জাতীয় সংবাদ

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের বড় গরমিল পাওয়া গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি বড় অংশের কোনো হদিস নেই। তবে ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেসব টাকার কোনো হদিস নেই।

    তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে এই খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিতরণকৃত এই ঋণের সিংহভাগই আদায় হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এই খাতের ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সাল শেষে ছিল ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।

  • গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ প্রতিরোধ এবং খরা-সহনশীলতা বৃদ্ধি”- প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে প্রতিপাদ্যটি একটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে জরুরি আহ্বান। কারণ ভূমি, বন, পানি ও জীববৈচিত্র্য, সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি বন ধ্বংস হলে শুধু কয়েকটি গাছ হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় একটি বাস্তুতন্ত্র, একটি জলবায়ু নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, অসংখ্য প্রাণের আবাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই প্রতিবছর বাংলাদেশে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ—সবার কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে গাছ লাগানো। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশিত হয় হাজার হাজার চারা রোপণের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে হাতে চারা নিয়ে তোলা ছবিতে। দেখে মনে হয়, আমরা যেন এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রতি বছর অগণিত গাছ লাগানোর খবর শোনা গেলেও দেশের বনভূমি ও বৃক্ষআচ্ছাদনের সামগ্রিক চিত্র এবং দেশের বন রক্ষার চেয়ে বন হারানোর গতি এখনও উদ্বেগজনক। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বৃক্ষআচ্ছাদন হারিয়েছে, যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম। শুধু ২০২৫ সালেই হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক বনভূমি। অন্যদিকে মোট ভূমির মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ এখন বনভূমির আওতায় রয়েছে। একই সময়ে প্রাকৃতিক বনভূমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অবৈধ দখল, নগরায়ণ এবং জলবায়ুজনিত কারণে। অর্থাৎ আমরা একদিকে গাছ লাগাচ্ছি, অন্যদিকে গাছ হারাচ্ছি আরও দ্রুত গতিতে। এই বৈপরীত্যের মূল কারণ সম্ভবত আমাদের পরিবেশ ভাবনায়। আমরা গাছ লাগানোকে একটি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখি, কিন্তু গাছকে বড় করে তোলাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি না। একটি চারা রোপণ করার মুহূর্তটি দৃশ্যমান, ফটোগ্রাফযোগ্য এবং প্রচারযোগ্য। কিন্তু পরবর্তী তিন বা পাঁচ বছর ধরে সেই চারার পরিচর্যা করা দৃশ্যমান নয়, তাই সেটি প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। পরিবেশ দিবস বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কয়েক মাস পরই চারপাশে খেয়াল করলেই দেখা যায়, অধিকাংশ চারা শুকিয়ে গেছে। কোথাও গবাদিপশুর আক্রমণে নষ্ট হয়েছে, কোথাও পানির অভাবে মারা গেছে, কোথাও আবার রাস্তা সম্প্রসারণ বা অবকাঠামো নির্মাণের কারণে কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এসব মৃত চারার হিসাব কোনো প্রতিবেদনেই থাকে না। থাকে শুধু লাগানো চারার সংখ্যা।কিন্তু প্রকৃতি কখনো প্রচারণার ভাষা বোঝে না। প্রকৃতি ফলাফল দেখে। কত সংবাদ প্রকাশিত হলো, কত ব্যানার টানানো হলো কিংবা কত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো, এসবের কোনো মূল্য প্রকৃতির কাছে নেই। প্রকৃতি শুধু দেখে, একটি গাছ সত্যিই বড় হলো কি না; সেটি পাখির আশ্রয় হলো কি না; তার ছায়ায় মানুষ দাঁড়াতে পারল কি না; তার পাতায় বাতাস কিছুটা নির্মল হলো কি না।

    বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাপপ্রবাহ, খরা, নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশগত সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এই বাস্তবতায় গাছ কেবল সৌন্দর্যের উপাদান নয়; এটি জলবায়ু প্রতিরোধের অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।
    তাই সময় এসেছে পরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করার। আমরা কতটি গাছ লাগালাম তার চেয়ে জরুরি আমরা কত গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম। একটি সবুজ, সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ থেকে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ সংস্কৃতি’-তে উত্তরণ ঘটাতে হবে। গাছ লাগানোকে উৎসবের পর্যায় থেকে বের করে দায়িত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ একটি চারা রোপণ একটি দিনের কাজ; কিন্তু একটি বন সৃষ্টি হয় কয়েক দশকের যত্ন, ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে।

    এ এম

  • কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    ডেস্ক নি উজ:

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ, মোহাম্মদ তারেক। তারা একই উপজেলার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে তারা।

    পরে গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ওই গৃহবধূর ছোট ভাই বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার ভাগ্নিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

  • ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো বেআইনি ও অন্যায়: গোলাম পরওয়ার

    ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো বেআইনি ও অন্যায়: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বেআইনি, অন্যায় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ভারতের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের লঙ্ঘন করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালেও ভারত সরকার তা আমলে নিচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জন ভারতীয় নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। তাদের মধ্যে ৯ মাসের গর্ভবতী নারী ও একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

    এছাড়া পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা সীমান্ত দিয়ে ১০ জন ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও শেরপুরসহ প্রায় ১১টি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই বিদেশি চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। সীমান্তে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

  • বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

    বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করবেন। এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।আসন্ন বাজেটে এবার স্বস্তি মিলতে পারে গৃহিনীর জন্য। এবার বেশ কিছু কিচেন পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেটে।

    কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

    দাম কমতে পারে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেক্ট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকারের পাশপাশি সমজাতীয় পণ্য ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও ওয়াটার হিটার/গিজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য।

    বাজেটে কম্পিউটার ব্যবহাকারীরাও পাবেন সুখবর। আসন্ন বাজেটে দাম কমতে পারে কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরের। এছাড়া দাম কমতে পারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ১৫ পণ্যের।

    চিকিৎসা পণ্যেও দাম কমতে পারে বাজেটে। এই তালিকায় রয়েছে কিডনি ডায়লাইসিস ফিল্টার।

    এর বাইরে দাম কমতে পারে স্বর্ণালঙ্কারেও। আসন্ন বাজেটে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ৫ শতাংশ উৎসে কর কমে হবে দশমিক ৫ শতাংশ।

  • ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ নির্যাতন

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ নির্যাতন

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক:

    ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

    ইসরাইলি কারাগারে এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া মুহাম্মদ আল-বাকরি তেমনি একজন। তাকে যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল সেই দিনটির কথা তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল, রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়।

