শিরোনাম

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠির পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার টিএন্ডটি সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ভবনের আরও দুটি ফ্ল্যাটে চুরি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

    শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টিএন্ডটি সড়কের একটি তিনতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতের কানের নিচে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। শুক্রবার শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশায় গেলে মলিনা রায় একাই বাসায় ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় ঘরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মলিনা রায়কে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, সবাই রথযাত্রায় যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার ভাড়াটিয়ার বাসাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তছনছ করে এবং মালামাল লুট করে।

    তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, ফিরে এসে দেখেন নিচতলার এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বাসা এবং বাড়ির মালিকের ফ্ল্যাট থেকেও নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়েছে।

    খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মামুন আল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস.এম. বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

  • বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

    এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

    কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

  • নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ওই এলাকার একটি আদা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদা ক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি মাটিতে উপুড় হয়ে শোয়া ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

  • আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন গায়ক

    আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন গায়ক

    জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কিশোর পলাশ। বিশেষ করে ফোক গানের জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ভালোই জনপ্রিয়। গানের পাশাপাশি তিনি খেলাধুলাতেও মনোযোগ রাখেন। ফুটবলে পলাশ আর্জেন্টিনার কট্টোর সমর্থক। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মেতে আছেন। নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে এই গায়ক এবার এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে বুড়িগঙ্গায় নৌকার ওপর বসে থাকার একটি ছবি পোস্ট করেছেন কিশোর পলাশ।

    ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে দিয়েছেন সেই ঘোষণা। লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে সোজা বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ।’

    আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনাল খেলা শুরু হবে ২০ জুলাই রাত একটায়। খেলা শেষ হবে তিনটা বা তার কিছু পরে। যদি আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েই যায় তাহলে কিশোর পলাশ বুড়িগঙ্গায় কখন ঝাঁপ দেবেন, তখনই? সেই মাঝরাতেই? এই প্রশ্ন ভক্তরা করছেন।

    কিশোর পলাশ লোকজ ও জীবনমুখী গানের জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ গানের মাধ্যমে শ্রোতদের হৃদয়ে স্থান করে নেন এই গায়ক। এছাড়াও ‘ভবের বাড়ি’, ‘যৌবন গেলে প্রেম হবে না’, ‘কলঙ্কী’, ‘দিল দিয়া যারে ভালোবাসিলাম’, ‘দয়াল’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন।

  • ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের স্মৃতি কি তবে আবারও ফিরছে স্পেনের ফুটবলে? তৎকালীন স্প্যানিশ দলের মেরুদণ্ড ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে স্পেন, আর এবারের দলের মূল শক্তিও সেই বার্সেলোনাই। বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা আট ফুটবলারই বার্সেলোনার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি স্বয়ং বার্সা কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাবটিতে।

    স্পেনের এই দলটিতে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আট খেলোয়াড় হলেন— লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবারসি। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।

    দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরো গোল করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস এবং পেদ্রি মাঝমাঠ ও আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া ও গাভি—পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বার্সেলোনার এই আট খেলোয়াড়ই এখন স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল সারথি।

    বার্সেলোনা বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলাররা এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও দলটির স্কোয়াডে বার্সেলোনার নয় জন খেলোয়াড় ছিলেন—ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা। সেই ইতিহাসের যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকেছিলেন লিওনেল মেসি। এখন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের একজন। বার্সেলোনার হয়ে এমন কিছু নেই যা তিনি জেতেননি। বার্সেলোনায় যাকে মেসির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেই লামিনে ইয়ামালও লা মাসিয়ার প্রোডাক্ট। ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মেসি। মাঠের খেলায় তাকে আটকে রাখার কথাও বলেছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের লড়াই।

  • অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে এখন আর্জেন্টিনা। আগামীকাল নিউজার্সিতে স্পেনকে হারালেই তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে যখন এমিলিয়ানো মার্তিনেস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তখন এসেছে তাঁর অবসরের প্রসঙ্গ।

    মার্তিনেসের অবসরের প্রসঙ্গ ফের এল তাঁর ২০২৪ সালে একটা কথার ওপর ভিত্তি করে। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের দুই বছর পূর্তিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি দুটি বিশ্বকাপ জিতি, তাহলে অবসর নেব।’ স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তা উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।

    অবসর নিয়ে কথাবার্তা যে হয়নি, ব্যাপারটা তা নয়। তবে আপাতত আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক বর্তমানে বাঁচতে চান। আপাতত আগামীকালের ফাইনালে নিয়েই তিনি ভাবছেন। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আজ বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা (অবসরের প্রসঙ্গ) এএফএর অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় এসেছিল। কিন্তু আগে আমাদের জিততে হবে। এখন আমার পুরো মনোযোগ শুধু সেটাতেই (ফাইনাল)।’

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর জয়রথ ছুটছে আর্জেন্টিনার। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ টানা ১৩ ম্যাচ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। মূল ম্যাচ তো বটেই, টাইব্রেকারে গড়ালে মার্তিনেস রীতিমতো বাজপাখি হয়ে যান। যাঁকে ভেদ করে গোল দেওয়া প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য রীতিমতো কঠিন হয়ে যায়। গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল—এই দুই ম্যাচে পেনাল্টিতে মার্তিনেস-বীরত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতলেও কোনোটাতে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে যায়নি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে মার্তিনেস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের তুলনায় এই বিশ্বকাপটা অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার দিকে খুব বেশি শট আসেনি। তবু তারা গোল করেছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন পা দিয়ে (বল নিয়ন্ত্রণ ও পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে) আরও ভালো খেলছি। রোববার মাঠে নামব। আমাকে আপনারা হাসিমুখেই দেখতে পাবেন।’

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • এই খাবার ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চলেই না

    এই খাবার ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চলেই না

    লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, রদ্রিগো ডি পল কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ—মাঠে তাঁদের লড়াইয়ের শক্তির পেছনে আছে আরেকটি অভিন্ন ভালোবাসা। সেটি হলো ‘আসাদো’। স্থানীয় পদ্ধতিতে আগুনে সেঁকা বা বারবিকিউ করা এই খাবার আর্জেন্টিনার খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। বিশ্বকাপ খেলতে এসে এবারও নিজেদের দেশের স্বাদ ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা দল সঙ্গে এনেছে বিপুল পরিমাণ গরুর মাংস, যা দিয়ে তৈরি হবে আসাদো।

    স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংস। কাঠকয়লার আগুনে ধীরে ধীরে গরুর মাংস, পাঁজর, সসেজ কিংবা মাংসের বিভিন্ন অংশ গ্রিল করে তৈরি করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী খাবার। ভেড়া ও ছাগলের মাংস দিয়েও আসাদো বানানো হয়, তবে আর্জেন্টিনায় সবচেয়ে জনপ্রিয় আসাদো তৈরি হয় গরুর মাংস দিয়ে।

    স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংসছবি: পেক্সেলস

    ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা দল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে নিজেদের বেজক্যাম্পে আগেভাগেই বিভিন্নভাবে কাটা প্রায় ৫০০ কেজি গরুর মাংস পাঠিয়েছে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) নীতিমালা মেনেই বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই মাংস আমদানি করা হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশ। ম্যাচের আগে দলীয় ডিনার, অনুশীলনের বিরতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জয় উদ্‌যাপন—সব ক্ষেত্রেই থাকে আসাদো। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই বারবিকিউ আয়োজন। অনেকের মতে, আসাদোর টেবিলেই আরও দৃঢ় হয় দলের পারস্পরিক বন্ধন।

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশছবি: ভিডিও থেকে

    আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে ফুটবল যেমন জাতীয় পরিচয়ের অংশ, তেমনি আসাদোও তাদের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও প্রিয় এই খাবার থেকে দূরে থাকতে রাজি নন মেসিরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের দেশের স্বাদও তাঁরা ধরে রাখতে চান বিশ্বের অন্য প্রান্তে।

    সূত্র: দ্য সান, এনডিটিভি

  • টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম—লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নামা আর্জেন্টিনার দুই দলের পার্থক্য শুধু সাড়ে তিন বছরের। ঠিক যেখানে বিশ্বকাপ আসর শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে তারা। ২২ বিশ্বকাপে যাঁদের ওপর ভরসা করে ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, তাঁদের ওপর ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে।

    স্কালোনির জন্য শাপেবর ছিল গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড। সেই স্কোয়াডের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। এর মধ্যে অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়ে আসা মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে বাদ দিলে স্কোয়াডটা পরিণত হতো তারুণ্যের সমাহারে। ২৬ জনের দলে ৩০–এর কোটা পার করেছিলেন ৭ জন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন বেঞ্চে বসা গোলরক্ষক।

    ৩০ পার করা অভিজ্ঞ পাপু গোমেজ, মার্কোস আকুনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, হুলিয়ান আলভারেজরা। একেবারে প্রথম দিন থেকেই একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এসব তরুণ তুর্কিরা। ফলে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হোঁচট খেলেও ঠিকই বিশ্বকাপ নিয়েই কাতার থেকে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা। আলভারেজ, ফার্নান্দেজদের সঙ্গে মেসি-দি মারিয়ার জুটি মিলে সমাপ্তি টেনেছিল ৩৬ বছরের অপেক্ষার।

    চার বছরে স্কালোনির সেই স্কোয়াড বড় হয়েছে, বয়স ও অভিজ্ঞতা—দুটোতেই। চার বছরে দুই দলের স্কোয়াডে পরিবর্তন এসেছে মোট ৯টি জায়গায়। কিন্তু বেশির ভাগ পরিবর্তনই এসেছে বেঞ্চে, একাদশের আশপাশে বলার মতো পরিবর্তন এসেছে মাত্র দুটি। ফুটবলকে বিদায় জানানো দি মারিয়া আর অফ ফর্মের কারণে বাদ পরা পাওলো দিবালা। এই দুজনকে বাদ দিলে দুই বিশ্বকাপের একাদশে পার্থক্য খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফিফা

    গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের সঙ্গে যদি এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের একাদশ মেলানো হয়, সেখানে পরিবর্তন চোখে পড়বে মাত্র একটি—দি মারিয়ার জায়গায় এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। চার বছর পর এসেও একই দলের ওপর ভরসা রাখা, সেই দলকে নিয়ে পারফর্ম করা কিন্তু সহজ কথা নয়। স্কালোনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। তৈরি হওয়া সমস্যার খুঁজেছেন নতুন সমাধান।

    দি মারিয়া চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে। তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে দি মারিয়ার যে রসায়ন ছিল গত বিশ্বকাপে, সেটা তো নেই-ই। সঙ্গে বয়সের কারণে তাগলিয়াফিকোর সেই ধারও নেই। ফলে স্কালোনিকে খেলতে হয়েছে মাঝমাঠ ব্যবহার করে, আক্রমণও সাজাতে হয়েছে সেভাবে।

    এখানেই দিবালার মতো একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারকে হয়তো মিস করেছেন তিনি। কারণ, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রেসিং সয়ে মাঠের ভেতরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করার মতো একজন খেলোয়াড়ের বড্ড অভাব ছিল দলে। চার বছরে শাণিত হওয়া এনজো ফার্নান্দেজকে এই জায়গাতে ব্যবহার করেছেন তিনি। ফার্নান্দেজ-দি পল-ম্যাক আলিস্টার ভূমিকা পাল্টালেও নিজেদের কাজ তাঁরা ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।

    মাঝমাঠে নতুন সংযোজন হিসেবে দলে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ, নিকো পাজের মতো তরুণ তারকা। কিন্তু গত বিশ্বকাপে যেভাবে তরুণদের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন, সেভাবে এবার কারও ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। একেবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মাঠে নামাচ্ছেন না কাউকেই। ফলে দলের খুঁতগুলো সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে বাদে প্রতিটি নকআউট পর্বের ম্যাচই জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। অভিজ্ঞতা আর চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে স্কালোনির দল।

  • কনা ও সজীবের ‘মন দাও’

    কনা ও সজীবের ‘মন দাও’

    ‘তুমি মন দাও না দাও/ আমি তোমাকেই ভালোবাসবো’- এমন রোমান্টিক কথা মালার একটি গান নিয়ে শ্রোতাদের কাছে এলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনা ও সজীব দাস। জামাল হোসেনের কথায় সম্প্রতি ‘মন দাও’ শিরোনামে গানটি রঙ্গন মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। এর সুর-সংগীত পরিচালনা করেছেন সজীব দাস নিজেই। গানটিতে সজীবের সঙ্গে মডেল হয়েছেন অলংকার চৌধুরী। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা।

    গানটি প্রসঙ্গে গীতিকার জামাল হোসেন বলেন, ‘মন দাও নিরেট ভালোবাসার গান। ভালোবাসা কোন যুক্তি মানে না। এ অনেকটা বাঁধন হারা। সত্যিকার ভালোবাসা অপর পক্ষের সাড়ার অপেক্ষায় থাকে না- এক তরফা ভালোবেসে যায়। ভালোবাসার গানের আবেদন চিরন্তন। এ গান প্রেমিক মনে নাড়া দিবেই।

    সজীব দাস চমৎকার সুর ও সংগীত আয়োজন করেছে। কনা ও সজীব গেয়েছেও দারুন। সৈকত রেজার ভিডিও ও মডেল অসাধারন। আশা করি গানটি দর্শক শ্রোতার মনে দোলা দিতে সক্ষম হবে।’

    সজীব দাস বলেন, ‘কনা আপার সঙ্গে নাটকে আমার বেশ কিছু গান শ্রোতারা ভালোভাবে গ্রহন করেছেন। অনেকেই নাটকের বাইরেও আমাদের গান চেয়েছেন। তাই শ্রোতাদের কথা ভেবেই এই গানটি করেছি।’

    উল্লেখ্য, কনা ও সজীবের কণ্ঠে ‘যদি মনটা চুরি করি’, ‘তোমার মায়ায়’, ‘তোমার হতে চাই’সহ আরও বেশ কিছু গান বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

  • ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ষোলো বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। মাঝের তিনটি বিশ্বকাপের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে লা রোহারা। এই তিন বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পায়নি একটি নকআউট ম্যাচেও। একবার বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্বে, দুবার শেষ ষোলোতে। অবশেষে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে এসে ফর্মে ফিরেছে দল। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন।

    ১৯ জুলাই মাঠে নামতে যাওয়া দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ দলের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে ১৬ বছর আগে খেলে যাওয়া দেল বস্কের। দুই দলই বিশ্বকাপের আসরে পা দিয়েছিল ইউরো শিরোপা নিয়ে। ফেবারিট হিসেবে শুরু করা স্পেন দুই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই খেয়েছিল হোঁচট। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন শুরু করেছিল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচনা হয়েছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে।

    ভিসেন্তে দেল বস্কের ২০১০ দলের সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের ২০২৬ দলের মিল কতটুকু? কারাই–বা থাকবে এগিয়ে?

    গোলরক্ষক

    ইকার ক্যাসিয়াস (অধিনায়ক) বনাম উনাই সিমন

    বয়স: ২৯ বনাম ২৯

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সময় ইকার ক্যাসিয়াসের বয়স ছিল ২৯, উনাই সিমনেরও তাই। কিন্তু ক্যাসিয়াস তত দিনে স্পেনের অধিনায়ক, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। অন্যদিকে উনাই সিমন কিছুটা পিছিয়ে আছেন অভিজ্ঞতায়, কোচ দে লা ফুয়েন্তের প্রিয়পাত্র বলেই হয়তো টানা সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে হজম করেছেন মাত্র এক গোল, ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট। দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬০২ মিনিট হজম করেননি কোনো গোল।

    ফুলব্যাক

    সার্জিও রামোস ও জোয়ান ক্যাপডেভিয়া বনাম পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া

    বয়স: ২৪ ও ৩২ বনাম ২৬ ও ২৮

    টটেনহাম ও চেলসিতে হতাশাজনক একটি মৌসুম কাটানোর পর তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেননি কেউই। বরং কথা উঠেছিল, দে লা ফুয়েন্তের দলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দুই উইংব্যাক। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই পাশার দান বদলে দিয়েছেন পেদ্রো ও কুকুরেয়া। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এর পর থেকে তাঁদের জুটি যেন দারুণভাবে জ্বলে উঠেছে। গোল-অ্যাসিস্টে পেদ্রো-কুকুরেয়া জুটি এই বিশ্বকাপের ত্রাস।

    দারুণ ছন্দে আছে এই স্পেনএএফপি

    অন্যদিকে রামোস-ক্যাপডেভিয়া জুটি পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। রামোস ছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপের সেরা ড্রিবলার। সবচেয়ে বেশি (৩১) টি সফল ড্রিবল করেছিলেন তিনি। রক্ষণ আর আক্রমণ, দুই ক্ষেত্রেই সমান ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। ক্যাপডেভিয়া ফর্মের তুঙ্গে না থাকলেও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতেন। নামের পাশে ইউরো আর বিশ্বকাপের ট্রফি সেটাই যেন জানান দিয়ে যায়।

    সেন্টারব্যাক

    কার্লোস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে বনাম এমেরিক লাপোর্ত ও পাউ কুবারসি

    বয়স: ৩২ ও ২৩ বনাম ৩২ ও ১৯

    সবাই যেন পুয়োল-পিকে জুটির ছায়া দেখছেন লাপোর্ত-কুবারসির জুটি মধ্যে। ২০১০ বিশ্বকাপে বার্সেলোনা তারকাদের জুটি হজম করেছিল দুই গোল। এবার লাপোর্ত-কুবারসি জুটি হজম করেছে মাত্র এক গোল। বয়সের দিক থেকে লাপোর্ত ও পুয়োল সমানে সমান হলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে কার্লোস পুয়োল। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা থাকায় পিকেও কাগজে–কলমে এগিয়ে। কিন্তু এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ীকে যেভাবে রুখে দিয়েছেন তারা, তাতে ফাইনালের আগে একটু এগিয়েই রাখতে হবে কুবারসিকে।

    ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড

    সার্জিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো বনাম রদ্রি (অধিনায়ক) ও ফাবিয়ান রুইজ

    বয়স: ২২ ও ২৮ বনাম ৩০ ও ৩০

    ২০১০ বিশ্বকাপ ছিল সার্জিও বুসকেটসের উত্থানের বিশ্বকাপ। জাবি আলোনসোর সঙ্গে মিলে রক্ষণকে যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি লম্বা পাসে পুরো ম্যাচের চিত্রও ঘুরিয়ে দিতে পারতেন। তিকিতাকায় পুরো মাঝমাঠের যে নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়, পুরো কাজটাই নিচ থেকে করতেন দুজনে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই জায়গাটা দখল করেছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি এবং টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ফ্যাবিয়ান রুইজ। বুসকেটস-আলোনসোর মতো অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারলেও নিজেদের কাজটা একেবারে পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে করেছেন দুজনে। যে কারণে স্প্যানিশ মাঝমাঠকে কোনো বেগই পেতে হয়নি।

    ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনএএফপি

    অ্যাটাকিং মিডফিল্ড

    জাভি ও ইনিয়েস্তা বনাম দানি ওলমো ও আলেক্স বায়েনা

    বয়স: ৩০ ও ২৬ বনাম ২৮ ও ২৫

    চলতি বিশ্বকাপে ওলমো-বায়েনা জুটি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই। প্রতি ম্যাচেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স পাচ্ছে স্পেন। কিন্তু জাভি-ইনিয়েস্তা জুটির ধারেকাছে নেই কেউ। জাভির পাস থেকে সেমিতে পুয়োলের গোল, ইনিয়েস্তার ফাইনালে গোল স্পেনকে এনে দিয়েছিল অধরা শিরোপা। ওলমো-বায়েনা জুটির সামনে এখন সেটাই পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ।

    আক্রমণভাগ:

    ডেভিড ভিয়া ও পেদ্রো বনাম লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারসাবাল

    বয়স: ২৮ ও ২৩ বনাম ১৯ ও ২৯

    অভিজ্ঞ সেনানির সঙ্গে তরুণ তুর্কি। স্পেনের আক্রমণভাগটা ষোলো বছর পর এসেও সাজানো হয়েছে একইভাবে, একই ধাঁচে। দুর্দান্ত ফর্মের ভেডিড ভিয়ার সঙ্গে পেদ্রো ছিলেন সঙ্গী। এখানে অবশ্য কিছুটা উলটো। লামিনে ইয়ামাল দলের নতুন মুখ হলেও গোল পেয়েছেন মাত্র একটি। অন্যদিকে ওইয়ারসাবাল স্পেনের হয়ে প্রতি দুই ম্যাচে গোল পান একটি করে। ফাইনালেও ইয়ামাল-ওইয়ারসাবাল জুটির কাছ থেকে দারুণ কিছু পাওয়ার অপেক্ষা থাকবে সমর্থকদের।

    কোচ:

    ভিসেন্তে দেল বস্ক বনাম লুইস দে লা ফুয়েন্তে

    বয়স: ৫৯ বনাম ৬৫

    বয়সের দিক থেকে বড় হলেও অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে ছিলেন ভিসেন্তে দেল বস্ক। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রিয়ালের হয়ে, প্রথম বড় টুর্নামেন্টে হিসেবে পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ। সেখানেই দলকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশলে খেলিয়ে পেয়েছেন সাফল্য। সেই তুলনায় দে লা ফুয়েন্তে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ। তবে স্প্যানিশ দলের সঙ্গেই তাঁর বড় হওয়া। গত ১৩ বছর ধরে স্পেনের কোনো না কোনো দলের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এই দলকে নিয়ে জিতেছেন ইউরো, উঠেছেন ন্যাশনস লিগের ফাইনালেও।

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    মহাভারতের একলব্য ও দ্রোণাচার্যের কাহিনিতে ট্র্যাজেডি আছে, আছে কর্তৃত্ব। কিন্তু মহাভারত আমাদের আরেকটি কথাও বলে– সময়ের কাছে দ্রোণাচার্যও অনিশ্চিত, একলব্যও অনিশ্চিত। ইতিহাস কখনও একক বীরের সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপও তাই।

    একুশের সিকি শতাব্দী পার করে তাই প্রশ্নটি শুধু রোমান্টিক নয়, গভীরভাবেই দার্শনিক–লামিনে ইয়ামাল কি একলব্য, আর লিওনেল মেসি কি দ্রোণাচার্য? নাকি উল্টোটা? কিংবা তারা কেউই নন? বিশ্বকাপের আরাধ্য সোনালি ট্রফিটি কি আদৌ কোনো পৌরাণিক উপমার কাছে আত্মসমর্পণ করে?

    বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক দীর্ঘ আলোকবর্তিকা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কেবল ফুটবলার নন; তিনি এক ভাষা, এক নন্দন, এক শিল্পরীতি। অসংখ্য নবীনের শৈশবের দেয়ালে শোভিত পোস্টারের নাম মেসি। আজকের প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও সেই সত্যের ব্যতিক্রম নেই। ইয়ামালের ফুটবলীয় অভিধানে মেসি একটি অনিবার্য উচ্চারণ।

    মহাভারতের একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও তাঁকেই মানসগুরু মেনেছিলেন। দূর থেকে দেখে, অনুকরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই অর্থে ইয়ামালও যেন আধুনিক ফুটবলের এক একলব্য। বার্সেলোনার ঘাসে, ইউরোপীয় ফুটবলের নন্দনতত্ত্বে দীক্ষিত এবং মেসির রেখে যাওয়া শিল্পভাষায় বেড়ে ওঠা তরুণ। ফুটবল তাঁকে শিখিয়েছে, একজন গুরু সব সময় সামনে বসে থাকেন না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি আদর্শ, একটি ছায়া, একটি স্বপ্ন– দূরে অবস্থান করেও। কিন্তু এখানেই তুলনার উপমাটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

    কারণ দ্রোণাচার্যের সঙ্গে একলব্যের সম্পর্ক ছিল অসম ক্ষমতার সম্পর্ক। সেখানে প্রত্যাখ্যান ছিল, ছিল শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যের নির্মমতা। লিওনেল মেসি কখনও লামিনে ইয়ামালের অগ্রযাত্রার পথে অঙ্গুলি দাবি করেননি। বরং ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই যে, একজন কিংবদন্তি আরেকজন কিংবদন্তির জন্মের জন্য জায়গা করে দেন। মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংকীর্ণ উত্তরাধিকার নয়; এটি এমন এক নদী, যা নতুন স্রোতকে স্বাগত জানায়।

    তবুও বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে এই উপমা আমাদের অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো– বিশ্বকাপ কাউকে কিছু পাওনা রাখে না।
    জোহান ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি। ফেরেঙ্ক পুসকাস জেতেননি। পাওলো মালদিনি জেতেননি। রোনালদো নাজারিওর দুটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু রোনালদিনহোর একটি। আবার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একটি গোল তাঁকে অমর করেছে। বিশ্বকাপ সব সময় ন্যায়বিচারের আদালত নয়; এটি অনিশ্চয়তারও সবচেয়ে সুন্দর ক্ষেত্র। হয়তো এই অনিশ্চয়তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র।

    ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এতে ফুটবল তাঁর কাছে ঋণ শোধ করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ফুটবল কারও কাছে ঋণী নয়। যদি তিনি সেই ফাইনালে হেরে যেতেন, তাহলেও তিনি লিওনেল মেসিই থাকতেন। যেমন ২০১৪ সালের পরও তিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা।

    একইভাবে লামিনে ইয়ামাল যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জিতে যান, তবে তা হবে তাঁর প্রজন্মের এক মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব। আর যদি কখনও বিশ্বকাপ না-ও জেতেন, তাহলে কি তাঁর শিল্পের মূল্য কমে যাবে? মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কোনো ভাস্কর্যের মূল্য কি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় কমে যায়? শিল্পের পরিমাপ সব সময় পুরস্কারে হয় না। ফুটবলও শেষ পর্যন্ত শিল্পেরই এক রূপ।

    না চাইলেও আসলে বিশ্বকাপকে একটি চূড়ান্ত নৈতিক বিচারক বানিয়ে ফেলেছি আমরা। যেন ট্রফিটি নির্ণায়ক, বলে দেয়– কে মহৎ আর কে নয়। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এটি প্রতিভা, প্রস্তুতি, ভাগ্য, সময়, ইনজুরি, একটি ভুল পাস কিংবা একটি টাইব্রেকারের সম্মিলিত নাট্যমঞ্চ।

    অনেকে বলেন, ইয়ামালই হবেন নতুন মেসি, তারা হয়তো ভবিষ্যতের প্রতি অতি উদার। আবার যারা মনে করেন, মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো অসম্ভব, তারাও হয়তো সময়ের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করছেন না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছায়ায় আটকে রাখা।

    মহাভারতের একলব্য শেষ পর্যন্ত নিজের অঙ্গুলি উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের একলব্যদের কোনো অঙ্গুলি কেটে দিতে হয় না। তাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বকীয়তার চর্চা করা। কারণ প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত অনুকরণে নয়, অতিক্রমে।

    তাই ইয়ামাল একলব্য কিনা, মেসি দ্রোণাচার্য কিনা– এটি প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা আমাদের কী শেখায়?

