ছবি

  • পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় ছেলের সামনে বাবা হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে, মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন— পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের মরহুম আমিন প্রামানিকের ছেলে শরীফ প্রামানিক (৩৫) ও জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮)।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন নয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আট থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    বুধবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: ছুফি উল্লাহ জানান, বুধবার ভোরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি ও একটি গুলির খোসা।

    পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’ ও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা’— এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তবে, হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গুলি করা জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) ও গোপলার ছেলে শাহীনকে (২৮) বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া তিনজন এজাহার নামীয় আসামি নন।

    এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন আট থেকে ১০ জন। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ও হত্যায় জড়িত অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগির তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় ছেলে রোহানকে (১২) রাখতে গিয়েছিলেন বাবা হোসেন আলী (৫৫)। মাদরাসার গেটে পৌঁছামাত্র ছেলের সামনেই হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

  • চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৪

    চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি টািইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার এক আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এদিকে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন আলমগীর মণ্ডল (৩০), মো: আকরাম হোসেন (২৯) ও মো: আখের আলী (৫৫)। তাদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস

    চৌগাছায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস

    চৌগাছা (যশোর)সংবাদদাতা

    যশোরের চৌগাছায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক দিনের পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দিনব্যাপী কৃষি অধিদপ্তরের চৌগাছা উপজেলা অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন কৃষি অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কৃষি অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা এ জেড এম ওবাইদুল্লাহ, উপজেলা প্রাণী স¤পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল করিম, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম বজলুর রশিদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

    কংগ্রেসে কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্কুল থেকে ৭০ জন কৃষক কৃষাণী অংশ গ্রহণ করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, এ উপজেলায় ৮২ টি কংগ্রেসে কৃষি অধিদপ্তরের পার্টনার ফিল্ড স্কুল করা হবে। ইতি মধ্যে ৪২ টি কংগ্রেসে কৃষি পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কাজ শেষ হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাতেও স্থানীয়দের নিয়ে সতর্ক বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাতেও স্থানীয়দের নিয়ে সতর্ক বিজিবি

    অবৈধভাবে কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই নির্বিচারে বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে অমানবিক আচরণকরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের আঁধারে তাদের এদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এতে নিদারুণ কষ্ট পোহাচ্ছে ওই মানুষগুলো।

    বিজিবি’র সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি হ্যান্ড মাইক যোগে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে।

    সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কেউ যেনো অবস্থান না নেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবি’র কাজে সহযোগীতা করছে।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বিজিবি রাতদিন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট কাজ করছে।

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    উৎপাদনে শীর্ষে রপ্তানি তলানিতে

    বাংলাদেশের আম স্বাদে ও গন্ধে যে কোনো ক্রেতাকে সহজেই আকৃষ্ট করে। প্রতিবছরই আম চাষ বাড়ছে, বাড়ছে উৎপাদনও। তবে বাড়ছে না রপ্তানি। উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও রপ্তানি তলানিতে। দেশে দেশে আমকেন্দ্রিক শিল্পের প্রসার ঘটলেও আমাদের দেশ তার ধারে-কাছেও নেই। কৃষি বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের আমের বাজার ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু রপ্তানি সহজ হলে তা ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে রপ্তানি বাড়াতে হবে। শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত ও নিরাপদ আম রপ্তানি করে শীর্ষে উঠে আসা সম্ভব। শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার পরও ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা নগণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত যথাযথ ব্যবস্থাপনা পরিপালন না করলে রপ্তানির এ সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না।কয়েক বছর ধরেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় রপ্তানিযোগ্য বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারের বিদ্যমান নীতির কারণে রপ্তানি বাড়ছে না। পূরণ হচ্ছে না রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাও। যেটুকু রপ্তানি হয় তাতে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন না। রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের আরও অভিযোগ, ঢাকার রপ্তানি সিন্ডিকেটের পেটে যাচ্ছে পুরো মুনাফা। ঢাকার সিন্ডিকেট চাষি পর্যায় থেকে আম না কিনে আড়ত থেকে আম কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছে। মানসম্মত আম না যাওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশি আমের বাজার তৈরি হচ্ছে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে দুই লাখ ৫ হাজার ২০৫ হেক্টর বাগান থেকে আম উৎপাদিত হয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৩ টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদন কমে ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৭ টনে দাঁড়ায়। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ টন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৮ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশে রাজশাহীর আমের বিপুল চাহিদা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আম রপ্তানিতে জায়গা পেতে হলে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ, নির্দিষ্ট মানে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহণ সুবিধা থাকা জরুরি যা এখনো গড়ে ওঠেনি। রাজশাহী আঞ্চলিক ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রিদওয়ানুল কারিম জানান, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে। রপ্তানি আমে দাগ না থাকা ও সঠিক কৌশলে ফ্রুট ব্যাগিং করা প্রয়োজন। আমে পোকা থাকা চলবে না। আমকে থার্মাল হাউজে জীবাণুমুক্ত করাও দরকার পড়ে। গ্যাপ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) সনদ লাগে। চাষিরা এসব ঝামেলা পোহাতে পারেন না। তিনি বলেন, আমপ্রধান এলাকায় রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। এসব নিয়ে কাজ হচ্ছে। সর্বোপরি সরকারি সহায়তাও খুব প্রয়োজন।

    রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রফিকুল ইসলাম বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আম রপ্তানি না বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাগান থেকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঢাকায় আম পাঠাতে শীতাতপ ভ্যানের অভাব ও বিপুল পরিবহণ খরচ। বাগান থেকে ঢাকায় ও বিদেশ পর্যন্ত এক কেজি আমের পরিবহণ খরচ প্রায় ৮৫০ টাকা। আমরা রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও রপ্তানির সব ধাপ অতিক্রম করা অনেক কঠিন। রপ্তানি বাড়াতে হলে সবকিছু সহজ করতে হবে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক উদ্যোক্ত মুনজের আলম মানিক বলেন, অতীতে চেষ্টা করেছি রপ্তানির জটিল ধাপগুলো অতিক্রমের। কিন্তু কাজটা বিদ্যমান নীতি ব্যবস্থায় সহজ নয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন সুবিধার অভাব, গ্যাপ সনদের স্বল্পতা, উন্নত প্যাকেজিং, প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি, উচ্চ পরিবহণ ব্যয় এবং ফাইটোস্যানিটারি শর্ত পূরণের জটিলতা বাংলাদেশের আম রপ্তানিতে বড় বাধা।

    জানা গেছে, আম রপ্তানিতে উৎসাহদানে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প চলছে কয়েক বছর ধরে। এই প্রকল্পের আওতায় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। দেওয়া হয় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের আওতায় ‘উত্তম কৃষিচর্চা’ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) বা গ্যাপ নামের কর্মসূচি আছে। এর আওতায় আম উৎপাদন, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব কলাকৌশল চাষিদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া চাষিদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের সংযোগ স্থাপন ও সহায়তা প্রদান করা হয়। এর পরও রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশে আম রপ্তানি হয়। চাষিরা বাড়তি খরচ করে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করলেও রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন না। এ বছরও আম রপ্তানির অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ফলে চাষিদের হতাশা থেকেই যাচ্ছে। চাষিরা বলছেন, এ বছরও ৩০ হাজার টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৫ হাজার টন।

    জানা গেছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে আম রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ টন। এর পাঁচ বছর পর আম রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৬৭ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০০ টন আম যায় বিদেশে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আম রপ্তানি কমে হয় ১ হাজার ৩২১ টন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও রপ্তানি হয় ২ হাজার ১২১ টন। বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া আমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার মাত্র ১ শতাংশেরও কম।

    জানা গেছে, এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা। এখানে ৩৭ হাজার ৪৯৮ হেক্টর বাগান থেকে ৪ লাখ ৬৯ হাজার টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এবার এ জেলা থেকে ২৫০ টন আম বিদেশে যাবে। আম উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁ। নওগাঁর ৩০ হাজার ৩২১ হেক্টর বাগানে এবার ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন আম ফলনের আশা আছে। নওগাঁ থেকে এবার ১০০ টন আম বিদেশে যাবে। গত কয়েক বছরে নওগাঁ থেকে ২৫০ টন পর্যন্ত আম বিদেশে গেছে। এবার রাজশাহীর ১৯ হাজার ৪৬২ হেক্টর বাগান থেকে ২ লাখ ৫৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান জানান, রাজশাহীতে আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। কিছু আম রপ্তানিও হবে। অন্যদিকে অঞ্চলের আরেক জেলা নাটোরেও আম চাষ বাড়ছে। এই জেলার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টরে ৬৮ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও উৎপাদন বেশি হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছ।

    এ এম

  • খাল নেই, তবুও সেতু—সংযোগ সড়কেই বিপাকে কয়েকটি পরিবার

    খাল নেই, তবুও সেতু—সংযোগ সড়কেই বিপাকে কয়েকটি পরিবার

    দুই পাশে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই, তবুও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরেকটি জটিলতা, সেতুর দুই পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি। ফলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ।

    এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে ফুলতলা আরএইচডি সড়কের ওপর সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় বিডিআইআরডবলুএসপি প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ নির্মাণকাজে তিন কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স । ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি এমন একটি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে সেখানে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় খালটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি কার্যকর করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে পাশের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সংযোগ সড়ক করতে গেলে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার,মোর্শেদা বেগম, জামাল, সবুজ বলেন, এই সেতু চালু করতে গেলে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর সমাধান চাই।

    এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সাথে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশইন প্রচেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলা ভাষাভাষী কিছু ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

    এ পরিস্থিতিতে ফুলবাড়ী সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না যায়।

    এছাড়া সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করতে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ বিজিবি সদস্যরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

    ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই।’

  • কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    প্রকৃতির থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

    মিশ্রিপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    কারিতাস বরিশাল অঞ্চল পরিচালিত ‘প্রয়াস প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের মাঠকর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা ডেপুটি টিম লিডার শফিকুল আলম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এবং উপকূলীয় মানব উন্নয়ন সংস্থার (সিকোডা) নির্বাহী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান।

    এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশ বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন কারিতাসের হাসান মাহমুদ।

  • শিশু রামিসা হত্যা

    শিশু রামিসা হত্যা

    ডেথ রেফারেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি উচ্চ আদালতে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠা এবং আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স তিন পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে ৭২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন ট্রাইব্যুনালের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম।

    সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, ৭ জুন রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার মা-বাবা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত লাশ দেখতে পান।

    এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় গত ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

    গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ হযরত আলী (৫৫) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৮ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সুবদিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হযরত আলী জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মরহুম আক্কাস আলীর ছেলে।

    দুপুর ৩টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিটে একযোগে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামসহ একদল পুলিশ সদস্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হযরত আলীকে আটক করে। এ সময় তার কাঁধে বাঁধানো কফি কালারের ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে থেকে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, আটককৃত গাজার বিষয়ে সদর থানায় মামলা হয়েছে এবং আটককৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আপন ২ ভাই

    লালমনিরহাটে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আপন ২ ভাই

    লালমনিরহাটের মোগলহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই সহোদর কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতা চালালেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

    নিখোঁজ দুই কিশোর হলো— শাওন (১৪) ও সাব্বির (১৬)। তারা দু’জন সদর উপজেলার মোগলহাট বাজার এলাকার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তারা মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার দুপুরে শাওন, সাব্বির ও তাদের বন্ধু মেহেদী ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তারা নদীর প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মেহেদী তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও দুই ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

    স্থানীয় সংবাদ কভারেজ

    ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধারে নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

    এ ঘটনায় পুরো মোগলহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই সহোদরের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের দ্রুত উদ্ধার হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

  • ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত

    ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত

    ফেনী শহরের অদূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় কাউছার (৪০) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    রোববার (৭ জুন) সকালে ফাজিলপুর সবুজবাগ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাউছার কুমিল্লা জেলার বাঙ্গরা থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের মো: জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশের কর্তব্যরত এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, আজ সকালে মহাসড়কের সবুজবাগ নামক স্থানে ঢাকামুখী একটি পিকআপের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। এতে পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান উভয়ই মহাসড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন পিকআপের চালক কাউছারকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী জানান, গাড়ি দু’টি রেকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত চালকের লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এ,আর,

  • ছুটিতে দেশে ফেরা হলো না, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

    ছুটিতে দেশে ফেরা হলো না, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

    ছুটি নিয়ে দেশে আসার মাত্র পাঁচ দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের যুবক শহীদুল ইসলাম প্রকাশ শহীদুল্লাহ (৪০)।

    শনিবার (৬ জুন) রাতে ওমানের বেরুমিতে রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার।

