শিরোনাম

  • লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

    খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

    কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাগ জৈন। তবে এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পরাগ জৈন ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

    বাংলাদেশে আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ও সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম নিয়ামুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুরের জামালের ভাঙা ব্রিজের ওপর অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রবিউল আলমডাঙ্গার বক্সীপুর গ্রামের মরহুম নবীরন বেগম ও কুরবান মিস্ত্রির ছেলে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অপর এক অভিযানে হাপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মোরশেদ আলী গোকুলখালী বাজারের পশুহাটের সামনে থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ মো: শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার শরিফুল দামুড়হুদার গোপিনাথপুর খালপাড়ার মরহুম আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    এছাড়া অন্যান্য অভিযানে মাদক মামলার আসামি কোর্টপাড়ার মো: আবু জাফর বাপ্পা (৩৭) এবং মারামারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি জেহালা দায়পাড়ার মো: ইব্রাহিম হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    একই সময়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামি কুমারী মাস্টারপাড়ার মো: শাকের আলী, নতিডাঙ্গার মো: আমিরুল ইসলাম, আনন্দধামের মো: রনি মালিথা (২১) এবং একই এলাকার পরেশ কুমার দাশকে গ্রেফতার করা হয়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৭ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য উইনসেরেক্স কফ সিরাপ (ফেনসিডিল)সহ মো. সুজন মোড়ল (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের মো. আওয়ালের বাড়ির গেটের সামনে পাকা সড়ক থেকে সুজন মোড়লকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শফি মোড়লের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সবুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে ৯৭ বোতল উইনসেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯ হাজার ৭০০ মিলিলিটার সিরাপ ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ছাড়া সুজনের পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচড় থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ফোনটি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হতো।

    উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ সুজনকে থানায় নিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়েছে। তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় সূত্রে করা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

    ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্রয়লার মুরগির খামারি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

    সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ খামারে অবস্থানকালে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাড়ির পাশের নিজের ব্রয়লার মুরগির খামারে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে এবং আশপাশে কেউ আছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করেন।

    বার্তায় রাজাবুল জানান, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং খামারের আশপাশে লোকজনের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তার স্ত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ওই সময় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

    সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। পরে তিনি দ্রুত খামারে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজাবুলের সন্ধান পাননি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রাজাবুলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    বাবা-মায়ের আদরের ‘লাল মিয়া’ই এস এম সুলতান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।

    অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এসএম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

    চিত্রা নদীর পাড়ের ‘লাল মিয়া’র রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছেন তারা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণি।

    বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তার বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ অনুষ্ঠানের এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    এদিকে, সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।

  • কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। কুষ্টিয়া ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ নাকাল।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    বাংলাদেশের বৃহত্তম চালকল কুষ্টিয়া খাজানগরের ব্যবসায়িকরা বলেন, এখন আমাদের অটো রাইস মিলে ধান ভাঙা চলছে। মিলে একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ ধান সেদ্ধ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে। মানে চাল ভেঙে খুদ হয়। এ জন্য অবশ্য মিলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর যেভাবে চলছে, এতে আমাদের ব্যয় কোন পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পোল্ট্রী খামারী ও চাতাল মালিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

    একজন বিদ্যুতের কর্মকর্তা বলেন, কাগজ-কলমে সময়সূচি থাকলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। কারণ জেলাতে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়াই সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এমন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসী। এর মধ্যে অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সারাদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা যে বরাদ্দ পাচ্ছি সেই বরাদ্দে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন লোডশেডিং চলতে থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

    তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

    হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।

    প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

  • যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট।

    একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। এর আগে ২০২৪ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

    সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতার কারণেও পাসের হার কমেছে। তিনি বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।

    ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

    জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং চলতি বছর ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।

    অপরদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মাদক, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভূমি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং রাস্তাঘাটসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

    সভায় চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া জেলার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বাজার ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

    সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিম্নমানের গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে কৃষি বিভাগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দিনে কমিটির সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গিয়ে জেলার চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য নেন। পরে চার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় ও বৃক্ষরোপণ করা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

    তবে একদিনে জেলার চার উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও দামুড়হুদা উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত শুরু করে।

    জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ এবং চারা, সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতেই নিম্নমানের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান ও যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান।

    অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতা ইলাহী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।

  • শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

    সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

    সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

    এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

    ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন তিনি।

    এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।

    ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

    দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেন।

    একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।

    পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী কোল জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তার সামনে তুলে ধরেন।

    দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    মাতারবাড়ী প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশের স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের বন্দর, সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এই বৃহৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অনেকে।

    পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

  • বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও ওই ভাষাতেই কথা বলতেছে’, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    আজ রোববার বেলা দেড়টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’–এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি চা–ঘর হস্তান্তর করা হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, এরাও ওই করতে দেব না, চলতে দেব না…ভাষাতেই কথা বলতেছে।’ এই সরকারের বয়স যে মাত্র চার–পাঁচ মাস এবং এই সময়ে যে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে, সেই কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

    গ্যাস–সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যে বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি কূপ খনন করে, সেটাকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে, সেগুলো আসতেছে।’

    জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে এবং সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে পেমেন্ট করতে গিয়ে। তারপরও কেউ তেল ছাড়া, গ্যাস ছাড়া এক দিনও থাকেনি। কমেছে, তবে পাওয়া তো যাচ্ছে।’

    রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন যে তিনি এই রংপুর বিভাগ, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। যার ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, কাজ পাব, বেকার থাকব না।’ রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে, পত্রিকাগুলো এখন যা খুশি লিখতে পারে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।

  • কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের অফিসে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    আরও বক্তব্য রাখেন খোকসা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ বাঙালি ও কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের রাজী উদ্দিন আহমেদ শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অনেক তরুন শিল্পী জুলাইয়ের উপরে আবেগঘন সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

    রোববার (৯ আগষ্ট) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টা দুপুর থেকে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর একটার দিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকশ ছাত্রদল ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।

    এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপির ফ্যামিলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু জানান, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডে শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানাকে অপসারণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাতে হটাতে পেরেছি। সেখানে আপনি ( ইউএনও) কিছুই না। আপনি (ইউএনও) দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ করেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।

    এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা চলে যান।

    তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করে সংসার চালায় এখানকার ৫শত পরিবার। কিন্তু বাঁশের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ না পাওয়ায় কুটির শিল্পের কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে। তাই অনেকেই পেশা ছাড়ছে।

    জানা যায়, বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে বাঁশ চাষের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখানকার পতিত জমিতে অন্যান্য ফসল ও বাঁশ চাষের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    গত ২ দশক আগে বন সম্পদের অফিসের অধীনে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হয়। ওই সময় বাঁশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে বাঁশ ঝাড় বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বাঁশের আবাদ করা হয়।

    মৃত্তিকা বাঁশ, বরাক, মুলি, তল্লা, মাকলা, বারিয়ানা, নল, ভুদুম, রেঙ্গুন ও কালি বাঁশ বাঁশ ঝাড়গুলোতে উৎপন্ন হয়। এসব বাঁশ ও বেতের উপর নির্ভর করেই পল্লীতে কুটির শিল্প গড়ে ওঠে।

    কুষ্টিয়ার জগতিতে মীরপুর ও খোকসা এবং কুমারখালীতে আদিবাসী সম্প্রদায় বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র তৈরি করা হয়।

    কুষ্টিয়ার এসব এলাকার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের তৈরি ঝুড়ী, চালুনি, ডালা, কুলা, ফুলের টব, শোপিস, আসবাবপত্রসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিক্রি হয়।

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের অন্যতম খাত বাঁশ ও বেত শিল্প। পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারক এই শিল্প এখন নতুন করে সম্ভাবনার আলো দেখছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

    এরই অংশ হিসেবে বিসিক জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী দাসপাড়া, মিরপুর উপজেলার আবুরি দাসপাড়া, মালিহাদ দাসপাড়া এবং খন্দকবাড়িয়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ১০২ জন বাঁশ ও বেত পণ্য উৎপাদনকারী কুটির শিল্প উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়।

    বাঁশ দিয়ে কুটির শিল্পে তৈরি করা হয়- কুলা, চালনা, ডোল, খালই, পলো, চাটাই, ডালি, দোলনা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে কাঁচা ঘরবাড়ী তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলতে গেলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনেক। গ্রাম-গঞ্জ শহরে এর চাহিদা ব্যাপক। এ বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করেই কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করেই এরা সংসার চালায়। তারা বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত। মানুষ এ বাঁশ বেত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বাড়ছে বাঁশের চাহিদা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে না বাঁশের আবাদ। লাগানো হচ্ছে না বাঁশের ঝাড়। বাঁশ কেটে সাবাড় করে নষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশ।

    বাঁশের মুতাও কেটে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বাঁশ ঝাড়। চাহিদার তুলনায় বাঁশ না লাগানোর জন্য বাঁশের ঘাটতি পড়ছে প্রতি বছর। বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এ জেলায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও জনসাধারণকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত না করায় বাঁশ আবাদ বাড়ছে না। তাই ধ্বংস হতে চলেছে বাঁশ বেত শিল্প।

    কুষ্টিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্পীরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক ডিজাইন জানা না থাকায় বাজারে নতুন ধরনের পণ্য আনতে পারছি না। আমাদের যদি মাঠ পর্যায়ে বিনা ফি-তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক মানের শৌখিন ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারব।”

    “শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বা অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় অনেক সময় বড় অর্ডার পেলেও কাজ করা সম্ভব হয় না। সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং তরুণ প্রজন্মও এই শিল্পে আগ্রহী হবে।”

    এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক নকশা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই খাত শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিসিকের লক্ষ্য কুটির শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।”

    জেলা বন বিভাগের অধীনে বাঁশ লাগানো কর্মসূচী নিয়ে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জেলার পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করাতে সক্ষম হয় তাহলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় বাঁশের আবাদ বাড়বে। উৎপাদিত বাঁশ জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠাতে পারবে এবং বাঁশ ভিত্তিক প্রচুর শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

  • যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জাগ্রত করতে যশোরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ ‘বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার ( ৯আগস্ট) বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহমেদ।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কালচারাল শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর শাখার নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল আহমেদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয় বরং নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতোমধ্যে যশোরে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক উদ্যোগ অভিভাবক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।

    আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

  • ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী লরি-বালুবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুরা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের রিপন মিয়া (২৭) ও পশ্চিম মাধবপুর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের (৫০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে বেজুরা সেতুর ওপর একটি তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকটি পাশের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা রিপন মিয়া ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী আবুল খায়ের ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    মাধবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক মিয়া জানান, তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। জেলার আটটি উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১ হাজার ৩০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৬৯১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬১৫টি পদ খালি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সর্বশেষ উপজেলা ভিত্তিক শূন্যপদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৯টি। বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় সংকট দিন দিন তীব্রতা ধারণ করছে।

    উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে ২৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক । যশোর সদরে ২৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৬টি, শার্শায় ১২৫টির মধ্যে ৮২টি, চৌগাছায় ১৩৯টির মধ্যে ৭৬টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টির মধ্যে ৭২টি, অভয়নগরে ১১৭টির মধ্যে ৭০টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টির মধ্যে ৬১টি এবং কেশবপুরে ১৩৮টির মধ্যে ৩৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

    প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের সংকটও উদ্বেগজনক। প্রাক-প্রাথমিকসহ সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত মোট পদ ৭ হাজার ৯১১টি হলেও বর্তমানে ৬১৫টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরে ১৫৪টি, যশোর সদরে ১০৭টি, কেশবপুরে ৭৪টি, শার্শায় ৭২টি, অভয়নগরে ৫৬টি, বাঘারপাড়ায় ৫৫টি, চৌগাছায় ৫৪টি এবং ঝিকরগাছায় ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছে। ফলে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিরামপুর উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অফিসের সব প্রশাসনিক দায়িত্ব আমাদেরই সামলাতে হয়ে। একই সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে নয়ে।

    সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মাস্টার আনিসুর রহমান বলেন, যশোর সদর উপজেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১৪টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ১৩৬টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, আর প্রায় ৫০টিতে চলতি দায়িত্বে দায়িত্ব পালন করছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই শিক্ষা ও প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা না হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলাজনিত জটিলতা এবং নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।

  • যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে স্বামীর মৃত্যু হয়।

    নিহতরা হলেন যশোর চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)। বর্তমানে নিহত আব্দুর রশিদ চৌগাছা পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত আব্দুর রশিদ দীর্ঘ

    দিন যাবৎ প্রবাসী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রশিদ রোববার সকালে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর শহরের দিকে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

    এরপর স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

    স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা আর হলো না। দুর্ঘটনাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মাছুম খান।

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি, তবে তার উপস্থিতি যেন অনুভব করল পুরো স্টেডিয়াম। গোল করে জার্সি খুলতেই রদ্রিগো ডি পলের গায়ে দেখা গেল মেসির ১০ নম্বরের জার্সি। শোকাহত অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থনের এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

    ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি (৬৮)। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানায় মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

    মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল। গ্যালারিতেও মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন মায়ামির সমর্থকেরা। সেসব বার্তায় লেখা ছিল, ‘শক্ত থাকো, লিও।’ এরপর ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানান ডি পল। পেনাল্টি বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরালো শটে মন্তেরের গোলরক্ষক লুইস কার্দেনাসকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

    গোলের পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন ডি পল। আর তখনই তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বরের প্রতীক। মেসির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে পরিচিত ডি পলের এই উদযাপনকে শোকাহত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতার কারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেই সময় তার পাশে ছিলেন ডি পল। এবার ক্লাব ফুটবলেও বন্ধুর সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবেগঘন এই শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। তবে ডি পলের গোল শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্তেরে। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দিয়েগো রসি গোল করলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান ক্লাবটি।

  • দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় জেরার মুখোমুখি হতে আদালতে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়েন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে না পারায় রোববার তার জেরা হয়নি। আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    পরে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমণি। এ সময় মামলার শুনানির তারিখগুলোকে নিজের জন্য ‘মেন্টাল টর্চার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পরীমণি বলেন, ‘যার সঙ্গে ঘটে, সেই আসলে জানে কিসের মধ্য দিয়ে যায়। এই ডেটগুলো পড়লে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যাই। আবার সেই ঘটনাগুলো আমাকে রিকল করে। এগুলো আমার জন্য এক ধরনের মেন্টাল টর্চার।’

    মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচটা বছর হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেরা শেষ হোক, একটা সুরাহা হোক। একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, খুব তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যাক।’

    নিজের মানসিক চাপের কথা জানিয়ে পরীমণি আরও বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের সময় দেওয়া, সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতের এই মানসিক চাপ নিতে হয়। আমি আর এই হ্যাসেলটা নিতে চাই না।’

    পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, যানজটের কারণে দুপুর ১২টায় আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে জেরা হয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা জামিনে রয়েছেন। এদিন নাসির ও অমি আদালতে হাজিরা দিলেও শহীদুল আলম সময়ের আবেদন করেন।

    ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে ওই বছরের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার বিচার চলছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রুদ্ধদ্বার কক্ষে।

    ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন পরীমণি। তবে এখনো তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থেকে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    তিনি জানান, তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

    সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়েই জোর আলোচনা চলছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোরারো আলোচনায় থাকা বাকি তিন জন হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের প্রথম দুজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরের জন স্পীকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এই চারজনই বিএনপিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

    নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল, ড. মোশাররফ, ড. মঈন ও হাফিজ উদ্দিন নিজ নিজ গুণে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। শুধু দলের গণ্ডির মধ্যেই সমাদৃত নন; বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, সদাচার, মার্জিত আচরণ, অহিংস, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্রসেনানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তাদের আলাদা কদর আছে।

    বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়ে চলছে মূল্যায়নও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন দলটির নেতারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসাবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে। দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময় তার অবদান অনস্বীকার্র্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

    রাজনীতির বাইরেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসাবেও নেতৃত্ব দেন।

    ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলের প্রবীণ নেতা হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা থাকার কারণে তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক থেকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ও আন্দোলনে তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সর্বস্তরে প্রশংসিত। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি।

    একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসাবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অত্যন্ত পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

    তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। নানা প্রোপাগান্ডায় এক-এগারোর আগে ও পরে বিএনপি কিছুটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসাবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসাবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

    ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলাওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

    ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। হাসিনা সরকার দল ভাঙতে মির্জা ফখরুলকে চাপের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভনও দিয়েছেন বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। কিন্তু তাকে টলাতে পারেননি। অনেকের মতে, নির্লোভ ফখরুল দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় দেশে দল ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    এ দুজনের বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায় বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন।

    ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

    বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার হিসাবে তার নামও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মময় জীবন যেন সাফল্যের এক বিশাল ক্যানভাস। তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী।

    ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সর্বশেষ তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও শেষ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন, পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে সংসদের স্পিকার হিসাবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা যেন দেশে এবং বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন-এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত হবে। এখানে বিএনপিকেই চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির যে চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়েরও একটা সহযোগিতা তারেক রহমানের লাগবে। তাছাড়া যিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা সবারই অবদান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। তাদের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাদীক্ষা-সবদিক থেকেই ভিন্ন। তাই ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, যোগ্য, উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে। আমি যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে তাদের মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে একজনের নাম রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করবেন।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে ডন হককে আটক করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পূর্বের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক সংস্থার তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে এ সিদ্ধান্ত তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও কার্যকর তদন্তের অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে রয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মামলার অগ্রগতি এবং ডন হকের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য।

  • বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আমিন।

    শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা চেকপোস্টের চলমান কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।

    পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন ও নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন।

    ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নুরুল আমিন বলেন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ স্থল প্রবেশদ্বার। এখান দিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি যাত্রী হয়রানি বন্ধ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

    এসবি প্রধান আরও বলেন, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

    পরিদর্শন শেষে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এসবি প্রধান নুরুল আমিন।

    এ সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠককালে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    তারা হলো মো: মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), মো: নান্নু মিয়া (৩৮), মো: আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও মো: ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।

    আজ শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসান তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার গুলশান থানাধীন গুলশান-১, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমলের পঞ্চমতলার ফুড কোর্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের জন্য সভা করছিলেন।

    তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

    শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আপনারা কেউ জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে থাকতে পারছে।’

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল; সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! নায়িকা বললেন ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল

    শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! নায়িকা বললেন ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল

    কিছুদিন আগের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে এবার চটলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ নামের একজন দাবি করেন তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন, এমনকি তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। শাবনূরের মতে, প্রেম–বিয়ে নিয়ে এসব তথ্য বানোয়াট। এমনকি মজা করে শাবনূর লিখেছেন, ‘তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসরই” হয়েছিল।’ ঘটনা কী, কেন চটেছেন শাবনূর?

    শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক আইডিতে তাঁর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘অতি সম্প্রতি আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে নাকি কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসত যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে “সময় টিভি”কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স গার্লফ্রেন্ড ছিলাম।’

    তবে ঘটনা শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। এসব ঘটনায় বেশ হতভম্ব হয়েছেন এই নায়িকা। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়েছে, রিজভীর সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছে। এ নিয়ে এই নায়িকা লিখেছেন, ‘সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে!’

    এ তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয় উল্লেখ করেন এই নায়িকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। অন্যদিকে আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই–বা কী? আরও মজার বিষয়, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগে থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর”-ই হয়েছিল!’

    এই অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্টে ভক্তরা মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তাঁর পাশে রয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘সত্যটা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।’ কেউ লিখছেন, ‘সত্য চাপা থাকে না।’ তবে শাবনূরকে ঘিরে অভিযোগ শুধু প্রেম–বিয়েতেই থেমে থাকেনি। সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেলের মতো প্রসঙ্গও রয়েছে।

    এ নিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম এবং তাঁর আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম?’
    শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামি করতাম বা সালমান ও তাঁর স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামি করেছি।’

    শাবনূর লিখেছেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম এই রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরীকে (বিল্টু) অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়।’

    শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে সে দাবি করেছে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তা–ই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি সে প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে।’

  • ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রতি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী।

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক রাখব। আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা আছে, এটিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা, সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয় আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

    তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে, হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আমাদের বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলেছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

  • চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।

    চাকরির নিয়োগপত্র প্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো: সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো: শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো: আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো: মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো: জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত মো: আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো: জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা: আরজু আক্তার।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

    অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

    শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন। একাধিক আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম গোলডটকম।

    আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবায়ে এবং রোসারিও৩ নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

    গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ম্যাচের পর নিজের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কয়েকটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এরপর মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গুজব ও জল্পনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসি ও তার স্বজনদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে এবার এখনও মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

    ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হোর্হে মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ তৈরি করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে মেসি।

  • জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    চৌগাছা (যশোর)

    শতশত ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে মুক্তির জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ আন্দোলন করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ চৌগাছা উপজেলার স্বর্পরাজপুর আরিফা সুলতানা মহিলা মাদ্রাসার সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন এদেশে এগিয়ে নিতে একদল সৎ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। সভায় আরো বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম, ড. মাহবুবুর রহমান, ম্ওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা রওশন জামিল প্রমুখ।

  • অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যত নিয়ে চলছে তুমুল গুঞ্জন। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এই তারকা ফুটবলার। তবে আতলেতিকো তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে নারাজ। এই টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্লাবের কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সফার জটিলতা ও আলভারেজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমিওনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। ক্লাবের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা মিগেল অ্যাঞ্জেল খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, হুলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ক্রমাগত আরও উন্নতি করতে পারে এবং আরও বড় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করব।’

    আলভারেজের বর্তমান দলবদল পরিস্থিতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা অঁতোয়ান গ্রিজমানের দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেন সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা গ্রিজমানের সঙ্গেও এমন একটি সময় পার করেছি, যখন তাকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসার পর নিজের মান এবং ফুটবলে নিজের মর্যাদা কী—তা তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছিল।’

    বার্সেলোনা এই মুহূর্তে আলভারেজকে দলে নিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোও এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকে নজর রাখছে। তবে আতলেতিকোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে প্রস্তাব ও দরকষাকষি বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

    খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিমিওনে সবশেষে মন্তব্য করেছেন, ‘সব বিষয়ই সময়ে সুরাহা হয়ে যাবে এবং সমাধান খুঁজে পাবে।’

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

  • বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যুবদলকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে চোরাই গরু রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় যুবদলকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম।

    আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান একই এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার একজনের গরু চুরি হয়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এরমধ্যে ওই এলাকায় চুরি করা গরু প্রবেশের গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে যুবদলকর্মী শরিফুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, “আমরা চাই, তিনি যেই হোক না কেনো অপরাধীর বিচার হোক। দল অপরাধী তৈরি করে না। অপরাধীরা দলে মিশে থাকে। সেক্ষেত্রে তার দায় দল বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না।”

    যুবদলের নাম ব্যবহার করে তার ছবির ব্যানার সম্পর্কে এই যুবদল নেতা বলেন, “বিভিন্নভাবে তারা নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে সেগুলো নানাভাবে ব্যবহার করে অপরাধ করেন। সবাইকে তো আর আইডেন্টিফাই করা যায় না। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর কেউ তো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

    পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরুচোর শরিফুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার দলীয় কোনো পরিচয় রয়েছে কি না জানা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরিফুলের থেকে এই চক্রে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    তিনি বলেন, “দুটি গরুর একটির মালিকের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তার থেকে মামলা নেওয়া হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় যোদ্ধা রাশেদ খান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (৭ই আগস্ট) তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    একটি সূত্র জানায় গত ৪ আগস্ট সকালে যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে রাশেদ খানের বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

    হাসপাতালে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আহত রাশেদ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে রাশেদ খানের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

    এ সময় অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে যারা সাহসিকতার সঙ্গে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধাসহ সকল অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও খোঁজখবর অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার অন্যতম সমন্বয়ক সুয়াইব হুসাইন, সরোয়ার গাজী, আবু হুরায়রা এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী।

    পরিদর্শন শেষে আহত রাশেদ খানের দ্রুত সুস্থতা, পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সবাই মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করেন।

  • বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরের বেনাপোলে চতুর্থ দিনের মতো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে পৌর বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট ও গাজীপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ব্যক্তিগত অর্থায়নে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।

    আবু তাহের বলেন, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশকে সবুজায়িত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনধারণে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ অক্সিজেন, জ্বালানি কাঠ, ফুল ও ফল দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ তৈরির উপকরণ সরবরাহ করে।

    কর্মসূচিতে বেনাপোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি নাসিরুল গনি বল্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুনাফ, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মিয়া, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দী হন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরে তাকে নির্যাতন করে মাফিয়াচক্র। আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। এরপরও দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের। আদরের সন্তানের খোঁজ না থাকায় দিশেহারা পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মোবাইলে থাকা নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা শিল্পী বেগম। আদরের সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে তা জানেন না পরিবারের সদস্যরাও। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আহাজারি। ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

    স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরাসরি তাকে ইতালি নেয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সাথে। চুক্তি মতে ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিলে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে যুবককে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা। এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

    এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

    নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।’

    প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

  • দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়, এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সাদা কে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে। আমার যদি কোন ভুল থাকে সেটাও বলতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার এসব ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও এখনও তারা স্বাধীনভাবে সেগুলো প্রচার করতে পারছেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতটা সফল হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। এ বিষয়ে আমরা বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

    বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ ভুতুড়ে বিলের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রাজনীতি হচ্ছে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান নেই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের আমাদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনও আসেনি। তারা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে। বিনিময়ে তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। পক্ষান্তরে তারা এখনও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সরকারের নিজ দায়িত্বে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ নেতা কর্মীরা যাদের নামে মামলা ও সাজা প্রাপ্ত হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

  • ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    জাতীয় দলের হয়ে ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলার আশা প্রকাশ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নেই। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘তার দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই দেশ ছাড়েন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আমিনুল হকের ভাষ্য, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অবস্থানে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে সরে গিয়ে যখন রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিয়েছেন, তখন আমার মনে হয় না তার দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

    ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সাকিবকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর সেই অবস্থান বদলেছে। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং অন্য সবাই তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। তাই তার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।

    তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের পর সাকিবের সেই বিদায়ী সিরিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

  • মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের স্বল্পমেয়াদি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।’ তবে অধিবেশনটি কবে আহ্বান করা হবে— সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

    ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

    আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তবে যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, সেক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

    এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, একটি প্রাইভেটকার ও একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি জানান।

    গ্রেফতাররা হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মরহুম আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মরহুম মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) ও আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)। তাদেরকে আদালতে সোপর্দের পর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ৪ আগস্ট সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাস (৪৮) যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে তার সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি চেম্বার পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ট্রান্সফরমারগুলোর প্রতিটিতে থাকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের তামার কয়েলসহ মোট ৩০ কেজি তামা এবং ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল চুরি হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দিন অপর সেচ ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামও তার একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও তেল চুরির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাফর জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, অন্য যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা, তেল ও অন্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও চক্রটির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।

    থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) চৌগাছা থানার এসআই আব্দুস ছাত্তার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কমলাপুর মোড় এলাকায় চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কে অভিযান চালান। এ সময় রুমেল ওরফে রুবেল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুমেল ওরফে রুবেল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার টেঙ্গুরপুর মোড় এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ মোল্যা (৩৮) ও জসিম উদ্দীন মন্ডল (৫৫) কে আটক করেন। তাদের নিকট থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ মোল্যা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী (উত্তর গড়ের আবাদ) গ্রামের লিয়াকত মোল্যার ছেলে ও জসিম উদ্দীন মন্ডল চৌগাছা উপজেলার রাজাপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত রওশন আলী মন্ডলের ছেলে।

    এদিকে চৌগাছা থানা পুলিশ উপজেলার টেঙ্গুরপুর-পুড়াপাড়া সড়কের আন্দারকোটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক আব্দুস সামাদ চৌগাছা উপজেলার পান্টিপাড়া গ্রামের মৃত হারেজ গাজীর ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংদ সদস্য ভোট দেবেন। সেখানে নৈতিক স্থলনের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচত সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়ার পর এই ভোটার তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। একই দিন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলও ঘোষণা করেন।

    গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য সংখ্যা ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন।

    এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও ভোটার তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য পদে আছেন। স্পিকারের কাছে জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কাজেই এখন পর্যন্ত যারা সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হবেন।

    সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেয়। তবে চিঠির ভিত্তিতে এখনও তাঁর এমপি পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

    ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল প্যাড জাল করে বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন।

    মামলায় বরগুনা সদরের এসি ল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা শাওন মজুমদার ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর ও সংসদ সচিবালয়ের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এই জাল নথি ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো স্থানে বদলির চেষ্টা চালান।

    নথিপত্রে দেখা যায়, বরগুনা সদর থেকে শাওন মজুমদারকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। জাল করা ওই ডিও চিঠিতে তাঁর সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করার অনুরোধ করা হয়।

    সংসদ সচিবালয় চিঠিটি পরীক্ষা করার পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সংসদ সচিবালয় থেকে এমন কোনো চিঠি কখনোই ইস্যু করা হয়নি।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া চিঠিটিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, লেখার ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের মূল অফিশিয়াল রেকর্ডের সঙ্গে মেলেনি। প্রতারণামূলকভাবে সরকারের পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়।

    মামলার বাদী এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে একটি বিস্তৃত ও গভীর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিটির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    দণ্ডবিধির অধীন জালিয়াতি, ভুয়া নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া চিঠিটির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত লেটারহেড প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। এ কারণে দলটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ‘বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই জামায়াত এ নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না।’

    রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এই যুক্তিই তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তবে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সরকারি দল বিএনপি সংসদের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় বা পরামর্শ করেনি।

    এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।

    একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি যাচাই-বাছাই শেষে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে ওই প্রার্থীকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংবিধান ও আইনের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

    বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

  • মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে আসছে।

    দলীয় রাষ্ট্রপতি মনোয়নে শীর্ষ নেতা ছাড়াও সবচেয়ে সক্রিয়া ভূমিকা রাখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। তবে এই কমিটি এবার রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে রেখেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

    দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।

    তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

    শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

    বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

    মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

    তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।

    একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।

    এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বিএনপি মনোনয়ন দেবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ (Control) নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর (Regulation) মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

    শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

    তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

    মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।

    মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা ও এই শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রর চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।

    স্বপন বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

    তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    তথ্যমন্ত্রী এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

    টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু।

  • বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে ফিরলেন ফাহমিদা নবী

    বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে ফিরলেন ফাহমিদা নবী

    ছোট একটা বিরতির পর নতুন একক গান প্রকাশ করলেন নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী। শিরোনাম ‘অভিমানের শেষে’। ‘শত মানুষের ভিড় এড়িয়ে, নির্জনতায় হারাই আমি; রংধনু রঙ গুনে গুনে, স্মৃতির ঘরে ধুলো জমে’- এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন রাজু চৌধুরী।

    সব সময় মেলেডি সুরকে প্রধান্য দিয়ে আসছেন ফাহমিদা নবী। আর সে কথা মাথায় রেখে মেলেডিকে ধরে রেখে ‘অভিমানের শেষে’ গানের সুর করেছেন এহসান রাহি। সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    আমির খসরুর তত্ত্বাবধানে ক্রিয়েটিভ গ্যালেরিয়া থেকে নির্মাণ করা হয়েছে গানের অ্যানিমেশন ভিডিও। প্রযোজনা করেছেন কৌশিক কল্লোল। সম্প্রতি শব্দ কারিগর ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    নতুন এই গান নিয়ে শিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, ‘প্রেম ও বিরহের অনুভূতিতে সাত সুরে বাঁধনে নতুনভাবে তুলে আনা হয়েছে এই গানে। গীতিকার রাজু চৌধুরী তাঁর কাব্যকথায় নান্দনিকতার ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন। এহসান রাহিও গানের সুরে মেলেডিকে প্রধান্য দিয়েছেন। সুমন কল্যাণের সংগীতায়োজনও সমায়োপযোগী। একইভাবে লিরিক্যাল ভিডিওতে আছে ভিন্নতা। সবমিলিয়ে ‘অভিমানের শেষে’ তেমনই একটি গান, যে ধরনের গানের জন্য প্রহর গুনে যান আমার ভক্তরা। আশা করছি, এ আয়োজন অনেকে মনে ছাপ ফেলবে।’

    এদিকে নতুন এই একক গান ছাড়াও আরও বেশ কিছু ভিন্ন ধাঁচের গানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফাহমিদা নবী।