অপরাধ ও বিচার

  • ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    দুর্নীতির অভিযোগে কর্ণাটকের এক মন্ত্রী পদত্যাগ করার মাত্র দুই দিন পরই বিরোধী দল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা থেকে আরও একজনের পদত্যাগ দাবি করেছে। দলটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলাম ধর্মকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্যের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চান, অথবা পদত্যাগ করুন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুর শহরে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও অত্যন্ত মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়।

    তবে এরপর তিনি যে মন্তব্য করেন, তা নিয়ে বিজেপির তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা এটি নিয়ে ভুল ধারণা করেন এবং ভুল মতামত তৈরি করেন। আমি বলতে চাই, ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি মানবতা দিয়ে শুরু হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, কোরআনের বিষয়ে বলছি, আব্রাহামিক (ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম) ধর্মগুলো নিয়ে আমি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করিনি। আর আমি নিয়মিত মন্দির বা মঠে যাই না। তবে আমি ধর্ম এবং বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করি। এ কারণেই আমি আব্রাহামিক ধর্মগুলোর দিকে তাকাই।’

    রায়ারেড্ডির এই মন্তব্যের পর কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীর মন্তব্য হিন্দুধর্মকে হেয় করেছে। ডি কে শিবকুমারের নিয়মিত মন্দিরে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন আর অশোক।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অশোক লেখেন, ‘ডি কে শিবকুমার, আপনাদের কংগ্রেস সরকারের এই হিন্দুবিরোধী মানসিকতার কি কোনো শেষ নেই? আপনি ভোরবেলা মন্দিরে যাওয়ার নাটক করেন, ক্যামেরার সামনে ভক্তি প্রদর্শন করেন। কিন্তু আপনার নিজের মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী যখন সনাতন হিন্দু ধর্ম ও মন্দির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তখন আপনি কেন নীরব থাকেন?’

    তিনি বলেন, বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ক্ষমা না চাইলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই দাবি এমন সময়ে এলো, যখন দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপির লাগাতার আক্রমণের মুখে মন্ত্রী বি নাগেন্দ্র দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করেছেন। রায়ারেড্ডির মন্তব্যের দুই দিন আগেই নাগেন্দ্র পদত্যাগ করেন।

    বিজেপি নেতা আর অশোক বলেন, ‘উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ভালোভাবে শুনুন। ‘আমি মঠ বা মন্দিরে যাই না’—বলে তিনি রাজ্যের কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। আবার ‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ ধরনের মন্তব্য করে তিনি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার—প্রথমে বাসবরাজ রায়ারেড্ডিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং রাজ্যের সব হিন্দুর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি তা করতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে শিবকুমারকে মন্ত্রিসভা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে কন্নড়ভূমির কোটি কোটি হিন্দুর কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে: আপনার মন্দিরে যাওয়া ভক্তির জন্য নয়; হিন্দু ধর্মের প্রতি সম্মান থেকেও আপনার কথাগুলো বলা হয় না; সবকিছুই শুধু ভোটের জন্য, লোক দেখানোর জন্য।’

    বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়া অভিযোগ করেন, মন্ত্রী এবং কংগ্রেস সরকার ‘ভোটারদের তুষ্ট করার’ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘বাসবরাজ রায়ারেড্ডি তাঁর ভোটারদের তুষ্ট করতে গিয়ে মনে হচ্ছে সপ্তম শতাব্দীতেই আটকে আছেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, তারপর সিদ্ধান্তে আসুন। আপনি কোনো বিশেষজ্ঞ নন, দয়া করে এটি মনে রাখবেন।’

    বাসবরাজ রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি মন্ত্রী হন।

  • নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ২০০-এর বেশি স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি জেলায় অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৯টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭টি স্কুল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    এছাড়াও বন্যায় প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পানির স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    প্রলয়ংকারী এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। এই দুই জেলার কয়েকটি স্কুল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বা মাটির নিচে চাপা পড়েছে। এসব স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত।

    একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির স্রোতে তাদের এক শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি বাসও ভেসে গেছে।

    বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ভিজুয়াল জার্নালিজম বিভাগ স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করেছে।

    এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এ পর্যন্ত সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

    অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে আগে জানিয়েছিল নেপাল। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে দেশটি।

  • শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হলেও ওইদিন রায় ঘোষণা না করে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

    আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

    যেভাবে ঘটে নির্মম ঘটনা
    মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি।

    অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

    ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

    মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

    পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—কে খালাস দেন আদালত।

    হাইকোর্টে আসে ডেথ রেফারেন্স

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরবর্তী সময়ে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপার বুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।

  • মুম্বই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির সোনা পাচার, তিন বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬

    মুম্বই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির সোনা পাচার, তিন বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬

    মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১১ কোটি রুপি মূল্যের ৭ কেজি সোনা পাচারের অভিযোগে তিন বাংলাদেশিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিআরআই)।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের এক কর্মীও রয়েছেন। ডিআরআই জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুনাফ মাশরাফ জমাদার (২৩) নামে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি বিমানবন্দরের বাইরে একজন ব্যক্তির কাছে পাচার করা সোনা পৌঁছে দিতেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    এতে আরও বলা হয়, তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে মোমের ভিতর থেকে সোনার গুঁড়ার সাতটি ডিম আকৃতির ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মুনাফ জানান, বিমানবন্দরের বাইরে এক ব্যক্তির কাছে এসব সোনা পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে তার আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।

