জাতীয় সংবাদ

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিলোফার চৌধুরি মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনও সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্যে আয়কর পরিহার করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন তাদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকায় কিনবে সরকার। এটা আগামী তিন বছর চলবে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারির স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করে দিবে সরকার। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যারা ইন্ডাস্ট্রিয়ালভাবে সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের কাঁচামালের ওপর ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কিছুদিনের মধ্যেই তা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

  • পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে অভিনয়জীবন নিয়ে তার একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চায় এসেছে। এই বিতর্কের মাঝে চলচ্চিত্রের সম্মান ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী।

    ওমর সানী তার পোস্টে ধর্ম ও কর্মকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘পপির কথাটা যেভাবে আসছে এভাবে ঠিক না যদি ও এভাবে বলে থাকে। আসলে ধর্ম কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস কর্মটা হালাল ধর্ম তো কোন কথাই নেই।’

    ওমর সানী তার বক্তব্যে পপির বক্তব্য বা মনোভাবের সমালোচনা করলেও চলচ্চিত্রের সম্মান রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমে কাজ করে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কিছু নয়। সমাজের অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চেয়ে বিনোদন জগতের মানুষের সততা ও হালাল পরিশ্রম অনেক বেশি সম্মানের।

    পপির ও তার নিজের মক্কা-মদিনা সফরের প্রসঙ্গও আসে ওমর সানীর বক্তব্যে। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মক্কা এবং মদিনাতে যেতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের ডেকেছেন।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা।’

    পপিকে উদ্দেশ করে পোস্টের শেষাংশে ওমর সানী আরও লেখেন, ‘ও এখনও আমার কাছে ছোট মানুষ, ভালো থাকিস পপি।’

    পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অঝোর কান্নায় পপি বলেছিলেন, তিনি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে বাঁচতে চান, ভালো থাকতে চান এবং সৃষ্টিকর্তার নাম জপেই সময় কাটাতে চান।

    সম্প্রতি অভিনয়জীবন ও অতীত পথচলা নিয়ে পপির এই মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। আর সেই বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘কুলি’-তেই তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী। পরবর্তীতে তারা দুজনে মিলে ‘জগত সংসার’সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।

  • মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, ‘তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না।’

    আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। তিনি এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান কোনো আরব দেশের ভূখণ্ডকে নিশানা করেনি বলে জানান রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, ‘ আপনারা জানেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সব আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

    জালিল রাহিমি, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত

    এ প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত, ‘আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।’ যুক্তরাষ্ট্র এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

    জালিল রাহিমি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হাতেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, এই মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশমাত্র। এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।’

    ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।’

    আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ, তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।’

    ‘এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?,’ বলেন তিনি।

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    সরকার চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব পদায়ন করেছে। এর মধ্যে তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছে।

    এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তাকে পরবর্তী এক বছরের জন্য অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

  • বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে, অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয় বর্তমান জ্বালানিসংকট।

    আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানিসংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১০টি ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

    দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে ও ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

    এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও দু-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব কামরুজ্জামান

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব কামরুজ্জামান

    মো. এহছানুল হককে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চুক্তিতে দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এ দায়িত্ব পালন করবেন।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাকে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তিনিও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তখন ম্যাচে লড়াই করাটাই কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে বদলে গেল পুরো চিত্র। ব্যাট হাতে একাই যেন ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। আগের দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেখানেই থামেননি হৃদয়। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ওপর আধিপত্য ধরে রেখে দলকে নিয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে লিডের পথে। যে মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই মাঠেই গড়লেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অবিশ্বাস্য এক ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

    হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকেরÑ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।

    এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।

  • দুই লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার খবর নাকচ করল মালয়েশিয়া

    দুই লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার খবর নাকচ করল মালয়েশিয়া

    আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া হবে—এমন দাবি নাকচ করেছে মালয়েশিয়া। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়ার বিষয়ে যে দাবি করেছেন, সেটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। এ বিষয়ে তিনি দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান।

    ফাহমি বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রী কর্মী নেওয়ার দাবি করেছেন। এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নয়। এ বিষয়ে মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে জানানো হয়েছে, বিবৃতিটি একজন প্রতিমন্ত্রী দিয়েছেন।’

    এদিকে, মিয়ানমার এখনো শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনিরাপদ—জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) এমন উদ্বেগেরও জবাব দিয়েছেন ফাহমি।

    মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন শরণার্থী একটি নথিতে স্বাক্ষর করে জানিয়েছেন যে তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান।

    ফাহমি জানান, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের হাতে আটক মিয়ানমারের ১০ হাজারের বেশি শরণার্থীর মধ্য থেকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার জনকে যাচাই-বাছাই করে একটি তালিকা তৈরি করে। পরে সেই তালিকা মিয়ানমার দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মিয়ানমার সরকার ১ হাজার ৪৭৬ জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে সম্মতি দিয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আশ্বস্ত করেছেন যে প্রত্যাবাসন করা শরণার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না এবং তারা মিয়ানমারে নিরাপদে থাকবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৩ জনে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের, বাকি ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৪ জনের মৃত্যু হলো। আর হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৯ জন।

