সারাদেশ

  • নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দক্ষিণ কান্দী গ্রামের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পাশে লাশটি দেখতে পান। পরে তারা নগরকান্দা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, লাশটি একজন পুরুষের হতে পারে। তবে পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ।

    নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

    ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, লাশটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে সিআইডির ফরেনসিক টিম কাজ করছে। পরিচয় শনাক্ত হলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাসের চাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সলঙ্গা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নীলা বেগম তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটিকুমরুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা ও তার তিন বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা আরো অন্তত তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাসটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালক-সহকারীকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মো: জাহিদুল ইসলাম অমি নামে আশ্রয়হীন এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাকে উপজেলার মাধনগর আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের মো: আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    তারা জানান, বিএনপির দলীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তারা আরো জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তার ঘর-বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলা শ্রমিকের কাজ করে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজে রান্না করে খাবার খান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন।

    ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকেছি। আর কত দিন এভাবে থাকব, কত বছর থাকা যায়?

    তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক আমার পাশে দাঁড়াননি। কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেননি। দলের নেতা ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, তারা যেন জীবন চলার মতো আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

    মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা ও বাঁশিলা আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই দলের নেতারা তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।

    বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।

    গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান,

    একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।

    তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • জীবননগর  বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    জীবননগর বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বুধবার রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মাধবখালী সীমান্তের একটি বাঁশবাগান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি আজ বুধবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক।

    বিজিবি জানায়, মাধবখালী বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্তের ৭০/৬-এস সীমান্ত পিলারের কাছে অভিযান চালায়। এ সময় এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তিনি পালানোর সময় সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে দেন। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি বিদেশি (ইউএসএ) পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবননগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সাটুরিয়ায় নারীর লাশ উদ্ধার : হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

    সাটুরিয়ায় নারীর লাশ উদ্ধার : হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার হরগজ ইউনিয়নে সুফিয়া খাতুন (৫০) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হরগজ বেপারী পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে মৃত্যুর খবর ছড়ালে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহত সুফিয়া খাতুন ওই গ্রামের মো: ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।

    সুফিয়া খাতুনের সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় তার স্বামী ইসমাইল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ।

    এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করছেন নিহতের ভাই রমজান আলী। তার অভিযোগ, সুফিয়াকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিহতের ছেলে ইসরাফিল দাবি করেছেন, তার মা মানসিক রোগী ছিলেন এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, লাশের হাত ও পেটে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পরই মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর মোল্লাপাড়ায় মো. রাজ্জাক মোল্লা ওরফে নাজো (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গাবগাছে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে রাজ্জাক মোল্লার সঙ্গে তার ভাতিজা রিপন মোল্লার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের হাতে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন মোল্লার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    এ,আ র

  • টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৩ সালের ২২ জুন বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে অপর দুই আসামি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অন্য দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে একই আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের শেখপাড়া সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই ইউনিয়নের হরিদাস কাঠি গ্রামের বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা তাপস হোর ওরফে সুনু হোর (৬০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সয়াবিন তেল বোঝাই একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছনে থাকা অপর একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পতিত ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী নিচে পড়ে যান। এ সময় পিকআপ ভ্যানে থাকা তেলের ড্রাম ইজিবাইকচালক দিদারুল হক ও যাত্রী তাপস হোরের মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    নগরীর হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পাইকগাছা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে খুলনার দিকে আসছিল। ট্রাকটি তেল নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    এ,আর


  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ হত্যার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে নড়াইল সদর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্র ও যোদ্ধাদের ওপর হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পলাতক কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রলোভন ও হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি নজরে আসার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভুক্তভোগীরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    অভিযুক্ত ১১ জন হলেন মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সৌরভ কর্মকার, মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয়, শাহাদাত হোসেন রায়হান, ইমন শিকদার, মো. মিলন জমাদ্দার, মো. ইস্রাফিল, মো. সজীব চৌধুরী, এস কে আসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস এবং মো. জুবায়ের শেখ।

    এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাস আসায় আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তরা এ ধরনের উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগেও তার ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

    অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং অভিযোগকারীর সাথেও তার কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণার ঘটনায় নড়াইলের সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত সত্য কতটা বেরিয়ে আসে।

  • সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    ফেনীর পরশুরামে বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্দমাক্ত সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের প্রধান সড়কে এ ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। পাশাপাশি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ জরুরি সেবার যানবাহনও এই সড়কে যেতে অনীহা দেখায়।

    বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাস্তার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মজুমদার বলেন, বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

    আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বহু বছর ধরে তারা এই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় এটি যেন চাষের জমি।

    মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম জানায়, বৃষ্টি হলে কাদা এড়িয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয় এবং পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে টেকসই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

    পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায় মোহাম্মদ সুমন (৪২) নামে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটের এক কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সুমন হবিগঞ্জ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের জমিদার গলিতে আনারস মসজিদ সংলগ্ন একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিস কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    হাসপাতালে সুমনকে নিয়ে আসা তার স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তার স্বামী ইয়াবাসেবী ছিলেন। আগের রাতে তিনি তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে ইয়াবা কিনে আনেন এবং রাতে বাথরুমে বসে তা সেবন করেন।

    তার দাবি, মঙ্গলবার সকালে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি নাসিমার হাতে আঘাত করেন। পরে একই অস্ত্রের আঘাতে সুমনের বুকের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ঢাকা মেডিক্যালে এসে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার অভিযোগ করেন, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় সুমনকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী নাসিমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

    চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’


    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পানির নিচে চলে গেছে রেললাইন। এর ফলে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ আটকে থাকায় ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পানি জমলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এর পর থেকে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

    পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

  • চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    বিডি টািইমস ডেস্ক,

    চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সবশেষ বার্তায় বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতিও জানানো হয়। এই সময়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত, ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

    বন্যা তথ্য কেন্দ্রের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    যার ফলে এসব অঞ্চলের নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    এছাড়া উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    এসব জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    এছাড়া রংপুরের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘তবে, তিন থেকে চার দিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সাথে সাথে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা কম।’

  • মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরের কালকিনিতে বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কোলচরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত খাদিজা আক্তার একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও জাকির বেপারীর স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে কাঠের লাকড়ি আনতে রান্নাঘর যান গৃহবধূ খাদিজা। এ সময় লাকড়ির ভেতর থাকা একটি বিষধর সাপ খাদিজার হাতে কামড় দেয়। সাপের কামড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে খাদিজা ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে তার স্বামীসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

    পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় খাদিজাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অখিল সরকার বলেন, বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আসার অনেক আগেই তিনি মারা যান।

  • শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

    এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।

    ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লি উন্নয়ন দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে সোমবার(৬জুলাই) সকাল ১০টায় র্যালি , আলোচনা সভা, ক্ষুদ্র ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক চত্বরে এক র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই জায়গায় শেষ হয়।। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা পল্লী উন্নয়নের বোর্ডের উপ-পরিচালক জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।

    সভার শুরুতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। চুয়াডাঙ্গায় পল্লী উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদের মানুষের উন্নতিসাধনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, ব্র্যাকের সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ন রুগ্গা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, উপকারভোগী খাদিজা বেগম, শিক্ষার্থী উম্মে হালিমা প্রমুখ।

    এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, টিটিসি’র অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান,জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন,সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

    সভার শেষে ক্ষুদ্র ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের চেক ও গাছের চারা এবং পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘের সদস্যদের উৎসাহ বোনাসের চেক বিতরণ করা হয়।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ ইমরান হোসেন নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    গোপন সংবাদ পেয়ে ৬ জুলাই রোববার বিকেলে চৌগাছা থানার পুলিশ উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় ইমরানের বাড়ি তল্লাশি করে ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ তাকে আটক করে।

    আটক ইমরান উজিরপুর গ্রামের আকিমুল ইসলামের ছেলে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারির সাথে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে  বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার বিকেলে বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস (৫০) বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেলে নাসিরুল বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিঠে গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়েও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির পিঠ থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

    ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, নাসিরুল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আমাদের বালু ব্যবসা আছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্য ব্যবসাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত হামলাকারীর ছয়জন মুখোশধারী। একজনের মুখ খোলা থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খুঁটিবগাড়ি বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

  • কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এই উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

    একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার আওতায় প্রাপ্ত নগদ টাকা ও চেকসহ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পক্ষ থেকে চেক বিতরণ করেন তিনি।

    বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে পাঁচ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    একই সময়ে ১০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে ১০ গ্রাম করে হাইব্রিড মরিচের বীজ, পাঁচ কেজি করে ডিএপি সার, পাঁচ কেজি করে এমওপি সার ও একটি করে কীটনাশকের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া এক হাজার কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে একটি করে মাস্টার প্যাকেট গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, ১৫ কেজি করে ডিএপি সার ও ১৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: শাহদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস আর এম জি কিবরিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান হাজী হাফেজ মো: দ্বীন ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ।

