আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ইরানি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।
    কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে বলেছেন, জনসমক্ষে এখন পর্যন্ত ধ্বংসের পরিমাণ যা জানানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তা অনেক বেশি এবং এসব মেরামতের জন্য শত শত কোটি ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার শুরু করলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। অন্তত সাতটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে শুরু করে কমান্ড সেন্টার, বিমান ঘাঁটি এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের কেন্দ্রে হামলা চালায় তেহরানের বাহিনী।

    ইরানের হামলায় এসব দেশের রানওয়ে, রাডার সিস্টেম, এমনকি যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুরাতন একটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

    তবে ইরানের হামলায় কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য জানায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড।

    ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তুলে না ধরায় ইতিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রিপাবলিকান নেতা। এদিকে পেন্টাগন মার্কিন কংগ্রেস থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ চেয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর ব্যয় হয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য দেড় ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা জানান।

  • মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা

    মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা

    পশ্চিম আফ্রিকার জান্তা-শাসিত দেশ মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও ক্যামারাকে হত্যা করা হয়েছে। দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বিত হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাটির গ্যারিসন শহরে প্রথমে সাদিওর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এর একদিন পরেই সাদিও ক্যামারার নিহত হওয়ার খবর এলো।

    এর আগে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মালি জুড়ে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে বন্দুকধারীরা। রাজধানী বামাকোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চলছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে।

    হামলায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বামাকোতে সেনা ব্যারাকে এবং অন্যান্য সেনাশাসিত অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মালির সবখানে গোলাগুলি চলছে।

    মালি বর্তমানে জেনারেল আসসিমি গোইতার নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জান্তা দ্বারা শাসিত হচ্ছে। ২০২০ সালে তিনি একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রথম মালির ক্ষমতা দখল করেন।

  • ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে বন্দুকধারী কীভাবে ঢুকেছিলেন, বলরুমে কী ঘটেছিল

    ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে বন্দুকধারী কীভাবে ঢুকেছিলেন, বলরুমে কী ঘটেছিল

    হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের নৈশভোজের আয়োজন যে হোটেলে করা হয়েছিল সেটি ওয়াশিংটন ডিসিতে। হোটেলের ভেতরের একটি বলরুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেলে বন্দুক কীভাবে ঢুকল- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

    উপস্থিত থাকা অতিথিরা জানিয়েছেন, বলরুমের বাইরে একটি মেটাল ডিটেক্টর বসানো ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রবেশ পথ বা এর আগে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে চেকপয়েন্ট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি বলরুমের একেবারে বাইরে ছিল। মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, ‘ওই চেকপয়েন্ট সক্রিয় থাকায় কেউ আহত হননি।’

    ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরে তিনিই বলেন, ‘বন্দুকধারী বলরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। সেটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল।’

    অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য অতিথিরা। ছবি: এএফপি

    হোটেলটিতে বন্দুকধারী বন্দুক নিয়ে কীভাবে ঢুকেছিলেন সেটির প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেফ ক্যারল। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বন্দুকধারী কীভাবে হোটেলে ঢুকলেন এবং সেখানে (বলরুমের কাছে) পৌঁছালেন, তা বোঝার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।

    সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের অতিথি ছিলেন। তবে কখন চেক-ইন করেছিলেন বা তাঁর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে ক্যারল বিস্তারিত জানাননি। তিনি উল্লেখ করেন, নৈশভোজের জন্য নির্ধারিত বলরুমের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর কাছে থেকে একটি শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

    বলরুমে কী হয়েছিল?
    এএফপির সাংবাদিক ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের বার্ষিক এই নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যের পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তা টিম মঞ্চে অবস্থান নেয়। মঞ্চে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বসেছিলেন। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন।

    আতঙ্কে বলরুম ছেড়ে যান অতিথিরা। ছবি: এএফপি

    বলরুমে উপস্থিত কয়েক’শ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। পরে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হলে তারা হোটেলের লবিতে এবং সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অনুষ্ঠানের অতিথি আহত হননি।

    গুলির ঘটনা যেভাবে ঘটল
    কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে একজন বন্দুকধারী বলরুমের ঠিক বাইরে হোটেলের লবিতে থাকা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে যান। তিনি জোর করে চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি চেকপয়েন্টে হামলা চালাচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলির পর তাঁকে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে তোলা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকা এই ব্যক্তিই ঘটনার একমাত্র সন্দেহভাজন।

    বন্দুকধারী গুলি করার পর সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। ছবি: এএফপি

    মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্বিতীয়টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা।

    সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে?
    ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, হোটেলের লবির কার্পেটে খালি গায়ে উপুড় হয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তাঁর হাত পেছনে বাঁধা। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরান্স শহরের বাসিন্দা।

    সন্দেহভাজনের ছবি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

    এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাতেই এফবিআই এজেন্টদের টরান্সের একটি বাড়ির বাইরে দেখা গেছে। লিংকডইনে ‘কোল অ্যালেন’ নামে একটি প্রোফাইলে এমন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে, তাঁর চেহারা ট্রাম্পের পোস্ট করা ব্যক্তির মতোই। লিংকডইনের অ্যাকাউন্টধারী কোল অ্যালেনের পরিচয় হিসেবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, গেম ডেভেলপার ও শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, কোল অ্যালেন নামে একজন ২০১৭ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

  • ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা বিমান ঘাঁটিতে আগুন

    ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা বিমান ঘাঁটিতে আগুন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহিনী যুক্তরাজ্যের যে ঘাঁটি ব্যবহার করেছে, সেখানে আগুন লেগেছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোরের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে এ ঘটনা ঘটে।

    আগুনে কেউ হতাহত হননি এবং কোনো আরএএফ বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের সূত্রপাত একটি পুরনো পরিত্যক্ত ভবনে। সেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর সরঞ্জামের কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

    একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘাঁটির কমিসারি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়ছে। সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাধারণত কমিসারি হিসেবে পরিচিত দোকান থেকে খাবার ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। ঘটনাস্থলের অন্য ছবিতে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর সময় ভবনটির ছাদ ধসে পড়েছে।

    যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেন, কর্মীরা ফেয়ারফোর্ড এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন নেভাতে গেছেন। ধোঁয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ‘হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না’

    ‘হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না’

    ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কোনো অবস্থাতেই তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে না। রোববার (২৬ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এটি সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে আসা একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ।

    বক্তব্য চলাকালীন নিকজাদ উল্লেখ করেন, বিপ্লবের নেতার নির্দেশ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির বর্তমান রুদ্ধ অবস্থা বজায় রাখা হবে। উল্লেখ্য, মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেননি বা কোনো প্রকাশ্য ভাষণ দেননি।

    হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাবকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নিকজাদ বলেন, যুদ্ধের এটি একটি ঐশ্বরিক আশীর্বাদ যে আমরা বুঝতে পেরেছি—যদি আমরা হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাবের কণ্ঠনালীতে পা দিয়ে চেপে ধরি, তবে বিশ্ব অর্থনীতির ২৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।ইয়েমেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী বাব আল-মানদাব প্রণালীটিও বিশ্ব নৌ-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

    চলতি বছরের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে আসা প্রথম বার্তাতেই এই প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তার এই অবস্থান বিশ্ব বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

    বর্তমানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের একটি অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই সমুদ্রপথটি। ইরানের এই নতুন অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ইরানে আঠা কারখানায় ভয়াবহ আগুন

    ইরানে আঠা কারখানায় ভয়াবহ আগুন

    ইরানের চাহারবাগ শহরের আঘদাসিয়েহ এলাকায় একটি আঠা কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও দেশটির অফিসিয়াল সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার এ আগুন লাগে।

    কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর চাহারবাগ ও আশপাশের শহর থেকে ফায়ার ফাইটার বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    চাহারবাগের সিটি কর্তৃপক্ষ আইআরএনএকে বলেছেন, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

    এখন পর্যন্ত আগুনের কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তীব্র প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

  • জাপানে ভয়াবহ দাবানল, নিয়ন্ত্রণে হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন

    জাপানে ভয়াবহ দাবানল, নিয়ন্ত্রণে হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন

    জাপানের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি ১,৪০০ জন দমকলকর্মী এবং ১০০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স সদস্য মোতায়েন করেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা পঞ্চম দিনের মতো আগুন জ্বলতে থাকায় এটি একটি সুন্দর উপকূলীয় শহরের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ১ হাজার ৩৭৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই আগুন প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ওৎসুচি শহরের আবাসিক এলাকাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০১১ সালের মার্চ মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে শহরটি তার প্রায় এক-দশমাংশ জনসংখ্যা হারিয়েছিল।

    এলাকাটি থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৫৪১টি পরিবার বা মোট ৩ হাজার ২৩৩ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা ওৎসুচির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।ওৎসুচির মেয়র কোজো হিরানো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাস আগুনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইয়োশিনোরি কোমাতসু আগুনে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দূরে হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলার দৃশ্য দেখতে দেখতে তিনি বলেন, “আগুন সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। সুনামির পরেও কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু আগুন কিছুই রাখে না।”

    জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র একজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার ওই অঞ্চলে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে মঙ্গলবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

  • আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    আটক দুই শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে প্রায় আট ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।

    ঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

    বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া পাটশিরি সীমান্ত এলাকা থেকে বিএসএফের ১৩২ ব্যাটালিয়নের মরিচা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে। পরে বিকেলে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    ফেরত আসা শিক্ষার্থীরা হলো, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার শিবু চন্দ্র রায়ের ছেলে ইন্দ্র (১৪) ও সমারু চন্দ্র রায়ের ছেলে উদয় (১৪)। তারা রশেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা আগের দিন বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে সকালে সীমান্তের মেইন পিলার ৪১৭-এর ৯ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ছবি তুলতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।

    গড়িনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, বিজিবির দ্রুত উদ্যোগ ও কার্যকর যোগাযোগের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: আট ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: আট ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত গড় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ।

    নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখাচ্ছে যে ভোট গ্রহণের আট ঘণ্টায় সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    এই আসনটি মুসলমান অধ্যুষিত এবং এই আসন থেকেই ভোটার তালিকায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছিল।

    অন্য যে দুটি আসনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছিল, সেই লালগোলা ও ভগবানগোলা আসন দুটিতেও যথাক্রমে প্রায় ৮৫ শতাংশ ও প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    ওই তিনটি অঞ্চলেই যখন বিবিসির সংবাদদাতারা গিয়েছিলেন, তখন দেখেছেন যে বহু পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্য থেকে শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি ফিরে আসছেন।

    এই তিনটি এলাকার মানুষদের মধ্যে একটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে এবারের ভোট না দিতে পারলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, তাই তারা কাজের পরোয়া না করেই বাড়ি ফিরেছেন।

    রাজ্যের বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী-দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়ছেন, সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে সবথেকে কম ভোটদানের হার পুরুলিয়া আসনটিতে। সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।

  • ইসরায়েলের হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল

    ইসরায়েলের হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল

    সেই এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল৷ কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেন তার মরদেহ৷ লেবাননের দৈনিক আল-আখবার জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিক ছিলেন তাদের প্রতিবেদক – নাম আমাল খলিল৷

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম হামলায় নিহত হয়েছিলেন দুজন৷ পরে আবার হামলা চালায় ইসরায়েল৷ তখন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের আল-তিরি গ্রামের ওই বাড়িটিতেও আঘাত হানা হয়৷ আমাল খলিল ও তার সহকর্মী জেইনাব ফারাজ আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই বাড়িতে৷

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর আহত ফারাজকে উদ্ধারের পর প্রথম বিমান হামলায় নিহত দুজনের মরদেহও উদ্ধার করেন৷ কিন্তু ইসরায়েলের বাহিনী তারপর উদ্ধারকারীদের ওপর গুলি চালানোয় তখন আর আমাল খলিলের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি৷ হামলার অন্তত ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ৷

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা আমাল খলিল ২০০৬ সাল থেকে আল-আখবারের হয়ে স্থানীয় খবর সংগ্রহ করছিলেন৷ তার সর্বশেষ প্রতিবেদনটি ছিল ইসরায়েলের সেনাবাহিনী অবস্থান করছে লেবাননের এমন গ্রামগুলোতে লেবানিজদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করা নিয়ে৷

    আমাল খলিলের মৃত্যুর ফলে ২০২৬ সালে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়ালো নয়৷

  • ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

    ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদে পুনরায় হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোহসেনি এজেয়ি এক বার্তায় বলেছেন, ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এই পবিত্র স্থাপনাটি ধ্বংস করা এবং পবিত্র জেরুজালেমের পরিচয় পরিবর্তন করা।

    তিনি সব মুসলমানের জন্য এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগের প্রধান সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তা প্রকাশ করে ইসরায়েলের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সেখানকার বর্ণবাদী সামরিক বাহিনীর সরাসরি ও সর্বাত্মক সহায়তায় আবারও আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে হানা দিয়েছে এবং এই পবিত্র স্থানের মর্যাদার অবমাননা করেছে।

    বিচার বিভাগের প্রধান এই শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ কেবল একটি সাধারণ হামলা নয়; বরং তারা পরিকল্পিতভাবে আল-আকসা মসজিদকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা যা এখন আর কারও অজানা নয়।

    মোহসেনি এজেয়ে তার বার্তার শেষে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতাকে সবার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের সব মুসলমানের কর্তব্য হলো এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রথম কিবলাকে আগ্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করা।#

  • হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

    হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে যেমন এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে, ঠিক তেমনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনো অনিশ্চিত। এরইমধ্যে পেন্টাগন বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেসব মাইন পুঁতে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো অপসারণ করতে ছয় মাস পর্যন্তও সময় লাগতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তারা মনে করছে।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিবিসি অ্যারাবিক জানিয়েছে, মঙ্গলবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ মন্তব্য করেন। ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    ওই তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন বলেন, সম্ভাব্য এই সময়সূচি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সদস্যরাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও জ্বালানি ও তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই তিন কর্মকর্তা জানান, কমিটিকে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরান মাইন পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কংগ্রেসকে বলেন, এসব মাইনের কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে স্থাপনের সময় মার্কিন বাহিনীর জন্য সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    এ ছাড়া, আরও কিছু মাইন ছোট নৌযান ব্যবহার করে ইরানি বাহিনী পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ আসেন কেবল ‘সন্তান জন্ম’ দিতে: ট্রাম্প

    ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ আসেন কেবল ‘সন্তান জন্ম’ দিতে: ট্রাম্প

    ভারতের নাগরিক ও অভিবাসীদের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক এবং বর্ণবাদী একটি মন্তব্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইকেল স্যাভেজ-এর একটি অডিও পডকাস্ট এবং এর লিখিত অংশ ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পুনরায় পোস্ট করেছেন। ওই পডকাস্টে ভারত ও চীনকে ‘হেল-হোল’ বা ‘জাহান্নাম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

    মাইকেল স্যাভেজ তার ‘স্যাভেজ নেশন’ নামক পডকাস্টে দাবি করেন, ভারত ও চীন থেকে আসা লোকজন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন কেবল ‘সন্তান জন্ম’ দিতে, যাতে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। ওই চিঠিতে তিনি ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে সম্বোধন করেন।

    স্যাভেজের ভাষায়, তারা আমাদের পতাকাকে পদদলিত করেছে এবং মাফিয়াদের চেয়েও এই দেশের বেশি ক্ষতি করেছে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো টেক কোম্পানিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়া অসম্ভব, কারণ পুরো ব্যবস্থাটি ভারতীয় ও চীনারা নিয়ন্ত্রণ করছে।

    সম্প্রতি সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। যদিও এই দাবিটি ভুল। কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় তিন ডজন দেশে এ নিয়ম চালু রয়েছে।

    বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথা বন্ধ করতে মরিয়া। গত জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বন্ধ করা।

    মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যে কেউ দেশটির মাটিতে জন্ম নিলে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ নামক একটি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

    এই মামলার সম্ভাব্য রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আদালত যদি আমাদের দেশের বিপক্ষে (নাগরিকত্বের বিপক্ষে) রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার বিপুল অর্থের ক্ষতি করবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, এটি আমেরিকার মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।

    ট্রাম্পের এমন উস্কানিমূলক পোস্ট এবং ভারত-চীনের মতো দেশগুলোকে ‘জাহান্নাম’ বলার মতো মন্তব্যকে সরাসরি বর্ণবাদ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দক্ষ অভিবাসীদের ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে অত্যন্ত অবমাননাকর বলে মনে করছে অভিবাসী সম্প্রদায়।

  • ৩১টি ইরানি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী

    ৩১টি ইরানি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী

    ইরানের এখন পর্যন্ত ৩১টি তেলবাহী জাহাজকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে বা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সংস্থাটি জানায়, ইরানের ওপর সমুদ্রপথে আরোপিত অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযান পরিচালনা করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

    খবরে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বন্দরে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। তিনি এই অভিযানকে অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, বন্দর নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটক করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই অবরোধের কারণে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

    অন্যদিকে জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ভরটেক্সা বলছে, এখনো অন্তত ৩৪টি তেলবাহী জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে চলাচল করছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ উপসাগর ছাড়ছে, আবার কিছু আরব সাগর হয়ে ইরানের দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ তাদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে গন্তব্য গোপন রাখার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে ‘ডোরেনা’ নামের একটি বড় ট্যাংকারের কথা বলা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার উপকূলে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে তেল স্থানান্তর করছিল।

  • ভোট দিতে পারলেন না নবাব মীর জাফরের বংশধররা

    ভোট দিতে পারলেন না নবাব মীর জাফরের বংশধররা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি মীর জাফরের বংশধর ও ছোটে নবাব হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা ও তার ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জাসহ সেই বংশের ৩৪৬ জনের সদস্য।ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন তারা।

    যে শহরের ইতিহাস, স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের প্রতিটি ইটে জড়িয়ে রয়েছে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম, সেই শহরের ভোটদান প্রক্রিয়া থেকেই বঞ্চিত হলেন নবাব মীরজাফরের বংশধরেরা। প্রথমে বিবেচনাধীন থাকলেও পরে ভোটার তালিকা প্রকাশ পেলে দেখা যায় তাতে নাম নেই তাদের।

    মিরজাফরের ১৫তম বংশধর মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা। যিনি মুর্শিদাবাদে ছোটে নবাব নামে পরিচিত। এখনও কিল্লা নিজামত এলাকার ঘণ্টা ঘরের কাছে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তার ছেলে তথা নবাবের ১৬তম বংশধর সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম মির্জাও বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন।

    মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে তারও। ওই অঞ্চলে নবাব পরিবারের হাজার তিনেক সদস্যের বাস। তাদের মধ্যে হাজার দুয়েক ভোটার। এ বারের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৩৪৬ জনের।

    ভোট দিতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা আলি মির্জা বলেন, না, যাচ্ছি না। মারধর খাব নাকি? ভেবেছিলাম, ভোট দেওয়ার আবেদন করব বুথকেন্দ্রে। কিন্তু তারপর ভাবলাম যদি কোনও গন্ডগোল হয় তাহলে তার পুরো দায় এসে পড়বে আমার উপরে। এসব ভেবেই আর গেলাম না। এই বয়সে পৌঁছে জীবনে প্রথমবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম। খুব খারাপ লাগছে…এটা কি আমার প্রাপ্য ছিল বলুন?

