ধূমপান না করলেও ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। বংশগত বৈশিষ্ট্য, জিনগত পরিবর্তন ও পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সম্প্রতি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর টিস্যু পরীক্ষায় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। তাঁর ধূমপানের অভ্যাস বা অতীতে ধূমপানের ইতিহাস জানা যায়নি।
ভ্যাটিকান জানায়, পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরে পরীক্ষা করে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের সঙ্গে ধূমপান জড়িত। তবে অধূমপায়ীরাও এ রোগে আক্রান্ত হন। দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা অধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে
পারিবারিক ইতিহাস, বিরল জিনগত পরিবর্তন, ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া ও রেডনের মতো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাইপ, চুরুটসহ তামাকজাত দ্রব্য এবং অতিরিক্ত গাঁজা সেবনও ঝুঁকির কারণ।
সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইজিএফআর টি৭৯০এম নামের বিরল জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় এ পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধূমপান করেননি, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ৬২ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় লক্ষণ দেখা যায় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাশির সঙ্গে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ল্যারি রবিনসনের মতে, অধূমপায়ীদের মধ্যে রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসার সময় রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী, যাঁদের ধূমপানের ইতিহাস অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার এবং যাঁরা বর্তমানে ধূমপান করেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ছেড়েছেন, তাঁদের প্রতিবছর লো-ডোজ সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সবার জন্য এ পরীক্ষা প্রয়োজন নয়; ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
