চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’
এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুতায়িত হয়ে জুবায়ের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত জুবায়ের আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ফলপ্রার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে বাড়ির গ্রিল বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘নিথর অবস্থায় ওই কিশোরকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল।’
অপর ঘটনায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২টার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মাঠে কাজ করছিলেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।
এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তানিশা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়িতে যায় শিশুটি। সেখানে চার্জে থাকা একটি ইজিবাইকে খেলার সময় চার্জিং লাইনের বিদ্যুৎসংযোগে লিকেজ থেকে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।
পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদকর্মী সরদার আল আমিন, বিপুল আশরাফ, হুসাইন মালিক ও রাজীব হাসান কচি।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ সাংবাদকর্মীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন এমন একটি অবস্হা দাঁড়িয়েছে, আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো, কোনটা করবো না তা বুঝতে পারিনা। সে কারনে এই বিষয়গুলো বোঝানোর জন্যই এ প্রশিক্ষণ অনেক গুরুত্ববহন করে’।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জীবননগর থানা পুলিশ।
গ্রেফতার রাজন হোসেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
নিহত গৃহবধূ পিংকী ডুমুরিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সানোয়ার হোসেনের স্বামী পরিত্যক্তা ও একাধিক বিবাহিতা নারী এবং দুই সন্তানের জননী।
দুই মাস আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকীকে (২৭) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রাজন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিংকী পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেন যে, তাকে রাজন এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এ সময় রাজন হোসেনকে সে একটি লাথিও মারে বলে জবানবন্দিতে জানা যায়। মূলত রাজন হোসেনের দেয়া অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মিন্টু রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে প্রবাসফেরত রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন নিহত পিংকীর মামা আনোয়ার হোসেন। মামলার পর থেকে রাজন হোসেন পলাতক ছিলেন। পুলিশ তাকে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, প্রবাসফেরত যুবক রাজন হোসেন গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাজন হোসেন ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাকে বুধবার সকালে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’। ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে ‘স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি’র আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) রনি বিশ্বাস উপস্থিত থেকে কর্মক্ষম ও অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সিঙ্গার সেলাই মেশিন তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের একটি টেকসই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।
সেলাই মেশিন বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য বিতরণে বিশ্বাসী নই; বরং একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সেলাই মেশিনটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”
সংগঠনের সেক্রেটারী রনি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গার পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাবলম্বীকরণ ও মানবিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যুবসমাজকে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও স্বাবলম্বী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স আরও পাঁচটি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হল ডিবেট ক্লাব, আইটি টিম, ব্লাড সেন্টার, মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সহ আগামীর নেতৃত্ব তৈরির জন্য লিডারশিপ প্রোগ্রাম।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর চারটার দিকে দর্শনা-গেঁদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ১১ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।
ভোরে বিজিবির টহলদল এদেরকে নিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় আছে তা জানা যায়নি।
বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, পুশইনসহ সীমান্তের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিজিবির টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধীনে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাজুড়ে ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে।
দেশের ১০টি জেলায় একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনের অংশ হিসেবে রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি চুয়াডাঙ্গাসহ ১০টি জেলার আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের সপ্তম তলায় স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট পরিদর্শন করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আইসিইউ চালু হওয়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই আইসিইউর কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ ইউনিট পরিচালনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, আরএমও ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, ডা. এহসানুল হক তন্ময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর আইসিইউ চালুর ফলে চুয়াডাঙ্গার সংকটাপন্ন রোগীরা স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় ৫০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ করেছে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রবিবার (১৪ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়।
টিউবওয়েল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকন্দবাড়িয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. খায়রুল বাশার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহমেদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. রমজান আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফার্মপাড়া ও বেলগাছি রেলগেট এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে দুটি বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
এ সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ফার্মপাড়া এলাকার মো: হারুন অর রশিদ এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর ফুড প্রোডাক্টসকে ২৫ হাজার টাকা এবং বিটু ইসলাম এর প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাকিল চানাচুরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রুটিগুলো সংশোধন করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. গোলাম ফারুক এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে নেওয়া ও সকল বাঁধা মোকাবেলা করে পরিষদের বেদখল সম্পদ পূণ উদ্ধার করে জনকল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি।
অনুষ্ঠানে জেলার সাংবাদিক, পেশাজীবী, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করে নানা আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান, শাহজাহান মুকুল, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার আল আমিন, রাজীব হাসান কচি, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বক্তাগন তাঁর সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।ঐ
সংবর্ধনার জবাবে শরীফুজ্জামান শরীফ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) ভর্তি সরকারি চাল ও আটা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রী সরকারি ওএমএস কর্মসূচির পণ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন৪৭) তার ওএমএস এর গুদাম চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় হলেও তিনি আলমসাধুতে করে সাতগাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন , এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলমসাধু থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক মালিক এর ছেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। চাল জব্দ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো সহ ডিলারের শাস্তি দাবি করেন , সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও জেলা পুলিশের একটি টিম।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার অভি ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যপণ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নমুনা সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে এসব অপরাধে অভি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক অভিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানকালে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।
অবৈধভাবে কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই নির্বিচারে বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে অমানবিক আচরণকরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের আঁধারে তাদের এদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এতে নিদারুণ কষ্ট পোহাচ্ছে ওই মানুষগুলো।
বিজিবি’র সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি হ্যান্ড মাইক যোগে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কেউ যেনো অবস্থান না নেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবি’র কাজে সহযোগীতা করছে।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বিজিবি রাতদিন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট কাজ করছে।
চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ হযরত আলী (৫৫) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সুবদিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হযরত আলী জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মরহুম আক্কাস আলীর ছেলে।
দুপুর ৩টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিটে একযোগে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামসহ একদল পুলিশ সদস্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হযরত আলীকে আটক করে। এ সময় তার কাঁধে বাঁধানো কফি কালারের ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে থেকে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, আটককৃত গাজার বিষয়ে সদর থানায় মামলা হয়েছে এবং আটককৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কারও সকল ট্রেন স্টপেজের জন্য মহান জাতীয় সংসদে জোর দাবি জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের ( দর্শনা- দামুড়হুদা ও জীবননগর) নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এমপি ।
৭১ বিধি নোটিশে সম্পুরক প্রশ্নোত্তর কালে বলেন, ১৮৬২ সালে প্রথম দর্শনা দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময়েই জয়রামপুর স্টেশন চালু হয়। অনেক পরে আনসার বাড়িয়া স্টেশন ও চালু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত সরকারের আমলে কোন এক দুষ্ট চক্রের কারণে স্টেশন দুটিতে রেল স্টপেজ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আনসার বাড়িয়া ও জয়রামপুরের নিকটে কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্রদেরকে যন্ত্রচালিত নসিমন, করিমনও ভডভডে নামক এলাকার যানবহনে চড়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ আসতে হয়। আসার পথে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে অকালেই তাদেরকে পঙ্গু হতে হয়, এতে তাদের বাবা-মার স্বপ্ন অল্প দিনেই নিভে যায়।তাই তিনি এলাকার অভিভাবকদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার কথা মাথায় রেখেই রোববার জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পিকার এর কাছে এই দুটি স্টেশনে ট্রেন স্টপেজের জন্য জোর জানান।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন (৩০) এক নারী সাথে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযোগকারী ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
সোমবার ওই নারী কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে সেই অভিযোগের বিষয়ে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
১ জুন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় জিডি সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এলাকার বাসিন্দা রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আবেদনকারী।
তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শুক্রবার ২০২৬ ভুক্তভোগী ওই নারী পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি লিখিত আবেদন করে। তিনি জানান, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়েছে। রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেলের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।
আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পূর্বে দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। ফলে জিডিটি রেকর্ডে থাকলেও পরবর্তী কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে রিয়াল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ দায়েরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কী, অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য ছিল, কিংবা কী পরিস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাচলছে।
মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার শেখ তামিম আহম্মেদ (বিপি নং-৯৩২৩২৪৬২৬৭) জিডি গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত রকিবুজ্জামান বলেন, থানায় এই ধরনের জিডি অনেকেই করে। আপনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওন বলেন আমার পক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সিনিয়র গ্রুপ কাজ করেছে। মেয়ের পরিবারের সাথে আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। মেয়ে নিজে জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার পারিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বসে এবিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক আল্লাহ বিচার করবে। আমি আমার অভিযোগের জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।
চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের (পিপি) আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থানায় জিডি অথবা মামলা হলে আপস-মীমাংসার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপসের বিষয়ে আমি জানিনা।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসার জন্য পরামর্শ দিলে দিতে পারে। তবে এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই।
চুয়াডাঙ্গায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের এমন চিত্র চোখে পড়ে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির পর চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আলমডাঙ্গার নান্দাবারে বজ্রপাত ও ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরোনো ভবনে জেনারেটর চালু থাকলেও নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে নতুন ভবনে জেনারেটর চালু করা হলেও জরুরি বিভাগের কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।
এ অবস্থায় কাটা-ছেঁড়া ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্তত চারজন রোগীকে টর্চের আলোয় সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, একটি জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো স্বাভাবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনা ও জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করা হোক।
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
নিয়োগের খবর প্রকাশের পর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায়। নেতাকর্মীদের অনেকে এ নিয়োগকে ‘ত্যাগের স্বীকৃতি’ ও ‘জনমানুষের নেতার প্রাপ্য সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলীয় পরিমণ্ডলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও জনসম্পৃক্ততা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকারের সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শরীফুজ্জামান শরীফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজন তালিকাভুক্ত ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতাররা হচ্ছেন- মিন্টু ওরফে জামাই মিন্টু, মশিয়ার, ফিরোজ ও সাজ্জাদ।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত ছিল।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে পাঁকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (আঁটি) তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আম সংগ্রহ। বুধবার (১৩ মে) বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি আম বাগানে আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে। জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিকটন।
১৩ মে ৩০ বৈশাখ থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাত ও গোপালভোগ জাতের, ২০ মে ৬ জ্যৈষ্ঠ থেকে হিমসাগর, ২৫ মে ১১ জ্যৈষ্ঠ থেকে ল্যাংড়া, ৫ জুন ২২ জ্যৈষ্ঠ আম্রপালি (বারি আম-৩), ১৫ জুন ১ আষাঢ় থেকে ফজলী জাতের , ২০ জুন হাঁড়িভাঙ্গা, ব্যানানা ২২ জুন ৬ আষাঢ়, আশ্বিনা (বারি আম-৪) ৩০ জুন ১৬ আষাঢ়, কার্টিমন ৫ জুলাই ২১ আষাঢ় ও গৌড়মতি (বারি আস-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার যৌথভাবে জানান, কোন অবস্থাতে বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপরিপক্ক আম পাড়া যাবেনা এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা যাবেনা। তাছাড়া অবৈধ প্রক্রিয়ায় আম পাকানো হলে বা পাকানোর উদ্দেশ্যে মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন -২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুয়ায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, জেলা ব্যাপী আম সংগ্রহের যে সূচিটি দেয়া হয়েছে তার বাইরে কেউ অপরিপক্ষ আম পাড়তে পারবে না। কেউ যদি এর ব্যপ্তয় ঘটায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নির্ধারিত সময়ে আম সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহ আলম সনি, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার ও সহ-সভাপতি আব্দুল করিম সহ আম ব্যবসায়ীগণ।
চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ বোতল বাংলা মদসহ কারবারি চান্দু মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়েছে। ১৩ মে বুধবার সকালে শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।
চান্দ্র মন্ডল সদর উপজেল দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া মৃত শুকর আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ৩৬ বোতল কেরুজ বাংলা মদ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সদর থানার এস আই অনুজ কুমার বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
আগামী ১৩ মে থেকে বাজারে আসবে চুয়াডাঙ্গার আম। এদিন থেকে আঁটি গুটি ও বোম্বাই আম সংগ্রহ শুরু হবে। আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। পর্যায়ক্রমে ২০ মে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা, বারি-৪, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ শুরু হবে।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, আম সংগ্রহের জন্য যে ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্তদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।
অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।
এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবন নগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ৮ কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৭ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
৪ মে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১টি ব্রীজ ও ৩টি সড়ক উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন।
কাজের উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, ‘এই ব্রীজ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অযোগ্য থাকায় ভোগান্তি হচ্ছিল, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে’।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৭০ টাকা ব্যয়ে ৩১ দশমিক ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য বালিহুদা জোড়া ব্রীজ, ১ কোটি ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য মিনহাজপুরহাট-বৈদ্যনাথপুর সড়ক, ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৮ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৯৯০ মিটার দৈর্ঘ্য রায়পুরবাজার-সাফদারপুর সড়ক এবং ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৮ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য খয়েরহুদাহাট-পিয়ারাতলা আরএন্ডএইচ সড়ক। যা বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি। এর মধ্যে ব্রীজের কাজ শেষ হলেও অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।
