ছবি

  • রফতানির সম্ভাবনায় জোর দিলেন কোল্ড চেইন উন্নয়নে’

    রফতানির সম্ভাবনায় জোর দিলেন কোল্ড চেইন উন্নয়নে’

    রাজশাহীর আমের স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী। সুস্বাদু, রসালো ও সুগন্ধি আমের জন্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জেলার সুনাম রয়েছে। সেই খ্যাতিমান রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে এবার সরাসরি আমের হাটে হাজির হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেন তিনি।

    উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই আমের বাজারে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন আড়ৎ, দোকান ও আমের সংগ্রহকেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত। এসময় তার সাথে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর Eric Gillan, পলিটিক্যাল অফিসার Charles Besnardসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    রাজশাহীর আম মৌসুম মানেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী, পাইকার ও ক্রেতাদের সমাগম। আর এই মৌসুমে বানেশ্বর হাট হয়ে ওঠে আমের সবচেয়ে বড় বিপণনকেন্দ্রগুলোর একটি। শত শত ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হয় হাজার হাজার মণ আম।

    এই ব্যস্ত বাজারে এসে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও রফতানির নানা বিষয় সম্পর্কে অবগত হন। সফরের একপর্যায়ে তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েকটি জনপ্রিয় জাতের আমের স্বাদও গ্রহণ করেন।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি, কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। ফলে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার প্রতি তার আগ্রহ দীর্ঘদিনের।

    রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, ‘কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। সেখানে সবচেয়ে তাজা, বৈচিত্র্যময় ও সেরা পণ্য দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।’

    বাংলাদেশী আমের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমেরিকানদের কাছে আম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন পানীয় ও শেক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আম পছন্দ করে, কিন্তু রাজশাহীর মতো এত তাজা আম পাওয়া সেখানে কঠিন। এখানকার আমের স্বাদ ও সতেজতা সত্যিই অনন্য।’

    রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য রাজশাহীর আমের আন্তর্জাতিক মান ও সম্ভাবনার প্রতি এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

    বাংলাদেশ থেকে আম রফতানির সম্ভাবনা আরো বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামতও দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি কোল্ড চেইন বা হিমাগারভিত্তিক সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, ‘সারা বছর আম সহজলভ্য রাখতে এবং হিমায়িত আম রফতানি বাড়াতে উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রফতানির সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।’

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের আম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়ে যায়। উন্নত কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাজশাহীর আম বৈদেশিক বাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

    রাজশাহীর আম ইতোমধ্যে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। তবে উৎপাদনের তুলনায় রফতানির পরিমাণ এখনো সীমিত।

    ব্যবসায়ীদের মতে, বিদেশী কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের এমন সফর বিদেশী বাজারে রাজশাহীর আমের পরিচিতি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর শুধু সৌজন্য সফর নয়; এটি রাজশাহীর আম শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারগুলোর একটির প্রতিনিধির আগ্রহ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করতে পারে।

    অন্যদিকে কৃষকদের আশা, রাজশাহীর আমের ব্র্যান্ডিং, রফতানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার হলে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন নিছক একটি কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি রাজশাহীর কৃষি অর্থনীতি ও আম শিল্পের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার প্রতীক। বিশ্ববাজারে নিরাপদ, সুস্বাদু ও মানসম্মত ফল হিসেবে রাজশাহীর আমের যে সুনাম রয়েছে, তা আরো বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সফর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

    রাজশাহীর বাগান থেকে বিশ্বের বাজারে—এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং রফতানিবান্ধব অবকাঠামো। আর সেই যাত্রাপথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডে জনৈক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মামুনকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করেছে মো. শামিম নামে এক যুবক।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মামুনের পরিববার জানায়, আহত কলেজ ছাত্র মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসেবা দেওয়া হয়।

    আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়মানিকা ১নং ওয়ার্ডের জনৈক এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন পাশের এলাকা কুড়ালিয়া ৪নং ওয়ার্ডের মো. রুহুল আমিন বাড়ইয়ের ছেলে মো. শামিম। ওই স্কুলছাত্রী ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মামুনের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হওয়ায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন।

    ওই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন পর মামুনকে একা পেয়ে শামীম রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। আহত শিক্ষার্থী মামনুকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসা শেষে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

    মামুন বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এ হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপার আহত কলেজছাত্র মো. মামুন বলেন, পাশের এলাকার শামীম আমাদের বাড়ির ওপর ভাতিজি স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। ওই ঘটনায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে আমি প্রতিবাদ করি। ওই সময় ছেলেটি স্কুলছাত্রীকে আর বিরক্ত করবে না বলে পারিবারিকভাবে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ঘটনার সমাধান হয়। এ ঘটনার জের ধরে মো. শামীম বাড়ইসহ অনেকে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য বুধবার রাতে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।

    আহত মামুন আরও বলেন, আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

    এ ব্যাপার হামলাকারী শামীমের ভাই আব্দুস সালাম জানান, আমি ঢাকায় আছি। আমার ভাইকে আগে মারধর করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক এ ঘটনায় মীমাংসের চেষ্টা করছি।

    এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • সালথায় নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    সালথায় নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথায় নাশকতা মামলায় মো: খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা (৪৮) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার খায়রুজ্জামান বাবু উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মরহুম আব্দুল কুদ্দুছ মোল্যার ছেলে।

    তিনি সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

    জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা পলাতক ছিলেন। কয়েক মাস ধরে তিনি মাঝে মাঝে গোপনে এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করেন।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু মোল্যার বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নটখোলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হবে।’

  • আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

    আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

    সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে হাজিরা দিতে আমগাছে উঠেছেন মোহাম্মদ আবু তাহের নামে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষক। নেটওয়ার্ক সংযোগ পেতে তিনি গাছে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

    সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    সম্প্রতি সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। যা ১৫ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী- প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আবু তাহের।

    এদিন আবু তাহের অনলাইনে হাজিরা দিতে যান। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক নেই। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে পাশের পাহাড়ের চূড়ায় একটি আমগাছে ওঠে ডালে দাঁড়িয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পরে কোনো রকম নেটওয়ার্ক পাওয়ায় অনলাইনে হাজিরা দিতে পারেন তিনি।

    আবু তাহের জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী হাজিরা দিতে গিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের প্রায় কয়েকশ ফুট নিচে অবস্থিত। এদিন সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক পাননি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে চেষ্টা করেন। কিন্তু এতেও নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পাশের একটি আমগাছের ডালে ওঠে কোনোরকম নেটওর্য়াক পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

    তিনি বলেন, চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে বাধ্য হতে হয়েছে, চাকরি না থাকলে পরিবারে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ান চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে প্রথমদিন ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

    জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলের শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগও স্থাপিত হয়নি। এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। তাই পাহাড়ি এলাকার জন্য বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথমদিন (১৫ জুন) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের অনলাইনে হাজিরা পাওয়া যায়নি।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    এ এম

  • সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের আলোচনা

    সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের আলোচনা

    সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প নেই

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    দিনাজপুরে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় স্টেশন রোডস্থ ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সভাপতি ও নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক সাদাকাত আলী খান।

    সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমার দেশ পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধি মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমার দেশের দিনাজপুর জেলা মাহবুবুল হক খান, অর্থ সম্পাদক ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি এম এ সালাম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্রের (আসক) জেলা কমিটির সভাপতি মো: আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম, ইউনিয়নের সদস্য মো: রাজু ও মোছা: তহমিনা বেগম বিলকিস।

    সভা সঞ্চালনা করেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি এনটিভি স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর) মো: ফারুক হোসেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আর যেন কোনো শাসক দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই নিজেদের সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    আলোচনা সভায় সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সদস্য মো: মিজানুর রহমান মিজান, মো: নুর ইসলাম, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি লুৎফুর রহমান লাইসুর, মো: জাহিদ হোসেন, মো: ইসমাঈল হোসেন সাগরসহ ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • পাইকগাছার বেতাঙ্গী নদী থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    পাইকগাছার বেতাঙ্গী নদী থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের বেতাঙ্গী নদী থেকে ব্রিঞ্চি মন্ডল (৮০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ব্রিঞ্চি মন্ডল উপজেলার পটুলাখালী গ্রামের মরহুম মহেন্দ্র মন্ডলের ছেলে।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোরে বেতাঙ্গী নদীর বাহিরবুনিয়া সরদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ওই বৃদ্ধের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা তার পরিচয় শনাক্ত করে।

    নিহতের ছেলে উজ্জ্বল মন্ডল জানান, তার বাবা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। পরে সোমবার সকালে লোকমুখে খবর পেয়ে বাবার লাশ শনাক্ত করেন উজ্জ্বল মন্ডল।

    পাইকগাছা থানা পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে নদীতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কলারোয়ায় দিনমজুর সাগর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    কলারোয়ায় দিনমজুর সাগর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

    সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।

    এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে।

    মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন, একজন অসহায় মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষিত হতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

    সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো: মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি পরিবারকেই কষ্ট দেয় না, এটি সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করে।

    এদিকে সাগর হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধানে নতুন করে উঠে এসেছে যশোর-বেনাপোল সীমান্তভিত্তিক একটি কথিত স্বর্ণ চোরাচালান ও অপরাধচক্রের নাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, মাদক পাচার এবং প্রভাব বিস্তারের সাথে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

    Politics

    অভিযোগের তীর যশোরের শার্শা উপজেলার শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’, আনসারুল হক রানা, মেহেরুল্লাহ মেম্বার এবং গোল্ড নাসিরের দিকে। বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি প্রকাশ পেলেও সাগরের পরিবার এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার পায়নি। পাশাপাশি বিচার চাওয়ার কারণে পরিবার ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    বক্তারা সাগর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। একইসাথে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

  • ময়মন‌সিংহে উচ্ছেদ অভিযান : শতা‌ধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো সিটি করপোরেশন

    ময়মন‌সিংহে উচ্ছেদ অভিযান : শতা‌ধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো সিটি করপোরেশন

    ময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দখল-দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।

    সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় স্থায়ী-অস্থায়ী ঘর, টিনশেড ও দোকানপাট।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকনোজ্জামান রোকন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন।

    দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি পেয়ে সাধারণ পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অবৈধ দখলের কারণে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।

    সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, বর্গাচাষি ও প্রান্তিক চাষিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যায় নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও রোদের অভাবে অনেক জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার মানবিক সহায়তা ও প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

    ঘোষণার পর উপজেলা কৃষি বিভাগ মাইকিং করে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ৩ হাজার ১৮০ জনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১৮০ জনের নাম অনুমোদন দেয়।

    সোমবার সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রুকন আহমেদ বলেন, “আমি চাষাবাদ করে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় আমার নাম নেই। অথচ এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা কোনো ধরনের চাষাবাদই করেননি।”

    এদিকে সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম করা হয়েছে। এ অভিযোগে সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মো. খাইরুজ্জামান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদ। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাচাই-বাছাইয়ের সময় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

    জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। যারা চাষাবাদ করেননি তারাও প্রণোদনা পাচ্ছেন, আর প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

    একই অভিযোগ করেছেন ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জলিল মিয়া। তিনি বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী, কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন— এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

    এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও দুর্ভোগের মুখে পড়বেন।

    এ এম

  • নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষার্থীর নাম আল জিদান সরকার (১২)। সে ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর আল জিদান সরকারের মা আয়েশা বেগম নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    জানা যায়, গায়ে ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আল জিদান সরকারের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

    শিশু জিদান সরকারের ওপর হামলাকারীরা একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: সাব্বির হোসেন (১৩), আরাফাত হোসেন (১৩), রামিম (১৩) ও জিহাদ (১৩)। তাদের সকলের বাড়ি ইব্রাহিমপুর গ্রামে।

    ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চার শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয়। পরে তাদের প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং পরে নবীনগর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    আহত শিক্ষার্থীর মা আয়েশা বেগম বলেন, স্কুলের ভেতরে আমার ছেলের ওপর এভাবে হামলা হবে, তা কখনো কল্পনা করিনি। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

    ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে সাথেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ চারজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছে। আহত ছেলের মা আয়েশা বেগম লিখিত অভিযোগ করেছেন।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

    আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সাথে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

    এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

    গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এই নবজাতকদের নামও রাখা হয়নি। ফলে তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

    ঘটনা তদন্তে দ্রুত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

    ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

  • রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

    এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সাথে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

    মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

    গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

  • টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর যৌথ উদ্যোগে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি আজ সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ টেকনাফ উপজেলা কৃষি বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার সাজিয়া নাসরিনের সার্বিক সহযোগিতায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশন টেকনাফ উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো: আশরাফ উল্লাহ, বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল হামিদ, রেডিও নাফ ৯৯.২ এফএম এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন।

    এতে ধর্মীয় নের্তৃবৃন্দ ও স্থানীয় কমিউনিটির ২৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় টেকনাফের শিশু শিক্ষা, বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম, শিশু স্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুর অপুষ্টিজনিত কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সহ আরও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকলের উপস্থিতিতে একটি কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