    নিহত শহীদুল ইসলাম মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদারগ্রাম এলাকার আস্কর আলী বৈদ্দ্য বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ মেস্ত্রীর ৪র্থ ছেলে। বর্তমানে তার লাশ বেরুমি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সুখের আশায় দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে শহীদুল ইসলাম প্রবাসে কাজ করছেন। সেখানে এমব্রয়ডারির কাজ করতেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশে আসার কথা ছিল তার। মার্কেট থেকে ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

    দেশে আসবে এই নিয়ে কত খুশি ছিল শহীদুল ইসলামের পরিবার। বাড়িতে ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের লোকজনও খুশি। ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সেই খুশি এখন বিষাদে রূপ নিলো। অল্প বয়সে তার ছেলে-মেয়েরা এতিম হয়ে গেল।

    মিরসরাই সমিতি ওমানের সাবেক সভাপতি মো: আবু নছর রিয়াদ বলেন, লাশ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

  • মাওলানা আব্দুল হালিম

    মাওলানা আব্দুল হালিম

    ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেব না

    ডে ক্স নিউজ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংক ডাকাত এস আলমের হাতে তুলে দিয়ে ইসলামী ব্যাংককে আবারও ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বর্তমান সরকার। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।

    তিনি রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত ‘ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, আর্থিক নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বিএনপি সরকার এই ধ্বংসের নেতৃত্ব দিক, দেশের মানুষ তা চায় না। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা হালাল ও সুদ হারাম’ এই মডেল প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহককে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সরকার বা কারও জন্য সুখকর হবে না। ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংস করে অন্যকে সুবিধা দেবেন—এটা আমরা গ্রাহকেরা মেনে নেব না। ব্যাংক খাতকে রাজনীতিকরণ করা যাবে না। আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তা ও সুন্দর বন্দোবস্ত চাই। ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গ্রাহকেরাই আন্দোলন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার আর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না। এই সরকারের সময়েও যেভাবে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের রক্ত ঝরাতে হচ্ছে, তা লজ্জার বিষয়। এটা জুলাই বিপ্লবকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি সরকারকে হঁশিয়ার করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দখল করলে এর মধ্য দিয়েই আপনাদের পতন হবে।

    লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। এই ব্যাংক আমাদের ব্যাংক, এটা আমাদের সিদ্ধান্তেই চলবে।

    নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, লে. কর্নেল (অব.) ফরিদুল আকবর, অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন, অধ্যাপক ড. আবু হানিফ খান, ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, কর্নেল (অব.) আবু ইউসুফ জুবায়ের, জাগপা নেতা আসাদুর রহমান খান, নৌ কমান্ডার (অব.) সিদ্দিকুর রহমান, মেজর (অব.) হারুন অর রশীদ, ড. ফরিদ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

    এ এম

  • জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়ন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নসহ ছয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়।

    সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে ১৫ কেজি চাল, নগদ তিন হাজার টাকা ও সহায়তা কার্ড তুলে দেয়া হয়।

    ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার ৭৫০ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিলয় চন্দ্র কর, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গুনেন্দ্র কুমার তালুকদার, যাচাই-বাছাই কমিটির বিএনপির সদস্য হাসান তালুকদার, ওসমান গণী ও নূরউদ্দিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগীরা।

    এদিকে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা বিএনপির নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক ও জুলফিকার চৌধুরী রানা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রাব্বি তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ।

    সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ছয় কিয়ার জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। এই সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।

    ৬৫ বছর বয়সী কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করেছিলাম। জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। আজকের এই সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।

    কৃষাণী রাণী দেবী বলেন, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে উপকার হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

    সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি।’

    তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৭৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫০০ জন কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে ৭৫০ জনকে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমিত বরাদ্দের কারণে সবাইকে সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে আরো কৃষককে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।’

    বিতরণ শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালক জয়নাল মিয়ার (৬০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ৬টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত জয়নাল মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হামিদ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মরহুম ওসামন মিয়ার ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জয়নাল মিয়া অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৯ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নলডাঙ্গা-রংপুর সড়কে যাত্রীবহন করছিলেন তিনি। এ সময় বাড়ির পাশে কিশামত হামিদ নামক স্থানে চলন্ত ভ্যানটির পেছনে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে জয়নাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় জয়নাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর লোকমুখে শুনেছি।

  • ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল

    ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে থাকব। কারণ, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।’শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ, আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?”

