রাজনীতি

  • ঝুলে আছে এনআইডি সংশোধনের দেড় লাখ আবেদন 

    ঝুলে আছে এনআইডি সংশোধনের দেড় লাখ আবেদন 

    বড় অংশই জন্ম তারিখ ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের প্রায় দেড় লাখ আবেদন ঝুলে আছে। বেশিরভাগই জন্ম তারিখ, বয়স ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধন সংক্রান্ত। ‘ঘ’ ক্যাটাগরির এসব সংশোধন আবেদন নিয়ে জটিল পরিস্থিতি এড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অবস্থায় তারা এসব আবেদন নিষ্পিত্তির ক্ষমতা মাঠপযায়ে হস্তান্তরসহ এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে।

    ইসির জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের তৈরি করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ২০২০ সালে ‘কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এর মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করে। ওই বছর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে এনআইডির বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭০টি আবেদন পেয়েছে ইসি। এর মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে তারা। নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বছরে গড়ে ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭টি বা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৮৮টি সংশোধন আবেদন পেয়েছে ইসি। আর বছরে গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংশোধন আবেদনগুলোকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়: ক, ক-১, খ, খ-১, গ এবং ঘ। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে বানান সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো পড়ে। ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও তার বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আর ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্ম তারিখ, বয়স এবং বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো থাকে। এসবের মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা সবচেয়ে জটিল।

    ইসি বলছে, পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বাবা-মায়ের এনআইডির মতো প্রয়োজনীয় প্রমাণক বা নথিসহ অধিকাংশ সংশোধন আবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে কর্মকর্তারা যখন সংশোধনের জন্য আবেদন করা তথ্যের সাথে নথিপত্রগুলো মিলিয়ে দেখেন, তখন প্রায়শই তাতে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। এমনকি অনেক আবেদনকারী পাঁচ-ছয়বার আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরও একই সংশোধনের জন্য অনলাইনে পুনরায় আবেদন করেছেন। যা আবেদনের জট বা ব্যাকলগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর এসব কারণেই এ নিয়ে জটিলতা বেশি হয়।

    এদিকে, এনআইডি সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো তথা জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ করে মাঠপর্যায়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি। এখন থেকে ইসির জেলা বা উপজেলা/থানা কার্যালয় থেকে এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন করা যাবে। এজন্য নাগরিকদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছুটে আসতে হবে না। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও সোমবার প্রকাশ করেছে ইসি।

    এছাড়া ‘ঘ’ ক্যাটাগরিসহ এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজতর করতে ইসি চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ১৬ জুলাই গঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) এবং সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন) দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে আছেন, উপপরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) ও সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট)। এই কমিটিকে অন্যান্য ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি সহজ করাসহ ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হতে প্রমাণক অপর্যাপ্ত থাকায় বাতিল করে নিষ্পত্তিকৃত এবং পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক দাখিল করা হলে সেসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

    এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, এনআইডি সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের দুর্ভোগ ও হয়রানি এড়াতে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। কমিটির সুপারিশ পেলে আরও কীভাবে এটিকে সহজ করা যায়, সেসব ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

    ইসির সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

  • হাসিনা ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী

    হাসিনা ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। আমিও বিশ্বাস করতে চাই, উনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক। আইনি পথ ধরে হাঁটুক।’

    শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমার বলার একটাই কথা, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি বাংলাদেশকে খুন করেননি, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি খুন, গুম, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সেই সব সত্যের মুখোমুখি যদি তিনি হতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি আসবেন।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হলো, যেখানে একজন গরিব, অসহায় মানুষ যাতে অনুভব করতে পারে, সৃষ্টিকর্তার পরেই যেখানে গেলে মানুষ তার আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে পারে, এমন একটি বিচার বিভাগ চাই আমি। সেই বিচার বিভাগে এখনো অনেক সমস্যা আছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে আপনার কাছে সমস্যা একরকম, আমার কাছে সমস্যা আরেক রকম। কেউ বলবেন বিচার বিভাগ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, অনেকেই বলবেন টাউট-বাটপারিতে ছেয়ে গেছে। অনেকেই বলবেন স্ট্রাকচার নাই। আর আমার কাছে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। আমি যদি বিচারককে পেশা হিসেবে বেছে নিই, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে আমি আর দশটা চাকরির মতোই চাকরি করতে আসছি। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আমি এখানে এসেছি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, বিধাতা প্রদত্ত সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য।’

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যারা বেশি কথা বলছেন, আপনাদের বলব, একবার বুকের ওপর নিজের হাতটা রেখে বলুন তো, এতগুলো অপরাধের পরেও উনি জনগণের কাছে, মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা? একবারের জন্যও হাসিনার মনে হয়েছে কিনা যে আমরা অপরাধ করেছি?’

