অপরাধ ও বিচার

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ওই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    রায়ে বিচারক লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশের আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলে, এসব দেশের আবেদনকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভর করার উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। বিচারকের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং নির্ধারিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেন।

    ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাদের ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে তার কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে তুলে ধরেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বা ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি পিটিশন দায়ের করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

    আজ শনিবার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে ইমরান খানের বোন উজমা খান ও আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই পিটিশন দাখিল করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সরকারের এ সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেছেন, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে ও সেখানে যাওয়ার পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    তবে তারার দাবি করেন, শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিলেন।

    পিটিআইয়ের পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের গত মঙ্গলবারের আদেশ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী ঘোষণা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে তাঁর চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগেরও আবেদন করেছে পিটিআই।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার ঘটনায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কর্মকর্তা আফেক মোসকোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে তুরস্ক। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম ইস্তাম্বুলের ১১তম হেভি ক্রিমিনাল কোর্টে চলমান রয়েছে। ২০২৬/১০৮ নম্বর মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচও রয়েছেন।

    গুরলেক জানান, গণহত্যার অভিযোগে গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিতে তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    তুরস্কের বিচারমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান এবং তাদের আটক করার ঘটনায় নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিচার চলছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, গুরুতরভাবে স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর ধরনের ডাকাতি এবং পরিবহনযান ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গুরলেক বলেন, গাজায় ইসরাইলি সরকারের নীতির কারণে নেতানিয়াহু সরকার কোনো ধরনের জবাবদিহির বাইরে থাকবে- এমন ধারণা তুরস্ক প্রত্যাখ্যান করে।

    তুরস্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। গুরলেক আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণ এবং নিপীড়নের শিকার অন্যান্য মানুষের পাশে থাকবে।

  • নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জের ধরে রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ২২নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ২৩নং ওয়ার্ড বন্দরে কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ (২৮) ওই বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার শেখ সিফাত ২১নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বন্দরের বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমানের ছেলে সিয়াম (২৫), বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।

    এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিনকে বাদী করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনসহ (৬০) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে ৬ আগস্ট দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জয়রামপুর কলোনীপাড়ার মৃত রহিম বক্সের ছেলে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনকে ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে জয়রামপুর কলোনীপাড়া এলাকার পাকা সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ছাড়া ২৮ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হুদাপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে মো: ইয়াসিন আলী ওরফে কালুকে (৩৪) ২১ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং একই মামলার আরেক আসামি জয়রামপুর মালিথাপাড়ার মো: বিপ্লবকে (২২) ২০ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো: হাদিছ মোল্লা ও নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মরহুম কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে রডবোঝাই ট্রাক চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই চুরি যাওয়া রড উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করি। পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একইসাথে আন্তঃজেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর বাজারের আয়ান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১২ টন ১০০ কেজি চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা ও চুরি যাওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারদের মধ্যে রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

  • ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

    এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • দেহে কৃত্রিম পরিবর্তন নিষিদ্ধ

    দেহে কৃত্রিম পরিবর্তন নিষিদ্ধ

    আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, ‘অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা তিন: ৪)। এমনইভাবে আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুনিপুণভাবে তার যথাযথ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। বস্তু ও প্রাণিজগতের আকার-আকৃতি, চলন-বলন ও অঙ্গভঙ্গি—সবকিছুই উৎকৃষ্টতার বিচারে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। এ বিষয়গুলো মানুষের সাধারণ বিচার-বিবেচনা ও গবেষণার আয়ত্তের বাইরে থাকায় অনেকেই আল্লাহর এই অসীম ক্ষমতার সমালোচনা করে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মানব ও পশুদেহে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটায়। যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক দৈহিক পরিবর্তন অস্বস্তি ও রোগব্যাধি ছাড়া ভালো কিছু বয়ে আনে না।

    সুরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, শয়তান আল্লাহ তায়ালাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সে মানুষকে প্ররোচিত করে আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটাবে। বর্তমান বিশ্বে এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। অনেকেই শরীরে ট্যাটু আঁকা, প্লাস্টিক সার্জারি ও ট্র্যান্সহিউম্যানিজমসহ নানাভাবে দৈহিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে স্পষ্ট নিষিদ্ধ ও গর্হিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) শরীরে উলকি বা ট্যাটু আঁকতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, ৫৪০৮)সাধারণ মুসলিমদের একটি অংশ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অজান্তেই এমন কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। ফ্যাশনের নামে চেহারা ও শরীরের স্বাভাবিক গঠনকে পরিবর্তন করছেন। আল্লাহ প্রদত্ত সুন্দর মানবদেহে এ ধরনের কৃত্রিম পরিবর্তন শুধু আল্লাহর সৃষ্টির অবমাননাই নয়, বরং তাঁর কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শামিল।

    আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও পার্থিব প্রতিযোগিতার মুখে মানবজাতি আজ সৃষ্টির স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তন করছে। এগুলোর মধ্যে ট্রান্সহিউম্যানিজমের অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষকে অমর করা এবং মানুষের মস্তিষ্কের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করা, যা কেবলই একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। মূলত আল্লাহর সৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি থেকেই মানুষ এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা একজন মুসলিমের জন্য স্পষ্ট নাফরমানি। আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-ইমরানের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদের আকৃতি দান করেন যেভাবে তিনি চান।’ অর্থাৎ, আমাদের দেহের আকৃতি, রঙ ও উচ্চতা—সবকিছুই আল্লাহর প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ। এতে অন্যায়ভাবে পরিবর্তন আনা আল্লাহর সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার শামিল।

    পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা। কিন্তু মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে এসব অবাস্তব প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহে মগ্ন হয়ে ভুলে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অর্পিত দায়িত্ব ও জান্নাতের অনুগ্রহের কথা। পরিশেষে, চিকিৎসাজনিত জরুরি ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে মানবদেহে যেকোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    ইসলামের মূল লক্ষ্য শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে শান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য কখনো কখনো শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাই অনেক সময় দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব পরিহার করে আত্মরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র বা সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৌশলগত দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের আলোকে মুসলিম উম্মাহর সামরিক শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিরোধ

    ইসলাম মুসলমানদের আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জন এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহনের ব্যবস্থা, শরীরচর্চা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রের নাম উল্লেখ না করে শক্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, যা যুগ ও সময়ভেদে পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করে। অতীতে তীর-তলোয়ার ও বর্শা ছিল যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র; পরে বন্দুক ও কামানের যুগ এসেছে আর বর্তমান যুগে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা প্রচলিত।

    সুতরাং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশল আয়ত্ত করা ইসলামি নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রভান্ডারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, গোয়েন্দা দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও এর অপরিহার্য অংশ। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক শক্তি অর্জন অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ববাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদের যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আল-আনফাল : ৬০)

    নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষা

    ইসলামে সামরিক শক্তি অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলোÑ অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা। যদি দুর্বলদের রক্ষা করা না হয়, তাহলে পৃথিবীতে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করবে এবং সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদের যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তারা অত্যাচারিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। তাদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।’ আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিষ্টান সংসার-বিরাগীদের উপাসনা স্থান, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো; যাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী।’ (সুরা আল-হজ : ৩৯-৪০)

    এই আয়াত প্রমাণ করে, সামরিক শক্তি শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং মানবসমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইসলাম শান্তিপ্রিয় অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয়। তবে যখন কোনো শক্তি ইসলাম, মুসলমান বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-মুমতাহিনা : ৮)

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    নবী (সা.) মুসলমানদের যুদ্ধোপকরণ প্রস্তুত করা, তীরন্দাজি শেখা, ঘোড়সওয়ারি অনুশীলন করা এবং সামরিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এসব কাজকে শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং ইবাদত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবু হোসাইন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা একটি তিরের উসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তীর নির্মাতা যে নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করেছে, (জিহাদে) এই তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজি শিক্ষা করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। মুসলিম ব্যক্তির সব ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং নিজ স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। (কারণ) এগুলো হলো উপকারী ও বিধিসম্মত। (তিরমিজি : ১৬৩৭)

    বোঝা যায়, মুসলিম সমাজকে সর্বদা দক্ষ, সক্ষম ও প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক শক্তি অর্জন কোনো আগ্রাসী মনোভাবের প্রতীক নয়; বরং আত্মরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষার একটি অপরিহার্য উপায়। মুসলিম উম্মাহর জন্য সামরিক শক্তি অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চরিত্রগঠন ও নৈতিক নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হওয়াও সমানভাবে জরুরি। তখনই একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত আবাসন প্রতিষ্ঠান চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চীনের একটি আদালত এ রায় দেন। প্রতিষ্ঠানটির পতনের ফলে চীনের অর্থনীতি ও আর্থিক বাজার কেঁপে ওঠার পাঁচ বছর পর এ রায় এল।

    হুই কা ইয়ান একসময় এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। এপ্রিলে তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ সংগ্রহের নামে প্রতারণা, বেআইনিভাবে জনগণের আমানত গ্রহণ, বেআইনিভাবে ঋণদান, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিকিউরিটিজ ইস্যু করা, ঘুষ প্রদানসহ আটটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।

    চীনের একসময়কার প্রধান আবাসন প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ৩০ হাজার কোটি ডলারের দায়–দেনার অধিকাংশ পরিশোধে ব্যর্থ (ডিফল্ট) হয়েছে। তাদের এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নিচের দিকে টেনে রাখা আবাসন খাতের সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থের কী হবে’

