জাতীয় সংবাদ

  • “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগানে তাকে স্বাগত জানায়।

    ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ করে জানায়, দেশের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘সরাসরি দায়ী’। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার ভোরে দিল্লিতে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দিল্লি পুলিশ তাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে।

    বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের পর অনলাইনে ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ যাত্রা শুরু হয়। এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এক শ্রেণির তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন।

    সময়ের সঙ্গে আন্দোলনটি বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির সমর্থন পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক, চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী সোনাক্ষি সিনহা, দিয়া মির্জা, ফাতিমা সানা শেখ সহ অনেকেই।

  • পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের এক ফ্ল্যাটে একাকী বসবাসরত এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে এসেছে। বৃদ্ধ ও অসহায় পিতামাতার ভরণপোষণ সন্তানের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, অনেক সন্তানই এ দায়িত্ব পালন করেন না। শিক্ষিতদের মধ্যে এ প্রবণতা একটু বেশি দেখা যায়। শিক্ষিত ও উপযুক্ত সন্তান থাকার পরও অনেক অসহায় বাবা-মাকে আশ্রয় নিতে দেখা যায় বৃদ্ধাশ্রমে। উপার্জনক্ষম সন্তান থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতাকে যদি বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাতে হয়, এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর আর কিছু হতে পারে না। প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত বৃদ্ধ পিতামাতার দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা এবং তাদের সঙ্গ দেওয়া।আমরা জানি, বৃদ্ধ বয়সে যাতে সন্তানের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন, সেজন্য পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ গৃহীত হয়েছে। কোনো সন্তান যদি বৃদ্ধ পিতামাতাকে বাধ্য করে বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও বসবাস করতে অথবা কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    পিতামাতার ভরণপোষণের আইনটি একটি জনকল্যাণকর আইন। এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণে পিতামাতার ভরণপোষণ না করেন, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।

    কোনো সন্তান পিতামাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। পিতামাতা একত্রে বা আলাদা বসবাস করলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন, তাহলে তারা নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ দেবে।

    আইনটি শুধু পিতামাতার ভরণপোষণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এতে পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণের ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে পিতামাতার মতো ভরণপোষণ দিতে হবে।

    আইনে কেউ অপরাধ করলে তা অবশ্যই আমলযোগ্য। এ আইনের অধীনে করা মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে। অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতামাতাকেই করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্র্রহণ করবেন না। আদালত সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আপস নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেম্বার বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তবেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং তখনই তা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে।

    আইনে ভরণপোষণ অর্থ-ক. খাওয়া-দাওয়া; খ. বস্ত্র; গ. চিকিৎসা; ঘ. বসবাসের সুযোগ-সুবিধা এবং সঙ্গ দেওয়া। এ আইনের ৩ ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধারায় আরও উল্লেখ আছে, সন্তানকে পিতামাতার সঙ্গে এবং একই স্থানে বসবাস করতে হবে। পিতামাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে একত্রে বা আলাদা বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না। প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান ও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে সন্তান থেকে পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা সন্তানদের থেকে পৃথক বসবাস করলে সন্তান মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, ক্ষেত্রমতে উভয়কে দিতে হবে।

    এ আইনের ৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, সন্তান পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে ভরণপোষণ করবে। এ আইনের ৫ ধারা মোতাবেক পিতামাতার ভরণপোষণ না করলে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৫(২) ধারা মোতাবেক, কোনো সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামী, পুত্র, কন্যা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় ব্যক্তি পিতামাতা বা দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণপোষণ করতে বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে তিনি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ওই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    আইনের ৭ ধারা মোতাবেক, পিতামাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এ অপরাধের জন্য মামলা করা যাবে। আইনে আপস মীমাংসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের চেয়াম্যান, মেম্বার, কমিশনারদের আপস করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ আপস মীমাংসা আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান আইনে রাখা হয়েছে।

    মা-বাবা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হবে, তা একটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন। এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এ আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। তবে প্রশ্নটি শুধু আইনগত নয়, নৈতিকতারও। কার্যত সব পিতামাতাই সন্তানের মঙ্গল চান। কোনো পিতামাতাই সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করে, তাহলে সন্তানের বিরুদ্ধে না গিয়ে উপায় থাকে না। অনেক সন্তান পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য করে। আবার কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে পিতামাতা এ আইনের মাধ্যমে ভরণপোষণের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    এ এম

  • শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রোববার বিকালের মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে হবে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোববার বিকালের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে আইন অনুযায়ী শান্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, তার ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

    তিনি বলেন, মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে থাকবে- গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহণের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সব আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো তৈরিতে কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্র সরণি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ সারা দেশের জেলা শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

    লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

    জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের এমন চিত্র চোখে পড়ে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির পর চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আলমডাঙ্গার নান্দাবারে বজ্রপাত ও ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরোনো ভবনে জেনারেটর চালু থাকলেও নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে নতুন ভবনে জেনারেটর চালু করা হলেও জরুরি বিভাগের কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।

    এ অবস্থায় কাটা-ছেঁড়া ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্তত চারজন রোগীকে টর্চের আলোয় সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, একটি জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো স্বাভাবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনা ও জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করা হোক।

  • বিনামূল্যে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নড়িয়া-সখিপুরের ২১৬ জন শিক্ষিত বেকার

    বিনামূল্যে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নড়িয়া-সখিপুরের ২১৬ জন শিক্ষিত বেকার

    বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দেশের হাজারো যুবক প্রতি বছর দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কেউ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, কেউ লাশ হয়ে দেশে ফেরত আসছেন, আবার কেউবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিয়ে নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে পরিবারকেও করছেন সর্বস্বান্ত। এমন বাস্তবতায় শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২১৬ জন শিক্ষিত ও বেকার যুবককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণাকে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৬ জুন) সকালে নড়িয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক বাছাই কার্যক্রম শুরু করা হয়। মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে আট শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবকের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। নড়িয়া ও সখিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত তরুণরা স্বপ্নের নতুন ঠিকানায় পৌঁছার আশায় বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

    আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দেশের বেকার সমস্যা কমানো এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নড়িয়া-সখিপুরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একজন করে মোট ২১৬ জন যুবককে নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতদের প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে।

    এ উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকরা। সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই দালালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও প্রতারণার শিকার হয়েছি এবং হচ্ছি। এমন প্রেক্ষাপটে এমপি শফিকুর রহমান কিরনের কোম্পানী মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সত্যিই মানবিক, বিরল ও প্রশংসনীয়।

    শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন বলেন, ‘শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মোট ২১৬ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে যাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ব্যয় আমরাই বহন করব। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণদের পরে ঢাকায় নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদেশ যাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকা-খাওয়া, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া, বিমান ভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব খরচ মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে দেশের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। একইসাথে দেশের বেকার যুবসমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ২১৬ জনকে দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যা শুধু নড়িয়া-সখিপুরের অর্থনীতিতেই নয় জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

  • গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ দাদি ও বাবার কবরের পাশে তিনটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন, হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। একদিন গিয়ে দেখেন গাছগুলো নেই। কে বা কারা ফুলসমেত তুলে নিয়ে গেছে। হতাশ হন শামীম। কাউকে কিছু না বলে তিনি ভিন্নরকম প্রতিবাদের পথ বেছে নেন, তা হলো রাস্তার দুপাশে, সারা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ফুলগাছ রোপণ করবেন।নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৫শ বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে দেড় হাজার ফুলগাছ রোপণ করেছেন। দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলো পরিচর্যা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

    শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গ্রামজুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত চুরির ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু শামীম যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলগাছ রোপণ করছেন, তা সত্যিই বিরল। কয়েকমাস পর যখন এই গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুবাসে ভরে যাবে।

    শামীম বলেন, আমি চোর খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। হয়তো চোরের বাড়িও আমার গাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় এসে গেছে। সে যদি আমার এই কাজ দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয় বরং পুরো উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করা। ভবিষ্যতে সদরপুরের প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

    স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু হক বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের যে কোনো নেতিবাচক ঘটনার এমন সুন্দর ও ইতিবাচক সমাধান তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    একই গ্রামের শামছু বলেন, রাস্তার পাশে ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে, খুবই ভালো উদ্যোগ। একসময় ফুলগুলো সুবাস ছড়াবে। পথচারী সৌন্দর্য উপভোগ করবে। সুবাসে মুগ্ধ হবে। শামীমের শ্রম সার্থক হবে। এ বিষয়ে সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, হাওলাদার বাড়ির শামীমের এ উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। উদ্যোগটি ভালো।

    এ এম

  • বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের জন্য দ্রুত ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি শুরু করা হবে।

    তিনি আরও জানান, পরিকল্পনার আওতায় গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী—এই তিন স্তরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সুবিধা সংযোজন করা হবে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব যানবাহনের নকশা করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

    সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়ন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নসহ ছয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়।

    সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে ১৫ কেজি চাল, নগদ তিন হাজার টাকা ও সহায়তা কার্ড তুলে দেয়া হয়।

    ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার ৭৫০ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিলয় চন্দ্র কর, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গুনেন্দ্র কুমার তালুকদার, যাচাই-বাছাই কমিটির বিএনপির সদস্য হাসান তালুকদার, ওসমান গণী ও নূরউদ্দিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগীরা।

    এদিকে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা বিএনপির নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক ও জুলফিকার চৌধুরী রানা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রাব্বি তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ।

    সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ছয় কিয়ার জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। এই সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।

    ৬৫ বছর বয়সী কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করেছিলাম। জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। আজকের এই সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।

    কৃষাণী রাণী দেবী বলেন, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে উপকার হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

    সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি।’

    তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৭৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫০০ জন কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে ৭৫০ জনকে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমিত বরাদ্দের কারণে সবাইকে সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে আরো কৃষককে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।’

    বিতরণ শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত ভ্যানচালক জয়নাল মিয়ার (৬০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ৬টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত জয়নাল মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হামিদ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মরহুম ওসামন মিয়ার ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জয়নাল মিয়া অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৯ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নলডাঙ্গা-রংপুর সড়কে যাত্রীবহন করছিলেন তিনি। এ সময় বাড়ির পাশে কিশামত হামিদ নামক স্থানে চলন্ত ভ্যানটির পেছনে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে জয়নাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় জয়নাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর লোকমুখে শুনেছি।

  • ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল

    ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে থাকব। কারণ, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।’শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ, আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?”

    তিনি বলেন, আরও বেশি দিন যেন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পর প্রকল্প চলছে এই ঢাকা নগরের জন্য। কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকেরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা দরকার। সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    ঢাকার পরিবেশ ও নদীদূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কলেজজীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?’

    তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ, তো সব শেষ’—এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।

    ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি সেবনযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।”

    তিনি বলেন, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না—সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

    এ এম

  • দিনাজপুর সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত বিজিবির

    দিনাজপুর সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত বিজিবির

    দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) মশালগাঁও বিওপির (ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

    শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে ১১ জনকে (৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু) পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

    বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে।

    দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) কঠোর নজরদারি, পুশইন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি।

    দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জনসচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারগণও নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’

    তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় জনগণ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।’

    বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বাহিনী সর্বদা সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

  • বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তুরস্ক

    বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তুরস্ক

    বাংলাদেশের সাথে তুরস্ক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে ঢাকার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে সম্পর্ক আরো গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরো বিস্তৃত পরিসরে গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং একে দৃঢ় ভিত্তির ওপর আরো শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই।

    ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে ফিদান বলেন, এটি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন। জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং ড. খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন বলে তুরস্কের মন্ত্রী আশ্বাস দেন।

    ফিদান স্মরণ করিয়ে দেন, সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমান তুরস্ক সফর করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরে সম্পর্ক গভীর করার অভিন্ন সংকল্পকেই তুলে ধরে।

    তিনি জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে ফিদান বলেন, দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা শিল্পকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সফরের অংশ হিসেবে তুরস্ক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

    বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে ফিদান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি আশ্বাস দেন, তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করবে।

    ফিদান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থা- টিকা, এএফএডি, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট ও দিয়ানেত ফাউন্ডেনের মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফিদান ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যাহত করার অভিযোগ এনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দূর করা।

    ফিদান আরো বলেন, বাংলাদেশকে তুরস্ক সাথে নিয়ে নতুন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়াতে কাজ করবে।

  • পঞ্চগড়ে পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি

    পঞ্চগড়ে পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে ভারত সীমান্ত অতিক্রমের আগেই তাদের আটকে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন অবস্থায় মানুষগুলো আটকে পড়ে দুই দেশের শূন্যরেখায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, ওই ১০ জন শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবস্থান করছে।

    আজ শুক্রবার ভোরের দিকে সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এলাকাটি নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫ এবং এর বিপরীত দিক ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন।

    বিজিবি জানায়, ভোরে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে তাদের বাংলাদেশের উদ্দেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এ সময় বিজিবির একটি টহল দল তাদের বাধা দিলে বিএসএফের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের ভেতরে সরে যান। বর্তমানে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড়বাড়ী ক্যাম্পের বিপরীতে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।’

    বিজিবির এই অধিনায়ক আরও বলেন, বৈঠকে বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে। তবে তারা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য তাদের নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে এভাবে ঠেলে পাঠানো নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপ।

    সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজিবির এ কর্মকর্তা।

    এ দিকে ভারত সীমান্তের ভেতরে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।ৎ

    উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘিয়া আনারপুর এলাকায় এসব লোকজনকে জড়ো করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ বিজিবি (নওগাঁ ব্যাটালিয়ন)–এর সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম।

    তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ওই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

    এদিকে উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবি স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পাহারার কার্যক্রম চালায়। তারা পুশ-ইন প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

  • ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানে গোপন সেনা ঘাঁটি ছিল ইসরাইলের

    ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানে গোপন সেনা ঘাঁটি ছিল ইসরাইলের

    ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে গোপনে সেনা ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করেছিল ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত এক গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এসব বাহিনী পরিচালিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের উত্তর সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ আজারবাইজানের কয়েকটি স্থানে ইসরাইলের বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নেয়। এসব স্থানের কিছু ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। যুদ্ধ চলাকালে তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন পরিচালনা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিল।

    সূত্রগুলোর দাবি, আজারবাইজানে মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে ইসরাইলের বিশেষ অভিযান ইউনিট, এলিট হেলিবোর্ন কমব্যাট ও রেসকিউ ফোর্স এবং মোসাদের সদস্যরা ছিলেন। প্রথমদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে এসব অবস্থান গোয়েন্দা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

    সিএনএনের তথ্যানুযায়ী, আজারবাইজান ছাড়াও ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডে গোপন সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছিল ইসরাইল। এসব ঘাঁটি ইরানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ প্রান্তে ইসরাইলি উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যার ফলে দেশটির ভেতরে দূরপাল্লার অভিযান ও ধারাবাহিক হামলা পরিচালনা সহজ হয়।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রে আজারবাইজান দূতাবাস সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির ভূখণ্ড তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডও ইসরাইলকে একটি সামরিক অবস্থান ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এটি ইরানমুখী দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এছাড়া যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরাইল।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে নজরদারি সরঞ্জাম ও শ্রবণযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে ইসরাইল একটি গোপন অভিযান চালায়। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগাম তথ্য সংগ্রহ।

  • পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি, মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব

    পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি, মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

    রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো একটি খোলাচিঠিতে ইউক্রেনীয় নেতা বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত ‘অপেক্ষা করাটা ভুল হবে’। কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই’ শান্তি আসতে পারে।

    ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এর বিষয়বস্তু জানানো হবে। অবশ্য জেলেনস্কির পাঠানো ওই চিঠিটি বিদ্রোহী ও ব্যঙ্গাত্মক সুরেই লেখা হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের চালানো হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন যে, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়স এখন পুতিনের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’ ‘ইউক্রেন আমাদের অর্থাৎ আপনার ও আমার- সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।’

    এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক’, তবে তিনি এ-ও যোগ করেছেন যে, উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে।

    পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে।

    পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল- দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া- থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে।

    ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। তাদের যুক্তি, এটি রাশিয়াকে আবার আক্রমণ করার সাহস জোগাবে, যেমনটা তারা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সময় করেছিল।

    ১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এমন নয় যে ইউক্রেনে আমরা রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু নিয়ে এসেছে তার পর। তবে আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মানুষদের হারাচ্ছি এবং প্রতিটি ক্ষতি আমাদের কাছে বেদনাদায়ক।’

    জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

    তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথে পা বাড়াতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে প্রধানত এটাই চাওয়া হচ্ছে।’

    সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে এই মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি।

    ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই চিঠিটি এমন এক দিনে এসেছে যেদিন পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিচ্ছেন।

    এর আগের দিনই রাশিয়ার একটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ, যে ঘটনাকে জেলেনস্কি তার বার্তায় ‘পরিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এছাড়া, অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোল এলাকায় চারজনের মৃত্যুর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রুশ-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। যদিও ইউক্রেন জানিয়েছে যে, তারা একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত করেছিল।

    বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে একটি বৈঠক বা চুক্তি হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘জেলেনস্কি ইউক্রেনের বৈধ প্রতিনিধি কি-না, তা আইনজ্ঞদের এবং আইনি বিশ্লেষণের বিষয়।’

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশকে শান্তি আলোচনার জন্য কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

  • ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরাইল

    ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরাইল

    বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের ভাবমূর্তী ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সবশেষ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। বাংলাদেশসহ ৩৬টি দেশের ওপর জরিপ চালায় পিউ রিসার্চ। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ ইসরাইল সম্পর্ক নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে।

    ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, জরিপকৃত দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়ে ৬৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ দেশটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।

    পিউ জানিয়েছে, বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে।

    জরিপে অন্তর্ভুক্ত মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে—যেমন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক, সেইসাথে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে—ইসরাইলের প্রতি বৈরিতা বিশেষভাবে প্রকট ছিল। পিউ জানিয়েছে, তারা গাজায় জরিপ পরিচালনা করতে পারেনি।

    ইউরোপীয় জনগণও কম বৈরী মনোভাব পোষণ করেনি। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বলেছেন, ইসরাইল সম্পর্কে তাদের অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।

    এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, গাজা গণহত্যার কারণে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর থেকে আরো খারাপ হয়েছে। পিউ জানিয়েছে, ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনায় ২০২৫ সালে ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ইসরাইল সম্পর্কে প্রতিকূল ধারণা পোষণ করতেন। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যেও অত্যন্ত প্রতিকূল ধারণা পোষণকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

  • সাহারায় ট্রাক নষ্ট, পিপাসায় ৪৯ মৃত্যু।

    সাহারায় ট্রাক নষ্ট, পিপাসায় ৪৯ মৃত্যু।

    নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে একটি ট্রাক বিকল হওয়ার পর পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেসবুকে করা পোস্টে একথা জানিয়েছে আগাদেজ গভর্নরেট।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলমানদের একটি উৎসবে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে তাদের বহনকারী ট্রাক বিকল হয়ে যায়। তাদের কাছে থাকা পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে আসামাকা থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও (৫০ মাইল) বেশি পশ্চিমে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানি পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। আসামাকা নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যে একটি প্রধান সংযোগস্থল এবং এটি মালি সীমান্তেরও কাছাকাছি।

    গভর্নরেট জানায়, ‘ট্রাকের চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা গাড়িটি মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যানবাহনটি মেরামত করতে পারেননি। যাত্রীরা এক প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়েন। সেখানে চরম তাপদাহ ও পানির অভাবে তাদের বেঁচে থাকাকে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।’

    তবে দুজন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নিকটবর্তী একটি পানির উৎসের কাছে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে আসামাকায় গিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে।

  • মতলবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন!

    মতলবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন!

    দেশে যেখানেই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুষ্ঠান, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। যেখানেই তার অনুষ্ঠান, সেখানেই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এমন পরিস্থিতি ও ফেসবুকের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচরে ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হওয়ায় সেখানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌনে দুই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল।

    সভাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনও গত কয়েক দিন মাঠে কাজ করেছে এবং সভাস্থলের কাছাকাছি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেদায়েত উল্লাহকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ঈদ পুনর্মিলনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    এনসিপি মতলব উত্তর উপজেলার সদস্য সচিব ইমাদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ফেসবুকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে দেয়া বক্তব্য ও হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান অনুষ্ঠানের আগের দিন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সাথে দফায় দফায় সভা করেছেন।

    অনুষ্ঠানে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের স্থান দূরবর্তী অঞ্চল ফরাজীকান্দি থেকে সভাস্থলের নিকটবর্তী স্থানে নিয়ে আসা হয়।

  • মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

    মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঘোড়াকে গোসল করাতে গিয়ে নদীর পানিতে ডুবে জুলহাস মন্ডল (৪২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন ও মেলান্দহ উপজেলার কাহেতপাড়া সীমান্তবর্তী ঝাড়কাটা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুলহাস মন্ডল আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকার মরহুম আনার মন্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও জুলহাস মন্ডল তার ঘোড়াকে গোসল করাতে বাড়ির পূর্ব পাশের ঝাড়কাটা নদীতে যান। এ সময় তার সাথে ছিল একমাত্র ছেলে রাহাত (৬)। নদীর তীরে ছেলেকে রেখে তিনি ঘোড়াসহ পানিতে নামেন। একপর্যায়ে জুলহাস পানিতে ডুব দিলে ঘোড়াটি তীরে উঠে এলেও তিনি আর ভেসে ওঠেননি।

    বাবাকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে ছোট্ট ছেলে রাহাত দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর মাছ ধরার জালের সাহায্যে নদী থেকে জুলহাসের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সংবাদ প্রতিবেদন পরিষেবা

    ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ-কালিবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিয়াউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    নিহতের ভাতিজা সুমন জানান, চাচা প্রতিদিনই এই নদীতে ঘোড়াকে গোসল করাতে যেতেন। আজও ঘোড়ার সাথে নদীতে নামেন। কিন্তু ঘোড়াটি তীরে ফিরে এলেও চাচা আর উঠতে পারেননি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সাদুল্লাপুরে অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

    সাদুল্লাপুরে অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চলন্ত একটি অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ মিয়া (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে সাদুল্লাপুর-গাইবান্ধা সড়কের মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ মিয়া উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়ার গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে আব্দুল্লাহ মিয়া বাড়ি থেকে টায়ার নিয়ে খেলতে খেলতে ওই ফিলিং স্টেশনের রাস্তায় আসে। এ সময় রাস্তা পার হতেই সে গাইবান্ধাগামী একটি অটোরিকশার নিচে পড়ে যায়। অটোরিকশাটির চাকা তার বুকের উপর দিয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কের পাশে বিশাল একটি মেহগনি গাছ রাস্তার দিকে হেলে পড়েছে। এ গাছটির সাথে যানবাহনের ধাক্কা লেগে ইতোমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে শিশু আব্দুল্লাহরও মৃত্যু হলো। হেলেপড়া ওই গাছটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে আবারো যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, মেসার্স শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। তবে হেলেপড়া গাছের কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। গাছটি দ্রুত অপসারণ করা দরকার।

  • কৌতুহল থেকে কুসংস্কার : প্রশাসনের অভিযানে কড়ই গাছ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান

    কৌতুহল থেকে কুসংস্কার : প্রশাসনের অভিযানে কড়ই গাছ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান

    প্রকৃতির এক অদ্ভুত ঘটনার সাথে মানুষের বিশ্বাস-অবিশ্বাস মিশে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, আলোচনা ও কুসংস্কারের এক বিচিত্র অধ্যায়।

    ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়া একটি কড়ই গাছের কাণ্ড কয়েকদিন পর হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। একপর্যায়ে সেখানে মানত, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানোর ঘটনাও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত গাছটি কেটে ফেলেছে প্রশাসন।

    ঘটনাটি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ি এলাকায়। প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বড় কড়ই গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলা হলে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ কাণ্ডটি মাটিতে পড়ে ছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর স্থানীয়রা বিস্ময়ের সাথে দেখতে পান, কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

    বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে শুরু করেন। কেউ এটিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অনেকে এর মধ্যে অলৌকিকতার ছাপ খুঁজতে থাকেন। ধীরে ধীরে গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বাঁধা, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো এবং মানত করার মতো কর্মকাণ্ড শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানটি একটি অনানুষ্ঠানিক ‘মাজারে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

    এ অবস্থায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করে স্থানীয় প্রশাসন।

    আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মালিকের সম্মতি নিয়েই সেটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা একটি মসজিদ বা মাদরাসায় দান করা হবে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অস্বাভাবিক বা বিরল কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটিকে অলৌকিক বলে ধরে নেয়ার প্রবণতা সমাজে এখনো রয়েছে। অথচ উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু গাছ উপড়ে পড়ার পরও শিকড়ের একটি অংশ মাটির সাথে সংযুক্ত থাকলে বা কাণ্ডের ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে আংশিকভাবে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়।

    স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ছিল। তাই জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    ঘটনাটি আবারো মনে করিয়ে দিল— প্রকৃতির বিস্ময়কর ঘটনা কৌতূহলের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু সেই কৌতূহল যেন অন্ধ বিশ্বাসে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকাও সমান জরুরি।

  • রাঙ্গাবালীতে বজ্রপাতে ৬ গরুর মৃত্যু, প্রাণ গেলো কৃষকের

    রাঙ্গাবালীতে বজ্রপাতে ৬ গরুর মৃত্যু, প্রাণ গেলো কৃষকের

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামে বজ্রপাতে ৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পাশের গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চরকাজল গ্রামে বজ্রাঘাতে আলমগীর সরদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলমগীর সরদার পশ্চিম চরকাজল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আহমেদ সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামের মাঠে থাকা ৬টি গরুর ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গরুগুলো মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    অন্যদিকে, আলমগীর সরদার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিজের গরু আনতে যান। গরু আনতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শিকার হন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে দূর থেকে দেখতে পান কয়েকটি গরু একটি স্থানে জড়ো হয়ে আছে। কাছে গিয়ে তারা আলমগীর সরদারের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    পৃথক এ দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা এবং নিহত কৃষকের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে চরকাজল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামে বজ্রপাতে ৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পাশের গলাচিপা উপজেলার পশ্চিম চরকাজল গ্রামে বজ্রাঘাতে আলমগীর সরদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আলমগীর সরদার পশ্চিম চরকাজল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আহমেদ সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় উত্তর চরমোন্তাজ ও নয়ার চর গ্রামের মাঠে থাকা ৬টি গরুর ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গরুগুলো মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    অন্যদিকে, আলমগীর সরদার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিজের গরু আনতে যান। গরু আনতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রাঘাতের শিকার হন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে দূর থেকে দেখতে পান কয়েকটি গরু একটি স্থানে জড়ো হয়ে আছে। কাছে গিয়ে তারা আলমগীর সরদারের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    পৃথক এ দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা এবং নিহত কৃষকের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে চরকাজল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, ছুটি নেব কি না, এটাই তো প্রশ্ন? এত ব্যস্ত হবেন না, এটার প্রিসিডেন্স আছে।’

    চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম। তিনি দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। তখন ছিল ইন্টারনেটপূর্ব যুগ। এখন প্রযুক্তির এই সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।’

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। তবে নির্বাচনের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়—তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন, নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।

    তবে গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।

    সে সময় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আমাকে এক বছরের সময় দেবেন। পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, আমি ছুটিও নিতে পারি।’

    আজ আবারও সেই বক্তব্য উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    অনেকেই জার্মানির উদাহরণ টানছেন উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি। বিষয়টি ভিন্ন ছিল।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর খাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর খাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবেরের ছেলে।

    সাদ্দামের মামা মো: ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে ইগলু কোম্পানিতে চাকরি করত। ঈদের ছুটিতে সে বাড়িতে এসেছিল। ঈদের আগে আবুধাবি থেকে তার মেজ মামা আইয়ুব দেশে ফেরে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সাদ্দাম সাইকেলে করে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারীর বাড়িতে মামার সাথে দেখা করতে যায়।

    রাত ৯টার দিকে সাদ্দাম সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু সাদ্দাম বাড়িতে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে খালে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা লাশটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন।

    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইলফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি।

  • সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।

    বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

    বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।

    আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের।

    সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
    বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।

    সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।

    পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

    অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।

    বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।

    সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।

    জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের

    উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে মিছিল বের হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মূল্যবৃদ্ধি জনবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

  • মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, সিপিডির জরিপ

    দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে দেখা গেছে, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পণ্যবাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশের পণ্যবাজার এখনো নগরকেন্দ্রিক পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রীকরণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে।

    সিপিডির ২০২৫ সালের বাজার জরিপের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে প্রায় এক হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জরিপে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, গরুর মাংস, মাছ ও ব্রয়লার মুরগিসহ ১০টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    জরিপে দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচে—১১৬ শতাংশ। এরপর পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনে ৭২ শতাংশ। সিপিডির মতে, দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যত বেশি, ভোক্তাকে তত বেশি দাম দিতে হয়। বাজারের বর্তমান কাঠামোতে কিছু অংশীজন সংগ্রহ ও খুচরা মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি, ডিম ও মাছ বিপণনের ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক আড়তদারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খুচরা বিক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং আড়তদারদের প্রভাব বাড়ছে।

    সিপিডির মতে, এই নির্ভরশীলতা বাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রতিযোগিতা কমছে এবং অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা লাভের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

    অন্যদিকে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের মতো যেসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা।

    এ সময়ের মধ্যে মসুর ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা থাকা ডালের দাম ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ১১৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম চাল কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে রয়েছে। চারটি ডিমের দাম ছিল ৩৭ টাকা।

    বাজারের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাজারনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ রোধ, পণ্যবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সামগ্রিকভাবে বাজারের দক্ষতা বাড়বে।

  • ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    বিদ্যুতের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য দাম বাড়ছে না। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ ঘোষণা দিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দিনই আবাসিকের নিচের স্তরে দুই ধাপের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী (লাইফলাইন) ও প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়। আবার শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি স্ল্যাব চালুর কথাও আবেদনে বলা হয়।

    পিডিবির নতুন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এখন কমিশন নতুন একটি আদেশ দেবে। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা বাড়লেও প্রান্তিক গ্রাহকেরা উপকৃত হবেন।

    বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসি পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে পিডিবি কর্তৃক পাঠানো প্রান্তিক (লাইফলাইন) গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত ট্যারিফের প্রতিফলন ঘটেনি—যা বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করে, এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহকেরা (লাইফলাইন), বিশেষ করে, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    দেশের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করে প্রান্তিক গ্রাহকদের (লাইফলাইন) জন্য পিডিবি কর্তৃক গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে পুনর্নির্ধারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ হতে বিইআরসিকে অনুরোধ করে পত্র পাঠানো হয়েছে।

  • ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীনের হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বাধা জব্দকৃত সম্পদ ইস্যু

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বাধা জব্দকৃত সম্পদ ইস্যু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ইরানের জব্দকৃত (ফ্রোজেন) সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা ইস্যুতে দুদেশের মতপার্থক্য এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার শেষ ধাপে ইরানের ফ্রোজেন তহবিলের ব্যবস্থাপনা অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সূত্রটির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি ইরানের জন্য কোনো অর্থ ছাড় করতে রাজি নন।

    আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ রাখার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ওই তহবিলের মাধ্যমে অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। তবে ফ্রোজেন সম্পদ মুক্তির শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি।

    চুক্তির এই সময়ে জব্দকৃত অর্থের বিষয়টি সমাধান হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পথে শেষ বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • গাংনীতে  ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে চালক ও দুই শিশুসহ নিহত ৩

    গাংনীতে  ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে চালক ও দুই শিশুসহ নিহত ৩

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালক ও দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪জুন) দুপুরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আলিনগর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।


    নিহতরা হলেন সদর উপজেলার উত্তরশালিকা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে ইজিবাইক চালক আরিফ হোসেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সজিব হোসেনের ছেলে শিশু আবরার হোসেন এবং উত্তরশালিকা গ্রামের মহিন হোসেনের মেয়ে আফরিন।


    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজিবাইকটি বামন্দী থেকে মেহেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে আলিনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালক আরিফ হোসেন।


    দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শিশু আবরার, আফরিন, মাহিন ও তার স্ত্রী মুক্তা খাতুন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আবরার ও আফরিনের মৃত্যু হয়। আহত মাহিন ও মুক্তা খাতুনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।


    গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন শরীফুজ্জামান শরীফ

    চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন শরীফুজ্জামান শরীফ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    নিয়োগের খবর প্রকাশের পর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায়। নেতাকর্মীদের অনেকে এ নিয়োগকে ‘ত্যাগের স্বীকৃতি’ ও ‘জনমানুষের নেতার প্রাপ্য সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলীয় পরিমণ্ডলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও জনসম্পৃক্ততা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকারের সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

    এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শরীফুজ্জামান শরীফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

  • ইসরাইলের গোপন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    ইসরাইলের গোপন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    তেল আবিবের এক আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়া ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের একটি অতিগোপন সামরিক গোয়েন্দা দফতর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই এই হামলা চালিয়েছে তেহরান।

    স্পাইটকের বরাত দিয়ে ইসরাইলের টেকনিক্যাল ওয়েবসাইট ক্যালক্যালিস্টেক ডটকম সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় ঘটনাটি একটি আবাসিক এলাকায় সাধারণ বিস্ফোরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও এর আসল লক্ষ্যবস্তু যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র ছিল, তা এতদিন সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল!

    ইরানের একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের তথাকথিত অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে তেল আবিবের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই গোপন জিওস্পেশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা জিওইন্ট ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানে। অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন এই জাতীয় ভূ-স্থানিক তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্রটি একটি সাধারণ আবাসিক এলাকার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা এই হামলায় কেঁপে ওঠে।

    তবে নতুন এই প্রতিবেদনে যে তথ্যটি ফাঁসের মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে তা হলো, দুর্ঘটনাস্থল এবং মূল বিস্ফোরণের প্রভাববলয় থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা ইসরাইলের ন্যাশনাল জিওডেটিক ইনস্টিটিউট বা জাতীয় ভূ-স্থানিক প্রতিষ্ঠানটি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল শিকার ছিল এবং বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় কেন্দ্রটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এটি সাদামাটা কোনো বেসামরিক দফতর নয়, মূলত ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অতিগোপন ‘ইউনিট ৯৯০০’ এর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সহজ কথায়, ‘ইউনিট ৯৯০০’ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিওস্পেশিয়াল অ্যাজেন্সির সমকক্ষ সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিগত উপায়ে ভৌগোলিক ও অবস্থানভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। যুদ্ধক্ষেত্রে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে হবে, কোথায় বোমা ফেলতে হবে, শত্রুপক্ষের সামরিক যাতায়াত কেমন এবং ভূখণ্ড বা মাটির গঠন কেমন- এই সমস্ত জটিল সামরিক গোপন তথ্য ও নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করে ইসরাইলি পাইলট এবং পদাতিক বাহিনীকে সরবরাহ করে এই ইউনিট।

    সহজভাবে বলতে গেলে, এ ইউনিটটি যুদ্ধক্ষেত্রের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে এবং সেনাবাহিনীকে কোথায় কী ঘটছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করে। গাজা এবং লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর চলমান সমস্ত বিমান ও স্থল অভিযানের পেছনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই দফতর থেকে পাঠানো ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র এবং ড্রোনের রিয়েল-টাইম তথ্য। এমনকি ‘ইউনিট ৯৯০০’ একটি বিশেষ নিম্ন-উড্ডয়ন ড্রোন ইউনিটও পরিচালনা করে, যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরাসরি তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে।

    স্পাইটকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে ঘটনার পরপরই ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষ এই স্পর্শকাতর গোয়েন্দা ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা বিস্ফোরণের স্থান থেকে এর দূরত্বের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে সে সময় প্রকাশিত কোনো সংবাদেই সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি বা কোনো সেনা কর্মকর্তা হতাহত হয়েছে কিনা তা বিন্দুমাত্র উল্লেখ করা হয়নি।

    তেল আবিবের ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকার ঠিক মাঝখানে এমন একটি অতিসংবেদনশীল সামরিক গোয়েন্দা ঘাঁটি লুকিয়ে রাখার বিষয়টি এখন ইসরাইলের সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

    ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং নিখুঁত নিশানা বিশ্লেষণ করে স্পাইটকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানি এই হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না, বরং তেল আবিবের বুকে লুকিয়ে থাকা ইসরাইলের এই অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা কেন্দ্রটিই ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু।

  • গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন

    গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন


    ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম, লুটপাটের অভিযোগ এবং ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, গাংনী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অতীতে যেসব অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধন থেকে গ্রাহকরা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে লুট হওয়া অর্থের সমন্বয়, এস আলম যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

    বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

  • বাজেট সংকটের মুখে পেন্টাগন

    বাজেট সংকটের মুখে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর পরিশোধিত গড় জ্বালানির দাম অক্টোবরে ছিল ব্যারেল প্রতি ১৫৪ দশমিক ১৪ ডলার। এপ্রিলে তা বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৭২ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

    ইরান যুদ্ধের সময় জ্বালানির দাম বেড়েছে। যার ফলে সামরিক বিমান, ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য এই বছর সম্ভাব্য এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অপ্রত্যাশিত বাড়তি খরচ হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিভাগ বছরে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।

    সামরিক নেতারা ক্রমবর্ধমান বেসামরিক জ্বালানি এবং বাণিজ্যিক বিমান ভাড়ার খরচ নিয়েও লড়াই করছেন। যেহেতু সেনারা প্রায়শই প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য বাণিজ্যিক ফ্লাইট, ভাড়া করা গাড়ি এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভর করেন, তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

    এর ফলে, ভ্রমণ ব্যয় তীব্র পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্তত এপ্রিল মাস থেকে কিছু ইউনিট খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে বা বাতিল করেছে।

  • বাংলাদেশের হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

    বাংলাদেশের হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

    বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনমনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    অভিযোগকারীর দাবি, মমতার মন্তব্য প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মমতা আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে এসটিএফ তাদের আটক করে। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেননি। তাঁর ভাষ্য, ওই নাম প্রকাশ করা হলে বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

  • মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না: রাহুল গান্ধী

    মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না: রাহুল গান্ধী

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরেরও বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেখানকার অনেকেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন। তাঁর ভাষায়, “দেশে সিস্টেমের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে সিস্টেম একসময় নরেন্দ্র মোদি নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সিস্টেমই এখন আমাকে তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে।”

    তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নিয়মিতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, “আমার হিসাবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।”

    এখানেই থেমে থাকেননি রাহুল গান্ধী। তিনি আরও দাবি করেন, “যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে মনে করা হয়, সেই নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকেও আমার কাছে বার্তা আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিয়মিত তথ্য পাঠান।”

    রাহুলের বক্তব্য, মোদি এখন চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন, কারণ তিনি বুঝতে পারছেন যে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় সরকার জরুরি অবস্থার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, ভারতে সর্বশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

  • মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মোদি

    ডেস্ক নিউজ:

    ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল সমাপনী পরীক্ষার বোর্ড ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (সিবিএসই)-এর ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষার্থী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল গত ১৩ মে প্রকাশের পর থেকে একের পর এক জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে চালুর জেরে ১৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

    ৩০ হাজারেরও বেশি স্কুল অনুমোদিত সিবিএসই বোর্ড এ বছর কোটি কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) পদ্ধতি চালু করে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল ইমেজে রূপান্তর করে একটি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয় এবং পরীক্ষকেরা কম্পিউটারে তা মূল্যায়ন করেন। তবে ঝাপসা স্ক্যান, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার ডাউন এবং সময়মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর সন্দেহের ছায়া নেমে এসেছে।

    পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে সিবিএসই নিয়ম শিথিল করে হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোয়েম্পট এদু তেক’-কে এই কাজের দায়িত্ব দেয়। এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক পরীক্ষার খাতা ডিজিটালাইজেশনের দায়িত্বে ছিল ‘গ্লোবারেনা টেকনোলজিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ ফলের কারণে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করে এবং অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানটিই নাম পরিবর্তন করে ‘কোয়েম্পট এদু তেক’ রাখা হয় এবং তারা সিবিএসই-এর এই কাজের কাজ পায়।

    একাডেমিক ও শিক্ষকেরা ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এবার শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতি ও অবহেলা প্রকাশ্যে এনেছে।

    বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার আবেদন করার পর দেখতে পান, সিবিএসই তাকে যে স্ক্যান কপি পাঠিয়েছে তা আসলে তার খাতাই নয়, হস্তাক্ষর সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্সে (সাবেক টুইটার) তার এই পোস্ট ১৩ হাজারের বেশি বার শেয়ার হওয়ার পর সিবিএসই ভুল স্বীকার করে এবং ম্যানুয়ালি খাতা দেখে তার ফল সংশোধন করে।

    রাঁচির ১৮ বছর বয়সি তরুণ শিক্ষার্থী সার্থাক সিদ্ধান্ত তার ব্লগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে দেখান যে, কীভাবে একটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মাবলী পরিবর্তন করে একটি কালো তালিকাভুক্ত বা বিতর্কিত সংস্থাকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।বেঙ্গালুরুর ১৯ বছর বয়সি তরুণ নিসর্গ অধিকারী সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা উন্মোচন করেন। তিনি দেখান যে কীভাবে মাস্টার পাসওয়ার্ড ভেঙে পরীক্ষক হিসেবে সিস্টেমে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিবিএসই-কে বিষয়টি জানালেও ফল প্রকাশের পর পর্যন্ত তার সমাধান করা হয়নি।

    ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রণেশ প্রকাশ আল জাজিরাকে জানান, ভারতের সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য গবেষকদের উৎসাহিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ বলেন, ‘এই বিপর্যয় কোনো একক ঘটনা নয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ) জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং যেকোনো ধরণের ভিন্নমতের প্রকাশকে এখানে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী খাতার অমিল নিয়ে সরব হলে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনের এক সঞ্চালক তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে সিবিএসই ভুল স্বীকার করার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

    এই তীব্র বিতর্কের মুখে সরকার গত মঙ্গলবার সিবিএসই-এর চেয়ারম্যান ও সচিবকে অন্য দপ্তরে বদলি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘আসল অপরাধী’ শিক্ষামন্ত্রীকে বাঁচানোর এবং আমলাদের বলির পাঁঠা বানিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনো একই, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।’

    আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বদলি কোটি কোটি শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষতে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো এবং এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিচ্ছে যে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে পরিবর্তন করবে না।

    এদিকে ফল প্রকাশের পর থেকে সিবিএসই-এর খাতা পুনঃমূল্যায়নের ওয়েবসাইটটি ডাউন থাকায় অনেক অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থী আবেদনও করতে পারছে না, যার ফলে তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করেছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভুল সংশোধন করে নতুন করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ বদলি নীতিমালা জারি করা হয়।

    এর আগে, গত ২ জুন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশিত হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ইনডেক্সধারী সব শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। নীতিমালায় ভাষাগত ভুল থাকায় বিষয়টি সংশোধন করে পুনরায় নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল চালুর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল চালুর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের মধ্যে সারাদেশে শিশুদের মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে বলে আস্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুলে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    বিগত সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের ড্রপ আউটের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিলো, বর্তমান সরকার সবার আগে শিশুদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে – এ কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে শিশুদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হবে এবং এ বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধুলাকে কারিকুলামে যুক্ত করা হবে, শিক্ষার্থীরা যাতে হাসতে হাসতে শিখতে পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নিবে সরকার।

    আজকের শিশুরাই আগামীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    আর প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেন শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমত বিষয় নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে পারে।

  • বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। খবর রয়টার্সের।

    মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত শুল্ক থেকে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বিটিভি সরাসরি খেলা সম্প্রচার করবে। ফলে বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটেছে।

    আজ বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

    জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাবলিক মানি (জনগণের টাকা) খরচ না করে পাবলিককে খেলা দেখানোর জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।’

    ১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বাংলাদেশে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করার কথা ছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ বিটিভির কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছিল। করসহ তা দাঁড়াত ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছিতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি হয়নি।

    এদিকে বিক্রি করতে না পারায় স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান।

    এরপর বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিনা মূল্যে সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিটিভির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, আশা করা যায়, দর্শকেরা খেলা দেখতে পারবেন। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিটিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব নেবে। বেসরকারি পর্যায়ে যারা খেলা দেখাবে, তারা বিটিভি থেকে স্বত্ব নেবে। দুই–এক দিনের মধ্যে হয়তো আলোচনা চূড়ান্ত হবে।

    এদিকে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফিও। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম আলোকে জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংক ও টফি। বাংলালিংকসহ সব ফুটবলপ্রেমীরা টফিতে খেলা দেখতে পারবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতার কারণে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি নিশ্চিত করেছে।

    আর ভারতের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা।

    বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’–এর (যারা সম্প্রচারস্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি।

    তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তারা।

  • তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বাতিল

    তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বাতিল

    পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় সংকট ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে কর্মমূল্যায় ও সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার দলীয় নেতৃত্ব জানায়, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সব স্তরের কমিটি এবং এর সহযোগী ও শাখা সংগঠনগুলোর কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। পর্যালোচনা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

    এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন দলের কয়েকজন বিধায়ক প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর ফলে সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে দলীয় অঙ্গনেই আলোচনা শুরু হয়।

    দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলা থেকে বুথ পর্যায় পর্যন্ত পুরো সংগঠন নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হবে। মাঠপর্যায়ে কারা সক্রিয় ছিলেন, কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় সাংগঠনিক ঘাটতি রয়েছে—সেসব বিষয় বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অতীতেও সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। নির্বাচনী পরাজয়, বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে তৃণমূল বর্তমানে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সবার নজর থাকবে পুনর্গঠনের পর তৃণমূল কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়।

  • রুশ হামলার পর ইউক্রেনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

    রুশ হামলার পর ইউক্রেনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর আকস্মিক সফরে কিয়েভ পৌঁছেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। বুধবার তার এই সফরের কথা নিশ্চিত করেছে ন্যাটো ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে রুটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দেশকে রক্ষার জন্য জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে আরও সহায়তা চেয়ে আসছেন।

    ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, জোটভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নিয়ে রুটে কিয়েভে পৌঁছেছেন। এর আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অপারেটর উক্রজালিজনিতসিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আগমনের ছবি প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি এক পোস্টে লিখেছিল, “আমরা ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে স্বাগত জানাই।” পরে তারা এই সফরকে ইউক্রেনের প্রতি ন্যাটোর সংহতি ও সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে। তবে পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়।

    রুটের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের কয়েকটি জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই শহরে তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরামে রুশ কর্মকর্তা ও বিদেশি অতিথিরা জড়ো হচ্ছিলেন।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে অন্তত ২৩ জন নিহত হন।

    ইউক্রেন বলছে, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এর গোলাবারুদ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ন্যাটো সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

  • ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোজতবার খামেনির সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। তবে সুযোগ হলে তিনি অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করতে চান। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এ সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    খামেনির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তার সঙ্গে আমার দেখা করার সৌভাগ্য কবে হবে। তবে ইরানের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা চলছে, এতে অবশ্যই যুক্ত আছেন মোজতবা। আমি মনে করি, তাকে ইরানিরা অনেক সম্মান করেন। তবে যেসব গল্প শোনা যায়, যদি সেগুলো সত্য হয় তাহলে হয়ত মোজতবা তার শরীরের অনেক অঙ্গ হারিয়েছেন’।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। তবে সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি।

    এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করে তেহরান। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বার্তা দিয়ে আসছেন তিনি, যেগুলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পড়ে শোনানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • যশোরে পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ এনসিপির

    যশোরে পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ এনসিপির

    যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ করেছে দলটি। তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

    এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ছাত্রশক্তির নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদ, যুবশক্তির নেতা রুপম আহসান আহত হয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের অন্য নেতারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

    এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল প্রথম আলোকে বলেন, পুশ ইনের চেষ্টার প্রতিবাদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির নেতা–কর্মীরা আজ সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাদিপুর এলাকায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সাদিপুর থেকে ফেরার সময় প্রথমে গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজন যুবক ডিম নিক্ষেপের পর পালিয়ে যান। তাঁরা গাড়ির ভেতরে থাকায় কারও গায়ে ডিম লাগেনি। এরপর বেনাপোল স্থলবন্দর বাজারে পৌঁছালে সেখানে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আবার হামলা চালানো হয়।

    এ বিষয়ে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। এনসিপি নেতারা কীভাবে বলছেন, আমরা বুঝতে পারছি না।’

    এদিকে একটি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙার ছবি দিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’

  • দাম বাড়ল বিদ্যুতের

    দাম বাড়ল বিদ্যুতের

    পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে নিজেদের কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বেড়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ের ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

    সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

  • ৪১ জেলায় গরমে অস্থির জনজীবন

    ৪১ জেলায় গরমে অস্থির জনজীবন

    দেশের ৪১ জেলা তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন অবস্থায় কোথায় স্বস্তি নেই।

    গরমে হাঁসফাঁস জীবন—এমন পরিস্থিতিতে গরম নিয়ে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেসব জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

    বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

    এ ছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    এদিকে দেশের চার জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

    বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, রংপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৬০১ জনে।

    তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১০ জন। বুধবার (৩ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২১০ শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ১৫৮ জন।

    একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৫ হাজার ১৪২ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১১ জনের। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন।

  • উলিপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত কিশোর গ্রেফতার

    উলিপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত কিশোর গ্রেফতার

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ আরাফাত হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে।

    বুধবার (৩ জুন) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এছাড়া ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটি বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় শিশুটি বাড়ির আশপাশে অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলছিল।

    অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী কিশোর আরাফাত তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বন্ধ মাদরাসার নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির পায়ুপথ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে কিশোর তাকে কাউকে কিছু না জানানোর হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।

    পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা পরিবারকে জানালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত কিশোর আরাফাতকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, গ্রেফতার কিশোর ওই এলাকার সোহেল রানার ছেলে।

    কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নুর নেওয়াজ বলেন, শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং বর্তমানে সে সুস্থ আছে।

    উলিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কিশোর ঘোষ জানান, গ্রেফতার কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • মহেশপুর সীমান্তে বিদেশী পিস্তলসহ আটক ১

    মহেশপুর সীমান্তে বিদেশী পিস্তলসহ আটক ১

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ রফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক অস্ত্র কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আটক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাংঙ্গা গ্রামের শামসুল মণ্ডলের ছেলে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির বাঘাডাঙ্গা ক্যাম্পের একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৮১-আর এলাকার বাংলাদেশ অংশের বেনোপাড়া মাঠে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেনাপোডা মাঠের ঘাসক্ষেত থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ অস্ত্র কারবারি রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

    মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটক রফিকুল ইসলামকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৪৪) নামে এক কৃষক ও দু’টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলার ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক আনোয়ার হোসেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ফাঁকা মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান আনোয়ার হোসেন। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে তার কোমর থেকে বুক পর্যন্ত ঝলসে যায়।

    বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বজ্রপাতের সময় তারা কয়েকজন মাত্র দুই শ’ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বজ্রপাতের বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    এদিকে একই সময়ে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দু’টি গরু মারা যায়। উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম বিষ্ণুপুর গ্রামের আনছার আলীর একটি ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের সন্তোষ কাপালীর একটি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানা গেছে।

    কচাকাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস কৃষক আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    এ আর,

  • যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, সেটা আমাদের প্রয়োজন নেই

    যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, সেটা আমাদের প্রয়োজন নেই

    ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাত-আটদিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট-শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম-সচিব, অন্য ছেলে কানাডা-প্রবাসী।এদেশের অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছে।

    কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।

    যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।

    দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে।

    আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।’

    এ এম

  • মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার দুটি নিমগাছ ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর কেটে নিজ ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত হলেন—উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানার একদিন পর বন বিভাগ ওই ‘স’ মিল থেকে গাছ দুটি জব্দ করেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চাংকুড়ি মোড় থেকে তেজপাইন মোড়ের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। এ রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। গত শনিবার রাতে ঝড়ে এ রাস্তার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় দুটি নিমগাছ উপড়ে পড়ে যায়। পরদিন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে গাছ দুটি কেটে নওহাটা মোড়ে তার ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন চলছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি রাস্তার গাছ সরকারি অনুমতি ছাড়াই কীভাবে কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে আসার যে দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে কেউ এমন গুজব রটানোর চেষ্টা করছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঝড়ে দুটি গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে ছিল। গাছের সর্বোচ্চ মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা হবে। সেখানকার উপকারভোগীরা (গাছ পরিচর্যা সদস্য) আমার সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিক দিতে বলে। পরে তারাই দেড় হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গাছ কেটে নেয়। ওই দুটি গাছ তারা আরো এক হাজার টাকা পরিবহন খরচ করে আমার ‘স’ মিলে নিয়ে এসে রাখে। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে গাছ দুটি নিয়ে যায়।’

    মহাদেবপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি কেউ বিক্রিও করতে পারবে না। বিষয়টি জানার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে গাছ দুটি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গাছের মোথাও (গোড়া) নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনসহ এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বেনাপোল সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশইনের প্রতিবাদ জানাতে এলাকাটি সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার তিনি সীমান্ত সফরে যাচ্ছেন।

    আজ মঙ্গলবার এনসিপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরসূচির মধ্যে রয়েছে— বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বেনাপোল সীমান্তে যাওয়া, সকাল পৌনে ১২টায় সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন এবং দুপুর ১টায় বেনাপোলের পর্যটন হোটেল লবিতে প্রেস ব্রিফিং।

    এনসিপি জানিয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা। এর আগে গত ২২ মে ঝিনাইদহ সীমান্ত সফরে গিয়ে হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার আগে লালমনিরহাট সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে হাতীবান্ধায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

    এ এম

  • ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে এমন একটি “স্মার্ট ড্রাগ”, যা ক্যানসার কোষের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা নষ্ট করে ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ টিউমারের আকার অন্তত ৩০% পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    গবেষকদের মতে, ক্যানসার কোষ সাধারণত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের চোখ এড়িয়ে নিজেকে “অদৃশ্য” করে রাখে। নতুন এই ওষুধ সেই অদৃশ্যতা বা “ইনভিজিবিলিটি ক্লোক” ভেঙে দেয়, ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    ৬ ধরনের ক্যানসারে ইতিবাচক ফল

    যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৮৩ জন রোগী অংশ নেন। তারা ছিলেন জরায়ু, মূত্রথলি, লিভার, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা-ঘাড় ক্যানসারে আক্রান্ত।

    রোগীদের দেওয়া হয় পরীক্ষামূলক ওষুধ জিআরডব্লিউডি ৫৭৬৯, যা ইমিউনোথেরাপি ওষুধ সেমিপ্লিম্যাবের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, ২৬ জন রোগীর টিউমার সঙ্কুচিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার কমেছে অন্তত ৩০%।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সব রোগীই আগে প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া পাননি এবং অনেকের জন্য অন্য কোনো চিকিৎসার পথও ছিল না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—যাদের ওপর ইমিউনোথেরাপি আগে কাজ করেনি বা পরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ কার্যকর হয়েছে।

    কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ

    ক্যানসার কোষ সাধারণত একটি এনজাইম ইআরএপি১ (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম অ্যামিনোপেপটিডেজ-১) পরিবর্তন করে নিজেকে ইমিউন সিস্টেমের চোখ থেকে আড়াল করে। নতুন ওষুধটি এই এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে ক্যানসার কোষের “অদৃশ্যতা ঢাল” ভেঙে যায় এবং টি-সেলগুলো সহজেই কোষগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

    গবেষণার প্রধান গবেষক প্রফেসর ফিওনা থিস্টলথওয়েট বলেন, এটি মুখে খাওয়ার ওষুধ হওয়ায় রোগীদের জন্য সহজ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

    আরেক গবেষক প্রফেসর স্টেফান সিমেওনাইডস এটিকে “উত্তেজনাপূর্ণ অগ্রগতি” বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা হলেও বিভিন্ন ধরনের কঠিন ক্যানসারে একসঙ্গে ইতিবাচক ফল পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

    গবেষকরা বলছেন, ওষুধটি এখনো বৃহত্তর পর্যায়ের পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বহু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

    তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি। এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৪।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

    একই সময়ে ১ হাজার ২৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

  • ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া তাঁর মন্তব্যকে দলটির নেতারা ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হারুনুর রশিদ।

    বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপিতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি।

    হারুনুর রশিদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময়ে শিবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মশাল মিছিলের ঘটনাও উল্লেখ করেন।

    একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।’ এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা যায়।

    অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

    জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সক্রিয় ছিলাম। অথচ হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।’

    তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুনুর রশিদ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই বলেছিলেন, জেলা কমিটি বলে কিছু নেই। এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।’

    গোলাম জাকারিয়া আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

    হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

  • এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা

    এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা

    স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ শহিদুল, শোকে স্তব্ধ ঝিকরগাছা

    মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১১ বছর পর দেশে ফিরছিলেন ছেলে। তাঁকে আনতে ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁদের। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের চার সদস্য। আর বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন শুধু বাবা শহিদুল ইসলাম। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়। এক পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুরজাহান বেগম, তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম এবং মেয়ে আয়েশা বেগম। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাড়িচালকও। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে আরিফুলের বোনের তিন বছর বয়সী মেয়ে ও ছয় বছরের ছেলে।

    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আসতে শুরু করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

    স্থানীয়রা জানান, পরিবারটির সুখের দিন ফিরেছিল অনেক কষ্টের পর। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম ১১ বছর আগে অভাবের সংসারের হাল ধরতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরে। তাঁর দেশে ফেরাকে ঘিরে বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। আগামীকালই তাঁর পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা ছিল।

    কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম। পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন তিনি। স্বজনদের হারিয়ে পাগলপ্রায় শহিদুল ইসলাম।

    আরিফুলের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিলেন মা নূরজাহান বেগম ও তাঁর দুই সন্তান, নাতি–নাতনি। ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। বাবা শহিদুল ইসলাম ছাড়া এখন পরিবারের আর কেউ থাকল না।

    আরেক মামা আবদুল কাদের বলেন, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।

    মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, ফরিদপুরে তাঁদের মরদেহ আনতে গেছেন স্বজনেরা। রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিস-উর রহমান বলেন, আরিফুলের মা নুরজাহান বেগম সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করি। এ সময় প্রাইভেট কারের চালক প্রাইভেট কারসহ ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারটি কিছু অংশ কেটে চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।’ তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।