    বাকরি জানান, এই ঘটনার এক মাস আগে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে গাজার এই সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, নির্যাতন, হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল।

    আল-বাকরি বলেন, তাকে আরও সাতজন বন্দির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। তাদের সবাইকে বিবস্ত্র করে, চোখে পট্টি বেঁধে ও হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাপড় খুলে ফেলার পর ধর্ষণ করা হয়েছিল। আমরা আল্লাহ বলে চিৎকার করছিলাম, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল আর আমাদের ভিডিও করছিল।

    গাজার এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বন্দিদের যৌন নির্যাতনের সময় ইসরাইলি রক্ষীরা কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশেই আমাদের আক্রমণ করছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-বাকরি তাদের মধ্যে একজন, যারা আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘বডিস অব এভিডেন্স: ইসরাইল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ এর জন্য নিজেদের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
    এই প্রামাণ্যচিত্রে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্ত করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানেজের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর যৌন সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আকার ধারণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

    মানবাধিকার সংস্থা প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরসহ বিভিন্ন সংস্থা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরাইলি সেনারা কুকুর ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো সহিংসতা চালিয়েছে।

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়- এগুলো কয়েক দশক পুরোনো। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার পর গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইল কর্তৃক যৌন সহিংসতা, প্রজনন-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ‘পদ্ধতিগত’ ব্যবহার সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • বাড়ছে না বিড়ির দাম

    বাড়ছে না বিড়ির দাম

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য এবং এর ওপর প্রযোজ্য করহার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

    জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে বিড়ির ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জের হার পুনর্মূল্যায়ন এবং বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আসন্ন বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য এবং কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গত বছরের ন্যায় আগামী অর্থবছরেও বিড়ির বর্তমান দাম ও করহার বহাল থাকছে।

  • প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

    প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

    ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। এ সূত্র ধরে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

    ইনস্টিটিউটটির মতে, এত দিন ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে শুধু মজুত নয়, বরং ‘অপারেশনালি ডিপ্লয়েড’ বা কার্যকরভাবে মোতায়েন অবস্থায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই ১২টি নতুন মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড সম্ভবত সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা এমন সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে, যেখানে সেগুলো প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন করা ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

    ইনস্টিটিউটটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে

  • আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনের সময় জানাল ইরান

    আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনের সময় জানাল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের সময় জানিয়েছে ইরান। খামেনির স্বরণসভায় গঠিত কমিটি জানিয়েছে, মহররমের প্রথম দশ দিন পার হলে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ বলেছে, কমিটির সদর দপ্তর মঙ্গলবার (০৯ জুন) খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা এবং স্মরণসভা নিয়ে দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার স্বরণ, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিবৃতিতে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে এই আয়োজনের সময় ও বিবরণ নিয়ে জল্পনা এবং যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, আশুরার পর মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটি বলছে, শোকাহতদের যথাযথ পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রিয় সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সদর দপ্তর থেকে পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

    আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

    এ.জেড

  • রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

    রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ও রাশিয়া জনশক্তিখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।

    আজ মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ায় চলমান তিন দিনের সরকারি সফরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই প্রস্তাব দেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রুশ কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবের ওপর দ্রুততার সাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছে এবং উভয়পক্ষই শিগগিরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় জনশক্তি রফতানি দশগুণ বাড়ানোর বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জনশক্তি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও রাশিয়া একমত হয়েছে যে বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো উচিত।

    রাশিয়ায় বাংলাদেশের রফতানিপণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধ সামগ্রীর বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সন্ধান ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাংলাদেশী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে রুশ পক্ষ।

    এছাড়া দুই দেশের আলোচনায় প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত সহযোগিতা বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

    কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি রুশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই প্রস্তাবেও তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে রাশিয়া।

    পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই খাতে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।

    ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে রাশিয়া সফরে রয়েছেন। এই সফরে তার সাথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • খাল নেই, তবুও সেতু—সংযোগ সড়কেই বিপাকে কয়েকটি পরিবার

    খাল নেই, তবুও সেতু—সংযোগ সড়কেই বিপাকে কয়েকটি পরিবার

    দুই পাশে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই, তবুও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরেকটি জটিলতা, সেতুর দুই পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি। ফলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ।

    এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে ফুলতলা আরএইচডি সড়কের ওপর সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় বিডিআইআরডবলুএসপি প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ নির্মাণকাজে তিন কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স । ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি এমন একটি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে সেখানে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় খালটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি কার্যকর করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে পাশের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সংযোগ সড়ক করতে গেলে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার,মোর্শেদা বেগম, জামাল, সবুজ বলেন, এই সেতু চালু করতে গেলে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর সমাধান চাই।

    এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সাথে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) হজের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোডম্যাপ অনুসারে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম।

    গতকাল রোববার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত ২৯ মে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং বিভিন্ন দেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীদের কাছে তা হস্তান্তর করে।

    ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হজের রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।

    রোডম্যাপ অনুসারে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম। ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ) অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের হজ।

    সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) নেওয়ার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হবে ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই এবং তা শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।

    হজযাত্রীদের ডাটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ১৪ আগস্ট থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।

    ঘোষিত এ রোডম্যাপ অনুযায়ী হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

    এ এম

  • ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।

    এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে

    এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ডিপিপি অনুমোদিত হইলে আগামী অর্থ-বছর আপনার সংসদীয় আসনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

    নোয়াখালী-৬ আসনের আবদুল হান্নান মাসউদ প্রশ্ন রেখে বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়া এই অঞ্চলের পিছাইয়া পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?

    জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় বর্তমানে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় মোট ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

    এছাড়া উক্ত প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে আরো ১,০০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করার জন্য ডিপিপি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • কিউবায় দেড়শ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প

    কিউবায় দেড়শ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প

    কিউবার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবারের কম্পন দেশটির পাশাপাশি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে। সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ নয় এমন এলাকাগুলোতে কম্পন অনুভূত হওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.১ এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ২৬ কিলোমিটার (১৬ মাইল)। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কিউবার মান্টুয়া শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার দূরে। এটি রাজধানী হাভানা থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ।

    ইউএসজিএসের ভূকম্পবিদ পল আর্ল বলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই অংশে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প খুবই অস্বাভাবিক। কারণ এটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে নয়, বরং একটি প্লেটের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সাধারণত ভূমিকম্পের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ঘটে।

    তিনি আরও জানান, সোমবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৩২২ কিলোমিটার (২০০ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে সর্বশেষ এত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৮০ সালে, যখন কিউবার সান ক্রিস্টোবাল এলাকার কাছে ৬.০ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর মি. এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড। অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সাক্ষাৎ হয়েছে।বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন দিকসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

    এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: ভিসি

    অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেছেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দৈনিক শিক্ষাডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

    ভিসি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার কিংবা আমাদের কোন সিদ্ধান্ত নেই। তিনি বলেন, অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সনদ নির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতা ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে—এমন খবর আজ মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন একটি খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ের প্রথাগত অনার্স কোর্স বাতিল করে অন্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।

    খবরে আরও বলা হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখকরা হয়।

  • ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    ফুলবাড়ী সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশইন প্রচেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলা ভাষাভাষী কিছু ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

    এ পরিস্থিতিতে ফুলবাড়ী সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না যায়।

    এছাড়া সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করতে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ বিজিবি সদস্যরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

    ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই।’

  • যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

    যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

    যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থা এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

    সংস্থাটি জানায়, করিম খানকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিসেবা কার্যালয় পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি অ্যাড হক প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ব্যুরো আরও বলেছে, সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গোপনীয়তা, অধিকার ও চলমান প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ/জড

    এ বিষয়ে আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন যত দ্রুত সম্ভব আহ্বান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • একনেকে

    একনেকে

    ১০ প্রকল্প অনুমোদন

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির ২টি প্রকল্প।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ১০ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্পটির মাধ্যমে আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে।

    এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে অনুমোদন পেয়েছে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো—‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।

    এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

    সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবার সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    প্রকৃতির থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

    মিশ্রিপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    কারিতাস বরিশাল অঞ্চল পরিচালিত ‘প্রয়াস প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের মাঠকর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা ডেপুটি টিম লিডার শফিকুল আলম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এবং উপকূলীয় মানব উন্নয়ন সংস্থার (সিকোডা) নির্বাহী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান।

    এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশ বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন কারিতাসের হাসান মাহমুদ।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে মোট ৬৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জন শিশুর, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৩৯ জন।

    এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৩ জনে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ হাজার ১৭০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

  • তাহিরপুরে গোসল করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ নারী, ৩ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

    তাহিরপুরে গোসল করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ নারী, ৩ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বৌলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর সুলতানা বেগম (২৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধুতমা গ্রামের পাশে নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

    এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ধুতমা গ্রাম সংলগ্ন নিজ বাড়ির ঘাটে গোসল করে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

    তিনি ওই গ্রামের আবুল বাসারের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে (৩) ও এক মেয়ে (৫) রয়েছে।

    নিখোঁজ সুলতানা বেগম সাঁতার জানতেন না এবং মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

    তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, দুপুরে গোসল করার জন্য নদীর ঘাটে যান সুলতানা বেগম ছেলে মেয়েকে নিয়ে। পরে ঘাটে গোসল করার সময় পানিতে তলিয়ে যায়। পরে মেয়ে এসে বাড়িতে বললে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি।

    খবর পেয়ে তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় এলাকাবাসী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম।

  • বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে ছয় বছর বয়সী এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পরিমল ভক্ত (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। একই সঙ্গে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার পরিমল উপজেলার ঝালোডাংগা গ্রামের মৃত গিরিশ চন্দ্র ভক্তের ছেলে।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) দুপুরে ওই শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী হওয়ায় প্রতিবেশী এক সহপাঠীকে প্রাইভেট পড়ার জন্য ডাকতে যায়। সে সময় পরিমল ভক্ত তাকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি- অপারেশন) দায়িত্বে থাকা রোকেয়া খানম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • শিশু রামিসা হত্যা

    শিশু রামিসা হত্যা

    ডেথ রেফারেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি উচ্চ আদালতে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠা এবং আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স তিন পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে ৭২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন ট্রাইব্যুনালের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম।

    সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, ৭ জুন রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার মা-বাবা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত লাশ দেখতে পান।

    এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় গত ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

    গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

  • শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি জুলাই-আগস্ট থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতো, মোজা এবং স্কুল ব্যাগ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রজেক্টের আওতায় মোট সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তবে কার্যক্রমটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে অন্তত ১ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্টের যাত্রা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রীগুলো পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রজেক্টের পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই পাইলট প্রজেক্টের আওতায় থাকবে।

    তিনি জানান, পাইলট প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরোদমে সামগ্রী বিতরণ শুরু হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পারেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • সব ‘ককরোচ’ একহলে কি হবে ভারতে?

    সব ‘ককরোচ’ একহলে কি হবে ভারতে?

    ভারতের তরুণদের প্রতি আহ্বানটি ছিল সহজ, ‘শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির রাস্তায় নামতে প্রস্তুত হও’। সেই আহ্বানে বেরিয়ে আসেন হাজার হাজার তরুণ।

    শনিবার অনুষ্ঠিত হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষোভ। মূলত ঠাট্টা-বিদ্রু প আর ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে দলটির জন্ম। ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ দ্রুতই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, যিনি এই প্রাণবন্ত বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশের তরুণেরা আর ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে।’

    দীপকে বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা হয়তো নিছক পোকামাকড়, কিন্তু আমরা জীবিত এবং আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে সক্ষম।’

    কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে সমবেত হওয়া জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন যে, প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনকারী আন্দোলনের মতো একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ভারতেও গতি পেতে পারে।

    সিজেপির পেছনের এই জোয়ার অনেককেই অবাক করেছে। বিশেষ করে দীপকে, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বোস্টন ইউনিভার্সিটির একজন ভারতীয় স্নাতক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক শান্ত জীবনযাপন করছিলেন।

    সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ভারতের বেকার যুবকদের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই দীপকে হঠাৎ করে সামাজিক মাধ্যমে মজা করে একটি আহ্বান জানান, ‘সব তেলাপোকা একজোট হলে কেমন হয়?’