    চীনের দক্ষিণের শহর শেনঝেনের আদালতে দেওয়া এই রায়ে হুই কা ইয়ানের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্পের সমাপ্তি ঘটল। তবে এতে এভারগ্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি পাওনাদারদের আশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    এভারগ্র্যান্ডের অবসায়নকারীরা (লিকুইডেটর) এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রয়টার্স ইয়ানের আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে এভারগ্র্যান্ডের খেলাপি হওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছিল। এরপর তাঁকে আর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    আদালত থেকে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, দীর্ঘ হাতাযুক্ত নেভি ব্লু কলার শার্ট পরা ৬৭ বছর বয়সী পাকা চুলের ইয়ান দুই কর্মকর্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আদালত রায় পড়ে শোনাচ্ছেন।

    আদালত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এভারগ্র্যান্ড গ্রুপ, হেংদা রিয়েল এস্টেট এবং হুই কা ইয়ানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও চরম গুরুতর অনিয়ম জড়িত ছিল। এর ফলে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ক্রেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সব সাধারণ নাগরিককেই মাশুল দিতে হয়েছে।’ আরেকজনের মন্তব্য,‘কারাদণ্ড মূলত তাঁকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বাইরে এলে তাঁর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অর্থের কী হবে?’

    ইয়ানের শাস্তির পাশাপাশি আদালত জানিয়েছেন, তাঁরা এভারগ্র্যান্ডকে ৮৮২ কোটি ইউয়ান(১৩১ কোটি ডলার) এবং এর প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান হেংদাকে ৭০০ কোটি ইউয়ান জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে জরিমানা এবং ৬ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইয়ান ছাড়া এভারগ্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ৫৬ ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    ওয়েলথ-ম্যানেজমেন্ট প্রোডাক্টের শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছিল। কারণ, অনেক কম আয়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।

    আকাশ থেকে তোলা ছবিতে চীনের হাইনান প্রদেশের দানঝৌতে চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের নির্মিত ৩৯টি ভবন। ৬ জানুয়ারি, ২০২২, হাইনান প্রদেশ

    বছরের পর বছর ঝুলছে এভারগ্র্যান্ডের অবসায়ন প্রক্রিয়া

    মধ্য হেনান প্রদেশের এক গ্রামে দাদির কাছে বেড়ে ওঠা সাবেক ইস্পাত টেকনিশিয়ান ইয়ান ১৯৯৬ সালে এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। আগ্রাসীভাবে ঋণ নিয়ে বিক্রির দিক থেকে এটিকে চীনের সর্ববৃহৎ আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

    ফোর্বসের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ইয়ানের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ডলার, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

    হংকংয়ের এক আদালত ২০২৪ সালে এভারগ্র্যান্ডকে অবসায়নের (লিকুইডেশন) নির্দেশ দেন এবং হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ গত বছর এটিকে তালিকাচ্যুত করে। এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পতন ত্বরান্বিত হয়।

    অবসায়নকারীদের মতে, অবসায়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাওনাদারদের ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের দাবির বিপরীতে মাত্র ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবসায়নকারীরা ইয়ান ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর অফশোর সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতে লড়াই করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তার পরিশোধ করা ৬০০ কোটি ডলারের লভ্যাংশ ও বেতন উদ্ধার করা যায়।

    ২০২৪ সালে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইয়ানকে ৬৬ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। সিকিউরিটিজ মার্কেট থেকে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল, এভারগ্র্যান্ডের মূল শাখা আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতি করেছিল।

  • কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্ত ওই নারীর নাম চাম্পা আক্তার (৪৮)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রীপ গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি নিহত হালিমার মেয়ে এবং মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।

    পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সিন্দ্রীপ গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মেয়ে চাম্পা আক্তার প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে, পরে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর হয়।

    মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাদী চাম্পার ভূমিকা সন্দেহজনক মনে হয় পিবিআইয়ের। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, প্রতিশোধ নেয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আক্তার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এছাড়া হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত কি-না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার ও নবী হোসেনসহ পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী রূপা দত্ত। এবার মুম্বাইয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেত্রীকে জামিন দিয়েছেন।

    মুম্বাই পুলিশের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ডিম্পল সিঙ্ঘভি নামে এক নারী কোলাবা থানায় চুরির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বাবুলনাথ মন্দির থেকে কোলাবার ব্যস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় তার পার্স চুরি হয়ে যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের হিরা বসানো স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১০ হাজার টাকা নগদ, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল এয়ারপডস এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি।

    অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাবা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দাবি করে, রূপা দত্তকে অভিযোগকারীর পিছু নিতে দেখা যায়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর এস ভোঁসলের আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রূপা দত্তকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।

    তবে রূপা দত্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার।

    এর আগে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে রূপা দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

    বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রূপা দত্ত। জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘সাথী’তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

  • বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এসব হামলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪২টি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৩১ টেরাবাইটের বেশি একাডেমিক তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, হামলাগুলোর কিছু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চালানো হয়েছিল।

    মার্কিন তদন্তকারীরা সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি সাইবার হামলার সঙ্গেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছিল। এসব হামলায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ‘হানজালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কৌশলের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবহন ব্যবস্থায় চালানো একটি সাইবার হামলার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্যাম্বিট সিকিউরিটির গবেষকেরা ওই হামলার জন্য ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করেছেন।