    পরে মুনাফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সোনা সরবরাহ করা পাঁচ যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আবু নাসর, মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন নামে ৩ বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে ডিআরআই। এছাড়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মোহাম্মদ হোসেন নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


    সব মিলিয়ে অভিযানে ১৬টি বলের মতো আকৃতির প্যাকেটে প্রায় ৭ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এর মূল্য প্রায় ১১ কোটি রুপি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনজীবী বীরেন্দ্র সিং ও আফতাব কুরেশি। তারা আদালতে দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং দারিদ্র্যের কারণে তারা এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরে আদালত ছয় আসামিকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় হন্যে হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন নেপালিরা। চলতি সপ্তাহের বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে। প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় তারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    বন্যার কারণ সম্পর্কে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানান, এটি একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে নিচে নেমে আসে এবং খাড়া ঢাল বেয়ে নামার সময় প্রচুর পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানান, বন্যার জলের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন করে কোনো পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দিতে হবে। তবে এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে যা করা সম্ভব, তা হলো মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং অপেক্ষা করা।

    বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল তিনটি হ্রদের একটিতে ভাঙন তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, হ্রদগুলোর দায় মুখ্য নয়। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি উত্তরের হিমবাহ ধসে পড়েছিল।

    তবে বন্যাকবলিতদের কাছে বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি বলেন, তারা আমাদের স্বজন হোক বা না হোক, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচাতে হবে। আমাদের স্বজন না হলেও অন্যদের বন্ধুদের রক্ষা করা হোক। তিনি আরও জানান, তার কেবল একজন ভাই নিখোঁজ, তবে অন্য সকল নেপালিও তাদের ভাই।

  • ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ধান রোপণের মৌসুমকে ঘিরে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট। স্থানীয় ভাষায় ‘জালা’ নামে পরিচিত ধানের চারা বিক্রি ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠছে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ছিলাপাঞ্জা এলাকা। শুধু বানিয়াচং নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ধানের চারা নিয়ে ছুটে আসছেন এই হাটে। সকাল হতেই বিভিন্ন জাতের সবুজ ধানের চারা নিয়ে বসে পড়েন বিক্রেতারা। অন্যদিকে জমিতে রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। ফলে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে ছিলাপাঞ্জা। সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধানের চারা। কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী চারা গুনে দিচ্ছেন। আবার কেউ দরদাম করছেন। চারা বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখেই দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। চারা বিক্রেতা কৃষক তাহের মিয়া বলেন, ধানের চারা তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এখন হাটে এসে ভালোভাবে বিক্রি করতে পারছি। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। লাখাই থেকে আসা আরেক বিক্রেতা বাদ উললাহ মিয়া বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা চারা কিনতে আসেন। এবার বিক্রি বেশ ভালো। সকালে চারা নিয়ে আসার পর বিকেল হওয়ার আগেই অনেক সময় প্রায় সব চারা বিক্রি হয়ে যায়। চারা কিনতে আসা কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, সব কৃষকের পক্ষে নিজের জমিতে চারা তৈরি করা সম্ভব হয় না। আবার সময়মতো চারা তৈরি করতে না পারলেও সমস্যা হয়। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে আসেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো চারা বেছে কিনে নেওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধানের চারা বিক্রির এই হাট একদিকে যেমন আমন মৌসুমে চাষিদের চারা সংগ্রহের সংকট দূর করছে, অন্যদিকে চারা উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। ফলে মৌসুমি কৃষিভিত্তিক এই বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা জানান, ভালো মানের ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করতে পারলে চাহিদা থাকে বেশি। এ কারণে অনেক কৃষক এখন ধানের চারা উৎপাদনকেও বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। প্রতিদিনের এই ‘জালার হাট’ যেন গ্রামীণ কৃষিজীবনের এক ব্যতিক্রমী চিত্র। সবুজ ধানের চারা, কৃষকদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রাণ ফিরে পায় ছিলাপাঞ্জা এলাকা। ধানের মৌসুমজুড়ে এমন জমজমাট বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

  • ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত বাসের ভেতর ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে নিয়ে ফেলে দেয়া হয় বাস থেকে। এ অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত দু’জনই দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেসরকারি পরিবহন সংস্থা বিশ্বনাথ ট্রাভেলসের হয়ে কাজ করছিল বলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের আলোচিত নির্ভয়া মামলার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকা এই ঘটনাটি ঘটে ৪ঠা আগস্ট। তবে তা নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে সবেমাত্র।

    ঘটনার দিন কিশোরীটি নয়ডার সেক্টর ৬৩ যাওয়ার জন্য একটি ফাঁকা বাসে ওঠে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, বাসটির চালক ৩৯ বছর বয়সী কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর ২৬ বছর বয়সী সন্দীপকে একই দিন উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী থেকে নয়ডার উদ্দেশে যাত্রা করা কিশোরীকে কথিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেখানেই তারা অবস্থান করছিল।

    পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগে ওই কিশোরী জানিয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকাঝকার পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সে নয়ডায় তার এক চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়। ভারী বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে সে নয়ডার প্যারী চকে নেমে বুঝতে পারে, তার গন্তব্য তখনো অনেক দূরে। তখন রাত প্রায় ৯টা। বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভিজে যাওয়া এবং একা থাকা কিশোরীটির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি তখনো প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। এ সময় একটি বাস তার কাছে এসে থামে।

    বাসটিতে দূরপাল্লার যাত্রার জন্য শোয়ার আসন বা বার্থ ছিল। তবে বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, কন্ডাক্টর তাকে বলে, তারাও নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর কিশোরীটি বাসে ওঠে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সূরজপুরের একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল।

    অভিযোগে কিশোরীটি জানিয়েছে, বাসটি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করে এবং তাকে যৌন নির্যাতন করে। সে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় ফেলে যায়। পরে কিশোরীটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। এর পরপরই অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ‘স্লিপার’ বাসটির বার্থগুলো পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। অভিযুক্তরা এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ফরেনসিক দলের সদস্যরা বাসটির ভেতর কিশোরীর চুলের নমুনা পেয়েছেন। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া বাসটি যে পথে চলেছিল, সেই পথের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও চুক্তির আওতাধীন দেশ তিনটি আলোচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব—এই তিনটি দেশ চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

    মূলত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পটভূমিতে এই প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়েছে।

    জোটের প্রথম বৈঠক আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দেবেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো গতকাল রোববার এই তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রগুলো জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ আজ বৈঠকে বসছে।

    কারা অংশ নিচ্ছেন

    তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লুর বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে আরও থাকবেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা এরই মধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছেন।

    সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।

    কী নিয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আজকের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম থাকবে। সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ তৎপরতা আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে থাকছে।

    কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি যৌথভাবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যেসব ক্ষেত্রে কাজের সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরিচালনায় একটি সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাঠামোর রূপরেখা আজকের বৈঠকে ঠিক করা হতে পারে।

    জোটের পক্ষ থেকে আগামী সময়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব।

    এই জোটে যুক্ত হতে এরই মধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ঝুঁকি দেখছে না।

  • রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    ছাপাখানাটির দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ভিক্টোরিয়া হাইদাই। নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে সেখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলার কথা ছিল। কিন্তু এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ছাপাখানা। হামলার সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য পুরোদমে ১৩ লাখ বই ছাপার কাজ চলছিল। এই সংখ্যাটি ইউক্রেনের স্কুলগুলোর মোট পাঠ্যবইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ।

    ছাপাখানার ধ্বংসস্তূপের ছাইয়ের মধ্যে পড়ে ছিল ইংরেজি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের পোড়া পৃষ্ঠা। সেখানে লেখা, ‘আমার নাম উইলিয়াম। আমার বাড়ি যুক্তরাজ্যে। আমার দাদি নটিংহামে থাকেন। এটি একটি সুন্দর শহর।’

    সম্প্রতি ইউক্রেনজুড়ে ছাপাখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এসব হামলায় ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইউক্রেনে ছাপা হওয়া মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে রাশিয়া।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় কোনো কিছুই আর উদ্ধারযোগ্য নেই। আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া বইয়ের পাতাগুলোও অগ্নিনির্বাপণের পানি কিংবা খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

    প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কনভির বাণিজ্যিক পরিচালক হাইদাই বলেন, ‘রাশিয়া ইচ্ছা করেই এসব করছে বলে আমি মনে করি। গত দুই মাসে সবচেয়ে বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকেন্দ্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এসব সরবরাহকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক বই মজুত ছিল।’

    হাইদাই বলেন, ‘ইউক্রেন জাতিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। তাই ছাপাখানাগুলো ধ্বংস করছে তারা। তবে সত্যি বলতে, তারা সফল হবে না।’

    গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। শুধু নতুন বই-ই হামলার লক্ষ্য হয়নি, কিয়েভের পুরোনো বইয়ের বাজারেও হামলা হয়েছে। এতে শত শত বিক্রয়কেন্দ্র এবং অসংখ্য মূল্যবান বই ধ্বংস হয়েছে।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শেষ করার আগেই ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কিছু বই উদ্ধারের শেষ চেষ্টা করছিলেন। তাঁর হাতে ছিল ভিজে যাওয়া একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

    লিলিয়া বলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে আমাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলার মতো।’

    ইউক্রেনের বিভিন্ন জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, ফিল্ম স্টুডিও, গ্রন্থাগার এবং অপেরা হাউসগুলোও যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’

    তেতিয়ানা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প ও সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শিশুদের পড়াশোনা সচল রাখতে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পুরো প্রকাশনাশিল্পই চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং এই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবিসির কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য উল্টো দেশটির সরকারকেই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেন নিজেরাই নিজেদের পুরোনো স্মৃতিস্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলছে এবং রাস্তাঘাটের নাম বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার জন্য এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার করছে।

    ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।

    https://4e5226d18b81482d9807891d30959302.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html
  • যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে প্রবল বৃষ্টির পর বন্যার পানি নেমে আসায় পার্কের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বন্যার পর জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বন্যার পর গিরিখাতের গভীর এলাকা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছে। নদীতে ধাতব কাঠামো ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ চলে আসায় কলোরাডো নদীতে নৌযান চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ক্যান্টিন ও কেবিন এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের একটি বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ওই এলাকায় শনিবার অবস্থান করা হাইকার, ব্যাকপ্যাকার এবং ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার জন্য আগাম বুকিং করা ব্যক্তিরা রয়েছেন কি না, তা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা জাস্টিন জোহনড্রো জানান, মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটে ওই এলাকায় আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। খাড়া ও পাথুরে ভূপ্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক নর্থ রিম থেকে কলোরাডো নদীর দিকে প্রায় ৬ হাজার ফুট নিচে নেমে গেছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

    গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। দুর্গম উপত্যকা, খাড়া পাহাড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কারণে সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত সতর্ক থাকতে হয়। এবারের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক সংঘর্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

    মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন ইরানি উৎক্ষেপণযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লারাক দ্বীপে ইরানি বাহিনী সমুদ্রের নিচে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত এবং ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বার্থের কথা বলে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার দাবি করছে।

    সাম্প্রতিক হামলার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে ইরান প্রণালির ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সমুদ্রপথের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    মৃত্যুপুরী গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১৮ জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও কয়েকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে পৌঁছেছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলা ও অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। গবেষণাটি ৩১৭টি ঘটনার নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে।

    এ ছাড়া ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে রয়েছে। ফলে গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজার আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, অবকাঠামো ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও গাজায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

  • সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।’

    ‘তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।’

    তিনি বলেন, এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান আটজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    ডিবি, র‌্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২৭ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ফের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য় করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    ইসরাইলি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, তারা হামলা করতে থাকবে। মার্কিন চুক্তি ইরানের ওপর হামলা থামাতে পারবে না।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    এলি কোহেন বলেন, ‘যদি ইরান ভুল করে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তিও হয়, আমরা হামলা করতে থাকব।’

  • দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

    রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ পেয়েছে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    দুদকের নথি অনুযায়ী, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

    জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান শফিউদ্দিন আহমেদ। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

  • ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। দেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এই শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, সোলার প্যানেলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, হালাল ফুড খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। খুব দ্রুতই এই সকল প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ শ্রমিক তারা নেবে। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে।

    বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো: শহিদুল হাসান।

    পরে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তা আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের রেজিস্টার্ড শ্রমিক মালয়েশিয়াতে রয়েছে প্রায় আট লাখের মতো। আনরেজিস্টার্ড কিছু রয়েছে। সেগুলো যাতে রেজিস্টার্ড হয়- এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করে।

    মালয়েশিয়ারও প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আমাদের দেশের ঢাকা মেডিক্যাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যালসহ বিভিন্ন মেডিক্যালে পড়াশোনা করে।

    রাজধানীর সড়কে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মূল সড়কে ই-রিকশা আমরা চলতে দেবো না। আটটি জোন করে তাদেরকে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে চলতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটি তিনটি ভাগে ভাগ থাকবে। আমরা ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেবো তার যাত্রী সংখ্যা হবে দুই এবং চার। ছয়জনের কোনো ভেহিক্যালকে, মানে ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলেছি। দুই, চার, ছয়ের রেজিস্ট্রেশন পাবে গ্রামীণ এলাকায়, জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য তারা পাবে। সেটা অবশ্যই বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী যারা তৈরি করবে, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে।’

    নীতিমালা কবে নাগাদ প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। ভেটিংয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই বা পরের সপ্তাহেই, যত দ্রুত সম্ভব এটা দিয়ে দেবো। আইনের আলোকে এই নীতিমালাটা দিলেই ই-রিকশাগুলো, ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়কে যে রাবার কার্পেটিং হয় সেই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে পলিমার মডিফাই বিটুমিন মানে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়শিয়া রাজি হয়েছে। এটা সাধারণত রোড কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। আপনারা জানেন যে মালয়েশিয়ার রাস্তাগুলো- ওখানে কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু তাদের কার্পেটিংয়ের রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। তারা কার্পেটিংয়ের সাথে রাবারটা ইউজ করে।

  • জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন পুলিশ।

    রোববার দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয় শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

    এ মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও উল্লেখযোগ আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিদেশ থেকে দেওয়া বার্তার মাধ্যমে অন্য আসামিদের অংশগ্রহণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়।

    অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, তৎকালীন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও র‍্যাবের কর্মকর্তারা আন্দোলন দমনে অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশে ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের গত ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নেন জিসান। ওই দিন আন্দোলন কারীদের পানি পান করাচ্ছিলেন জিসান। এ সময় আসামিদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধে অংশগ্রহণের’ জন্য জাপানের জনগণের উচিত তাদের সরকারকে জবাবদিহি করা। খবর আলজাজিরার।

    বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আরাগচি বলেন, “এই দেশে অবস্থিত স্থাপনাগুলো ব্যবহারের জন্য জাপান সরকার দায়ী।”

    জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আরাগচি জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে জাপানের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

  • এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

    আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

    ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

    ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

    এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

  • ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    নেত্রকোনার মদনে সরকার ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতেই শিক্ষার্থীদের মাঝে এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।

  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়; কী অবস্থায় আছে, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল —এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলব, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

    সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব—আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

    শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন, যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে, সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

    অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে আজ চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

    এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত দৃষ্টিশক্তিহীন যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমসহ অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

    নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং ‘বিএনপি আমার পরিবার’-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দাখিল

    মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দাখিল

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে হেস্টিংস থানায়।

    আদালতের নির্দেশ অবমাননাসহ পুলিশের কাজে বাধা এবং আদালতের নির্ধারিত সময়ের পরেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। মমতা ছাড়াও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর করা হয়েছে।

    শুক্রবার কলকাতায় ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর আয়োজন করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, রাস্তার উত্তরমুখী লেন খোলা রেখে অনুষ্ঠান করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উভয় দিকের লেনই বন্ধ হয়ে যায়।

    পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিরও অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশ ছিল, বিকেল ৩টা পর্যন্ত সভা করা যাবে। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কর্মসূচি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মমতা এবং অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • অভিষেকের দপ্তরের বিলবোর্ড খুলে ফেলা হলো, হাইকোর্টে তৃণমূল

    অভিষেকের দপ্তরের বিলবোর্ড খুলে ফেলা হলো, হাইকোর্টে তৃণমূল

    কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ড খোলার ঘটনায় হাইকোর্টে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে আদালতের কাছে আরজি নিয়ে যান তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। এ ঘটনায় মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারক রাজা বসুচৌধুরী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় দপ্তরের ছাদে থাকা বিশাল একটি সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যান। পৌরসভার কর্মকর্তাদের দাবি, সাইনবোর্ডটি বেআইনিভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, পৌরসভার কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে জোর করে দপ্তরের ছাদে উঠে সাইনবোর্ডটি খুলে ভাঙচুর করে নিয়ে যান।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরটি ক্যামাক স্ট্রিটের একটি ভবনের সপ্তম তলায়। গতকাল বিকেলে সাইনবোর্ড খোলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বাধা দিলেও পৌরসভার কর্মকর্তা ও পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

    ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘পুলিশ বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছে?’ তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের দপ্তরে বেআইনিভাবে ঢুকে পুলিশ ও পৌরসভার কর্মকর্তারা সেখানে ‘অত্যাচার’ চালিয়েছেন। সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার পর অবশ্য অভিষেকের দপ্তরের নামে নতুন করে একটি ব্যানার লাগানো হয়েছে।

    তবে তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিষেক তাঁদের সঙ্গে ‘গুন্ডামি’ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুকান্ত বলেন, ‘এখন ওরা ভয় পেয়ে গেছে।’

    ঘটনার সমালোচনা করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দপ্তরে এভাবে অভিযান চালানো যায় না। তাঁর মতে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এভাবে পরিস্থিতি তৈরি করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ঝগড়া ঝগড়া ভাব’ করে আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট প্রকট হয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের ভেতরে ভাঙন ও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। দলের একাংশের বিধায়কেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। এর নেতৃত্বে আছেন দলটির সাবেক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক দলীয় দপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার সময় সঙ্গীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায

    লোকসভাতেও তৃণমূলের ভেতরে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পৃথকভাবে বসছেন। তাঁদের নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে লোকসভার স্পিকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।

    এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২), এফ রহমান রুপক (৪৮)। এসময় মো: পিন্টু (৪৮) নামের অপর একজন পালিয়ে যান।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতাররা সাভারের চাঁপাইন এলাকায় কখনো নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার আবারো তারা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

    সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: আব্বাস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হিজলী বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। দিনব্যাপী অভিযানে ভারতীয় ৫০ বোতল এসকাফ সিরাপ (নেশাজাতীয়), ৫৮টি শাড়ি, ৫৭টি চকলেট, ৩৬ কেজি ফুচকা, ১ কেজি জিরা, ০.৫ কেজি কিসমিস, ৫ প্যাকেট সনপাপড়ি এবং ৩৫২টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।

    যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতাও চোরাচালান দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

  • মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে বস্তি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এ আদেশ দেওয়া হয়। বস্তির ৭০০ পরিবারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য সাবেক দিল্লি জেলা জজ মন মোহন শর্মার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের এই কমিটি বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে। কমিটির কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাস।

    আদালত দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে বস্তিবাসীদের গৃহস্থালির সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সাভদা ঘেভরায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সাভদা ঘেভরায় পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে বস্তিবাসীরা বলেছিলেন, তাদের বর্তমান বসতি থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ওই এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে তারা জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে তাদের বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে নিয়োজিত। সাভদা ঘেভরায় স্কুলসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    সরকার বলেছে, ‘বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সংঘাত বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি এবং হুমকি বেড়েছে। এমন সংবেদনশীল এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।’

    সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং কেন্দ্রের স্থায়ী আইনজীবী আশীষ দীক্ষিত আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন, বস্তিবাসীদের প্রত্যেককে এক বছরের জন্য একটি করে বিনামূল্যের মেট্রো কার্ড দেওয়া হবে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে।

  • মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।

    তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

  • বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।

    রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

    রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।

    আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।

    ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।

    এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

  • রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক আলোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত কোনো অপরাধের আসামিরা পার পায়নি; বরং পুলিশ অত্যন্ত যৌক্তিক সময় ও তৎপরতার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়, আর এটাই বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ’

    রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনাটি ঘটার পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এছাড়া ‘রামিসা হত্যা’ মামলাসহ বেশ কিছু আলোচিত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এত অল্প মেয়াদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, যেকোনো দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া ব্যবস্থায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিগগিরই এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেন তারা নিখুঁতভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে এবং এটি একটি প্রকৃত জনপ্রত্যাশিত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

    পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

    আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

  • মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়ার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে হিরনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

    দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়।

  • রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশেষ নির্দেশকে কেন্দ্র করে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠেছে। তাকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।

    ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইমরানের পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করছে, কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে।

    তবে বিতর্কের মূল বিষয় ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—দেশটির অন্য বন্দিরা একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে তারা কি একই সুবিধা পাবেন?

    পাকিস্তানের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খান অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি অন্য বন্দিদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

    গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন

    সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি আদালতের হাতে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরানের রক্তচাপ ১৪০/১০০ পান। তাকে রক্তচাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার রক্তচাপ ১৪০/৮০ পায় এবং প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দেয়।

    তবে এসব তথ্য গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর ২১ আগস্ট ইমরানের বোন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা খান সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইকে ‘১০০ শতাংশ ফিট’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে মানসিক নির্যাতন, একাকী রাখা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবার দাবি করেছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় একটি অংশ তিনি হারিয়েছেন। সরকার অবশ্য এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে তার চোখের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হয়।

    পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৩ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানের প্রায় ৩০ বার বিভিন্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।

    অন্য বন্দিরা কি একই সুবিধা পাবেন?

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে চলমান বিতর্কে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—একই ধরনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে অন্য কোনো বন্দি আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকেও কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?

    বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, কত দিন হাসপাতালে রাখা হবে এবং কখন তাকে কারাগারে ফেরানো হবে—এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ইমরান খানের ঘটনা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সামনে তাই একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইনের চোখে সব বন্দি কি সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন?

  • কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেছেন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

    আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত না করে কাবিননামা হালনাগাদে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন সুরক্ষায় ফরমটি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

    চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

  • সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।

    সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ,আর

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন   পলাতক ১ জন ।

    মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন পলাতক ১ জন ।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, মহেশপুর থানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপর ০১ জন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ১২নং আজমপুর ইউনিয়নের আজমপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় মহেশপুর-জামতলা পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম রাত আনুমানিক ৮:১৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

    এ সময় পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ১। মোঃ আসিফ (২০), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-আজমপুর, থানা-মহেশপুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তবে অপর আসামী ২। মোঃ রানা (২৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, সাং-আজমপুর (খাঁ পাড়া) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী আসিফ-এর দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট হতে ২০ (বিশ) পিচ হালকা গোলাপী রঙের অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

    মাদক মুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে মহেশপুর থানা পুলিশের এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নুসরাত হত্যা মামলার সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব

    নুসরাত হত্যা মামলার সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব

    বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় নির্বিচারে সব আসামিকে ফাঁসির রায় দেওয়ায় ফেনীর তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ওই সময়ের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে ফাঁসি দিতে গিয়ে যেভাবে প্রতিটা পরিবারের ওপর একটা ডিভাস্টেটিং ইফেক্ট (বিপর্যয়) নেমে এসেছে, এই জন্য তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

    বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলো— সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলো– উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

    খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন– মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং কামরুন নাহার মনি।

    আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির, অ‍্যাডভোকেট আব্দুল মোমিন, অ‍্যাডভোকেট আদনান ইয়াজদানী ও ব্যারিস্টার আল মামুন। অন‍্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

  • লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।

    মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

    তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

    রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

    রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো: জাহিদুল আলম ঝুনু বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২২/৮/২০২৬ইং।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার করফা গ্রামের সিরু মুন্সীর ছেলে বাবুল মুন্সী, গিলাতলা গ্রামের কাদের মোল্যার ছেলে রিয়াজুল মেম্বর, কাশিপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে তরিকুল খান, বয়রা গ্রামের এমদাদ কাজীর ছেলে ওহিদ কাজী, পদ্মবিলা গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে রাহুল শেখ, ঈশানগাতী গ্রামের মান্নাফ শেখের ছেলে ফরিদ মেম্বর, গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ইউনুস শেখের ছেলে সদর উদ্দিন শামীম ও তার ভাই সগীর উদ্দিন সনেট, উলা গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে মশিয়ার রহমান শেখ, বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে আ: কাদের শেখ, গোপীনাথপুর গ্রামের আজিমউদ্দিন শিকদারের ছেলে বাবু শিকদার, একই গ্রামের বক্কার শেখের ছেলে পলাশ শেখ, লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার বাঁশি মোল্যার ছেলে সজীব রাজ, ইতনার ইসমাইল শেখের ছেলে ইসলাম শেখ, একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে সুহাস শেখ, ধলইতলা গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে ওহিদুল গাজী, একই গ্রামের ধলু শেখের ছেলে খায়রুল শেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

    পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। ২১ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের মশিয়ার জমাদ্দারের বাড়ির অদূরে চাচই-সিডি বাজার সড়কে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। পরবর্তীতে ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেসহ অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা-অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনগণের সামনে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, দায়েরকৃত মামলার আসামি শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মরহুম ইউনুস শেখের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সগীর উদ্দিন সনেট (২৮) ও জয়পুর ইউনিয়নের বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আ. কাদের শেখকে (৩১) শনিবার শেষরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরীতে পশু চিকিৎসক মো: আশিকুর রহমানকে চেম্বারে ঢুকে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগের মামলায় আফরিন রশিদ সেঁজুতি (২০) নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৩ আগস্ট) নগরের আকুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরের জিলা স্কুলের পাশের একটি গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে চেম্বার পরিচালনা করেন পশু চিকিৎসক ডা: আশিকুর রহমান। সেখানে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ বিক্রি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন তার চেম্বারে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও চেম্বারে ভাঙচুর করা হয়।

    ঘটনার ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে এক নারীকে চিকিৎসককে জুতা দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

    চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদ, ঈশানের স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় চেম্বারের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসক।

    এ ঘটনায় চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি ডা: আশিকুর রহমানের।

    শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি, সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

    এদিকে, হামলার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসক বলেন, চাঁদা দাবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধও থাকতে পারে। প্রায় এক বছর আগে একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফরিন রশিদ সেঁজুতির সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখির পেছনে তার হাত রয়েছে—এমন ভুল ধারণা থেকেও তার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পোষা বিড়াল মারা যাওয়ায় ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসকের ওপর হামলা’ শিরোনামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল তদন্ত শুরু করে। ভিডিও পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে শনাক্ত করে রোববার আকুয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলার ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়।

    এ ঘটনায় গ্রেফতার আফরিন রশিদ সেঁজুতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সাথে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

  • গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চোরাই অটোরিকশা ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো: কিবরিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পিবিআই জানায়, নিহত আতাউর রহমান আতা (৬০) কাপাসিয়া উপজেলার মিজজানগর এলাকার একজন কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাত ৮টার আগে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মিজজানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে আটক করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার অটোরিকশা ও একটি বাটন মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

    এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে আতাউর রহমানের ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুনও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত শুরু করে। অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ‍দু’জন হলেন— কাপাসিয়া থানার ভাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) ও মিজজানগর এলাকার নাছির উদ্দীনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।

    তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থানাধীন হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশাটি ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো: কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার রাজীব খান ও নকিবুল হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট বিকেলে আতাউর রহমানকে ফোন করে ডেকে নির্জন কলাবাগানের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় ধুয়ে পরিষ্কার করে কিবরিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

    পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একজন নিরীহ অটোরিকশাচালককে হত্যা এবং তার পরপরই শোকাহত মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু পিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা মূল আসামিদের গ্রেফতার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিলের জন্য তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

    মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

  • রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    প্রথমে এক বাড়িতে ইয়াবা সেবন, পরে ছাদ টপকে আসেন আরেক বাড়ির ছাদে। বাড়ির মালিকের চোখে পড়ে যাওয়ায় একে একে খুন করেন তাকেসহ পরিবারের চারজনকে। রাতভর হত্যা শেষে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ছিলেন ওই বাড়িতেই। এরপর ফের ছাদ টপকে পালিয়ে যান দুজন।

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার এই বর্ণনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আজ রবিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসে ইয়াবা সেবন করতেন, বলছে পুলিশ।

    রবিবার দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মাছুয়াপাড়া এলাকায় দোতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। একই এলাকার হওয়ায় আসামিরা ছিলেন পরিচিত। গণপতিকে ‘স্যার’ ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ ডাকতেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের ছোট ছেলে প্রিয়মের সঙ্গে এলাকায় খেলাধুলা করত সিদ্ধার্থের ছোট ভাই।

    গণপতির বাড়িটি নির্মাণাধীন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে তাকেসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর মরদেহ উদ্ধার হলো গতকাল শনিবার মধ্যরাতে।

    আরএমপির বর্ণনা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে আসেন তারা। সেখানে আরেক দফা ইয়াবা সেবন করে দিচ্ছিলেন আড্ডা।

    ছাদে শব্দ শুনে দেখতে যান গণপতি। চিনে ফেলেন দুজনকে, বাধা দেন মাদক সেবনে। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

    হট্টগোল শুনে ছাদে উঠতে গেলে সিঁড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাকে। এরপর ঘরে ঢুকে রশি পেঁচিয়ে মারা হয় তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে। সবশেষে ঘুমন্ত ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

    একে একে সবাইকে হত্যার পর সকালের দিকে গোসল করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর খেজুর ও শসা খান তারা। আরেক দফা সেবন করেন ইয়াবা। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাস্তায় লোকজন কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দুজন।

    এর মধ্যে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশে আসবাবপত্র তছনছ করেন। সঙ্গে নেন কিছু স্বর্ণালংকার। দুপুরের দিকে ছাদে উঠে ফের টপকে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে নেমে চলে যান দুজন। স্বর্ণালংকারগুলো এলাকার মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন।

    আরএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তছনছ হওয়া আসবাবপত্র দেখে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা হয়েছিল। পরে ইয়াবাসহ বেশকিছু আলামত জব্দের পর তদন্ত করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে মন্দিরের পেছন থেকে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। দুজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় আরএমপি।

  • কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের বাদুরগাছা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে হাবিব নামে এক ব্যক্তিকে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলাতেই দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। এতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপর মামলাটি করেছেন গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই যশোর শহরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ মামলায়ও দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদকে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে হাবিব ও সুমনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের হাত-পা বেঁধে একটি বাঁশের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন সুমন।

    খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাবিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সময় মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মামলা ও তদন্তের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    গত জুনে ব্রিটিশ কমান্ডোদের হাতে গ্রেপ্তার হন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের একটি তেলবাহী জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পান্থ। ৩৮ বছর বয়সী অজয় পান্থ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। মামলাটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, অজয় পান্থকে এ ঘটনায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী ঋতু পান্থ বলেন, ‘আমার স্বামীকে শুধু বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন।’

    গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার স্মিরতোসে একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে এটিকে আটক করেন ব্রিটিশ কমান্ডোরা। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয় পান্থ।

    অভিযোগ রয়েছে, স্মিরতোস রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ অংশ। অস্পষ্ট মালিকানা ও বীমাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত জাহাজের এই নেটওয়ার্ক ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরোপ করা তেল নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে মস্কো ব্যবহার করে।

    মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, স্মিরতোস গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বাল্টিক সাগর পেরিয়ে জাহাজটির গন্তব্য হিসেবে মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় জাহাজটির ওপর অভিযান চালান ব্রিটিশ কমান্ডোরা।

    যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ অভিযানকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    পান্থের স্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামী এ ঘটনার শিকার। জামিন না পাওয়ায় হেফাজতে থেকে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রথম ফোনালাপের কথা স্মরণ করে চোখের পানি সামলানোর চেষ্টা করতে করতে ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং শুধু কাঁদছিলেন।’

    তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তিনি তা বুঝতে পারেননি…তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি কারাগারে আছি, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বের করে নাও।”’

    এদিকে প্রসিকিউশন দাবি করছে, অজয় পান্থ ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার’ বা ক্যাপ্টেন এবং প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের চালান সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। তবে আদালতের এক শুনানিতে পান্থের আইনজীবী বলেন, জাহাজের কর্মী হিসেবে তিনি ‘শুধু নির্দেশ পালন করছিলেন’।

    তাঁর স্ত্রীও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। ঋতু পান্থ বলেন, ‘যেকোনো জাহাজে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব হলো পণ্য নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।’

    ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর আনোয়ার সাদাত বলেন, এ মামলায় ‘জটিল’ আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

    আগামী ১৫ ডিসেম্বর পান্থের বিচার শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো যখন পদক্ষেপ জোরদার করছে, তখন মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

    ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের কোনো দেশ প্রথমবারের মতো জাহাজ বা এর মালিকদের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাট সি ইন্টারন্যাশনালের ডেভিড হ্যামন্ড লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের জন্য লেখা এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব একটি জাহাজ, এর পণ্য বা এর ক্যাপ্টেনের ভাগ্যের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।’

    তিনি বলেন, ‘শ্যাডো ফ্লিটের পরিচালকদের পাশাপাশি এসব জাহাজে কর্মরত নাবিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পশ্চিমা সরকারগুলো কতটা এগোতে প্রস্তুত, এ মামলা তার প্রাথমিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।’

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা পান্থের ‘খোঁজখবর নিতে’ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

    পান্থ ছিলেন জাহাজে থাকা একমাত্র নাবিক, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহাজটির বাকি ২৪ ক্রু সদস্যের বেশির ভাগকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি এখনো ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করা রয়েছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনে ‘মাঝখানে আটকে পড়ার’ আশঙ্কায় নাবিকেরা ভীত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নাবিকবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ক স্টিভ ইয়ান্ডেল। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নাবিকেরা জানতেই পারেন না, তাঁদের জাহাজে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল বহন করা হচ্ছে কি না। আর এর ফলে তাঁরা সম্ভাব্যভাবে ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

    ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি নাবিক নিয়ে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন খাতের কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ।

    ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ভারতীয় ট্যাংকার ক্যাপ্টেন সংকেত জোশি বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো ইস্যুর পরিবর্তে ‘বাণিজ্যিক দিক’ বিবেচনায় কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

    গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে পান্থ তাঁর স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির আশপাশে সমুদ্রে কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার আরেকটি সংঘাতের প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

    ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, এখন সমুদ্র খুব কঠিন জায়গা হয়ে উঠছে। আমি শুধু প্রার্থনা করছিলাম এবং তাঁকে বলছিলাম, “শান্ত থেকো, সতর্ক থেকো এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখো।”’

    পান্থের মা দীপা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুই হাত জোড় করে সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই, আমার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিন।’

  • মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উপজেলাকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান।

    গত রাত ৮টার দিকে থানার ওসির কক্ষে স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ওসি আজাদ রহমান বলেন, কোটচাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও চোরাচালান, কিশোর গ্যাং এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে

    এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এসবের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশি তৎপরতায় একটি উপজেলাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোটচাঁদপুরের কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা কোটচাঁদপুরের মাদক সমস্যা, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।