    এ এম

  • কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও খালের দু’ পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুমোরগাড়া বিল থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়াই টিকরির বিল ভায়া মুনাই বিল হয়ে বেতবাড়ীয়া অভিমুখী খালের পুনঃখনন করা হবে।

    সোমবার (১৫ জুন) প্রধান অতিথি হিসেবে খাল পুনঃখনন প্রকল্প ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র রায়, মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, মৃগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মৌলবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে আমাদের মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, সঠিক সময়ের মধ্যেই এ কাজ সুন্দরভাবে শেষ হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগের ফলে বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তি মিলবে। পাশাপাশি খাল খনন সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা কমবে, পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে। কৃষি জমির সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। আমি খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

    অনুষ্ঠান শেষে ইউএনও মেজবাহ উদ্দিন আরো বলেন, ‘প্রায় ২০০০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই গাছ যাতে ভালো থাকে এলাকার লোকজন দেখে রাখবে। এটা আমার আপনার সম্পদ।’

    উল্লেখ্য, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। যেখানে ২৯৭ জন শ্রমিক ৪৩ দিনে ৫০০ টাকা হারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করবেন।

  • জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অভিবাসী চোরাচালান : গ্রেফতার ৩

    জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অভিবাসী চোরাচালান : গ্রেফতার ৩

    জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল রোববার (১৪ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টায় উত্তর বাড্ডাস্থ রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্সে’ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    সোমবার (১৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- চাঁদপুর সদর থানার মুন্সীরহাট গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক প্রধানিয়ার ছেলে মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), চাঁদপুরের কচুয়া থানার ফতেপুর গ্রামের মো: ফয়জুল্লাহর ছেলে মো: ওসমান গনি (২৫) ও লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার আদালতপুর গ্রামের মৃত কাজী আবুল কাশেমের ছেলে কাজী মো: আতা-ই-রাব্বি (২৮)।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছিল।

    এ বিষয়ে জর্ডানে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।

    প্রাথমিক তদন্তে আরো জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স মূলত একটি ট্রাভেল অ্যাজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।

    সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশী পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা (নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে), দুটি সিপিইউ ও একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং অবশিষ্ট পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে গমনেচ্ছুক ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সংক্রান্তে সিআইডি উপরে উল্লিখিত তিনজন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করে।

    অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে রিয়াজুল হাসানকে (৫০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে ১০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু ‘সালিসের কথা’ বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, হামলার একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু বিল্লাল হোসেনের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ৯ জুন বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনার আতাইকুলায় স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করেছে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এছাড়াও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে যুবদল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আতাইকুলা থানা পুলিশের টিম।

    গ্রেফতার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের মরহুম নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল রোববার (১৪ জুন) সারারাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীর মা আবুল কাশেমকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও আবুল কাশেমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়।

  • মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস নিলেন ইউএনও

    মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস নিলেন ইউএনও

    দাপ্তরিক ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিতভাবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন মধ্যনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ। শুধু পরিদর্শন নয়, অনেক সময় তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে নিজেও পাঠদান করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন।সোমবার (১৫ জুন) সকালে তিনি চামরদানী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি ইংরেজি ক্লাস নেন। হঠাৎ একজন ইউএনওকে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ক্লাসে তিনি ইংরেজি বিষয়ের বিভিন্ন বিষয় সহজভাবে উপস্থাপন করেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করেন।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, ইউএনও স্যার খুব সুন্দরভাবে ক্লাস নিয়েছেন।প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তিনি পাঠ সহজ করে বুঝিয়েছেন এবং কিভাবে সহজে বিষয়গুলো মনে রাখা যায় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ক্লাসটি ছিল শিক্ষণীয় ও আনন্দদায়ক।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জিলানী বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি যেভাবে শ্রেণিকক্ষে এসে পাঠদান করেছেন, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরো আগ্রহী করে তুলবে।ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াতে আমি আনন্দ পাই। জ্ঞান বিতরণের মতো তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ হয়। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে শিক্ষা খাতে সামান্য অবদান রাখতে পারাও আমার জন্য গর্বের বিষয়।

    এ এম

  • মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    এ এম

  • হঠাৎ অসুস্থ মাগুরার ডিসি, হেলিকপ্টারে আনা হলো ঢাকায়

    হঠাৎ অসুস্থ মাগুরার ডিসি, হেলিকপ্টারে আনা হলো ঢাকায়

    মাগুরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোতাকাব্বীর আহমেদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মাগুরার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মোতাকাব্বীর আহমেদ। যোগদানের পর থেকে তিনি মাগুরা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন। রবিবার গভীর রাতে হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোমবার বিকেল ৪টার দিকে মাগুরা স্টেডিয়ামে অবতরণ করা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

    মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবীর জানান, জেলা প্রশাসক পেটে ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যথা কিছুটা কমলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সাধারণত পাকস্থলীর এ ধরনের সমস্যাকে পারফোরেশন বলা হয়ে থাকে। এটি এসিডিটিসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে।’

    এদিকে জেলা প্রশাসকের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ এম

  • পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    চার বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শখের বশে কেনা পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে শুরু। সেই ছোট্ট শখের খামারই আজ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি ২২ প্রজাতির উন্নত জাতের মুরগির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়। একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। উদ্যোক্তা মোবারক পৌর শহরের শ্রীরামপুরে বসতঘরের পেছনে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমধর্মী খামার ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ছোট জাতের মুরগি কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও মালয়েশিয়ান সেরামা।বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের হোয়াইট, ব্ল্যাক টেইল, মলটেড, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, সিল্কি, সেরামা, অস্ট্রলপ, কাদারনাথ, ব্রাহামা, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল ও পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২টি প্রজাতির কয়েকশ মুরগি রয়েছে খামারটিতে। এছাড়াও রয়েছে ৫০০ গ্রাম ওজনের বিশেষ জাতের কোয়েল। নানা প্রজাতির শৌখিন ও বাণিজ্যিক মুরগির সমন্বয়ে খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। শুধু মুরগি পালনই নয়, ইনকিউবেটর যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন উদ্যোক্তা মোবারক। খামারে উৎপাদিত শৌখিন প্রজাতির মুরগি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

    মোবারক জানান, ১০০-২০০ টাকা করে জমিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচটি সিল্কি মুরগি কিনে খামার শুরু করি। এখন আমার দুটি খামার রয়েছে। দেশি-বিদেশি ২২ জাতের কয়েকশ শৌখিন জাতের মুরগি আছে দুটি খামারে।

    তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের জন্য এ ধরনের মুরগি পালন হতে পারে অধিক লাভজনক ও কর্মসংস্থানের বড় মাধ্যম। নতুন উদ্যোক্তাদের আমার খামারে স্বাগত জানাই। তারা আসুক, দেখুক, ভালো লাগলে মুরগি পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। মোবারকের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসেন। অনেকেই তার কাছ থেকে মুরগি পালনের আধুনিক কৌশল ও খামার ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় শিখছেন। পাশাপাশি এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

    রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পৌর শহরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ জাতের বিদেশি মুরগি পালন করছেন। ওইসব মুরগি তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার খামারটি দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। আমরা শৌখিন প্রজাতির মুরগি খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও টিকার ব্যাপারে খামারিদের সচেতন করি।

    এ এম

  • বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনার দুই স্থানে ২ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে ও কাইলাটী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত দু’জন হলেন— সাপমারা গ্রামের নান্টু মিয়ার ছেলে মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি (৫৫) ও কুতুবপুর গ্রামের মরহুম জয়নাল আবেদিনের ছেলে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া (৫৩)।

    জানা যায়, মাদরাসাশিক্ষক জামাল মুন্সি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তার লাশ উদ্ধার করে।

    অপরদিকে সিএনজিচালক সবুজ মিয়া একই সময় বৃষ্টির মধ্যে বিলে পেতে রাখা জাল তুলতে যান। এ সময় বজ্রপাতে বিলের মধ্যেই তিনি আহত হন। পরে বৃষ্টি শেষে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে ওই দুই পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

    নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন সরকার সাংবাদিকদের জানান, বজ্রপাতে সদর উপজেলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

  • চৌগাছার সেই ‘ব্রাজিলবাড়ি’

    চৌগাছার সেই ‘ব্রাজিলবাড়ি’

    এম এ রহিম চৌগাছা থেকে,

    যশোরের চৌগাছায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ‘ব্রাজিলবাড়ি’ নাম দিয়েছিলেন ব্রাজিলভক্ত জামির হোসেন। গত আট বছর পর এখন চৌগাছা শহরের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে বলে দিতে পারবেন ব্রাজিলবাড়ির ঠিকানা। এই আট বছরে রং হয়তো কিছুটা মলিন হয়েছে, তবে ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা একটু কমেনি ভক্ত জামির হোসেনের। আলোচিত এই ব্রাজিলবাড়িটি যশোরের চৌগাছা পৌর শহরের চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ইছাপুর বটতলায মোড়ে।

    জামির হোসেন চৌগাছা পৌরসভার পাঁচনমনা গ্রামের বাসিন্দা হলেও ইছাপুর বটতলায় নিজের বাসভবনে বসবাস করেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় তাঁর দোতলা (এখন তিনতলা) বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ‘ব্রাজিলবাড়ি’ নাম দিয়েছিলেন। বাড়িটির নিচতলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিওর অফিস। দোতলায় জামির থাকেন তাঁর পরিবার নিয়ে। চৌগাছা পৌর শহরের যশোর বাসস্ট্যান্ডে ‘ফেমাস অটো’ নামে মোটরসাইকেল শো-রুমের পাশাপাশি টিভি-ফ্রিজের একটি শো-রুম রয়েছে জামির হোসেনের।

    জামির হোসেন জানান, তিনি ফুটবল ভালোবাসেন। ফুটবলে তাঁর ভালোবাসা ব্রাজিল। তাই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের পতাকার রঙে নিজের বাড়িটিকে রাঙিয়েছেন। এখনও বাড়িটিতে সেই রং আছে। শহরের সবাই তাঁর বাড়িকে ব্রাজিলবাড়ি হিসেবেই চেনেন।

    স্মৃতিচারণ করে জামির হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকার ব্রাজিলের জার্সিও কিনেছিলেন। দল বেশিদূর যেতে পারেনি। তাই এখনও সেই সময়ের ৭৫টি জার্সি রয়েছে। এগুলো নিয়ে এবার শোভাযাত্রা হবে। দুশ থেকে তিনশ মোটরসাইকেল নিয়ে এ শোভাযাত্রা হবে।

    জামির হোসেন আরও বলেন, ফুটবল খেলায় জয়-পরাজয় থাকবে। তবে প্রত্যাশা থাকে উত্তেজনাপূর্ণ ভালো ফুটবল খেলার। শুধু ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনাও ভালো ফুটবল খেলুক, এই প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে ভারত-পকিস্তান যেমন উত্তেজনা থাকে, তেমনি ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উত্তেজনা থাকবে। তবে সেটি যেন কখনোই সংঘাতে পরিণত না হয়।’

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে গোটা যশোরের চৌগাছায় বিভিন্ন ফুটবল দলের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। অনেক বাসাবাড়ির ছাদে, রাস্তার পাশে টানানো হয়েছে প্রিয় দলের পতাকা। কার চেয়ে কে বড় পতাকা টানাবে, এই প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে।

  • ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খালের পানিতে পড়ে মারজিয়া খাতুন (৬) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ মারজিয়া খাতুন নবীনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশের আড়িয়ামারা খালের দাবুর বাড়ির ঘাট এলাকায় অন্য শিশুদের সাথে খেলছিল মারজিয়া। একপর্যায়ে সে খালের পানিতে নেমে পড়ে। সাঁতার না জানায় খালের তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যায়। এ সময় অন্য শিশুদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

    পরে খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় খালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের ফায়ার ফাইটার সাব্বির হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খালের পানিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে খালের তীব্র স্রোতের কারণে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    তিনি আরো জানান, বিষয়টি রাজশাহী বিভাগের ডুবুরি দলকে অবহিত করা হয়েছে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

  • প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    লাইফস্টাইল

    শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন।

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

    রসুন খান
    রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন।

    বিষাক্ত খাবার বাদ দিন
    আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    লেবু যোগ করুন
    শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

    পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান

    আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন। ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ
    লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স

  • গৌরনদীতে বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত

    গৌরনদীতে বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক বাবু লাল বিশ্বাস নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার আশোকাঠী এলাকার শারমিন ক্লিনিকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ভ্যানচালক বাবু লাল বিশ্বাস উজিরপুর উপজেলার জুমিরবাড়ি গ্রামের সুখ লাল বিশ্বাসের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ পরিবহনের বাসটির অতিরিক্ত গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে আটকে রাখা হয়েছে।

    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহসিন আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ বাসটি আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো: রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো: গালিব (১৮) ও শ্যালিকা মোসা: সুরাইয়া (১২)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব ও শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরাইয়ার লাশও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার।

    স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন।

    অন্যদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার হালতির বিল এলাকায় এক রিসোর্টে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড. মো: জিয়াউল হক জিয়া।

