সারাদেশ

  • রাখাইনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ, কাঁপছে টেকনাফ

    রাখাইনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ, কাঁপছে টেকনাফ

    কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে এপারের সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলছে।

    এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) দিন ও রাতে মংডু শহরে বিমান থেকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‌‘দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।’

    হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন। এখন আবারও নতুন করে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইনে হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

    হ্নীলা মৌলভীবাজারের বাসিন্দা জেলে রহমত উল্লাহ বলেন, ‘সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। দুপুরের দিকে মৌলভীবাজারের ওপারে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ করে দ্রুত ফিরে এসেছি।’

    এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। বিজিবিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

  • রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে নাতি।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র (৪০) ও ১০ বছর বয়সী নাতি বন্ধনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেতগাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন উপজেলার চেংমারি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র (৬০)। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে একটি ট্রাকে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মল চন্দ্র ও প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

    এ ঘটনায় ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।

    এদিকে, এ ঘটনায় চেংমারি গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বইছে। স্বজনহারাদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হবে।’

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রিপন কাজী (২৫) নামে এক মুদি দোকানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকায় সড়কের পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম কাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয়রা রিপনকে তার দোকানের সামনে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে, গত সোমবার দুপুরে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় নথিভুক্ত করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে সারারাত বেঁধে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

    এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রসেনজিত আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা দাবি করেন, আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন। ‘চোর, চোর’ বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা তিনি জানেন না।

    তার দাবি, প্রসেনজিতই আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।

    অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার চাই।’

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো: সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।

    রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো: আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম খান।

    আদালত সূত্র জানায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল হকের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা গোপন রাখতে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।

    আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় আকাশের লাশ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) লাশ দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ একদল পুলিশ সদস্য।

    মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ২ মে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছিল।

    পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আজ তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু বলেন, সাদ্দাম হোসেন একজন উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    লাশ উত্তোলনের বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আজ কবর থেকে সাদ্দাম হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    দিনাজপুরের হিলিতে সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলি উপজেলার সাতকুড়ি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হিলির সাতকুড়ি এলাকায় বেশ কিছু চোরাই মাল বস্তায় ভর্তি করে কে বা কারা রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বস্তাগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় সেখানে মালামালের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো মালিক না পাওয়ায় মালামালগুলো মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করতে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। মালিক না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, উদ্ধার পণ্যের মাধ্যে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো বস্তা ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

  • রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মুরগিবাহী একটি পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জোহান (৩৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রযেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক জোহানের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার্ড করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার পর তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ পাশেই পানিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দু’জন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

    পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটার সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত উপজেলার কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে দুই শতাধিক অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন পাথরঘাটা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: বেল্লাল হোসেন জুয়েল।

    কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছারছীনার মরহুম পীরসাহেব হযরত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল মানবকল্যাণ, দ্বীনি খেদমত ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ ও কর্মধারাকে অনুসরণ করেই আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

    এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, খানকাহর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জোহরের নামাজের পর ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীরসহ এলাকার মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা সেতুর পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় ঘোলদাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে বাজারের চালের আড়ত, মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, সার ও বীজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: শুকুর আলীর ‘মিষ্টি বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩ বিজিবি)।

    বুধবার দুপুরে লোগাং জোনের জোন কমান্ডার মো: রবিউল ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লোগাং জোনের দায়িত্বপূর্ণ বিওপি, ক্যাম্প ও এলাকায় মোট আড়াই লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি চারা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল মতিন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সুবেদার মেজর নাজমুলসহ সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

    নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের মো: মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, বাবা ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিপন কাজী দুই বছর আগে বাবাকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে বাবা ভুট্টো কাজী গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও প্রতিশোধের নেশা কাটেনি বাবা ভুট্টো কাজীর। এরপর বাবা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই নিহত ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী ও চাচাত ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিফাত কাজীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে ছেলে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাত ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবা মিজানুর কাজী, তার ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