    মতবিনিময় ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।

  • বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার সকাল পর্যন্ত স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ট্যাটাসটি প্রকাশের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে ১ হাজারের বেশি বার শেয়ার, প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মন্তব্য এবং ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাকশন) পেয়েছে।

    স্ট্যাটাসে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে দলের কিছু নেতাকর্মী ব্যক্তিস্বার্থে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহায়তা করে সুবিধা নিয়েছেন।

    তার দেয়া স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন।’

    তিনি আরো লেখেন, মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাতও করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই। খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।’

    স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

  • ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    জুলাই আন্দোলন ও এর চেতনা বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে অম্লান হয়ে থাকবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসু ভিপি এ কথা বলেন।

    পোস্টে সাদিক কায়েম জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের স্মৃতি ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে লেখেন, ‘আমীরে জামায়াতকে অনেক শুকরিয়া জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা জীবন্ত রাখার জন্য, শহীদের স্বপ্ন ও বার্তা এতো নান্দনিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে।’ বাংলাদেশসংবাদ

    এ সময় একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন সংলগ্ন মাঠে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সবাইকে দাওয়াত রইলো। আজ রাত আটটা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।’

  • কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

    শুক্রবার (৭ আগষ্ট) ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার অনুমতি কোনোদিনই দেবে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-০১ উদ্বোধন করেন। ওই সময় তিনি কেবল ইট-পাথরের ইমারত ও অবকাঠামো নির্মাণের দিকে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পুরো একশ কিলোমিটার জুড়েই পর্যটনবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইচ্ছামতো বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকাজ পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজম বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজারের টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা অপহরণের মতো অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপহরণের মতো অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আমরা তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক প্রমুখ।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের পরই স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠকে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের রায় হয়েছে, ফলে তার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশে ফিরলেই তাকে জেলে যেতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রায় কার্যকর করা হবে।

    সিলেট নগরীর সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিলেট সিটি করপোরেশন বেশ ভালো করছে।

    সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের (সিমেন্ট) একটি যৌথ প্রকল্প চালু হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, যা এখন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরের বর্জ্য পরিশোধন করে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জ সুরমা নিয়ে গিয়ে নিজেদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈবসারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সিসিকের রয়েছে।

    পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , মহেশপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই,উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি,উপজেলা সাবেক ,মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান ,সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর ছাত্রদলের নেতা আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান বাপ্পি,শফিকুল ইসলাম,অমিত,নুর আলম,মোঃ হাসান,কাজী বিল্লাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দেশ গঠনে তাদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনা ও উপহার দেওয়া হয়।

  • মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শহরের নোমানী ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে কলেজ রোড হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

    সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, সহ-সেক্রেটারি মারুফ কারখি, পৌর আমির আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট আজমত হোসাইন প্রমুখ।

    এ সময় বক্তারা অবিলম্বে সরকারের কাছে গ্যাস সঙ্কট নিরসন, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোসহ সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

  • আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় প্রায় ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে যাকে খেলাপি ঋণ বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি প্রকৃতপক্ষে ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন অবস্থায় ব্যাংকিং খাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ, যা এ খাতের জন্য বড় ধরনের সংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ১৮ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিটের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন দুটি আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে জানান তিনি।

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

    এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

    এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

    তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

    সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

    তাঁদের মধ্যে কেবল শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে ততটা পরিচিত ছিলেন না। ব্যবসা করতেন। সেভাবে আত্মগোপনও করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার পরিবার বা স্বজনদের বাকি সদস্যরা তাঁর সরকারের পতনের আগে ও পরে দেশ ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশের বর্তমান অবস্থান ভারতে। অনেকেই কলকাতার দামি আবাসিক ভবনে থাকছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বের হয়েছে।

    হাসিনা পরিবারের সবাই আগেই নিরাপদে ছিলেন

    দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হেলিকপ্টার থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নামছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ছবি: সংগৃহীত

    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে যান ছোট বোন শেখ রেহানা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ রেহানাকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা।

    তবে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ রেহানাকে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে পাশে দেখা গেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার পর শেখ রেহানা লন্ডন ও ভারতে থাকছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও ছিলেন। তিনি শেখ রেহানার দেবরও।

    শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সরকার পতনের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও আলোচনা আছে।

    শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জয় নিয়মিত দেশে আসতেন এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তিনি শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় সায়মা ওয়াজেদ দিল্লিতেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। তবে বেতন পান। তিনি কখনো দিল্লি, কখনো দুবাইয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) দেখাশোনা করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি দেশে ও বিদেশে থাকতেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক।

    ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কাজ করেছেন।

    শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সে দেশের পার্লামেন্টের সদস্য। টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে খুব একটা আসতেন না। রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।

    নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই ভারতে

    ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর স্বজনদের আটজন সংসদ সদস্য হন। শেখ হাসিনার আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন তাঁর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় এবং ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। এ ছাড়া অন্য আত্মীয়রা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশেই ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে কলকাতায় আছেন।

    শেখ সেলিমের ছেলে ও যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় গেছেন। তিনি নিয়মিত দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

    শেখ সেলিমের আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের আগেই তিনি দেশ ছাড়েন।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। সরকার পতনের আগের সপ্তাহে তিনি কানাডা থেকে দেশে এসেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে নানা কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন। সরকার পতনের দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন পর পরশ ভারত হয়ে কানাডায় চলে যান। এরপর তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন।

    শেখ ফজলুর রহমান মারুফ শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই। রাজনীতিতে তিনি ততটা আলোচনায় ছিলেন না। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই তিনি ভারতে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি প্রায়ই ভারতের রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগায় যাতায়াত করতেন। সেখানে তাঁর এক মেয়ে থাকেন। তাঁর মেয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

    ভারতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রেস্তোরাঁসহ নানা সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তাঁর ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বাবা ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজন মিলে পুরো বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বরিশালে সক্রিয় ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। পরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আছে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে আগুন দেয়।

    শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    আবুল খায়ের আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান বলে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার দুই প্রভাবশালী চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাঁরা দেশেই ছিলেন। পরে তাঁরা ভারতে চলে যান। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি দামি আবাসিক কমপ্লেক্সে তাঁরা বসবাস করছেন বলে খবর বের হয়েছে।

    শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে আছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শম্পাকে গণভবনে শেখ হাসিনার পাশে প্রায়ই দেখা যেত।

    শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেল ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলেন। খুলনার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে কোথায় আছেন, তা আওয়ামী লীগের নেতারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

    শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। তাঁর ভাই নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের নেতা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। দুজনই শেখ হাসিনার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাঁদের ভারতে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন।

    মহিউদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক

    গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা

    মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, দীপু মনি, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকসহ অনেকে কারাগারে আছেন কোলাজ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন ডজনের মতো সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং ৫০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মারা যান। সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দিনাজপুর জেলা কারাগারে এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা যান।

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহ, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, দীপু মনি, আহমদ হোসেন ও আবদুস সোবহান গোলাপ কারাগারে আছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকও কারাগারে আছেন।

    রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসন পারিবারিক শাসনে পরিণত হয়েছিল। এ সময় জ্ঞাতি–গোষ্ঠী, কিছু ব্যবসায়ী এবং পদধারীরা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ কর্মী–সমর্থকেরা কামানের গোলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।’

    সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।’

    জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের ডাকা এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

  • সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাত জিম্মি ছিল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছর এসব শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লুটপাটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে।

    গত দুই বছরে খেলাপি ঋণ কমাতে নীতি সহায়তা, দখল হওয়া ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করার পাশাপাশি দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমেও হাত দিয়েছে।

    নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ, মূলধন সংকট, প্রভিশন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের ভার এখনো বহন করছে ব্যাংক খাত। তবে গত দুই বছরে রিজার্ভ, ডলার বাজার স্থিতিশীল, রেমিট্যান্স ও আমানত প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। তবে সংকটের গভীরতা এত বেশি যে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। যদি সংস্কার কার্যক্রম চলমান রাখা না যায় তাহলে খাতটি আরো গভীর সংকটে পড়বে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ব্যাংক খাত ছিল তীব্র সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমছিল, ডলারের বাজার ছিল অস্থির, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল অর্থনীতিতে এবং কয়েক ডজন ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছিল।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, খেলাপি ঋণ তুলে আনা এবং খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাব, দেউলিয়া আইন সংস্কার, অ্যাসেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন প্রস্তাব এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

    রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন

    গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা ফিরেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত জুলাই শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার।

    এ সময় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ডলার বাজার অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। অস্থিতিশীল এমন পর্যায় পৌঁছায় যে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছিল। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। এসব কারণে রিজার্ভের দ্রুত পতন হয়।

    তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল ফেরে। খোলাবাজারের দামের সঙ্গে অফিসিয়াল দামের পার্থক্য কমে আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা অর্থছাড় করতে শুরু করেছে।

