সারাদেশ

  • ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লিলি বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর উপর। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ভৈরব থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মরহুম সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

    অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। একপর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম।

    মারধরে বাঁশের একাধিক আঘাতে ও ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রতিবেশীরা বলেন, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলের সাইকেল চালনোর ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী। আমরা প্রতিবেশীরা চাই, জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিচার করা হোক।

    তারা আরো বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।

    এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কী হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে।

    এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছেন টিটি।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পলাশীপাড়ার আব্দুর রহিম (৬০) ও তার ছেলে সুমন (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনের যাত্রী রিয়াজ জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে সুন্দরবন ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে একজন যাত্রী ট্রেনে নিজ বগিতে উঠতে না পেরে ‘খ’ বগিতে উঠতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় টিটি এবং ট্রেনের কর্মচারিদের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে টিটি নিজেই দেশীয় ছুরি দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার সাথে সাথে ট্রেনটি স্টেশন থেকে কিছু এগিয়ে থেমে যায়।

    আহতদের স্বজন কাকলী নামের একজন জানান, তার বোন বেবি (৫০) ক্যান্সারে আক্রান্ত। কুষ্টিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা আড়ুয়াপাড়া বাসা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনা। স্টেশন পৌঁছানোর সাথে সাথে ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তাড়াতাড়ি করে তার ভগ্নিপতি ও তার ছেলে অসুস্থ বোনকে ‘খ’ বগিতে উঠাতে গেলে টিটির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ট্রেনটি পোড়াদহের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ট্রেনের টিটি একটি ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে তার ভগ্নিপতিকে আঘাত করে। এ সময় ছেলে সুমন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীরা ট্রেনের শিকল টেনে ট্রেন থামালে ঘটনাস্থলে থেকে টিটি এবং ট্রেনের অন্য স্টাফরা গা ঢাকা দেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দু’জন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    পরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটের দিকে কোর্ট স্টেশন ছেড়ে পোড়াদহে অভিমুখে যায়।

    ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ট্রেনের দুই হাজার যাত্রীর কথা বিবেচনা করে দোষীদের পরে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনটি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

    ওসি কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করেই ট্রেনের স্টাফদের সাথে এই ঘটনা। শুনেছি টিটি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের জখম করেছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি বেগম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭২৬ ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ৫২ মিনিট বিলম্বে ১২টা ২২মিনিটে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছে যাত্রী নামিয়ে ছাড়ার মুহূর্তে আবার ট্রেন থেমে যায়। পরে জানা গেল যাত্রীর সাথে ট্রেনের স্টাফদের সাথে বাকবিতন্ডায় ট্রেনের মধ্যেই টিটি কর্তৃক ছুরিকাঘাত করার ঘটনার জেরে ট্রেনটি স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

  • উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    বরিশালের উজিরপুরে বেপরোয়া গতির বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্বিখণ্ডিত হয়ে মোসারফ বালি (৬১) নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী এলাকার সাজু পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিকশাচালক মোসারফ বালি উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মহাসড়ক দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোসারফ বালি। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বিএমএফ পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি দুই দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রিকশাচালক মোসারফ।

    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহসীন হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।

  • প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা

    প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা

    নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পিতৃহীন কিশোর শাহাদৎ হোসেন (১৪) পেয়েছে দু’টি ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ মোট আট লাখ ৩৪ হাজার টাকার সহায়তা।

    তার অসহায়ত্বের খবর নয়া দিগন্তের অনলাইন সংস্করণসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রচার হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

    তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মানবতার ফেরিওয়ালা বলে পরিচিত মামুন বিশ্বাস। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা সহায়তা দেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে মামুন বিশ্বাস নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শালাইনগর গ্রামে গিয়ে শাহাদৎ হোসেনের ও তার মায়ের কাছে নতুন একটি ভ্যান, খাদ্যসামগ্রী, নতুন পোশাক ও নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা পরিষদ চত্বরে শাহাদতের হাতে নতুন আরেকটি ভ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন শহরের সমাজসেবী রেন্টু মৃধা। সেইসাথে আমির হোসেন নামে এক প্রবাসী তাকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন।

    এছাড়া বড়াইগ্রাম ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহাদতের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অসংখ্য দানশীল ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠান।

    নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহাদৎ বলেন, ‘ভ্যানটি হারানোর পর মনে হয়েছিল আমার সব শেষ। মা আর দুই ভাই-বোনকে নিয়ে কিভাবে চলব, ঋণের কিস্তি কিভাবে দেবো, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি। যারা আমার এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাদের সবার ভালো করেন।’

    শাহাদাতের মা জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ‘এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার মধ্যে ৮০ হাজার টাকায় ছেলেটাকে ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই প্রতি মাসে নয় হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। ছোট্ট বয়সেও সংসারের চাপে ছেলেটাকে এই কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সবাই যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এভাবে পাশে থাকলে ছেলেটা পড়াশোনা করতে পারবে, আর ভ্যান চালাতে হবে না।’ টাকা দিয়ে একটি দোকান করবেন বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরে যাত্রীবেশী দুই প্রতারক কৌশলে শাহাদতের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। তার ভ্যান হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অজস্র মানুষ তার পাশে দাঁড়ালে সব মিলিয়ে সহযোগিতার পরিমাণ দাঁড়ায় আট লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় নতুন ভ্যান পেয়ে আবারো জীবিকা নির্বাহের নতুন আশা ফিরে পেল কিশোর শাহাদৎ তার পরিবার।

  • মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে সকালের নাস্তা খেয়ে এক প্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েছেন। অচেতন ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরনাংলা গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০), ছেলে রিপন ইসলাম (২৩) ও রিমন (১৭), মেয়ে সাথী আক্তার এবং তিন বছরের নাতনি হুমাইরা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের সবাইকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাঁধের মাথা বাজারে প্রবাসী শাহ আলমের বড় ছেলে রিপন ইসলামের একটি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও দোকান খোলার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান বন্ধ দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। রাত ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    পরে জ্ঞান ফিরলে রিনা আক্তার বলেন, সকালে খাবার ও টিউবওয়েলের পানি পানের পর থেকেই সবার মাথা ব্যথাসহ গভীর ঘুম আসে। এরপর কী হয়েছিল বলতে পারি না।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা: জাকিয়া জানান, বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার বা পানির সাথে চেতনানাশক কিছু মেশানো ছিল।

    এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকায় বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সামিরুল শাহ উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা বিক্রির পাশাপাশি ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি মাঠের বাঁশের মাচার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি মাঠ থেকে হাসেম আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সার দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উসমানপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার কাটাখালী মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসেম আলী উসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার মৃত রস্তম মণ্ডলের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষিজমিতে সার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাসেম আলী। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

    আটকরা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গুচ্ছবিল এলাকার মরহুম আলাল হোসেনের ছেলে মো: মামুন হোসেন প্রকাশ ইমন (৩৭) ও একই উপজেলার গবমারা এলাকার পরলোকগত আচই মারমার ছেলে ঞোলাপ্রু মারমা (২৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ধুমঘাট বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি, করেরহাট রেঞ্জের সহযোগী স্টেশন কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করে দু‘টি জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফেনীর পরশুরামে একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা গেট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর আগে পরশুরামে একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে প্রিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাহেদা আক্তার তিমু। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সাথে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নিতে বলেছিলাম। তাকে আমি নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখতাম।

    পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টাকার অঙ্কে এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। বন্যা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার এবং খাগড়াছড়িতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পশু ও হাঁস-মুরগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

    তথ্যমতে, গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৯১০ টন দানাদার খাবারে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড় ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাস, যার মূল্য ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস।

    এছাড়া পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, এক লাখ ৬০ হাজার ৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ পশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ১০ বছরের ছেলে মোহাম্মদ তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে হলো কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হককে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় তুহিন নিহত হয়।

    নিহত মোহাম্মদ তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শামসুল হক কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গাড়িচালক পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, সকালে জনতা স্কুল রোড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। টহলদলের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শামসুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারের সময় তিনি জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে তুহিন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিল তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেয়া হয়। ফোনে জানানো হয়, সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে তখনও নিহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহের মুখোমুখি হয়েছেন তার বাবা, যিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এক পুলিশ সদস্য।

    আজ (শুক্রবার, ২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয় তুহিন (১০)।

    সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী নেত্রকোণা জেলা সদরে।

    সকালে বাসা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হয় তুহিন। পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুর। তখনও তিনি জানতেন না, যে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করতে যাচ্ছেন, সেটি তার নিজের ছেলে।

    ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজের সন্তানের নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

    তিনি বলেন, ‘মরদেহ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেয়ার সময় তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাকিরকে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে নিয়ে যান।

    এর আগে, গত ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকির হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

    তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, বারবার আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে ফাহিমার লাশ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, জাকির হত্যার পর লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

    গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাদর ও একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফাহিমা হত্যাকাণ্ড সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মামলাটি বর্তমানে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    মামলার অগ্রগতি :
    ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা: আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

  • দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়িতে কাজ করছিলেন গৃহবধূ পারভীনা খাতুন। এ সময় ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেটি তারের উপর পড়ে তার ছিড়ে যায়। পরে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, একইদিন ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবি জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় তুলা চাষে উৎসাহ দিতে ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় নিবন্ধিত ৭৫০ জন তুলাচাষীর মধ্যে এবার ৩০০ জনকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন কৃষক প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের হাইব্রিড তুলাবীজ, বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক পাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসদিকুর রহমান সনেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপকারভোগী কৃষকেরা বলেন, এ সহায়তায় তুলা চাষের খরচ কমবে এবং আবাদ বাড়াতে উৎসাহ পাবেন।

  • ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চারজনের অবস্থা গুরুতর।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় রয়েল এক্সপ্রেসের একটি বাস। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী-শিশুসহ সাতজন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রহমান ও সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালে ২৩ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

  • খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিয়ো ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিয়ো পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিয়ো ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

    যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ ২৩ জুলাই (বুধবার) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

    এ সময়ে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

    এছাড়া তারা আজ যৌন হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

    আহতরা হলো— সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিমি খাতুন (১৩), সুরাইয়া রহমান (১২), চায়না খাতুন (১৫), শরিফা খাতুন (১২) ও সিয়াম হোসেন (১৫)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের বড় নিয়ামতপুর গ্রামের দিপু হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও মেয়ে সিনথিয়া (৩)।

    জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় যশোর থেকে চৌগাছাগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ আরোহীরাও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী জিমি, চায়না, শরিফা, সিয়াম ও মোটরসাইকেল চালক দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চায়নাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

  • দুর্গন্ধে মিলল ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ

    দুর্গন্ধে মিলল ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি মেস কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত উচ্ছ্বাস কর্মকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি খুলনা জেলার খালিশপুরে।

    পুলিশ জানায়, কয়েকদিন ধরে উচ্ছ্বাসের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে মেসের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পেয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জটিল রোগ ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অনেক সময় অন্য কোথাও ব্যর্থ হয়ে হতাশ হওয়া অভিভাবকরা এখানে এসে সন্তানদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

    আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের (বাচ্চাদের) নিয়ে আমি যশোরের অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’

    লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচ শ’ গ্রাম। শিশদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

    মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারাও এখন সুস্থ।’

    ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে আমার সন্তান নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

    হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গা সদরে ট্রাকের চাপায় আব্দুল্লাহ (১৫) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কিশোর আব্দুল্লাহ সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের শাহবুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

    স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলুকদিয়া বাজারে একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ করত আব্দুল্লাহ। ঘটনার সময় একটি মোটরসাইকেলের ত্রুটি চিহ্নিত করতে পরীক্ষামূলক সেটি চালাচ্ছিল সে। এ সময় আলুকদিয়া বাজারের তেল পাম্পের অদূরে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কিশোর আব্দুল্লাহ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তে দু’টি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেয়ায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টা অবরোধের পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।
    সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
    রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।’এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
    পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুইজন ও কালিনগর গ্রামের একজন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুই চাচতো বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা ওই গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে রাফিয়া (৩) এবং আমিনুরের আপন ভাই আলিনুরের মেয়ে রাইসা (২)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাফিয়া ও রাইসা বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে খেলাধুলা করছিল। অসাবধানতাবশত প্রথমে রাইসা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে রাফিয়া পানিতে ঝাঁপ দিলে সেও তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত দুই বোনকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মোহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু আহসান দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মোহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামীম আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    অন্যদিকে, রোববার বিকালে ইয়াসিন মোল্লা (৯) মধুমতি নদীর পাড়ে চাচার সাথে পাট জাগ দেয়ার কাজে সহযোগিতা করার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে খবর পেয়ে মধুমতি নদীর বাগবাড়িয়া এলাকা থেকে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত ইয়াসিন মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে এবং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

    জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

    জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

    এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বাস কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসছিল। শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় বাসটি একটি ইজিবাইককে জায়গা দিতে গিয়ে পাশের একটি ডোবার মধ্যে উল্টে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৩ জন যাত্রী আহত হন।

    আহতদের মধ্যে মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের ববিতা খাতুন (৪৫), প্রিয়া খাতুন (১৮), সদর উপজেলার আশরাফুর, মিলন (১৮), চাঁদবিল গ্রামের রেনুয়ারা খাতুন (৫৪), জামাল উদ্দীন (৬৫) ও দক্ষিণ শালীকা গ্রামের ওসমানের (২৮) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাসের নীচে কেউ পড়ে আছে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। বাসটি ডোবা থেকে উদ্ধারের পর বাকিটা জানা যাবে।

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বগুড়ার কাহালুতে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো—ভালতা গুচ্ছ গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৯) এবং ফারুক মণ্ডলের ছেলে ফাহিম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাদের খোঁজ করতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সালমা খাতুন পুকুরের পানিতে জাকিরুলের মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ফাহিম ও সুরাইয়াকে খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিন্টু প্রামাণিক পানিতে নেমে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরাইয়ার সন্ধান না পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হাসাদহ–মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন অংশ জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে কাদাময় হয়ে পড়ছে পুরো সড়ক। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্য যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

    স্থানীয় হাসাদহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল জীবননগর সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। প্রায় তিন বছর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি। এতে দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

    হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মতিয়ার রহমান বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সামান্য ৩০০ ফুট রাস্তা করতে তিন বছরের বেশী সময় লাগে, তা ইতোপূর্বে কোনো দিন দেখিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেক দিন পর কাজটি শুরু করলেও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি সামান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার জনগণ রাস্তাটির কারণে ভোগান্তির শিকার হলেও তা যেন দেখার কেউই নেই।’

    স্থানীয় একাধিক মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    তবে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন জানান, হাসাদহ থেকে মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট অংশে সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার বিলম্ব এবং নির্ধারিত স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত কয়েকটি পাকা দোকান অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হলে দ্রুত সংস্কার কাজ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে বর্ষার কারণে কাজটি আরো বিলম্বিত হচ্ছে।’

  • সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্নায় আদালতকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা শুরু করে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

  • কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম বলে, `কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ বলে, `প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

    নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন। তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, `রোববার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ।’

    আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, `সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, `বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না।’ তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

    শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, `এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, `মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    যশোরের শার্শায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক যুবক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাহিদ ইসলাম (৩৫) যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে ও উষা রহমান (৩০) বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রুদ্রপুর-গোগাগামী পাকা সড়কের সালামের মোড় নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষা নিহত হন। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদ ও উষার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ‘স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

  • আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণে মেরে ফেলার। ওই ব্যবসায়ী ছিলেন দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। টাকা না দেওয়ায় চার দিনের মাথায় তাঁর কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির নাম।

    পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে আলোচিত নাম তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় বদলালেও বদলায়নি অপরাধের ধরন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    পরিচয় বদল, অভিযোগ একই

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ‘শুটার বাহিনী’ দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিজেও অস্ত্র রাখতেন।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানিম রেজা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাজ ছিল ঠিকাদারদের অস্ত্রের ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দরপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব শুটার বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তানিম। এরপর নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ওই পরিচয়ে মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় থেকে বাস কাউন্টার, ফুটপাত এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তানিম। কমলাপুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের শেয়ারের একটি অংশ দখলে নিয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।

    শুধু ব্যবসায়ী নন, মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তানিমের বিরুদ্ধে।

    ময়লা থেকে ইন্টারনেট, নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মতিঝিল এলাকায় ময়লা–বাণিজ্য, ফুটপাত, ফ্ল্যাট, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত ছিলেন তানিম রেজা। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তিনি নেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

    মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

    —মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, উপকমিশনার, মতিঝিল বিভাগ ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য, মতিঝিল, সবুজবাগ ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রের ব্যবসাও তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতো। এসব কর্মকাণ্ডে মতিঝিলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম আসা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাতেও কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

    শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাত ধরে অপরাধজগতে

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। জিসান দেশ ছেড়ে এখন আছেন দুবাইয়ে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক।

    জিসানের সহযোগী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তানিম সহযোগী ছিলেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখাতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তানিম রেজাদের এই সশস্ত্র তৎপরতার কারণেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় দরপত্র নিয়ন্ত্রণে নিজেদের রাখতে পেরেছিলেন।

    ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়েছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসান এবং আরেক পলাতক সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের সঙ্গে এখনো তানিম রেজার যোগাযোগ থাকার তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ভয় দেখানোর অস্ত্র ছিল ‘শুটার বাহিনী’

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাত থেকে নয়জনের একটি ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন তানিম রেজা। বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজন হলে তাঁদের দিয়ে গুলি চালানো হতো।

    তানিমকে গ্রেপ্তারের পর ইস্টার্ন কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার তানিমের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    —হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী, সহকারী কমিশনার, মতিঝিল অঞ্চল, ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান নামের দুজন। আদর ও জিতু নামের দুজন শুটার ভয় দেখাতে গুলি চালানোর কাজে অংশ নিতেন।

    লিখন, জাহিদ, আদর ও জিতুকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার তানিম রেজা ও তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশি–বিদেশি অস্ত্র ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

    ১০ লাখ টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি

    পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’–এ একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

    এরপর ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার পর তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর ১৭ জুলাই সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবুলসহ তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মানিক কাজী (৫০)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    তানিম রেজাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তানিম রেজা ওরফে বাপ্পী। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

    দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ সাত মামলা

    ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আগে থেকে আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়।

    এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৫ মে মালিবাগের সানরাইজ আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল আলম শিকদার ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, পলাতক সহযোগী, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তানিম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।

  • বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    যশোরের বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার নারানপুর কেলের কান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    আটক দুজন হলেন নারানপুর কেলের কান্দা এলাকার বাসিন্দা সালমা খাতুন (৩৮), স্বামী ফিরোজ এবং আমেনা খাতুন (৪৪), স্বামী শহীদ হোসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মাদক মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭১ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক চারজনকে সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (৩০), হিজলগাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম খালিদ (২৭), আমিনুল হক ওরফে আজাহার (২৪) এবং বলদিয়া গ্রামের শিপন আলী (২৩)।

    আদালত সাজ্জাদ হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ইব্রাহিম খালিদ, আমিনুল হক ওরফে আজাহার ও শিপন আলীকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আকুন্দবাড়িয়া ও হিজলগাড়ি গ্রামে স্থানীয়রা মাদক সেবনের সময় ওই চারজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    রোববার বিকেলে আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ২৯(ক) উপধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    চাষিরা জানান, এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছেন তারা। চারা নষ্টের ফলে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মাথার ওপর ঋণের বোঝা বেড়ে চলেছে। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুলপুর মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টটি ছোট ও অপ্রশস্ত। ফলে বছরভর জলাবদ্ধতার সংকট থাকে।


    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের চাষিরা বছরে কমবেশি ১৫ কোটি টাকার চারা উৎপাদন ও বেচাকেনা করেন। চার দশকের বেশি আগে এই সবজির চারা উৎপাদনের কারবার গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিনামূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের আওতায় নেই এখানকার চারা উৎপাদকরা। ফলে উৎপাদনের মূলধনের জন্য এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে-কোনো কারণে উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটলে লোকসান ও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা, দুর্ভোগ ও সংকটে পড়তে হয়।
    সম্প্রতি এই প্রতিবেদক যখন আব্দুলপুর মাঠে গিয়েছিলেন, তখন আকাশজুড়ে হঠাৎই মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। আর তখন চারা বাঁচাতে পলিথিন হাতে ছোটাছুটি শুরু করেন চাষিরা। চারপাশে পুঁতে রাখা বাঁশের চারটি ছোট খুঁটির সঙ্গে পলিথিন বেঁধে শেড বা ছাউনি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
    মাঠটির কৃষকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে ঘুরে দেখা যায়, বহু বেড চারা নষ্ট হয়ে খালি পড়ে আছে। যে-সব বেডে এখনও চারাগাছ আছে, সেগুলোরও বেশিরভাগ নষ্টের উপক্রম হয়েছে। মাঠটির চাষি জাকির হোসেন বেডে অবশিষ্ট থাকা চারাগুলোর একটি থেকে আরেকটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেখিয়ে বলেন, এগুলোর গোড়া পচে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে মরে যাবে। এই চারা কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ৯০টি বেডের বেশিরভাগ চারার গোড়া জলাবদ্ধতায় পচে গেছে। রোপণ করা সব বীজও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৪২ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ছিল। পাশাপাশি এসব ফসলের বীজও রোপণ করেছিলেন। গত ১০ ও ১১ জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোপণ করা সব বীজ পচে গেছে। তিনি বলেন, একটি বেড তৈরি করতে শ্রমিক খরচ ছাড়াও সার ও বীজের দাম মিলিয়ে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। বর্তমানে বীজের দামও অনেক বেশি। পাতাকপির একেক প্যাকেট বীজের দাম ৯০০ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
    আব্দুলপুর গ্রামের সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষিরা বলেন, ধান, পাট, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য চাষাবাদে সরকারি প্রণোদনা সহায়তা মেলে। এসব চাষি বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সুবিধা পান। কিন্তু এখানকার চাষিরা বছরভর কোটি কোটি টাকার সবজির চারা উৎপাদন করলেও প্রণোদনার আওতার বাইরে রয়েছেন। চারা উৎপাদনের পুঁজি জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়। উচ্চমূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বেড়েছে।


    আব্দুলপুরের আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের চারা উৎপাদনে নেমেছিলেন। দুদিনের বৃষ্টিতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। চারা নষ্ট ও বীজ পচে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সরকারি ঋণসুবিধা পেলে সবজির চারা উৎপাদনকারীরা উপকৃত হতেন।


    এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ না নিয়ে কৃষি ব্যাংক বা এ ধরনের ঋণ দেয় এমন ব্যাংকের সুবিধা কেন নেন না- এ প্রশ্নের জবাবে সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, ঋণ নিতে গেলে নানা কাগজপত্র চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিতে দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরতে হয়। তারপরও ঋণ পাওয়া যায় না। দেখা যায়, এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঋণ মিললেও মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এনজিও ঋণ নিয়ে ১০ শতক জমিতে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটোর চারা এবং রোপণ করা সব বীজ নষ্ট হয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি। আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে শুরুর চেষ্টা করছি।


    ৩৩ শতক জমিতে চারা ও বীজ নষ্টে ক্ষতির শিকার চাষি জাকির হোসেনের ভাষ্য, কৃষি সেক্টরের চারা উৎপাদনের এই খাতটি একদম অবহেলিত। কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ খাতটি প্রণোদনা ও ঋণসুবিধার আওতায় নেই। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৬৬ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলাম। বেড তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার ও পরিচর্যায় লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তিনি বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অত্যন্ত ছোট। সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন করে প্রশস্ত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই।


    এ ব্যাপারে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অন্যান্য সবজি ও ফসলের আবাদ করে কীভাবে এই ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠির পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার টিএন্ডটি সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ভবনের আরও দুটি ফ্ল্যাটে চুরি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

    শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টিএন্ডটি সড়কের একটি তিনতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতের কানের নিচে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। শুক্রবার শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশায় গেলে মলিনা রায় একাই বাসায় ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় ঘরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মলিনা রায়কে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, সবাই রথযাত্রায় যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার ভাড়াটিয়ার বাসাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তছনছ করে এবং মালামাল লুট করে।

    তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, ফিরে এসে দেখেন নিচতলার এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বাসা এবং বাড়ির মালিকের ফ্ল্যাট থেকেও নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়েছে।

    খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মামুন আল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস.এম. বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

  • বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

    এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

    কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

  • নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ওই এলাকার একটি আদা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদা ক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি মাটিতে উপুড় হয়ে শোয়া ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

  • চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর  গ্রেপ্তার

    চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার

    নোয়াখালীতে বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন হাতিয়া উপজেলার শূণ্যের চর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর আলাউদ্দিন এলাকার রফিক উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

    সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিডিনিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এদিকে, প্রায় দুই মাস আগে সোনাপুর এলাকা থেকে জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুক্রবার গ্রেপ্তার ফয়সাল মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই জয়দেবের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি নোয়াখালী থেকেও তারা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা শহরে বিরিয়ানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত তদারকিমূলক অভিযানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা কাচ্চি বাড়ি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রোডের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    তিনি জানান, ডিজে স্কুলের সামনে অবস্থিত আনিছজ্জামানের মালিকানাধীন ঢাকা কাচ্চি বাড়িতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

    একই অভিযানে, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল বা ক্ষতিকর ফুড কালারের ব্যবহার পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহলদার ইমরান রিন্টু, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

  • বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট :  আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট : আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

    বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

    বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’

    গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

    তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসন করা হবে।’

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

    সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

    মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।

    ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা

    গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সহায়ককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সেবা গ্রহিতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেবা গ্রহিতা কয়েকজন জানান, গ্রাম থেকে কাজ কামায় করে এসে জানতে পারলাম রেজিষ্ট্রি বন্ধ। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে অনেকে জমি বিক্রয় করতে এসে অফিস বন্ধ থাকায়
    অনেকে পড়েছেন বিপাকে। জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া, চিকিৎসা করা ছাড়াও অতি জরুরী কাজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহিতারা।


    সম্প্রতি দলিল প্রতি রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং এর জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২’শ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১২’শ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন লোকজন নিয়ে অফিস থেকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আজাদ আলিকে। এঘটনায় আজাদ আলির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    এ ব্যাপারে ইমন হোসেন সাংবাদিককে বলেন, দলিল রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে সাধারন মানুষের সাথে দলিল প্রতি ১২’শ টাকা অবৈধ ভাবে কেন নেওয়া হয় তার কোন উত্তর দিতে পারেনি আজাদ আলি। তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা।

    তাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে,সে কোন কথা না শুনাই তাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল,পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আজাদ আলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

    এদিকে ভুক্তভোগী আজাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অফিস থেকে তুলে নিয়ে এসে মারধর করা হয়েছে,আমার নামে মিথ্যা টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, আমার অফিস স্টাফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন আজাদ আলি যদি অনিয়ম করে তার জন্য অথরিটি আছে, এক্ষেত্রে বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন সরকারী কর্মরত অফিস সহায়ককে কেন লাঞ্ছিত করবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।জেলা রেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে যা আমার দল বিএনপি কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। এ ধরণের কর্মকান্ডকে তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।তবে যদি কেউ অনিয়ম করেই থাকে তার জন্য প্রচলিত আইন আছে তার অথরিটি রয়েছে তারা ব্যবস্থা নেবে এক্ষেত্রে তারা মব সৃষ্টি করে সরকারি অফিসের কর্মরত ব্যাক্তিকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মানুষের সামনে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে নেতারা ভাল বলতে পারবেন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি যেই হোক তাদেরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা উচিৎ নয় আমাদের দল এধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করেনা যদি এ ধরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আজাদ আলি নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধের জেরে একই সময়ে পৃথক দুই ইমামের নেতৃত্বে আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন দুই পক্ষের মুসল্লিরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আছর ও মাগরিব এবং শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান ইমামকে অপসারণ ও বহাল রাখার দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ নতুন ইমাম নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলে অপর পক্ষ বর্তমান ইমামকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানায়।

    বিরোধের একপর্যায়ে একদল মুসল্লি বর্তমান ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভেতরে এবং অপর দল নতুন ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের বারান্দায় একই সময়ে পৃথকভাবে নামাজ আদায় করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

    ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, বর্তমান ইমাম মোশাররফ হোসেনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে নতুন ইমাম নিয়োগের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

    এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নেতার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ বর্তমান ইমামকে নতুন মসজিদ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

    বন্যার কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সড়কে কাজও শুরু হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

    সুত্র: বাসস

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।