    এ সময় রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ রিপন কাজী ও তার আরেক চাচাত ভাই রাজিব কাজী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা রিপন কাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সাথে থাকা রাজিব কাজী।

    স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজিব কাজী গুরুতর আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে পালানোর সময় আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের ওই থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান ওসি মো: মনিরুজ্জামান।

    এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মা আমেনা বেগম মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা মিজানুর কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপর দিকে আমার চাচাত ভাই ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরিরত সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাত ভাই রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই।

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দু’জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দু’জন পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল নিহত রিপন কাজীর বাবা মিজানুর কাজীর। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

    অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

    তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

    তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

    পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

    গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

  • কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মো: ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে।

    বুধবার (১ জুলাই) গ্রেফতার ডালিম মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানসহ তাকে আটক করা হয়।

    কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে পুলিশ পিকআপ ভ্যানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

    এরপর পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং মো: ডালিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তার সাথে মাদক কারবারে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করা হচ্ছে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    ডস্কে,

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় মানসুরা (২৫) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মানসুরা মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সেলিম মাদবরের মেয়ে। তিনি ফতুল্লার ভুঁইগড়ের মাহমুদপুর এলাকায় স্বামী ইমন ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী পেশায় একজন চায়ের দোকানদার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানসুরা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ছোট শিশুদের বই কাঁধে করে কখনো ট্রেনে, কখনো বাজারে, কখনো লঞ্চে, কখনো-বা রাস্তায় চলতে চলতে বয়সের ভার আর নানা রোগের বাসা বেঁধেছে শরীরে। বেঁচে থাকার তাগিদে এভাবেই ৪৮ বছর পার করেছেন আব্দুর রশিদ প্রামাণিক।

    এক সময়‌ যৌবন, শক্তি-সামর্থ্য, স্ত্রী-সন্তান, বাড়ি-ঘর সব ছিল। এখন কিছু নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ। ওষুধ কেনার পয়সা জোটে না। পরনে ময়লা লুঙ্গি আর শার্ট।

    সারাদিন ট্রেনে বা রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে বই বিক্রি করে। পুঁজি বাদে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। না খেয়েই পড়ে থাকতে হয় যত্রতত্র।

    কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে ক্লান্ত অসুস্থ দেহ, হাতের বাম পাশে একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর কয়েকটি বই নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন ভিটে-মাটি, স্ত্রী-সন্তানহারা রশিদ। চোখে পড়তেই তার কাছে ছুটে গিয়ে সালাম দিয়ে তার জীবনের গল্প জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। কথাই বলতে পারছেন না তিনি। এক পর্যায়ে ডুকরে কেঁদে উঠে শুরু করেন অনেক কথা!

    আব্দুর রশিদ প্রামাণিক বলেন, ‘আমার জীবনে সাজানো সংসার ছিল। দারিদ্র্যতার কারণে পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। সংসারের হাল ধরতে আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে শিশুদের বই ক্রয় করে ট্রেনে, হাটে বাজারে, স্টেশনে, পথে ঘাটে, লঞ্চে বিক্রি করে যা আয় করতাম বেশ ভালো চলে যেত। কিন্তু দিন যত যায় ততই কষ্ট আর দুঃখ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। দশ বছর হলো স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এক ছেলে এক মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারাও দুর্দিনে একটা পয়সা দিয়ে সহায়তা করে না। বসবাস করার মতো ঘর নেই। তিন মাস থেকে থাকি কাঁকনহাটের বাজারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে থাকতাম রাজশাহীতে। মানুষের দেয়া টাকায় কয়েকটি বই কিনে বিক্রি করি। বই বিক্রি করে সারা দিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা আয় হয়। এতেই খেয়ে না খেয়ে চলে যায়। রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছি। ওষুধ কেনার টাকা জুটাতে পারি না।’

    যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার চাইলে তিনি জানান তার ফোন নেই।

    বই বিক্রি ছাড়া অন্য পেশায় কেনো যাননি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের খুব ভালোবাসি। তারা ছোট থেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বই পড়ে বেড়ে উঠবে এমন আনন্দ থেকে এবং ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার আলো দেখাতেই আমি এ পেশায় এসেছিলাম। এখন দেখি শিশুদের জন্য অনেক আধুনিক মানের বই বের হওয়াতে আগের মতো আর বই কেউ নিতে চায় না। সব মিলিয়ে আমি এখন জীবন্ত লাশ হয়ে গেছি। আমাকে দেখার মতো পৃথিবীতে কেউ নেই।’

  • নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

    নিহত বৃদ্ধ শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মরহুম জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে অর্ধগলিত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহতের চাচাত ভাই মো: আয়নাল মোল্লা (৪৩) জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে রয়েছে।

    নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।

    নিখোঁজরা হলেন উপজেলার চাডোল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    নিখোঁজের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফিরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

    একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা জিডির ভিত্তিতে চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

  • সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    নাটোরের সিংড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় এই সহায়তা বিতরণের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

    এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম বুলবুল, সিংড়া ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি ও তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বিএনপি নেতা খাইরুজ্জামান ছিটু প্রমুখ।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ৫৮ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

  • তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

    একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরো অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

  • সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

    এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মনজু, সরকার হাসেমুজ্জামান প্রমুখ।

    দুস্থ, গরিব ও অসহায় কয়েকশ’ মানুষের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

  • ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে চন্দন ভগত (৫৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    পরিবারের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত চন্দন ভগত (৫৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা বন্দর (মুড়িহাট) এলাকার পরলোকগত বৈদ্যনাথ (দেবনাথ) ভগতের ছেলে।

    পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের কোনো এক সময় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন চন্দন ভগত।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহতের স্ত্রী নুপুর রবি দাস জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির ঋণ পরিশোধ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তার স্বামী। মঙ্গলবার কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে এলে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি সারাদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাতে পরিবারের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রাও জানান, ঋণের কিস্তি নিয়ে চন্দন ভগতকে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা যেত। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ।

    ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের চাপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুরের মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মোল্লাপাড়া এলাকার মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু তার সুপারি বাগানে গোপনে গাঁজা গাছ রোপণ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। মঞ্জুর দু’টি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দু’টি ও দুই ফুট উচ্চতার দু’টি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এ সময় মঞ্জু এলাকায় না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু একজন মাদকসেবী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ভূরুঙ্গামারী ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে প্রচুর সুপারি বাগান তৈরি হয়েছে। মাদক কারবারিরা এসব বাগানে গাঁজা চাষ করা শুরু করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জঙ্গল মুকুন্দপুর গ্রামের মরহুম মজলিশ শেখের ছেলে মো: সোহানুল ইসলাম, একই জেলার কোটালীপাড়ার মুসুরিয়া গ্রামের মরহুম মহানন্দ বালার ছেলে বরুন বালা, ভোলা সদরের রাজাপুর (পশ্চিম ইলিশা) এলাকার মরহুম আব্দুল গনির ছেলে মো: খলিল এবং রংপুরের মিঠাপুকুর থানার মুরাদপুর গ্রামের মো: আবুল কালামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজের তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে কয়েকজন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে— এমন সংবাদ পায় ডিবি পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ওই কক্ষ থেকে চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৫৫২৩ নম্বরের একটি নিসান ডাবল কেবিন ক্যারি বয় পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ,আর

  • ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট!

    ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট!