    রেমিট্যান্স বৃদ্ধি

    গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতি মাসে যেটি ২ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে ছিল। এখন তা আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, এটি তারই প্রভাব।

    আমানতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ব্যাংকগুলোতে আমানত রাখার প্রবণতা কমে যায়। ওই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যেই ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংসারের উদ্যোগের ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা সব ব্যাংক সমানভাবে পায়নি। তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো দৈনিক জমার অর্থ দিয়ে দৈনিক উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে ধার করে তারল্য চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

    মূল্যস্ফীতি কমেছে

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরগুলোতে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার পেছনে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, ডলারের সংকট এবং বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন।

    খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী

    ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনও খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করা হয়েছিল। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং জালিয়াতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ হতে শুরু করে। এর ফলে এতদিন গোপন থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির তথ্য সামনে আসে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

    এদিকে মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার গত বছর ঋণাত্মক দুই দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে গেছে। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে চর্চিত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। কার্যকর অর্থনীতির কোনো দেশের ব্যাংক খাতের গড় মূলধন ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে আধুনিক বিশ্বের বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি কমাতে বিশেষ নীতি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এক শতাংশ অর্থ দিয়ে গ্রাহকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারে। একই সঙ্গে সুদ মওকুফ করে এক্সিট সুবিধাও দেওয়া হয়। এসব সুবিধা দেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। কারণ বড় অংশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে।

    সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে

    ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরো বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের পরও বেশিরভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতফসিলের পর অনাদায়ী রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

    এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল, কখনো দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

    সংস্কার

    ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে আগেভাগেই দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা অবসানের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দুই বছরে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ছাড়া এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। তাদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

  • রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রবিরোধী অনলাইন তৎপরতার অংশ হিসেবে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশের সংবিধান, আইন, বিচারিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া, চাকরি থেকে অপসারণসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈঠকে অংশ নেওয়া ১১ শিক্ষক পবিপ্রবি আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    এছাড়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবিধান, আইন-বিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    বৃটেনে শিশু ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশের জামিনে থাকা পাকিস্তানের সাবেক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও তিনি পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক আইনসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২১ সালে নিজের আসন হারানোর পর প্রায় পাঁচ বছর আইনসভার বাইরে ছিলেন রুখসার আহমেদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেছেন।

    রুখসার এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীর আইনসভার সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

    ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি কুখ্যাত গ্রুমিং গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন তিনি।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে গত মাসে জামিনের শর্ত অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।

    কিন্তু একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ২০২৪ সালে রুখসারের বিদেশ ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সে সময় সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুখসার আহমেদের ১৭ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসেও তাকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় দেখা গেছে। তিনি একসময় ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন।
    তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসারের বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর।

    পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হতে পারে। তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে বৃটেনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

    তিনি বলেন, আমরা শুধু শুনেছিলাম, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধারণা ছিল না। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

  • ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

    বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এসময় নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।’

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন জাময়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। সেখানে আসার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পর কিছুটা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

    জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হন।

    মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

    প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অতিবাহিত হওয়ার পর অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের দাবি জানাতে এসেছি। তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিলেন না। সচিবালয় থেকে আসতে তাদের পাঁচ মিনিটও সময় লাগে না, কিন্তু তারা এলেন না।

    এসময় তিনি আরও পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন এবং এসময়ের মধ্যে না এলে সরকারের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানান।

    কর্মসূচিতে ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য।

  • ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদেরই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    সমাজকল্যামন্ত্রী জানান, ৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে কিংবা আবার দারিদ্র্যে নেমে এলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি কাজে লাগবে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল।

    জানানো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি থাকবে, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা নিতে না পারেন। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নও করা হবে, যাতে কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রকৃত প্রভাব পরিমাপ করা যায়।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।

  • জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

    স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব

    আলমগীর হোসেন খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন,সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক,আইন বিষযক সম্পাদক দারুস সালাম,চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাড. হাসিবুল ইসলামস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    এই সময় বক্তারা অভিযোগ করে আর ও বলেন, এসব কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুতের মূল্য ও বিলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে লংমার্চ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর সড়কপথে লংমার্চ। ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা সড়কপথে লংমার্চ। ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট রেলপথে লংমার্চ। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।

    ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত এসব কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ভারতে পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

    এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই দিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