    তিনি বলেন, আরও বেশি দিন যেন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পর প্রকল্প চলছে এই ঢাকা নগরের জন্য। কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকেরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা দরকার। সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    ঢাকার পরিবেশ ও নদীদূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কলেজজীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?’

    তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ, তো সব শেষ’—এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।

    ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি সেবনযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।”

    তিনি বলেন, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না—সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

    এ এম

  • মতলবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন!

    মতলবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন!

    দেশে যেখানেই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠান, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। যেখানেই তার অনুষ্ঠান, সেখানেই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এমন পরিস্থিতি ও ফেসবুকের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচরে ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হওয়ায় সেখানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌনে দুই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল।

    সভাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনও গত কয়েক দিন মাঠে কাজ করেছে এবং সভাস্থলের কাছাকাছি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেদায়েত উল্লাহকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ঈদ পুনর্মিলনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    এনসিপি মতলব উত্তর উপজেলার সদস্য সচিব ইমাদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ফেসবুকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে দেয়া বক্তব্য ও হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান অনুষ্ঠানের আগের দিন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সাথে দফায় দফায় সভা করেছেন।

    অনুষ্ঠানে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের স্থান দূরবর্তী অঞ্চল ফরাজীকান্দি থেকে সভাস্থলের নিকটবর্তী স্থানে নিয়ে আসা হয়।

  • মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

    মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে নদীর পানিতে ডুবে জুলহাস মন্ডল (৪২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন ও মেলান্দহ উপজেলার কাহেতপাড়া সীমান্তবর্তী ঝাড়কাটা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুলহাস মন্ডল আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকার মরহুম আনার মন্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও জুলহাস মন্ডল তার ঘোড়াকে গোসল করাতে বাড়ির পূর্ব পাশের ঝাড়কাটা নদীতে যান। এ সময় তার সাথে ছিল একমাত্র ছেলে রাহাত (৬)। নদীর তীরে ছেলেকে রেখে তিনি ঘোড়াসহ পানিতে নামেন। একপর্যায়ে জুলহাস পানিতে ডুব দিলে ঘোড়াটি তীরে উঠে এলেও তিনি আর ভেসে ওঠেননি।

    বাবাকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে ছোট্ট ছেলে রাহাত দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর মাছ ধরার জালের সাহায্যে নদী থেকে জুলহাসের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সংবাদ প্রতিবেদন পরিষেবা

    ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ-কালিবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিয়াউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    নিহতের ভাতিজা সুমন জানান, চাচা প্রতিদিনই এই নদীতে ঘোড়াকে গোসল করাতে যেতেন। আজও ঘোড়ার সাথে নদীতে নামেন। কিন্তু ঘোড়াটি তীরে ফিরে এলেও চাচা আর উঠতে পারেননি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সাদুল্লাপুরে অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

    সাদুল্লাপুরে অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চলন্ত একটি অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ মিয়া (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে সাদুল্লাপুর-গাইবান্ধা সড়কের মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ মিয়া উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়ার গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে আব্দুল্লাহ মিয়া বাড়ি থেকে টায়ার নিয়ে খেলতে খেলতে ওই ফিলিং স্টেশনের রাস্তায় আসে। এ সময় রাস্তা পার হতেই সে গাইবান্ধাগামী একটি অটোরিকশার নিচে পড়ে যায়। অটোরিকশাটির চাকা তার বুকের উপর দিয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কের পাশে বিশাল একটি মেহগনি গাছ রাস্তার দিকে হেলে পড়েছে। এ গাছটির সাথে যানবাহনের ধাক্কা লেগে ইতোমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে শিশু আব্দুল্লাহরও মৃত্যু হলো। হেলেপড়া ওই গাছটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে আবারো যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। তবে হেলেপড়া গাছের কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। গাছটি দ্রুত অপসারণ করা দরকার।

  • কৌতুহল থেকে কুসংস্কার : প্রশাসনের অভিযানে কড়ই গাছ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান

    কৌতুহল থেকে কুসংস্কার : প্রশাসনের অভিযানে কড়ই গাছ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান

    প্রকৃতির এক অদ্ভুত ঘটনার সাথে মানুষের বিশ্বাস-অবিশ্বাস মিশে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, আলোচনা ও কুসংস্কারের এক বিচিত্র অধ্যায়।

    ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়া একটি কড়ই গাছের কাণ্ড কয়েকদিন পর হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। একপর্যায়ে সেখানে মানত, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানোর ঘটনাও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত গাছটি কেটে ফেলেছে প্রশাসন।

    ঘটনাটি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ি এলাকায়। প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বড় কড়ই গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলা হলে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ কাণ্ডটি মাটিতে পড়ে ছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর স্থানীয়রা বিস্ময়ের সাথে দেখতে পান, কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

    বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে শুরু করেন। কেউ এটিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অনেকে এর মধ্যে অলৌকিকতার ছাপ খুঁজতে থাকেন। ধীরে ধীরে গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বাঁধা, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো এবং মানত করার মতো কর্মকাণ্ড শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানটি একটি অনানুষ্ঠানিক ‘মাজারে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

    এ অবস্থায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করে স্থানীয় প্রশাসন।

    আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মালিকের সম্মতি নিয়েই সেটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা একটি মসজিদ বা মাদরাসায় দান করা হবে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অস্বাভাবিক বা বিরল কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটিকে অলৌকিক বলে ধরে নেয়ার প্রবণতা সমাজে এখনো রয়েছে। অথচ উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু গাছ উপড়ে পড়ার পরও শিকড়ের একটি অংশ মাটির সাথে সংযুক্ত থাকলে বা কাণ্ডের ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে আংশিকভাবে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়।

    স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ছিল। তাই জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    ঘটনাটি আবারো মনে করিয়ে দিল— প্রকৃতির বিস্ময়কর ঘটনা কৌতূহলের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু সেই কৌতূহল যেন অন্ধ বিশ্বাসে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকাও সমান জরুরি।

  • রাঙ্গাবালীতে বজ্রপাতে ৬ গরুর মৃত্যু, প্রাণ গেলো কৃষকের

    রাঙ্গাবালীতে বজ্রপাতে ৬ গরুর মৃত্যু, প্রাণ গেলো কৃষকের

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামে বজ্রপাতে ৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পাশের গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চরকাজল গ্রামে বজ্রাঘাতে আলমগীর সরদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলমগীর সরদার পশ্চিম চরকাজল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আহমেদ সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামের মাঠে থাকা ৬টি গরুর ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গরুগুলো মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    অন্যদিকে, আলমগীর সরদার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিজের গরু আনতে যান। গরু আনতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শিকার হন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে দূর থেকে দেখতে পান কয়েকটি গরু একটি স্থানে জড়ো হয়ে আছে। কাছে গিয়ে তারা আলমগীর সরদারের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    পৃথক এ দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা এবং নিহত কৃষকের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে চরকাজল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামে বজ্রপাতে ৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পাশের গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চরকাজল গ্রামে বজ্রাঘাতে আলমগীর সরদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আলমগীর সরদার পশ্চিম চরকাজল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আহমেদ সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামের মাঠে থাকা ৬টি গরুর ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গরুগুলো মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    অন্যদিকে, আলমগীর সরদার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিজের গরু আনতে যান। গরু আনতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শিকার হন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে দূর থেকে দেখতে পান কয়েকটি গরু একটি স্থানে জড়ো হয়ে আছে। কাছে গিয়ে তারা আলমগীর সরদারের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    পৃথক এ দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা এবং নিহত কৃষকের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে চরকাজল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর খাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর খাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবেরের ছেলে।

    সাদ্দামের মামা মো: ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে ইগলু কোম্পানিতে চাকরি করত। ঈদের ছুটিতে সে বাড়িতে এসেছিল। ঈদের আগে আবুধাবি থেকে তার মেজ মামা আইয়ুব দেশে ফেরে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সাদ্দাম সাইকেলে করে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারীর বাড়িতে মামার সাথে দেখা করতে যায়।

    রাত ৯টার দিকে সাদ্দাম সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু সাদ্দাম বাড়িতে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে খালে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা লাশটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন।

    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইলফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি।

  • মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করেছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভুল সংশোধন করে নতুন করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ বদলি নীতিমালা জারি করা হয়।

