রাজনীতি

  • শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন ২ জন প্রতিমন্ত্রী হলেন, শামীম কায়সার লিংক। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তফসিল অনুযায়ী গতকাল ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট ও এগারো দলীয় প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ৬ জন এমপি ভোট দানে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল রাষ্ট্রপতি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

  • শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই বঙ্গভবনে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    শপথ নিতে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

    নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- ড. আবদুল মঈন খান (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী), ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (তথ্যমন্ত্রী), সাচিং প্রু জেরী (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী)।

    হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী)।

    শপথ গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হবে।

    বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০’র বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পর একই দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    রয়টার্সের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ তথ্য জানান।

    এর আগে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করবেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে এটি হতে পারে তার প্রথম সফর। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে।

    রয়টার্সকে এ এ এম সালেহ বলেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনা এবং ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের ব্যাপারে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি তারা পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে তারেক রহমানের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দেয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

    এর কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরে গত বছরের নভেম্বরে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন।

  • রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    সরকারের তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব হিসেবে বদলি করা রফিকুল আই মোহাম্মদকে আবারও বদলি করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তাকে এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাৎ শওকত রশীদ চৌধুরীকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে। আর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে ১০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন করেছিল সরকার। চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োজিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছিল। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

    অন্যদিকে সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও পাঁচজন যুক্ত হতে যাচ্ছেন। যে পাঁচজনকে ঘিরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাদের একজন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নতুন মন্ত্রীদের বিষয়ে যে সূত্রটি তথ্য দিয়েছে, তার বর্ণনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন আবদুল মঈন খান, হুমায়ুন কবির, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

    হুমায়ুন কবির বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর এই পদটি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

    সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে জয়ী হন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

  • বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন এই বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা কার্যক্রম শুরু করল।

    বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করেছে সরকার।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

    নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি।

    তিনি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামে পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ বাকি কাজ ধাপে ধাপে শুরু হবে।

    নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্ক দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবি থেকেই এই উদ্যোগের সূত্রপাত।

    তিনি বলেন, ইনভেস্ট বাংলাদেশকে সেই একক পয়েন্টে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। এতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো সুসংহত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন।

    যেসব দায়িত্ব থাকবে

    নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

    নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

    নতুন সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।

    সম্পদ ও জনবলও হস্তান্তর

    একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।

    নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরো সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদকে হারিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং এই পদের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রপতি আসলে কী করতে পারেন আর কী পারেন না?

    এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে বিবিসি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটির ভূমিকা অনেকটাই ‘আলংকারিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে, আর রাষ্ট্রপতি হন কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা জানায়, রাষ্ট্রপতি কেবল দুটি কাজ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। আর এই কাজ দুটি হলো, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব কাজ সম্পাদনে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সংসদ আহ্বান করা, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সই করা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা বা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ চূড়ান্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আসলেই রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে দেশের কোনো আদালতও প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো ক্ষমতা নাই।’ তিনি মনে করেন, শাসন ব্যবস্থায় যারা বাস্তবে ক্ষমতায় থাকেন, তাদের ইচ্ছার বাইরে রাষ্ট্রপতির তেমন কিছু করার সুযোগ থাকে না।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতার মূল উৎস

    কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ বা আপদকালীন পরিস্থিতিতে এই পদটিই হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার মূল উৎস। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ক্ষমতার নেপথ্যে থাকা কোনো শক্তি, আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থন থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি অনেক সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

    অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ক্ষমতার আড়ালে থাকা খেলোয়াড়রা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে যদি কিছু করাতে চান, তাহলে ওনার অনেক ক্ষমতা। উনি সেনা সমর্থিত সরকার আনতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।’

    এছাড়া সংবিধানই রাষ্ট্রপতি পদকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। অর্থাৎ,অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে যেমন কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তেমনি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সব বিধিনিষেধের ঊর্ধ্বে উঠার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতিরই আছে। তার যেকোনো উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না কেউ।

    ঐতিহাসিক সংকট ও রাষ্ট্রপতিদের ভূমিকা

    সংসদীয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বেশ কয়েকটি সংকটময় মুহূর্ত এসেছে, যখন রাষ্ট্রপতিকে একক বা স্বাধীনভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বিবিসি বাংলার সংকলিত তথ্যে এমন কিছু নজির উঠে এসেছে।

    ১৯৯৬ সালের সেনা বিদ্রোহ প্রতিহতকরণ: ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাথে তৎকালীন সেনাপ্রধানের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেনাপ্রধানের নির্দেশে ঢাকায় সৈন্য সমাবেশ করার চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্রপতি অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন এবং সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়।

    সাহাবুদ্দীন আহমদের দৃঢ়তা: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সরকারের সাথে তার তিক্ততা তৈরি করে। পাঁচ বছরের মেয়াদে তার নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ছিলেন।

    বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ: ২০০২ সালে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে তার দল জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরে শ্রদ্ধা না জানানো এবং স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করার জেরে মাত্র ৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করে ।

    ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ: ২০০৬ সালে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রয়োগ।

    দলীয় আধিপত্য বনাম ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দলীয় আধিপত্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে তার স্বাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়া হয় না, কারণ দলগুলো সবসময়ই তাদের অনুগত বা পছন্দের ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে চায়।

    অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাষ্ট্রপতি, যদি তিনি কাজ করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তা করতে দেওয়া হয় না। দলগুলোই রাষ্ট্রপতিকে পদে বসায়, তাই তিনি স্বাধীন নন।’

    একই সুর শোনা যায় লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের কণ্ঠেও। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংকুচিত করা হয় এবং দলগুলো তাদের অনুগতদেরই এই আসনে বসাতে পছন্দ করে। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষতার পুরো বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এবং তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ধরনের ওপর। নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য বজায় রাখার এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

  • কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জজ মিয়াকে (৫৫) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো: জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তার বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়।

    এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

    এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান, ডালিম আহত হয়।

    এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল পক্ষের আহত সবুর খান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ক্যাবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

    অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

    সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।’

  • তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
    স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। তবে নয়াদিল্লি কিংবা ঢাকা- কোনো পক্ষই তখন পর্যন্ত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এরপরেই দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়।

    বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো নতুন এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।
    দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাধারণত তিন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথির আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব থাকে।

  • বন্দে মাতরম নিয়ে বিজেপির কেন এত আগ্রহ?

    বন্দে মাতরম নিয়ে বিজেপির কেন এত আগ্রহ?

    জেন–জি ও জেন আলফার অসন্তোষ, তাদের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং উজ্জীবিত কংগ্রেসের মোকাবিলায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সরকার বন্দে মাতরমকে আঁকড়ে ধরছে। প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে তারা কংগ্রেসের দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলতে শুরু করেছে, দলটা নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। তারা বলছে, ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে কংগ্রেস যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি থেকে সরে আসেনি, বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে তাদের ভূমিকা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।

    ধর্মীয় মেরুকরণের যে রাজনীতি বিজেপিকে দেড় দশক আগে ক্ষমতাসীন করেছে, বেশ বোঝা যাচ্ছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার সেই রাজনীতিকে আঁকড়েই তারা আগামী দিনের রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে চায়।

    বিজেপিকে এই সুবিধা করে দিয়েছে কংগ্রেসই। গত বুধবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দলীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে তারা বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে। পুরো গান গাইবে না।

    এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। বলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পরামর্শের পর মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলসহ শীর্ষ নেতারা বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

    স্বাধীনতার পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান পরিষদের শেষ বৈঠকে বন্দে মাতরমকে ‘জাতীয় গান বা রাষ্ট্রীয় গানের’ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, তা জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’–এর সমান সম্মান পাবে।

    কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এই ব্যাখ্যা শুনিয়ে বলেছেন, ওই দুই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কংগ্রেস ঠিক করেছে, দলীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রীয় গান কংগ্রেসের কাছে এক আবেগ। বিজেপি দলীয় স্বার্থে তা নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে।

    বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেসের যুক্তি

    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ওই গানের দেড় শ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বছর ধরে দেশজুড়ে বিজেপি নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

    চলতি বছর সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই উপলক্ষে মোদি সরকার জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল পাস করায়। ওই বিলে জাতীয় সংগীতের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয় জাতীয় গানকে। নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী গানটি গাইতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হলে বা অমর্যাদা করা হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাসের বিধান রাখা হয়েছে।

    সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে গানটি পুরো গাইতে হবে। বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা এই গানটির মোট স্তবকের সংখ্যা ছয়। নতুন আইনে ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বন্দে মাতরম গানে দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রথম দুই স্তবকে মাতৃভূমির প্রাকৃতিক রূপের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী স্তবকগুলোয় দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ আছে। মুসলিম লিগ তাতে আপত্তি জানায়।

    সেই আপত্তি আমলে নিয়েই সুভাষচন্দ্র বসু চিঠি লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। রবীন্দ্রনাথই পরামর্শ দেন প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়ে, যেহেতু ওই দুই স্তবক দেশাত্মবোধক ও সর্বজনগ্রাহ্য এবং পরবর্তী স্তবকগুলোয় ধর্মীয় অনুষঙ্গ রয়েছে।

    গত শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন কংগ্রেস সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বন্দে মাতরম পুরো গাওয়া হয়। কিন্তু কোনো কোনো ভিডিওতে দেখা যায়, পরবর্তী স্তবকগুলো গাওয়ার সময় সোনিয়া গান্ধী দলীয় কর্মীদের কিছু বলছেন। সোনিয়ার পাশে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাহুল গান্ধীও সামান্য তফাতে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও নিয়ে বিজেপি সরব হয়। কেন সোনিয়া উসখুস করছিলেন, খাড়গে কেন কথা বলছিলেন, কেন জাতীয় গানকে মর্যাদা দেননি—এসব নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলতে থাকে। দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবোধ নিয়ে কেন কংগ্রেস নেতাদের অস্বস্তি অথবা আপত্তি, তা তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে কি না, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

    গত সোমবার গোয়ায় কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানেও মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানেও খাড়গে ব্যাখ্যা করেন, কেন দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁরা প্রথম দুই স্তবকই গাইবেন।

    বিজেপি নেতারা ক্রমেই বলতে থাকেন, কংগ্রেসের কাছে জাতীয়তাবোধের চেয়ে মুসলিমদের আপত্তি চিরকাল প্রাধান্য পেয়ে এসেছে, এখনো তা অব্যাহত। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত আশ্চর্যজনক ও দেশবিরোধী। তাদের মুসলিম তোষণনীতিই দেশভাগের কারণ। এখনো তারা সেই তোষণের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক ভুল শুধরে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

    হিন্দুত্ববাদী নেতা শাহর কথায়, কংগ্রেস শুধু বঙ্কিমচন্দ্রকেই অসম্মান করছে না। বন্দে মাতরম গাইতে গাইতে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলে থেকেছেন, তাঁদেরও অপমান করছে।

    বিজেপি শুধু প্রশ্ন তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে। কেউ কেউ কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে অভিযোগও দাখিল করেছেন। বিতর্ক অব্যাহত আছে।

  • শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

    এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় সমাধি প্রাঙ্গণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

    রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরো চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। আজ রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় আরো রদবদল হতে পারে। এর অংশ হিসেবে বিমান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের দরবার হলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, শপথ অনুষ্ঠানের সব আয়োজন শেষ হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে তিনি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন

  • সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চালগুলো জব্দ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোসলেম সরকারকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রাম থেকে চালগুলো আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন চালবোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিষয়টি পুলিশ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে চাল রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়দের মধ্যে বিতরণ না করে এসব চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল পরিবহনের সময় ডিলার মোসলেম সরকারের সহযোগী আসাদুল্লাহকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালগুলো গৌরীপুর থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে গাড়িচালক জানান, দড়িচরের ডিলারের গোডাউন থেকে চালগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছে এবং দুলালপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চালবোঝাই গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা আটক করেন। পরে খাদ্য কর্মকর্তাকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো দুলালপুর বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

    এদিকে সরকারি চাল আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম (হিমেল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।’ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনিয়ম করার জন্য নয়। এ ঘটনায় মোসলেম সরকারকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাল আটকের খবর দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোসলেম সরকারের ডিলারশিপ বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সরকারি চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।’

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

    তাই রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

    এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৬ সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শেষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?

    সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।

    দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন।

    তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

    দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

    রাষ্ট্রপতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা বা কমাতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি

    দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

    তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

    অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তার পদ শূন্য হয়।

    শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

    মেয়াদ পাঁচ বছর

    রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। একইভাবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

    আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না।

    কীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

    বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন।

    একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

    রাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট-এ। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অবসর নিলে সাধারণভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো সরকারি সুবিধা পান না। রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু সরকারি সুবিধা বহাল থাকে।

    রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।

    বঙ্গভবন, গাড়ি ও সরকারি সুবিধা

    রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও তিনি পান।

    বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল

    রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। বছরে এই তহবিলের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

    রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।

    রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

    অর্থাৎ বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা রয়েছে।

    রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নন

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি হলেও সরকারের প্রধান নন। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

    সংসদে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় তার নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা; আর সরকারের কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর পর সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। বিরোধী দলেরও প্রার্থী আছে। এভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, মানুষ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল এখনো যোগ দেয়নি।

    তিনি বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হবে।

  • ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    এমন রাজনৈতিক বন্দি আছেন, যাদের জীবিত থাকাই শাসকদের আতঙ্কিত করে। আবার এমন শহীদও আছেন, যাদের মৃত্যুর স্মৃতিই শাসকদের ভয় দেখায়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর জন্য এক জটিল পরিস্থিতির তৈরি করেছেন—যার অস্তিত্বই এখন শাসকদের অস্বস্তিতে ফেলে, আর কারাগারে তার মৃত্যু ঘটলে সেটি পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়ে উঠতে পারে।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সামরিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুই রাজনৈতিক পরিবার—শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবার—এখন সেই ফাঁদেই আটকে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রে এসব বিষয়কে বিশেষ কোনো ‘স্বস্তি’ বা ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। এগুলো হতো একজন বন্দির সাধারণ অধিকার। কিন্তু পাকিস্তানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক দেখার অধিকারও এখন সাংবিধানিক অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

    সরকার রায়ের একটি অংশকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করায় পরিস্থিতির বিদ্রুপ আরো স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনী প্রকৌশল, রাজনৈতিক মামলা, ব্যাপক দমন-পীড়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকৃতি যেন রাষ্ট্রের জন্য সহনীয়; কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যেন সাংবিধানিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।

    এর আড়ালে অবশ্য হাস্যকর পরিস্থিতির চেয়েও বড় বিষয় হলো—আতঙ্ক।

    ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করে দেওয়া। জনসভা, টেলিভিশন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা, মামলার পর মামলা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখা, তার দলকে দুর্বল করা এবং বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করা, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সম্ভব হয়নি।

    কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। রাষ্ট্র একজন মানুষকে বন্দি করেছে, আর বন্দিত্ব সেই মানুষটিকেই প্রতীকে পরিণত করেছে। এটাই আসিম মুনিরের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন।

    একজন সুস্থ বন্দিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু দৃশ্যত অসুস্থ হয়ে পড়া একজন বন্দি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগে পরিণত হয়। আর কারাগারে মারা যাওয়া একজন রাজনৈতিক বন্দি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। আর ইতিহাস সংসদের চেয়ে অনেক কম বাধ্য।

    বিদেশে আসিম মুনিরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানানো হতে পারে, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তার ছবি তোলা হতে পারে কিংবা তাকে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের অপরিহার্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হতে পারে। কিন্তু দেশের ভেতরে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে বছরের পর বছর কারাগারে রাখতে বাধ্য হওয়া শক্তির আত্মবিশ্বাস নয়, বরং ভয়েরই প্রকাশ।

    ক্ষমতার পদক যত বড় হচ্ছে, রাজনৈতিক কল্পনাশক্তি যেন ততই ছোট হয়ে আসছে।

    ইমরান খানকে মুক্তি দিলে তিনি কারাগারে যাওয়ার আগের সেই রাজনীতিক হিসেবে ফিরবেন না। বরং বয়সে প্রবীণ, শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরো বেশি প্রতীকী শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারেন। তার হাতে থাকবে গণ রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী একটি যুক্তি—দেশের পুরো রাষ্ট্রীয় ও দমনমূলক কাঠামোকে একজন মানুষকে ভোটারের কাছে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে, কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যু ঘটলে বিষয়টি আর রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেটি রাজনৈতিক বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে। মৃত্যু নির্মমভাবে ইতিহাসকে সম্পাদনা করে।

    জীবিত একজন রাজনীতিককে সমালোচনা করা যায়, উপহাস করা যায়, ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা যায় কিংবা নির্বাচনে পরাজিত করা যায়। কিন্তু একজন মৃত রাজনৈতিক বন্দিকে স্মৃতি অনেক সময় জটিলতা থেকে মুক্ত করে দেয়। মামলার নথি হারিয়ে যায়, অভিযোগ ঝাপসা হয়ে যায়, আইনি যুক্তি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়।

    শেষ পর্যন্ত থেকে যায় একটি ছবি—বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকার পর, পর্যাপ্ত চিকিৎসার দাবির মধ্যেই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু।

    প্রতিবাদের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ব্যাখ্যা বা আইনি ফুটনোট লেখা যায় না। এই কারণেই ইমরান খান জীবিত থাকলেও আসিম মুনিরের জন্য চ্যালেঞ্জ, আবার তার মৃত্যু ঘটলেও সেটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    জীবিত ইমরান খান একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। মৃত ইমরান খান হয়ে উঠতে পারেন এমন এক স্থায়ী নৈতিক অভিযোগ, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবারও দায় এড়াতে পারে না।

    তারা একদিকে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিকতার কথা বলবে, অন্যদিকে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা নেবে, যার স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিষ্ক্রিয় রাখার ওপর—এই দ্বৈত ভূমিকা তারা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে পারবে না।

    তারা বেসামরিক কর্তৃত্বের কথা বলে, কিন্তু রাওয়ালপিন্ডির দীর্ঘ ছায়ার নিচে ক্ষমতা পরিচালনা করে। তারা পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়কে উত্তরাধিকারের সম্পত্তির মতো বহন করে, তারপর বিস্মিত হয় কেন জনগণ নির্বাচনি রাজনীতিকে ক্রমেই সামন্ততান্ত্রিক নাট্যমঞ্চ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

    শরিফরা ক্ষমতা চায়, কিন্তু কে সেই ক্ষমতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে তা স্বীকার করার অস্বস্তি এড়াতে চায়। ভুট্টো-জারদারি পরিবার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দাবি রাখতে চায়, কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক ঝুঁকি নিতে চায় না।

    ফলে উভয় রাজনৈতিক পরিবারই এমন একটি ব্যবস্থার রাজনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে, যাকে তারা কখনো কখনো সমালোচনা করে, আবার বারবার তার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

    এই বাস্তবতায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেবল চিকিৎসাসংক্রান্ত হস্তক্ষেপ নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার ভয়াবহ দারিদ্র্যকে প্রকাশ করে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারও এখন বিপ্লবী দাবি বলে মনে হয়—কারণ অধিকারবঞ্চনাকেই স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।

    একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে ভয় পায় না। একটি আত্মবিশ্বাসী সরকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয় না।

    একটি আত্মবিশ্বাসী সামরিক প্রতিষ্ঠান একজন ৭৩ বছর বয়সী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামলাতে কারাগার, মামলা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক সহযোগীদের প্রয়োজন বোধ করে না।

    আসিম মুনিরের হাতে সেনাবাহিনী আছে। শরিফদের হাতে মন্ত্রণালয় আছে। ভুট্টো-জারদারিদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতার নিজস্ব রাজনৈতিক অংশ রয়েছে। তাদের সবার হাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি।

    কিন্তু ইমরান খানের কাছে এমন একটি জিনিস রয়েছে, যা কোনো প্রজ্ঞাপন, সাংবিধানিক সংশোধনী কিংবা নিয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা যায় না—রাজনৈতিক অর্থ ও প্রতীকী শক্তি।

    তাকে জীবিত রাখলে সেই শক্তি তাদের চ্যালেঞ্জ করবে। তাকে, মুক্তি দিলে সেই শক্তি আবার রাজপথে ফিরে আসতে পারে।

    আর তাকে মরতে দিলে সেই শক্তি হয়তো তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এটি কোনো সর্বময় কর্তৃত্বের ছবি নয়। এটি এক ধরনের ফাঁদ।

    রাওয়ালপিন্ডির ক্ষমতাকেন্দ্র এমন একজন বন্দিকে পেয়েছে, যাকে স্বস্তিতে মুক্তি দেওয়া যায় না, নিরাপদে ভেঙে ফেলা যায় না, আবার হারিয়েও ফেলা যায় না।

    আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিবারগুলোরও একই কঠিন সত্য বুঝতে হবে—

    যখন একটি রাষ্ট্র একজন মানুষের হৃদস্পন্দন এবং সেই হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া—দুটোকেই ভয় পেতে শুরু করে, তখন সেই বন্দিই আর কক্ষের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি থাকে না।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    যশোরের চৌগাছায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সভায় উপজেলার গত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ, মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন, বিজিবির সুবেদার শরিফ কবীর আহমেদ, চৌগাছা উপজেলা হিন্দু ফ্রন্টের গোবিন্দ কুমার রাহা, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান প্রমুখ।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি পরের দিন শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে করা ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব ইনশাল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তারা ভোট দেবেন, সেটা লাইভ দেখানো হবে।’

    নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফল ঘোষণাটিও আমরা লাইভ দেখাব। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।’

    দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে তারেক রহমান আমাদের নেতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সংগ্রাম করার পরে যে কাজটা হয়েছে তা হলো এই যে, আমরা নির্বাচিত হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার এসছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সরকার এবং বিরোধীদল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই। সেই কারণে দেখবেন, রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ড. অলি আহমদ, আরেকজন হলো আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। ভোট হবে। এদেশের মানুষ ভোট কীভাবে ভোট দেয় সেটা আবার প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। ইনশাল্লাহ আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব।’

    ব্রিফিংয়ে সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউস, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরর সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহন হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ( ৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস (১৭২ ভোট)।

  • একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।

    আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

    প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সংসদীয় দলের এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ সভা কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

    ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ৯২ ভোটে পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।

  • শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এতথ্য জানিয়েছেন।

    বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন এমন বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

  • কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    ভারতের কলকাতা ও যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে পৃথক দুটি ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বুধবার (১৯ আ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক প্রকাশ করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিকভাবে নিহত এবং আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। ’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রিয় দেশবাসীর এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টদায়ক।

    অপরদিকে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাছুম মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান রবের নিকট দোয়া করি, তিনি যেন নিহতদের আত্মীয়স্বজনকে তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দান করেন। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় যারা দগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, যেন নিহতদের লাশ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার যথাযথ ব্যবস্থা করা হয় এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। ’

  • মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আওয়ামীপন্থি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

    আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটিতে আদালত ‘নো অর্ডার’ বা কোনো হস্তক্ষেপ না করার আদেশ দেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

  • ইসলামপন্থিরা নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হবে: মামুনুল হক

    ইসলামপন্থিরা নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হবে: মামুনুল হক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ইসলামপন্থী ও সৎ-যোগ্য মানুষরা নিষ্ক্রিয় থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজ, অসৎ ও কমিশননির্ভর ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।

    মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আমিরে মজলিসের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই কমিটি’র সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচনি মাঠে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থীরা নীরব থাকলে এবং সৎ ও যোগ্য মানুষ নির্বাচনে অংশ না নিলে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অর্থশক্তি ও প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য কমাতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেক সময় প্রকৃত জনদরদি, সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় যথাযথভাবে উঠে আসার সুযোগ পান না। এটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।

    তবে শুধু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তৃণমূল থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে।

    মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যদি নীরবে বসে থাকি, একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন কমিশনখোর চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন দুর্নীতিবাজ পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন চাঁদাবাজ সিটি মেয়র হওয়ার সুযোগ পাবে। তাই জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাওলানা হাসান জুনাইদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন হোসেন মিয়াজী ও মাওলানা মুফতি শরাফত হোসেন।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা মহসিনুল হাসান, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিনসহ নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাই কমিটির সদস্যরা।

    এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
    দলটির অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে না পারা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে উদ্বেগজনক ফাঁক রাখা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের দূরে রাখা, পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দূর্বলতা এবং সংস্কারসহ মানুষের জন্য কাল্যাণকর খাতে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি।

    তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং পরিষদকে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তী সময়ে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে এগিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো থাকলেও গত ছয় মাসে এগুলোর কোনো একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে।

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি বলেন, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

    তার দাবি, একই সময়ে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।

    পুলিশ সদর দপ্তরের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়ে ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে, যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪টি।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ে দলটির মূল্যায়নে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের বছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

    ব্যাংকিং খাত নিয়েও সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

    তাঁর অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।

    পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
    গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা। সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।

  • রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি দূর করাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া, অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। সেজন্যই আমরা সকলকে নিয়ে সামনে বাড়তে চাই। আমাদেরকে যদি সামনে এগোতে হয় তাহলে আমাদেরকে সকলকে একত্রিত কাজ করতে হবে, একত্রে যেতে হবে।’

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

    দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ফাঁকি রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • সমাজের সবাই একটু এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজের সবাই একটু এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যারা এ ধরনের কাজ করতে চায়, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

    আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বেসরকারিখাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের সূচনাকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আজ ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের খোঁজ-খবর নেন। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট দেবে।

    অনুষ্ঠানে বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাও বেসরকারিখাতের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।

    চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। চা-শ্রমিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়, কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগরের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার। মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায় চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চা-পাতা উপহার দেন।

    অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।

    অংশগ্রহণকারী বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউনিমেড ও ইউনিহেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন, বাপি’র উপদেষ্টা এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বাপির কার্যকরী সদস্য এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমান, বাপি’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, শেভরন বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, শেভরন বাংলাদেশের অপারেশনস পরিচালক আশিক শেহজাদ রহমান, শেভরন বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ কে এম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব।

  • সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুমতি ছাড়া সড়কের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় পর গাছের মূল্য বাবদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা দিয়েছেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন।

    খোঁজ নিয় জানা গেছে, গত পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময় শাহরাস্তি পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের পাশ থেকে কয়েকটি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ার পর গাছের মূল্য পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম ৮ হাজার ৩০০ টাকা শাহরাস্তি পৌরসভার তহবিলে জমা দেন।

    শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পৌরসভার তহবিলে ৮ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়েছেন।

    এর আগে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম দাবি করেছিলেন, তিনি পৌরসভা থেকে সড়কটি লিজ নিয়ে সেখানে গাছের চারা রোপণ করেছিলেন এবং গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষই পরবর্তীতে গাছগুলো কেটে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ও হাউলি ইউনিয়নে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দ থেকে পৃথক অনুষ্ঠানে এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধীদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারসহ সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

    প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়।

    পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় সংসদের প্রবেশদ্বারগুলোতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’—এই মূলনীতি খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুজন প্রার্থীর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহম্পতিবার) প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়।

    বিকেল চারটার পরে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

    ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রতদ্বিন্দ্বিতা করছেন।

    ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোটগ্রহণের পদ্ধতিটা সম্পর্কে জানাবেন।

    ইসি সচিব জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটটা গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডানদিকে স্পেস থাকবে যেখানে তাঁরা সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে তাঁরা ব্যালট পেপারটা জমা দিবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রঙটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন এমপি। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

  • মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে—এমটিই দাবি করেছেন
    সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আপনি একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন, যেখানে ২০২৪ সালে একটি সরকার গঠিত হতে পারে। তার একটি রূপরেখা আপনি দিয়েছিলেন। কারা কারা থাকতে পারে তাও কি দিয়েছিলেন—মনিরুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি।

    জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এবং যাদের নাম ওখানে উল্লেখ ছিল, তারা অনেকেই উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারপার্সন, চেয়ারম্যান হয়েছেন বা সদস্য হয়েছেন। বাকিরা না হলেও যেমন দুই একটা পত্রিকার সম্পাদকেরও নাম ছিল। পরবর্তীতে যদিও তারা শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। তারাও এই কলঙ্কিত সরকারের, মানে এই করাপটিং এজেন্টদের হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নামও ওখানে ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২৩ সালে যখন বিভিন্ন জনের নামে ভিসা স্যাংশন হলো। ভিসা স্যাংশন দেবে যারা এইরকম একটা, মে মাসের শেষ দিকে ইউএস গভর্মেন্ট ইস্যু করে বা ইউএস অ্যাম্বাসি, ঢাকা ইস্যু করে। সেটার দুই একদিন আগে আমি আরেকটা রিপোর্ট দিই যে, একটা কিছু আসছে। এই বিষয়টা আমরা অবহিত ছিলাম এবং কোন কোন দেশ এটার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে। এই রিপোর্টটা যেকোনোভাবে মনে হয়, আমার কোনো ডিভাইসে থেকে গিয়েছিল। রিপোর্টটা আমি পরে মিলিয়ে দেখলাম। যেহেতু ২০২৩ সালের ঘটনা, মানে এটা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসের দিকে আমি রিপোর্টটা রিট্রিভ করতে পারি। রিপোর্টের কপিটা যেহেতু ড্রাফট, কপিটা দেখলাম, বলা যায় যে, কম বেশি ৯০ ভাগ মিলে গেছে।’

    সরকারের রেসপন্স কী ছিল সেই রিপোর্টের পরে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেহেতু আর আমি সরকারি চাকরিতে নেই, এখন তো বলাই যায়। আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় যেটা শেয়ার করা যায় সেটি হলো—রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ড. ইউনূস বয়সজনিত কারণে, তখন আমার বক্তব্য ছিল জাতীয় সরকার। কিন্তু হয়েছে ইন্টেরিম সরকার বাদবাকি সব মিলে গেছে। তিনি হয়তো বয়সজনিত কারণে সরাসরি নিজে থাকবেন না। তার প্রতিনিধি হিসেবে দুই তিনজনের নাম ছিল। যে এদের কাউকে এই জাতীয় সরকারের প্রধান করতে পারেন ডি পলিটিসাইজেশন যেটা আর কি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) পুরো রিপোর্টটা পড়েছিলেন, বোধহয় সাত আট পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট। এটা একটা গবেষণা পত্রের মতো বলতে পারেন। তো উনি পুরোটা পড়লেন। পড়ে ওই জায়গায় এসে উনি আমাকে বললেন—তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন। তখন আমার একটু খটকা লেগেছিল। কারণ আমি ড. ইউনূসকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। তার সাথে কখনো আমার কথা হয়নি। তার কোনো সভা সেমিনারে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি আসলে তাকে ওই সময়ও চিনতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ওই সময় আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি চিনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। ওই এটা মূল হবে দেখবা, যদি এরকম একটা কিছু হয়। সেই কথাটা পরবর্তীতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আসলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ড. ইউনূসকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এরকম একটা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার।’

    উনি (শেখ হাসিনা) জানতে পারলেন, আপনারা রিপোর্ট দিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন উনি (হাসিনা) পুরোপুরি রিপোর্টটা এনডোর্স করেছিলেন এবং একনলেজও করছিলেন বেশিরভাগ পয়েন্টসের সঙ্গে। এটা প্রেডিকশন ছিল যে, ইলেকশনটাই হতে দেবে না ২০২৪-এর। এই ইলেকশনের আগে বা পরে এটা হবে। ইলেকশনটা তো আসলে হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত এবং ইলেকশনের আগে এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে যেটা মিলিয়ে দেখেছি সেটা হল—২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ। ওইটাকে টার্গেট করে, যেহেতু ওটা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। কন্ট্রোল করে ফেলার কারণে ওই ছকটা, ওই ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে ইলেকশন পর্যন্ত সরকার এবং মানে সরকারি দল এবং মানে গভর্মেন্ট মেশিনারি যারা ছিল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই, কিন্তু ইলেকশনটা হয়ে গেল। নতুন সরকার হয়ে যাওয়ার কারণে তখন কিছুটা কমপ্লেসেন্ট হয়ে গিয়েছিল।’

