রোগব্যাধি

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭০ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৫১ জন, রাজশাহী বিভাগের ৫৭ জন, সিলেট এবং রংপুর বিভাগের ১৩ জন রোগী রয়েছেন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৭১ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী।

  • হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজার ৩১ জনের শরীরে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮১৬ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯১৫ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৫০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮১। এই সময়ে ৯২৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৭৪ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৩০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ৮০৫ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার(১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ৮০ জন এবং সিলেট বিভাগে দুইজন রয়েছেন।চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৭৪৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • হামের উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী ১ হাজার ১০১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ জনের শরীরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়েছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮০৯ শিশু। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে এই পাঁচ মাসে হাম ও সমজাতীয় উপসর্গে দেশে মোট ৯০৮ শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।

    দৈনিক বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের পাশাপাশি আরও ৯৬৩ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যাপক চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। যার মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের। এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির হার এখনো বেশ উঁচুমুখী। বিশেষ করে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর এই ধারা অব্যাহত থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

  • হাম উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৯০০

    হাম উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৯০০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নানা উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে রোগটিতে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৭৯৮ শিশুর শরীরে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি, তবে আটজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮০৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। ফলে এই পাঁচ মাসে রোগটিতে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন মিলে সর্বমোট ৯০২ শিশুর মৃত্যু হলো।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে আরও ৭২৮ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে গত এক দিনে নতুন করে ৭০০ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ শিশু।অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জন শিশুকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৮০০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব মিলেছে। আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা শিশুদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যাদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা শেষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে আজ পর্যন্ত ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।

    এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি শিশু।

    রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৭৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৭৩টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৮। এই সময়ে ৯৩৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪২টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নিয়ে এসেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন; এ বয়সী মারা গেছে ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৫ সালে যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার তুলনায় বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই কম।

    ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যাতে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে না থাকে। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে

    র তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।

    পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

  • দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ‘অবশিষ্টাংশ’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন এক গবেষণায়। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এ গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু নমুনা ছিল, যেখানে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার এ সমস্যার মূল কারণ। প্রাণীর শরীরে প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করলে জবাই করার পরও মাংসে এসব ওষুধের অংশ থেকে যেতে পারে। এই অবশিষ্ট অংশ মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়। ফলে এসব অঞ্চলে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়ার ঘটনা বিরল। কিন্তু উন্নয়নশীল অঞ্চলে এর প্রকোপ কতটা, সেটা নিয়ে খুব একটা তথ্য নেই। এসব দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি নিয়ে সচেতনতাও কম।

    এই বাস্তবতা সামনে রেখে গবেষণাটি চালায় রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১-২২ সালে এসব দেশের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

    নমুনা মাংস পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড।

    মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি।

    কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

    গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

    অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, “আশা করি, এ গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।” ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮০ জন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, রংপুর বিভাগে ৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    আর চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪২৩ জন।

    রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯, ঢাকা বিভাগে ১৫৪, খুলনা বিভাগে ৮১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৯, রংপুর বিভাগে ১৬ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    লতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

    তারা বলেছেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই, সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও নেই। তবে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    দেশব্যাপী ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল হলো আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইর, ছাদ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি। তাই আমাদের উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া।

    তারা বলেন, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন- ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি ভর্তি পাত্রে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে নয়, শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

    তিনি বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে ধীরে ধীরে মুক্ত করা সম্ভব।

    ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমানে বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

    ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

  • রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার উদ্ভাবিত ক্যানসার ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ প্রথম প্রয়োগেই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন রেসপন্স) তৈরি হয়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিষেধক তৈরির নেপথ্যে থাকা আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    এ খবর দিয়েছে আরটি ইন্টারন্যাশনাল। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যক্তিগত (পার্সোনালাইজড) ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি হলো মেলানোমার (ত্বকের ক্যানসার) জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কোলরেকটাল ক্যানসারের জন্য পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

    চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। প্রতিষেধকটির কার্যকারিতা সম্পর্কে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তার শরীর ইতোমধ্যে ক্যানসারের টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয় যৌগ তৈরি করতে শুরু করেছে। চিকিৎসাসূচি অনুযায়ী তাকে আরও দুটি ডোজ প্রদান করা হবে। এ ছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ১০ জন রোগীর জন্য এই মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার জাতীয় চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রে কাপ্রিন জানান, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার চেয়ে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে রোগীর নিজস্ব টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একটি কাস্টমাইজড বা রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

    যা রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সরাসরি ক্যানসার কোষ চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরিতেও কাজ করছে।

  • ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৩ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৬৭ জন। এনিয়ে চলতি মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ২০৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১৫৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩১২ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৩ জন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৫৩ জন।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

    সরকারের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুতে যত মৃত্যু হয়েছিল, জুলাই মাসের ৩০ দিনেই সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

  • তেল, দুধ, চিনি থেকেও শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    তেল, দুধ, চিনি থেকেও শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ০৮আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৩৩মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে দুধ, চিনি এবং সয়াবিন তেলেও।

    টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা সয়াবিন তেল, দুধ ও চিনিতেও উচ্চ মাত্রায় এই উপাদানের প্রমাণ মিলেছে। গবেষণার এমন উদ্বেগজনক তথ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিকের মোড়ক এবং পরিবেশদূষণের কারণেই এসব জরুরি খাদ্যপণ্যে অনায়াসে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা।

    খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের হার

    গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, কেবল সয়াবিন তেলের মাধ্যমেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন।

    শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরো আশঙ্কাজনক। একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭ দশমিক ২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি প্লাস্টিক কণা খাদ্যের সঙ্গে পেটে পাঠাচ্ছে।

    সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তথ্যানুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেলে এর পরিমাণ প্রতি লিটারে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজার কণা। দুধেও পাওয়া গেছে এই ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি; প্রসেসড বা প্যাকেটজাত দুধের প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬.০৬টি কণা থাকলেও কাঁচা দুধে তা কিছুটা কম—প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ৯৩.৩৯টি।

    এছাড়া, চিনির ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতি কেজি খোলা চিনিতে গড়ে প্রায় ৪০৩টি এবং ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিতে গড়ে প্রায় ৩২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বিদ্যমান।

    তিন উপায়ে খাবারে মিশছে প্লাস্টিক

    গবেষকেরা খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের তিনটি প্রধান পথ চিহ্নিত করেছেন।

    ১. প্যাকেজিং ও মোড়ক

    প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও বস্তার সরাসরি সংশ্রব।

    ২. কারখানার যন্ত্রাংশ

    প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মেশিনের ঘর্ষণ, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পাইপ এবং কর্মীদের প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহারের মাধ্যমে।

    ৩. পরিবেশ দূষণ

    বাংলাদেশে প্রতিদিন তৈরি হওয়া প্রায় আট হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্যের অর্ধেকের বেশি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা হয় না। পরিবেশের মাটি, পানি ও বাতাসে থাকা এই বর্জ্য ভেঙে খাদ্যচক্রে ঢুকছে।

    গবেষণা যা বলছে

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এক গবেষণায় দুধের নমুনায় ক্ষতিকর পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬ ও পিভিসির মতো পলিমার পাওয়া গেছে।

    তিনি জানান, খামার থেকে সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে দুধ প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসছে। শিশুখাদ্যে দুধের বড় ভূমিকা থাকায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস-এ প্রকাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় সয়াবিন তেলে অকল্পনীয় মাত্রায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি উঠে এসেছে।

    গবেষণা দলের প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক এই মাত্রাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন।

    একই সাময়িকীতে প্রকাশিত ঢাকার সাত ধরনের চিনির ওপর চালানো অপর এক গবেষণায় দেখা যায়, কণাগুলোর আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। পরিবহন ও প্লাস্টিকের বস্তাই এর মূল কারণ।

    এর আগে বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই প্লাস্টিক কণা পেয়েছিলেন গবেষকরা। যার মধ্যে শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই এই উপাদান বিদ্যমান ছিল।

    মানবদেহে প্রবেশের পথ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

    আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাগুলো সরাসরি মানুষের রক্তে মিশে যেতে পারে।

    লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক স্টেফানি রাইট জানান, হিটিং বা উচ্চ তাপমাত্রা এবং গরম পানি প্লাস্টিক থেকে কণা নির্গমন ত্বরান্বিত করে। রক্তে পৌঁছানো অতি ক্ষুদ্র কণা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোষের ক্ষতি করতে পারে।

    বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের হৃদযন্ত্রের ধমনী, জয়েন্টের হাড় ও কঙ্কাল পেশি এবং মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেন জানান, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বাস্তুতন্ত্র বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার জানান, ২০২০ সালে বিশ্বে ২৭ লাখ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে মিশেছে, যা ২০ ৪০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। তিনি খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ও ট্রান্সপোর্টে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেন।

    বিএসটিআই ও সরকারের বক্তব্য

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। প্রতিষ্ঠানটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা পণ্যকে অনিরাপদ বলা ঠিক হবে না। টুথপেস্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে থাকা কণার কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং মানদণ্ড অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিষয়টিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট উল্লেখ করে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার এই জননিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এটি কেবল টুথপেস্ট বা নির্দিষ্ট পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, খাবার ও পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫৩৪ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫১২ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৮৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, রংপুর বিভাগে ২৮ ও সিলেট বিভাগে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

  • যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দরাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত মিডিয়া উইংয়েও দেওয়া হয় একটি পোস্ট।

    জামায়াত মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং তার বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইন্ধনে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে টার্গেটেড অপপ্রচার।

    মেহজাবিন জান্নাত অনন্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু নথি এই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়

  • ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    হাইকোর্টে রিট

    দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

    স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুনhttps://bdglobaltimes.com/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A7%AB-%E0%A6%B6/

    এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

    গবেষকরা জানান, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

    দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

    কোন টুথপেস্টে কী পরিমাণ

    গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

    এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

    যে আট নমুনায় পাওয়া যায়নি

    গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশভ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

    এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট।

  • ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো  অবহেলা করা যাবে না

    ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়, ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গ ও রোগের ধরনে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু বলতে অনেকেই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তীব্র জ্বরকে প্রধান লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বর নাও থাকতে পারে, এমনকি মাঝারি বা তুলনামূলক কম জ্বর নিয়েও তারা গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    * ডেঙ্গু এখন কেন ছদ্মবেশী

    ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকার কারণে রোগের প্রকৃতি বদলেছে। অনেক রোগীরই এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা শুধু জ্বর-জ্বর ভাব থাকে। ফলে রোগী ও স্বজনরা ভাবেন, ‘সামান্য জ্বর, এমনিই সেরে যাবে’। কিন্তু এ অবহেলার কারণেই ডেঙ্গু শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    * সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন

    জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। ডেঙ্গু জ্বরে ৩-৭ দিনের মাথায় জ্বর আপনাআপনি কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘Critical Phase’ বা বিপজ্জনক সময়। জ্বর কমার পরের ১-২

    দিনেই রক্তনালি থেকে প্লাজমা লিক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা শকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় রোগীকে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ভেতরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।

    * এ লক্ষণগুলো কখনো অবহেলা করবেন না

    জ্বর থাকুক বা না থাকুক, নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যান-

    ▶ বারবার বমি : দিনে ৩ বারের বেশি বমি, কিছুই পেটে রাখতে না পারা।

    ▶ তীব্র পেটব্যথা : বিশেষ করে পেটের ডানদিকে চেপে ধরার মতো ব্যথা। এটি লিভার ফুলে যাওয়ার সংকেত।

    ▶ অতিরিক্ত দুর্বলতা : উঠে দাঁড়াতে না পারা বা হঠাৎ ভেঙে পড়া।

    ▶ শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব : অস্থিরতা, ছটফটানি বা অতিরিক্ত ঘুম।

    ▶ শরীরে র‌্যাশ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত।

    * প্রতিরোধের উপায় : এডিসকে জায়গা দেবেন না

    ডেঙ্গুর মূল উৎস এডিস মশা, যা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। বাসার টব, এসির পানি, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রীর নিচে জমা পানিই এডিসের প্রজননক্ষেত্র।

    * যা করবেন

    ▶ প্রতি সপ্তাহে একদিন বাসার সব জায়গায় জমা পানি ফেলে দিন।

    ▶ মশার কামড় এড়ান : দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকালে ফুলহাতা জামা পরুন। মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করুন।

    ▶ দ্রুত পরীক্ষা করান : জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে NS1 টেস্ট করলে ডেঙ্গু দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়।

    * যা করবেন না

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জ্বর কমানোর জন্য ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাবেন না। এগুলো ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল নিরাপদ।

    * পরিশেষে

    ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা। জ্বর মৃদু হলেও, জ্বর চলে গেলেও শরীরের ভাষা বুঝতে হবে। একটু দেরি হলেই রোগীকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হতে পারে। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এডিস মশার বিস্তার রুখতে। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    সাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৯ জন । এর আগের দিন শুক্রবার কারো মৃত্যু হয়নি তবে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮১ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬ হাজার ৫৩৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪১৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ জনে। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৮২০ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭২১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮১৬টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬১৩। এই সময়ে ৫৮১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৭৯ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন।

    আজ শুক্রবার২৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে। এরই মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৫ হাজার ১৯৪ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশজুড়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।

    বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সরকার নিশ্চিত করবে যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

    তিনি জানান, “নিয়োগপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে শনাক্তের বিষয়ে সচেতন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পদ্ধতি শেখাবেন। পাশাপাশি তারা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।”

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া একটি সুস্থ, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

