শিরোনাম

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেগুলো দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির ১২তম কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

    সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন ।

    আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা রয়েছে।

    তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপী ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন।

    ইসি সচিব জানান, এ সকল প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    আখতার আহমেদ বলেন, ‘এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান, আর তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট থাকে। তো এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়— সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।’

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তার কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

    আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।

    হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

    নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।’

    নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।’

    আরেক দর্শক জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • মিমের ছবি দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ভক্তরা

    মিমের ছবি দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ভক্তরা

    জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব তিনি। ফেসবুকে প্রায়শই নানা মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসা কুড়াতে দেখা যায় ‘মালিক’ সিনেমার এই অভিনেত্রীকে।

    গেল শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গোলাপি রঙের পোশাকে একগুচ্ছ ছবি আবারও অনুরাগীদের কাছে ধরা দেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরাও তাকে প্রশংসার সাগরে ভাসান। এসব ছবি দেখতে দেখতে ভক্তদের মন্তব্য ও অভিনেত্রী সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক—

    নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একগুচ্ছ ছবি সম্বলিত পোস্টের ক্যাপশনে ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে মিম লিখেছেন, ‘গোলাপি রঙে রাঙা আমি, ভালোবাসায় ভরা মন।’ তবে ছবিগুলো কোনো ওয়েব সিরিজ নাকি সিনেমার দৃশ্যের, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাননি। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনুরাগীরা অভিনেত্রীর সৌন্দর্যেরে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নানা বিশেষণে তারা প্রিয় অভিনেত্রীকে বর্ণনা করছেন। এই যেমন, সজীব নামের একজন লিখেছেন, ‘আমাদেরও একজন মিম আছেন, যিনি বলিউড–হলিউড, তামিল নায়িকাদের হার মানায়।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    রিশা মনি নামের আরেক নেটিজেনের মন্তব্য, ‘সেরার যদি সেরা সুন্দরী নায়িকা যদি বর্তমানে বাংলাদেশে থাকে সেটা হচ্ছে মীম।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য যেন বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রিয় তারকাকে নিয়ে একজন লিখেছেন, ‘বিদ্যা সিনহা সাহা মিম সৌন্দর্য, আভিজাত্য, প্রতিভা এবং এক মুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের অপূর্ব সমন্বয়ে আপনি সত্যিই এমন এক তারকা, যিনি বিশ্বের প্রতিটি কোণ আলোকিত করে তোলেন।’ ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    এদিকে, নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী শমী কায়সার প্রযোজিত একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিম। সরকারি অনুদানে তৈরি সেই ছবির শুটিং ২০২৩ সালে শেষ হলেও মুক্তির কোনো খবর নেই। ছবির নাম ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’।

    সর্বশেষ গেল ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় মিম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মালিক’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভর বিপরীতে। যদিও দীর্ঘদিন পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    ‘মালিক’ মুক্তির পর জুনে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। কাজী আসাদ পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করে বেশ আলোড়ন তোলেন এই অভিনেত্রী। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

  • ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    পৃথিবীতে কত কী ঘটে!

    এই যেমন ছাগলের জন্যও নাকি বানানো হয়েছে একটি টাওয়ার!

    শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর উইন্ডসরে সত্যিই এমন এক ব্যতিক্রমী স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। ৩১ ফুট উঁচু ইটের এই টাওয়ারটি দূর থেকে যেন রূপকথার কোনো দুর্গ। কিন্তু এর বাসিন্দা মানুষ নয়, একদল সানেন জাতের ছাগল। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলী আর অভিনব ধারণার কারণে ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।টাওয়ারটির নির্মাতা কৃষক দম্পতি ডেভ ও মার্সিয়া জনসন। প্রায় পাঁচ হাজার হাতে তৈরি ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপনায় রয়েছে ২৭৬ ধাপের সর্পিল পথ। বাইরের ঘুরপথ বেয়ে ছাগলগুলো অনায়াসে ওপরে উঠে যায়, আর ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে রাত কাটায়। তবে এই টাওয়ারের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগেই। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ওয়াইনারিতে ছাগলের জন্য তৈরি একই ধরনের একটি টাওয়ারের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন ডেভ। সেই ছবিই তাঁকে নিজের খামারে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়। মজার বিষয় হলো, তখন তাঁর খামারে একটি ছাগলও ছিল না! টাওয়ার তৈরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ১১টি সানেন ছাগল কিনে আনেন।

    পাহাড়ি স্বভাবের ছাগলের জন্য বিশেষ নকশা
    প্রশ্ন জাগতেই পারে, ছাগলের জন্য এত আয়োজন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের স্বভাবেই। সানেন ছাগলের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। প্রকৃতিগতভাবেই তারা উঁচু জায়গায় উঠতে ভালোবাসে। পাহাড়ে বাস করার এই স্বভাব তাদের নিরাপদ থাকতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করত। সমতল কৃষিজমিতে সেই সুযোগ না থাকায় জনসন দম্পতি ছাগলগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে এমন একটি উঁচু পরিবেশ তৈরি করেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়, একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    টাওয়ার নির্মাণের সময়ও ঘটেছিল মজার এক ঘটনা। ছবির মাপ দেখে নির্মাণ করতে গিয়ে টাওয়ারটি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাগল টাওয়ারে পরিণত হয়। এমনকি অতিরিক্ত ইটও আনাতে হয়েছিল, যদিও শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তৈরির পর বেঁচে যাওয়া ইট ব্যবহার করা!

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়।

    আজ এই টাওয়ার শুধু ছাগলের আবাস নয়, বরং পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা এসে ছাগলগুলোর টাওয়ারে ওঠানামা দেখেন, ছবি তোলেন, তাদের আদর করেন। একসময় নিছক শখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন প্রাণীর কল্যাণ, সৃজনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রমাণ করে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারলেই সাধারণ একটি খামারও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।

    সূত্র: অ্যাটলাস অবস্কিউরা, নাইনটি নাইন পারসেন্ট ইনভিসিবল

  • মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি মনে করেন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য ভালো ‘পারফর্ম’ করতে পারছেন না, তাহলে তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিনের পর, নাকি আরও সময় লাগবে, সেটা নিশ্চিত নয়। এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হওয়ার আলোচনা আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) যদি কখনো মনে হয়, কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না, তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন। কারণ, দিন শেষে জনগণের কল্যাণ সাধন করা…প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনো চয়েস বা সিদ্ধান্ত আরও বেটার করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এটা মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।’

    সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রোধে আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন উপদেষ্টা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ।

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কার্যালয়ের জাদুঘরের গ্যালারিতে যে কটি দলগত ছবি রয়েছে, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারার মেলায় কিছু তারকাকে যেমন খুব সহজে আলাদা করা যায়, দেশটির ফুটবল আকাশে তেমনই উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা। ম্যারাডোনাকে আবর্তিত করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জিতেছেন সার্জিও বাতিস্তা, মার্সেলো বোচিনিরা। সময়ের সেরা দল ছিল সেটি। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তৈরি হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দেখে। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ম্যারাডোনার বিদায়ের পর সাদামাটা একটি দলে পরিণত হয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।

    লিওনেল মেসির দলটিকে দেশটির ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের খেলোয়াড়দের দলগত ছবি দেখলে সমর্থকদের চোখে খেলে খুশির ঝলক। কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়ে এই দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন মেসি। এই সোনালি প্রজন্মের দলেও হয়তো বিচ্ছেদের রাগিণী বাজবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই যে ভাবতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মেসি ৩৯ বছর বয়সে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে। তিনি চাইলে জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে পারবেন অনায়াসে। তবে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা বেশি কিছু চাওয়া। কারণ, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা ভীষণ কঠিন। মেসির মতো কিংবদন্তি অতটা স্বার্থপর না হওয়ারই কথা। আর তাঁর না খেলা মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে এক সুতায় বেঁধে রাখা কঠিন। দেশটির বর্তমান দলে মেসি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তারকা নেই। তাই নতুন ম্যারাডোনা বা নতুন মেসির খোঁজ করতে হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে। সোনালি প্রজন্মের দল থেকে এক-দুই বছরের মধ্যেই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোদের সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন তারকার খোঁজ করতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

    যদিও স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে কোচ মিডিয়ায় বলেছেন, ‘এখন ওর বয়স ৩৯ বছর। এককথায় সে অবিশ্বাস্য। তার থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারব না। এই কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ তাঁর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’

    আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিকে অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়ে ভারসাম্য এনেছিলেন কোচ। যেখানে হেভিওয়েট খেলোয়াড় মেসি। বাকিরা সাধারণ। ক্লাব ফুটবলে তাদের প্রভাব থাকলেও মেসিকে ছাড়া কখনও খেলেনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে শতবর্ষী বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। যদিও এই দল নিয়েই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। সদ্য শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ দুবার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে দুবার।

    সাফল্যে মোড়ানো এই দলটিকে কোচ হয়তো এক সুতায় বেঁধে রাখার চেষ্টা করবেন আরও কিছুদিন। কারণ, মেসিদের সাফল্যে সফল তিনিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কোচ স্কালোনির এই দলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো। মিডফিল্ডে লিওনার্দো বালেরদি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা। মিডফিল্ডে ভালেন্তিন বার্কো, জিওভান্নি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা হয়তো দলকে এগিয়ে নেবেন। তবে সময়ের আবর্তে একটি-দুটি তারা ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সেখানে গোলক্ষক হেরোনিমো রুইয়ি, মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢুকে যেতে পারেন সেই ঝুঁকির তালিকা।

  • মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁকে হাজির করতে আবেদন করেন।

    পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফফর হোসেনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি ভারতে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

  • ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সম্মতি দেন।

    যে তিনজন বিচারক পরিদর্শন করবেন তারা হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবেদনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাশাসনের আমলে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনেক গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জেআইসি অথবা টিএফআই হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জায়গায় আটকে রাখা হতো।

    সুনির্দিষ্ট পরিদর্শনের জায়গাগুলোর কথা জানিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের একটি কেন্দ্র, র‍্যাব-১-এর একটি টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালাসহ এ ধরনের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের নজির তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও রুল ৭৩ অনুযায়ী মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। এর আগে রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিচারিককাজে তা মেমোরেন্ডাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন এবং বিচারকরা দিন-তারিখ নির্ধারণ করে অপরাধস্থল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়া হবে এবং আসামিপক্ষের কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুইজন ও কালিনগর গ্রামের একজন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুই চাচতো বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা ওই গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে রাফিয়া (৩) এবং আমিনুরের আপন ভাই আলিনুরের মেয়ে রাইসা (২)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাফিয়া ও রাইসা বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে খেলাধুলা করছিল। অসাবধানতাবশত প্রথমে রাইসা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে রাফিয়া পানিতে ঝাঁপ দিলে সেও তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত দুই বোনকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মোহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু আহসান দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মোহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামীম আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    অন্যদিকে, রোববার বিকালে ইয়াসিন মোল্লা (৯) মধুমতি নদীর পাড়ে চাচার সাথে পাট জাগ দেয়ার কাজে সহযোগিতা করার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে খবর পেয়ে মধুমতি নদীর বাগবাড়িয়া এলাকা থেকে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত ইয়াসিন মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে এবং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

    জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

    জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

    এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন তিনি।

    সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের ভূমিকা, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনো ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’

    আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই যন্ত্রণা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’

    হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    হাবিবুর রহমান জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাঁকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে এখন বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।’

    তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।’

    হাবিবুর রহমান এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ; এটি সমাজে মমত্ববোধ ও একাত্মতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুবাইদা রহমান বলেন, জাতীয় যেকোনো দুর্যোগের সময়ে সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সহযোগিতাই সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

    জুবাইদা রহমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস তাঁরা দেখিয়েছেন, তা সবার জন্য অনুপ্রেরণার।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি আগুনে দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকেরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা মানবিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকেরাও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসাসেবার মানের প্রশংসা করেছে।

    নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জুবাইদা রহমান তাঁদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন।

    সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এককভাবে এই ব্যয় বহন করা কঠিন। তাই বার্ন প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, উন্নত দেশগুলো সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি ২১ জুলাইকে সরকারিভাবে ‘বার্ন সচেতনতা দিবস’ ঘোষণা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের সব দগ্ধ রোগীর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ও সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল ব্যবস্থার কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট দেশের প্রথম সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করতে পারবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এবং ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদসহ অনেকে।

    স্মরণসভায় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনায় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অবদান রাখা কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

  • মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত কোটি ভক্তের মতোই স্পর্শ করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীকে। ম্যাচশেষে মেসির কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার এ অভিনেত্রী পোস্টের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’

    নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক উল্লেখ করে শশী লেখেন, জীবনে সবাই সবকিছু পায় না—এটাই বাস্তবতা। তাই একটি পরাজয় কখনোই মেসির অসাধারণ অর্জন ও কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’

    ফাইনাল শেষে স্পেন যখন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শশী বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসিই শিখিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানান।

    স্ট্যাটাসের শেষেও মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’

    শশীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসে আর্জেন্টিনা ও মেসির অসংখ্য সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, একটি হার কখনোই লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার বা তার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারবে না।

  • মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বাস কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসছিল। শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় বাসটি একটি ইজিবাইককে জায়গা দিতে গিয়ে পাশের একটি ডোবার মধ্যে উল্টে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৩ জন যাত্রী আহত হন।

    আহতদের মধ্যে মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের ববিতা খাতুন (৪৫), প্রিয়া খাতুন (১৮), সদর উপজেলার আশরাফুর, মিলন (১৮), চাঁদবিল গ্রামের রেনুয়ারা খাতুন (৫৪), জামাল উদ্দীন (৬৫) ও দক্ষিণ শালীকা গ্রামের ওসমানের (২৮) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাসের নীচে কেউ পড়ে আছে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। বাসটি ডোবা থেকে উদ্ধারের পর বাকিটা জানা যাবে।

  • হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’ সিজন ২-এ বড় চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন অভিনেত্রী হিনা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে তার অংশগ্রহণের জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিযোগী শিল্পা শিন্ডের সঙ্গে তার পুরোনো দ্বন্দ্ব।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া ফোরামসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পর্বগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে হিনা খান ও উরফি জাভেদ শোতে যোগ দেবেন। যদিও এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি নির্মাতারা।

    হিনা ও শিল্পার বিরোধ নতুন নয়। ‘বিগ বস ১১’-এ অংশ নেওয়ার সময় থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সম্প্রতি সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে, যখন ভরতি সিংয়ের পডকাস্টে শিল্পা স্বীকার করেন যে, প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির সঙ্গে আইনি বিরোধ চলাকালে তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।

    শিল্পার এই স্বীকারোক্তির পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান হিনা। তিনি লেখেন, ‘কোনো বিরোধে জিততে নিজের লিঙ্গ পরিচয় ব্যবহার করে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর বিরুদ্ধে মানুষ যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিচার চাইছে, সেটাই স্বাভাবিক। আমি সত্যিই হতবাক।’

    হিনা আরও দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রকৃত ভুক্তভোগী ছিলেন সঞ্জয় কোহলি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগের পরও কেন ওই প্রযোজক আবার শিল্পার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত হাসির পাত্র তো আমরাই।’

    এরপর পরোক্ষভাবে হিনাকে নিশানা করেন শিল্পা শিন্ডে। তিনি হিনার ক্যানসারের চিকিৎসা এবং বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মানুষ কবে যে আমার নাম ব্যবহার করে প্রচার পাওয়া বন্ধ করবে, জানি না। চলন্ত ট্রেনে উঠতে যাবেন না, আঘাত পাবেন। প্রচার পাওয়ার জন্য আপনার নিজের অসুস্থতা আছে, পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও আছে। তাহলে শিলপা শিন্ডেকে কেন দরকার? আপনি তো আগেই যথেষ্ট প্রচার পেয়েছেন।’

    হিনা যদি সত্যিই ‘লক আপ ২’-এ হাজির হন, তাহলে বহুদিনের এই দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন দর্শকরা। তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। সূত্র: এনডিটিভি

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বগুড়ার কাহালুতে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো—ভালতা গুচ্ছ গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৯) এবং ফারুক মণ্ডলের ছেলে ফাহিম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাদের খোঁজ করতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সালমা খাতুন পুকুরের পানিতে জাকিরুলের মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ফাহিম ও সুরাইয়াকে খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিন্টু প্রামাণিক পানিতে নেমে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরাইয়ার সন্ধান না পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হাসাদহ–মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন অংশ জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে কাদাময় হয়ে পড়ছে পুরো সড়ক। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্য যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

    স্থানীয় হাসাদহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল জীবননগর সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। প্রায় তিন বছর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি। এতে দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

    হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মতিয়ার রহমান বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সামান্য ৩০০ ফুট রাস্তা করতে তিন বছরের বেশী সময় লাগে, তা ইতোপূর্বে কোনো দিন দেখিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেক দিন পর কাজটি শুরু করলেও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি সামান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার জনগণ রাস্তাটির কারণে ভোগান্তির শিকার হলেও তা যেন দেখার কেউই নেই।’

    স্থানীয় একাধিক মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    তবে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন জানান, হাসাদহ থেকে মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট অংশে সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার বিলম্ব এবং নির্ধারিত স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত কয়েকটি পাকা দোকান অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হলে দ্রুত সংস্কার কাজ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে বর্ষার কারণে কাজটি আরো বিলম্বিত হচ্ছে।’

  • চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে এ অ্যাপটি hellodc.bd থেকে ডাউনলোড করা যাবে। গুগল প্লে-স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে-স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে। এছাড়া ০১৯৬১৬০৬০৬০ নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কল করা যাবে।

    জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জন অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    জানা গেছে, এখন থেকে এ অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তাসহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

    এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগসমূহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মত প্রকাশ করেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রদূত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    আলোচনাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেয়ার ইকোনোমিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীদেরকে কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলছে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরব দেশগুলোতে গমন করেছেন, ফ্রান্সেও যাতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ ফ্রান্সে রপ্তানি করতে পারে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বিশেষ সহায়তা চাইলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সবশেষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফেমিনিস্ট ফরেন পলিসি (এফএফপি) বিষয়ক সম্মেলনে মন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

    হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার।

    এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

    হজ প্যাকেজ-১: এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে।

    সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন।

    উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

    হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী): এটি হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

    হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

  • সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্নায় আদালতকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা শুরু করে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

  • ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর মাঠের অন্যতম আলোচিত চরিত্র কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, লামিনে ইয়ামালের ভাই কেইনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপজুড়ে প্রচারমাধ্যমের আলোয় থাকা কেইনেকে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীর আগে মাঠজুড়ে ঘুরে নানা কাণ্ড–কীর্তিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ছবিতে দেখুন মজার সেসব দৃশ্য।

    ১ / ১৫

    কেইনে ইন মুড …রয়টার্স

    ২ / ১৫

    বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক রয়টার্স

    ৩ / ১৫

    দূরপাল্লার শট …রয়টার্স

    ৪ / ১৫

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে! রয়টার্স

    ৫ / ১৫

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো! রয়টার্স

    ৬ / ১৫

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ রয়টার্স

    ৭ / ১৫

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার রয়টার্স

    ৮ / ১৫

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের রয়টার্স

    ৯ / ১৫

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়র রয়টার্স

    ১০ / ১৫

    সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায় রয়টার্স

    ১১ / ১৫

    গোওওওওল …

    ১২ / ১৫

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে রয়টার্স

    ১৩ / ১৫

    বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে রয়টার্স

    ১৪ / ১৫

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয় রয়টার্স

    ১৫ / ১৫

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের? রয়টার্স

  • কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম বলে, `কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ বলে, `প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

    নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন। তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, `রোববার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ।’

    আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, `সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, `বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না।’ তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

    শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, `এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, `মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। প্রিয় দলের জয় উদযাপনের জন্য আতশবাজি কিনেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। প্রিয় দলের এমন পরাজয়ে মন খারাপ আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

    এদিকে ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পরও সেই আতশবাজিগুলো ফুটিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন কেয়া পায়েল। গতকাল রোববার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, ছাদে দাঁড়িয়ে আতশবাজি ফোটাচ্ছেন কেয়া। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম জিতলে ফুটাব, কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে তো, তাই আরকি।’

    এতেই শেষ নয়। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কৌতুক করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই, খেললে জিতে যাইতাম।’

    কেয়ার এই ভিডিও প্রকাশের পর নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার রসবোধের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মজার ছলে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খোঁচা দিয়ে মন্তব্যও করছেন।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফুটবলপ্রেমীদের নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই কেয়া পায়েলের এই ব্যতিক্রমী উদযাপন নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • চার প্রতিষ্ঠানের ৮ ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

    চার প্রতিষ্ঠানের ৮ ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

    বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

    আজ সোমবার বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বাংলাদেশ মানের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

    এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন ও অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

    ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানের তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবে বিএসটিআই।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

    কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বানও জানান মহাপরিচালক।

  • জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার সকাল থেকে দুদকের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

    দুদকের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মুখপাত্র তানজীর আহমেদ সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সোমবার সকালে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ির ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা করা হচ্ছে।

    গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

    জিয়াউল আহসান সবশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন এই কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

  • বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    স্পেন দলের সমর্থক ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসর এলেই প্রিয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তিনি প্রকাশ করেন নেটদুনিয়ায়। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার।

    ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে একটি রিলস শেয়ার করেন সিয়াম। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ভালো খেলছ- এটা বলা যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। এটা প্রত্যাশা করে স্পেন।

    পোস্টের ক্যাপশনে ছিল শুধু স্পেনের পতাকার ইমোজি, যা দিয়েই দলের প্রতি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    বলে রাখা যায়, বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ব্যতিক্রম। ২০০৭ সাল থেকে তার প্রিয় দল স্পেন।

    মূলত ডেভিড ভিয়ার খেলা দেখেই দলটির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। তার গতি, গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে এই অভিনেতাকে। এরপর ধীরে ধীরে স্পেন দলের খেলা নিয়মিত অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি।

    সিয়ামের কথায়, ‘সেই সময় স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাদের নিখুঁত পাসিং ফুটবল, বল দখলে রাখার কৌশল এবং দলগত সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। ডেভিড ভিয়া, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজদের সেই প্রজন্মের খেলা আজও স্মৃতিতে ভাসে। তাই এত বছর পরও স্পেনই আমার প্রিয় দল আর তাদের সাফল্য আমাকে সবসময় আনন্দ দেয়।’

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের সঙ্গে আপাতত শেষ হয়ে গেল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মজাচ্ছলে বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

    পরীমনিছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    পরীমনির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। কথা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ, এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা—দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরও দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা।’

    এদিকে বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন পরীমনি। দলের প্রতিটি জয় উদ্‌যাপন করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও বানিয়েছেন, কখনো আবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন পোস্টে।

    চিত্রনায়িকা পরীমনির বিয়ের ঘোষণা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় আসে গত বুধবার দিবাগত রাতে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক লাখ প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

    পরীমনিফেসবুক থেকে

    ফাইনালের আগে সেই পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন পরীমনি। গতকাল রোববার দুপুরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’

    শুধু তা–ই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’

    তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়নি, তেমনি আপাতত সত্য হচ্ছে না পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণাও। তাই ফাইনাল শেষে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই যেন ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা-ভক্তের আক্ষেপ—‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

  • ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোন স্টেডিয়ামে হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও ক্যাম্প ন্যুর পাশাপাশি এখন জোরালোভাবে উঠে এসেছে মরক্কোর নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান স্টেডিয়ামের নাম। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে শুরু থেকেই ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। তবে মরক্কো নতুন করে সমীকরণ বদলে দিতে চাইছে নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান স্টেডিয়ামকে সামনে রেখে।

    মরক্কোর এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে বেনসলিমানেতে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির সরকার জানায়, স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ট্যাঙ্গিয়ার, কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, আগাদির, মারাকেশ ও ফেজের স্টেডিয়ামগুলোকে ফিফার মানে উন্নীত করতে ৬০০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ হবে।

    বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। চলতি বছরের জুনে তিনি আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন। ফিফার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আপত্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, যা ফিফার জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

    তবে নেপথ্যে একটি সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, আর একটি সেমিফাইনাল হতে পারে মরক্কোর হাসান স্টেডিয়ামে। এর বিনিময়ে ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে মরক্কো। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।

    অন্যদিকে, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ করে দিতে জোরালো লবিং চলছে। একই সঙ্গে স্পেনের পক্ষ থেকে ফাইনালের আয়োজক হওয়ার দাবিতে এখন পর্যন্ত তেমন শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় ফিফাও বিস্মিত বলে আলোচনা রয়েছে।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে মরক্কো। স্টেডিয়াম উন্নয়নেই দেশটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করে মরক্কো, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

    স্পেনও অবশ্য পিছিয়ে নেই। ২০২৩ সালে মোটা টাকা খরচ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে রিয়াল। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৮৪ হাজার। অন্যদিকে সংস্কার শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন।

    এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কা দাবি করেছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই হবে এবং এ বিষয়ে পর্তুগাল ও মরক্কোরও সম্মতি রয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্পেনে হবে, নাকি মরক্কোর নতুন সুপারস্টেডিয়ামে—সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতেই হবে।

  • আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লিওনেল মেসিরা যেন পায়ে কোনো বলই পাননি! আর্জেন্টিনার এমন হারে মন ভেঙেছে লাখও সমর্থকের।

    এদিকে, প্রিয় দল হারতেই সব দোষ বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাসের কাঁধে চাপালেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

    ফাইনালের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই টালিউড তারকা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি, মেসি ভক্ত হতে পারি, তবে আজকে ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের ওয়ার্ল্ডকাপে দেখা হবে। তখন না হয় কথা হবে।’

    এরপর রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছে যে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির না দেখা হত, তাহলে রেজাল্ট অন্যরকম হত। দুঃখ পেয়েছি, কী আর করা যাবে!’

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় পা রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। সেসময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া চরম অব্যবস্থা এবং ভিআইপি সংস্কৃতির তাণ্ডব এখনও স্থানীয়দের স্মৃতিতে দগদগে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ভক্তরা প্রিয় তারকাকে ভালো করে দেখতে পাননি বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন সেই অব্যবস্থার কারণে।

    এরপর অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ ও সামনের দিকে থাকা দর্শকদের দিকে বোতল ছোঁড়া হয়। গ্রেপ্তার হন ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। যদিও লিওনেল মেসির আবারও কলকাতা সফরের গুঞ্জন রয়েছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের কার্যক্রম কতটুকু এগোচ্ছে তা জানতে বৈঠকে করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সরকার গঠনের পর তারেক রহমান তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন।

    বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. রাশেদ খাঁন। গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সোমবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রজ্ঞাপন যোগ করে এক পোস্টে রাশেদ খাঁন নিজেই জানিয়েছেন।

    নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাশেদ খাঁন। দায়িত্ব সঠিকভাবে যাতে পালন করতে পারেন সে জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

    ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এরপর ঝিনাইদহ–৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি।

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরবার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। তাই তাকে বেসামরিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সেনা আইনের আওতায় বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর ও তার অন্য সহযোগীদের যে বিচার, সেটা তখনকার সময়ে সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে। তিনি পলাতক ছিলেন, দীর্ঘ দিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    যশোরের শার্শায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক যুবক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাহিদ ইসলাম (৩৫) যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে ও উষা রহমান (৩০) বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রুদ্রপুর-গোগাগামী পাকা সড়কের সালামের মোড় নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষা নিহত হন। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদ ও উষার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ‘স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

  • বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    ফিফা বিশ্বকাপ মানে শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি। গতকাল শেষ হওয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

    বিশ্বকাপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার সমান। তবে এই ক্ষতির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সইতে হয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে। দেশটিতে কেবল উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মাধ্যমেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

    গত ৬ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন দেশটির অফিসগুলোতে হঠাৎ করেই কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে যায়। অফিসে এই অনুপস্থিতির হার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘সুপার বোল’ ফাইনালের পরের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। ওইদিন করপোরেট দুনিয়ায় ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যা কমে যায় প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অস্বাভাবিক এই কর্মদিবসটির নাম দেওয়া হয় ‘নকআউট টিউসডে’। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোর দিনেই অফিস পাড়ায় এই অনুপস্থিতি ছিল সবচেয়ে প্রকট। বিশ্বকাপের এই কর্মঘণ্টা ক্ষতি ও অতিরিক্ত যানজট এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপির মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ করে দেয়।

    এদিকে, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালের পরদিনও যুক্তরাষ্ট্রের অফিসগুলোতে উপস্থিতি ১.৮৭ শতাংশ কম ছিল। ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া বা বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে আলোচিত ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে একই ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ যেভাবে মার্কিন অর্থনীতি ও করপোরেট উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলেছে, তা সাম্প্রতিককালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

  • মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজার আগে গ্যালারির প্রতিটি চোখ একবার হলেও খুঁজে নেবে একটা মুখ। সেটি আর কেউ নন। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে দাঁড়ানো এই মানুষটার জন্য রাতটা যেন এক দীর্ঘ জীবনের বৃত্ত পূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত।


    ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে উনিশ বছরের এক কিশোর হয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে চোখের জলে ভাসিয়েছিলেন গোটা আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও গল্পের পূর্ণতা দিতে পারেননি। ২০২২ কাতারে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। হাতে তুলেছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি। যা ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ আক্ষেপ। ২০২৬ সালে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে বসে গেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হাতে গোনা কজনের একজন মেসি। তবে রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মেসি মুখ ফুটে বলেননি এখনো। কিন্তু এই বয়স, এই শরীর নিয়ে চার বছর পর আবার একই মঞ্চে ফেরা কতটা সম্ভবÑউত্তরটা সবাই জানেন, শুধু স্বীকার করতে চান না কেউ।


    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামান্য পেশির চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল আর্জেন্টিনা শিবির। কোচ লিওনেল স্কালোনি খোলাখুলি কিছু না বললেও, পুরো আসরে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে মেসিকে খেলাতে হয়েছে তাকে। তারপরও মাঠে যা দেখিয়েছেন তিনি, তা রূপকথার কাছাকাছি। এই বিশ্বকাপে করেছেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। শরীর হয়তো আর আগের মতো নেই, কিন্তু চোখ আর পায়ের জাদু এখনো অটুট। এই বৈপরীত্যই যেন মেসির শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক।


    আটবার ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। যা আজও কেউ ছুঁতে পারেননি। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে জিতেছেন প্রায় সবকিছু। তবু দীর্ঘদিন সমালোচকরা বলতেন, বিশ্বকাপ ছাড়া তার কীর্তি অসম্পূর্ণ। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেই অপবাদ ঘুচিয়েছিলেন তিনি। আজ যদি আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে, তাহলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের টানা দুই শিরোপার পর ৬৪ বছরে এই কীর্তি গড়া প্রথম দল হবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হবেন মেসি নিজেই। ২০১৪ সালে মারাকানায় ফাইনাল হেরে ট্রফির মঞ্চে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা মেসির সেই ছবি আজও ভাসে আর্জেন্টাইনদের চোখে। বছরের পর বছর সেই ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সেই মানুষটাই আজ ঊনচল্লিশ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আছেন ফাইনালের মঞ্চে। হয়তো শেষবারের মতো। প্রতিটি ম্যাচ এখন তার কাছে যেন বাড়তি এক উপহার। বাড়তি সময়। যা পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেও কখনো নিশ্চিত ছিলেন না।


    মেসির এই দীর্ঘ পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ছোটবেলার বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা আন্তোনেলা মেসির ছায়া হয়ে ছিলেন সবসময়। ক্লাব ফুটবল হোক বা বিশ্বকাপ-গ্যালারিতে থেকেছেন তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে। ২০২২ সালে কাতারে ট্রফি হাতে মেসির উদযাপনের সেই আইকনিক দৃশ্যে পরিবারের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে আছে। আজ রাতেও, ফলাফল যাই হোক না কেন, গ্যালারির সেই চেনা মুখগুলোই হয়তো সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করবে সময়ের এই বাঁকবদল।
    আর্জেন্টিনার রাস্তায়, বুয়েন্সে আয়েন্সের ক্যাফেতে, রোজারিওর অলিগলিতেÑমেসির জন্মশহর জুড়ে আজ রাতের অপেক্ষা যেন নিঃশ্বাস আটকে রাখা এক উৎকণ্ঠা। আটলান্টার গ্যালারিতে থাকা এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি চান না মেসি অবসর নিন, কারণ তার খেলা দেখে মনে হয় তিনি এখনো পঁচিশ বছরের তরুণ। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ঢাকার অলিগলি থেকে গ্রামের পাড়া পর্যন্ত নীল-সাদা জার্সির উন্মাদনা প্রমাণ করে মেসি কোনো একটা দেশের সম্পত্তি নন, তিনি গোটা বিশ্ব ফুটবলের।
    দিয়েগো মারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার যে বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন মেসি, সেই তুলনার ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। পেলে-মারাডোনা-মেসি-এই ত্রয়ীর মধ্যে তার নাম উচ্চারিত হয় নির্দ্বিধায়। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতুক বা হারুক, মেসির কীর্তি ফুটবলের পাতায় খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল। তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে বসিয়ে দেবে এমন এক মুকুটÑযা তাকে চিরতরে পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে। মেটলাইফের কয়েক ঘণ্টা স্রেফ একটা ফাইনাল নয়। এটা একটা বিদায়ের প্রস্তুতি, একটা কীর্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর কোটি ভক্তের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক নামের অধ্যায়। যার হয়তো কোনো শেষ নেই।

  • বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    চলতি বছরের ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জিতেছেন আনিকা জামাল ইকবাল। এ বার তাকে দেখা যাবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। তার হাত ধরে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। প্রায় ৭৪ বছরে প্রথম বারের জন্য বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছে পাকিস্তান। জিন্নার দেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ২৪ বছর বয়সী সুন্দরী এই আনিকা জামাল ইকবাল। এর আগে যে অনিকা কোনও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি তা নয়। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতাতেও আনিকা জিতে নিয়েছেন চারটি খেতাব। তার পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং নিয়ে স্নাতোকত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন।

    রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। তিনি ‘বিউটি উইদ পার্পস’ নামের একটি প্রকল্প চালান। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীর সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। নিজের প্রকল্পের পাশাপাশি আনিকা পাকিস্তানের সামাজিক কর্মে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে কাজ করেন। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই সে সকল সংস্থাগুলিতে কাজ করা হয়। আনিকা ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জেতার পর ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে আনিকার যাওয়া এই সংস্থার জন্য একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে।

    দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথম বারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কেউ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখতে চলেছেন। যদিও ইতিহাস বলছে দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়ে দেখেনি। ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান সোনিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। তার মতে, পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি একটি অত্যন্ত ভাল সুযোগ। পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নতুন কিছু নয়।

    তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। তিনি ছোট থেকেই জানতেন যে পাকিস্তানের মতো ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশে মডেলিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। এ বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অনেকে। কিন্তু সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামে হতে চলা বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    অনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য হল, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তিনি তার প্রকল্পকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আনিকার মা-বাবা তথা পরিবারের সকলে মেয়ের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। মেয়ের এক জন সফল মডেল হওয়ার ইচ্ছায় তারা বরাবর পাশে থেকেছেন। আনিকার মা-বাবা কখনও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কিছু করার জন্য চাপ দেননি।

  • আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণে মেরে ফেলার। ওই ব্যবসায়ী ছিলেন দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। টাকা না দেওয়ায় চার দিনের মাথায় তাঁর কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির নাম।

    পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে আলোচিত নাম তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় বদলালেও বদলায়নি অপরাধের ধরন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    পরিচয় বদল, অভিযোগ একই

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ‘শুটার বাহিনী’ দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিজেও অস্ত্র রাখতেন।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানিম রেজা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাজ ছিল ঠিকাদারদের অস্ত্রের ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দরপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব শুটার বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তানিম। এরপর নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ওই পরিচয়ে মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় থেকে বাস কাউন্টার, ফুটপাত এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তানিম। কমলাপুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের শেয়ারের একটি অংশ দখলে নিয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।

    শুধু ব্যবসায়ী নন, মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তানিমের বিরুদ্ধে।

    ময়লা থেকে ইন্টারনেট, নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মতিঝিল এলাকায় ময়লা–বাণিজ্য, ফুটপাত, ফ্ল্যাট, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত ছিলেন তানিম রেজা। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তিনি নেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

    মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

    —মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, উপকমিশনার, মতিঝিল বিভাগ ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য, মতিঝিল, সবুজবাগ ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রের ব্যবসাও তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতো। এসব কর্মকাণ্ডে মতিঝিলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম আসা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাতেও কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

    শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাত ধরে অপরাধজগতে

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। জিসান দেশ ছেড়ে এখন আছেন দুবাইয়ে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক।

    জিসানের সহযোগী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তানিম সহযোগী ছিলেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখাতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তানিম রেজাদের এই সশস্ত্র তৎপরতার কারণেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় দরপত্র নিয়ন্ত্রণে নিজেদের রাখতে পেরেছিলেন।

    ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়েছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসান এবং আরেক পলাতক সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের সঙ্গে এখনো তানিম রেজার যোগাযোগ থাকার তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ভয় দেখানোর অস্ত্র ছিল ‘শুটার বাহিনী’

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাত থেকে নয়জনের একটি ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন তানিম রেজা। বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজন হলে তাঁদের দিয়ে গুলি চালানো হতো।

    তানিমকে গ্রেপ্তারের পর ইস্টার্ন কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার তানিমের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    —হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী, সহকারী কমিশনার, মতিঝিল অঞ্চল, ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান নামের দুজন। আদর ও জিতু নামের দুজন শুটার ভয় দেখাতে গুলি চালানোর কাজে অংশ নিতেন।

    লিখন, জাহিদ, আদর ও জিতুকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার তানিম রেজা ও তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশি–বিদেশি অস্ত্র ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

    ১০ লাখ টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি

    পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’–এ একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

    এরপর ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার পর তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর ১৭ জুলাই সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবুলসহ তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মানিক কাজী (৫০)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    তানিম রেজাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তানিম রেজা ওরফে বাপ্পী। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

    দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ সাত মামলা

    ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আগে থেকে আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়।

    এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৫ মে মালিবাগের সানরাইজ আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল আলম শিকদার ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, পলাতক সহযোগী, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তানিম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।

  • ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ মাঠে বসে দেখতে মরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টিকিট সংকট। পুনর্বিক্রির বাজারে একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেও কমেনি টিকিটের চাহিদা। টিওয়াসি স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্টাবহাব ও টিকিটমাস্টারের মতো পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ টিকিটের সুযোগ এরই মধ্যে প্রায় শেষ। এখন অবশিষ্ট আছে কেবল হসপিটালিটি বা ভিআইপি ক্যাটাগরির টিকিট, যার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে-বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ। টিকিট সংকটের এই চিত্র শুধু স্টেডিয়াম চত্বরেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা গেছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও।

    সেখানে অনেক সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ‘টিকিট চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য যেকোনো অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার আশায়। ফাইনালকে ঘিরে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেন-দুই দলেরই সমর্থকরা। তবে সংখ্যায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

    লিওনেল মেসিদের সমর্থনে মুহূর্তেই যেন বুয়েনস আয়ার্সে রূপ নেয় নিউইয়র্কের এই বিখ্যাত চত্বর। মজা করে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডেও একে ‘আর্জেন্টাইনস স্কয়ার’ নামে দেখানো হয়। আর্জেন্টাইনদের এই দাপুটে উপস্থিতির মধ্যেও নিজেদের মতো করে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন স্পেনের সমর্থকরাও। বৃষ্টিও বাধা হতে পারেনি দুই দলের সমর্থকদের উদযাপনে।

  • বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মঞ্চ মাতাবেন সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান।

  • সীতার চরিত্রে অভিনয় করা আশীর্বাদ: সাই পল্লবী

    সীতার চরিত্রে অভিনয় করা আশীর্বাদ: সাই পল্লবী

    বহুল প্রতীক্ষিত পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি হিসেবে ধ্যান ও প্রার্থনার আশ্রয় নিয়েছিলেন অভিনেত্রী সাই পল্লবী। তার ভাষ্য, এটি কোনো অর্জন নয়, বরং আশীর্বাদ।

    শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে চলচ্চিত্রটির ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাই পল্লবী বলেন, দেবীর চরিত্রে অভিনয় করা সহজ নয়। এ ধরনের চরিত্র পাওয়াও একজন অভিনেতার জন্য বিরল সৌভাগ্যের বিষয়।

    তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, সীতা মায়ের চরিত্রটি আমি বেছে নিয়েছি। বরং এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি আশীর্বাদধন্য। এটি এমন কোনো চরিত্র নয়, যেটিকে পরিকল্পনা করে নিজের মতো করে উপস্থাপন করা যায়।’

    প্রস্তুতির বিষয়ে সাই পল্লবী বলেন, ‘আমি ধ্যান করতাম এবং প্রার্থনা করতাম- সীতা মা, আপনি আমার মাধ্যমে অভিনয় করুন। আমার মাধ্যমে যা প্রকাশ পাবে, সেটাই যেন এই চলচ্চিত্রের জন্য আপনার ইচ্ছা হয়।’

    অভিনয়ের সময় নিজের চিন্তা ও মানসিক অবস্থাকে যতটা সম্ভব নির্মল ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

    সাই পল্লবীর বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করেছি অন্তত আমার চিন্তাগুলোকে যতটা সম্ভব পবিত্র রাখতে এবং নিরপেক্ষ থাকতে। এতে পর্দায় নিজের সেরা সংস্করণটি তুলে ধরতে পেরেছি।’

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি সাই পল্লবীর নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সীতার চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অভিনেত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

    দুই পর্বে মুক্তি পাবে ‘রামায়ণ’। প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

    চলচ্চিত্রটিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর। লক্ষ্মণের চরিত্রে রয়েছেন রবি দুবে, রাবণের ভূমিকায় কন্নড় অভিনেতা যশ এবং হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল। এ ছাড়া শূর্পণখা চরিত্রে রাকুল প্রীত সিং, কৈকেয়ীর চরিত্রে লারা দত্ত এবং মন্দোদরীর ভূমিকায় দেখা যাবে কাজল আগরওয়ালকে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    লিওনেল মেসি পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’

    তিনি লিখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্‌যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’

    বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’

    এ নিয়ে তৃতীয়বার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাকে। সেবার জার্মানির কাছে হেরে যায় তার আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপ মেসিকে হতাশ করেনি। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ বার সামনে স্পেন।

  • বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    যশোরের বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার নারানপুর কেলের কান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    আটক দুজন হলেন নারানপুর কেলের কান্দা এলাকার বাসিন্দা সালমা খাতুন (৩৮), স্বামী ফিরোজ এবং আমেনা খাতুন (৪৪), স্বামী শহীদ হোসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মাদক মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭১ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় বাবা আকাশ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি দোকান থেকে র‌্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। এরও আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর আকাশকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    ওই দিন বিকেলে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলে। পরে মায়ের গলা টিপে ধরে নির্জনা। তখন বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি গিয়ে নির্জনার মাথায় লাগে বলে সূত্রটি জানায়। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তাঁরা।

    এরপর লাশ গুম করার জন্য বাবা কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহটি দোতলা থেকে নিচে নামানো হয়। কয়েকবার মোটরসাইকেলে মরদেহ তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা তুলতে সক্ষম হন তারা।

    পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন আকাশ। কোথায় মরদেহ ফেলা হবে, তা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে রক্ত মুছে ফেলেন তাঁরা। রাতে উভয়েই কান্নাকাটি করেন এবং সকালে পালিয়ে যান।

    খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রথমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হয়। পরদিন বিকেলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    ওসি আরও বলেন, মা-বাবাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমদিকে মেয়ে হত্যার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক চারজনকে সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (৩০), হিজলগাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম খালিদ (২৭), আমিনুল হক ওরফে আজাহার (২৪) এবং বলদিয়া গ্রামের শিপন আলী (২৩)।

    আদালত সাজ্জাদ হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ইব্রাহিম খালিদ, আমিনুল হক ওরফে আজাহার ও শিপন আলীকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আকুন্দবাড়িয়া ও হিজলগাড়ি গ্রামে স্থানীয়রা মাদক সেবনের সময় ওই চারজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    রোববার বিকেলে আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ২৯(ক) উপধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    মাঠের খেলায় শেষ পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাস টিকে না। কিন্তু তারপরও শক্তিমত্তার হিসাব-নিকাশ থেকে কৌশল ও পারফরম্যান্সের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরেছে, যেগুলো আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

    পজিশনগুলোর দ্বৈরথ
    স্পেনের ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে অন্যতম প্রধান দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। চোটের কারণে আসরের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে ইয়ামাল চেনা ছন্দে ফিরছেন। তাঁকে সামলাতে বেগ পেতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মাঠের অপর প্রান্তে লিওনেল মেসিকে সামলাবেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সি। মার্কারদের (পাহারা দেওয়া ডিফেন্ডার) চোখ ফাঁকি দিতে মেসি প্রায়ই মাঠের একটু নিচে নেমে যান। চলতি আসরেও সে প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে লাপোর্তে ও কুবার্সির জন্য মেসিকে সামলোর কাজ বেশ কঠিন।

    এছাড়া, স্পেনের হয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার দুই মারকুটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের।

    শৈলীর লড়াই
    এবারের ফাইনালে ফুটবলের দুটি বিপরীতমুখী দর্শনের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্পেন, বলের ওপর তাদের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছে। তারা বল নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে যেমন কোণঠাসা করে ফেলে, তেমনি মাঠের ওপরের দিকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য ‘কাউন্টার প্রেস’ ব্যবহার করে।

    এই কৌশলের সফল প্রয়োগ দেখা গেছে সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এম্বাপে গোল করার তেমন কোনো সুযোগই পাননি।

    বিপরীতে, আর্জেন্টিনা এই আসরে টিকে আছে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সরাসরি আক্রমণের (ডিরেক্ট ফুটবল) ওপর ভর করে। আসরে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তারা যেমন বেশি গোল করেছে, তেমনি হজমও করেছে সাতটি।

    ফাইনালে ওঠার পথে আলবিসেলেস্তেরা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো দুটি মহাকাব্যিক ম্যাচ খেলেছে। দুইবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। যা দেখায়, প্রচণ্ড চাপের মুখে যেকোনো উপায়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী।

    মেসির জাদু
    সবশেষ কয়েকটি ম্যাচে লিওনেল মেসির ভূমিকায় একটু পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি নিজে গোল না করে আক্রমণ তৈরি করার দিকে মনোযোগী ছিলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা দুটি গোলেই তিনি অবদান রেখেছেন। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি আক্রমণ শুরু করায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো- কীভাবে মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা এবং খেলার মতো জায়গা (স্পেস) দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়?

    একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ ও দ্রুত প্রেসিংয়ের কৌশলটি মেসিকে আটকানোর জন্য বেশ উপযোগী। এই কৌশলের মাধ্যমে যেসব পকেটে (মাঠের ফাঁকা জায়গা) মেসি চেনা ছন্দে খেলেন, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন যেভাবে খেলেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পারলে, কোনো ক্ষতি করার আগেই মেসিকে বলের জোগান থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা হয়তো স্পেনের এই প্রেসিংকে মাঠের আরও ওপরের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর লক্ষ্য থাকবে স্পেনের ডিফেন্সের পেছনে ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করা।

    মাঝমাঠের লড়াই
    আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে এনজো ফার্নান্দেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে। সেই ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব বর্তাবে স্পেনের ব্যালন ডি’অর (২০২৪) জয়ী রদ্রির ওপর। পুরো টুর্নামেন্টে স্প্যানিশদের মাত্র একটি গোল খাওয়ার পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা। এক্ষেত্রে বল দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে রদ্রি সাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের শেষ প্রান্তে (ফাইনাল থার্ড) বল ছাড়া মুভমেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এনজো ফার্নান্দেস। বিশেষ করে মেসি যে ফাঁকা জায়গাগুলো (পকেট) তৈরি করে যান, তিনি সেগুলোতে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল শট নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেন। তাদের এই তৎপরতা ডি পল ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের রক্ষণাত্মক শক্তির সঙ্গে দারুণ এক ভারসাম্য তৈরি করে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের এই শারীরিক শক্তি ও আগ্রাসী রূপের বিপরীতে দেখা যাবে স্পেনের রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিখুঁত টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের মুহূর্ত
    এবারের ফাইনাল ম্যাচটি স্কোরলাইনের চেয়েও গভীর এক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া শৈশবের একটি ছবি দুই খেলোয়াড়কে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।

    স্পেন যদি এই ম্যাচে জয় পায়, তবে সেটি ফুটবলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে। যেখানে মেসির পর ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী প্রধান তারকা হিসেবে ইয়ামালের অভিষেক ঘটবে।

    তাই, দ্বিতীয়বারের মতো স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে, ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ফলাফলের জন্য নয় বরং প্রজন্মের ব্যাটন হস্তান্তরের ইতিহাস হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    খেলাধুলার জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর বলা যায় ফুটবলকে। আর এই খেলাটির সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চস্থ হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শিরোপার লড়াইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠা স্পেন।

    বাংলাদেশে ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত। বিশেষ করে ফাইনালে দর্শকদের বড় একটি অংশ পাশে থাকবে আকাশী-নীলদের। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটের তারকারাও খেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাইনালে চোখ রাখছেন। পাশাপাশি বিসিবির পরিচালকরাও সমর্থন দিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের দলকে।

    বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপ পর্বে করা নিজের সবকটি প্রেডিকশনই ঠিকঠাক দিয়ে রীতিমতো সফল ‘জ্যোতিষী’ বনে গেছেন শান্ত। তবে ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রেডিকশন দিতে নারাজ তিনি।

    নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কষ্টার্জিতভাবে জিতেছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে শান্ত বলেন, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা আইসিইউতে ছিলাম, অপেক্ষায় ছিলাম ম্যাজিক হবে কি না। আলহামদুলিল্লাহ হয়েছে। খেলা দেখে যেরকম টেনশন কাজ করে, চাই না এই টেনশন ফাইনালেও তারা দিক।

    ফাইনালের ফলাফল নিয়ে কৌশলী শান্ত বলেন, আমরা প্রায় প্রতি ম্যাচে খেলছি ৭০ মিনিটের পর গিয়ে! এ কারণে একটু ডিফেন্সিভ উত্তর দেওয়াই ভালো! তবে তার আশা আর্জেন্টিনাই জিতবে। তিনি বলেন, ফাইনালের প্রেডিকশন করব না। দুই দলই খুব ভালো দল। আর্জেন্টিনার ফ্যান হিসেবে এগিয়ে রাখলাম আর্জেন্টিনাকে। আর প্রেডিকশন করায়েন না! ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আর্জেন্টিনা জিতবে।

    গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রেডিকশন স্কোরসহ হুবহু মিলে যাওয়া নিয়ে শান্ত জানালেন, ক্যাজুয়েলি বলে দিয়েছিলাম। সেভাবে চিন্তা করিনি। তবে আর্জেন্টিনা যেমন দল ছিল, যাদের সঙ্গে খেলা ছিল, জেতা উচিৎ ছিল। ঐ ধারণা করেই করা। ওরকম সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করে করেছি তা নয়। এরপর অনেক ফোন এসেছে, ম্যাসেজ এসেছে। বিশেষ করে যারা ব্রাজিলের সমর্থক তারা অনেক জানার চেষ্টা করেছে। এটা শুধু ফান ছিল, ক্যাজুয়েলি বলে দেওয়া।

    আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসিকে নিয়ে শান্ত বলেন, যতদিন ধরে ওর খেলা দেখছি সবসময় উপভোগ করেছি। কাপ পেলে আরও ভালো লাগবে। জানি না ও আরও খেলবে কি না। তবে যতদিন খেলা দেখেছি খুবই উপভোগ করেছি। ও যথেষ্ট অর্জন করেছে।

  • ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    নিউইয়র্কের ফাইনাল সামনে রেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন নিজের মতো করে। টনি ক্রুসও করলেন। ভাইয়ের পডকাস্টে জার্মানির এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তার বাজি স্পেনের পক্ষে।

    নিজের ভাবনার পেছনের কারণও খোলাসা করেছেন ক্রুস। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে তিনি জার্মানির চেয়ে ভালো মনে করেন না। যদিও জার্মানি এবারের আসরের নকআউট পর্বের শুরুতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে।

    শঙ্কার নানা বাঁক পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনালে উঠে আসার নেপথ্যে লিওনেল মেসির ভূমিকা দেখছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তিনি ভেবেছিলেন কাতার বিশ্বকাপই শেষ মেসির।

    অনেকের মতো ক্রুসের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে ছুটছেন তিনি দুর্বার গতিতে। তবে, মেসির প্রশংসার পঞ্চমুখ হলেও ক্রুস ফাইনালে আর্জেন্টিনার তেমন কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না।

    ক্রুস বলেন, যদি স্পেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, ভুলে যাও, আরও তিন-চার গোল করবে। আর্জেন্টিনা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে না। আর্জেন্টিনা জার্মানির চেয়ে ভালো দল নয়, কিন্তু তাদের মানসিকতা অবিশ্বাস্য।

    টনি ক্রুস আরও বলেন, তাদেরকে ফাইনালে নিয়ে এসেছে মেসি। আমার উপলব্ধি, মেসির বুদ্ধিমত্তা বেড়েই চলেছে। আমি ভেবেছিলাম, ২০২২ বিশ্বকাপই তার শেষ।

    নিউইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।