অপরাধ ও বিচার

  • দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আজমপুরে পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আমানত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালায়। এখান থেকে ইয়াবাসহ মো: জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

    জিয়া ঈশ্বরচন্দ্রপুর স্কুলপাড়ার মরহুম শুকুর আলীর ছেলে।

    এরপর রাত ১০টার দিকে পরিচালিত অন্য এক অভিযানে আজমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে মো: আকাশ হোসেন (২২) নামের আরেক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আকাশ একই গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জিয়াউর রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অন্যদিকে আসামি আকাশ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেফতার আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • গেমের ছলে খুনের মিশন

    গেমের ছলে খুনের মিশন

    ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ ভাড়াটে কিশোর গ্যাং

    ইউরোপজুড়ে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (ভিএএএস) তথা অর্থের বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চক্র ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠিত অপরাধী চক্র।

    এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের শীর্ষে রয়েছে ‘ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক’, যা সুইডেন থেকে পরিচালিত হলেও এর মূল নেটওয়ার্ক বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে কম্পিউটার গেমের মতো করে কিশোরদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং খুনের মিশন দেওয়া হয়।

    এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের অস্ত্র ও নগদ অর্থের ভৌগোলিক অবস্থান পাঠায় গ্যাংয়ের সমন্বয়কারীরা। ২০২২ সাল থেকে এই ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক ইউরোপজুড়ে প্রায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিস্ফোরক ও গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি আদালত ১৮ বছর বয়সী নরওয়েজীয় তরুণ জোহানেস নাটল্যান্ডকে বৃটেনের ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে জানা যায়, তাকে মাত্র ২১ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বৃটেনে একজনকে হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

    ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের সদস্য ‘এজেন্ট ৪৭’ এবং ‘জেনারালেন’ ছদ্মনামের একাধিক গ্যাং লিডার নাটল্যান্ডকে পুরো প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার গেমের চরিত্রের মতো পরিচালনা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তাকে সময়মতো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ফক্সট্রট গ্যাংয়ের প্রধান রাওয়া মজিদ সুইডেন ও তুরস্ক থেকে পালিয়ে বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন।

    সুইডিশ সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডায়াম্যান্ট সালিহু জানান, তেহরানে মুক্তভাবে বসবাসের বিনিময়ে রাওয়া মজিদ এবং তার নেটওয়ার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের আঘাত হানার চুক্তি করেছে। তাদের টার্গেটে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও ইসরাইলি স্থাপনা। ইউকে সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে মজিদ ও তার ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোল এই ধরনের ভাড়াটে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ‘ওটিএফ গ্রিম’ নামে ১১টি দেশের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ইউরোপোলের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ক্র্যাগ একে কোমলমতি তরুণদের ‘সস্তায় খুনের কাজে ব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধী চক্র তরুণদের বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও তারা ধরা পড়লে বা কাজ শেষ হলে কোনো অর্থই প্রদান করে না।

    অতি সম্প্রতি ইরাকে ফক্সট্রটের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী শেহাদ আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এই ভিএএএস মডেল বর্তমানে অন্যান্য অপরাধী চক্রও গ্রহণ করায় ইউরোপজুড়ে তরুনদের এমন সহিংসতায় জড়ানোর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

  • শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা।

    রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে।

    প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সেখানে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে এই দুই বিষয় অপরিহার্য। অতীতে দেশ এ ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের জন্যই বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধপ্রায় সুগার মিলের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই বিকল্প শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উপাচার্য নিয়োগ ও জমি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী বছর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান এবং যানজট নিরসনে রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনামূল্যের চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।

  • মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়,  জরিমানা

    মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়, জরিমানা

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক দোকানদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানদার বোতলজাত পেট্রোল প্রতি লিটার ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেনসহ যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জ্বালানি পণ্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’

    উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

  • তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৩১ জুলাই) রসিকতা করে বলেছেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) লক্ষ্যবস্তু নন।

    এদিকে, তার প্রশাসন এই আদালতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোকে সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

    ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘যাই হোক, এমন কোনো তথ্য নেই যে তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে এমনটা ঘটতেও পারে।’ এ কথা বলার সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা হাসিতে ফেটে পড়েন।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরছিলেন। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বাধা দিয়ে বলেন, ‘তিনি আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বিবি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) এবং আরো কিছু মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’

    এখানে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করেন। নেতানিয়াহু ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে থাকা এই আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় এবং মিত্র দেশগুলোকে সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আইসিসির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ইতোমধ্যে আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    গত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি এমন গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা করতে ইচ্ছুক নয় বা সক্ষম নয়।

    তবে রুবিও শুক্রবার আইসিসিকে ‘একটি অবৈধ আন্তর্জাতিক সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার চুক্তির অংশীদার নয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুই দেশই।

    রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের সংস্কার করতে এবং আমাদের কথা শুনতে বলেছিলাম। তারা তা করেনি। তারা অত্যন্ত উদ্ধত। এখন আমরা ওই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’

    তিনি জানান, পাঁচটি দেশ আইসিসি থেকে সরে গেছে বা সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    চাদ ও ভেনিজুয়েলা উভয় দেশই সম্প্রতি আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

  • ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।

    তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।

    এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো। কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।

    পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

  • শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড

    শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বোমা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (৩১ জুলাই) তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে ‘অপরাধমূলক অবহেলার’ জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন।

    তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে।

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার তিনটি পর্যটন হোটেল ও তিনটি গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়। গির্জাগুলোর মধ্যে দুটি ছিল ক্যাথলিক এবং একটি প্রোটেস্ট্যান্ট। ভয়াবহ ওই হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

    হামলার পর গঠিত একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতার জন্যই সাবেক পুলিশপ্রধান জয়সুন্দরাকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    শুক্রবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রয়েছে জয়সুন্দরার। একই অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও শুক্রবার পৃথক রায় দেওয়ার কথা ছিল।

