অপরাধ ও বিচার

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

  • যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শার নাভারণ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ, উৎপাদনের তারিখবিহীন ও অনুমোদনহীন রং ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিসমিল্লাহ স্টোরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোরের সদস্যরা।

    ঠিকানা বিহীন একটি ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা এসব শিশু খাদ্য দীর্ঘদিন ধরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনিরাপদ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়।

    ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা জানান, এসব খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুরা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

    পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৫ ধারায় আরো ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।

    এ সময় শার্শা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

  • ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে কারাগারে যাওয়ার ৬০ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি এবং পরবর্তীতে ঢাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল ৩টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক থেকে তিনি বের হন। এর আগে জেল গেটে তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে নিতে অপেক্ষায় ছিলেন।

    ইমি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তিনি জামিন পান। আইনি জটিলতার কারণে সাতদিন পর মুক্ত হন তিনি।

    চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ ইমি ও আরেকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন রোববার আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

  • ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছেন।

    নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি তাঁর স্ত্রী আফিয়া ঝুমুরকে (৩৪) নিয়ে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের প্রথম লেনে বসবাস করতেন। তিনি লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    শহিদুলের স্ত্রী আফিয়া ঝুমুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা একসঙ্গে খাবার খান। পরে শহিদুল ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে কল করে জানান, তাঁর মায়ের জন্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন। সেগুলো দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং কাজ শেষে রাত ৯টা বা ১০টার মধ্যে শহরের বাসায় ফিরবেন। রাত নয়টার দিকে শহিদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তাঁর বড় বোন শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মুঠোফোন চার্জে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। রাত গভীর হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্ত্রী আফিয়া সদর থানায় জিডি করেন।

    আফিয়া ঝুমুর আরও জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে এসে স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে নেন শহিদুল ইসলাম। বাবু ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। পরে নিজের ব্যবহৃত দুটি ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘর থেকে বের হন শহিদুল। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোন দুটি রেখে বের হয়ে যান।

    মোটরসাইকেলচালক বাবু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শহিদুল ইসলামকে মোটরসাইকেলে করে লোহালিয়া সেতুর ঢালে পৌঁছে দেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকালে আফিয়া ঝুমুর নামে এক নারী তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম লোহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি নিজেই ফেসবুকে “উড়াল দেব আকাশে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি।’

  • শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাজা গাঁজা গাছসহ সাইফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফৈনপুর পাঠান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ফৈনপুর দক্ষিণ পাড়ার কাঞ্চন পাঠানের ছেলে।

    জানা গেছে, সাইফুল বসতবাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর খানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ছয়টি তাজা গাঁজ গাছ জব্দ করে।

    শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, মাদক মামলায় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।

    অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

    অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    বুধবার সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    বহু বছর ধরে জাল সনদে শিক্ষকতা করে আসা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নেয়া টাকা ফেরত ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪৮৭ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে প্রাথমিকভাবে তাদের লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। কেনো এসব জাল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

    বুধবার এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি মাধ্যমিক ও শিক্ষার সব আঞ্চলিক উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানোর হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৪৭১ জন জাল, ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ অনুসারে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো ৪৭১ (মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন) জন জাল, ভুয়া সনদধারী তালিকাভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হেয়েছে।

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসায় ডিস লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন (৩২) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ আগে একইভাবে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আহত হন।

    সোমবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার সেনেরখীল মোল্লা কোনায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আবদুল হক নামে তাদের এক প্রতিবেশী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল তার স্ত্রী রাবেয়া ও সন্তানদের নিয়ে সেনেরখীল গ্রামের মোল্লা কোনায় আবুল হাশেমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাবেয়া ডিস লাইন মেরামত করছিলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইসমাইল তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    এর কিছুক্ষণ পর ইসমাইল ওই ডিস লাইনটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। তাঁর নাম আশিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

    আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকার শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের সামনে থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা–পুলিশ। আশিকুল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মুন্সীর ছেলে।

    বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আশিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানতে চাইলে খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) আনিসুজ্জামান আজ বিকেলে বলেন, ‘ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্য চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কনস্টেবল আশিকুল ছুটিতে ছিলেন নাকি দায়িত্বরত থাকাকালে চট্টগ্রাম এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন জবি শিক্ষার্থী অনিক। এরপর অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ভুক্তভোগী অনিক নিজে ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

  • চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৫ জন আটক

    চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৫ জন আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন (৬২)। নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা খাল পাড়ার শওকত আলীর ছেলে গাঁজা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন (৫৮)। সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের আড়সিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামের মৃত লুৎফর মন্ডলের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন (৩৮)। হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের তোরাপ হোসেনের ছেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী জালাল উদ্দিন (৫৭)এবং ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে দুখুকে (২৭) চোর সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, স্টোর রুমে রাখা ল্যাপটপসহ মালামালের ক্ষতি করতে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।

    আসমাউল ইসলাম নামে একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেয়। ওই আগুন দিতে তার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২ মে) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারসহ এসব তথ্য দেন।

    গ্রেফতার আসমাউল মাস্টাররোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অধিদপ্তরে কাজ করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস ও মাস্টাররোলে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত হুয়ামুন কবীর খান।

    গতকাল শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। সেখানে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল, যেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায়। ২৯টির বেশির ভাগ অংশ এবং ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল।

    হিসাব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, ‘আগুন দেওয়া’ আসমাউলের সঙ্গে সেখানে কর্মরত আরো দুইজনসহ অন্তত তিনজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

    “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও মালামালের ক্ষতি করতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুনে প্রায় ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