    এ সময় বক্তারা গুরুতর বক্তব্য প্রদান করেন।

    বক্তারা বলেন, ‘জনশক্তির ভেতরের নৈতিক ত্রুটি দূর করে আদর্শ চরিত্র গঠন করতে হবে। ব্যক্তিজীবনে ইসলামের নৈতিক ও ধর্মীয় বিধানসমূহ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করা করতে হবে। একসাথে থাকা, খাওয়া ও ইবাদত করার মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও একতা সুদৃঢ় করতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার এক যুগোপযোগী সমন্বয় সাধন করা এবং নকলপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা এবং কৌশলগত যোগ্যতা বাড়ানো। ছাত্রদেরকে কেবল শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, বরং একজন আদর্শবান, চরিত্রবান ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জামায়াতের থানা সেক্রেটারি ডা: ফজলুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: আলী আল মাসুদ মিলন। শিবিরের বর্তমান জেলা সভাপতি মো: জাহিদ হোসেন।

    শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি নাজমুল ইসলাম, শিবিরের সাবেক থানা সভাপতি হাফেজ আব্দুল বারিক, শিবিরের বর্তমান থানা সভাপতি মো: তারেক রহমান, থানা সেক্রেটারি মো: আব্দুর রহমানসহ প্রমুখ।

  • গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সালেহা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

    নিহত সাদ্দাম মিয়ার স্ত্রী এবং দুই ছেলে-মেয়ে জননী সে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। এরই একপর্যায়ে সালেহা বেগম অভিমান করে শনিবার সকালে স্বামী-সন্তানরা বাড়ির বাইরে চলে যাওয়ার পর নিজ বসতঘরে আড়ার সাথে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। ছেলে তানভীর (৭) ঘরে এসে মাকে ঝুলন্ত দেখে চিৎকার দিলে বাড়ি লোকজন দৌঁড়ে আসে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠিয়েছে।

    গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করি। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী।

    জানাজায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার শোকাহত মানুষজন ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে জানাজায় শরীক হোন। জানাজা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়।

    জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এ টি এম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ৮০-৯০ দশকে দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।

  • ৫ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পাবেন নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নবাসী!

    ৫ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পাবেন নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নবাসী!

    ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’-এই চিরন্তন বাণীর জীবন্ত উদাহরণ হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নবাসী। এলাকার গরীব ও অসহায়সহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পাঁচ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স (বিনামূল্য) সার্ভিস চালু করলেন কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি ইউনিয়নবাসী।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা হাট চত্বরে ফিতা কেটে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্বোধন করে তরুণ উদ্যোক্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সার্ভিসের (ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স) পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে দ্রুতই এলাকায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করব। এর আগে ঈদুল আযহার সময় ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত ৪০০ মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, তেল, সেমাইসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেছি। এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার ভালোলাগা ও ভালোবাসা।’

    উদ্বোধন উপলক্ষে কাশিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, বোর্ড স্থাপনসহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রচারণাও করা হয়েছে। এছাড়া দু’টি হটলাইন নাম্বার-০১৩৩১-৫০১০৭৮ এবং ০১৯৭৪-৪১৫৫৭৪ চালু করা হয়েছে।

    ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নের সব গ্রামের মানুষ রোগী নিয়ে ঢাকা, যশোর, খুলনা, নড়াইলসহ দেশের যে কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে যেতে পারবেন। আবার হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসতে পারবেন বিনামূল্যে।

    গিলাতলা গ্রামের মতিয়ার রহমান মোল্যা, ইয়াসিন মোল্যা, পদ্মবিলা গ্রামের আব্দুল কাদের এবং কাশিপুর গ্রামের শহিদুল্লাহসহ ইউনিয়নবাসী জানান, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আগে কখনো দেখেননি তারা। এতে সবার মাঝে দারুণ সাড়া পড়েছে। অসুস্থতার সময়ে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সত্যিকার অর্থে পরম পাওয়া। এতে অসহায় রোগীরা উপকৃত হবেন।

    এদিকে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দু’দিন আগে থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে হিউম্যান রাইটস নড়াইল জেলা শাখার সহসভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘গত শুক্রবার কাশিপুর যুবসঙ্ঘের আয়োজনে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কিফায়েত নামে একজন খেলোয়াড়ের পা ভেঙ্গে যায়। তাৎক্ষণিক লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তাকে ঢাকায় নিতে হবে। এ সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দৌড়াদৌড়ি করি। এরপর আতিকুল ভাইয়ের বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে কিফায়েতকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সেবা পেয়ে খুশি ইউনিয়নবাসী।

    এদিকে আতিকুল ইসলামের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের প্রশংসা করে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিবার-পরিকল্পনা পরিদর্শক মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, অবশ্য এটি একটি প্রশংনীয় উদ্যোগে। মানুষ বিপদে পড়লে বা অসুস্থ হলে সবচেয়ে অসহায় বোধ করেন। এ মুহূর্তে এমন অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেলে রোগীর পরিবার বিশ্বস্ত বা নির্ভরতার জায়গা খুঁজে পান। তাই আতিকুল ভাইয়ের মতো এমন মানবিক কাজে সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসা উচিত। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা উপকৃত হবেন। বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

  • একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    মানুষের জীবনে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়; বরং এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক পবিত্র সম্পর্ক। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে দুনিয়ার জীবনেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং জান্নাতেও এই সম্পর্কের স্থায়িত্বের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।তাই অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে—কোনো নারীর যদি দুনিয়ায় একাধিক স্বামী হয়ে থাকে, যেমন প্রথম স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি পুনরায় বিয়ে করেছেন, তাহলে জান্নাতে তিনি কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    জান্নাতে প্রিয়জনদের পুনর্মিলন
    ইসলাম জান্নাতকে এমন এক আবাসস্থল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়, যেখানে কোনো দুঃখ, কষ্ট, অপূর্ণতা বা বিচ্ছেদ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিত করে দেব।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ২১)

    অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৩)
    প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, জান্নাতবাসীদের আনন্দকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আল্লাহ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্রিত করবেন, যদিও তাদের আমলের স্তরে কিছু পার্থক্য থাকে।একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?
    কিছু আলেমের মতে, কোনো নারীর একাধিক স্বামী থাকলে তিনি জান্নাতে তার সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। এ মতের পক্ষে আবু দারদা (রা.) থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়। তিনি তার স্ত্রী উম্মু দারদাকে বলেছিলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো নারী যার স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্য কাউকে বিয়ে করে, সে জান্নাতে তার শেষ স্বামীর জন্য হবে।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৩১৩০)

    যদিও মুহাদ্দিসরা এ বর্ণনার সনদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবুও অনেক ফকিহ এ মতকে গ্রহণ করেছেন। আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, উম্মে সালামা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কোনো নারীর যদি দুনিয়ায় দুইজন স্বামী থাকে, তবে জান্নাতে সে কার সঙ্গে থাকবে?’ উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তাকে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হবে। তখন সে সেই স্বামীকে বেছে নেবে, যে দুনিয়ায় তার সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করেছিল।’ এরপর তিনি বলেন, ‘সুন্দর চরিত্র দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে একত্রিত করে।’ (আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি)
    এই বর্ণনা থেকে অনেক আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে, জান্নাতে নারীর সন্তুষ্টি ও সুখের বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে।

    কোনো কোনো ইসলামী স্কলারের মতে, জান্নাত যেহেতু পরিপূর্ণ সুখের আবাস, তাই সেখানে কাউকে এমন অবস্থায় রাখা হবে না, যা তার মনে কষ্ট বা অপূর্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।ফলে কোনো নারীর যদি একাধিক স্বামী থাকে, তবে তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী স্বামী নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই মতকে সমর্থন করে আল্লাহ তাআলার সাধারণ ঘোষণা, ‘সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমরা কামনা করবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩১)

    আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘সেখানে থাকবে যা মন আকাঙ্ক্ষা করে এবং যা চোখকে তৃপ্ত করে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৭১)

    আর সমকালীন বর্তমানের আলেমরা এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, যদি কোনো নারীর স্বামীদের মধ্যে একজন তার সঙ্গে উত্তম আচরণকারী ও অধিক নেককার হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাকে বেছে নেবেন। আর যদি তাদের মর্যাদা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকে, তবে তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এসব ব্যাখ্যার অনেকগুলোই ইজতিহাদভিত্তিক। এ বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো চূড়ান্ত ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য নেই, যা সব মতভেদের অবসান ঘটিয়ে দেয়।

    অতএব, দুই বা ততোধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন—এ বিষয়ে ইসলামী পণ্ডিতদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন; কেউ বলেন, তাকে পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে; আবার কেউ বলেন, তিনি সেই স্বামীকে বেছে নেবেন, যিনি দুনিয়াতে তার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিলেন।

    তবে এসব মতের ঊর্ধ্বে যে সত্যটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা হলো—জান্নাত আল্লাহর সন্তুষ্ট বান্দাদের জন্য পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও তৃপ্তির আবাস। সেখানে কোনো মুমিনের মনে দুঃখ, আফসোস বা অপূর্ণতা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম হিকমত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রত্যেক জান্নাতবাসীর জন্য এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা চিরস্থায়ী সুখ ও প্রশান্তি লাভ করে। সুতরাং এ বিষয়ে চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে, আর মুমিনের কর্তব্য হলো—জান্নাত লাভের জন্য ঈমান ও নেক আমলে জীবনকে সাজিয়ে তোলা।

    এ এম

  • সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের।

    পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

    শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম।

    সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

    কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

    কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান।কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

    এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

    কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এ এম

  • ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে মিলনের আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন

    ডেক্স নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সালথায় এই প্রথম বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ অঞ্চলে আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। সেখানে আশাতীত ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

    মিলন বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিই। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। মিলন আরও বলেন, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন এলাকার অনন্য কৃষকরাও।

    সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখিনি। মিলনের বাগান দেখে আমরা উৎসাহবোধ করছি। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।

    স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন উৎস।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে ফল চাষে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও অনেক কৃষক আনারস চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

    এ এম

  • সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে গরুর গোশত বলে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৬

    সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে গরুর গোশত বলে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৬

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি রাইচ মিলের পরিত্যক্ত চাতালের কক্ষে গোপনে ছয়টি গোড়া জবাই করার অভিযোগ উঠেছে। এসব গোশত গরুর হিসেবে বিক্রির চেষ্টায় জড়িত ছয়জনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশ সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    শুক্রবার (১২ জুন) সকালের দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসুলপুরে (মোংলা বন্দর) ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোমিনুর রহমান, মিন্টু মিয়া, হৃদয় হোসেন, রাজিব হোসেন, মামুন মিয়া ও জোবায়দুর রহমান। তাদের বাড়ি বিভিন্ন জেলায়।

    স্থানীয়রা জানায়, খোর্দ্দ রসুল পুরের মোংলা বন্দরের মরহুম ফজলু মাস্টারের ছেলে খাইরুল ইসলামের চাতালে গোপনে ছয়টি ঘোড়া জবাই করে। এসব ঘোড়ার গোশত গরুর গোশত হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। এসময় ঘটনাটি টের পেয়ে জড়িতদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

    এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনগণ চাতালের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছে। এসময় ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে জনতার উত্তেজিত পরিস্থিতি শান্ত করে।

    এদিকে, ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, ওসি এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ ও সদস্য নুরুন্নবী প্রধানসহ অনেকে।

    এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার পর ইউএনও মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

    সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে দুজনকে ছয় মাসের ও চারজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করাসহ প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

  • ছাত্রশিবির নেতা জিসান নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত উদ্ধারের দাবি

    ছাত্রশিবির নেতা জিসান নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত উদ্ধারের দাবি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান দীর্ঘ ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর থেকে জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শুক্রবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন।

    নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জিসানের সন্ধান ও উদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যাশা থাকলেও পুলিশের আচরণে তারা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে। অপহরণকারীরা যে ফোন নম্বর ব্যবহার করছে, সেটি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ওই নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।

    ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে জিসান আহমেদ প্রধানকে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

    বিবৃতিটি পাঠান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সুলতানা আক্তার (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের জানান, সুলতানা আক্তারের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

    তিনি আরো জানান, বর্তমানে আলী আহমদ মান্নান ৩০ শতাংশ, ছেলে সিয়াম ৭৭ শতাংশ এবং মেয়ে মিমি ৪১ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পথচারী শিশু হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মদনপুরের ছোটবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধরা হলেন— সবজি ব্যবসায়ী আলী আহমদ মান্নান (৫০), তার স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী সুলতানা আক্তার (৪২), ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সিয়াম (১৯), মেয়ে স্কুলশিক্ষার্থী মিমি (৯) এবং পথচারী শিশু হযরত আলী (৮)।

    দগ্ধদের স্বজনরা জানান, পরিবারটি মদনপুরের একটি একতলা বাড়িতে ভাড়া থাকত। বাসার গ্যাসের চুলার লাইনে লিকেজ থাকায় আলী আহমদ মান্নান নিজেই সেটি মেরামত করেন। পরে তার স্ত্রী রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দম্পতি, তাদের দুই সন্তান এবং পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক শিশু দগ্ধ হয়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

  • নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।

    এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ স্মার্ট ক্লাব (EESSC) ও এসইএসডিপির উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণা তুলে ধরার মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীর হাতিরঝিলে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানান, পলাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রয়েছেন।

    আহতের ভাই আল আমিন জানান, দুপুরে পলাশ জুম্মার নামাজ শেষে রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে আকস্মিকভাবে পলাশের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, পলাশের মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে আনার পরপরই তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদের’ নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

  • সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

    শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলাম রাজশাহী মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের এখন আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে জেগে উঠতে হবে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত বর্তমানে ইসরাইলের মতো আচরণ শুরু করেছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করার এখনই উপযুক্ত সময়।’

    ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘সে দেশে মুসলমানদের নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ পুশইন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

    বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ সংস্কার হবে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কালো আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যা তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও আমাদের সীমান্তে বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র দেয়া হয়নি। ৫০ বছর আগের খেলনা অস্ত্র দিয়ে ভারতের আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের মতো লুটপাট চালালে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।’

    গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত ও সমালোচিত ধর্মভিত্তিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এই সংগঠনটি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ‘ইসকন’ কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপন কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।”

    দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী, সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ, হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলার যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্রবিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধে নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধে নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানি কর্তৃক সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিষিদ্ধকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা নিয়ে তার তথ্য আগামী ১৫ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিটি সব আঞ্চলিক পরিচালক ও কারিগরির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৫(৩)-এর বিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য আগামী ১৫ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য সফটকপি (নিকশ ফন্টে) এবং হার্ডকপি (পিডিএফ আকারে) [dte.ad2@gmail.com](mailto:dte.ad2@gmail.com) ই-মেইলে পাঠাতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের চিঠি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চিঠি সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বি. এ

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ৪ হাজার নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

    বি. এ

  • পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন অর্থবছরে অনগ্রসর এলাকায় ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে সরকার। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ অর্থবছরে ১০টি প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবনা বাজেটে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজারটি নতুন ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

  • শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইবতেদাায় মাদরাসার এমপিও নীতিমালা আলাদা করে করা হবে। কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খুব শিগরিই নীতিমালা করে ফেলা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানায়, মাদরাসার এমপিও নীতিমালা দ্রুত করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ইতোমধ্যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে নীতিমালা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। পরে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বি. এ

  • মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে  ‘অ্যালগরিদম’

    মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে ‘অ্যালগরিদম’

    আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

    শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

    কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

    ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

    কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

    আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

    তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

    অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

    গাণিতিক রেসিপি

    জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

    এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

    মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

    সূত্র:সূত্র: এনপিআর

    বি.এ

  • সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে গ্যাস চুরির দায়ে এক চুনা কারখানার মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে সোনারগাঁও পৌরসভার ইছাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটির মালিক মেসার্স প্রান্ত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: আবু বক্কর (২৬) কে আটক করা হয়।

    তদন্তে জানা যায়, তিনি অনুমোদনহীন সংযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির শামিল। এ অপরাধে তাকে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় ওই এলাকার কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

  • গফরগাঁওয়ে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, ৫ জনকে জরিমানা

    গফরগাঁওয়ে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, ৫ জনকে জরিমানা

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন জায়গায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (সংশোধিত) এর আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর, গফরগাঁও বাস্তবায়নে এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনির নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

    অভিযানে গফরগাঁও থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ১৭৫০ মিটার ৩৫টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এসময়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়।

    এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘মৎস্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলেদের এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকার এক দিন পর শূন্যরেখায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে পরিবারের পক্ষ ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের কাছে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে হস্তান্তর করে বিজিবি ও থানা পুলিশ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেনসহ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিবারের সদস্যরা।

    এর আগে, একইদিন সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয়া হয় ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

    ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ভাই ভবানী বর্মন বলেন, দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চান্দলাই গ্রাম থেকে আমার ভাই ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৮) নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, বুধবার (১০ জুন) সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছ দিয়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে জোর করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ সদস্যরা। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর বাধার কারণে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরে বৃহস্পতিবার তাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধারের পর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

  • শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    বচাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে এক বিরল পুনর্মিলনের ঘটনা। যা স্থানীয়ভাবে এখন আলোচিত প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়, পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।

    পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। পালক পরিবারে তিনি স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন, তবে প্রকৃত পরিচয় অজানাই থেকে যায়।

    বহু বছর পর পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সঙ্কটের প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সেই অনুসন্ধান। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র। নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

    প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস ও এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

    কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশবের স্মৃতির সাথে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে বাড়ির পুরানো গেট, খালপথ, আমগাছ ও লবণ তোলা ঘাট নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একইসাথে জানা যায়, এক সময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সাথে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন তার নিজ পরিবারে ফিরে আত্মীয়দের সাথে আবার যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার ও স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনি এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।

  • পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক  হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম (কোল্ডস্টোরেজ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন-পরবর্তী অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নাকি প্রকল্প ছাড়াই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অধীনে না গিয়ে সরাসরি বাজেট বরাদ্দ বা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই কোল্ডস্টোরেজগুলো স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ওই বৈঠকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ আবদুর রহিমকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ডিএইর মহাপরিচালক আবদুর রহিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকল্প ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ঘর তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি দপ্তরের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করব। তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সংরক্ষণাগার বা গুদামের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে পচনশীল সব উৎপাদিত পণ্য দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণের মেশিন কেনার প্রস্তুতিও চলছে।কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি সংরক্ষণ অবকাঠামো। বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে দাম কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

    ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। এর বিপরীতে বিদ্যমান হিমাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ লাখ টন। সরকারি হিসাবে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মোট উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলুই নয়, পেঁয়াজ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

    খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি মেটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগ্রহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬টি জেলায় ৪৫০টি ‘অহিমায়িত মডেল ঘর’ তৈরি করা হয়। সরকারি খরচে একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। গত অর্থবছর শুধু রংপুর জেলাতেই ৭৫টি অহিমায়িত মডেল ঘরের মধ্যে ৪৫টিতে আলু সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই অহিমায়িত মডেল ঘরগুলো চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন গুদাম ঘর ও চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন দ্রুত স্থাপন করা সম্ভব হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে।

    এ এম

  • চৌদ্দগ্রামে সিএনজিচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    চৌদ্দগ্রামে সিএনজিচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো: হৃদয় (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে হৃদয়কে বুধবার (১০ জুন) রাতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    নিহত হৃদয় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মরহুম হেদায়েত উল্লাহ প্রকাশ হেদুর ছোট ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন— চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৯)। জসিম স্থানীয় মাদক ও চোরা কারবারিদের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের ভাই মো: ফারুক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মো: নয়ন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেলের দোকানে যায়। এ সময় ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

    এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক ঝামেলাটি মিটিয়ে দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজিচালক মো: হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।

    একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের চিহ্নিত মাদককারবারি ও বখাটে রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি, লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।

    তখন সিএনজিচালক মো: হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় মো: রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে হৃদয়ের বুকের ডান পাশের পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করেন। এতে হৃদয় চিৎকার দিয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।

    উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সাথে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

    চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। মূল হত্যাকারী রাজিবসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট রিয়া নামের ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হৃদয়ের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

  • চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

    চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

    চৌগাছা সংবাদদাতা

    যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় জুয়েল রানা (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওদুদ খন্দকারের ছেলে।

    থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জুয়েল রানা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতবিরোধ নিয়ে জুয়েল রানার সাথে একই গ্রামের নজরুল ইসলাম মেম্বার, ইউসুফ আলী, কাশেম আলী ও বাবু রহমানদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে জুয়েল রানা চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের মুক্তদাহ মোড় নামক স্থানে একটি চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলাপ করছিলেন।

    এ সময় রানা তার প্রতিপক্ষদের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় জুয়েল রানার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে মারাত্মক আহত হন তিনি। ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের হাত থেকে স্বামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্ত্রী মায়া খাতুনও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে স্ত্রী মায়া খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে সেখানে জুয়েল রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর রেফার্ড করেন ডাক্তাররা। যশোর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎস জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদরে জন্য দু’জনকে আনা হয়েছে। আসামিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

  • গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় ফেরদাউস মিয়া (৬০) নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার কমপক্ষে আট যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঠের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরদাউস মিয়া উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে গাইবান্ধা শহর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পলাশবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মাঠের বাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন ট্রাভেল নামের একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীরা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটোরিকশাচালক ফেরদাউসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’

  • আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল হান্নান শাহ (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল হান্নান শাহ ওই এলাকার আব্দুল গফ্ফার শাহ’র ছেলে। তিনি আনোয়ারা সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন হান্নান। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি সুপারি গাছ কাটতে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে গাছটির পাশের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ফুফাত ভাই মো: ইমরান হোসাইন জানান, হান্নান তার চাচাত ভাইয়ের দোকানে থাকতেন। পরীক্ষা উপলক্ষে কয়েকদিনের জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা না থাকায় সকালে সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

    আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • রামগড়ে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯

    রামগড়ে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯

    খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৃথক অভিযানে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দয়েরের পর গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) সকালে গ্রেফতার আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর গর্জনতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে আলা উদ্দিন (২৯), আবুল কাশেম (২৪) ও মিঠুন নন্দিকে (২৫) আটক করে পুলিশ।

    পরে, রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাদক সেবনকালে রামগড় পৌরসভার মাস্টার পাড়া এলাকার গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের ছাদ থেকে নুর মোহাম্মদ (৩২), চন্দন দেবনাথ (৩২), কৃষ্ণ চন্দ্র নাথ (৩৪), আকাশ দেবনাথ (২৭), মুন্না চন্দ্র নাথ (২৮) ও ছোটন বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করা হয়।

    রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দয়ের করা হয়েছে। পরে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সিংড়ায় বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন, ছেলে ও নাতি গ্রেফতার

    সিংড়ায় বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন, ছেলে ও নাতি গ্রেফতার

    নাটোরের সিংড়ায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর মারিয়া বেগম শরিফা (৭৫) নামে বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের সহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম। এ মামলায় নিহতের মেজ ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও নাতি আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক এসব তথ্য জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    নিহত বৃদ্ধা শরিফা উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মরহুম মোজাহার আলির স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের একটি গর্ত করা নিয়ে নিহত বৃদ্ধার বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে মেজ ছেলে জনাব আলির কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় মা মারিয়া বেগম শরিফা বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নেন। এতে মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয় মেজ ছেলে জনাব আলি। এ ক্ষোভ থেকে ২৫ মে রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার মাকে গলা টিপে হত্যা করে টয়লেটের সেই গর্তেই মায়ের লাশ ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেয়।

    হত্যার ১০ দিন পর ৪ জুন লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গভীর রাতে গর্ত থেকে মায়ের লাশ তুলে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় ফেলে দেয়। লাশ গুমের এ কাজে জনাব আলিকে সহযোগিতা করেন তার ছেলে আল আমিন।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ওই বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের চার ছেলে ও স্বজনদের থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেফতার দুই আসামি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে।

    সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত বৃদ্ধা মেজ ছেলে জনাব আলি ও নাতি আল আমিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলামে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরোৎসাহিত করে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

    এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

    এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়। কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

    قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ

    ‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

    عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ، وَرَأَى رَجُلًا آخَرَ وَعَلْيِهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ

    জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৬২)

    এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলাম এমন জীবনব্যবস্থা চায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

    বর্তমান সমাজে এই বিষয়ে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। একদল মনে করে, দ্বীনদার হতে হলে মলিন ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যদিকে আরেকদল সৌন্দর্যের নামে অপচয়, ব্র্যান্ড-আসক্তি, বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুই চরমতার মাঝখানে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। ইসলাম চায় না মানুষ নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে নিজেকে অভাবী সাজাক। আবার এটাও চায় না, সে অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠুক।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

    لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

    ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’

    সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষ তো সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে। তখন তিনি বললেন,

    إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু তাহরীমিল কিবর ওয়া বায়ানিহি, হাদিস : ৯১)

    এই হাদিস ইসলামের সৌন্দর্যবোধের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুন্দর পোশাক বা ভালো জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়। অহংকার হলো মানুষের প্রতি ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

    আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ভোগবিলাসকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ধর্মীয় ভাবমূর্তির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাভাবিক জীবনযাপনকে তাকওয়া মনে করেন। এই দুই প্রবণতাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার বিপরীত।

    ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে; অহংকারে লিপ্ত না হয়। অর্থাৎ নিয়ামত ব্যবহার করা হবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, প্রদর্শন ও আত্মগরিমার জন্য নয়।

    আসলে আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারও এক ধরনের শোকর। একজন মানুষ যখন হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও শালীন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আল্লাহর একটি বিধানই বাস্তবায়ন করে। কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি; বরং আত্মমর্যাদাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকে উৎসাহিত করেছে।

    ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলিমের পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, রুচি, ব্যবহার ও জীবনযাপনেও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। এমন সৌন্দর্য, যা বিনয় শেখায়; এমন পরিচ্ছন্নতা, যা হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতিফলন; এমন জীবনযাপন, যা মানুষকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রকাশ তখনই ইবাদত হয়ে ওঠে, যখন তা কৃতজ্ঞতা, শালীনতা ও বিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তাই অপচয় নয়, কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যই হোক একজন মুমিনের পরিচয়।

    এ এম