষ দলের, যেটি হতে পারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর তৃতীয় হলে সামনে পড়বে গ্রুপ বি-র শীর্ষ দল সুইজারল্যান্ড, যাকে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ বলা যায়। সুইজারল্যান্ডের চেয়ে স্পেন নিশ্চয়ই ধারে-ভারে কঠিন দল, সে কারণে ম্যাচটা জিতলেই বুঝি বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে দলকে। তাই অনেকেই ভাবছিলেন, দুই দল হয়তো ইচ্ছে করে ড্র খুঁজবে।

    কিন্তু অস্ট্রিয়া কোচ রাল্ফ রাংনিক তা সরাসরি নাকচ করলেন। তিনি বললেন, ‘না, একদমই না। ম্যাচ শুরুর পর আমরা পরিস্থিতি বুঝব, কিন্তু সেটা আমাদের খেলাকে প্রভাবিত করবে না। ড্র করলে হয়তো এগিয়ে যাওয়া যাবে, কিন্তু ড্রয়ের জন্য মাঠে নামা যায় না।’

    আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও একই সুরে বললেন, ‘ফুটবলে কোনো যদি বা কিন্তু নেই। আমাদের সবসময় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয় একই মনোভাব নিয়ে, পারফর্ম করার ইচ্ছা আর জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ম্যাচের পর কী হবে দেখা যাবে, কিন্তু আগে জেতার চেষ্টা করতে হবে।’

    এই ম্যাচটি নিয়ে ১৯৮২ সালের স্মৃতিও উঠে আসছে বারবার। সেবার স্পেনের গিহনে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া এমনভাবে খেলেছিল যে আলজেরিয়া বাদ পড়ে গিয়েছিল। প্রথম গোলের পর দুই দলই যেন চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছিল। ইতিহাসে এটি ‘গিহনের কলঙ্ক’ নামে পরিচিত। সেই ঘটনার পরই ফিফা গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচ একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম চালু করে।

    সেই প্রসঙ্গে রানগনিক বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা হয়তো গত কয়েক দিনে খবরের কাগজে এটা পড়েছে। কিন্তু আমি মনে করি না এটা আগামীকালের ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে।’

    অস্ট্রিয়া মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার বলেন, ‘আমরা মাঠে নামব জেতার জন্য। প্রতিপক্ষ কে সেটা কোনো ব্যাপার না।’

    দুই দলই আগে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে এবং জর্ডানকে হারিয়েছে। জর্ডান ইতোমধ্যে বাদ পড়ে গেছে।

  • কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    বোয়া ভিস্তা দ্বীপের পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রাম। পুরো গ্রামে ছিল মাত্র একটি টেলিভিশন। বিশ্বকাপের রাতে সেই টিভির সামনে ভিড় করতেন গ্রামের মানুষ। সবার পেছনে দাঁড়িয়ে এক ছোট্ট ছেলে মুগ্ধ চোখে দেখত ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর লোথার ম্যাথাউসের ফুটবল জাদু। ঘরে ফিরে মা তার জন্য মোজা দিয়ে বানিয়ে দিতেন একটি বল। সেই মোজার বল নিয়েই শুরু হয়েছিল তার ফুটবল-যাত্রা।

    বহু বছর পর সেই ছেলেটিই টানা ১১ বছর কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকে চেনে ‘বুবিস্তা’ নামে। যদিও তার আসল নাম পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো। জন্ম বোয়া ভিস্তা দ্বীপে বলেই শৈশবের ডাকনাম ‘বুবিস্তা’ আজ তার পরিচয় হয়ে গেছে। আর শনিবার সকালে হিউস্টনের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ৫৬ বছর বয়সী সেই মানুষটিই লিখলেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিহাস। তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।

    বিশ্বকাপে জায়গা পেতে নানা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। টানা সাতবার ব্যর্থ হওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফ্রিকান ব্লু শার্কসরা। আর প্রথমবার সুযোগ পেয়েই চমকে দিয়েছে তারা। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গ্রুপ থেকে অপরাজিত রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বাইরে থেকে এটি রূপকথা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের পরিকল্পনা, ধৈর্য আর কঠোর পরিশ্রম।

    কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম বড় ভিত্তি সেন্টার-ব্যাক লোগান কস্তা। ভিয়ারিয়ালের এই ডিফেন্ডার গত বছরের জুলাইয়ে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে প্রায় ১০ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে গত ১৭ মে লা লিগায় মাত্র ১৩ মিনিট খেলেছিলেন। এমন একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বুবিস্তা বিশ্বাস হারাননি। সেটার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। স্পেন, উরুগুয়ে কিংবা সৌদি আরব- কেউই সহজে ভাঙতে পারেনি কস্তাদের রক্ষণপ্রাচীর। পুরো গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ।

    কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। কিন্তু দেশের মানুষের চেয়ে প্রবাসী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। সেই ছড়িয়ে থাকা মানুষদেরই এক সুতোয় গেঁথেছেন বুবিস্তা। এই যেমন মিডফিল্ডার জামিরো মন্তেইরোর জন্ম নেদারল্যান্ডসের রটারডামে। অভিবাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটি পাড়ার রাস্তায় ফুটবল শেখা শিখেছেন। পরে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ঘুরে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এসওয়াতিনির বিপক্ষে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই নিশ্চিত করেছিলেন কেপ ভার্দের বিশ্বকাপের টিকিট।

    কেভিন পিনার গল্পও কম অবাক করার মতো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনের রাস্তায় খেলতে খেলতেই সাবেক অধিনায়ক কার্লোস মোরাইসের চোখে পড়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে যাত্রা। এখন রাশিয়ার ক্রাসনোদারে খেলেন। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে তার ফ্রিকিক গোল এখনও টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

    আবার উরুগুয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে সমতাসূচক গোল করা হেলিও ভারেলা খেলেন ইসরায়েলের ক্লাবে। ম্যাচের আগে হয়তো খুব কম মানুষই তার নাম জানত, কিন্তু একটি গোলই তাকে কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছে।

    ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের গল্প আরও মজার। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার প্রথমে ভেবেছিলেন, লিংকডইনে পর্তুগিজ ভাষায় আসা কেপ ভার্দে কোচের বার্তাটি বুঝি স্প্যাম! পরে বুঝতে পারেন, সেটিই ছিল জাতীয় দলের ডাক। সেই বার্তা উপেক্ষা করলে হয়তো ইতিহাসের অংশ হওয়াই হতো না।

