জাতীয় সংবাদ

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন। যেখানে অন্যান্য খাতের মতো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্যও বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসি এর আগে সরকারের কাছে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল। তবে বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭৫৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। আর ইসির অনুরোধের বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। যা সংশোধিত বাজেটে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এবার সাংবিধানিক এই সংস্থার জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রাথমিক বরাদ্দ বৃদ্ধির এই হার ৪৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    সরকারের নির্দেশনায় ইসি আগামী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়ে প্রথম দফার স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। আগামী অর্থবছরজুড়েই এসব নির্বাচন আয়োজনের বিপুল ব্যয় মেটাতেই এবারের বাজেটে প্রস্তাবিত বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অবশ্য বিদায়ী অর্থবছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছর শেষে কমিশন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৮৯৪ কোটি টাকা ফেরত দেবে।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন অর্থবছরের এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত। কমিশন বরাদ্দকৃত তহবিলের সর্বোত্তম ব্যবহার করবে।

  • দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন। এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট। এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    আবার কিছু কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

    সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ককর কমানোর পণ্যসংখ্যাই বেশি।

    দাম বাড়তে পারে

    সিগারেট

    সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে সিগারেটের দাম বাড়বে।

    নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী এর ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করছেন।

    তেলচালিত গাড়ি

    পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।

    বিদেশি কাজুবাদাম

    দেশীয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়বে।

    বিদেশি পাঙাশের ফিলে

    দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।

    বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার

    কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে এর দাম বাড়তে পারে।

    বিদেশি মধু

    বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বিদেশি সুপারি

    বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে এই সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।

    বিদেশি খাদ্য

    সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।

    বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল

    লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়নমূল্য বাড়ানো হয়েছে।

    রড

    রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এতে রডের দাম বাড়তে পারে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও যন্ত্রাংশ, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।

    দাম কমতে পারে

    ৬০টি নিত্যপণ্য

    ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।

    শিশুখাদ্য

    আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

    জিরা, দারুচিনি

    জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    খেজুর

    খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।

    সোনার গয়না

    সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট ছিল আগে ৫ শতাংশ। ফলে আড়াই লাখ টাকার সোনায় ভ্যাট দাঁড়াত সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এখন তা কমিয়ে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি

    বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেলে (ইভি) নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম অনেকটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার স্টেশন বসাতে ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআরটিএ) নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

    ল্যাপটপ ও কম্পিউটার

    ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

    ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।

    ওষুধ

    ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি–সুবিধা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

    বাদ্যযন্ত্র

    গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর কমানো এবং শুল্কায়ন মূল্যে পরিবর্তনের কারণে বিদেশী মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস বা পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

  • জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    জনপ্রশাসনে বাড়তি বরাদ্দ ৫৫হাজার কোটি টাকা, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বললেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

    অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা; আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬০০০ কোটি টাকার দরকার পড়বে।

    কত বরাদ্দ

    প্রতিবছরের ‘বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারে বিবরণী-২খ’ নামে একটি অংশ থাকে, যা আছে এবারও। এতে দেখানো হয় ‘পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এ বিশ্লেষণে অফিসারদের বেতন, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি—এই তিন ভাগে বরাদ্দের হিসাব দেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য তিন ভাগে এ হিসাব দেওয়া আছে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ হিসাব মোট ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাড়ল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

    এদিকে বিবরণী-৪–এ আছে ‘পরিচালন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’। এতেও একইভাবে হিসাব দেওয়া আছে তিন ভাগে। এ বিবরণী অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেখানো আছে আরেকটু কম অর্থাৎ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ বিবরণীতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর মোট পরিমাণ ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

    তাহলে অর্থমন্ত্রী যে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন, সেই টাকা তাহলে কোথায় বরাদ্দ দেখানো আছে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এটা আছে মূলত বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারের বিবরণী ২ ক-এর মধ্যে। এ অংশে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার দেখানো আছে।

    সম্পদের ব্যবহার অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ বাবদ আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা আছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অথচ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ল ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা থেকে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা থাকছে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে।

  • বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে দেশের ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিদের ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এজন্য কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এর আগে গত পহেলা বৈশাখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

    কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

    এ এম

  • বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবির অভিযানে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ সিগারেটসহ এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি করা হয়। এর আওতায় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত ও বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নজরদারি, পুশইন প্রতিরোধ ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১০ জুন) রাতে কুলাউড়া উপজেলার মুড়াইছড়া ও দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিজিবির একটি টহল দল একজন চোরাকারবারিকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করা হয়।

  • আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিল করলে করছাড়ের সুবিধা পাবেন, আর দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাবেন।

    দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত করছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এ সময়ে করদাতাদের শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে।

    তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।

    করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    বচাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে এক বিরল পুনর্মিলনের ঘটনা। যা স্থানীয়ভাবে এখন আলোচিত প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়, পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।

    পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। পালক পরিবারে তিনি স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন, তবে প্রকৃত পরিচয় অজানাই থেকে যায়।

    বহু বছর পর পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সঙ্কটের প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সেই অনুসন্ধান। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র। নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

    প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস ও এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

    কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশবের স্মৃতির সাথে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে বাড়ির পুরানো গেট, খালপথ, আমগাছ ও লবণ তোলা ঘাট নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একইসাথে জানা যায়, এক সময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সাথে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন তার নিজ পরিবারে ফিরে আত্মীয়দের সাথে আবার যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার ও স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনি এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।

  • পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক  হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম (কোল্ডস্টোরেজ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন-পরবর্তী অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নাকি প্রকল্প ছাড়াই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অধীনে না গিয়ে সরাসরি বাজেট বরাদ্দ বা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই কোল্ডস্টোরেজগুলো স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ওই বৈঠকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ আবদুর রহিমকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ডিএইর মহাপরিচালক আবদুর রহিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকল্প ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ঘর তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি দপ্তরের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করব। তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সংরক্ষণাগার বা গুদামের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে পচনশীল সব উৎপাদিত পণ্য দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণের মেশিন কেনার প্রস্তুতিও চলছে।কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি সংরক্ষণ অবকাঠামো। বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে দাম কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

    ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। এর বিপরীতে বিদ্যমান হিমাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ লাখ টন। সরকারি হিসাবে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মোট উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলুই নয়, পেঁয়াজ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

    খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি মেটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগ্রহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬টি জেলায় ৪৫০টি ‘অহিমায়িত মডেল ঘর’ তৈরি করা হয়। সরকারি খরচে একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। গত অর্থবছর শুধু রংপুর জেলাতেই ৭৫টি অহিমায়িত মডেল ঘরের মধ্যে ৪৫টিতে আলু সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই অহিমায়িত মডেল ঘরগুলো চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন গুদাম ঘর ও চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন দ্রুত স্থাপন করা সম্ভব হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে।

    এ এম

  • বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উত্থাপন করার জন্য আহ্বান জানান।

    বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেয়ে থাকেন।

    মোট আয়ের দশমিক ০৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা- এ তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটি রেয়াত হিসেবে চূড়ান্ত কর থেকে বাদ দেওয়া হয়। আগামী বছর অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। হিসেব মতে, প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা।

  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন অর্থবছরে (২০২৬-২৭) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিলো ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষার বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, শিক্ষায় মোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, কারিগরিতে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মোট জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

    যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশের মতো। বিদায়ী আওয়ামী লীগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তখন জাতীয় বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল।

    তখন জাতীয় বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ ৮৮ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি।

  • শিক্ষায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ যেভাবে

    শিক্ষায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আজ আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, সেখানে অবশ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাক্রমকে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এমন পরিবেশ করতে চাই যাতে তারা আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। আমরা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা(১১-০৬-২৬)

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফার্মপাড়া ও বেলগাছি রেলগেট এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে দুটি বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ১১ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।

    অভিযানকালে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।

    এ সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ফার্মপাড়া এলাকার মো: হারুন অর রশিদ এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর ফুড প্রোডাক্টসকে ২৫ হাজার টাকা এবং বিটু ইসলাম এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাকিল চানাচুরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রুটিগুলো সংশোধন করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. গোলাম ফারুক এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শিক্ষায় এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    শিক্ষায় এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে টোটাল বাজেট এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থ বছরে যা ছিলো ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শিক্ষায় মোট বাজেট ছিলো ৮৭ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    আরো জানা যায়, এ অর্থ বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

    এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মোট জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

    যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশের মতো। বিদায়ী আওয়ামী লীগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তখন জাতীয় বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল।

    তখন জাতীয় বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ ৮৮ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি।