    তাদের দাবি, হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির ই-মেইল, ব্যাকআপ কপি ও অন্যান্য নথিসহ অন্তত ৭০০ গিগাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছিল।

  • জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

    গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মূলত এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।

    ৯টির মধ্যে বনানী থানার মামলায় ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে এই মামলায়ও তার জামিন বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে তার মুক্তির পথ খোলে।

    আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানিয়েছেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক কারাগার থেকে ধানমন্ডির বাসায় যাবেন।

    খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্য মতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) করে। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ৯ আগস্ট আদেশ দেন।

    আপিল বিভাগের আদেশে এ সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তার ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

  • আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

    এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

    মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

  • আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট এবং একজন জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন।

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ–ভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবেই নেওয়া হলো এই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

    যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আইসিসি গঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য নয়।

    আদালতের স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস তার অসম্মতি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি তোমোকো আকানেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    টম বেরেন্ডসেন আরও লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর স্বাধীনভাবে নিজেদের ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থাকা উচিত।’

    আইসিসির শীর্ষ বিচারক তোমোকো আকানে গত ডিসেম্বরেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘সব ধরনের পরিস্থিতি ও মামলায় আদালতের কার্যক্রমকে দ্রুত স্থবির করে দেবে এবং এর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে।’

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ভবনের বাইরের দৃশ্য

    আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অতীতের একটি তদন্ত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জের ধরে গত বছর আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

    এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত প্রায় সব ব্যাংকেরই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) গতকাল একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এর আওতায় তোমোকো আকানে এবং আবদুলায়ে সেয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো গুটিয়ে নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আইসিসির তিন বিচারক। এ পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেন তাঁরা।

    এ ছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দুটি আলাদা মামলায় বলেছে, বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে যেসব সংস্থা কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ তৎপরতা তাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

    মার্কো রুবিও গত মাসে বলেছিলেন, আইসিসির কার্যক্রম ব্যাহত করতে মার্কিন প্রশাসন তাদের চেষ্টা আরও জোরদার করবে। এর অংশ হিসেবে অন্য দেশগুলোকে এ সংস্থা ত্যাগ করতে রাজি করানোর জন্য একটি কূটনৈতিক প্রচারণাও চালানো হবে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে।

    রুবিওর যুক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মাদক বহনের অভিযোগে নৌযানে অভিযান পরিচালনাকারী দল এবং অন্যান্য মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য এ আদালত এক বড় হুমকি।

    অবশ্য ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এ প্রচারণার লক্ষ্য নিজেকে বিচার থেকে বাঁচানো নয়, বরং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের রক্ষা করা।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

    যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এ আদালতের সদস্য ছিল না। কোনো সদস্যরাষ্ট্র যখন নিজের দেশে ঘটে যাওয়া কোনো নৃশংসতার বিচার করতে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হয়, শুধু তখনই আইসিসি সেখানে নিজের এখতিয়ার খাটায়।

    তবে আইসিসির সংবিধিতে এ-ও বলা আছে যে কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে যদি সদস্য নয় এমন কোনো দেশের নাগরিকও নৃশংস অপরাধ করেন, তবে তাঁর বিচার করার ক্ষমতা এ আদালতের রয়েছে।

  • নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে একব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে (৭১) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে জানান, নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে (নাজিম) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বিকেল ৫টার দিকে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে তারা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ তার।

    নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিত ভাবে মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানা-হেচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে উপজেলার সামনে রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ দেওয়ান এবং আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে তার (নাজিম উদ্দিন) মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংক চেকের পাতা চেয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা।

    এ সময় মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এছাড়া তিনটি একশত টাকার স্ট্যাম্প ও দু’টি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন।

    এরপর নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে (নাজিম) উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া একশত টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত দেইনি। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি। এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম দেওয়ানের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

    তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। এসব ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নয়।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুইপক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিন গিয়ে দেখতে পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান চলতি বছরে প্রথমবারের মতো তার বোন নূরিন নিয়াজি ও স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দি ইমরান খানের জন্য প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের এ নির্দেশের পর ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা।

    ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

    ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন নূরিন নিয়াজি এ বছর প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারা প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলা সুযোগ পান। কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের সম্মেলনকক্ষে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    নূরিন তার ভাইকে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের বিষয়েও অবহিত করেন। ওই নির্দেশে ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল।

    তবে সাক্ষাতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, সাক্ষাতের সুযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে ইমরান খানকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

    ইমরানের অন্য দুই বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তার দলের রাজনৈতিক নেতারাও।

    স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    এদিকে মঙ্গলবার কারাগারের একটি সম্মেলন কক্ষে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

    এর আগে বুশরা বিবি তার সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবং তার ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের এই সাক্ষাৎ প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়।