    তিনি আরও বলেন, মুর্শিদাবাদ শহরে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে অন্যান্য নবাবী স্থাপত্য সব আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরি। অথচ ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে নাগরিকত্বই কেড়ে নেওয়া হল। আমরা নবাব মীরজাফরের বংশধর। সৈয়দ ওয়াসিফ আলি মির্জাকে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পরিবার চিরকাল ভারতীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ তিনদিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেষে আমাদের পরিবারের হস্তক্ষেপে খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর সেই বংশধরদের আজ এই দশা!

  • ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    কয়েক বছর আগে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর তৎপরতা সম্পর্কিত সামরিক প্রতিবেদনে প্রথম ইরানের ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে হাউছিদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর উৎস খুজতে গিয়ে তার সাথেও ইরানের সম্পর্ক খুঁজে পান।

    তবে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইরান রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবারহ করে, তখন সারা বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।

    এর কিছুদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে জেরেনিয়াম-২ (শাহেদ-১৩৬) ড্রোন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছিল।গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি দেশ কিভাবে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে খেলার নিয়ম বদলে দিতে সক্ষম হলো? ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর সাফল্যের মূল চালিকাশক্তিগুলো আসলে কী?প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান তাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। তখনকার ইরানের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের প্রকৌশলীদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদেরকেই উদ্ধুদ্ধ করেছিল।নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশে একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা বেসামরিক প্রযুক্তিরও সহায়তা নিয়েছে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ইরানিরা সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করেছিল এবং তা ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করে গেছে। যা তাদের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ধরা দেয়।

    ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে যখন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্ত্রের দিক এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। সে সময় ইরানের বিমানবাহিনীর কাছে এফ-১৪ টমক্যাটের মতো বিমান ছিল। যা সেই সময়ে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।তবে এই বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন মূলত ইরানে নিযুক্ত আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা। যন্ত্রাংশ সরাসরি আমেরিকান কোম্পানি সরবরাহ করত। ফলে, ইরানের বিমান বাহিনী অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, কেউ আবার গুপ্তহত্যা কিংবা কেউ কেউ কারাবন্দী হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরাও ইরান ত্যাগ করেন এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।তখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানের কেনা শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিমানগুলো অকেজো ধাতুতে পরিণত হয়েছিল।

    প্রয়োজনই আবিষ্কারের জনক১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আট বছর ধরে চলে।এই যুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসের নৃশংসতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রও ছিল। এই দীর্ঘ ও বিভীষিকাময় যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।ইরাকি সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে গোয়েন্দা বিমান ক্রয় করে এবং ইরানি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করত, যা তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করে।এর বিপরীতে তখন ইরানের সামরিক বাহিনী এমন একটি যুদ্ধ লড়ছিল, যার জন্য তাদের কাছে না ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সামরিক সক্ষমতা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেমন অকেজো পড়েছিল, তেমনি নিজেদের প্রযুক্তিকেও তখন আর উন্নত করতে পারেনি নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে।ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্ববাজার থেকে সেই প্রযুক্তি কিনতে পারছিল না।যে কারণে ইরানি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নেয়ার বদলে তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন ও তৈরি করবে।ভাবনাটি ছিল একেবারেই সহজ। যদি শত্রুর অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সীমান্ত পেরিয়ে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো একদিকে যেমন ছিল সস্তা অন্যদিকে সেগুলোকে শনাক্ত করাও ছিল বেশ কঠিন।

    ১৯৮১ সালের শুরুর দিকেই ইরানিরা এই ছোট ডিভাইসগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। সেগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কথাও চিন্তা করে। ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যেখানে শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীরা একসাথে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন।তারা এই যন্ত্রগুলোর নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, পরীক্ষা ও উন্নয়নমূলক পর্যায়গুলো সম্পন্ন করে পরে তা আইআরজিসি বা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে।ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি সাধারণ ওয়ার্কশপ ছিল। যেখানে দৃঢ় সংকল্পবব্ধ ও উজ্জীবিত তরুণরা কাজ করত। যাদের অনেকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ ছিল।বছরের পর বছর প্রচেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা এবং নিরন্তর সংগ্রামের পর ওই তরুণরা ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওর্য়াকশপে একটি নকশা তৈরি করেন। পরে খুজেস্তানের খোলা মাঠে তা উৎক্ষেপন করে পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।তাদের মধ্যে ছিলেন ফারশিদ নামের একজন বেসামরিক পাইলট, সাঈদ নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র এবং মাসুদ জাহিদী নামের একজন পেশাদার স্বর্ণকার।

    প্রথমবার যখন তারা তাদের প্রাথমিক মডেলটি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিল তখন কোনো কোনো কর্মকর্তা এটি নিয়ে উপহাস করেছিলেন।তারা যে মডেল তৈরি করেছিল তা দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের খেলনার মতো ছিল। তাতে জ্বালানি ট্যাঙ্ক হিসেবে যে বস্তুটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মেডিক্যাল আইভি ব্যাগ। আর প্রপেলার বা পাখাটিও ছিল হাতে তৈরি।

    প্রথম ড্রোন যুদ্ধ১৯৮৩ সালে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে সেই ‘খেলনা বিমান’ বা ড্রোনটি প্রথমবারের মতো ইরাকি সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম হয়।সেখান থেকে খুব পরিস্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছবি নিয়ে ফিরে আসে, যেখানে ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এই সাফল্যের পর ‘থান্ডার ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং একটি নিয়মিত ড্রোন কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপে তৈরি এ বিষয়টি পরে আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে আসে। তখন তারা বিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে।পরে আইআরজিসি দুবাইতে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করে। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো ইসফাহানে নেয়া শুরু হয়। সেখানেই যন্ত্রাংশগুলো জোরা দিয়ে ড্রোন তৈরি শুরু হয়

    ২০২২ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে পাঠানো একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ভূপাতিত করে ইউক্রেন। যাতে একটি মার্কিন চিপও পাওয়া গিয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপের সেই ড্রোনগুলো এক সময় গোয়েন্দা তৎপরতায় নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। ১৯৮৩ সালের পর আইআরজিসি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে।তবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘রাদ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রকৌশলী ও সামরিক সদস্যরা শুধু নজরদারির জন্য নয়, ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা নিয়েও কাজ শুরু করেন।

    যদি কোনো ড্রোন শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে তাদের গতিবিধির ভিডিও ধারণ করতে পারে, তাহলে সেটিতে অস্ত্র যুক্ত করলে তা সরাসরি আঘাত হেনেও শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব, এমন ধারণা থেকে পরবর্তীতে মোহাজের ড্রোন তৈরি করে।১৯৮৮ সালে ইরান ছিল সেই প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা সশস্ত্র ও পাইলটবিহীন আকাশযান বা ইউএভি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল ড্রোন উদ্ভাবন ও ব্যবহারে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে ইরানই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে ইরানি ড্রোনগুলোর নকশা ছিল কিছুটা অপরিপক্ক। যেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারের বেশি উড়তে পারতো না। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে ইরান এমন উন্নত ড্রোন তৈরি করেছে যা ইরান থেকে উড়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ইসরাইল সামরিক উদ্দেশ্যে পাইলটবিহীন ড্রোন বা ইউএভি ব্যবহার করা প্রথম দেশ ছিল।১৯৭৩ সালের যুদ্ধে তারা এগুলো ব্যবহার করেছিল মিশরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে। একই সাথে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করে তুলতে পারতো। পরবর্তীতে একই কায়দায় ইরানও ড্রোন কর্মসূচি শুরু করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি ছিল আরো উন্নত।একইভাবে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল বেকা উপত্যকায় সিরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানো এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাস্টিফ’ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। যেটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    পরষ্পর বিরোধী ধারণাইরানের বিশেষজ্ঞরা লেবাননের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির ওপর গভীর নজর রাখেন। হিজবুল্লাহর ভেতরে থাকা তাদের মিত্ররা ইসরাইলি ড্রোন সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।পরবর্তীতে সেখানের পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরানি বাহিনী দেখে যে, ইসরাইলি ড্রোনগুলো এতটা জটিল নয় যে তেহরান ও ইসফাহানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সেগুলোর অনুকরণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন না।একাধিক সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোন মডেলগুলোতে ইসরাইলি ‘স্কাউট’ ও ‘মাস্টিফ’ ড্রোনের সাথে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তাদের মতে, ইরানি প্রকৌশলীরা এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসরাইলি নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