    ২০১৯ সালের ওই হামলার জন্য শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে যাদের শনাক্ত করা হয়েছিল, তাদের কেউই বর্তমানে জীবিত নেই। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যাদের হামলার মূল হোতা বা হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নয়। তাদের দাবি, ইস্টার সানডের ওই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল।

  • আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    ভারতের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নতুন করে তদন্ত করবে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এ মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাসহ তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজাকে সরিয়ে সিবিআইর কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই গতকাল বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার নাম পাঠিয়েছে।

    পাশাপাশি নতুন করে গঠিত তদন্ত দলে আরও দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সিবিআইয়ের যুগ্ম পরিচালক অনুরাগ কুমার ও মণীশ উপাধ্যায়। নতুন তদন্ত দল এই মামলার হাজার পাতার নথি আবার পর্যালোচনা করবে।

    এদিকে অভয়ার আইনজীবী অমর্ত্য দে গতকাল শিয়ালদহের আদালতে বলেছেন, এই মামলায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে বারবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা আমলে নেননি।

    নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অভয়ার মা ও বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেছেন, ‘এবার আমি আমার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

    এর আগে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত না করার প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন অভয়ার মা।

    এ ছাড়া গত মে মাসে এই মামলায় তথ্য–প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে সীমা পাহুজাকে অভিযুক্ত হিসেবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য ও সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়াকে (৩১) দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হলে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

    এ ঘটনায় একদল চিকিৎসক প্রতিবাদে সোচ্চার হন। দাবি তোলেন মরদেহের ময়নাতদন্তের। কিন্তু সব দাবি উপেক্ষা করে ১০ আগস্ট ওই নারী চিকিৎসকের দেহ সৎকার করা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি শ্মশানঘাটে। এই সৎকারের পেছনে পানিহাটির তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ অন্যরা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এদিকে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ হাসপাতালের কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শিয়ালদহ আদালত।

    তবে আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথ। অভয়ার মা বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে বিজেপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই মামলার আবার তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন তিনি।

  • বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশে তিনি গ্রেপ্তার হলে তাঁকে মুক্ত করতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী অভিযান চালাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

    নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ওই বাহিনীতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার চলুন, তাদের একটি নতুন মিশন দেওয়া যাক।’ বিদেশে গ্রেপ্তার হলে তাঁকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেন নেতানিয়াহু।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মূলত এ পরোয়ানার প্রেক্ষাপটেই তাঁর এমন মন্তব্য এল। এ ছাড়া সম্প্রতি নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

    রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলো সাধারণত আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করাসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতা করতে বাধ্য। যদিও এ বাধ্যবাধকতা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

    বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ অবশ্য আগেই জানিয়েছে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    তবে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান কীভাবে চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে এমন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    গাজায় জাতিগত হত্যার কারণে নেতানিয়াহু যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং আইসিসির পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ কীভাবে সাড়া দেবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে, ঠিক তখন তাঁর এ বক্তব্য সামনে এল।

    বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। পরোয়ানা কার্যকর হতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো এড়িয়ে চলতে এখন তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গন্তব্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন প্রায় অর্ধেক আমেরিকানতুন একটি ‘ইকোনমিস্ট/ইউগভ’ জনমত জরিপে এমনটি দেখা গেছে।

    জরিপ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ মানুষ। এর বিপরীতে ২৭ শতাংশ গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৩ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে কমালা হ্যারিসের ভোটারদের ৭৪ শতাংশ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সমর্থন করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোটারদেরও প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩ শতাংশ) তার গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    এই জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জন্য নেতানিয়াহুকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার যে দাবি—তা এখন ফিলিস্তিনের সমর্থকদের গণ্ডি পেরিয়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন। সমান ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, ৪৩ শতাংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ইসরাইল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ মনে করেন তা নয়। হ্যারিসের ভোটারদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ইসরাইলের আচরণকে গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছেন, যার বিপরীতে ট্রাম্পের ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ২২ শতাংশ।

    গত ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের (২০২৬) মধ্যে ১,৫৫৯ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে ইউগভ।

    গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। আদালত ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও একই পরোয়ানা জারি করেছে।

    আমেরিকানদের মধ্যে তাদের সমর্থন ধসের মুখে পড়া ঠেকাতে এবং গাজা সংকটকে নিজেদের মতো উপস্থাপন করতে ইসরাইল যখন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করছে, তখনই এই জরিপের ফলাফল সামনে এলো।

    চলতি সপ্তাহে পরিচালিত একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে ইসরাইল ও গাজা সম্পর্কে কী তথ্য দিচ্ছে—তা প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের সাবেক ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ব্র্যাড পারস্কেলের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘ক্লক টাওয়ার এক্স’-কে ৪৬.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে ইসরাইল সরকার।

    প্রতিষ্ঠানটি ১০টি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, যেগুলো নিজেদের সংবাদ, গবেষণা বা তথাকথিত ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ উৎস হিসেবে দাবি করে। এগুলো ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো উপাদান প্রকাশ করে থাকে।

    এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারনেটকে সুনির্দিষ্টভাবে রচিত ইসরাইলি প্রচারণায় ভরিয়ে দেওয়া, যাতে এআই চ্যাটবটগুলো সেই তথ্যগুলো খুঁজে পায়, সেগুলোর উদ্ধৃতি দেয় বা পরবর্তীতে তা থেকে শিক্ষা নেয়।

    মাইক্রোসফট কোপাইলট, গুগল জেমিনি এবং পারপ্লেক্সিটির মতো এআই পরিষেবাগুলো ইতিমধ্যে ওই ‘ক্লক টাওয়ার’ ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য উল্লেখ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের জানায়ওনি যে সাইটগুলো ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন এই জরিপের ফল ইসরাইলের তথ্যভিত্তিক জনমত গঠন ক্যাম্পেইনের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জের গভীরতাই প্রকাশ করে। এআই, অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার, গণ-মেসেজ, বিজ্ঞাপন এবং কনজারভেটিভ মিডিয়ায় লাখ লাখ ডলার খরচ করার পরও এখন প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার চান।

    পরিসংখ্যানগুলো আরো নির্দেশ করে যে, বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের অবস্থান ক্ষুন্ন হওয়াটা কেবল বাজে জনসংযোগের ফল নয়। বরং আমেরিকানদের এক বিশাল অংশ এখন ইসরাইলের সেই আচরণ ও কর্মকাণ্ডকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন, যা এই প্রচারণাগুলোর মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

  • মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    লেখক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা মানহানি মামলায় জুরির দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে এই রায় চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও পৃথকভাবে একই ধরনের আবেদন জমা দিয়েছে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীদের মূল দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় ক্যারলকে নিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরই অংশ। ফলে তিনি এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

    বিচার বিভাগের ফেডারেল আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ না করলে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিধিতে করা মন্তব্যের জন্য একজন দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত আর্থিক দায় বইতে হবে।

    আবেদনে ‘ওয়েস্টফল অ্যাক্ট’-এর উল্লেখ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত নির্দিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মকর্তারা কিছু দেওয়ানি মামলায় আইনি সুরক্ষা পান।

    ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক ‘ট্রাম্প বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই রায়ে প্রেসিডেন্টের ফৌজদারি দায়মুক্তির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। যদিও সেটি মূল সংজ্ঞায় ফৌজদারি মামলার জন্য প্রযোজ্য, ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই একই যুক্তি দেওয়ানি মামলায়ও খাটাতে চাইছেন। তবে নিউইয়র্কের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত গত বছরই এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছিল।

    দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জরিমানার ইতিহাস

    এল ম্যাগাজিনের সাবেক কলামিস্ট ই জিন ক্যারল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি মানহানি মামলা লড়ছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াট ডু উই নিড মেন ফর? আ মডেস্ট প্রপোজাল’ গ্রন্থে তিনি অভিযোগ তোলেন—১৯৯৬ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন।

    এই মামলার বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ক্যারল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন। এই নারী আমার পছন্দের ধরন নন।’

    চলতি বছরের জুনে ৫০ লাখ ডলার জরিমানার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায় সুপ্রিম কোর্ট। এতে সুদ যোগ হয়ে অর্থের পরিমাণ পৌঁছায় প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলারে, যা পরিশোধের নির্দেশ দেয় একটি ফেডারেল আদালত।

    এখন ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের যৌথ এই নতুন আপিল সুপ্রিম কোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করবে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

  • ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিলপূর্বক ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, নাইন্টিন সেভেন্টি টু (পি. ও. নং সিক্স অব ১৯৭২)’-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৮৬ জনকে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জনকে বাংলাদেশের সহকারী নিয়োগ দেওয়া হলো।

  • সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

    তিনি বলেছিলেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।

  • দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব।

    বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। সেমিনারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।

    আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।

    এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরমধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।

    বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।

    তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।

    আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    ময়মনসিংহে যুবলীগের এক কর্মীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার দায়ে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারীর নাম আফরোজা শেখ ওরফে ইতি। তিনি নিহত যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে সপুর (২৫) দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।

    রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এজলাশ থেকে বের করার সময় আফরোজাকে বিমর্ষ হওয়ার বদলে হস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কারাগারে পাঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসতে হাসতে বলতে থাকেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।’

    আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।

    নুরুন্নাহার, মামলার বাদী ও নিহত শফিকুল ইসলামের মা

    রায়ের পর নিহত শফিকুল ইসলামের মা ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার জানান, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনার পর তিন দিন ধরে খোঁজাখুঁজির নাটক করে আফরোজা। আমার ছেলে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।’

    আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরের বাঁশবাড়ী কলোনি এলাকার বাসিন্দা সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রথমে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে আফরোজা শেখকে বিয়ে করেন শফিকুল। একপর্যায়ে আফরোজা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের ১০ জুন আফরোজা শেখ পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে প্রায় ২০০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পাশের একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

    ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় লোকজন পুকুরে মানুষের একটি হাত ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    এ ঘটনায় শফিকুলের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় পুত্রবধূ আফরোজা শেখ ও তাঁর বড় ভাই দীন ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে আফরোজা শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি একজন নারী এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আফরোজা শেখের ভাই শেখ সাব্বির বলেন, তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাঁর দাবি, তাঁর বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সাব্বিরের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাঁদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর বোন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর একটি সন্তান থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। তাঁরা শুরু থেকেই খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।

  • মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    ভারতে মাওবাদীর একমাত্র পলিটব্যুরো সদস্য গ্রেফতার

    ভারতে মাওবাদীদের নিঃশেষ করতে গত এক বছর ধরে দিল্লি সরকার নিরন্তর অভিযান চালিয়ে মাওবাদী সংগঠনের প্রায় সব শীর্ষ নেতা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হয় নিহত হয়েছেন বা গ্রেফতার হয়েছেন। এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন কয়েক শত মাওবাদী কমান্ডার ও ক্যাডার। তবে দলের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা জঙ্গলে আত্মগোপনে ছিলেন। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল এক কোটি রুপি।

    শেষমেশ মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী এই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুই কমান্ডার। মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে এটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদের পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে।

    মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গেলে পুলিশ তাকে সঙ্গীসহ ধরে ফেলে।

    ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিসিরকে। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে এক মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় আদালত চত্বরে অতর্কিতে হামলা চালায় মাওবাদীরা। পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এই মাও নেতাকে। মিসির বেসরা তার আসল নাম হলেও দলে ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত ছিলেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা ও ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পেছনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সহযোগিতা ছিল। তারা দাবি করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিক্ষোভকারীরা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার, ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করেন।

  • চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

    ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী নীলদলের শিক্ষকদের বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেন তারা।