    ঘটনার পরপরই কাজ শুরুর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

    মোস্তাক সরকার বলেন, “চিহ্নিত করার পর আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি, আসলে সে প্রকৃত জড়িত কি না। নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।”

    এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসমাউল তার সঙ্গে জড়িতদের আরো তিনজনের বিষয়ে তথ্য দেয়- যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের কথা বলেন তিনি।

    “যে তথ্য পেয়েছি, হৃদয় নামে আরেকজন শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান আছে।”

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কিছু জিনিস বলেছে, এটা আরও যাচাই করতে হবে। অনেকগুলো বিষয় সামনে আছে। এটা একটা সরকারি ভবন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো রাখা ছিল, এই সময়ে কেন আগুন দেওয়া হল।

    “যে আগুন দিয়েছে সে ওখানেই চাকরি করে। অন্যান্য যারা আছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? জানতে পেরেছি, যে আগুন দিয়েছে তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এ কাজটা করে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে। এ তথ্যগুলো আছে, জিনিসগুলো উদ্ধারসহ অন্যান্য কাজগুলো করতে একটু সময় লাগবে।”

    তার ভাষ্য, “যেহেতু তদন্ত চলমান, সবগুলো বিষয় খোলাসা করে বলা যাবে না। তাতে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।”

    ৮৩টি ল্যাপটপের হদিস না মিললেও সিসিটিভি ভিডিয়োতে সেখান থেকে কোনোকিছু সরানোর প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

    কার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত জানতে পেরেছি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৫৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফিলিপনগর পশ্চিম দক্ষিণ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম ও একই এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আরিফুর ইসলাম। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ দিন পর এই প্রথম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানাপুলিশ।

  • পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষাশেষে অস্ত্রসহ ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন, সিফাত (১৫), মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন, মো. মিয়াদ হোসেন, মো. হৃদয় হোসেন, ও নয়ন হোসেন।

    জানা যায়, অস্ত্রসহ আটক সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষার্থী মো. মাসুম মৃধা ও মো. সিহাব হোসেন উপজেলার রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

    কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মো. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মো. আ. রব জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরবী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

    তারা জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পূর্বে দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়। তবে পরীক্ষা শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিবাদে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়।

    একপর্যায়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পথে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই সিহাবের সহযোগিতায় অস্ত্রসহ পাশের ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিফাতকে ব্যাগে বহন করা একটি কুড়ালসহ আটক করা হয়। এসময় পালিয়ে যায় সুইচ গিয়ার ও দেশীয় অস্ত্রসহ তার আরো কয়েক সহযোগী। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    তারা আরও জানান, আটক সিফাতের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে সে বড়ডালিমা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে ব্যাগে কুড়াল নিয়ে এসেছে। মিয়াদ তার এলাকার বড় ভাই। পরীক্ষা শেষে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তারই প্রস্তুতিতে সে কুড়াল নিয়ে আসে ও তার কয়েক সহোযোগি নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আটক সবাই শিশু আইনে পড়ে। থানায় নিয়ে প্রভিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

    এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।

    হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।

    এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    পরিবেশ রক্ষা ও আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত এক অভিযানে একাধিক অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম (সিনিয়র সহকারী সচিব)। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান।

    জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছিল। এতে আশপাশের কৃষিজমি, গাছপালা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে।

    সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী এম বি বি ব্রিকস এবং মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এছাড়া এম বি বি ব্রিকস, মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস, এস বি এস ব্রিকস এবং মেসার্স এম বি এস ব্রিকস এই চারটি ইটভাটার প্রতিটির বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, এসব ইটভাটা অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবহার করছিল, যা কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে ইট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়িয়ে তুলছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    অভিযান চলাকালে দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের শিকার হওয়া এলাকাবাসী এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় পুরো অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

  • ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    নীলফামারীর ডিমলায় একটি ভুট্টাখেত থেকে পুলিশের ইউনিফর্মসদৃশ পোশাক, ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভুট্টাখেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুলিশের পোশাক, সিমকার্ড ও ধারালো ছুরি।

    নির্জন স্থানে পুলিশের পোশাক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কোনো অপরাধী চক্র বড় ধরনের অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ শেষে এসব সরঞ্জাম এখানে ফেলে গেছে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে এল বা কারা এখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।

  • সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান

    আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকে সারা দেশে অনলাইনে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে সংসদ অধিবেশনে এক নোটিশের জবাবে এমনটা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যুব সমাজকে রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা বদলে আবারও কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    এ সময় যুবসমাজকে রক্ষায় দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    মুক্ত

  • চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরির রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আরেক ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পাওয়া যায়।

    গত বছরের ১৩ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে বাসার মালিক জনৈক মো: ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো: জাকিরের সাথে এক অজ্ঞাতনামা নারী গৃহকর্মীর কাজের জন্য দেখা করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং এনআইডি নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তিনি কাজে যোগ দিলেও এনআইডি আনেননি। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসার মালিকের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।

    এ ঘটনায় ইবনুল আলম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি কয়েক মাস তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী মামলাটি তদন্ত করছেন।

    পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্ত দল কার্যক্রম চালাতে থাকে। এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার আরেক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায়।

    পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পূর্বের হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বিলকিস বেগমকে (৪০) শনাক্ত করে শ্যেন অ্যারেস্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২ এপ্রিল তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন।

    তার দেয়া তথ্যমতে পিবিআই’র অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত শহরবানু নামে এক নারীকে পায় এবং জুয়েলারি দোকান খুঁজে পেয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয়ের সত্যতা পায়।

