অপরাধ ও বিচার

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সেবা জনগণের নাগালে করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

    আমার বাংলাদেশ পার্টির আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের গড়িমসির সমালোচনা করেন অতিথিরা।

    জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল রেখে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    এ সময় জুলাইয়ে ৭ বছরের সন্তান জাবিরের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম।

  • দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’ বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে এত দেরি হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন। সেই বাংলাদেশে যেন আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান না ঘটে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।’

    নিজের ছেলে শহীদ জাবির ইব্রাহীমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র ছয় বছরের জাবির সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। লং মার্চে যাওয়ার আগে তার শেষ কথাগুলো এখনো আমাদের মনে গেঁথে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো শহীদ হওয়ার অনুভূতি থেকেই শিশুটি এমন কথাগুলো বলেছিল।’

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষ ও অবমাননার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। শহীদরা কোনো অপমান সহ্য করার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন? অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার শেষ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনায় এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মিতালি খাতুন (২৮) নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন।

    ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মিতালি খাতুন ও তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন।

    ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    রাতে প্রধান শিক্ষক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমা জান্নাত ঐশি লাইনে দাঁড়িয়ে পেছনের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক তাকে ইশারায় থামতে বলেন।

    এরপর জাতীয় সংগীত শেষ হলে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থীকে ডেকে মারামারি করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ঐশি প্রাধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থী দুজনকে দুটি চড় মেরে শাসন করেন।

    তিনি বলেন, স্কুল ছুটির পর ঐশির বাবা সামসুর রহমান ও মা মিতালি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে সন্তানকে মারার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন।

    পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিশৃঙ্খল আচরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে মৃদু চড় দিই।পরে তার অভিভাবকরা স্কুলে এসে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

  • ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলামিস্ট এলিজাবেথ জ্যঁ ক্যারলের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ট্রাম্পের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর জমা রাখা ৫০ লাখের বেশি ডলার অবিলম্বে ক্যারলকে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান। গতকাল বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের এই অর্থ পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।

    এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

    ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।

    জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’

    এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

    আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।

    গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাবেক শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে হাউস আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে এসব কারণে আম্বিয়া খাতুন তাকে তালাক দেন।

    তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে হাউস আলী গাংনী উপজেলার শহড়াবাড়িয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সাবেক স্ত্রীকে না পেয়ে তার মা ফুলসুরাতন (৬৬)-এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গাংনীতে অবস্থান করছিলেন।

    ফুলসুরাতনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাউস আলীকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

    ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওনের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে আদালত এই দণ্ড বহাল রাখে।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেন।

    ক্ষমতাচ্যুত এই সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। ইউন দাবি করে আসছেন, তার ওই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল।

    সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগ ছিল, সামরিক আইন ঘোষণার ঠিক আগে তিনি বাছাই করা কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক করে মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইনসংক্রান্ত আদেশ তৈরি এবং পরে তা ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষ ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত অধিকাংশ অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    এপ্রিল মাসে আপিল আদালত ওই রায় বহাল রাখার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে।

    এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও ইউনের আইনজীবী—উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।

    টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের এক বিচারক বলেন, সব আপিল খারিজ করা হলো। কারণ নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি ছিল না।

    ইউনের আইনজীবীরা এ রায়ে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সর্বোচ্চ আদালত মামলার নিষ্পত্তি করেছে।

    তারা জানান, সাংবিধানিক ভিত্তিতে এই রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হবে।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন এবং বেসামরিক শাসন স্থগিত করেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়।

    তবে জরুরি অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দ্রুত ভোট দিয়ে সামরিক আইন বাতিল করায় তা মাত্র ছয় ঘণ্টা কার্যকর ছিল।

    ইউনের ওই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শেয়ারবাজারে বড় ধরণের পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাও এ ঘটনায় বিস্মিত হয়।

    পৃথক আরেক মামলায় সামরিক আইন জারির আগে সংকট ‘তৈরি’ করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে ইউনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন একটি আদালত।

    ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত তিনি ‘শুধু দেশের স্বার্থেই’ নিয়েছিলেন।

    ২০২৪ সালেও তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ নির্মূল করা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে আসা বলে তার দাবি করা হুমকি মোকাবিলার জন্যই সামরিক আইন প্রয়োজন ছিল।

    সামরিক আইন জারির উদ্যোগের কারণে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

    তিনি বলেন, ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে—‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অভিযানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার তারা জানায়, কানাডায় এক প্রভাবশালী শিখ নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের তদন্তে তারা এমন অপরাধ চক্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছিল। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলি, হামলা, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
    কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে যে তারা ভারতের কারাগারে থেকেও নিজেদের আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসায়লি বলেন, ‘যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে বিচার এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অন্যতম ঘটনা হলো ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড।

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যা। পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত নিজ্জর ছিলেন ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের একজন পরিচিত কর্মী। তিনি শিখদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই কারাগারে বসেই নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডা তার সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    কর্মকর্তাদের দাবি, বিষ্ণোই প্রকাশ্যে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে তুলে ধরলেও এই ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নিজের অপরাধী চক্রের জন্য সদস্য ও সহযোগী সংগ্রহ করতেন।

    তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বহু দেশে ব্যাপক একটি অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, গুলি, হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন ভারতের পাঞ্জাবের ৩৮ বছর বয়সী জগ্গু ভগবানপুরিয়াও। তিনি ভারতে কারাবন্দি একজন গ্যাং নেতা এবং একসময় বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। কর্মকর্তাদের মতে, ভগবানপুরিয়া নিজের অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছেন, যার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে।

    ভগবানপুরিয়ার সঙ্গে আরো ১৬ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাড়াটে হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্ডার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি এমন একটি বড় মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।

    এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আজকের সমন্বিত অভিযান তিনটি ভয়ংকর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের মূল ভিত্তিতে আঘাত করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করেছে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।’

  • কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

    নিজ্জার হত্যাকাণ্ড: অভিযোগ গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

    কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতে কারাবন্দী কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনয় এবং তাঁর উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত অভিযোগপত্রে (ইন্ডাইটমেন্ট) বলা হয়েছে, বিশনয় এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, লরেন্স বিশনয় ভারতের কারাগার থেকে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এই অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি নিজ্জারকে হত্যার সুবিধার্থে একজন সহযোগীকে তাঁর ছবি এবং একাধিক ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। অন্যদিকে বিশনয়ের শৈশবের বন্ধু গোল্ডি ব্রার উত্তর আমেরিকায় তাঁদের এই অপরাধী চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা ‘লরেন্স বিশনয় অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ নামে পরিচিত।

    কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার ভারতে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র ‘খালিস্থান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নয়াদিল্লি তাকে আগেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

    ২০২৩ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে। নয়াদিল্লি ট্রুডোর সেই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    তবে লরেন্স বিশনয় ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দায়ের করা এই সাম্প্রতিক অভিযোগপত্রে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

    লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসেয়ালি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকা বা তাদের আগে থেকে জানার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেননি।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশনয় এবং ব্রারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন মূলত মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষের একটি বৃহত্তর যৌথ তদন্তের অংশ। এই তদন্তে ভারতভিত্তিক তিনটি অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হেফাজতে রয়েছেন।

    এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডীয় পুলিশ নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাঁদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই শুটারদের সরাসরি আসামি না করে কেবল ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের যে চরম অবনতি ঘটেছিল, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অধীনে তা কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কার্নি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে ভারতে যান এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেন, যা চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে কানাডার বর্তমান সরকারের এই আপসকামিতা ও নরম মনোভাবের সমালোচনা করছে দেশটির বেশ কয়েকটি শিখ সংগঠন। তাদের অভিযোগ, অটোয়া প্রশাসন ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং কানাডীয় শিখদের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে

  • পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়  অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুরে মুসলিম কন্যাশিশুকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ‘যোগী মডেল’-এর তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, উত্তর প্রদেশের ধাঁচে এনকাউন্টারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের খতম করে দেওয়া হচ্ছে।

    গত রোববার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে গেলে সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকেই অনেকে যোগী মডেলে এনকাউন্টার বলে আখ্যা দিচ্ছেন, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার আগেই মূল অভিযুক্ত বা সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

    এই তদন্তের মধ্যেই একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, পুলিশি হেফাজতে জেরা চলাকালীন প্রভাস রাজা নামের এক বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করেছিল। এই নারকীয় ঘটনায় ওই নেতার জড়িত থাকার সরাসরি ইঙ্গিত থাকার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত রাজাকে গ্রেপ্তার করেনি। একদিকে মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু এবং অন্যদিকে জেরায় নাম উঠে আসা বিজেপি নেতা অধরা থাকা—এ দুইয়ে মিলে গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

    পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী বসিরহাট থেকে কবীর মোল্লা নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলায় এর আগে আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ফলে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার বারুইপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের এসপি অফিসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে এরই মধ্যে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের এ ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের কড়া অবস্থান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসছে, ঠিক তেমনি মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার এবং জেরায় নাম ওঠা বিজেপি নেতা রাজাকে ধরতে পুলিশের ব্যর্থতা বা অনীহা গোটা ঘটনায় এক নতুন ও বিতর্কিত মাত্রা যোগ করেছে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানী কাকরাইলের আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শিরোনামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যেই আন্দোলন করেছিলাম এর ২টি উদ্দেশ্য ছিল; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আওয়ামী কায়দা বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ।’

    আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই গড়িমসি করে আসছে, সেই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকেই। ভোটের পিআর অনুযায়ী উচ্চকক্ষ তারা মানবে না, নতুন বিচারিক প্রক্রিয়া, পিএসসি, দুদক নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কার মানতে নারাজ তারা।’

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে জুলাইকে কটূক্তি করছে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৩ সালের ২২ জুন বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে অপর দুই আসামি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অন্য দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে একই আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (জুন) বিচারপতি স্বরনা কান্ত শর্মার বেঞ্চ দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের করা আবেদন গ্রহণ করে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা আদালতকে জানান, দলটির কিছু পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল।

    তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিট পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার পক্ষে সরকারের যে উদ্বেগ ছিল, তার আর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভ ল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট ব্লক রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই বলে মনে করেছে আদালত।

  • ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২.২ বিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। পূর্বাঞ্চলের চাংঝৌ শহরের আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। খবর বিবিসির।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৌশল প্রকল্প, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেন।

    ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ইয়াংকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বহু ক্ষতি হয়েছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে বেইজিং।

    চীনে আর্থিক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, ১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ জড়িত গুরুতর দুর্নীতির মামলায় এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে বড় অঙ্কের ঘুষ ও আত্মসাতের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াং ইউলিন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলেও তার অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, আদালত শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ দেখেনি।

  • ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    সারা বিশ্বের পর্যবেক্ষক ও ইতিহাসবিদদের জন্য ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য তাজমহলের আয়ু বোধ হয় ফুরিয়ে আসছে। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করে উত্তর প্রদেশেরই আগ্রা আদালতের একটি আদেশ সম্পর্কে তাঁদের মতামত জানতে চেয়েছেন।

    উত্তর প্রদেশের আগ্রা আদালত অতীতে তাজমহল জরিপের উদ্দেশ্যে এই সৌধের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেননি। অর্থাৎ তাজমহল জরিপ করার যে আবেদন এক আইনজীবী ২০১৫ সালে করেছিলেন, সেই আবেদন অতীতে খারিজ করে দিয়েছিলেন আগ্রা আদালত।

    সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি করেই সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপ করা যাবে না।

    আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। আবেদনকারী আইনজীবী জৈনের দাবি, বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধটি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যার নাম ‘তেজো মহালয়া’। এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গী করা হয়েছিল।

    হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মামলাটির মূল পক্ষ করা হয়েছে, যেমন সাধারণ মানুষকে করা হয়। মহাদেবকে মূল পক্ষ করে তাঁর ‘পরম বন্ধু’ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং আরও বেশ কয়েকজন ভক্তের মাধ্যমে এই পিটিশন করা হয়েছে।

    তাজমহল

    বিতর্কিত রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বছর কয়েক আগে হিন্দুত্ববাদী হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের কথিত পবিত্র স্থান রয়েছে, একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এই তালিকা দীর্ঘ।

    বিষ্ণুশঙ্কর বলেছিলেন, এসব স্থান বেছে বেছে বের করে মামলা করা হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন পিতা–পুত্রের এই দল। বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত।

    এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলায় বাদীপক্ষ (আবেদনকারী) একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো—এই স্মৃতিসৌধটি একটি হিন্দু মন্দির। তাই বাদীপক্ষ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে পূজা করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

    বাদীপক্ষের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সরকার ও এসআই–এর কাছে জানতে চেয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কেন জরিপ করা হবে না।

    বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে এই এলাহাবাদ হাইকোর্টই অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন, অযোধ্যার বিবদমান ২ দশমিক ৭৭ একর জমি হিন্দু দেবতা রাম লালা, রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের মধ্যে সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।

    তাজমহলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সৌধের ভেতরে ‘দর্শন’ ও ‘পূজা’ করার মৌলিক অধিকার হিন্দুদের রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে তাজমহলে জরিপ করতে একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।

    তবে ওই সময় আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) ওই আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালত যুক্তি দিয়েছিলেন, বাদীপক্ষ তাজমহলে সুনির্দিষ্ট জায়গা (দাগ নম্বর) নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি (যেমন খতিয়ান বা খসড়া) দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্পত্তির বর্ণিত সীমানা ও আয়তন (৭৭ বিঘা) বিবাদীপক্ষের নথির সঙ্গে মেলেনি।

    এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে একটি রিভিশন পিটিশন (সংশোধনী আবেদন) রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ। এই দুটি আদেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

    আবেদনে বাদীপক্ষ মূল মামলায় করা নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যসংক্রান্ত দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেছে, কথিত প্রাচীন তেজো মহালয় মন্দিরটি (তাজমহল), যেখানে দেবতা আগ্রেশ্বর মহাদেব বিরাজ করছেন, সেটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন।

    প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে।

    সেই ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, এটি তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান, তাঁর পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। ওয়েবসাইটে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের ছবিও (হাতে বা কম্পিউটারে করা পেন্টিং) রয়েছে।

    ইতিহাসবিদদের বক্তব্য, তাজমহল বানানোর কাজ শুরু হয় ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে বা তার আশপাশে। বছর দশেক আগে হিসাব করে দেখা যায়, এই স্মৃতিসৌধটির বাজার মূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটি ভারতের মুখ্য পর্যটনকেন্দ্র।

    আবেদনকারী হিন্দুত্ববাদী আইনজীবীরা অবশ্য এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধটি রাজা মানসিংহের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ১৭ শতকে জয়পুরের রাজা জয়সিংহ এই স্থানে অর্থাৎ তাজমহলে অভিষিক্ত হন।

    এরপর মোগল শাসক শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে কথিত ‘তেজো মহালয়া’ প্রাসাদটি জোরপূর্বক দখল করেন এবং তাঁর মৃত রানির স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন। এই রূপান্তরের জন্য বিতর্কিত সৌধটির কিছু অংশ পরিবর্তন করে ইসলামিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল।

    হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অন্তত ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে, এই সম্পত্তিটি একটি হিন্দু মন্দির।

    মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই ‘বেআইনিভাবে’ মুসলিমদেরকে গত শুক্রবারে তেজো মহালয়া বা তাজমহলে ‘নামাজ’ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভবন চত্বরের বেশ কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হিন্দু ‘পূজা’ ও দেবতার আরাধনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তির ব্যবহার বেআইনি।

    আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এটি একটি সর্বজনবিদিত প্রাচীন স্মৃতিসৌধ। তা ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তি, সৌধটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং তালাবদ্ধ অংশগুলো ‘কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়’।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএসআই-নিয়ন্ত্রিত এই সৌধটিতে তাদের অবাধ প্রবেশের অধিকার নেই, যার ফলে কার্যকর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের নিযুক্ত একজন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য।

    এই পটভূমিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট যেন আগ্রা আদালতের আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টকে (নিম্ন আদালত) গুণাগুণের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।

    এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন একটি স্থগিতাদেশের আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, হাইকোর্ট যেন এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।

    বিষয়টি নিয়ে অবগত আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং যা ৬ জুলাই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল, তা একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। একইভাবে ভারতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছিল তিন দশক আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে, যা ২০১৯ সালে ভারতে রামমন্দির বলে আদালত চিহ্নিত করেছিলেন। তাজমহলের কপালে কী লেখা আছে, তা বোঝা যাবে আর কয়েক বছরের মধ্যেই

  • পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

    এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    প্রসঙ্গত, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন।

    ১৫ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

    হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ খুললেও কিছু জটিলতা থেকে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিলটি করেন। নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়েছে। আপিল তিনটি শুনানির জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।

    আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

  • ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সানকিরেড্ডি ভীম রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    এসিবির কর্মকর্তারা একাধিক স্থানে তল্লাশি শেষ করার পর ওইদিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার কথা জানানো হয়। এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

    কয়েক দিন আগে এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল। তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা। টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট। গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট। মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব।

    মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা। টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট। প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট। সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি। কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি। কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি। ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি। নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি। মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি। শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ। সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি। নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা। তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ।

    এ ছাড়া তার কথিত এক বেনামি ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও ৪০ লাখ রুপি নগদ পাওয়া যায়। অভিযানে প্রায় ২ কেজি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২০ কেজি রুপার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপি জমার তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

    এসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডায়েরিটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করেছে।

  • শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

    এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।

    ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে  আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

    ইরনা জানিয়েছে, এহুদ বারাক বর্তমান রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ব্যাপক আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেন।

    সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে মন্ত্রিসভার অস্বীকৃতি কেবল একটি আইনি বিবাদ নয়, বরং এটি এমন একটি মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে ইসরাইল এবং এর সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যাদের বিষয়াদি পরিচালনার যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই।

    বারাক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যতের ওপর এই বিবাদের গুরুতর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন স্তরের ব্যর্থতার কারণে, বিশেষ করে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে উস্কে দেওয়া যুদ্ধগুলোর প্রতিকূল ফলাফলের ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইলি শাসনের অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে।

  • দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেছেন, নির্বাহী আদেশে এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছ। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ট্রাইবুনালে এ দলটির বিচার হবে। বিচার শেষে আদালতই রায় দিবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসাবে এ দেশে থাকবে কি না–।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুক, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।

  • এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    রাজনীতি ডেস্ক:

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

    এটি একটি পরিকল্পিত হামলা দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা।

    এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা- হলেন মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

    এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে সমাবেশস্থলে আসেন। তারা পৌঁছানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উঠেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল। তাদের পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা স্থানে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালে ওই স্থানেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

    বোমা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে এনসিপির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

    সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করেন এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

    সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

  • লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ১৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৫ জুলাই) নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সামনে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ নামের একটি প্রচারাভিযানকারী সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যুক্তরাজ্যের এই আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনকে সমর্থনের আহ্বান জানানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩ বছর বয়সী অ্যাংলিকান যাজক ও দীর্ঘদিনের শান্তিকর্মী রেভারেন্ড সু পারফিটও রয়েছেন।

    ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ জানায়, ‘সেভিং লাইভস ইজ নট টেররিজম’ শীর্ষক প্রচারণার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এই প্রচারণা শুরুর পর থেকে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক আইনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, পুলিশকে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বানটি ব্যঙ্গাত্মক ছিল। তবে পুলিশ সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় গ্রেফতার করেছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনপন্থি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের পরিবর্তে যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যভিত্তিক কার্যক্রম তদন্ত করা।

    প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ ঘটনায় মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবার বলছে, শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। এরপর রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে। বারুইপুরে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী।

    সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

    এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকায় এক যুবককে পিটিয়েও মারা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে ক্ষুব্ধ জনতার রোষেই তার মৃত্যু হয়।

    রোববার বারুইপুর থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী বারুইপুরে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনো রকম সংঘাত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

    ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর বোনটি (নির্যাতিতা কিশোরী) তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    ‘রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের থেকে খবর পেলাম। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

    এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

    বারুইপুরে ওই ঘটনার পরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা সামনে এসেছে। জনরোষ সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

    এই ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলা কিশোরীকে খুনের ঘটনায়, একটি স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুলিশের ওপর হামলা ও অপরটি এক অভিযুক্তকে খুনের মামলা।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পকসো ধারায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পুলিশের হাতে আসার পরে।

    যদিও প্রাথমিক রিপোর্টটিতে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশকর্তারা।

    একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে সাজা নিশ্চিত করা হবে।

    অভিযুক্ত একজনকে রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। এখন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা হলো তিন। অন্য তিনজন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

    মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়— আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

    ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বর্ণকার, রাজমিস্ত্রি, মাটিকাটা শ্রমিকের পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করেন তারা।

    রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গ্রেফতারদের কেউ স্বর্ণকার, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা মাটিকাটা শ্রমিক। নিজেদের বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ডাকাতি করেন তারা। তাদের নামে নড়াইল, যশোর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট থানায় একাধিক চুরি এবং ডাকাতি মামলা রয়েছে।

    নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনের টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন খুলনার তেরখাদা থানার নদীয়ারচর মধ্যপাড়ার জলিল মোল্লার ছেলে রাজমিস্ত্রী জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), খুলনার রুপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ভূষণ করের ছেলে স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া তালুকদারপাড়ার সামছুল হক তালুকদারের ছেলে শ্রমিক জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে শ্রমিক পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬) এবং বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁর ছেলে রাজমিস্ত্রি মফিজ খাঁ (৩৮)।

    গত ৮ জুন রাত ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা মধ্যপাড়ার সালাহউদ্দীন খানের ঘরে প্রবেশ করে দেশী অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে ডাকাতদল। পরে সালাহউদ্দিন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় সালাহউদ্দীন নড়াগাতী থানায় মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম গত তিনদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ডাকাত এবং ডাকাতি করা মালামাল ক্রয় করা একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গলিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাকিরের নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধার নামে খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা, জাকির হোসেনের নামে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাতে তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরি, মফিজ খার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে।

  • রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাম জন্মভূমি মামলায় মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে পরিচিত সন্ন্যাসী সংগঠন নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস মন্তব্য করেছেন, ‘রামলালার (রাম) ঘরে চুরির ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।’ তিনি আরও বলেছেন, রামের ঘরে, অর্থাৎ রামমন্দিরে চুরির বিষয়টিই প্রমাণ করে যে রাবণ এরই মধ্যে অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নির্মোহী আখড়া খিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ স্বীকৃত বৈষ্ণব বৈরাগী সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন হিন্দুধর্মীয় সন্ন্যাসী সংগঠন। এটি মূলত অযোধ্যা রাম জন্মভূমি বিবাদে মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। অযোধ্যার আরও বেশি মানুষকে রামমন্দির ট্রাস্টের অংশ করা উচিত ছিল কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ১৪ সদস্যের মধ্যে ৯ জনেরই আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মহন্ত দীনেন্দ্র দাস ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ ১৪ সদস্যের একজন। নির্মোহী আখড়া ছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মালিকানা বিরোধ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী পক্ষগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত সেই মামলার রায় হিন্দুপক্ষের অনুকূলে যায়।

    এর আগে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ট্রাস্টের বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাওয়ের সমালোচনা করেছিলেন দীনেন্দ্র দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোপাল রাও ‘রাজনীতি করছেন।’ ট্রাস্টে রুপার ইট বা অন্যান্য অলংকার উপহার দেওয়ার পর অনেকেই কোনো রসিদ পাননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেন্দ্র দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিটি লেনদেনের হিসাব থাকা উচিত ছিল। এমনকি রামও সমাজের নিয়ম মেনে চলতেন। সে কারণেই তিনি বনবাসে গিয়েছিলেন। তাই যদি কোনো কিছু (আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে) গোপন রাখা হয়, তাহলে সেটাই চুরির শামিল।’

    রামমন্দিরের তহবিল চুরির এই ঘটনা রামমন্দির ও অযোধ্যা শহর, উভয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু চুরি ইতোমধ্যেই হয়েছে, তাই আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে—রাবণ সেখানে পৌঁছে গেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অনুসরণ করছেন। এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেলে পাঠানো হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডও পেতে পারেন।’

    হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রধান খলনায়ক এবং লঙ্কার (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) রাক্ষসরাজ ছিলেন রাবণ। তিনি ঋষি বিশ্রবা ও রাক্ষসী কৈকসীর পুত্র। দশ মাথা ও অসীম শক্তির অধিকারী এই রাজা ভগবান শিবের পরম ভক্ত, অত্যন্ত জ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে হরণ করার কারণে রামের হাতে তিনি নিহত হন।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সরকারি খাস (হালট) জমিতে নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে, সরকারি খাস জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণকাজে বাধা, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে আনোয়ার হোসেন বাধা দেন।

    এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ওসি সজল সরকার বলেন, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ,আর

  • দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে শুক্রবার (৩ জুলাই) গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলেকে যোগ্যতা ছাড়াই নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অবৈধভাবে সহায়তা করেছিলেন।

    ৭৩ বছর বয়সী ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন হেফাজতে নিয়েছে। ২০০৬ সালে যোগ্যতা ছাড়াই যোশিথা রাজাপাকসকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে চলা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের অবসানের সময় কারান্নাগোদা নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে তাকে ফ্লিট অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে নৌবাহিনীতে তার কোনো সক্রিয় দায়িত্ব নেই।

    ৩৮ বছর বয়সী যোশিথা রাজাপাকসে গত মাসে সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (ব্রাইবেরি কমিশন) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যোশিথা রাজাপাকসকে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ফ্লিট অ্যাডমিরাল দুর্নীতির অপরাধ করেছেন।’

    কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ব্রিটেন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ তরুণকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২১ সালের অক্টোবরে মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ দমনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের প্রশাসন পরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে।

    দিসানায়েকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজাপাকসে পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো নতুন গতি পেয়েছে।

    বিগত বছরগুলোতে রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার সবগুলোই এখনো আদালতে বিচারাধীন।

    ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার বাবা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একটি বাড়ি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় যোশিথা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও চলছে।

    তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, তার বড় ফুফুর দেয়া মূল্যবান রত্ন বিক্রি করে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে তার সেই বড় ফুফু জানাতে পারেননি, তিনি কিভাবে ওই মূল্যবান রত্নগুলো পেয়েছিলেন।

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলায় ২৭৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কথিত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত মাসে তার চাচা গোটাবায়া রাজাপাকসের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে, এখানেই শেষ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তাতে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে হাসানুল হক ইনুর। এ মামলায় তাকেও আসামি করা হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেল বছরের ২৬ নভেম্বর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থি মুসলিম রাষ্ট্র। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত যেকোনো অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও প্রস্তাব করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার আবেদন করলে যাচাইয়ের সুবিধার্থে সেই আবেদনের অনুলিপি ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো যেতে পারে।

    জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইনচার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ ও আলাইদি উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন

    চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা-কক্সবাজার বিমানের তিনটি টিকিট ও তিন রাতের হোটেলের কক্ষ বুকিং অথবা নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও তিনি কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার পরিচয়ে শাহিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য বিমানের তিনটি টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য দাবি করেন। তাতে মো. সাইফুল ইসলাম রাজী না হলে পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন শাহিন মিয়া। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হেয় করার হুমকি দেয় শাহিন মিয়া। পরে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শাহিন মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেনের যোগসাজশে তাকে জড়িয়ে জমি নিবন্ধনের এক শতাংশ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এস্টিমেটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বরাদ্দকৃত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্পে ব্যয় করেন। পরবর্তীতে সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ, লেনদেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়মানুগ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য নিরীক্ষা করেন। কাজেই কোনো প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাতের সুযোগ ইউএনও, উপজেলা প্রকৌশলী কিংবা উপজেলা পরিষদের নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    উল্লেখ- জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। যা প্রকল্পের তথ্য নিয়মিতভাবে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির একটি আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস এই আপিলের ওপর আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠায়।

    রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (এফসিসি) হওয়া উচিত। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার এই আপত্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফসিসিতে দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা এনএও-তে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

    এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সাজা স্থগিতের আবেদনটি এই যুক্তিতে নিষ্পত্তি করে দেয় যে মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার যৌক্তিকতা নেই।

    দায়ের করা এই আপিলে ইমরান খান উল্লেখ করেছেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে।

  • জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডসহ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। রায় ঘোষণা বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গত ২২ জুন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী পার্টনার ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ ও ৪ আগস্ট তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। সেই সব কথাবার্তার মধ্য দিয়ে কারফিউ জারি এবং জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো—এসব বিষয় তার কথোপকথনের মধ্যে ছিল।’

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি এবং কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবেই এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি যে, জনাব ইনু সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপরে নিপীড়ন চালানোর জন্য নানা কৌশল বা নানা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার ফলে বহু লোকের জীবনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

    গত ২ এপ্রিল ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। টানা ৯ কার্য দিবস যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন তিনি। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

    গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন। গত ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত সবুজ বন এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির এ সাম্রাজ্যে চলে লাখ লাখ টাকার কারবার। আর ওই সাম্রাজ্যের অঘোষিত রাজা যেন বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান। বনের সিংহভাগ দুর্নীতির নিয়ন্ত্রকও তিনি।অভিযোগ আছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলে তার রাজত্ব। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর চাকরি করলেও রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না তাকে। অথচ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই।

    বনের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে রওসান হাছান ছাড়াও বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হওয়া উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির দাপটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। বন ও অর্থখেকো কর্তাদের জুলুম-নির্যাতনে অসহায় সাধারণ মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরহাদীতে এক বিট কর্মকর্তার চাহিদামতো ১২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ছয়টি মহিষ আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সুমন হাওলাদার নামে এক রাখাল। আলোচিত সে ঘটনার পরও কর্মকর্তাদের মনের বনে রয়ে গেছে দুর্নীতির শেকড়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চরহায়দার, লালচর, চরআলগা, চরহাদি ও চরশাহজালালে বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র বলছে, চরগুলোতে ২০ হাজার একর বন বিভাগের জমি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮২১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশাল বনাঞ্চল ও জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রভাবশালীদের বনের গাছ ও মাটি কেটে খালে বাঁধের পর বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরবর্তী বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকায় লিখিত-অলিখিত বিট দেওয়া হয় চরাঞ্চল। সেইসঙ্গে বনের খালে ঝাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুসের কারবার করা হচ্ছে।

    এছাড়া গোপনে বনের গাছ বিক্রি ও বন বিভাগের জমিতে মহিষ চড়ানোর অনুমোতি দিয়ে মাসিক ও বার্ষিক কিস্তিতে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে রাখালদের থেকে। নারকেল গাছের ডাব বিক্রি করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অত্যাচার, হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

    মো. অহিদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর চরের খালে বাঁধ দিতে নিষেধ করেছেন। তারপরও টাকা নিয়ে বন বিভাগ খালে বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রভাবশালীদের। গণঅধিকার পরিষদের নেতা হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ।’

    তিনি বন বিভাগের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। সহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তাদের শতাধিক মহিষ রয়েছে। বছরে প্রত্যেকটি মহিষের জন্য বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের লোকজনকে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে খালে বাঁধ দেওয়া হয়।’

    হাসান সরদার নামে অন্য একজন বলেন, বন বিভাগের লোকজন চরে লাখ লাখ টাকার কারবার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান যুগান্তরকে বলেন, তিনি চরফাতেমা, চরআলগা ও চরহায়দারের দায়িত্বে আছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য নেই এবং তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

    উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রওসান হাছান দুর্নীতির গডফাদার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালে বাঁধ দেওয়া হলেও এখন সে সুযোগ নেই। বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় করেছেন কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

    এ এম

  • সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে একাধিক. সন্তানের মধ্যে কোনো একজনের প্রতি বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করাও অন্যদের ওপর এক ধরনের অবিচার করা। আবার যেমন সাধারণ দান বা কারো জন্য জায়গাজমি, সম্পদ ইত্যাদি ভাগবাটোয়ারা ও বণ্টনে বে-ইনসাফি করা, কারো প্রতি বেশি টান অনুভব করে কমবেশি করা-এসবই হলো, জুলুম ও অবিচার। এজন্য জরুরি হচ্ছে, কাউকে কিছু হিবা-দান বা দেওয়ার ইচ্ছা হলে, সর্বোচ্চ ইনসাফ কায়েম করা এবং সাধ্যমতো সবার জন্য সমবন্টন করা জরুরি!

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে যায় (মাতার লক্ষণ দেখা যায় কারো মধ্যে বা দ্রুত মৃত্যু হবে এমন অবস্থা তৈরি হয়), আর যে যদি কল্যাণকর কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য ইনসাফের সঙ্গে পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ওনিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো। (সুরা বাকারা: ১৮০)এ আয়াতের তাফসির সম্পর্কে মাআরেফুল কোরআনে এসেছে, যদিও ও ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার বিষয়ে এ আয়াতটি (সুরা নিসার ৭নং আয়াত ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও তেমনি অংশ রয়েছে; হোক তা অল্প বা বেশি-এটি একটি নির্ধারিত অংশ’) দ্বারা এ-জাতীয় ওসিয়তের বিধান রহিত হয়ে গেছে। একইভাবে তাফসিরে জাসসাস ও কুরত্ববিতে এসেছে, মিরাস-উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াত আত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করাকে রহিত করে দিয়েছে। এমনকি বিদায় হজের ‘ঘোষণায় রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক হকদারের হকপ্রাপ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই এখন থেকে কোনো ওসিয়তকারীর জন্য তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারের জন্য ওসিয়ত করা জায়েজ নয়। (জামে তিরমিজি)

    সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বাবা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসুল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবীজির (সা.) কাছে এলেন। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এমন কাজ তোমার অন্য সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা চলে এলেন এবং তিনি তার যে দান ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম)

    মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজির কাছে যখন এ বিষয়ে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্য আসা হলো, তখন নবীজি (সা.) বললেন, এছাড়া তোমার কি আর কোনো পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এমন (এই একই সমপরিমাণে) দান করেছ? (এর উত্তরে) যখন বলা হলো, না। তখন নবীজি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি জুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সবাইকে সমবন্টন করে না দেওয়ার কারণে নবীজি স্বয়ং সাক্ষী তো হলেনই না। বরং, এমন আচরণকে জুলুম অবিচার হিসাবে আখ্যায়িত করলেন। আরেক বর্ণনায় আরো একটু বর্ধিত বিবরণ এসেছে। নবীজি বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা (তোমার সব ছেলে) সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে এমন করো না। (অর্থাৎ, একজনকে কিছু (বেশি বা সাধ্যের মধ্যে) দান করে, অপরকে বঞ্চিত করো না। (মুসলিম)

    শেষোক্ত বর্ণনাটি থেকে এ বিষয়টিই বুঝে আসে

    যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই কর্তব্য হচ্ছে, আমরা যদি আমাদের সন্তানদের থেকে সদ্ব্যবহার কামনা করি, তবে তাদের সবার প্রতি ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আজকাল আমাদের সমাজে এ-জাতীয় আচরণও প্রকাশ পাচ্ছে, অনেকেই তাদের আপন সন্তানের মধ্যে কারো প্রতি বেশি আবেগ ভালোবাসার কারণে, কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়েন। ফলে ওই সন্তানের প্রতি বা তার ছেলেমেয়ের প্রতিও লালন করেন অগাধ ভালোবাসা। এমন আচরণ কখনো কাম্য নয় কারো থেকেই! এর ফলে অনেক সময় বাকি সন্তানরা রাগ-অভিমান করে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কেউবা মা-বাবার প্রতি অযত্ন-অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন করে। এটিও কোনোভাবে কাম্য নয়। এমনকি বাবা-মায়ের এমন আচরণের কারণে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়াও বিধিসম্মত নয় কখনোই।

    লেখক: শিক্ষার্থী, শ্রীপুর ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর

    এ এম

  • রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি  বলছে সিআইডি

    রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি বলছে সিআইডি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আইনি মতামতের জন্য ওই খসড়া অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়।

    দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করার কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সম্প্রতি গণমাধ্যমে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সিআইডির নজরে এসেছে। তবে খসড়া চার্জশিট বা সংশ্লিষ্ট কোনও তথ্য সিআইডির কোনও কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে দেননি।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

    সিআইডি আরও জানায়, এ ধরনের সংবেদনশীল মামলার তথ্য প্রকাশে সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত। তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

    সংস্থাটি পেশাদারত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলেও জানানো হয়েছে।

  • উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডে জনৈক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মামুনকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করেছে মো. শামিম নামে এক যুবক।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মামুনের পরিববার জানায়, আহত কলেজ ছাত্র মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসেবা দেওয়া হয়।

    আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়মানিকা ১নং ওয়ার্ডের জনৈক এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন পাশের এলাকা কুড়ালিয়া ৪নং ওয়ার্ডের মো. রুহুল আমিন বাড়ইয়ের ছেলে মো. শামিম। ওই স্কুলছাত্রী ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মামুনের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হওয়ায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন।

    ওই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন পর মামুনকে একা পেয়ে শামীম রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। আহত শিক্ষার্থী মামনুকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসা শেষে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

    মামুন বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এ হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপার আহত কলেজছাত্র মো. মামুন বলেন, পাশের এলাকার শামীম আমাদের বাড়ির ওপর ভাতিজি স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। ওই ঘটনায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে আমি প্রতিবাদ করি। ওই সময় ছেলেটি স্কুলছাত্রীকে আর বিরক্ত করবে না বলে পারিবারিকভাবে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ঘটনার সমাধান হয়। এ ঘটনার জের ধরে মো. শামীম বাড়ইসহ অনেকে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য বুধবার রাতে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।

    আহত মামুন আরও বলেন, আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

    এ ব্যাপার হামলাকারী শামীমের ভাই আব্দুস সালাম জানান, আমি ঢাকায় আছি। আমার ভাইকে আগে মারধর করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক এ ঘটনায় মীমাংসের চেষ্টা করছি।

    এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

    মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে।এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এর আগে গত ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ১ জুন প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করে।

    এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    এ এম

  • সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল কাশেম সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।

    গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেপ্তার দাবিতে রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

    আতাইকুলা থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

    তিনজন হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    পৈতৃক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে ভাইয়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। বাদী শাহ নেওয়াজ আহাম্মদের অভিযোগ, অভিযুক্ত তুরিন আফরোজ প্রভাব খাটিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন।

    অভিযোগে বলা হয়, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন আফরোজ জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এ ছাড়া তিনি প্রভাব খাটিয়ে বাদীর মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরিন আফরোজ বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, যার ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের কারণে বাদীর মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল মাহমুদ রায়হান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

  • স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূ শেফা (১৮) গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার মুজিবুল ইসলামের মেয়ে ও উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের মিন্টুর ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ ওরফে সেতুর স্ত্রী।

    রোববার রাতে চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেতুর চৌগাছা শহরে আকবর মার্কেটে বেস্ট ওয়ান নামে একটি কাপড়ের দোকান আছে।