  • স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব

    স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর এই বাজেট গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ হাজার কোটি বেশি, যা প্রায় দ্বিগুণ।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট প্রস্তাবনা করেন।

    অর্থমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, জিডিপি’র ০.৫৮ শতাংশ।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার একটি বড় অংশই দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হয়নি। সেই কারণে আজ দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোগী বিদেশমুখী হওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশব্যাপী একটি টেকসই ও আধুনিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়। দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাজেটে সীমিত আয়ের মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমানো, মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

  • গাংনীতে গরু চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

    গাংনীতে গরু চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, পাকুড়িয়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মিলন হোসেনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাকে গরু চুরির মামলায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রুস্তম আলীসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বাঁশবাড়িয়া গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে মিলনকে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।

    তারা দাবি করেন, মামলার বাদীর গরু চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনার পর অন্যের গরু এনে বাড়িতে রাখার অভিযোগও করেন তারা। পাশাপাশি পুলিশ যথাযথ তদন্ত ছাড়া মিলনকে আদালতে পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।

    এদিকে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিলন হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার অবস্থা গুরুতর।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই চয়ন সেন বলেন, “পাকুড়িয়া গ্রামের মিঠুনসহ কয়েকজন মিলনকে ধরে থানায় দিয়ে গেছে। গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”

    আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিকিৎসার কাগজপত্র রয়েছে। তাকে সুস্থ অবস্থায় আদালতে পাঠানো হয়েছিল।”

    এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

  • প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

    প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত বাজেট ছিল ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। ফলে বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করা হয়। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে এবার।

    প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সার্ভিসের জন্য পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট পেশ। প্রথম বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। এটি দেশের ৫৫ তম বাজেট।

  • নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ কমে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা

    নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ কমে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা

    নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। তবে ২০১৪ সালের ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক।” নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

    দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, এই ডাটাবেজ নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ভিজিডব্লিউবি (ভার্নারেবল উইম্যান বেনিফিট) কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

    বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

    জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা পর্যায়ে ‘আয়-বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল ও পুষ্টিচাল দেওয়া হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।

    মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ‘প্যারেন্টিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়।

    বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগ শ্রম অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

    পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

    আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যা-শিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ জন কন্যা-শিশুকে আবাসন প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

    ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানে চলা এসব কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩০০ জন ছেলে ও ৩ হাজার ৩০০ জন মেয়ে শিশুর আলাদা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে।

    বাক্, শ্রবণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় জানান অর্থমন্ত্রী।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের প্রণোদনা কার্যক্রম:

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ শিশুদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ৮৪টি পরিবারকে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহে এককালীন ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে।” আহত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

  • চৌদ্দগ্রামে সিএনজিচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    চৌদ্দগ্রামে সিএনজিচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো: হৃদয় (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে হৃদয়কে বুধবার (১০ জুন) রাতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    নিহত হৃদয় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মরহুম হেদায়েত উল্লাহ প্রকাশ হেদুর ছোট ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন— চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৯)। জসিম স্থানীয় মাদক ও চোরা কারবারিদের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের ভাই মো: ফারুক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মো: নয়ন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেলের দোকানে যায়। এ সময় ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

    এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক ঝামেলাটি মিটিয়ে দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজিচালক মো: হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।

    একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের চিহ্নিত মাদককারবারি ও বখাটে রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি, লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।

    তখন সিএনজিচালক মো: হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় মো: রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে হৃদয়ের বুকের ডান পাশের পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করেন। এতে হৃদয় চিৎকার দিয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।

    উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সাথে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

    চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। মূল হত্যাকারী রাজিবসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট রিয়া নামের ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হৃদয়ের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

  • চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

    চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

    চৌগাছা সংবাদদাতা

    যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় জুয়েল রানা (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওদুদ খন্দকারের ছেলে।

    থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জুয়েল রানা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতবিরোধ নিয়ে জুয়েল রানার সাথে একই গ্রামের নজরুল ইসলাম মেম্বার, ইউসুফ আলী, কাশেম আলী ও বাবু রহমানদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে জুয়েল রানা চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের মুক্তদাহ মোড় নামক স্থানে একটি চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলাপ করছিলেন।

    এ সময় রানা তার প্রতিপক্ষদের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় জুয়েল রানার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে মারাত্মক আহত হন তিনি। ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের হাত থেকে স্বামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্ত্রী মায়া খাতুনও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে স্ত্রী মায়া খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে সেখানে জুয়েল রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর রেফার্ড করেন ডাক্তাররা। যশোর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎস জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদরে জন্য দু’জনকে আনা হয়েছে। আসামিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে সংবর্ধনা

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে সংবর্ধনা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে নেওয়া ও সকল বাঁধা মোকাবেলা করে পরিষদের বেদখল সম্পদ পূণ উদ্ধার করে জনকল্যাণে ব্যবহার করা হবে।

    চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি।

    অনুষ্ঠানে জেলার সাংবাদিক, পেশাজীবী, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করে নানা আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান, শাহজাহান মুকুল, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার আল আমিন, রাজীব হাসান কচি, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বক্তাগন তাঁর সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।ঐ

    সংবর্ধনার জবাবে শরীফুজ্জামান শরীফ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • বাগেরহাটে ৪ কিলোমিটারের একাধিক বাঁধ অপসারণ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

    বাগেরহাটে ৪ কিলোমিটারের একাধিক বাঁধ অপসারণ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পঞ্চকরণ ইউনিয়নে শুভরাতকাটীর ৪ কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক বাঁধ কেটে দিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে দেন।

    এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তেলিগাতি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ দাস, সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেন।

    জানা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর স্থানীয় প্রভাবশালীরা ৪ কিলোমিটারের একাধিক বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছিলেন। বাঁধ অপসারণের ফলে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের মিস্ত্রী গ্রাম সহ ৫ গ্রামের প্রায় ৩শ’ বিঘা ফসলী জমি দুই ফসলীর আওতায় এলো।

    দীর্ঘদিনের জলবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পেলেন ৫ গ্রামের হাজারও মানুষ।

  • নড়াইলে সাংবাদিক পত্নী বিপাশা ট্রাকচাপায় নিহত

    নড়াইলে সাংবাদিক পত্নী বিপাশা ট্রাকচাপায় নিহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) আমেনা হাসান বিপাশা (৩২)।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেলে যশোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে ওইদিন (বুধবার) সকালে ভ্যানযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নড়াইল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে কালনাঘাট এলাকায় মধুমতি ইটভাটার সামনে বিপাশাকে ট্রাকচাপা দেয়।

    বিপাশা নড়াইলের সাংবাদিক তানভীর আহমেদ রুবেলের স্ত্রী। তারা লোহাগড়া উপজেলা সদরের লক্ষীপাশায় বসবাস করতেন।

    নিহত বিপাশার পরিবার ও স্বজনেরা জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবারও লক্ষীপাশার বাসা থেকে ভ্যানযোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে নড়াইল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের কালনাঘাট এলাকায় মধুমতি ইটভাটার সামনে পৌঁছালে ভ্যানটিকে চাপা দিয়ে ট্রাকটি পালিয়ে যায়।

    গুরুতর আহত বিপাশাকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

    নড়াইলের তুলরামপুর হাইওয়ে থানার ওসি হাবিল হোসেন জানান, ট্রাকচাপায় আমেনা হাসান বিপাশা নিহত হয়েছেন। তবে, ট্রাকটিকে জব্দ করা যায়নি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    এদিকে, দীপ্ত টিভি ও আজকের পত্রিকার সাবেক নড়াইল জেলা প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ রুবেলের স্ত্রী আমেনা হাসান বিপাশা নিহতের ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। রুবেল-বিপাশা দম্পতির দু’টি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নড়াইলে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

  • গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৮

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় ফেরদাউস মিয়া (৬০) নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার কমপক্ষে আট যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঠের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরদাউস মিয়া উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে গাইবান্ধা শহর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পলাশবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মাঠের বাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন ট্রাভেল নামের একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীরা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটোরিকশাচালক ফেরদাউসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) ভর্তি সরকারি চাল ও আটা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রী সরকারি ওএমএস কর্মসূচির পণ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন৪৭) তার ওএমএস এর গুদাম চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় হলেও তিনি আলমসাধুতে করে সাতগাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন , এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলমসাধু থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।

    এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক মালিক এর ছেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। চাল জব্দ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো সহ ডিলারের শাস্তি দাবি করেন , সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

    অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও জেলা পুলিশের একটি টিম।

  • আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল হান্নান শাহ (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল হান্নান শাহ ওই এলাকার আব্দুল গফ্ফার শাহ’র ছেলে। তিনি আনোয়ারা সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন হান্নান। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি সুপারি গাছ কাটতে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে গাছটির পাশের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ফুফাত ভাই মো: ইমরান হোসাইন জানান, হান্নান তার চাচাত ভাইয়ের দোকানে থাকতেন। পরীক্ষা উপলক্ষে কয়েকদিনের জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা না থাকায় সকালে সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

    আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য উধাও!

    বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য উধাও!

    বেনাপোল স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃক জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার ও প্রসাধনী সামগ্রী রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, জব্দকৃত দামি পণ্য সরিয়ে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

    কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স ভারত থেকে একটি চালান আমদানি করে। আমদানি নথিতে বেকিং পাউডার ঘোষণা করা হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার ও প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস চালানটি জব্দ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখে।

    জব্দকৃত চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০১০০১৬৩৩৩। সিএন্ডএফ অ্যাজেন্ট হিসেবে চালানটি গ্রহণ করে বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে বন্দরের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। পরীক্ষাকালে ১০৮ কার্টনে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রিপিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়।

    কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, স্থলবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বন্দরের ভেতরের কারো সহযোগিতা ছাড়া এমন দুঃসাহসিক চুরি ও জালিয়াতি সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে কাস্টমস।

    পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২ জুন পুনরায় চালানটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, জব্দকৃত ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে সেখানে দেশীয় নিম্নমানের পণ্য রাখা হয়েছে। কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া পণ্যের কার্টনে দেশীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম এবং দেশীয় সংবাদপত্র ও কুরিয়ার সার্ভিসের আলামত পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে আনা হয়েছে।

    বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানি করা ভারতীয় দামি পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশী বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব আলামত প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

    বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো: শামীম হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয় এবং পরে জব্দকৃত পণ্য সরিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    দেশের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালী করা, চিকিৎসার মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটের তুলনায় ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বেশি।

    প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বরাদ্দ প্রস্তাব তুলে ধরবেন।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, আর মূল বাজেটে ছিল ১৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। নতুন বরাদ্দের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটে ছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ বিভাগের জন্য ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

    স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল মাত্র ২ হাজার ১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বাজেটে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে।
    স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এডিপি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৪১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায়।

    দুই বিভাগের সম্মিলিত উন্নয়ন বরাদ্দ হিসেবে মোট ৩৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সাড়ে তিন মাসের মাথায় কঠিন সংকটে সরকার

    সাড়ে তিন মাসের মাথায় কঠিন সংকটে সরকার

    নবগঠিত বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস অতিক্রম করলো। এরই মধ্যে সংকটের মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের সরকারের নাজুক পরিস্থিতির কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন ইতিমধ্যে। তিনি বলেছেন- সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে দিন কাটালে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে তিনি যা কিছুটা আভাস দিয়েছেন প্রকৃত পরিস্থিতি কিন্তু এরচেয়েও অনেক গুরুতর। শীর্ষনিউজ ও শীর্ষকাগজের নিজস্ব অনুসন্ধানে এমন তথ্যই বেরিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সামনে কঠিন সংকট।’ কিন্তু প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সংকট ইতিমধ্যেই এসে পড়েছে। সরকারের ভেতরে-বাইরে নানামুখী সংকট শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা একনাগাড়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বহাল থাকার দীর্ঘ ১৫ বছরের মাথায় যতটা সংকটে পড়েছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় তারচেয়েও অন্ততঃ তিনগুণ বেশি সংকটে পড়েছে বা পড়ছে। হাসিনার ওই সংকটটা ছিল একমুখী- শুধুমাত্র ভূ-রাজনীতিগত। আর বর্তমান সময়ে বিএনপি সরকারের সংকট বহুমুখী। এরমধ্যে ভূ-রাজনীতির ভয়াবহ সংকটও বিদ্যমান। তাছাড়া অর্থসংকট তো রয়েছেই। পাশাপাশি অনেক ভুল পদক্ষেপ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারকে ভাবমূর্তি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ এমনকি সাধারণ সমালোচনার মানুষের কথা বাদ দিলেও, সরকারের নিজস্ব লোকজনের মুখেই অভ্যন্তরীণ চরম সমালোচনা, ক্ষোভ-অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট আমলে যারা জেল-জুলুম, চরম নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও মাটি কামড়ে পড়েছিলেন ভালো কিছু দেখার আশায়- এইসব ত্যাগী নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ-অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নানারকমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সরকারের একের পর এক ‘ভুল’ পদক্ষেপ এইসব নেতা-কর্মী, সমর্থককে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। ‘ভুল’ পদক্ষেপগুলোকে ‘ভয়াবহ আত্মঘাতী’ বলেও অনেকে উল্লেখ করছেন। এসবের বিবরণ পরবর্তীতে আলাদা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। সংকটের ‘ধরন’ এবং ‘মাত্রা’ এ প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হচ্ছে।

    ভূ-রাজনীতির সংকট

    বিএনপি সরকারের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকটটা ভূ-রাজনীতি নিয়ে। যা তিন মাসের সরকারের সময়ে মোটেই আশা করা হয়নি। আদতে বর্তমান বিএনপি ক্ষমতায় এসেছেই কঠিন এক সংকটকে বোঝা হিসেবে নিয়ে। আওয়ামী লীগকে ১৫ বছরেও যা ভুগতে হয়নি। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তিন টার্ম পূর্ণ করেছে কোনো রকমের ভূ-রাজনীতিগত সংকট ছাড়াই। বাংলাদেশে ভূ-রাজনীতির প্রভাব রয়েছে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই। চীনের প্রভাব তেমন একটা নেই। শুধুমাত্র অর্থনীতির ক্ষেত্রেই তারা সীমাবদ্ধ। আওয়ামী লীগের তিন টার্মের প্রায় পুরোটা সময় ভারতের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধীপক্ষের দফায় দফায় কঠোর আন্দোলনেও হাসিনা সরকারের কিছুই হয়নি, যদিও হাসিনার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল অনেক আগেই।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য চায়, এটা সবারই জানা কথা। এক সময় তাদের চাহিদা ছিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে তা পরিবর্তিত হয় সামরিক চুক্তি- অকাস এবং জিসোমিয়া-য়। এই দু’টি সামরিক চুক্তির খসড়াও শেখ হাসিনার আমলে শেষের দিকে আদান-প্রদান হয়েছিল। কিন্তু ভারত কোনো ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে দেবে না, তাই শেখ হাসিনা পারেননি চুক্তি চূড়ান্ত করতে।

    ভারত জানে, আমেরিকার পরিকল্পনায় যা আছে সেটি ভারতের জন্য মহাবিপর্যয়কর। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ঢুকতে পারলে ভারতের অখন্ডতাকে তছনছ করে দেবে। আর জানে বলেই নানা কৌশলে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ঠেকিয়ে রেখেছে। বার্মা অ্যাক্ট করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে শুরু থেকেই ভারতের সম্পর্ক ‘সাপে নেউলে’ ছিল। এর কারণ, ড. ইউনূস আমেরিকার লোক। ভারত চাচ্ছিল, বাংলাদেশে বিকল্প অন্য কোনো সরকার আসুক। তাই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে সমর্থন দিয়েছে তারা।

    শুরুতে এটা ধরে নেওয়া হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপিও পুরোপুরি ভারত প্রভাবিত সরকার হিসেবে চলবে। প্রথম আড়াই মাস অনেকটা সেভাবেই চলছিল। কিন্তু তারপর থেকেই ভিন্ন পথে চলতে শুরু করে বিএনপি সরকার। গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দিল্লী সফরে যান। সফরের শুরুটা আন্তরিকতাপূর্ণ হলেও শেষটা ভালো হয়নি। যে কোনো কারণেই হোক সফরটা তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। হয়তো এমনটা হবে, আগে থেকেই জানা ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যে একান্তভাবেই আমেরিকার লোক, এটা কারো অজানা নয়। ভারত সফরের পর পরই ভিন্ন দিকে হাঁটতে শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। এটা আসলে যুক্তরাষ্ট্রেরই কেরামতি! চীন ইতিপূর্বে বরাবরই এ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যবিরোধী ছিল। কিন্তু এ মুহূর্তে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বিশেষ সমঝোতা গড়ে উঠেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে।
    পাকিস্তানের সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের সম্প্রতি চোরাচালান, মাদক এবং কৌশলগত তথ্য বিনিময়ের একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপি সরকারের কোনো রকমের চুক্তি ভারতের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে একই সময়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীন সফরে যাচ্ছেন খুব শিগগিরই। তারিখ এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এখনই আগাম চীন যাওয়ার কথা রয়েছে। ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এমন পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় প্রস্তুতি চলছে। এদিকে পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে বিএনপি সরকার। এমনকি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহুল আলোচিত ‘অকাস’ এবং ‘জিসোমিয়া’ চুক্তিও একই সঙ্গে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে চাউর হয়েছে। এই ইস্যুগুলোর প্রত্যেকটিই ভারতের জন্য ‘স্পর্শকাতর’ এবং মহাচিন্তার বিষয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং এর ভবিষ্যৎ

    গত সপ্তায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি হয়েছে। ঘটনাটি ছোট হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই গণমাধ্যম এবং সরকারের তরফ থেকেও এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটিকে ষড়যন্ত্রের ‘সংকেত’ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যতটা জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার সম্ভাবনা ততই কম থাকবে। কিন্তু আদতে জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা, এ ব্যাপারে সরকার কী তেমন একটা সতর্ক?