এসব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সাখাওয়াত হোসেন, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সোলায়মান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমানসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গায় ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, কৃষি ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এ আসনকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সংসদীয় আসনে পরিণত করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গায় নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা ৩টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তবর্তী অপরাধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ জোরদার, যানজট নিরসন, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহŸান জানান। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন. পুলিশ দিনে রাতে কাজ করে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে । নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত দিয়ে যেন অবৈধ অস্ত্র,মাদক প্রবেশ করতে না পারে,সে ব্যাপারে অঅইন শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগর হতে হবে রয়েছে। তিনি বলেন, আইনের ব্যাপারে আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কোন অবস্থায় সাধারণ নাগরিকদের প্রতিবন্ধকতা করা যাবে না। যে জাতি যত আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সে জাতি তত উন্নত।
এ সময় তিনি জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, পুলিশ পরিদর্শক আতিকুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ,সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন,আমার দেশের চুয়াডাঙ্গ প্রতিনিধি মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার সহ প্রেসক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ।
দেশের বিভিন্ন জেলায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। চুয়াডাঙ্গায় শীত বাড়ায় বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ও সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ ছিল বলে জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় পুরো জেলা ঢেকে গেছে। শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এরপরেও জীবনের তাগিদে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে কাজের জন্য বের হয়েছেন রিকশাচালক, দিনমজুর।
এক রিকশাচালক জানান কয়েকদিন ধরে খুব ঠান্ডা। এই ঠাণ্ডায় ভোরে বের হওয়া খুব কষ্ট। যাত্রী কম, আয়ও কমে গেছে।
নিম্নআয়ের এক শ্রমিক বলেন, গরম কাপড় ঠিকমতো নেই। এই শীতে আমাদের কষ্ট বাড়ছে।
এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) জেলার তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আজকের নিম্ন তাপমাত্রা মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়বে।
চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর-দামুড়হুদা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রোববার দুপুরে জীবননগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জীবননগর উপজেলা জামাতের এই মতবিনিময় সভায় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার, উন্নয়ন ভাবনা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, জনগণের কল্যানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়, চ্যাংখালী স্থলবন্দর, জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে, তিনি কাজ করতে চান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা জামাতের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থীত ছিলেন জেলা জামাতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিেত পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুইষ্ঠত হয়েছে। ২৬ নভেম্বর বুধবার দুপুরে দামুড়হুদার কোষাঘাটার গো গ্রীন সেন্টার ট্রেনিং রুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি সম্প্রসারণকল্পে এগ্রো ইকোলজিকাল লার্নিং সেন্টার প্রতীষ্ঠা শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ প্রকল্প’-এর আওতায় এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল-সাবা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি পণ্য উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও কৃষকদেরকে অবহিত করা হয়। অতিরিক্ত টিএসপি সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে পিএইচ এর মাত্রা কমে যাচ্ছে বলে কৃষকদেরকে সতর্ক করেন এই কর্মকর্তা। এসময় কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ। প্রধান সমন্বয়কারী এগ্রো ইকোলজিকাল প্রকল্পশাখাওয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা এগ্রো-এর উদ্যোক্তা ইরফান বিশ্বাস এবং মর্ডান এগ্রো এর সেলিম রেজা।
কর্মশালায় উপস্থিত কৃষকদের পরিবেশসম্মত কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশি এক নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় দর্শনা বন্দরের চেকপোস্টের শূন্যরেখায় ৭৬ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
হস্তান্তর করা বাংলাদেশি নাগরিক নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার আশরাফপুর গ্রামের ফায়েজ উদ্দীনের ছেলে হানিফ খান (৪৭)।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আবুল হোসেনসহ ৫ জন এবং ভারতের ৩২ বিএসএফ গেদে ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শিব শংকর সিংসহ ৫ জন বৈঠকে অংশ নেন।
পতাকা বৈঠকে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার বিজিবি কোম্পানি কমান্ডারের কাছে নাগরিকের নথি প্রদান করেন। এরপর নথি যাচাই-বাছাই সম্পূর্ণ করে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত হন। পরবর্তীতে বিএসএফ কর্তৃক বিজিবির কাছে হস্তান্তর গ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করেন।
বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি এই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, সে গত ৭ নভেম্বর সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করে। সে আজমীর গিয়েছিল খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি ( রহ). মাজার জিয়ারতে। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসতে গেলে ভারতের ৩২ গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য কর্তৃক আটক হয়। এরপর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির নিকট হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের পরে তাকে দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বিলবোর্ড ও প্রতীক টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কনক, সদস্য সাজাহান ও আলিম, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন, ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন ও তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম। জামায়াত পক্ষের আহতরা হলেন হারুনের ছেলে মুরাদ আলী, মাহাতাবের ছেলে আরিফ, পলাশের ছেলে লাল্টু, সাদেক আলীর ছেলে ওল্টু এবং তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন।এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন বলেন, জামায়াত পরিচয়ে যুবলীগ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৬জন নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।
অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তার স্বামী বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জামায়াত সমর্থক খাজা এবং বিএনপি সমর্থক আজিজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্বামীর মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে বিউটি খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরাতপুর পুরাতন পাড়ার মুস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুর-আলমডাঙ্গা সড়কের চিৎলা রুইতনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে বিউটি খাতুন স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে ভগিরাতপুর থেকে দৌলতপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চিৎলা রুইতনপুর এলাকায় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গেলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্বামী মুস্তাফিজুর রহমান দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. মাসুদুর রহমান পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন।
ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ৫৩ জন নেতাকর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছ থেকে ফুলের মালা, ফুল নিয়ে ও হাতে হাত রেখে যোগদান করেন।শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আলোকদিয়া আকন্দবাড়িয়া গ্রামে একটি স্কুল মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র ৫৩ নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আমির বিল্লাল হোসাইন, আলোকদিয়া ইউনিয়ন আমির আব্দুল মমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি তরিকুল ইসলাম লিটন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের নাম ঘোষণার পরেই চুয়াডাঙ্গার রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর পেয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপরই তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেত নফল নামাজ আদায়ের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন।
সেখান থেকে তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের নিজ বাড়িতে ফিরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি শহীদ জিয়া আদর্শে ও তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। এখন থেকে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—বিভেদ ভুলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। এসময় তিনি উপিস্থত নেত-কর্মীদের বলেন, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নির্বাচিত হলে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন চূয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, জামায়াত খলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি করেনা। জামায়াত একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সততার গ্যারান্টি দিতে পারে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে একটি আত্মনির্ভরশীল দূর্নীতিমুক্ত কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করবে।
২ আক্টোবর রোববার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই বলে তিনি ঘোষণা দেন।
তিনি আরো বলেছেন, জামায়াত মানুষের পাশে থাকতে চাই। জামায়াতে ইসলামী নেতারা দলকানা জনপ্রতিনিধি হতে চাইনা । আমরা জনপ্রতিনিধিদের কে জনগেণের নিকট জবাবদিহিতার কালচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাজারো আঘাতেও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাসিঁ, দিয়েও থামানো যায়নি এ দলের জানবাজ কর্মীদের। ভবিষ্যতেও কোনো হুমকি ধামকিতে কাজ হবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জিতে যাবে জনগন। এসময় তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা পৌর আমীর অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম, নায়েবে আমীর মাহবুব আসিক শফি ও আনোয়ার হোসেন, পৌর সেক্রেটারী মোস্তফা কামাল, সহকারী সেক্রেটারী ইমরান হোসেন, অফিস সম্পাদক আবু যায়েদ আনসারী, পৌর উলামা ও মসজিদ মিশন সভাপতি হাফেজ মাওলানা আঃ শুকুর মালিক, পৌর যুব বিভাগের সভাপতি শাহ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, অফিস সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাসুমসহ পৌর নেতৃবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শত্রুতার জেরে জালাল উদ্দিন নামের কৃষকের প্রায় ৩০০টি উচ্চ ফলনশীল জাতের পেয়ারা গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা । রোববার দিনগত রাতে উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মাঠে ঘটনাটি ঘটেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে জালাল উদ্দিনের ২৫ কাঠা জমিতে ৩০০টি পেয়ারার চারা রোপণ করেন এবং গত দুই বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানটিকে ফল ধরা শুরু হয়। রাতের আঁধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাগানের সমস্ত গাছ কেটে ফেলে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে তিনি এই পেয়ারা বাগান তৈরি করেছিলেন। গাছে ফুল ও ফল ধরায় তিনি লাভের আশা করছিলেন। এই বছর তিনি প্রায় তিন লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করতে পারতেন। তিনি বলেন, হরিহার নগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে আলমগীর হঠাৎ করে আমার এই জমি তার বলে দাবি করে। এই নিয়ে কয়েকবার তার সাথে আমার ঝামেলা হয়েছে সে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেয় এবং আমার ছেলের গলায় হেসো ধরে। এর আগেও সে একবার আমার জমির নেটের বেড়া কেটে দেয়। আমরা এই জমিতে ৫৩ বছর চাষাবাদ করছি আমার দাদার কেনা জমি আজ হঠাৎ করে তারা এই জমি তাদের বলে দাবি করছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে। দুর্বৃত্তরা আমার সব গাছ কেটে দিল। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কয়েক লাখ টাকার ফল উৎপাদনের স্বপ্ন ভেঙে গেল। এই ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিমের ক্রয় বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করা, পণ্যের মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়সহ নানা অপরাধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
রোববার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি বাজার ও দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিম, পেয়াজ, মাছ-মাংশ, সবজি ও মুদিদোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠানে তদারকি করার সময় এ জরিমানা করা হয়।
অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহা. সজল আহম্মেদ জানান, অভিযানে ডুগডুগি বাজারে মেসার্স রাজিব স্টোর নামক প্রতিষ্ঠানে ডিমের ক্রয় বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজিব হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮ ও ৫১ ধারায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর মেসার্স শামিম ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক শামিম হোসেনকে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রয়, সারের মুল্যতালিকা না থাকা, দাম বেশি নেওয়া ও ভাউচার প্রদান না করার অপরাধে একই ধারায় ৫ হাজার টাকা, এবং অপর একটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কৌশিক স্টোরের মালিক সুদেব হালদারকে একই ধারায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান, ছাত্র প্রতিনিধি মুশফিকুর রহিম, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি টিম।
বর্তমান সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের বোঝা মনে করে ভিক্ষাবৃত্তি বা নির্ভরশীলতার পথ বেছে নেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার মঙ্গল মিয়া সেসব মানুষের জন্য অনন্য উদাহরণ। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাবলম্বী হয়ে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল মিয়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে দৃষ্টিহীন। তবু তার কথা বলা, চলাফেরা ও কাজের ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি চোখে দেখতে পান না।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল মিয়া হাতে একটি লাঠি নিয়ে বের হন। কোনো সহযোগিতা ছাড়াই তিনি খুলেন নিজের ছোট্ট দোকান। সেখানে তিনি বাইসাইকেল, পানির পাম্প, স্যালো মেশিন এমনকি পাওয়ার টিলার পর্যন্ত মেরামতের কাজ করেন।
অন্ধত্ব সত্ত্বেও তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের স্যালো মেশিন, টিউবওয়েল বা পাওয়ার টিলার মেরামতের জন্য একমাত্র মঙ্গল মিয়ার ওপর নির্ভর করেন। শুধু তাই নয়, তিনি হাতের স্পর্শেই টাকার পরিমাণ বুঝতে পারেন এবং একবার শোনা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারেন নিখুঁতভাবে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গল মিয়া একজন পরিশ্রমী ও দক্ষ মেকানিক। অন্ধত্ব কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বহু দূর থেকেও মানুষ তার কাছে মেশিন মেরামত করাতে আসেন।
নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মঙ্গল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর হলো আমি চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারানোর কাজ শিখেছিলাম। পরে স্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলার মেরামত শিখি। এমনকি একসময় বিদ্যুতের কাজও করেছি। একা একাই সব করি। এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখেরও বেশি টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।’
চোখে না দেখেও জীবন ও পরিশ্রমের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মঙ্গল মিয়া। তার অদম্য সাহস ও পরিশ্রম প্রমাণ করে- ইচ্ছা থাকলে অন্ধত্বও কোনো বাধা নয়, বরং প্রেরণার উৎস হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য মো: রুহুল আমিন শনিবার দর্শনা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার সময় দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এ্যাঃ মোঃ রুহুল আমীন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান টুকু, দর্শনা থানার সাংগঠনিক সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, দর্শনা সাংগঠনিক থানা সহকারী সেক্রেটারী ও দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি আলমগীর, দর্শনা পৌর আমির সাহিকুল আলম অপু,এসময় উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসমত আলী, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওয়াল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লা, সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুজ্জামান ধীরু, কামরুজ্জামান যুদ্ধ, রেজাউল করিম লিটন, জাহিদুল ইসলাম, রিফাত, বাঁধন, মাহমুদ হাসান রনি, মোঃ নজরুল ইসলাম, আহসান হাবীব মামুন,ফরহাদ হোসেন, রয়েল, আব্দুল হান্নান প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা পৌরসভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। পৌর বিএনপি’র সমন্বয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দরা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
গতকাল ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীরা দলে দলে প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় তারা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন এবং বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি’র অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মহিলা দলের নেত্রী শান্তনা ইসলাম, রোজি খাতুন, শিউলি বেগম, আসমা খাতুন সহ ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য নেত্রীবৃন্দ ও কর্মীরা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ নারীদের মাঝে ১৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জীবননগর ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে গ্রামীণ নারীদের হাতে সেলাই মেশিনগুলো তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, উপজেলার সহকারি সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফফর রহমান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহম্মেদ।
চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করায় আদালতের নির্দেশে এসব লাশ তোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার পৃথক চারটি গ্রাম থেকে লাশগুলো উত্তোলন করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন হওয়া সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম, নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী ও শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লার লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশগুলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী জানান, ৯ অক্টোবর রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে মদপান করেন। পরে ১১ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
একই দিন তাদের লাশ গোপনে দাফন করে পরিবারের লোকজন। পরদিন ১২ অক্টোবর মৃত্যু হয় আরও দুজনের। তখন বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পুলিশ ১২ অক্টোবর লাশ দুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
ভারতে পাচারের আগেই চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যের ২ কেজি ৪৪৯ গ্রাম ওজনের ২১টি অবৈধ স্বর্ণের বারসহ এক চোরাকারবারীকে আটক করেছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত পৌঁনে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক হায়দার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পারেন যে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারতে স্বর্ণ পাচার করবে।