    তবে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

  • ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    অনলাইন একিক্টভিস্ট সাদিকুর রহমান খান বলেছেন,বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারেক রহমানের ডাকে সরকার পড়লে হাসিনা সরকার পড়ার কথা ছিল ২৮ অক্টোবর। তারেক রহমানের ডাকে ১০ লাখ লোক ঢাকা আসলো। পুলিশ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে ১০ মিনিটে ১০ লাখ পালাইয়া গেল। নেতা নাকি কর্মীরা আগে পালাইসিল, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন, ১০ লাখ লোক কেমনে ১০ মিনিটে পালাইয়া যায়? এরা এসেছিল ক্ষমতার জন্য।

    একজন মানুষও তারেক রহমানের ডাকে মরতে রাজি হয় নাই। একজনও না। নেতাও না। কর্মীও না। জুলাই আগস্টে মির্জা ফখরুলকে বারবার বলতে হইছে এই আন্দোলন আমাদের আন্দোলন না। আমরা এর সাথে জড়িত না। কারণ জুলাই বিএনপির আন্দোলন হইলে কোটি কোটি মানুষ এই আন্দোলনে আসতই না।

    ১৭ বছরে এক দফা কি কম দিসে?

    একটা মানুষ পাত্তা দিসে?

    দেয় নাই।

    মানুষ যাইয়া শুনলো নাহিদ ইসলাম নামের অপরিচিত, অরাজনৈতিক একটা ছেলের কথা। ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলামের এক দফাতেই সরকারের নৈতিক পতন হয়ে যায়। হাসিনা পরিবারের সবাই পালাতে শুরু করে ৩ তারিখ থেকেই। আর ৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ ঢাকা দখলের ডাক দেন। ৫ আগস্ট মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নেয়। শহীদ হয় দুইশরও বেশি মানুষ। বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনদিন পালাইতে হয় নাই। কারণ হাসিনা জানত, পুলিশের বাঁশি শুনলেই এরা পালাবে। ১৭ বছর তো তাই পালাইসে।

    জুলাইয়ে কারা রাজপথে ছিল, সেটা ডকুমেন্টারিতে দেখানোর কিছু নাই। মানুষ দেখেছে জুলাইয়ে কে লন্ডনে ছিল, কে শিলং এ ছিল আর কে ঢাকায় ছিল। এই জেনারেশনের সাথে তামাশা করে লাভ নাই। জুলাইয়ের নেতা কারা, জুলাইয়ের ইমাম কে, বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় যাইয়া ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন, যান, ১০ সেকেন্ডে এই দেশের বাচ্চারা সাক্ষ্য দেবে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত আর আখতারদের নাম।

    জুলাইয়ের ইতিহাসে এই প্রজন্মের অন্তরে লেখা আছে। দুই পয়সার ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই লেখা মুছতে পারবেন না। আপনাদের কর্মীরা হইলো ১০ মিনিটে সব রাইখা পালাইয়া যাওয়া বিড়ালের দল,

    আর নাহিদের ডাকে যারা আসছিল, তাদের ব্যাপারে হাসিনার শুনতে হয়েছিল, একটা গুলি করি। একটা মরে, ঐ একটাই যায় স্যার। বাকিডি যায় না।

    গুলি করে যেই জেনারেশনের সাথে হাসিনা পারে নাই, মিথ্যা ইতিহাস আর মিথ্যা ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই জেনারেশনকে মুছে ফেলতে চাওয়ার দু:সাহস কেমনে হয় আপনাদের?’

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রায় ১৬ শ তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর অতিক্রম হলেও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।

    সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে দলীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রহিম মিয়া। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম এজাজ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ আবদুর রহিম মিয়াকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে মঞ্চেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশে তাকে আসন গ্রহণ করতে দেখা যায় । তিনি কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ সময় কৃীর্ত্তীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপল ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিঞাও উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামীলীগ নেতাকে ফুল নিয়ে বরণ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান আমার দেশকে বলেন, আমরা রহিম মিয়াকে দলে নেইনি। তাকে বিএনপিতে নেওয়ার খবর সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

  • ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক রচিত নতুন গ্রন্থ ‘জুলাই কেন আমাদের লড়াই?’ প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব‌ইটি প্রকাশ হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক অবস্থান, গণভোট, সংবিধান সংস্কার, ইসলামপন্থীদের ভূমিকা এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এই গ্রন্থে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মাওলানা মনজুর আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ।

    আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা কেন জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকতে হবে, এটাই ব‌ইয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন। এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের উপর ক‌ওমি আলেম সমাজের অবদান ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের‌ই কিছু কিছু মানুষের‌ই দুর্বল করার যে অপচেষ্টা, তার প্রতি আমরা চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছি‌।

    তিনি আরো বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির সাথে আমাদের জোট না হ‌ওয়ার সবচে শক্তিশালী কারণ ছিল, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। তারা কোনোভাবেই চায় না জুলাই প্রতিষ্ঠা পাক।

    আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসকে পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। জুলাই জাদুঘরকে বিকৃত করে উদ্বোধন করা হয়েছে। এজন্য‌ই আমরা জুলাই যে যেভাবে দেখেছি সেটা লিপিবদ্ধ করে রাখা দরকার।

    মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের লিখিত ব‌ইগুলোর মধ্যে এই ব‌ইটি প্রথম সারিতে থাকবে। জুলাইয়ের যতগুলো পক্ষ সবার‌ই এই ব‌ইকে জুলাইয়ের টেক্সটবুক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

    মাওলানা আল আবিদ শাকের এর পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম জামিল প্রমুখ।

  • চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    এম এ রহিম , চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ (পিপিএম), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, প্রেস ক্লাব চৌগাছার যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. রহিম, ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক এম এ মান্নান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হাসানুজ্জামান, শহিদ আল আমিনের পিতা আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, সম্রাট হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অদীপ ফারহান, ছাত্রশক্তি নেতা জুবায়ের ও এনসিপি নেতা সিনবাদ।

    অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় মিছিল করা হয়।

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) জাল নথি প্রস্তুতকারক ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরছেন সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। পরে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জানা গেছে, সৈয়দ জগলুল পাশা রাজধানীর গুলশান থানার একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এ ছাড়া ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ সালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।

    বুধবার ৫ আগষ্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?… একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

    ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের, সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

    সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।… সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি…তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।…সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’

    জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান এক দিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’

    জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।…আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’

    জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি।…ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।…ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক  গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। তাই এ আন্দোলনের শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরবে এবং ইতিহাস সংরক্ষণে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তারেক রহমান জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অযথা ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানের শেষে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জুলাই ও জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। গণভোট নিয়ে সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে জুলাই এবং আহত ও শহীদ পরিবারের কোনো মূল্য নেই। সরকার যদি স্বৈরাচারী আচরণ থেকে সরে না আসে, তাহলে আরেকটি জুলাই আসন্ন।’

    বুধবার ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। তাদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করতে হবে। এখনো অনেক যোদ্ধা ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেকে বিছানায় কষ্ট পাচ্ছেন। কিন্তু সরকার তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের কোনো একক মাস্টারমাইন্ডে আমরা বিশ্বাস করি না। দিনমজুর থেকে শুরু করে দেশের সব নাগরিকই জুলাই আন্দোলনের অংশীদার।’

    শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অনেক আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই আশার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এসব আশা কোন চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে, তার জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। এমনকি সংসদেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আপনারা (বিএনপি) জাতির সামনে প্রতারক হিসেবে নিজেদের নিবন্ধিত করবেন।’

    বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে বলেই ফ্যাসিবাদ বলা হচ্ছে। এই আচরণ বন্ধ করলে জনগণ ফুল দিয়ে বরণ করবে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না।

  • জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনার পর এবার অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

    বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য দেওয়ার পর দলটির নেতারা অনুষ্ঠান বয়কট করে বেরিয়ে যান।

    এ সময় আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুনিরা শারমিনসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা এবং ১ দফা ঘোষণার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা এই অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এর আগে, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে একাধিকবার শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের কোনো ছবি না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনে আরো একবার লড়াই করবো।’

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন হট্টগোল দুঃখজনক ও লজ্জার। জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা দুঃখজনক। যে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়েছে, তাতে অসঙ্গতি আছে। এজন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের যদি অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হয়, তাহলে সেটি লজ্জাজনক।’

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তাদের জন্য কাজ করা।’

  • ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদল যেভাবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস শুরু করেছে, তা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এই সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।

    তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তাদের মাঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দিয়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয় আড়াল করার জন্য ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

    বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তারা এসব কথা বলেন।

    সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়; বরং তারা ছাত্রসন্ত্রাসী ও বহিরাগত। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি করেছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টানা না হলে এবং বিএনপির বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু করতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতাকে দুর্বলতা মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার অবহিত করা হলেও এবং ডিএমপি কমিশনার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্তপাত হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি রক্তবিন্দুর জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বিএনপির সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং এবার শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে। সেখানে মেধার চর্চা ও গবেষণা হবে এবং আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাসগুলো দখল করে পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার এই পরিবেশ জুলাই বিপ্লবের ফসল। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজেদের চরিত্র ও আদর্শের মাধ্যমে ছাত্রদলকে পরাজিত করেছে এবং ছাত্রসমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরাজয়কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ সরকারকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, গতকাল পুলিশের উপস্থিতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী, গুন্ডা ও বহিরাগতরা ‘হায়নার মতো’ হামলা চালিয়েছে।

    তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আগের আইজি ও কমিশনারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারাও একই ধরনের কাজ করেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের রক্ষা করতে পারেননি।

    তিনি আরও বলেন, ভারতের সেবাদাস শেখ হাসিনা জনতার আন্দোলনের মুখে কীভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস বর্তমান সরকারের জানা আছে। জানা না থাকলে তা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই পরিণতি স্মরণে থাকলে এত দ্রুত এসব কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভালো করেই চেনে। তারা জানে বলেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চলমান গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে চলমান গণআন্দোলন এগিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করাকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের মূল কারণ মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নয়; বরং ছাত্রদল টেন্ডারবাজি করতে চায় এবং ছাত্রশিবির তা করতে দিতে চায় না।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টই এর ফয়সালা হয়ে গেছে। নতুন করে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ছাত্রদের মন জয় করা যাবে না এবং মেধা ও কোটার ভিত্তিতে কোনো হল তো দূরের কথা, একটি আসনও দখল করতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা শুধু ছাত্রশিবিরকে বের করে দেওয়া নয়; বরং ক্যান্টিনে বিনা মূল্যে খাওয়া এবং ক্যান্টিনগুলোকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনাও এর অংশ।

    ৫ আগস্ট বিজয় উৎসব পালনের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দাঁড়ানো বাংলাদেশ, বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি তারেক রহমানকে ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদলকে সামলানো না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত করেছে, এই ছাত্রদলও তারেক রহমানের রাজনৈতিক পতন আরও দ্রুত নিশ্চিত করতে পারে।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

  • জুলাই শহীদ-আহতদের জন্য ২,৩৬৪ ফ্ল্যাট সেপ্টেম্বরে

    জুলাই শহীদ-আহতদের জন্য ২,৩৬৪ ফ্ল্যাট সেপ্টেম্বরে

    জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদদের পরিবারের জন্য ৮০৪টি এবং আহতদের জন্য ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এ কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে মূল্যায়নের কাজ চলছে। গেজেটভুক্ত নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এসব আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর আমার দেশকে এসব তথ্য জানান।

    প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, আমরা আগামী মাসে সুবিধাজনক সময়ে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য রাজধানীতে আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের একটি বড় দায়িত্ব।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তাদের আবাসন। ঢাকার মতো একটি ভালো স্থানে তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করতে পারি, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

    তিনি জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারকে আবাসিক ফ্ল্যাট দিতে সরকার মিরপুরের কালশীতে মোট ৩৩টি ভবন নির্মাণ করবে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন এবং ১৪ তলাবিশিষ্ট আরো ছয়টি ভবন নির্মাণ করা হবে। আর আহতদের জন্য ১৪ তলাবিশিষ্ট ১৫টি ভবন নির্মাণ করাসহ মোট ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, জুলাইয়ে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই সরকারের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় এটি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু আমরা এটিকে সম্মানের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করি। সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ভাতা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবেও তার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছেন। পিরোজপুরে যারা নিহত এবং আহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনের খোঁজখবর নিচ্ছি।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক আন্দোলন হয়েছে। নির্বাচন নামে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না। বিএনপি শুরু থেকেই আন্দোলন শুরু করে এবং তাদের প্রথম বড় দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায়ও এই আন্দোলন চলেছে এবং বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতার কারণে পরবর্তী সময়ে তা আরো জোরদার হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরে যখন কোটা আন্দোলন শুরু হয়, তখন বিএনপির ছাত্রনেতারাও সেই আন্দোলনে যুক্ত হন। বর্তমানে এনসিপির নেতা সারজিস ও নাহিদসহ অনেকে পরে স্বীকার করেছেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন লন্ডনে ছিলেন, তখন তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যোগাযোগ রেখেছেন এবং পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

    সোহেল মনজুর বলেন, আজকের জুলাই বিপ্লব একদিনে হয়নি। এটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। প্রতিটি সংগ্রামেরই একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থাকে, যখন সবকিছু একত্রিত হয়।

    মাহেন্দ্রক্ষণটা সময় আল্লাহর রহমত বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ওই দিনটা তখন ৫ আগস্ট হলো। কিন্তু এই আন্দোলনের মূল সেই জুলাই আন্দোলন অবশ্যই আমাদের ছাত্র-জনতা বিশেষ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে এটাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং এর কারণে আমরা সেই ফল ঘরে তুলতে পেরেছি।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের ঘটনায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

    তিনি বলেন, মানুষ তাদের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের কারণে কষ্ট পাচ্ছিল। ধীরে ধীরে মানুষ সবকিছু জানতে পারে। বিতর্কিত নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনে রূপ নেয়।

    জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর পালন করবে সরকার। এটা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আমরা যখন সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী বিভিন্নভাবে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

  • বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে বিশাল গণসমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে তার আগেই ১১ দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

  • জুলাই জাদুঘর ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই জাদুঘর ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ শের জুলাই আন্দোলনকে স্মৃতিচারণ করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এই জাদুঘরে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় আরও উপস্থিত রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

  • ৫ আগস্ট ইতিহাসে যুগান্তকারী মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ইতিহাসে যুগান্তকারী মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের দিন বাংলাদেশের যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন দেশ গড়তে নতুন যাত্রাপথ রচনা করবে।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদী শাসনে গুম-খুনের শিকার হয়েছিল দেশের জনগণ।

  • শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শহীদদের রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

    আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বার্তার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

    তিনি বলেন, ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন একপর্যায়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু দেশের মুক্তিকামী মানুষ গুলি, বোমা ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

    তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সকলকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং নির্যাতিত সবার প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

    জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, একটি মহলের কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য এখনো লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান।

    বার্তার শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর প্রতি অতীতের সব বিভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

    তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহরিয়ার পামির জানান, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

    জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

    বৈঠকের শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন বলে সহকারী প্রেস সচিব জানান।

    সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুল আজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে নয়াদিল্লির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চালান প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মহলের অনেকে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনের খবরে বলা হয়, চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ২২ জুলাই চালানটির যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে সনদ দেওয়া হয়। চালটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় আনা।চাল খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ পাওয়ার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

    এরপর, গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, ‘চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।

    ভারতীয় চাল নিয়ে বাংলাদেশ হঠাৎ করে কেন সমস্যায় পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করে আসছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।’

    আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যখন একটি এল নিনো বছর চলছে এবং এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে চাননি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথম ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন, এই একটি চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এদিকে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন। তৃতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া বা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

    তাঁর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এর পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    আগামীকাল ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত থাকবে।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে বুধবার সকাল ৯টায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত সব অতিথি, জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছিল। কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

    তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাই সবাইকে আদালতের আদেশ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত সেটি মেনে চলতে হবে।

    শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে চলবে।

    শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।

    সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দেরিতে জানার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রশাসনে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রশাসনিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনও রয়েছেন। তাদের পরিবর্তে নতুন জনবল গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন।

  • ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে সারজিস লেখেন, ছাত্রদল যত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগ হবে, তাদের পরিণতি তত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।

    এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

    কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের কমবেশি দুই কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস. এম. আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াত আমির

    জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃত বা ভুলিয়ে দেয়ার কোনো চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।”

    তিনি বলেন, “জুলাইকে ভুলিয়ে দেয়ার কোনো উল্টো সংগ্রাম যদি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করব।”

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না। দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু এবং সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।”

    তিনি বলেন, “আন্দোলনে নিহতদের পরিবার, আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। আন্দোলনের সময় তার সহকর্মীরা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।”

    জামায়াত আমির থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহতকে দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “অনেকেই এমনভাবে আহত হয়েছেন যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এসব মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।”

    জুলাই বিপ্লবের অবদান ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কার কী অবদান ছিল, তা যেন আড়াল না হয়। একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল ইতিহাস রচনা করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ঘটনাগুলো জানতে পারে।”

    তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ১৯৭১ সালের সব শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রে না হয়। শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের একটি নির্ভুল তালিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”

    জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, “জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর থেকে সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।”

    আগে দেয়া অনেক প্রতিশ্রুতি এখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে এবং নতুন বয়ান দাঁড় করানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের রায়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ। সেই রায়ের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না।”

    সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মেহেরবানি করে জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকের পরিবর্তন এসেছে, তাদের রক্ত যেন আর না ঝরে। তাদের চোখ, হাত-পা কিংবা জীবনের ওপর কোনো আঘাত এলে সেটি চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় হবে।”

    তিনি বলেন, “দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার বিসর্জন দিয়ে কোনো আপস করা হবে না।”

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশ ও জনগণের প্রয়োজন হলে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পাশে থাকব। জেল, আয়নাঘর কিংবা মৃত্যুর ভয় আমাদের দমাতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”

  • ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালরি ডেকেরেশনের কাজ করছিলেন। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।’

  • পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে একদল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানি ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং সমাধান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

    সভায় দেশের খাল পুনরুদ্ধার, নদী ও বাঁধের স্থিতিশীলতা, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনে দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপপরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীন পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

  • সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ। আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’

    ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’

    নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’

    সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

    দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’