    শেখায়– সোনালি সেই ট্রফি গন্তব্য হতে পারে, পরিচয় নয়। বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্পের একমাত্র পরিমাপক নয়। মেসি বিশ্বকাপ জিতেও মহান; ইয়ামাল বিশ্বকাপ না জিতেও মহান হতে পারেন। আবার উল্টো ঘটনাও সত্য হতে পারে।

    কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মহাভারত নয়, যেখানে পূর্বলিখিত নিয়তি অপেক্ষা করে থাকে। ফুটবল এমন এক মহাকাব্য, যার শেষ পৃষ্ঠাটি এখনও লেখা হয়নি। সেখানে দ্রোণাচার্যও একদিন বিস্মিত হন, আর একলব্যও নিজের ভাষায় ইতিহাস লিখে ফেলেন।

    বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি সেই অমোঘ সত্যেরই আরেক নাম– অনিশ্চয়তা।

    এম এম খালেকুজ্জামান
    আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
    adv.mmkzaman@gmail.com

    সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

  • ফাইনালের আগে স্কালোনির নিজ ঘরেই বিভক্তি

    ফাইনালের আগে স্কালোনির নিজ ঘরেই বিভক্তি

    ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কাল স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ফাইনালে জয় পেলে কোচ লিওনেল স্কালোনির ঝুলিতে উঠবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। তবে ম্যাচটি আর্জেন্টাইন কোচের নিজ ঘরেই তৈরি করেছে বিভক্তি।

    স্কালোনির পরিবারের অনেকেই জন্মসূত্রে স্প্যানিশ। ফাইনাল মহারণের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর্জেন্টিনার এই মাস্টারমাইন্ড খোলাসা করলেন—এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার প্রিয়জনেরা আসলে কাকে সমর্থন করছেন।

    সংবাদ সম্মেলনের আগে মিক্সড জোনে কথা বলার সময় স্কালোনি হাসিমুখেই বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং সন্তানরা অবশ্যই আর্জেন্টিনার সঙ্গে থাকবে। আমার স্ত্রী স্প্যানিশ হওয়া সত্ত্বেও সে খুব ভালো করেই জানে এই দলটার জন্য আমি কতটা পরিশ্রম করি, কতটা চাপ ও আবেগের মধ্য দিয়ে যাই। আর আমার সন্তানরা তো সেটা আরও ভালো বোঝে।’

    ২০০৮ সালে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিও থেকে ধারে মায়োর্কায় যোগ দেওয়ার পর এলিসা মন্তেরোর প্রেমে পড়েন স্কালোনি। ২০১২ সালে তাদের প্রথম সন্তান ইয়ান এবং চার বছর পর দ্বিতীয় সন্তান নোয়াহ’র জন্ম হয় স্পেনের এই মায়োর্কা দ্বীপেই।

    জন্মসূত্রে স্প্যানিশ হলেও, বাবার কাজের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগের জায়গা থেকে দুই সন্তানই গলা ফাটাবেন আকাশি-সাদা শিবিরের জন্য। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা উদযাপনের সময়ও বাবার পাশে থেকে আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের সাথে তাদের ছবি তুলতে ও উল্লাস করতে দেখা গেছে।

    স্কালোনির স্ত্রীর পরিবারের সবাই মায়োর্কার বাসিন্দা। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবেন স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতুক।

    ঘরে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে পাশে পেলেও মায়োর্কার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘মায়োর্কাতে আমাদের যে আত্মীয়রা আছেন, তারা নিশ্চয়ই চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। আমি বুঝি, পরিস্থিতিটা তাদের জন্য একটু কঠিন। তবে যাই হোক না কেন, দিনশেষে তারা খুশিই হবেন।’

    আর্জেন্টিনার চতুর্থ নাকি স্পেনের দ্বিতীয়, জানা যাবে রোববারই। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। সরাসরি দেখা যাবে টি স্পোর্টসের পর্দায়।

  • ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    দেশে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রতি বছর এই চাহিদা বাড়লেও সেই বৃদ্ধির গতি ২০৩০ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই থাকার কথা।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হয়, যাকে স্পিনিং রিজার্ভ বলা হয়।

    সেই হিসাবেও ২০৩০ সালে দেশের মোট প্রয়োজন ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হচ্ছে।

    বাস্তবে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে সক্ষমতা প্রায় ৩৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তবু থেকেই যাবে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা।

    দেশে এখন ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যেগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।

  • শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ইস্যুতে আদালতের সমন জারি, নীরবতা ভাঙলেন তিশা

    শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ইস্যুতে আদালতের সমন জারি, নীরবতা ভাঙলেন তিশা

    প্রায় ১০ মাস আগে একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। আদালতের সমন জারির পর এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তিনি বলেছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।

    একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি আদালত তাঁকে সমন জারি করে আগামী ১৩ আগস্ট হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

    সমন জারির পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আদালতে যাব। আমারও ইচ্ছা হয়েছিল, আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, সেটা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলিনি। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক বিচার পাব এবং আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করব।’

    ১৪ বছরের অভিনয়জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিশা প্রশ্ন রাখেন, মাত্র ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ির জন্য প্রতারণা করার অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত।

    তার ভাষ্য, ‘আমি এত বছর পরিশ্রম করে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। একটি অনলাইন শপের ২৭ হাজার টাকার শাড়ির জন্য প্রতারণা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার বিশ্বাস, দর্শকেরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন।’

    মামলার বাদী একটি অনলাইন পোশাক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তানজিন তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে একটি জামদানি শাড়ির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে প্রচারণার শর্তে শাড়িটি স্পনসর করা হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির মূল্যও পরিশোধ করেননি।

    তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক! হা হা! আর ফটোশুটই যদি করাতে চান, পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম!’

    এদিকে আদালতের সমনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিনেত্রী, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, একটি জামদানি শাড়িকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াবে, তা তারা ভাবেননি।

    আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তানজিন তিশা।

  • চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা শহরে বিরিয়ানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত তদারকিমূলক অভিযানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা কাচ্চি বাড়ি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রোডের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    তিনি জানান, ডিজে স্কুলের সামনে অবস্থিত আনিছজ্জামানের মালিকানাধীন ঢাকা কাচ্চি বাড়িতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

    একই অভিযানে, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল বা ক্ষতিকর ফুড কালারের ব্যবহার পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহলদার ইমরান রিন্টু, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

  • স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে ভিসেন্তে দেল বস্ক নামটা যেন এক রূপকথার জাদুকর। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ১৬ বছর আগের সেই সোনালি দিন, যখন তাঁর হাত ধরেই স্পেন প্রথমবার ছুঁয়েছিল বিশ্বকাপের আদিগন্ত আকাশ।

    সময়ের নদী বেয়ে এক যুগেরও বেশি পথ পেরিয়ে স্পেন আবারও দাঁড়িয়ে এক মহা–উদ্‌যাপনের আঙিনায়। কিন্তু এবার ওপারে যে দল দাঁড়িয়ে, তারা কোনো সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা তো বর্তমান বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা, যাদের পায়ে এখন ফুটবলের মোহিনী জাদু!

    আগামীকাল যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিকেল নামবে, তখন সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে এক নতুন মহাকাব্য।

    তবে এই মহারণের ঠিক আগে ফেলে আসা দিনের সেই মহানায়ক দেল বস্ক স্পেনের তরুণ রক্তকে মনে করিয়ে দিলেন আকাশি-সাদার ভেতরের দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা—তাদের অনিশ্চিত খেলার মায়াজাল আর অভিজ্ঞতার গভীরতা।

    যে দলে মেসির মতো একজন আছেন তাঁরা তো এমনই কনমেবল

    স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের পাতায় যেন নিজের মনের কোণের সেই আশঙ্কা আর মুগ্ধতার কথাই বুনেছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কতটা লড়াকু মানসিকতার।’

    সত্যিই তো, সেমিফাইনালের রাতে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, কে ভেবেছিল এমন এক প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, একেই তো ভয় দেল বস্কের।

    তাই তো আবেগের চাদর সরিয়ে তিনি অকপটেই বললেন, ‘ফুটবলের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা; এই রোববার কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ—ক্ষমা করবেন কথাটা বলছি, কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে খেলতে হয় এবং কী করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখলেই সেটা বোঝা যায়।’

  • আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    বাশার সাহেব একজন সফল ব্যবসায়ী। ঢাকা শহরে তার গাড়ি-বাড়ি, টাকা-পয়সার অভাব নেই। তবে এসবই তার শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঘরজামাই হিসেবে বউকে ভয় পেয়ে চলে সে। বউ জুলেখা তাকে কড়াকড়ি নজরে রাখে। বাশার সাহেব কোনো মেয়ের দিকে তাকালেও সেটা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় ঘরে।

    এর মধ্যেই হঠাৎ গ্রাম থেকে তাদের বাসায় আসে কুদ্দুস, তার মা জামেলা ও তার বোন রাবেয়া। কুদ্দুস নিজেকে বাশার সাহেবের ছেলে হিসেবে দাবি করে, কুদ্দুসের মা নিজেকে বাশার সাহেবের স্ত্রী হিসেবে দাবি করে। বাশার সাহেবের সম্পত্তির ভাগের জন্যই তারা ঢাকায় এসেছে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর বাড়ির মধ্যে শুরু হয় লঙ্কাকাণ্ড। এমন গল্প নির্মাণ হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘গৃহযুদ্ধ’।

    মহিন খানের রচনা ও পরিচালনায় নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালাউদ্দিন লাভলু, চিত্রলেখা গুহ,আরফান আহমেদ, শেলী আহসান, রকি খান, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সাব্বির অর্ণব, হায়দার আলী, জুলফিকার চঞ্চল, সীমান্ত আহমেদ, হানিফ পালোয়ান,জ্যোতি ইসলাম, অনন্যা ইসলাম, সুমাইয়া অর্পা, হিরা মনি, রিমু রোজা খন্দকার প্রমুখ।

    নির্মাতা জানান, আজ শনিবার থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’ প্রচার হবে বৈশাখী টেলিভিশনে। সপ্তাহের প্রতি শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দেখা যাবে এটি।

  • বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট :  আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট : আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

    বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

    বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’

    গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

    তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসন করা হবে।’

  • বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষণা মতোই ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ফিফার আয় এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানিও।

    দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজ ফান্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ দল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ষোল ও শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।

    ফিফা এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে, পরে তারা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল উন্নয়নে তা বণ্টন করে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ১৯৮২ সালে প্রথমবার প্রাইজমানি প্রকাশের সময় চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। চার দশকের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে এবার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

    ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় হওয়া দল যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পাবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ‘গোল্ডেন বল’, ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ ও ‘গোল্ডেন বুট’ দেওয়া হবে। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে না।

  • বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার আদলে হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ৪০ দিনের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতি ঘটছে আগামীকাল। যে উন্মাদনায় বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বুঁদ হয়ে ছিল, আগামীকাল শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে পয়া জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন।

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের চোখে সাধারণত নীল জার্সি ‘কুফা’। এই জার্সি পরে খেলে ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুবারই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি। তবে ফাইনাল বাদে অন্য নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর হিসাব আলাদা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। আসতেকার ৪০ বছরের পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। আটলান্টায় এবার সেমিফাইনালে নীল জার্সি পরে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দেয় ইংলিশদের।

    এবার চ্যাম্পিয়ন হলে ইতালি, জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। ইতালি, জার্মানি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। আলবিসেলেস্তেরা তিনবার জিতেছে বিশ্বকাপ।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • যে বলিউড অভিনেত্রীকে সহশিল্পীরা করে টুকরো টুকরো, বাস থেকে ফেলা হয় মস্তক

    যে বলিউড অভিনেত্রীকে সহশিল্পীরা করে টুকরো টুকরো, বাস থেকে ফেলা হয় মস্তক

    বলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা একজন তরুণীর কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ কোনো কুপ্রস্তাব বা বাতিল হয়ে যাওয়া চরিত্র ছিল না। সেটি এসেছিল বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে—শুটিং সেটের চেনা মুখ, কাজের প্রতিশ্রুতি এবং উত্তর প্রদেশে যাওয়ার একটি আমন্ত্রণ। কিন্তু সেই যাত্রার শেষ হয়েছিল মুক্তিপণের দাবি, একটি মস্তকহীন দেহ এবং হিন্দি সিনেমা জগতের অন্যতম এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

    আজ থেকে ঠিক ১৪ বছর আগে, ২০১২ সালের মার্চ মাসে নিখোঁজ হন ২৬ বছর বয়সী উদীয়মান অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপা। দেরাদুন থেকে মুম্বাইয়ে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার লড়াইয়ে থাকা মীনাক্ষী সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘৪০৪’ এবং কারিনা কাপুর অভিনীত মধুর ভান্ডারকরের ‘হিরোইন’ চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন।

    ‘হিরোইন’ সিনেমার শুটিং সেটেই তাঁর পরিচয় হয়েছিল দুই জুনিয়র আর্টিস্ট অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনের সঙ্গে। পরবর্তীতে এই দুজনই পরিণত হন তাঁর খুনিতে।

    মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, শুটিং সেটে মীনাক্ষীর পারিবারিক গল্প শুনে অমিত ও প্রীতি ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি অত্যন্ত ধনী পরিবারের সন্তান। তাঁদের এই ধারণাটি ভুল ছিল, কিন্তু মীনাক্ষীকে অপহরণের পরিকল্পনা করার জন্য এটিই ছিল যথেষ্ট।

    অভিযুক্তরা মীনাক্ষীকে জানান যে তাঁরা উত্তর প্রদেশে তাঁর জন্য একটি অভিনয়ের কাজের ব্যবস্থা করেছেন। বলিউডে পায়ের নিচে মাটি খোঁজা এক তরুণীর কাছে এই প্রস্তাবকে কোনো ফাঁদ মনে হয়নি। সরল বিশ্বাসে তিনি তাঁদের সঙ্গে রওনা হন।

    ভ্রমণ শুরুর পর ২০১২ সালের ১৭ মার্চ মীনাক্ষীর মায়ের ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে বার্তা আসে। অপহরণকারীরা তিন দিনের মধ্যে ১৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করে।

    পরিবারকে চরম আতঙ্কে ফেলতে অপহরণকারীরা হুমকি দেয়, টাকা না দেওয়া হলে মীনাক্ষীকে দিয়ে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফি চলচ্চিত্রে কাজ করানো হবে।

    কিন্তু মীনাক্ষীর পরিবারের পক্ষে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব ছিল। তাঁরা কোনোমতে ধারদেনা করে মীনাক্ষীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০ হাজার রুপি জমা দিতে সক্ষম হন। তবে এই সামান্য অর্থ মীনাক্ষীর জীবন বাঁচাতে পারেনি।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার আগেই অমিত ও প্রীতি মীনাক্ষীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে তাঁর মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে প্রীতির পারিবারিক বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকে মীনাক্ষীর খণ্ডিত ধড় ফেলে দেওয়া হয়।

    এরপর খুনি যুগল বিচ্ছিন্ন মাথাটি একটি ব্যাগে ভরে বাসে করে লক্ষ্ণৌয়ের দিকে রওনা হন এবং যাত্রাপথের কোনো এক জায়গায় সেটি বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। সেই খণ্ডিত মাথাটি পুলিশ আর কখনোই উদ্ধার করতে পারেনি।

    হত্যাকাণ্ডের পরও খুনিরা মীনাক্ষীর পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁরা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও একটি বড় ভুল করে বসেন—তাঁরা মীনাক্ষীর ব্যবহৃত সিম কার্ডটি নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিলেন।

    পুলিশ কল রেকর্ড এবং ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে শুরু করে। অবশেষে ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশনের কাছের একটি এটিএম বুথে অমিত ও প্রীতির আসার খবর পায় পুলিশ।

    সেখানে ফাঁদ পেতে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছে মীনাক্ষীর সিম কার্ড এবং ডেবিট কার্ড পাওয়া যায়, যা দিয়ে তাঁরা টাকা তোলার চেষ্টা করছিলেন।

    এর দুই দিন পর, ১৬ এপ্রিল পুলিশ এলাহাবাদের সেই সেপটিক ট্যাংক থেকে মীনাক্ষীর মস্তকহীন দেহ উদ্ধার করে।

    ঘটনার পর মামলাটি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন ছিল।

    অবশেষে ২০১৮ সালের ৯ মে মুম্বাইয়ের একটি দায়রা আদালত অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) এবং ৩৬৪-এ (মুক্তিপণের জন্য অপহরণ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে।

    বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকম এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন। তবে আদালত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ শেষে আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

    মুম্বাইয়ের রূপালি পর্দায় নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে এসেছিলেন মীনাক্ষী থাপা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বন্ধুদের দেওয়া একটি ভুয়া কাজের আশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

  • বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা।

    ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।

    ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।

  • সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    একইসঙ্গে রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

    বিশ্বকাপ শুরুর সময় ১৮৭৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২ জুলাই প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের হটিয়ে শীর্ষে উঠে আসে ফ্রান্স। তখন দিদিয়ের দেশমের দলের সংগ্রহ ছিল ১৯১৬.২৪ পয়েন্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফরাসিরা ১৮৬৯.৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।

    টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ চারে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর সেই অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ওই জয়ে তারা অর্জন করে ২৬.৯০ পয়েন্ট। ফলে বর্তমানে আলবিসেলেস্তেদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৯৭০.৩৭।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩০.৮২ পয়েন্ট যোগ করেছে স্পেন। ১৯৬৫.৬১ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বকাপের আগে ১৮৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল স্প্যানিশরা। পরে ফ্রান্স শীর্ষে ওঠায় আর্জেন্টিনা নেমে যায় দ্বিতীয় এবং স্পেন তৃতীয় স্থানে। এখন আবার পরিস্থিতি বদলে আর্জেন্টিনা শীর্ষে এবং স্পেন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    তবে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে তাড়া করছে এক পুরনো পরিসংখ্যানও। ১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে কোনো বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্ট চলাকালে বা শেষের দিকে শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল শিরোপা জিততে পারেনি।

    ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে ছিল জার্মানি, কিন্তু তারা বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায়। ২০০২ সালে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০০৬ সালে এক নম্বর ব্রাজিলের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে।

    একই চিত্র দেখা যায় ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপেও। যথাক্রমে ব্রাজিল ও স্পেন শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৮ সালে এক নম্বরে থাকা জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। তাই প্রশ্ন উঠছে—ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিশ্বকাপ না জেতার দীর্ঘদিনের সেই ‘অভিশাপ’ কি এবারও বহাল থাকবে, নাকি ইতিহাস বদলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতবে আলবিসেলেস্তেরা?

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    রোববারের ফাইনাল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য হতে পারে এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। শিরোপা জিততে পারলে শুধু বিশ্বকাপের মুকুটই ধরে রাখা হবে না, ভেঙে যাবে দীর্ঘ ৬৪ বছরের একটি অপেক্ষার রেকর্ডও। সে ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা সম্ভাব্য রেকর্ডগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়েছে। প্রথমে ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। পরে ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে একই সাফল্য অর্জন করে। এরপর আর কোনো দল সেই অর্জনের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি।

    অবশ্য অনেক দলই এই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ১৯৯০ সালেও ফাইনালে খেলেছিল, কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৯৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৯৮ সালের ফাইনালে উঠেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও ২০২২ সালের ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল পরের আসরে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। একই ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ক্ষেত্রেও; ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে।

    এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করা। ফাইনালে জয় পেলে তারা শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফিই জিতবে না, বরং ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকা এক অনন্য রেকর্ডও নিজেদের করে নেবে।

  • ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    নোভাক জোকোভিচ এবং লিওনেল মেসি দুই জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মুখোমুখি দুই তারকা।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় নোভাক জোকোভিচ। আর উত্তরদাতা লিওনেল মেসি। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক মেসিকে প্রশ্ন করে বসলেন চাপ সামলানো নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারও তাকে জবাব দিলেন হাসি মুখে।

    মেসিকে সামনে পেয়ে জোকোভিচ প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করে চাপ উপেক্ষা করে নিজের খেলার দক্ষতা বজায় রাখতে শিখলে?’

    প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন মেসি। বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের সার্ভ সামলে বলেন, ‘আমি চাপ নিয়ে কখনও খুব বেশি ভাবি না। আমি একটা সব সময় খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসাবেই দেখেছি। খেলতে যাওয়া, উপভোগ করা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকা। আমরা প্রতিযোগিতা ভালবাসি। সব সময় জিততে চাই। দেখ ফুটবল একটা খেলা। আমাদের প্রতিপক্ষও জেতার জন্য মাঠে নামে। সব সময় জেতা সম্ভব হয় না।’

    এরপর মেসি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি শিখেছি, জয়ের থেকে হারের সংখ্যাই বেশি হয়। এই উপলব্ধি আমাকে এক জন ব্যক্তি এবং খেলোয়াড় হিসাবে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।’

    ১৯ জুলাই তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামবেন মেসি। প্রতিপক্ষ স্পেন। কয়েক দিন আগেই উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন জোকার। দু’জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি।

  • কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

    সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

    মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।

    ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যদিও রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর এ দুই নেতার আলাদা করে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেয়রের মুখপাত্র।

    এর আগেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল গত মাসের এনবিএ ফাইনালে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের একটি ‘বুলেটপ্রুফ লাক্সারি বক্সে’ বসে খেলা উপভোগ করা ট্রাম্পকে দেখে সেদিন নিউইয়র্ক নিক্সের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিতে ছাড়েননি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের বাইরের ওয়াচ পার্টি বাতিল করতে হয়েছিল, দর্শকদেরও মাঠে ঢুকতে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা দুয়েক আগে।

    অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন অনেকটাই আড়ালে। সাধারণ দর্শকদের মতো গ্যালারির একেবারে ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেছিলেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে আবারও তাদের দেখা যাবে। এবার আরও বড় টুর্নামেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    গত মাসেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প নিজেই। ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং যৌথভাবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সবসময় একসঙ্গেই আছি।’

    তবে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোনও করেছিলেন ট্রাম্প। ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বালোগান খেলতে পেরেছিলেন। যদিও ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হস্তক্ষেপ এবং ফিফা সভাপতির তা মেনে নেওয়া মোটেও ভালোভাবে নেননি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচটিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আয়োজন, যার সুরক্ষায় আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা দল এবং বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ ব্যাপক ফেডারেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে এখনো গ্যালারিতে না দেখা গেলেও মেয়রের গল্পটা ভিন্ন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচেই মাঠে ছিলেন মামদানি। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ‘ফুটবল পাগল’ দাবি করা এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচনের আগেও ব্রুকলিনে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।

    এবার বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিজের রাজনৈতিক আদর্শকেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে একটি ফুটবল ও আবহাওয়া বিষয়ক ভিডিও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য পার্কগুলো রাতে খোলা রেখে ওয়াচ পার্টি ও খেলার ব্যবস্থা করেছেন। তার উদ্যোগে ফুটবল ভক্তদের জন্য মাত্র ৫০ ডলারের বিশেষ জার্সি এনেছিল সিটি কর্পোরেশন, যা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি ফিফাকে রাজি করিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ৫০ ডলার মূল্যের ১,০০০টি টিকিটের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। সাউথ ব্রঙ্কসের মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে বসেও খেলা দেখতে দেখা গেছে এই মেয়রকে।

    ফাইনালে কার সমর্থন কোন দিকে?

    ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি—কে কোন পক্ষ নিচ্ছেন, তা এখনো রহস্যই বটে। সম্প্রতি স্পেনের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এবার আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন কিনা—জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি লেভিট মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

    সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিফা ইভেন্টে হাজির ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গেও তার সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়। তাকে তিনি অভিবাদন জানান এবং রোববারের ম্যাচটি নিয়ে জানতে চান। ট্রাম্প তাকে বলেন, ‘তোমরা কি আবার ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত?’

    অন্যদিকে, মেয়রের পছন্দের দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী জানতে চাইলে মামদানি রসিকতা করে বলেন, আমি এবার যার পক্ষ নিয়েছি, সেই হেরেছে। এই মুহূর্তে আমি যার নামই নেব, মনে হচ্ছে সেই দলটাই হেরে যাবে! এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিংয়ের পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘ডাকাতি হয়েছে’।

  • ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

    আজ শনিবার বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রেস সচিব বললেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প হয়েছে অনেক। কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে।’

    ‘যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

    তিনি বললেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে।’

    আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছেন। কোথাও কারো বন্দনা করেন না। আগে যা অহরহ দেখা যেত। প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতি মাসেই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।’

    ‘এবারের বাজেট সরকারের একটা অর্জন। এবার বাজেট পাস হওয়ার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, জনজীবনে অস্থিরতা বাড়েনি। এটা একটা জীবনবান্ধব বাজেট’, যোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা ছিলেন।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

  • গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা

    গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সহায়ককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সেবা গ্রহিতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেবা গ্রহিতা কয়েকজন জানান, গ্রাম থেকে কাজ কামায় করে এসে জানতে পারলাম রেজিষ্ট্রি বন্ধ। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে অনেকে জমি বিক্রয় করতে এসে অফিস বন্ধ থাকায়
    অনেকে পড়েছেন বিপাকে। জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া, চিকিৎসা করা ছাড়াও অতি জরুরী কাজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহিতারা।


    সম্প্রতি দলিল প্রতি রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং এর জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২’শ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১২’শ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন লোকজন নিয়ে অফিস থেকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আজাদ আলিকে। এঘটনায় আজাদ আলির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    এ ব্যাপারে ইমন হোসেন সাংবাদিককে বলেন, দলিল রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে সাধারন মানুষের সাথে দলিল প্রতি ১২’শ টাকা অবৈধ ভাবে কেন নেওয়া হয় তার কোন উত্তর দিতে পারেনি আজাদ আলি। তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা।

    তাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে,সে কোন কথা না শুনাই তাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল,পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আজাদ আলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

    এদিকে ভুক্তভোগী আজাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অফিস থেকে তুলে নিয়ে এসে মারধর করা হয়েছে,আমার নামে মিথ্যা টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, আমার অফিস স্টাফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন আজাদ আলি যদি অনিয়ম করে তার জন্য অথরিটি আছে, এক্ষেত্রে বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন সরকারী কর্মরত অফিস সহায়ককে কেন লাঞ্ছিত করবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।জেলা রেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে যা আমার দল বিএনপি কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। এ ধরণের কর্মকান্ডকে তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।তবে যদি কেউ অনিয়ম করেই থাকে তার জন্য প্রচলিত আইন আছে তার অথরিটি রয়েছে তারা ব্যবস্থা নেবে এক্ষেত্রে তারা মব সৃষ্টি করে সরকারি অফিসের কর্মরত ব্যাক্তিকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মানুষের সামনে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে নেতারা ভাল বলতে পারবেন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি যেই হোক তাদেরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা উচিৎ নয় আমাদের দল এধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করেনা যদি এ ধরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আজাদ আলি নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মিসবাহ উল আজীম

    নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মিসবাহ উল আজীম

    রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি-কে ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ অপরাহ্ন থেকে ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পূর্বক বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং আগামী ২২ জুলাই ২০২৯ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, তিনি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    প্রসঙ্গত, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী হতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ০১ জুলাই ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি তাঁর ব্যাচের (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকারী।

    তিনি রিয়ার এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স সম্পর্কিত বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্ট্যাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ হতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আওতাভুক্ত আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) এর একজন কৃতি গ্র্যাজুয়েট। ছাত্র জীবনে তিনি মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট হতে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

    প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে রিয়ার এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। গৌরবময় সামরিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এছাড়া তিনি নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পরিচালক, নৌ অপারেশন্স এবং পরিচালক, নৌ পরিকল্পনা হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক-সহ বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং নৌ ঘাঁটি বানৌজা তিতুমীর-এ অধিনায়কত্ব করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রিয়ার এডমিরাল আজীম লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

    রিয়ার এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন। তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার অর্জন করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি রিয়ার এডমিরাল আজীম একজন মননশীল পাঠক, লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিষয়ে সমাদৃত জার্নাল ও সাময়িকীতে তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। খেলাধুলায় তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিস। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় তার ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে।

    দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সর্বদা দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

    ব্যক্তিগত জীবনে রিয়ার এডমিরাল আজীম বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তারা দুই কন্যা সন্তানের জনক-জননী।

  • সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ একই ভেন্যু বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ একাদশ
    তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

  • ২৪ জুলাই সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা, বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন গান

    ২৪ জুলাই সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা, বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন গান

    ১৮ জুলাই রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠান। তবে দেশের বন্যা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয় সেই অনুষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ২৪ জুলাই বসবে বিশেষ এই আসর। শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুনা লায়লাকে সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠান থেকে বন্যার্ত মানুষের জন্য তহবিল গঠন করা হবে।

    শিল্পকলা একাডেমি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রুনা লায়লার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং সংগীতের ভুবনে তাঁর অবদানকে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার লক্ষ্যে তাঁকে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে রুনা লায়লাকে সম্মাননা প্রদান ও একক সংগীতানুষ্ঠান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অনুষ্ঠানে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে গাইবেন রুনা লায়লা। ছয় দশকের বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম শিল্পকলায় একক সংগীতানুষ্ঠানে গান শোনাবেন রুনা লায়লা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গত বছর থেকে দেশবরেণ্য শিল্পীদের সম্মাননা ও একক গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। সবশেষ গত জুনে সম্মাননা দেওয়া হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীকে।

  • ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিটি করেছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—মামলার নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার দশক ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের কর্মস্থল ও নাকের নিচের একটি তিলকে সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।

    মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক, জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’। মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

    মোজাফফর হোসেন তার নিজস্ব আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।

  • এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    আরও আগেই ইউরোপ অধ্যায়ের পাট চুকিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালেই যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। এরপরও নবম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই ব্যালন ডি’অর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজকেরা জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অর জিততে কোনো ফুটবলারের ইউরোপের ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    একসময় ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক রূপ পেলেও তখনো ইউরোপে খেলা ছিল অন্যতম শর্ত। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকেই ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে, তিনি কোন লিগ বা ক্লাবে খেলছেন, সেটি আর বিবেচ্য নয়।

    এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়োজকেরা গত ১৮টি আসরের উদাহরণ তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, ‘গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, ইউরোপের বাইরে খেলেও কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই ওই বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যা ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি ও উসমান দেম্বেলেও যখন এই পুরস্কার জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপেই খেলছিলেন।’

    তবে এই ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যালন ডি’অরের আয়োজকেরা লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউরোপের বাইরে খেলে ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান, যা ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, তখন আর্জেন্টাইন তারকা ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছিলেন। ফলে আটবারের এই বিজয়ীই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে কোনো অ-ইউরোপীয় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যালন ডি’অর জেতেন।’

    বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয় এবং যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।’

    এই ব্যাখ্যা এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। সাত ম্যাচে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে মায়ামির এই তারকা নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনাতেও জোরালোভাবেই রয়েছেন।

  • সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এমপিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও, সরকারি দলের এমপিরা তা নেননি।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের শহীদ শাফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আইনজীবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল’ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন–ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এমপি, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ারসহ আরও অনেকে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।

    শিশির মনির অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের বিধান অনুসারে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যদিও সরকার এগুলো সংশোধন করে পুনরায় প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিরোধী দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্বৈত শপথ নিলেও সরকার দলীয় নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেন তারা।

    বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। জনতার স্রোতে ভেঙে যায় ১৬ বছর ধরে গড়ে ওঠা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।’

  • বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপের আলোচনায় সাধারণত জায়গা করে নেন মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো তারকারা। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত চিত্র বদলে দিয়েছেন মাত্র তিন বছরের এক শিশু। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন মাঠে না নেমেও নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দুষ্টুমিতে হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।

    স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট কেইনকে। তার হাসি, উচ্ছ্বাস, নাচ, মজার অঙ্গভঙ্গি কিংবা ক্যামেরার সামনে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে এই খুদে দর্শকও।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও কেইনকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কোনো গোল বা ট্রফি নয়, বরং গ্যালারিতে থাকা এই তিন বছরের শিশুটি। কেউ তাকে ‘বিশ্বকাপের ক্ষুদে তারকা’, আবার কেউ ‘স্পেনের গ্যালারি সুপারস্টার’ বলেও অভিহিত করছেন।

    স্পেনের ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচার ক্যামেরা যখনই কেইনের দিকে ঘুরে যায়, তখনই তার হাসিখুশি মুখভঙ্গি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারানোর পরও এমনই এক মুহূর্তে আবার আলোচনায় আসে সে। খেলোয়াড়রা মাঠে জয় উদযাপনে ব্যস্ত থাকলেও ক্যামেরায় ধরা পড়ে গ্যালারিতে থাকা কেইনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তার দুষ্টুমি দেখে হাসিতে মেতে ওঠেন বড় ভাই লামিন ইয়ামালও। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    অবশ্য কেইনের পরিচিতি এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে স্পেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভাইয়ের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। একই বছর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট ও স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটে হেঁটে নজর কাড়ে এই খুদে।

    পারিবারিকভাবে লামিন ইয়ামাল ও কেইনের মা একই হলেও তাদের বাবা আলাদা। ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় কেইনের। তবে বয়সের প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধান দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বরাবরই আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর গ্যালারিতে দুই হাত তুলে ‘ভামোস!’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় কেইনকে। সেই দৃশ্যও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইন এখনো শৈশবের আনন্দে মেতে থাকলেও ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন লামিন ইয়ামাল। একসময় কঠিন আর্থিক বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এই বার্সেলোনা তারকা জানিয়েছেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মায়ের মুখে হাসি দেখতে এবং ছোট ভাইকে সুন্দর শৈশব উপভোগ করতে দেখে।

    বর্তমানে একজন মাঠে পায়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন, আর অন্যজন গ্যালারিতে নিজের নিষ্পাপ হাসি, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্যে কোটি মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিচ্ছে।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের লড়াই নয়। বরং লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে অনন্য ১১টি ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি। ফাইনালে মাঠে নামা থেকে শুরু করে গোল করা কিংবা ট্রফি জেতা, সবকিছু মিলিয়ে মেসি ছুঁতে পারেন একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    এক নজরে ফাইনালে মেসির সামনে থাকা ১১টি সম্ভাব্য রেকর্ড

    ১. গোলরক্ষক ছাড়া সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট: ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। ফুটবল ইতিহাসে গোলরক্ষক বাদে কোনো খেলোয়াড় এত বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামেননি। রেকর্ডটি এখনও ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফেরের দখলে আছে। ৪০ বছর ১৩৩ দিনে তিনি পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন। মেসি এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে নামলে, আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট।

    ২. দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর মেসির এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি ফাইনালে খেলেছিলেন। সেই অভিজাত তালিকায় মেসি দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখাতে চলেছেন।

    ৩. প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিন ফাইনাল নেতৃত্ব: ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি অধিনায়কের নাম রয়েছে, যারা দুবার দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মেসিই হবেন প্রথম খেলোয়াড়, যিনি তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন।