    আসামি বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং শহরবানু ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।

    পিবিআই তদন্তে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি বিলকিস কৌশলে পরিচয় গোপন করে ভিকটিমের ছেলের বাসায় বুয়ার চাকরি নেন। বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিম রওশনারা বেগমকে খাইয়ে অচেতন করে ভিকটিমের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিচিত শহরবানুর মাধ্যমে বিক্রয় করেন।

    এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রতিষ্ঠান। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা বদ্ধপরিকর।

  • বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত থেকে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল এলাকার ৮৩৭/১ এস সীমান্ত পিলারের নিকটবর্তী একটি ফসলি জমি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বামনদল গ্রামের মৃত করিমের ছেলে সাজু বাড়ির পাশের ফসলি জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় তিনি মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন মর্টার শেল দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বুড়িমারী বিওপির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাটগ্রাম থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এটি ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পালালেন আসামি

    পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পালালেন আসামি

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। আসামির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বনমালী রায় নামে ওই পুলিশ সদস্যের মাথা ফেটে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের হাগুড়াগছ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

    পালিয়ে যাওয়া আসামি হলেন— উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের লোহাকাচি গ্রামের রাসেল ইসলাম (৩৩)। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান ও গরু চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে আহত পুলিশ সদস্য বনমালী রায় তেঁতুলিয়া মডেল থানায় কর্মরত।

    জানা গেছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার লোহাকাচি গ্রামের শরিফ উদ্দিনের গোয়াল থেকে দুটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় গরুর মালিক রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া থানার এসআই বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলকে গ্রেপ্তারে তার বাড়ি ঘেরাও করে।

    আসামি ঘরের ভেতরে অবস্থান করছে নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সদস্য বনমালী রায় দরজার সামনে যান। এসময় রাসেল অতর্কিত দরজা খুলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বনমালীর মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে অপর পুলিশ সদস্যরা আহত বনমালীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজা মুনির পূর্বা বলেন, আহত পুলিশ সদস্যের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে ভ্যান-গরু চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার সকালে আরও একটি গরু চুরির মামলা হয়। এদিন বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গেলে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • ছাগলের সাথে শত্রুতা!

    ছাগলের সাথে শত্রুতা!

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ঘাস খাওয়ায় অপরাধে একটি বকরীর চোখ তুলে নিয়েছে আরজ আলী মন্ডল নামে এক পাষন্ড।
    সে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের উসমান মন্ডলের ছেলে। রবিবার বিকেলে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাগলের মালিক চৌগাছা থানায় একটি লিখিত আভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, এদিন বিকেলে গ্রামের রিংকু খানের একটি ছাগল আরজ আলীর ড্রাগন ক্ষেতের ভিতরে ঢুকে ঘাস খায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরজ আলী ছাগলটির ডান চোখ তুলে ফেলে। খবর পেয়ে ছাগলের মালিক স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ছাগলটি উদ্ধার করে চৌগাছা পশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারী এসআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি অমানবিক অপরাধী কোন ছাড় পাবেনা

  • ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    গাইবান্ধার সাঘাটায় ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহাবুব আলম। একইদিন সকালে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মথরপাড়া পচাবস্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন (মনা)। মনা ওই গ্রামের সুরেন্দ্র বর্মনের ছেলে। তিনি মথরপাড়া বটতলা বাজারে চা-দোকানি ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার নিজ বাড়িতে ব্লেন্ডার মেশিন মেরামত করার চেষ্টা করছিলেন মনা। এসময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরে পরিবারের সদস্য টের পেলে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের ফুফাতো ভাই সুমন রায় জানান, মনা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। মনার বাবা-মা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগী। সকালে ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম স্থানীয়দের বরাতে বলেন, বাড়ির ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় মথর পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে। তিনি চা দোকানি ছিলেন।

  • প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

    জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (পল্লব) এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশদাতারা বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক দফা বাতিল করে সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মেধা ভিত্তিক সমান সুযোগ নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

    নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় মেধা ভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নীতিমালার দফা ৮.৬ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।

    এ ধরনের বিধান সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী। নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ দফায় প্রবর্তিত ৮০:২০ প্রাতিষ্ঠানিক কোটা এবং পৃথক প্রতিযোগিতা কাঠামো সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যেকোনো শ্রেণিবিভাজন অবশ্যই যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই বিভাজনের সঙ্গে শ্রেণিকরণের যুক্তিসঙ্গত সম্পর্ক থাকতে হবে।

    বর্তমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ধরনের (সরকারি এবং বেসরকারি) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজন করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। সংবিধান এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী বিভাজন সমর্থন করে না।

    এছাড়াও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য পৃথক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। কাজেই মেধাভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোটা আরোপ অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ২০২৬ সালে প্রণীত নীতিমালার অধীনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা অন্যায্যভাবে বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোজগতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির ওপর নেতিবাচক এবং বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

    উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা, নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ এবং ৮.৬ দফা পুনর্বিবেচনা করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একসঙ্গে বিষপানে প্রেমিকা মীম আক্তারের মৃত্যুর ৬ দিন পর মারা গেলেন প্রেমিক মোরছালিন হাসান পরশও। শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরশের মৃত্যু হয়।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম।

    নিহত পরশ (২৫) উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে ও মীম (১৯) একই গ্রামের শফিউল ইসলামের মেয়ে। তারা একে অপরের প্রতিবেশী ।

