জাতীয় সংবাদ

  • লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে জাকিয়া সুলতানা জিসা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার কৈটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাকিয়া সুলতানা জিসা জাহাঙ্গীর আলম ও জোহরা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে পাঁচ বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসল করতে যায় জিসা। গোসলের সময় হঠাৎ পানির স্রোতে গভীর অংশে চলে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে জিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: ওসমান গনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

  • জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। তাহলে জনগণ কীভাবে ভোট দিল? আমি বলি, এই চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার করা হয়েছিল, সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

    তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক, তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। আরেকজন বলেছেন, টোল মওকুফের কথা বলা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

    বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময়মতো ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।

    সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, আপনারাও আসুন, এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শরিক হোন। সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অপমান করতে চাইলে করুন, জনগণই তার বিচার করবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষে আছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

    তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪ এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    সারাদেশের মতো যশোরেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন, জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পৃথক র‍্যালি, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

    পরে শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর পৌরসভার প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে প্রায় ১৪০-১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

    অপরদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয় থেকে পৃথক একটি র‍্যালি বের হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর নেতৃত্বে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির সিদ্দিকী বাচ্চু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদার হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

    এছাড়া প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকেও প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

    বিকেলে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে র‌্যালি বের হয়। ঈদগাহ মোড় থেকে র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • খালে গোসলে নেমে মাদ্রাসার চার শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    খালে গোসলে নেমে মাদ্রাসার চার শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নরসিংদীর রায়পুরায় খালে গোসলে নেমে চার শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রাণ হারানো শিশুরা হলো, বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯) ও জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা পড়ত বড়কান্দা এলাকার গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসায়।

    এসব নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ওসি নাজমুল হাসান।

    স্বজনরা জানান, মাদ্রাসায় ক্লাসের বিরতিতে একসঙ্গে ছয়জন পাশের একটি খালে গোসলে নামে। কিছুক্ষণ পর দুইজন পাড়ে এসে স্থানীয়দের জানায়, ডুবে গেছে অন্যরা। পরে লোকজন খালে নেমে চার শিশুকে উদ্ধার করে নেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, দুপুর ১টায় তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আরেকজনের মরদেহ পরিবার ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।

    ওসি নাজমুল হাসান জানালেন, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

  • কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে ছোট ভাকলা ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, উপকারভোগী কৃষকদের যাচাই-বাছাই এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট।

    সভায় বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না ঘটে সেজন্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সফল করতে হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রকৃত কৃষকেরাই যেন এই কার্ডের সুবিধা পান।

    মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

  • ডিএসই’র সব সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১,১১৮ কোটি টাকা

    ডিএসই’র সব সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১,১১৮ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান মূল্যসূচকসহ সব সূচক কমেছে।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ মোট ৪৯৫টি কোম্পানির ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি ২৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭৬২ টাকা।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৫ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯০০ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২২৭ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৪০টির কমেছে এবং ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো— টেকনো ড্রাগ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, মালেক স্পিনিং, ফারইস্ট নিটিং, তৌফিকা ফুড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসসি, সিটি ব্যাংক ও নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— টেকনো ড্রাগ, ফার কেমিক্যাল, এআইবিবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, অগ্নি সিস্টেমস, অ্যাম্বি ফার্মা, এমএল ডাইং, সিলকো ফার্মা, এপেক্স ট্যানারি, আমান ফিড ও মীর আখতার।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, বিআইএফসি, জিলবাংলা সুগার, জিকিউ বলপেন, সেনা ইন্স্যুরেন্স, জেনারেশন নেক্সট, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএসআরএম লিমিটেড ও সিএনএ টেক্সটাইলস।

  • আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

    আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। এর পর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এর পর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে।

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর পর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কীভাবে জোগান দেবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

    জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।

    সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে দুই ধাপে
    সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটি ভালো মনে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে।

    ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো– জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    অর্থবছর শুরু হলেও এখনো করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিদায়ি অর্থবছরে পাঁচ শ্রেণি ছাড়া ব্যক্তি করদাতার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানেরও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল চালু করার কথা রয়েছে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে করপোরেট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে ব্যক্তি করদাতাদার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অনলাইনে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এ বছর আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রণোদনা চালু করায় যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটি শুরু করতে চাই। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

    অনলাইন রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে সফটওয়্যার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনোসিস আইটির চিফ সলিউশন অফিসার (সিএসও) আমার দেশকে বলেন, আয়কর আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার আলোকে সফটওয়্যারেও আপগ্রেডেশন করতে হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আপগ্রেডেশনসহ এনবিআরকে হস্তান্তর করা হবে। এরপর এনবিআর এটি পর্যালোচনা করবে।

    অপরদিকে করপোরেট রিটার্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনবিআরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চাহিদা দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে হবে। যেহেতু এটি নতুন ডেভেলপমেন্ট, সেজন্য কিছুটা সময় লাগবে। কবে নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।

    এদিকে, চলতি করবর্ষ থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা যাতে ব্যাংকের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে এনবিআর। এটি বাস্তবায়ন হলে করদাতাকে আলাদাভাবে ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে না। তবে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে না বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান।

    তারা বলেন, করদাতা যদি স্বেচ্ছায় ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে দিতে চান, দিতে পারবেন। আবার না দিতে চাইলে ম্যানুয়ালি সেটি রিটার্নে দিতে পারবেন। কোনো কারদাতা যদি তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে না দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে চান সেটিও করতে পারবেন। তবে যেসব করদাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য দিতে চাইবেন না, তারা নিরীক্ষা ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের চারটি তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। এগুলো হচ্ছে—২০২৬ সালের ৩০ জুন অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, সুদ থেকে আয়, সুদের আয় থেকে কর্তিত উৎসে কর এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ কর্তিত অর্থ।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনবিআরের সঙ্গে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অ্যাপ্লিকেশন প্রোগামিং ইন্টারফেস (এপিআই) রয়েছে। এর ফলে কোনো করদাতার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে কিংবা গাড়ির মালিকানা থাকলে, তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত হয়। তবে আগামীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে এপিআই করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এনবিআরের প্রথম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করা গেলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

    চলতি করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলে ব্যক্তি করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের আয়কর রিটার্ন দাখিলে পুরো করবর্ষকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছে এনবিআর। নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা যদি ২০২৫-২৬ আয়বর্ষের রিটার্ন চলতি করবর্ষের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করেন তাহলে তিনি করছাড় সুবিধা পাবেন। এ সময়ে যিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তিনি আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ২৫ হাজার মধ্যে যেটি কম; সেটি পাবেন।

    ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব ব্যক্তি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তারা নিয়মিত করদাতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। এ সময়ে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা করছাড় সুবিধা যেমন পাবেন না, তেমনি জরিমানাও গুনতে হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সময়ে যেসব করদাতা রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদেরকে জরিমানা গুনতে হবে। জরিমানার পরিমাণ হবে আদায়যোগ্য করের ২ শতাংশ কিংবা তিন হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ।

    সবশেষ ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারীকে আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ তা পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ ব্যক্তি খাত করদাতাদের জন্য আগেও জরিমানার বিধান ছিল। বিলম্বের জন্য ১ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা ধার্য করা ছিল।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্ন দাখিলকারীর বড় অংশই শূন্য রিটার্ন দাখিল করেছেন। অর্থাৎ তারা রিটার্ন দাখিল করলেও কোনো কর দেননি। তারা তাদের আয়কে করমুক্ত সীমার নিচে দেখিয়েছেন। বিগত করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ছিল সাড়ে তিন লাখ। চলতি করবর্ষে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ করা হয়েছে।

    ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ব্যতীত সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে এনবিআর।

  • কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল। তাই এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছে, সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত পরিচালনা করবে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার্থী তারা সন্তুষ্ট। এর পরেও যদি কেউ তার পরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকে বা না করতে পারে, তাদের পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলার সময় সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

    এসময় তিনি বলেন, একটা মন্তব্যের কারণে অনেকে দুঃখ পেয়েছেন, আর সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তৃতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    যারা সরকারকে বিব্রত করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কী বার্তা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা দু-একটি জেলায় ও ঢাকার দু-একটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

  • পাঠদানের অনুমতি পেল আরো ৬৫৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পাঠদানের অনুমতি পেল আরো ৬৫৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৬৫৪টি বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠদান পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেনি, তাদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অনুমতিপত্র সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ গত ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি অনুযায়ী অনুমোদনহীন বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষার এসএসসি (ভোকেশনাল)/দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠানে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি) শিক্ষাক্রম পরিচালনার জন্য ৬৫৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।তে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের পাঠদানের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে চেয়ারম্যান বরাবর একটি প্রতিষ্ঠানপত্র দিয়ে পাঠদান পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়ে অবহিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাঠদানের অনুমতিপত্রের কপি সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেখুন এখানে…….

  • রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়।

    বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায় সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, তাকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে আটক করা হয়।

    ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

    মো. মোজাফফর হোসেন সে সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

  • ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাইলস্টোনের কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়া এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেই ছাত্রী আগেই মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর তুরাগ থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযুক্তের নাম রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি। তিনি মাইলস্টোন কলেজের কলেজ কোড নং-৮০৭৪, বিজ্ঞান বিভাগ (ইংরেজি মাধ্যম)-এর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একজন ছাত্রী ছিলেন। শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিক্রমে তাকে মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টি.সি.) দেয়া হয়। ফলে সে এখন আর মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী নয় এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচয় ব্যবহারের অধিকারও তার নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিয়োতে দেখা যায় যে, ওই ছাত্রী মাইলস্টোন কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক জোরালো বক্তব্য দিয়েছে। সে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

    মাইলস্টোন কলেজের সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ হয়ে এ বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

  • ৩০টি চারা থেকে এখন ৪ বিঘার লটকনবাগান

    ৩০টি চারা থেকে এখন ৪ বিঘার লটকনবাগান

    সকালের সূর্য তখনো পুরোপুরি তেজ ছড়ায়নি। ময়মনসিংহের ভালুকার নয়নপুর গ্রামের একটি বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে ফলের ভারে নুয়ে থাকা সারি সারি লটকনগাছ। হলুদাভ পাকা ফলের থোকা হাতে নিয়ে কখনো পাইকারদের সঙ্গে দরদাম করছেন, কখনো আবার দূরদূরান্ত থেকে আসা কৃষকদের উন্নত জাতের কলম দেখাচ্ছেন রোকন উদ্দিন।

    কয়েক বছর আগেও হাফেজ রোকন উদ্দিনের পরিচয় ছিল মসজিদের ইমাম হিসেবে। আজ তিনি পরিচিত একজন সফল লটকনচাষি ও উন্নত জাতের লটকনের চারা উদ্ভাবক হিসেবে। তাঁর বাগানে উদ্ভাবিত একটি জাত এখন স্থানীয়ভাবে ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিত।

    গত সোমবার উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে গিয়ে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। বাগান ঘুরে দেখাতে দেখাতে তিনি তাঁর কৃষক হয়ে ওঠার গল্প শোনান। তিনি জানান, জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করেছেন। কিন্তু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকেই গাছ লাগানো ছিল তাঁর নেশা। মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা বাড়ির আঙিনায় সুযোগ পেলেই ফলগাছ রোপণ করতেন। একসময় সেই শখই তাঁকে বাণিজ্যিক ফল চাষে নিয়ে আসে।রোকন উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে মুক্তাগাছা উপজেলা থেকে ৩০টি লটকনের চারা কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে হয়। অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলন পাননি। এরপর নিজেই কলম করার কৌশল শিখে ভালো ফলনশীল গাছ নির্বাচন করে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। পুরোনো এক বিঘা জমির পাশাপাশি নতুন করে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ২০০টি গাছ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন লটকন চাষ। ২০২৩ সাল থেকে বাগানে সফলতা আসতে শুরু করে।রোকন উদ্দিন বলেন, আট বছরে ৮–১০টি জাত নিয়ে কাজ করেছেন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুটি জাতকে সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাতের ফল বড়, খেতে খুব মিষ্টি এবং বাজারেও এর চাহিদা বেশি। এই উন্নত জাতের নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি গল্প। তিনি জানান, কৃষিভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’–এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ চলতি বছর তাঁর বাগান পরিদর্শনে এসে গ্রামের নাম অনুসারে জাতটির নাম ‘নয়নপুরী লটকন’ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে এ নামেই পরিচিতি পেয়েছে জাতটি।রোকন উদ্দিন জানান, বর্তমানে চার বিঘা জমির দুটি বাগানে লটকনের চাষ করছেন তিনি। নিজে চাষের পাশাপাশি কলম করে চারা উৎপাদন করে বিক্রিও করছেন। এক বছরের কলম চারা ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম চারা ২০০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বছরে তার এখানে ৫-৮ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষক ও উদ্যোক্তারা তাঁর বাগানে এসে চারা সংগ্রহ করেন। ভালো জাতের চারা না হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পরীক্ষিত গাছ থেকেই চারা তৈরি করেন। চারা নিয়ে যেন অন্যরাও সফল হন, সেটাই চান।

    বর্তমানে বাগানের লটকন প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। নিজের বাগানের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাগানের ফলও পাইকারিভাবে কিনে বাজারজাত করেন তিনি।চারা কিনতে আসা গফরগাঁও উপজেলার কৃষক মো. এনামুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর বাগান দেখে এসেছিলাম। ফল খেয়ে খুব ভালো লেগেছে। তাই ৩২টি কলম চারা কিনেছি। সফল হলে আমিও বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান করব।’

    রোকন উদ্দিনের লটকনের ফল বড়, দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষক আবদুস সালাম। তিনি আরও বলেন, এ কারণে তাঁর চারার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই এখানে অনেকে আসেন চারা নিতে ও ফল কিনতে।ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, শখ থেকে শুরু হওয়া রোকন উদ্দিনের পথচলা এখন আর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে গ্রামবাংলার পতিত জমিও একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

    উপজেলার প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, রোকন উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তারা উন্নত মানের চারা উৎপাদন করায় নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভালুকার লটকন রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা

    শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা

    জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ইউএনও এবং বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান

    প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি এ গৌরব অর্জন করেন।

    জানা গেছে, সোনারগাঁয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফারজানা রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতি বাড়াতে চালু করা হয় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি। এ ছাড়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ১৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    প্রশিক্ষণ শেষে অনুশীলনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপও বিতরণ করেন তিনি।
    শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি উপজেলায় চালু করেন আন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড’ চালু করা হয়, যার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

    এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে তিনি বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৈষম্য দূর করতে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন ফারজানা রহমান। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, ফুলের বাগান তৈরি, ফলজ গাছ রোপণসহ মনোরম শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।

    পাশাপাশি অভিভাবকদের বসার সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়।

    শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে ক্রীড়াসামগ্রী ও ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সিও বিতরণ করা হয় তার উদ্যোগে।

  • হাসিনা  ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

    হাসিনা ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং ১০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ আদালতের আদেশের মাধ্যমে অবরুদ্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদের মধ্যে দেশে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে থাকা প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

    চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব বলে আশা করছি।

    তিনি আরও বলেন, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

    ‘আমরা দল-মতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ জড়িত থাকলেও সেটিও তদন্তে উঠে আসবে,’ বলেন তিনি।

    বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিএফআইইউর চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

  • শার্শায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    শার্শায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিকদের সংগঠন উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অধিকার ও কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় বেনাপোল পৌর এলাকার বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সংগঠনের সভাপতি আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, জামাল হোসেন, আব্দুস সালাম গফ্ফার ছন্দ, আলতাফ মাহমুদ, এনামুল হক, জিএম আশরাফ, আনিছুর রহমান, আরিফুর রহমান, শেখ নাসির উদ্দিন, শাহিন হোসেন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হোসেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ সময় উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ে না’

    ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ে না’

    চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিকে যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থীই। অনেকে আবার পরীক্ষা স্থগিত করে অটোপাস দেওয়ার বিপক্ষেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা এমন কথা জানিয়েছেন।

    রাজধানীর ফার্মগেটে এক ছাত্র বলেন, ‘আন্দোলনের দাবির মধ্যে ফিজিক্স পরীক্ষা পেছানো উচিত ছিল এক দিন বা দুই দিন। এই দাবিই শুধু ঠিক, এর বাইরে আর কোনো দাবি যৌক্তিক না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে হবে, এগুলো যৌক্তিক দাবির পর্যায়ে পড়ে না। শিক্ষামন্ত্রী নতুন এসেছেন, তাকে তো সময় দিতে হবে কাজ করার জন্য। তখন না হয় উনাকে বলা যাবে, এখন তো নতুন করে উনাকে নামানো (পদত্যাগ করানো) ঠিক হবে না আর কি, এটা যৌক্তিক দাবি না।’

    চট্টগ্রামে এক সাধারণ শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ওদের এক বছর আগে পরীক্ষা দিছি। সাতটা সৃজনশীল প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাই আমি বলব, তোমরা পরীক্ষা স্থগিত করেছ চট্টগ্রামে। অন্য জেলায় কি হচ্ছে, অন্য জেলায় কি হচ্ছে সেটা অন্য জেলায়। তোমরা এই জিনিসটাকে মোড় দিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাইও না। আমরা ২৪-এ কী হয়েছে দেখছি, এর আগে ১৮ সালে কী হয়েছে দেখছি। আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটাকে দাঁড়াইতে দাও। দেশের অবস্থা ভালো না। তোমরা এখন ইয়াং, রক্ত গরম, তোমরা বোঝ না রাজনীতি কী, অর্থনীতি কী, গোপনীয়তা কী, তোমরা শুধু উনিশ-বিশ হলেই আন্দোলন কর।’

    ঢাকা সিটি কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘বাস ভাঙা কোনো সলিউশন (সমাধান) না। আমি এটা সমর্থন করব না অবশ্যই। এখানে সাধারণ মানুষ ছিল, যাত্রী ছিল, এই বাস ভাঙা কোনো সলিউশন না। হয়তো উত্তেজনা থাকে কিছু স্টুডেন্টের যারা হলো এই বাস ভাঙার সঙ্গে উত্তেজনা ছিল। তো এর মানে এই নয় যে সব স্টুডেন্ট এর সঙ্গে আছে যে আমরা গিয়ে বাস ভাঙব। যেখানে সেখানে বাস দেখলে ভাঙব, এমন কিছু না।’

    চাঁদপুরের এক ছাত্রী বলেন, ‘অটোপাস হলে অবশ্যই খারাপ হবে। আমরা অটোপাস চাই না, আমরা চাই যেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে, পরীক্ষাগুলো এভাবেই কন্টিনিউ হোক।’

    এ সময় তার পাশের এক ছাত্রী বলেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম পার্টের তুলনায় সেকেন্ড পার্ট অনেক ভালো হয়েছে। এমন পরীক্ষা হলে আলহামদুল্লিলাহ ভালো একটা রেজাল্ট আশা করা যায়। পরীক্ষা যদি স্থগিত করে দেয়, তাহলে তো আমাদের জন্যই ক্ষতি। বর্তমানে আমাদের পড়ালেখার গতি, সেটা স্থগিত হলে আমাদের নতুন করে পড়ালেখায় মন বসাতে কষ্ট হবে।’

  • মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহি মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এ দানবাক্স খোলা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। ৫ টাকার নোটে মুদ্রিত এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদে এসে অনেকেই নিজেদের মানত ও দান করে থাকেন।

    নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর এ দানবাক্স খোলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দানবাক্স খোলার পর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মসজিদের ইমাম, খাদেম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    এবার দানবাক্সে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি মানত করা বিভিন্ন স্বর্ণের গহনা, একটি স্বর্ণের চামচসহ ভারত ও মালয়েশিয়ার মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানু জানান, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার স্বচ্ছতার সঙ্গে হিসাব করে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ঐতিহাসিক এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।

  • মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের সেবা মাশুলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও গ্রাহক মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করলে তাকে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। পাশাপাশি আরও ১৪ ধরনের ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি আরোপ বা বিদ্যমান মাশুল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়— এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, যেকোনও প্রস্তাব অনুমোদনের আগে এর প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা হবে।

    এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী— মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি; দীর্ঘদিন অচল থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করতে ৫০০ টাকা ফি; ঋণ প্রক্রিয়াকরণ (লোন প্রসেসিং) ফি কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব; বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি সংযোজন এবং বিদ্যমান চার্জ বৃদ্ধি।

    ব্যাংকারদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শাখাভিত্তিক সেবার ওপর চাপ কমবে এবং গ্রাহকরা ডিজিটাল ব্যাংকিং, এটিএম ও বিকল্প চ্যানেল ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, “গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব দিক বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে সেবা মাশুলের ওপর নির্ভর না করে ঋণ বিতরণ ও অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    গ্রাহকদের উদ্বেগ

    প্রস্তাবটি সামনে আসার পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং সেবার খরচও বাড়ানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট আমানতকারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যেসব গ্রাহক এখনও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন।

    বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও অনেক শহরতলিতে কাউন্টার থেকেই অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত লেনদেন করেন। তাদের জন্য অতিরিক্ত ফি নতুন আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহ নাকি বাড়তি চাপ?

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, কাউন্টারে লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণের লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও, বিকল্প সেবাগুলো সবার জন্য সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ না হলে শুধু ফি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

    তাদের মতে, এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবায় অভ্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পরই এ ধরনের নীতি কার্যকর করা উচিত। অন্যথায় এটি ব্যাংকিং সেবার ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

    সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

    এবিবির প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনও ফি বা চার্জ কার্যকর হবে না। তাই গ্রাহকদের আপাতত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে।

  • পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পূর্বের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক যুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদে বহাল থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন- বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লা, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে, ওয়াই স্টীল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

  • প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবেলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরো জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন–পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

    এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যেন ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

    জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

    অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মূল কোম্পানি (প্যারেন্ট কোম্পানি), সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও হাইটেক পার্কসহ বিশেষায়িত অঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত উৎপাদন ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

    শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বার্ষিক অল-ইন-কস্টে সুদযুক্ত ঋণও নেওয়া যাবে। এসব ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রোলওভার করা যাবে।

    এছাড়া এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয়, যেমন- যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নিতে পারবে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে, সেখানে সুদ প্রযোজ্য হলে তার বার্ষিক হার হবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। তাছাড়া বকেয়া বৈদেশিক ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, নতুন এ উদ্যোগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

  • ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে শুরুর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় দলে এক-দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের লক্ষ্য সম্ভাব্য সেরা দলটিকে মাঠে নামানো। তবে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।’

    যদিও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানো দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, পরিবর্তন এলে সেটি মূলত মাঝমাঠেই দেখা যেতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। মিসরের বিপক্ষেও তার জায়গা নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া জাতীয় দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

    দি পল না খেললে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একাধিকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন সিমিওনে। তিনি একাদশে সুযোগ পেলে বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্কালোনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের বিন্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল/জুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গনসালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • সিটি করপোরেশনগুলো নগর সরকারে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা চলছে: মির্জা ফখরুল

    সিটি করপোরেশনগুলো নগর সরকারে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা চলছে: মির্জা ফখরুল

    ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিটি করপোরেশনগুলোক সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকারে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, ‘নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকর করতে এগুলোকে নগর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্টে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’

    আজ বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে গুলশান নগর ভবনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি গভর্নমেন্ট করার বিষয়ে সরকারপ্রধানেরও এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা রয়েছে। এর ফলে নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

    রাজনৈতিক মতবিরোধের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক হিসেবে ঢাকাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করে ঠিক করার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। এই নদীগুলোকে না বাঁচাতে পারলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ঢাকাকে বাসযোগ্য করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর জন্য নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

  • শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

    আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে।’

    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

    জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের। স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।’

    মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

    অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

  • বোরকা পরে আদালতে ববি

    বোরকা পরে আদালতে ববি

    প্রতারণার মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। এ সময় ববিকে দেখা যায় বোরকা ও সানগ্লাস পরে হাজির হতে, সঙ্গে অনেকেই ছিলেন।

    শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ববির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার।

    এর আগে, ১২ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া এবং অ্যাডমিন সোহেল রানা।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১২ নভেম্বর আবুল বাশার তার প্রতিষ্ঠানের জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর গুলশানে বিটিএলের কার্যালয়ে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারির মূল্য পরিশোধ না করে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে মেহেদি আলম প্রিন্সকে অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারির ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • আওয়ামী লীগকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

    আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁকবদলের দিন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়েরই বিচার করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ফ্যাসিবাদী সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। প্রশাসনিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করাকে আমরা সঠিক মনে করি না।’

    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অবৈধভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দলটির নেতা-কর্মীদের মাধ্যমেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে সংগঠন হিসেবেও আওয়ামী লীগকে দায় নিতে হবে।

    নুরেমবার্গ ট্রায়ালের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে হিটলারের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমন একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, এই গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যা, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা ও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

    ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য ধরে রেখে শহীদদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১-এর শহীদ এবং জুলাইয়ের শহীদেরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে রেখে যাচ্ছি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জিন্দাবাদ, জুলাই স্মৃতি আমাদের শক্তির উৎস হোক।’

  • কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর  লাশ উদ্ধার

    কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মাসুক মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মিন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদীর বালু চরের পাশ থেকে লাশটির উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কৃষক মাসুক মিয়া মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি গ্রামের মরহুম আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বলাই দাশ ও মাসুক মিয়া ধলাই নদী পার হওয়ার সময় দু’জনই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যান। কিছুক্ষণ ভাসার পর বলাই দাশ তীরে ভিড়তে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন মাসুক মিয়া। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সন্ধান করেন। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটনীকোণা এলাকায় ধলাই নদীর চরের পাশে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশটি মাসুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

    কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের দিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চার দিন পর তার লাশ ভেসে উঠেছে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, আমরা সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।

    এদিকে মাসুক মিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    সরকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব ছিলো তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি। বরং তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে এনেছে। বর্তমান সরকার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের (পিরোজপুর-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

    ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয়ে দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযুদ্ধে করা শহীদ হয়েছেন তাদের একটি নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার। একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি বরং এর তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতেও তালিকা তৈরিতে নানা সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। অথচ এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।

    রুহুল আমীন দুলাল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুর্নবাসন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করে ছাটাই করা হবে কী না? এবং যাচাই বাছাই করার জন্য কোন কমিটি করা হলে তাতে উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করা হয়।

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রায় একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি করা কিন্তু তারা সেটাকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এটা করেনি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটির মত করেছে। আমরা সেখানে চেষ্টা করবো সঠিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের চিহ্নিত করা।

    কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, আমরা দেখেছি সরকার যখন পরিবর্তন হয় দেখা যায় তারা তাদের দলীয় কিছু লোকজনকে এই মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি করে। আবার পরবর্তী আরেক সরকার এসে কিছু ছাটাই-বাছাইও করে। আসলে সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযোদ্ধা- তাদেরটা কেন হচ্ছে না? এই ৫৫ বছর পর জাতি এটা জানতে পারছে না। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় তাদের ছাটাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করবেন কী না?

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন। শুধু তাই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান সরকার পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে।

    প্রাথমিক স্কুলে হবে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল

    ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ৫৪৫টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে।

    সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রাইমারি স্কুল লেবেলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের একটি ফুটবল ম্যাচ কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। ইনশায়াল্লাহ আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের জন্য প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ (ফুটবল) শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিক স্কুলে শুরু করে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা মাধ্যমিক স্কুলেও নিয়ে যাবো। এ বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাত মুলপ্রশ্নের বাইরে সম্পূরক প্রশ্ন করতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তা নাকচ করে দেন। পরে অপর একজন সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ দেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ২০১০ সালে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ছিলো যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস। ২০২৫ সালে সেখানে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৮১২ মেট্রিক টন এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস।

    সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। এটি চালু হলে মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমবে। আমদানি রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

    ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কোন দুর্নীতি হলে এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই হবে। একই সাথে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে পর্যায়ক্রমিকভাবে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তোলা।

  • দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের আটটি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    আটক মো: মিজানুর রহমান (৬১) দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত সোলেমান মোল্লার ছেলে।

    বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) জানায়, মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনার একটি বড় চালান ভারতে পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তে বিশেষ টহলদল মোতায়েন করা হয়। বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন মিজানুর রহমানকে থামানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লুঙ্গির ভাঁজে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আটটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর এবং সোনা চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সদরের জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী।

    নিহতরা হলেন জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার প্রভু (৫৫) ও তার ছেলে নিমাই(২৩)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে রোপনকৃত পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই। পাট কাটার এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই বৃষ্টিতে ভিজে তারা পাট কাটছিল। এসময় হঠাৎ সেখানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতের আঘাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলে আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই মারা যান।

    স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাত একই সাথে বাবা-ছেলের প্রাণ কেড়ে নিলো। এটি হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

    ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘অসাবধানতার কারণে আজ বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

  • রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন পিছিয়ে গেল

    রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন পিছিয়ে গেল

    দীর্ঘ ৬২ বছরের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। আগামী ১৮ জুলাই একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের মূল মঞ্চে গান গাওয়ার কথা ছিল তার। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পীকে সম্মাননাও জানানো হবে। তবে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

    রুনা লায়লা জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিল্পকলা একাডেমি নতুন তারিখ ঘোষণা করবে।

    শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ জুলাই সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তবে সেটিও নির্ভর করবে বন্যা পরিস্থিতির ওপর।’

    এ মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি কনসার্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা। আগামী ১ আগস্ট সিডনি এবং ৮ আগস্ট মেলবোর্নে তার পরিবেশনার কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে গান গাইবেন তিনি। এজন্য ২৯ জুলাই যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    শিল্পকলা একাডেমি চায়- বিদেশ সফরের আগেই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে। অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তার জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা তার দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনের নানা স্মৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরবেন।

    রুনা লায়লা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে সংগীতের ইতিহাস ও স্মৃতি পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই হবে আমার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান।’

    সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গত বছর থেকে দেশবরেণ্য শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এর আগে, এই আয়োজনে সম্মাননা পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন ও সৈয়দ আব্দুল হাদী।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল সেগুলোতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে, ওই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার আমি আবারো বলছি- পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র ছয় নম্বর প্রশ্ন এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ঘুরেফিরে আসছে অতীতের অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ৪০ বছর আগের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল—এগুলো নিয়েই চলছে চর্চা। প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না।

    আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এই ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টিও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০৭ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এবার সেমিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার ছেলে বলেন, ‘আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা ভক্তদের জন্য এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আমাদের যেসব ভাইয়েরা মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়।’

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পরই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর আসতেকায় কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে। এবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে ম্যারাডোনার ছেলে মনে করিয়ে দিলেন ৪০ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘটনা। মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘১৯৮৬ সালে বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেটাও মনে পড়ে যায় এই ম্যাচ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) দেখে। সেবার বাবা ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন।’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন ‘ম্যারাডোনা-ইংল্যান্ড’ ম্যাচ বলা হয়, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ম্যারাডোনা যখন খেলতে নামতেন, তখন সেটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হলেও লিওনেল স্কালোনি এটাকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি গতকাল শোনা গেছে রদ্রিগো দি পলের কণ্ঠে।

    স্কালোনি-রদ্রিগো দি পল যা-ই বলুন না কেন, ম্যারাডোনার ছেলে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার টেনে এনেছেন ৪০ বছর আগের প্রসঙ্গ। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা এটাকে (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। অনেক কিছুই বলা যায়। তবে কোনো সাধারণ ম্যাচ হচ্ছে না।’

    কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—ম্যারাডোনা-পেলের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্য চলে আসবেই। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব ভেন্যুতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ হয়েছে, সব জায়গার গ্যালারিতেই দেখা গেছে তাঁর ছবি।

    ছন্দে থাকা মেসি চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৮ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২ গোলে। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলা মেসি ১০ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

    আটলান্টায় আজ হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমির টিকিটের দামও অনেক বেড়েছে। এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর এই সেমির জয়ী দল নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন।

  • সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়

    সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে মাদক, অনলাইন জুয়া, মোবাইল আসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বামন্দী পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

    তিনি বলেন, “সরকার নারী শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের মেয়েদের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। শিক্ষিত নারীই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন,
    তিনি বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া ও মোবাইল আসক্তি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা ডা. নুরুল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম সোহাগ, গাংনী উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ বাচ্চু, যুবদল নেতা সম্রাট বিশ্বাস এবং বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম।

    সমাবেশে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন বন্ধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

  • জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন—

    ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন।

    ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন।

    ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন।

    ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে।

    ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

  • বাংলাদেশকে আরও আনন্দ দিতে চান স্কালোনি

    বাংলাদেশকে আরও আনন্দ দিতে চান স্কালোনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই দল হিসেবে, কিন্তু আলোচনায় ঠিকই আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে ঝরল বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    স্কালোনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষদের ধন্যবাদ জানাই। তারা সবসময় আমাদের অবাক করে। এত দূরে থেকেও আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জার্সি গায়ে এত দূরের মানুষদের দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। তাদের আরওএকটা আনন্দ দিতে পারলে আমরা খুশি হব।’

    বিশ্বকাপ জুড়েই বাংলাদেশিদের উন্মাদনা বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ের পর ঢাকার রাস্তায় মিছিল, আতশবাজি আর আলবিসেলেস্তের জার্সিতে ভরে গেছে পুরো শহর।

    এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে। সেসব স্কালোনিরও চোখে পড়েছে বেশ করে। আর সেসব দৃশ্য হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে নাড়িয়ে দিয়েছে স্কালোনিকে।

    এদিকে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে আগামীকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দলটি।

    এবার সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা করে নিতে চায়। হারাতে চায় ইংল্যান্ডকে।

  • বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৬ বার কমেছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রবাসী আয় দেশে পাঠানো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো-

    দেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা – ৳ (BDT)

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২৫ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২২ টাকা ৯৪ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৪০ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৫ টাকা ৪৬ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭১ টাকা ১২ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ০২ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০১ টাকা ৫১ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৮ টাকা ০৬ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৫৯ টাকা

    দক্ষিণ কোরিয়ান ১ ওন ০.০৮২০৬২৬০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

    উল্লেখ্য, যে কোনো সময় মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

  • বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর চলছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসর শেষ হতে আর মাত্র ৪টি ম্যাচ বাকি। আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে উন্নীত সাবেক চার চ্যাম্পিয়ন-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন।

    বিশ্বকাপের শুরু থেকেই টিকিটের চড়া দাম। সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা আকাশ চুম্বি। সেমিফাইনালের এক ম্যাচের টিকিটের দাম অন্যটির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    আজ মঙ্গলবার রাত ১টায় ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। টিকিট ট্র্যাকিং সেবা ‘টিকিটডেটা ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১০টায় (ইস্টার্ন টাইম দুপুর ১২টা) এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৩২৫ ডলার।

    বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। শুরুতে এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ২ হাজার ৮৪১ ডলার। ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের কারণে গত তিনদিনে তা ৩৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

    শনিবার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৬৬ ডলারে উঠেছিল। তবে পরদিন সকালে কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।

    দ্বিতীয় সেমির টিকিটের দাম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। মায়ামিতে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের দাম ১ হাজার ৫৪৩ ডলার।

    আগামী রোববার নিউইয়র্কে হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম বর্তমানে ৬ হাজার ৭৬০ ডলার। গত ৭২ ঘণ্টায় তা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। গত বছরের অক্টোবরে ফাইনালের আগাম টিকিটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৫০ ডলার।

  • ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে এবং এমপিওভুক্তির নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৫০টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (পাস) কলেজ এবং ৬৯৮টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (সম্মান) কলেজ রয়েছে।

    এছাড়া বর্তমানে ১ হাজার ৫৬টি ডিগ্রি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে।

  • ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে কেবল দুই জয় দূরে। যার প্রথম ধাপ আগামীকাল আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা দলের কথা বললে যাঁর নাম আগে খোঁজা হয়, সেই লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে টিকিটের দামও বহুগুণ বেড়েছে।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড স্রেফ তো একটি ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। যার প্রভাব পড়েছে টিকিটের দামের ওপরও। আটলান্টার সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত। মাঠের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    ডালাসে আজ ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেমিফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে এই ম্যাচ। এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট হলো ৫৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ১-এর টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১১ হাজার রিয়াল থেকে (২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। এমনকি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কিছু টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে কদিন আগে জানতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ফিফার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রি করা টিকিটগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আর্জেন্টিনার ফেডারেল সরকারের বরাতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টুডো নোটিসিয়াসের (ক্লারিন গ্রুপের অংশ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচকে কেন্দ্র করে ফ্যালকন অ্যালার্ট নামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সমর্থক আর্জেন্টিনা ছাড়লে শুধু গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হতো। এখন থেকে সেই তথ্য ফ্রাঙ্কো বেরলিনকেও জানানো হবে।

    ফ্রাঙ্কো বেরলিন আর্জেন্টিনার জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্ট নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। আজ ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় আগামীকাল হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।

  • ২০১৮ সালের রাতের ভোট; শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে

    ২০১৮ সালের রাতের ভোট; শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে

    ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহুল আলোচিত ‘রাতের ভোট’-এ দায়িত্ব পালনকারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং সম্পদ অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা ওসিদের ভূমিকা পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন থানা এবং তৎকালীন ছয়টি মহানগর পুলিশের অধীন থানাগুলোর ওসিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পদায়ন, পদমর্যাদা, চাকরির অবস্থা ও প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরে যাওয়া, পদোন্নতি পাওয়া কিংবা অন্য ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়কে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী অনেক ওসি ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। কেউ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কারও পদোন্নতি আটকে আছে। ওই সময় ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগে মাঠপর্যায়ে ওসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সরকার এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। তাদের অধিকাংশই তখন পুলিশ সুপার (এসপি) বা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ছিলেন। সরকারি আদেশে জনস্বার্থে অবসরের কথা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বও পর্যালোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তখন দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন এসপির বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের বেশির ভাগই বর্তমানে পলাতক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১২৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন রয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে এবং তাদের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বর্তমানে কোনো থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে না বলেও সূত্র জানিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রধান দায়িত্ব ছিল ওসিদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন এসপি ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশনায় ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা ও ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কাজে তারা সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। এ কাজে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের কাছ থেকে এসপি ও পুলিশ কমিশনারদের পাশাপাশি কিছু ওসিও অর্থ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছিল, ভোটের আগে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হয় এবং ভোটের আগের রাতেই বহু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। যদিও তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল, এরপরও ‘রাতের ভোট’ শব্দটি দেশের রাজনৈতিক অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা হয়। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলে ভোর ৩টা পর্যন্ত।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নির্বাচনে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে। ১২২টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ। পাশাপাশি ভোটের দিন বিপুলসংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    বাংলাদেশী নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার টেক্সাসের লারেডোতে তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হয়। একটি সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ আল-মামুন এবং তার সহযোগী ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন, সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক। তারা একটি মানব পাচার চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সহায়তা করতেন তারা।

    এই অবৈধ ভ্রমণের জন্য ভুক্তভোগী মানুষেরা দালালদের হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করেছিলেন। সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং মোক্তার হোসেন ইতিপূর্বে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ষড়যন্ত্র করা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একাধিকবার মানুষ পাচার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ পাচারের সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আরও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অ্যারন রেইটজ এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের (এইচএসআই) ফিনিক্স শাখার বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ জেসন টি স্টিভেন্স যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।

    ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এইচএসআই ফিনিক্স এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। এই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা’ (জেটিএফএ), যা কার্টেল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত মানব পাচার দমনে মার্কিন সরকারের প্রধান বিশেষ সেল হিসেবে কাজ করে। তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার আইনি বিধান রয়েছে।

  • ভারতে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

    ভারতে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

    উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি)। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ওই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনুমোদিত ইমিগ্রেশন পথ এড়িয়ে একটি অননুমোদিত পায়ে চলা পথ দিয়ে নেপালে প্রবেশের

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পায়ে দড়ি বাঁধা অবস্থায় ওই বিদেশিকে গ্রামবাসী ও অস্ত্রধারী এসএসবি সদস্যরা নিয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে ভিড় থাকলেও তাকে শান্তভাবেই থাকতে দেখা যায়।
    পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের নাম জর্ডান ব্রাউন বলে দাবি করেন। তার বয়স ৩৬ বছর। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর মার্কিন নৌবাহিনীতে (ইউএস নেভি) কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা করেছেন বলেও দাবি করেন।তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

    কীভাবে আটক হলেন
    ভারতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সোনৌলি থানার মৈনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে নিয়মিত টহলের সময় ২২তম ব্যাটালিয়নের এসএসবি সদস্যরা তাকে দেখতে পান। তিনি নির্ধারিত ইমিগ্রেশন রুটের বাইরে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।
    নিরাপত্তা বাহিনী তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।

    পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবস্থান
    তল্লাশিতে অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ, তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিজের পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং ভারতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। জর্ডান ব্রাউন দাবি করেন, তিনি পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এরপর সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে প্রায় আট মাস তিনি গোয়ায় অবস্থান করছিলেন।

    মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গোয়া থেকে তিনি বেঙ্গালুরু হয়ে উত্তর প্রদেশে আসেন এবং সেখান থেকে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এসএসবি তাকে আটক করে। বর্তমানে তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ ও ২৩ ধারায় সোনৌলি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জর্ডান ব্রাউনের আটক হওয়ার ঘটনায় ভারতে সন্দেহজনকভাবে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) মিয়ানমার হয়ে মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেক মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। এনআইএর দাবি, তারা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।

    তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তাদের অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করত এবং প্রশিক্ষণ দিত। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে, তারা একে-৪৭ রাইফেলধারী সশস্ত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন। এনআইএর তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে গুয়াহাটি এবং পরে মিজোরামে যান। এরপর তারা অনুমতি ছাড়া মিয়ানমারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি ইউরোপ থেকে ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিদ্রোহী নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।

    ভ্যান ডাইক ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর বিভিন্ন ধারায়, যার মধ্যে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে, মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। সংস্থাটি কথিত এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

  • পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

  • ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

    এর আগে, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বেলা সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। এরপরই সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

  • পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ভুল প্রশ্নে অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    চলমান এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে- পদার্থবিজ্ঞানের ভুল দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বিষয়টি নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটিও একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

  • সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোশাক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। নতুন করে আরও চারটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টিতে। এর মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ের।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে এখন বাংলাদেশের ৫৩টি কারখানা রয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনও দেশের তুলনায় এটি একটি অনন্য অর্জন, যা টেকসই শিল্পায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন করে লিড সনদ পাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে দুটি প্লাটিনাম, একটি গোল্ড এবং একটি সিলভার পর্যায়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

    চট্টগ্রামের উত্তর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড LEED O+M: Existing Buildings v4.1 রেটিং ব্যবস্থায় ৯০ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গাজীপুরের চয়দানায় অবস্থিত ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড একই রেটিং ব্যবস্থায় ৮৮ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৩ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড এবং ঢাকার ধামরাইয়ের করিম টেক্স লিমিটেড ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে সিলভার সনদ অর্জন করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?

    লিড সনদ বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প কারখানার স্বীকৃতিগুলোর একটি। জ্বালানি সাশ্রয়, পানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার, কর্মপরিবেশ এবং টেকসই অবকাঠামো— এসব সূচকে নির্ধারিত মান পূরণ করেই একটি কারখানা এই সনদ অর্জন করে।

    বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিবেশবান্ধব কারখানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে লিড সনদ শুধু একটি সম্মানজনক স্বীকৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।

    উৎপাদনের পাশাপাশি টেকসই শিল্পেও নেতৃত্ব

    বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। গত এক দশকে শুধু রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে দেশের উদ্যোক্তারা।

    সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমছে, উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদন আর অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘নতুন চারটি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এখন দেশে ২৯০টি লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম এবং ১৪৫টি গোল্ড। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান প্রমাণ করে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য চান না, তারা উৎপাদন প্রক্রিয়াও পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল হতে হবে— এমন প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ছে, কার্বন নিঃসরণ কমছে এবং শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘এই অর্জন ধরে রাখতে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং টেকসই উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’’

    বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের আধিপত্য

    বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান দেশের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। শুধু সংখ্যায় নয়, সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একাধিক কারখানা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের উদ্যোক্তারা এখন শুধু কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় নেই; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    সামনে সুযোগ, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়

    বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ওপর জোর বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত নীতিমালা, কার্বন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলে টেকসই উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লিড সনদের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে।

    বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা

    বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও টেকসই শিল্পে দ্রুত বিনিয়োগ করছে। এমন বাস্তবতায় নতুন চারটি লিড সনদ বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের গ্রহণযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা।

    সবুজ শিল্পায়নে ধারাবাহিক এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও উচ্চমূল্যের ক্রয়াদেশ আকর্ষণ, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার শুরু থেকেই কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তার লক্ষ্যেই অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। আজ এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত চাহিদা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। আর এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সহায়তা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনরায় নির্মাণ এবং কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    পাহাড়ধসে প্রাণহানির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বিকল্প স্থানে জমি ও গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    তিনি বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বা দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলকেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

    ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

    স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

    আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান।

    এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি হলো, আগামী দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করারও দাবি জানান তারা।এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি।

  • শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা

    শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সবকটি মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

    মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৭টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৩টি কোম্পানির মোট ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ১৬ হাজার ২৭৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাতবদল হয়। এতে ডিএসইতে এদিন মোট লেনেদেনের পরিমাণ দাাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯১৩ টাকা। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৩৭টির কমেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯১১ দশমিক ২৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএস-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২২৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ দশমিক ০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

    লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল তৌফিকা ফুড, বিএসসিসি, মালেক স্পিনিং, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএসআরএম স্টিলস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ইস্টার্ন হাউজিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আমান ফিড, এপেক্স ট্যানারি, ফার কেমিক্যাল, জিকিউ বলপেন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, আল-হাজ টেক্সটাইলস, বিএসআরএম স্টিলস, ফু-ওয়াং সিরামিক, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ইন্ট্রাকো লিজিং, পিপলস লিজিং, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলস এবং কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স।

    ক্যাটাগরি ভিত্তিতে বাজারের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১টির দাম বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দর বেড়েছে, ২১টির কমেছে এবং সাতটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন ‘এন’ ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়নি।

    এদিকে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে চারটির দর বেড়েছে, ১৬টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    করপোরেট বন্ডের দু’টি ইস্যুর উভয়ের দর কমেছে। এছাড়া, লেনদেন হওয়া পাঁচটি সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক)-এর সবগুলোরই দর কমেছে।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

    ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫ টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

    বিক্ষোভের কারণে সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

    বিক্ষোভকারীরা এসময় ‘দফা এক দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘এক দুই তিন চার, মিলন তুই গদি ছাড়’, ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু

    জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু

    গত জুন মাসজুড়ে দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু এবং ১৩২৩ জন আহত হয়েছেন। এই মাসে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন নিহত এবং ১৩৩৬ জন আহত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    এসময় রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌ পথে ৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জন, আহত ৫ জন হয়েছে বলে তথ্যে উঠে এসেছে।

    প্রসঙ্গত, যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

    সংগঠনটির দাবি, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ সব দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না।

    এই সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আহতের ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও উলেখ করা হয়, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

    এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক, ১ প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

    তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ১ জন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক, ও ০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ঢাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ছয়জন। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন ও সিলেটে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৭১ জন মারা গেছে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত ১২২ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭৩৫ জন।

    একই সময়ে নতুন করে ৮৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন।