সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত। এই এক আয়াতে আল্লাহর একত্ব, তাঁর চিরঞ্জীব সত্তা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির শুরু এ রকম: ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা বা ঘুম তাঁকে স্পর্শ করে না।’
হাদিসে এ আয়াতের মর্যাদা
উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তাঁর জানামতে সবচেয়ে মহান। উবাই (রা.) আয়াতুল কুরসির কথা বললে নবীজি (সা.) তাঁর জ্ঞানের প্রশংসা করেন। (মুসলিম, হাদিস: ৮১০)
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি ঘটনায় এসেছে, রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক থাকে, শয়তান কাছে আসতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) কথাটি সত্য বলে জানিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস: ৫০১০)
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, মৃত্যু ছাড়া তার জান্নাতে যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকে না। হাদিসটি ইমাম নাসায়ি বর্ণনা করেছেন; ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন।
শিশুর জন্য কেন
ছোট বয়সে মুখস্থ করা সহজ, আর তখন যা শেখা হয় তা মনে থাকে দীর্ঘদিন। আয়াতুল কুরসির অর্থ সহজ করে বললে শিশু জানতে পারে, আল্লাহ এক, তিনি সব জানেন এবং সবকিছু তাঁরই। ভয় পেলে বা একা লাগলে কার ওপর ভরসা করতে হয়, সে শিক্ষাও সে এখান থেকে পায়।
যেভাবে শেখানো যায়
- একবারে পুরো আয়াত নয়। প্রতিদিন একটি-দুটি বাক্যাংশ, সঙ্গে আগের দিনের অংশ ঝালিয়ে নেওয়া।
- উচ্চারণ শুদ্ধ হওয়া জরুরি। মা-বাবা নিজে নিশ্চিত না হলে একজন কারির কাছে বা নির্ভরযোগ্য তিলাওয়াত শুনিয়ে শেখানো ভালো।
- মুখস্থের সঙ্গে অর্থ। শিশুর বয়স বুঝে দু-এক কথায় বলে দেওয়া, এই অংশে আল্লাহ সম্পর্কে কী বলা হলো।
- রোজকার অভ্যাসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া: ঘুমের আগে ও নামাজের পরে। হাদিসে এ দুই সময়ের কথাই এসেছে।
- চাপ বা শাস্তি নয়। ভুল হলে শুধরে দেওয়া, পারলে প্রশংসা করা।
শিশু সবচেয়ে বেশি শেখে দেখে। মা-বাবা নিজে নামাজের পর ও ঘুমের আগে আয়াতটি পড়লে সেটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাঠ হয়ে ওঠে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