    অনুষ্ঠানে তিনি দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বর্তমানে অনেক শিশুর জন্ম সিজারের মাধ্যমে হচ্ছে এবং জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক মাতৃদুগ্ধ, বিশেষ করে শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মায়েদের কর্মব্যস্ততা, সচেতনতার ঘাটতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাচ্ছে, যা তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর বিজয়ী সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ অন্যান্য অতিথিরা।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৪৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা; প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

    ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা; প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

    গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। সংস্থাটির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া সতর্ক করেছেন, এখনই ভাইরাসের বিস্তার থামানো না গেলে এটি বিশ্বের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হতে পারে।

    মঙ্গলবার ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর গত ৬৫ দিনে দেশে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২৩ জনে। এর মধ্যে ৯৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মৃত্যুহার ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তের হার ৮১ দশমিক ১ শতাংশ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জ্যাঁ কাসেয়া বলেন, ‘ইবোলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। আজ যদি আমরা এটি থামাতে না পারি, তবে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হয়ে উঠবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি দেরি করার সময় নয়। সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, যাতে আরও প্রাণহানি রোধ করা যায়।’

    বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রদেশ হাউট-উয়েলে, ইতুরি, নর্থ কিভু, সাউথ কিভু ও তশোপোতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বুন্ডিবুগিও ভাইরাস স্ট্রেইনের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ইতুরি প্রদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে এবং হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭ জন।

    আজ বুধবার ( ২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭০৮ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯ হাজারের বেশি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ৩৭ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট হাম আক্রান্ত ১৪ হাজার ৮৪১। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৯০৪ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

    ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭০২ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৯

    হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯২২ এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৭ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজার ৬৯ জন। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৭৯৩ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। বাকী ৬৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। আর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১৪৮ শিশু।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ শিশু। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৫৭৮ শিশু। আর এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২৬ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৩২ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশুর মধ্যে সিলেট বিভাগের ৩ জন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫৮ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯০ জন।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জন মারা গেছে।

    আজ সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৭৮৮

    হাম উপসর্গে আরও ৪ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৭৮৮

    দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    রোববার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯৩ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৮৮ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩৮। এই সময়ে ৮৮৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৯২ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৩৭ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৬ হাজার ৫২১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৯৯ জনের।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৯ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। আর একজন ঢাকা বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯২০ এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭২ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজান ৯২ জন। এনিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৭৭১ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। বাকী ৬৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭১ শিশু।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ শিশু। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৩ হাজার ৯০৭ শিশু। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৭৮ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২৬০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৫ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের চারজন এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৫ শিশুর।

  • ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২৭ জন।

    মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এদের মধ্যে একজন ২৬ থেকে ৩০ বছর এবং অন্যজনের ৩১ থেকে ৩৫ বছর। তারা উভয়ই নারী।

    সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে ২৯৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট আট হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন রোগী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

  • টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার (১২ জুলাই) জরুরি বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ কম রোগী এসেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় শুধু রোগীরাই নয়, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কেও পানি জমে যায়।

    সারা শহরে দীর্ঘ যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে হাসপাতালের কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় জরুরি বিভাগে গড়ে দেড় হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশিরভাগ রোগী বিকেল থেকে রাতের মধ্যে এলেও রোববার সকাল ও দুপুরে রোগীর উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদেরও কর্মস্থলে পৌঁছাতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তারপরও তারা দায়িত্ব পালন করে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করেছেন।

  • বন্যাকবলিত জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বন্যাকবলিত জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।

    তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।

    তিনি জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

    তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।

    এবিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

    স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ নম্বর এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই বন্যার কারণে যেন একজন মানুষও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান। এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

  • ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারী বর্ষণ। গত বুধবার ময়মনসিংহে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। বৃষ্টির পর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ভ্যাপসা গরম এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আর স্বাভাবিক মৌসুমি আবহাওয়ার বিষয় নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলে নতুন ধরনের আবহাওয়ার ধারা তৈরি হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বেশি, রাতে অথ্যধিক আর্দ্রতা, বিকালে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং এরপর আবার ভ্যাপসা গরম—পরিবর্তিত এই চক্র জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন ও শ্রমবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৮ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী পাঁচদিন ময়মনসিংহ বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। পাঁচদিন পর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

    অন্যদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই মাসে তিন থেকে পাঁচদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ১০ থেকে ১৫ দিন বজ্রসহ ঝড় হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মে, জুন ও জুলাই মাসের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানা তিন মাস ধরে ময়মনসিংহে বাতাসের গতি অধিকাংশ দিন মাত্র তিন থেকে চার নটসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একই সময়ে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা অনেক সময় ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

    ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা আমার দেশকে বলেন, আগের তুলনায় এখন বাতাসের তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে দুর্বল বায়ুপ্রবাহ ও বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়। এতে তাপজনিত অবসাদ, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, কিডনির জটিলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন এ বাস্তবতায় তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলাপর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কার্যকর ও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

    ময়মনসিংহ সদর, গৌরীপুর, নান্দাইল, ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যেও ফসলি জমিতে কাজ করতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণ পরই মাঠে ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিকই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অধিকাংশ কৃষিজমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল না থাকায় তারা প্রয়োজনমতো বিশ্রামও নিতে পারেন না।

    একই চিত্র নির্মাণশ্রমিক ও ইটভাটা শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। নির্মাণশ্রমিক মো. জুবায়েরের অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মস্থলে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয়জল, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল কিংবা নির্ধারিত বিরতির ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে ইটভাটায় চুল্লির তাপ এবং বাইরের ভ্যাপসা গরম মিলিয়ে শরীরের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আব্দুল মাজেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্র বদলে গেছে। এখন আগাম বৃষ্টি হচ্ছে, হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে আমন ধান রোপণের মৌসুমে কৃষিশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ জমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত স্থান না থাকায় তারা কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না। ফলে অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    তিনি আরো বলেন, গত দুই দশকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়েছে। শীতকাল ছোট হয়ে এসেছে, বোরো ধানে সেচের চাহিদা বেড়েছে, আমন রোপণের সময়েও পরিবর্তন এসেছে। ভুট্টা ও সবজিতে নতুন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আগাম বন্যা কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ময়মনসিংহে বজ্রপাতের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে আসা আর্দ্র বায়ু, উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা তুলনামূলক শীতল বাতাস এবং বিস্তীর্ণ খোলা কৃষিজমির কারণে এ অঞ্চলে সহজেই বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক বলেন, ময়মনসিংহে এখন যে আবহাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সাময়িক নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের অংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে গড় তাপমাত্রা আ

    রো বাড়বে, শ্রম উৎপাদনশীলতা কমবে, খরা ও পানির সংকট বৃদ্ধি পাবে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব জলাশয়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন ও খাদ্যের গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ময়মনসিংহ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহে বজ্রপাত প্রতিরোধক ব্যবস্থা (লাইটনিং প্রোটেকশন সিস্টেম) স্থাপন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রসারণ ও সমন্বিত উদ্যোগের গতি এখনো সন্তোষজনক নয়। ফলে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি মিলছে না।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, শুধু তাপমাত্রা নয়; অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

    হিটস্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় কাজ না করা, ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৯টি শিশু।

    রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৬৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৪টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৫৮টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৯। এই সময়ে ৮৪৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৪৩টি শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ রোগী, যাদের মধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান খেলার মাঠে এ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি বা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি খিলগাঁও, দক্ষিণ গোড়ান ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে স্থানীয় নেতা, সেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

  • গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে গত প্রায় চার মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সরকারি হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৮৯, সিলেটে ৮৮, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১১, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, সিলেটে ৬৫, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬, রাজশাহীতে ১৭ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন ভর্তি হন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।

    এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হাম মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল এবং জরুরি আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন কোনো হামের জেনোটাইপ ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে জেনোটাইপ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

    অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেন সেবার ব্যবস্থা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

    তার মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় হাই-ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিশুদের চিকিৎসায় একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও শিশু হাসপাতালের সক্ষমতাও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৬

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৬

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী রয়েছেন আটজন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

    মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে মারা যান চারজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। মার্চে মারা যান তিনজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী।

    এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের এক পুরুষ রোগী। এছাড়া জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট সাত হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

    তিনি জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এআরটি ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, পতিতা পল্লি, ভাসমান যৌনকর্মী এবং হোটেলকেন্দ্রিক অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িতদের নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে, তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে এবং সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে।

    খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৯

    হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৯

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৫২ শিশু। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪৫ জন। এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯ জন।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    স্ট্রোক মানেই হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ—এমন ধারণাই বেশি প্রচলিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, এমন এক ধরনের স্ট্রোক রয়েছে, যা কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’ নামে পরিচিত।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের নিউরোসার্জন ডা. বৈভব প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহেই তার কাছে এমন রোগী আসেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ জীবনযাপন করেন। কিন্তু এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের মস্তিষ্কে ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হয়েছে, যদিও তারা কখনো বুঝতেই পারেননি যে তাদের স্ট্রোক হয়েছিল।

    কেন এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’?
    ডা. বৈভব প্যাটেলের মতে, সাধারণ স্ট্রোকের মতো এতে হাত-পায়ে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একাধিক সাইলেন্ট স্ট্রোক স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়
    ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোকের স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—হঠাৎ স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো, শরীরের কোনো অংশে হালকা অসাড় অনুভূতি, চিন্তাভাবনা ধীর হয়ে যাওয়া, আচরণ বা মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

    তিনি বলেন, অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়সের প্রভাব বা মানসিক চাপ মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলো সাইলেন্ট স্ট্রোকের ইঙ্গিতও হতে পারে।

    শনাক্ত করবেন কীভাবে?বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোক শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআরআই পরীক্ষা। এতে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র ক্ষতও ধরা পড়ে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

    ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
    ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের রক্তনালি সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

    সাইলেন্ট স্ট্রোকের পর সুস্থ থাকা সম্ভব?
    চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্কের কোষ পুনরায় তৈরি হয় না। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে পরবর্তী ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও সবুজ শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করালে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

  • হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৩১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮ হাজার ৪১৯ শিশু।

    অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ শিশুর।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনজনই ঢাকা বিভাগে মারা গেছে।

    বুধবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৭৪৫। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫২ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১০৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭০ জন।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৯৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত অন্তত ৩ জন মারা গেছেন। একইসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন করে মারা গেছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২২ জন মারা গেছেন। এছাড়া, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৫৭ জনের। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

  • সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএস১ পরীক্ষা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করেছে। মশাবাহিত এই রোগে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগী বেশি হলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রোগী বেড়েছে গ্রামে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন আক্রান্ত হন। শুধু তাই নয় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগÑ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও প্রয়োগ করা হয়নি ওষুধ কিংবা ফগার মেশিন।

    যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কিট ও বেডের সংখ্যাও। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রাখেন।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ ও ৪ জুলাই ১৩ এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ১৩১ জন আর জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আক্রান্ত হন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে-তে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি মাসের পাঁচদিনে ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই রোগী বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন আক্রান্ত হচ্ছেন।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, বর্তমানে ৫১ জন রোগী নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাউজানে ১৭ ও মিরসরাই উপজেলায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    চলতি বছর চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১৯৭, নারী ৯৩ ও শিশু ৬৫ জন। গত পাঁচ মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে গত তিন মাসে শহরের তুলনায় গ্রামেই এখন রোগী বেশি।

    জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রামে চার হাজার ৮৬৪ আক্রান্তের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০২৩ সালে। ওই বছর ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়।

    এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে বলা হয়, নগরীর জরিপ করা প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩ নম্বর পাহাড়তলী, ২ নম্বর আলকরণ, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ বালুচরা, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা এবং ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা এই আটটি ওয়ার্ডকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বিভা

    গীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জরিপে দেখা গেছে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়িতে, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা প্রতি চারটি বাড়ির একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ চলাকালে ১১৪টি এডিস মশার লার্ভা পজিটিভ কনটেইনারও শনাক্ত করা হয়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া এডিস মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই প্রজাতির, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস এলবোপিকটাস, যা ডেঙ্গুর দ্বিতীয় প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাতটি জোনে আমরা প্রতিদিন নগরে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছি। এই বিভাগের জনবল ১৬০ জন থেকে ২০০ জন করা হয়েছে। পুরোনো ও অকেজো সব ফগার মেশিন মেরামত করে চালু করা হয়েছে। মশার প্রজননস্থান ধ্বংসে চসিক কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, তিনটি কর্মপন্থা ঠিক করেছি। আমরা চসিককে প্রতিবেদনটি দিয়েছি। তারা তাদের আলোকে কাজ করবে। আমরা বলেছি কার্যকর এবং মানসম্মত ওষুধের প্রয়োগ যেন বেগবান করা হয়। সেবা সংস্থাগুলোর জনবলকে আমরা প্রশিক্ষিত করে তুলছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত কীট, মশারি, কর্নার তৈরি করেছি। আমরা চাই যে কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন উপজেলা পর্যায়ে শেষ হয়। জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন নিজ বাড়ির এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে।

  • হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১০৬

    হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১০৬

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে কারও মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১২ হাজার ৭৯১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৬ হাজার ৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে  ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

    মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

    জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

    লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

    আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

    এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

    ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

    ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

  • দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা

    দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা

    বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সব হাসপাতাল সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিয়মিত করতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনাগুলো হলো—

    ১. সব প্রতিষ্ঠান প্রধান স্ব-স্ব হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

    ২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধীনস্থ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মনিটর করবেন।

    ৩. পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতি শনিবার হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন।

    ৪. প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) উল্লিখিত তারিখসমূহে সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০১) অনুযায়ী জেলা সদর হাসপাতাল

    পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

    ৫. প্রত্যেক সিভিল সার্জন মাসের প্রত্যেক শনিবার সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০২) অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

    ৬. ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন সচল করে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করবেন। ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন রয়েছেন।

    এ সময় ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩০ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। এই বছর ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ৩১ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

    এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। অর্থাৎ, হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯২৫ শিশু। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন, আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯০৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১২ হাজার ৬৩২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৮৫ হাজার ১২২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আট জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন।

    ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট পাঁচ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ২৬৭ জন।

    এর মধ্যে ৬২ দশমিক দুই শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক আট শতাংশ নারী রয়েছেন।
    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও কারও মৃত্যু হয়নি।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ( ৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ হাজার ২৬২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৩৬ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকার সমস্যা নয়; এটি সারাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী দ্রুত শকে চলে যান, রক্তক্ষরণ হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে এবং মৃত্যুও ঘটে। তাই ডেঙ্গুকে শুধুমাত্র একটি “মশাবাহিত জ্বর” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
    ডেঙ্গুর টিকা: নতুন আশার আলো-

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ইন্দেনেশিয়া, ব্রাজিল এবং কিছু লাতিন আমেরিকান দেশে ডেঙ্গু টিকা অনুমোদিত হয়েছে।
    বর্তমানে কোন কোন ডেঙ্গু টিকা আছে?
    ১. উবহমাধীরধ (ডেঙভ্যাক্সিয়া) প্রথম অনুমোদিত ডেঙ্গু টিকা। তবে এটি শুধুমাত্র পূর্বে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
    ২. ছফবহমধ ( কিউডেঙ্গা)- বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ডেঙ্গু টিকা। এটি জাপানের তাকেডা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী তৈরি করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে অনুমোদিতও হয়েছে।

    এটা কে কিভাবে কত ডোজ নিবে?
    এই টিকা আপাতত দুই ডোজ নিতে হবে ৩ মাসের ব্যবধানে। ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সিদের এটি নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
    প্রথম ডোজ নেয়ার ১৪ দিন পরই ইমিউনিটি ডেভেলপ করতে শুরু করে। তাই কেউ চাইলে ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় যাওয়ার ১৪ দিন আগে এটি নিতে পারে। এক ডোজের পরেও ৮২ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। ২য় ডোজ নেয়ার ৩০ দিন পর সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়।

    কিউডেঙ্গা কতটা কার্যকর?
    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে:
    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, যা প্রায় ৯০.৪ শতাংশ পর্যন্ত বলেও গবেষকেরা দাবী করেছে।
    গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমায়, ডেঙ্গু হলেও তা মারাত্মক পর্যায় পর্যন্ত যায় না।
    চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে।

    এটা ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই নিতে পারবে।
    আগে ডেঙ্গু না হলেও এটা নেয়া যাবে। আগেরটারমত এই শর্ত এখানে নাই।
    টিকা নেয়ার আগে কোন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নাই।
    তবে এই টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষার কথা বলা হচ্ছে। তাই টিকা নেওয়ার পরও মশা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত সতর্কতা প্রয়োজন।
    শুধু টিকা কি সমস্যার সমাধান? না।
    পাশের দেশ থাইল্যান্ডে টিকার দাম কত?
    দেশভেদে মূল্য ভিন্ন। থাইল্যান্ডে সাধারণত দুই ডোজ সম্পূর্ণ করতে আনুমানিক ৩,০০০-৬,৫০০ থাই বাথ বা তারও বেশি খরচ হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১,০০০-২২,০০০ টাকার সমপরিমাণ হতে পারে। তবে ক্লিনিক ও হাসপাতাল ভেদে মূল্য পরিবর্তিত হয়।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকা চালু করতে কার কী করণীয়?
    ১. সরকার-
    আন্তর্জাতিক তথ্য পর্যালোচনা
    নিরাপত্তা মূল্যায়ন
    স্থানীয় গবেষণানিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
    ২. ঔষধ প্রশাসন- ডিরেক্টর জেনারেল অব ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনকে টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে।
    ৩. আইইডিসিআর- ইনস্টিটিউট অব এপিডিমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চকে রোগতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।
    ৪. চিকিৎসক সমাজ- কোন বয়সী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হবে।
    ৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ ডেঙ্গু প্রবণ এলাকার ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য এটি সুপারিশ করেছে। সরকার স্থানীয়ভাবে এটি উৎপাদনের কথা বিবেচনা করছে।
    ডেঙ্গু কী?

    ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা হয় এবং সংক্রমিত স্ত্রী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধান বাহক হলো: এডিস এইজিপ্টি ও এডিস এলবোপিক্টাস নামের মশা।
    এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে।
    কেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু বাড়ছে?