    সরকারের লোকজন নিজেদের মধ্যে পাওয়া-না পাওয়া এবং পারস্পরিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন ব্যাপকভাবে। যার যেটা পাওয়ার কথা নয়, তিনি তারচেয়ে বেশি কিছু পাচ্ছেন। আবার অন্যরা ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে সরকারের ভেতরকার লোকজনের রেষারেষি বাড়ছে প্রবলভাবে। সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারেই ‘কেন’ প্রশ্নের জবাব নেই। দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলের কথা বাদ দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই বিএনপি দুই দফায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও বিএনপির রাজনীতি, দেশের সরকার পরিস্থিতি এমনকি সরকারের প্রতিটি খাত নিয়েও কাজ করেছেন বলে দেখা গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আশা করেছিল আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খলভাবে সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এখন যেভাবে সরকার চলছে এতটা অগোছালো কেউই মেনে নিতে পারছেন না। কোনো কিছুর ওপরই সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতারও অনেক অভাব আছে বলে অভিযোগ উঠছে, যদিও এটিই বেশি মাত্রায় চাইছে মানুষ। প্রকাশ্য ঘুষ-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠার পরও সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আর এসব কারণে সমালোচনার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

    অভিযোগ উঠেছে, অনেক বিষয়েই উল্টো পথে হাঁটছে সরকার। ভোটের কালি মোছার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা বলা হচ্ছে বার বার। এ ব্যাপারে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রভৃতি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষের চাহিদা কি, মানুষ কোনটি কীভাবে দেখতে চাইছে, কোন কাজটি আগে চাইছে- সেদিকে নজর না দিয়ে নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাবে বিএনপি সরকার। তাতে এক পর্যায়ে অস্তিত্ব সংকটও দেখা দিতে পারে। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে একটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। বিপ্লবের যে স্পিরিট তা এখনো রয়ে গেছে, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বিপ্লবের পর ‘প্রতিবিপ্লব’ একটা প্রচলিত শব্দ। এবং এটা সবারই জানা কথা। একদিকে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরের ক্ষুব্ধতা- এগুলো সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকলে ‘প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র’ গাঢ় হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহেই। দলের ভেতরের অসন্তোষ-ক্ষুব্ধতা সেই ষড়যন্ত্রকে ঠেকাবে না, বরং জায়গা করে দেবে। তাই সময় থাকতে এখনই এসব ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    সূত্র: শীর্ষনিউজ

  • চাঁদপুরে যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ,স্বামী-শাশুড়ি আটক

    চাঁদপুরে যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ,স্বামী-শাশুড়ি আটক

    চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় নির্যাতনের পর নূর নাহার (১৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়া ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযানে নেমে তাদের আটক করে। নিহত নূর নাহার নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি সাত মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর জননী ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়ার সাথে প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে নূর নাহারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

    নিহতের মা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তারা। সকালে হাইমচরে এসে জানতে পারেন, স্বামীর পরিবার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে। তবে তাদের অভিযোগ, নূর নাহারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, রনি ভূঁইয়া মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত মাদকের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন আসবাবপত্রের জন্য চাপ দিতেন। এসব দাবি পূরণ না করায় মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। গত মাসে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে গোপনে ৩৭ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

    নূর নাহারের স্বজনদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রায় চার লাখ টাকা দাবি করেছিলেন রনি ভূঁইয়া। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।

    অন্যদিকে স্বামীর পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে নূর নাহার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হাসান বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় স্বামী নীরব হোসেন রনি ভূঁইয়া ও তার মাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    তিনি আরো জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রামগড়ে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯

    রামগড়ে মাদক মামলায় গ্রেফতার ৯

    খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৃথক অভিযানে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দয়েরের পর গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) সকালে গ্রেফতার আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর গর্জনতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে আলা উদ্দিন (২৯), আবুল কাশেম (২৪) ও মিঠুন নন্দিকে (২৫) আটক করে পুলিশ।

    পরে, রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাদক সেবনকালে রামগড় পৌরসভার মাস্টার পাড়া এলাকার গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের ছাদ থেকে নুর মোহাম্মদ (৩২), চন্দন দেবনাথ (৩২), কৃষ্ণ চন্দ্র নাথ (৩৪), আকাশ দেবনাথ (২৭), মুন্না চন্দ্র নাথ (২৮) ও ছোটন বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করা হয়।

    রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দয়ের করা হয়েছে। পরে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    লাইফ স্টাইল:

    গরমে পানিশূন্যতা দূর করতে কিংবা শরীর ঠান্ডা রাখতে ডাবের জুড়ি নেই। এতে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য দারুন উপকারী। কিন্তু অনেকেই ডাব কিনতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় বড় আকৃতির ডাব কেনার পরও দেখা যায় তাতে পর্যাপ্ত পানি নেই। কেনা ডাবে পর্যাপ্ত পানি পাবেন কিনা তা বুঝতে কিছু কৌশল জেনে রাখতে পারেন। যেমন-

    আকার না দেখে ডাবের ওজন দেখুন। যদি একই আকৃতির দুটি ডাবের মধ্যে কোনটি বেশি ভারী লাগে তাহলে বুঝতে হবে তাতে পানির পরিমাণ বেশি আছে। ডাব ডালকা মানে হলো ভেতরের পানি শুকিয়ে শাঁস বেড়ে গেছে।

    উজ্জ্বল সবুজ রঙের ডাব দেখলেই বুঝবেন এটি সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা হয়েছে। ধূসর, বাদামি দাগ বা ফ্যাকাসে রং দেখলে বুঝতে হবে ডাবটি পুরোনো। পুরনো ডাবে পানি কমে যায়। এতে শাঁসও বেশি হয়।

    ডাবের মাথার তিনটি দাগ ভালোভাবে খেয়াল করুন। টাটকা ডাবের এই প্রাকৃতিক রেখাগুলো স্পষ্ট ও কিছুটা উঁচু থাকে। যদি দাগগুলো ভেতরে বসে যায় বা ভোঁতা লাগে, তাহলে বুঝতে হবে এটি পুরনো। এ ধরনের ডাবে পানি কম, শাঁস বেশি থাকে।

    ডাব কেনার আরেকটি ভালো উপায় হলো কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে শব্দ শোনা। ভালো ডাবে কোনও শব্দ হয় না। এর কারণ এর পুরোটাই প্রায় পানি দিয়ে ভর্তি থাকে। জোরে শোঁ শোঁ বা পানি নড়ার শব্দ মানেই ভেতরে ফাঁকা জায়গা আছে। এর মানে হচ্ছে ভিতরে পানি কম রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম্বাকৃতি বা সামান্য লম্বাটে ধরনের ডাবে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। পুরোপুরি গোলাকার ডাবে অনেক সময় শাঁসের পরিমাণ বেশি হয়। এমন ডাবে পানি কম পাওয়া যায়।

    ভেজা বা ছিদ্রযুক্ত ডাব না কেনাই ভালো। উপরের অংশ স্যাঁতসেঁতে লাগলে সেটি নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। মাথার কাছে ছোট ছিদ্র থাকলেও ডাবটি নষ্ট হতে পারে। তাই কেনার সময় সতর্ক হোন।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে নতুন কারিকুলামের আওতায় বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা একদিকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করে।

    শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে অভি ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে অভি ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার অভি ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়।

    বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যপণ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নমুনা সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

    পরে এসব অপরাধে অভি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক অভিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

    সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানকালে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।

    অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।

  • এমপিওভুক্তির দাবিতে  শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, আজকের মধ্যে এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে পদযাত্রা করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মিলিত ননএমপিও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আজ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির চতুর্থ দিন চলছে। পরে সংগঠনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বুধবার বেলা ১০টায় যথারীতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা বলেন অবিলম্বে সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। আমাদের বরাদ্দের টাকা অন্য খাতে খরচ হবে এটা অন্যায়। তিনি বলেন আজকের মাধ্যে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে আগামীকাল ১১ জুন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি করা হবে।