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ৬৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ জন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সুযোগ রেখেছে ইসি

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সুযোগ রেখেছে ইসি

    ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। দেশের সকল উপজেলা/থানা ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাকে এই চিঠি পাঠানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দাখিল, ইস্যুকরণ ও দাখিলকৃত আবেদনগুলো নিষ্পত্তিকরণ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করেছে।

    সময়সূচি অনুযায়ী- আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। দাখিলকৃত আবেদন ইস্যুকরণের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর। আর আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, সময়সূচি অনুযায়ী স্থানান্তরের আবেদনসমূহ নিষ্পত্তিকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।

    পরে ইসি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে স্ব স্ব নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে। এখন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসির পক্ষ থেকে নতুন করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ও নিষ্পত্তির জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হল। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার (সিটি/উপজেলা/ জেলা/ইউনিয়ন/পৌরসভার) ভোটার হতে হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের আগে ভোটার স্থানান্তরের কাজ চলছে।

    চলতি মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বছর শেষে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ভোট শুরু হতে পারে।

  • ফিকে হয়ে আসছে জীবিত উদ্ধারের আশা,নিহতের সংখ্যা ১১শ ছাড়াল

    ফিকে হয়ে আসছে জীবিত উদ্ধারের আশা,নিহতের সংখ্যা ১১শ ছাড়াল

    বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ জনে এবং এখনও প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
    এই দুর্যোগে বহু মানুষ এখনও বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নেপালের জাতীয় জরুরি পরিচালন কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পাউডেল জানান, জীবিত উদ্ধারের আশা প্রতি মুহূর্তে কমছে। যদিও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে ফাঁকা জায়গা ও কক্ষ থাকায় সেখানে কেউ বেঁচে থাকতে পারেন—এমন ক্ষীণ আশায় ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন উদ্ধারকারী দল উচ্চপ্রযুক্তির বিশেষ শ্রবণযন্ত্র দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে জীবনের কোনো স্পন্দন বা শব্দ শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পগুলো থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও ৬৩৯ জনের বেশি কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

    অন্যদিকে তিব্বত অংশে চীনের পক্ষ থেকে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজের তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ ও কাদামাটি জমা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসায় সরকারের মনোযোগ এখন অনুসন্ধান ও ত্রাণের চেয়ে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হচ্ছে।

    এদিকে আশ্রয়শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, দূষিত পানি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষাকালে রোগবালাই ও মহামারির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। নেপাল ও চীন উভয় দেশই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

  • বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম আগের ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান।

    বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

    সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এই মূল্য সমন্বয় আপাতত কেবল বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পাম অয়েল বা অন্য কোনো ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে মূল্য পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করে আসছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি হিসাব তৈরি করে।

    তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশনের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া বা কস্টিং বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে। কমিশনের হিসাবে ১০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বা সুপারিশ থাকলেও, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকার মাত্র ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সচিব বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বাজারে তেলের সরবরাহ পরিপূর্ণভাবে অব্যাহত থাকে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা হবে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, খুলনায় ১৯০ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রাজশাহী ৯১ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

  • ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুবিধা দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবারও ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

    গত মার্চ শেষে ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

    আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।

  • সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন।

    কাজিম রেজার বড় ভাই ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র সাব এডিটর সৈয়দ মুসা রেজা জানিয়েছেন, আজ মাগরিবের নামাজের পর প্রেস ক্লাবে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে রাজধানীর বাসাবোর কদমতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা কাজিম নুরী ও চাঁদপুরের প্রথম নারী শিক্ষিকা সৈয়দা সাইয়েদা বানু দম্পতির সন্তান। তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত ছিলেন।

  • সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন মাসুদ চৌধুরী

    সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন মাসুদ চৌধুরী

    অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত হলেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাসুদ চৌধুরী। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের নতুন ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

    গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল কক্ষে আনুষ্ঠানিক আয়োজনে শপথ নেন তিনি। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর মাসুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডেপুটি মেয়র কেবল পদবি নয়, এটি নাগরিক সেবার বড় দায়িত্ব। এতে কাজের পরিধি ও জবাবদিহি দুটিই বাড়ে। ক্যাম্পবেলটাউন বহু সংস্কৃতির নগরী; এখানে ৭৩টি ভাষার মানুষ বাস করেন। ডেপুটি মেয়র হিসেবে সবার অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

    নিজের শিকড় ও পরিকল্পনা তুলে ধরে মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম বাংলাদেশে হওয়ায় নাড়ির টান সব সময়ই থাকবে। স্থানীয় আইন মেনে ক্যাম্পবেলটাউনের আবাসনসংকট নিরসন, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

    মাসুদ চৌধুরীর এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবাসীরা। সিডনির বার্ডিয়ার বাসিন্দা সাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পবেলটাউনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কমিউনিটির প্রতিনিধিকে এই পদে দেখা গর্বের। এই অর্জন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মূলধারার রাজনীতি ও নেতৃত্বে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের দেওয়া এক আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। স্থগিতাদেশটি গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত হয়।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার সময় এ স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। পর্যালোচনার লক্ষ্য ছিল, অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হন বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা ব্যবহার না করেন—তা নিশ্চিত করা।

    স্থগিতাদেশ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন।

    এখন স্থগিতাদেশ আর কার্যকর না থাকায়, আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসা আবেদন করতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

    যে দেশগুলো স্থগিতাদেশের তালিকায় ছিল

    আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন।

    আরও ছিল–লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

    আদালত কী আদেশ দিয়েছে

    ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত একটি রায় দেন। রায়ে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন-সংক্রান্ত যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী।

    রায়ে আরও বলা হয়েছিল, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি গ্রহণ করেছেন।

    উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই করে কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।

    সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’

    অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার যুক্তি হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, যে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার শঙ্কাও বেশি।

  • সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    রিজভী বলেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন। তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; বরং এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।

    অতীতের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই গণতন্ত্রের অর্জনেরই নিশ্চয়তা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্তই তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর শুধু মানসিক বা কারাবন্দিত্বের অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শেখ হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনো চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রুখে দিতে দেশীয় নানা চক্রান্ত সক্রিয় ছিল। কিন্তু জনগণ এবং মহান আল্লাহ সঙ্গে থাকলে কেউ যে ক্ষতি করতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের হাতে অত্যাচারিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে কিছু দৃশ্যমান কাজ দেখালেও বাকি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা তার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা যে দেশ গড়ার দূরদর্শী অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তারেক রহমান আজ সেই আদর্শিক পথই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তারে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবসময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিক এ সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে।

    স্পিকার বলেন, বিগত ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম হয়েছে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু সরকারকেন্দ্রিক সম্পর্ক ছিল।

    ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক নির্মাণে ভারত সরকার আগ্রহী। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

    হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    নতুন পে স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট জারির। নতুন বেতনকাঠামোসংক্রান্ত আদেশ আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণমাধ্যমে বলেন, অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

    এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    পর্যালোচনা শেষে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে।

    অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন বেতনস্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

    ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

  • মৃত্যুর মুখে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে নেপালি ক্যাপ্টেন প্রিয়া

    মৃত্যুর মুখে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে নেপালি ক্যাপ্টেন প্রিয়া

    নেপালের দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষদের উদ্ধারে শতাধিক মিশনে অংশ নিয়েছেন। টানা অভিযান চালায়ে নিখোঁজদের খোঁজ এবং জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

    এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, দুর্গত উপত্যকায় একসঙ্গে বহু হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ চলাচল করায় আকাশপথ ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও কাদায় ঢাকা অনিরাপদ এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করা ছিল বড় ধরনের কারিগরি চ্যালেঞ্জ।

    তিনি জানান, উদ্ধার করা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার মানসিকভাবে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলমান। উদ্ধার অভিযানে ২ শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। লাশ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় বডি ব্যাগসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ করা দরকার।

  • দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে স্পট মার্কেট থেকে সরকার প্রতি মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি ১০-১২ ডলারে কিনত। কিন্তু বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ২৪ ডলারেরও বেশি দরে। ফলে ৪১০-৪৯০ কোটি টাকার প্রতি কার্গো এলএনজির দাম এখন পড়ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানি করতেই সরকারের ব্যয় ৯০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে বাড়তি দামে দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খোলাবাজার থেকে এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে কেনা হচ্ছে এক কার্গো এলএনজি । এজন্য দাম চূড়ান্ত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে কেনা হচ্ছে আরো এক কার্গো এলএনজি। এই এলএনজির দাম পড়ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার। এতে প্রতি কার্গোর পেছনে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর স্বাভাবিক দাম ছিল ৪১০-৪৯০ কোটি টাকা। এ দুই কার্গো এলএনজি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগস্টের শুরুতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং থেকে ২১.৫৫ ডলার দরে এক কার্গো, বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ২১.৮৭৮ ও ২১.৭৭৮ ডলার দরে দুই কার্গো এবং ১৯ আগস্ট আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ২৩.৯৩ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছিল।

    বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু করে। তার আগে দেশে উৎপাদিত গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন

    করা হতো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ কার্গো এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় হয় ১৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এলএনজি বাবদ সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২,৫০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ এক কার্গো কমলেও ব্যয় হয় আগের বছরের দ্বিগুণ, তথা ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানি করা হয় ৪৪ কার্গো এলএনজি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয় ৩৯ কার্গো এবং ব্যয় হয় ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০ কার্গো এলএনজির আমদানি ব্যয় পড়ে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায় এলএনজি আমদানি। সে বছর ৮৬ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয় ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আর সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০৯-১১৩ কার্গো এলএনজির আমদানিতে ব্যয় হয় ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ বছর এলএনজির পেছনে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হয় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মোট ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল জাতীয় বাজেটে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির জন্য প্রাথমিক ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ৬,৫০০ কোটি টাকা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই বার্ষিক ভর্তুকি বরাদ্দের ৪৩ শতাংশ অর্থ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় শীর্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমিয়ে দেয় । জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার থেকে আটটি কার্গো এসেছিল। এরপর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ব্যাহত হওয়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো কেনা শুরু করে। যেমন—চলতি আগস্ট মাসেই গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৯টি কার্গো আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম আট মাসে ৪০-৫০টির মতো এলএনজিভর্তি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান গতকাল আমার দেশকে বলেন, চলতি বছর ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত আমদানি কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, ভাসমান টার্মিনালগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে নানাবিধ কারণে সেগুলোর উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যখন যে অর্থের প্রয়োজন হবে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় সে অর্থ ছাড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    গত ১৭ বছরে জ্বালানি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে মন্তব্য করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম আমার দেশকে বলেন, আমরা যদি নিজস্ব গ্যাসকূপ থেকে পর্যাপ্ত উত্তোলন করতাম, তবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে এত এলএনজি আমদানি করতে হতো না।

    ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের মাটির নিচে প্রচুর তেল-গ্যাস মজুত আছে। কিন্তু বিদায়ী সরকার সেগুলো অনুসন্ধান বা উত্তোলন না করে আমদানির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। দেশের বিজ্ঞানীদের বসিয়ে রেখে তেল-গ্যাস আমদানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নষ্ট করেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে না চাইলে এখনই তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সমতলে অনুসন্ধানে দেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে যেহেতু আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে অনুসন্ধানের জন্য বিদেশিদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

  • সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

    দলটির মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে দাওয়াতি সমাবেশে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

    জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

    এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও ডা. হুমায়ন কবিরও এদিন জামায়াতে যোগ দেন।

    বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন।

    এ ছাড়া গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল এবং বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

    কওমি আলেমদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী) ও মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান এবং বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার।

    এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় র‍্যালী আলোচনা সভা ও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ র‍্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এর আগে দিবসটি পালনে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে বৃক্ষরোপন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম। সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, পৌর কৃষকদলের আহবায়ক মিলন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান, পৌর যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুল নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

  • বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর বহাল থাকা টানা কয়েক মাসের অভিবাসী ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট নিশ্চিত করেছে, গত ২১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই নীতিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেন। এরপরই গত ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে জানানো হয় যে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশিরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসা পাচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের (ক্লিনিক) দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাবলিক বেনিফিট’ বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নাগরিকরা নির্ভরশীল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের আওতায় কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে কাউকে অভিবাসী ভিসা দিতে অস্বীকার করার একচ্ছত্র কোনো অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।

    স্থগিতাদেশটি উঠে যাওয়ায় এখন থেকে যোগ্য আবেদনকারীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসা পাবেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন যারা ইতোমধ্যেই আবেদন জমা দিয়েছিলেন বা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, তাদের জন্য চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার পথ খুলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি ভিসা আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক বুলেটিনে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

    এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠসহ নির্বাচিত সরকার), যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।’

    ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ (জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক), ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…।’

    দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে), আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল (আমরা সমান), নো বডি ইজ বিগ (কেউ বড় না), নো বডি ইজ স্মল (কেউ ছোট না)।’

    ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।’

    বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ প্রতিবন্ধকতাকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস (প্রতিবন্ধকতা) থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

    অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা যদি আমরা পাস্টে (অতীত) যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

    দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।’

    বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।’

  • ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ করে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত।

    এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

  • বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত

    বিয়ে করেছেন চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গট ম্যারিড’ লাইফ ইভেন্ট যুক্ত করেছেন তিনি। পরে গণমাধ্যমে নিজের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী। মিষ্টি জানিয়েছেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গেও তার কিছুটা সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আপাতত স্বামীর নাম কিংবা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন তিনি। বিয়ের সময়, স্থান ও স্বামীর পরিচয় জানতে চাইলে মিষ্টি জানান, এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না। শুধু জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে বাংলাদেশেই হয়েছে। মিষ্টির বিয়ে প্রেমের নাকি পারিবারিকভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি প্রেমের বিয়ে। তবে কবে থেকে তাদের সম্পর্ক, কিংবা ঠিক কবে বিয়ে করেছেন, সেই তথ্যও আপাতত গোপন রাখতে চান অভিনেত্রী। এর কারণ হিসেবে মিষ্টি জানান, সব তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করে দিলে আর কোনো ‘সাসপেন্স’ থাকবে না। তাই আপাতত স্বামীর পরিচয় ও বিয়ের অন্যান্য তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিষ্টি জানান, তাদের বিয়েটি হুট করে হয়নি। বরং অনেক আগেই বিয়ে করেছেন তারা। তবে ব্যক্তিগত কিছু কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।

  • অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য চীনের বিকল্পটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে কেনা সম্ভব।

  • এলএনজি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

    এলএনজি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। সংস্থাটি নভেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।


    ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের পক্ষে এলএনজি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


    এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিকে ‘ফোর্স মেজার’ হিসেবে দেখছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাতারএনার্জি সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না।


    এনিয়ে ইতিমধ্যে কাতারএনার্জি পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিল হতে পারে।
    সেই সঙ্গে ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে কাতারএনার্জি। এ ছাড়া ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছেন। বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ও খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।


    তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যেও দুই-একটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
    এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জরুরিভিত্তিতে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে। কিন্তু এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।


    কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো জানিয়েছেন, এলএনজি সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত।

  • মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    মৌসুমী পপিকে খোঁচা বাপ্পারাজ জয়ের

    ঢাকাই সিনেমার সফল চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকের শেষে সিনেমায় আসেন। শূন্য দশকে পার করেছেন তুমুল ব্যস্ত সময়। দীর্ঘদিন অভিনয়ে নেই। আর অভিনয় করবেন না বলেও জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু তার একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ‘যতটুকু পাপ কামিয়েছি সব ধুয়ে-মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

    পপির এই মন্তব্যে কারও বুঝতে বাকি নেই, সিনেমায় অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর প্রসঙ্গটি নিয়ে পপিকে খোঁচা দিয়েছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো। অভিনয় যে একটা গুনাহর কাজ, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- আপনারা তো ষোলো আনা বুঝে নিয়ে তারপর ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা যে কিছু না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি, আমাদের কী হবে তাহলে?’

    এদিকে পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।’

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ ৪৪৬২

    নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ ৪৪৬২

    নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন।

    মঙ্গলবার দুই দেশের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে।

    নেপালে অনেক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দেশটিতে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৫৪৬ জন।

    ভয়াবহ এই দুর্যোগের সপ্তম দিনে আজও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুই দেশ মিলিয়ে ৪ হাজার ৪৬২ জন এখনো নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। তারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের এই দেশটিতে ভ্রমণে এসেছিলেন।

    তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ২৬১ জন বিদেশি। তারা ২৩টি দেশের নাগরিক।

    গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পানির স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ ভেসে কয়েক শ মাইল দূরে চলে যায়।

    পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় লাশ সংরক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে নেপালকে। তাই আপাতত লাশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে।

    পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    মক্কা প্যাক্টের ক্ষেত্রে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ ব‌লেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমরা অনুসরণ করে থাকি। এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ, সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো অফিসিয়ালি কিছু পাইনি। তবে এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।’

    এর আগে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাকে স্বাগত জানায় আইপিইউ।

    সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, তরুণ সংসদের উপস্থিতিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে আইপিইউ।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোর সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

  • সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

    ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরো পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছার কথা ছিল।

    ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে।

    মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

    জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

    এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।

  • শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালবাসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    একই সঙ্গে, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথাও তিনি ভুলবেন না বলে উল্লেখ করেন।

  • হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের সিদ্ধান্ত?

    হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের সিদ্ধান্ত?

    বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানের মুখে ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে রঙিন সম্প্রচার যুগে প্রবেশ করে বিটিভি। ওই বছরই শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে যুক্ত হয় বিটিভির রঙিন লোগো। ৪৬ বছরে চিরচেনা এই লোগোটি গেঁথে গেছে অনেকের হৃদয়ে। সেই লোগো কেন পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    গত রবিবার রাতে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়—logo@btv.gov.bd। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ : ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬।’ এ ঘোষণার পর সোশ্যালে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ বিটিভির অনুষ্ঠানের মান বাড়ানোরও তাগিদ দিচ্ছেন।

    বিষয়টি নিয়ে আগামীর সময় যোগাযোগ করে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিনের সঙ্গে। গত ৭ আগস্ট বিটিভিতে মহাপরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন কাজী জেসিন। লোগো পরিবর্তনবিষয়ক যে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কাজী জেসিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    কাজী জেসিন মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত ২৫ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কাজী জেসিন বলেন, বিটিভিকে শুধু আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া নয়, বরং আরও আধুনিক, অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী।

    তবে কী লোগো পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বিটিভিকে নতুন রূপে সাজানোর কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে? কাজী জেসিনের ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিটিভিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি দর্শক হারিয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরও বিটিভিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সূচনা হয়নি। অতীতে কোনো সরকার বিটিভিকে নিয়ে এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বিটিভিকেও নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    বিটিভির রঙিন লোগো অনুমোদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার সময়েই দর্শকদের জন্য প্রথমবার রঙিন সম্প্রচারে যায় রাষ্ট্রীয় এই টেলিভিশনটি। ফাইল ছবি

    জিয়াউর রহমানের অনুমোদিত লোগো কেন হঠাৎ পরিবর্তন?

    ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন ডিআইটি ভবনের নিচতলায় বিটিভির যাত্রা শুরু হয়। এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের জন্মের পরের বছর যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৭৫ সালে ডিআইটি ভবন থেকে বিটিভিকে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮০ সালে দর্শকদের রঙিন পর্দা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন যুগে পদার্পণ করে বিটিভি। বর্তমানে চ্যানেলটির সম্প্রচার এইচডি (হাই ডেফিনিশন) এবং টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

    লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বর্তমান লোগোটিতে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের হাতের স্পর্শ আছে। শিল্পী ইমদাদ হোসেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বিটিভির লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালে বিটিভি যখন রঙিন যুগে প্রবেশ করে, তখন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আগের লোগোটিকে আবার নতুন রূপে অঙ্কিত করেন।’

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুমোদন করা লোগোটি বর্তমান বিএনপি সরকার কেন পরিবর্তন করতে চাইছে— এই প্রশ্ন তুলে খ ম হারুন বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর রঙিন যুগে প্রবেশ করে। সেদিন রঙিন টেলিভিশন এবং মুস্তাফা মনোয়ার পরিকল্পিত বিটিভির রঙিন লোগো (১৯৭১-এর মূল লোগোর নতুন রূপ) উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখন হঠাৎ লোগোটি পরিবর্তন করা কেন এত জরুরি হলো?’

    বিটিভির এখন কী কী করা উচিত, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শও দেন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, ‘এখন দরকার বিটিভির অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং মেধাবী মানুষদের দিয়ে নতুন নতুন কনটেন্ট তৈরি করা। তথাকথিত অডিশন প্রথা বাতিল করে গুণী শিল্পীদের আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা; বিটিভির ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং সেই ভিত্তিতে টিভি গাইড পুনরায় প্রকাশের ব্যবস্থা করা; বিটিভির সব চ্যানেলের শূন্য পদ পূরণসহ সব স্তরে দুর্নীতিমুক্ত করা। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং শিল্পী সম্মানী কাঠামো যুগোপযোগী করা।’

    এ ছাড়া টেলিভিশন সংযোগ ও টেলিভিশন সেটের ওপর আরোপিত লাইসেন্স ফির যথাযথ হিসাব রাখা, পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং অর্গানাইজেশন হিসেবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া এবং বিটিভির ওয়েবসাইটকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

    বিটিভির আয় ও ব্যয় কত?

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত করসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। গত ২২ জুন জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানিয়েছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে তা উপস্থাপন করা হয়।

    সাবেক তথ্যমন্ত্রী জানান, ওই অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। একই সঙ্গে তিনি বিটিভির গত পাঁচ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন।

    মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় দাঁড়ায় ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপন এবং ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই দলের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্যানে প্রথমে বৃক্ষরোপ করেন । পরে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্ত করেন।


    এসময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু প্রমুখ ছিলেন।

    মঙ্গলবার ভোরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির মধ্যে আছে বৃক্ষরোপন ও মৎস্য অবমুক্তকরণ এবং আলোচনা সভা।

    বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাস্পের উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময়ে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ এবং মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।


    ১৯৭৮ সালেল ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠিত হয়। দলের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন জিয়াউর রহমান।

  • খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে এবারের দিনটি বিএনপির জন্য অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে দলটির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া। গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর এটিই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার অনুপস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ পথচলার প্রশ্ন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকট- সব পর্যায়েই বিএনপির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    তবে দলটির এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আশির দশকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর প্রায় চার দশক দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থেকে বিএনপিকে পরিচালনা করেন তিনি।

    সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্ব তার হাতেই ছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হলে আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি।

    তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতা ও নির্বাচনি সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতি, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তাকে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের পর দেশের রাজনৈতিক সংকটের সময় থেকে মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৮ সালে ‘দুর্নীতির মামলায়’ সাজা হওয়ার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এসব মামলা ছিল তার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পলায়নের পর মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে আর ফিরতে পারেননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।

    খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহে তাই স্বাভাবিকভাবেই এসেছে আবেগের ছোঁয়া। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু চেয়ারপারসন নন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক ঐক্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে।

    এ অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দলটির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া, সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখাই এখন তার সামনে বড় দায়িত্ব বলে মনে করছেন দলটির সংশ্লিষ্টরা।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য একই সঙ্গে স্মরণ ও পুনর্গঠনের বার্তা দেওয়ার সুযোগ। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দর্শন এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে ভিত্তি করে নতুন নেতৃত্বে দলটি কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অবর্তমানে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন ভারসাম্য তৈরি করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পথেই বিএনপির পথচলা। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতীয়তাবাদ থাকবে, তত দিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। সেই দীর্ঘ পথচলায় জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠাকালীন ভূমিকার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোর একটি তৈরি হয়েছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।

    এবার সেই নেত্রী নেই। আছে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। আর সেই উত্তরাধিকার সামনে রেখে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি এখন নতুন অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে। প্রতিষ্ঠার দিনটি তাই দলটির জন্য শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের নয়, বরং খালেদা জিয়ার পরবর্তী বিএনপির রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

  • ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ দাবির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। নিজের পাসপোর্ট করতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট।

    শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।

    তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবা ও প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি, দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’

    শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

    তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের অভিযোগ, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

    এছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পেতে শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সরকারি পাওনা পেতে ঘুষের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই শাহেদ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের ওয়েব সাইটটি।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!

  • এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    এআই ক্যামেরা; নিরাপদ সড়কের নতুন যাত্রা

    রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট কমাতে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তা কার্যকর শুরুও হয়েছে।

    আগে ঢাকার সড়কের লাল বাতি আর সবুজ বাতি জ্বলার তেমন গুরুত্ব বা তফাৎ ছিল না। এখন ক্যামেরার নজরদারির কারণে অনেক চালক থামছেন নির্ধারিত স্থানে। এআই ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও আগের তুলনায় বেশি নিয়ম মানার অভ্যস্তত লক্ষনীয়। প্রতিটি মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থেকে চালককে থামিয়ে আইন মানাতে হচ্ছে না।

    এখন মূলত ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিগন্যালগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের সিগনাল মানার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ। চালকরা সিগন্যাল না মানলে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই কার্যকর হবে না। সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন ভায়োলেশন, বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালানোর অপরাধে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে সমস্যা দেখা হয়। এতে সড়কে যানজট হয়, একটি গাড়ি থামালে পেছনের গাড়িগুলোও আটকে পড়ে।

    যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা ব্যবহারে সুফল মিলতে থাকায় ড্রোনে নজরদারির চিন্তাটিও গতিময়তা পাচ্ছে। ড্রোনের সঙ্গে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন-এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। প্রযুক্তিটি চালু হলে সহজ হবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা বা পদক্ষেপ নেওয়া।

    রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হঠাৎ যানজট দেখা দিলে অনেক সময় এর কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ড্রোন ব্যবহার করা গেলে ঘটনাস্থলের রিয়েল টাইম তথ্য মিলবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

    ড্রোনে শব্দ বা ভয়েস বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে যানজট সৃষ্টি করলে আকাশ থেকে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত মামলা বাড়ানো নয়, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করাই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য।

    এরইমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে। সেটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ড্রোন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এরইমধ্যে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। শাহবাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে চালকদের সিগন্যাল মেনে চলার একটি চর্চা বা অভ্যস্ততা লক্ষনীয়।

    এআই ক্যামেরা চালুর পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ট্রাফিক সিগন্যালে। ব্যাপক না হলেও বেশ পালটে গেছে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার চিত্র। যানবাহনের সিগন্যাল অমান্য করার যে চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত বিভিন্ন স্পটে এআই ক্যামেরা বসানোয় সিগন্যাল অমান্য করার সেই প্রবণতা কমে গেছে। চালকরা মামলার ভয়ে সিগন্যাল মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবস্থাটিও পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মূল্যায়ন করা হবে। প্রযুক্তিটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমে আসবে বলে আশাবাদী অনেকে।

    মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটা মালিকপক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক অথবা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক—সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের কণ্ঠেও শোনা গেছে এ আশাবাদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ এ পদক্ষেপকে যুগান্তকারী বলেছেন তিনি।

    জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উলটো পথে চলাচল, ওভারটেকিং ও সাইন-সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধ ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করে সেই তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য জানানো হবে। নির্ধারিত মুঠোফোন আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

    তিনবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, তা বিআরটিএর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আর বর্তমানের হালখাতায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ১৮ আগস্ট হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রথম দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা হয় ৪৪৬টি। পরদিনই নেমে আসে ৪২-এ। দশম দিনে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৪টি। সেই হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ মামলা কমেছে।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে চালকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের আওতায়। ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের অংশ গাজীপুর অঞ্চল এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়ক কুমিল্লা অঞ্চল। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য হচ্ছে, ১৮ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা সংখ্যা ৬৯৫টি। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫৮টি এবং ৩৭টি উলটোপথে চালানোর কারণে।

    প্রথম দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ৪৪৬টি মামলার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি এবং উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২৯টি মামলা হয়েছে। পরদিন ৪৪৬ থেকে মামলার সংখ্যা ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমার দিনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা হয়েছে ৪২টি। ২০ আগস্ট অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২০টি মামলা হয় এবং উলটোপথের ঘটনা একটি। এর পরদিন অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৯ এবং উলটোপথে যাওয়ার কারণে দুটি। ২২ আগস্ট ৪২টি এবং এর পরদিন মামলা সংখ্যা ৩৫। ২৪ আগস্ট উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে একটি এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ২০টি মামলা হয়। ২৫ আগস্ট মামলার সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ১৪টি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উলটোপথে গাড়ি চলাচলের মামলা শূন্যে নেমে আসে। বুধবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা ১৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৩৪টি।

    তথ্যগুলো ভাবনার বেশ খোরাক দিয়েছে। মহাসড়কের প্রতি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হয় না। কোনো কোনো জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখলে চালক আইন মেনে চলার চেষ্টা করতেন। আবার পুলিশ না থাকলে আইন ভাঙতেন। এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে সড়কে চালকের মধ্যে আইন মানার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যে কারণে মামলা কমে আসছে।

    অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিতে গেলে গাড়ির প্রভাবশালী মালিকরা নানাভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতেন। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা হওয়ায় মানুষের সেই সুযোগ থাকছে না। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালালে মামলা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে। তখন মামলা সংখ্যা প্রতিদিন চার শতাধিক ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ৪শর বেশি মামলা হতো। বলা বাহুল্য ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প। এআই ক্যামেরা চালু হওয়ার পর তাদের পরিবহনের সব চালককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। নইলে ভিডিও মামলা হলে জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। ভিডিও মামলা চালুর পর রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছে চালকরা। এ সতর্কতা ভয়ের বদলে নৈতিকতা অংশ হয়ে উঠলে মুখে মুখে উচ্চারিত ‘নিরাপদ সড়ক’ কার্যকরভাবে বাস্তব হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারন ভয়ে বা আরোপে প্রকৃত অভ্যস্ততা আসে না কখনো।

  • জনগণের আস্থা ধরে রাখা বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ: রিজভী

    জনগণের আস্থা ধরে রাখা বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ: রিজভী

    বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এর জন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, “৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে কয়েকটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে তিনি বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। ”

    শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি গৌরবজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।

    রিজভী আরও বলেন, “১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আজ যারা সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছেন, এর পেছনে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ”

    তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    আমরা তার নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি। ”

    এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “পরবর্তীতে আবারও চক্রান্ত ও নানা ধরনের নীলনকশার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্তব্ধ করে দেন। সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। ”

    বিএনপিকে ‘ওয়াদা রক্ষাকারী দল’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করার চেষ্টা হলেও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। ”

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “তিনি নিজে অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি থেকেছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও বন্দির প্রাপ্য মানবাধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন; তবুও কোনো আপস করেননি। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন মূল প্রেরণা। ”

    রিজভী বলেন, “খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি ছিলেন, তখন দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি পিতা-মাতার আদর্শের পতাকা ধারণ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোটা জাতিকে সংগঠিত করেছেন। ”

    তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল থেকে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা জুলাই বিপ্লবের প্রবল তরঙ্গে রূপ নেয়। রাজপথে জনতার শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়। ”

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া গোটা জাতির কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ছিলেন। তিনি সবাইকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের পতনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা তার পুত্র তারেক রহমানের হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন। ”

    বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। ”

    ‘চ্যালেঞ্জ আছে’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ জনগণের কাছে দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ”

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি শুধু বিএনপি বা সরকারের সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ”

    তিনি জানান, সরকার সংকট মোকাবিলায় বসে নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে এবং পুনরায় গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে, তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই সরকারের মন্ত্রী হওয়া স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। দল তার জায়গায় থাকবে, সরকার তার জায়গায় থাকবে। যারা দলের দায়িত্বে আছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। আর যারা সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্বও পদ অনুযায়ী পালন করবেন।

    বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি পরিশেষে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের এই আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এজন্য সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। ”

  • দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

    দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

    দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তাঁর সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাতে আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

    বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আইপিইউ আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

    তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আন্দা ফিলিপ। গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর আগের পদ্ধতি বহাল

    শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর আগের পদ্ধতি বহাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগে তিন ধাপে পরীক্ষা নেয়ার আগের পদ্ধতি বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—এই তিন ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে পরিপত্র জারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই পরিপত্র জারির জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এ সংক্রান্ত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় সিলেবাস অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আলোচনা করা হয়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর সরাসরি ভাইভা না নিয়ে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—এই তিন ধাপে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে পরিপত্রের সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    এর আগে, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতি পরিপত্র আকারে জারি ও নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস অনুমোদনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। সভাটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গেট রাত ১১টায় বন্ধ হবে। এত দিন গেট বন্ধের সময়সীমা ছিল রাত ১০টা।

    গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিনজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল।

  • ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশির ভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাব, তাদের সময় দিয়ে যাব। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

    তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজে থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

  • নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন হবে

    নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন হবে

    নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

    অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বাস্তবায়ন… আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না।’

    নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে হবে।’

    জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ করবে।

    নতুন জাতীয় পে-স্কেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতনকাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হবে না। দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মচারীর বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করবে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে । তবে এখনও সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। এ সফর নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

    মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    এদিকে গত ২৯ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সভা পুলিশের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ার বিষয়টিকেও বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বা পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থান করা বিভিন্ন অপরাধী ও দুষ্কৃতিকারীদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না। একইভাবে ভারতও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতিকারীকে আশ্রয় দেবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের মধ্যে অপরাধী বা পলাতকদের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও এ সময় উঠে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশই যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে না। বরং বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই এসব উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

  • স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের (এমপিও) নির্বাচনে অযোগ্য করার ইসির প্রণীত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পাওয়ার।

    মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানান তিনি। ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গোলাম পারওয়ার।

    তিনি বলেন, এটা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এটা বাতিল না হলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। প্রায় ৩০ হাজার এমপিও শিক্ষক চাকরি করছেন ।

    এছাড়া ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যকে পদায়ন করায় তাকে অপসারণের জন্য সরকারকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন নতুন পে-স্কেল সুবিধা

    জাতীয় ডেস্ক:

    দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা। আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কিন্তু সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।’

    এ রকম পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আজ সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন বিষয়টি জেনে জানাবেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।

    শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।


    বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

    এখন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা আছে। এখন যিনি যে গ্রেডে চাকরি করছেন, সে অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামোয় এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন।অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।