শিরোনাম

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনা মহানগরীর তিন স্থানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তিনজনেরই পায়ে গুলি লাগায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। গুলির ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মানুষ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে রাতুল শেখ নামে যুবককে গুলি করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা সদর থানার রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এক কিশোরীকে গুলি করা হয়। ওই কিশোরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন।

    রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলির ঘটনায় পরিবারের তরফে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে চাঁদা না দেওয়ায় মানিককে গুলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহায়েলসহ সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

    রাতুলের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় লবণচরা থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। কিশোরীকে গুলির ঘটনায়ও পরিবার গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৩ মাসে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪টি হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত।

  • সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার দুপুরে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।

    এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা-পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সমকালকে বলেন, ‘ভাতসহ বিভিন্ন রান্না করা খাবার ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছিল। তাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর ঢাকাগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গঁজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

    সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’
    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ-এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস

  • লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আর এই পরীক্ষার মধ্যেই চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

    ভোলার লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।

    মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

    মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কিন্তু ঠিকমতোই আসছে। তবে বিলেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

    বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। এই কারণে পরীক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে ফল্ড হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক করার জন্য। একটানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে গাছ পরে যাওয়াও একটি কারণ। তাছাড়া এমনিতে কোনো লোডশেডিং নেই।

  • তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    বলিউড অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আজ মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার পর স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন আমির-গৌরী।

    সকাল থেকেই তাদের বিয়ে ঘিরে উৎসবের আমেজ। একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামছে অভিনেতার বাড়ির গেটে। ঘরোয়া পরিসরে আয়োজিত হলেও আমিরের মতো সুপারস্টারের বিয়ে অন্যতম আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়েছে।

    তবে রিনা দত্তকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। এ সংসারে জুনায়েদ ও ইরা খান নামে দুটো সন্তান রয়েছে। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এ সংসারে আজাদ খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে তার দুটো সংসারই ভেঙে গেছে।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যতদূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।

  • হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

    আজ শনিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এ সমালোচনা করেন। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমান হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।

    গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র/জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।

    আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করলে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।

    মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’

    মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।

    সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’

    এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।

    লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্বের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা গ্রহণ করছে।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও গভীর করতে কাজ করে যাবেন।

    বার্তার শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন তিনি।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।

  • ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এই অর্জন দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন।’

    শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে যদি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, মা গত সতের বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান, আমি তার প্রতিশোধ নিই?।….কারণ সেই প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত আমার মা আমাকে বলতেন—তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, তুমি কি চাও তোমার সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে, তোমাকে মৃত্যুর মুখ ঠেলে দেয়া হয়েছে, যারা এরজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই? কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাকে আমি চিনি, আমি জানি। একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ভাইটিও সেই একই উত্তর দিতো, যে উত্তরটি আমার মা আমাকে দিতেন।’

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় রিপন হোসেন (৫০) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সন্তোষপুর গ্রামের ব্রিজপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে রিপন হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির আলমসাধু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধু ও পাখিভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রিপন ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে রাখা ইটের স্তূপের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সরকারি খাস (হালট) জমিতে নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে, সরকারি খাস জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণকাজে বাধা, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে আনোয়ার হোসেন বাধা দেন।

    এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ওসি সজল সরকার বলেন, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ,আর

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ যুবক আনোয়ার হোসনকে (৩২) চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দ্রুত বিচার আইনে তার মামলাটি বিচারের দাবি করছি। আনোয়ার সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে। আনোয়ারকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ প্রায়। কথা বলতে পারছেন না তার মা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

  • বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি বড় ধরনের সমন্বিত হামলা প্রতিহত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

    সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল মুসা দিয়ালো।
    বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়

    এতে বলা হয়, গত ৩০ জুন সিরবা অঞ্চলের গায়েরি ও লিপতাকো অঞ্চলের সোলহান এবং সেব্বায় জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী (এফএএন) ও স্বদেশ প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর (ভিডিপি) অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিমানবাহিনীর সহায়তায় স্থলবাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা অভিযান চালায়। লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৪০০ জনের বেশি হামলাকারী নিহত হন।

    এ সময় ২৫০টির বেশি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ধরনের ৩৫৩টি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সোলহানে ও একজন গায়েরিতে নিহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করা, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে সমন্বিত হামলার ঘটনাকে বুরকিনা ফাসোর ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্রান্স সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সূত্র: আনাদোলু, টিআরটি ওয়ার্ল্ড

  • কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইএনএসপি) সবশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ১৫ মে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর কিসাঙ্গানিতেও সম্প্রতি প্রথম একজন ইবোলা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। আইএনএসপি বলেছে, ২৪ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীর মরদেহের নমুনা পরীক্ষার ফল ইবোলা পজিটিভ এসেছে।

    দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত ওই নারীর মরদেহ ইতুরি প্রদেশের নিয়া নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চল থেকে মোটরসাইকেলে করে গোপনে কিসাঙ্গানিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দার শহর এবং শোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানি।

    ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির শরীর অত্যন্ত সংক্রামক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে। ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের কারণে এই প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি হয়েছে। ইবোলার অত্যন্ত সংক্রামক এই ধরনের কোনও টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

    তবে এ বিষয়ে কিছু প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটিতে চলমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। দেশটিতে ইবোলায় মোট মৃত্যুর ৮৩ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে এই প্রদেশে। তবে ইবোলার প্রকৃত ব্যাপকতা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কঙ্গোর এই প্রদেশটির সঙ্গে উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত রয়েছে। ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি বুন্দিবুগিও প্রজাতি।

    ইবোলার প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রাণী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনও রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

    ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না; শুধু ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।

    বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না বলে অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক ইবোলা। তবে এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। ইবোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

    গড় হিসেবে ইবোলায় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই রোগে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের স্ত্রী লাভজনক একটি রেডিও স্টেশনের মালিক ছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশের বাবা যখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন, তখন বুশ নিজে একটি তেল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। আর জো বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনীয় একটি প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি থেকে অর্থ নিতেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মতো এমন উদাহরণ আগে কখনো দেখা যায়নি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার আয় করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা থেকে লাভবান হয়েছেন।

    সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় বেড়ে অন্তত ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ ক্ষমতায় ফেরার আগে ২০২৪ সালে তাঁর ন্যূনতম আয় ছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

    কর আইনজীবী ও ‘অল দ্য প্রেসিডেন্টস মানি’ বইয়ের লেখক মেগান গোরম্যান বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫০ বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সম্পদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন।

    গোরম্যান ও অন্যান্য ইতিহাসবিদ বলেন, সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজেদের করপোরেট সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে রাখতেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁরা সব সময় সচেতন থাকতেন।

    ইতিহাসবিদ লিন্ডসে এম চারভিনস্কি বলেন, ‘সরকারি পদ ছিল ঋণের উৎস, আয়ের নয়।’ তিনি মাউন্ট ভার্ননের জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নির্বাহী পরিচালক।

    ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার ঠিক তার উল্টোটা করেছেন। তাঁরা নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এসব ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত অক্টোবরে ট্রাম্প ক্রিপ্টোজগতের শীর্ষ ধনী চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমা করে দেন। ঝাও হলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা। ট্রাম্প পরিবারের নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসার অন্যতম প্রধান অংশীদার এই বাইন্যান্স।

    এ ছাড়া গত জুলাইয়ে ট্রাম্প ‘স্ট্যাবলকয়েন’ নামে একধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে উৎসাহিত করতে একটি আইনে সই করেন। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ‘স্ট্যাবলকয়েন’ বাজারে আনার মাত্র চার মাস পরই তিনি এই আইনে সই করলেন।

    মেগান গোরম্যান মনে করেন, ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক চুক্তির সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকেই নীতিটি প্রচলিত যে—দেশের নেতারা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশকেই বড় করে দেখবেন।

    হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প পরিবার বারবার প্রেসিডেন্টের আয়সংক্রান্ত সব প্রশ্ন নাকচ করে দিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে, ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ফলে এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি মে মাসের শেষে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই কাজ করেন।’ ডেল টেকনোলজিসের মতো কোম্পানিতে ট্রাম্পের পক্ষে শেয়ার কেনা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি এই মন্তব্য করেন।

    কেলি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তাঁর ব্যবসার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। এসব অভিযোগ সত্য নয় বলেই জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে আবার নির্বাচিত করেছেন।

    ট্রাম্পের নতুন আয়ের সিংহভাগই এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রাশিল্প থেকে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে, তখন তাঁর পরিবার এই খাতে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ শুরু করে।

    ট্রাম্প তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্স’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ব্যবসা থেকে প্রেসিডেন্টের ৭৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এই আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে। আমিরাত সরকার ওই কোম্পানির শেয়ার কিনেছে।

    ট্রাম্পের অভিষেকের তিন দিন আগে তিনি ‘$TRUMP’ নামে একটি মিমকয়েন চালুর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। এটি এক বিশেষ ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন। প্রকাশিত তথ্যমতে, এই ব্যবসা থেকে তিনি নতুন করে আরও ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এই আয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালে সারা বিশ্বে তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সব ব্যবসার মোট আয়ের চেয়েও সামান্য বেশি।