    মুসা ও মুবাশশারা বুশরা বিবির প্রথম স্বামীর ঘরের সন্তান। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি ইমরান খানকে বিয়ে করেন।

    এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল সিকদার রবির (৩৭) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তিন লাখ জরিমানা করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ আদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম। মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ফাঁসির আদেশ শুনে দন্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি বিমর্ষ ছিলেন। রবি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি তিনি। জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    এদিকে, রবিউল সিকদার রবির মৃত্যুদন্ডের রায় শুনে আদালতে উপস্থিত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের কথা বলেন।

    নড়াইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু জানান, মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত ৪ আগস্ট মাত্র ১১ কার্যদিবসে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু। মৃত্যুদন্ডের আদেশে বাদিপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। আশা করছি রায় দ্রুত কার্যকর হবে। এ মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর রবি পালিয়ে গেলেও পরেরদিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই জান্নাতুল মাওয়ার বাবা রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদার রবিকে আসামি করে সদর থানায় মামলার দায়ের করেন।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি রবি একজন দুশ্চরিত্র লম্পট, শিশু ধর্ষণকারী ও খুন জখমকারী। রবি আগে দু’টি বিয়ে করেছিল। চরিত্র খারাপ হওয়ার কারণে তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।

    ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জান্নাতুল মাওয়াকে নিয়ে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসেন বাবা মফিজুর রহমান। বাজার থেকে নুডুলস আনার পর জান্নাতুলের মা লাবনী খানম মেয়ের জন্য নুডুলস রান্না করে খাওয়ার জন্য তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। জান্নাতুল মাওয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার বাবা ও মা আশেপাশে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রবির টিনশেডের বসতঘরের খাটের উপর থেকে জান্নাতুল মাওয়ার অচেতন শরীর দেখতে পান। তার গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ছিল। উদ্ধার করে মাওয়াকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে, রবির ঘরে ঢোকার আগেই জান্নাতুলের বাবা-মার উপস্থিতি টের পেয়ে রবি তার ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

  • শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এতথ্য জানিয়েছেন।

    বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন এমন বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

  • দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুসলিম তরুণীকে বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তনের পর ৮ বছর সংসার করার অভিযোগ উঠেছে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে। দুই সন্তান জন্মের পর ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম। মামলায় অর্জুনের মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন শিপুল। পিবিআইয়ের এসআই মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্জুন ধর হীরা একসময় মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে শিপুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৪ সালে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হীরা মিয়া রাখেন। এরপর শিপুলকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে ২০১৫ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান এবং ২০২২ সালে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।

    বাদীর অভিযোগ, মুসলিম পরিচয়ে থাকাকালে হীরা নামাজ-রোজাও পালন করতেন। তবে বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তার মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে যান তিনি। পরে গোপনে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে শিপুলকে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। মামলায় আরও বলা হয়, প্রতিকারের জন্য ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন শিপুল। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামা ও এফিডেভিট করা হয়। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন ও জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত থাকলেও পরে সেগুলো পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিপুল। শিপুল বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। দুই সন্তানের বাবার পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। অভিযোগের বিষয়ে অর্জুন ধর হীরা বলেন, তিনি অনেক আগেই শিপুলকে তালাক দিয়েছেন। এরপর তিনি কী করবেন, তা শিপুলের জানার বিষয় নয়। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

  • ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

    ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

    স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি।বুধবার

    দুপুরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ডা. দীপু মনির মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আছে যে, উনি দিনের আলোতে সর্বোচ্চ বারো ঘণ্টার জন্য মুক্তি দিতে পারেন। এর বেশি হলে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।’

    দীপু মনির মেয়ের আবেদনের পর আইনি বিষয়গুলো নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

    মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

  • মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আওয়ামীপন্থি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

    আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটিতে আদালত ‘নো অর্ডার’ বা কোনো হস্তক্ষেপ না করার আদেশ দেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

  • শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল কাদির (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার মুলাইদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্দেহভাজন আব্দুল কাদিরের গতিবিধি তল্লাশি করে তার কাছ থেকে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার আব্দুল কাদির শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    মামলায় সাবেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার গাবতলা পাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজিম হোসেন বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    পরে রাতেই শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার দুটি জব্দ করেছে।

    মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ছাত্রলীগ নেতা মো. নাসির উদ্দিন শুভ (৪০), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহিন (২৮), ওবায়দুল হক (২৫), স্বপন গাজী (২৭), মো. রুবায়েত ইসলাম রাহুল (২৭), মো. শরিফুল ইসলাম (৪০), কালাম (৪০), নয়ন আলী (২৩), আকাশ (২২), নাহিদ (২২), মনময় (২৫), ইমন (২২), মো. শাফিন (২৬), ইমন হোসেন ডন (২৭) এবং অপু শেখকে (২৯), আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৪টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত উপজেলা কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবির পাশাপাশি নাসির উদ্দিন শুভর ছবি ছিল।