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এক পরিবারের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    অজ্ঞাত ব্যক্তির রেখে যাওয়া হুমকিমূলক চিরকুটে প্রাণনাশের উল্লেখ থাকায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে আব্দুল গফুরের বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়সদৃশ কাপড় ও চিরকুট রাখা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা গেটের দরজার সামনে একটি কাফনের কাপড় রেখে যায় এবং সাথে একটি চিরকুট সংযুক্ত করে। বিষয়টি সকালে নজরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    চিরকুটে লেখা আছে-

    ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা। পরে আর সময় নাও পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভাল হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের উপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহভীরু হো।’

    ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আ: গফুর, আ: বারিকসহ অনেকে জানান, হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর হুমকির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

  • গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির পাট কাটার ধারালো বেগির (বড় কাস্তে) কোপে দাদি ফেরোজা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহম্মেদকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরোজা বেগম আহত আব্দুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী।

    আটক শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আব্দুল করিমের নাতি।

    স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, আজ দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহম্মেদের সাথে দাদি ফেরোজা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল তার হাতে থাকা ধারাল পাট কাটার বেগি দিয়ে ফেরোজা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

    স্থানীয়রা দু‘জনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই ফেরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। আহত আব্দুল করিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে পুকুরে ডুবে রামিম হোসেন নামে আট বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
    নিহত রামিম গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসি রুহুল আমিনের ছেলে ও গাংনী তালিমুল কোরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ওই মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত হাজি মহসিন আলীর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, রামিম হোসেনসহ তার কয়েকজন বন্ধু পুকুরের পাশ দিয়ে হাটার সময় পা ফঁসকে পড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
    অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    একই পুকুরে ডুবে এর আগেও দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৩০ হাজার ৩৪২ টাকার বিশদ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

    বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, উন্নত জীবননগর গড়ার লক্ষ্যে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিতে বাজেটে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

    ২০২৬-২৭অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭২লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ টাকা। এতে রাজস্ব খাতে প্রারম্ভিক জের রয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪২ টাকা এবং বছরের শেষে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকবে ৯ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা।

    রাজস্ব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, গৃহ ও ভূমি কর: ৮২ লাখ টাকা, হাট-বাজার ইজারা: ৪৮ লাখ টাকা,পেশা, ব্যবসা ও কলিং লাইসেন্স: ৩২ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা: ১ কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার ৩৫২ টাকা।

    বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো-আরইউডিটিপি , কোভিট ১৯ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন।

    এছাড়াও পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত ও সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন, পৌরসভা পরিচালনা কমিটির সদস্য নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন এবং বিস্তারিত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসভার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ । এছাড়াও অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেনস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক বলেন, জীবননগর পৌরবাসীর কল্যাণে এই বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি জীবননগর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। সকলের সহযোগিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সুন্দর একটি পৌরসভা উপহার দিতে পারব।

  • বকশীগঞ্জে ৩ দশক ধরে ভাঙছে ব্রহ্মপুত্র নদ মানচিত্র রক্ষায় মানববন্ধন

    বকশীগঞ্জে ৩ দশক ধরে ভাঙছে ব্রহ্মপুত্র নদ মানচিত্র রক্ষায় মানববন্ধন

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার খায়রুন সুন্দরীর স্মৃতিবিজড়িত মেরুরচর ইউনিয়ন একটি প্রাচীন জনপদ। বর্তমানে ভাটি কলকিহারা, উত্তর কলকিহারা, বাঘাডোবা এবং লুৎফরগঞ্জসহ কয়েকটি গ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। একের পর এক ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসাসহ শত শত একর ফসলি জমি।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এই ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা ও উত্তর কলকিহারা গ্রামে পৃথক পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: রকিবুর রহমান লিপুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— আব্দুল খালেক, ইমাম ও খতিব আরমান হোসাইন, আব্দুল হক মাস্টার, আলমগীর হোসেন, মো: সোলায়মান, দেলোয়ার হোসেন মাস্টার, আলম, মুকুল মিয়া, মেরুরচর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী মিনারা বেগম মিনা, আশরাফ হোসেন, আমিনুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, শহর আলী, লুৎফর, সাত্তার, ফুলু, সালাম, কামাল, আসেদ, আমজাদ, ফরহাদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি ও উত্তর কলকিহারা গ্রামকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে তারা জামালপুর-১ আসনের এমপি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    সমাজসেবক রকিবুর রহমান লিপু ও মেরুরচর ইউপি মহিলা দলের সভানেত্রী মিনারা বেগম মিনা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিগত ৩ দশক ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে। একের পর এক গ্রাম, জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পথঘাট নদীতে বিলীন হচ্ছে।