    এর আগে গত ১৯ এপ্রিল সকালে ওই গ্রামে মীম ও পরশ একসঙ্গে বিষপান করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেলেই মীমের মৃত্যু হয় এবং পরশের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মোরছালিন হাসান পরশ ও মীম আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে তারা দুজনই নিজেদের পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে উভয়ের পরিবার রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি মীমকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। এরমধ্যে মীম স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে উভয়ের মধ্যে অভিমানের সৃষ্টি হয়। পরে সেই অভিমান থেকেই পরশ ও মীম ১৯ এপ্রিল সকালে একসঙ্গে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ সকালে পরশের মৃত্যু হয়েছে। আমরা রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি। সেখানেই (রমেকে) মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এম কে

  • নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় রবিউল ইসলাম (৪০) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে রবিউল ইসলাম ভ্যান নিয়ে উপজেলা থেকে কিশোরগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পিছন দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাক্টর তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ভাইয়ের লাশ নিতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে মীর ওয়াসী

    ভাইয়ের লাশ নিতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে মীর ওয়াসী

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি আফগানিন্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদির। লাশের ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আমেরিকা প্রবাসী ভাই মোহাম্মাদ ইরি। এবং ভাইয়েল লাশ নিতে লন্ডন প্রবাসি আর এক ভাই মীর ওয়াসী বাংলাশে এসেছেন।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্প ও মহেশপুর থানায় খবর দেয়।
    পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ ও পিবিআই লাশের পরিচয় সনাক্তের জন্য আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু কোথাও ম্যাচ না করায় শেষ পর্যন্ত লাশটি বেওয়ারিশ হয়ে যায়।
    বেওয়ারিশ লাশটি দাফনের জন্য ঝিনাইদহ আন্জুমানে মফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করে। সংস্থাটি ১৪ এপ্রিল লাশটি দাফন করে ফেলে।
    এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া লাশের ছবি দেখে নিহত হাশমত মোহাম্মাদীর ভাই আমেরিকা প্রবাসি মোহাম্মাদ ইরা লাশটি তার ভাইয়ের বলে শনাক্ত করে। এসময় তিনি আমেরিকায় তার পরিচিত বাংলাদেশের বগুড়ার সন্তান আহসান এর সাথে যোগাযোগ করে। আহসান লাশটির অবস্থান সঠিকভাবে শনাক্ত না করতে পারলেও এটি যশোরের চৌগাছা সীমান্ত হতে পারে বলে অনুমান করেন। সেই হিসেবে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে চৌগাছা হাসপাতালের ডাক্তার সাইদুর রহমান ইমনের সাথে যোগাযোগ করেন। ডা. ইমন তাকে সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খানের মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। নিহতের ভাই জানান, তার ভাই হাশমত সর্বশেষ ইটালিতে বসবাস করতো। সে ইটালির পার্সপোর্ট নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আংটির পাথরের ব্যবসা করতো।
    সর্বশেষ ১০ এপ্রিল (০১৭৯০৮৫১৭৮৫ / +৯১৯৩৩০০৮৫৮৫৩) মোবাইল নম্বরে তার ভাইয়ের সাথে কথা হয় বাংলাদেশের দালাল কথিত মাসুদ নামের একজনের মাধ্যমে। সে জানায় তার ভাই বাংলাদেশের ভারত সীমন্তে আছে। ১১ তারিখে হাসমত তার আমেরিকা প্রবাসি ভাইকে জানায় সে বাংলাদেশ সীমন্তে ইছামতির নদীর পাশে অবস্থান করছে।
    মোহাম্মদ ইরা আরো জানান এরপর থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা এসময় মাসুদের ফোনও বন্ধ পায়। কয়েকদিন পর মাসুদের সাথে তার একবার কথা হয় মাসুদ তাকে জানায় আপনার ভাই মারা গেছে বাংলাদেশে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এসময় মাসুদ তার মোবাইল ফোন থেকে মৃতদেহের দুটি ছবিও পাঠায়। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
    পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল আমেরিকা প্রবাশি বাংলাদেশী আহসানের মাধ্যমে হাশমত মোহাম্মাদির ভাইয়ের সাথে এব্যাপারে কথা হয়। আহাসন ইন্টারনেটের মাধ্যমে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। হাসপাতালের ডা. ইমন সাংবাদিক রহিদুল খানের মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে নিহতের ভাই রহিদুল খানের সহযোগিতায় মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতানের সাথে কথা বলে লাশটি তার ভাইয়ের বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেন।
    এর পরে তিনি ২৪ এপ্রিল শুক্রবার লন্ডন থেকে ভাইয়ের লাশ নিতে বাংলাদেশে পৌছান লন্ডন প্রবাসি মির ওয়াসি। মির ওয়াসির সাথে তার স্ত্রী জহুরা হাসমিও বাংলাদেশে এসেছেন।
    এদিকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হয়। নউজ প্রকাশ হওয়ার পরে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে।
    মীর ওয়াসী ঢাকা এসেই সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান এর সাথে যোগাযোগ করে। রহিদুল খানের দেওয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ি তারা পরবর্তীতে মহেশপুর থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।
    এসময় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফসহ সাংবাদিক বাবুল আক্তার, আসুদুজ্জামান, আজিজুর রহমান, ডিজিএফআইরে সদস্য ও ডিএসবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাদেরকে লাশ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো বলেন।
    এবং তাদেরকে আফগান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিলে তারা শুক্রবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • জাতীয় সংসদে নিজের নিরাপত্তা চাইলেন এমপি

    জাতীয় সংসদে নিজের নিরাপত্তা চাইলেন এমপি

    জাতীয় সংসদে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চাইলেন নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদ মোস্তফা। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ নিরাপত্তা চান।

    মাসুদ মোস্তফা বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের আতকাপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখে সেখানে খোঁজ-খবর নিতে গেলে বিএনপির নামধারী কিছু সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় তারা পাশের মসজিদে গেলে সেখানেও ঘেরাও করে তিনি ও তার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। মসজিদের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়। সেখানে পেশাদার সন্ত্রাসী নিয়ে আসা হয় এবং আমাদের হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় মামলায় নয়জনকে আটক করলেও তাদের একজন মাত্র তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরীহ লোক।’

    মাসুদ মোস্তফা এ সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

    এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সবাই দুঃখিত। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই নয়জন গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দাষীদের উপযুক্ত বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো সংসদই এ ব্যাপারে একমত। আপনি ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করুন।’

  • ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : চিরকুটে শিক্ষকের নাম, আটক ২

    ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : চিরকুটে শিক্ষকের নাম, আটক ২

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো: গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।

    বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোসা: ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ‘

    তিনি আরো বলেন, ‘সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করি।’ নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, ‘জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের লাশের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’

    নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে জানান, মিমোর লাশ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন। ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।

  • পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হামলায় আহত ৬

    পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হামলায় আহত ৬

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক মাদরাসা অধ্যক্ষ যোগদান করতে গেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতির উপস্থিতিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও স্থানীয় কয়েকজনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    রোববার দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সামনে পঞ্চগড়-আটোয়ারী আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত বছরের ২৭ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদরাসার পরিচালনা কমিটি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের নিয়ম থাকলেও এক বছরেও তা প্রত্যাহার করা হয়নি।

    এর মধ্যে মাদরাসার এডহক কমিটি উপাধ্যক্ষ ও একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষককে বাদ দিয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হাকিম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়। যদিও এর আগে মাদরাসা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন সভায় আব্দুল হাকিম সরকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

    গত ৮ মার্চ মাদরাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারকে স্বপদে বহাল করা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিচালনা কমিটি বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেতন বিলে স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জেলা আদালতের জিপির মতামত নিয়ে রোববার সকালে অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার মাদরাসায় যোগদান করতে যান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছেলে নাফিউর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা যোগদানে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারের অভিযোগ, যোগদান করতে দিতে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুপুরে তিনি মাদরাসা সংলগ্ন একটি দোকানে অবস্থান নিলে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। পরে এলাকা ত্যাগ করার সময় আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় বাড়ির মালিক-স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

    আব্দুল মতিন সরকার বলেন, মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি যোগদান করতে গিয়েছিলাম। আমাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আমাকে ধাওয়া করে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

    বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, আমি বর্তমান কমিটির নির্দেশনায় আইন মেনে দায়িত্ব পালন করছি। আব্দুল মতিন সরকার অনিয়মের কারণে বরখাস্ত হন। আমার চেয়ে সিনিয়র শিক্ষকরা দায়িত্ব নিতে চাননি, তাই আমি দায়িত্ব পাই।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান বলেন, এই মাদরাসা আমার নানার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা কখনও কোনো প্রভাব খাটাইনি। আব্দুল মতিন সরকার বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে মানতে চায় না। তিনি বলেছেন, ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে, এতে উত্তেজিত জনতা ক্ষেপে যায়। পরে আমি পরিস্থিতি শান্ত করি। আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করব না।

    আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, আমি একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে অধ্যক্ষকে বহাল দেখিয়ে বেতন বিলে স্বাক্ষরের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা আদালতের জিপির মতামত নেওয়া হয়েছে। আজ যোগদানে গিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি স্থানীয়ভাবে হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

  • কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া

    কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক। উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে ফিলিং স্টেশনটিতে তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে লাইনে থাকা অনেক চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এতে বৈধ কাগজপত্র থাকা চালকেরা তেল পেতে সমস্যায় পড়েন এবং পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে খবর দেয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় দুই মোটরসাইকেল চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

    জরিমানা করার কিছুক্ষণ পরই শতাধিক লোকের একটি মিছিল ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইউএনওর বডিগার্ড তৈবুল (৪৩)-এর ওপর চড়াও হয়ে তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনও স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে দেবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

    ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, উপজেলার তিনটি পাম্পে আজ তেল দেওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কাগজপত্র ছাড়া চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় এবং দুজনকে জরিমানা করায় একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালায়। তারা আমার বডিগার্ডের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটায় গোসল করতে নেমে আবু সাঈদ (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের উত্তরে যাদুকাটা নদীর শাহিদাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রশিদ।

    নিখোঁজ আবু সাঈদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে।

    নিখোঁজ আবু সাঈদের চাচা শহিদ মিয়া জানান, দুপুরের দিকে শাহ আরেফিন শাহিদাবাদ এতিমখানা ও মাদরাসা থেকে সমবয়সী চার-পাঁচজন ছাত্র গোসল করতে মাদরাসার পেছনে যাদুকাটা নদীতে যায়। এ সময় যাদুকাটা নদীর উৎস মুখে পূর্ব পাড়ে থাকা ছোট একটি নালা পাড় হয়ে নদীর পশ্চিম পাড় বারিক্কার টিলা সংলগ্ন বাঘের মুখ নামক নালায় গিয়ে গোসল করতে নামে সবাই।

    তবে, আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় তার সাথে থাকা ছাত্ররা মাদরাসা ও আবু সাঈদের বাড়িতে তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বিকেল থেকে যাদুকাটা নদীতে নিখোঁজ আবু সাঈদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে তাকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুকসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

    বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মোছাঃ শিমু আক্তার (৩১)-এর সঙ্গে ১নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০)-এর প্রায় ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর থেকেই আসামি রায়হান রিতু যৌতুকের দাবিতে ভিকটিমের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ভিকটিমের পরিবার যৌতুক দিতে অপারগ হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।

    এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় আসামির নিজ বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা জোরপূর্বক ভিকটিমের মুখে বিষ প্রয়োগ করে এবং তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ০৮:৪৫ ঘটিকায় ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২)।

    মর্মান্তিক এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৩ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অভিযান ত্বরান্বিত করে।

    এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর ০২:৩০ ঘটিকায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০), পিতা—মৃত মোর্শেদ; ৩নং আসামি মোঃ জসিম (৩২), পিতা—মোঃ সেলিম; এবং ৪নং আসামি মোঃ জিতু (৩৪), পিতা—মৃত মোর্শেদুল হক; সর্ব সাং—সৈয়দপুর, জেলা—নীলফামারী—এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, যৌতুক, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ রুবানা তানজিন।অভিযানে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের এসআই মোঃ নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ব্যতীত তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে এবং পাম্পের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। আজ ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পাম্প ম্যানেজার ফুয়েল কার্ড ছাড়া প্রায় ১৫’ শ থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি করছে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এই কারণে আমরা ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা্রেে আদায় করেছি।

  • তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

  • আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিমাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি এবং প্রতিদিন ৯টার বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর ২০২৫ সালে এবং তার আগের বছরও তুলনামূলক কম খুন হয়েছে। চলতি বছরের তিন মাসে ডাকাতি হয়েছে ১৩৩টি, ছিনতাই ৪৩৯টি ও চুরির ঘটনা ২ হাজার ৩১৮টি। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯৪৭টি। তিন মাসে পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪৭ বার। এই মাত্রার অপরাধ আসলেই উদ্বেগজনক। এই তিন মাসের দেড়মাস নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে আশা করা হয়েছিলো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আশাব্যাঞ্জক কিছু চোখে পড়ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড। এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনমনে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আইনের দুর্বলতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ । অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, ছয় মাসের মধ্যে জামিনে বের হওয়া যায়। আর কোনো অপরাধীর চূড়ান্ত বিচার এবং তা কার্যকর করার হার এতো কম যে, শাস্তির ভয় অপরাধীদের মনে স্থানই পায় না। ফলে অপরাধ করতে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। এর সাথে রয়েছে আইনের প্রয়োগহীনতা। অপরাধীদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের অনীহা, পাকড়াও করলেও নানাভাবে মামলার ইজহার দুর্বল দেখানো, সাক্ষী উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হয়-ই না। ফলে দেশে খুন, গুম, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলছে।

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

  • চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছার নিয়ামতপুর গ্রামের খালের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত চকম আলীর ছেলে দুলাল হোসেন (৩৯) কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    (২২ এপ্রিল) বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম এ সাজা দেন।

    জানাযায়, নিয়ামতপুর গ্রামের মাঠের ফসলি জমি থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তলন করে বিক্রি করে আসছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম অভিযান চালায়। এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করারা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ী দুলাল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করেন। একইসাথে উত্তলন করা বালু জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যত্যা নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনের এধরণের অবযান অব্যহত থাকবে।

  • চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে ৪০ বোতল ভারতীয় উইনসেরেক্স সিরাপ (একজাতীয় মাদক দ্রব্য) পাচার করার সময় পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) কে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ। বুধবার সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকার চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটকৃত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের মৃত ওমর আলী খাঁর ছেলে।

    থানাসুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার এস.আই ইমরান হোসেন রাজুর নেতেৃত্বে পুলিশের একটি দল চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করছিল। এসময় কাঁঠালের খোসার ভিতরে অভিনব কায়দায় পলিথিনে জড়ানো অবস্থায় মাদক যশোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এস সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ ভারতীয় মাদক ৪০ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করে। এবং পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচার আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধ ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার সাড়াতলা বাজারের একটি মুদি দোকানে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এজেন্টকে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও স্বচ্ছ ডিজেল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।’

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

  • চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    চৌগাছায় বিশেষ অভিযানে ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দিঘড়ী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (২৫), পুড়াপাড়ার খালপাড়া গ্রামের লুনু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (৪৪), মাসিলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৩), বল্লভপুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে আমিন তরফদার (২৩), মাধবপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মিল্টন হোসেন (৩০), লষ্করপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে ইকবাল রহমান (২৮), ঝিনাইকুন্ড গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ছাব্বির হোসেন সজিব (২০)।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে বিধি মোতাবেক পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছা (যশোর) প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে পাচারের সময় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডিজেল পাচারের অপরাধে বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার দিকে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সাইবার স্পেসে টার্গেটে বয়স্ক ও গৃহিণীরা

    সাইবার স্পেসে টার্গেটে বয়স্ক ও গৃহিণীরা

    দেশের সাইবার স্পেসে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও গৃহিণীরা। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন বিনিয়োগ, ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা টার্গেটে পড়ছেন। এ ধরনের ঘটনায় থানায় দায়ের করা অন্তত ১৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়সূত্র ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে চাকরির প্রলোভন, ভুয়া লটারির প্রলোভন, বিদেশ থেকে অনলাইনে লোভনীয় দামে পণ্য উপহার পাঠানোসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিন হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহিণী ও বয়স্ক ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতা, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামর্থ্যবান না হওয়া এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে পুঁজি করে চক্রটি গৃহিণী ও বয়স্কদের ক্ষতি করছে।ঘটনা ১ : ময়মনসিংহের কোতোয়ালি এলাকার আসমিনা খাতুন (৩৪) পেশায় গৃহিণী। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকেন। সাইবার প্রতারণার এক জটিল ফাঁদে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। গত ৯ ডিসেম্বর বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে অনলাইনে কাজের প্রস্তাব আসে। বিভিন্ন প্রলোভনে রাজি করিয়ে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ‘রিসেপশনিস্ট’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ধাপে ধাপে তাকে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ১০ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১১ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। প্রতিবারই তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিলেই লাভসহ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। একপর্যায়ে আরও টাকা দাবি করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয় আসমিনার। পরে টাকা ফেরত পেতে চেষ্টা করেন। না পেয়ে থানায় মামলা করেন।গৃহিণী আসমিনা খাতুন জানান, পরিবারের পাশাপাশি বাবার বাড়ির আর্থিক দৈন্য দূর করতে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্মে কাজটি শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর প্রতারকরা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে এবং প্রথমে ‘রেটিং টাস্ক’ দিয়ে ৩০০ টাকা প্রদান করে। পরে টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে ৮০০ টাকা বিনিয়োগে ১,০৪০ টাকা ফেরত দেয়। এতে তার বিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ধাপে ধাপে ৩,০০০ ও ১২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর আরও বেশি লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। গ্রুপের অন্য সদস্যদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি স্বামীকে না বলে টাকা দেন। আত্মীয়দের কাছ থেকেও ধার নেন। ১২,০০০ টাকা দেওয়ার পর প্রতারকরা আরও ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। এতে সন্দেহ হয়। কিন্তু আগের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় পরে চক্রের চাওয়া অর্থ দিতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা হারান। ঘটনা-২ : ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সি খন্দকার কামরুজ্জামান বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কিস্তিতে গাড়ি কেনার প্রলোভনে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে একটি নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রতারকরা গাড়ি

    সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম, রেজিস্ট্রেশন ও ডেলিভারি খরচের খাত দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক নগদ নম্বরে তিনি অর্থ পাঠান। পরে গাড়ি না পেয়ে এবং প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় অভিযোগ করেন। কেন ঝুঁকিতে বয়স্ক ও গৃহিণীরা : মামলা ও তদন্তের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে এই শ্রেণির মানুষ বেশি প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক বয়স্ক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও নিরাপত্তাবিষয়ক সেটিংস, ফিশিং লিংক বা ভুয়া ওয়েবসাইট চিহ্নিত করতে পারেন না। একই অবস্থা গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এছাড়া লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘লটারিতে জিতেছেন’, ‘বিদেশ থেকে উপহার এসেছে’, ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’-এ ধরনের বার্তায় গৃহিণী ও বয়স্করা প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ তাদের হাতে থাকে না। ফলে ফাঁদে পড়ছেন।প্রতারকদের কৌশল: প্রতারকরা খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের টার্গেটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। প্রথমে তারা পরিচয় দেয় বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল কোম্পানির কর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়। এরপর ফোনে বা এসএমএসে তারা ভুক্তভোগীর আংশিক ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা বড় ধরনের ক্ষতি হবে-এমন ভয় দেখানো হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চিন্তা না করেই ফোনের ওটিপি বা টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া ‘ঘরে বসে ইনকাম’, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের অভিনয় করে ধীরে ধীরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রতারিত হলে যেখানে অভিযোগ করবেন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারকরাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন। বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহিণীদের সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে হবে। এছাড়া পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১০১৪৬-৪৮-এ অথবা সাইবার পুলিশের বেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Cyber Police Centre, CID, Bangladesh police’ অভিযোগ দিতে পারেন ভুক্তভোগীরা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফোন বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য, পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া লোভনীয় কোনো অফার দেখলে পরিবারের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন তিনি।

  • সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারে পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ১। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

    সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এদিন শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলে, আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবদেন খারিজ করা হলো।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে প্রথমে শুনানি করেন কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরল হকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

    তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ওয়াইড স্প্রেড, সিস্টেমেটিক ও টার্গেটেট অ্যাটাকের বিষয় রয়েছে এখানে এমন কিছু হয়নি। এটি পৃথক একটি ঘটনা। এজন্য আলাদা আইন রয়েছে। এখানে এ মামলা চলতে পারে না। এসআই আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও একই গ্রাউন্ডে তার আসামির অব্যাহতির আবেদন জানান।

    এরপর পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত অধিকারের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময় টার্গেট করে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এমন অসংখ্য ঘটনা সারা দেশে ঘটেছে। যশোরের চৌগাছার ঘটনাটিও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক ও ওয়াইড স্প্রেডের একটি অংশ। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়।

    এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আনিচুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল হাদিকে (৪৫)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় ।

    হাদি জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আনিচুর রহমানকে হাদি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২১ তারিখ ৩০/১০/২০২৪ ।

    দীর্ঘ তদন্ত শেষে চৌগাছা থানার এসআই সলিমুল হক আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন এবং ৫ জনকে খালাস দেওয়ার আবেদন করেন । চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল হাদি , ওহিদুল ইসলাম,লেন্টু মিয়া,আমিন উদ্দিন ,কুরবান আলী ও হুজাইফা ইসলাম। আসামিদের মধ্যে সবাই আদালত থেকে জামিন নিলেও হাদি পলাতক থেকে যায় । শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে ।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সলিমুল হক হাদিকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ,আসামিকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

    একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

    উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাথানগাছি গ্রামে বাড়ির পেছনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রোজিনা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা খাতুন গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    স্বজনরা জানান, দুপুরে নিজের বাড়ির রান্নাঘরের পাশে কাজ করছিলেন রোজিনা খাতুন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করা হয়েছে।

  • শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০শে এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এ মামলায় যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন আসামি। এর মধ্যে তিনজন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।

    পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

    প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে গুলি করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু


    যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে আবু তাহের (৪২) নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের মাঠের একটি ধানক্ষেত থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবু তাহের আন্দুলিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    নিহতের চাচা ও মাদ্রাসা শিক্ষক বিল্লাল হুসাইন জানান, দুপুরে ঝড়-বৃষ্টির পর তাহের ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর আবারও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ধানক্ষেতের আইল থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবুর রহমান হবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    বিডি নিউজ:

    সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সেই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    মাসদার হোসেন মামলার জন্য খ্যাত এই সাবেক বিচারকের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে আসে। প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী মাসদার হোসেন টাকা আত্মসাতের এই বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকারও করে নিয়েছেন। ‘পেশাগত অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের’ এই অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্নটি’ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল জরুরি সভায় বসে। সভায় অভিযোগের প্রাথমিক উপাদান ও প্রামাণিক ভিত্তি বিদ্যমান থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে মাসদার হোসেনের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসদার হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তিনি এবং তার সহকর্মী বিচারকরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার বিষয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। বিচার বিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর আইন পেশায় ফেরেন মাসদার হোসেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায়  জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায় জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামিম নামের এক ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আস্তানাটির প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) নিহত হন। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত ওই পাকা স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর আস্তানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে শামিমসহ কয়েকজন আহত হন।

    পরে পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক জানান, শামিম মারা গেছেন। তিনি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি।’

    পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

  • অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

    অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

    বরিশালে বানারীপাড়ায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক স্থানীয় ডিলারকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে আলম কমিশনারের বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে ডিলার মো. শামসুল আলম শিমুকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় এনএসআইয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বানারীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শামসুল আলম শিমুর সর্বোচ্চ ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অনুমতি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার নিজ বাড়িতে মজুদ করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এসব সিলিন্ডার তিনি উপজেলার বন্দর বাজারের ফেরিঘাট সংলগ্ন তার দোকান ‘বৈশাখী প্লাস’ থেকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এনএসআইয়ের দীর্ঘদিনের নজরদারিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উপজেলা প্রশাসন তার বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আরোপ করে। অভিযান শেষে মজুদকৃত সিলিন্ডার দ্রুত বাজারে সরবরাহ এবং অনুমতিপত্র অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে রামু থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায় বৃহঃস্পতিবার দিবাগত রাতে রামু থানার এসআই অনুপ কুমার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানের সময় রামু থানার চাকমারকুল ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমুরা পূর্বপাড়া এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান (৩৬) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভিং সিটের নিচ থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিয়াউর রহমান (৩৬) চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুরার বাসিন্দা আবদুল হাসিমের ছেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া।

  • সোনারগাঁয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    সোনারগাঁয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    সোনারগাঁয়ে পুকুর থেকে ফুটবল তুলতে গিয়ে শুক্রবার দুপুরে পানিতে ডুবে আদনান ও আব্রাহাম নামে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা কাচঁপুর ইউনিয়নের রায়েরটেক এলাকায়। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী জানায়, আদনান (১০) ও আব্রাহাম (৭) দুই ভাই সকাল ১২টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে বল নিয়ে খেলা করছিল। পরে তাদেরকে দেখতে নাপেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকে পরিবারের লোকজন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে পুকুর থেকে একে একে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

    তাদেরকে হাসপাতালে নিলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে গিয়ে পুকুর থেকে বল তুলতে গিয়েই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা কুষ্টিয়া জেলার পিরোজপুর গ্রামে জিয়াউর রহমানের ছেলে। কাঁচপুরের রায়েরটেক খাঁন বাড়ির নিজাম খাঁনের বাসার ভাড়াটিয়া। আদনান ও আব্রাহাম কাঁচপুর পুরান বাজার এলাকায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ।

    সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ে মৃত্যুর খবর শুনেছেন।

  • খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করলেও তাকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। নিহত নারী মিম্মি বেগম (৪৪) খান মোহাম্মাদপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে নাদিম ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে পারিবারিক কলহের জেরে নাদিম ইসলামের সঙ্গে তার মা মিম্মি বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাদিম বাড়ির পাশে থাকা গাছের একটি ডাল ভেঙে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিম্মি বেগম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত নাদিম ইসলামকে আটক করা হয়। তবে তাকে ক্যাম্পে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় কিছু লোকজন বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, নাদিম কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • প্রাণ গেল দুই কর্মচারীর

    প্রাণ গেল দুই কর্মচারীর

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রাইভেট কারে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়কলস এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার সাউদেরগাঁও আমবাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে ছমিরুল হক জুয়েল (৩৮) ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাছননগর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছব্দর আলী (৩৭)। তাঁরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জারিকারক পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি ডাকপত্র নিয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক জুয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা ছব্দর আলী গুরুতর আহত হন। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু সিলেটে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হলে তিনিও পথিমধ্যে মারা যান।

    জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

    সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান বলেন, নিহত দুজনই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জারিকারক পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁরা সরকারি ডাকপত্র নিয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের লোকদের খবর পাঠানো হয়েছে।

  • ফুলতলায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন

    ফুলতলায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন

    খুলনা-৫ আসনের ফুলতলায় এক জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন ঘরটিতে আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

    গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা ছুটে যান। সকলে মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের জ্বালানি রাখার ঘর পুড়ে গেছে।

    খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো বলেন, খুলনা-৫ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

    এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খানজাহান আলী থানার এসআই রুবেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন– সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো: আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।