    এসময় তারা ২৩১ জন নীলদলের শিক্ষকদের তালিকা জমা দেন। তারা হলেন-

    ১. অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ ২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৩. অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার — ফার্মেসি ৪. অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৫. অধ্যাপক ড. জীনাত হুদা — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৬. অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৭. অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৮. অধ্যাপক ড. এম. ওয়াহিদুজ্জামান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯. অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১০. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মহিত — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ১৩. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাহবুব হাসান — বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ১৪. অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ১৫. অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ আলী — ইতিহাস বিভাগ ১৭. অধ্যাপক আবু হোসাইন মুহাম্মদ আহসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ১৮. অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ — আইবিএ ১৯. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. গোলাম রব্বানী — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২০. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২১. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির — আইবিএ ২২. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আখতার — ইংরেজি বিভাগ ২৩. অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া — টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ ২৪. অধ্যাপক ড. শবনম জাহান — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৫. অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৬. অধ্যাপক ড. এম. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৭. অধ্যাপক ড. তাওহিদা রশিদ — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ২৮. অধ্যাপক ড. আবু শারা শামসুর রউফ — ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ ২৯. অধ্যাপক ড. এম. মাকসুদুর রহমান — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৩০. অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক খান — আইবিএ ৩১.

    অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৩২. অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ — মার্কেটিং বিভাগ ৩৩. অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩৪. অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৬. অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আখতার — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৭. অধ্যাপক ড. সবিতা রেজওয়ানা রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৯. অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাউদ্দিন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৪০. অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

    ৪১. অধ্যাপক ড. বিমান কুমার বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ৪২. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসিফ হোসেন খান — কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৪৩. অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার — গণিত বিভাগ ৪৪. অধ্যাপক ড. অসীম সরকার — সংস্কৃত বিভাগ ৪৫. অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ — সংস্কৃত বিভাগ ৪৬. অধ্যাপক ড. লিটন কুমার সাহা — ফলিত গণিত বিভাগ ৪৭. অধ্যাপক ড. আব্দুল বশির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৪৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৪৯. সহযোগী অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৫০. অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ

    ৫১. সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহেল রানা — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ৫২. অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ — রসায়ন বিভাগ ৫৩. অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৫৪. অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ৫৫. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৬. অধ্যাপক ড. মো. জাভিদ ইকবাল বাঙালী — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৭. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ — আরবি বিভাগ ৫৮. অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ৫৯. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ৬০. অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম — সিরামিক বিভাগ

    ৬১. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ মিরান — রসায়ন বিভাগ ৬২. অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুজন — রসায়ন বিভাগ ৬৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান — রসায়ন বিভাগ ৬৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইকা আহমেদ — রসায়ন বিভাগ ৬৫. অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রহমান — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ৬৬. অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু — কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ৬৭. সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন — ক্রাফট বিভাগ ৬৮. সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ৬৯. সহকারী অধ্যাপক সোনাম সাহা — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৭০. অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ

    ৭১. অধ্যাপক নিসার হোসেন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭২. অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৩. ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৪. অধ্যাপক ড. জেড. এম. পারভেজ সাজ্জাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ৭৫. অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন — ফিন্যান্স বিভাগ ৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সিমা ইসলাম — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৭. ড. সিদ্ধার্থ দে — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৮. অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম — ইতিহাস বিভাগ ৭৯. সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. কে. মামুন মোস্তফা — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

    ৮১. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মনিরুজ্জামান খান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮২. অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮৩. অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৮৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. নাসিফ শামস — জ্বালানি ইনস্টিটিউট ৮৫. সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ৮৬. সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল আজিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৭. সহকারী অধ্যাপক ফারিহা কাদির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৮. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইহসান-উল-কবির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. শওল নাফি শিমুল — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৯০. প্রভাষক মো. আরাফাত হোসেন — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট

    ৯১. অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯২. সহকারী অধ্যাপক ড. শাহজাদী ইমা — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯৩. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯৪. অধ্যাপক ড. সুবর্ণা বড়ুয়া — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৫. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৭. সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সানা — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. লোপা মুদ্রা মালেক — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১০০. অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ — আইন বিভাগ

    ১০১. অধ্যাপক ড. শিমা জামান — আইন বিভাগ ১০২. প্রভাষক মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া — আইন বিভাগ ১০৩. অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান — আইন বিভাগ ১০৪. অধ্যাপক ড. জামিলা এ. চৌধুরী — আইন বিভাগ ১০৫. অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৬. অধ্যাপক ড. সুমন দাস — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৭. অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৮. অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৯. অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১০. ইমেরিটাস অধ্যাপক

    মো. আবুল হাশেম — ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগ

    ১১১. প্রভাষক মো. রাকিবুল হাসান — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ১১২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৩. অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৪. ড. মো. মুমিত আল রশিদ — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৫. অধ্যাপক ড. ইমরান কবির চৌধুরী — জনস্বাস্থ্য বিভাগ ১১৬. অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ — ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ ১১৭. অধ্যাপক এমএসটি. রেবেকা সুলতানা — দর্শন বিভাগ ১১৮. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১১৯. অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম. সৈয়দ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ১২০. অধ্যাপক ড. রতন চন্দ্র ঘোষ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ১২১. অধ্যাপক ড. নীলোফার পারভীন — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ১২২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন — পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ ১২৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. নাজির হোসেন খান — প্রিন্টমেকিং বিভাগ ১২৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্লাইডাস ভক্ত — সংস্কৃত বিভাগ ১২৫. সহযোগী অধ্যাপক নাসিমুল খবির — ভাস্কর্য বিভাগ ১২৬. অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৭. ড. দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমান — পরিসংখ্যান বিভাগ ১২৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা দে — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ১৩০. সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল হোসেন ঢালী — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ

    ১৩১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ ১৩২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৩. অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৪. অধ্যাপক ড. মো. মুশফিকুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৬. অধ্যাপক ড. মো. জামিল শরীফ — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৭. অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল আলম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৮. অধ্যাপক ড. মো. রফিউল ইসলাম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৯. অধ্যাপক ড. মো. সৈয়দ শামসুদ্দিন — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১৪০. অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল করিম — ফলিত রসায়ন বিভাগ

