চুয়াডাঙ্গা

Chuadanga district

  • দামুড়হুদায় বিষধর রাসেল ভাইপার উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর

    দামুড়হুদায় বিষধর রাসেল ভাইপার উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঠ থেকে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর রাসে ভাইপার সাপ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় এক কৃষক।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাপটিকে খুলনা বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে। এ লক্ষ্যে খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল দামুড়হুদার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মুন্সিপুর গ্রামের শিমুলতলা মাঠে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। পরে একইদিন রাত ৯টার দিকে সাপটি দামুড়হুদা উপজেলা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শিমুলতলা মাঠে একটি গাড়ল ভেড়াকে দংশন করার চেষ্টা করছিল সাপটি। এ সময় বিষয়টি মুন্সিপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে কৃষক হাসানের নজরে আসে। পরে তিনি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সাপটিকে আহত করে আটক করেন। এরপর সেটিকে একটি খাচায় বন্দি করে রাখা হয়।

    সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটি দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ সময় সাপটির আকৃতি ও বিষধর স্বভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড শাহাজামাল ওরফে রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।

    দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) সুরেশ মিস্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কাজে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এ কারণে সাপটি আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই।

    অন্যদিকে, জীবননগর ডেপুটি রেঞ্জার শরিফুল ইসলাম কাজল সাপটি রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিষধর সাপ। সাপটিকে নিরাপদে অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। দলটি সাপটিকে নিয়ে গিয়ে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে।

    সীমান্তবর্তী মাঠে বিষধর রাসেল ভাইপার আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁস: অফিস সহায়ক কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আটক অফিস সহায়ক মো: শাহজামালকে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্নফাঁস তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলতেই বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কমিটির প্রধান অভিযুক্ত অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

    কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলে আসছিলেন। এছাড়া প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার একাধিক নথি তার কম্পিউটারে পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের তথ্যও খতিয়ে দেখছে তদন্ত দল।

    বুধবার রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও অভিযোগগুলো নিজে পর্যালোচনা করেন। এরপর রাতেই শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

    এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিস্তারিত তদন্তের পরই সব বিষয় পরিষ্কার করা যাবে। অভিযুক্ত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য বাসি খাবার রেখে দেয়ার অভিযোগে ‘ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সদর হাসপাতাল রোড এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড ও শহীদ আবুল কাশেম রোড এলাকায় বাজার তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্যাস, ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও লন্ড্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়।

    অভিযানকালে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কাঁচা ও রান্না করা গোশত অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকরভাবে খোলা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের কাছে পরিবেশনের জন্য বাসি খাবারও জমিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আবিল শরীফকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।

    অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এছাড়া লন্ড্রিগুলোকে যথাযথ সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি, যৌক্তিক মূল্যে পণ্য কেনা-বেচা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। এ,আর

  • রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল। মহারাষ্ট্র থেকে আনা থাইল্যান্ডের লাল রক্ত তেঁতুলেই বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন নজরকাড়া থ্যাইল্যান্ডের রক্ত তেঁতুল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। একই গাছে দেখা মিলছে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফলের। বারোমাসি ফলন হওয়ায় এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    সরেজমিনে কৃষি উদ্যোগক্তা সজলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে রক্ত তেঁতুল। তেঁতুলের কথা শুনলেই জিহবায় জল আসে। তবে যদি হয় লাল রক্তের মতো তেঁতুল তাহলে কথায় নেই। ফলের আকর্ষণীয় রঙ সকলেরই নজর কাড়ছে। প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এর ভেতরের শাঁসের রঙ একেবারেই আলাদা—পাকলে তা গাঢ় লাল বা টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে।কৃষি উদ্যোক্তা সজল জানান, রক্ত তেঁতুল একটি লাভজনক জাত হিসেবে পরিচিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বারোমাসি ফলন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘুরতে যেয়ে ছাদে লাগানোর জন্য গাছ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বাবার কথা শুনে লাল রক্ত তেঁতুলের মাঠে বাগান করেন।

    তিনি জানান, লাল রক্ত তেঁতুল মিষ্টি হওয়ায় সকলের নিকট চাহিদা রয়েছে। একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানোর দুই বছর পরই তেঁতুল ধরা শুরু হয়। গাছও ছোট হয়। ছাদ বাগানেও লাগানো যায়। স্বাদ সাধারণত মিষ্টি কিংবা হালকা টক-মিষ্টি। রক্ত তেঁতুলের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর ভেতরের পাল্প। কাঁচা অবস্থায় শাঁস হালকা গোলাপি বা লালচে থাকলেও পরিপক্ব হলে তা গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে বাজারে প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।পরিপক্ব হলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ছবি : প্রতিনিধি

    উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং বা কলমের চারা রোপণের পর মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। গাছ খুব বেশি বড় বা ঘন ঝোপালো না হওয়ায় বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও এটি চাষ করা সম্ভব। এমনকি ড্রাম বা বড় টবেও রক্ত তেঁতুলের গাছ লাগানো যায়।

    কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও উচ্চমূল্যের ফলের জাত চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি ফলন হওয়ায় রক্ত তেঁতুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারজাতকরণ, চারা ও ফলের প্রকৃত বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আরও তথ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    আরও দেখুনজীবননগরের মাটিতে নতুন এ ফলের চাষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। কৃষি উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রক্ত তেঁতুল ভবিষ্যতে জীবননগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে।।

    এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগর কৃষিতে সমৃদ্ধ এবং সম্ভবনাময় উপজেলা। এখানে কৃষি উদ্যোক্তার হাত ধরে অনেক দেশি বিদেশি প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। নতুন করে লাল তেঁতুল চাষ হচ্ছে। বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। অল্প সময়ে লাভজনক চাষ হওয়ায় সবাই আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি লাল তেঁতুল চাষ করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা লাঘব হবে, অন্যদিকে বেকার যুবক উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় লাটাহাম্বার উল্টে খাদে, নিহত ১

    চুয়াডাঙ্গায় লাটাহাম্বার উল্টে খাদে, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা শহরের মুন্নার মোড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গরুবোঝাই একটি লাটাহাম্বার (নছিমন জাতীয় যান) উল্টে খাদে পড়ে হেলাল উদ্দিন (৩৮) নামের এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন যানটির চালকসহ দু’জন।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফজরের আজানের আগমুহূর্তে চুয়াডাঙ্গা শহরের মুন্নার মোড়ে বিএডিসি গুদামের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হেলাল উদ্দিন পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার সবুজনগর গ্রামের নয়াল মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন যানটির চালক তারাচাঁদ ও সহযোগী শিপন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে ১১টি গরু নিয়ে আলমডাঙ্গার হাটে বিক্রির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী হেলাল। পথে চুয়াডাঙ্গা শহরের মুন্নার মোড়ে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গরুবোঝাই গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি খাদে উল্টে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হেলালের ও তার দুটি গরুর। গাড়ি থাকা অন্য দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে চালক তারাচাঁদ জানান, রোববার বিকেলে ১১টি গরু নিয়ে তারা মঠবাড়িয়া থেকে রওনা হয়েছিলেন। সোমবার শেষ রাতের দিকে হঠাৎ চালকের চোখে ঘুম চলে এলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যায়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • জীবননগরে ভ্যানচালক ৫ দিন নিখোঁজ পরে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে ভ্যানচালক ৫ দিন নিখোঁজ পরে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর চান মিঞা ওরফে চান্দ আলী (৫৫) নামের এক ভ্যানচালকের মস্তকবিহীন ও পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন কোটচাঁদপুর সড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত চান্দ আলী হাসাদাহ গ্রামের বালিগর্ত পাড়ার মরহুম জোনাব আলীর ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন আগে প্রতিদিনের মতো ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন চান্দ আলী। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের পর থেকে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিরও কোনো হদিস মেলেনি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে স্থানীয় পথচারীরা শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে একটি বিকৃত ও মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের পরিধেয় পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনরা লাশটি চান্দ আলীর বলে শনাক্ত করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করে নির্জন স্থানে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তকবিহীন গলিত লাশটি উদ্ধার করে। পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নাকি অন্য কোনো শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    তিনি আরো জানান, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ,আর

  • দামুড়হুদায় ভাঙা বাঁশের সাকোই শিক্ষার পথে বাধা, ২১ বছরেও মেলেনি মুক্তি

    দামুড়হুদায় ভাঙা বাঁশের সাকোই শিক্ষার পথে বাধা, ২১ বছরেও মেলেনি মুক্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যাতায়াতের নেই কোনো রাস্তা, পারাপারের একমাত্র ভরসা ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতায় অবরুদ্ধ থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ঝরে পড়ার ঝুকিও বাড়ছে।

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। গত এক বছরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ থেকে কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির যাতায়াত ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়নি কোনো রাস্তা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশুদের। ঝুকিপূর্ণ এই সাকো পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই নিচে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই নয়, বিদ্যালয়টির আরেক বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাশের পুকুরের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়টি। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায়ও। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে শিক্ষার্থী ছিল ২৫০ জন, সেখানে চলতি বছরে তা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। যাতায়াতের ঝুকি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ২১ বছর ধরে তারা এই দুর্ভোগের শিকার। বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান। তাদের প্রশ্ন, নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে শিশুদের?

    দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দাবি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।’

    তবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন আর শুধু আশ্বাস নয়, চান দৃশ্যমান উদ্যোগ।
    শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

    তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবসান হবে দুই দশকের দুর্ভোগ, প্রাণ ফিরে পাবে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এ,আর

  • দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    দর্শনায় পৌঁছাল ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে এসেছে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কোচবাহী রেকটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। নতুন এই কোচগুলো যুক্ত হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ভারতের রাইটস লিমিটেড এসব কোচ সরবরাহ করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

    শুক্রবার দুপুরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোচগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের পক্ষে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।

    বাংলাদেশের পক্ষে কোচ গ্রহণের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ, পাকশীর আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘২০০টি কোচের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ আজ দুপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এগুলো আমাদের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোচ। এসব কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।’

    তিনি বলেন, ‘প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে দু’টি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ ও দু’টি পাওয়ার কার রয়েছে।

    কোচগুলোর প্রাথমিক চলাচল পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ডিএমই রবিউল ইসলাম জানান, রেকটি চলার সময় তার কাছে কোচগুলোর চলাচল বেশ ভালো মনে হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক শব্দও পাওয়া যায়নি। কোচগুলোর মান ও চলাচল নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা বন্দরে কোচ খালাসের কার্যক্রম শেষে সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিপ্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কোচগুলো রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরো আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ জানান, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ বাংলাদেশে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হবে। বাকি কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আসবে। এ,আর

  • জীবননগরে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গাছ থেকে রায়েট (৫৭) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর মাঠপাড়া গ্রামে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

    মৃত রায়েট গয়েশপুর মাঠপাড়া গ্রামের মরহুম ফকির চানের ছেলে। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক বিকারগ্রস্থ ছিলেন।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কৃষক রায়েট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি মাঠের নিমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনার পর জীবননগর থানা পুলিশ লাশে সুরতহাল শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

    সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল ইসলাম পুকু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রায়েট মানসিকভাবে একটু
    ভারসাম্যহীন। ঘটনার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে তার লাশ মাঠের একটি নিমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।’

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘আপাতত বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব।’ এ,আর

  • পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে জেলার ২০ জন কৃষকের হাতে এ মেশিন তুলে দেয়া হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঞ্চালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, প্রকৃত পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা ও ঘর নির্মাণের জন্য দেয়া হবে ৭ হাজার টাকা। একটি মেশিনের আওতায় ২০/২৫ মেট্রিক টন পেয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে।

    তিনি আরো বলেন,পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই পেঁয়াজ ভালো মত শুকিয়ে রাখতে হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় সরকারের  উইকেয়ার প্রকল্পে উন্নয়ন

    চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় সরকারের উইকেয়ার প্রকল্পে উন্নয়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব আমূল পরিবর্তন এবং কৃষিভিত্তিক স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দৃশ্যমান সাফল্য দেখাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম বা উইকেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত আধুনিক সড়ক অবকাঠামো ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ এলাকাটিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট সাতটি বাজার, প্রায় ৯২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সড়ক এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জীবননগর উপজেলার সিডব্লিউ-১০ প্যাকেজের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক, একটি সেতু, ৩৪টি কালভার্ট এবং ঐতিহাসিক আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টারকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

    বিশেষ করে উথলী-আন্দুলবাড়ীয়া এবং বাঁকা-আন্দুলবাড়ীয়া প্রধান সড়ক দুটি আগে মাত্র ১০ ফুট প্রশস্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এলজিইডির এই প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক দুটিকে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন রোড মার্কিং ও আধুনিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে, যা পরিবহন খাতকে যেমন বিশৃঙ্খলা মুক্ত ও নিরাপদ করেছে, তেমনই কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এনেছে গতি।

    যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টারটির আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন স্থানীয় ব্যবসাবাণিজ্যে সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে। বাজারটিতে বর্জ্য থেকে সার তৈরির জন্য কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, আধুনিক স্লটার হাউস, সোলার লাইটিং, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি রাতের বেলা কেনাবেচায় নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।

    জীবননগর উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবারের জন্য এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টা ও মাছের মতো পচনশীল উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষক ও পাইকারদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়ে পণ্যের অপচয় ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীদুজ্জামান জানান যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নির্মাণকাজের পর্যায় থেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপকভাবে আয় ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম হয়েছে। কাজের উচ্চ গুণগত মান ও অবকাঠামোগত সুফল পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জীবননগরের এই সফল মডেলের সুফল পর্যায়ক্রমে আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাতেও বিস্তৃত হবে, যা সামগ্রিকভাবে পুরো জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে বহুদূর এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ,আর

  • আলমডাঙ্গায় কফি শপে জুয়ার আসর থেকে আটক ৩

    আলমডাঙ্গায় কফি শপে জুয়ার আসর থেকে আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কফি শপে জুয়া বিরোধী অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত তিনটি স্মার্টফোন, ছয়টি সিম কার্ড ও চারটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের মোনাকষা বাজারে বিপুল উদ্দিনের কফি শপে এ অভিযান চালানো হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কফি শপে অভিযান চালায়।

    এ সময় জুয়া খেলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- পারকুলা বাজারপাড়ার মৃত শেখ তৌহিদ আলমের ছেলে শেখ হাবিবুল্লাহ হামিম (২১), পাইকপাড়া ঘোষপাড়ার আকতার মালিথার ছেলে নাঈম ইসলাম (২২) এবং পারকুলা দাসপাড়ার শামিমুজ্জামানের ছেলে সিহাবুজ্জামান (২৩)।

    পুলিশ জানায়, অভিযানে জব্দ তালিকা অনুযায়ী তিনটি স্মার্টফোন, ছয়টি সংযোগ সিম ও চারটি এটিএম কার্ড উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মামলা (নম্বর-৮) হয়েছে।

    মামলায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৫-এর ১৬/১৭/১৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ,আর

  • দামুড়হুদার  হাসান আলী ২৪ বছর পর প্রবাস থেকে কফিনে ফিরলেন বাড়িতে

    দামুড়হুদার হাসান আলী ২৪ বছর পর প্রবাস থেকে কফিনে ফিরলেন বাড়িতে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর একটু সুদিনের আশায় দীর্ঘ দুই দশক আগে দেশ ছেড়েছিলেন। ভেবেছিলেন কঠোর পরিশ্রমে ঘোচাবেন সংসারের অভাব। তবে দীর্ঘ ২৪ বছরের সেই লড়াই শেষে নিজ জন্মভূমিতে তার ফেরা হলো ঠিকই, কিন্তু জীবিত নয়—একটি নিথর দেহ হয়ে।

    এমনটাই ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের মরহুম উসমান গনির ছেলে হাসান আলী ওরফে পুটুর জীবনে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লাশ নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কালিয়াবকরী গ্রামের বাতাস। দীর্ঘ দুই যুগ পর প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমান স্থানীয় এলাকাবাসী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে আফ্রিকায় পাড়ি জমান হাসান আলী। সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনির পাশাপাশি এক স্থানীয় নারীকে বিয়ে করে নতুন সংসার গড়ে তোলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি সন্তানও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন হাসান আলী। স্বজনরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তার লাশ দেশে আনা হয়।

    হাসান আলীর এই আকস্মিক বিয়োগে শুধু তার দেশের স্বজনরাই দিশেহারা হননি, সুদূর আফ্রিকায় রয়ে যাওয়া তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উক্তো গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব (১৮) নামে এক যুবকের কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সজীব সদর উপজেলার উক্তো গ্রামের হাবলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

    এরই মধ্যে বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পাখিভ্যানে করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

    স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জেরেই সজীব কীটনাশক পান করে থাকতে পারেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সজীব নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সুলতান আহমেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদ মুক্তারপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি দল মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ এলাকা থেকে সুলতান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার সুলতান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে খুচরা সার বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরকারি সার বিতরণ এবং এ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, কেডিকে ইউনিয়নের প্রায় ২০টি খুচরা সার দোকানের নামে-বেনামে ভুয়া সার কার্ড তৈরি করে এসব কার্ড ও কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সার বিতরণের সময় প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

    কেডিকে ইউনিয়নের কৃষক ইনামুল, ইসরাইল, ইব্রাহিম ও খলিলসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা মাঠের সার ও পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। অথচ তিনি আমাদের সরাসরি সার না দিয়ে দোকানদারদের ভুয়া কার্ড ও স্লিপের মাধ্যমে একবারে ৫ থেকে ১০ বস্তা করে সার দিয়ে দেন। বিনিময়ে দোকানদারদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।’

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সত্য নয় বলে দাবি করেন।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাক্টর সংঘর্ষে প্রভাষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ট্রাক্টরের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: শাহজাহান আলী (৪০) নামে এক কলেজ প্রভাষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হাটকালুগঞ্জ মেইন রোডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহজাহান আলী দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় হোগলডাঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শাহজাহান আলী মোটরসাইকেলযোগে নিজ কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন। পথে হাটকালুগঞ্জ মেইন রোড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাটিবোঝাই ট্রাক্টরের সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা শাহজাহান আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টরটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নিহত মোটরসাইকেল আরোহী শাহজাহান আলী একাই পড়ে গেছেন না ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে নিশ্চিত না। তবে তার আত্মীয়-স্বজন এলে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পৌর কলেজ রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে পৌর কলেজ রোড এলাকার এলপিজি গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সামগ্রীর বাজারে তদারকি করা হয়। এ সময় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে মেসার্স মল্লিক গ্যাস ঘরের স্বত্বাধিকারী মো: মুক্তাজুর রহমান মল্লিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ করে ব্যবসা পরিচালনা করা ও কোনো ধরনের অবৈধ মজুদ না করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া অভিযানে এলাকার অন্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্যসামগ্রী কেনা-বেচা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা শিশু খাদ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক ও সচেতন করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে আহত করা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ও ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ৯টি বাঁশের লাঠি ও ২টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আবু সিদ্দীক (৭০), লক্ষণ (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) এবং ফুলন হালদার (৩২)। গ্রেপ্তারকৃত সবাই দর্শনা থানার চন্ডিপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার এসআই মোল্ল্যা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবু সিদ্দীক (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।

    আটক আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে আসামি আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও দর্শনা থানা পুলিশ চন্ডিপুর গ্রামে যৌথ চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে অভিযান অব্যাহত রেখে ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনিপ্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় ১২ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল, পারদ ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিজিবি।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা বিজিবির অধীনস্থ দর্শনা, মুন্সিপুর, ফুলবাড়ী বিওপি ও আইসিপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ২০০ পিস ক্রিম, তিন বক্স চিকিৎসাসামগ্রী, দুটি ভারতীয় শাড়ি, ৩৪৮ পিস বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স ও ৯ দশমিক ৯ কেজি পারদ জব্দ করে। একই সাথে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। জব্দ মালামালের মূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা বলে জানা গেছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির এ কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।

    ধর্মঘটের কারণে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর -হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা- ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা- কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা- হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানচালকদের সাথে বাসশ্রমিকদের বিরোধ হয়। পরে রিকশাচালকেরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে বাস আটকে রাখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন মালিক- শ্রমিকরা। সকাল থেকে জেলার পাঁচ রুটে বাস না চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি।

    বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। শিপন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

    দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদে শ্রমিকরা এ ধর্মঘট ডেকেছেন।’ এ,আর

  • জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    জীবননগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পৃথক পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

    গ্রেফতার আটজন হলেন— উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মরহুম ইসমাইল মন্ডলের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম (৫৪), বালিহুদা গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ বিশ্বাস (৫৬), জীবননগর শহরের মহানগর উত্তরপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুজ্জামান দীপ (২৪), মনোহরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), করচাডাঙ্গা গ্রামের হামিদ ব্যাপারীর ছেলে নূর হোসেন (৪২), তার সহোদর আমিন হোসেন (৫৫), রোকন মিয়া (৪৫) ও মজিবার (৪২)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক পৃথক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ওমেদুল ইসলাম, সাজ্জাদ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতা ও সাজেদুজ্জামান দ্বীপ ছাত্রলীগ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরের দত্তনগর সড়কে অবস্থিত শান্তনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ লাইসেন্স ছাড়াই দোকানে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশে সরকারি রাসায়নিক সার মজুদ করেন। খবর পেয়ে জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের মালিক আজাদ পালিয়ে যান। পরে দোকান থেকে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

    অন্যদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসাদাহ বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায়। দোকান মালিক আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে ৩২০ বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে তার তিনটি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।

    জীবননগর থানার ওসি জানান, সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জীবননগর থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কেউ অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সঙ্কট বা অবৈধ মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে রাসায়নিক সার এনে মজুদ করছিল, যাতে ভুট্টা মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলায় সারের চাহিদা অনেক বেশি। এ সময় অবৈধ মজুদ সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ এ,আর

  • দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    দামুড়হুদায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. মো. মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবক, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর মামুন হোসেন অন্তর (৩১) নামে এক ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উথলী গ্রামের আখসেন্টারের পেছনের একটি আমগাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মামুন ওই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

    জানা গেছে, দুপুরে মামুনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

    পেশায় ট্রাকচালক মামুন বেশ কিছুদিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবার ফেলে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। তবে কয়েকদিন তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ পচে যাওয়ায় সঠিকভাবে তাকে চেনা যায়নি। তবে পরনের পোশাক দেখে লাশটি মামুনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘লাশ ঝুলে থাকার খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় বাস থেকে ইয়াবাসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বাসে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনালে এ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দেলোয়ার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবি পাড়ার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাস টার্মিনালে অবস্থানরত পূর্বাশা পরিবহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় দেলোয়ারকে দুই হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এসব মাদক পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    চুয়াডাঙ্গায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের চেম্বার অব কমার্স ভবন প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনাস ইবনে মনির।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আনোয়ারুল হক মালিক ও শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, সৎ চরিত্র ও মানবিক গুণাবলিতে বলীয়ান হতে হবে। শিক্ষার সাথে আদর্শিক চরিত্রের সমন্বয় ঘটলেই অর্জিত মেধা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে নিজেদের সৎ, দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ছকিনা খাতুন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের উপজেলার হাতিকাটা গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যান।

    নিহত ছকিনা খাতুন জেলার জীবননগর উপজেলার নিধীকুন্ড গ্রামের মরহুম ছলিম উদ্দিনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচ দিন আগে সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো: মানিকের স্ত্রী ও নিজ মেয়ে ফেরদৌসী খাতুনের (২৫) বাড়িতে বেড়াতে আসেন ছকিনা খাতুন। শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা মেহেরপুরগামী একটি মাইক্রোবাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ঘাতক মাইক্রোবাসটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, রাস্তা পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে সীমান্তে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে সীমান্তে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. খালেক।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাকে মেহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিকেল ৫টার দিকে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এম. এ. খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

    খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি নাশকতার মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে মেহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এম. এ. খালেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা ছাড়াও আরও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের নাশকতার মামলাটির মামলা নম্বর ১১ বলে জানা গেছে।

    পরে পুলিশ তাকে মেহেরপুরে নিয়ে যায়। বিকেলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে বৃদ্ধের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সাপের দংশনে শফি মন্ডল (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শফি মন্ডল উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের নূর বাক্স মন্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন শফি মন্ডল। এ সময় সাপ তাকে দংশন করে। বাড়িতে পৌঁছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সার ও খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় সার বিক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া চিকিৎসা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী এবং ভালাইপুর বাজারে এ তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

    অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তদারকি চলাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় অবৈধভাবে সার বিক্রয় করার অপরাধে গোকুলখালীর মেসার্স হামিদুল ট্রেডার্সের মালিক মো: হামিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণামূলক চিকিৎসা প্রদানের দায়ে মেসার্স জিকু মেডিক্যাল হলের মালিক মো: সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভালাইপুরের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: কালাম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ ঝুলিয়ে রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ, সার, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেমের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ-ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার হিজলগাড়ী ও ডিঙেদহ এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের মেসার্স সুমি ফার্মেসির ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্লাড ব্যাগ ও ইনসুলিন সংরক্ষিত ছিল। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আশরাফুল আলমকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান অভিযানটি পরিচালনা করেন। এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    জীবননগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারিয়ান অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ‘নিউ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়া হয়। একই সাথে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।

    অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জীবননগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিলো মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

    দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচুকৃত মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন এক হয়ে মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান।

    প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা শিবনগর গ্রামে ডিসি ইকোপার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন ও ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ সংগঠন।

    মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা অন্যতম নিদর্শন ও ঐতিহ্য শিবনগর ডিসি ইকোপার্ক। পার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন। কিন্তু পার্কে বর্তমানে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী আছে। অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন মানসিক প্রশান্তির জন্য। যদি এখানে খেলার মাঠ হয় তবে এখানকার জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

    আমরা কেউ খেলার বিপক্ষে নয়। তরুণ ও যুবকদের জন্য খেলার বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না, কিন্তু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে খেলার মাঠ স্থাপন ঠিক নয়। খেলার মাঠটি বিকল্প স্থানে হওয়া দরকার।

    স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবো। সেই সাথে খেলার জন্যও ব্যবস্থা করবো। ইকোপার্কের মধ্যে কোনো অবস্থায় খেলার মাঠ স্থাপন করতে দিবো না। অন্যত্র খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কাজ করছি।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, চুয়াডাঙ্গা বড় সলুয়া নিউ ডিগ্রী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবিব শিপলু, মোফাজ্জল হোসেন, সাকিল আহমেদ, রুহিন আলীসহ সংগঠনের সদস্যরা ও সুশীল ব্যক্তিবর্গ।

  • চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ওরফে আশাদুল (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিন মরহুম ওহাব মন্ডলের ছেলে।

    পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মারুফ রহমান।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়ায় ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

    নিহত জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার মো: জামাল শেখের স্ত্রী। তিনি গত আট মাস ধরে স্বামীসহ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার রেলপাড়া এলাকায় মো: তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিজ বসতঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জাহানারার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

    নিহতের স্বামী জামাল শেখ দাবি করেন, জাহানারা দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীসহ নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ইতোপূর্বে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়। দীর্ঘদিনের শারীরিক যাতনা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    তবে নিহতের স্বজনরা মৃত্যুটিকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানাবিধ বিষয় ও পুত্রবধূর সাথে জাহানারার মনোমালিন্য চলছিল। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না— এ বিষয়ে নিহতের ভাইয়েরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, নিহত নারী দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক কিছু মনোমালিন্যও ছিল। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় প্রকৃত কারণ বের করতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ফুলবাড়ী, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ মালামালের দুই কেজি ভারতীয় গাজা, ৭০ বোতল ভারতীয় মদ, ছয় হাজার পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, পাঁচ হাজার ১০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৬৯৬ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ৫৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৯ লাখ দুই হাজার ৭৬০ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। ’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

    দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    পরে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

    কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর স্মৃতির সম্পর্ক। কবি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুবার নদীপথে স্বপরিবারে এখানে এসেছিলেন। স্ত্রী প্রমীলা, দুই ছেলে সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। ঐতিহাসিক সেই ঘরটি এখনো কবির স্মৃতি বহন করছে।

    স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে নজরুল বিভিন্ন ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেন। ফলে স্থানটি নজরুলপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

    দিনব্যাপী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।

    স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি তদারকি করেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের কাছ থেকেও চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও সদর উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

    জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, পরিদর্শনকালে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

  • চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

    রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।

    আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।

    ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।

    এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।

  • চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    র‍্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।

    পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

    র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

    নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।

    এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।

  • জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দুটি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইলিশ মাছ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অন্তর্গত জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৬৩/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের কদর আলীর বাঁশবাগানে নায়েব সুবেদার মো: লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    অন্যদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বড় মিয়ার আমবাগানে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পুশইন প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (২৩ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসাথে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের বিজিবির সাথে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

    প্রচারকালে স্থানীয় জনগণকে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) খবর দিতে বলা হয়।

    এছাড়া পুশইনের শিকার হয়ে কোনো ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    ৬ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি চারতলা ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও আটক করেছে তারা হলেন হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মোঃ রাকিব (২৪) আঃ রহমান এর ছেলে মোঃ আলভী (২৩),
    মোঃ মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (৩০)

    মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মোঃ রিফাত (১৯),এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪) তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

    স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে ’-এর আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

    তাদের দাবি, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    তবে দুই যুবককে পরিকল্পিত ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে , মাদক কেনাবেচা ও মাদক সেবনের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনসহ (৬০) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে ৬ আগস্ট দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জয়রামপুর কলোনীপাড়ার মৃত রহিম বক্সের ছেলে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনকে ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে জয়রামপুর কলোনীপাড়া এলাকার পাকা সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ছাড়া ২৮ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হুদাপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে মো: ইয়াসিন আলী ওরফে কালুকে (৩৪) ২১ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং একই মামলার আরেক আসামি জয়রামপুর মালিথাপাড়ার মো: বিপ্লবকে (২২) ২০ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে এক মুদিদোকানি ও বিকাশ এজেন্টকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়া এবং পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

    আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: কাওছার আলী।

    অভিযুক্তরা হলেন—তপু, তিতাস, সজল, মুন্না, ইকবাল, সজীব ও আশা। ভুক্তভোগী কাওছার আলী সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় নীলার মোড়ে মুদি ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিতাস ও আশা ইয়াবা সেবনের কথা বলে কাওছারের ছোট ভাই সুমনের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। সুমন বিষয়টি তার ভাইকে জানালে অভিযুক্তরা কাওছারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত তপু মোবাইল ফোনে কল করে কাওছারের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কাওছার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

    একই দিন দুপুরে তপু, তিতাস ও সজল দোকানে এসে ড্রয়ার থেকে জোরপূর্বক ৪০০ টাকা নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আবারো আসবেন বলে হুমকি দেন। এরপর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশা দোকানে এসে টাকার জন্য তাগিদ দেন এবং রাতে তপু ফোনে পুনরায় টাকা চান।

    রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওছার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিলে তপু ও তিতাস এসে তাকে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের সহযোগিতায় স্কুলের গেট খুলে ভেতরে নিয়ে কাওছারকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

    অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প সই করে দিতে হবে। তা না করলে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষটোপ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়।

    নিহত পাখিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ক্ষতি ধরা হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে বীজের সাথে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে বিষাক্ত বীজ খেয়ে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দু’টি কবুতর মারা যায়। খবর পেয়ে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানকালে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে গেলেও তার ছেলে মো: রাজন উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাখি শিকারে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় ও ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত বীজ ও মৃত পাখি উদ্ধার করে আলামতের জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়।

    পরে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    তিনি জানান, নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও অবৈধ শিকার রোধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ভারতীয় এক নাগরিকসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছেন এবং অপর দু’জন তাদেরকে সহযোগিতাকারী স্থানীয় দালাল বলে জানা গেছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বেনীপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাদের আটক করে জীবননগর থানা পুলিশ।

    আটককৃতদের মধ্যে চার বাংলাদেশী নাগরিক হলেন—বাগেরহাটের শরণখোলার আব্দুস শুকুর খান, সিলেটের শারমিন আক্তার রুমি ও হামিদা এবং চাঁদপুরের নয়ন। আটক অপর ব্যক্তি নিয়ান ভারতের কলকাতার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এ ছাড়া সীমান্ত পারাপারে সহায়তার অভিযোগে আটক করা হয়েছে দুই স্থানীয় দালাল হাসিবুল ও আসমাউলকে।

    আটককৃত ব্যক্তিরা জানায়, তারা কাজের সন্ধানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং ক্যাম্পে রেখে পরবর্তীতে বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয় (পুশইন করে)।

    সীমান্ত পার হয়ে জীবননগর শহরের দিকে আসার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা তাদের গতিরোধ করে আটক করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জন সহায়তাকারীসহ মোট সাতজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।