    শেফার পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই মাস পূর্বে সেতু ও শেফার বিবাহ হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সেতু ও তার পরিবার প্রথমে ব্যবসা করার জন্য এবং পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার জন্য শেফার পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। শেফার পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে টর্চার করতে থাকে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রোববার রাতে তার স্বামী সেতুকে লাইভে রেখে শেফা তার পিতার বাড়িতে গলায় রশি দেয় । পরিবারের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার একই কথা মেয়েটার হাতের মেহেদি শোকানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের এক ফ্ল্যাটে একাকী বসবাসরত এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে এসেছে। বৃদ্ধ ও অসহায় পিতামাতার ভরণপোষণ সন্তানের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, অনেক সন্তানই এ দায়িত্ব পালন করেন না। শিক্ষিতদের মধ্যে এ প্রবণতা একটু বেশি দেখা যায়। শিক্ষিত ও উপযুক্ত সন্তান থাকার পরও অনেক অসহায় বাবা-মাকে আশ্রয় নিতে দেখা যায় বৃদ্ধাশ্রমে। উপার্জনক্ষম সন্তান থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতাকে যদি বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাতে হয়, এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর আর কিছু হতে পারে না। প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত বৃদ্ধ পিতামাতার দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা এবং তাদের সঙ্গ দেওয়া।আমরা জানি, বৃদ্ধ বয়সে যাতে সন্তানের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন, সেজন্য পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ গৃহীত হয়েছে। কোনো সন্তান যদি বৃদ্ধ পিতামাতাকে বাধ্য করে বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও বসবাস করতে অথবা কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    পিতামাতার ভরণপোষণের আইনটি একটি জনকল্যাণকর আইন। এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণে পিতামাতার ভরণপোষণ না করেন, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।

    কোনো সন্তান পিতামাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। পিতামাতা একত্রে বা আলাদা বসবাস করলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন, তাহলে তারা নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ দেবে।

    আইনটি শুধু পিতামাতার ভরণপোষণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এতে পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণের ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে পিতামাতার মতো ভরণপোষণ দিতে হবে।

    আইনে কেউ অপরাধ করলে তা অবশ্যই আমলযোগ্য। এ আইনের অধীনে করা মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে। অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতামাতাকেই করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্র্রহণ করবেন না। আদালত সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আপস নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেম্বার বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তবেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং তখনই তা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে।

    আইনে ভরণপোষণ অর্থ-ক. খাওয়া-দাওয়া; খ. বস্ত্র; গ. চিকিৎসা; ঘ. বসবাসের সুযোগ-সুবিধা এবং সঙ্গ দেওয়া। এ আইনের ৩ ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধারায় আরও উল্লেখ আছে, সন্তানকে পিতামাতার সঙ্গে এবং একই স্থানে বসবাস করতে হবে। পিতামাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে একত্রে বা আলাদা বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না। প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান ও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে সন্তান থেকে পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা সন্তানদের থেকে পৃথক বসবাস করলে সন্তান মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, ক্ষেত্রমতে উভয়কে দিতে হবে।

    এ আইনের ৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, সন্তান পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে ভরণপোষণ করবে। এ আইনের ৫ ধারা মোতাবেক পিতামাতার ভরণপোষণ না করলে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৫(২) ধারা মোতাবেক, কোনো সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামী, পুত্র, কন্যা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় ব্যক্তি পিতামাতা বা দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণপোষণ করতে বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে তিনি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ওই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    আইনের ৭ ধারা মোতাবেক, পিতামাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এ অপরাধের জন্য মামলা করা যাবে। আইনে আপস মীমাংসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের চেয়াম্যান, মেম্বার, কমিশনারদের আপস করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ আপস মীমাংসা আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান আইনে রাখা হয়েছে।

    মা-বাবা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হবে, তা একটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন। এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এ আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। তবে প্রশ্নটি শুধু আইনগত নয়, নৈতিকতারও। কার্যত সব পিতামাতাই সন্তানের মঙ্গল চান। কোনো পিতামাতাই সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করে, তাহলে সন্তানের বিরুদ্ধে না গিয়ে উপায় থাকে না। অনেক সন্তান পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য করে। আবার কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে পিতামাতা এ আইনের মাধ্যমে ভরণপোষণের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    এ এম

  • চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনকে চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বদরগঞ্জ)-এর বিচারক সোহেল রানা তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শামীম আল মামুন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন।

    রংপুর জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ অক্টোবর শামীম আল মামুন, জিকরুল হক ও হাদিজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন একই উপজেলার দক্ষিণ বাওচন্ডির মো: ফয়সাল হক। শিক্ষা অধিদফতরের এসএস ডিপি প্রকল্পে চাকরি দেয়ার নামে চেকের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

    মামলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের প্রার্থনা করেন শামীম আল মামুন। বিচারক শুনানি শেষে শামীম আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শামীম আল মামুন বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং বিএনপির পেশাজীবী ফোরাম জিয়া পরিষদের বদরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা যায়, তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভুয়া নাম, রোল ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি নেন শামীম আল মামুন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

    কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভুপেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আর আদালতের ওপরে কারো কিছু করার নেই। সে যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এটা তার নিজের বিষয়। এতে আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    নিউজ,

    রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), ওই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মরহুম মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মরহুম কফুর উদ্দিনের ছেলে মো: সাজু মিয়া (৫৫)।

    এছাড়া বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মরহুম সুলতান আলীর ছেলে মো: এরশাদ মিয়া (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসাথে অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং ধীরে ধীরে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়।

    ছাত্তার মিয়া নামের অপর একজনের কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: সাজু মিয়া নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ যাতে ময়নাতদন্ত করাতে না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ ও মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির দায়ে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির দায়ে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার চরলরেন্স বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    আদালত সূত্র জানা যায়, চরলরেন্স বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নুরনবী ও নুরউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রি করে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘটনার সত্যতায় মেয়াদোত্তীর্ণ দইসহ হাতেনাতে আটক করার পর তাদের এই জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী বাবুল দধি বিতানের মালিক নুর উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা ও অপর ব্যবসায়ী নুরনবীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। একইসাথে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ দই। পরে জনস্বার্থে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয় সেগুলো।

    অভিযান চলাকালে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: রিয়াজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। আগামীতেও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান থাকবে।