    ৪. অধিনায়ক হিসেবে জোড়া বিশ্বকাপ শিরোপা: ফুটবলে দুবার বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড় অনেক আছেন, কিন্তু দুইবারই ‘অধিনায়ক’ হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার নজির নেই। ইতালি ও ব্রাজিলের অনেক তারকা দুবার বিশ্বজয়ী হলেও তাদের কেউ অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার ট্রফি ধরেননি। আর্জেন্টিনা জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা নিজের হাতে নেওয়ার অনন্য রেকর্ডের মালিক হবেন।

    ৫. ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা: ফাইনালে গোল করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বড় প্রাপ্তি। স্পেনের বিপক্ষে মেসি গোল পেলে তিনি ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা সুইডেনের নিলস লিডহোমের (৩৫ বছর ২৬৪ দিন) রেকর্ডটি ভেঙে দেবেন। এটি তাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হিসেবে অমর করে রাখবে।

    ৬. আর্জেন্টিনার হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিল ৮টি গোল করেছিলেন। ৯৬ বছর ধরে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি স্তাবিলকে টপকে এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।

    ৭. ১০ গোলের মাইলফলক: এক আসরে ১০ গোল করা মানেই ফুটবলারদের একটি বিশেষ অভিজাত ক্লাবে জায়গা পাওয়া। যদি মেসি ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারেন, তবে তিনি জাস্ট ফনটেইন (১৩ গোল), স্যান্ডর কোসিস (১১ গোল) এবং গার্ড মুলারের (১০ গোল) তালিকায় নাম লেখাবেন। ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো ফুটবলারের জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য অর্জন।

    ৮. দুটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল: ২০২২ সালের ফাইনালে মেসি গোল করেছিলেন। যদি ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেন, তবে তিনি ভাভা, পেলে, পল ব্রেইটনার, জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মত ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়বেন।

    ৯. বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো ৮টি গোল করেছিলেন। আর্জেন্টিনা যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসি কমপক্ষে একটি গোল করেন, তবে তিনি ৯ গোল নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

    ১০. ফাইনালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: বিশ্বকাপ ফাইনালে এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি গোলের মালিক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি যদি ফাইনালে দুটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি এমবাপ্পের সেই রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর যদি হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে ৫ গোল নিয়ে তিনি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে আসবেন এবং জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়বেন।

    ১১. সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়: টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় করা বিরল ঘটনা। এর আগে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এই নজির গড়েছিল। আর্জেন্টিনা এবার জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার যিনি টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের নীল্টন সান্তোস ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, মেসি সেটি অতিক্রম করবেন।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

    বন্যার কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সড়কে কাজও শুরু হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

    সুত্র: বাসস

  • আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    ম্যাচ শুরুর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে আবারও বিয়ে করবেন। আর প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে উদ্দেশ্য করে নতুন পোস্ট দিলেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনি।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল চলাকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো, ফাইনাল।’ ফুটবল উন্মাদনার আবহে দেওয়া তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়েই এতে হাজারো প্রতিক্রিয়া ও শেয়ার জমা হয়। তবে পোস্টটির মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ রেখেছিলেন অভিনেত্রী।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করার পর আবারও ফেসবুকে সরব হন পরীমনি। এবার তিনি লেখেন, ‘হ্যারি কেইন, পারলে না তুমি আমার বিয়েটা ঠেকাতে।’ ইংল্যান্ডের অধিনায়কের উদ্দেশে করা এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    পরীমনির দুই পোস্টই মূলত ফুটবলকে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা। অনেকেই মজার ছলে তাঁর ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও মন্তব্য করছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    ব্যক্তিজীবনে একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের কারণে এর আগেও আলোচনায় ছিলেন পরীমনি। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়।

    বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবনযাপনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করছেন পরীমনি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেওয়া তাঁর টানা দুই ফেসবুক পোস্ট এবারও ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    বয়স তার ৩৯। কিন্তু মাঠে লিওনেল মেসি যা করছেন, তাতে বয়সটাকে মনে হচ্ছে শুধুই সংখ্যা! এই আসরে যেন আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা নিয়ে নেমেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক সেমিফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই ফিরে আসার রূপকথার গল্প রচনা করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ শেষে গোল্ডেন বল ও বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই।

    মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি করে। দুজনেই আরও একটি করে ম্যাচ খেলবেন এই আসরে।

    বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। মেসি সেখানে এমবাপ্পের চেয়ে এক অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন।

    এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট ৪ টি, এমবাপ্পের ৩টি। গোল্ডেন বুটের মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যেই। এছাড়াও এই দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি, অ্যাসিস্ট একটি। উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ২টি। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ১টি। তারা সবাই খেলবেন আরও একটি ম্যাচ।

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও সেরা ফুটবলার বা গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে তো বটেই, রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার উঠতে পারে তার হাতেই। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক যুগের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে লিওনেল মেসির দল। এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ১৯টি। এতেই তারা স্পর্শ করল ১৯৭০ সালের বিখ্যাত সেই ব্রাজিল দলকে।

    এই আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচে করেছে ৮ গোল। আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি ও জর্ডানের বিপক্ষে তিনটি।

    নকআউটের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের গোল ১১টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরকে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

    সেমিতে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। আর এতেই গোলের রেকর্ডে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলল স্কালোনির দল। সেবার পুরো আসরে ১৯ গোল করেছিল পেলের দল। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলও ১৯।

    আর্জেন্টিনা ও ১৯৭০ এর ব্রাজিল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের দিক দিয়ে আছে ৫ম স্থানে। ১৯৫০ সালে ২২ গোল করে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ২৩ গোল করা ফ্রান্স আছে তৃতীয় স্থানে।

    ১৯৫৪ সালে ২৫ গোল করে পশ্চিম জার্মানি আছে দ্বিতীয় স্থানে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ২৭ গোল করে এই তালিকার সবার ওপরে আছে তারা।

  • চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ , মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশীদ, চৌগাছা পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল হালিম চঞ্চল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা আহবায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষে চৌগাছার জুলাই শহীদ আল্ আমীনের পিতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীেদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আহদের জন্য এবং দেশ ও জাতীর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহজান আলী।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

    গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা


    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও তৎকালীন আইইউবিএটির শিক্ষার্থী তানভীর মেহেদী ইমন, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, এনসিপির গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গাংনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার আরেকটি অনন্য নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। অর্থাৎ ৭টি সেমিফাইনাল খেলে ৭ বারই উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।

    চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের নিশ্চয়তা। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিবারই শেষ চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নকআউট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই টুর্নামেন্টে বর্তমান ফরম্যাটের মতো আলাদা সেমিফাইনাল ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছিল।

    ২০২৬ এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে।

  • নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

    মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।

    শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

    অবশেষে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।

  • নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।

    এর আগে একই দিন ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) এবং একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কালো রঙের একটি হার্ডজিপে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটের মধ্যে থাকা ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে মোট ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা রাখা ছিল।

    পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।

  • লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে জাকিয়া সুলতানা জিসা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার কৈটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাকিয়া সুলতানা জিসা জাহাঙ্গীর আলম ও জোহরা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে পাঁচ বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসল করতে যায় জিসা। গোসলের সময় হঠাৎ পানির স্রোতে গভীর অংশে চলে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে জিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: ওসমান গনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

  • জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। তাহলে জনগণ কীভাবে ভোট দিল? আমি বলি, এই চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার করা হয়েছিল, সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

    তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক, তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। আরেকজন বলেছেন, টোল মওকুফের কথা বলা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

    বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময়মতো ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।

    সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, আপনারাও আসুন, এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শরিক হোন। সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অপমান করতে চাইলে করুন, জনগণই তার বিচার করবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষে আছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

    তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪ এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    সারাদেশের মতো যশোরেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন, জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পৃথক র‍্যালি, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

    পরে শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর পৌরসভার প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে প্রায় ১৪০-১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

    অপরদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয় থেকে পৃথক একটি র‍্যালি বের হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর নেতৃত্বে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির সিদ্দিকী বাচ্চু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদার হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

    এছাড়া প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকেও প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

    বিকেলে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে র‌্যালি বের হয়। ঈদগাহ মোড় থেকে র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • খালে গোসলে নেমে মাদ্রাসার চার শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    খালে গোসলে নেমে মাদ্রাসার চার শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নরসিংদীর রায়পুরায় খালে গোসলে নেমে চার শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রাণ হারানো শিশুরা হলো, বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯) ও জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা পড়ত বড়কান্দা এলাকার গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসায়।

    এসব নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ওসি নাজমুল হাসান।

    স্বজনরা জানান, মাদ্রাসায় ক্লাসের বিরতিতে একসঙ্গে ছয়জন পাশের একটি খালে গোসলে নামে। কিছুক্ষণ পর দুইজন পাড়ে এসে স্থানীয়দের জানায়, ডুবে গেছে অন্যরা। পরে লোকজন খালে নেমে চার শিশুকে উদ্ধার করে নেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, দুপুর ১টায় তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আরেকজনের মরদেহ পরিবার ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।

    ওসি নাজমুল হাসান জানালেন, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।