সংবাদের ভিত্তিতে অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় তারই নেতৃত্বে বিজিবির একটি সশস্ত্র দল সীমান্ত পিলার নম্বর ৭৫/৩-এস হতে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দর্শনা পৌর এলাকার ইশ্বরচন্দ্রপুর রাস্তার ওপর এ্যাম্বুশ করে। এদিন আনুমানিক বেলা ১২ টা ২০ মিনিটে বিজিবি’র দলটি একটি মোটরসাইকেলযোগে ২জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে। ওই সময় তাদের থামার সংকেত দিলে মোটরসাইকেল আরোহীদের ১জন মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যজন নেমে পাশের একটি ছোট পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পরবর্তীতে টহলদল পানিতে নেমে জেলার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আনার আলীর ছেলে আবদিন মিয়াকে আটক করে। আটকের সময় সে তার হেফাজতে থাকা ১টি প্যাকেট সদৃশ বস্তু পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বিজিবি তার দেহ তল্লাশীর সময় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ১টি প্যাকেট উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বিজিবি দলের সদস্যগণ পুকুর থেকে চোরাকারবারীর ফেলে দেওয়া অপর প্যাকেটটিও উদ্ধার করে। উদ্ধারকরা ২টি প্যাকেট হতে ২১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন সেট এবং নগদ ২০২ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকরা স্বর্ণের বারগুলোর ওজন ২ কেজি ৪৪৯ গ্রাম। উদ্ধার করা স্বর্ণের তালিকা মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ৮৯০ টাকা।
ঘটনার ব্যাপারে নায়েক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা করে আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। উদ্ধারকরা স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় জুলাই বিপ্লবে শহীদ মাসুদ রানা মুকুলের পরিবারের হাতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টায় শহীদের স্ত্রী ও শিশু কন্যা আরবীর হাতে তিনি এই নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে যে কোন প্রয়োজনে পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জুলাই বিপ্লবে সরাসরি অংশ গ্রহণকারী এই বীরের আত্মত্যাগ গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারী ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের, জেলা বায়তুল সেক্রেটারী মোঃ কামাল উদ্দীন, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা থানা আমীর নায়েব আলী, দর্শনা পৌর আমীর সাহিকুল আলম অপু, নায়েবে আমীর গোলজার হোসেন, পৌর সেক্রেটারী শাহরিয়ার আলম দবির, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর হোসাইন, সাবেক সভাপতি হাফেজ এমদাদুল্লাহ জামেন প্রমুখ।
এ সময় শহীদ মাসুদ রানার শ্বশুর দর্শনা আজমপুরের অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী বাবুল মিয়া আগত নেতৃবৃেন্দর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শহীদ মাসুদ রানার মাগফিরাত কামনা, তার একমাত্র কন্যা ও বিধবা স্ত্রীর মঙ্গল কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আজিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন ৪ আগস্ট সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে উত্তাল ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন মাসুদ রানা মুকুল (৩৫)। মাসুদ রানা মুকুল চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের স্কুল পাড়ার আব্দুর রায়হান ও জাহানারা খাতুনের ছোট ছেলে। আব্দুর রায়হান ও জাহানারা দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা মুকুল ঢাকার একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের লিফট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকুরী সুত্রে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সনি সিনেমা হলের পেছনের দিকে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নিরলসভাবে সহযোগিতা করেছেন শহীদ মাসুদ রানা মুকুল।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ সাইদুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টায় দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ গেটের পাশে তার ইলেট্রনিক্সের দোকান থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলিসহ যৌথবাহিনী তাকে আটক করে । সাইদুর রহমান শহরের ব্রীজ পাড়ার মরহুম কিয়াম উদ্দীন ওরফে ঘ্যানার ছেলে।
দামুড়হুদা মডেল থানার এস আই হিমেল রানা জানান, সেনাবাহিনী ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ভোর সাড়ে ৪টার সময় সাইদুর রহমানের নিজ বাড়ী থেকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে উপজেলা পরিষদ গেটের পাশে তার ইলেট্রনিক্সের দোকান থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে এসআই হিমেল বাদী হয়ে সাইদুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছেন।
রোপন ও মাড়াই মৌসুমে আখ চাষ বৃদ্ধি এবং গুণগত মানসম্পন্ন আখ সরবরাহের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আখ চাষীদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর কৃষি বিভাগের আয়োজনে বুধবার (৩০ জুলাই) কেরুজ ট্রেনিং কমপ্লেক্সে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতা করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড.আব্দুল আলীম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের প্রধান (ট্যাকনিক্যাল সার্ভিস) ড. জেবুন নাহার ফেরদৌস ও প্রধান ইক্ষু ক্রয় সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দীন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আখ চাষী শামীম হাসান, আজিজুল হক ডাবলু, আবজালুর রহমান ধীরু, আব্দুল বারী, মোর্শেদুর রহমান, লিংকন ও সোহেল রানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড.আব্দুল আলীম খান বলেন,“কারখানা চালু রাখতে হলে আখের প্রয়োজন হবে। আখ চাষ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে চাষীদের যে যৌক্তিক দাবী আছে তা আমরা পুরণ করার চেষ্টা করবো। আমরা এখন পর্যন্ত ভাল মানের আখের বীজ উৎপাদন করতে পারছিনা। বীজের মান ভাল অবস্থায় আনার চেষ্টা চলছে। কেরুর উৎপাদিত পণ্য যদি আমারা সামনে আনতে না পারি তাহলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নয়া বন্দোবস্তের মধ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে”।
এছাড়া সম্মেলনে কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভুঁইয়া, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান ও (বীজ পরিদর্শক) দেলোয়ার হোসেন এবং খামার ব্যবস্থাপক সুমন কুমার সাহা এবং সকল সাব জোন প্রধানগণসহ প্রায় দেড় শতাধিক চাষী উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে,এটা শোনার পর তাদের ঘুম হচ্ছেনা। তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ৩ ঘন্টা আগেও জানতো না দেশ থেকে পালাতে হবে। আল্লাহ যখন এত বড় শক্তিশালী খুনিকে দেশ ছাড়া করিয়ে এদেশ স্বাধীন করিয়েছেন, তখন আরেক ফ্যাসিষ্ট আসবে, খুনি আসবে, টাকা পাচারকারী আসবে, আমাদের মনে হয় আল্লার রহমতে এটা হবে না। তিনি বলেন, দৃশ্যমান খুনি জালেম টাকা পাচারকারীদের বিচার হতে হবে। এর পরে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে।
(২৮ জুলাই) সোমবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা টাউনহল ফুটবল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানবতার পক্ষে কথা বলে। খুনি চাঁদাবাজদের,বিদেশে টাকা পাচারকারীদের সিঁড়ি হিসেবে কখনো ব্যবহার হয়নি।