    পরে প্রতিমন্ত্রী কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা টিএনটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং কুলিয়ারচর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

    এর আগে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    এছাড়া সকালে তিনি উপজেলার পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শামসু উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন।

  • রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নওগাঁর রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে সাহানাজ পারভিন শিফা (২) নামে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    শিশু শিফা আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।

    শিশুর চাচা আব্দুল কাদের জানান, শিশুটির মা বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় শিশু শিফা বাড়ির গোসলখানায় গিয়ে বালতিতে রাখা পানি নিয়ে খেলার সময় উপর হয়ে বালতির মধ্যে পড়ে যায়। এতে সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা গোসলখানায় বালতিতে শিশুর লাশ দেখতে পায়।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে শিশুর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম পাশে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে উথলী রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের ধারণা, তিনি রেললাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং এ সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

    তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

    দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানান, লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    উথলী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের

    নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ওই ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরো অনেক যাত্রী হঠাৎ করে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন।

    সূত্র আরো জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

    বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরো কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

    বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। এরপর আরো পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরো ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

    বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাঁচজনকে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় ভিসা সমস্যায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ জনকে ইমিগ্রেশনে আটকায়। ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।

    বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু যাত্রী টুরিস্ট ভিসা নামে মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ঢাকা ত্যাগ করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়টি নজরে এলে তারা অফলোড করে।

    অবৈধভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।

    যেসব যাত্রীকে অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে।

    বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

    নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

    সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

    বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

    তিনি আরো বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

  • পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

    আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জেলার পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে কাজ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বারের স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর তা টানা ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। গভীর রাতে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে।

    সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মধ্যরাতে পাহাড়ের ঢাল ধসে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটিচাপা পড়েন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) মারা যায়। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ধসের পর আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একই রাতে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত আরও দুজনকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এদিকে আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। এতে আলী আকবর, তার স্ত্রী ও ছেলে মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘রাতের সব ঘটনাই খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দল উদ্ধারকাজে নামে। রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইনচার্জ মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণে ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঢাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    দুর্ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিবছর ক্যাম্পে পাহাড়ধস হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হয়। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছিলাম। এখানে মৃত্যু হলেও কিছু করার নেই। সবকিছু আল্লাহর হাতে। নিজের দেশে ফিরে মৃত্যু হলেও অন্তত সেই কষ্টটা থাকত না।’

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

  • জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

    মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বছরের শুরুর দিকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দলটি যাত্রা শুরু করে এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে জোটগতভাবে ছয়টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছে দলটির আরও দুই নারী প্রতিনিধি। সব মিলে জাতীয় সংসদেও ৩৫০ আসনের মধ্যে নতুন এই দলটির রয়েছে ৮টি আসন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় প্রথম কাউন্সিল করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে তার আগেই দলের কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামোতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন), মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এই ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে এই পদগুলো নয়, দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে বর্তমানে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। দলটি এই ফোরামের নাম রেখেছে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা পিসি। কেন্দ্রীয় কাঠামোতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও মূলত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় পিসিতে। নতুন কাউন্সিলের আগে দলটির কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদ ১১টির স্থলে ৬টিতে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) এই ছয়টি পদ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব পদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বলতে নারাজ। তারা বলছেন, সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে এটা ঠিক, তবে দল চলবে পলিটিক্যাল কাউন্সিলে গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক।

    পলিটিক্যাল কাউন্সিল কী, কারা আছেন এ ফোরামে
    এনসিপির ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা রাজনৈতিক পর্ষদ হচ্ছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এই ফোরামেই দলের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গৃহিত হয়। এই ফোরামের বাইরের এককভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। দলটির সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে এখন ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এরা হচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ দলটির পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই ধাপে আরও আট জন নেতা। প্রথম ধাপে যুক্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ ও আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এরপর গত ১১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত, এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকেও পলিটিক্যাল কাউন্সিলে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন এই দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সংখ্যা এখন ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    কবে হচ্ছে প্রথম কাউন্সিল
    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের উদ্যোগেই গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। চলতি বছরের ‘২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির এক বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়।’ আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। ওই সময়টাতে দলটির কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তা করছে শীর্ষনেতারা। যদিও এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটি চাচ্ছে কাউন্সিল করার আগে দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করতে, সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দলটির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন। সেই খসড়া সম্ভাব্য প্রথম কাউন্সিলে পাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নেতারা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা নেতারা জানালেও তা এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলছেন না।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, এনসিপি এখন যে কাঠামোতে চলছে সেই কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দলে আহ্বায়ক কমিটি থাকলে আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক থাকে। সদস্য সচিব পদের পর যেভাবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও যুগ্ম সদস্য সচিব থাকে সেভাবেই পদগুলো থাকবে। এখন যেমন মুখ্য সংগঠক পদ রয়েছে, এ পদ থাকছে না।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম রয়েছে। এনসিপির এই ফোরামের নাম হচ্ছে পলিটিক্যাল কাউন্সিল বা পিসি। এই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরাম নেই এনসিপিতে। তবে দলের বর্তমান কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসার কথা জানিয়ে জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এনসিপির পরিচালনায় গঠনতন্ত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কাউন্সিলে খসড়া তৈরি হওয়া গঠনতন্ত্র পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    র‍্যালি, আলোচনা সভা, উদ্যোক্তা ঋণ, প্রণোদনা চেক ও গাছের চারা বিতরণ

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
    ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্যোক্তা ঋণ, কিশোরীদের প্রণোদনা চেক এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ নুর উল্লাহ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাম থেকে আগত নারী-পুরুষ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুইজন উদ্যোক্তার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়। একজন মাঠ ব্যবস্থাপককে কমিশন প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজন কিশোরীর হাতে ২৯ হাজার ৪০০ টাকা করে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুধীজন এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

  • নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়— আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

    ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ৩

    খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ৩

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে উপজাতীয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি জানান ৩ জন নিহতের খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষ গ্রামের কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ৯০ শতাংশ জমিতে রাজশাহী জাতের এক হাজার পেঁপের চারা রোপণ করে তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ টাকারও বেশি পেঁপে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছে প্রচুর পেঁপে রয়েছে, যা থেকে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিশাল বাগানজুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে অসংখ্য পেঁপে। বাগানের মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী জানান, প্রথমে তিনি লাল তীরের ‘বাবু’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে জাতটির সামঞ্জস্য না থাকায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাবনাতলা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ডাক্তার বাবুলের পরামর্শে রাজশাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন। পুনরায় ৯০ শতাংশ জমিতে এক হাজার চারা রোপণ করলে সেগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং আশানুরূপ ফলন দেয়।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি। গাছে এখনো অনেক পেঁপে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি জমিতে পেঁপে চাষ করতে চাই। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে পেঁপের চারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

    এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ওই কৃষক কখনো কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা দ্রুত তার বাগান পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেব।’

  • ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    টানা ৪৭ বছর ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত শেষে অবসরে গেলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ। এ উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, দুটি গরু ও উপহার দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামতি করেছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন ইমাম হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বক্তারা আরো বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের ইমাম ও আলেমদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তার এ খেদমত কবুল করেন এবং সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

    অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    শেষে বিদায়ী খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনা মহানগরীর তিন স্থানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তিনজনেরই পায়ে গুলি লাগায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। গুলির ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মানুষ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে রাতুল শেখ নামে যুবককে গুলি করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা সদর থানার রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এক কিশোরীকে গুলি করা হয়। ওই কিশোরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন।

    রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলির ঘটনায় পরিবারের তরফে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে চাঁদা না দেওয়ায় মানিককে গুলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহায়েলসহ সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

    রাতুলের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় লবণচরা থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। কিশোরীকে গুলির ঘটনায়ও পরিবার গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৩ মাসে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪টি হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত।

  • মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর ঢাকাগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গঁজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বর্ণকার, রাজমিস্ত্রি, মাটিকাটা শ্রমিকের পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করেন তারা।

    রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গ্রেফতারদের কেউ স্বর্ণকার, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা মাটিকাটা শ্রমিক। নিজেদের বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ডাকাতি করেন তারা। তাদের নামে নড়াইল, যশোর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট থানায় একাধিক চুরি এবং ডাকাতি মামলা রয়েছে।

    নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনের টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন খুলনার তেরখাদা থানার নদীয়ারচর মধ্যপাড়ার জলিল মোল্লার ছেলে রাজমিস্ত্রী জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), খুলনার রুপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ভূষণ করের ছেলে স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া তালুকদারপাড়ার সামছুল হক তালুকদারের ছেলে শ্রমিক জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে শ্রমিক পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬) এবং বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁর ছেলে রাজমিস্ত্রি মফিজ খাঁ (৩৮)।