    গা ছেড়ে দিয়েছিল? প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘গা ছেড়ে দিয়েছিল সেটা বললেই বোধহয় ভালো হয়। আন্দোলন হইলেও তিন বছর পরে চতুর্থ বছর বা শেষ বছরে গিয়ে আন্দোলন হবে। এটাই তো আসলে আমরা রেওয়াজ দেখেছি। ওই রকম একটা গা ছাড়া ভাব আসলে চলে এসেছিল। এই কমপ্লেসেন্সির কারণেই তখন অনেকে বলেছে যে, এই সরকার টিকবে। কিন্তু আমরা মিলাতে পারিনি। পরবর্তীতে মিলাতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, আসলে এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই যে ডিপ স্টেট যেটা বলা হয়, এই কথিত ডিপ স্টেট এইটা তো অফিশিয়াল কিছু না, অফিশিয়াল না, আবার অফিশিয়ালও। এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ থেকে। আমরা দেখেছি সাত আটে এটা ফেল করল। ফেল করার পর তারা দেখেছে এবং তারা চিন্তা করেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। তারা মনে করেছিল ২০১৮ তে এই সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমে ২০১৮ সরকার দেখলো যে, এই সরকারকে ইলেকশনের মাধ্যমে আউট করা সম্ভব নয়।’

    সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিপ স্টেট তাদের গবেষণায় এবং তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছিল এবং তাদের লোক তো নানা স্তরে ছড়ানো ছিটানো ছিলই। দেখেছিল যে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের পতন ঘটানো অর্থাৎ কনভেনশনাল সরকারের পতন ঘটানো ও কনভেনশনাল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সেই কারণেই দুটো আন্দোলনকে তারা আসলে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিল। একটা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যখন সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন। তখনই এই ডিপ স্টেট এবং যারা তাদের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি কোনো কিছু করতে হয়, পরিবর্তন ঘটাতে হলে, এটা ছাত্রদেরকে, তরুণদেরকে কাজে লাগাতে হবে।’

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যতদূর মনে পড়ে মির্জা ফখরুল সাহেব যখন ঘোষণা দিলেন যে, সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন। তখন আসলে এই আন্দোলনটা ছাত্র আন্দোলনে ছিল না। তখন সেনাবাহিনী অনেকটা ইনক্টিভ হয়ে গিয়েছে।’

    এসবি আসলে সরকার পতনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত আগে থেকেই পেয়ে গেল, তাহলে ৫ আগস্ট রাষ্ট্র এত দ্রুত ভেঙে পড়লো কী করে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে বলতে হবে যে, এটি ডিপ স্টেটের একটা ইনফ্লুয়েন্স। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরেও ছিল। সেনাবাহিনীতে একটা ডিপ স্টেট, যেহেতু সেনাবাহিনী বাংলাদেশে মানে এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা পুলিশ বা অন্যান্য জুডিশিয়ারি সবার চাইতে ওখানে তারা অপেক্ষাকৃত একটা ইনস্টিটিউশনালাইজড অর্গানাইজেশন। শক্তিশালী অর্গানাইজেশন। পাঁচ তারিখের পরে ইভেন স্কুলের হেডমাস্টার পর্যন্ত বদল হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বাহিনীর প্রধান কিন্তু রয়ে গেছে। বিজেবির যে ডিজি, এই আন্দোলন দমন করার জন্য যার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে বেশি যিনি তৎপর ছিলেন তিনিও থেকে গেছে নঅর্থাৎ এখানে রিটায়ার্ড এবং সার্ভিং গ্রুপের ভেতরে ডিপ স্টেট কাজ করে। তাদের একটা মিনি ডিপ স্টেট আছে। যেটা সবসময় সরকারের পক্ষে কাজ করে তা নয়, সরকারের বিপক্ষেও কাজ করে। তারা মূল ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করেন।’

    তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা দেখেছি যে, সেনাবাহিনীর একটা অংশ আসলে বলা যায় যে, এই সরকারের যে একটা পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে এই আন্দোলনটা থামিয়ে দেওয়া যাবে। সেটার পেছনে ছুরিকাঘাত করেছে।’

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে আইজিপির বৈঠক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে আইজিপির বৈঠক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।
    বৈঠক শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা করেছি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সেল গঠন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

    আইজিপি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে। আমরা শিগগিরই সেটা দিয়ে দেব।’

  • ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’ চাকরি মেলা সম্পন্ন

    ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’ চাকরি মেলা সম্পন্ন

    চীনা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’। দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৩০টি চাকরির সুযোগ রয়েছে।

    সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে এই আয়োজন চলে। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ‘সিনো-বাংলা ডে’ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এর আয়োজন করে।

    আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি এবং অনলাইনে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের ধরন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, জমা দেওয়া সিভির ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই চাকরি মেলায় অংশ নিয়েছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়ান হুয়ি বলেন, ‘এই আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ নয়, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।’

    অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশে ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং আপুন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন ইসি সচিব

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন ইসি সচিব

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, ইসি সচিব আখতার আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ) পরিদর্শন করেন।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।

    সদস্যদের কাছে ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার পর তারা স্বাক্ষর করে তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ভোট দেবেন।

    বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে।

    মোট ৩৪৯টি ব্যালটের বৈধ ভোট এবং প্রার্থীদের পাওয়া ভোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ঘোষণা করবেন। পরে সচিবালয়ে গেজেট প্রকাশের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    তফসিল অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপরও যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ২০ আগস্ট ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

    নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভুয়া দাবির যাত্রাপথ : ভারত থেকে বিশ্বে ছড়াল

    ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভুয়া দাবির যাত্রাপথ : ভারত থেকে বিশ্বে ছড়াল

    ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ছড়ানো একটি ভুয়া পোস্ট থেকেই ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছে—এমন মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়ে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। পরে সেই ভুয়া উদ্ধৃতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণেও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিক ও ফক্স নিউজও তা প্রচার করে।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ৫ আগস্ট সকালে ভারতের একটি অজ্ঞাত এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার বলেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা ছাড়বে না। কিন্তু ওই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে—এমন প্রমাণও নেই।