    ১. জলবায়ু পরিবর্তন- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।
    ২. অপরিকল্পিত নগরায়ণ- অসংখ্য নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি, ফেলে রাখা টায়ার, ড্রাম, ফুলের টব ও প্লাস্টিকের পাত্র এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
    ৩. জনসচেতনতার ঘাটতি- অনেক মানুষ এখনও মনে করেন ডেঙ্গু শুধু নোংরা পানিতে জন্মানো মশার মাধ্যমে হয়। বাস্তবে এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই বেশি জন্মায়।
    ৪. সমন্বিত কর্মসূচির অভাব- মশকনিধন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম অনেক সময় যথেষ্ট সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয় না।

    ডেঙ্গুর লক্ষণ-

    সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি।
    বিপদসংকেত-
    নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে: তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব, প্রস্রাব কমে যাওয়া।
    সরকার কী করতে পারে? ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    ১. জাতীয় জরুরি কর্মসূচি- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
    ২. মশার উৎস ধ্বংস- শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

    গুরুত্ব দিতে হবে:
    লার্ভা ধ্বংস
    পানি জমার স্থান অপসারণ
    নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন
    নিয়মিত জরিমানা
    ৩. হাসপাতাল প্রস্তুতি- প্রতিটি জেলা হাসপাতালে:
    ডেঙ্গু কর্নার
    পর্যাপ্ত নরমাল স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা

    রক্ত সঞ্চালন ও প্লেটলেট সাপোর্ট
    প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. রোগতত্ত্ব নজরদারি- প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
    ৫. স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি- স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    ৬. গবেষণায় বিনিয়োগ- বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের কোনটার কখন কোথায় বিস্তার হচ্ছে, মশার ঘনত্ব এবং জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।
    জনগণের করণীয়: সপ্তাহে অন্তত একদিন “২০ মিনিট ডেঙ্গু অভিযান”
    বাড়িতে ও বাড়ির চারপাশে:
    টব
    ড্রাম
    এসির ট্রে
    ফ্রিজের ট্রে
    টায়ার
    ডাবের খোসা
    বোতল পরিষ্কার করতে হবে।
    ব্যক্তিগত সুরক্ষা: এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ
    মশারি ব্যবহার
    ফুলহাতা পোশাক পরিধান
    মশা নিরোধক ব্যবহার

    জানালায় নেট
    জ্বর হলে:
    দ্রুত রক্ত পরীক্ষা
    প্রচুর তরল পান
    চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে

    যা করা যাবে না:
    নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া
    জ্বরের জন্য আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন
    অযথা ভয়ে প্লেটলেট দেওয়া
    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি তিনটি:
    ১. মশার উৎস ধ্বংস
    ২. দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ
    ৩. উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা
    টিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা মাত্র।
    যদি চারপাশে মশার ঘনত্ব বেশি থাকে, তবে টিকা থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ চলতে পারে।

    ভবিষ্যৎ করণীয়-
    বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত ডেঙ্গু কৌশল প্রয়োজন:
    সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ
    আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা
    গবেষণা বৃদ্ধি
    হাসপাতাল প্রস্তুতি
    গণসচেতনতা
    ডেঙ্গু টিকার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি

    পরিশেষে মনে রাখতে হবে, হামের প্রাদুর্ভাবের পর ডেঙ্গুর বিস্তার বাংলাদেশের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ। ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যা আমরা আগের বছর গুলিতেই দেখেছি। শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে না; জনগণকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে।
    ডেঙ্গুর টিকা বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে টিকা আসার অপেক্ষায় না থেকে এখনই মশার উৎস ধ্বংস, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হবে ডেঙ্গু মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি সচেতন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন বাড়ি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচিই পারে হাজারো প্রাণ রক্ষা করতে।

  • জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে দেশের থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনএস১ (NS1) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছেতিনি বলেন, ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত শয্যা চালু করা হবে। প্রয়োজন হলে মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ে। তাই জুলাই ও আগস্ট মাসকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা

  • বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। বছরের বিভিন্ন সময়ই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপই বাড়েনি, বদলে গেছে এর লক্ষণ ও জটিলতার ধরনও। ফলে আগের মতো উপসর্গ দেখে রোগ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, চোখে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা এবং ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরিচিত লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

    বর্তমান সময়ে অনেকেই সামান্য জ্বর বা শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরের কয়েক দিন। সাধারণভাবে অনেকে জ্বর কমে গেলে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই সময়টিই ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’। জ্বর কমার দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত হ্রাস পাওয়া এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

    এ ছাড়া নতুন ধরনের ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর নয়, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে। আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিন্ন সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে মারাত্মক জটিলতা, যেমন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    বিশেষ করে অতিরিক্ত বমি, পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা, জন্ডিসের লক্ষণ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।