    ১৯৭০-এর দশক থেকে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর।একটি গাইডেড মিসাইল এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, তা শত শত অগাইডেড অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হতো।ইরানিরা এই সামরিক সমীকরণে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করে। যদি একটি দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে না পারে, তবে তাকে সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাই সেই মৌলিক ধারণা, যার ওপর ইরানি ড্রোন কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।যদি একটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ২০ হাজার ডলার খরচ হয়, তবে নির্ভুলতার দিক থেকে এটি ২০ লাখ ডলারের ক্রুজ মিসাইলের সমান কার্যকর হতে পারে না।কিন্তু যদি একসাথে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করতে কমপক্ষে ১০০টি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করতে হবে এবং এই খরচটা কয়েকগুণ বেশি।

    ড্রোন মূলত সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নয়, বরং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে এবং আর্থিক চাপ বাড়াতেই তৈরি করা হয়।ইরান দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রোন হামলা চালাতে পারে কারণ এগুলোর খরচ শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম।একটি সাধারণ হিসাব দেখায়, ১০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে একটি আক্রমণকারী রাষ্ট্রের প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হয়। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রকে সেই ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে ২০ কোটি ডলার মূল্যের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।ড্রোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রাডারের মাধ্যমে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কম গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে। এছাড়া একসাথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠালে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারে না।

    ২০১৯ সালে সৌদি আরব আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা এই সক্ষমতার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ওই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও হামলার দায় হাউছিরা স্বীকার করেছিল, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় যে এসব ড্রোন ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।আরামকো স্থাপনায় হামলার ফলে কয়েক ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, অথচ ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মোট খরচ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই খরচের ব্যবধানই আসলে ড্রোন যুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণ করে দেয়।

  • দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    নিউজ ডেস্ক:

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে। আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি রেড লাইন (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

    এর আগে খবরে বলা হয়েছিল, ইরানের উপকূলে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় মি. ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

    চলতি সপ্তাহেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয়।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন ছাড়েননি এবং হোয়াইট হাউজ এখন বলছে যে তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।

    ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।

  • ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনি সংশোধনের পর এই ঘটনা ঘটে। সমালোচকরা এটিকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ ও সংখ্যালঘুদের গণহারে ভোটাধিকার হরণ বলে অভিহিত করেছেন।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মোট ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত বা নকল নাম হলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করছেন, তবে তারপরেও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

    ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে চলছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নামে পরিচিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। এটিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিন্দাসূচক অর্থে ব্যবহৃত অনুপ্রবেশকারীদের ভোটদান ঠেকানোর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেণ। শব্দটি দিয়ে মূলত অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের বোঝায়।

    কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এমনি করেই বহু বিভাজনমূলক পদক্ষেপ সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের আগে অভূতপূর্ব গতিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ বছর ধরেই রাজ্য শাসনকারী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের আশা করছছিল মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।

    তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেছেন, ‘বাংলায় যা ঘটেছে তা একটি সাংবিধানিক অপরাধ। আর এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।’

    ঘোষ আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীতে পর ভারতের ইতিহাসে এটি একটি কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট সংবিধান কর্তৃক ভারতীয় জনগণকে প্রদত্ত একটি মহান অধিকার। আপনি যতই দরিদ্র বা অসহায় হোন না কেন, আপনার ভোট দেওয়ার সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

    বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

    সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার কথা উল্লেখ করে সাবার ইনস্টিটিউটের প্রধান সাবির আহমেদ জানিয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, ধর্মই সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুসলিমরা অসমভাবে এর শিকার হয়েছেন।’

    যদিও বিজেপি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি কারণ হলো, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন তাদের নেই, যারা বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়ে সন্দিহান।

    কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র থাকার পরেও অনেকে বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে নিজে, অথবা তাদের বাবা-মা, ভোটার যোগ্যতার কাট-অফ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০২ সালের যোগ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সবাই মুসলমান

    বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলার শেরপুর গ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী জাবের আলী, যিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নথি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরই একজন ছিলেন।

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আলী ৭০০-র বেশি পরিবার পরিদর্শন করেছেন, নথিপত্র যাচাই করেছেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত রেকর্ড আপলোড করেছেন। তার কাছে কাজটি ছিল অক্লান্ত পরিশ্রমের। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে ১২ ঘণ্টা কাজ করতাম, তারপর বেশিরভাগ রাত কম্পিউটারে কাটাতাম। আমি প্রায় ঘুমাতামই না।’

    কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যখন সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হলো, আলী বলেন, তিনি যাদের নাম যাচাই করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত ছিল, এমনকি তার নিজের নামও। তিনি বলেন, ‘লোকেরা আমাকে ফোন করে বলতে লাগল যে আমি আমার কাজ ঠিকমতো করিনি। তিনি বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো, আমার নিজের নাম এবং আমার ভাইদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    আলী বলেন, গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ নাগরিকরা সারাজীবন যে আশঙ্কা করছেন যে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী গণ্য করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার এলাকায় এই বাদ দেওয়ার ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে যাদেরকে সরানো হয়েছে, তারা সকলেই মুসলমান। মানুষ মনে করছে যে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    সমালোচকরা এসআইআর-কে অসাংবিধানিক বলে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং এটিকে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনি ব্যবস্থায় কারচুপি ও কারচুপির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    রাজনৈতিক বিরোধী দল ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানকারী নির্বাচন কমিশনকে আর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে দেখা যায় না।

    পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর-এর যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী। তিনি বলেন যে এটি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরি সম্পর্কে মন্তব্য করতে আমি খুব অস্বস্তি ও দ্বিধা বোধ করছি, কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি দেখছি কী ঘটছে এবং আমাকে মুখ খুলতেই হবে। তিনি এসআইআর-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এসআইআর সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, এটি হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এটি একটি বিপর্যয় এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য মহৎ নয়।

    তিনি আরো বলেন: ‘তালিকার নিরানব্বই শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করতে আমাদের ৩০ বছর লেগেছিল। আর তারা তিন মাসের মধ্যেই এর থেকে ভালো কিছু আশা করছে। যদি মূল উদ্দেশ্য নির্ভুলতাই হয়, তাহলে এই পাগলাটে তাড়াহুড়োর কারণ কী?

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তথ্যে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নতুন এআই-সহায়ক অ্যালগরিদম প্রয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কুরাইশি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সহ লাখ লাখ বাঙালিকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ২৭ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালগরিদমটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলা নাম ইংরেজিতে লেখার কোনো প্রমিত পদ্ধতি নেই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা পদবিগুলোর পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক নথিপত্রে বানানে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, পুরোনো প্রজন্মগুলোতে প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও, অ্যালগরিদমটি ১৬ বছরের কম বয়সী পিতামাতা এবং পাঁচজনের বেশি ভাইবোনকে একটি ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কুরাইশি বলেন, তার সময়ে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও সংবেদনশীল ছিল। তিনি বলেন, “যদি এই সামান্য অসঙ্গতির ভিত্তিতে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র এবং এই উদ্দেশ্যে ঠিক নয়।”

    যারা নিজেদের জীবন ভারতীয় রাষ্ট্রের সেবায় উৎসর্গ করেছেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ভোটাধিকারচ্যুত হয়েছেন। বাষট্টি বছর বয়সী সেনারুল হক, যিনি ৩৫ বছর চাকরি করার পর দুই বছর আগে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনি দেখেন যে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম উধাও, অথচ তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম তালিকায় রয়ে গেছে।

    হক বলেন, ‘এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি দেশের সবচেয়ে কঠিন কিছু এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর যখন ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ পড়ল, আমি যথাযথভাবে আমার কাগজপত্র জমা দিয়েছি, তারপরেও আমার নাম নেই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সারাদেশে নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলাম। এখন আমাকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এর জন্য কেউ জবাবদিহি করছে না। এটাকে ব্যবস্থার সঙ্গে উপহাস বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে কীভাবে এত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা যায়?’

