ছবি

  • বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চালক আব্দুল মান্নানকে (৪৫) হত্যা করে তার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মান্নান জেলার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।

    নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (২৮ জুন) সকালে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া স্ট্যান্ড থেকে সারিয়াকান্দি রুটে সিএনজি চালাতেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মীরা তাকে সর্বশেষ চেলোপাড়া স্ট্যান্ডে দেখেন। এরপর তিনি আর বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন।

    একপর্যায়ে সারিয়াকান্দির কৈ-খালি বিল এলাকায় স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মান্নানের বলে শনাক্ত করেন।

    সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর শ্বাসরোধে চালক মান্নানকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মোবাইলফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৩৬ দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’।

    সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরিফ ওসমান হাদিসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারো বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় :

    — গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন।

    — রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ।

    — রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    — ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।

    — সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    — সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    — জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন।

    — নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

    — ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন।

    — শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন।

    — শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়।

    — জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।

    — ‘Echoes of July’ (জুলাইয়ের প্রতিধ্বনী) শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

    পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওই কর্মকর্তার নাম রোজী আক্তার।

    রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতা অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রোজী আকতার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ, বিনা অনুমতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করা, সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গাড়িচালক না থাকার অজুহাতে বাসভবনে বসে দাফতরিক কার্য সম্পাদন করা, প্রকল্পের ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(ক), ৩(খ), ও ৩(ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

    অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের ৫৯৫ নং প্রজ্ঞাপনমূলে তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ৩১৮ নং প্রজ্ঞাপনমূলে আরোপিত তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড বাতিল করা হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর সচিবালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

  • শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, সানজিদা আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঢাকা ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সদস্য পদ লাভ করেন। পরে তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মহিলা লীগের নেত্রী সানজিদা আক্তারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি

    চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি

    অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে ভোলার চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। ফসলি জমি ভরাট করে বসত ঘর সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগজনকভাবে ফসলের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। তবে মেঘনার নদীর ক্রমাগত ভাঙনেও কমে যাচ্ছে এসব কৃষি জমি। এমনটাই দাবি করছেন স্থানান্তরিত বাসিন্দারা।

    স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ফসলি জমির আশে পাশে বাড়ি ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ইটভাটা এসবের কারনে জমির পরিমাণ ও ফসলের চাষাবাদ কমে যাচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমি ভরাট হওয়ায় আউশ, আমন, ইরি, বোরো ও রবিশস্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

    চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চরফ্যাসন উপজেলায় ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। প্রতি বছর এসব জমির মধ্যে শতকরা ১ শতাংশ কৃষি জমি অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে কমে যায়। আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে।

    মেঘনা নদীরপাড়ের বসত পাল্টানো বাসিন্দা বশির চকিদার (৬৫)। পাঁচ বারের ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে নতুন বাড়ি করেছেন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের কাশেমগঞ্জ এলাকায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাক্ষী হয়েছেন অনেক দৃশ্যপটের। মেঘনা নদী ভাঙনের শত স্মৃতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘খড়-কুটোর ঘর, গবাদি পশু, চাষের জমি, এমনকি পরিবার ও জীবনসহ সব কিছুই বিপদের মুখে রেখে বসবাস করতে হয় নদীর তীরের মানুষদের। ঝড়-বন্যা আর ভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এমনিতেই গরিব, তার ওপর আবার বসতভিটা, চাষের জমি, থাকার ঘরও খোয়া গেছে ভাঙনে। তাই ভাঙনে ধরা গ্রামের মানুষগুলোর বারবার বসত পাল্টাতে হয়। এজন্য এখানে ৮ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করেছি।’

    একই এলাকার শাহেআলম মাঝি,বয়স ৫৭ ছুঁয়েছে। ৬ সদস্যের সংসার চালাতে হয় অন্যের নৌকায় মাছ ধরে। বেশ বড় বাড়ি ছিল এক সময়, ছিলো নিজের কৃষি জমি আবাদ করেই সংসার চলতো। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে এখন ৪ শতাংশ জমিতে টিন দিয়ে চারচালা ঘরে মাথা গোজাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানান ‘চরফ্যাসন উপজেলায় মানুষের আয়ের উৎসের সিংহভাগ হলো কৃষি। ফসল উৎপাদন কমে যাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়া। কয়েক বছর আগেও কৃষিজমির পরিমাণ যা ছিল আবাসিক চাহিদা ও নদী ভাঙ্গনে অনেকটা কমে গেছে। অপরিকল্পিত বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, পুকুর খননসহ নানা রকম স্থাপনা যত্রতত্র গড়ে উঠছে। এতে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ফলে কয়েক বৎসর পর কৃষি উৎপাদন মারাত্মকহারে হ্রাস পাবে। তাই তারা মনে করে জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবার আগে জাতীয় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও নীতিমালা জরুরী।’

    চরফ্যাসন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে একই আবাদি জমিতে বহুমুখী শস্যের চাষ হওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলায় খাদ্যে ঘাটতি নেই। তবে যেভাবে আবাদি জমির সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাতে একসময় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ উপজেলার ২ লক্ষ ৬০ হাজার কৃষক রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা তাদের পেশা বদলে ফেলছে। আসলে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ার কারনে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট ও স্থাপনা রোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজন।’

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘কৃষিজমি রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) আইন-২০২২, কার্যকর হলে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

    এ এম

  • আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে ভুগছে দেশটির সরকার। এই উদ্বেগ থেকেই আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এ রাষ্ট্রটি।

    এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ। ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ।

    বোদস্কভ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ ডেনমার্কের জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিমরা ডেনমার্কের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

    ড্যানিশ এই মন্ত্রী সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেন, ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়।

    এমন এক সময়ে অভিবাসনমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন, যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে অভিবাসন নীতি ব্যাপকভাবে কঠোর করছে ডেনমার্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি সবচেয়ে কঠোর।

    এদিকে, আজান নিষিদ্ধের এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের সরকারের সামনে কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ দেশটির সংবিধানে জনগণের মুক্তভাবে ধর্মচর্চার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

    তবে, সেই চ্যালেঞ্জ খুব শক্তিশালী হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজান ও হিজাব পরিধানের মতো ইসলামিক প্রথাগুলোকে কঠিন নজরে দেখা হচ্ছে।

    চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্কের সরকার।

    রিৎজাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনও সুযোগ নেই। ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছেন, তাহলে খুব সমস্যা।

    এ এম

  • মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    গতকাল শনিবার রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের ৫/৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম টাকা ধার করে ৪ বিঘা জমিতে লাউ ও কুমড়োর চাষ করেছিলেন। দিনকয়েক হলো মাচায় মাচায় শত শত কচি লাউ ও কুমড়ো ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।

    রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ক্ষেতে লাউ তুলতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান আসাদুল। তিনি দেখেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল গড়িয়ে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাচার সবুজ পাতা ও ডগাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে। চোখের সামনে সযত্নে গড়া স্বপ্নের এমন নির্মম মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কৃষক।

    বিষয়টি জানতে পেরে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া মাঠে লাউ ও কুমড়ো গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি আমরা জেনেছি।

    খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। তাকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তীতে সরকারি কোনো প্রণোদনা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের ফসল শত্রুতাবশত নষ্ট করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে

    সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে

    আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ না করতে চাইলে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ ও জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করা, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করারও দাবি জানান তিনি।

    রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই যুদ্ধ করতে না চাইলে অবশ্যই সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে। অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি আছে, ব্যাংক আছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এতে প্রমাণিত হয় সুদমুক্ত ব্যাংক চলে।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, সুদ চললে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়। সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, তা জাহান্নামে পুড়বে। জাকাত ঠিকমতো আদায় করা গেলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে। আমাদের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু জাকাত যারা বোঝে না, চুরি করে তাদের হাতে জাকাত দিলে হবে না। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।

    তিনি বলেন, কালোটাকা সাদা করা যাবে না। এটা চালু থাকলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়িয়েছেন, এর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন কমাতে বললেন জানি না।

    মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। ফসলের ওশর আছে। অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় ও আলেমদের নেতৃত্বে তা পরিচালনা করার দাবি জানান তিনি। কওমি মাদ্রাসার প্রতি বাজেট থাকা দরকার বলেও জানান তিনি।

    প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা ও ৩৪৬টি ধারায় বক্তব্য রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। আল্লাহ বাজেটের মালিক। তিনি বলেছেন, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। কিন্তু এই বাজেট বক্তৃতায় অপচয়ের কথা অর্থমন্ত্রী বলেছেন বলে জানি না। জাকাতের কথা বলেননি।

    ঋণের কুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ করে মরতে হবে। কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা যাবে না। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ রেখে মরা যাবে না। ঋণ করা মানে ফকিরের হাত। ঋণ করে ঘি খাওয়া যাবে না। এই ঋণ করে দেশ চালানো যাবে না। জাতি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করি।

    মসজিদে রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মসজিদে নববীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে কেন করা যাবে না?

    প্রধানমন্ত্রী প্রাইমারির বাচ্চাদের জুতা-পোশাক দেবেন, তাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আছে কি না, তাদেরও জুতা-জামা দেওয়ার দাবি রাখছি।

    তিনি বলেন, শিক্ষকেরা সম্মান করার জিনিস। শিক্ষকেরা সম্মানের হয়ে থাকলে তারা যখন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়-দায়িত্ব আছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া উচিত। যেগুলো যোগ্য তাদের এমপিও চালু, যেগুলোর ঘাটতি আছে তাদের শর্ত সাপেক্ষে চালু এবং বাকিগুলো যাচাই-বাছাই করে তিন কিস্তিতে এমপিওভুক্ত করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে।

    শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক দিতে হবে। কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের হাতে কাজ দিন, কার্ড নয়। তা না হলে তাদের ভিক্ষার হাতই থাকবে। রাসুল (সা.) কাজে উৎসাহিত করেছেন। কাজ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

    মুজিবুর রহমান বলেন, মহিলা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত যে, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সসহ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সব এমপির সম্মান রক্ষার্থে গঠনমূলক উন্নয়নকাজ যেন হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা সরাসরি নেতাদের স্মরণ করেছেন, দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।

    এ এম

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

    পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

    সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।

    স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

    এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

    তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ফেনী-পরশুরাম সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মুরগিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন।

    শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— উপজেলার পাঠানগড়ের কাজী আজাদের স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০) ও ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সিএনজিচালক মোহাম্মদ কাউসার (২৫)।

    ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। তবে পথে সিএনজিচালক কাউসার ও যাত্রী জুহা মারা যান। আহত অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

    শনিবার (২৭ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।

    একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রক্তাক্ত লাশের ছবি সংবলিত বিকৃত ছবি দিয়ে সয়লাব করতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ অনেকে। অনেকের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।

  • নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পার্কিং থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের পাশাপাশি আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া গাড়িসহ মোট দু’টি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

    পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) নতুন জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা মোহাম্মদ আরিফের ব্যবহৃত ২০০৬ মডেলের টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার চুরি হয়। পরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মামলার তদন্তে এসআই মো: রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে।

    গ্রেফতাররা হলেন— মুক্তার হোসেন (৪৮), মো: মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) ও আলাউদ্দিন (৩৬)। এর মধ্যে মুক্তারকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ফতুল্লার দেলপাড়া চিতাশাল এলাকা থেকে এবং অপর দু’জনকে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলাসহ আরো একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখার ২০২৬ সেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহ।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে মহানগর শিবির কার্যালয় মিলনায়তনে কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সদস্য সমাবেশে এ নির্বাচন ও মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আবদুল মোহাইমেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

    শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত নাজমুল হাসানকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি শাখা সেক্রেটারি হিসেবে ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহকে মনোনীত করেন।

    পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সদস্য সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফেনীর ফুলগাজীতে ঘরের চালের টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৬ ‍জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর নাম কাজল আক্তার (২৬)। তিনি দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা আধাপাকা ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রবাসীর স্ত্রী কাজল আক্তারের হাত-পা বেঁধে মাথায় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় ঘরে তার তিন সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।

    নিহতের ভাসুর মাস্টার ইসমাঈল ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে গোঙ্গানির শব্দ শুনে চিৎকার করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

    ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মিজানুর রহমান জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব- মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার শুধু এই কথাটিই বলছেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তার পৃথিবী। যে ঘরে ছিল মায়ের স্নেহ, তিন বোনের হাসি আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ঘরে এখন একা।

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় ঘরে ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন প্রধান সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার (২৫)। একদিনে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো রায়পুরকে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের (৩৮) স্বামী কামাল ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তারপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, সায়মা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার।

    ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসে একসঙ্গে মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিফাত।

    শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রায়পুরে তাদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মরদেহ নেওয়ার কথা তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

    অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বজনের খবর দেওয়া হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি।

    ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে বলছেন, একই সময়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা, একজনের পক্ষে একই সঙ্গে চারজনকে হত্যা করা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্তে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ তদন্ত দলও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।

    নিহতদের স্বজন রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

  • মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মাগুরায় মানববন্ধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১ টায় ‘অধিকার’-এর মাগুরা জেলা সমন্বয়ক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মো: হোসাইন, জুলাই যোদ্ধা সবুজ হোসেন শাওন, সাংবাদিক শাহীন আলম তুহিন, খায়রুজ্জামান সবুজ, পলাশ মাহমুদ প্রমুখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ধরনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মানববন্ধন শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শহরে একটি শান্তিপূর্ণ র‍্যালি বের হয়।

  • রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

    অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত মুরাদ পারভেজের ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

    হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাকিব ও তামিম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হামলায় তাদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কর্মী আশিকের সঙ্গে তার ভাই রাসেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    গ্রেপ্তার শ্রাবণের তথ্যে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীতে মাদক চোরাকারবারীদের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের শরীর থেকে গুলি এখনও বের করা যায়নি। মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে মাদক চোরাকারবারীদের হামলা ও গুলির ঘটনায় ব্যবহার করা ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

    তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে কাটাবিল এলাকার শ্রাবণকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্য অনুসারে একটি বাড়ির পরিত্যক্ত স্থান থেকে ওই পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এই পিস্তলটি গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

    এর আগে হামলা ও গুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ইথান আহমেদ প্রেম (১২) এর বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় হামলায় জড়িত মাদক কারবারী সাব্বির ও অপুসহ ৬ জনের নামে এবং ৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শ্রাবণ নামের একজনকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার শ্রাবণের নাম না থাকলেও ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    এদিকে ঢামেকে ভর্তি গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র প্রেমের গুলি এখনও বের করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা ইউনুস মিয়া। তিনি আজ বিকাল ৫টার দিকে মুঠোফোনে সমকালকে বলেন, কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় সন্ধ্যায় ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা হয়নি। গুলির ক্ষত স্থান থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। আজ বিকেলের দিকে বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছে। জানি না কখন গুলি বের করা হবে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, মাদক বাড়ছে, মাদকসেবী ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে প্রতিরোধ কোথায়? এ সময় তিনি ডিসি এসপির উদ্দেশ্য বলেন, কুমিল্লায় মাদক নির্মূল করতে না পারলে আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব। আমি সরকারে থেকে তা না পারলে পদত্যাগ করবো।

    এর আগে আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় গুলির এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক বেচাকেনা নিয়ে কাঁটাবিল এলাকায় বুধবার রাত থেকে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করা হয়। পরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলি চালালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলার সময় ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ প্রেম কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে প্রেম বাসায় যাচ্ছিল। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডের কর্মচারী।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

    বাংলাদেশ সংবাদ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।

  • মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যালীটি মিরসরাই পৌর সদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির নুরুল কবিরসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    আয়োজক উপজেলা যুব বিভাগ জানায়, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় যুবকরা মাদকবিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা।

    র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা আজ সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের টাকার জন্য পরিবারে সঙ্ঘাত, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সরকার যদি মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের সচেতন যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

  • খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের সাথে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ) সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফের উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমাকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে গুইমারার দুর্গম হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনং পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ঝিমিত চাকমাকে উদ্ধারের পর মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাইনং পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষ পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা ঝিমিত চাকমাকে আটক করা হয়।

    গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঝিমিত চাকমা ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের সংগঠক। তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

    এদিকে, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ঝিমিত চাকমাকে সংগঠনটির গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটির জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কফিল উদ্দিন (৫৫) নামে একজন চালব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কফিল উদ্দিন উপজেলার বামডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন দুপুরে তার মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাদুল্লাপুর যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী নলডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছলে একাই মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ নিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সাথে কথা হলে তিনি জানা,ন সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনেছি, মোটরসাইকেল চালক একাই পড়ে আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

  • কুমিল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, আহত ৫

    কুমিল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, আহত ৫

    কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ইথান আহমেদ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    রাতের ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনের পর দুপুরে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ করা হলে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    ইথানের মা সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের বিরতিতে টিফিন খেতে বের হয়েছিল। এ সময় তার পিঠে গুলি লাগে। কুমিল্লা মেডিক্যালে রাখেনি, তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    সংবাদ সংগ্রহ

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুতায়িত হয়ে জুবায়ের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত জুবায়ের আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ফলপ্রার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে বাড়ির গ্রিল বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘নিথর অবস্থায় ওই কিশোরকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল।’

    অপর ঘটনায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২টার দিকে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। এ সময় মা‌ঠে কাজ কর‌ছি‌লেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • বোয়ালমারীতে চাষ হচ্ছে আলুবোখারা

    বোয়ালমারীতে চাষ হচ্ছে আলুবোখারা

    ডেক্স নি্িুজ: বুধবার (২১ জুন) বিকেলে লোকনাথ গ্রামে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়িতে গিয়ে ৭টি আলুবোখারার গাছ দেখা যায়।

    উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লা বলেন, “তিন বছর আগে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার চারা পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে এনজিওর দেওয়া ২৫টি আলুবোখারার গাছ রোপণ করেন।”

    তিনি বলেন, “গাছ লাগানোর এক বছর পর না বুঝে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলেন। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে।”

    হাবিবুর মোল্লা আরও বলেন, “লাগানোর দুই বছর পর থেকে মসলা জাতীয় আলুবোখারার গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে তিনি বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। ফল সংরক্ষণ করে বিক্রি করা গেলে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা সম্ভব।”

    জানা যায়, আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসে। জুন মাসে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ থাকে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উজ্জ্বল খয়েরি রং ধারণ করে। পরে লাল রং হয়ে যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে ফল কুচকুচে কালো বা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে, যা দেখতে অনেকটা কালোজামের মতো এবং নরম ও রসালো।তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত আলুবোখারা পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ভক্ষ্য অংশ। ফলের ভেতরের আঁটি খুবই ছোট।