    প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার। তিনি বলেন শিক্ষকদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও বেশি। তিনি সরকারের নিকট অবিলম্বে দেশের সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনাজ আকতার রানু বলেন, বেতনহীন নন এমপিও শিক্ষকরা ফুটপাতে বসে থাকবে এটা বিরাট রাষ্ট্রীয় লজ্জা।

    বিশেষ অতিথীর কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ জাকির হোসেন আকন্দ বলেন আমরা নন এমপিও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

    কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক গাজি হারুন অর রশিদ দ্রুত সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির দাবি জানান।

    নন-এমপিও সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. নাজমুস সাহাদাত আজাদী বলেন আমরা ২০-২৫ বছর যাবত নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি এই বৈষম্য দূর করে দ্রুত সময়ে এমপিওভুক্ত করা হোক।

    সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আব্দস সালামের সঞ্চালনায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আবতাবুল আলম, সমন্বয়ক সুপার ফরহাদ হোসেন বাবুল, সমন্বয়ক প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, সমন্বয়ক প্রভাষক হাবিবুল্লাহসহ সারাদেশ থেকে আসা জেলা ও উপজেলার নেতারা।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে লাখ লাখ মানুষ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে লাখ লাখ মানুষ

    ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কো সিএনএনকে এ কথা বলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বহুগুণে বেড়ে গেছে, যা জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রমকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুলেছে। জ্বালানির এই ক্রমবর্ধমান দাম বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতার কারণে সুদানের মতো জায়গায় ফসল লাগানোর জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

    ডব্লিউএফপি বিভিন্ন সরকারের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এর শীর্ষ দাতা যুক্তরাষ্ট্রসহ সব ক্ষেত্রেই তহবিলে ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে। সোমবার পর্যন্ত ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ছিল প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

    স্কো বলেন, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে যখন খাদ্যের দাম ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তখন তারা ২০-৩০ শতাংশ কম খাবার খায়।

    মার্চ মাসে ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছিল, যদি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে জুলাই মাসের মধ্যে আরো ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হবে। স্কো বলেন, যদি আগামীকালই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়, তার পরও দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকবে।

  • ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকে ছাত্রদলের ‘ধাওয়া’!,থানায় আশ্রয়

    ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকে ছাত্রদলের ‘ধাওয়া’!,থানায় আশ্রয়

    হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া দিয়েছেন। পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

    আজ বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনায় ঘটেনি। মাহাদী হাসান ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা।

    এ বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই ছাত্রনেতা জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন।

    মাহাদী হাসান আজ বিকেল পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোক বলেন, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তাঁর প্রশংসা করেন। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী সহজভাবে নেননি বলে তাঁর দাবি।

    আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে গত ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এসে ওসিকে হুমকি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

    আজ দুপুরে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করেন। ভিডিওতে মাহাদীর সঙ্গে ইজিবাইকে আরেকজনকে দেখা যায়। তাঁরা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী যখন থানায় যান, তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় উপস্থিত ছিলেন না। মাহাদী ডিউটি অফিসারকে জানান তাঁকে ধাওয়া করার বিষয়টি। তখন ডিউটি অফিসার একজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে থানার ফটক পর্যন্ত এসে কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী বেলা দুইটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন। খবর পেয়ে বেলা আড়াই দিকে ওসি থানায় এলে তাঁকে এ বিষয়ে বলেন মাহাদী।

    মাহাদীর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনটির জেলা সভাপতি রাজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সে ভিডিও লাইভ করলেও কারা তাকে দৌড়াচ্ছে, সেই দৃশ্য কেন সে ধারণ করেনি? এতে প্রমাণিত হয় সে পুরো ঘটনাটি সাজিয়েছে। তাকে কেউ ধাওয়া করেনি। এটা তার সাজানো নাটক।’

    হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের ভিডিও ক্যামেরা যাচাই-বাছাই করেছে। কিন্তু অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁরা ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরাও এ ধরনের দৃশ্য দেখেছেন বলে কেউ জানাননি। তবে ওই ছাত্রনেতা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখবে বলে জানান ওসি।

  • সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ৯,৪০৭

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ৯,৪০৭

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১টি হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে শূন্য নয় হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১ টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুমোদিত ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

    যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে সাত হাজার ৪২৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৫ হাজার ৭৮২টি। নার্সের ১৩ হাজার ৮০৯টি পদের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মরত আছে। নার্সের শূন্য পদ এক হাজার ৬৬৩টি। অন্যান্য কর্মচারীদের তিন হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত দুই হাজার ১২০জন কর্মরত। শূন্যপদ এক হাজার ৬৬টি।

    মন্ত্রী জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের এক হাজার ১৩৪টি পদের মধ্যে ৬৪৪ জন কর্মরত ও ৬৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। মিডওয়াইফের এক হাজার ৩১২টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭৪৬ জন এবং শূন্যপদ ৪৬৬টি। অন্যান্য কর্মচারীদের দুই হাজার ৬২৭টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৬৮২ জন কর্মরত এবং শূন্যপদ ৯১৫টি। সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের তিন হাজার ১৬৭টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৪৬০ জন, শূণ্যপদ এক হাজার ৭০৭টি। স্যাকমো তিন হাজার ১৬৫টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৬৪৫ জন কর্মরত এবং শূণ্যপদ এক হাজার ৫২০টি।

    সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষধ সরবরাহ করা হয়।

    নিলোফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

    নিলোফার চৌধুরী মনি জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে কি না।

    জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ‘ক্রোমিয়াম’সহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত চামড়ার বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে।

    মন্ত্রী জানান, এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ (Cr-VI) জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে।

    তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাই কোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নআরাউন্ড সময় ইতোমধ্যে হ্রাস পেয়েছে। ভবিষ্যতে আরো হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল চালু হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

    চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনা নিয়ে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে নমিনেশন ফাইল তৈরির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐহিত্যের ইনভেন্টরিতে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।

    সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, দেশে গেজেটভুক্ত ৫০টি নৃ-গোষ্ঠী এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ।

  • সিংড়ায় বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন, ছেলে ও নাতি গ্রেফতার

    সিংড়ায় বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন, ছেলে ও নাতি গ্রেফতার

    নাটোরের সিংড়ায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর মারিয়া বেগম শরিফা (৭৫) নামে বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের সহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম। এ মামলায় নিহতের মেজ ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও নাতি আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক এসব তথ্য জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    নিহত বৃদ্ধা শরিফা উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মরহুম মোজাহার আলির স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের একটি গর্ত করা নিয়ে নিহত বৃদ্ধার বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে মেজ ছেলে জনাব আলির কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় মা মারিয়া বেগম শরিফা বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নেন। এতে মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয় মেজ ছেলে জনাব আলি। এ ক্ষোভ থেকে ২৫ মে রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার মাকে গলা টিপে হত্যা করে টয়লেটের সেই গর্তেই মায়ের লাশ ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেয়।

    হত্যার ১০ দিন পর ৪ জুন লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গভীর রাতে গর্ত থেকে মায়ের লাশ তুলে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় ফেলে দেয়। লাশ গুমের এ কাজে জনাব আলিকে সহযোগিতা করেন তার ছেলে আল আমিন।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ওই বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের চার ছেলে ও স্বজনদের থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেফতার দুই আসামি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে।

    সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত বৃদ্ধা মেজ ছেলে জনাব আলি ও নাতি আল আমিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৮ শিশুর

    হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৮ শিশুর

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯ জনের।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। আর নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৯২৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

  • আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলামে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরোৎসাহিত করে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

    এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

    এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়। কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

    قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ

    ‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

    عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ، وَرَأَى رَجُلًا آخَرَ وَعَلْيِهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ

    জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৬২)

    এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলাম এমন জীবনব্যবস্থা চায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

    বর্তমান সমাজে এই বিষয়ে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। একদল মনে করে, দ্বীনদার হতে হলে মলিন ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যদিকে আরেকদল সৌন্দর্যের নামে অপচয়, ব্র্যান্ড-আসক্তি, বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুই চরমতার মাঝখানে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। ইসলাম চায় না মানুষ নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে নিজেকে অভাবী সাজাক। আবার এটাও চায় না, সে অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠুক।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

    لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

    ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’

    সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষ তো সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে। তখন তিনি বললেন,

    إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু তাহরীমিল কিবর ওয়া বায়ানিহি, হাদিস : ৯১)

    এই হাদিস ইসলামের সৌন্দর্যবোধের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুন্দর পোশাক বা ভালো জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়। অহংকার হলো মানুষের প্রতি ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

    আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ভোগবিলাসকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ধর্মীয় ভাবমূর্তির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাভাবিক জীবনযাপনকে তাকওয়া মনে করেন। এই দুই প্রবণতাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার বিপরীত।

    ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে; অহংকারে লিপ্ত না হয়। অর্থাৎ নিয়ামত ব্যবহার করা হবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, প্রদর্শন ও আত্মগরিমার জন্য নয়।

    আসলে আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারও এক ধরনের শোকর। একজন মানুষ যখন হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও শালীন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আল্লাহর একটি বিধানই বাস্তবায়ন করে। কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি; বরং আত্মমর্যাদাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকে উৎসাহিত করেছে।

    ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলিমের পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, রুচি, ব্যবহার ও জীবনযাপনেও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। এমন সৌন্দর্য, যা বিনয় শেখায়; এমন পরিচ্ছন্নতা, যা হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতিফলন; এমন জীবনযাপন, যা মানুষকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রকাশ তখনই ইবাদত হয়ে ওঠে, যখন তা কৃতজ্ঞতা, শালীনতা ও বিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তাই অপচয় নয়, কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যই হোক একজন মুমিনের পরিচয়।

    এ এম

  • বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে তা ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ীই এগোচ্ছেন।

    বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমদ প্রশ্নে বলেন, ‘বহুল প্রচারিত পত্রিকায় জানতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারদলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকারদলীয় মহিলা এমপিগণ।’

    গত ৭ জুন সমকালে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছিল। এতে বলা হয়, এর আগের দিন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংরক্ষিত আসনের দলীয় ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের জেতা ৭৯ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত মীর আরমান বলেন, ‘এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে, এ কাজ কি তাঁদের এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধীদলীয় এমপি আছি, আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না? এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।’

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি এবং বিরোধী দল থেকে যে সকল নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাঁদের কোনো আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোনো নির্দিষ্ট আসন আছে, সেরকম নির্দিষ্ট কোনো আসন তাঁদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যেখানে তাঁরা কাজ করবেন।

    ব্যারিস্টার আরমানের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনার নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে, আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে চান। যেহেতু এই সংসদ নারী সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদেরও একই রকমভাবে হক আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সরকারের যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।

  • পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেফতার ৩

    পাবনায় ছেলের সামনে বাবা হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে, মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন— পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের মরহুম আমিন প্রামানিকের ছেলে শরীফ প্রামানিক (৩৫) ও জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮)।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন নয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আট থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    বুধবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: ছুফি উল্লাহ জানান, বুধবার ভোরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি ও একটি গুলির খোসা।

    পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’ ও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা’— এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তবে, হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গুলি করা জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) ও গোপলার ছেলে শাহীনকে (২৮) বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া তিনজন এজাহার নামীয় আসামি নন।

    এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন আট থেকে ১০ জন। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ও হত্যায় জড়িত অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগির তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় ছেলে রোহানকে (১২) রাখতে গিয়েছিলেন বাবা হোসেন আলী (৫৫)। মাদরাসার গেটে পৌঁছামাত্র ছেলের সামনেই হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১২

    দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১২

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ জুন) গভীর রাতে ক্লিভল্যান্ড শহরতলির ‘জাম্পার্স ইনফরমাল সেটেলমেন্ট’-এ এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও খুনিদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ভারী রাইফেলে সজ্জিত অন্তত ১০ জন সশস্ত্র অপরাধী একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এসে নামে। এরপর তারা দুই দিক থেকে ওই অনানুষ্ঠানিক বসতিটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

    হামলা শেষে তারা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ এই ঘটনাকে ‘হৃদয়হীন’ এবং ‘বর্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই এলাকায় বসবাসকারী অবৈধ খনি শ্রমিকদের দলগত কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

    জোহানেসবার্গের প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি মথোমবেনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের জানান, হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তবে এই বসতিটি একটি অবৈধ খনি অঞ্চলের পাশে অবস্থিত হওয়ায় অবৈধ খনির সঙ্গে এর সংযোগ থাকার বিষয়টি তদন্তকারীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা কিছু এলাকায় অবৈধ খনির কার্যক্রম বন্ধ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি লাখ লাখ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৪

    চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৪

    বিডি টািইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার এক আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১০ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এদিকে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন আলমগীর মণ্ডল (৩০), মো: আকরাম হোসেন (২৯) ও মো: আখের আলী (৫৫)। তাদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

  • এপস্টেইনের কাছে তরুণীদের পাঠাতেন মডেলিং এজেন্ট

    এপস্টেইনের কাছে তরুণীদের পাঠাতেন মডেলিং এজেন্ট

    আর্ন্তেজাতিক ডেস্ক:

    কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের চক্রের কাছে তরুণী ও মডেলদের পাঠানোর পেছনে ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের ভূমিকা নিয়ে এক নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

    এক সময়ের নামকরা মডেলিং এজেন্সি ‘এমসি২ মডেলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রুনেল কেন এবং কীভাবে উঠতি মডেল ও অল্পবয়সি তরুণীদের এপস্টিনের মতো একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত লালসার শিকার হতে পাঠাতেন, তা নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

    দীর্ঘদিন আইনি লড়াই ও জনসম্মুখের আড়ালে থাকার পর এখন ব্রুনেল এবং তার সহযোগীরা সেই অন্ধকার অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা এই প্রতিবেদনে বিশদভাবে উঠে এসেছে।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, মডেলিং শিল্পে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্রুনেল মূলত ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা তরুণীদের প্রলোভন দেখাতেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে প্রতিষ্ঠিত করার টোপ দিয়ে তিনি এই মেয়েদের জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, বিলাসবহুল দ্বীপ এবং ম্যানহাটনের ম্যানশনে পাঠাতেন। এপস্টেইন এই মডেলিং এজেন্সিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, যার সুবাদে ব্রুনেল তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তরুণীদের এক প্রকার পণ্য হিসেবে এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করতেন বলে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন মডেল জানিয়েছেন, তারা ভাবতেও পারেননি যে একটি নামী এজেন্সির মাধ্যমে এসে তারা এমন ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ফাঁদে পড়বেন।

    দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ অস্বীকার করার পর, বর্তমান আইনি চাপ ও নতুন প্রমাণের মুখে ব্রুনেল ও তার আইনজীবীরা এই কাজের পক্ষে নতুন যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এপস্টেইনের আসল অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক বা তার অন্ধকার জগত সম্পর্কে ব্রুনেল সম্পূর্ণ অন্ধকারেই ছিলেন। তিনি কেবল একজন ধনী বিনিয়োগকারীকে খুশি রাখতে এবং মডেলদের স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করতেই তাদের এপস্টিনের সাথে দেখা করতে পাঠিয়েছিলেন।

    তবে ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা বিভিন্ন গোপন নথি, চিঠি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ব্রুনেলের এই নির্দোষ সাজার দাবিকে নাকচ করে দিচ্ছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, তরুণীদের ওপর এপস্টেইনের আচরণের ধরন সম্পর্কে ব্রুনেল শুধু অবগতই ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই এই প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

    জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর পরও তার তৈরি সেই আন্তর্জাতিক যৌন পাচার ও শোষণ চক্রের পেছনে কারা মূল মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তদন্ত চলছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে ফ্যাশন ও মডেলিং জগতের ভেতরের কিছু প্রভাবশালী মানুষ কীভাবে ক্ষমতা ও অর্থের লোভে তরুণীদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

    এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর মডেলিং এজেন্সির আড়ালে চলা এই অনৈতিক চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

  • চৌগাছায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস

    চৌগাছায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস

    চৌগাছা (যশোর)সংবাদদাতা

    যশোরের চৌগাছায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক দিনের পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দিনব্যাপী কৃষি অধিদপ্তরের চৌগাছা উপজেলা অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন কৃষি অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কৃষি অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা এ জেড এম ওবাইদুল্লাহ, উপজেলা প্রাণী স¤পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল করিম, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম বজলুর রশিদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

    কংগ্রেসে কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্কুল থেকে ৭০ জন কৃষক কৃষাণী অংশ গ্রহণ করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, এ উপজেলায় ৮২ টি কংগ্রেসে কৃষি অধিদপ্তরের পার্টনার ফিল্ড স্কুল করা হবে। ইতি মধ্যে ৪২ টি কংগ্রেসে কৃষি পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কাজ শেষ হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাতেও স্থানীয়দের নিয়ে সতর্ক বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাতেও স্থানীয়দের নিয়ে সতর্ক বিজিবি

    অবৈধভাবে কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই নির্বিচারে বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে অমানবিক আচরণকরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের আঁধারে তাদের এদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এতে নিদারুণ কষ্ট পোহাচ্ছে ওই মানুষগুলো।