    ভুয়া উদ্ধৃতিটি ইসরাইলি কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেল সেটিকে ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে প্রচার করে। ওই দিন সন্ধ্যায় উদ্ধৃতিটি নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও জায়গা করে নেয়। তিনি জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জেলে এক অনুষ্ঠানে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রেও দ্রুত পৌঁছে যায় সেই ভুয়া দাবি। জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ উদ্ধৃতিটি পুনঃপ্রচার করেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কটও তা শেয়ার করেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ও অতিথিরাও এটিকে ইরানের কথিত পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদির নামে চালানো ওই উদ্ধৃতি এমন একটি প্রচারণার অংশ, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক ও সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। কে উদ্ধৃতিটি তৈরি করেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর উদ্দেশ্য ছিল নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের এই দাবিকে জোরালো করা যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রয়োজনীয়।

    ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ফরেনসিকস হাবের গবেষক ড্যারেন এল. লিনভিল, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও প্রচারণার বিস্তার পর্যবেক্ষণ করেন, বলেন, ‘এই উদ্ধৃতিটি শান্তি আলোচনা বানচাল করার জন্যই স্পষ্টভাবে তৈরি করা হয়েছিল।’

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি গত তিন দশক ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনীতির অন্যতম বড় বিষয়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পরমাণু কর্মসূচির লক্ষ্য বেসামরিক, সামরিক নয়। দেশটির পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অবশ্য এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই ভুয়া পোস্টটিকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যার একটি উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি এর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ দেননি।

    ভুয়া দাবিটির প্রথম চিহ্ন পাওয়া যায় ভারতের ওই এক্স অ্যাকাউন্টে। প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার অনুসারীর অ্যাকাউন্টটি আগে থেকেই মিথ্যা ও ইসলামবিদ্বেষী তথ্য ছড়ানোর জন্য তথ্য যাচাইকারীদের সমালোচনার মুখে ছিল। ভুয়া উদ্ধৃতির সাথে ওয়াহিদির একটি ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কার্টুনধর্মী মাশরুম মেঘের ছবিও দেয়া হয়েছিল। পোস্টের ইংরেজি লেখায় বানান ও ব্যাকরণগত ভুল ছিল।

    দুই ঘণ্টা পর ভারতের আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট একই উদ্ধৃতি হিন্দিতে প্রকাশ করে। ইসরাইলের স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বোদকিম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্ট এক সপ্তাহ আগেও ভাহিদির নামে একই ধরনের আরেকটি ভুয়া উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছিল। এরপর ইসরাইলের প্রভাবশালী ‘মোসাদ কমেন্টারি’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট হওয়ার পর দাবিটি দ্রুত আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাকাউন্টটির নাম ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার নামের সাথে মিললেও সংস্থাটির সাথে এর কোনো পরিচিত সম্পর্ক নেই।

    এরপর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এর ইংরেজি পোস্টে উদ্ধৃতিটি প্রকাশিত হয়। নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুও সেটি নিয়ে পোস্ট করেন। তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বাবার ভাষণে ভুয়া উদ্ধৃতিটি উঠে আসে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আজ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার ভাহিদিকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা বজায় রাখার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে শুনেছি।’

    ওয়াশিংটনে প্রথমে দাবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। মাইক ওয়াল্টজ লিখেছিলেন, ইরান ‘অবশেষে বহু বছর ধরে যা স্পষ্ট ছিল, তা স্বীকার করছে’। পরে অবশ্য সংশয় দেখা দেয়। ওয়াল্টজের পোস্টটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এক্স থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ফক্স নিউজও পরে জানায়, উদ্ধৃতিটি ‘যাচাইহীন ও ভুল’।

    ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনভিল এই ঘটনাকে ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’-এর একটি আদর্শ উদাহরণ বলেছেন—যে কৌশলে একটি মিথ্যা তথ্য প্রথমে কয়েকটি উৎসে ছড়ানো হয় এবং পরে এত বেশি জায়গায় পুনরাবৃত্তি করা হয় যে সেটিই সত্য বলে মনে হতে থাকে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি সহজ প্রচারণা। কিন্তু সহজ প্রচারণাও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।’

    পুরো ঘটনাটিকে বিশেষজ্ঞরা ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’ বা তথ্যের চরিত্র বদলের এক ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ মিথ্যা পোস্ট ঘুরেফিরে মূলধারার গণমাধ্যম হয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের টেবিলে পৌঁছে যায়, এই ঘটনা তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

  • শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

    জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

    আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তারা।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়-এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

    ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না

    অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

    গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব করেছে দলটি।

    রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা। পাশাপাশি কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই সরকারকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল বিরোধী দল। এসব প্রস্তাব সরকারের টেবিলেই রয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না করে সরকার বিরোধীদের নিয়ে নানা মন্তব্য করছে, যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

    ‘বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না’—সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। এতগুলো জীবন গেছে, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে—পুরো বিশ্ব তা দেখেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেখেনি।

    তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত স্বচ্ছভাবে।

  • তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ছাত্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, উপনির্বাচনে পরাজয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের ব্যর্থ চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিজেপিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর পরপরই কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। পরে সেটিই ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

    উপনির্বাচনে ধাক্কা

    আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বিজেপি। এর মধ্যে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসন হাতছাড়া হওয়াকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচনের ফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপি এখনো শক্তিশালী এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত সংগঠিত দল।

    তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

    তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিও নতুনভাবে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণাও চালাচ্ছে দলটি।

    উত্তর প্রদেশে তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিজেপি যেভাবে নিজের রাজনৈতিক বার্তা সহজে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারত, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব এখন আগের মতো নেই। ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির প্রচলিত প্রচারণা কৌশল কার্যকর হচ্ছে না।

    পুরোনো কৌশলও কাজ করছে না

    বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী, বিদেশি অর্থায়নপুষ্ট বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল এবার তেমন কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।

    ফলে আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করেনি, কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।

    বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

    আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ বলছে, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের লক্ষ্য নয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিরোধী রাজনীতিসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার পরিবর্তন চান তারা।

    তবে বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে দলটি।

    সব মিলিয়ে, ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতার ভিত ভেঙে দিয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যে মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের ওপর মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে; তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।’আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না; ফলে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।

  • সরকারের ছয় মাসের গতি-অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

    সরকারের ছয় মাসের গতি-অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

    বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দলীয়করণ, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচিত সরকারের মূল্যায়নে ছয় মাস কম সময় নয়। তবে এই সময়ের মধ্যেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবে না। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী জীবনমানের উন্নতি হয়নি। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি বেকারত্বও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা শোনেনি বলেও অভিযোগ করেন মঞ্জু।

    এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকা ইতিবাচক দিক এবং সরকারের পুরো মেয়াদে এটি ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। এর মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ না করা, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের বিষয় রয়েছে।

    ফুয়াদ বলেন, গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও দুর্বল আইন করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের ক্ষেত্রে সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানান তিনি।

  • ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    বিভিন্ন দাবিতে চার মহানগর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত লংমার্চ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে সোমবার বৈঠক করেছে ‘লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি’।

    সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    বৈঠকে লংমার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ ১১ দফা দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী চারটি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লংমার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লংমার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।

  • ‘বাংলাদেশে আল কায়েদার সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর’

    ‘বাংলাদেশে আল কায়েদার সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদার সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর, এটি আমলে নিচ্ছে না সরকার।

    সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনশৃঙ্খলার উন্নতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয় জনগণ বলবে। আমরা বলবো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পেরেছি। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি করতে আরো সময় লাগবে। আমাদের মাত্র ৬ মাস পার হলো, এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি।

    সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিষয়টি আবারো আলোচনায় উঠে আসে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা, এটি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, একিউআইএস একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপান্তরিত হচ্ছে। বড় ইউনিটের বদলে তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে কাজ করছে। এর পাশাপাশি সংগঠনটি শক্তিশালী লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

  • নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বিএনপি

    নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বিএনপি

    প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ডা. জায়েদ উর রহমান বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে যা যা আছে তার সব কিছু বাস্তবায়ন করবে বিএনপি ।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

    তিনি বলেন, অন্যান্য দলের ও নোট অব ডিসেন্ট ছিলো- তারা যদি ক্ষমতায় আসতো তাহলে তারা বাদ দিতো। ঠিক তেমনি বিএনপিও নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

  • আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    জুলাই শেষ হয়ে গেছে—এ কথা শুধু ক্যালেন্ডারই বলতে পারে। ইতিহাস তা বলে না। ইতিহাস জানে, কিছু মাস কখনো শেষ হয় না। কিছু রক্ত শুকিয়ে গেলেও তার দাগ মুছে যায় না। কিছু নাম কবরের নিচে চাপা পড়ে না; তারা ফিরে আসে বাতাসে, দেয়ালের স্লোগানে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কোনো তরুণের কণ্ঠে। তাই জুলাই শুধু একটি মাস নয়; এটি একটি জাতির বিবেক, একটি চলমান প্রশ্ন, একটি অসমাপ্ত দায়িত্ব।

    জুলাই শুধু একটি আন্দোলন ছিল না । এটি ছিল রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে উচ্চারিত একটি সত্য—গণমানুষের সম্মিলিত জাগরণের কাছে ক্ষমতাধররাই অসহায়, পরাজিত। সেই সত্যের সাক্ষী ছিল রাজপথ, অসংখ্য আহত-নিহতের আত্মত্যাগ। শহীদ আবু সাঈদের মতো তরুণরা শুধু জীবন হারাননি; তারা একটি জাতিকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন—রাষ্ট্রের শক্তি কি মানুষের ওপর, নাকি মানুষের জন্য?

    সমস্যা হলো, ক্ষমতা প্রশ্নকে সহজে মেনে নিতে পারে না। ক্ষমতা আনুগত্য পছন্দ করে, করতালি ভালোবাসে আর ভিন্নমতকে সন্দেহের চোখে দেখে। ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সময়েই দেখা গেছে, যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তাদের কখনো উচ্ছৃঙ্খল, কখনো ষড়যন্ত্রী, কখনো রাষ্ট্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়। অভিধান বদলায়, ভাষা বদলায়, কিন্তু রক্তের রঙ বদলায় না।

    আজও যখন বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা, সহিংসতা কিংবা বিভাজনের খবর আসে, তখন অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি? যে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে যদি মতের বদলে পরিচয় বিচার হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণ।

    জুলাইয়ের চেতনা শুধু স্মরণসভা, শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শহীদদের ছবি টাঙিয়ে তাদের স্বপ্নকে বিস্মৃত করা, সনদ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা, কিংবা শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাকে দীর্ঘ অপেক্ষায় ফেলে রাখা—এসব কোনো জাতির জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে না। আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা হয় বাস্তব পদক্ষেপে, ন্যায়বিচারে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে।

    আরো একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি। ইতিহাসকে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ইতিহাসকে প্রতারিত করা যায় না। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মনে রাখে কে ক্ষমতায় ছিল, তা নয়; মনে রাখে কে ক্ষমতার কাছে সত্যকে বিসর্জন দিয়েছিল আর কে সত্যের জন্য মূল্য দিয়েছিল। তাই শহীদদের রক্ত কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি হতে পারে না। সেটি সমগ্র জাতির নৈতিক অঙ্গীকার।

    ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস দীর্ঘজীবী। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, কাল তারা থাকবেন না; কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত, তাদের ন্যায়বোধ কিংবা তাদের নীরবতা ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে। ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—রক্তের মর্যাদা কি রক্ষা করা হয়েছিল? শহীদদের স্বপ্ন কি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছিল? মেধা, মতপ্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি কি সম্মান দেখানো হয়েছিল?

    জুলাই তাই কোনো উৎসবের নাম নয়, কোনো রাজনৈতিক স্লোগানেরও নাম নয়। জুলাই একটি নৈতিক মানদণ্ড, যা প্রতিটি ক্ষমতাকে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এবং প্রতিটি নাগরিককে বারবার নিজের সামনে দাঁড় করায়। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র উপায় হলো—মানুষকে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, সত্যকে ভয় না করা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মৃতিতে নয়, রাষ্ট্রচর্চায় ধারণ করা।

    কারণ শহীদরা ফুল চাননি। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে সত্য বড় হবে, দলের চেয়ে দেশ বড় হবে ।

  • চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    ভালো কাজের পুরস্কার

    হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়

    হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।

  • আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. নূরুল করিম। রোববার রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নূরুল করিম ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি লেখেন, আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই। অতএব, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।

    এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, নূরুল করিম ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কিছু তথ্য ও ছবি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পরে আমি তাকে ডেকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বিষয়গুলো অস্বীকার করেননি এবং এএজি পদে না থাকার বিষয়ে আমাকে জানান।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, নূরুল করিম রাষ্ট্রপতি বরাবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং সেটি তার কার্যালয়েও গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।