    গত ৮ জুন রাত ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা মধ্যপাড়ার সালাহউদ্দীন খানের ঘরে প্রবেশ করে দেশী অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে ডাকাতদল। পরে সালাহউদ্দিন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় সালাহউদ্দীন নড়াগাতী থানায় মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম গত তিনদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ডাকাত এবং ডাকাতি করা মালামাল ক্রয় করা একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গলিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাকিরের নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধার নামে খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা, জাকির হোসেনের নামে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাতে তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরি, মফিজ খার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে।

  • লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আর এই পরীক্ষার মধ্যেই চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

    ভোলার লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।

    মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

    মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কিন্তু ঠিকমতোই আসছে। তবে বিলেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

    বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। এই কারণে পরীক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে ফল্ড হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক করার জন্য। একটানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে গাছ পরে যাওয়াও একটি কারণ। তাছাড়া এমনিতে কোনো লোডশেডিং নেই।

  • পাহাড়ে রাবার চাষে যত সমস্যা

    পাহাড়ে রাবার চাষে যত সমস্যা

    ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশাল এক অংশ রাবার চাষের আওতাভুক্ত করেছিলেন। ছেচল্লিশ বছর আগে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে অনেক আশা আর সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছিলাম রাবার বাগান করতে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ খাতে আর কোনো উন্নতি হয়নি। কথা ছিল-আমাদের রাস্তা, বিদ্যুৎ, ব্যাংক লোন এবং নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কিন্তু এর কিছুই হয়নি।

    বিদ্যুৎ আমরা পেয়েছি মাত্র এগারো বছর আগে, তাও আবার মেইন রোডের কাছে বলে। যে লেবার ছিল বিশ টাকা, আজ তা হয়েছে সাতশ থেকে আটশ টাকা। রাবার বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, মাসের খরচ উঠানোই মুশকিল। আরেকটি সমস্যা হলো হাতির আক্রমণ। হাতি ঘর, পানির ট্যাঙ্ক, রাবার আর বিভিন্ন গাছ উপড়ে ফেলছে দিনের পর দিন, অথচ সরকারের তরফ থেকে এর কোনো প্রতিকার নেই। সরকার চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কম করে হলেও এক হাজার একর জমি ঘিরে হাতির আবাস গড়ে তুলতে পারে।

    কিছু এনজিও হাতি রক্ষার নামে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসে, যার সামান্য পরিমাণই এদের পেছনে ব্যয় হয়। আমাদের দাবি, হাতি সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে সব বাগানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হোক। বাতি জ্বালানো থাকলে হাতি সাধারণত কম ঝামেলা করে। বিদ্যুতের লাইন এবং খাম্বার জন্য ঘুস নেওয়া বন্ধ করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সর্বস্তর থেকে সহযোগিতা চাই। আর সবার আগে চাই জীবনের নিরাপত্তা।

    এ এম

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় রিপন হোসেন (৫০) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সন্তোষপুর গ্রামের ব্রিজপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে রিপন হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির আলমসাধু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধু ও পাখিভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রিপন ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে রাখা ইটের স্তূপের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ যুবক আনোয়ার হোসনকে (৩২) চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দ্রুত বিচার আইনে তার মামলাটি বিচারের দাবি করছি। আনোয়ার সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে। আনোয়ারকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ প্রায়। কথা বলতে পারছেন না তার মা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    নির্যাতনের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। এটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে। পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

  • গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সারা দেশে একযোগে ভার্চুয়ালি (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল এবং এনসিপি নেতা সবুজ রানা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও বাঙালি জাতিকে সাম্য, ন্যায়, মানবতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।

    বক্তারা শিশু-কিশোরদের নজরুলের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত নজরুল সাহিত্য পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত চর্চার মাধ্যমে তাঁর চেতনাকে লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর রহমান ও ওহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় তাদের বসতঘরসহ শ্রেষ্ঠা-শাকিরা বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে। টিনের চালা, বেড়া ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে লোহাগড়া মৌজার ৩৫৪ দাগের প্রায় ৯ শতক জমি দখলচেষ্টা করা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখনো আইনানুযায়ী বণ্টননামা বা বাটোয়ারা করা হয়নি। কিন্তু অভিযুক্ত মাহমুদ আলম, লিয়াকত হোসেন লিকু ও তাহানূর সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বায়নাপত্রের অজুহাতে তাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করেন। বেআইনি ভাবে, বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর ও ওহিদুর রহমান।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তপক্ষের লিয়াকত হোসেন লিকু দাবি করে বলেন, এই জমির মালিক জাহিদুর ও ওহিদুর নয়। জমির মালিক ওনাদের বোন। সেই বোনের কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। অথচ, তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, কোনো পক্ষকে তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা :
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।