    বাদীর অভিযোগ, নাসির উদ্দিন শুভর অর্থায়ন এবং শেখ শাহিনের নির্দেশে অন্য আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ব্যানার দুটি টাঙান। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৬নং আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

    কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের ব্যানার টাঙানো, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

  • মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামে নিখোঁজের পর দুই দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের লাশ। এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবারকে অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের প্রকাশ করা ছবি দেখে মর্গে থাকা লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

    শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় সে। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে পরদিন এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। পরে ষোলশহর এলাকায় আসতে বলা হয় পরিবারকে।

    বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, নম্বরটি লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

    অন্যদিকে, শনিবার রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানা পুলিশ লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে।

    পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, দুই দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হলে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ জানায়, শান পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল। সেখানে সবাই পানিতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে শান ভেসে যায়। ভয়ে তার চার বন্ধু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় শানের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, শান বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় গিয়ে পানিতে ভেসে যায়। পরে বন্ধুরা ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

    শানের চাচা গোফরান উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে পরিবার তাকে খুঁজলেও মর্গে থাকা লাশটি যে শানের, সে তথ্য তারা আগে জানতে পারেনি। অপহরণের কথা বলে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

  • পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    রাশিয়ার সুপরিচিত যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিবিদ এবং লিবারেল দল ‘ইয়াব্লোকো’-র উপপ্রধান লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে পস্কোভ শহরের একটি আদালত।

    রুশ সশস্ত্র বাহিনীকে ‘কলঙ্কিত’ করা এবং তাদের সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সি এই নেতাকে এই সাজা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে এই মামলা করা হয়েছিল।

    রায় প্রত্যাখ্যান করে শ্লোসবার্গ জানান, রাজনৈতিক ও নাগরিক অবস্থান বজায় রাখার জন্যই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানান। তার দল ইয়াব্লোকো এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

    এদিকে, এই রায়ের ঠিক আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ইয়াব্লোকো দলের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া একমাত্র নিবন্ধিত দল ছিল এটি।

    বর্তমানে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য সব দলই রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছে। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমলে যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ আইন দিয়ে দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের ভিন্নমত ও বিরোধী স্বর কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

  • ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর ফুলগাজী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইউভি সানগ্লাস ও শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার সকালে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

    ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে সীমান্তে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ, সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পুলিশের ওপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা আপাতত বাঁকুড়া জেলাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

    পাশাপাশি রাঙ্কা পুরো ঘটনার একটি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিহত ব্যক্তির স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সিজেপির কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ গত সপ্তাহান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় রাজ্যে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে নদীয়া জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ৫৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    পরিবারের অভিযোগ, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত। গত রোববার এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক এই সময়ই অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তাণ্ডব চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেন।

    এই চারটি মৃত্যুর জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই এসব খুনের দায় এড়াতে পারে না; কারণ, তারা রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সরকারকে খুব একটা কোণঠাসা করতে পারেনি। কারণ, প্রধান বিরোধী মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    এ ছাড়া বাকি তিন বিরোধী অর্থাৎ সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রতপন্থী অংশ এখনো ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিজেপির ওপর চাপ খুব একটা বাড়েনি। তবে পরপর এতগুলো খুন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    বাঁকুড়ার ঘটনা

    পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় কথা বলছেন সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্ক

    ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে এসে পৌঁছান এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যাওয়া মোহাম্মদ মাফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।

    দুদিন আগে নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে পেটানোর পর মাফিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের আসার ও এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামার কারণ, নিহত মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির সদস্য। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

    রাঙ্কা জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি ধারায় কঠোর সাজা দিতে হবে এবং ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালত-পর্যবেক্ষিত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির পাশে সঠিকভাবে দাঁড়ায়নি।

    নিহত মাফিকের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন।

    হাফিজের কথায়, শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ ধরনের স্কুল তৈরি হওয়াই হবে তাঁর বাবার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি নেতা রাঙ্কা ঘোষণা করেন, তাঁরা হাফিজকে আর্থিক সহায়তা দেবেন এবং রাজ্যজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন গড়ে তুলবেন, একই সঙ্গে সময়সীমার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন।

    নদীয়া জেলার ঘটনা

    এরই মধ্যে নদীয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেত্রীসহ তিনজনকে শারীরিক পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চায়। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কংগ্রেসের নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে নিয়ে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

    তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর নিশ্চিত করেছেন।

    তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তড়িঘড়ি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

  • হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলো। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি দাবি করেছিলেন, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন ‘উদ্বেগজনক’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলভি বলেন, তিনি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ইমরানের মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ইমরানের উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মাত্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়।

    ইমরানের ঘুমের সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান আলভি। তবে তিনি যে ওষুধগুলো সেবন করছেন, সেগুলো দেখে ঘুমের সমস্যার বিষয়টি বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আরিফ আলভি বলেন, তিনি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে চেনেন।

    তার মতে, ইমরানের দুর্বলতার জায়গা কখনোই মানসিক চাপ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছরের কারাবাস ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার কারণে তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, এটি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন আলভি।

    ইমরানের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৫৪ বার বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসকেরা এটিকে স্বাভাবিক বললেও ইমরানের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ইমরানের হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন আলভি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত তার রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানান তিনি।

    আলভি আরো বলেন, ইমরান খানকে এখনই হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে স্বাধীন একটি চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। সরকারি নিয়োগ করা চিকিৎসকদের ওপর ইমরানের পরিবার ও পাকিস্তানের জনগণের এককভাবে আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে না পারা এবং তার কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের গত ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

  • কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    মো. খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮ দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর পাংশায় নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে তিনটি জুয়েলারি ও একটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাট বনগ্রাম বাজারের রফিক উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    দোকান মালিক ও স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কালু ও জাকির নামে দুই নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তারা দোকানগুলোর তালা কেটে স্বর্ণ, রুপা, নাকফুল ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    দোকান মালিকদের দাবি, চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে। এর মধ্যে গ্যারান্টি জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, সুস্মিতা জুয়েলার্স থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার এবং লক্ষী জুয়েলার্স থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপা লুট হয়েছে। এছাড়া রাহুল ফার্মেসি থেকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের ওপর মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে; তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।’আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না; ফলে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।

  • জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

    এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

    তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।

    এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।

    এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

    তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

    নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি।

    আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।

    এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা ৪টি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা।

    গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

  • জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

    এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

  • শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার বিবরণ ও রায়ের নথি থেকে জানা যায়, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ও এক হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।

    আদালত সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

  • ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের চুপ করানো বা ভয় দেখানো যাবে না। আমরা উন্নত স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপি আব্দুল ও তার পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সিজেপি দল বাংলায় যাবে এবং নিশ্চিত করবে যে আব্দুল ও তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আব্দুলের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। তার বাবা বিজেপির গুন্ডাদের হাতে মারা গেছেন। তার অপরাধ কী ছিল? সে তার স্থানীয় সরকারি স্কুলের একটি সামাজিক নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল। আব্দুল, পুরো সিজেপি পরিবার তোমার সাথে আছে। ওই গুন্ডাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না!’

    সিজেপির আরো অভিযোগ, হামলার পর কোনো মেডিকো-লিগ্যাল মামলা শুরু করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো এফআইআরও দায়ের করা হয়নি। তারা মফিকের মৃত্যুর কারণ, হামলার ঘটনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথিত ব্যর্থতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    এ ঘটনায় ইন্দাস থানাকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাফিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে হাফিজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে।

    সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি স্কুল পরিদর্শন করার পর ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আবদুল হাফিজের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার বাবা মফিক। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    সিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাকুড়া জেলার করিসুন্দা এলাকায় নিজের গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে গিয়ে অবকাঠামোর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন হাফিজ। সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোর করে হাফিজের বাসভবনে প্রবেশ করে।

    বিবৃতি অনুসারে, হাসপাতাল থেকে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে হাফিজ অভিযোগ করেছেন যে, একজন স্কুল শিক্ষক তার পৌর পরিদর্শনের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের জানিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী হামলাটি ঘটে।

    পরে হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং বাইরের প্ররোচনায় তিনি এসব করেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করতে চাপ দেন। হাফিজ এতে রাজি না হলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। এতে হাফিজের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা মফিক মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

    হামলার পর হাফিজ হাসপাতাল থেকে তার আঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বাবা পরে ১৫ আগস্ট আঘাতজনিত কারণে মারা যান।

  • আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. নূরুল করিম। রোববার রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নূরুল করিম ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি লেখেন, আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই। অতএব, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।

    এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, নূরুল করিম ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কিছু তথ্য ও ছবি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পরে আমি তাকে ডেকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বিষয়গুলো অস্বীকার করেননি এবং এএজি পদে না থাকার বিষয়ে আমাকে জানান।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, নূরুল করিম রাষ্ট্রপতি বরাবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং সেটি তার কার্যালয়েও গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট। রোববার দুপুরের তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় জেনারেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। ‘দফা এক, দাবি এক—অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ’ স্লোগানে রোববার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা ডিএজি ও এএজি নিয়োগে অনিয়ম ও কথিত নিয়োগ-বাণিজ্যের তদন্ত, ফোরামের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

    বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ চাই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন না। কিন্তু এখন তিনি ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তাদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।’
    তিনি আরও বলেন, ‘রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকার সব ধরনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে’—এমন অভিযোগ করে তিনি এর তদন্ত দাবি করেন।

    শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আজকের এই সভা থেকে আমরা রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবীরা বলেন, ‘‘তারা ‘ফ্যাসিস্ট, গুপ্ত, সুপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় চান।’’ এ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

    ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এ সংক্রান্ত বিশেষ শুনানি নিয়ে রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।

    এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯জন আসামিকে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, গ্রেফতার হওয়া আরও দুই আসামিসহ ১১জনকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    এর আগে গত ২৭ জুলাই এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে ওইদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয়েছে।

    শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে এক সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি-সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।

    এ ছাড়া সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য যে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

    হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা ভারতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে হাদী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

  • হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে যে অনুরোধ জানিয়েছে, সেটি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। ভারতের আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

    আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধকে ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের দাবি, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন। তাদের ভাষ্য, ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

    শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই রায়কে বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

    তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সুযোগ না রাখার বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন কেবল দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    • দেশের জনসংখ্যার তুলনায় লাখ মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।
    • বর্তমানে বিচারক ২ হাজার ২৩৭ জন, বিচারকাজে থাকেন ১ হাজার ৮৩৭ জন।
    • বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার করার পক্ষে মত আইনজীবী-বিচারকদের।
    • ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

    সারা দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে বিচারক আছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে প্রেষণ, মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানা কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয় সারা বছর। তাতে আদালতের বিচারকাজ করছেন ১ হাজার ৮৩৭ বিচারক। সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যার তুলনায় গড়ে এক লাখের বেশি মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।

    সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। এগুলোর মধ্যে সারা দেশের জেলা আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মামলা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ১২১টি মামলা। দেড় যুগে মামলা বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ। তবে জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি বিচারকের সংখ্যা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

    আইন কমিশন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৫ সালে করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অধস্তন আদালতের জন্য বিচারকের সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল; তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি ১১ বছরেও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যাও অপ্রতুল। তাই মামলাজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারকেরা।

    জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বর্তমানে মামলার যে জট, তা নিষ্পত্তি করতে অধস্তন আদালতে অন্তত ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়ক জনবল, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম এবং এজলাস। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেও জোর দিতে হবে। তাহলেই মামলাজট কমবে বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের নানা সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনকে দেওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক একজন। ডেনমার্কে ১৫ হাজারের বিপরীতে ১ জন, জাপানে ৫৭ হাজারের জন্য ১ জন, পাকিস্তানে ৫০ হাজারের জন্য ১ জন এবং ভারতে ৪৭ হাজারের বিপরীতে ১ জন বিচারক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

    জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় ৪০০ বিচারককে নানা কারণে বিচারকাজের বাইরে থাকতে হয়। আর একজন বিচারকের বিপরীতে ৫০০ মামলা থাকলে সহজে নিষ্পত্তি করা যায়। বর্তমানে গড়ে ৩ হাজারের বেশি মামলা। এ কারণে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

    মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার হওয়া উচিত। শুধু বিচারক বাড়ালেই মামলাজট শিগগির কমবে না; এর সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আগে প্রি-মেডিয়েশন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    বিচারক সংকটের কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একজনকে অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা সিভিল আপিল, সিভিল রিভিশন, ক্রিমিনাল আপিল, ক্রিমিনাল রিভিশন, ক্রিমিনাল মিস, দুদক, আরবিট্রেশন, মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা, সাধারণ দায়রা মামলা, মোবাইল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া কার্যধারার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদনের নিষ্পত্তি করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের পৃথক কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁরা জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমান ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তবে তাঁদের দায়িত্ব জেলা জজ নির্ধারণ করে দেন।

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা ২৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে সব ধরনের দেওয়ানি মামলা, সিভিল আপিল, মাদক, ১০ বছর পর্যন্ত সাজার সব মামলা, বিশেষ আদালতে ১০ বছরের বেশি সাজার মামলা, এনআই অ্যাক্ট, অর্থঋণ, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আরও কিছু মামলার শুনানি করেন। আর সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতের বিচারকেরা প্রায় ২৫ ধরনের মামলার শুনানি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক, বর্তমানে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যা ও মামলার অনুপাতে অপর্যাপ্ত। এ কারণে একজন বিচারককে প্রতিদিন অনেক বেশি মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করতে হয়। ফলে গুণগত মানসম্পন্ন বিচার নিশ্চিত করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে।

    মাজহারুল হক বলেন, সেই সঙ্গে বিচারসংশ্লিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারক, দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

  • ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, পবন ও রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ভেড়ামারা থানা ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

    কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

    মামলার বিবরণী অনুসারে, রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

    গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

    গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পর দিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

    গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

    এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

    জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

    এরপর রামিসা হত্যায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। তারপর দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।

  • হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা মডেল মসজিদ পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপা থানার ওসির নেতৃত্বে রাতে নায়েব আলীর আরাপপুরের বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    তবে অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপিকে আটক করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

    ময়মনসিংহে কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
    সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’

    নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

    নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

    র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।