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের টোকেনগুলো আর কমিশনের নজরদারির আওতায় থাকবে না। বাইডেন প্রশাসনের সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান যে অবস্থান নিয়েছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ছিল তার ঠিক উল্টো। এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের মিমকয়েন ব্যবসা সরাসরি লাভবান হয়।

    সৌদি আরবের এক আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট চুক্তি থেকেও ট্রাম্প ও তাঁর ছেলেরা কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন। এই চুক্তির সঙ্গে সৌদি সরকারও জড়িত। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও রোমানিয়াতেও তাঁদের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে।মার্কিন ডলার

    তবে ট্রাম্পের এই আয়ের হিসাবে তাঁর ছেলেদের কিছু ব্যবসার মুনাফা ধরা হয়নি। তাঁর ছেলেরা সম্প্রতি সামরিক ঠিকাদারি ও ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া খনিজ সম্পদ উত্তোলনের খনি তৈরির জন্য তাঁরা কোটি কোটি ডলারের সরকারি সহায়তারও চেষ্টা করছেন। এসব খাত থেকে ট্রাম্প সরাসরি টাকা না পেলেও তাঁর পরিবার বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জন করছে।

    ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনে আসেন, তখন তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন—এমন অভিযোগ এড়াতেই এই চুক্তি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদের সফর এবং ট্রাম্পের হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় লবিস্টদের খরচ করা নিয়ে এসব বিতর্ক তৈরি হয়।

    দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প পরিবার মুনাফা অর্জনের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক রাখছে না। তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এরিক ট্রাম্প দাবি করেন, ‘প্রথম মেয়াদে কোনো ধরনের অনৈতিকতা এড়াতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্সির কারণে তাঁর বাবাকে বিশাল অঙ্কের সম্পদ হারাতে হয়েছে।

    এরিক আরও যোগ করেন, ‘আমরা চিরকাল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না, আর আমি তা করবও না।’

    ট্রাম্পের ছেলেরাই মূলত ব্যবসা পরিচালনা করেন। ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। আইনিভাবে তাঁরাই সেসব ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ব্যবসার আয় সংগ্রহ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এসব ট্রাস্টের সুবিধাভোগী। ফলে এই ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো থেকে পরোক্ষভাবে তিনিই লাভবান হচ্ছেন।

    বিপরীতে আধুনিক সময়ের অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্টই তাঁদের মালিকানাধীন ব্যবসা বা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জর্জ ডব্লিউ বুশ নির্বাচনের আগেই টেক্সাস রেঞ্জার্স বেসবল দলের শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। অন্যদিকে জিমি কার্টার তাঁর চীনাবাদাম খামারের দায়িত্ব একজন স্বতন্ত্র ট্রাস্টির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কোনো প্রেসিডেন্টের নজির নেই। হোয়াইট হাউসে যাওয়ার ঠিক আগে নতুন ব্যবসায় নামা এবং মেয়াদে থাকাকালে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদাহরণ আগে আর দেখা যায়নি। বরং ইতিহাসবিদেরা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিভিন্ন চেষ্টার উদাহরণ দিয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন জি হার্ডিং ক্ষমতায় থাকাকালে ওহাইওর একটি সংবাদপত্রের মালিক ছিলেন। এটি প্রায় চার দশক ধরে তাঁদের পারিবারিক মালিকানায় ছিল। তবে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ১৯২৩ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি পত্রিকাটি বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন।

    এলবিজে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও ইতিহাসবিদ মার্ক কে আপডেগ্রোভ বলেন, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর যখন জনসন হোয়াইট হাউসে আসেন, তখন তাঁর স্ত্রী লেডি বার্ড জনসন নিজেদের রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশনগুলো একটি ট্রাস্টের হাতে ছেড়ে দেন। বাইরের একজন আইনজীবী ও স্টেশন নির্বাহী সেই ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল হিস্ট্রির পরিচালক জেফরি এ অ্যাঙ্গেল বলেন, ‘প্রেসিডেন্টরা সব সময় তাঁদের সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিষয় থেকে দূরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। তাঁরা মনে করেন, তাঁরা এত বেশি ব্যবসা করবেন যে মানুষ বিষয়টিকে আর অস্বাভাবিক ভাববে না।’

    প্রেসিডেন্টদের সন্তান বা ভাইবোনেরা যখন ব্যবসায়িক চুক্তি করেছেন, তখন তা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। গত বছর ট্রাম্প সরাসরি যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, সেই তুলনায় আগের প্রেসিডেন্টদের স্বজনদের ব্যবসা ছিল খুবই ছোট। তা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমে এসব নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হয়েছিল।