    বাগান দেখতে আসা আকাশ সাহা বলেন, “আমাদের এলাকায় মসলা জাতীয় ফল আলুবোখারা নেই বললেই চলে। এটি বিরিয়ানির সঙ্গে খেয়েছি, কিন্তু কোনো দিন গাছ দেখিনি। লোকনাথ গ্রামে হাবিবুর ভাইয়ের বাড়িতে আলুবোখারার গাছ আছে শুনে দেখতে এসেছি। নিজ হাতে পেড়ে খেয়েছি এবং আচারের জন্য ৩০০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি কিনে নিয়েছি।”

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “আলুবোখারা মসলা হিসেবে পোলাও, বিরিয়ানি, আচার ও চাটনি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আলুবোখারার পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এছাড়া বিভিন্ন অভিজাত ও সুস্বাদু খাবার তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।”

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, “আলুবোখারা একটি মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বোয়ালমারী পৌরসভার কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়িতেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন সময় আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

    এ এম

  • সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ট্রলিচালকের নাম আমিনুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়-সংলগ্ন দীঘলডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত ট্রলির হেলপার সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত সাজু রহমান জানান, ট্রেন আসার কোনো শব্দ তারা পাননি এবং ইঞ্জিন থেকেও কোনো হুইসল বা হর্ন দেয়া হয়নি। এছাড়া রেললাইনের পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ায় তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে যান। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম দাবি করেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল ট্রেনের হুইসিল না দেয়া এবং রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ির কারণে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়া। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মোটরসাইকেলে রেললাইন পার হন। পরে ট্রলি চালককে হাতের ইশারায় সতর্ক করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

    সংঘর্ষের ফলে ট্রলির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ট্রলির দুটি চাকা ছিটকে পড়ে এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হেলপারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রলির কিছু অংশ ট্রেনের চাকার সাথে আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এদিকে ইটবোঝাই ট্রলির বডি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেট স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দৃশ্যমানতার অভাবের কারণে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রলির মালিকের সাথে যোগাযোগের পর নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসাথে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যাকার খেলা দেখার সময় সঙ্ঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হলো।

    অফিস আদেশ অনুযায়ী, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: আসাদুজ্জামানকে জাবির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

    এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

    উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

  • পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

    পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

    পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

    শৈশব ও শিক্ষাজীবন

    ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

    কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

    বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

    তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

    ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    এ এম

  • দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    বৃহস্পতিবার ২৫ জুন এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া বউবাজারের দুলালের দুই মেয়ে দুলালী বেগম (২২), তার ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরভী খাতুন (১৪) ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম (১৯)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলালী বেগম, তার ছোট বোন সুরভী খাতুন ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম বাড়ির পাশে মরা কাল নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় আকস্মিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায় তারা।

    পরে ঘণ্টাখানেক পরও তাদের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন নদীর ধারে গিয়ে দেখতে পায়, তাদের জামা-কাপড় নদীর ধারে পড়ে আছে অথচ তারা তিনজন নিখোঁজ। এ সময় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একটি মুঠ জাল (ঝাকি জাল) নদীতে ফেললে ওই তিন নারীর লাশ জালে উঠে আসে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, মরা কাল নদীর বউবাজার ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী-পুরুষ গোসল করে আসছে। কিন্তু চলতি বছর আকস্মিকভাবে নদীর তলদেশ গভীর হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে

  • মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে জীর্ণ ও পুরোনো পবিত্র কোরআনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং সম্মানজনকভাবে দাফনের জন্য পরিবেশবান্ধব বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য বোর্নিও পোস্ট জানায়, সম্প্রতি রাজ্যটির কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮০২ কিলোগ্রাম কোরআনের ছাই ২১২টি বিশেষ ‘একিউ-০১’ জৈব-বিয়োজ্য কাগজের ব্যাগে ভরে কুচিং উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ চীন সাগরের নির্ধারিত স্থানে নিক্ষেপ করেন।

    সারাওয়াকের বিভিন্ন জীর্ণ কোরআন নিষ্পত্তি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করে এসব ছাই প্রক্রিয়াজাত করার পর এই বিশেষ ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগের ওজন প্রায় সাড়ে আট কিলোগ্রাম এবং পানিতে ফেলার পর চার মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডুবে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিলীন হয়ে যায়।

    সারাওয়াক ইসলামিক ধর্মীয় দপ্তরের (জেইস) কোরআন ইউনিটের প্রধান আব্দুল রহিম রশিদ জানান, জাতীয় ফতোয়া কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করে ইসলামী বিধান অনুসরণ করেই এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “সারাওয়াকের এই পদ্ধতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি ধর্মীয় ও পরিবেশগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    দক্ষিণ সারাওয়াকে এ ধরনের এটিই প্রথম বৃহৎ কর্মসূচি। এতে সারাওয়াক মুফতি দপ্তর, উপকূলীয় প্রহরী বাহিনী, নৌ-পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, নদী বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ এম

  • সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের সালথায় একটি সড়কের উপর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমারকান্দা এলাকার একটি সড়কের উপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    সংবাদ বিশ্লেষণ

    নিহত পান্নু ফকির কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে জামু ফকির একটি জমিজমা সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা লাশটি সড়কের উপর ফেলে রেখে যায়।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    ৩৫০ কোটি টাকার বালু গায়েব

    ডেক্স নিউজ :কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ বালু অপসারণের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার বালুর কোনো হদিস নেই। সরকারি হিসাবে এ বালুর দাম ৩৫০ কোটি টাকা। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হলে বালুর দাম হতো দ্বিগুণ।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে এসব বালু লুট করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমল থেকে একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সব দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেও বালু লুট ঠেকানো যায়নি।

