শিরোনাম

  • ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল?

    ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল?

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করার পর দেশটির অভ্যন্তরে, বিশেষ করে ইসরাইলপন্থী রাজনীতিক ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে ট্রাম্পের পক্ষে চুক্তিটির সাফাই দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য খুব শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ভ্যান্স ইসরাইলের প্রকাশ্য বিরোধিতার জবাবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
    তিনি বলেন, আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যার সমাধান শুধু মানুষ হত্যা করে করা সম্ভব নয়। ইসরাইলের সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ভ্যান্সের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


    অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রকাশ্যে ইসরাইলের সমালোচনা না করে বরং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। গত সপ্তাহে তিনি মধ্যপ্রাচ্য সফর করে উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করেন, যারা যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালি) কোনো একক রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। এর কয়েক দিন পরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ১৭ জুন এমওইউ স্বাক্ষরের পর এটিই ছিল প্রথম সামরিক উত্তেজনা।

    বর্তমানে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমাতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ভ্যান্স ও রুবিওর দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে নীতিগত বিভক্তির জল্পনা শুরু হয়। তবে হোয়াইট হাউস জোরালোভাবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
    হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, বৈরুতে ইসরাইলের বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর আগে ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনে অনেক মানুষ থাকে, তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
    ভ্যান্স আরও বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পই এই মুহূর্তে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনেতা, যিনি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি যদি ইসরাইলি সরকারের সদস্য হতাম, তাহলে আমার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতাম না।
    অন্যদিকে রুবিও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে হিজবুল্লাহর হামলার বৈধ জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।

    উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়ে ভিন্ন সুর
    ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর করেন এবং আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে আরব দেশগুলো ইরানের পুনর্গঠন তহবিলে অবদান রাখতে পারে।
    অন্যদিকে রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফর করে মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
    ২৩ জুন তিনি বলেন, ইরানের পুনর্গঠনে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নের প্রশ্ন এখনো অনেক দূরের বিষয়। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই একটি চুক্তি চাই। তবে যে কোনো মূল্যে চুক্তি করতে চাই না।

    ইরানকে নিয়ে অবস্থানের পার্থক্য
    ভ্যান্স ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, দুই দেশ একসঙ্গে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে পারে। তিনি অতীতের সেই মার্কিন অবস্থান থেকেও কিছুটা সরে আসেন, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। ভ্যান্স বলেন, ইসরাইল হোক বা ইরান- কোনো দেশকেই আত্মরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

    অন্যদিকে রুবিও স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করতে দেয়া হবে না।
    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এখানে একটিই শিবির রয়েছে- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শিবির। পুরো প্রশাসনই প্রেসিডেন্টের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একমত যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
    পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও বলেন, রুবিও ও ভ্যান্সের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভক্তির দাবি ‘পুরোনো ও ভিত্তিহীন’। রুবিও নিজেও এ ধরনের জল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমরা সবাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বেই কাজ করছি। পুরো প্রশাসন একই অবস্থানে রয়েছে।

    ভ্যান্স ও রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভিন্নধর্মী অবস্থান রয়েছে।
    ক্ষমতায় আসার আগে ভ্যান্স বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকে প্রাণহানি ও অর্থের অপচয় হিসেবে সমালোচনা করতেন। অন্যদিকে রুবিও সিনেটে থাকাকালে ইরান, রাশিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় “হক” বা কঠোরপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত এই দুই নেতা রিপাবলিকান পার্টির দুটি ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। একদিকে রয়েছেন বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ সমর্থনকারী নব্য রক্ষণশীলরা (নিওকনজারভেটিভ), অন্যদিকে রয়েছেন সেই রিপাবলিকানরা, যারা মনে করেন সাম্প্রতিক অনেক বিদেশি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয় ছিল।

  • জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি, নিহত ৫

    জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি, নিহত ৫

    জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্টাডেতে অতর্কিত বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ সন্দেহভাজন একব্যক্তিকে আটক করেছে। খবর রয়টার্সের। সোমবার জার্মান পুলিশ জানায়, হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।
    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাটি হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার শহর স্টাডের কেন্দ্রস্থলের একটি যুবকেন্দ্রে (ইয়ুথ সেন্টার) ঘটেছে।
    কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিক হামলাকারীর কথা বলা হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

    সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ’ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

  • ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ছাড় পাবে না ইসরাইল

    ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ছাড় পাবে না ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা সবার আগে আমেরিকা পররাষ্ট্র নীতিতে ইসরাইল আর কোনো বিশেষ ছাড় পাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এখন অন্য সব মিত্র দেশের মতো একই কৌশলগত নীতি ইসরাইলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা শুরু করেছে।

    এতদিন ইসরাইল ভেবেছিল তারা হয়তো এই নীতির বাইরে থাকবে। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পলিটিকোকে বলেন, ‘আমরা বোকার মতো বাজি ধরেছিলাম যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে আমরা ছাড় পাব। কিন্তু এটা তো আর চলতে পারে না। আমরা চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যতিক্রম হয়ে থাকতে পারি না।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নীতিতে এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে সামনে এসেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি ইসরাইলি নেতৃত্বের তীব্র ও সরাসরি সমালোচনা করেছেন।

    ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ভ্যান্স বলেছেন, তারা যেন এটা মনে রাখেন যে যুক্তরাষ্ট্রই ইসরাইলের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’। ওয়াশিংটনের এই সমর্থনকে চিরস্থায়ী বা নিশ্চিত বলে ধরে নেয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

    দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সম্পর্কও আগের চেয়ে বেশ কমে গেছে। পলিটিকো জানিয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালে পাঁচবার ওয়াশিংটন সফর করলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেবল একবার সেখানে গিয়েছেন।

    বিষয়টির সাথে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের বিষয়টি এই মুহূর্তে কোনো বিবেচনায় নেই এবং দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অনেক কমে গেছে।

    সূত্রটি সতর্ক করে বলেছে, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় এখনো আসতে বাকি রয়েছে।’

    এ খবরটি আসার কিছুদিন আগেই আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, গত ২ জুন এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নেতানিয়াহুর পদক্ষেপে ট্রাম্প এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলে অবিহিত করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প পরে নিজেই স্বীকার করেছেন যে সেই কথোপকথনের সময় তিনি নেতানিয়াহুকে একজন ‘অভিশপ্ত উন্মাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

  • দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    তৌহিদি জনতার ব্যানারে দিনাজপুর শহরে কালেমার পতাকা নিয়ে এক বিশাল বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়।

    আয়োজকরা জানান, ইসলামের বিজয় ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া এবং কালেমার পতাকার ছায়াতলে মুসলিম জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    বাইক র‍্যালিতে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সর্বস্তরের মুসলিম তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন করে।

  • প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য ইরানের

    প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য ইরানের

    শত্রুভাবাপন্ন পশ্চিমা মিডিয়ার সব দাবি উড়িয়ে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মুখেও তারা আরো উন্নত এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

    ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা শাখার ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসেফি খোশকালব একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিদেশী গণমাধ্যমের দাবিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘সারাদেশে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে চলেছে। পানি ও স্থল সীমান্তের পুরো নিরাপত্তা এবং ইরানের আকাশে কোনো শত্রু বিমানের উপস্থিতি না থাকাটাই প্রমাণ করে আমাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা গতিশীল, চৌকস ও প্রস্তুত।’

    ইউসেফি খোশকালব জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলি শাসনামলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী তাদের অনন্য ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত ড্রোন শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। রণক্ষেত্রে এমন উন্নত ড্রোনের ব্যবহার এখন ইরানের বাহিনীর কাছে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই ধারা আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

    তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই শত্রুর ৪০ দিনের অতর্কিত আগ্রাসনের সময় ইরানের কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তাতে ইরানের অগ্রযাত্রাকে থামেনি।

    ইউসেফি খোশকালব বলেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আমরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি।’ যুদ্ধক্ষেত্র এবং বিমান যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর সরঞ্জামের ব্যবহার এখন ইরানের নিত্যদিনের কাজ।

    এদিকে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক ৪০ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যেই ইরান আরো উন্নত ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

  • গুণ্ডা আইন আনছে শুভেন্দু

    গুণ্ডা আইন আনছে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রাজ্য বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল। সরকারের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার নয়; অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    তার ভাষায়, ‘রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।‌’

    এই বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এমন কোনো কাজ যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে কিংবা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি, বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি এবং অবৈধ খনন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধও এই আইনের আওতায় পড়বে।‌

    বিলে কে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন—তা’ও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজে অথবা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, দল বা গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, অন্যকে উৎসাহ দেন, অর্থায়ন করেন অথবা সহযোগিতা করেন, তাহলে তাকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে।

    এ ছাড়া অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এই আইন প্রয়োগ করা যাবে। আইন অনুযায়ী সমাজের জন্য বিপজ্জনক ও দুর্ধর্ষ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়বেন।

    আটকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে হলে জেলা পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। গত সাত বছরের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অন্তত একবার কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকলে অথবা একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অন্তত তিনটি পৃথক মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত থাকলেও তাকে আটক করার বিধান রাখা হয়েছে।‌

    বিল অনুযায়ী, আটকের পর বিষয়টি একটি উপদেষ্টা বোর্ড পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তি চাইলে তার বক্তব্যও উপস্থাপন করতে পারবেন। এই আইনের অধীন অপরাধগুলোকে জামিন অযোগ্য এবং সরাসরি গ্রেফতারযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অভিযুক্তকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

    সরকারের দাবি, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও কঠোর আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিদ্যমান আইনেও সংশোধন আনার প্রস্তাব আজ বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে।‌

    তবে বিরোধী দলগুলোর একাংশ এরইমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই আইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও সরকারের দাবি, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে নয়; কেবল সংগঠিত অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনেই এই আইন প্রয়োগ করা হবে।

  • শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তৃর্থ বিশ্বাস নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত তৃর্থ বিশ্বাস উপজেলার ভাটই গ্রামের তপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে। সে ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ গাড়ির সাথে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক স্কুলশিক্ষার্থী তৃর্থ বিশ্বাস মারা যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী যাদব কুমার নামে এক ব্যক্তি জানান, গত দুই মাস আগে বাবার সাথে জিদ ধরে এই মোটরসাইকেল কেনে তৃর্থ বিশ্বাস। আজ সেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় ভাটই সরকারি কলেজের সামনে পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

    এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

  • জাপানের ২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল চীন

    জাপানের ২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল চীন

    দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সোমবার ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকায় যুক্ত করেছে চীন।

    এই তালিকার মধ্যে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজও রয়েছে। সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং অস্ত্র বিস্তার রোধসহ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে জাপানের ২০টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করে চীন।’

  • প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলো সৌদি

    প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলো সৌদি

    প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কিওয়া প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার আর মাত্র দুই দিন বাকি রয়েছে।

    কিওয়া জানায়, ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা কর্মী স্থানান্তর করার শেষ দিন হলো ৩০ জুন।

    কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় ধরে নবায়ন করা না হলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা হবে। কোনো কর্মীকে যদি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করানো হয়, তাহলে যে দিন পর্যন্ত কাজ করানো হয়েছে, সেই দিন পর্যন্ত অর্জিত সব বকেয়া আর্থিক দায় নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে।

    নিয়োগকর্তাদেরকে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি ।

  • ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীর ফুলগাজীতে গৃহবধূ বিবি কুলসুম কাজল (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দূর সম্পর্কের ভাগ্নে মো: আরিফুল ইসলামকে (৩১) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৭-এর স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আরিফ ঘটনার দিন দিবাগত রাত ৪টার দিকে ঋণের টাকা জোগাড়ের জন্য তার দূর সম্পর্কের মামি ভুক্তভোগী কাজলের বাসায় প্রবেশ করেন। এসময় তার হাতে থাকা কাটার নিয়ে তিনি গ্রিল বেয়ে ছাদে ওঠেন। ছাদের ঢেউটিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে তিনি মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে ভুক্তভোগী যখন দরজা খোলেন, তার জন্য ওঁৎপেতে থাকা আরিফ কাজলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে হাত বাঁধার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী ও আরিফের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাজলকে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা দেন আরিফ। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরিফ নিজেকে দোষী বলে স্বীকারোক্তি দেন। জানান, তিনি ঋণের টাকার জন্য তার মামির বাসায় প্রবেশ করেন।

    আরিফকে সোমবার ভোরে ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকায় অভিযান পরিচালানা করে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে ফুলগাজীর আমজাদ হাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়ায় ঘরের টিন কেটে ঢুকে গৃহবধূ কাজলকে হত্যা করা হয়।

  • গাজায় সাড়ে তিন হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

    গাজায় সাড়ে তিন হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

    গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুরুর পর থেকে ইসরাইল ৩ হাজার ৪৬৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।

    প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৩ হাজার ৩৮০ জন আহত হয়েছেন।

    মানবিক সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রেও চুক্তির শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজা মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরাইল মাত্র ৫৫ হাজার ৫৩৯টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

    এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘পরিকল্পিত গণবিনাশের নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ইসরাইলকে স্বাক্ষরিত চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    এছাড়া, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

  • কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    সিলেটের কানাইঘাট পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোর আব্দুল আহাদকে হত্যা করেছে সায়েম আহমেদ নামে এক যুবক।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

    নিহত কিশোর আব্দুল আহাদ কানাইঘাট পৌরসভার দলইরমাটি গ্রামের রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। অভিযুক্ত সায়েম আহমেদ কানাইঘাট পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারির ছেলে।

    জানা যায়, রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তাজুল ইসলামের ওয়ার্কশপে সায়েম আহমেদের স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে কিশোর আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে আব্দুল আহাদ মারা যায়।

    এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পারিবার এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।

  • মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    নওগাঁর মহাদেবপুরে বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা আব্দুল জব্বারকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন ভাতিজা চপল।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল জব্বার মহেশপুর গ্রামের মরহুম তাছির উদ্দীনের ছেলে।

    জানা যায়, আব্দুল জব্বারের সাথে তার ভাই আব্দুর হাইয়ের ছেলে চপলের আগে থেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আব্দুল জব্বারের বাড়ির দিক থেকে সেই বৃষ্টির পানি চপলের জায়গা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছিল। এই পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

    এর একপর্যায়ে ভাতিজা চপল তার চাচাকে তুলে আছাড় মারেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে চাচা আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চালক আব্দুল মান্নানকে (৪৫) হত্যা করে তার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মান্নান জেলার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।

    নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (২৮ জুন) সকালে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া স্ট্যান্ড থেকে সারিয়াকান্দি রুটে সিএনজি চালাতেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মীরা তাকে সর্বশেষ চেলোপাড়া স্ট্যান্ডে দেখেন। এরপর তিনি আর বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন।

    একপর্যায়ে সারিয়াকান্দির কৈ-খালি বিল এলাকায় স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মান্নানের বলে শনাক্ত করেন।

    সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর শ্বাসরোধে চালক মান্নানকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মোবাইলফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৩৬ দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’।

    সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরিফ ওসমান হাদিসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারো বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় :

    — গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন।

    — রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ।

    — রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    — ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।

    — সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    — সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    — জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন।

    — নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

    — ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন।

    — শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন।

    — শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়।

    — জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।

    — ‘Echoes of July’ (জুলাইয়ের প্রতিধ্বনী) শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

    পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওই কর্মকর্তার নাম রোজী আক্তার।

    রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতা অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রোজী আকতার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ, বিনা অনুমতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করা, সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গাড়িচালক না থাকার অজুহাতে বাসভবনে বসে দাফতরিক কার্য সম্পাদন করা, প্রকল্পের ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(ক), ৩(খ), ও ৩(ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

    অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের ৫৯৫ নং প্রজ্ঞাপনমূলে তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ৩১৮ নং প্রজ্ঞাপনমূলে আরোপিত তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড বাতিল করা হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর সচিবালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

  • শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, সানজিদা আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঢাকা ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সদস্য পদ লাভ করেন। পরে তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মহিলা লীগের নেত্রী সানজিদা আক্তারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার ব্যাপক প্রবণতা ঠেকাতে নিয়ম অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর জরিমানা দ্বিগুণ করবে অস্ট্রেলিয়া। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

    নতুন এই আইনের মাধ্যমে পদ্ধতিগত বা বড় ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৮ শত ৩৭ কোটি টাকা) করা হবে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনলাইন ওয়াচডগ বা নজরদারি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ -কে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে তদন্ত’ করছে।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে, প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো আইন মেনে চলার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বেশি শিশু রয়ে গেছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর নিয়ম মেনে চলার যেকোনো ব্যর্থতাকে আমরা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি, এ পরিবর্তনগুলো তারই প্রতিফলন’।

    বয়স্কদের নামে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বা প্রাইভেট ব্রাউজারে লগ ইন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে।

    অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞার সাফল্যের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরও অনেক দেশ, যারা ইতোমধ্যে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বা করার কথা ভাবছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড।

    চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপটির প্রথম দিকের একটি সমকক্ষ-পর্যালোচিত (পিয়ার-রিভিউড) মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এর খুব একটা প্রভাব পড়ার ‘যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি’।

    গবেষকেরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে এবং তিন মাস পর ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালান। এতে দেখা যায়, তারা ব্যাপকভাবে এই নিয়ম ‘ফাঁকি’ দিচ্ছে।

    ১২-১৩ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ১৪-১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ব্যবহার কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্যবহার বেড়েছে।

    দায়সারা পদক্ষেপ

    সরকারের মতে, এটি স্পষ্ট যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও ক্ষমতার প্রয়োজন; যদিও গত ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।

    নতুন আইনের অধীনে, ‘ই-সেফটি’ কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এটা প্রমাণ করতে বাধ্য করতে পারবেন যে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি যাচাই করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি বয়স নিশ্চিতকরণ বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের মতো তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য ও নথি চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে।

    অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    ওয়েলস বলেন, ‘ই-সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে পাওয়া নিয়মিত আপডেটের ভিত্তিতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পুরোনো কৌশলই অবলম্বন করছে এবং পার পেয়ে যাওয়ার জন্য দায়সারা কাজ করছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। ই কঠোর নতুন জরিমানা ও ক্ষমতা প্রমাণ করে যে আমরা পিছপা হব না; বরং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহি করতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করছি’।

    গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে খুব বেশি সময় কাটানো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সন্তান সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিনে আঠার মতো লেগে থাকায় বিরক্ত অভিভাবকদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞা যেন এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    যদিও প্ল্যাটফর্মগুলো আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এ পদক্ষেপগুলো কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেটের অন্ধকার এবং অনিয়ন্ত্রিত জগতে ঠেলে দিতে পারে।

    অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬ বা তার বেশি কিনা, তা যাচাই করার একক দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর এবং কমবয়সী কিশোরদের দূর করতে তারা যে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিয়েছে, তা তাদের প্রমাণ করতে হবে।

    কিছু প্ল্যাটফর্ম ছবি থেকে বয়স অনুমান করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে সরকারি পরিচয়পত্র আপলোড করেও নিজেদের বয়স প্রমাণ করতে পারবেন।

  • ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল ও গ্যাস কেনার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান। রোববার পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরান থেকে তেল ও গ্যাস কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    লাহোরে সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন তুঙ্গে ছিল, তখন এপ্রিলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রতি লিটার ৪৬০ রুপিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর থেকে বিশ্বব্যাপী দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করে, যেখানে মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান।

    এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির জন্য অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এর সাথে ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মালিক বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অবিলম্বে এই সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং জ্বালানি দাম কমিয়েছেন।

  • ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বা ডেটা সেন্টারের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার জন্য জেমিনি এআই মডেলের ব্যবহার সীমিত করেছে গুগল।

    ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে গুগল মেটাকে জানায় যে, তাদের চাওয়া পরিমাণ কম্পিউটিং সক্ষমতা বা স্টোরেজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ফলে মেটার কয়েকটি অভ্যন্তরীণ এআই প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

    অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন গুগল তাদের ক্লাউড অবকাঠামোর মাধ্যমে জেমিনি এআই মডেল পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের আরও কয়েকজন গ্রাহকও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। তবে জেমিনি এআই ব্যবহারের চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মেটার ওপর।

    এ পরিস্থিতিতে মেটা তাদের কর্মীদের আরও দক্ষতার সঙ্গে এআই রিসোর্স ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, এআই মডেল ব্যবহারের পরিমাপক একক ‘টোকেন’-এর ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে গুগল ও মেটা কোনো প্রতিষ্ঠানই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং অবকাঠামো নিশ্চিত করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নতমানের চিপ ও ডেটা সেন্টারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই এর আগে জানিয়েছিলেন, কম্পিউটিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে গুগল ক্লাউডের আরও দ্রুত সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের অপেক্ষমাণ কাজের পরিমাণও বেড়েছে।

  • ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) ইরান দাবি করেছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে তারাও পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরকের মতো পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে পারে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায়। সেন্টকমের দাবি, ইরানের অব্যাহত আগ্রাসন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকির জবাবে নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোনগুদাম এবং মাইন স্থাপনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে এমন সময় আসতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযত থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করব, তখন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর অস্তিত্বে থাকবে না।’

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েতে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। পরে দ্বিতীয় দফায়ও সতর্কসংকেত জারি করা হয়।

    তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

  • আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে ভুগছে দেশটির সরকার। এই উদ্বেগ থেকেই আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এ রাষ্ট্রটি।

    এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ। ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ।

    বোদস্কভ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ ডেনমার্কের জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিমরা ডেনমার্কের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

    ড্যানিশ এই মন্ত্রী সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেন, ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়।

    এমন এক সময়ে অভিবাসনমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন, যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে অভিবাসন নীতি ব্যাপকভাবে কঠোর করছে ডেনমার্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি সবচেয়ে কঠোর।

    এদিকে, আজান নিষিদ্ধের এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের সরকারের সামনে কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ দেশটির সংবিধানে জনগণের মুক্তভাবে ধর্মচর্চার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

    তবে, সেই চ্যালেঞ্জ খুব শক্তিশালী হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজান ও হিজাব পরিধানের মতো ইসলামিক প্রথাগুলোকে কঠিন নজরে দেখা হচ্ছে।

    চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্কের সরকার।

    রিৎজাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনও সুযোগ নেই। ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছেন, তাহলে খুব সমস্যা।

    এ এম

  • দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো ‘তৃতীয় পক্ষকে’ লক্ষ্য করে নয় এবং এই সম্পর্ক যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং।

    শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’-এ চীনের সমর্থন এবং দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ঘোষণার পর পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা এল।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। চীন এই প্রকল্পে সাধ্যমতো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    গুও জিয়াকুন আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি অবশ্যই যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    https://5268880971524f0f34d8d0fe407fc93e.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে চীনের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ‘তৃতীয় পক্ষ’-সংক্রান্ত মন্তব্যটি ভারতের উদ্দেশ্যে একটি কূটনৈতিক বার্তা। কারণ, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতরতা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি চীন সফরকালে এই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। ২৫-২৬ জুন বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    সফরের শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চীন তার সক্ষমতার মধ্যে ‘তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা ও সাহায্য দেবে’। এ ছাড়া দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করবেন এবং সমুদ্র ও সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে।

    পানি কূটনীতি ও মেঘনা নদী ব্যবস্থাপনা

    তিস্তা প্রকল্প ছাড়াও বাংলাদেশ ও চীন সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, জলবায়ু ও বন্যা পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ প্রশমন এবং নদী ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

    এই নদীভিত্তিক সহযোগিতা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী মেঘনা (যা ব্রহ্মপুত্র বা ইয়ারলুং সাংপো নামেও পরিচিত) ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিবছর বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আশ্বাস দেন, চীন বাংলাদেশের একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে থাকবে এবং বিএনপি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। চীনা প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তাঁরা উভয়েই চীনের অত্যন্ত ভালো বন্ধু ছিলেন।’

    পাল্টা সৌজন্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বিশ্বে কেবল একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী সরকার।’ বাংলাদেশ তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ভারত-ভিসা জটিলতার বিকল্প: ইউনানে চিকিৎসা পর্যটন

    স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীন বাংলাদেশ থেকে ইউনান প্রদেশে চিকিৎসা পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনের ইউনান প্রদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়াও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় দুই দেশ উচ্চমানের সহযোগিতা এবং যৌথ আধুনিকায়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থায় বাংলাদেশের বড় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং।

    বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। দুই দেশ মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকট ও কূটনৈতিক শব্দচয়ন

    ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইন রাজ্যের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে চীন। সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার’ মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সমর্থনের কথা জানায় বেইজিং।

    তবে কূটনৈতিক সতর্কতার অংশ হিসেবে যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে সেখানে ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ’ হিসেবে তাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    প্রচণ্ড গরমে খাঁ খাঁ করছে রাস্তাঘাট, শপিং মল ও শহরের কেন্দ্রগুলো। অনেক জায়গা দেখে মনে হবে পরিত্যক্ত এলাকা। গত এক সপ্তাহের মধ্য ইউরোপজুড়ে চলেছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহ।

    গত শুক্রবার দুপুর থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জার্মানির ছোট-বড় শহরগুলো যেন ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছিল। জরুরি প্রয়োজন বা কর্মস্থলে যাওয়া ছাড়া অধিকাংশ মানুষই ঘরের বাইরে পা রাখেননি।

    গতকাল জার্মানিতে নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দেশটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের ইয়েরিখোয়ার লান্ড জেলার ড্রেভিৎস এলাকায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    মাঠে ফসল পাকার আগেই প্রচণ্ড গরমে শুকিয়ে যাচ্ছেছবি: সরাফ আহমেদ

    আবহাওয়াবিদেরা এক গবেষণায় বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ তীব্র হয়ে উঠছে।

    জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই নিঃসন্দেহে দায়ী। গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছর আগেও এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিরল ছিল।

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সেখানে বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা স্বাস্থ্য, কৃষি ও শ্রম খাতে এ তাপপ্রবাহের বড় ধরনের প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ক্রমেই এ ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

    চলতি বছরের তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপে এ পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি হিটস্ট্রোক, অতিরিক্ত তাপজনিত শারীরিক চাপ, তাপপ্রবাহ বা ডুবে যাওয়া ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    শুক্রবার থেকে মধ্য ইউরোপের দেশ জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে জুন মাসে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে গত দুই দিনে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসেই রেকর্ড তাপমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের সরকারও বহু প্রশাসনিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটিতে অনেকে গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন।

    তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ব্রাসেলস থেকে জার্মানির কোলোন হয়ে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়ে। ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে তিন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় সপ্তাহান্তে প্যারিসের দুটি বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।

    লোকশূন্য, গাড়িবিহীন ফাঁকা হ্যানোভার শহরের একটি রাস্তাছবি: সরাফ আহমেদ

    এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নেদারল্যান্ডসের জনপ্রিয় সংগীত উৎসব ‘ডেফকন’-এ যোগ দিতে হাজারো মানুষ জড়ো হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করে। আয়োজকেরা শেষ মুহূর্তে উৎসবটি বাতিল করতে বাধ্য হন। এ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    জার্মানিতেও গতকাল হামবুর্গ হাফ ম্যারাথনসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বার্লিনসহ বিভিন্ন শহরের উন্মুক্ত সুইমিংপুলে নতুন টিকিট বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।

    বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, শনি ও রোববার শহরের কেন্দ্র এবং শার্লোটেনবুর্গ এলাকায় মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে জলকামান ব্যবহার করা হবে। বিশেষ যান থেকে পানির ফোয়ারা ছিটিয়ে মানুষকে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আজও একই ধরনের গরম অব্যাহত থাকতে পারে।

  • এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পে রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলও কেঁপে ওঠে।

    ইউরোপিয়ান-মেডিটারেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, গতকাল শনিবারের এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০০ কিলোমিটার গভীরে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    ভূমিকম্পে পাকিস্তানের মুসাখাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জেলার ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১২৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে তাঁবু, খাদ্যসামগ্রী, সৌর প্যানেল, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।

    ভূমিকম্পের সময় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা দানিয়াল আহমদ।

    দানিয়াল আরও বলেন, ‘সোয়াতে ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল। অনেকক্ষণ ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে।’

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা

    খালি হাত আর কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। আকাশে উড়ছে ড্রোন। সেটা ওপর থেকে জীবিত মানুষের চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জীবিতদের উদ্ধারের লড়াই। ভেনেজুয়েলায় নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে চলছে এমনই পদক্ষেপ। উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন সীমানায় অবস্থিত। সেখানে যতদূর চোখ যায়, দেখা যায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। বুধবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার পর এই রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি

    বাসিন্দা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জন ও নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজছেন। কংক্রিট ও লোহার রডের নিচে কেউ জীবিত আছে কি না, সেই আশায় তারা কান পেতে শুনছেন সামান্যতম শব্দও পাওয়া যায় কিনা। এ পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মাত্রা ৭.২ ও ৭.৫-এর দুটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত এক শতকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শত শত ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে মৃত ও আহতের সংখ্যা। জাতিসংঘেরঅনুমান, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশীয় উদ্ধারকারী দল সংখ্যায় খুবই কম। তবে মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয়।
    মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তির কাছে খাবার ও পানি থাকলে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা। এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা কিছুই গোপন করব না।

    লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে এখন হতাশার ছায়া। খুব কম ভবনই অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সরকারি বাহিনী বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিতদের উদ্ধারের এই সংকটময় সময়ে সরকার সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। যেসব স্থানে স্বজনরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেসব জায়গার আশপাশে উদ্বিগ্ন মানুষ অপেক্ষা করছেন। তাদের একজন হেসুস সুয়ারেজ। তিনি তার ছেলে জিন সুয়ারেজকে খুঁজতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। যারা তাকে চেনে, তারা বলছে, তাকে বের হতে দেখেনি। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, সে ওখানেই আছে।
    সুয়ারেজ এমন এক সংকটের মুখোমুখি, যার সম্মুখীন এখানকার অনেক মানুষই। তিনি বলেন, তাকে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। এখানে কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি নেই। একজন মানুষ একা এটা করতে পারে না। এটা খুবই বিপজ্জনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদুয়ার্দো কোথায় আছেন, তা অন্তত তার স্বজনরা জানেন। মাঝে মাঝে তারা তার কথা বলা বা গোঙানির শব্দ শুনতে পান।

    তার এক চাচাতো ভাই বিবিসি নিউজ মুন্ডো’কে বলেন, আমরা ডাকতে শুরু করি- ‘কার্লোস, কার্লোস, বাবা…’। এরপর সে একটা শব্দ করে, গোঙায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে এমনটা হয়েছিল। তিনি বলেন, এরপর থেকে আর কোনো শব্দ শুনিনি। সে আর কথা বলেনি, জীবিত থাকারও কোনো লক্ষণ দেয়নি। তবে এর আগেও এমন করেছে। শনিবার বিকেলেও সে গোঙানোর পর চুপ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা এখনো সাহায্যের অপেক্ষায় আছি, এই আশায় যে তাকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে।

    যানজট ও মানুষের ভিড় অনেক সময় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সৈন্যরা ও মেক্সিকোর স্বেচ্ছাসেবকেরা বারবার সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের কোনো শব্দ শোনা যায়। যার যেভাবে সম্ভব, সবাই সাহায্য করছেন। যাদের কাছে ড্রোন আছে, তারা দুর্গম এলাকায় জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা ড্রোনের ভিডিওর দিকে তাকিয়ে থাকেন- হয়তো পরিচিত কোনো কাপড়, চুলের গোছা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো জিনিস চোখে পড়বে। এমন কিছু, যা তাদের প্রিয়জনের কোনো খবর এনে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এর ভয়াবহ পরিণতিও।

    গ্লেনদিস দেলগাদো বলেন, একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মৃতদেহের গন্ধ। এতে আমরা আর আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। তিনি জানান, তার বাড়ির কাছের দুটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, সরকার থেকে কেউ এখানে আসেনি। তবে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে কারাকাস থেকে মানুষ এসে আমাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছে।

    ২৭ বছর বয়সী দেইয়ের গাব্রিয়েল বলেন, মাকুতো, কারিবে- সব জায়গাই ক্ষতিগ্রস্ত। আর আমরা সবাই সেই দুর্গন্ধ অনুভব করছি। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানায়, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৬১ জন স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। আরও অনেকে আসছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    এক নারী তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পা এখনো কাঁপছে। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, আমরা মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছি। আমাদের সাহায্য করতে তাদের আসতেই হবে। তিনি নিজের ওয়াশিং মেশিনটি উদ্ধার করার জন্য বাড়িতে ফিরেছিলেন। তিনি বলেন, এটা খুব কঠিন পরিস্থিতি। আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কত ত্যাগ আর পরিশ্রম করে মানুষ কিছু অর্জন করে, আর চোখের পলকেই সব ধসে পড়ে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবন। ২৮ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা গাবিনো’র অবস্থাও একই রকম। তার দুই সন্তান- একজনের বয়স সাত বছর, অন্যজনের দুই বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। তিনি বলেন, শিশুরা চিৎকার শুরু করেছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। হঠাৎ পাশের ভবনটি ধসে পড়ে, তখন আমার স্বামী দ্রুত গাড়িটি পিছিয়ে নেন।

    এখন চারজনই মাইকেতিয়া’র সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। তবে ভবন থেকে দূরে খোলা ও সমতল জায়গা হওয়ায় সেখানে আশ্রয় নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। আলেক্সান্দ্রা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তার স্বামী অস্থিতিশীল ভবনের ১৫ তলায় থাকা তাদের ফ্ল্যাটে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা যায়। তিনি বলেন, শুধু সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো। কারণ ভেতরে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। বেশি কিছু উদ্ধারের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সবকিছু হারিয়ে ফেলা খুব কষ্টের। আমার মা তার বাড়ি হারিয়েছেন, আমরাও আমাদের বাড়ি হারিয়েছি। আমাদের আর কিছুই নেই। সন্তানদের জন্য নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি এমন একটি কথা বলেন, যা এখন অনেক মানুষের মনের কথাই প্রকাশ করে। ‘সবাই বলে, বেঁচে আছেন- এটাই সবচেয়ে বড় কথা। হ্যাঁ, সেটাই ঠিক। কিন্তু যা সহ্য করতে হচ্ছে, তা ভীষণ কষ্টের। মানুষের কষ্ট দেখা, তাদের চিৎকার শোনা, শিশুদের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকতে দেখা, আর নিজের সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে কিছুই করতে না পারার অসহায়ত্ব- এসব খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’ শেষে তিনি বলেন, নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট হয়।

  • চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫শে জুন) ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা প্রচার করে। তারা জানায়, আমাদের অনুমতি ছাড়া অথবা নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে, তার সব পরিণতির দায় সেই জাহাজকেই বহন করতে হবে।
    এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এভার লাভলিতে’তে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে এটিই ছিল প্রথম হামলা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। তেহরানের এই হামলার জেরে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই হামলার অর্থ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া নয়। অন্তত আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো ইঙ্গিত নেই।
    পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    এদিকে শনিবার ভোরে বাহরাইন জানায়, তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু এখনো স্পষ্ট নয়।
    যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
    নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অন্যতম বড় অঙ্গীকার। তবে ইরানের দৃষ্টিতে প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।

    চুক্তির একটি অস্পষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। এর ফলে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় তেহরানের একটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকলেও সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কোন জাহাজ কখন এবং কোন পথে চলবে- সেই সিদ্ধান্ত নিজেদের হাতে রাখতে চায়

    আইআরজিসি ইতিমধ্যে তেহরানের অনুমোদনবিহীন রুটকে ‘অগ্রহণযোগ্য’, ‘চরম বিপজ্জনক’ এবং ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। তারা সব জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের জন্য শুধু তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছে।
    এদিকে সদ্য গঠিত পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি (পিজিএসএ) নতুন নিয়ম জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমোদনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পেলে তারা একটি ‘নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা’ পাবে, যার সঙ্গে বীমা সুবিধাও থাকবে।

    তবে সিএনএন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পিজিএসএর ই-মেইল কার্যকর ছিল না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত জলপথে তিনটি আলাদা রুট কার্যকর হয়েছে।
    দক্ষিণের একটি পথ ওমানের জলসীমা ঘেঁষে গেছে। মাঝের পথটি যুদ্ধের আগে ব্যবহৃত হতো। উত্তর দিকের পথটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের দ্বিধায় পড়েছে যে, কোন পথ ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
    সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মারিস্কস-এর প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, নিরাপদভাবে নৌ-চলাচলের জন্য পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বর্তমান পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    একদিকে হামলার ঝুঁকি, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
    শিপিং কোম্পানিগুলোর সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত। যদি তারা ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট এড়িয়ে অন্য পথ ব্যবহার করে, তাহলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আবার যদি তারা আইআরজিসির নির্দেশনা মেনে ইরানের রুট ব্যবহার করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেÑএমন আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন অতীতে সতর্ক করেছিল যে, ইরানকে কোনো ধরনের টোল ফি পরিশোধ করাও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে।
    প্রথমদিকে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের কথা বলেছিল। পরে তারা জানায়, আপাতত সরাসরি টোল নেয়া হবে না। পরিবর্তে সামুদ্রিক সেবা বাবদ ফি এবং নতুন পরিবেশগত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    উদ্ধার অভিযানও স্থগিত
    এভার লাভলিতে হামলার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) উপসাগরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিক বহনকারী ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সমন্বিত মানবিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
    সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পর অন্তত চারটি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। যেসব জাহাজ ওমানের রুট ব্যবহার করছে, সেগুলো খুব কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করছে। এতে সংঘর্ষ ও সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

    যুদ্ধ চলাকালে একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারের (ভিএলসিসি) জন্য হামলার ঝুঁকির বীমা করতে মালিকদের ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতে হয়েছে।
    যদিও এখন হামলার ঘটনা তুলনামূলক কম, তবুও বীমা প্রিমিয়াম এখনও অনেক বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, বীমা পেতে হলে প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই জানাতে হচ্ছে তারা কোন রুট ব্যবহার করবে।
    তার ভাষায়, এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নয়। বরং এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা এখনও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আছি। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে খুলে গেছে- এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
    তিনি সতর্ক করে বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত যদি রুট নিয়ে বিরোধের সমাধান না হয়, তাহলে তিনটি পথই বিশৃঙ্খলভাবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং নৌচলাচল আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে।

    আস্থার সংকট এখনো কাটেনি
    ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিছু জাহাজ ধীরে ধীরে আবার হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অপেক্ষা করছে- একটি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো হামলা ছাড়াই নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চায়।
    ম্যাথিউ রাইট বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস রয়েছে। তাই এই চুক্তি অবশ্যই একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ।”
    তবে তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে এবং ইরান যা বলছে- দুইয়ের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তার মতে, আমরা এখনো একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি।

  • কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন’কে ঘিরে অসংখ্য রহস্য। তবে তার মাকে ঘিরে গোপনীয়তা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি। ক্ষমতায় আসার ১৫ বছরে তিনি প্রকাশ্যে একবারও তার মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি। কিমের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বৈধতা অনেকটাই নির্ভর করে তার তথাকথিত ‘মাউন্ট পায়েকতু রক্তধারা’র ওপর। এ বংশপরিচয়কে কোরীয় জাতির পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার উত্তরাধিকার বলে প্রচার করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    আর এমন একটি দেশে, যেখানে এই বংশগত বিশুদ্ধতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গৌরবের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেখানে কিমের মায়ের পরিচয় শুধু একটি গোপন তথ্যই নয়, বরং সেটি শাসনব্যবস্থার জন্য সম্ভাব্য হুমকিও। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরীয় জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছিল মাউন্ট পায়েকতু থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতকে ডানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডানগুনকে কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। হাজার হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এই পাহাড়কে নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রচার করা হয়। পরে তার ছেলে কিম জং ইল-এরও জন্ম এই পবিত্র পাহাড়ের ঢালেই হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি করা হয়। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে তার জন্ম সম্ভবত রাশিয়ায় হয়েছিল। এরপর থেকে কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পায়েকতু’কে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার বই ‘কিম জং উনের সিক্রেট ভল্ট’-এ লিখেছেন, বিশের কোঠায় থাকা কিম জং উন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন ছাড়াই কেবল পায়েকতু রক্তধারার কারণেই উত্তরসূরি হয়েছেন। কিন্তু কিমের মাতৃসূত্রের বংশপরিচয়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প বলে। মাউন্ট পায়েকতু থেকে কয়েক শ মাইল দূরে রয়েছে জাপানের ঐতিহাসিক শহর ওসাকা। ধারণা করা হয়, সেখানেই ১৯৫২ সালে কিমের মা কো ইয়ং হুই জন্মগ্রহণ করেন। জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং হুইয়ের বাবা-মা মূলত বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত জেজু দ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন।

    জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবার ছিল জাইনিচি কোরিয়ান। অর্থাৎ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাপানে চলে যাওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে যায়। তারা ছিলেন প্রায় ৯৩ হাজার কোরীয়ের মধ্যে, যারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উত্তর কোরিয়ায় পাড়ি জমান। তখন তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে, সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ এক আদর্শ জীবন অপেক্ষা করছে। প্রথমদিকে জাপান থেকে আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখতেন। কারণ তারা সঙ্গে করে নগদ অর্থ, পোশাক ও গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

    তবে একই সঙ্গে তাদের জ্জায়েপো নামে অবজ্ঞাসূচক একটি পরিচয়ে ডাকা হতো। রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিতে তারা এমন একটি গোষ্ঠী, যারা বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শে প্রভাবিত বলে বিবেচিত হতো। উত্তর কোরিয়ার সমাজ অত্যন্ত কঠোরভাবে স্তরবিন্যস্ত। অনেক বিশ্লেষক এই সামাজিক কাঠামোর তুলনা বর্ণব্যবস্থার সঙ্গে করেন। এই সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসকে বলা হয় সংবুন। এই ব্যবস্থায় জ্জায়েপো’রা ছিল তথাকথিত দোদুল্যমান শ্রেণির অন্তর্ভুক্তদ- যা মূল বা অনুগত শ্রেণি এবং শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। তাদের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারি চালানো হতো। এ ছাড়া তাদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগও প্রায় থাকত না। এটি কিম পরিবারের বহুদিন ধরে প্রচারিত পায়েকতু রক্তধারার কাহিনির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

    নর্দার্ন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষক কিম হিউং-সু বলেন, শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণায়

  • রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রাম মন্দিরে ভক্তদের দেয়া দান এবং গয়না চুরির ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি বিজেপি এবং আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুললেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’দের আড়াল করতে কেবল নিচুতলার ছোট কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) অযোধ্যা সফরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় কেজরিওয়াল বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং ভক্তদের দেয়া মূল্যবান গয়না চুরির এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

    কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, এই চুরির ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর আসলে একটি লোকদেখানো প্রক্রিয়া মাত্র।

    তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং অমূল্য অলঙ্কার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। শোনা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসের সিসিটিভি ফুটেজও নাকি পাওয়া যাচ্ছে না! যে ঘটনার সাথে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও বিশ্বাস জড়িত, তার আসল সত্য দেশের সামনে আসা উচিত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া দরকার।

    আটজন ছোট কর্মচারীকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, আটজন সামান্য কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এত বড় একটা কেলেঙ্কারি শুধু ওই সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষে করা অসম্ভব। এর শিকড় অনেক উঁচুতে ছড়ানো। জুনিয়র কর্মীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বড় বড় মাথাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

    রাম মন্দিরের এই চুরিকে ‘মহাপাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে উদ্দেশ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘যোগী জি, রাম মন্দিরের দান চুরির সাথে যারা জড়িত, তারা আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। এর জন্য একটা বড় ষড়যন্ত্র বোনা হচ্ছে। এই মানুষেরা আপনার চেয়ারের পেছনে পড়েছে। যারা এমন মহাপাপের অভিযোগে অভিযুক্ত, আপনি কেন তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।

    তিনি আরো বলেন, ‘রাম মন্দির দান চুরির পেছনে অনেক বড় বড় মানুষ জড়িয়ে আছেন। যারা ভগবান রামের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, খোদ শ্রী রামই এবার তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবেন।’

  • সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদি আরবে এক সপ্তাহে যৌথ অভিযানে ১৫ হাজার ২৩১ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ওই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সৌদি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৮৯ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘন করেছে, ৪ হাজার ৪৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছে এবং ৩ হাজার ১৯৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে ১১ হাজার ২৯৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    পাশাপাশি ১৫ হাজার ১০৯ জনকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে পাঠানো হয় এবং ৩ হাজার ৬১৮ জনকে দেশে ফেরার ভ্রমণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় ১ হাজার ৭৬৩ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

    এছাড়া ৫৩ জনকে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে আরও ২২ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৬৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৯৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারী। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তিকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করেন, তাদের পরিবহন করেন, আশ্রয় দেন বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সেবা প্রদান করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

    পাশাপাশি এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িঘরও জব্দ করা হবে। দেশটির মন্ত্রণালয় জনগণকে অবৈধ অভিবাসন বা আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

  • আগামী একমাস হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে

    আগামী একমাস হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ইরানের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। রোববার (২৮ জুন) ইরাক সফরকালে তিনি এ কথা জানান।

    আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আমি আমার ইরাকি সমকক্ষকে অবহিত করেছি।

    তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সব প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পর প্রণালিটির পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই দায়িত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করবে।

  • ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে ১১ জনের মৃত্যু

    ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে ১১ জনের মৃত্যু

    ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) সকালে ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দরের কাছে টম্বলেন পৌর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তবে বিমানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    এর আগে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা একটি বেসামরিক বিমান এ দুর্ঘটনায় পড়ে।

    মিউরথ-এ-মোসেল প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, টম্বলেন পৌরসভায় একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছ।

    গভর্নর ইউভ সেগি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের অপারেশনাল সেবা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • বাড়িভাড়ার জন্য এক পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা

    বাড়িভাড়ার জন্য এক পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা

    ভারতের কেরালায় বাড়িভাড়া দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে একই পরিবারে চারজন। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার পিরাভমের কাছে একটি নদী থেকে সাত বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের লাশ উদ্ধারের কাজ শেষ হলো।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় নদী থেকে শিশুটির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা ভিজি ও তার দুই বছর বয়সি ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার উদ্ধার হয় শিশুটির বাবার লাশ। আর নিখোঁজ সাত বছরের মেয়েটির খোঁজ চলছিল রোববার সকাল পর্যন্ত। পরে পিরাভোমের কাছে নদী থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার থেকেই পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা মেয়েটির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে আবার অভিযান শুরু হলে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তের পর, পুলিশ ভিজি ও তার ছেলেকে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ নিখোঁজ থাকা নারায়ণন ও দম্পতির মেয়ের সন্ধান শুরু করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, পালাক্কাড়ের বাসিন্দা নারায়ণন তার পরিবারের সঙ্গে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি নারায়ণন ও তার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে কোট্টামঙ্গলম থানার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। পুলিশ তাদের জন্য বিকল্প একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিল এবং রোববার সেখানে ওঠার কথা ছিল।

    তদন্তে পিরাভোমের একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন।

    পুলিশ পরিবারের স্বজন ও পরিচিতদের বক্তব্য নিয়েছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

    পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

    সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।

    স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

    এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

    তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ফেনী-পরশুরাম সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মুরগিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন।

    শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— উপজেলার পাঠানগড়ের কাজী আজাদের স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০) ও ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সিএনজিচালক মোহাম্মদ কাউসার (২৫)।

    ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। তবে পথে সিএনজিচালক কাউসার ও যাত্রী জুহা মারা যান। আহত অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

    শনিবার (২৭ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।

    একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রক্তাক্ত লাশের ছবি সংবলিত বিকৃত ছবি দিয়ে সয়লাব করতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ অনেকে। অনেকের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।

  • নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পার্কিং থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের পাশাপাশি আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া গাড়িসহ মোট দু’টি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

    পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) নতুন জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা মোহাম্মদ আরিফের ব্যবহৃত ২০০৬ মডেলের টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার চুরি হয়। পরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মামলার তদন্তে এসআই মো: রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে।

    গ্রেফতাররা হলেন— মুক্তার হোসেন (৪৮), মো: মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) ও আলাউদ্দিন (৩৬)। এর মধ্যে মুক্তারকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ফতুল্লার দেলপাড়া চিতাশাল এলাকা থেকে এবং অপর দু’জনকে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলাসহ আরো একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখার ২০২৬ সেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহ।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে মহানগর শিবির কার্যালয় মিলনায়তনে কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সদস্য সমাবেশে এ নির্বাচন ও মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আবদুল মোহাইমেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

    শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত নাজমুল হাসানকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি শাখা সেক্রেটারি হিসেবে ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহকে মনোনীত করেন।

    পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সদস্য সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফেনীর ফুলগাজীতে ঘরের চালের টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৬ ‍জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর নাম কাজল আক্তার (২৬)। তিনি দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা আধাপাকা ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রবাসীর স্ত্রী কাজল আক্তারের হাত-পা বেঁধে মাথায় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় ঘরে তার তিন সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।

    নিহতের ভাসুর মাস্টার ইসমাঈল ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে গোঙ্গানির শব্দ শুনে চিৎকার করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

    ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মিজানুর রহমান জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব- মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার শুধু এই কথাটিই বলছেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তার পৃথিবী। যে ঘরে ছিল মায়ের স্নেহ, তিন বোনের হাসি আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ঘরে এখন একা।

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় ঘরে ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন প্রধান সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার (২৫)। একদিনে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো রায়পুরকে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের (৩৮) স্বামী কামাল ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তারপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, সায়মা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার।

    ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসে একসঙ্গে মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিফাত।

    শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রায়পুরে তাদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মরদেহ নেওয়ার কথা তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

    অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বজনের খবর দেওয়া হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি।

    ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে বলছেন, একই সময়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা, একজনের পক্ষে একই সঙ্গে চারজনকে হত্যা করা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্তে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ তদন্ত দলও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।

    নিহতদের স্বজন রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

  • মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মাগুরায় মানববন্ধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১ টায় ‘অধিকার’-এর মাগুরা জেলা সমন্বয়ক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মো: হোসাইন, জুলাই যোদ্ধা সবুজ হোসেন শাওন, সাংবাদিক শাহীন আলম তুহিন, খায়রুজ্জামান সবুজ, পলাশ মাহমুদ প্রমুখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ধরনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মানববন্ধন শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শহরে একটি শান্তিপূর্ণ র‍্যালি বের হয়।

  • রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

    অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত মুরাদ পারভেজের ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

    হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাকিব ও তামিম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হামলায় তাদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কর্মী আশিকের সঙ্গে তার ভাই রাসেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    গ্রেপ্তার শ্রাবণের তথ্যে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীতে মাদক চোরাকারবারীদের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের শরীর থেকে গুলি এখনও বের করা যায়নি। মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে মাদক চোরাকারবারীদের হামলা ও গুলির ঘটনায় ব্যবহার করা ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

    তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে কাটাবিল এলাকার শ্রাবণকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্য অনুসারে একটি বাড়ির পরিত্যক্ত স্থান থেকে ওই পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এই পিস্তলটি গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

    এর আগে হামলা ও গুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ইথান আহমেদ প্রেম (১২) এর বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় হামলায় জড়িত মাদক কারবারী সাব্বির ও অপুসহ ৬ জনের নামে এবং ৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শ্রাবণ নামের একজনকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার শ্রাবণের নাম না থাকলেও ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    এদিকে ঢামেকে ভর্তি গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র প্রেমের গুলি এখনও বের করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা ইউনুস মিয়া। তিনি আজ বিকাল ৫টার দিকে মুঠোফোনে সমকালকে বলেন, কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় সন্ধ্যায় ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা হয়নি। গুলির ক্ষত স্থান থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। আজ বিকেলের দিকে বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছে। জানি না কখন গুলি বের করা হবে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, মাদক বাড়ছে, মাদকসেবী ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে প্রতিরোধ কোথায়? এ সময় তিনি ডিসি এসপির উদ্দেশ্য বলেন, কুমিল্লায় মাদক নির্মূল করতে না পারলে আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব। আমি সরকারে থেকে তা না পারলে পদত্যাগ করবো।

    এর আগে আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় গুলির এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক বেচাকেনা নিয়ে কাঁটাবিল এলাকায় বুধবার রাত থেকে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করা হয়। পরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলি চালালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলার সময় ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ প্রেম কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে প্রেম বাসায় যাচ্ছিল। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডের কর্মচারী।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

    বাংলাদেশ সংবাদ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।

  • মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যালীটি মিরসরাই পৌর সদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির নুরুল কবিরসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    আয়োজক উপজেলা যুব বিভাগ জানায়, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় যুবকরা মাদকবিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা।

    র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা আজ সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের টাকার জন্য পরিবারে সঙ্ঘাত, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সরকার যদি মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের সচেতন যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

  • খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের সাথে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ) সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফের উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমাকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে গুইমারার দুর্গম হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনং পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ঝিমিত চাকমাকে উদ্ধারের পর মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাইনং পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষ পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা ঝিমিত চাকমাকে আটক করা হয়।

    গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঝিমিত চাকমা ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের সংগঠক। তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

    এদিকে, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ঝিমিত চাকমাকে সংগঠনটির গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটির জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • ইস্তাম্বুলের একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার

    ইস্তাম্বুলের একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার

    তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইস্তাম্বুলের পুলিশপ্রধান সেলামি ইলদিজ বলেন, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    বেসরকারি তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডিএইচএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৩৬৬টি প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলোতে প্রাচীন হিট-আইট, গ্রিক, রোমান, বাইজেনটাইন ও উসমানীয় যুগের মানুষের সামাজিক জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা প্রতিফলন রয়েছে।

    প্রত্নসম্পদ চোরাচালানের বিরুদ্ধে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। গত বছর বিদেশে পাচার হওয়া ১৮০টি শিল্পকর্ম দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় দেশটি।

  • পশ্চিমারা লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া কিছুই আনেনি: খামেনির উপদেষ্টা

    পশ্চিমারা লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া কিছুই আনেনি: খামেনির উপদেষ্টা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেছেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর স্থিতিশীলতা হলো হরমুজ প্রণালি। আর এই জলপথ শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া আর কিছুই আনেনি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভেলায়াতি বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের কাছে ঋণী। কারণ হরমুজ প্রণালিতে শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। কিন্তু পশ্চিমারা আসার পর এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতাই শুধু বেড়েছে।

    তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই রাজনৈতিক অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাড়াটে বিবৃতিতে আশ্বস্ত হওয়া উচিত নয়। জেনে রাখুন, আপনাদের টিকে থাকা এই টেবিলের উচ্ছিষ্টের ওপর নির্ভরশীল।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থার এই বড় পুনর্বিন্যাসে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খেলোয়াড়দের কোনো আসন নেই। তারা বাদ পড়ে যাবে এবং তাদের কৌশলগত টিকে থাকা তেহরানের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করবে।

    এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাহিনীটি বলছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক রুট ব্যবহার করেই কেবল নিরাপদে এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করা সম্ভব।

  • পনেরতলা ভবনের নিচে ছেলেকে খুজছেন এক মা

    পনেরতলা ভবনের নিচে ছেলেকে খুজছেন এক মা

    ১৯০০ সালের পর ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ছেলেকে খুঁজে পেতে খালি হাতে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ খুঁড়ে চলেছেন আম্পারো দেল জিউদিসে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসব ভয়াবহ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে অসংখ্য পরিবারের মতো দেল জিউদিসের পরিবারেও নেমে এসেছে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

    ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন।

    সময়ের সাথে সাথে সরকারি সহায়করা না পৌঁছনোয় হতাশ দেল জিউদিসে। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টারত এই মা বলেন, ‘এখানে অনেক পাথর। খালি হাতে এগুলো সরানো অসম্ভব।’

    তিনি যেখানে মনে করছেন তার ছেলে আটকে আছেন, সেখান থেকে অল্প দূরে বসে এ কথা বলেন। তার ২৩ বছর বয়সী নাতি আলেসান্দ্রো স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মীর হেলমেট পরে নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

    তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘উনি ভেতরেই আছেন।’ প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জনপদ লা গুয়াইরা একসময় ছিল রাজধানী কারাকাসের মানুষের ক্যারিবীয় সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের জনপ্রিয় গন্তব্য। সুইমিংপুল-সমৃদ্ধ বহু উঁচু ভবন ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে।

    অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার অঞ্চলটি পরিদর্শন করে এটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেন। এএফপির প্রতিনিধিরা সেখানে লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কে স্তব্ধ মানুষের মুখ।

    বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী আবাসিক ভবনগুলো এখন ধাতু, কাচ ও কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সেগুলোর চারপাশে তখনো ধুলার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল।

    উপকূলীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। উপকূলজুড়ে অনেক ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে গেছে। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসময় ১৫ তলা পর্যন্ত উঁচু ছিল এমন ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন।

    ভেনিজুয়েলায় একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবন প্রতিটি কম্পনেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠছিল।

  • ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহরে লুটপাটের ঘটনা

    ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহরে লুটপাটের ঘটনা

    ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে ওঠে উপকূলীয় এই শহর।

    বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। ধসে পড়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় মহাসড়ক এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বহু আবাসিক ভবন। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও সম্পূর্ণ ধসে গেছে।

    এএফপির প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ এবং নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফেরার হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মধ্যেই কিছু দুর্বৃত্ত লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।

    উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একই সময়ে একের পর এক আফটারশকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে লা গুয়াইরাকে দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে চলছে।

  • অপরারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ

    অপরারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ

    আর্ন্তজাতিক যেস্ক:

    ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট।

    সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।

    নিহতরা হলেন— সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুরালি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।

    ২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম।

    জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।

    গত বছরের ৭ মে, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। ওই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।

    এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং সীমান্তজুড়ে ব্যাপক গোলাবিনিময় শুরু হয়। চার দিন ধরে চলা এই সংঘাত ১০ মে শেষ হয়।

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।