একটি দলের কিছু ব্যক্তির কাছে এ দেশ এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় ছিল। দেশ সুন্দর করার চেষ্টা থাকলেও তাদের কারনে সুন্দর করার পরিবেশ তৈরী হয়নি। ৫ আগস্টের পরে পরিবেশ তৈরী হয়েছে। বিগত দিনে নিজের এবং দলের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। এজন্য কোনো দলের স্বার্থে বিবেচনা না করে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
সেই নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন হলো পিআর সিস্টেমে নির্বাচন। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ভোটারদের মূল্যায়ণ হবে। আর বার বার চেষ্টা করেও ফ্যাসিষ্টরা ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ পাবেনা। যারা এক সময় নিজের এবং দলের স্বার্থকে অগ্রাধীকার দিয়ে দেশের স্বার্থ ভুলন্ঠিত করেছে তারা এই পিআর পদ্ধতি বোঝে না। তারা বলে পিআর পদ্ধতি খাই না মাথায় দেয়? আমরা বলবো পিআর পদ্ধতি খাইও না মাথায়ও দেয়না। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে এ দেশ সুন্দর হবে মানবতার কল্যাণ হবে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন হবে। যারা পিআর পদ্ধতি বোঝেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলি, দলের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন। পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে হাজার হাজার ভাইকে মিথ্যা মামলায় দমন করা যাবে না । তিনি বলেন, এদেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এদেশে সুন্দর করার দায়িত্ব আমাদের। চাঁদাবাজদের জায়গা বাংলার জমিনে হবেনা। আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে দেয়া যাবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হাসানুজ্জামান সজিবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম- মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা আমীর রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলার খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি সোয়াইব হোসাইন কাসেমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বকারী খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান রনি ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা মাহবুবুর রহমান গওহরী প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হুদাপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে আলী আকবর (৫৪) নামের একজনকে বেধড়ক মারধর, রাইফেলের বেওয়ানেট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। আহত আলী আকবর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মাজপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে আলী আকবরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবারের সদস্যরা এ সময় বিষয়টি জানাজানি হয়।
এর আগে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে স্থানীয় এক যুবক ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এসময় তার হাত-পায়ের ক্ষতস্থানগুলোতে একাধিক সেলাই দেয়া হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন রাখার চেস্টা করেন।
আহত বৃদ্ধ আলী আকবর বলেন, খুব সকালে চা পান শেষে হুদাপাড়া সীমান্তের কাছাকাছি গেলে তিন বিএসএফ সদস্য আমাকে ধরে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তাদেরকে বলি, আমি সীমান্ত অতিক্রম করিনি।
আমাকে ছেড়ে দেন, তবুও তারা আমাকে রাইফেলের সামনের অংশ (বেওনেট) দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্নস্থানে খোচাতে থাকে এবং পেটাতে থাকে। এরপর আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়।
অহতের স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন, ওই দিন ভোর বেলা স্থানীয় এক যুবক হুদাপাড়া সীমান্তের পাশে একটি কৃষি জমিতে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখে কুড়ুলগাছি গ্রামের পারভিন ড্রাগ হাউজ ডা. আকরাম হোসেনের (সাবেক উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) কাছে নেয়া হয়। তিনি হাত-পায়ের বিভিন্নস্থানে একাধিক সেলাই দেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনেছি, বিএসএফের সদস্যরা আলী আকবরকে বেধড়ক মারধর করেছে।
জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৬) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নাজমুল হাসান বলেন, তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে তার পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি। সীমান্তের কোন পিলার এবং কোন স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবিরকে (৫৮) গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪জুলাই) বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, আসাদুজ্জামান কবির ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামি ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা সদর আমলী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আসাদুজ্জামান কবির চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশী পিস্তল (ইউএসএ), ১টি ম্যাগজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়া গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে এসব উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫মিনিটে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপনে খবর পেয়ে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন নতুনপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৬৪/৪-এস হতে ৩ কিলোমিটার বাংলােদেশের অভ্যন্তরে গোয়ালপাড়া গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি জীবননগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিজিবি-৬ বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল আটক করা হয়।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলী বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার সময় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল মজুদ রয়েছে বলে তথ্যে পাওয়া যায়। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণপুর, জুড়ানপুর ও নতিপোতা গ্রামে সকাল ১১ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিজিবির নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলীর নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য, দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএইচ তাশফিকুর রহমান, দামুড়হুদা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফারুক মহলদার এবং দামুড়হুদা থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। টাস্কফোর্স অভিযান চলাকালে মোট পনের লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০ টি অবৈধভাবে রক্ষিত চায়না দূয়ারী জাল জব্দ করে। জব্দকৃত জালগুলো টাস্কফোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ মজুদ ও পরিবেশ বিধ্বংসী সামগ্রীর বিরুদ্ধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও বিজিবির এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মফিজ জোয়ার্দ্দার,চুয়াডাঙ্গা।