সারাদেশ

  • ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইটভাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভাটার ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রূপসা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও ইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, রাতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত রূপসা ইটভাটার অফিসে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকেই দায়িত্বরত ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হয়। ম্যানেজার অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতচক্র অফিসে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ইটভাটার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি লুট করে নেয়। ইটভাটার আহত ম্যানেজার স্বপন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনার পর পরই ধলাপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আষাঢ়-শ্রাবণের রোদ-বৃষ্টির খেলা আর বর্ষার পানিতে খাল-বিল কানায় কানায় পূর্ণ হতেই চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। আগাম পাট কেটে উঁচু ও নিচু জমি তৈরি করে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অনিয়ন্ত্রিত দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত হওয়ায় আমন রোপণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বাজার পরিস্থিতি কৃষকের প্রতিকূলে। খুচরা বাজারে সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পাওয়ার টিলার মালিকরা প্রতি বিঘা জমিতে হাল চাষ বাবদ ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন। আগে যা ছিল ১,৩০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বিঘা প্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা।

    কৃষকদের হিসেব মতে, গত বছর এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার জমি ভাড়া, বীজ, সেচ ও সারসহ মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। তবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আলু, পেঁয়াজ ও বিগত বোরো মৌসুমের মতো আমনেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আলুতে লোকসান করে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলাম, সেখানেও ধানের দাম না পেয়ে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সারের দাম বেশি, ৫০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের ধানের দাম নেই।’

    একই উপজেলার আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা গত মৌসুমের ধান অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে জীবিকার তাগিদে আবারো বুকে আশা বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

    দামুড়হুদার কৃষক জাকারিয়া আলমের মতে, ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে কৃষকরা দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আমনেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে, তবে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

    তাই উৎপাদিত ধানের যৌক্তিক ও ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কৃষকরা যাতে আমন চাষে লাভবান হতে পারেন ও ফলন বৃদ্ধি পায়, সে জন্য কৃষি বিভাগ থেকে মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও ফলন ভালো হলে কৃষকরা অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবেন।

  • উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    উৎপাদন ব্যয়ের চাপে ধুঁকছে যশোরের মৎস্যখাত

    স্থানীয় চাহিদার তিন গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক মাছ উৎপাদনের একটি বড় অংশীদার যশোর। তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একসময়কার এই লাভজনক খাতে এখন দুর্দিন চলছে। ফিশ ফিড (মাছের খাদ্য), রেণু উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্ল্যান্ড ও হরমোন, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখলেও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিক ও মাছচাষিদের। টিকে থাকতে না পেরে ইতোমধ্যে জেলার ৪৪টি হ্যাচারি বন্ধও হয়ে গেছে।


    হ্যাচারি মালিকেরা জানান, বহুসংখ্যক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেণুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে ৮২টি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন হতো। বর্তমানে চালু রয়েছে ৪৪টি হ্যাচারি। তবে জেলার মৎস্য বিভাগ বলছে, বর্তমানে ৪২টি হ্যাচারি চালু আছে।


    হ্যাচারি মালিকদের ভাষ্য, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল শিল্প রেটে (হার) ধার্য করায় ব্যবসায়টিতে একরকম ধস নেমেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের রেটে বিদ্যুৎ বিল গুণতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিক্রির দাম থেকে লাভ দূরে থাক উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে হ্যাচারি বন্ধ করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে এই খাতে বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি বা দীর্ঘদিনের দাবি কৃষি রেট চালু না করলে ব্যবসায় সচল রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।


    যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, মাছ উৎপাদনের কাজে অতি প্রয়োজনীয় তেল ও বিদ্যুতের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে এই সেক্টর ক্রমাগত লোকসান গুনছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় মাছের পুকুরে ব্যবহৃত স্যালো মেশিন ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে হ্যাচারির বিভিন্ন কাজে পানি সরবরাহে মোটর চালনার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে অনেক। এছাড়াও মাছের খাবারসহ চাষ কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে হ্যাচারিতে ডিম থেকে উৎপাদিত রেণুর দাম বাড়েনি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিকদের।


    এদিকে মাছের খামারিরা বলছেন, মাছের খাবার এবং ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে মাছ লালন-পালন দুরূহ হয়ে পড়েছে। উৎপাদনের সব ধরনের উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুরে মাছ রেখে বড় করে যারা বাজারে বিক্রি করেন তারা জেরবার দশায়।
    মাছ চাষিরা জানান, দাম বাড়তে বাড়তে একবস্তা খৈলের দাম এখন ৩৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। একবস্তা ফিডের দাম কোম্পানি ভেদে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম ২২০০ টাকা পর্যন্ত। পুকুরের লিজ মূল্য বছর বছর বাড়ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় মাছের সন্তোষজনক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকমে ব্যবসায় টিকিয়ে রেখেছেন।


    মৎস্য চাষি কল্যাণ সমিতি যশোর জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ও ফাল্গুনী মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বাবলু জানান, শ্রমিক মজুরি, ফিড, ওষুধপত্র, সার, খৈলসহ পুকুরের লিজ মূল্য ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যাহতভাবে উৎপাদনের উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে মাছের ব্যবসায়ের জৌলুস হারাচ্ছে। মুনাফার পরিমাণ অব্যাহতভাবে কমছে। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।