    যদিও ভোটারদের ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ট্রাইব্যুনাল চলছে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে অল্প কয়েকটি মামলারই মাত্র শুনানি হয়েছে। হাওড়া জেলার সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, ৫৫ বছর বয়সী হিমানি রায় তাদের মধ্যে একজন। তিনি জানান তার মামলার শুনানি সময়মতো হয়নি, অর্থাৎ তিনি তার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারছেন না। আর এটি অত্যান্ত পরিহাসের বিষয় হলো যে পোলিং অফিসার হওয়ার জন্য তার নাম এখনও তালিকায় রয়েছে।

    হিমানি রায় বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং আমার নাম কেন বাদ পড়েছে তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তাদের কাছে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খারতের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের কথা বলি, ব্যাপারটা ঠিক তখন এমনই দেখায়। গণতন্ত্র এবং আমাদের দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুঃসময়।’

    দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বিজেপির এক ডজনেরও বেশি জাতীয় ও রাজ্য মুখপাত্র এই অভিযোগগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

    তবে, অতীতের মন্তব্যে বিজেপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে এসআইআর-কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু দেশের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য।

    ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও লেখক পরাকাল প্রভাকর জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গুরুতর প্রভাব রয়েছে, যা কেবল রাজ্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী।

    প্রভাকর বলেছেন, ‘এটি সম্পন্ন হলে ভারতে দুটি শ্রেণীর তৈরি হবে যেখানে একদল রাজনৈতিক সমাজ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে আর অন্যদল যাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব হত্যা করা। এটি একটি রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা।’

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এই দফার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।

    প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যের মোট ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    গতকাল প্রচারণার শেষ দিনেও রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। আসানসোল দক্ষিণ আসনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে রোড শো করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কুলটি আসনে বিজেপি প্রার্থী পোদ্দারের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেষ মুহূর্তের জনসংযোগ করেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও চারটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    তবে প্রচারণার শেষ দিনে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তার গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনায় তৃণমূল-সমর্থিত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

    মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের প্রচার ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের বিরুদ্ধে তার প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যার জেরে প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়।

    এদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এক নেতা হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নন্দীগ্রামের মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান।

    প্রথম দফায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন।

    এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন লড়াইয়ে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম), ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)সহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে অধিকাংশ আসনেই মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

    প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ) এবং সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।

    বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না) এবং ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।

    কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) এবং আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। এছাড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভেতরে ও বাইরে অন্তত দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে কর্মকর্তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

    এছাড়া ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৮টি কিউআরটি মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।

  • যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

    যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১,৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই এর অর্ধেকেরও বেশি স্কুল মেরামত করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৭৭৫টির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও হরমোজগান প্রদেশে।’

    কাজেমি আরও জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর সংস্কার কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। যুদ্ধকালীন সময়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে অথবা অন্যান্য মাধ্যমে, এমনকি ‘ইরানিয়ান টেলিভিশন স্কুলের’ মাধ্যমেও পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হন। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোকানুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।

  • একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

    একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের একাধিক শহরে বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি প্রধান চত্বরে ‘ঘদর’ নামক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সমাবেশে উপস্থিত জনতা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেয়। পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন কমান্ডার মজিদ মৌসাভিকে তেলআবিবে হামলার আহ্বান জানায়।

    একই সময়ে তেহরানের আরেকটি বড় চত্বরে সমাবেশে ‘খোররামশাহর-৪’ নামের আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে লক্ষ্য হিসেবে কাতারের একটি গ্যাস কোম্পানির ছবি লাগানো ছিল।

    শুধু তেহরানেই নয় ইরানের দক্ষিণের সিরাজ, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং মধ্যাঞ্চলের যানযান শহরেও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই ইরানের বিভিন্ন চত্বরে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে ইরানের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করেন। দেশটির সরকারি ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাধারণ মানুষকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

    নানা নাটকীয়তা ও হুঙ্কারের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে নতুন করে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
    অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধকে যুদ্ধের শামিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারাও হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিচ্ছে না।

    এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
    এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়ে জানান, ইরান চুক্তি না করলে যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলা হবে। সিএনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ফের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের সেনারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান ফের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরানি বাহিনী নতুন অনেকগুলো চমকের আয়োজন করেছে। তবে ইরানি বাহিনী নতুন সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য তাদের চমকে কী রেখেছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো নতুন যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকান ও ইসরাইলিদের জীবন আবার নারকীয় করতে ইরান প্রস্তুত।

    তথ্যের বরাতে তাসনিম নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানের নতুন করে আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ফের যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
    এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া দুইটি জাহাজকে জব্দ করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বুধবার হরমুজে জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    ইউকেএমটিও বলেছে, প্রথম হামলাটি ওমানের ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। প্রথমে আইআরজিসির গান বোট জাহাজটির কাছে আসে এবং গুলি ছুড়ে। এতে জাহাজটির কমান্ড ডেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজের সকল ক্রু নিরাপদে আছেন।

    আরেক জাহাজে হামলা হয়েছে ইরানের ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। সেখানে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ছোড়া হয়। জাহাজটি এখন জলসীমায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
    ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় এই জাহাজে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরাও নিরাপদে আছেন।
    বিবিসির বিশ্লেষণী রিপোর্ট বলছে, হরমুজ প্রণালিতে একই দিনে তিন জাহাজে হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    এসব হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
    সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের অনুরোধ বিবেচনা করছে তেহরান। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া পোটে তিনি লিখেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান সঠিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

  • বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় কেবল অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়; বরং কোন রাষ্ট্র নিজেকে কতটা “অপরিহার্য” করে তুলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করে তার প্রকৃত কৌশলগত অবস্থান। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে আসছে—যেখানে সীমাবদ্ধতাকেই সম্পদে রূপান্তর করা হয়। বিপরীতে ভারত, বৃহৎ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্যতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু দশকের নীরব সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও নিশ্চিত করে। এই অঞ্চলে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ—প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, জ্বালানি নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক—থাকা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভারত প্রান্তিকই থেকে গেছে।

    এই কৌশলগত অবস্থানের সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় চলমান পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন ভূমিকা সাধারণত সেই রাষ্ট্রগুলিই পায়, যাদের ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিকল্প কম থাকে। পাকিস্তান সেই অবস্থান তৈরি করেছে তার সামরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুমুখী সম্পর্কের মাধ্যমে—যেখানে একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে এই ধারা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জার-এর গোপন চীন সফরের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই ছিল মূল চালিকা শক্তি, যার মাধ্যমে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন চীন-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ পায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমর্থন আফগান মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এমনকি ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান একসঙ্গে সহযোগী ও চ্যালেঞ্জ—দুই ভূমিকাতেই থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, পাকিস্তানের কৌশল কোনো একক সরকারের নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি।

    পাকিস্তানের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে তার পারমাণবিক সক্ষমতা। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যায়। ভারতের প্রচলিত সামরিক আধিপত্য কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ভারতের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়, যেখানে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েও সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে পারমাণবিক প্রতিরোধ শুধু নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক দরকষাকষিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

    সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্ভাব্য “পারমাণবিক ছাতা”। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রথমে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করেন। তবে এই ঘটনাই দেখায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছে—যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না দিয়েও সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত রাখা হয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, বিশেষত এমন সময়ে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ অনিশ্চিত।

    ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের এই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীন-এর সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এটি একটি প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত হয়েছে। চীনের জন্য এটি অর্থনৈতিক করিডোরের শেষ প্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক নিরাপত্তা অংশীদার, আর সৌদি আরবের জন্য নির্ভরযোগ্য সামরিক সহযোগী। ফলে বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলে যায়—আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাকিস্তান।

    অন্যদিকে ভারতের শক্তিই অনেক ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বৃহৎ অর্থনীতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এর নীতি ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা ভূমিকায় যেতে নিরুৎসাহিত করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক বিস্তার করলেও, সেই সম্পর্কগুলোকে নিরাপত্তা নির্ভরতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে ভারত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কিন্তু অপরিহার্য নয়।

    সবশেষে দেখা যায়, পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, নিরাপত্তা নির্ভরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভারত তার শক্তির কারণে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত, শক্তির প্রতিযোগিতা এবং জোট রাজনীতি নতুনভাবে গড়ে উঠছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থানগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা যায় না—এবং সেখানেই কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

  • ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে জারি করা ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে আরও এক মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ভারতীয় নিবন্ধিত, লিজ নেওয়া, বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ ২০২৬ সালের ২৪ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

    ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে।

    কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। ভারত এ হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়।

    পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬–৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ‘উসকানিবিহীন’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।

    পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।

    এ সময় ভারতের বিমান খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পাকিস্তানের বিমান খাতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। ওই দুই ক্ষেত্রেও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।

  • মার্কিন অবরোধ ভেঙে বন্দরে নোঙর ইরানি জাহাজের

    মার্কিন অবরোধ ভেঙে বন্দরে নোঙর ইরানি জাহাজের

    ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি ইরানি তেল বহনকারী জাহাজ মার্কিন অবরোধ ভেঙে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে প্রবেশ করেছে।সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সন্ত্রাসী সেনাদের বারংবার সতর্কবার্তা ও হুমকির পরেও ইরানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সহায়তায় তেল বহনকারী জাহাজ সিলিকা সিটি আরব সাগর থেকে গতকাল রাতে ইরানের পানিসীমায় প্রবেশ করেছে এবং কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণের একটি বন্দরে নোঙর করেছে।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করেনি।অন্যদিকে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম গতকাল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরুর পর থেকে ‘মার্কিন বাহিনী ২৭টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে’

  • কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছে।

    কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কিউসিএএ) আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    কিউসিএএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল জাতীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির একটি ব্যাপক মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক সংকটের কারণে কাতারের আকাশপথ বিদেশি বাহনগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকার পর এই প্রথম তা পুনরায় উন্মুক্ত হলো।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, সকল ফ্লাইট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে পরিচালিত হবে। যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত বাছাইকৃত কিছু বিদেশি এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফ্লাইটগুলো নিয়মিত করা হবে।

    আকাশপথ পুনরায় সচল হওয়াকে কাতারের বিমান চলাচল খাতের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানা গেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।

    বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলাগুলোর পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘TEE-01B’ স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই স্যাটেলাইটটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

    এই প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানি কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, যেমন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির রিয়েল-টাইম তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারছে। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কোনো হামলার আগে যেমন লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতে পারছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত যাচাই করতে পারছে।

    এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শামিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    এই স্যাটেলাইট কূটনীতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন নজির স্থাপন করছে।

  • বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    ডেস্ক নিউজ:

    বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার তিনশ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    রোববার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা-শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত হতে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

    তিনি বলেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি-তে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। বছরে ১৩-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমদানি করা ক্রুড অয়েলের শতভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৩ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

    সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    সরকার দলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না থাকলেও উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কৃষি-সেচ ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

  • সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ-এ পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি “ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত” চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ এটি গ্রহণ করবে। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, কিছু লক্ষ্যবস্তু খুব দ্রুত ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যাচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, ত্রিবেদীর জন্য ঢাকায় তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হলেও, ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের প্রতি জবাবদিহিতার একটি বার্তাও বহন করছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ত্রিবেদী ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টার অংশ হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

    দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের মাধ্যমে মোদি সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে কুণ্ঠিত নয় এবং এসব কাঙ্ক্ষিত পদ কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিতও নয়।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবে। এতে বোঝা গেল অন্তত উপমহাদেশে সুখসন্তপ্ত রাষ্ট্রদূতের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

    সুত্র: আমাদের সময় /আরডি

  • ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    বিদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে ফেডারেল রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের রেড জোন এবং বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    যাতায়াতের জন্য নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডির জেলা প্রশাসন দুই শহরে সব ধরনের গণপরিবহণ ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই জেলা প্রশাসকরা এই নির্দেশ জারি করেছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে ৬০০-এর বেশি বিশেষ পিকেট স্থাপন করা হয়েছে। এলিট কমান্ডো ও স্নাইপাররা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন এবং ডলফিন ফোর্সসহ কুইক রেসপন্স ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। স্পর্শকাতর স্থাপনা ও আবাসন এলাকায় নজরদারির জন্য ‘সেফ সিটি’র সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, সেটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং সেটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী।

    এটি সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া যার অবস্থান সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপস চ্যানেল এলাকায়।

    মালাক্কা প্রণালী আবারো আলোচনায় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বৈশ্বিক গুরুত্ব

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা সবচেয়ে ছোট ও কার্যকর সমুদ্রপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এটি অপরিহার্য।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে নেয়া হয়েছে- যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২৯ শতাংশ। এই একই সময়ে প্রতিদিন ২৬ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও পরিবহন হয়েছে এই পথ দিয়ে।

    যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ গোকি বালসি বলেন, এই পথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, ইলেকট্রনিকস, ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি ও গাড়িও পরিবহন হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ গাড়ির বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। এছাড়া শস্য ও সয়াবিনের মতো শুকনো পণ্যও পরিবহন হয় এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে।’বালসি আরো বলেন, ভৌগলিক, জ্বালানি পরিবহন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহনের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালাক্কার ভূমিকা আরো বিস্তৃত।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ মূলত জ্বালানি রুট। কিন্তু মালাক্কা প্রণালী শুধু জ্বালানি নয় বরং বহুবিধ পণ্যের ট্রান্স-শিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ আস্ত্রিনা বলেন, ‘এটা বলা যেতেই পারে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথগুলোর একটি হলো মালাক্কা প্রণালী।’

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক রিক্যাপ তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের মতে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীতে ২০২৫ সালে ১০৮টি জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। তাই এই প্রণালীতে জলদস্যুতা একটি চিরস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।এছাড়াও, এই এলাকাটি সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে এর দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

    কেন এখন উদ্বেগ?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কার গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।বালসি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে সমুদ্র আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে এই পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

    আস্ত্রিনা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।তার গবেষণা মতে, মালাক্কা প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী দেশগুলোর মাঝের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেয়ার জন্য তৈরি নয়। এটি মূলত জলদস্যুতা, চোরাচালান ও সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বড় শক্তি যখন এই অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম ও উপস্থিতি বাড়ায়, তখন এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দেয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাটি তৈরি নয়।’তবে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, ‘এখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে না, কারণ বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থ শক্তিশালী হওয়ায় সবাই সেটি বজায় রাখতে চায়।’তার মতে, বড় ঝুঁকিটি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে।

    তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি চীন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধির অবস্থান হিসেবে দেখে, তাহলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে সেটি সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে নয় বরং এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তা করতে পারে। ঝুঁকিটা সেখানেই। ধীরে ধীরে এমন এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যেখানে সহযোগিতামূলক ও আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে গিয়ে তা রূপ নিতে পারে আরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে।’তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি সংঘাত না হলেও এমন পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব থাকতে পারে।

    তিনি যুক্ত করেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরোক্ষ হলেও শক্তিশালী হবে যেমন বীমা খরচ বাড়বে, ঝুঁকির ধারণা বাড়বে এবং এমন একটি সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হবে যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা সরলভাবে দেখাকে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যেন ইন্দোনেশিয়া কোনো এক পক্ষের সাথে জোট বাঁধছে। ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে। বাস্তবতা হলো মহাজোটগুলোর প্রতিযোগিতা এখন এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য যৌথ ও কার্যকর করিডর হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।’

    ‘মালাক্কা দ্বিধা’

    ২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ‘’মালাক্কা ডিলেমা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝাতে।যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চায়না পাওয়ার প্রোজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তেল আমদানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মোট মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    বালসি বলেন, ‘শুধু চীনই নয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি এটির মধ্য দিয়ে আসে।’তিনি আরো বলেন, এই নৌপথ সিঙ্গাপুরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর এবং এটি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র।চীনের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আস্ত্রিনা। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে চীনের পক্ষে বাস্তব অর্থে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কোনো কার্যকর উপায় নেই। পাইপলাইন বা অন্য কোনো করিডরের মতো বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও তা বৃহৎ পরিসরে মালাক্কার বিকল্প হতে পারবে না।’

    বালসিও এতে একমত। তিনি বলেন, সুন্দা প্রণালী ও লম্বক প্রণালী যে দু’টিই ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসীমায় অবস্থিত তারাই সবচেয়ে কার্যকর দু’টি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।পাপুয়া নিউগিনির নিকটে টরেস প্রণালী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অগভীর ও সংবেদনশীল নৌপথ যেখানে প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে না।আর যদি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ঘুরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে অত্যধিক সময় ও ব্যয় লাগবে বলে তিনি জানান।আস্ত্রিনা মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে চীন এই দুর্বলতা দূর করার চেয়ে বরং তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

    তিনি বলেন, ‘এই দ্বিধার মূল বিষয় নির্ভরতা কমানো নয় বরং চীন কিভাবে সেই নির্ভরতা পরিচালনা করে। এ কারণেই চীন শুধু বিকল্প পথ খোঁজার দিকে নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।’

  • ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান’

    ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান’

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান চাইছে।

    খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরানের কাছে এটি একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত।

    তিনি আরও যোগ করেন, ইরান কোনো খণ্ডিত বা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নয় এবং এই সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত।

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবস্থান প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল। যদিও এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তবুও দীর্ঘকাল ধরে এটি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। খাতিবজাদেহর মতে, এই দুই দেশের নেতিবাচক তৎপরতা বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

  • ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে থেকে স্বর্ণের দুল উপহার পেয়েছিলেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা মাসরাত মুখতার (৫৫)। গত মাসে ঈদুল ফিতরের দিনে তিনি সেটি ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। উদ্দেশ্য- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    মাসরাতের মতো কাশ্মীরের অনেক বাসিন্দাই তাদের নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছেন হাজার মাইল দূরের একটি দেশে বসবাসকারীদের জন্য। অনেক পরিবার তাদের তামার বাসনপত্র, গবাদি পশু, বাইসাইকেল এবং সঞ্চিত অর্থের বড় একটি অংশ দান করেছে। এমনকি শিশুরাও তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে জমানো অর্থ দান করছে। দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। তারা দান করেছেন উপার্জনের একটি অংশ।

    কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার বাসিন্দা মাসরাত মুখতার বলেন, ‘আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তাই দান করি। এটি আমাদেরকে তাদের (ইরানিদের) কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের ‘লিটল ইরান’ পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মাসরাত বলেন, ‘এই পরিচিতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যা করার তাই করা হচ্ছে। এই বন্ধন সময় আর সংঘাতের ঊর্ধ্বে।’

    ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন বর্তমান যুদ্ধের সময় আরও বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে এটি ইরানি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহের কিছু পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    কয়েক কোটির অনুদান
    কাশ্মীরে ওঠা এই অনুদানের পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদি পশু এবং যানবাহন মিলিয়ে সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বা ৬৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    শ্রীনগর, বুদগাম, বারামুল্লা এবং কাশ্মীরের উত্তরের জেলাগুলোতে তহবিল সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত কাজ করছেন। অনুদানের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান। যেমন- খুচরা পয়সা, শিশুদের মাটির ব্যাংক এবং সাধারণ থালাবাসন। শ্রীনগরের একটি সংগ্রহ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দ আসিফি জানান, অতি সাধারণ আয়ের মানুষও সাধ্যমতো যা পেরেছেন তাই দান করেছেন।

    নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কাশ্মীরিদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। লিখেছে, ‘এই মহানুভবতা চিরকাল মনে রাখা হবে।’

    তবে অনুদানের ব্যাপকতা নিয়ে ভিন্ন এক আশঙ্কায় আছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) জানিয়েছে, কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব অর্থ সংগ্রহ করছে তার একটি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে যেতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সংগৃহীত তহবিল যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে না পারলে তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

  • যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত তিন বছরের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে ইসরাইল এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইসরাইলের অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাজেট মূলত ইরানের সাথে সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি এবং বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করা হবে।

    ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত এই আগ্রাসীযুদ্ধ অভিযানে শুধু সামরিক খাতই নয়, বরং দেশটির বেসামরিক অর্থনীতিও পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    ইসরাইলের কর প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবিনামা জমা পড়েছে। এসব দাবিনামার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

    ইহুদিবাদী ইসরাইলের অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ক্যালক্লিস্ট’ বলছে, সব বেসামরিক খরচ মেলালে এই অঙ্ক ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা তেল আবিবের বর্তমান বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

    ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তেল আবিবের অর্থনীতিকে অসহনীয় দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ঋণের বোঝা জিডিপির ৭২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, ধারণা করছে সংবাদ ইহুদিবাদী মাধ্যম ‘মাআরিভ’।

    তেল আবিকের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের সামরিক ও বেসামরিক খরচ অন্তত ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরেও ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইসরাইলের দৈনিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

    এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তেও সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত ৪৮০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলেছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভাকে হয় সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে হবে, নয়তো মেট্রোরেল ও নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থগিত করতে হবে।

    ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ করের পরিমাণ ব্যাপকভাবে না বাড়ালে এই বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলিদের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সেবা খাতের বাজেট কমানোর মতো ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

  • ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই পত্র পাঠানো হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

    চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ওই পাঁচটি দেশ আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের নিতে হবে।

    একইসঙ্গে এই ধরনের অন্যায় তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বানও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

  • আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন আশা দেখা যাচ্ছে। আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আর সেটি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।

    সূত্র বলছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিকল্প স্থান নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। নয়তো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই ফের বৈঠক হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপ হবে কি না, তা এখন পুরোপুরি তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে।’

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি চায়।

    তিনি বলেন, ইরান যদি এ বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে দুই দেশের জন্যই একটি ভালো চুক্তি সম্ভব।

  • ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই একটি ব্রেকিং নিউজ জানাচ্ছে ইতালির সংবাদ মাধ্যমগুলো।

    সেখানে বলা হয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইলের সাথে দেশটির প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো উচিত।

    ইসরাইলের সাথে ইতালির চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইতালির রাজনৈতিক সরকারগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করে আসছিল

  • নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন:  ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছর পর্যন্ত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে, ৫ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে ইসলামাবাদের আলোচনার একপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্য বিনিময়ও চলে বলে জানা গেছে।

    ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে একে অপরের কাছে প্রস্তাব বিনিময় করেছে, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।

    তবে আলোচনার ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একটি শান্তি চুক্তির পথ এখনো খোলা থাকতে পারে এবং সম্ভবত দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের একটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়।

    এ বিষয়ে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে—যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মূল বাধাই ছিল তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ।

    ওয়াশিংটন তাদের প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর ২০ বছরের স্থগিতাদেশের কথা বললেও, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী—তেহরান জানিয়েছিল, তারা কেবল ৫ বছরের জন্য এটি করতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ বৈঠকে দুই দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে প্রস্তাব বিনিময় করলেও চুক্তির মেয়াদের ব্যাপারে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছে।

    দুজন ইরানি ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের জন্য জেদ ধরে ছিল।

    এই প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এর আগে তারা দাবি করে আসছিল, তেহরানকে স্থায়ীভাবে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, মতবিরোধের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

    গত দশকের মধ্যে এটিই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

    তবে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক শেষ হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপ এখনো চলমান রয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা সত্ত্বেও একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনার ভেতরের চিত্র

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের দুটি আলাদা কক্ষ এবং একটি কমনরুমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মূল কক্ষে ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ফলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বিরতির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজ দেশে বার্তা পাঠাতে দেখা যায়।

    পাকিস্তানি সরকারের একটি সূত্র জানায়, ‘আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় অগ্রগতির জোরালো আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।’

    প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় যখন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গ আসে—বিশেষ করে হামলা না চালানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়—তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করতে পারি যখন গত জেনেভা বৈঠকেও আপনারা বলেছিলেন— কূটনীতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না?’

    উল্লেখ্য, জেনেভা আলোচনার দুই দিন পরেই ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। ওয়াশিংটন শুধু পারমাণবিক ফাইল ও হরমুজ প্রণালির ওপর গুরুত্ব দিলেও তেহরান আরও বিস্তৃত একটি সমঝোতা চেয়েছিল।

    একপর্যায়ে আলোচনা কক্ষে উচ্চকণ্ঠ শোনা গেলে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তারা টি-ব্রেকের কথা বলে দুই পক্ষকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা প্রায় ‘৮০ শতাংশ’ সফল হয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় এমন কিছু বিষয়ে আটকে গিয়ে তা থমকে দাঁড়ায়।

    এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সকালে ফোন করেছিল এবং ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, এবং ট্রাম্পের দল এই ‘রেড লাইনের’ ব্যাপারে অনড় রয়েছে। তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না সামরিক জোট ন্যাটো।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোটভুক্ত দেশগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়।

    ন্যাটো সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চায় না সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তারা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ন্যাটোর এমন অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের উদ্যোগে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না। যত চাপই আসুক, আমরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াব না।”

    জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড ও গ্রিসসহ ন্যাটোর আরো কয়েকটি দেশও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করেছে।

    অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ন্যাটোর এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

    একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি) ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

    ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে- তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।

    প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে

  • নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

    নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে গেছে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এ দাবি করেছেন। খবর এনডিটিভির।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে ফোন করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপরই ব্যাহত হয় আলোচনা।

    আরাগচি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর ফোনের পরই বৈঠকের গতিপথ বদলে যায়। ওই ফোনকল আলোচনার মনোযোগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে নিয়ে যায়।

    দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই ফিরে গেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    ইরানের দাবি, তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দেয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং বিদ্যমান ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করা। ইরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতির বাকি আছে ৯ দিন। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে আবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জোটেও ফাটল ধরিয়েছে এ কূটনৈতিক ব্যর্থতা। স্পেন ও ইতালি জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এছাড়াও, ন্যাটোর অনেক দেশও এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেয়নি।

  • মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি:  মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

    মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি: মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

    মার্কিন নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করেই তরতরিয়ে বাড়ছে ইরানের তেল রফতানি। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর সমুদ্রে কড়া নজরদারি যেন এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। সমুদ্রপথে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন সংস্থা জানাচ্ছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখেও ইরান তাদের তেল রফতানির গতি আগের চেয়ে তিনগুণ বাড়িয়েছে।

    মূলত অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বিশাল এক ‘ভুতুড়ে জাহাজ বহর’ বা ঘোস্ট ফ্লিট ব্যবহার করে চীনসহ বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছে দিচ্ছে তেহরান।

    ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং সাগরপথে জাহাজের আনাগোনা নজরদারি করে এমন তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা বা ডাটা ট্র্যাকিং সাইটগুলোর অন্যতম ড্রপসাইট-এর বরাতে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলই হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।

    সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও এই বিশাল পরিমাণ তেলের চালান আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাদের তথ্যমতে, ইরানের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যাচ্ছে চীনের বাজারে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এমন সব ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে, যেগুলো নিজেদের রেডিও এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে রাখে। বর্তমানে এমন ১২৯টি ট্যাঙ্কার শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই সমুদ্র চষে বেড়াচ্ছে।

    ইরানের পারমাণবিক এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নজরদারির কাজে নিয়োজিত মার্কিন শক্তিশালী তদারকি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান বা ইউএএনআই স্যাটেলাইট ছবির সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে অন্তত ১৫টি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার দেখা গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার জোহোর উপকূলের কাছে প্রায় ৯৬টি ট্যাঙ্কার নোঙর করে আছে, যেগুলোকে মূলত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা ভুতুড়ে বহর বলা হয়। সেখানে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে সেগুলো চীনের বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

    একই চিত্র দেখা যাচ্ছে মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরেও। অন্যদিকে ওমান সাগরেও ইরানের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপ আর অবরোধের মুখেও ইরান তাদের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রফতানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আহ্বান যুক্তরাজ্যের

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আহ্বান যুক্তরাজ্যের

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে ‘সমাধানের পথ খুঁজে বের করার’ আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওমানের সুলতানের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, পরিস্থিতির আর কোনো উত্তেজনা যেন না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। স্টারমার মনে করেন, চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর এখানে সব পক্ষই সংঘাত এঁড়িয়েছে।এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে পড়ায় তা হতাশাজনক।

    তবে তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

  • ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জব্দ করে রাখা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে দেখছে তেহরান। খবর রয়টার্স।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে এবং এই পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    তবে কত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে প্রথম সূত্রটি নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন।

    এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    আট বছর ধরে জব্দ অর্থ

    উল্লেখিত ৬ বিলিয়ন ডলার ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ার কথা ছিল। তবে ওই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামলার পর হামাসের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণভাবে তা আটকে রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

    এই অর্থের উৎস মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল। ২০১৮ সালে তার প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এই অর্থ জব্দ হয়ে যায় এবং তেহরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করা হয়।

    বন্দি বিনিময় ও শর্তযুক্ত ব্যবহার

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দোহা’র মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তিতে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক মুক্তির বিনিময়ে অর্থ ছাড় এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়।

    তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের আলোচনায় এই অর্থ ছাড়ার বিষয়টি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমাতে এবং বৃহত্তর সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    উভয় পক্ষ যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

    তেহরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

    ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে এটি এর অংশ।

    ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সম্পদ থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য শিথিলতার বিষয়ে আগ্রহী, তবে তা কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়েই।

    ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায়, যেখানে তারা ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই প্রণালি তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য কোনো রকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই খুলে দেওয়া হোক, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোলও অন্তর্ভুক্ত।

    ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সময়ে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হোক। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

    ইরান চায় এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার, সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি এবং অনাক্রমণনীতির প্রতি অঙ্গীকার। ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে লড়াই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

  • সেনাবাহিনী প্রধান দেশে ফিরেছেন

    সেনাবাহিনী প্রধান দেশে ফিরেছেন

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি দেশে ফেরেন বলে বাংলাদেশ আর্মির ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে জানানো হয়েছে।

    সফরকালে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে তাকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়।

    এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সমূহে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল

    পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের। ইরানের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সে সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন, লেবাননও এ যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর লেবাননে একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এসব হামলায় এখনো পর্যন্ত লেবাননের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। এ পরিস্থিতিতে ইরান শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আলচনায় বসতে হলে আগে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

  • যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট

    যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট

    ইরানে যুদ্ধে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘সারাদেশে মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক স্থাপনা, যেগুলোর কিছু অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের স্থান ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি সেবাকেন্দ্রসহ মোট ৩৯৯টি চিকিৎসা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ কলিভান্দ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৮৭৫টি শিক্ষা কেন্দ্র ও স্কুল এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় হামলার শিকার হয়েছে।’ এছাড়া, রেড ক্রিসেন্টের ২০টি কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্টের শাখা, ঘাঁটি বা গুদামের মতো ২০টি কেন্দ্রকে সরাসরি টার্গেট করা হয়েছে।’

  • ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিল। সংস্থাটি জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইরানের সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত নির্দেশের আওতায় রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ব্যাংকের সদর দফতরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দেশটিতে কয়েক ধাপে হামলা চালানো হয়েছে।

    প্রথমে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হারুফ শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর একই অঞ্চলের আরেকটি শহর আল-দুওয়াইর (খেরবেত এল-দুওয়াইর নামেও পরিচিত)-এ নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতার ভিত্তিক গণ্যমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।

    লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

  • জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হলেন লে. জেনারেল মিনহাজ

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হলেন লে. জেনারেল মিনহাজ

    সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) নতুন ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। তিনি এ পদে মঙ্গোলিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরির স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বুধবার (৮ এপ্রিল) এ নিয়োগের ঘোষণা দেন।

    মিনহাজুল আলম তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সর্বশেষ তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি ১০ম পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কক্সবাজারে বিভিন্ন অপারেশন তদারকি করেছেন।

    তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সন্ত্রাস দমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

    জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও এই প্রথম নয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজের। এর আগে তিনি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্ব তিমুরেও কাজ করেছেন সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে।

    সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-র ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর করেছেন। পাশাপাশি ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স এবং এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি।

  • ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?

    রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

    ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিতো। কিন্তু ইরান তা করেনি। তারা সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে।

    এরপর আসে ইসরায়েলের কথা—যাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা। কিন্তু ইরান অনবরত তাদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, চাপ সহ্য করছে এবং পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এটি কেবল লোকদেখানো প্রতিরোধ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম অশান্ত একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় লড়াই।

    সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইরানের পেছনে শক্ত কোনো ‘নিরাপত্তা ঢাল’ নেই। এই মুহূর্তে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা বা গ্যারান্টি ছাড়াই তারা এগিয়েছে। এটি কেবল একটি সুচিন্তিত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি নেওয়ার অসীম সাহস মাত্র।

    হামলা, ক্ষয়ক্ষতি বা শীর্ষ নেতাদের হারানো—এসব ইরানের জন্য কোনো কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। ইরান বড় বড় ধাক্কা খেয়েছে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশটির প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিবার নিজেকে সামলে নিয়েছে এবং লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সহজে আসে না।

    রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি একটু দূর থেকে নিরপেক্ষভাবে দেখে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে। ফলে, ইরান এখনই পরাশক্তি—এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, এ বিষয়ে অনেকেই একমত।

  • পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

  • হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক’ হামলার কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কিছুদিন আগে ‘আরও আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী এবং বিজয় খুব সন্নিকটের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এসব নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সবই এখন ভয়াবহভাবে হেরে গেছে। একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই হামলা জোরদার করার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতেন। সবশেষ মঙ্গলবার ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ৩৯ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

  • যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার (৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও দেশটি সংবেদনশীল। একইসাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসলামাবাদ। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনে আরো ভালো খবর দিতে পারব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর, দেশটির সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননও। এর জবাবে ইসরাইল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ও দেশটির দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে। শরিফ বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘সব জায়গায়’ প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরে ইসরাইল জানায়, লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং সেখানে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তারা ট্রাম্পের ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ঠেকাতে কাজ করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে তুরস্ক ও মিসরও। আর চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় এবং ওয়াশিংটনের সাথে কখনো টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দুই পক্ষের সাথেই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও বেইজিংয়ের মতো প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল পাকিস্তান। ইরানের সাথে তাদের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনো দূতাবাস না থাকায়, সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে ইসলামাবাদ।

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে চলা সঙ্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে- এই দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যেতে পারে।

  • কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    প্রবাসের যে শহরগুলো একদিন ছিল রুটি-রুজির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কুয়েত, কাতার কিংবা লেবানন—মানচিত্রভেদে নাম বদলালেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশার চিত্র সবখানে একই। মাথার ওপর যুদ্ধের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন, পায়ের নিচে অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মাটিÑদুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

    ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে কাতার ও কুয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার লেলিহান শিখা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন প্রবাসীদের। আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া আর পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফেরার পথও আজ রুদ্ধ তাদের। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশছাড়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?

    কাতার : নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধস

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান কাতারে। প্রতিদিন আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন প্রতিরোধের ঘটনা এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় জাহাজে হামলার খবর সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। রাজধানীর মুশরিব ভিআইপি এলাকা, যেখানে একাধিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে কাতার কর্তৃপক্ষ ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

    কাতার প্রবাসী রিফাত আলম হিরো জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় এসে কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা এখন কাজ ও আয় হারিয়ে দিশাহারা।

    তিনি বলেন, অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। ঘর ভাড়া আর খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। দেশে ফিরতেও পারছেন না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয় শূন্যের কোঠায়।

    সংকট আরো বেড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বর্তমানে শুধু কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু থাকায় টিকিটের দাম সাধারণ প্রবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পাসপোর্ট জটিলতা। প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দিয়েও তারা তা সময়মতো ফেরত পাচ্ছেন না; ফলে জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংকটকালে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    অন্যদিকে দোহার পুরোনো সমুদ্রবন্দরে একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি।

    কুয়েত ও লেবানন : আতঙ্কের জনপদ

    কুয়েত থেকে জাহিদ হাসান অভি নামের এক বাংলাদেশি জানান, সেখানে যুদ্ধ আতঙ্কে জনজীবন থমকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পর্যটক কুয়েতে এসে আটকা পড়েছেন; কারণ কোনো বিমান চলাচল করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সর্বত্র।

    অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে; ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বর্ডার এরিয়া, দাহিয়ে ও বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে তীব্র হামলা চলছে।

    লেবানন প্রবাসী আলমগীর জানান, বর্তমানে ৫০০-৬০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ৭০ শতাংশই অবৈধ হওয়ায় সেখান থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার খুবই কম। বর্তমানে হুন্ডি বা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকটে নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে ভারী বোঝাটি বইতে হচ্ছে প্রবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে। নিজ ভূমিতে ফেরার আকুতি আর প্রবাসে টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই একা।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ২০২৬-এর ডেটামতে, কাতারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, কাতারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রবাহে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। নির্মাণ, সেবা ও ড্রাইভিং খাতে কর্মরত এসব বাংলাদেশি কাতারের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    কুয়েতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি ছিল মোট অভিবাসনের প্রায় চার শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২০ হাজার ৬৪৪ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। এখানকার সরকারি ক্লিনিং সেক্টর, ড্রাইভিং ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, যা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের এক বড় অংশ নারী গৃহকর্মী এবং পুরুষ কৃষি ও গ্যারেজ মেকানিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকেই দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে লেবানন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

    ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।

    পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।