    ১৪১. অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম — ফলিত গণিত বিভাগ ১৪২. অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ — আরবি বিভাগ ১৪৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন — আরবি বিভাগ ১৪৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন — আরবি বিভাগ ১৪৫. অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে — বাংলা বিভাগ ১৪৬. অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী — বাংলা বিভাগ ১৪৭. সহকারী অধ্যাপক মো. খালেদ বিন আমির — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৮. অধ্যাপক ড. রাদ মুজিব লালন — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৯. অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫০. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

    ১৫১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫২. অধ্যাপক ড. জিএম গুলজার হোসেন — রসায়ন বিভাগ ১৫৩. অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ ১৫৪. অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন — রসায়ন বিভাগ ১৫৫. এ. বি. এম. নজমুস সাকিব — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ১৫৬. সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ১৫৭. শিশির ভট্টাচার্য (খণ্ডকালীন শিক্ষক) — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ১৫৮. অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী — অর্থনীতি বিভাগ ১৫৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. এল. পলাশ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ১৬০. অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ

    ১৬১. সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তানজিলা দীপ্তী — ফিন্যান্স বিভাগ ১৬২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান — মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ ১৬৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ১৬৪. অধ্যাপক ড. শারমিন আখতার — ইতিহাস বিভাগ ১৬৫. অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৬৬. অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন — আইবিএ বিভাগ ১৬৭. অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবীন — আইবিএ বিভাগ ১৬৮. অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক — আইবিএ বিভাগ ১৬৯. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭০. অধ্যাপক ড. তামান্না সুলতানা — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭১. ড. তপশ কুমার বিশ্বাস — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭২. অধ্যাপক ড. আবু তোরাব মো. আব্দুর রহিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৩. অধ্যাপক ড. শারমিন রুমি আলিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস এম. কুরশেদ — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৫. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজানা করিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ১৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন আহমেদ — তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ১৭৭. অধ্যাপক ড. সবুর আহমেদ — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. অমল কান্তি দেব — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৯. সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমার রায় — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৮১. অধ্যাপক ড. সুবোধ দেবনাথ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮২. সহকারী অধ্যাপক মৌরি মেহতাজ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮৩. অধ্যাপক ড. লায়লুফার ইয়াসমিন — আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৮৪. সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১৮৫. সহকারী অধ্যাপক এম. ইমামুল হক সরকার (তিতু) — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৭. সহকারী অধ্যাপক ড. কোয়াজি ফারজানা আফরিন — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৮. ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১৮৯. অধ্যাপক ড. রুমানা ইসলাম — আইন বিভাগ ১৯০. সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ রেজা — আইন বিভাগ

    ১৯১. প্রভাষক শাহরিমা তানজিন আরনি — আইন বিভাগ ১৯২. অধ্যাপক ড. সিকদার মনোয়ারে মুর্শেদ — ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৩. অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১৯৪. অধ্যাপক মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন ভূঁইয়া — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ১৯৫. অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৬. অধ্যাপক ড. মুবিনা খন্দকার — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১৯৮. সহকারী অধ্যাপক মো. মোমিন ইসলাম — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৯. অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২০০. সহযোগী অধ্যাপক ইঞ্জি. এম. মনজুর হোসেন খান — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

    ২০১. অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০২. সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরু বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ২০৪. অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৫. সহযোগী অধ্যাপক মারিয়া হোসেন — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৬. সহযোগী অধ্যাপক মন্দিরা চৌধুরী — দর্শন বিভাগ ২০৭. অধ্যাপক ড. কাজী হানিয়াম মারিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২১০.

    অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ২১১. সহযোগী অধ্যাপক এম. রাশেদ আলম ভূঁইয়া — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২১২. অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ২১৩. অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল — রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২১৪. অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৫. অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৬. অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ খান — মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ ২১৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম. শফিউল্লাহ — পরিসংখ্যান বিভাগ ২১৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২১৯. অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২২০. সহযোগী অধ্যাপক ড. সৌদ আহমেদ — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

    ২২১. সহযোগী অধ্যাপক ড. সামশাদ নাওরীন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২২২. অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল ইসলাম — উর্দু বিভাগ ২২৩. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম — উর্দু বিভাগ ২২৪. সহকারী অধ্যাপক অমিও সৃজন সাম্য — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ২২৫. অধ্যাপক ড. ফাজরিন হুদা — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৬. প্রভাষক ইনজামাম মাহবুব মজুমদার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৭. সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া আফরিন — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৮. প্রভাষক দেবাশীষ দাস — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৯. প্রভাষক নিলয় রায় —বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩০. প্রভাষক রহিমা আখতার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩১. অধ্যাপক ড. শারমিন মুসা — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    দেশের বাজারে ২৬টি টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা।

  • দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ভারতীয় মাদক ই-স্কাফসহ মো: হাফিজুল হক ওরফে মিঠুন (৩৩) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মিঠুন দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর (মাঝপাড়া) গ্রামের মো: জালাল বিশ্বাসের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শেখ মেসবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন আব্দুল হামীদ নিউ মার্কেটের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মিঠুনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪০ বোতল অবৈধ ভারতীয় ই-স্কাফ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি মেসবাহ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

  • সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এসকে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস কে সুরকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়, রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরে আদালত রায় ঘোষণা করে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

  • খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বৈকালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়

    গ্রেফতার হওয়া রাকিব বৈকালী এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দেড়-দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। তার সেই সহযোগীকে গ্রেফতার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব ও তার বাবা জাকির শেখ নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী, বয়রা ও মুজগুন্নী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। অনেক দিন ধরে বাবা ও ছেলে মিলে কিশোর গ্যাং নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাকিব ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও হামলা করেছে। ছেলে-বাবার ভয়ে এলকার মানুষ মুখ খুলতে পারে না। রাকিব ও তার বাবা জাকিরের বিরুদ্ধে খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