    সূত্রে জানা যায়, চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষ করা হয়। এ সময় নদীর তলদেশ থেকে ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করে ১০টি মৌজায় সংরক্ষণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু। বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষিত আছে মাত্র ৬০ লাখ ঘনমিটার। বাকি ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে গড়াই খননের সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথি সংরক্ষিত আছে। সর্বশেষ ধাপের নথি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু লুটের তথ্য। কিন্তু আগের তিন ধাপে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই খননের কোনো তথ্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংরক্ষিত নেই। আবার খোদ কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তিন ধাপের খননের কোনো বালু বিক্রি করা হয়নি। তাহলে এত বালু কোথায় গেল-এমন প্রশ্ন করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, ‘বালু বাতাসে উড়ে গেছে।’ গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অপসারণ করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনমিটার বালু ওই দুই মৌজায় সংরক্ষণ করে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    ৫ জানুয়ারি জেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন কমিটির সভায় সংরক্ষিত ওই বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি পায় মেসার্স শান্তা অ্যাসোসিয়েট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টেন্ডারের কয়েকদিন পরই শান্তা অ্যাসোসিয়েটের প্রোপ্রাইটর শান্তা ইসলাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে লিখিত চিঠি দিয়ে জানান, ওই দুই মৌজায় খনন প্রকল্পের কোনো বালুই নেই। স্থানীয়রা বলছেন, এক বছর ধরে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে এসব বালু পাচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের বালু লুটে এখানে সবাই মিলেমিশে একাকার। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের শাসনামলে শুরু হয় বালু লুটের মহোৎসব। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। এখানে আ.লীগ-বিএনপি, এনসিপি-সবাই বালু লুটে তারা এখন ‘এক গোয়ালের গরু’। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গড়াই নদীর নাব্য ফেরাতে প্রায় ২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৯৭ সাল থেকে চার ধাপে কুষ্টিয়ার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে গড়াই নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করা হয়।

    সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়। সে হিসাবে চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খননে নদীর তলদেশ থেকে ১৬ কোটি ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে ৬ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার বালুর হিসাব মিলেছে। এর মধ্যে খননের ৪০ কিলোমিটারে তীরবর্তী নিচু স্থান ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ঘনমিটার বালু। অপরদিকে পদ্মা-গড়াই মোহনায় বাংলো নির্মাণ ও বনায়নে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ এক কোটি ঘনমিটার বালু। আর বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষণ রয়েছে আনুমানিক ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ১৭ লাখ ঘনমিটার। বালুখেকো আওয়ামী লীগের কয়েকটি গ্রুপ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব বালু লুট করেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে এক যুগ ধরে বড় বড় ডাম্প ট্রাকে বালু পাচার করা হয়। সেসময় গড়াই খননের বালু লুটের সংবাদ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কৌশল পরিবর্তন করে বালুখেকোরা। এরপর জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর বালুমহালের ইজারার কাগজ নিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে খননের বালু লুট। এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নদীর বালু উত্তোলনের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে পাচার হয়েছে খননের বালু। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মৌজায় সংরক্ষিত লাখ লাখ ঘনমিটার বালু চলে যায় বালুখেকোদের পেটে। এ লুটের সঙ্গেও একজোট থেকে কমিশন নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ১৭ লাখ ঘনমিটার বিক্রির অনুমতি নিয়ে প্রায় ১ কোটি ঘনমিটার বালু নিয়ে গেছেন ইজারাদারের নামে রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ স্টাইলে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে তিনটি মৌজার বালু। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া মৌজা এবং কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া ও জয়নাবাদ মৌজা। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালটে যায় বালু লুটের স্টাইল। এবার স্থানীয় প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর তীরে কয়েক মাসের জন্য খাশকালেকননের কাগজ নিয়ে গড়াই খননের বালু লুটে মাঠে নামে এনসিপি ও বিএনপি নেতারা। অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিনে-রাতে শত শত ট্রাকে বালু বিক্রি করেন দুই দলের নেতারা। অল্পদিনে এ চক্রটিও প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার বালু খেয়ে ফেলেছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প চলাকালীন আমি এখানে ছিলাম না। ২০২৫ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমি তারপর এখানে যোগদান করেছি। তখন যারা কর্মরত ছিলেন, তারা বলতে পারবেন ওই প্রকল্পের বালু কখন কোন কাজে ব্যবহার করেছেন।’

    এ এম

  • মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে মাদারীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ, ইমদাদ মাতুব্বরের সাথে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল, লাভলু মোড়লের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন নিজেদের আধিপত্য দেখাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে খরব পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্র। এসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। এ দুই জয়ে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট তুলে নকআউটে উঠেছে মেক্সিকো। তাই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ভার হয়ে খেলবে তারা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ম্যাচটি জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে দলটি।
    অপরদিকে এখনো নকআউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করে তারা। নকআউট পর্বে খেলতে হলে মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। এর আগে ২০০০ মেক্সিকো এবং চেক প্রজাতন্ত্র একটি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। এবার জয়ের ছন্দ ধরে রাখবে চেক প্রজাতন্ত্র, নাকি প্রতিশোধ নেবে মেক্সিকোÑসেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ‘ঘুষ নেওয়ার’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

    এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর ‘ঘুষ নেওয়ার’ ঘটনা তদন্ত করতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে একজন ইউপি সদস্যের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পৃথক আরেকটি দল ঘটনা তদন্তে দেবীগঞ্জে আসছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন এবং কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বদলির আদেশে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

    দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই ওই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

  • অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় যুবক আটক

    অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় যুবক আটক

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরের আঁধারমানিক সীমান্ত এলাকা থেকে পুটন মোল্ল (১৯) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে রামগড় ৪৩ বিজিবির একটি টহল দল। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাকে স্থানীয় ভুজপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভুজপুরের আঁধারমানিক সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসীর সহায়তায় আঁধারমানিক বিওপির (সীমান্ত ফাঁড়ি) একটি বিশেষ টহল দল পুটন মোল্লকে আটক করে।

    জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার বাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার সীমান্তবর্তী রামেন্দ্রনগর এলাকায়। তার বাবার নাম বাদল মোল্ল বলেও তিনি জানান। তবে সীমান্ত পেরিয়ে ঠিক কী কারণে তিনি বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কড়া নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনির হোসেন (২১) ট্রাকের হেলপার মারা গেছেন। তিনি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাটি বাহিরচর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় সংঘটিত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া অভিমুখে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লালন শাহ সেতুগামী পাটের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দশমাইল নামক স্থানে এলে তার সামনের চাকার টায়ার ফেটে যায়। ট্রাকটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুই পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার মনির হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এরপর যানজট নিরসন করি এবং হাইওয়ে থানাকে বিষয়টি অবগত করি।

    কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, সকালে পাবনা-কুষ্টিয়া হাইওয়ের ১০ মাইলে শ্যামলী পরিবহন ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রায় ২৭০ বছর আগের পলাশীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি আজও আমাদের দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পলাশী কেবল ভাগীরথী নদীর তীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমান বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বুড়িগঙ্গার তীরেও একই ধরনের চক্রান্ত সচল রয়েছে। নব্য সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের রূপ এখন বদলেছে—এখন তারা সরাসরি ভূখণ্ড দখল করে না, বরং দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতিকে পর্দার আড়াল থেকে নিজেদের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আজকের স্বাধীন বাংলাদেশেও মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমদের মতো চরিত্রের অভাব নেই, যারা বিদেশী প্রভুর সেবাদাসত্ব করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দিল্লির আধিপত্যের চরণে সমর্পণ করতে ব্যস্ত।’

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের উক্তি টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’। দেশের মানচিত্র ও পতাকা আলাদা হলেও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজ অরক্ষিত ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের ভেতরের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আদর্শিক দীনতা। ক্ষমতার লোভে এবং নব্য আধিপত্যবাদীদের খুশি করতে দেশের প্রথম সারির দলের জনপ্রতিনিধিরাও সংসদে দাঁড়িয়ে ১৯৪৭ সালের ভূখণ্ডগত সীমানা ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে দেয়ার বা অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-এর পৃথক জাতিসত্তার সীমানা সৃষ্টি না হলে ১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করা সম্ভব হতো না। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং গোলামীর মানসিকতা রুখে দিতে প্রতিটি নাগরিকের মাঝে প্রকৃত স্বাধীনতা ও স্বকীয় মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’

    বিশেষ অতিথির আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘১৭৫৭ সালের পরে প্রায় ১৫০ বছর পরে এসে মুসলমানরা একটি রাজনৈতিক সংগঠন পেয়েছে। যে সংগঠনের উপর দাঁড়িয়ে তাদের দাবি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। রাষ্ট্র, রাষ্ট্র পরিচালনা, শাসন এগুলো সামাজিক বিষয় না। এটা রাজনৈতিক বিষয়। সে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়ে আবার মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এবং যেই মুসলিম লীগের হাত ধরে আমরা দেখি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দীর্ঘ প্রায় ১৫০০ বছরে মুসলমানরা সবচাইতে ভালনারেবল টাইম পার করেছে গত ১০০ বছর। সবচাইতে কষ্টকর, বেদনাদায়ক সময় পার করেছে। উসমানী খেলাফতের পতনের পর এবং এই কঠিন সময়ের মধ্যে মুসলমানদের যদি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য থেকে থাকে, সেটি হচ্ছে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য, মুসলমানদের জন্য, যেখানে ভারতবর্ষে হিন্দু মেজরিটি, সেখানে মুসলিম লিডারশিপ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেগোসিয়েশনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছে। এটি মুসলমানদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল পুরো ১০০ বছরের মধ্যে।’

    ‘আর সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানাটা আজকে দুটি রাষ্ট্র, একটি বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তান। আমি বিশ্বাস করি, এই দুই দেশের মানুষ যদি তাদের হারানো ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং মুসলমানদের যে গ্লোরিয়াস পিরিয়ড, যে গোল্ডেন এইজ মুসলমানদের ছিল, সেগুলোকে যদি আবার ধারণ করে, তাহলে আবারো পৃথিবীর বুকে মুসলমানরা শ্রেষ্ঠত্ব অধিকার করবে এবং তাদের অবস্থান তারা নিশ্চিত করতে পারবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সুভ্যেনিরটা দেখতেছিলাম, যে সুভ্যেনিরে দেখেছি ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে কন্টিনিউ এই পলাশী দিবসের প্রোগ্রামটি করে যাচ্ছে। এই পলাশী দিবস আমাদেরকে বার্তা দেয়, আমরা আমাদের সম্পদ, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সেই গৌরব আমরা হারিয়েছি। আমাদেরকে আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে পরে এই সকল আলোচনা সভা সফল হবে এবং আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রশিবির এমন একটি জেনারেশন তৈরি করবে, যারা তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখবে এবং দেশের উন্নতি এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। এটা এমনভাবেই তার জায়গা দখল করে নেয় এবং বারবার ঘসেটি বেগম ও রায় দুর্লভদের আবির্ভাব হয়, যারা এই দেশে খেয়ে, এই দেশে বড় হয়ে, এ দেশের জনগণের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্য করে আবার এই জনগণের উপরই তাদের বিরোধী সন্ধি চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে শত শত বছরের জন্য বারবার পরাধীন করে রেখেছে।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৮-৪৯ সালের ঠিক এই দিনে (২৩ জুন) একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল—আওয়ামী লীগ। এর জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা না, এর জন্মটাই হয়েছে এই বাংলাদেশকে পরাধীন করে রাখার জন্য এবং যার নজরানা তারা দিয়েছে যখন এদেশের জনগণ পূর্ববর্তী সময়ের মতো তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা যাদের আধিপত্যকে এই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করেছিল, সে আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়েই আবার তারা আশ্রয় গ্রহণ করেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নেচার ও ফিচার যদি হাজার বছরের ইতিহাস আপনারা দেখেন, আপনারা দেখবেন এই অঞ্চলে মৌর্যরা যখন শাসন করত, এরপরে এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে গুপ্তদের শাসন এসেছিল, পালদের শাসন এসেছিল, সেনদের শাসন এসেছিল। মুসলিম সালতানাত এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীন সুলতানি আমল ছিল প্রায় ৬০০ বছর ধরে। মুসলমানরা যখন এখানে শাসন করেছিল—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে এই অঞ্চলে বসবাস করেছিল। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কারণে এই অঞ্চলে মুসলমানরা শত শত বছর শাসন করার পরেও হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা হতো না।’

    শিবির সভাপতি বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন তাদের বাণিজ্য প্রসার করার জন্য এসেছিল, ১৬৩৪ সালে এখানে এসে প্রথম কুঠি স্থাপন করল কাসিম বাজারে। এরপর থেকেই শুরু। কাসিম বাজারে তারা যে কয়জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল, তার সকল কর্মচারী তারা হিন্দু নিয়োগ দিয়েছিল। যার ফলে এখানে একটি হিন্দু আঁতাত তারা গড়ে তুলেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে তলে তলে একটি বিভাজনের রাজনীতি এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৭৫৭ সালে এই অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে যে কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরাধীন করা হয়েছিল, তারা নবাবের একেবারেই কাছের ছিলেন। কেউ ছিলেন নবাবের সেনাপতি, কেউ ছিলেন তার অর্থমন্ত্রী, কেউ ছিলেন তার চাচি, কেউ ছিলেন তার পার্শ্ববর্তী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। এই মানুষগুলোই—মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ—পরবর্তী সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং বিপদের মুখে তাকে ফেলে দিয়ে ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করেছিল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষেরা বারবার পরাধীন হয়েছে, জীবন দিয়েছে। এরপরে বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা চেয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষে বিদ্রোহ করে বারবার, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সে বিদ্রোহ করে বসে এবং শাসকগোষ্ঠী পালাতে বাধ্য হয়। মাঝে মাঝে তারা তাদের আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ইতিহাস বলে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এর পরবর্তী আমাদের জুলাই বিপ্লব শত শত হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে মানুষেরা এই বিপ্লব এনে দেয়।’

    ‘আর শাসক গোষ্ঠীর যারা বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলিশান জীবনযাপন করে, বিপ্লব-বিদ্রোহের পরেই তারা এসে আবার ক্ষমতা দখল করে। তারা চায় না এই রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার হোক, তারা চায় না খুন প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হোক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ১০০ দিনের শাসনে ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে অফিস খুলছে, মিছিল-মিটিং করছে।’

    ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পলাশীর এই আলোচনাগুলো ইসলামী ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাগুলোকে জাতির সামনে, যুবকদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ দেশপ্রেমিক নাগরিক আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা এদেশে এমন কোনো মানুষ তৈরি করব না যারা এদেশে জন্ম নিয়ে এদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাই—ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। নতুন বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের কাছে আমরা আহ্বান জানাই।’

    তিনি সকল খুন ও হত্যাযজ্ঞের বিচার অনতিবিলম্বে এ বাংলার মাটিতে কার্যকর করার অনুরোধ জানান।

    অনুষ্ঠানে এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিব মুসা প্রমুখ।

  • সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

    সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

    খুলনার মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী ইসমাইল শিকদারকে অমানবিক মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে তার বাবা ওমর ফারুক শিকদার সোনাডাঙ্গা থানায় এই মামলা করেন। ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় হওয়া মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ডাক্তারপাড়ায় অবস্থিত নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে ওই মাদ্রাসায় পড়া না পারায় গত ১৭ জুন রাতে ইসমাইলকে বেদম মারধর করেন শিক্ষক আবদুর রহমান। এতে শিশুটির মস্তিষ্ক, চোখসহ বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত ২১ জুন সমকাল অনলাইন ও পরদিন ছাপা সংস্করণে ‘মস্তিষ্কে জমাট বেঁধেছে রক্ত, ঘুমের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠছে শিশুটি’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। শিশুটির ছবি ও নির্যাতনের মাত্রা দেখে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

    ওমর ফারুক শিকদারের ভাষ্য, তাঁর ছেলেকে মারধরের ২৪ ঘণ্টা পরও বিষয়টি জানানো হয়নি। দুই দিন পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর দুদিন ইসমাইল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওষুধ খেয়ে মস্তিষ্কের রক্ত না সরলে অপারেশন করতে হবে। তিনি এই নির্মম নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

    সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসাশিক্ষক পলাতক। মাদ্রাসা থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই তিনি গ্রেপ্তার হবেন।

    এ,আর

  • হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    ফরিদপুরে ডিবির ওসি প্রত্যাহার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর পর ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    ওই আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে একই দিন বেলা একটার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবারের দাবি, গত শনিবার বিকেলে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে এবং তার মায়ের সামনেই মারধর করে। পরদিন রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে মৃত্যু হয় তার।

  • বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    নলকূপে কীটনাশক জাতীয় বিষ ঢালার অভিযোগ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে– মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

    মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এরপর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর দাবি, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

    মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেছে। যে কারণে নলকূপের পানি পান করে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটি কোনো নাশকতা কিনা, তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

    নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের ভাষ্য, ৩৭ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর শুনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

    এর আগে সোমবার দুপুরে পৌর বিএনপি ও সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। এসব মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের নেতাকর্মীরা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কায় আমরা রাজপথে সোচ্চার আছি। শান্তিপূর্ণ ঝালকাঠিতে আমরা কোনো নৈরাজ্য হতে দেব না।

    উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২৩ জুন মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের বিষয়ে বেশকিছু দিন ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাতে থাকে। এ বিষয়ে কেউ যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেই কারণে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়।

  • মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক হোটেল নর্থভিউয়ের ছাদ থেকে পরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর সাথে প্রেম ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    বিকেল সাড়ে ৫টায় মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপ পুলিশ কমিশনার ডিবি সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম শাহরিয়ার সাকিন।

    তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর ধাপ চিকলি ভাটা এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণের আলোকে শাহারিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির সাথে শাহরিয়ারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করত। মোবাইলে কথাবার্তা হতো। আত্মহত্যার আগে রিসেট দেয়ায় ওই তরুণীর মোবাইলে কোনো অ্যাপস পাওয়া যায়নি। যথেষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তার বাবা নজরুল ইসলাম।

    তবে গ্রেফতার শাহরিয়ার কোতোয়ালি থানায় জানিয়েছেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমার স্টুডেন্ট ছিল। ওরা চারজন একসাথে আমার ব্যাচ এ পড়তো। পড়ানোর সময় আমি যখন টের পাই মেয়েটি আমাকে পছন্দ করে, তখন আমি ওই ব্যাচটি পড়া বন্ধ করে দেই। পরে ওর মায়ের অনেক রিকোয়েস্টে আর একটা ব্যাচের সাথে পড়িয়েছিলাম। কিন্তু তখন সে আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে নক করে এবং আমাকে পছন্দের কথা জানালে। আমি তিন মাস আগে পড়ানোটা বন্ধ করে দেই এবং তার সাথে সব যোগাযোগও বন্ধ করি। আর ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ায় আমি বিষয়গুলো জানানোর জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে ডিবি অফিসে যাই। তখন ডিবির উপ পুলিশ কমিশনার আমাকে আটক করে ওর অভিভাবকদের দিয়ে মামলা করায়। ওই মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনোভাবেই আমি যুক্ত নই। যদি যুক্ত থাকতাম তাহলে কি নিজেই ডিবি অফিসে যাই।’

    মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমি কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়েছি। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম শাকিন। এক সময় আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো একটা ব্যাচে। আমার একটাই জানার ইচ্ছা আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল ধাপে, কিন্তু কেন গেল নর্থ ভিউ রেস্টুরেন্টে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর নর্থ ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্টের রুফটফের রেলিং থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন সাবেক সেনা সদস্য।

    এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তিনি। এ ঘটনার পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায় এক তরুণী বিকেল ৪টা ৫৪মিনিটে হোটেলটির ছাদে রুফটফ রেস্টুরেন্টে যায়। সেখানে ঘণ্টাব্যাপি মোবাইল অপারেট করতে দেখা যায় তাকে। ৫টা ৪২মিনিটে ছাদের রেলিংয়ে উঠে এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, গোয়েন্দা পুলিশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে আটক করার পর কোতোয়ালি থানায় দিয়েছে। মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

  • লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ভুমি অফিস মাঠে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: মিলন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসন এ কে এম মমিনুল হক, বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো: আফজাল হোসেন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী সহ সংস্থার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় দু’শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কুরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইসলামি সভ্যতার শিল্পকলা, ক্যালিগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর বলে জানা গেছে। এতে সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নকশা এবং নিখুঁত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সে সময়ের ইসলামি শিল্পকলার উৎকর্ষ ফুটে উঠেছে।

    পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা পুষ্পশোভিত নকশা ও কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো। বিশেষ করে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত সূচনাপর্বে জ্যামিতিক নকশা ও সোনালি কারুকাজের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

    জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পাণ্ডুলিপি ইসলামি ক্যালিগ্রাফার ও অলঙ্করণ শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে। সেই সময়ের শিল্পীরা সুন্দর হস্তাক্ষর ও নান্দনিক অলঙ্করণের মাধ্যমে কোরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শিল্পরূপে উপস্থাপন করেছিলেন।

    মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন ও অলঙ্করণশৈলীর বিবর্তন তুলে ধরা হচ্ছে।

    প্রদর্শনী ঘুরে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি শিল্পের বিকাশ, কোরআনের প্রতি মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং ইসলামি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করছেন। আয়োজকদের মতে, কোরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থই নয়, এটি বিশ্ব সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস।

    বর্তমানে শতবর্ষী এই মূল্যবান নিদর্শনটি জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের মনোযোগ কাড়ছে।

    সূত্র: গালফ নিউজ

  • নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয় মানুষের খাদ্যাভ্যাস। পাশাপাশি ফল বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারের অসাধারণ উৎস। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়ম করে সকল ঋতুতে দেশীয় মৌসুমী ফল খেতে হবে। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে এবং সম্ভাবনাময় সকল ক্ষেত্রে ফলের গাছ রোপন করতে হবে।

    ফলের বাজার সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ, গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সময়কাল সম্প্রসারণ, ফল গাছের চারার কেনাবেচায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। ফল মেলার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সাথে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি হবে বলেও বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ডর খন্দকার মাহবুব এবং আদর্শ ফলচাষী আল আমিন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) শামসুন্নাহার ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
    মেলায় ১৪ ধরণের প্রচলিত ও ২৩ ধরণের অপ্রচলিত দেশীয় ফল এবং ২৫ জাতের আম ১১টি স্টলের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া নাটোরের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পল্লীর বিভিন্ন ভেষজ উপকরণ বিক্রি করা হচ্ছে মেলাতে। এছাড়া ফল গাছের চারাও বিক্রি হচ্ছে মেলাতে।

    এ এম

  • বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন নিহতের বাবা উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান।

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বোনারপাড়া সরকারি কাজি আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় অংশ নেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, গাইবান্ধা জেলার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, সাঘাটা উপজেলার আমির ইব্রাহিম, সেক্রেটারি আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা প্রমুখ।

    উলেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় সাইফুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

    রোববার রাতে জেলা যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    এ ঘটনায় রাতেই যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। এছাড়া রাতে রাজধানীতে ও আজ (সোমবার) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) পণ্য খালাসের কাজে ব্যবহৃত একটি আরটিজি (রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি) ক্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর যৌথ ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থ এলাকায় থাকা ‘আরটিজি-৪০১৪’ নম্বর ক্রেনটিতে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে টার্মিনালের ভেতরে আগুন লাগার খবর পান তারা। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চটজলদি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরের দিকে এনসিটির দক্ষিণ প্রান্তের ৪ নম্বর বার্থে অবস্থানরত একটি আরটিজি ক্রেনে আকস্মিক আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেয়।

    তিনি জানান, আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এই তিন বাহিনীর সমন্বিত ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    বন্দর সচিব আশ্বস্ত করে বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আগুনের ধাক্কা সামলে বর্তমানে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম যথানিয়মে চলছে।

  • ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) ভোরে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো: ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো: সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো: সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো: জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত আটটি গেঞ্জি এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বহনকারী দু’টি বাস ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে  পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পৌর বিএনপি।

    সোমবার (২২ জুন) সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপুর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিস মোড়ে শেষ হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    সমাবেশে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপু বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদেই আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা করলে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা যেখানেই থাকুন, ভারতে বসে উস্কানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ও বিকেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’

  • বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা আর নেই। হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২২ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত জুয়েল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে জুয়েল রানার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাতে নতুন কনেকে সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে বাড়ি পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা আর দেরি না করে তাকে তাৎক্ষণিক ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করেন।

    সাবেক ছাত্রনেতা আনারুল ইসলাম জানান, ‘কী দুর্ভাগ্য! ১৯ তারিখ রাতে বিয়ে করে আসে। ওই রাতেই আসার পর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। আজ সকাল আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।’

    রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক এই শীর্ষ নেতার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহযোদ্ধা ও পরিচিতরা শোক প্রকাশ করছেন।

  • কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লা নগরীতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে ড্রেনে পড়ে স্মৃতি (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু স্মৃতি কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে শিশুটির নানার বাড়ি। সেখানে তার মামার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান শেষে মায়ের সাথে বাসায় ফিরছিল স্মৃতি। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা না পেয়ে তারা হেঁটেই রওয়ানা দেন। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়।

    এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর কিছুটা সামনে ড্রেনের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা স্ল্যাব পানির নিচে ঢেকে যায়। ফলে পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

    নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় স্ল্যাব ভাঙা কিংবা ফাঁকা থাকায় এসব ড্রেন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনগুলো সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নগরীর অরক্ষিত সবগুলো স্ল্যাব ঢেকে দেয়া হবে। শিশুটির পরিবারের সাথে দেখা করে সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

    কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা।