চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় সরকারের উইকেয়ার প্রকল্পে উন্নয়ন

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব আমূল পরিবর্তন এবং কৃষিভিত্তিক স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দৃশ্যমান সাফল্য দেখাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম বা উইকেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত আধুনিক সড়ক অবকাঠামো ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ এলাকাটিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট সাতটি বাজার, প্রায় ৯২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সড়ক এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জীবননগর উপজেলার সিডব্লিউ-১০ প্যাকেজের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক, একটি সেতু, ৩৪টি কালভার্ট এবং ঐতিহাসিক আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টারকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষ করে উথলী-আন্দুলবাড়ীয়া এবং বাঁকা-আন্দুলবাড়ীয়া প্রধান সড়ক দুটি আগে মাত্র ১০ ফুট প্রশস্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এলজিইডির এই প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক দুটিকে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন রোড মার্কিং ও আধুনিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে, যা পরিবহন খাতকে যেমন বিশৃঙ্খলা মুক্ত ও নিরাপদ করেছে, তেমনই কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এনেছে গতি।

যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টারটির আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন স্থানীয় ব্যবসাবাণিজ্যে সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে। বাজারটিতে বর্জ্য থেকে সার তৈরির জন্য কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, আধুনিক স্লটার হাউস, সোলার লাইটিং, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি রাতের বেলা কেনাবেচায় নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।

জীবননগর উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবারের জন্য এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টা ও মাছের মতো পচনশীল উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষক ও পাইকারদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়ে পণ্যের অপচয় ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীদুজ্জামান জানান যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নির্মাণকাজের পর্যায় থেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপকভাবে আয় ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম হয়েছে। কাজের উচ্চ গুণগত মান ও অবকাঠামোগত সুফল পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জীবননগরের এই সফল মডেলের সুফল পর্যায়ক্রমে আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাতেও বিস্তৃত হবে, যা সামগ্রিকভাবে পুরো জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে বহুদূর এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ,আর

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