    উদাহরণ হিসেবে জিমি কার্টারের ভাইয়ের প্রবর্তিত ‘বিলি বিয়ার’ ব্র্যান্ডের কথা বলা যায়। এ ছাড়া ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের ছেলে জেমস রুজভেল্টের নামও আসে। জেমস একটি বিমা কোম্পানির আংশিক মালিক ছিলেন। তাঁর কোম্পানি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছে বিমা পলিসি বিক্রি করত। অথচ তখন তিনি তাঁর বাবার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    দ্য স্যাটারডে ইভিনিং পোস্ট এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জেমস রুজভেল্টের বিমা ব্যবসা নিয়ে বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এটি ‘জিমিস গট ইট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ছেলেকে তাঁর সরকারি পদ ছাড়তে হয়েছিল।

    ইতিহাসবিদেরা বলছেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বর্তমান কর্মকাণ্ড এই ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। স্বার্থের সংঘাত নিয়ে আগে যেমন সতর্কতা দেখা যেত, এখন তা আর নেই।

    এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হলো জ্যারেড কুশনার। তিনি তাঁর শ্বশুর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সার্বভৌম তহবিল থেকে কয়েক শ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

    ইতিহাসবিদ আপডেগ্রোভ বলেন, তাঁরা যা করছেন তা অত্যন্ত খোলামেলা এবং বেপরোয়া। প্রায় গর্বের সঙ্গেই তাঁরা সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন। এটাই বর্তমান পরিস্থিতিকে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও নাটকীয় করে তুলেছে।

  • রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে নাতি।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র (৪০) ও ১০ বছর বয়সী নাতি বন্ধনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেতগাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন উপজেলার চেংমারি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র (৬০)। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে একটি ট্রাকে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মল চন্দ্র ও প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

    এ ঘটনায় ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।

    এদিকে, এ ঘটনায় চেংমারি গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বইছে। স্বজনহারাদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হবে।’

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রিপন কাজী (২৫) নামে এক মুদি দোকানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকায় সড়কের পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম কাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয়রা রিপনকে তার দোকানের সামনে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে, গত সোমবার দুপুরে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় নথিভুক্ত করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে সারারাত বেঁধে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

    এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রসেনজিত আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা দাবি করেন, আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন। ‘চোর, চোর’ বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা তিনি জানেন না।

    তার দাবি, প্রসেনজিতই আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।

    অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার চাই।’

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো: সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।

    রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো: আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম খান।

    আদালত সূত্র জানায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল হকের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা গোপন রাখতে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।

    আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় আকাশের লাশ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) লাশ দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ একদল পুলিশ সদস্য।

    মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ২ মে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছিল।

    পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আজ তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু বলেন, সাদ্দাম হোসেন একজন উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    লাশ উত্তোলনের বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আজ কবর থেকে সাদ্দাম হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    দিনাজপুরের হিলিতে সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলি উপজেলার সাতকুড়ি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হিলির সাতকুড়ি এলাকায় বেশ কিছু চোরাই মাল বস্তায় ভর্তি করে কে বা কারা রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বস্তাগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় সেখানে মালামালের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো মালিক না পাওয়ায় মালামালগুলো মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করতে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। মালিক না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, উদ্ধার পণ্যের মাধ্যে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো বস্তা ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

  • পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে, এমন খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার ফোরডো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট, নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি এবং ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশ বা পরিদর্শনের কোনো অধিকার নেই।

    তিনি জানান, বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার কেবল দুটি স্থাপনায় সীমাবদ্ধ, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেহরান গবেষণা চুল্লি।

    গালিবাফ আরও বলেন, এসব স্থাপনায় আইএইএ-র প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে একটি আইন পাস করেছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও এ বিষয়ে একটি সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

    এর আগে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছিলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আওতায় সংস্থাটির পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির তারা সেখানে যেতে পারবেন।

  • নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  • হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোরভাবে দেবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আগ্রাসী আমেরিকার খেলার মাঠ নয়; এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্বের অংশ।

    সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি রেড লাইন।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেল আবিবে থাকা পোষ্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।

    আরাগচির এক্স পোস্টটি ছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া। কাটজ দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

  • রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মুরগিবাহী একটি পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জোহান (৩৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রযেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক জোহানের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার্ড করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার পর তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ পাশেই পানিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দু’জন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

    পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের আগে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নিতে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের বরাতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা আগ্রাসন হলে সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

    সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জান জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। পরে কুম ও ইরাকে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত। প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জানাজায় ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। একইসঙ্গে এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার শক্ত ভিত্তিকেও প্রতিফলিত করে।’ খবর আল জাজিরার।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৪ জুলাই তেহরানে আলী খামেনির দাফন ও জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

    এরা আগে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আলি খামেনির বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

    ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির দাফন ও জানাজা আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

  • ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটার সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত উপজেলার কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে দুই শতাধিক অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন পাথরঘাটা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: বেল্লাল হোসেন জুয়েল।

    কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছারছীনার মরহুম পীরসাহেব হযরত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল মানবকল্যাণ, দ্বীনি খেদমত ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ ও কর্মধারাকে অনুসরণ করেই আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

    এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, খানকাহর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জোহরের নামাজের পর ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীরসহ এলাকার মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা সেতুর পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে বৌদ্ধ ধর্মীয় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সন্ন্যাসীদের ওপর ১১ বছর বয়সী এক শিশুর চালানো একটি পিকআপ ট্রাক উঠে গেলে অন্তত আটজন সন্ন্যাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি।

    বৃহস্পতিবার পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ৩৫ জন সন্ন্যাসী এবং পাঁচজন সাধারণ অনুসারী ধর্মীয় তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে সড়কের পাশে হেঁটে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সন্ন্যাসী ফ্রা সোমপং জানান, তিনি একটি পিকআপ ট্রাককে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেছিলেন। তখন তিনি ‘বুদ্ধো, বুদ্ধো’ মন্ত্র জপ করছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে শোভাযাত্রার ওপর উঠে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি ও আরেকজন সন্ন্যাসী সময়মতো লাফ দিয়ে সরে যেতে পেরেছিলাম। তবে সামনের কয়েকজন বেঁচে গেলেও পেছনের অনেককে ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয় এবং তারা ছিটকে পড়ে।’

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন সন্ন্যাসীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পিকআপটি চালাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী এক শিশু, যে তার বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

    সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। রিয়াদ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল না হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব খুবই সীমিত।

    যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।

    বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।

    যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি- কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় ঘোলদাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে বাজারের চালের আড়ত, মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, সার ও বীজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: শুকুর আলীর ‘মিষ্টি বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটছে। খবর আরব নিউজের।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

    গাজায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত, যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরাইলি বাহিনী এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু ইসরাইল সরকার তা আরও বাড়িয়েছে এবং বলেছে যে তারা ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

    খুব কম লোকই সেখানে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের বিশাল কাজসহ যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো থমকে গেছে।

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স এই সপ্তাহে বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনের সামান্য আভাস ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেই অবস্থার এখনও অনেক দূরে।

    অন্যদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  • ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। শিল্প খাতের দুইটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাশিয়াজুড়েই জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। কোথাও রেশনিং চালু হয়েছে, কোথাও আবার পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পেট্রোলের দামও রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
    ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রহণযোগ্য দামে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে রাশিয়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ভারতের তেল মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
    শিল্প খাতের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে ভারত থেকে রওনা হয়েছে।

    তৃতীয় একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি মাসে মোট চার লাখ টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী বেলারুশও রয়েছে, যেখান থেকে ইতোমধ্যে রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
    গ্রীষ্মকালে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ায় প্রতিদিন অন্তত এক লাখ ১০ হাজার টন পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। ভারতের কোন তেল শোধনাগার রাশিয়ায় এই পেট্রোল সরবরাহ করছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত রোববার সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

    এদিকে রয়টার্সের হিসাব ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথমার্ধে বেলারুশ থেকে রেলপথে রাশিয়ায় পেট্রোল সরবরাহ ৭০ হাজার টনের বেশি হয়েছে, যা মে মাসের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্ট কর আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ইউক্রেনের হামলার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকিও দেয়া হবে। এই ভর্তুকির হিসাব নির্ধারণে ভারত থেকে সরবরাহের খরচ ও মূল্যকে ভিত্তি ধরা হবে।

  • আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফের ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছে ইহুদি সেটেলাররা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
    খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি পুলিশের তত্ত্বাবধানে ইহুদিরা আল-আকসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে। ফিলিস্তিনের সরকারি ওয়াফা নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইহুদি সেটেলাররা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে এবং তালমুদীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বুধবার কয়েক ডজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী কম্পাউন্ডের প্রাঙ্গণে উস্কানিমূলক পদযাত্রা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।
    আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে ইহুদিরা এই এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট বলে। তাদের দাবি, এটি দুটি প্রাচীন ইহুদি টেম্পলের স্থান ছিল।

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর