শিরোনাম

  • ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।

    আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।

    আদিল বিন মামুন আরও বলেন, মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ডেভিড ইমন নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। এমনকি তাঁর ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আদিল বিন মামুন তাঁদের চেয়ে বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।

    অফিস চলাকালীন সময়ে এই হামলা চালানো হয়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তাঁরা।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।

    আজ যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ১০ থেকে ১৫ জনের দল হামলা চালায়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    কে এই ইমন

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ধান ও সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চার হাজার ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এক হাজার ২৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৭২০ টাকা মূল্যের পাঁচ কেজি উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

    এছাড়া তিন হাজার ৩০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে দুই হাজার পাঁচ টাকা মূল্যের ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম হাইব্রিড লাউ, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড চাল কুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড বেগুন, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড শসা ও ১০ গ্রাম হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ এবং ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

  • চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    টারযশোরের চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রহিম লবা (৫৮) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ভ্যানচালক আব্দুর রহিম লবা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের মাধবপুর পাড়ার মরহুম মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর বেলা আব্দুর রহিম নিজের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি চার্জ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের কয়েক দিন পরও ক্ষোভ কমেনি মিশর শিবিরে। দলের কোচিং স্টাফ আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তোপ দেগে দাবি করেছে, বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণেই তাদের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

    মিশরের অভিযোগ, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাদের একটি বৈধ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। সেই মুহূর্ত থেকেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

    বিতর্কের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

    কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে নিলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    মিশরের কিংবদন্তি যমজ হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান দেশটির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

    হোসাম হাসান বলেন, ‘ওরা ভীষণ উসকানিমূলক আচরণ করেছে। শুরু থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়দের মুখোমুখি গিয়ে বারবার উসকানি দিয়েছে। এমনকি একজন লাল কার্ডও দেখেছে। তার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করা।’

    মিশরের কোচের মতে, এই পরাজয়ের জন্য শুধু নিজেদের দায়ী করা যায় না; ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রেফারি পুরো ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতি দুই মিনিট পরপর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্ক, একের পর এক হলুদ কার্ড এবং প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গেছে। এতে পুরো ম্যাচ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল।’

    মিশরের জন্য এই বিদায় তাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতিহাস গড়ার সুযোগ তাদের হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা তাদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেয়। সেই নাটকীয় ম্যাচ এবং রেফারিং বিতর্ক দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছে ফুটবল অঙ্গন।

  • নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নাচের ছন্দে ও তালে বর্ষা উদ্‌যাপন করবে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। ১৭ জুলাই ঢাকার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করা হবে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’। অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সঙ্গে অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্দেশনা দিচ্ছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। এ বছর একুশে পদক পাওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে অর্থী আহমেদ নির্দেশিত প্রথম প্রযোজনা।

    গত বছর একই স্থানে ‘ঘনঘটা’ আয়োজন করেছিল অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। অর্থী আহমেদের নির্দেশনায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১১০ শিল্পী। বছর ঘুরে এবারও একই স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’।

    ১৭ জুলাই বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হবে আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০ জনের বেশি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার, নানা শ্রেণির মানুষ।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব; যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেওয়া হয়। বর্ষার দিনটিকে বরণ করে নিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। ছাতাটি ঘরে রেখেই আসুন, তার বদলে সিক্ত হোন বৃষ্টির গান, নাচ ও কবিতায়।

    আয়োজকেরা আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা পরিস্থিতি মাথায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে জাগো ফাউন্ডেশনের ডোনেশন বুথ। যেখানে আগত অতিথিরা বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি ডোনেশন দিতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দর্শকদের সাদা, নীল বা সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকেরা।

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।

    শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না।

    নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ ভিএআরের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকার দুই নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেষ ষোলো পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও।

    প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত পাঁচ দল হলো—মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।

    অন্যদিকে, ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের পক্ষে একটি ভিএআর সিদ্ধান্তও পায়নি। তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫।

    এই তালিকায় এরপর রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)।

  • যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা পতাকার সাজে সেজেছে। যেন আর্জেন্টিনার পতাকাই আকাশ ছুঁয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বটগাছটি রাঙিয়েছেন।

    বটগাছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন যমুনার চরের ক্লান্ত পথিকদের ছায়া দিত। এখন এটি ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নীল-সাদা রঙে সজ্জিত গাছটি চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যেন সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা।

    স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জাও থাকে। এসব আয়োজনের জন্য স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।

    স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন—২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার মতো এক অভিযান উপহার দিয়েছিল নরওয়ে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি ভাইকিংরা। শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    হতাশাজনক এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেন দলের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ একটি যাত্রা। আমাদের এই পথচলাকে এতটা স্মরণীয় করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

    হালান্ডের এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    যদিও নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা স্ট্রাইকার। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

    বিশেষ করে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা তার জোড়া গোল ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হালান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, নরওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।

  • গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের দংশনে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেয়া হয়।

    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

    আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’ এসময় তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করা এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ’। ১৯৭৬ সালে তার নেতৃত্বে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন এবং ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়।’

    তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে, সচেতনতা ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় আমাদের জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। আর তা করতে না পারলে এই সম্ভাবনাই একসময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ যা তারুণ্যের প্রত্যাশা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং কর্মসংস্কৃতির মতো জীবনদক্ষতারও বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।’

    কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে। ফলে দেশের মোট জনসংখ্যা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে এ হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

    তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারে জন্মহার তুলনামূলক অনেক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

    চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এই জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।’

    রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

    এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

  • ১৪ সংশোধনীতে গঠনতন্ত্র বদলাচ্ছে জামায়াতের

    ১৪ সংশোধনীতে গঠনতন্ত্র বদলাচ্ছে জামায়াতের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী নির্বাচনে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের স্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ পরিস্থিতিতে সাত বছর পর দলটির গঠনতন্ত্রে আসছে বেশকিছু বড় সংশোধন। বর্তমান আমিরের নেতৃত্বে এবারই প্রথম ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪টি সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এতে নিয়ন্ত্রিত হতে যাচ্ছে দলের আর্থিক খাত। দলের সদস্য না হলেও সাংবিধানিক বড় পদে আসীন হবারও সুযোগ মিলবে। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬৮ নম্বর ধারায় নতুন উপধারা যুক্ত করে জেলা ও মহানগর আমিরদের অর্থ ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দলটির আয়ের উৎস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের তৃতীয় অধ্যায়ে নতুন ধারা সংযোজন করে কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দলীয় সূত্র আরও বলছে, এই পরিষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যারা দলের সদস্য নন, কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৩তম সংশোধনী প্রস্তাব ইতোমধ্যে মজলিসে শূরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনী কমিটিতে আলোচনা শেষে প্রস্তাবগুলো নির্বাহী পরিষদে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো শূরায় আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও এসেছে। এ বিষয়ে শূরা সদস্যদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

    তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শূরা বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হবে। গঠনতন্ত্রের সংশোধনী চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে এবং দলের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে।

  • সোমবার দেশব্যাপী শোক পালন করবে বিএনপি

    সোমবার দেশব্যাপী শোক পালন করবে বিএনপি

    দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আগামীকাল সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

    আজ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    তিনি বলেন, ‘মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে।’

    এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন বলেও জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

    রিজভী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি আমাদের থেকে বহু দূরে চলে গেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের প্রতিটা অধিকারের আন্দোলন, স্বাধীনের আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-প্রতিটা আন্দোলনে তার অনন্য ভূমিকা এই জাতির কাছে কোনদিনই বিস্তৃত হবে না। তিনি ছিলেন সমকালীন রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তার মহিমান্বিত অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে, দেশ হারাল একজন অভিভাবককে।’

    উল্লেখ্য, রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির ‍উদ্দিন সরকার।

    রিজভী জানান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম জানাজা বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় প্রয়াত নেতা জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’

    এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. জাহিদ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

  • দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী ইবরার টিপুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নানা আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী, সংগীতশিল্পী বিন্দু কণা।

    ইবরার টিপুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বিন্দু কণা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর কিডনিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসার পাশাপাশি একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    বিন্দু কণা বলেন, ‘ইবরার টিপুর বড় একটি সার্জারি হয়েছে। তাই এখনো কথা বলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেরে উঠবে। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখার পর অনেকেই চিন্তিত হয়েছেন, ফোন করেছেন, জানতে চেয়েছেন কী হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সবার সঙ্গে কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আরেকটু সুস্থ হলে টিপু সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে ইবরার টিপুর কিডনি ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের একটি কঠিন যাত্রা পার করতে হয়েছে। এখন সুস্থতার দিকেই এগোচ্ছেন। আমরা আসলে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি। কিন্তু সম্প্রতি ফেসবুকে টিপুর বর্তমান চেহারা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন মনে করেছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

    এর আগে, এক সাক্ষাৎকারেও নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন ইবরার টিপু। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে নিজেকে সংগীতচর্চায় ব্যস্ত রেখেছেন। নতুন গান তৈরির কাজই কঠিন সময় পেরিয়ে আসতে তাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জুগিয়েছে।

    তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে কাজ করে আসছেন ইবরার টিপু। তার সুর ও সংগীতে দেশের অসংখ্য জনপ্রিয় শিল্পী গান গেয়েছেন। বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর শিরোনাম সংগীত নির্মাণের পাশাপাশি ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত বহুল জনপ্রিয় স্বাগত সংগীত ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।

    বর্তমানে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ইবরার টিপু। সফল অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।

  • ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

    গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

    যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

  • দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।আসামিরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দিয়েছেন।

    কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, রাজস্ব কর্মকর্তা এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।

    এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমির বলেন, ‘এই ১১ আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়ে গত ১৬ এপ্রিল তারা আত্মসমর্পণ করেন। ওইদিন আদালত তাদের ১২ জুলাই পর্যন্ত জামিন দেন। সে অনুযায়ী রোববার তারা স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করে। দুদকের পক্ষে আমরা বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

    পাঁচ দেশে রপ্তানির নামে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়— আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রফতানি দেখিয়ে দো এম্পেক্স লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যাংক জমা হয়। শুধু তাই নয় ৩৪টি রফতানি চালানের মূল্যবাবদ প্রণোদনা হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো রফতানি হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো এম্পেক্স লিমিটেডের মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে।

    যার মধ্যে ৭ বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কৃষি জাতীয় পণ্য রপ্তানির সত্যতা পাওয়া গেলেও ৩৪টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কোনো পণ্যই বিদেশে রফতানি হয়নি। অথচ পণ্য রফতানির বিপরীতে অগ্রিম হিসাবে পুরো অর্থ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা। রপ্তানি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করেন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করার একমাত্র কৃতিত্ব মেসির।আজ রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল‍্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

    ম‍্যাচে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের উল্লেখযোগ‍্য অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো- ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর এবারই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলছে। এছাড়া এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল অতীতে শিরোপা জেতা চার দল। ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপেরও সেমি-ফাইনালেও ছিল একই চিত্র।

    আসরে লিওনেল মেসি এমন ২০ টি পাস দিয়েছেন যেগুলো থেকে লক্ষ‍্যে শট নিয়েছেন সতীর্থরা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তিন আসরে গোল পোস্টে ২০ বা এর বেশি এমন পাস দিয়েছেন (২০২২ সালে ২১ টি ও ২০১৪ সালে ২৪ টি)।

    চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স চলতি আসরে টানা চার ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করেছিল। তাদের ওই যাত্রা থামে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।

    বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সমান গোল করেছে কর্ণার থেকে। অথচ গড় উচ্চতার দিক থেকে এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্চতা তৃতীয় সর্বনিম্ন। কর্ণারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সেট পিসে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছে আর্জেন্টিনা।

    চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি কোয়ার্টার-ফাইনালে শুরুর একাদশে খেললেন লিওনেল মেসি। এর আগে খেলেছেন- জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উয়ে সিলার। বিশ্বকাপে হুলিয়ান আলভারেসের পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। দিয়েগো মারাদোনাও নকআউট পর্বে চার গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাদের উপরে আছেন লিওনেল মেসি (৭)।

    ডাইভ দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাগাইল এমবোলো। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এই কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেস (বিপক্ষ পর্তুগাল, ২০০৬), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (বিপক্ষ ব্রাজিল, ২০০৬) এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২)। এ নিয়ে চলমান আসরে নকআউট পর্বের ৮টি ম্যাচ (২৮তম ম্যাচে) অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। এর আগে সমান সংখ্যক ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে। এই দুই আসরে নকআউট পর্বে ছিল ১৫ ম্যাচ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১-এ।

    বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ পর গোল করতে পারলেন না মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের পর, এবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন। কর্ণার থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তের গোলে অবদান রেখে বিশ্বকাপে মোট ১০ অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মারাদোনা করেছেন ৮ অ্যাসিস্ট। মেসির এই ১০ অ্যাসিস্টে ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলার গোল করেছেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কখনও বিশ্বকাপে এতো আগে (দশম মিনিট) অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। এটি কর্ণার থেকে করা মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট। কিলিয়ান এমবাপের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ গোলে অবদান রাখেন তিনি। এমবাপেও ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।

    মাক আলিস্তেরের গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও মূল আসর মিলিয়ে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। এই চক্রে ১১ ম্যাচে (বাছাইপর্বে ৬ ম্যাচ ও বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ) কখনই পিছিয়ে পড়েনি দলটি। বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ ৮ নকআউট ম্যাচে ১৩ গোলে (৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন মেসি।