    এ/জেড

    ।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ হযরত আলী (৫৫) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৮ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সুবদিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হযরত আলী জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মরহুম আক্কাস আলীর ছেলে।

    দুপুর ৩টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিটে একযোগে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামসহ একদল পুলিশ সদস্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হযরত আলীকে আটক করে। এ সময় তার কাঁধে বাঁধানো কফি কালারের ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে থেকে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, আটককৃত গাজার বিষয়ে সদর থানায় মামলা হয়েছে এবং আটককৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

  • ‘ইসরাইলের শাসনব্যবস্থার দিন ফুরিয়ে আসছে’

    ‘ইসরাইলের শাসনব্যবস্থার দিন ফুরিয়ে আসছে’

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ত: তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও একের পর এক সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ইসরাইলকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ভঙ্গুর জায়নবাদী শাসনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এলো। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি বিমান হামলার জবাবে রোববার (৭ জুন) রাতে উত্তর ইসরাইল অভিমুখে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

    ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেল আবিব। ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই সময় রাজধানী তেহরান, ইসফাহান এবং তাবরিজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    উভয় পক্ষের এই ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মোজতবা খামেনির এই হুঙ্কার ইসরাইলের প্রতি ইরানের কঠোর অবস্থান এবং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শের ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পর রোজার আগেই পরীক্ষা শুরু এবং শেষ করার ঘোষণা দিয়েছি। স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে কোনো বিরোধিতার তথ্য নেই তবে, আপনাদের [সাংবাদিক] কাছ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন শুনেছি। একমাস পেছানোর দাবির কথা শুনেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য কোর্স শেষ হওয়ার পরে অহেতুক দেরিতে পরীক্ষা নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না হয়।

    সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণিশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। য

    আরো উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

    এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এসএসসি এক্সাম তাদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাচ্ছে জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে। আমরা চেয়েছি ২০২৭ এর কোনো একটি সময়, হয় রোজার আগে বা রোজার পরে নেয়ার। আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম সেখানে সাজেশন আসছে রোজার আগেই শেষ হয়ে যাক পরীক্ষাটা সেই অর্থে আমরা ৭ জানুয়ারি শুরু করতে চেয়েছিলাম আর ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করতে। বাট ইন দ্য মিনটাইম আপনারা রিঅ্যাক্ট করছেন সেটাও আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা চাচ্ছিলাম পরীক্ষাটা হয়ে যাক এবং অনেকেই চাচ্ছেন। অতএব আপাতত আমরা রুটিও দিয়েছি এবং আশাকরছি এটাই রয়েছে এটাই থাকবে যেহেতু স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

    তিনি বলেন, পরবর্তীতে যদি আপনারা সবাই মনে করেন এক মাস আগানো পিছানোতে আমাদের কিছু যাবে না, বাট ২০২৭ এসএসসি পরীক্ষাকে বেইজড নিয়ে আগামীদিনের সেশনজট এবং ইউনিভার্সিটিগুলো তাদের টাইমলি কোর্স-কারিকুলাম শেষ করতে হবে। অর্থাৎ থ্রি ইয়ারস কোর্স থ্রি ইয়ারসই হবে আর ফাইভ ইয়ারস কোর্স ফাইভ ইয়ারস হবে কোনো রকম ডিলে ওয়েটিং সেশনজট চলবে না। এট দ্যা সেইম টাইম ইন্টারমিডিয়েড পরীক্ষাও একইভাবে সিম্পটোমাইজ করার চেষ্টা করছি যেনো কোনো রকম সময় নষ্ট না হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট টুয়েন্টি জুলাই আউট করবো সেই নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষার রুটিন ও সবকিছু আমরা অ্যানাউন্স করেছি।

  • ইসরাইল-ইরানকে অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প

    ইসরাইল-ইরানকে অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান নতুন সংঘাত দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসরাইল ও ইরানকে অবিলম্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে।

    একই পোস্টে তিনি জানান, চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অবরোধ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে। তবে বিষয়গুলো দ্রুত এগোবে বলে আশা করছি।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

  • এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই

    এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই

    শিক্ষো ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ সোমবার ( ৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে সারাদেশের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

  • স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূ শেফা (১৮) গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার মুজিবুল ইসলামের মেয়ে ও উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের মিন্টুর ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ ওরফে সেতুর স্ত্রী।

    রোববার রাতে চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেতুর চৌগাছা শহরে আকবর মার্কেটে বেস্ট ওয়ান নামে একটি কাপড়ের দোকান আছে।

    শেফার পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই মাস পূর্বে সেতু ও শেফার বিবাহ হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সেতু ও তার পরিবার প্রথমে ব্যবসা করার জন্য এবং পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার জন্য শেফার পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। শেফার পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে টর্চার করতে থাকে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রোববার রাতে তার স্বামী সেতুকে লাইভে রেখে শেফা তার পিতার বাড়িতে গলায় রশি দেয় । পরিবারের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার একই কথা মেয়েটার হাতের মেহেদি শোকানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইসিএপিপি সেক্রেটারি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইসিএপিপি সেক্রেটারি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ওহ সং।

    সোমবার দুপুর ১২টায় বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ ভবনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন (আইসিএপিপি)-এর সেক্রেটারিয়েট অফিসার পার্ক বিয়ংচান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি।

    ওহ সং জামায়াতের কাছে আসিএপিপির কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। আসিএপিপির পরবর্তী স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রন জানানো হয়। পাশাপাশি আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।

  • জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে দলটি।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    গত শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

  • সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের (এস‌এইচ‌এস‌এমসি) শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    বিক্ষোভকালে ‘ডাক্তারদের অপমান, মানি না মানব না’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ইন্টার্নদের কর্মবিরতি চলছে চলবে’, ‘ইন্টার্নদের কর্মঘণ্টা বেশি কেন, জবাব চাই চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    সমাবেশকালে মেডিক্যালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহফুজুর রহমান ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা ঘরে ফিরে যাবে না।

    উল্লেখ্য, ৬ দফা দাবি আদায়ে গতকাল রোববার কর্মবিরতি শুরু করেন সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই দিন থেকে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনও চলছে। এ নিয়ে সোমবার (৮ জুন) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আজ কর্মবিরতি শুরু করেছেন পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও।

    পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি হলো— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।

  • চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কারও সকল ট্রেন স্টপেজের জন্য মহান জাতীয় সংসদে জোর দাবি জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের ( দর্শনা- দামুড়হুদা ও জীবননগর) নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এমপি ।

    ৭১ বিধি নোটিশে সম্পুরক প্রশ্নোত্তর কালে বলেন, ১৮৬২ সালে প্রথম দর্শনা দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময়েই জয়রামপুর স্টেশন চালু হয়। অনেক পরে আনসার বাড়িয়া স্টেশন ও চালু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত সরকারের আমলে কোন এক দুষ্ট চক্রের কারণে স্টেশন দুটিতে রেল স্টপেজ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আনসার বাড়িয়া ও জয়রামপুরের নিকটে কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্রদেরকে যন্ত্রচালিত নসিমন, করিমনও ভডভডে নামক এলাকার যানবহনে চড়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ আসতে হয়। আসার পথে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে অকালেই তাদেরকে পঙ্গু হতে হয়, এতে তাদের বাবা-মার স্বপ্ন অল্প দিনেই নিভে যায়।তাই তিনি এলাকার অভিভাবকদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার কথা মাথায় রেখেই রোববার জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পিকার এর কাছে এই দুটি স্টেশনে ট্রেন স্টপেজের জন্য জোর জানান।

  • দেশে প্রতিবছর খাদ্য অপচয় প্রায় ৩৫ লাখ টন

    দেশে প্রতিবছর খাদ্য অপচয় প্রায় ৩৫ লাখ টন

    বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

    তিনি জানান, এটি দেশের সামগ্রিক অপচয়ের চিত্র। সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম ও সাইলোতে খাদ্যশস্যের অপচয় বা ঘাটতি আগের তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে।

    সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। এ দিন বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

    অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, ‘ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশই চলে যায় ময়লার ঝুঁড়িতে, যা প্রায় ৩৫ লাখ টন। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?’

    লিখিত জবাবে খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ইউনেপের প্রতিবেদনে যে ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের কথা বলা হয়েছে, তা সামগ্রিক সংখ্যা।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন খাতে খাদ্যশস্য বিতরণের সময় ওই ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়।

    তিনি বলেন, তবে নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে নজর দেওয়া হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় কমার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন; যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যর মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে; যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের তুলনায় ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে।

    খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতি রোধে সংস্থাটি নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদে জানান তিনি।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৫ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৭৯ হাজার ১২ জনের এবং এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৬৮৬ জনের।

    আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ২৬৩ জন। এছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ জন।

  • সেীদিতে হাজার হাজার অবৈধ বাসিন্দা গ্রেপ্তার

    সেীদিতে হাজার হাজার অবৈধ বাসিন্দা গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী গত এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৭৬০ জন অবৈধ বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে সৌদি গেজেটের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানে এসবব্যক্তিকেগ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৬০ জন আবাসিক আইন, ২ হাজার ৫৭৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ১ হাজার ১২৬ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী। বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক, ৭০ শতাংশ ইথিওপীয় এবং বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

    এ ছাড়া অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করার সময় আরও ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ বাসিন্দাকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ হাজার ৪৯৫ জনকে তাদের ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৮৫০ জনকে ভ্রমণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান দেয়ার সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকেও আটক করা হয়েছে।

    বর্তমানে মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, আশ্রয় বা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

  • দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন (৩০) এক নারী সাথে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযোগকারী ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    সোমবার ওই নারী কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে সেই অভিযোগের বিষয়ে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    ১ জুন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় জিডি সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এলাকার বাসিন্দা রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আবেদনকারী।

    তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শুক্রবার ২০২৬ ভুক্তভোগী ওই নারী পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি লিখিত আবেদন করে। তিনি জানান, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়েছে। রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেলের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।

    আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পূর্বে দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। ফলে জিডিটি রেকর্ডে থাকলেও পরবর্তী কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    এদিকে রিয়াল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ দায়েরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কী, অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য ছিল, কিংবা কী পরিস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাচলছে।

    মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার শেখ তামিম আহম্মেদ (বিপি নং-৯৩২৩২৪৬২৬৭) জিডি গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত রকিবুজ্জামান বলেন, থানায় এই ধরনের জিডি অনেকেই করে। আপনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ।

    বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

    এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওন বলেন আমার পক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সিনিয়র গ্রুপ কাজ করেছে। মেয়ের পরিবারের সাথে আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। মেয়ে নিজে জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার পারিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বসে এবিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক আল্লাহ বিচার করবে। আমি আমার অভিযোগের জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

    চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের (পিপি) আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থানায় জিডি অথবা মামলা হলে আপস-মীমাংসার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপসের বিষয়ে আমি জানিনা।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসার জন্য পরামর্শ দিলে দিতে পারে। তবে এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই।

  • মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসাধারীর বিরুদ্ধে বার্তা

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসাধারীর বিরুদ্ধে বার্তা

    মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে ঘিরে দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনা, প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার সরকার বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ভিসা বা ব্যবসায়িক সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল সাংবাদিকদের বলেন, আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, লাইসেন্সের অপব্যবহার বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তার এ বক্তব্যকে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা হিসেবে দেখছেন।

    মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে আলোচিত একটি বিষয় হলো ‘আলী বাবা’ ব্যবসা। স্থানীয়ভাবে এর অর্থ হলো—কোনো মালয়েশীয় নাগরিক তার ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যবহার করে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন। কাগজে-কলমে ব্যবসার মালিক স্থানীয় ব্যক্তি হলেও বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা করেন বিদেশিরা।

    মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী, সামাজিক ভিজিট, ডিপেনডেন্ট কিংবা অন্যান্য ভিসায় প্রবেশ করে অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা বা চাকরিতে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিরা স্থানীয়দের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে কর পরিশোধ, শ্রমনীতি এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে না।

  • উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ছাড়বেনা -কিমের বোন

    উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ছাড়বেনা -কিমের বোন

    উত্তর কোরিয়া কখনোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না । বরং নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগত বাড়াতেই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। সোমবার (৮ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    দুই দেশের ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি বরদাশত করবে না এবং পিয়ংইয়ংকে পরমাণুমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে তিনি একটি ‘সেকেলে স্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

    কিম জং উনের সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এক শীর্ষ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণুমুক্ত করার বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    এই প্রসঙ্গে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিটি অসত্য এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে সঠিক তথ্য রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে রাষ্ট্রপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক যুদ্ধের সক্ষমতা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতি একটি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত, যা কোনো শর্ত ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হবে। মার্কিন কিছু কর্মকর্তা এখনও অবাস্তব ও সেকেলে স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে পারেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি তাদের একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা জনসমক্ষে এনেছে। সেখানে পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ-জানায়, কিম জং উন একটি প্রধান গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন।

  • লালমনিরহাটে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আপন ২ ভাই

    লালমনিরহাটে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আপন ২ ভাই

    লালমনিরহাটের মোগলহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই সহোদর কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতা চালালেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

    নিখোঁজ দুই কিশোর হলো— শাওন (১৪) ও সাব্বির (১৬)। তারা দু’জন সদর উপজেলার মোগলহাট বাজার এলাকার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তারা মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার দুপুরে শাওন, সাব্বির ও তাদের বন্ধু মেহেদী ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তারা নদীর প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মেহেদী তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও দুই ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

    স্থানীয় সংবাদ কভারেজ

    ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধারে নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

    এ ঘটনায় পুরো মোগলহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই সহোদরের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের দ্রুত উদ্ধার হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

  • তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালেন এলাকাবাসী

    তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালেন এলাকাবাসী

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরালেন। পরে তার মাথার চুল কেটে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

    অভিযুক্ত নেতার নাম সন্ন্যাসী মান্না। তিনি শ্যামপুরের আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একশো দিনের কাজ, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল সন্ন্যাসী মান্নার বিরুদ্ধে।

    তবে সন্ন্যাসী মান্না নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তার দাবি, এলাকার উন্নয়নমূলক কিছু কাজের জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই অর্থ ফেরত দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সন্ন্যাসী মান্নাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, জনরোষের কারণ এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনার বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত

    ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত

    ফেনী শহরের অদূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় কাউছার (৪০) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    রোববার (৭ জুন) সকালে ফাজিলপুর সবুজবাগ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাউছার কুমিল্লা জেলার বাঙ্গরা থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের মো: জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশের কর্তব্যরত এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, আজ সকালে মহাসড়কের সবুজবাগ নামক স্থানে ঢাকামুখী একটি পিকআপের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। এতে পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান উভয়ই মহাসড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন পিকআপের চালক কাউছারকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী জানান, গাড়ি দু’টি রেকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত চালকের লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এ,আর,

  • যশোর শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম। তিনি খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের প্রিন্সিপাল পদে কর্মরত রয়েছেন।

    রোববার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা

    পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত।

    রোববার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’-এর শিকার ১১ জনের প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
    শনিবার ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ওই ১১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন।

    আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে একজন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

    ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানান, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খোলা মাঠে পড়ে থাকা নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে গ্রামবাসীরা খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই–বাছাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে, তবে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

    এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • ছুটিতে দেশে ফেরা হলো না, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

    ছুটিতে দেশে ফেরা হলো না, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

    ছুটি নিয়ে দেশে আসার মাত্র পাঁচ দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের যুবক শহীদুল ইসলাম প্রকাশ শহীদুল্লাহ (৪০)।

    শনিবার (৬ জুন) রাতে ওমানের বেরুমিতে রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার।

    নিহত শহীদুল ইসলাম মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদারগ্রাম এলাকার আস্কর আলী বৈদ্দ্য বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ মেস্ত্রীর ৪র্থ ছেলে। বর্তমানে তার লাশ বেরুমি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সুখের আশায় দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে শহীদুল ইসলাম প্রবাসে কাজ করছেন। সেখানে এমব্রয়ডারির কাজ করতেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশে আসার কথা ছিল তার। মার্কেট থেকে ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

    দেশে আসবে এই নিয়ে কত খুশি ছিল শহীদুল ইসলামের পরিবার। বাড়িতে ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের লোকজনও খুশি। ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সেই খুশি এখন বিষাদে রূপ নিলো। অল্প বয়সে তার ছেলে-মেয়েরা এতিম হয়ে গেল।

    মিরসরাই সমিতি ওমানের সাবেক সভাপতি মো: আবু নছর রিয়াদ বলেন, লাশ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

  • ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানের সম্পদ গালফ দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়ার চেষ্টা করবে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর একাধিক হামলা চালানোর পর এবং নতুন করে ড্রোন উৎক্ষেপণ করার ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইরানের হামলায় গালফ মিত্রদের ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রেও ইরানি সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    এই তথ্য এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন মাসের যুদ্ধ শেষ করতে শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও বেড়েছে। শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী শনিবার তেহরান সফর করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে চিঠি পৌঁছে দেন।

    এর আগে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে গোরুক ও কেশম দ্বীপের লক্ষ্যবস্তু ছিল, যা হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। পরে আরও দুটি ইরানি আক্রমণাত্মক ড্রোনও গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

    পরে ইরান জানায়, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করে, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং সপ্তমটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেনি।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন নাকভি গতকাল শনিবার তেহরানে পৌঁছান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাকভি জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘বিশেষ একটি চিঠি’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন।

  • চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক নিহত

    চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক নিহত

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় কাজী জাফর (৩৫) নামে এক কাভার্ডভ্যান চালক নিহত হয়েছেন।

    রোববার (৭ জুন) সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন।

    নিহত চালক ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার মানিকারহাট গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চট্টগ্রামমুখী রোডে চলন্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ডভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত চালক কাজী জাফরের মৃত্যু হয়েছে।

    মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার এসআই নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’

  • সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নিবেন: স্পিকার

    সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নিবেন: স্পিকার

    জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৭ জুন) সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জেরে স্পিকার এই মন্তব্য করেন।

    অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্ত্রীর কাছে তার আগের একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে-র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’

    আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে— এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন এই সংসদ সদস্য।

    রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার ওনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে কোনোদিন ড্রিলিং (খনন) করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাবো। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারবো।’

    মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধ হয় পাওয়া যায়নি।’

    ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’

  • মাওলানা আব্দুল হালিম

    মাওলানা আব্দুল হালিম

    ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেব না

    ডে ক্স নিউজ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংক ডাকাত এস আলমের হাতে তুলে দিয়ে ইসলামী ব্যাংককে আবারও ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বর্তমান সরকার। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।

    তিনি রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত ‘ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, আর্থিক নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বিএনপি সরকার এই ধ্বংসের নেতৃত্ব দিক, দেশের মানুষ তা চায় না। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা হালাল ও সুদ হারাম’ এই মডেল প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহককে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সরকার বা কারও জন্য সুখকর হবে না। ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংস করে অন্যকে সুবিধা দেবেন—এটা আমরা গ্রাহকেরা মেনে নেব না। ব্যাংক খাতকে রাজনীতিকরণ করা যাবে না। আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তা ও সুন্দর বন্দোবস্ত চাই। ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গ্রাহকেরাই আন্দোলন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার আর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না। এই সরকারের সময়েও যেভাবে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের রক্ত ঝরাতে হচ্ছে, তা লজ্জার বিষয়। এটা জুলাই বিপ্লবকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি সরকারকে হঁশিয়ার করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দখল করলে এর মধ্য দিয়েই আপনাদের পতন হবে।

    লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। এই ব্যাংক আমাদের ব্যাংক, এটা আমাদের সিদ্ধান্তেই চলবে।

    নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, লে. কর্নেল (অব.) ফরিদুল আকবর, অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন, অধ্যাপক ড. আবু হানিফ খান, ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, কর্নেল (অব.) আবু ইউসুফ জুবায়ের, জাগপা নেতা আসাদুর রহমান খান, নৌ কমান্ডার (অব.) সিদ্দিকুর রহমান, মেজর (অব.) হারুন অর রশীদ, ড. ফরিদ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

    এ এম

  • হামে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর

    হামে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৭ শিশুর। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন । আর সন্দেহজক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২২১ জনের। এতে মোট হামের রোগী পাওয়া গেল ১ হাজার ২৮৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯১ জন এবং সন্দেহজনক হামে ৫২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬২০ জনে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৭৯ হাজার ১২ জনের এবং এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৬৮৬ জনের । আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ২৬৩ জন। এছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ জন।

    অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৪ জন ঢাকা বিভাগের এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫০৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী রয়েছে ৫১ জন। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৫ শিশু এবং ‘সন্দেহজনক হামে’ মৃত্যু হয়েছে ২২০ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ মোট ৮৭ জন, সিলেটে নিশ্চিত হামে তিনজনসহ ৬৬ জন, বরিশালে নিশ্চিত হামে ১৯ জনসহ ৫৬ জন, চট্টগ্রামে নিশ্চিত হামে ১০ জনসহ ৫৬ জন, ময়মনসিংহে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ ৫০ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৩ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

    শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

    ভারতে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হয়েছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

    রোববার (০৭ জুন) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার এমআইডিসি ওয়ালুজ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন অভিজিৎ। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর।

    দীপকে দাবি করেন, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল হয়েছে। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে এক পা-ও পিছিয়ে যাব না।’তিনি আরও জানান, আন্দোলনকে এখন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে শত শত বিক্ষোভকারী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান দীপকে।

    পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্ররা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ অথবা তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেবেন। এর মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে।

  • বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    সুসময়েও ভালো নেই তৃণমূলের ত্যাগীরা

    ডেক্স নিউজ : ফেনীর মেহেদী হাসান। ২০২২ সাল থেকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রদলের কমিটিতে নাম থাকায় ওই বছর থেকে পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বাড়িছাড়া হন তিনি। এরপর সপরিবারে আশ্রয় নেন ফেনী শহরে ছোট্ট এক ভাড়া বাসায়। শুরুর দিকে গরুর খামারে কাজ করে কোনোরকমে টিকে থাকার চেষ্টা চালান। বেশ কিছুদিন এভাবেই মানবেতর দিন যাপন করেন তিনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও এলাকায় না যেতে পেরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাকে। আবার এখন তার ওপরে অত্যাচার করা সেই আওয়ামী লীগ নেতারাই বিএনপির সঙ্গে মিশে গিয়ে তাকে এলাকায় ফিরতে বাধা দিচ্ছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও নিজের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মেহেদী। এখনও তার ভরসা সেই অটোরিকশা।মেহেদীর মতো এভাবেই বিএনপির তৃণমূলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মানবেতর জীবন কাটছে। অনেক জায়গায় আবার হামলারও শিকার হচ্ছেন। দল ক্ষমতায় থাকার পরও কেন এমন অবস্থা-এ নিয়ে বিভিন্ন জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে যুগান্তর।

    জেলা নেতাদের মতে, মেহেদীর মতো ত্যাগী নেতাদের অনেকেই এখন ভালো নেই। কারণ ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন করে সুবিধাবাদী আর হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের উত্থান হয়েছে। বিগত কোনো আন্দোলনে বা দলের কোনো পদে না থাকলেও অনেকেই এখন বিএনপি সেজেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারাই এখন সব জায়গায় হর্তাকর্তা হয়ে বসেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মেও। তাদের কারণে ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপির দেখা পাওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার শীর্ষ নেতারাও আগের মতো আর খোঁজ নেন না।

    জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো সারাক্ষণ আমার কর্মীদের মধ্যে থাকি। সুতরাং মন্ত্রীদের বিষয়ে যে অভিযোগ এটা ঠিক না’। দাগনভূঞার ছাত্রদলের নেতার মানবেতর জীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানকার নেতারা যারা আছেন অবশ্যই সেটা দেখবেন এবং দেখা উচিতও। তার জন্য কি করা যায় আমরা চেষ্টা করে দেখব।

    পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার আগে বা পরের বিষয় নয়, আমি সব সময়ই নিয়মিত এলাকায় যাই। আমার নেতাকর্মী-সমর্থকদের খোঁজ-খবর নেই। ফোনেও সব সময় তারা আমাকে পান’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। এরমধ্যে আমাদের অনেক ছেলে আছে; যাদের আর্থিক উপার্জন অত্যন্ত দুর্বল এবং তারা কেউ কেউ অসহায়। আমাদের অবগত করলে আমরা তাদের সাপোর্ট দেব’ তিনি বলেন, ‘অর্থ বছর মাত্র শুরু হবে। সর্বশেষ পার হওয়া অর্থবছর অল্প সময়ে অসহায় নেতাকর্মীদের কাজে লাগানো সেভাবে সম্ভব হয়নি। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অবগত হলেই আমরা তাদেরকে সহযোগিতা দেব।’

    শুক্রবার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলনে তার রাজপথে থাকার এক ডজনেরও বেশি ছবি ও ভিডিও পাঠান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি তারা কেউ এখন আমাকে চেনেন না। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের কাছে গিয়েছি, এলাকায় যেতে কেউ সহায়তা করেনি। এক সপ্তাহ আগে আমার অটোরিকশায় জেলা বিএনপি নেতা রতন উঠলে আমাকে চিনতে পারেন। পরে তার কাছে সবকিছু খুলে বলি। বুধবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সভাপতিকে বলেছি, আওয়ামী লীগের যারা নির্যাতন করেছে, তারা বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছেন। এ সময় রাকিব অভয় দিয়ে বলেছেন, তুমি এলাকায় থাকবে, রাজনীতি করবে।’

    এদিকে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথপোকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথা বলার সময় পাশে বসা বিএনপি নেতা রতনকে কাঁদতে দেখা যায়।

    ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান অন্তত ১৫ জন নেতা যুগান্তরকে জানান, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন। তাদের বন্ধু-বান্ধব অনেকেই এখন সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু অনেকেই আবার রাজনীতিতে নেমে চাকরির খোঁজার সময় পাননি। বিগত সরকারের হামলা-মামলায় অনেকে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলেও এখন আগের মতো কোনো নেতা আর খোঁজ নেন না। মন্ত্রী-এমপিদের কাছে গেলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তারা আরও বলেন, আন্দোলনের সময় মিছিল করার আগে নেতাকর্মী নিয়ে আসার জন্য যারা অন্তত দিনে ১০ বার ফোন করতেন, ক্ষমতায় আসার পার এখন আর তারা ফোন ধরছেন না। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন-এই আশায় এখনও রাজনীতি করছেন। একটি সেল গঠন করে ত্যাগীদের, বিশেষ করে যারা শিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর দাবি করেন তারা।

    ছাত্রদলের সাবেক দুইজন সহ-সভাপতি যুগান্তরকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা-মা মনে করেছিল বিএনপি ক্ষমতায় এলে অন্তত একসঙ্গে ঈদ করা যাবে। কিন্তু দুই ঈদেও বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাড়ি যেতে চাইলে খরচের ব্যাপার আছে। নিজেই চলতে পারছি না, বাড়তি খরচ কিভাবে করব।’

    সম্প্রতি রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যেও তৃণমূলের হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বক্তব্যে রাকিব বলেন, ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সেই জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী যারা রক্ত দিয়েছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই এই বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে বসা মন্ত্রী-এমপিদের উদ্দেশ্য করে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক হলেও নিবেদন রাখছি, আপনারা এই দিনগুলোর কথা কখনো ভুলে যাবেন না। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বহু নির্যাতিত নেতাকর্মী রয়েছেন; যারা বিগত সাড়ে ১৫ বছর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতিকে বুকে ধারণ করে আপনাদের আগলে রেখেছিল। আগামীতেও তারা যেন আপনাদের আগলে রাখে। আত্মীয়-স্বজনকে প্রশ্রয় দেবেন না। আবারও বলে যাচ্ছি, কোনো আত্মীয়-স্বজনকে আপনারা প্রশ্রয় দেবেন না।’

    এছাড়াও সম্প্রতি নাটোরে এক সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করতে দেবেন না। দেড় বছর হয়ে গেছে একটি কমিটিও ত্বরান্বিত করতে পারিনি। সব নেতাকর্মী আজকে পদবিহীন বসে আছে। সংগঠন যদি না থাকে, দল চালাবেন কি করে? নিজের আমিত্ব আর ক্ষমতাকে জাহির করতে গিয়ে দলটাকে ধ্বংস করবেন না। এই দলের পেছনে অনেক শ্রম আছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখে পালিয়ে গেছি, তারপরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করিনি। আপনাদের সঙ্গে ছিলাম দলকে ভালোবেসে, অন্য কিছুর লোভে নয়।’

    জেলা পর্যায়ের বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে সংঘঠিত কিছু ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি রংপুরে থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা হাইকমান্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার দাবি করেছেন নেতারা। রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, আওয়ামী লীগ আমলেও মামলা ও কারাগারে গিয়েছেন, কিন্তু এভাবে কখনও মারধর করা হয়নি। এছাড়া গত রোববার পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫ নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এমন ঘটনা আরও বেশ কয়েক জায়গায় ঘটেছে, যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বাস্তবতা হলো সরকারের তিন মাস পার হলেও প্রশাসনে এখনো কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপি মধ্যপন্থি একটি দল। সরকার দেশকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। আর সরকারের এই সহনশীল ভূমিকার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু আমলা ও পুলিশসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ ঘটনা ঘটতে থাকলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে যাবে।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে কিছুসংখ্যক মানুষ দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে। কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দলও এর মধ্যে জড়িত আছে। তারাই এসব ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

    এ এম

  • বাজেট অধিবেশন শুরু

    বাজেট অধিবেশন শুরু

    শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। রোববার বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশন শুরু হয় বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

    পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও ফের সক্রিয় হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যুক্ত হবে তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে। জোটগত ছাড়াও আলাদাভাবে শরিক দলগুলো চলমান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষাভে সোচ্চার থাকবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ কর্মসূচি কোনো দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

    এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দলও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছিলেন, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে। পরে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট।

  • কুমিল্লায় মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ৪৫ জনকে আটক করলো জনতা

    কুমিল্লায় মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ৪৫ জনকে আটক করলো জনতা

    কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে ধাওয়া দিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পুলিশ মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।

    রোববার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কয়েকটি যানবাহনে করে আসা বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হঠাৎ করেই সড়কে নেমে মিছিল শুরু করেন। প্রায় ২৪ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ওই মিছিলে কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মিছিলটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। প্রথমে বুড়িচং উপজেলার নিমসার মহাসড়ক এলাকায় কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করা হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ার এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইউটার্ন মোড় এলাকায় এসে আকস্মিক মিছিল বের করেন।

    মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের ধওয়া করে কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় মিছিলকারীদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহন জব্দ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি দিয়ে মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জুবায়ের আলম জিলানী বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দমনের ছাত্রদল প্রস্তুত । মিছিলের নামে যদি জনগণের ভোগান্তি করার পাঁয়তারা করে তাহলে আমরা শক্তহাতে দমন করব ।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে। পাশাপাশি মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি হায়েস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।

    ঘটনার পর মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    সাহিত্য ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার (কাণ্ডারী হুঁশিয়ার)’-এর শতবর্ষ পালনের আহ্বান জানিয়েছে দেশের ১৪টি জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে নজরুল গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। পরে এটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ‘কালিকলম’ পত্রিকায় গানের স্বরলিপি ছাপা হয়। একই বছরের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনে তিনি গানটি পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্মীয় বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে নজরুলের মানবতাবাদী বার্তা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব। নেতৃবৃন্দ নজরুলের ১৯২৬ সালে রচিত ‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধের একটি উক্তিও স্মরণ করিয়ে দেন—‘যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনও অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।’ যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিবৃতিদাতা সংগঠনসমূহ : বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সংগীত একাডেমি (নারায়ণগঞ্জ), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।