সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