    প্রতিবছরই চাহিদার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন করছেন যশোরের মৎস্য চাষিরা। পুকুর থেকে শুরু করে বিল, বাঁওড়, নদী ও খালে জলশস্য মাছের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ করছেন। জেলায় বার্ষিক মাছের চাহিদা ৬৭ হাজার ৬৬১ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩৩ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। চাহিদার উদ্ধৃতি মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বার্ষিক রপ্তানি ৮ হাজার ২৯২ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন। এদিকে যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সচল হ্যাচারিগুলোয় প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ কেজিরও বেশি রেণু ও ধানী পোনা উৎপাদিত হয়।


    জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, বিদ্যুতের দামের কারণে হ্যাচারি সেক্টরে ক্ষতির মুখে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে নেওয়ার দাবি জানানো হলো সেটি করা হয়নি। কৃষি রেটে বিল ধার্য করা হলে শিল্পটির ধস থামানো সম্ভব হতো।


    সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দীন চৌধুরী সুমন জানান, প্রায় প্রতিবছরই লোকসান গুনছেন হ্যাচারি মালিকরা। গত বছর তার ১৫ লাখের বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর লোকসান কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি জানান, ভর্তুকি দিয়ে অথবা কৃষি রেটে বিদ্যুতের বিল ধার্য করা না হলে হ্যাচারি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।


    এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল কৃষি রেটে ধার্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি অবগত। শিল্পের বদলে কৃষি রেটে হ্যাচারির বিদ্যুৎ বিল ধার্যের ব্যাপারটি বাস্তবায়িত হলে সেক্টরটিতে বিদ্যমান এ সমস্যার সমাধান হবে।


    বহু সংখ্যক হ্যাচারি বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এক সময় যশোরের হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হতো। তবে এখন সেসব জেলাতেও হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। এতে যশোরের হ্যাচারির ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি লোকসানে থাকা অনেক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে গেছে।

  • দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

    রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।

    ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে। সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষা ও পরিবার গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।

    তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম।

  • ‘৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি’

    ‘৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে। নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে, বাস্তবায়ন করে। ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি।’

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে টাকা দেওয়ার কথা ইশতেহারে ছিল না, এটাই ৩২ নম্বর। আর স্কুল ড্রেস দেওয়ার বিষয়টি ৩৩ নম্বর।’

    শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী শিক্ষা ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাসহ সব উদ্যোগ তার সময় নেওয়া হয়েছে।’

    খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট তো আছেই, এর বাইরে একেক জন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা অবসর সুবিধা পাবেন। এটা একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য, যিনি গ্রামে বসে আছেন, অনেক বেশি মাইনে রাখে।’

    তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে তার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, এক টাকাও কোথাও উৎকোচ দিতে হবে না।’

  • ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।

    এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন আম্মার ১৫ আগস্টের এ আয়োজনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি জানান, ভোজের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি কোরবানি করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে।

    পরে শুক্রবার গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টেও বিষয়টি জানান আম্মার।

    আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই জিয়াফত’-এ অংশ নিতে গুগল ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য আসে। সালাউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না এবং পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। ফলে এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

    শনিবার দুপুরের পর রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার নিয়ে আসা হয়।

    মসজিদের সামনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত।’ ব্যানারের দুই পাশে ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা ছিল।

    তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

    আয়োজনের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। তাই এই আয়োজনে রাকসুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টকে তারা ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই গরুটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, আয়োজনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা গেছে। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, খাবারের মান ও ইন্টারনেট সেবার মতো বিষয়গুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।

    যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

    এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।

    এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।

    হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।

    এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

    ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

    যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।

    সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

    মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়ে‌ছে।

  • মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে ১৫ আগস্টকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউনে এক নেতাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৮ মিনিটের দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ঈদগাহ মাঠের সামনে মোটরসাইকেল শোডাউন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

    নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘোষিত শোক সভাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নেন। এর অংশ হিসেবে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল বাশার মাতুব্বরের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেন তারা।

    শোডাউনের সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে একজনের মুখ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    এ বিষয়ে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বাশার মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অহিদুজ্জামান খান ওহিদ বলেন, কারা মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক অলিউর রহমান দর্জি বলেন, তাদের দলের মোটরসাইকেল শোডাউনে কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এদিকে ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদারীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই। কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে বিষয়টি আইনবহির্ভূত হবে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দৌড়ানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টিপু সুলতান নামে এক দৌড়বিদের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সোনারগাঁ রানার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।

    আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানাম নগরের আমিনপুর মাঠ থেকে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৬০০ দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। দৌড়ের প্রায় অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর বালুয়াদীঘির পার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন টিপু সুলতান।

    ঘটনার পরপরই প্রতিযোগিতার মেডিকেল টিম দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ সেবা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মদনপুরের আল বারাকা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু সুলতানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত টিপু সুলতান (৪০) সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী আশরাফ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

    ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’-এর প্রধান আয়োজক শিমুল ভূঁইয়া বলেন, প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে আসা রানারদের সঙ্গে টিপু সুলতানও অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মেডিকেল টিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।

    ম্যারাথনে দৌড়বিদ টিপু সুলতানের আকস্মিক মৃত্যুতে সহ-দৌড়বিদ ও আয়োজকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর চারঘাটে পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন শ্বশুরও। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    তারা হলেন- মৃত রেকাত আলীর ছেলে শমসের আলী (৬০) ও শরিফুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৫)।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের বাড়ির ভেতরে একটি ভ্যান চার্জে দেওয়া ছিল। সেখান থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগের একটি তার গোয়াল ঘরের দিকে নেওয়া হয়। ওই বৈদ্যুতিক তারের পাশেই কাপড় শুকানোর জন্য একটি দড়ি টাঙানো ছিল। শুক্রবার দুপুরে তানিয়া বেগম ওই দড়িতে ভেজা কাপড় শুকাতে দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তার শ্বশুর শমসের আলী পুত্রবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকদিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে পুত্রবধূ তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার শ্বশুর শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে দুজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    চারঘাট মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুজন মারা গেছেন।

  • কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে পুরনো গোরস্থানের আধিপত্য বিস্তার ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) আয়তনের পুরোনো গোরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেয়।

    পানেশ্বর পাড়ার দাবি, এটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের তাণ্ডব থেকে বিয়ের বাড়ির গেট এবং গরুর খামারও রক্ষা পায়নি। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে।

    এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামেরই ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, গোরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লাখ টাকার মাটি কাটিয়েছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দেয়াল ও পিলারের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমগড়ার লোকজন জোরপূর্বক সেখানে দোকান করতে চায়। আজ সকালে যুবলীগ নেতা জুঁই, জনি ও কামাল পাশার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করেন, গোরস্থানের সঠিক দলিল তাদের নামেই রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে তারা এর সুষ্ঠু সমাধান চান।

    অন্যদিকে, আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আমাদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে দরবার হয়েছিল। আমগড়া ও নল্লাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানেশ্বর পাড়ার মানুষদের গোরস্থানটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন সেখানে পৌঁছালে মারামারি শুরু হয়।

    রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল পাঠান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা বর্তমানে থমথমে থাকলেও পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আউটার সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

  • আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

    ময়মনসিংহে কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
    সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’

    নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

    নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

    র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

    বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে মো. আমীর হোসেন (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় শত শত মানুষের চোখের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৬)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।

    রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই অনেক মানুষ ছাদ থেকে নামছিলেন। এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনেই তার মৃত্যু দেখলাম।

    নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে সমীরণ বেওয়া (৯০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেওয়াগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সমীরণ স্থানীয় ফকিরপাড়া গ্রামের মরহুম গোলাপ শেখের স্ত্রী।

    জানা গেছে, বেশ কদিন ধরে কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। শুক্রবার প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধা সমীরণ বাড়ির পাশে এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসেন। এ সময় হঠাৎ গাছটি তার ওপর ভেঙে পড়ে। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ কাটিংকালে বিষাক্ত গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সহোদরসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩০ শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সমুদ্র উপকূলে মো: লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও ইয়ার্ডের কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে বাইর থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়নি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। যার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরাতন এলএনজিবাহী জাহাজ কাটিং করার জন্য আনা হয়। সেটি কাটিং করতে যান ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক।

    স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজগর জানান, শ্রমিকরা তখন জাহাজের ভেতরে ঢুকে কাটিং করার শুরুতে গ্যাসের ট্যাঙ্ক থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। কাটিংকালে কোনো সেফটির ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী অন্য শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে জানান চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: ইশতিয়াক আহম্মেদ।

    মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে সাতজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (২৬), দুই সহোদর মনসুর আলী (৪১) ও নাসির উদ্দিন (৩৭), হাবিবুর রহমান, মো: রানা (২৫) ও মো: সানি। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে আসে। এ সময় জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হন।

    স্থানীয় জেলে সর্দার চাঁদ জলদাস জানান, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মাহমুদ বলেন, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানা এলাকায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কারখানার ভেতরে ঢোকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিহত দুই সহোদর মনছুর ও নাছিরের ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেও কারখানায় কাজ করতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মনছুর ও নাছির। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তারা।

    নিহত খোকনের চাচা ও কারখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যাসের কারণে প্রথম দিকে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছিল না।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিএসবিএ-এর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

    কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, বিস্ফোরণ ও বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    ঈশ্বরদীতে এলপিজি ট্যাঙ্কার-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনার ঈশ্বরদীতে এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক গ্রীণসিটি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল গ্রিন এক্সপ্রেসের একটি বাস। বাসটি নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্যাঙ্কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    দুর্ঘটনায় বাসে থাকা ৬ নারী ও ৯ পুরুষ যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    গ্রিন এক্সপ্রেস বাসের চালক রুবেল হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়ার শৈলকূপা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত লেন দিয়ে আসা একটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।’

    পাকশী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. নান্নু খান বলেন, সকালে যাত্রীবাহী বাস ও এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্যাঙ্কারটি ভুল লেনে থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্যাঙ্কারের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্যাঙ্কার দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শখের বানু (৫৭) নামে এক নারীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করেছেন মহেশপুর থানা পুলিশ।

    স্থানীয়রা জানান, ইখলাসুর রহমান মাদক সেবন করতেন। সে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের নিকট টাকা চাই । এ নিয়ে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে মা শখের বানুর ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত বৃহস্পতিবার রাতেও মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান ইখলাসুর রহমান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

    পরে ভোররাতে ইখলাসুর রহমান তাঁর মায়ের কক্ষে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই গ্রামের পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে একই পুকুরে পানিতে ডুবে দুই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশুর নাম লামিয়া (১৩) ও সুলতানা (১০)। তারা জামদিয়া গ্রামের নিছার আলীর মেয়ে। অন্য শিশু ফাহিমা (১০) একই গ্রামের প্রতিবেশী আশিকুলের মেয়ে।