    বিজিবি’র সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি হ্যান্ড মাইক যোগে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে।

    সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কেউ যেনো অবস্থান না নেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবি’র কাজে সহযোগীতা করছে।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বিজিবি রাতদিন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট কাজ করছে।

  • পাকিস্থানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২৬

    পাকিস্থানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২৬

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বুধবার (১০ জুন) অতর্কিত বিমান হামলা চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দেশটি দাবি করেছে, হামলায় ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এর আগে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। খবর খামা প্রেস নিউজ এজেন্সির।

    পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চালানো বিমান হামলায় নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ২৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, জঙ্গিদের স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমান্তের কাছে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেছেন, ইসলামাবাদের ভিতরে সিরিজ হামলার জবাবে আফগানিস্তানে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই অভিযানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গোপন আস্তানা, গোলাবারুদের ডিপো এবং টিটিপির দুই কমান্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থাপনাসহ চারটি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    এর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু, একজন নারী এবং আরেকজন বৃদ্ধ। এ ছাড়া হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছে।

    আফগানিস্তানে হামলার তথ্য নিশ্চিত করলেও বেসামরিক হতাহতের তথ্য সম্পর্কে তালেবানের দাবি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।তালেবান কর্মকর্তারা এই হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এতে দেশ দুইটির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় ইসলামাবাদ ও কাবুল প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে।

  • পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এভিয়েশন শাখার একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডনের।
    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার উড্ডয়নের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে মুজাফফরাবাদের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    তবে হেলিকপ্টারে মোট কতজন আরোহী ছিলেন এবং তারা কারা ছিলেন- সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি আইএসপিআর।

    আইএসপিআর জানায়, এই দুর্ঘটনাটির সঠিক কারণ জানতে তদন্ত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন

  • বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করবেন দেশে, এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল—তার লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—বিদেশ থেকে যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাঁদের দেব।’

    বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।

    তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬- ২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা-নির্বিশেষ L/C ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

    সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যোপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধী দলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

    আনিসুর রহমান তাঁর প্রশ্নে রাজপথে বিরোধী দলের ‘অপপ্রচার’ বন্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নটি সঠিকভাবে বোধগম্য হয়নি। সঠিকভাবে বোধ্যগম্য হয়নি উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন।’

    পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্য আনিসুর রহমান জানতে চাচ্ছেন যে–এসব উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা হয়, তা বন্ধ হবে কি না? এ ব্যাপারে হুইপদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন কি না? আমার মনে হয় আরও অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সবে মাত্র শুরু হলো!

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার। এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে তা গ্রহণ করব এবং সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

    জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই যেটি নিয়ম আছে, সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার কোনো উন্নয়নের বিষয় যদি থাকে, সেখানে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

    বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত দলীয় এমপি সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল পৌরসভার ভাটিয়া এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    এরা হলো-ভাটিয়া গ্রামের দিনমজুর মাজেদুল শেখের দুই বছরের শিশুপুত্র ওমর ফারুক এবং তার বড় ভাই পাঁচ বছরের শিশুপুত্র আবু বক্কার। খেলার ছলে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায় তারা। এ সময় তার মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি ঘুম থেকে উঠে ঘরে সন্তানদের না দেখে বাড়ির পাশে খোঁজাখুজি শুরু করেন। এরপর বাড়ির পাশের পুকুরে খোঁজার এক পর্যায়ে তাদের সন্ধান পান। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অলোক কুমার বাকসী জানান, এখানে আসার আগেই শিশু দু’টির মৃত্যু হয়েছে।
    এদিকে, শিশু ওমর ফারুক ও আবু বক্কারের মৃত্যুতে তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশিদের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। #

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া চাঁদা দাবি ও নারীদের মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    ওই গ্রামের মিজানুর মোল্যা ও তার ভাই তরিকুল ইসলাম এবং ফাতেমা বেগম তুলির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নড়াইলের ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ দাগের সাড়ে চার শতাংশ জমির মধ্যে দুই শতাংশ জমি নিয়ে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলি ও ত্রা স্বামী মিজানুর মোল্যা এবং মিজানুরের ভাই তরিকুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের সৈয়দ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সালেহা মেগম ও ছেলে নাজমুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা হলে জমির মালিকানার রায় পান ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম। তবে এ রায়কে উপেক্ষা তরিকুল ইসলামের পরিবার দুই শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করেন।

    এর জের ধরে গত সোমবার (৮ জুন) দুপুরে তরিকুল ইসলামের পরিবারসহ তাদের লোকজন প্রবাসী নাজমুল ইসলামের পরিবারের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর চালায়। এছাড়া নাজমুল ইসলামের চাচাতো বোন হাসিবা আক্তারকে মারধর করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

    ভুক্তভোগী নাজমুলের মা সালেহা বেগম, তার চাচা সৈয়দ আহাদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমাদের হুমকি দিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আমরা এসব ঘটনার বিচার চাই।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামসহ তার পরিবার জানায়, ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #

  • ইরানকে এখন চরম মূল্য দিতে হবে-ট্রাম্প

    ইরানকে এখন চরম মূল্য দিতে হবে-ট্রাম্প

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের জন্য দারুণ হতে পারতো এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে তারা অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন তাদের মূল্য দিতে হবে।

    তবে কী মূল্য দিতে হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
    তিনি দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় এবং দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মতো এই বাহিনীর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

    বুধবার নিজের মালিকাধীন ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এসব বার্তা লিখেছেন। তিনি আরও বলেন, তারা পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান শুধু কথার বুলি ছাড়ে, কাজ করে না। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গুণ্ডামি শেষ।#

  • আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    উৎপাদনে শীর্ষে রপ্তানি তলানিতে

    বাংলাদেশের আম স্বাদে ও গন্ধে যে কোনো ক্রেতাকে সহজেই আকৃষ্ট করে। প্রতিবছরই আম চাষ বাড়ছে, বাড়ছে উৎপাদনও। তবে বাড়ছে না রপ্তানি। উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও রপ্তানি তলানিতে। দেশে দেশে আমকেন্দ্রিক শিল্পের প্রসার ঘটলেও আমাদের দেশ তার ধারে-কাছেও নেই। কৃষি বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের আমের বাজার ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু রপ্তানি সহজ হলে তা ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে রপ্তানি বাড়াতে হবে। শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত ও নিরাপদ আম রপ্তানি করে শীর্ষে উঠে আসা সম্ভব। শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার পরও ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা নগণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত যথাযথ ব্যবস্থাপনা পরিপালন না করলে রপ্তানির এ সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না।কয়েক বছর ধরেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় রপ্তানিযোগ্য বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারের বিদ্যমান নীতির কারণে রপ্তানি বাড়ছে না। পূরণ হচ্ছে না রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাও। যেটুকু রপ্তানি হয় তাতে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন না। রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের আরও অভিযোগ, ঢাকার রপ্তানি সিন্ডিকেটের পেটে যাচ্ছে পুরো মুনাফা। ঢাকার সিন্ডিকেট চাষি পর্যায় থেকে আম না কিনে আড়ত থেকে আম কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছে। মানসম্মত আম না যাওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশি আমের বাজার তৈরি হচ্ছে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে দুই লাখ ৫ হাজার ২০৫ হেক্টর বাগান থেকে আম উৎপাদিত হয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৩ টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদন কমে ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৭ টনে দাঁড়ায়। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ টন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৮ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশে রাজশাহীর আমের বিপুল চাহিদা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আম রপ্তানিতে জায়গা পেতে হলে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ, নির্দিষ্ট মানে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহণ সুবিধা থাকা জরুরি যা এখনো গড়ে ওঠেনি। রাজশাহী আঞ্চলিক ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রিদওয়ানুল কারিম জানান, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে। রপ্তানি আমে দাগ না থাকা ও সঠিক কৌশলে ফ্রুট ব্যাগিং করা প্রয়োজন। আমে পোকা থাকা চলবে না। আমকে থার্মাল হাউজে জীবাণুমুক্ত করাও দরকার পড়ে। গ্যাপ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) সনদ লাগে। চাষিরা এসব ঝামেলা পোহাতে পারেন না। তিনি বলেন, আমপ্রধান এলাকায় রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। এসব নিয়ে কাজ হচ্ছে। সর্বোপরি সরকারি সহায়তাও খুব প্রয়োজন।

    রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রফিকুল ইসলাম বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আম রপ্তানি না বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাগান থেকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঢাকায় আম পাঠাতে শীতাতপ ভ্যানের অভাব ও বিপুল পরিবহণ খরচ। বাগান থেকে ঢাকায় ও বিদেশ পর্যন্ত এক কেজি আমের পরিবহণ খরচ প্রায় ৮৫০ টাকা। আমরা রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও রপ্তানির সব ধাপ অতিক্রম করা অনেক কঠিন। রপ্তানি বাড়াতে হলে সবকিছু সহজ করতে হবে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক উদ্যোক্ত মুনজের আলম মানিক বলেন, অতীতে চেষ্টা করেছি রপ্তানির জটিল ধাপগুলো অতিক্রমের। কিন্তু কাজটা বিদ্যমান নীতি ব্যবস্থায় সহজ নয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন সুবিধার অভাব, গ্যাপ সনদের স্বল্পতা, উন্নত প্যাকেজিং, প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি, উচ্চ পরিবহণ ব্যয় এবং ফাইটোস্যানিটারি শর্ত পূরণের জটিলতা বাংলাদেশের আম রপ্তানিতে বড় বাধা।

    জানা গেছে, আম রপ্তানিতে উৎসাহদানে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প চলছে কয়েক বছর ধরে। এই প্রকল্পের আওতায় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। দেওয়া হয় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের আওতায় ‘উত্তম কৃষিচর্চা’ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) বা গ্যাপ নামের কর্মসূচি আছে। এর আওতায় আম উৎপাদন, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব কলাকৌশল চাষিদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া চাষিদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের সংযোগ স্থাপন ও সহায়তা প্রদান করা হয়। এর পরও রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশে আম রপ্তানি হয়। চাষিরা বাড়তি খরচ করে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করলেও রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন না। এ বছরও আম রপ্তানির অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ফলে চাষিদের হতাশা থেকেই যাচ্ছে। চাষিরা বলছেন, এ বছরও ৩০ হাজার টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৫ হাজার টন।

    জানা গেছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে আম রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ টন। এর পাঁচ বছর পর আম রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৬৭ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০০ টন আম যায় বিদেশে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আম রপ্তানি কমে হয় ১ হাজার ৩২১ টন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও রপ্তানি হয় ২ হাজার ১২১ টন। বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া আমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার মাত্র ১ শতাংশেরও কম।

    জানা গেছে, এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা। এখানে ৩৭ হাজার ৪৯৮ হেক্টর বাগান থেকে ৪ লাখ ৬৯ হাজার টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এবার এ জেলা থেকে ২৫০ টন আম বিদেশে যাবে। আম উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁ। নওগাঁর ৩০ হাজার ৩২১ হেক্টর বাগানে এবার ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন আম ফলনের আশা আছে। নওগাঁ থেকে এবার ১০০ টন আম বিদেশে যাবে। গত কয়েক বছরে নওগাঁ থেকে ২৫০ টন পর্যন্ত আম বিদেশে গেছে। এবার রাজশাহীর ১৯ হাজার ৪৬২ হেক্টর বাগান থেকে ২ লাখ ৫৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান জানান, রাজশাহীতে আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। কিছু আম রপ্তানিও হবে। অন্যদিকে অঞ্চলের আরেক জেলা নাটোরেও আম চাষ বাড়ছে। এই জেলার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টরে ৬৮ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও উৎপাদন বেশি হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছ।

    এ এম

  • আপনি গুলি করলে আমি বসে থাকবো? বিএসএফকে বিজিবি

    আপনি গুলি করলে আমি বসে থাকবো? বিএসএফকে বিজিবি

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে এক বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএসএফের গুলির নির্দেশে বিজিবির পাল্টা হুঁশিয়ারি ‘আমাদেরও গুলি আছে, আমরা বসে থাকবো নাকি।’

    বুধবার সকাল ৫টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে এক বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা।

    বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্য ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয় ৬০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি।

    এরপর ৩০মিনিট বিজিবি ও বিএসএফের মধ্য পতাকা বৈঠক করেও নাগরিকত্বহীন ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে না নেওয়ায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্য শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধকে বিএসএফ ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশর দিকে দিলে বিজিবি পাল্টা ধাক্কা দিয়ে ভারত সীমান্তে পাঠিয়ে দেয়। এসময় বিএসএফের সুবেদার গুলি করতে বললে বিজিবি সদস্যরা পাল্টা গুলি করার হুশিয়ারি দেয় যে ‘আমাদেরও গুলি আছে আমরা বসে থাকবনা, গুলি করবেন মানে? গুলি করতে বললেন কেন? একই সময়ে বিজিবির সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীও চিৎকার দিয়ে লাঠি নিয়ে হুঁশিয়ারি দেয় বিএসএফকে। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে এখনো অবস্থান করছে ওই ব্যক্তি। এনিয়ে সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে।

    জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুর রহমান জানান, সকালে এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শুন্য রেখায় ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করে। বিষয়টি সমাধানে বৈঠকের মাধ্যমে চেষ্টা করা হলেও এখনো সমাধান হয়নি। তবে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

  • নড়াইলে সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কর্তন, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

    নড়াইলে সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কর্তন, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের দিঘলিয়া এলাকায় সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    বগুড়া গ্রামের বিল্লা মোল্লার ছেলে সাইফ উদ্দিন মোল্লা গত তিনদিন ধরে মূল্যবান গাছগুলো কেটে বিক্রির চেষ্টা করছিল।

    খবর পেয়ে গাছগুলো জব্দ করেছে প্রশাসন।

    দিঘলিয়া গ্রামের শামীম মোল্যাসহ অনেকে জানান, ১৬ শতক সরকারি জমি থেকে সাইফ উদ্দিন গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিন ধরে ৩৫টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির চেষ্টা চালায়। গাছগুলোর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

    বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পর গাছগুলো জব্দ করেছে।

    তবে, কিছু গাছ অভিযুক্ত সাইফ উদ্দিন সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। ঘটনার পর সাইফ উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে নড়াইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছকাটার খবর পেয়ে ইউনিয়ন নায়েবকে আমি ঘটনাস্থলে পাঠায়। গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • মানহীন খাবার সরবরাহের দায়ে গ্রেফতার দুই

    মানহীন খাবার সরবরাহের দায়ে গ্রেফতার দুই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) প্রকল্পে অনিয়ম ও মানহীন পচা খাবার সরবরাহের জড়িত থাকার দায়ে এএফএম আহসানুল হাবিব (৫১) ও মো. নুরুজ্জামান (৪৩) নামে দু’জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) মাদারীপুর পৌরসভার চাঁদমারি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এএফএম আহসানুল হাবিবের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় ও মো. নুরুজ্জামানের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃতরা সমতা ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নষ্ট ও খাবার অযোগ্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের ঘটনায় তাদের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্বের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

    উল্লেখ্য, মাদারীপুর সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি স্কুলে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এরপর সরকার এ বিষয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন। তিনি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানান।

  • আমরা কেন ফল খাব

    আমরা কেন ফল খাব

    সৃষ্টির পর থেকেই ফল মানুষের খাদ্যতালিকায় অতি প্রয়োজনীয় পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যখন অস্বাস্থ্যকর খাবার নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ফলের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। তাই আজ থেকেই আমরা ফল খাওয়ার উপকারিতা জানার মাধ্যমে আমাদের জীবনকে আরো সুখময় এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলব।

    ফল খাওয়ার উপকারিতা : প্রতিটি ফলেই ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে, যা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের শরীরের উপকার করে। ফল হলো প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎকৃষ্ট উৎস। যেমন : কমলালেবু ও আমলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। কলা এবং আঙুরে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের সবলতা বজায় রাখে। আপেল, পেয়ারা এবং বেরিজাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

    হৃদরোগ প্রতিরোধে : ফল খাওয়ার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরি এবং আঙুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, পেয়ারায় থাকা লাইকোপিন হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে : ফল সাধারণত কম ক্যালোরিযুক্ত এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায়, এটি ক্ষুধা নিবারণ করতে সাহায্য করে। ফল খাওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। যেমন : তরমুজ ও স্ট্রবেরির মতো ফলগুলোয় ক্যালোরি কম এবং পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।

    রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: ফলে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে, কমলালেবু, পেয়ারা এবং কিউই ফলে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং ঠান্ডা-কাশি থেকে বাঁচাতে সহায়ক।

    হজমে সহায়ক : ফল খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। আপেল, পেয়ারা, পেঁপে এবং আমলকীর মতো ফলগুলোয় থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। পেঁপে এবং আমলকীর মধ্যে থাকা এনজাইম হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং পেটের সমস্যা কমায়।

    ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা : ফল ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তরমুজ, কমলালেবু এবং পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখতে সহায়ক। এছাড়া, বেরি-জাতীয় ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে।

    দেহের পানিশূন্যতা দূর করা : ফল শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজ, শসা, এবং তালের মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং গরমের দিনে পানির অভাব পূরণ করে।

    সার্বিকভাবে ফল আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা আমাদের সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল যুক্ত করলে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।