    শত শত পরিবার বাড়িভিটা, জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভূমিহীন হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    বক্তারা জানান, কলকিহারা গ্রাম ছাড়াও রসুলপুর, ফকিরপাড়া, ভিটাকান্দি, বাঘাডোবা, কাউনিয়ারচর, নয়াবাড়িসহ প্রায় ১০টির বেশি গ্রাম নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধ করে খায়রুন সুন্দরীর স্মৃতিবিজড়িত মেরুরচর ইউনিয়ন রক্ষার আকুল আবেদন জানান।

  • ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

    ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

    ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদে প্রবেশের প্রধান ফটকের সামনে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় গেটের সামনে জমে যায় হাঁটুসমান পানি। এতে উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে বৃষ্টি হলেই উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নারী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন বেহাল পরিস্থিতি জনসেবায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।

    ভুক্তভোগীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সচেতন মহল।

    তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং সরকারি সেবাদান কার্যক্রম আরো স্বাভাবিক হবে।

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

  • শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    মাদারীপুরের শিবচরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সকালে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক সিদ্দিক শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকার আব্দুল কাদির বেপারীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল সিদ্দিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সিদ্দিক মাদককারবারের সাথে জড়িত। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি এ পথ থেকে সরে আসেননি। আজ তার বাড়িতে ইয়াবার চালান এসেছে এমন তথ্য পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

  • রাণীনগরে ৪০ লিটার মদ ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুজন আটক

    রাণীনগরে ৪০ লিটার মদ ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুজন আটক

    নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদ ও ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুজন মাদককারবারিকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের চরকানাই ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে জুয়েল জোসেন (৩০) নামে একজন মাদককারবারীকে আটক করা হয়।

    আটককালে তার কাছ থেকে ৩০ পিস নেশা জাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জুয়েল মিরাট ধনপাড়া গ্রামের দেলু মোল্লার ছেলে।

    এ ছাড়া মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আতাইকুলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদসহ শরিফ উদ্দীন (২৮) নামে মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটক শরিফ নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, শরিফসহ কয়েকজন প্লাস্টিকের জারে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদ নিয়ে এসে বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শরিফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • কর্ণফুলীতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের পাশে কোস্টগার্ড

    কর্ণফুলীতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের পাশে কোস্টগার্ড

    চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের জীবিত উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে কোস্টগার্ড।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূচনালগ্ন থেকেই দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ সকল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, জনগণের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং উদ্ধার তৎপরতা প্রদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মানুষের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার বিশ্বস্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার রাত ৩টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী নদীর ১৮নং ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এম ভি বে হারবার-২ নামক একটি লাইটার জাহাজ ঢাকা গমনকালে চলমান অন্য একটি লাইটার জাহাজ এমভি সামুদা-৬ এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজের হাল ফেটে পানি প্রবেশের ফলে একপাশে হেলে পড়ে। এমতাবস্থায়, জাহাজটি কিছুদূর অতিক্রম করার পরে বহিঃনোঙর বয়া নং২ ও ৩ এর মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন অধীনস্থ বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ডুবে যাওয়া জাহাজে অবস্থানরত ১২ জন ক্রু এর মধ্যে ৮ জনকে তৎক্ষণাৎ কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়াও, অপর ৪ জন নিখোঁজ ক্রু প্রবল স্রোতের টানে পারকির চরের দিকে ভেসে যায় এবং নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হয়।

    তিনি জানান, উদ্ধার ক্রুদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ‍অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