    জামদিয়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আতিয়ার রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত তিন শিশু আশিকুলদের পুকুরের সিঁড়িতে বসে গোসল করছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিছার আলীর মা লামিয়া ও সুলতানাকে খুঁজতে পুকুরের পাশে আসেন। এ সময় তিনি পুকুরের পাকা সিঁড়িতে তাদের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু শিশুদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হলে তিনি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখেন। পরে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন এবং পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পানির নিচ থেকে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসনুন আব্দুল্লাহ জানান, তিন শিশুকে হাসপাতালে আনার পর তাদের পালস পরীক্ষা ও ইসিজি করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের কেউই বেঁচে নেই। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত  ৮

    সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন শুক্রবার দুপুরে আমার দেশকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

    এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এর আগেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, ‘গ্যাস ফ্রি’ সনদ, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু বিস্ফোরণের কারণ নয়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কাটিংয়ের অনুমোদন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

    এদিকে নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানিতে এ শিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর তাই শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • দুই দিন গ্যাসহীন কুমিল্লা, কবে আসবে জানে না কর্তৃপক্ষ

    দুই দিন গ্যাসহীন কুমিল্লা, কবে আসবে জানে না কর্তৃপক্ষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টানা দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার জনজীবন। কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই, আবার কোথাও মিলছে অতি স্বল্পচাপে। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। একই সঙ্গে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।

    নগরীর বাগিচাগাও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় গতকাল ইলেকট্রিক চুলায় কোনো রকম রান্না করে খেয়েছেন। কিন্তু আজ বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা বানিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে কি চলা যায়?”

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার অসীম কুমার জানান, হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে। এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

    গ্যাস সংকটের বিষয়ে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিজিডিসিএল জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিজিডিসিএলের আওতাধীন বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

    এর প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। সাময়িক এ সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

    এ বিষয়ে বিজিডিসিএলের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

    পরে বিজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।’

    এদিকে টানা দুই দিন ধরে গ্যাস না থাকায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

  • নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুজন নিহতের ঘটনায় করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

  • মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। ওই ভবনটিতে আবাসিকের পাশাপাশি বাণ্যিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে।

    জানা গেছে, আগুন লাগা ওই ভবনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভবনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। এরা বেশিভাগই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনের ভেতরে এখনও অনেকেই আটকা আছেন।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুর নেছারাবাদে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা প্রবাসীর ঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাঈম স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ঘরের পাশে সুপারি গাছ থেকে উঠে ঘরের প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা আক্তার দেখে ফেলায় মোবাইলে কল করতে উদ্যত হলে তাৎক্ষণিক হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে তার মেয়ে বাঁচাতে এলে তাকেও যখন করে। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর যখম করে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ।

    পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানায় খবর দিলে নাঈমকে পুলিশ নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি ঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের পাশে থাকা সুপরি গাছ বেয়ে ওঠে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি দেখে চিৎকার করে মোবাইলে ফোন দিতে গেলে তিনি ফোন দিতে বারণ করে হুমকি দেয়।

    এ সময় আমি চিৎকার করি সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের আপন বড় ভাই মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে নাঈম নামের একটি ছেলে দিনেদুপুরে চুরি করতে এসেছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে।

    নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় নাঈম ও তার পিতা রফিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    ঢাকার আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোরিকশা চালক মো: সুজন হাওলাদারকে (২৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গ্রেফতাররা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শসতল গ্রামের মো: হারুন ঢালির ছেলে মো: মারুফ ঢালি (৩৯)। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার বাগানবাড়ী সৈয়দনগর এলাকায় নাহিদ ইসলামের গ্যারেজে বসবাস করে আসছিলেন। অপরজন একই গ্রামের মো: আজিজুল ঢালির ছেলে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)।

    পিবিআইয়ের দাবি, মারুফ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর তানভীর নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি তার কাছ থেকে কিনেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো: আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে নিজের অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন। এরপর সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে ফোন করে কথা বলেন তিনি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এর দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের মাথায় থেতলানোর আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে নিহতের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা: আলো বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো: জামাল উদ্দীন বিপিএম-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তে নেয়ার পর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, সর্বশেষ মোবাইল যোগাযোগ, পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এবং অটোভ্যানটির গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

    তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণে তদন্তের সূত্র গিয়ে পৌঁছায় মারুফের কাছে। পরে অটোভ্যানটির গতিবিধি অনুসরণ করে পিবিআইয়ের একটি দল মাদারীপুরে অভিযান চালায়। ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর থানা এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি অটো গ্যারেজ থেকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান। মারুফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সুজনের মোবাইল ফোন।

    পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, মারুফ নিজেও একজন ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মারুফের সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে দুজন বেড়িবাঁধ হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

    পরদিন ৯ আগস্ট ভোররাত ৩টার দিকে কাশিমপুরে অটোভ্যানে মালামাল লোড করার পর তারা ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এসে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়িটি ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মারুফ তার অটোভ্যান থেকে একটি চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত সুজনের মাথায় একটি ভারী পাথর দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন মারুফ। ঘটনাস্থলে সুজনের লাশ রেখে তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ লালবাগে চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে অটোভ্যানটি চালিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরে পৌঁছে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে অটোভ্যানটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মারুফ। অটোভ্যানটির অবস্থান শনাক্ত করার পরই তদন্তকারীরা মাদারীপুরে অভিযান চালান। সেখান থেকে অটোভ্যানসহ মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনাস্থলের আলামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের কারণেই দ্রুত এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬১৭ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে পুটখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এসকাফ সিরাপগুলো পড়ে থাকতে দেখে জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব সিরাপ জব্দ করা হয়।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যশোর শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মহড়া