    জানা যায়, জাকির শেখ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ চালাতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাকির শেখ ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ওই বছরের ৩ অক্টোবর জাকির শেখকে যৌথবাহিনী আটক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির শেখ নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

  • সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সালিশে নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামে বাদল মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রাবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরি সন্দেহে একই গ্রামের শারফুলের ছেলে রানাকে (২০) বাড়ি থেকে ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে যান লোকজন। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে রানাকে বিএনপি অফিসের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    নাতির চিৎকারে বৃদ্ধ দাদা মো. নবী হোসেন এগিয়ে যান। এ সময় সালিশে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নাতিকে চোর আখ্যা দিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেনকে ধরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় নবী হোসেনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ভাতিজা জলিল জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা নবী হোসেনও মারধরের শিকার হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত দুই দিনে অন্তত ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘সামিদুন’ (প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর প্রিজনার্স অ্যাডভোকেসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি নিহত হন। এর পর থেকেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক আকারে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার শুরু করে।

    মূলত নাবলুস, তুলকারেমে ও হেব্রনে অভিযানের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকায় সেনাসদস্যরা সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরাও কিছু অভিযানে অংশ নেয়।

    এই গ্রেপ্তার ও অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতি’র অংশ বলে আখ্যায়িত করেছে সামিদুন।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জরুরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি জাতিসংঘ, রেড ক্রস এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

    গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন।

    এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জনের নিহতের প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালে ৫ মে দিনভর হেফাজতের সমাবেশ শেষে রাতে শাপলা চত্বরে জমায়েতে নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৫ আগস্টের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের (যৌনকর্ম) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জহিরুল বর্তমানে ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি হয়ে আছেন।

    আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন এক নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই নারীর (বাদী) সঙ্গে পরিচয় হয়। আসামি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীকে তাঁর অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

    মামলায় আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর এই নারীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ওই নারী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ওই ঘটনায় পর গত বছরের ১৩ জুলাই ওই নারী পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন এবং ১৫ জুলাই ওই নারী ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি ফের বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

  • ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    হাইকোর্টে রিট

    দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

    স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুনhttps://bdglobaltimes.com/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A7%AB-%E0%A6%B6/

    এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

    গবেষকরা জানান, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

    দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

    কোন টুথপেস্টে কী পরিমাণ

    গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

    এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

    যে আট নমুনায় পাওয়া যায়নি

    গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশভ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

    এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট।

  • শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, রোকেয়া প্রাচী ও মাহিয়া মাহিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।

    রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের ভূমিকা আইনানুগভাবে তদন্ত করা হোক। সংগঠনের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা মোবিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও আনিস আলমগীর।

    রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম মনে করে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানায়, অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

  • ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাশা নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না।

    রোববার সকালে চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবি আরও জোরালো করবো। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা জানি না বর্তমান সরকার এ বিচার করবে কি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন।”

    কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, জেলা নেতা মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা আমির মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমির আবুল খায়ের, পৌর আমির জমির হোসাইন, নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।

    সাংবাদিক এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর তৎকালীন সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণআন্দোলনের সময় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

    উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নানা মাস্টার জোয়াদুর রহমান, প্রবীণ জামায়াত কর্মী মুহুরী আব্দুল খালিক এবং লেখক ও গবেষক আব্দুল হাকিম তাপাদারের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

  • সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে আইন অমান্য করার অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪,৯৭০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করা হয়।

    এর মধ্যে আবাসন আইনের ৭,৪৩৭ জন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের ৩,৯৯১ জন এবং শ্রম আইনের ৩,৫৪২ জন অপরাধী রয়েছেন।

    এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব ঢোকার সময় আরও ১,৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার সময় ধরা পড়েছেন ৩৩ জন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের সাহায্য বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৮ জন।

    বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্য করলে ১৫ বছরের জেল এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষকেও এ ধরনের অপরাধ দেখলে পুলিশকে গোপনে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে এক কোটি ৮ লাখ টাকার সাড়ে ৪ টি সোনার বারসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি| বৃহস্পতিাবর দুপুরে যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়|
    আটক তৌফিকুর রহমান শার্শা উপজেলার ¯^রুপদাহ গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে| সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়| বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন|
    বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকায় অভিযান চালায়| এ সময় সন্দেজনকভাবে তৌফিকুল ইসলামকে আটক ও দেহ তল্লাশিকালে প্যান্টের পকেটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৪ টি সোনার বার| যার ৫৩৬ গ্রাম উদ্ধার করা হয়| ¯^র্ণের দাম এক কোটি ৮লাখ ২১ হাজার ৯৮০ টাক| এ ছাড়া আটক তৌফিকুলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে|
    ৪৯ বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, এ ঘটনায় বিকেলে আটক তৌফিকুরের কোতয়ালি থানায় মামলা দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে| সন্ধ্যায় তৌফিকুরকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|

  • বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    রেল কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিকা বিউটি আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

    গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷ আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এক বছর আগে মামুনের সাথে বিউটির ননদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তাদের দেখা হত। বিষয়টি জানত না মামুনের পরিবার। শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় আসে। মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। মামুনকে সেখানে আসতে বলে দেখা করার জন্য।

    গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে যায়। বিয়ে করার জন্য বিউটি তাকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    এক পর্যায়ে বিউটি দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গে জখম করে। একই সঙ্গে পেটেও ছুরি মারে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ টার দিকে মারা যায় মামুন।

    এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুলাই বিউটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

    জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

    নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’

    সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।

    এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

    এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

    পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানা পুলিশ ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতে হাজির করলে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিনে পৃথক অভিযানে এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনা এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে জয়রামপুর মালিথা পাড়ায় অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে বাড়ির সামনে মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মো: টোটন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ পিস ইয়াবা ও ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

    আটক টোটনকে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো চার দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    এদিকে, দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মো: ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: লিটন মিয়াকে ছুটিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুইজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল মাদকদ্রব্য কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ তুষার শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর থানার দেলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতার তুষার শেখ দেলভোগ দয়হাটা এলাকার মরহুম শেখ করিমের ছেলে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসান (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভাড়া করা একটি বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালান। এ সময় তুষার শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১১০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) এবং ৩২ রাউন্ড পিতলের তৈরি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ,আর

  • ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল এ তথ্য জানায়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছর বয়সী ইজিবাইকচালক মিশকাতের গাড়িতে যাত্রীবেশে চারজন ওঠে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ এবং কুষ্টিয়ার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

    পুলিশ জানায়, প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইক ও মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয়জনকে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের প্রবেশাধিকার’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলতে পারি গত কয়েক মাসের সরকারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। আর এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (গুম)-এর ব্যাপারে একটা রিপোর্টেড কেস যখন এসেছে আমরা সেটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য আমি ইন্টার্নালি বলেছি।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জজ সাহেব যখন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি ভালো জজ যদি নিয়োগ হয়, ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব।

    রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং সেটা আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সাইকেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মনে করছি, আমরা আস্তে আস্তে সব রকম সংস্কারের দিকেই আগাবো। কিন্তু এ জন্য আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।

    আজকের পরামর্শ সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪শে জুলাই। ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোন পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি।

    তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিকভাবেই ১৫ই জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা। তাই আশা করি, সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

    দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন- এই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘অধিকার’-এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান।

    অধিকার আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

  • গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দুই দিন আগে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও দেখার মতো সময় তাঁর নেই। দুই দিন পর তিনি দাবি করছেন, ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় করা আবেদনটি তালিকাভুক্ত করতে (শুনানির দিন ধার্য করতে) তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

    ‘লাইভ ল’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কোনো রিট পিটিশনই করা হয়নি।

    পুলিশি নির্যাতনের মধ্যে চলমান এই আন্দোলনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। মে মাসে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্য তরুণসমাজকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ আরশোলার মতো ঘুরে বেড়ায়, যাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই এবং পেশাগত জগতেও কোনো জায়গা নেই। এর জের ধরে অনেকটা কটাক্ষ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠিত হয়।’

    এই দল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২২ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখী তাদের পদযাত্রায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। সেই সময়ে পুলিশ শিক্ষার্থী নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। কাঁদানে গ্যাস শেল ছুড়ে এবং পেলেট গান ও পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহার করে তাদের ওপর চড়াও হয়।

    ২২ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানানো আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    আইনজীবী যখন বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিওর প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই; আমাদের এগুলো দেখার সময় নেই।’

    ঠিক দুই দিন পর আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা ছাড়া কেবল একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।

    ‘লাইভ ল’-এর তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দুই দিনে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, মামলাটি নাকি দায়ের করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম কোনো দায়িত্ব না নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে, প্রধান বিচারপতি মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সূর্য কান্ত দাবি করেন, ‘আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি পাতাও জমা পড়েনি। ওটা কেবল একটি স্মারকলিপি ছিল…যা ওই মিশ্র বা কেউ একজন পাঠিয়েছিলেন। আমি কীভাবে একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? আর মানুষ এসব নিয়ে বেপরোয়া সংবাদ প্রকাশ শুরু করে দিল।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম যখন শুনানির জন্য অন্য একটি বিষয় উল্লেখ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

    বেশির ভাগ গণমাধ্যম মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তাঁর অনীহার চেয়ে তাঁর মৌখিক মন্তব্যের ওপরই বেশি জোর দিয়েছিল।

    এক দিন আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সকালে বলেছিলেন, বেলা তিনটার মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্ট মেট্রোস্টেশন খুলে দেওয়া না হয়, তবে শীর্ষ আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবেন। গতকাল কর্তৃপক্ষ ১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কেবল আন্দোলনকারীদেরই নয়, সাধারণ কর্মজীবী ও সেবাদাতাদেরও চরম ভোগান্তিতে ফেলেছিল।

    সংবিধানবিশেষজ্ঞ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি দুষ্যন্ত দাভে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব করণ থাপারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সংবেদনহীন।

  • অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি আরবের ২৯ বছর বয়সী যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সৌদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে বৃটেনের এক আদালতের তদন্তে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল, মাদক এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। আদালত এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুহিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় যুবরাজ আবদুল্লাহকে পাওয়া যায়। কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরজা খুলে তাকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্যারামেডিকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
    ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার আদালতের তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক মাদক ও ওষুধ গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে উল্লেখ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া মৃত্যু।

    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
    আদালতে জানানো হয়, যুবরাজ আবদুল্লাহ ওই সালের ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে গিয়ে পরে একাই হোটেলে ফিরে আসেন। তদন্তকারীরা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাননি।
    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় তার রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া যায়, যা ইংল্যান্ডে বৈধ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে প্রাণঘাতী মাত্রার গামা-হাইড্রক্সিবিউটিরেট , গাঁজার উপাদান, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ আলপ্রাজোলাম (জ্যানাক্স) এবং আরও কিছু অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
    ময়নাতদন্তে তার শরীরে কোনো তীব্র বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে জানানো হয়, অ্যালকোহল ও একাধিক মাদকদ্রব্যের সম্মিলিত প্রভাবে তার হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।

    আগে থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন
    তদন্তে আরও জানা যায়, যুবরাজ আবদুল্লাহ আগে থেকেই অ্যালকোহলের অপব্যবহার ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি লন্ডনের রোহ্যাম্পটনের প্রায়োরি ক্লিনিকে ডিটক্সিফিকেশন কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। পরে মার্সিসাইডের রেইনফোর্ড হল পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা চালিয়ে যান।

    পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে জানান, চিকিৎসায় যুবরাজ ভালো সাড়া দিয়েছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মনে করা হয়নি। যদিও পরে তিনি নির্ধারিত ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হননি।
    সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যায় যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততারও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

    সৌদি রাজপরিবারের ঘোষণা
    সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সৌদি রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে যুবরাজ আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সৌদি আরবের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে রাজধানী রিয়াদের ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    এদিকে তারুদান্ত প্রেস যুবরাজ আবদুল্লাহকে সৌদি রাজপরিবারের একজন শান্ত, ভদ্র ও সবার শ্রদ্ধাভাজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নীরবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতেন এবং জনসম্মুখে না এলেও তার দাতব্য কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।

  • মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে ‘ফাঁপা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানসহ একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হবে। সেইসঙ্গে এ ধরনের মামলার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি । এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেজরিওয়াল এই মন্তব্য করেন।

    একটি ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘গত রাতে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সোমবার সংসদে একটি বিল আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এই আশ্বাস কতটা ফাঁপা, তা গতকালই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল হোতাকে সিবিআই আদালতে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এ ধরনের তদন্তই করতে হয়, যদি আদালতে দেখানোর মতো কোনো প্রমাণই না থাকে, তাহলে দ্রুত বিচার আদালতের (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) নাটক কেন?’

    দিল্লির সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে।

  • কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য সুখবর দিল ইতালি

    কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য সুখবর দিল ইতালি

    ইতালিতে বসবাসরত কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আদালত বলেছেন, শুধু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেম (এসআইএস)-এ প্রশাসনিক সিগন্যাল থাকলেই ২০২০ সালের ইমার্সিওন (সানাতোরিয়া) কর্মসূচির আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা যাবে না।

    রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, ইমিগ্রেশন আইনের যে বিধানের মাধ্যমে কেবল এসআইএসে প্রশাসনিক সিগন্যালের ভিত্তিতে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতো, তা ইতালির সংবিধানে বর্ণিত সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, ইতালিতে বসবাসের বাস্তবতা এবং জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধুমাত্র এসআইএসে প্রশাসনিক সিগন্যাল থাকার কারণে আবেদন বাতিল করা যাবে না।

    এই রায়ে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বহু অভিবাসী উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের সানাতোরিয়া আবেদন অবৈধ প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে এসআইএস সিগন্যাল দেখিয়ে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, গুরুতর অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। এমন ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের সানাতোরিয়া আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে অথবা একই কারণে অতীতে বাতিল হয়েছে, তারা অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আবেদন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

  • শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    ভারতের মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি মুম্বাই কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফের আন্দোলনে এলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

    গত কয়েক দিনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

    ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সামনের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং আর কখনো বিক্ষোভে না আসতে বলেন।

    ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার এখানে দেখা গেলে তোমাদের জীবন শেষ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম মাদক রেখে মিথ্যা মামলা দেব, তখন সারাজীবন শেষ হয়ে যাবে।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে মুম্বাই কংগ্রেস দাবি করেছে, যদি ঘটনাটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দলটির বক্তব্য, প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ নয়; শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।

    এ ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা পুলিশের গাড়িচালককে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নজরদারি করছে এবং অনেকের বাড়িতে গিয়েও সতর্ক করছে।

    এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা বা আইনি নোটিশ ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৩৪ দিন সময় লেগেছে। তার এই দীর্ঘসময়ের নীরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সিজেপির প্রধান। তিনি আরো জানান যে, ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবি সত্ত্বেও সরকার এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করে চলেছে।

    এর আগে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির জন্য ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। তবে মোদি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি কাঁপানো ছাত্র আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

    সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এই উদ্যোগকে সামান্য ‘ব্যান্ড-এইড’ বা সাময়িক মলম দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শূন্য সাজা বা সাজাহীনতার ইতিহাস রয়েছে। তাই কেবল এই আশ্বাসে কাজ হবে না।’ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী দল ভারতীয় সংসদ অচল করে দেয়। দিল্লিতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালেও যন্তর মন্তরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে হাজারো তরুণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেয়ার সময় তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাকিরকে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে নিয়ে যান।

    এর আগে, গত ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকির হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

    তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, বারবার আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে ফাহিমার লাশ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, জাকির হত্যার পর লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

    গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাদর ও একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফাহিমা হত্যাকাণ্ড সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মামলাটি বর্তমানে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    মামলার অগ্রগতি :
    ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

    এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

    এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

    গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

    পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

    নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

    নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

    অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। ১০ এপ্রিল ২০২৬

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

    দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

    কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

  • খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর  করলো ইরান

    খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিচারিক রায়ের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মেহদি খানকি। তার বিরুদ্ধে একটি ‘বিপ্লববিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্য হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    ফার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী কারাজ শহরে অভিযান চালিয়ে মেহদি খানকিকে গ্রেফতার করে। অভিযানে তার বাড়ি থেকে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    এর মধ্যে ছিল পিস্তল, গুলি, বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণের রিমোট, হাতে তৈরি গ্রেনেড, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিস্ফোরক টিউব এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে সেই রায় কার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠিচার্জ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলা দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান এক আইনজীবী। তবে তা শুনতে অস্বীকার করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

    আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    ওই আইনজীবী আদালতকে বলেন, জনগণের স্বার্থেই আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেশটির প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ’।

    এরপর ওই আইনজীবী কিছু ভিডিও দেখিয়ে পুলিশি নির্যাতনের প্রমাণ দিতে চেয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সময় নেই। আমরা কোনো ভিডিও দেখতে পারব না।’

    মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টও এই মর্মে কোনো জরুরি শুনানি করতে রাজি হয়নি। পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা সম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্ট বলে দেয়, ‘এসবের মধ্যে আদালতকে টেনে আনবেন না।’

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি ও এর সমর্থকরা।

    এই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা একটি মন্তব্য থেকেই জন্ম হয় ককরোচ জনতা পার্টির। দেশের বেকার যুব সম্প্রদায়কে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।