    আর গোলরক্ষক ভোজিনহা তো এখন পুরো দেশের নায়ক। স্পেনের বিপক্ষে একাই সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ বাঁশির পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কারণ সেই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছিল প্রয়াত দাদা-দাদিকে- যাদের হাত ধরেই ফুটবলে তার প্রথম পথচলা।

    ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ। গত ১৬ বছরে ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি ছিলেন কেপ ভার্দের প্রতিটি উত্থান-পতনের সাক্ষী। আর ২৫ বছর বয়সী ডেইলন লিভ্রামেন্তো বাছাইপর্বে ক্যামেরুন ও এসওয়াতিনির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে বিশ্বকাপের পথটাই খুলে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেই গোলগুলোর কথা খুব বেশি মানুষ মনে রাখেনি, কিন্তু ইতিহাসের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেখানেই।

    কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বকাপ শুধু স্বপ্ন নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগও। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব খেলেই কেপ ভার্দে ফিফার কাছ থেকে পাচ্ছে এক কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার। ফেডারেশনের পরিকল্পনা, এই অর্থের পুরোটা ব্যয় হবে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দিয়ান প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে। ১৪ বছর বয়সী একাডেমি ফুটবলার ইউরি মার্লে ফার্নান্দেসদের প্রজন্মকে তাই আর কল্পনা করতে হয় না। তারা বড় হয়েছে এমন একটি জাতীয় দলকে দেখে, যারা আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে, ক্যামেরুনের মতো দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে উঠেছে। তাদের কাছে বিশ্বমঞ্চ আর অসম্ভব কোনো স্বপ্ন নয়।

    সৌদি আরব ম্যাচের আগে বুবিস্তা বলেছিলেন, ‘সবারই স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই।’ মোজার ফুটবল দিয়ে খেলা শুরু করা এই মানুষটি ভালো করেই জানেন, বিশ্ব ফুটবলের সমীহ আদায় করতে ঠিক কতটা রক্ত-ঘাম ঝরাতে হয়।

    আগামী ৪ জুলাই নকআউট পর্বে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষে থাকবেন লিওনেল মেসি। পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রামের সেই ছোট্ট ছেলেটি ধার করা টেলিভিশনে এর চেয়েও বড় বড় ম্যাজিক দেখে বড় হয়েছে। এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের গল্প লেখার পালা তার।

  • দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    কিছু মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখা। নিজের জীবনের সঙ্গে কিছু মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করে রাখার নাম। তপন চৌধুরীর গল্প তেমনই।

    ব্যবসায়িক পরিচয়ে তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা। গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের বাইরে আরেকটি দিক আছে, যা তাকে আলাদা করে। তপন চৌধুরী বিশ্বকাপ ফুটবলের এক নিবেদিত পথিক।

    তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকো থেকে। সেই সময় মেক্সিকো নিয়ে নানা আতঙ্ক ছিল। পরিচিতরা বলেছিলেন, সাবধানে থাকতে, পরিস্থিতি নাকি খুব ভালো নয়। চারদিকে ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। ভয় তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধু ফকির মাহবুব আনামকে (বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ) উড়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ দেখতে।

    সেই সময়ের হিসাবেই একেকজনের খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮শ মার্কিন ডলার। থাকা, খাওয়া, খেলা দেখা সব মিলিয়ে। তারা দেখেছিলেন সাতটি ম্যাচ। কিন্তু খেলার ফলের চেয়ে বেশি মনে গেঁথে আছে স্টেডিয়ামের বাইরের পৃথিবী।

    তপন চৌধুরী এখনও মনে করতে পারেন সেই দিনটির কথা, যেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    তিনি বলছিলেন, সেদিন পুরো মেক্সিকো যেন উৎসবে ভেঙে পড়েছিল। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন। তিনি আর তার বন্ধুও সেই জনসমুদ্রে মিশে গিয়েছিলেন।

    তারপর হোটেলে ফিরে টেলিভিশনে দেখলেন আরেক গল্প, ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হাতের গোল। মাঠে বসে তারা কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে।

    তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৯৯০–এ দেখেছেন রোমের সেই রাত। যেখানে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা কাঁদলেন, আর জার্মানি ট্রফি তুলল।

    ১৯৯৪–এ দেখেছেন আমেরিকার গরমে বদলে যাওয়া ফুটবলের ভাষা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ইতালির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।

    ১৯৯৮–এ প্যারিসে দেখেছেন তরুণ এক ফরাসি দলের উত্থান। যখন পুরো স্টেডিয়াম জিদানের নামে কাঁপছিল।

    ২০০২–এ এশিয়ার আকাশের নিচে দেখেছেন ব্রাজিলের পুনর্জন্ম। রোনালদো যেন হারানো সময় ফিরে পেয়েছিলেন।

    ২০০৬–এ দেখেছেন বার্লিনের ফাইনাল। এক মহাতারকার বিদায় ফুটবলকে বিষণ্ন করেছিল।

    ২০১০–এ দক্ষিণ আফ্রিকার রাতজাগা ভুভুজেলা আর স্পেনের ধৈর্যের ফুটবল তাকে নতুন এক সৌন্দর্য চিনিয়েছিল।

    ২০১৪–তে রিওর উৎসব আর তার মাঝেই দেখেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ভাঙনের একটি। ব্রাজিল–জার্মানির সেই ম্যাচ। তিনি বলছিলেন, প্রথম গোল খাওয়ার পরই তার মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঠিক নেই। ব্রাজিল যেন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারছিল না। বিরক্ত হয়ে পাশে বসা মানুষদের বলে ফেলেছিলেন, “আজ ব্রাজিল সাত গোল খাবে।” মিনিটের পর মিনিট যেন সময় থেমে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড বদলাচ্ছিল, মানুষ বদলাচ্ছিল। একসময় আর গোল গোনা হচ্ছিল না, গোনা হচ্ছিল স্তব্ধতা। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চোখে পানি, মুখে অবিশ্বাস। কেউ পতাকা দিয়ে মুখ ঢেকেছে, কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে।

    তিনি বলছিলেন, জীবনে এত খেলা দেখেও কোনো দেশের ফুটবল হৃদয়কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখেননি। যখন সপ্তম গোল হলো, পাশে বসা এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক বারবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এ মানুষটা কি সত্যিই আগেই জানত।

    তপন চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আমি জ্যোতিষী ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল ব্রাজিল সেদিন আর মাঠে ছিল না।”

    ২০১৮–তে দেখেছেন নতুন প্রজন্মের উত্থান।

    আর ২০২২–এ কাতারের সেই রাত, যেখানে ফুটবল যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে লিওনেল মেসি ট্রফি তুললেন, আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু একটা ম্যাচ দেখেনি। দেখেছিল সময়কে পূর্ণ হতে।

    বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক এরপরও থামেনি। এবারও তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা হবে তার দশম বিশ্বকাপ। একসময় প্রায় প্রতি আসরেই তার সঙ্গে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা পরিবারের কেউ না কেউ থাকত। বিশ্বকাপ ছিল পরিবারেরও উৎসব।

    এবার যাত্রার আগে একটি অনুপস্থিতি তাকে অন্যরকমভাবে স্পর্শ করছে। তার ছেলে ড্যানি আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাকে। কথা বলতে বলতে থেমে যান তপন চৌধুরী। বলেন, ছেলেটাকে খুব মিস করেন।

    হয়তো এবারও যাওয়ার কথা ছিল। বাবা–ছেলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতেন। গোল হলে উঠে দাঁড়াতেন, ছবি তুলতেন, তর্ক করতেন, ফিরে এসে রাতভর আলোচনা করতেন। এখন সেই আসন খালি।

    বিশ্বকাপ থেমে থাকে না। জীবনও না। তপন চৌধুরী আবার যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে। এবার তার ব্যাগে থাকবে শুধু টিকিট আর পাসপোর্ট নয়, থাকবে ১৯৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অসংখ্য ফাইনালের আলো, হাজারো গ্যালারির শব্দ, আর এক না–ফেরা সঙ্গীর জন্য গভীর, নীরব এক অপেক্ষা।

  • প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।

    ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো আইভরি কোস্টের। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। তারই ফল হিসেবে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।

    প্রথম গোলটির সূচনা করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দে। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে পেপের কাছে বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করেননি পেপে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে আইভরি কোস্ট। ৬৪তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। এরপর তিন মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ, যাতে ৩০ জুনের নকআউট ম্যাচের আগে বিশ্রাম পান এই ফরোয়ার্ড।এই জয়ে গ্রুপের রানারআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘আই’ গ্রুপের রানারআপ—ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।

    আইভরি কোস্টের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গ্রুপপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও শেষ ম্যাচে জিতলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখানো ক্যারিবীয় দেশটি শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হলো তাদের।গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হারে। তবে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে কোনো ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি।

  • পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ দিনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে জাপান ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দলই নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট। একই সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষও। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা আগামী ২৯ জুন মুখোমুখি হবে জাপানের।

    অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়াকে। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান। আর সুইডেন সেরা আট তৃতীয়-স্থানধারী দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ফলে শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কো।ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় জাপান। ৫৬তম মিনিটে রিতসু দোয়ানের নিখুঁত পাস পেনাল্টি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেত্তারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন ডাইজেন মায়েদা।

    তবে জাপানের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

    এই ম্যাচে গোল করে জাপান নতুন এক কীর্তিও গড়েছে। এবারের আসরে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল ছিল জাপানের সর্বোচ্চ অর্জন।এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নকআউটে উঠল জাপান। সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরোল তারা। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার শেষ ষোলোতে খেলেছিল এশিয়ার দলটি।

    অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের পর থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইডেনও টানা তৃতীয়বারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। ইনজুরি সময়ে এলাঙ্গার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। পরের কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার আইজাকের হেডও রুখে দেন তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। এখন নকআউট পর্বে ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

  • গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    তিন গোলের দাপুটে জয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল নেদারল্যান্ডস। তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। একই সময়ে জাপান ও সুইডেনের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। ফলে নকআউট পর্বে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে এড়িয়ে তারা মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কোর।

    কানসাস সিটির ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিস শিকিরি আত্মঘাতী গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন। এরপর সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি নিজের বিশ্বকাপের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ভার্জিল ফন ডাইকের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একবার ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে হাজেম মাসতুরি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৬২তম মিনিটে জ্যান পল ফন হেকের হেড আনিস স্লিমানের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস।

    ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধও রাখতে হয়। বিরতির পরও অবশ্য বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সহজেই ম্যাচ শেষ করে ডাচরা।এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান, যারা নকআউটে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে। আর চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে তিউনিসিয়া। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোচ পরিবর্তন করেও ভাগ্য বদলায়নি। জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও পরাজিত হয়ে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    নকআউটে ওঠার আগে টানা দুই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামবে নেদারল্যান্ডস, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চমক দেখিয়ে নকআউটে ওঠা মরক্কো।

  • জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল জার্মানি। নিউজার্সিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে উঠেছে জার্মানি।

    অন্যদিকে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট।

    বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ইকুয়েডরের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথম গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর, ম্যাচের নবম মিনিটে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

    ম্যাচজুড়ে দুই দলই প্রায় সমানতালে আক্রমণ করলেও প্রত্যাশিত আগ্রাসী ফুটবল খেলতে পারেনি জার্মানি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার নৈপুণ্যে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় ইকুয়েডর। যে গোলে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়ের নয়্যারের কিপিং প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    জার্মানির বিপক্ষে এই জয়ে গোল ব্যবধানে উন্নতি করে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে ইকুয়েডর। তৃতীয় সেরা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম শেষ ৩২-এ উঠল ইকুয়েডর।

    অন্যদিকে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আফ্রিকার দলটিকে।

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রভাব শুধুমাত্র গোল, ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজেদের সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তারা হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র তেমনই একজন ফুটবলার, যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

    মাঠে তার অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষিপ্র গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ক্যারিয়াজুড়ে গড়া অসংখ্য রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। চোট, বিতর্ক কিংবা সমালোচনা- সবকিছুর মাঝেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

    ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

    নেইমারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান নেইমার।

    ব্রাজিলের মতো ফুটবল সমৃদ্ধ দেশের হয়ে এমন একটি রেকর্ড গড়া নিঃসন্দেহে বিরাট কৃতিত্ব। কারণ দেশটির জার্সি গায়ে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনহোসহ অসংখ্য কিংবদন্তি তারকা।

    অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের নায়ক

    ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল নেইমারের। স্বাগতিকদের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনিই।

    একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

    ইউরোপ জয় ও এমএসএন ত্রয়ী

    এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত।

    ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেইমারের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব ও ফাইনালে তার গোল দলকে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখে।

    বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার

    ২০১৭ সালে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি।

    এটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো ফুটবলার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।

    মাঠের বাইরে জনপ্রিয়তার শিখরে

    শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ নেইমার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

    গিনেস রেকর্ডেও স্বীকৃতি

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মতো নানা অর্জনের কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিভিন্ন তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। এছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহাসিক আক্রমণভাগের অংশ হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিক পরিসংখ্যানভিত্তিক রেকর্ডে।

    শুধু রেকর্ড নয়, এক প্রজন্মের প্রতীক

    নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র গোল কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও বিনোদনমূলক ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

    তার ড্রিবল, ফ্লেয়ার ও সাহসী খেলার ধরন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

    আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল

    এরই প্রমাণ মিলেছে ২৫ জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রিয় তারকাকে আবারও সেলেসাওদের হয়ে খেলতে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা।

    ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি আবেগ, একটি প্রজন্মের স্মৃতি এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় আইকন।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    আড়েবেড়ে বয়স তো অনেক হলো, সব পাওয়াও হলো—কিন্তু ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন লিওনেল মেসি? কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশ্ন এবারও ঘুরে-ফিরে আসছে। মেসি জানিয়েছেন, সব পেয়েছেন। এবার শরীর ঠিক থাকলেই খেলা চালিয়ে যাবেন।

    আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি বলছেন, ‘আমি আরও কিছুদিন খেলব। যতক্ষণ দলের জন্য কিছু করতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততক্ষণ খেলে যাব।’

    তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন সেটা নিয়ে ভাবছি না। ২০৩০ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি এবং একদিন করে এগোচ্ছি।’

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়েও জোড়া গোল করেন।

    গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় ওই ম্যাচে দলকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ। মেসিদের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচও বলা যায় সেটিকে!

  • মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপের মধ্যেই ইউরোপের ট্রান্সফার বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস এফসির তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনায় খেলাকে নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।

    বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন আলভারেজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির কাছ থেকে বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের ঐতিহ্য সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শোনার পর কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে তার।

    ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি এবং আর্সেনাল—আলভারেজকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও তিনি নাকি বার্সেলোনাকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে সম্ভাব্য এই দলবদল নিয়ে বার্সেলোনা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

    জানা গেছে, কাতালান ক্লাবের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আলভারেজকে দলে আনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান বিশ্বকাপের কারণে তারা আপাতত কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছে না।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আলভারেজের জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্সেলোনা। যদিও এই ট্রান্সফার সহজ হবে না, কারণ আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে ছাড়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

    স্প্যানিশ ক্লাবটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলভারেজকে দলে নিতে চাইলে তার চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পূরণ করতে হবে। ফলে বার্সেলোনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এই সম্ভাব্য দলবদল শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বেশ কয়েকজন তরুণ ও মাঠে কম নামা ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে দল ঘুরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ডান হাতের অনামিকার চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা মার্তিনেজ নিজেই জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গোল হজম না করা এই গোলরক্ষকের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    মেসিকেও এই ম্যাচে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামানোর চিন্তা রয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই খেলবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবু সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    স্কালোনি মূল একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নিকো পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোটের কারণে খেলতে না পারা গঞ্জালো মন্তিয়েল এবার রাইট-ব্যাক পজিশনে ফিরতে পারেন। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসি অথবা ফাকুন্দো মেদিনার একজনকে দেখা যেতে পারে। বাম প্রান্তে খেলবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

    মিডফিল্ডে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাশে সুযোগ পেতে পারেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। এছাড়া আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড ও উইংয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং জিওভানি লো সেলসোকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এছাড়া প্রয়োজন হলে লোপেসকেও মাঠে নামানো হতে পারে। মেসি যদি শুরুর একাদশে না থাকেন, তাহলে তার জায়গায় নিকো পাজকে দেখা যেতে পারে। আর মেসি শুরু করলেও ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তরুণ এই মিডফিল্ডারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।

  • বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পেশা। বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখার দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার।

    মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ান তাদের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা জানতেই সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

    টাইমস স্কয়ারে বিশেষ কাচের ঘরে বিশ্বকাপ দেখা

    নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। পথচারীরা সহজেই তাদের দেখতে পারেন, যা অনেক দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    এই ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনার চেয়ার, চামড়ার সোফা, বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা সামগ্রী। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ।

    কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল ভক্ত তার স্বপ্নের ঘরে যা যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবকিছুই সেখানে রয়েছে।

    হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচন

    ফ্লোরিডায় রাঁধুনির কাজ করা কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু ম্যাচ দেখা নয়, দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।

    ‘এটা আসলে দীর্ঘ এক ম্যারাথন’

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ সূচির কারণে কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কেভিন জানিয়েছেন, টানা ম্যাচ দেখতে দেখতে তারা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং নতুন রুটিনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    অস্টিনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনের ঘটনাগুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। তার মতে, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো—দেখতে সহজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

    তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের টাইমস স্কয়ারের কাচের ঘরেই রাত কাটাতে হয় না। শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

    ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ

    এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। একসময় আর্জেন্টাইন খাবার উপভোগ করতে করতে তারা দেখেছেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

    ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ*

    ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়েসহ নানা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তাদের কাজের অন্যতম আকর্ষণ।

    অস্টিনের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের গল্প শোনা এবং তাদের ফুটবল-উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখা এই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।

    কারা জিততে পারে বিশ্বকাপ?

    শিরোপা দৌড়ে কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।

    অন্যদিকে অস্টিনের সমর্থন নরওয়ের প্রতি। তার বিশ্বাস, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চমক দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন

    এই অদ্ভুত চাকরি নিয়ে মানুষের মতামতও একরকম নয়। কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া এতগুলো ম্যাচ দেখা অতিরিক্ত চাপের বিষয়। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার জন্য অর্থ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ।

    কিছু দর্শকের মতে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ আলাদা। তবে অনেকেই কেভিন ও অস্টিনের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে দেখছেন।

  • ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মধ্যে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, দলগুলোর মধ্যেও চলছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র মতো খেলা। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনোবা জার্মানি।

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল-জার্মানি। দুই দলেরই ছিল ২৪১ গোল। আজ স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিল ব্রাজিল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবার তাদের গোলসংখ্যা ২৪৪। তবে এই রেকর্ড কতক্ষণ টিকে থাকে সেটাই দেখার। কারণ, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচ। বিশ্বকাপ এলেই যে জার্মানকে দেখা যায় ভয়ংকর রূপে, তাতে হয়তো রাতেই সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনটা ব্রাজিলের কাছ থেকে কেড়ে নেবে জার্মানরা।

    জার্মানি-ব্রাজিলের লড়াইটা শুরু ১৪ জুন থেকেই। সেদিন ভোরে নিউজার্সিতে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২৩৮ গোল নিয়ে তখনো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ব্রাজিলেরই। কিন্তু সেই রাতে এক ঝটকায় সব ওলটপালট করে দিল জার্মানরা। হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে গোলসংখ্যা ২৩৯ করে ফেলল জার্মানি।

    ২৩৯ গোল করে রেকর্ডটা এক সপ্তাহ টিকিয়ে রাখতে পারেনি জার্মানি। ২০ জুন ভোরে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজের দখলে নেয় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর সেলেসাওদের গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪১। কাকতালীয়ভাবে একই রাতে পড়ে যায় জার্মানদের ম্যাচ। তবে এবার আর জার্মানরা টপকে যেতে পারেনি ব্রাজিলকে। টরন্টোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে জার্মানি। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার এই জয়ে ১২ বছর পর নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জার্মানরা।

    আজ সকালেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। তাতে করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোলের দুটি করেছেন ভিনি এবং মাথিয়াস কুনিয়া করেন এক গোল। ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। চারটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনি।

    অবস্থানদলগোল
    ১ব্রাজিল২৪৪
    ২জার্মানি২৪১
    ৩আর্জেন্টিনা১৫৭
    ৪ফ্রান্স১৪২
    ৫ইতালি১২৮
  • নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে জার্মানি। এখন প্রশ্ন হলো ‘ই’ গ্রুপ থেকে নকআউটে তাদের সঙ্গী হচ্ছে কে? আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, কুরাসাও–এ তিন দলই নকআউটের দৌড়ে আছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কে জার্মানির মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়ায় আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ কুরাসাও। কোনো দল যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, সে জন্য একই সময়ে শুরু হচ্ছে ম্যাচ দুটি।

    দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে আছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডর ও কুরাসাও ১ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে। তবে গোল পার্থক্যে তৃতীয় স্থানে ইকুয়েডর। নকআউটের দৌড়ে থাকলেও ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের কাজটা খুবই কঠিন। ইকুয়েডরকে নকআউটে যেতে হলে আজ জার্মানির বিপক্ষে জিততেই হবে। আর ড্র করলে লাতিন আমেরিকার দেশটির পয়েন্ট হবে ২। গ্রুপে তৃতীয় হলেও ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে যাওয়াটা বেশ কঠিন হবে।

    অবশ্য কুরাসাও যদি আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জিতে যায়, তাহলে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে। কুরাসাও জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারাই নকআউটে চলে যাবে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে আইভরি কোস্টেরও সম্ভাবনা থাকবে। পঞ্চম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইকুয়েডর আগের চারবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। এবারও তারা প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে হেরে ও একটি ড্র করে বিদায়ের পথেই আছে। এরমধ্যে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার পোস্টে লাগানোর পর একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা। এরপর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে।

    নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখতে পারেন জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগলেশমান। গত দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। এরমধ্যে গত ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিয়ে নায়ক বনে যান। গত দুই ম্যাচে ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সে পুরস্কার হিসেবে আজশুরুর একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন স্টুটগার্টের এ স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে বিশ্রাম দিয়ে অলিভার বাউম্যানকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে এ ম্যাচে। গোড়ালির চোটে সেন্টার-ব্যাক নিকো স্লটারবেক ছিটকে যাওয়ায় রক্ষণে জোনাথন টাহয়ের সঙ্গী হতে পারেন এন্টিনিও রুডিগার। লেফট-ব্যাক ডেভিড রাউমও সুযোগ পেতে পারেন আজ।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে জার্মানির মিডফিল্ডে। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা লিয়ন গোরেৎসকা, নাদিম আমিরি আজ শুরু থেকে নামতে পারেন। তাদের সঙ্গে মাঝমাঠে বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাচ্ছে এঞ্জেলো স্টিলারের। আক্রমণভাগে কাই হাভার্টজের জায়গা উনদাভ ও উইংয়ে লেরয় সানে ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের জায়গায় জেমি লেভেলিং ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ইকুয়েডর দলে চোট সমস্যা নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারছে তারা। অবশ্য কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ড্র করা একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে জানা গেছে। জার্মানি ও ইকুয়েডর এখন পর্যন্ত দু’বার মুখোমুখি হবে; যেখানে দু’বারই বিজয়ীর হাসি হেসেছে জার্মানরা।

  • হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাগজে-কলমে লড়াইটা ছিল গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট বনাম ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা পুঁচকে হাইতির। তবে আটলান্টা স্টেডিয়ামে শক্তি-সামর্থ্যে ঢের পিছিয়ে থাকা হাইতি রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছাড়ল মরক্কোর। ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো।

    টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল হাইতির। তাই তাদের আজ হারানোর কিছু ছিল না। তাই হয়তো কিছু একটা করে দেখানোর মানসিকতা ছিল। ম্যাচের ১০ম মিনিটে মরক্কোকে স্তব্ধ করে লিড নেয় ক্যারিবীয় দলটি। মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর মারাত্মক ভুলে আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে হাইতির প্রথম এবং চলতি বিশ্বকাপের ১৫০তম গোল।

    পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া মরক্কো ৩৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। এল খান্নুসের শট হাইতি গোলরক্ষক প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বল গোলমুখে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান আশরাফ হাকিমি। তবে মরক্কোর এই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র ৪ মিনিট। ৪৩ মিনিটে মরক্কো রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠিয়ে হাইতিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন উইলসন ইসিদোর।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মরক্কোর স্বস্তি ফেরান ইসমায়েল সাইবারি। হাকিমির নিচু ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে প্রথম ছোঁয়ার শটে বল জালে জড়িয়ে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় মরক্কো।

    বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ালেও হাইতির সুসংগঠিত রক্ষণের কারণে গোল পাচ্ছিল না মরক্কো। অবশেষে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন সুফিয়ান রাহিমি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে রিয়াদের টাচের পর বল পেয়ে কার্লিং শটে গোল করেন রাহিমি। মরক্কো এগিয়ে যায় ৩-২ ব্যবধানে।

    একেবারে শেষদিকে ৮৯ মিনিটের সময় বাম দিক থেকে রাহিমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান এবং বল বাড়ান ইয়াসিনের কাছে। ফাঁকা জালে সহজেই বল জড়িয়ে দেন তিনি। হাইতির খেলোয়াড়রা বল বাইরে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করলেও রেফারি ভিএআর যাচাই শেষে গোলের বৈধতা নিশ্চিত করেন। মরক্কো এগিয়ে যায় ৪-২ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর বিপক্ষে বীরোচিত লড়াইয়ের তৃপ্তি নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল হাইতি। আর স্বস্তির জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।

    তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল মরক্কো। অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও সেরা চার তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষীণ সুযোগ আছে। শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মরক্কো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের। যে স্থানটি বর্তমানে দখল করে রেখেছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস।

  • ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের জার্সিতে প্রায় তিন বছর পর মাঠে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। তবে ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন মাঠে প্রবেশের আগে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন ভিনিসিয়ুস ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাওয়া এই তরুণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। তার দাপটে ৩-০ গোলে জিতেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ ‘সি’ সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

    ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের অপরসঙ্গী মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতির বিপক্ষে জয় পেয়েছে। তিন ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট তুলেছে আফ্রিকার দলটিও। তবে ব্রাজিলের চেয়ে ৩ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দলটি।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে লিড নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুতে একাদশে জায়গা পাওয়া রায়ান তাকে গোলে সহায়তা দেন। বক্সের মুখে স্কটিশ ডিফেন্ডারের নড়বড়ে নিয়ন্ত্রণের সুযোগে পা থেকে বল কেড়ে ভিনিকে দিলে সহজে জালে পাঠান তিনি।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দলকে নির্ভার রেখে প্রথমার্ধ শেষ করেন। তার এবারের গোলটি পাওয়া হেড থেকে। গোলের একেবারেই মুখে ব্রুনো গিমারেজ ফাঁকায় থাকা ভিনিকে লম্বা করে বল পাঠান। তিনি হেড দিয়ে জালে বল পাঠিয়ে দেন।দলের তৃতীয় গোলটিকেও দারুণ এক সহায়তা দিয়েছেন ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণভ্রোমরা গিমারেজ। তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের বক্সের ঠিক বাহির থেকে ছোট্ট নিঁখুত পাসে ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফাঁকায় বল পাঠান। বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যানইউ স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টে ভিনির চার গোলের পাশাপাশি তিন গোল করেছেন এই নাম্বার নাইন। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে পরে খেলছেন এই তারকা।

  • নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্র। এসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। এ দুই জয়ে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট তুলে নকআউটে উঠেছে মেক্সিকো। তাই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ভার হয়ে খেলবে তারা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ম্যাচটি জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে দলটি।
    অপরদিকে এখনো নকআউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করে তারা। নকআউট পর্বে খেলতে হলে মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। এর আগে ২০০০ মেক্সিকো এবং চেক প্রজাতন্ত্র একটি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। এবার জয়ের ছন্দ ধরে রাখবে চেক প্রজাতন্ত্র, নাকি প্রতিশোধ নেবে মেক্সিকোÑসেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিন সুপারস্টার

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিন সুপারস্টার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গল্প সাধারণত দলকে ঘিরে লেখা হয়। কিন্তু কিছু কিছু বিশ্বকাপ আছে, যেখানে গল্পের কেন্দ্রে চলে আসেন ফুটবলার। কখনো সে গল্পের নায়ক একজন। কখনো দুজন অথবা তিনজন। ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ঠিক সেরকমই চমকপ্রদ এক গল্পের দিকে এগোচ্ছে।
    আগে নামগুলো শুনি। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড-তিনজনই গোল করছেন, রেকর্ড ভাঙছেন। আর একে অপরকে তাড়া করছেন। মনে হচ্ছে যেন মাঠে শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, নিজেদের মধ্যেও একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে।
    ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেন মেসি। শুধু ম্যাচ জেতালেন না, ভেঙে দিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডগুলোর একটি। মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলেন ১৮ গোলে। অবাক করার বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করেছে। পাঁচটিই মেসির। ৩৮ বছর বয়সে এমন আধিপত্য সাধারণ কোনো ফুটবলারের গল্প নয়।
    এটা কিংবদন্তির গল্প। এটা এমন এক মানুষের গল্প, যিনি সময়ের সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় জিতছেন। কিন্তু মেসির পেছনে ছায়ার মতো আছেন আরেকজন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির ম্যাচে জোড়া গোল করলেন ফরাসি তারকা। তিন বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬। একটু জানিয়ে দিই-আগের দুই বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ছিল ১২। সেই দুই বিশ্বকাপের দুটিতেই তিনি ফাইনালে খেলেছেন। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগে ২০২২ সালে রানার্সআপ।
    এবার? সময়েই মিলবে সে প্রশ্নের উত্তর।
    জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সর্বোচ্চ গোলের যে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, এমবাপ্পে সেখানে পৌঁছে গেছেন অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং তার বয়স এখনও মাত্র ২৭। আরো অন্তত দুটি বিশ্বকাপ খেলা সম্ভবত তার বাকি রয়েছে।
    ফরাসি ফুটবল বিশ্লেষক জুলিয়েন লরেন্স বলছিলেন, ‘আমার তো মনে হয় এ বিশ্বকাপটি এবার এমবাপ্পের বিশ্বকাপ হতে পারে। কারণ, সে এমন এক রেকর্ডের পেছনে ছুটছে-যা এখন মেসির হাতে।’
    এ কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে পুরো বাস্তবতা। মেসি এখন শীর্ষে; কিন্তু শিকারি হয়ে পেছনে আছেন এমবাপ্পে।
    বিশ্বকাপ শুরুর আগে গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসি-এমবাপ্পে-রোনালদোর নাম থাকলেও সে সম্ভাবনার তালিকায় আর্লিং হ্যালান্ডের নাম ছিল অনেক পেছনে, খানিকটা অস্পষ্ট আকারে। সম্ভবত এ উপেক্ষা পছন্দ হয়নি নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের। তাই নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে যা করলেন, সেটা এখন পর্যন্ত নরওয়ের আর কেউ করে দেখাতে পারেননি। টানা দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে হ্যালান্ডের গোল এখন চার। এমবাপ্পের সমান। নরওয়ের হয়ে এই গোলমেশিন হ্যালান্ডের পরিসংখ্যান দুর্দান্ত, ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল। আর বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে যা করলেন হ্যালান্ড, তা নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে কারো নেই।
    হ্যালান্ডকে নিয়ে স্কটল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাককয়েস্টের মন্তব্যটা সত্যিই বাঁধিয়ে রাখার মতোই-‘প্রকৃতিগত প্রতিভার বিচারে মেসি সবার ওপরে। তার পরেই এমবাপ্পে। কিন্তু বল জালে পাঠানোর কথা বললে হ্যালান্ডের সমকক্ষ কেউ নেই।’
    তাহলে এবার অঙ্ক মেলাই।
    মেসি ম্যাচ তৈরি করেন, রেকর্ড গড়েন। এমবাপ্পে সেই রেকর্ড নিজের করার লড়াইয়ে নামেন। আর হ্যালান্ড এ দুইয়ের শ্রেষ্ঠত্বে ভাগ বসাতে ছুটছেন। ফুটবল মাঠে তিনজনের কাজ তিনরকম। তিনজনের ফুটবলও তিনরকম। তবে গন্তব্য কিন্তু ওই একই- গোল।
    আর সেই গোলের পথ ধরেই এখন চলছে গোল্ডেন বুটের দৌড়।
    দুই ম্যাচ শেষে মেসির পাঁচ গোল। এমবাপ্পের চার। হ্যালান্ডের চার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল, যখন প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিন ফুটবলারের গোলসংখ্যা চার বা তারও বেশি। শেষবার এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ১৯৫৪ সালে। সে বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সান্দর কচিস করেছিলেন ১১ গোল। চার বছর পর জাস্ট ফন্টেইন করেছিলেন ১৩ গোল। আজও যা এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এ রেকর্ডটিও কি এবার হুমকির মুখে?
    ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশি বলেন, ‘এমবাপ্পেদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা ভয় পায় না। তারা বয়স দেখে সম্মান করে না, পারফরম্যান্স দেখে সম্মান করে।’
    এ কথাটি শুধু এমবাপ্পের জন্য নয়। হ্যালান্ডের জন্যও সত্যি। আর আশ্চর্যের বিষয়, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি যেন একই মানসিকতা নিয়ে খেলছেন। তিনি এখনো ক্ষুধার্ত। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় গোল করতে মেসি যে কসরত এবং প্রচেষ্টা দেখালেন, তাতেই স্পষ্ট গোলক্ষুধা তার এখনো তুমুল। এখনো নতুন রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন তারুণ্যের তেজে। এখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন অভিজ্ঞতার আলোকে।
    এ তিনজনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনে হাসতে হাসতে বলেছিলেন-‘মেসি, এমবাপ্পে আর হ্যালান্ডকে দেখে বিরক্ত লাগে। ওরা যেন অবধারিতভাবেই গোল করবে!’
    এ বিশ্বকাপ প্রতি ম্যাচেই এই ত্রয়ীকে নিয়ে নতুন গল্প লিখছে। মেসি, এমবাপ্পে ও হ্যালান্ডের সেই গল্পে এবারের বিশ্বকাপের নায়ক হবেন কে? শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের ট্রফি হবে কার?
    সে প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনো বাকি বেশ। তবে তার আগে গোটা ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ হয়ে দেখল এই ত্রয়ীর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের দৌড়।

  • ‘আমাকে তো অবসরপ্রাপ্তই বানিয়ে ফেলেছিল’

    ‘আমাকে তো অবসরপ্রাপ্তই বানিয়ে ফেলেছিল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু দলকে বড় জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড। ম্যাচ শেষে নিজের কঠিন সময়, সমালোচনা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও শোনালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

    হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। জোড়া গোল করেন রোনালদো, একটি গোল করেন নুনো মেন্দেস, আর একটি আসে আত্মঘাতী গোলে। শেষ দিকে স্কোরলাইন ৫-০ করেন রাফায়েল লেয়াও।ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমরা জানতাম এই সপ্তাহে এমন কিছু ঘটবে। তবে দল খুব ভালোভাবে কাজ করেছে এবং আমরা অনেক উন্নতি করেছি। একটি প্রবাদ আছে—প্রতিটি কালো মেঘেরই রুপালি দিক থাকে। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ভাঙতে সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু আমার প্রধান লক্ষ্য জাতীয় দলকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা। এই পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পেরোনো। আমার বিশ্বাস, চার পয়েন্ট নিয়েই আমরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমি খুবই খুশি।”

    ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, কঠিন সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি তিনি।“আমি জানতাম এটা হবে। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সপ্তাহ, একেবারে অন্ধকার একটি সপ্তাহ। এমনও মনে হচ্ছিল, যেন আমি ইতোমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি! কিন্তু আমি টিকে ছিলাম, যেমনটা সবসময় থাকি। কারণ আমি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি।”

    এরপর নিজের অনুভূতি লুকাননি রোনালদো, “আমি মিথ্যা বলব না, সময়টা কঠিন ছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আমরা ফিরে এসেছি।”উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হয়েছেন। সমালোচনার মুখে থাকা এক সপ্তাহের পর এমন পারফরম্যান্স যেন তার পক্ষ থেকে সবচেয়ে জোরালো জবাবই হয়ে উঠল।

  • কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউটে কলম্বিয়া

    কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউটে কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার দেখাল কলম্বিয়া। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। একই সঙ্গে গ্রুপের শীর্ষস্থানও দখলে নিয়েছে হামেস রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন দল।

    বুধবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর রক্ষণভাগ তাদের বেশ কয়েকবার হতাশ করে। বিরতির আগে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলে যায়। কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া, আর সেই এক গোলের ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় তাদের। কঙ্গোও সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও কলম্বিয়ার সংগঠিত রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

    এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল কলম্বিয়া। কঙ্গোর বিপক্ষেও জয় পাওয়ায় দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে শেষ বত্রিশের টিকিট।অন্যদিকে, পর্তুগাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল। ফলে দুই ম্যাচ শেষে কলম্বিয়ার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে ইউরোপের দলটি। এতে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান এখন পুরোপুরি কলম্বিয়ার দখলে।

    টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত কলম্বিয়া এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে। আর পর্তুগালকে লড়তে হবে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার এবং নিজেদের নকআউট ভাগ্য নিশ্চিত করার জন্য।

  • এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলেই দেননি, একই সঙ্গে গড়েছেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

    টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুই গোলের সুবাদে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মেসির নতুন রেকর্ডগুলো।

    আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন মেসি।

    এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও অতিক্রম করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

    গোলের রেকর্ড ছাড়াও জয়সংখ্যার দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৮তম জয়, যা ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    এ ছাড়া ম্যাচে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে খেলার সময়ের হিসাবে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট মাঠে থেকে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন মেসি।

    এক ম্যাচেই চারটি নতুন গিনেস রেকর্ড নিজের করে নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নামটি বিশেষ এক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

    বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

    দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

    কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে।

    হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

    তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

    হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

    হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

    বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।

  • মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফিফা!

    মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফিফা!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)। ফিফা ও রেফারিদের সৌজন্যে নাকি একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার। এমন অভিযোগ অনেকের।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেও মেসিকে নিয়ে বতর্ক চলছেই। তার গোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এবার আঙুল উঠছে ফিফার দিকেও।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেও গোল করেন মেসি। সেই গোলে মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভাঙেন মেসি। কিন্তু সেই গোল নাকি এক ফাউলের ফসল, এমনটাই অভিযোগ অনেকের।

    তাদের দাবি, অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভের শ্লাগারকে ফাউল করে তার কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার। তিনি পাস বাড়ান মেসিকে। লিওনেল বল বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনাকে। প্রান্ত থেকে বক্সে বল বাড়ান মেদিনা। চলতি বলে গোল করেন মেসি।

    অভিযোগ, অস্ট্রিয়ার ফুটবলাররা ফাউলের আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।

    এ প্রসঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ও ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক পিটার স্কিমিশেল বলেন, ‘ম্যাকঅ্য়ালিস্টার পরিষ্কার ফাউল করেছিল। মেসি বল পাওয়ার আগেই রেফারির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল। কিন্তু চোখ বন্ধ করে থাকছে রেফারি। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

    স্কিমিশেলের এই অভিযোগের পরে অনেকেই তাকে সমর্থন করেছেন। তাদের অভিযোগ, এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মেসির সঙ্গে পক্ষপাত করা হচ্ছে। ফিফা যেন ঠিক করে নিয়েছে, আবার মেসিকে বিশ্বকাপ দেওয়া হবে।

    এর আগে আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির একটি ফাউল নিয়ে বিতর্ক হয়। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্ডিকে পেছন থেকে ফাউল করেন মেসি। রেফারি ফাউল দিলেও মেসিকে কোনও কার্ড দেখাননি। অনেকের দাবি, মেসিকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। এই বিষয়ে ফিফায় অভিযোগও করেছে আলজেরিয়া। পরের ম্যাচে আরও একটি ফাউল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও একটি ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারকে পিছন থেকে মারেন মার্তিনেজ। লাল কার্ডের আবেদন করে অস্ট্রিয়া। কিন্তু রেফারি কোনও কার্ড দেখাননি। ফলে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। তবে এই বিষয়ে ফিফা কোনও মন্তব্য় করেনি।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জর্ডান

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জর্ডান

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো জর্ডানকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২–১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল তারা। অন্যদিকে এই জয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল আলজেরিয়া।

    এবারের বিশ্বকাপ থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি। প্রায় সাত দশক পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা হাইতির পর বিদায় নিয়েছে ২৪ বছর পর সুযোগ পাওয়া তুরস্ক। এরপর তৃতীয় দেশ হিসেবে রোববার বিদায় নেয় আরেক মুসলিম দেশ তিউনিশিয়া। এবার তাদের সঙ্গী হলো জর্ডান।

    ৪৮ দলের এই আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেবে ১৬টি দল। ৩২টি দল উঠবে পরের রাউন্ডে। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে ২৪টি দল এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ১২টি দলের মধ্যে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে থাকা ৮টি দল খেলবে রাউন্ড অব থার্টি টুতে।

  • মেসির রেকর্ড এমবাপ্পেই ভাঙবে

    মেসির রেকর্ড এমবাপ্পেই ভাঙবে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড় গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। এই মুহূর্তে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ১৮টি গোল। তালিকায় মেসির পরের নামটি কিলিয়ান এমবাপ্পের। ফরাসি অধিনায়কের গোলসংখ্যা মেসির চেয়ে মাত্র দুটি কম, ১৬টি। তবে মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড একদিন ভেঙে দেবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমনটাই মনে করেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

    সোমবার রাতে ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টি। এর মধ্য দিয়ে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড স্পর্শ করেন। সেই ম্যাচের পরই নিজের অধিনায়ককে নিয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন ফরাসি কোচ।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, ‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। এখন সে একটি প্রতীকী সংখ্যাও স্পর্শ করেছে। তার ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। সে সবসময় গোল করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও গোল করবে।’

    মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে ফ্রান্স কোচ বলেন, ‘মেসিকে দেখুন, রোনালদোকে দেখুন। এমবাপ্পে তাদের বয়স পর্যন্ত খেলবে কি না, সেটা আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু যতদিন সে মাঠে থাকবে এবং নিজেকে ভালো অনুভব করবে, ততদিন সে অনেক গোল করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবারই সে নিজের রেকর্ড ভাঙে এবং নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায়। তার সেই সামর্থ্য রয়েছে।’

    এদিকে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচটি এমবাপ্পের জন্য বিশেষ ছিল। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ। তবে ম্যাচটি আর দশটা ম্যাচের মতো স্বাভাবিক ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ ছিল। বিরতির সময় কী করেছিলেন খেলোয়াড়রা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তাস খেলেছি।’

    দেশম জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং এমন অভিজ্ঞতা তার কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম।

    ফরাসি কোচ বলেন, ‘আসলে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। বারবার সময় পিছিয়ে যাচ্ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আবার ২০ মিনিট ওয়ার্ম-আপের সুযোগ পাওয়া, যাতে কোনো ঝুঁকি না থাকে।’