    যশোর শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মহড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে দমনে অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে বুধবার রাতে শহরজুড়ে সুসংগঠিত যৌথ মহড়া দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
    এদিন রাত ৮টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এই মহড়া শুরু হয়। এরপর মহড়াটি শহরের পালবাড়ি, চাঁচড়া চেকপোস্ট, মুড়লী মোড়, মনিহার মোড়, হাইকোর্ট মোড়, নিউমার্কেট, বাবলাতলা ব্রিজ, কাঁঠালতলা, কাজীপাড়া, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা, চিত্রামোড়, চৌরাস্তা, চারখাম্বা, সরকারি মুরগীর খামার এলাকা, ভেটেরিনারি মোড়, কলাবাগান মোড়, মেডিকেল কলেজ মোড়, আশ্রম রোড, রেলস্টেশন, চাঁচড়া রেলগেট, মুজিব সড়ক, ঘোপ বাবলাতলা, পিটিআই মোড় ও পুলিশ লাইন হয়ে প্যারিস রোডে গিয়ে শেষ হয়।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সমন্বিত মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদার, যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) আহসান হাবীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রবেশন) রাইসুল ইসলাম, র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং যশোর জেলা আনসার ও ভিডিপির অতিরিক্ত পরিচালক আবির রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
    মহড়া চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
    এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) আহসান হাবীব জানান, যশোরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বহুমুখি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলা জুড়েই বর্তমানে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানকে আরও ফলপ্রসূ করতে এবং দুষ্কৃতকারীদের কড়া সতর্কবার্তা দিতেই মাঠপর্যায়ে এ যৌথ মহড়া ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

  • মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধু উল্টে মহি (৫০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোররাতে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মহি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে।

    নিহতের শালা মোহাম্মদ মোজাম্মেল জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহের ডাকবাংলা থেকে চুয়াডাঙ্গার কাঁচামাল নিয়ে মহম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মহি। রাত ১টার দিকে মহম্মদপুর পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ভোরে পুলিশের ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন।

    রামনগর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মহি চুয়াডাঙ্গা থেকে কাঁচামাল নিয়ে মাগুরার মহম্মদপুরে যান। সেখানে সবজি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলায় পৌঁছালে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ মাগুরা

  • বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে লোহার গ্রিলবোঝাই ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী ও ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার বাইপাস সড়কের ভবারবেড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। আহতরা হলেন ইছাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফজলুল হক (৪৫) এবং ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইব্রাহিম হোসেন তার সহকর্মী শিক্ষক ফজলুল হককে নিয়ে মোটরসাইকেলে গোগা থেকে শার্শার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবেড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লোহার গ্রিলবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভ্যান ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নাটোরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের  বিরুদ্ধে ৭ সাংবাদিক আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    নাটোরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭ সাংবাদিক আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুই উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিসে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও দৈনিক সংগ্রামের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি ফজলুর রহমানসহ ৭ জন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তাছাড়া সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সরকারি সম্পদ নষ্ট ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করলেও মামলা করার কোনো তোড়জোড় নেই দুই উপজেলার ইউএনওদের।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন তারা। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

    গত বুধবার দুপুরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধরা বাগাতিপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসারের রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বেশ কিছু ফুলের টব ও ইউএনও অফিসের গেট ভাঙচুর করা হয় এবং কৃষি কর্মকর্তা ও এক অফিস সহকারীকে মারপিট করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ভিডিও করতে গেলে দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি সাংবাদিক ফজলুর রহমান ও চ্যানেল এস-এর খাদেমুল ইসলামসহ চার সাংবাদিককে মারপিট করা হয় এবং চ্যানেল ওয়ান ও স্টার নিউজ টিভির সাংবাদিককে লাইভ সম্প্রচারে বাধা দেওয়া হয়।

    এছাড়া একই দাবিতে লালপুর উপজেলায় ইউএনও অফিস ঘেরাও করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও আইসিটি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে মানবজমিন-এর সাংবাদিক রাশেদুল এবং এনটিভি অনলাইনের সজিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারপিট করেন তারা।

    এসব ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই উপজেলার ইউএনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দুই উপজেলার ইউএনও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি সম্পদ নষ্ট হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    তবে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে দুই উপজেলায় সাংবাদিকদের মারপিটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

    এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    নির্যাতিত সংগ্রাম-এর প্রতিনিধি ফজলুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা ইউএনও অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ। মিরপুর পৌরসভার দারুস ছালাম একাডেমির উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী মহিলাদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে একটি তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলের শেষের দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রবেশ করেন। পরে তারা নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র করুণ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার শহর এবং উপজেলা সদরে দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তবে তা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

    কৃষিপ্রধান এই জেলায় বর্তমানে মাঠে মাঠে সেচ পাম্প চালু রাখার ব্যস্ত সময়। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম।

    পৌর এলাকার কৃষক শাহাবুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পাম্প চালুর পরই বিদ্যুৎ চলে যায় ও কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকে। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা রাতে গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে দিনে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পাশাপাশি চালের মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় ক্ষতির ধস নেমেছে। বাতাস চলাচলের অভাবে বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

    সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মেলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট।

    চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাহিদার এই ঘাটতির কারণে নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

    অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৮৪ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

    ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো ও ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বন্টন করা হলেও দুই সংস্থায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছে না।

    এদিকে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যুৎ সেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

    বৈঠকে বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার প্রতি জোর নির্দেশ দেয়া হয়।

    সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করেন রবিউল ইসলাম। প্রতিদিন মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে ফার্মগেট যান তিনি। কিন্তু ভিড়ের কারণে নাকাল হতে হয়। কোনো কারণে ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হলে বাস বা অন্য বাহনে যেতে ব্যাপক ঝক্কি পোহাতে হয়।

    রবিউল ইসলাম বলেন, ফার্মগেটে মেট্রোরেলে নেমেই পূর্ব রাজাবাজার তাঁর বাসা। এর চেয়ে সহজ যাতায়াত আর নেই। শেষ দিকে ট্রেন কিংবা চলাচলের সময় বাড়ানো হলে তিনিসহ সব যাত্রীরই উপকার হবে।

    রবিউলের কথার সঙ্গে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের হিসাবেরও মিল আছে। গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের চলাচল উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের ট্রেনটি ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে চলাচল করে। ফলে ভিড় হচ্ছে প্রচুর। দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে ১০ হাজারের মতো। এই পরিস্থিতিতে আরও দুটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শেষ দিকেই বাড়তি দুটি ট্রেনের চলাচল শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে এখন শেষ ট্রেনের মাঝখানে যে ২০ মিনিটের বিরতি আছে, তা কমে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসবে।

    ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা আছে। সে ক্ষেত্রে রাত ১১টায় শেষ ট্রেন চলাচল করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে সময় বাড়াতে হলে ট্রেনের চালক (অপারেটর) বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের এখন প্রশিক্ষণ চলছে। ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এরপর তাদের দিয়ে ট্রেন চালানো শুরু হবে। এ ছাড়া রাতে সময় বাড়ালে রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে রাতের সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে ৯টা ৫০ মিনিটে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি করে ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলেও প্রকল্প নেওয়ার সময় অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা হয়নি। এখন পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

    অনুমান অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী যাওয়ার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সাড়ে চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন দিনে যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে যাওয়ার কথা।

    ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

    ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। ট্রেন বাড়লে দুই ট্রেনের বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

  • কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। বুধবার (১২ আগস্ট ) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগর এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসার স্কাউট সদস্যরা অতিথিদের এবং দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলী আজগর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে তাদের আরও বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম হেলাল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ,বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে

    শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দাখিল পরীক্ষায় বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

    জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়া দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আনন্দঘন একটি মিলনমেলা। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করা হয়।

  • সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিনটি এলাকা থেকে ১৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

    একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় এলাকা কিছুটা অন্ধকার ছিল। তাঁরা মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

    মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার সামনে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে যান। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে চোর ভেবে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে ডেকে তোলেন। ঘর থেকে বের হয়ে আমরা তিনজন লোক ও একটি হ্যালো বাইক দেখতে পাই। আমাদের দেখেই তাঁরা হ্যালো বাইক নিয়ে সাধাপুরের দিকে চলে যান।’

    আজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখি। বিষয়টি জানাজানি হলে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়।’

    মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তাঁরা ড্রামের ঢাকনা খুলে ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি ও স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।

    আব্দুল্লাহ আল রাফির দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। ওই রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে আর ওয়ান (R1) লেখা ছিল। তাঁর ধারণা, এটি কোনো সংকেত হতে পারে।

    মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা: মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটির ওজন অন্তত ১৫ কেজি হবে বলে মনে হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে ও কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী: ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর বিষয়টি ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে জানানো হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।

    একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক : সাভার ও আশুলিয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি এসব বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা ।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার করা বোমাগুলোর উৎস, এগুলো কারা তৈরি করেছে ও কোথায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

  • ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ভবিষ্যতে রাজধানীতে নিজস্ব পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো হকার থাকবেন না। এমনকি নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

    আজ বুধবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।

    আবদুস সালাম বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাঁদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিনরোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।

    আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও বর্ষার কারণে খননকাজে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    ডেঙ্গু প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিও ডিএসসিসির ভাবনায় আছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নির্বিচারে এসব রিকশা যেন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

    ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগর সেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজে রাস্তা কাটার পর সঠিক সময়ে তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।

  • শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে অপহরণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে এক কিশোরীকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ বাবু (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ বাবু শার্শা উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। রাতেই মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে শার্শা থানায় একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন ঘণ্টার মধ্যে শার্শা বাজার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চটকাপোতা গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    মনিরুল ইসলাম মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় হওয়া একটি বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেফতার আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নাশকতার পরিকল্পনা করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসলে তাকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সিলেটে ঘরের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যা 

    সিলেটে ঘরের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যা 

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট নগরীর রায়নগরের রাজবাড়ী মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ গৃহকর্তাকে খুন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, মিতালী ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)। কী কারণে নিজ বাসায় তাদের খুন করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

    আব্দুস সাত্তারের বাড়ি বিয়ানীবাজার। তাঁর সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে আমেরিকায় এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ বাসায় বসবাস করছিলেন।

    সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসার দ্বিতীয় তলায় আব্দুস সাত্তারের ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সেখানে ভিড় করেন।

    কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, ঘরের মধ্যে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। পাশাপাশি পুলিশের একটি বিশেষ টিম সেখানে যায়।

    হত্যার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকের বলেন, ‌‘তিনতলা বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে- এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে দুটি ধারণা করছি। হয়তো ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাদের খুন করে, অথবা জমি নিয়ে বিরোধ থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

  • চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগে সুপারিশের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের নাম নিয়ে তোলপাড়

    চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগে সুপারিশের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের নাম নিয়ে তোলপাড়

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগে সুপারিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শুমারির তালিকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম থাকার দাবি তুলে তাদের বাদ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, শুমারি কার্যক্রমে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও সুপারিশের মাধ্যমে অধিকাংশ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকায় এক প্রভাবশালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক যুবকের নাম থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    জানা গেছে, পাতিবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য দাউদ হোসেনের ছেলে মুক্তদাহ গ্রামের জাকির হোসেন ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ পেয়েছেন। তালিকায় তার ক্রমিক নম্বর ৪৭ এবং রোল নম্বর ১১৪৩। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।

    অন্যদিকে পাতিবিলা গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে নূরনবী শবেকদর বাবু নামের আরেক যুবকের নামও শুমারির তালিকায় রয়েছে। তার ক্রমিক নম্বর ৫০ এবং রোল নম্বর ১১৩০।

    বাবুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার ছবি প্রকাশ করে নানা অভিযোগ করা হচ্ছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তাকে শুমারির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    তবে নূরনবী শবেকদর বাবু পরোক্ষভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। তার দাবি তিনি একসময় পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে। এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি এমপির সঙ্গে বাবুর নির্বাচনি প্রচারনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।

    বাবুর পদের বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের প্যাডে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, চৌগাছা উপজেলার ৭ নম্বর পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি সংবলিত যে প্যাডের ছবি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ওই কমিটির সভাপতি নূরনবী শবেকদর বাবুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসূত্র প্রমাণিত হওয়ায় কমিটিটি অনেক আগেই জেলা ছাত্রদল কর্তৃক বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন স্থানীয়দের দাবি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও চৌগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কোন দল সমর্থন করে সেসব খবর তো জানা সম্ভব না। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছে সবাই।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ সময় ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।

    মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ অনেক নিয়োগপ্রত্যাশীকে বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    এদিকে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।

    স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান বলেন, বিক্ষোভের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের সময় তাকে হুমকি ও ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানা বলেন, অনেক প্রার্থী ভালো পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগের সুযোগ পাননি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বিএনপি সরকারকে বিতর্কিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে নিয়োগপ্রত্যাশী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ কারণে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে তারা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ করেছেন। তবে কোনো হামলা বা সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি।

    বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর কয়েকজন সংক্ষুব্ধ হয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইউএনওর কক্ষে হামলা ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই আমি অফিসের ভেতরে ছিলাম। বাইরে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের ইসলামপুরে এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রায় ৬ লাখ টাকা সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সুপারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর পুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ার চর আশরাফুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও আব্দুল মালেক মন্ডল এতিমখানার ২২ শিক্ষার্থীর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টের অর্থ বরাদ্দ হয়। অভিযোগ, সভাপতি শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টারের স্বাক্ষর জাল করে গত ২১ মাসে তিনটি বিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সুপার আনোয়ার হোসেন।

    বিষয়টি জানতে পেরে সভাপতি স্বাক্ষর জাল করার কারণ জানতে চাইলে সুপার দ্রুত বিল উত্তোলনের প্রয়োজন থাকায় সভাপতির সঙ্গে কথা বলে তার স্বাক্ষর দেওয়ার দাবি করেন। তবে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব চাইলে তিনি টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ।

    পরে গত ১০ আগস্ট সভাপতি ইউএনও ও দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    অভিযোগের বিষয়ে সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে কথা বলেই বিলে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করেছেন।

    উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রহুল আমীন জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী ২ জন রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

    এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল নিয়েও রয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

    গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

    এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদারও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

  • কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, ইসলামী সংগীত, ফুল ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিকৃবি শাখা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহরের টি.বি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত-এর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেয়া একটি বড় নিয়ামত, তাই এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতার কথাও মনে রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু উপরিভাগে কাজ করলে চলবে না, বরং ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোযোগী হতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ-সম্পদই প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়; আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সফলতা আসে।’

    ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, র‍্যাগিং ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরিং ও অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনীতি করা বা না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়—আমাদের এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

    বক্তব্য শেষে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ টিপু। এছাড়া ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সাবেক নেতারা।

    সবশেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা নকল সিগারেটের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার উপজেলার গড়বাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।

    বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের একটি গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় কারখানায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ এবং বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন ওই খামার ভাড়া নিয়ে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।

    অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা বা ২ হাজার ১০০ কেজি অপ্রক্রিয়াজাত পচা তামাক রয়েছে। জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার সব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

    প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

    সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

    এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

    আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

    যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

    কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

    সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

    নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।

  • কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক জীবনহানি ঘটছে। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১১ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় দুই শতাধিক এমন প্রতিষ্ঠান থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির।

    জানা যায়, চিকিৎসা সেবার নামে কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় ২ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যার ফলে তারা সরকারি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক দূর্ঘটনা। গত ৫ মাসে এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সিঁড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং লিফটে রোগীর ট্রলি পর্যন্ত ঢোকে না। ফলে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়। সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজনও থাকেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ৭ আগস্ট এই হাসপাতালেই ডাক্তারের অভাবে পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত রোগীর ছেলের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে ভর্তির পর তড়িঘড়ি করে ওইদিন বিকালেই তাঁর মায়ের অপারেশন করা হয়।

    পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরেকটি চক্ষু হাসপাতালেও সম্প্রতি অপারেশন করতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, লোটাস হাসপাতাল মালিকপক্ষের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই সখ্যের সুবাদেই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্নে চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস দাবি করেন, শ্বাসকষ্টের ওই রোগী দুই সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন, যা নিছকই দুর্ঘটনা।