    নিহত প্রসূতির নাম মোসা: তুলী বেগম (২৯)। তিনি টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

    পরিবারের অভিযোগ, সিজারের এক দিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।’

    অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দু’জনই সুস্থ ছিল। কিন্তু এক দিন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।’

    এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।

  • গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

    সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ’ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

  • দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    তৌহিদি জনতার ব্যানারে দিনাজপুর শহরে কালেমার পতাকা নিয়ে এক বিশাল বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়।

    আয়োজকরা জানান, ইসলামের বিজয় ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া এবং কালেমার পতাকার ছায়াতলে মুসলিম জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    বাইক র‍্যালিতে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সর্বস্তরের মুসলিম তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন করে।

  • ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে। জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা। তবে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।

    মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘœ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। এছাড়া জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ্আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
    নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করেন, অফিসে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে; তাহলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ২০০ বছরের ঐহিত্যবাহী নড়াইল সদরের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্যানেলের বিজয় হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন-বিএনপিপন্থী প্যানেলের শোভন আহমেদ বাকী বিল্লাহ (১৫৫ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুরাদ পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইবাদত শেখ বিজয়ী হয়েছেন (১৪৪ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কিবির হোসেন পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

    ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নয়টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয় লাভ করেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন-নির্বাচন কমিশনার হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খান। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন-বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সদর উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র।

    এদিকে, সহসভাপতি পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আল আমিন মোল্যা ও সহসাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আলামিন মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ খান মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক শামীম শেখ, সদস্য সবুর বিশ্বাস, মাসুদ মোল্যা, বখতিয়ার সরদার ও নবীর মোল্যা বিজয়ী হয়েছেন।

    নির্বাচনে ২৪৯ ভোটারের মধ্যে ২৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে প্রতিটি পদে দুইজন করে ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আসলাম খান ও প্রিজাইডিং অফিসার সুজন কুমার চন্দ্র।

  • শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তৃর্থ বিশ্বাস নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত তৃর্থ বিশ্বাস উপজেলার ভাটই গ্রামের তপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে। সে ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ গাড়ির সাথে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক স্কুলশিক্ষার্থী তৃর্থ বিশ্বাস মারা যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী যাদব কুমার নামে এক ব্যক্তি জানান, গত দুই মাস আগে বাবার সাথে জিদ ধরে এই মোটরসাইকেল কেনে তৃর্থ বিশ্বাস। আজ সেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় ভাটই সরকারি কলেজের সামনে পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

    এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

  • ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীর ফুলগাজীতে গৃহবধূ বিবি কুলসুম কাজল (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দূর সম্পর্কের ভাগ্নে মো: আরিফুল ইসলামকে (৩১) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৭-এর স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আরিফ ঘটনার দিন দিবাগত রাত ৪টার দিকে ঋণের টাকা জোগাড়ের জন্য তার দূর সম্পর্কের মামি ভুক্তভোগী কাজলের বাসায় প্রবেশ করেন। এসময় তার হাতে থাকা কাটার নিয়ে তিনি গ্রিল বেয়ে ছাদে ওঠেন। ছাদের ঢেউটিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে তিনি মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে ভুক্তভোগী যখন দরজা খোলেন, তার জন্য ওঁৎপেতে থাকা আরিফ কাজলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে হাত বাঁধার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী ও আরিফের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাজলকে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা দেন আরিফ। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরিফ নিজেকে দোষী বলে স্বীকারোক্তি দেন। জানান, তিনি ঋণের টাকার জন্য তার মামির বাসায় প্রবেশ করেন।

    আরিফকে সোমবার ভোরে ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকায় অভিযান পরিচালানা করে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে ফুলগাজীর আমজাদ হাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়ায় ঘরের টিন কেটে ঢুকে গৃহবধূ কাজলকে হত্যা করা হয়।

  • বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। যে চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখিত হয়নি।

    এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তি। ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।

    তিনি আরও বলেন, অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

  • কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    সিলেটের কানাইঘাট পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোর আব্দুল আহাদকে হত্যা করেছে সায়েম আহমেদ নামে এক যুবক।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

    নিহত কিশোর আব্দুল আহাদ কানাইঘাট পৌরসভার দলইরমাটি গ্রামের রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। অভিযুক্ত সায়েম আহমেদ কানাইঘাট পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারির ছেলে।

    জানা যায়, রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তাজুল ইসলামের ওয়ার্কশপে সায়েম আহমেদের স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে কিশোর আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে আব্দুল আহাদ মারা যায়।

    এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পারিবার এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।

  • মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    নওগাঁর মহাদেবপুরে বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা আব্দুল জব্বারকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন ভাতিজা চপল।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল জব্বার মহেশপুর গ্রামের মরহুম তাছির উদ্দীনের ছেলে।

    জানা যায়, আব্দুল জব্বারের সাথে তার ভাই আব্দুর হাইয়ের ছেলে চপলের আগে থেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আব্দুল জব্বারের বাড়ির দিক থেকে সেই বৃষ্টির পানি চপলের জায়গা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছিল। এই পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

    এর একপর্যায়ে ভাতিজা চপল তার চাচাকে তুলে আছাড় মারেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে চাচা আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চালক আব্দুল মান্নানকে (৪৫) হত্যা করে তার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মান্নান জেলার গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।

    নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (২৮ জুন) সকালে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া স্ট্যান্ড থেকে সারিয়াকান্দি রুটে সিএনজি চালাতেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মীরা তাকে সর্বশেষ চেলোপাড়া স্ট্যান্ডে দেখেন। এরপর তিনি আর বাড়ি না ফেরায় সোমবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন।

    একপর্যায়ে সারিয়াকান্দির কৈ-খালি বিল এলাকায় স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মান্নানের বলে শনাক্ত করেন।

    সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর শ্বাসরোধে চালক মান্নানকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মোবাইলফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৩৬ দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’।

    সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরিফ ওসমান হাদিসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারো বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় :

    — গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন।

    — রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ।

    — রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    — ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।

    — সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    — সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    — জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন।

    — নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

    — ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন।

    — শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন।

    — শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়।

    — জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।

    — ‘Echoes of July’ (জুলাইয়ের প্রতিধ্বনী) শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

    পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওই কর্মকর্তার নাম রোজী আক্তার।

    রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতা অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রোজী আকতার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ, বিনা অনুমতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করা, সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গাড়িচালক না থাকার অজুহাতে বাসভবনে বসে দাফতরিক কার্য সম্পাদন করা, প্রকল্পের ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(ক), ৩(খ), ও ৩(ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

    অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের ৫৯৫ নং প্রজ্ঞাপনমূলে তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ৩১৮ নং প্রজ্ঞাপনমূলে আরোপিত তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড বাতিল করা হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর সচিবালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

  • শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, সানজিদা আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঢাকা ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সদস্য পদ লাভ করেন। পরে তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মহিলা লীগের নেত্রী সানজিদা আক্তারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছরের শিশু নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নুসরাত হলদা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শহিদুল্লার মেয়ে।

    নুসরাতের বাবা শহিদুল্লাহ জানান, তার মেয়ে নুসরাত সকালে বাড়িতে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নতুন দালাল ঘর নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করছিলেন। খেলার ফাঁকে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। উঠানে নুসরাতকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব মোল্যা বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারসহ এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রবিবার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

    চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা.হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিভিল সার্জন কাার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা.শামিমা ইয়াসমিন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা.খন্দকার ইমরান হাসিব এবং ইপিআই সুপারভাইজার রেহেনা খাতুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    চুয়াডাঙ্গা এবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ শিশুকে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবো। এরমধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

    জেলার ৮৯৬টি আইটরিচ কেন্দ্রে শিশুদের একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

    পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

    সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।

    স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

    এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

    তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।