    এর আগে, গত ২ জুন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশিত হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ইনডেক্সধারী সব শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। নীতিমালায় ভাষাগত ভুল থাকায় বিষয়টি সংশোধন করে পুনরায় নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

  • মহেশপুর সীমান্তে বিদেশী পিস্তলসহ আটক ১

    মহেশপুর সীমান্তে বিদেশী পিস্তলসহ আটক ১

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ রফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক অস্ত্র কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আটক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাংঙ্গা গ্রামের শামসুল মণ্ডলের ছেলে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির বাঘাডাঙ্গা ক্যাম্পের একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৮১-আর এলাকার বাংলাদেশ অংশের বেনোপাড়া মাঠে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেনাপোডা মাঠের ঘাসক্ষেত থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ অস্ত্র কারবারি রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

    মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটক রফিকুল ইসলামকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৪৪) নামে এক কৃষক ও দু’টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলার ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক আনোয়ার হোসেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ফাঁকা মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান আনোয়ার হোসেন। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে তার কোমর থেকে বুক পর্যন্ত ঝলসে যায়।

    বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বজ্রপাতের সময় তারা কয়েকজন মাত্র দুই শ’ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বজ্রপাতের বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    এদিকে একই সময়ে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দু’টি গরু মারা যায়। উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম বিষ্ণুপুর গ্রামের আনছার আলীর একটি ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের সন্তোষ কাপালীর একটি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানা গেছে।

    কচাকাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস কৃষক আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    এ আর,

  • যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, সেটা আমাদের প্রয়োজন নেই

    যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, সেটা আমাদের প্রয়োজন নেই

    ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাত-আটদিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট-শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম-সচিব, অন্য ছেলে কানাডা-প্রবাসী।এদেশের অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছে।

    কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।

    যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।

    দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে।

    আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।’

    এ এম

  • মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

    মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

    দেশের মাদরাসা পর্যায়ের ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন (ই-সিফ) পদ্ধতিতে ফি জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২ জুন) মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কোনো কারণে বাদ পড়েছে, তাদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং পরবর্তী শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের বিড়ম্বনা এড়াতে ভবিষ্যৎ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে এ সময়সীমা বাড়ানো হলো।

    এতে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মাধ্যমে অনলাইনে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের সাহায্যে বিলম্ব ফি পরিশোধ এবং ই-সিফ পূরণ করা যাবে।

    নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত। ফি সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই কেবল তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রি অপশন সচল হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের তথ্য ই-সিফ এ এন্ট্রির সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বর্ধিত সময়ে শুধু বিলম্ব ফি দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। শিক্ষার্থীর আগে এন্ট্রিকৃত তথ্য এডিট বা ডিলিট (পরিবর্তন বা মুছে ফেলা) করার সুযোগ থাকবে না।

    এতে আরো জানানো হয়, শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান ও তথ্য এন্ট্রি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য অফিস সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন ভিত্তিক সিম নম্বর দিয়ে ০১৭১৩-০৬৮৯০৯ অথবা ০১৫১-৬১১৯৩৬০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

  • কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    কানসাস সিটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় পদার্পণ

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১০টায় আলবিসেলেস্তেদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি কানসাস সিটিতে অবতরণ করে। দলের অধিকাংশ ফুটবলারই এই বহরে উপস্থিত রয়েছেন।

    বিশ্বকাপের আগে কানসাস সিটিকে নিজেদের প্রধান ‘বেস ক্যাম্প’ হিসেবে বেছে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এখানেই আগামী ১৭ জুন সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন স্কালোনির শিষ্যরা। বিশ্বজয়ী এই তারকারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা।

    কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান আর্জেন্টিনার নিকো পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে ল্যাগেজ হাতে হেঁটে যাচ্ছেন জিওভানি লো সেলসো। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে অবতরণ করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বহনকারী বিশেষ বিমান। ছবি- এএফপি

    বিমানবন্দরে নিকোলাস পাজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। ছবি- এএফপি

    সতীর্থদের সঙ্গে কানসাস সিটি বিমানবন্দরে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ছবি- এএফপি

    লিওনার্দো বালের্দি ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। ছবি- এএফপি

    আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি- এএফপি

    ছবি- এএফপি

    থিয়াগো আলমাদা ও এজেকুয়েল প্যালাসিওস। ছবি- এএফপি

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।