    জেলার অন্যান্য ক্লিনিকের অবস্থাও একই রকম। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও মালিক আলিমুজ্জামান বদর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

    তিনি জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোসাব্বির নামের এক চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের দেখছেন। তবে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

    এসব তুঘলকি কাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হাবিব চৌহান জানান, লাইসেন্স ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াই সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব ব্যবসা চলছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব হাসপাতালে অনেক সময় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করানো হয়, যা সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

    এদিকে, ২৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় একতা ক্লিনিকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক—একতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত এনেস্থিসিয়া সুবিধা ছিল না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ছাড়াই অজ্ঞান করার পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। এরপর শিশুটি মারা যায়।

    সে সময় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক ডাক্তারকে আটক করা হয়। সিলগালা করা হয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা মান, লাইসেন্সিং ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। তারা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।

    সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল জেলার বেহাল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কথা স্বীকার করেছেন।

    তিনি জানান, জেলায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রায়শই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও চাপে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অতি সম্প্রতি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা সুপারিশ নিয়ে তাঁর অফিসেও এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন দাবি করেন।

    এত অনিয়ম ও প্রাণহানির পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

  • কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার সর্বত্র ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় আরো বেশি ভোগান্তিতে জনগণ।

    ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খোঁজখবর নিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মুফতি আমীর হামজা স্থানীয় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান।

    এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। শহরের আড়ুয়াপাড়ার ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়কের সভাকক্ষে এ মতবিনিময়কালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহান-ই-শবনম কুষ্টিয়া এলাকার লোডশেডিং বিষয়ে বলেন, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। দেশে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এই লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    এ সময় এমপি মুফতি আমীর হামজা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়টি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এই বিপর্যয় মুহূর্তে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকতে হবে।’

    ভৌতিক বিলের ব্যাপারে তিনি কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ যেন কোনোভাবেই প্রতারিত এবং হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।’

    তিনি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শোনেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুষ্টিয়ার বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, সেই সাথে শিল্প এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয় তুলে ধরবেন বলে জানান।

    এমপি আমীর হামজা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় অনেক বড় বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। সেই সাথে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনায় এনে এই জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবগত করাব।’

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-১) আমজাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-২) অনুপম চক্রবর্তী, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মোমিনুল ইসলাম।

  • দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকা, আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী এ তদারকি অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সার, বীজ, ওষুধের দোকান, হোটেল ও মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে কার্পাসডাঙ্গার মেসার্স গাউছিয়া স্টোরের মালিক মো: আব্দুল হাই সিদ্দিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার করে খাবার রান্না করায় দামুড়হুদা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: লিটন আলীকে ১০ হাজার টাকা এবং উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না করা, লাইসেন্স ছাড়া দই তৈরি ও নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ করে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স সেলিম মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মো: সেলিম উদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানো, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন বীজ, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের তৌফিকা তারিক জানান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তৌফিকা চুটারহুদা গ্রামের তারিকুল ইসলাম ও তহমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণফোনের যশোর রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দায়িত্বে ছিলেন।

    ছোটবেলা থেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির প্রতি তৌফিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক উদ্যোক্তা হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য।

    তৌফিকার বাবা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তৌফিকা যেন তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা সবসময় পাশে থাকব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

  • রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নগরীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নগরীর অক্ট্রয় মোড় (রুয়েট প্রাচীর) থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নগরজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে সড়কে জমে থাকা কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ড্রেনের মুখে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।

    রাসিক জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সড়ক ও ফুটপাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

    নগরীর পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ দফতর।

    অভিযানকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, মনিটরিং কর্মকর্তা (মশক) এবং পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের সাংবাদিক পরিবারের সন্তানরা কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কেউ জিপিএ-৫, কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং কেউ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জিহান আন নুর রকিব। সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। জিহান প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য, দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার রকিব হোসেন স্বপন এবং ব্যাংকার মনিকা পারভীন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সে সকলের দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী সাদিয়া মেহেজাবিন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য কাজী এ এন এম নুরূজ্জামানের কন্যা। তাঁর মা সেলিনা আক্তার একজন সরকারি চাকরিজীবী।

    সাদিয়া জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিদুর রেজা খান। সে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য আবিদুর রেজা খান ও নাজমুন নাহারের ছেলে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সাবিদুর। উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে সে।

    সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ অর্জন করেছে মোছা. মুসলিমা আমিন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য রুহুল আমিন ও নূরজাহানের কন্যা। মুসলিমা ভবিষ্যতে মানুষের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় এবং সবার দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছে মোস্তানূর রহমান সাক্ষর। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা এবং নূরজাহান আরা নীতির ছেলে। সাক্ষর জানায়, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

    অন্যদিকে, যশোর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সাদিয়া শবনম সরণি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয় ও মরহুমা শামীমা আক্তার স্বপ্নার কন্যা। সরণির পিতা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যু হলেও সেই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরণি পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।

    সাংবাদিক পরিবারের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

  • কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তানিয়া খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    তানিয়া উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের চেয়ারম্যান গেটসংলগ্ন এলাকার প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা দম্পতির মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়া এ বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মুনির উদ্দিন জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর তারা জানতে পারেন। প্রকাশিত ফলাফলে তানিয়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ভেড়ামারা থানায় নেওয়া হয়।

    ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    এ,আর