    বিশ্বকাপে এ নিয়ে ১৩ বার আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। পেছনে পড়ে গেল জার্মানি। টাইব্রেকারসহ হিসেব করলে এই ১৩ ম্যাচের ১১ টিই জিতেছে আর্জেন্টিনা। পঞ্চম বারের মতো অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। ছয় জয় নিয়ে সবার উপরে আছে ইতালি।

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১৫ গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। শেষ ৬০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপে অবদান রেখেছে ১৪ ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেছিল আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন।

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে দেরিতে গোল করার রেকর্ড এখন লাউতারো মার্তিনেসের দখলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১তম মিনিটে গোল করেন তিনি।

  • নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    ২০২১ সালের ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তাঁর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে মাদক মামলায় পরীমণিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় প্রায় এক মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

    পরীমণির বিরুদ্ধে সেই মামলা এখনো চলমান। তবে গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি কখনো কথা বলেননি পরী। সম্প্রতি এক লাইভ টক শোতে পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম জানান, পরীমণিকে গ্রেপ্তার করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশেই পরীমণিকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

    খাইরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত শুক্রবার মধ্যরাতে দীর্ঘ পোস্ট দেন পরীমণি। সেই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

    পরী লেখেন, ‘র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

    রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে পরীমণি লেখেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবে?’

    গ্রেপ্তার-কাণ্ডের বিতর্ক এখনো বয়ে বেড়াতে হয় উল্লেখ করে পরী লেখেন, ‘একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক।’

  • স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    জুলাইয়ের এক মেঘলা সকাল। চরম বৈরী স্কটল্যান্ডের উপকূলের আবহাওয়া। চারদিকে সিসা রঙের আকাশ, উত্তাল সমুদ্র আর আনুভূমিকভাবে পড়তে থাকা বৃষ্টি। ঝড়ের মধ্যেই নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর উপদেষ্টার খোঁজে জেটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে মনে ভাবছিলেন, তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’-র ছয় মাসের শুটিং শিডিউলের প্রথম দিনটি হয়তো আজ বাতিল করতে হবে।

    কিন্তু ১১৫ ফুট দীর্ঘ যে জাহাজটিতে তাঁরা শুটিং করছিলেন, সেটি ঠিক এই ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। উপদেষ্টা নোলানকে আশ্বস্ত করলেন, অভিজ্ঞতা কিছুটা ভয়ানক হলেও কাজ করা পুরোপুরি নিরাপদ হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা উত্তাল ঢেউয়ের বুকে ভেসে পড়লেন। ঢেউয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বেশ কয়েকজন সহ-অভিনেতা জাহাজের রেলিং ধরে বমি করতে শুরু করেন।

    ঝড়ের গর্জনকে ছাপিয়ে নোলান চিৎকার করে তাঁর চিত্রগ্রাহক হোয়াইটে ভ্যান হোয়াইটেমাকে ডেকে বললেন, ‘কিছু মনে না করলে বমি করার এই দৃশ্যগুলো কি আমরা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারি?’ দীর্ঘ এক বছর পর, লন্ডনের করিন্থিয়া হোটেলের শান্ত পরিবেশে বসে ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান পরিচালক সেই দিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

    নোলান হাসিমুখে বলেন, ‘অভিনেতাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে রাজি হয়ে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। দিনটি একই সঙ্গে যেমন কষ্টের ছিল, তেমনি দারুণ কিছু শট এনে দিয়েছিল। সেগুলোই পরবর্তীতে এই সিনেমায় আমার অন্যতম প্রিয় দৃশ্য হয়ে ওঠে।’

    হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নোলানের এই নতুন সিনেমাটিকে (দ্য ওডিসি) ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সিনেমার প্রিমিয়ারের ঠিক আগের রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখার কারণে ভোর ৪টা পর্যন্ত জেগে থাকা নোলান চা পান করছিলেন আর তাঁর সিনেমা নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন।

    ১৯৭০ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাজ্য ও শিকাগোয় বেড়ে ওঠা নোলান ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর প্রথম স্বল্প বাজেটের ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ক্রাইম থ্রিলার ‘ফলোয়িং’ দিয়ে বাজিমাত করেন। এরপর ভাই জোনাথনের ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরি করেন ‘মেমেন্টো’। মাত্র ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সেই সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি সিনেমাটি তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর একে একে ইনসোমনিয়া, ব্যাটম্যান ট্রিলজি, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করা ও সাতটি অস্কার জেতা ওপেনহাইমার-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেন তিনি।

    হলিউডের স্টুডিও ও নির্মাতারা তাঁর ওপর চোখ বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে, কারণ দর্শনের জটিল মনস্তত্ত্ব বা সময়কে উল্টো করে দেখানোর মতো দুরূহ বিষয়কেও নোলান অবলীলায় বক্স অফিস হিটে রূপান্তর করতে পারেন। নোলান জানান, অনেকে ভাবছেন ‘দ্য ওডিসি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ এখনো তাঁর সবচেয়ে বেশি বাজেটের ছবি।

    এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই ইন্টারনেটে তীব্র সংস্কৃতি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। গত মে মাসে যখন জানা যায়, জিউসের পৌরাণিক কন্যা ‘হেলেন অব ট্রয়’ চরিত্রে অভিনয় করবেন কেনিয়ান-মেক্সিকান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংও, তখন ইলন মাস্কসহ একদল ইউটিউবার নোলানকে হলিউডের ‘ওক এজেন্ডা’-র কাছে আত্মসমর্পণ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া ট্রিলজির অন্য একটি চরিত্রে ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতা এলিয়ট পেজের কাস্টিং নিয়েও অনেকে আপত্তি তোলেন, যার ফলে ইউটিউবে সিনেমার ট্রেইলারে প্রায় ৬ লাখ ডিসলাইক পড়ে।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে নোলান শান্তভাবে চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বলেন, ‘এগুলো আসলে এই পেশারই অংশ। মানুষ সিনেমাটি দেখার আগেই যেসব বিতর্ক করে তা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ তারা জানেই না পর্দায় আসলে কী আসতে চলেছে। আমি ব্যাটম্যান নির্মাণের সময় ১০ বছর এই ধরনের ভক্তদের উন্মাদনা সামলেছি। হিথ লেজারকে যখন জোকার চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল, তখনো অনেকে আকাশ থেকে পড়েছিলেন। আমার কাজ হলো মূল টেক্সটের প্রতি সৎ থেকে নিজের সেরা কাজটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।’

    বর্তমান যুগের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্যেও নোলান প্রথাগত প্র্যাক্টিক্যাল ইফেক্টস এবং অ্যানিমেট্রনিক্সের ওপর ভরসা করেন। সিনেমার দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যত্রতত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি তাঁর নিজের চার সন্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এআইয়ের তৈরি কৃত্রিম জিনিসগুলো খুব দ্রুত ধরে ফেলে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। চলচ্চিত্রে এখন আবার বাস্তব ও স্পর্শকাতর গল্প বলার ধারা ফিরে আসছে।’

    নোলানের নিজের প্রযুক্তিবিমুখতাও চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ কিংবদন্তিতুল্য। তিনি আজ পর্যন্ত কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই এখন পড পিপল বা ফোনের দাস হয়ে গেছেন। আমি যদি একটা স্মার্টফোন কিনতাম, তবে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম এবং সারাক্ষণ ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতাম। আমি আমার সিনেমার নতুন নতুন আইডিয়াগুলো মূলত সেই সময়গুলোতেই মাথায় আনি যখন সাধারণ মানুষ পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে ডুবে যায়—যেমন ট্রেনে বা এয়ারপোর্টে অপেক্ষার সময় কিংবা রেস্তোরাঁয় কারও জন্য বসে থাকার মুহূর্তগুলোতেই আমি আমার পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরি করি।’

    স্মার্টফোন না থাকার কারণে তিনি ইন্টারনেটের কোনো গুজবে কান দেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল থেকেও দূরে থাকেন। কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর মতো ‘১০টি সিনেমা বানিয়ে অবসরে যাওয়া’-র নিয়মে তিনি বিশ্বাসী নন। নোলান মনে করেন, প্রতিটি সিনেমাই এমনভাবে বানানো উচিত যেন এটিই তাঁর জীবনের শেষ কাজ। সিনেমা হলের ভেতরে ফোন ব্যবহারেরও বিরোধী নোলান। আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দর্শকদের।

  • কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড বিশ্বকাপে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুইসদের সমতাসূচক গোলের পরপরই পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, এটি ছিল বিশ্বকাপে চালু হওয়া ভিএআরের নতুন একটি নিয়মের প্রয়োগ।

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭২ মিনিটের ঘটনা। এমবোলোকে ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ম্যাচ পরিচালকের কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পারেদেস। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ড রেফারি (ভিএআর) দেখতে যান পিনেইরো। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এমবোলোকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার কোনো ফাউলই করেননি। বরং এম্বোলো ফাউলের ভান করেছিলেন।

    এই অবস্থায় ভিএআরের মিস্টেকেন আইডেন্টিটি বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার প্রোটোকল কার্যকর হয়। যেহেতু রেফারি প্রথমে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, তাই ভিডিও রিপ্লে দেখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ফাউলের ভান করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার কারণে এমবোলোকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সেটা ছিল ম্যাচে তাঁর দেখা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে।

    এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এবারের বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেবার রেফারি প্রথমে আলমিরনের ওপর ফাউলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় পর দেখা যায়, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়ই ফাউলের ভান করেছিলেন। এরপর রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্যারাগুয়ের ওই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান।

    বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হলে ভিডিও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে ফাউলের ভান বা প্রতারণার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ও শাস্তি পাবেন। এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড সেই নিয়মেরই সর্বশেষ উদাহরণ।

  • সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে এখন সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। শেষ চারে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং দলকে সেরা ফুটবল খেলার তাগিদ দিলেন তিনি।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের আগেই শেষ চারের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে টমাস টুখেলের দলের জয় ২-১ ব্যবধানে।

    ফাইনালে ওঠার মিশনে আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হোক বা নরওয়ে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা এমন একটি দলের (ইংল্যান্ড) মুখোমুখি হব যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং তাদের একজন দারুণ কোচ আছেন। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শক্তি ফিরে পাওয়া। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। মাক আলিস্তারের গোলে ৬৬ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ডান এনদয়ে সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরানোর পর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বাজিমাত করে আর্জেন্টিনা। একটি করে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের ভুগেতে হয়েছে। জানতাম তারা (সুইজারল্যান্ড) খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল এবং কিছু মুহূর্তে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল, কারণ তাদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিল। তখনই আমরা আক্রমণে যেতে পেরেছি। বাস্তববাদী হতে হবে, আমাদের উন্নতির জায়গা আছে। তবে জিততে পারা সব সময়ই ভালো।’

    কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে না পারলেও শেষ চারে ওঠার আনন্দ লুকাননি স্কালোনি, ‘হয়তো আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। কিন্তু এই দল যা অর্জন করেছে, তা ইতিহাস। আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা সত্যিই ঐতিহাসিক।’

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে সংশয়! এ তো রীতিমতো দুঃসাহস! তবু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন? প্রশ্নটা করতে হচ্ছে মেসির কারণেই। কারণটা হয়তো জানেনই—এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি।

    একবার ভাবুন তো, ওই দুটি পেনাল্টি থেকে মেসি গোল পেলে কী হতো? মিসর ম্যাচে হয়তো আর্জেন্টিনা খাদের কিনারায় পড়ত না। কিছু সময়ের জন্য দল চাপে পড়ত না অস্ট্রিয়া ম্যাচেও। সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন একাই রাজত্ব করতেন। ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সিংহাসন ভাগাভাগি করতে হতো না।

    ধরুন, আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আবার পেনাল্টি পেল, তখন কি সেটা মেসিই নেবেন? নাকি অন্য কেউ? অন্য কাউকে আলোচনায় আনাটা সহজ নয়। কারণ, এই দলে সবকিছুই তো মেসিনির্ভর! একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক।

    মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসির উদ্‌যাপন রয়টার্স

    সর্বশেষ যে ম্যাচটিতে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, সেই ম্যাচেই মেসি গোল করেছেন, আবার করিয়েছেনও। বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন, যেখানে ১৯৬৬ সালের পর থেকে অন্য কোনো খেলোয়াড় তিনবারের বেশি এটি করতে পারেননি। সেই ম্যাচেই মেসি গড়েন বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ আর নকআউট ম্যাচে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।

    তো এত সব করা মেসিকে পেনাল্টি নিতে বারণ করাও তো বিপদ! আর্জেন্টিনা দলে অন্যরা কেমন পেনাল্টি নেন, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ছাড়া আর কে আছেন পেনাল্টি নেওয়ার মতো? মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পেনাল্টি নিয়েছেন ১৪৮টি। এর মধ্যে ১১৪টি শটে গোল করেছেন, সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। মেসির চেয়ে কেউ কি ভালো আছেন এই দলে?

    শতাংশের বিচারে বললে বলতে হবে, আছেন। তা–ও একজন নয়। এই হিসাবে পেনাল্টিতে মেসির চেয়ে ভালো আছেন পাঁচজন। আর্জেন্টিনা দলে পেনাল্টি সফলতায় সবচেয়ে এগিয়ে লিয়ান্দ্রো পারদেস, তাঁর সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ।

    তালিকায় এর পরে আছেন ম্যাক অ্যালিস্টার, তিনি ৯১.৭ শতাংশ পেনাল্টিকে গোলে পরিণত করেছেন। সমান শতাংশ সফলতা আছে এনজো ফার্নান্দেজেরও। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ। এমনকি নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি সফলতার হারও মেসির চেয়ে ভালো—৮২.০৪ শতাংশ।

    তাহলে এরা সবাই কি মেসির চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেন? এর আসলে সরাসরি কোনো উত্তর নেই। কারণ, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০টি পেনাল্টি গোল করা কোনো আর্জেন্টাইন মেসির ৫ শতাংশের ভাগের এক শতাংশ পেনাল্টিও নেননি। এ তালিকায় মেসির পর সর্বোচ্চ পেনাল্টি নিয়েছেন মার্তিনেজ, তা–ও মাত্র ২৭টি। পেনাল্টি যিনি বেশি নেন, মিস তো তিনিই বেশি করবেন!

  • কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    ম্যাচে আপনার দল পিছিয়ে, গোল দরকার যেকোনো মূল্যে, আপনি কার দিকে আশাভরে তাকিয়ে থাকবেন?

    এই মুহূর্তে আপনাকে প্রশ্ন করা হলে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গে আপনার মাথায় আসতে পারে আরও দুটি নাম। হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড। আর আজ রাতে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচটা এই সময়ের দুই সেরা স্ট্রাইকারকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষ হিসেবে।

    এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যা পারফরম্যান্স, তাতে তাঁদের খুব বেশি আলাদা করা কঠিন। হলান্ড এর মধ্যে করে ফেলেছেন ৭ গোল, কেইনের গোল ৬টি। হলান্ড অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন, পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। যে কারণে কেইনের প্রতি ৯০ মিনিটে ১.২ গোল গড়ের চেয়ে হলান্ডের রেকর্ডটা বেশ ভালো, ১.৮।

    দুজনের পার্থক্য আছে আরও একটা জায়গায়। কেইন দুটি গোল পেয়েছেন পেনাল্টি থেকে, হলান্ডের কোনোটিই পেনাল্টি থেকে নয়। হলান্ডের ৭ গোলের মধ্যে ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে, কেইনের আবার বক্সের বাইরে থেকে একটি গোলও নেই।

    ক্লাব ফুটবলেও দুজন গোলের পর গোল করে গেছেন গত বেশ কিছু মৌসুম ধরেই। ৩২ বছর বয়সী কেইন সবচেয়ে সোনালি সময় কাটাচ্ছেন, এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করে ফেলেছেন ৭৩ গোল। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোলের কীর্তি আছে শুধু ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির (৮২)। হলান্ড একটু পিছিয়ে, ম্যান সিটি ও নরওয়ের হয়ে এই মৌসুমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৫৮।

    হ্যারি কেইন আছে দারুণ ছন্দেএএফপি

    দুজনের তুলনায় কেউ বলতেই পারেন, কেইন হয়তো হলান্ডের চেয়ে আরেকটু বেশি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। দুজনই নাম্বার নাইন হলেও হলান্ড যেখানে বক্সের আশপাশে গোলের জন্য ওত পেতে থাকেন পাকা শিকারির মতো, সেখানে কেইনকে অনেক সময় নিজেদের ডি বক্সে এসেও রক্ষণ করতে দেখা যায়।

    এই বিশ্বকাপে কেইন একটি অ্যাসিস্ট করেছেন, হলান্ডের একটিও না। আবার হলান্ড বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন—কেইনের চেয়ে যা দুটি বেশি। গত তিন মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে কেইনের অ্যাসিস্ট ২৬টি, ২৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে হলান্ডও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

    ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন ইংলান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। তিন বিশ্বকাপে তাঁর গোল এখন ১৪টি। ওদিকে হলান্ডের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।

    আর্লিং হলান্ড খেলছেন প্রথম বিশ্বকাপএএফপি

    তবে দেশের হয়ে তাঁর ফর্মটা প্রায় অবিশ্বাস্য, ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল। যার মানে প্রতি ৭১ মিনিটে নরওয়ের হয়ে একটি গোল করেছেন, যেখানে তিনি কেইন-মেসি-এমবাপ্পেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।

    জাতীয় দলে দুজন দুজনের বিপরীতে এখনো না খেললেও ক্লাব ফুটবলে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। টটেনহামে থাকার সময় দুবার কেইন হলান্ডের সিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে প্রথম দেখায় ইতিহাদে টটেনহামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন হলান্ড। কেইন অবশ্য পরের দেখায় টটেনহামের হয়ে জয়সূচক গোল করে শেষ হাসিটা হেসেছেন।

    সেই হাসিটা আজ কার মুখে থাকবে?

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    খুদে বিস্ময় লামিন ইয়ামালের কপাল মন্দ। শত চেষ্টা করেও গোল পেলেন না। তবে তার স্পেন জয়ের মালা পরেছে। বেলজিয়াম হেরে গেছে। অথচ ফুটবল ইতিহাস বলছে, ম্যাচটা ছিল বদলা নেয়ার। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে স্পেন হেরেছিল শেষ আটের লড়াইয়ে। সে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে। একদিকে ইয়ামাল। অন্যদিকে জেরেমি ডকু। এক অনবদ্য ফুটবল লড়াই। মাঠ জুড়েই ইয়ামাল। ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইঙ্গার, বেলজিয়ামের গোলশক্তি ডকুও গোল পাননি। অথচ তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে স্পেন একটা চমকই দেখায় বটে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে বদলি নামা মিকেল মেরিনো গোল করে বসেন। ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করেন। এই মেরিনোই বদলি নেমে রোনালদোকে গুডবাই জানান । তিনিই হলেন এই ম্যাচের স্প্যানিশ তারকা। বিজয়ের নায়ক। পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে দক্ষ। একইসঙ্গে রক্ষণ ও আক্রমণেও বেশ পারদর্শী। জানিয়ে রাখা ভালো- তার বাবা আনহেল মেরিনোও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই ম্যাচের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের কপাল পুড়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে। পরিবর্তে নামেন সেনে লামেন্স। কিন্তু তিনি আর কোনো দেয়াল তৈরি করতে পারেননি। কোর্তোয়া অনেকগুলো বল রুখে দিলেও লামেন্স তেমন সুযোগ আর পেলেন না। তার হাতছাড়া হয়ে ফিরে আসা বলেই স্পেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন আর্সেনালের মেরিনো। এর মধ্য দিয়েই বেলজিয়ামের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররাই বেলজিয়ামকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়াম যে একটি শক্তি তা প্রমাণের। কিন্তু সে স্বপ্নের মৃত্যু হয় লামেন্সের হাতেই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। তবে রূপকথার মতো বিদায় সাধারণতো হয় না। যেটা হয়েছে সোফি স্টেডিয়ামে। যাইহোক, দুই খেলায় দুই গোল করেই স্পেনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন মেরিনো। লামিন ইয়ামাল শুরু থেকেই বেলজিয়ামের দুর্গে আঘাত হানতে থাকেন। কিন্তু চমৎকারভাবে বেলজিয়াম তার সাজানো ছক ভেঙে দেয়। অনেকগুলো শট নিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাভূত করতে পারেননি। শুধু শটই নয়, ফ্রি কিক থেকেও ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সুযোগ আসে আরেকটি। কিন্তু সেটাও তিনি কাজে লাগাতে পারলেননা। ইয়ামালের কপাল এমনই খারাপ গোল্ডেন বুটের কাফেলায় তিনি নাম লেখাতে পারেননি। তবে স্পেন যেভাবে খেলছে এবং ভাগ্য যেভাবে তাদেরকে সাহায্য করছে- তাতে মনে হয়, তারা অনেকদূর যাবে। এর প্রমাণ পূর্বেই দেখিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে গোল হজম করার পর টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেননি। যদিও এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে তাদের দীর্ঘসময় গোল না খাওয়ার অবস্থান ভেঙে দেয় বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার দর্শক এই জমজমাট ফুটবল লড়াই উপভোগ করেন। এখন কী হবে? এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে হবে স্পেনকে। এমবাপ্পে আর ইয়ামালের লড়াইটা কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে রইলো ফুটবল দুনিয়া।

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনালের চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ভবনে এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মহাসিন এমদাদুল্লাহ জামেনের উপস্থাপনায় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ শ্রমিক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান , চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রুহুল আমিন এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি ও মেহেরপুর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল ।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম লিটনসহ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের জন্য শ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। এই দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা আমাদের সেই শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন; এটা আমরা কখনো দেখিনি। যার জন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

    শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিন্ম মজুরী সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে।শ্রমিকদের অসম্মান করা যাবে না তাদের সম্মান করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরী, চিকিৎসা সেবা,শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ সরকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নাটোরের নলডাঙ্গায় পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা: ফাতেমা খাতুন (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটরি পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু ফাতেমা খাতুন নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটিরপাড়া এলাকার মো: ফিরোজ হোসেনের মেয়ে।

    পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় ফাতেমা। পরে বাড়িতে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নলডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ নলডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত রয়েছে। নিহত শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের  মৃতদেহ উদ্ধার 

    শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার 

    পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিন খান (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার মসজিদের পাশে থেকে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

    নিহত তুহিন খান সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খানের ছেলে। শ্বশুরের নাম আবতার হোসেন। তিনি নলদহ লালগোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী। স্ত্রীর নাম আফসানা খাতুন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। স্থানীয়রা সকালে পুকুরের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে পুলিশের দাবি, তিনি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের নেশায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শ্বশুর বাড়ি এসে নেশাদ্রব্য খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তুহিন মসজিদের বারান্দায় রাতে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ২টার দিকে আমরা খবর পাই। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সকালে মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করা হবে। এরপরই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পিকআপের ধাক্কায় আমির হোসেন (৪২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার ভোরে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ পেছন দিক থেকে এসে ওই বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ভেতরে থাকা চালক আমির হোসেন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের ভেতর থেকে নিহত চালককে উদ্ধার করেন।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সেইসাথে বাস ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

  • জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে দুই নারীসহ তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ।

    তবে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিজিবি’র কঠোর তৎপরতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    আজ শনিবার ভোর ৪টার দিকে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮ এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে একজন বৃদ্ধ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

    স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ভোররাতে সীমান্তের লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তের পাহারায় থাকা স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান জোরালো করে।

    আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক বৃদ্ধের নাম হাফিজুর রহমান (৬৫)। তার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তার সাথে থাকা দুই নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয় ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে বিএসএফ তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে তা প্রতিহত করে। পরে বিজিবিকে বিষয়টি জানানো হয়।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা ওই তিন ব্যক্তিসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান করছেন।

    পত্নীতলা ১৪ বিজিবির সহকারী পরিচালক হাসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ও তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

  • চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ  গ্রেফতার -১

    চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার -১

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামাল হোসেন ভুঁইয়া নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আকাশ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার কামাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমানগন্ডা গ্রামে কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

    এসআই তারেক আকাশ বলেন, ‘মাদকসহ কামাল ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

  • পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ সামারি ট্রায়াল আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হযরত আলী মণ্ডলের ছেলে আকের আলী মণ্ডল (৬৫) এবং তার স্ত্রী ফেরুজা খাতুন (৪০)। ফেরুজা একই গ্রামের ইন্তাজ আলীর মেয়ে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই হাফিজুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরে দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গার সামারি ট্রায়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরের সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সন্দেহভাজন এক সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক তরুণের নাম তাহসীন ইসলাম (১৯)। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চাপাতি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তাহসীন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানিয়েছে, তাহসীনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে তাকে আটক করা হয়েছে। আগের একটি ডাকাতি মামলায়ও তিনি তৃতীয় নম্বর আসামি।

    তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। তবে যশোরে সংগঠনটির সক্রিয় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    সম্প্রতি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শাহ আমানত সাবির প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ছয় যুবককে আটক করা হয়। সিটিটিসির দাবি, সংগঠনটির নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত এবং আফগানিস্তানফেরত উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পুলিশের দাবি, একটি বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পের আড়ালে চক্রটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে টিটিপির আদলে দেশে তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

  • আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যেই সিঁদুর পরিয়ে দেন এক যুবক। তবে এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তরুণী। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে যশোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোর্ট ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জানা গেছে, তরুণীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এবং যুবকের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া গ্রামে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নয় বছরের প্রেম। বিকেলে দুজন যশোরের পুরাতন পরিত্যক্ত জজ আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

    একপর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে রাখা একটি পলিথিনে থাকা সিঁদুর বের করে যুবক হঠাৎ করে তরুণীর কপালে পরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী প্রতিবাদ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি দেখে এক আইনজীবী কোর্ট ইন্সপেক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নেওয়া হয়। পরে তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুজনকেই থানায় আনা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী বলেন, রাতভর বৃষ্টির পর সকালে উঠে দেখেন সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু শেখ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

  • খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী রয়েছেন আটজন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

    মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে মারা যান চারজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। মার্চে মারা যান তিনজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী।

    এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের এক পুরুষ রোগী। এছাড়া জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট সাত হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

    তিনি জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এআরটি ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, পতিতা পল্লি, ভাসমান যৌনকর্মী এবং হোটেলকেন্দ্রিক অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িতদের নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে, তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে এবং সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে।

    খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

  • চুয়াডাঙ্গা  প্লাবিত নিচু এলাকা

    চুয়াডাঙ্গা প্লাবিত নিচু এলাকা

    প্রবল বর্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ।

    স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জামিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং শুরু হয় টানা মুষলধারে বৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন মহল্লার অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের এক কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। এমনকি আড়তের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    রাস্তায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    অন্যদিকে কৃষি খাতেও এর মিশ্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি আমন চাষের প্রস্তুতি ও পাট জাগ দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও নিচু এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

    পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    এ বিশ্বকাপেই মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা ছিল ক্লোসার দখলে। এ বিশ্বকাপে ক্লোসার ১৬ গোল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি, এখন তাঁর গোল ২১টি।

    সর্বোচ্চ গোলের এ রেকর্ড ভিনদেশি কারও কাছে হাতছাড়া হলে একটু খারাপ লাগা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই আফসোস ক্লোসার নেই। এমনকি রেকর্ড ভাঙার পর নাকি আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেছেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা!’ এরপর মেসির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন জার্মানির সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
    ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন ক্লোসা। ওই বন্ধুত্বটা তাঁদের রয়ে গেছে এখনো। স্কালোনি এখন আর্জেন্টিনার কোচ। তাঁর সূত্রেই ক্লোসার কথা হয়েছে মেসির সঙ্গে।

    পুরো গল্পটা ক্লোসার মুখেই শুনুন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপের গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনিই আমাদের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা।’

    এখানেই শেষ নয়, কথোপকথনের সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁকে একটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। হাসিমুখে ক্লোসা জানান, ‘সে (মেসি) আমাকে বলেছে যে সে আমাকে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্লোসা। ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া একাধিকবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন।

    বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্বে থাকা ক্লোসা জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে নাকি কখনো এত লম্বা আলাপ হয়নি তাঁর, ‘মেসির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে, যা সব সময়ই খুব আনন্দদায়ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ফুটবলের বাইরে এবারই প্রথম আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললাম।’

    মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পর প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ক্লোসা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ১৮তম গোল করে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তখন জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

    এবার তো কথা হয়ে গেল খোদ মেসির সঙ্গেই।

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও জাদু দেখানো শেষ হয়নি লিওনেল মেসির। প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সেও তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে পুলকিত লামিনে ইয়ামাল। মেসিকে নিয়ে তাই ভীষণ আনন্দিত ইয়ামাল।

    আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম এল মুন্দো দের্পোতিভোয়। স্পেনের প্লেমেকার বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য। মেসি কে সবাই জানে। কিন্তু এই বয়সে এসেও তার কাছে এমন দুর্দান্ত পারফম্যান্স, হয়তো কেউ আশাই করেনি। এ জন্যই তাকে নিয়ে আমি সত্যি আনন্দিত।’ ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি।

    স্বপ্নের বিশ্বকাপ জেতায় মনে করা হচ্ছিল তার আর কিছুই চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু এই বিশ্বকাপে যা করছেন তাতে মনে হচ্ছে ক্ষুধা যেন তার শেষ হয়নি। কাতার বিশ্বকাপের মতোই এবারও আর্জেন্টিনাকে একাই টানছেন ইন্টার মিয়ামির স্ট্রাইকার। দলের ১৪ গোলের ৮টি তার করা।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল।

    এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছে এমনটা জানিয়ে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘নেইমার-রোনালদোকে নিয়েও আমি আনন্দিত। যদিও তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙানোর নায়ক তারা।’

  • মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় না।

    তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!

    পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?

    এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলকিপার রয়টার্স

    তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।

    মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।

    কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।

    এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।

    ২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।

    তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।

    পেনাল্টি মিসের পর হতাশ মেসি রয়টার্স

    বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।

    বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।

    বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!

  • বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৬টি খেলা হয়েছে। ৪৮ দল লড়াই করেছে। এখন রয়েছে ৮ দল। আজ বৃহস্পদতবার রাতে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ। দলগুলো চিন্তায় আছে হলুদ কার্ড নিয়ে। এ জায়গায় অন্যদের চেয়ে বেশি স্বস্তিতে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার আগে দলটি শুধু গনসালো মন্তিয়েলের নামের পাশেই হলুদ কার্ড আছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখলে তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।

    কোয়ার্টার ফাইনাল টিকে থাকা দলগুলোর ফাউল ও হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান হলো—

    আর্জেন্টিনা মোট ফাউল করেছে ৫৯টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৯.৭ শতাংশ। বেলজিয়াম মোট ফাউল করেছে ৬০টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৫.০ শতাংশ। ইংল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৫৪টি, এজন্য ৭টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ৭.৭ শতাংশ। ফ্রান্স মোট ফাউল করেছে ৪৯টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে।ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১২.৩ শতাংশ।

    মরক্কো মোট ফাউল করেছে ৬১টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১০.২ শতাংশ। নরওয়ে মোট ফাউল করেছে ৪৮টি, এজন্য ২টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ২৪.০ শতাংশ। স্পেন মোট ফাউল করেছে ৫৫টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৮.৩ শতাংশ। সুইজারল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৬৯টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১১.৫ শতাংশ।

  • ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    সুমাইয়া দশম শ্রেণীতে পড়ে। উজিরপুর হাই স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে সে। বেশ চঞ্চল ও স্পষ্টভাষী। তবে পড়াশোনায় মনোযোগ কম। কত ছেলে যে তার প্রেমে হাবুডুবু খায় তার হিসেব নেই। প্রতিদিনই প্রেমের প্রস্তাব আসে তার কাছে। কিন্তু সুমাইয়া এখনও পর্যন্ত কোন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    এরমধ্যে স্কুলে অয়ন নামে নতুন একজন অংকের শিক্ষক এসেছে। ক্লাসে সুমাইয়া পুরো সময় তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মনে মনে যেরকম ছেলে পছন্দ তার, এই শিক্ষক ঠিক সেরকম। প্রথম দেখাতেই সুমাইয়া তার প্রেমে পড়ে যায়। তরুণ শিক্ষক অয়ন শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বন্ধুর মতো করে নেয়। সুমাইয়া ক্লাস শেষে তার সঙ্গে দেখা করে। ক্লাসে ঠিকমতো অংক বুঝতে পারেনি বলে তাকে আবার বুঝিয়ে দিতে বলে।

    প্রায়ই কাজটি করে সে। আসল উদ্দেশ্য অয়নের কাছে যাওয়া। মনের কথাটা বেশিদিন চেপে রাখতে না পেরে একদিন সুমাইয়া সরাসরি অয়নকে বলে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে। অয়ন কিছুটা অবাক হয় এবং সুমাইয়াকে জানিয়ে দেয়- এরকম কিছু যেন না ভাবে। সুমাইয়া কোন কিছুই মানতে রাজি না। অগত্যা তার পাগলামি থামানোর জন্য অয়ন বলে যদি সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে এবং ভালো রেজাল্ট করে তাহলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

    এর আগে, অয়ন তার সাথে কথা বলবে না। সুমাইয়া এতে রাজি হয় এবং মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর খুশির খবর জানাতে ছুটে যায় অয়নের কাছে। কিন্তু অয়নকে খুঁজে পায় না। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প। নাটক নাম ‘শালিক বালিকা’।

    মাহমুদ মাহিনের রচনা ও পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও তটিনী। আগামীকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় নাটকটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।

  • সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    ‘মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল—এটা আশ্চর্যজনক’

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বাজারে মাদকে ভেজাল না থাকলেও মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, ফলের মৌসুমে মানুষ বুঝতে পারে না কোন ফল নিরাপদ আর কোনটি ফরমালিনমুক্ত। ‘মাদকে ভেজাল নেই, অথচ খাদ্যে ভেজাল—এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।’

    এর জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ কমিটি গঠনসহ নজরদারি, মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর এবং লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য উঠে আসে।

    সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ফলের মৌসুমে বাজারে প্রচুর ফল থাকলেও সাধারণ মানুষ দ্বিধায় থাকেন কোন ফলটি কিনবেন। কোনটি ফরমালিনমুক্ত, কোনটি নিরাপদ—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভেজালের এই চাদরে ঢাকা বাস্তবতায় মাদকে ভেজাল না থাকাটা বিস্ময়কর। জনগণকে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

    জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

    তিনি জানান, সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও কার্যক্রম তদারকি করবে। কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

    তিনি বলেন, আম, শুঁটকি মাছ, খেজুরের গুড়সহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে ৯ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী।

    মন্ত্রী জানান, বিএফএসএর কর্মকর্তারা ৬ হাজার ৪৪৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান ও বাজার তদারকি করেছেন। সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ল্যাবে ৩ হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবে ৪ হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আওতায় ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তাঁর কথাতেই ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্য করেন।

    নিজের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দেখুন আজকে আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটা নিয়ে বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলামের সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে, আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে, আমি তাঁকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা এটা নিয়ে নানান কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে…পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজ তো আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী নির্বাচিত তাঁর সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে আনছে।’

    এর আগে গত ২০ জুন বগুড়ার দুটি নবগঠিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১১ জুন জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ রাখা হয়।

    পরে অভিযোগ ওঠে, মীরবাড়ী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম এবং সীমান্ত ও দিগন্ত তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

    সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে একটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় অন্যটির নাম ‘দিগন্ত’ রাখা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকাকে তিনি ‘কাকতালীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টেও জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাবেক শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে হাউস আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে এসব কারণে আম্বিয়া খাতুন তাকে তালাক দেন।

    তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে হাউস আলী গাংনী উপজেলার শহড়াবাড়িয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সাবেক স্ত্রীকে না পেয়ে তার মা ফুলসুরাতন (৬৬)-এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গাংনীতে অবস্থান করছিলেন।

    ফুলসুরাতনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাউস আলীকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজতে এক মাদকের আসামি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শহরমূল গ্রামের রাজা হাওলাদারের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)।

    নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওমি) মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রুবেল মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বাবার দায়ের করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় গায়ের শার্ট খুলে হাজতের কার্নিশের সঙ্গে গলায় ফাঁসি নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রুবেল এর আগেও মাদকের মামলায় প্রায় তিন মাস কারাবাস করেছেন বলে ওসি জানান।

    তিনি জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মরদেহের ময়নাতদন্ত করানো হবে কি না।

    বাবা রাজা হাওলাদার জানান, রুবেল বাড়িতে সবাইকে খুব অত্যাচার করতেন। বাড়িঘরে কুপিয়েছেন। অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি থানায় মামলা করেছিলেন। রুবেলকে আজ থানায় আনার পর বাবা এসে তাকে নাস্তা খাইয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় ওসি মাহবুবুর রহমান তাকে ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানান।

  • কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জিতলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে ঘিরে অস্বস্তি ভর করেছিল আর্জেন্টিনা দলে। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে সেই অস্বস্তি দূর হতেও বেশি সময় লাগল না। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩ গোল করে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৩ গোলের প্রথমটা করেন রোমেরো। চরম বিপদে থাকা দলকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের কাফে অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো।

    প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যায়, এটা কোনো চোট নয়; কেবল পেশিতে টান লাগায় অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো। আর্জেন্টিনা দলের একটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াসি স্পোর্টস। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলীয় অনুশীলনে দেখে গেছে রক্ষণভাগের এই ফুটবলারকে। এমনকি অনুশীলনে কোনো ধরনের অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায়নি তাঁকে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া সে ম্যাচে শুরুর একাদশেই রোমেরোর মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি মিসর ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

    গতকালের অনুশীলনে রিকভারি করতেই লম্বা সময় পার করেছে ফুটবলাররা। যেসব ফুটবলার মিসরের বিপক্ষে বেশি সময় মাঠে ছিলেন, তাঁরা জিমে ব্যায়ামসহ অন্যান্য রিকভারি সেশনে অংশ নেন। অন্যদিকে যাঁরা শুরুর একাদশে ছিলেন না বা অল্প সময় খেলেছেন, তাঁরা মাঠে স্বাভাবিক অনুশীলন করেন। অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। টিওয়াসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামীকালের অনুশীলনের পর শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করবে কোচিং স্টাফ। শেষ অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন স্কালোনি।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস,    যান চলাচল বন্ধ

    কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস, যান চলাচল বন্ধ

    কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ও উজানের ঢলে ক্রমাগত পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নিতাই ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার একমাত্র সড়কের ওপর নির্মিত বেলতলী ব্রীজের সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়েছে। এতে ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    উপজেলা প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর বেলতলী ঘাঁটে চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর ২০১৪ সালে প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ব্রীজটি নির্মানের পর গত কয়েক বছর প্রতি বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রীজের দক্ষিণে দিকে ধসে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব ও সহিদার রহমান জানান, ব্রীজটি নির্মানের পর প্রায় প্রতি বছর একই জায়গায় ধসে যাওয়ার কারণে জনগণ দুর্ভোগের স্বীকার হয়। উপজেলা প্রকৌশল দফতর ও প্রশাশনের লোকজন পরিদর্শনে এসে নামমাত্র কাজ করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে চলে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু জানান, ব্রীজটির দক্ষিণ দিকের সংযোগ সড়কটি প্রতি বছর ভাঙে, প্রতি বছর সংস্কার হয়। প্রকৌশল দফতরের উচিত সংযোগ সড়কটির ভাঙন রোধে বড় ধরনের বরাদ্দ নিয়ে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করা। তা না করে প্রতিবছর দায়সারা কাজ করার কারণে বারবার সড়কটির একই জায়গায় ধসে পরে জনগণের চলাচলে ভোগান্তি হয়।

    উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘ব্রীজের দক্ষিণ দিকে সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়ে যান চলাচল বন্ধের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, দ্রুত ধসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া করছি। পরে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ এনে স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।’