সারাদেশ

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

    মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

    আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

    কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

    এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

    যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

  • কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রশীদের ছেলে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে কুমারখালীতে ফিরছিলেন নোমান। পথিমধ্যে চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি আটকের ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।

  • মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , মহেশপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই,উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি,উপজেলা সাবেক ,মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান ,সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর ছাত্রদলের নেতা আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান বাপ্পি,শফিকুল ইসলাম,অমিত,নুর আলম,মোঃ হাসান,কাজী বিল্লাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দেশ গঠনে তাদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনা ও উপহার দেওয়া হয়।

  • মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শহরের নোমানী ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে কলেজ রোড হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

    সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, সহ-সেক্রেটারি মারুফ কারখি, পৌর আমির আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট আজমত হোসাইন প্রমুখ।

    এ সময় বক্তারা অবিলম্বে সরকারের কাছে গ্যাস সঙ্কট নিরসন, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোসহ সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

  • সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন ধরনের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। জব্দ করা মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনসহ উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি বাজার এলাকায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা শহর থেকে ঝাউডাঙ্গা বাজার এলাকায় ‘কুশ’ নামের মাদক নিয়ে যাওয়া হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাধবকাঠি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী মো. তারিকুজ্জামানকে (২৪) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ১২ কেজি ‘কুশ’ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এছাড়া জব্দ মোটরসাইকেলের মূল্য ২ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ মালামালের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    আটক তারিকুজ্জামান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবির কাছে দাবি করেন, তিনি জানতেন না ব্যাগে কী ছিল। তাঁর ভাষ্য, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পাশ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় একটি ব্যাগ পৌঁছে দিতে বলেন। কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। ব্যাগটি পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথেই তিনি বিজিবির হাতে আটক হন। পরে জানতে পারেন, ব্যাগে ‘কুশ’ নামের মাদক ছিল। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    বিজিবি জানায়, ‘কুশ’ মূলত মারিজুয়ানা গাছের ফুল বা কুঁড়ি থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এতে অতিরিক্ত টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে তরল, গুঁড়া কিংবা ট্যাবলেট আকারেও বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

    সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি বলেন, ভারতের সঙ্গে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

  • ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    মানববন্ধনে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, সন্ত্রাস ও লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    টাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার বালিকা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, হল দখল, ফ্রি খাওয়া, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম রুখে দিতে হবে। অধ্যাপক ওবায়দুল হকের ওপর হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে টাকসুর ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন হলো দেশ গড়ার ও মানুষ তৈরির কারখানা। কোনো সন্ত্রাসী, মাস্তানি বা চাঁদাবাজির স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আজহারী, ফকিহ ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল হক, প্রভাষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক। এছাড়াও টাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

  • মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী ‍উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।

    বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

  • চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব চৌগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এম এ রহিমের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নেই। একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম ও বাবুল আক্তার, সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর, অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্ত, ক্রিড়া সম্পাদক এম এ মান্নান, পত্রিকা বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দপ্তর সম্পাদক রায়হান হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক লাভলুর রহমান ও সাংবাদিক আজিজুর রহমান, আজম আশরাফ, জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য সদস্যরা।

    প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারে এক ঘটনায় এম এ রহিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের উপস্থিতিতে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সাংবাদিক এম এ রহিমের সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করে। পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষিয়টি নিষ্পত্তি হয়।

    একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্রেতাদের সঙ্গে শালীন আচরণের বিষয়ে দোকান মালিক লিখিত মুচলেকাও দেন। এবং সাংবাদিক এম এ রহিমও বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অভিযোগ নেই এই মর্মে অঙ্গিকার নামা দেন।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৪০), সাজিদ হাসান (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৪)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে মো: মিজানুর রহমান হাজারীকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    তবে একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান হাজারীর ছেলে মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মরহুম আলী হোসেনের ছেলে।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সাথে মিজানুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

    সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

    এ,আর

  • ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ট্রাকচাপায় মো: বজলুর রশীদ নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুডাংগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: বজলুর রশীদের বাড়ি ধামরাই উপজেলার কাঁঠালিয়া এলাকায়। তিনি পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মধুডাংগা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাকের সাথে বজলুর রশীদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বজলুর রশীদ মারা যান। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের হেলপারও আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    মাগুরার শালিখায় পাটের চেয়ে কদর বাড়ছে কাঠির। সোনালি আঁশের রুপালি কাঠিতে আশার আলো দেখছেন চাষিরা। আবহমান কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে পাটকাঠির মূল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একসময় শুধুমাত্র জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কদর বেড়েছে কয়েক গুণ।

    সরেজমিনে গঙ্গারামপুর, বুনাগাতি, বরইচারা, ধনেশ্বরগাতিসহ বিভিন্ন নদীবিধৌত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে তার ওপর অসংখ্য পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আটি বেঁধে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটচাষিরা।

    এদিকে রান্নার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ভোরে বিভিন্ন এলাকার মহিলারা পাটচাষিদের কাছ থেকে পাট চেয়ে আঁশ ছাড়াতে সহায়তা করছেন। বিনিময়ে টাকা না নিয়ে নিচ্ছেন পাটকাঠি। উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারজুড়ে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। দিন শেষে মজুরি হিসেবে পাটকাঠি নিচ্ছেন, যা ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

    এমনই এক নারী সিউলী খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বাড়িতে জ্বালানির সংকট থাকায় তিনি পাট বাছতে এসেছেন। বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছেন। পান্না খাতুন নামের আরেক নারী জানান, পাটকাঠি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তিনি পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করতে এসেছেন।

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রায় ১৬ শ তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর অতিক্রম হলেও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।

    সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ভারতে পাচারের সময় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি স্বর্ণের বারসহ ফারুক নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের লাউজানি গাজীর দরগাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফারুক কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে।

    যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টিম যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে গাজীর দরগাহ এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি তল্লাশি করছিলো। এসময় বেনাপোলগামী একটি বাস থেকে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫২৯.৬৪ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায় সে স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য ১ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৩১ টাকা। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এ,আর

  • বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে দলীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রহিম মিয়া। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম এজাজ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ আবদুর রহিম মিয়াকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে মঞ্চেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশে তাকে আসন গ্রহণ করতে দেখা যায় । তিনি কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ সময় কৃীর্ত্তীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপল ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিঞাও উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামীলীগ নেতাকে ফুল নিয়ে বরণ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান আমার দেশকে বলেন, আমরা রহিম মিয়াকে দলে নেইনি। তাকে বিএনপিতে নেওয়ার খবর সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    এম এ রহিম , চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ (পিপিএম), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, প্রেস ক্লাব চৌগাছার যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. রহিম, ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক এম এ মান্নান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হাসানুজ্জামান, শহিদ আল আমিনের পিতা আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, সম্রাট হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অদীপ ফারহান, ছাত্রশক্তি নেতা জুবায়ের ও এনসিপি নেতা সিনবাদ।

    অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় মিছিল করা হয়।

  • সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ‘সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাটের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ‘রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    দৈনিক গণকণ্ঠের রাজশাহীর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট এবং ক্যামেরাম্যান আবিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, দখলবাজি ও নানা অপরাধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর হুমকি। হামলা, ভয়ভীতি কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পথ কখনোই রুদ্ধ করা যাবে না। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজশাহীসহ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, হামলায় জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে এ ধরনের অপরাধ আরো উৎসাহিত হবে, তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।’

    সাংবাদিক নেতা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।’

    এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস এম আব্দুল মুগনী নীরো, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

    এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের গড়ে তোলা হবে।

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ছয়জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছেন। এ মামলার অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার জেলা ও দায়রা অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের জজ মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন। তারা দু’জন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোশাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।

    এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।

    তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে বসত ঘরে একই পরিবারের তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ, পিবিআই ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভীর করেছেন। এখনও লাশ ঘরের মধ্যে রয়েছে, সিআইডি পৌঁছালে লাশ উদ্ধার করা হবে।

    মৃতরা হলেন, চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বগেম (৫২) ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

    কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি।

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিবুল।

    মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

    জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও মহিষ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে একটি খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

    Islam

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হতে চাচ্ছেন।

    খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন-পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দিই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

    তিনি আরও বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

    তাঁর সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতিবিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।”

    সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে প্রাণীটি দেখার জন্য অনেকে রাকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।”

    দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন-পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের।”

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন-পালন সম্ভব; যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের দংশনে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজের কাছে ভুল চিকিৎসা ও সময় অপচয় করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আল আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং স্থানীয় ঘোলদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। তবে অন্ধকার থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ওই কবিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাপে কাটেনি বলে দাবি করেন।

    যন্ত্রণা আরো বাড়লে তাকে দ্বিতীয় আরেক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে সময়মতো হাসপাতালে না নেয়াতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

  • রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

    গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

    হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

  • রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও,  সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও, সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের ওপর ধানগাছ রোপণ করেছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এই প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। অধিকাংশ যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানি। বৃষ্টি হলেই পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শ্রীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

    পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়।’

    কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়েই কাজে যাই। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী আর গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

    অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আর গাড়ি চালানো যায় না। আয়-রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও এখন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

    শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় চার কোটি নয় লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

    এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।’

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আজমপুরে পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আমানত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালায়। এখান থেকে ইয়াবাসহ মো: জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

    জিয়া ঈশ্বরচন্দ্রপুর স্কুলপাড়ার মরহুম শুকুর আলীর ছেলে।

    এরপর রাত ১০টার দিকে পরিচালিত অন্য এক অভিযানে আজমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে মো: আকাশ হোসেন (২২) নামের আরেক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আকাশ একই গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জিয়াউর রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অন্যদিকে আসামি আকাশ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেফতার আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করেছে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাঙ্গাশীয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন।

    অভিযান চলাকালে কঁচা নদী থেকে দুটি অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৭ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেহুন্দি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঙ্গাশীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    স্থানীয়রা জানান, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার কমবে এবং নদীর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মরদেহের খণ্ডিত অংশগেুলো একটি বড় ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে আলাদা তিনটি পলিব্যাগে রাখা ছিল।

    নিহত আবু রায়হান তালুকদার একই গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার ও রাহেলা খাতুনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আবু রায়হান নিজ বাড়িতে আসেন। রাতে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুও ওই বাড়িতে ছিল। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে রাজু তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে পৌঁছাননি।

    দুই দিন পর আবু রায়হানের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, তিনি অফিসে যোগ দেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

    খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা দু’জনই মাদকাসক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, পুকুর থেকে ট্রাভেল ব্যাগবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

  • সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভিমরুলের কামড়ে রাফসান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু রাফসান ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের উঠানে খেলার সময় রাফসান একটি পাতাযুক্ত ডাল টান দেয়। এতে ঝোপের ভেতরে থাকা ভিমরুলের চাক থেকে অসংখ্য ভিমরুল বের হয়ে তাকে একযোগে আক্রমণ করে। এতে শিশুটির চোখ-মুখ ফুলে লাল হয়ে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। পরে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: সাবিনা জানান, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিমরুলের কামড়ে রাফসান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।

  • চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহারন খাতুন ওই গ্রামের মাসুদ হোসেনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের জন্য রাইস কুকারে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহারন খাতুন। রাইস কুকারের সুইচ বোর্ডে প্লাগ যুক্ত করার সময় হঠাৎ বোর্ডটি ভেঙে তার হাতের ওপর খুলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তার হাতে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর গাংনী মডেল প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ও গাংনী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ আহসানুল হক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

  • কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরও বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। চট্টগ্রামে এক লাফে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এর পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। অন্য ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

    সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। এরই মধ্যে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিনদিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগই পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

    শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। টিসিবির হিসাব বলছে, পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এবারে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং আমদানি করতে হবে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

    খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার রবিন হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের সরবরাহকারীরা হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা কমিশনে মাল বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে আরও কয়েক টাকা বেশি তা স্বাভাবিক। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বন্যার প্রভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ছিল তা এখন ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭২-৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। কেজিপ্রতি মাঝারি মানের চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।

    ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে সবজির দামও আকাশচুম্বি। টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়,  জরিমানা

    মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়, জরিমানা

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক দোকানদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানদার বোতলজাত পেট্রোল প্রতি লিটার ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেনসহ যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জ্বালানি পণ্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’

    উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

  • ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও ও নান্দাইল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চর মহিশকুড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে রাতুল (১৯) ও চর মহিশকুড়া গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে বাদল মিয়া (৪৯)।

    গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগড়া গ্রামের রাতুল একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে তিনি একটি ফিশারিতে মাছের খাদ্য দিতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ফিশারিতে বিদ্যুতায়িত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা রাতুলকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে চর মহিশকুড়া গ্রামের বাদল মিয়া সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের সুইচ চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় বিষয়ে নিহত রাতুলের চাচা আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ফিশারিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান ও পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক দু’টি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে ও কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণ মামলা করলেও দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, জসিম নিয়মিত কাজ করতেন না এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সুমাইয়া তার ছেলেকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

    সুমাইয়ার মেজ বোন শাহিনুর বলেন, ভাগনেকে একা দেখে সন্দেহ হয়। তিনি জসিমকে ফোন করলে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার আগে ফোন করে জানান, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

    নিহতের বড় বোন সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে ওইভাবে গলায় ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

    স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ঘর তল্লাশি করতে চাইলে জসিম বাধা দেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

    অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে জানতে পারে পুত্রবধূ গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০)। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা পিকআপের চালক, হেলপার ও মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপে করে মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী নওগাঁয় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে শনিবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় নওগাঁগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    তিনি জানান, সংঘর্ষে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কাহালু থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নেয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

  • কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরিবার ও পুলিশ জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি কারও ফোন রিসিভ করছিলেন না।

    নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সবাই ধারণা করছিল কিছু একটা পচে গেছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, বুধবার থেকে স্বামীকে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার সকালেও ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে হাবিবুল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রাতের আধারে বন্য প্রাণীর আক্রমণে একটি পোল্ট্রি ফার্মের প্রায় এক হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার দর্শনা হল্ট স্টেশনের ওপারে হাসান পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।

    খামারের মালিক মো: হাসান জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার বিভিন্ন জাতের মুরগি রয়েছে। শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় বন্য প্রাণী খামারের ভেতরে প্রবেশ করে মুরগির ওপর আক্রমণ চালায়। সকালে খামারে গিয়ে তিনি শত শত মৃত মুরগি দেখতে পান। পরে গণনা করে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার মুরগি মারা গেছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির পর খামারটি পরিচালনা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাঝে মধ্যেই বন্য প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। খামার ও গবাদিপশু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

  • সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেট অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা কর্মসূচির মধ্যেই আবারও হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেট জেলা সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে সিলেটে ফেরার পথে তার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এই হামলার ভিডিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। হামলায় যাত্রীবাহী গাড়িটির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভাঙা কাঁচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত দুজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

    একই তথ্য নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

    তিনি লিখেছেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন।

    এদিকে বহরের গাড়িতে থাকা এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছার আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নারীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হন।

    উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগে এনসিপির রাজনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েকদিন ধরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর আগে হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরবর্তীতে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপি নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। জৈন্তাপুরের এই সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে টানা তিনবার এনসিপির বহরে হামলার ঘটনা ঘটল।

  • দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    সাগরদিঘী-ভরাডোবা এবং সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়ক দু’টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে মূল সড়কের দুইপাশ। কোথাও কোথাও সড়কের উভয় পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর লতাগুল্ম যেনো সড়কটিকে বেদখলে রেখেছে। এ কারণে সড়ক কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সড়কটিতে ঘন ঘন বাঁক থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্য নৈমিত্তি ব্যাপার।

    এ পরিস্থিতিতে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সাধারণের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে উদ্যোগ নেন ঘাটাইল উপজেলার শহরগোপীনপুর এলাকার চার তরুণ। তারা হলেন আবু রায়হান, মো: কবির হোসেন, মো: আছাদুল ও মো: জসিম।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছাশ্রমে সাগরদিঘী-ভরাডোবা রাস্তার দু’পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পরিষ্কার করেছেন এই তরুণরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে তারা আশপাশের সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন।

    রায়হান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘাটাইল-সাগরদিঘী, সাগরদিঘী-ভরাডোবা, সখিপুর-কালিহাতি, ঘাটাইল-মধুপুর সড়ক এবং সাগরদিঘী-গারোবাজার সড়কের বিপদজনক সব মোড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই আমাদের দলের নাম রাখা হয় রোড কেয়ার বাংলাদেশ (আরসিবি)। আমাদের ভিডিও ও কার্যক্রম দেখে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে আমাদের জানান। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই স্থানগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করি, যাতে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমে এবং সবাই নিরাপদে ও সঠিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দলে ৪ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কে অসংখ্য বাঁক রয়েছে। তাছাড়া সড়কের দুইপাশের ঝোপঝাড় সড়কটিকে আরো সংকীর্ণ করে ফেলেছে। ফলে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হতো। বিষয়টি আমলে নিয়ে আরসিবি টিমের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’ধার পরিষ্কার করেন। এতে সড়কের চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে।

    আরসিবি টিমকে সাধুবাদ জানিয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইসলাম বলেন, ‘যদিও কাজটি আমাদের করার কথা কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ আকারে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না। তরুণদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়।’

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ইসমাইল বড়খাল পাড় এলাকার শাজাহানের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, রাতে ইসমাইল দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুস্তাকিম (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নির্মাণশ্রমিক মুস্তাকিম একই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর গ্রামে তিওরবিলা গ্রামের ফুরকানের ছেলে সোহাগ মিয়ার একতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সকাল থেকেই মুস্তাকিমসহ একদল শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া প্রধান বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে মুস্তাকিম। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

    পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে নিহতের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুস্তাকিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম চর্চাকে পূঁজি করে কোনো মহল কাউকে পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের চিহ্নিত করবে। বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে, এ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী। যখনই ধর্ম বিশ্বাসকে, চর্চাকে কোনো মহল একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তা কল্যাণকর মনে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাদা মনের মানুষখ্যাত বিজয় কৃষ্ণ দেসহ পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানিক লাল মুখার্জি।

  • স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার মানবিক সরকার। সরকার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকতে চায়, কাছে যেতে চায়। শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় সবার মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন আবার দেশে ফিরে আসতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’